Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালাশ – শাহীন আখতার

    শাহীন আখতার এক পাতা গল্প418 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৭. বিয়ে

    বিয়ে

    : তোমার বয়স কত, মেয়ে?

    : আটাশ।

    : তুমি আমার মেয়ের বয়সি।

    : আপনার মেয়ে আছে? সে কোথায়?

    : নিরুত্তর।

    : বললেন না তো আপনার মেয়ে কোথায়!

    : নাই। অতিরিক্ত ঘুমের বড়ি খাওয়াতে নষ্ট হয়ে গেছে।

    : অহ্। কিন্তু ঘুমের ওষুধে বাচ্চা নষ্ট হয়?

    : হয় বোধ হয়। আমার নাম দেখো মরিয়ম, ডাকনাম মেরি। মরিয়ম বা মেরিদের বিয়ে হলে বাচ্চা হয় না। বাচ্চা হলে বিয়ে হয় না।

    মমতাজের সঙ্গে বিয়ে হওয়া ছাড়াও মরিয়মের আরেকটা বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়েটা তাকে ধরেবেঁধে দেয় মহল্লার লোকজন একটা ভুল লোকের সঙ্গে। আবেদ সামিরকে আটকে রেখে কাজি এনে বিয়ে পড়ালে তা-ও কথা ছিল। তাহলে আজ ২৪ বছরের একটা সন্তান থাকত মরিয়মের। তবে বললাম না আমার ভালো নাম মরিয়ম, ডাকনাম মেরি!

    মরিয়ম পঁচাত্তর সালের ১৫ আগস্টের পর বুঝতে পারে তার পেটে বাচ্চা এসেছে। তখন সে কপর্দকশূন্য। ভাত খাওয়ার টাকা নেই, গর্ভপাত করাবে কী দিয়ে। খিদায় আর দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না। অন্ধকারে ঘর-বাহির করে। ঠিক ২৫ মার্চের আগের দিনগুলোর মতো–মন্টু বাড়ি চলে গেছে আর মেরি অপেক্ষা করছে আবেদ জাহাঙ্গীরের। চারপাশটাও তখনকার মতো থমথমে। হাজি সাহেবের বাড়ির সামনের ইলেকট্রিক পিলারে বাঁধা নতুন আরেকটা কুকুর সারা রাত চিৎকার করত। দেশে সামরিক শাসন চলছে। মিটিং-মিছিল নিষিদ্ধ। সাড়ে চার বছর পর ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আবেদ জাহাঙ্গীর কুকুরের চিৎকার উপেক্ষা করে কালো গেটের সামনে এসে দাঁড়ায়। লোহার পাল্লায় টোকা দিয়ে ডাকে–মেরি!

    মরিয়ম জেগেই ছিল। সে ভাবে দরজায় টোকা মারছে যে, সে আবেদ সামিরই হবে। কাব্যসাধনার পথ বড় পিছল। তাই পিছলে পিছলে ফের এ বাড়ির দরজায় চলে এসেছে। মরিয়মের আনন্দ হয়, স্বস্তিও লাগে। সে শুয়ে শুয়ে সুখ উপভোগ করে। কিন্তু গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে যে, তার মনে সুখ নেই। সামান্য বিলম্বে সর্বনাশ ঘটে যেতে পারে। সে অধৈর্য হয়ে বারবার ডাকে–মেরি! মেরি! গলাটা এবার মনে হয় অচেনা। এত রাতে আবার কে আসলো। আমি আবেদ, আবেদ, মেরি! একটানে মরিয়ম গেটের হুড়কো খুলে দিতে যে লম্বা পা ফেলে দ্রুত হাস্নাহেনার ঝোঁপের পাশে এসে দাঁড়ায়, সে আবেদ সামির নয়, আবেদ জাহাঙ্গীর। এটা কি ১৯৭১ সাল, না ’৭৫? মরিয়ম মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যায়।

    আবেদ জাহাঙ্গীর দিনরাত ঘরে লুকিয়ে থাকে আর পকেট থেকে টাকা বের করে। মরিয়ম সেই টাকা দিয়ে বাজার করে কেরোসিনের স্টোভে রান্না চড়ায়। খাওয়ার মতো সুখ কিছুতে নেই। এদিকে পেটটা বড় হচ্ছে। আবেদ মরিয়মের গর্ভপাতের খরচ বহন করে। আর দিন গোনে। অক্টোবর মাসটা যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছিল না। নভেম্বরের ৩ তারিখ আবেদ গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠে। খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কু হয়েছে। শোনা যায়, তিনি আওয়ামী লীগের সাপোর্টার আর ভারতপন্থি। যদিও তার তদারকিতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সেদিনই বিমানযোগে ব্যাংকক পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবেদ জাহাঙ্গীর ৪ নভেম্বর বিজয় মিছিল থেকে ফিরে এসে মরিয়মকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তার হাত জড়িয়ে ধরে বলে, ‘মেরি, ইতিহাস থেকে আমার যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে। আমরা সুখী হব।’ পরদিন সেন্ট্রাল জেলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতার খুন হওয়ার বিলম্বিত সংবাদ আসে। দুদিন পর আরো খারাপ খবর। ক্যান্টনমেন্টে সিপাহিরা বিপ্লব করেছে–সেপাই সেপাই ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই। অথচ খালেদ মোশাররফকে হত্যা করে তারা ক্ষমতায় বসায় জিয়াউর রহমানকে, যিনি সেপাই নন। দেশে এসব কী হচ্ছে! আবেদ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। বিয়ের ব্যাপারে আর উচ্চবাচ্য করলেও ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সে এ বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে শুরু হয় তার বাইরে ঘোরাঘুরি। ‘দেশ স্থিতাবস্থার দিকে যাচ্ছে, মেরি’, একেক দিন ফিরে এসে আবেদ বলে, ‘রক্তারক্তির পর পরিস্থিতি মনে হয় শান্ত হচ্ছে। তবে কখন কী হয় বলা যায় না।’

    মরিয়মের বুকে খালি বুটের দুপদাপ আওয়াজ। একদল বেরিয়ে যায় তো আরেক দল ঢোকে। যদিও দেশ নিয়ে সে ভাবে না, আবেদের বিয়ের প্রতিশ্রুতিতেও তার আস্থা নেই, তবে তার অন্নদাতা যেভাবে বাইরে ঘুরাঘুরি করছে, সে যে দিন শেষে ফিরে আসবে ভরসা কী। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর এত দিন পর মরিয়ম নিজেকে হঠাৎ এতিম ভাবে। ‘তোরা আমার মা, তোরা বীরাঙ্গনা।’ পুতুলমাস্টারের অনুপস্থিতিতে ঝুলকালি মাখা পরিত্যক্ত পুতুলের দশা হয়েছে ওর। কোনোদিন ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় জনসমক্ষে আর নাচা হবে না। ঘরের কোণে পড়ে পড়ে জীবনটা শেষ হবে।

    ‘মেরি, আজ আমার বাসায় গিয়ে দেখলাম আড়শোলা-চামচিকা নেত্য করছে । দুজন লোক লাগাতে হলো বাড়িটা মানুষ করার জন্যে।’ আবেদের বাড়ি সাফ করার খুঁটিনাটি বিবরণ শুনতে শুনতে মরিয়ম জনসমক্ষে নাচতে না-পারার দুঃখটুকুও ভুলে যায়। এই লোকটা চলে গেলে তো না খেয়ে মরতে হবে তাকে। পরাজিত সেনাপতিরা সব কি মরে গেল, আরেকটা পাল্টা কু হচ্ছে না কেন? আবেদ তাহলে গা-ঢাকা দিয়ে এ বাড়িতেই থাকত। আর মরিয়ম টাকা হাতে চলে যেত বাজারে–চাল-ডাল তরিতরকারি সওদা করে খুশিতে ডগমগিয়ে ফিরত। দেশ যাক রসাতলে। জীবনে খাওয়া ছাড়া আর কোনো ভাবনা নেই। এ সময়টায় মরিয়ম গায়ে-গতরে এত মোটা হয় যে, ব্লাউজের সেলাই খুলে পরতে হচ্ছিল। যা হোক, সে আরেকটা কুয়ের আশঙ্কার কথা বলতে আবেদ হাসে, ‘না মেরি, তার আর সম্ভাবনা নাই। গতকাল কাকডাকা ভোরে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি হয়ে গেছে।’ এবার সে মরিয়মের ওপর বিরক্ত হয়। ‘সারা দিন ঘরে বসে কী করো? খবরের কাগজটাও ঠিকমতো পড়ো না দেখি! জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় পাকাপোক্ত হয়ে বসেছেন। ব্যবসার লাইনঘাট ঠিক করার এখনই সময়।’

    ব্যবসার লাইনঘাট করে আবেদ নিজের বাসায় ফিরে যাচ্ছে। ‘আমার কী হবে, আবেদ?’ মরিয়ম ওর জামা খামচে ধরে, ‘আমার জীবন কাটবে কীভাবে?’ আবেদ বলে, ‘জামা ছাড়ো, মেরি। এমন আচরণ বাজে মেয়েরা করে। চিন্তা কারো না। তোমার চাকরির জন্য লোক লাগিয়ে দিয়েছি।’

    সপ্তাহ খানেক পর একটা ভালো খবর, আরেকটা খারাপ খবর নিয়ে আসে আবেদ। একটা ট্রাভেল এজেন্সিতে মরিয়মের চাকরি প্রায় হয়েই গেছে বলা যায়। দুই মিনিটের ছোট্ট একটা মৌখিক ইন্টারভিউয়ের পর সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগপত্র দিয়ে দেবে। বেতন শুরুতে বারো শ’। এজেন্সিটা দাঁড়িয়ে গেলে পরের বছর বেড়ে দ্বিগুণ হবে।

    কতগুলো টাকা মাস শেষে! আহা এজেন্সিটা দাঁড়ায় যেন। মরিয়ম চেয়ার এগিয়ে দিলেও আবেদ বসে না, দরজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলে। কীসের যেন তাড়া ওর। চলে যাওয়ার আগে জরুরি ভিত্তিতে শুধু বলে যায়, তিন দিন হয় স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে ফিরেছে পাকিস্তান থেকে। এ বাড়িতে আসা-যাওয়া করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। আবেদের বাসায় মেরির যাওয়াটাও শোভন দেখাবে না। তার আরেকটা কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যেরকম উত্তরোত্তর উন্নতি হচ্ছে, তার শ্বশুর শাশুড়ি যে-কোনো সময় এখানে চলে আসতে পারেন। ‘আসলে বাড়ি-ব্যবসা সব তো ওনাদের,’ আবেদ বিনয়ের সঙ্গে বলে, ‘আমি হেফাজতকারী মাত্র।

    আবেদ চলে যাওয়ার পর মরিয়ম একবার হাসে আরেকবার কাঁদে। ইতিহাসের প্রহসন আর তার ব্যক্তিগত জীবন মেশিনের ববিনের সুতোর মতো জড়িয়ে গেছে। তবে উপযুপরি হাসি-কান্নার পর তার মনে হয়, বিয়ের চেয়ে চাকরিটাই ভালো। বাহাত্তর সালে মরিয়ম তো চাকরি চাইতেই আবেদের কাছে গিয়েছিল। তাকে সে ঠকায়নি। চার বছর পর ঠিকই জোগাড় করে দিয়েছে। মতিঝিলে অফিস। সুয়িং দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলে ছিমছাম কক্ষ। মেঝেতে পুরু কার্পেট। গদি-আঁটা সোফা। কাঁচ ঢাকা টেবিল। স্টাফ মাত্র পাঁচজন। মরিয়ম ছাড়া আরেকটা কমবয়সি মেয়ে আছে। তাদের দুজনের কাজ কাঁচের ঘরে বসে টিকিট বিক্রি করা, টেলিফোন ধরা বা টাইপ করা। আবেদের বন্ধু জামান সাহেব এজেন্সির মালিক কাম ম্যানেজার। মরিয়ম একটা ভুল করে তার কাছে দশটা ধমক খায়। অথচ অন্য মেয়েটিকে তিনি বকাঝকা তো করেনই না, প্রায় দিন কাফে ঝিলে বা স্টেডিয়াম মার্কেটের দোতলায় লাঞ্চ খাওয়াতে নিয়ে যান। লোকটা প্রথম দিন থেকেই মরিয়মের ওপর বিরক্ত। একদিন ক্লায়েন্টকে ভুল করে দশ টাকা বেশি দিয়ে ফেলে মরিয়ম। অঙ্কে লেটার পাওয়া মেয়ে, তার কেন বারবার হিসাবে ভুল হয়? অথবা হিসাবে তার ভুল হবে না তো কার হবে? মাঝখানে গোনা-গুনতির বাইরে এমন সব ঘটনা ঘটে গেছে, একদিন যে লেটার মার্ক পেয়েছিল, সে মেয়ে আর এ মেয়েতে আজ আকাশ-পাতাল ফারাক। তার ওপর যুদ্ধের বছর সার্টিফিকেট, মার্কশিট খোয়া গেছে। চাকুরি ঠিক করার সময় আবেদ এসব কথা ভেঙে বললেও ট্রাভেল এজেন্সির ম্যানেজার তা আধাআধি বিশ্বাস করেছেন। ধর্ষণের রগরগে চিত্র তার শরীরে উত্তেজনা জোগালেও পরমুহূর্তে জ্বালা ধরায়। সেই জ্বলুনি থেকে। মেয়েটার অন্য গুণাবলিসহ তিনি খারিজ করে দেন প্রমাণহীন অঙ্কে লেটার মার্ক। ‘ফলস–ভুয়া।’ সেদিন জামান সাহেব দশ টাকার জন্য অফিস মাথায় তুললেন। ভালোমানুষ পেয়ে একাত্তরের ধর্ষিতাকে তার ঘাড়ে চাপিয়েছে আবেদ। ‘এ অসম্ভব, অসম্ভব, অসম্ভব!’ মরিয়মের কান গরম হয়ে ওঠে। কিন্তু অফিসে সশরীরে একজন বীরাঙ্গনা আছে শুনেও অন্য স্টাফদের ভাবান্তর হয় না। ঘাড় গুঁজে একমনে টকটক শব্দে টাইপ করে যাচ্ছে। নিঃশব্দে হিসাব মেলায় কেউ, আরেকজন কানে ফোন চেপে ব্যক্তিগত আলাপ সেরে নেয় এই ফাঁকে।

    ’৭২ সালে পুনর্বাসনকেন্দ্র থেকে মরিয়মদের যখন চাকরি দেওয়া হয়েছিল রেডক্রস বিল্ডিংয়ে, সারাক্ষণ মানুষের ভিড় লেগে থাকত ওখানে। ‘কী ব্যাপার? কী চান আপনারা?’ জিগ্যেস করলে বলত, ‘আমরা বীরাঙ্গনা দেখতে আইছি।’ মানুষের কৌতূহলে অতিষ্ঠ হয়ে বেশ কিছু মেয়ে তখন চাকরি ছেড়ে দেয়। মাত্র চার বছর আগের কথা। এর মধ্যে মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বীরাঙ্গনাদের প্রতি! নাকি এ দেশে যে একটা যুদ্ধ হয়েছিল, তা-ও তারা ভুলে গেছে?

    বছর শেষ হওয়ার আগে এজেন্সিটা দাঁড়িয়ে গেল। মরিয়মের বেতন দ্বিগুণ হওয়া দূরে থাক এক কানাকড়িও বাড়েনি। একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ বলেই, জামান সাহেব উঠতে-বসতে মনে করিয়ে দেন, একাত্তরের ধর্ষিতাকে তিনি মাসে মাসে বেতন দিয়ে যাচ্ছেন। অন্য কেউ হলে কবেই গলাধাক্কা দিয়ে বার করে দিত!

    কাঁচের ঘরে মরিয়মের দিন কাটে, মাস ঘুরে বছর শেষ হয়। তার হাত থেকে টিকিট কিনে মানুষ কোথায় কোথায় চলে যায়। কলেজের বান্ধবী রিনা, সাপলুডু খেলতে খেলতে যুদ্ধের বছর যে প্রেমে পড়েছিল, সে মরিয়মের কাছ থেকে টিকিট নিয়ে স্বামীর কর্মস্থল কাতার চলে গেল। যাওয়ার সময় গভীর আবেগে বলেছিল, ‘মেরি, তোর জন্য আমার দুঃখ হয়। কত দিন আর আইবুড়ো থাকবি? সারা দিন হাটের মধ্যেই তো বসে থাকিস। দেখেশুনে এইবার একটা বিয়ে কর!’ আবেদ জাহাঙ্গীর বছরে তিন-চারবার আসে পিআইএর টিকিট কিনতে। সঙ্গে বউ-বাচ্চা কখনো শ্বশুর-শাশুড়ি। ম্যানেজারের রুমে বসে তারা কোক-ফানটা খায়। আর ছেলের স্কুলে ভর্তি, মেয়ের দাঁত পড়ে দাঁত ওঠা, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ যে হাজার গুণ পিছিয়ে আছে, করাচির শানশওকত না দেখলে তা বিশ্বাস হয় না–এমন সব খুচরা আলাপ করে চলে যায়। দেশে-বিদেশে মমতাজের চিহ্নমাত্র নেই। বীরাঙ্গনাদের কখনো প্লেনের টিকিট কাটতে দেখা যায় না। পাচারকারীর হাত দিয়ে তারা হয়তো বর্ডার পার হয় রোডে। পুনর্বাসনকেন্দ্রের নেত্রীরা সেমিনার-ওয়ার্কশপে বা প্রবাসী ছেলেমেয়ের আমন্ত্রণে বিদেশ ভ্রমণ করেন। টিকিট নিতে এসে মরিয়মের সঙ্গে তাদের চোখাচোখি হয়। তখন একে অন্যকে তারা না-চেনার ভান করে। যেন এভাবে অচেনা। থাকাটাই বীরাঙ্গনা সমস্যার আসল সমাধান। যারা অতিরিক্ত সময় মুখোমুখি চেয়ারে বসে থাকেন, মরিয়ম কাজের ফাঁকে তাদের দিকে চোরা চোখে তাকায়। সবার বয়স বাড়ছে। বয়সের ভারের চেয়েও চোখেমুখে বাড়তি যে ক্লান্তিবোধ, তা হয়তো তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমানের খাল কাটার বিপ্লবে শরিক হতে হচ্ছে বলে। বা কোনো ফাংশনে সভাপতিত্ব করতে গেলে এখন যে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে হয়-এ কারণেও হতে পারে। কত চড়া মূল্যে স্বাধীনতা এসেছে-মরিয়মকে দেখে পুনরায় তারা তা স্মরণ করেন। এ থেকে বিবেকদংশন অনুভব করেন কেউ কেউ। তারা তো দিব্যি হেসেখেলে দিন গোজার করছেন, বছরে তিন-চারবার বিদেশ সফর করেন, শিক্ষা বা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের উপদেষ্টা হয়েছেন কেউ কেউ, মাঝখান থেকে কতগুলো মেয়ের জীবন নষ্ট হলো। তারা উঠে যাওয়ার সময় ফোন নম্বর লেখা এক টুকরো কাগজ মরিয়মের সামনের টেবিলে এমনভাবে ফেলে যান, যেন তাদের এলোমেলো স্বভাবের কারণে ব্যাগ থেকে কাগজটা হঠাৎ পড়ে গেছে। আর চোখ দিয়ে বলেন, ‘মেয়েরা, তোমরা কে কোথায় আছো, কেমন আছো আমাদের জানাও। এর নিরিখে ভবিষ্যতে বিচার হবে, বীরাঙ্গনা পুনর্বাসনে আমরা কতখানি সার্থক হয়েছিলাম।’

    মরিয়ম ভুলেও সমাজকর্মীদের ফোন করে না। সে শুধু মতিঝিল, দিলখুশা, ফকিরাপুর এলাকার এক ট্রাভেল এজেন্সি থেকে আরেক ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি বদল করে। সর্বত্র সেই কাঁচের ঘর, টাইপরাইটার আর একই ধরনের টেলিফোন সেট। বসদের মধ্যেও তেমন কোনো তারতম্য নেই। একজন ছাড়া সবাই তার কাজের খুঁত ধরে। সেই ব্যতিক্রমধর্মী লোকটা ছিল মাঝবয়সি। বউ পাগল। বাসা থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় স্বামীকে সে টেলিফোন করত। আর ফোনে না পেলে বাসার কাপড় পরে অফিসে চলে আসাটা ছিল মহিলার পাগলামির অন্যতম লক্ষণ। মরিয়ম হিসাবে ভুল করুক তাতে ক্ষতি নেই, লোকটার একটাই চাওয়া ছিল, ছুটির পর কিছুটা বাড়তি সময় সে যেন অফিসে থাকে। মতিঝিল অফিসপাড়া যখন নির্জন, বেশিরভাগ বিল্ডিং ফাঁকা হয়ে গেছে, তখন সেক্রেটারিয়েট টেবিলের ওপর দু’পা ফাঁক করে লোকটা বসত তার বেলে মাছের মতো লুলুতে নির্জীব পুরুষাঙ্গটি বের করে। মরিয়ম চাকরিটা ছেড়ে দেওয়ার কয়েক বছর পর লোকটি ফুসফুস ক্যানসারে মারা যায়। মৃত্যুশয্যায় বারবার খবর দেওয়া সত্ত্বেও তার যাওয়া হয়নি। গেছে একেবারে শেষাবস্থায়। মরিয়মই ছিল সেদিনের প্রথম ভিজিটর, যে চাদরের তলা থেকে হাত উঠিয়ে দেখে পালস নেই। উনি মারা গেছেন।

    একের পর এক অফিস বদল করতে করতে কখন যে বীরাঙ্গনার লেবাস গা থেকে খসে পড়েছে, মরিয়ম নিজেও জানে না। সেলাইয়ের কাজটা ছেড়ে দিয়ে পুনর্বাসনকেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট পেশা থেকে সে বহু আগেই সরে এসেছিল। তাকে তাঁতের শাড়ি, লম্বা হাতার ব্লাউজে আর দেখা যেত না। তখন কাঁচের খোপে পায়রার মতো বসে থাকা আর দশটা মেয়ের সে-ও একজন। সাজ-পোশাকও তাদের এক রকম। মাথার চুল হেনা রঞ্জিত, মুখের ভাঁজে ঘন সাদা পাউডারের প্রলেপ, ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক, এক গজ কাপড়েও ব্লাউজ হয় না, মাংস-চর্বির মোটা ভাঁজ শিফন বা জর্জেট শাড়ির স্বচ্ছতা ভেদ করে বাইরে গড়িয়ে পড়ে। মরিয়মদের মুখোমুখি চেয়ারে বসে টিকিট ক্রেতারা সময় নষ্ট করার কোনো কারণ দেখে না। যতই লিপস্টিক রাঙা ঠোঁট নেড়ে মোলায়েম সুরে কথা বলুক, তারা নিশ্চিত মহিলাগুলো বিবাহিত, তাদের স্বামীরা হাই ব্লাডপ্রেসারের রোগী, ছেলেপেলে কলেজে পড়ছে আর মেয়ের যৌতুকের জন্য আগাম সোনার গয়না কেনা হচ্ছে ঈদ বোনাস দিয়ে। একজন ক্রেতা এর মধ্যে ব্যতিক্রম। সে মরিয়মের বীরাঙ্গনা খেতাব আবিষ্কারের আগেই জানতে পারে যে, তার হাই ব্লাডপ্রেসারের স্বামী নেই, ছেলে কলেজে যায় না বা ঈদ বোনাস জমিয়ে সে মেয়ের বিয়ের সোনাদানাও খরিদ করে না। ছেলেটিকে অবশ্য ক্রেতা না বলে ভিজিটর বলাই ভালো। কারণ সে টিকিট কিনতে আসে না, মাসের বেতন পেয়ে টিকিটের দাম জানতে আসে। সব সময় তার না-কেনা প্লেন টিকিটের গন্তব্যস্থল বার্লিন।

    ‘কিন্তু আপনি তো যাচ্ছেন না, কেন খালি খালি আমার সময় নষ্ট করছেন?’ অন্য টিকিট বিক্রেতারা যখন ছেলেটিকে আসতে দেখলেই সিট থেকে উঠে যায়, মরিয়ম তাকে বিমানবন্দর শুল্ক, ভ্রমণকরসহ আনুষঙ্গিক হিসেব বুঝিয়ে দেওয়ার ফাঁকে কপট রাগ দেখিয়ে প্রশ্নটা করে। ছেলেটি যে জার্মানি যাচ্ছে না, তা সে মানতে রাজি নয়। উত্তেজিত হয়ে রংচটা কাপড়ের ঝোলায় হাত ঢুকিয়ে সে বের করে ততধিক রংচটা একটা ফটোগ্রাফ। তাতে শপিং সেন্টারের এসক্যালেটরে চড়ে একদল লোক ওপরে উঠছে। ভিড়ের মধ্যের কালো চুল আর বাদামি চামড়ার ছেলেটিই তার বন্ধু। নাম আশিক খন্দকার। আর ছেলেটির নিজের নাম হচ্ছে দেবাশিস দত্ত। আশিক খন্দকার আর দেবাশিস দত্ত ছোটবেলার বন্ধু, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময়কার রুমমেট, আর করতও তারা একই রাজনৈতিক দল। ছয় বছর আগে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম নিয়ে আশিক জার্মানি চলে গেছে। দেবাশিস অপেক্ষা করছে ভিসার। ‘ভিসা পেলেই’ দেবাশিস দত্ত বলে, ‘আপনার কাছ থেকে আমি টিকিট কিনব।’ কারণ মরিয়মের মতো এ দুনিয়ায় খুব কম লোকই আছে, যারা অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে বা বুঝতে পারে।

    মরিয়মকে ছবিটা দেখানোর পর থেকে দেবাশিসের কথা আর শেষ হয় না। বিষয় একটাই–ছোটবেলার বন্ধু, হলের রুমমেট কমরেড আশিক খন্দকার, যে প্রবাসে গিয়ে প্রাণের বন্ধু দেবাশিসকে ভুলে গেছে।

    ‘আচ্ছা মরিয়ম, আপনার কী মনে হয়?’

    ‘কোন ব্যাপারে?’

    ‘এই যে এক বছর ছয় মাস আট দিন হলো, আশিকের কোনো চিঠিপত্র পাচ্ছি না?’

    ‘হয়তো ব্যস্ত আছে। অথবা কাজ পাচ্ছে না–বেকার। বিদেশের জীবন তো খুব টাফ।’

    ‘ঠিক বলেছেন। কিন্তু!’

    ‘কিন্তু কী?’

    ‘ওর মাকে তো নিয়মিত লিখছে।’

    ‘মাকে তো সবাই লেখে।’ কথাটা বলেই মরিয়মের মনে পড়ে, মনোয়ারা বেগমকে তার বহুদিন চিঠি লেখা হয় না। কফিলউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন আজ দশ বছর হতে চলল। তার মৃত্যুটা ছিল সবার জন্য স্বস্তির। তিনি জমিজমা বেচে প্রায় শেষ করে গেছেন। আর বছর দুই বাঁচলে ফুলতলির ভিটেবাড়িসহ রায়েরবাজারের বাসাটাও বেহাত হয়ে যেত। শুরুতে বৈধব্য মেনে নিলেও মনোয়ারা বেগম দিনে দিনে কেমন যেন বদলে যাচ্ছেন। রত্না স্বামীর সঙ্গে থাকে সৌদি আরব। ছন্দা মন্টুর নামের স্কুলটার হেডমিস্ট্রেস। বিয়ের পর সে-ও দূরে চলে যাবে। মা তখন একা। কিন্তু ঢাকা এসে মরিয়মের কাছে তিনি থাকতে নারাজ। সেই আট মাস এখনো তার কাছে। বিভীষিকা। তিনি বোধ হয় তখন পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। তা না হলে কথা নেই বার্তা নেই একজন সম্মানিত ব্যক্তির স্ত্রী বাড়ির বাইরে এসে এমন বেলাল্লাপনা করবে কেন? অথবা নিজের স্বামীকে কেউ লিখতে পারে ‘৭৫ সালে মা হবো না!’ সব দোষ মেরির। এমন মেয়ে সে, যে নিজের মায়েরেও নষ্ট করে। সেসব দিনের কথা মনে পড়লে মনোয়ারা বেগম এখনো দু’গালে থাপ্পড় মেরে তওবা কাটেন। আল্লার দরবারে কেঁদে কেটে আরজি জানান, যেন ছন্দার বিয়ের আগেই তার মরণ হয়। মেরি চিঠি লিখলে তিনি নিজে জবাব না দিয়ে ছন্দাকে বলেন কিছু একটা জানিয়ে দিতে। তাকে বাড়ি যেতে কখনো বলেন না। বীরাঙ্গনা মেয়ের প্রতি এতটাই বিমুখ মা।

    ‘আশিকের মা কেমন?’

    ‘কেমন মানে?’

    ‘মানে ছেলেকে ভালোবাসেন?’

    দেবাশিস মরিয়মের কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। সন্তানকে ভালোবাসে না, এমন মা সারা দুনিয়াতেই বিরল। তার নিজের মা অবশ্য চিঠির পর চিঠি লিখে ইদানীং খুব বিরক্ত করছেন। তার একটাই কথা, হয় নিজের পছন্দে বিয়ে করো, না হয় মেয়ে পছন্দ করতে দাও আমাদের। তবে পাত্রীকে অবশ্য অবশ্য হিন্দু কায়স্থ হতে হবে। দেবাশিস ঠিক করেছে, জীবনে সে কোনো মেয়েকেই বিয়ে করবে না, তা আবার হিন্দু আর কায়স্থ। কিন্তু আশিকের কী হলো?

    জার্মানিতে আশিকের বিয়ে করার খবর শুনে দেবাশিস মাঝরাতে রায়েরবাজারের বাসায় হাজির। মরিয়মের চল্লিশ বছরের জীবনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, কেউ বিপদে না। পড়লে এ বাড়িতে মধ্যরাতে ছুটে আসে না। কিন্তু একটা ছেলে কেন আরেকটা ছেলের বিয়ের খবরে ভেঙে পড়বে? তবে চোরের যা উপদ্রব, রাতে পাশের ঘরে থাকার একজন লোক পেয়ে সে খুশিই হয়। মন্টু বেঁচে থাকলে যে ঘরে থাকতে পারত, যেখানে ছোট একটা পরিবার পাঁচ বছর সাবলেট থেকে গত মাসে মরিয়মের সঙ্গে তুচ্ছ কথা-কাটাকাটির পর ঝগড়া বাধিয়ে চলে গেছে, সেই ঘরের তালা খুলতে দেবাশিস ভয়ে পিছিয়ে আসে। ‘মরিয়ম, আপনার পায়ে পড়ি, আজ রাতটা অন্তত আমাকে একা থাকতে বলবেন না! আপনার ঘরের মেঝেতে পাটি পেতে আমি শুয়ে থাকব, প্লিজ।’

    আজ যাচ্ছি, কাল যাব করে মরিয়মের বাড়ি ছেড়ে দেবাশিসের আর যাওয়ার নাম নেই। জার্মানিতে আশিক বিয়ে করে তাকে একদম বেদিশা করে দিয়েছে। চাকরির টাকা তিলে তিলে জমিয়ে তার যখন বার্লিনগামী প্লেনের টিকিট কেনার সামর্থ্য হয়েছে, ঠিক তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো বিয়ের খবরটা এসে পৌঁছায়। এখন টাকা দিয়ে কী করবে সে। চাকরি করাও অর্থহীন। তবে মরিয়মকে কাছ থেকে দেখে দেবাশিসের বিশ্বাস জন্মায় যে, মৃত্যুর অভাবে মানুষ বেঁচে থাকে এবং এভাবে বছরের পর বছর বাঁচা যায়। সে তাই অফিস ছুটির পর মরিয়মের কাছে ফিরে আসে।

    ‘মেরি, আপনার কী মনে হয়?’

    ‘কোন ব্যাপারে?’

    ‘এই ধরেন, বিয়ের ব্যাপারটা। মানুষ কি ভালোবাসা থেকে বিয়ে করে, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে বিয়ে করার পেছনে?’

    ‘আমি জানি না।’ মমতাজকে মরিয়ম বিয়ে করেছিল, কারণ সমাজে তার পুনর্বাসিত হওয়ার দরকার ছিল। নাকি সে বাচ্চা চেয়েছিল? অথবা স্বামী? সবার যেমন থাকে? তাহলে তো নিজের মা আর বোনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনাত্মীয় পরিবেশে এভাবে জীবন যাপন করতে হয় না।

    ‘অবশ্য,’ মরিয়ম আগের কথার সঙ্গে যোগ করে, ‘একটা বিয়ের পেছনে উদ্দেশ্য যা-ই থাক, বিয়েটা কিন্তু দরকার।’

    ‘আপনি জানেন না,’ দেবাশিস হাসি হাসি মুখ করে বলে, ‘আমি কিন্তু জানি।’

    ‘কী জানো তুমি?’

    ‘আমি জানি, আশিক বিয়ে করেছে জার্মান সিটিজেনশিপ পাবার জন্য। সে মেয়েটিকে ভালোবাসে না।’

    ভালো ভালো। এভাবে ভাবতে পারলে খুব ভালো। জীবনটা অনেক সহজ হয়। দেবাশিস ভাবছে, আশিকের বিয়েটা ভাড়া করা। ওখানে অনেক মেয়ে টাকা নিয়ে যেমন বিদেশি ছেলে বিয়ে করে, তেমনি ভালোবেসেও করে। কোনটা সত্য–এত দূরে বসে দেবাশিস তা জানবে কী করে। তাকে তো গত দুই বছরে এক লাইন চিঠিও লিখেনি আশিক। বিয়ের খবরটাও সে জানতে পেয়েছে আশিকের মায়ের কাছ থেকে।

    দিনটা কাজের ভেতর আর দুরাশায় কাটে। রাতে মরিয়মের সঙ্গে চলে তার রাজ্যের জল্পনা-কল্পনা। বেঁচে থাকলে যে ঘরে মন্টু থাকতে পারত, সেখানে শুয়ে। দেবাশিস স্বপ্ন দেখে বিশ্বের গোলাকার মানচিত্রের। এর গা বেয়ে সে ভারত-পাকিস্তান আফগানিস্তান হয়ে ইরানে প্রবেশ করে। মধ্যপ্রাচের তেলের খনি থেকে দুধের নহর বইছে। দেখতে দেখতে জায়গাটা গ্রেসিয়ারে পরিণত হয়। যে পর্বতশৃঙ্গ থেকে সবেগে পানির ঢল নামছে, দেবাশিস তার পাদদেশে। জায়গাটা সবুজ সবুজ, শ্যাওলা পড়া। পিচ্ছিল ভয়ানক। আশিকের কাছে পৌঁছতে হলে তাকে এই পিচ্ছিল, দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ওই চূড়ায় উঠতে হবে। প্রকৃতির কাছে মানুষ কত অসহায়। সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গের দিকে তাকিয়ে সে ভাবে, এ বাবদে মানুষ আর পিঁপড়ায় কোনো ফারাক নেই। সে তখন পিঁপড়া হয়ে ডোঙায় চেপে বসে। পিঁপড়া পিঁপড়া কয়টা নাও/ সাতটা আটটা নয়টা নাও। সব কটি নাও স্রোতের এক ধাক্কায় যাত্রীদের নিয়ে উল্টে যায়। অন্ধকারে ধড়ফড়িয়ে বিছানায় উঠে বসে দেবাশিস। বুঝতে পারে না, সে এখানে কেন। তার শরীরটা মানুষের না পিপড়ার। অনেকটা পথ এগিয়ে জার্মানির দোরগড়া থেকে তাকে ফিরে আসতে হলো! ফের শুয়ে পড়ে স্বপ্নের ভেতর দিয়ে সেদিকে এগিয়ে যাওয়া নিরর্থক। আশিক খন্দকার স্ত্রী নিয়ে সুখে সংসার করছে। নৌকাডুবির দৃশ্যটা ভাবতে ভয়ে তার গলা শুকিয়ে ওঠে।

    প্রত্যেক রাতে কাঁথা-বালিশ নিয়ে এঘর-ওঘর টানাটানি, মরিয়ম ঘ্যানঘ্যান করে, এত বড় ছেলে একা ঘরে ঘুমাতে পারে না, লোকে কী ভাববে। ঠিকা ঝি রোজ সকালে দেবাশিসকে মরিয়মের ঘর থেকে বেরোতে দেখছে। হাজির বাড়ির দোতলা থেকেও নজর রাখা হচ্ছে, এ বাড়ির ওপর। তবে মরিয়মের বয়স এখন চল্লিশ। ঘাট ছেড়ে নৌকা চলে গেছে বহুদূর, ঘাটে আর ফেরা হবে না। সংসার হলো না, স্বামী হলো না, সন্তান হলো না। সমাজে থেকেও নেই। নিজদেশে পরবাসী। পাড়াপড়শি নিয়ে অযথা ভাবতে যাবে কেন সে? অনেকগুলো বছর ভাবনা-চিন্তা করে খালি খালি সময় নষ্ট করেছে। ছেলেটা মন্টুর ঘরে থাকতে ভয় পাচ্ছে, এখানে নিশ্চিন্তে ঘুমাক। তার নিজেরও ঘুম দরকার। সকালে দুজনেরই অফিস।

    একদিন সকালে গেট খুলে দিতে ঠিকাঝির বদলে সাত-আটজন লোক বাড়িতে ঢুকে পড়ে। দেবাশিস কলতলায় দাঁড়িয়ে দাঁত মাজছিল। মুখভর্তি পেস্টের ফেনা । তাকে কুলি করারও সময় দেয় না লোকগুলো। এ অবস্থায় পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলে। কী হচ্ছে কী হচ্ছে, তোমরা কে? এ আমার বাড়ির মেহমান। মরিয়মকে কথার মাঝখানে থামিয়ে দেয় একজন। গেট দিয়ে মৌলবি নিয়ে ঢোকে হাজির ছেলে। ‘দেখেন তো ভাইজান…’ মরিয়ম বিচার দেওয়ার আগে বিচারক, হাজি সাহেবের ছেলে বলে ওঠে, ‘পাড়ায় বেলাল্লাপনা চলবে না। মৌলবি সাহেব আপনে রেডি হন।’

    মরিয়ম কি দুঃস্বপ্ন দেখছে? দশ বছর আগে হলে না-হয় কথা ছিল। এ বয়সে এমন কেলেঙ্কারি! নাকি লোকগুলো ঠাট্টা করছে? এ কেমন মশকরা যে, ঘণ্টা খানেক পর মরিয়ম আর দেবাশিসকে যখন অফিসে যেতে হবে, তার মধ্যে এমন উদ্ভট কাণ্ডকারখানা। হাজির ছেলে বলে, ‘অফিস-টফিস সব বন্ধ। পাড়া চলবে এখন থাইক্কা আমার নির্দেশে।’

    বটে! বাপের পর তিনি নেতা হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর দশ বছর পর আরেক ১৫ আগস্টের ভোর রাতে হাজি সাহেব এন্তেকাল করেন। তবে তার স্বাভাবিক মৃত্যু। ত্যাজ্যপুত্র ফিরে এসেছে পৈতৃক ভিটায়। সত্তর-একাত্তরে সে ছিল বাঙালির স্বাধিকারের পক্ষে। অষ্টাশিতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কায়েম করেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শরিয়া আইনে দেশ চলছে না। অথচ হাজির ত্যাজ্যপুত্র মরিয়মের উঠোনে পা ঠুকে ঘোষণা দিচ্ছে, ‘এহানে গর্ত খুড়ো। পুইত্তা ফালাও বেলাজ-বেশরম মাগিরে। বিয়েতে রাজি না থাকলে একশ এক পাথর মারা হবে। হুজুর আপনে রেডি?’

    পাত্থর মারার ফতোয়া শুনে হাজির বৃদ্ধা স্ত্রী ছুটে আসেন, ‘মা তোর আল্লাহর দোহাই, রাজি হইয়্যা যা। ছেলেডা আমার পাগল। বাপের স্বভাব পাইছে।’

    ‘কিন্তু খালাম্মা, আপনারা এসব কী বলেন?’ মরিয়ম আপত্তি জানায়, ‘ও আমার ছোট ভাইয়ের মতো!’

    ‘ভাই হোক আর যা হোক, নিজের মায়ের পেডের ভাই তো না, মা তুই রাজি হইয়্যা যা। এ ছেলে মুখে যা বলে, তা কইরা ছাড়ে।’

    ঘণ্টা খানেক পর মামা গোলাম মোস্তফা এসে হাজির। গত মাসে স্ট্রোক করে শরীরের বাঁ পাশ অবশ। লাঠি ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন। ‘কি ভাগনি, তুমি নাকি লিভ-টুগেদার করতাছ? নাউজুবিল্লাহ্ নাউজুবিল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ। তোমার মামি আসতাছে শাড়ি নিয়া। বাদ জোহর বিয়ে পড়ানো হবে।’

    বিয়ে পড়াতে গিয়ে আরেক বিপত্তি। দেবাশিস যে হিন্দু, মরিয়ম ছাড়া কেউ জানত না। যে মৌলবিকে পাথর মারার জন্য আনা হয়েছিল, তিনি অজু করে দেবাশিসকে মুসলমান বানাতে বসে গেলেন। এ বয়সে খতনা করানোর ঝুঁকি আছে। টিটেনাস হয়ে যেতে পারে। গোলাম মোস্তফা বললেন, ‘পাঁচ কলমাই সই।’ কলেমা তৈয়ব পড়া শুরু হতে দেবাশিস ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। ভিড়ের ভেতর তখন হাসির হুল্লোড় আর কটুক্তি, ‘ফাউ শুতে পারছো শালা মালু, এহন কান্দন আহে কলমা পড়তে?’ কাঁদতে কাঁদতে হুজুরের সঙ্গে সঙ্গে দেবাশিস বলে চলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্।’ মুখ খারাপ করা লোকগুলো বিনা কুলকুচিতে, বিনা-অজুতে হুজুরের সঙ্গে মোনাজাত ধরে। একটা পুণ্যের কাজ করতে এসে আরেকটা পুণ্য হয়ে গেল। মালাউনকে মুসলমান করার সওয়াবের ভাগিদার তারাও। সাত পুরুষের জন্য বেহেশত বুকড হয়ে গেছে। দেবাশিসের বুক পকেটে তখনো মায়ের সেই চিঠি—‘মেয়েকে অবশ্য অবশ্য হিন্দু কায়স্থ হতে হবে।’

    মুসলমান হওয়ার পর দেবাশিস নামটা আর চলছে না। একটা মুসলমান নাম দেওয়া দরকার। স্ট্রোক করে গোলাম মোস্তফার মাথাটা গেছে। নিজের ছেলেদের নামও আজকাল মনে থাকছে না। তিনি অন্দরমহলের উদ্দেশে হাঁক দেন, ‘ভাগনি, তুমি তো স্বাধীন জেনানা, একটা নাম দেও দেখি তোমার স্বামীর।’

    কয়েক মুখ ঘুরে পাশের ঘর থেকে একটা নাম আসে–আবেদ ইশতিয়াক।

    দেবাশিসের জানার উপায় নেই যে, নামটা এসেছে মরিয়মের কাছ থেকে। আবেদ এবং ইশতিয়াক দুটি নামই তার পরিচিত। মরিয়মের মুখ থেকে শোনা। তবে তা দুজনের। এখন একসঙ্গে উচ্চারিত হতে শুনেও চমকে ওঠা বা ভয় পাওয়ার মতো মনের অবস্থা তার নেই। শুধু মনে হচ্ছে, এখন যা ঘটছে, গত রাতের দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়ংকর। তবে তাদের যে মেরে ফেলা হচ্ছে না, এই যথেষ্ট।

    মরিয়মের আরেকটা ফাড়া কাটল। মৃত্যুর মুখ থেকে বারবার ফিরে আসা তার নিয়তি। মামি জ্বলেখা বিবি বললেন, ‘মরিয়ম, খোদার কাছে শোকর করো, এ বয়সে তোমার বিয়ে হইছে। তোমার আব্বা বেঁচে থাকলে খুব খুশি হইতেন।’ তেলাপোকা কাটা কাতান শাড়ি মরিয়মকে তিনি পরিয়ে দেন। শাড়িটা ন্যাফথালিনের ভুরভুর গন্ধ ছাড়ছে। তাড়াহুড়োয় শাড়ি-গয়না কিনতে বাজারে যাওয়া হয়নি। জ্বলেখা বিবি নিজের সম্বল যা ছিল, তা দিয়ে কনে সাজালেন। দৌড়ঝাঁপ করে রান্নার জোগাড়যন্ত্র করে ঠিকাঝি। কুটনামি করে আজ সে সার্থক। হাজির ব্যাটা পুণ্যের কাজ করেছে। সে তো বেশ্যাপাড়ায় কাজ করে না যে, রোজ সকালে মাগিলোকের নোংরামি দেখতে হবে! আগামীকাল থেকে ঠিকাঝির এ বাড়ির কর্তাগিন্নি বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী।

    বিয়ে পড়ানোর পর স্বামী-স্ত্রীকে বারান্দার বেঞ্চিতে শতরঞ্জি পেতে বসানো হয়েছে, যেখানে দর্জিগিরি করার সময় মরিয়মের কাস্টমাররা পা ঝুলিয়ে বসে থাকত। দেবাশিসের পরনে শেরওয়ানি, মাথায় পাগড়ি। কলেমা পড়ে একবেলায় তার চেহারার যে পরিবর্তন এসেছে তাতে মনে হয়, সর্বান্তকরণে সে বিশ্বাস করে–আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ। মিষ্টিমুখ করার সময় গোটা রসগোল্লা সে একবারে গিলে ফেলে। গতরাতের পর কিছু খাওয়া হয়নি, খিদা পেয়েছে নিশ্চয়। বর-কনের মুখ দেখার জন্য যে আয়নাটা সামনে ধরা হয়েছে, সেটি দেবাশিসের খেউরি করার বাথরুমের আয়না। আকারে ছোট। একবারে মুখের আধখানা শুধু দৃশ্যমান হয়। মরিয়মকে সেখানে সে দেখতে পায় না। তবু নির্নিমেষ তাকিয়ে থাকে আয়নাটার দিকে। পাড়াপড়শি বিয়ে নিয়ে নাচলেও মরিয়ম কেবল জানে, দেবাশিস অপেক্ষা করছে যার, সে কোনোভাবে নারী নয়–একজন জলজ্যান্ত পুরুষ। রাত নেমে আসছে। খানাপিনার পর গোলাম মোস্তফা সস্ত্রীক ফিরে যাবেন। পাড়ার লোকজন ইহকালের বাহাদুরির মজা লুটে, পরকালের বেহেশতের সার্টিফিকেট নিয়ে যে যার মতো চলে যাবে। দেবাশিস আর মরিয়ম তখন একা। একটা অবাস্তব বিয়ের ভার তারা বহন করবে কীভাবে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }