Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালাশ – শাহীন আখতার

    শাহীন আখতার এক পাতা গল্প418 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. অপারেশন সার্চলাইট

    অপারেশন সার্চলাইট

    ২৫ মার্চের রাতে ঢুকে পড়েছে মুক্তি। তা অন্ধকার-বেহুলার নিচ্ছিদ্র বাসর যেন, মনসার প্রতিশোধের উষ্ণ নিঃশ্বাসে যার মোম-বন্ধ ফুটোটা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। সেরকম এক সুচ-ছিদ্র পথ দিয়ে কথা বলতে বলতে দুজন অসমবয়সি নারী সেই কালরাতে প্রবেশ করে। বয়স ছাড়াও তাদের মধ্যে মিলের চেয়ে গরমিলই বেশি। দৃষ্টিভঙ্গিতেও ফারাক বিস্তর। মরিয়ম তখন ছিল খাটের তলায় চেতনাহীন। কয়েকটা বোমার শব্দ ছাড়া সেই রাতের কোনো স্মৃতি নেই। মুক্তি দেখতে চাচ্ছে, মেরি ওরফে মরিয়মের রূপান্তর-পর্বটি, আটাশ বছর আগেকার এক যুদ্ধ যার পূর্বপরিচয় গা থেকে ছাল ছাড়ানোর মতো খসিয়ে গলায় বীরাঙ্গনার বকলেস ঝুলিয়ে দিয়েছিল। আপন। মহিমায় সেটি কিছুদিন ঢং ঢং বেজেছে।

    আটাশ বছর–সিকি শতাব্দীরও অধিক সময়। মুক্তির বয়সও এখন আটাশ। ছাত্র-জনতা যখন গাছের মোটা মোটা ডাল কেটে, পরিত্যক্ত জলের ট্যাংক জড়ো করে। ফুলার রোডের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছিল, সে তখন এসবের একশ গজের ভেতর মেডিক্যাল কলেজের গাইনি ওয়ার্ডে, মায়ের গর্ভের অন্ধকার বিবর ছেড়ে বেরোনোর পাঁয়তারা করছে। পরদিন সকালে তার জন্মের সময় মায়ের পাশে একজন বৃদ্ধা আয়া ছাড়া কেউ ছিল না। লেডি ডাক্তার রোগীর হাতে লেবার পেইনের ড্রিপ লাগিয়ে অপারেশন সার্চলাইট শুরুর আগেভাগে হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় চলে যান। মুক্তির জন্মদিন যে ২৫ মার্চ না হয়ে ২৬ মার্চ সকাল পর্যন্ত গড়াল, মা বলতেন, এর আসল কারণ ডাক্তারের অনুপস্থিতি। বাকিটা আল্লাহর মর্জি। সেই রাতে প্রসববেদনায় কাতরাতে কাতরাতে ডাক্তারকে অভিশাপ দিলেও মা পরে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু মুক্তির আব্বাকে করেননি। ২৭ মার্চ সাময়িকভাবে কারফিউ তুলে নিলে বাবা হাসপাতালে আসেন। বাইরে ততক্ষণে নরক গুলজার। মুমূর্ষ রোগীতে হাসপাতালের বেড ভর্তি। বারান্দায়, করিডরে পা ফেলা যায় না। আশপাশের কোয়ার্টার আর বস্তি থেকে বাক্স-পেটরাসহ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। মুক্তির আব্বা ভেবেছিলেন, জগন্নাথ হল আর শহিদমিনারের সঙ্গে হাসপাতালটাও বুঝি ২৫ মার্চ রাতে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারপর সুস্থ-সবল স্ত্রী ও ফুটফুটে নবজাতক দেখে তার চেহারা আরো ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এ অবস্থায় স্ত্রী-কন্যা তো বোঝা। মুক্তির মা কেবিনের দরজায় স্বামীকে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়তে দেখলেন। তার ডান পাটা কিছুটা সময় চৌকাঠের বাইরেই ছিল। স্ত্রী যে শুধু চোখ নয়, পঞ্চইন্দ্রিয় দিয়ে তাকে পরখ করছে, তা বুঝতে পেরে তিনি রুমে ঢুকলেন। মা ও শিশুর দিকে ফিরেও তাকালেন না। থোকা থোকা আঙুর ফলের নকশাদার থার্মোফ্লাস্কটা ছিপি খুলে টয়লেটের বেসিনে খালি করলেন। যাতে বোঝাটা হালকা হয়। আর স্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন, বাচ্চাসহ তাকে অনুসরণ করতে। এই মুহূর্তে শহর না ছাড়লে মা ও শিশুর সঙ্গে তাকেও যে বেঘোরে মরতে হবে, যা তিনি চান না–তাও খোলাখুলিই জানালেন।

    যুদ্ধটা মায়ের কিছু বাড়তি দুঃখ ছাড়া স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য ছিল শুধু কষ্টের, গৌরব ছিল না তাতে। হাসপাতাল থেকে ত্যানা-জড়ানো বাচ্চা কোলে তারা এক কাপড়ে পথে নেমেছিলেন। থেকেছেন অন্যের বাড়ি। বেবিফুডের তখন দারুণ সংকট। হাতে টাকাকড়িও নেই। ফিডারে ভাতের ফ্যান ভরে বাচ্চাকে খাওয়াতে হতো। এর মধ্যে কখন তার দু-দুটি দাঁত গজাল, মুক্তির আব্বা-আম্মা খেয়ালও করেননি। যেদিন দেশ স্বাধীন হয়, তারা হাসপাতালের ত্যানা খুলে মেয়েকে নির্ভয়ে মাটিতে ছেড়ে দেন। মা-বাবা নানান জায়গায় ঘুরে ঘুরে তখন মায়ের দূর সম্পর্কের এক ফুফুর বাড়ি। তারা সোমত্ত গৃহস্থ। উঠোন ঘিরে উঁচু উঁচু ধানের স্তূপ। এসবের ফাঁকে ইঁদুরের গর্ত। পাশে ঝুরঝুরে বালির ঢিবি। মেয়েটা বসার আগেই হামা দিল। মুঠো ভরে ঝুরঝুরে মাটি মুখে পুরে ফেলল কেউ কিছু বোঝার আগেই। মুক্তির আব্বা-আম্মার কাছে হঠাৎ দেশ স্বাধীন হওয়ার মতোই আশ্চর্য ব্যাপার–মেয়ের হামা দেওয়া, বিজয়ের দিনে মুঠো ভরে বাংলার পবিত্র মাটি খেয়ে ফেলা। তারা অনেকদিন পর একসঙ্গে হাততালি দিয়ে হেসে উঠলেন। নয় মাস বয়সের মেয়ের নাম রাখলেন মুক্তি। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের ভালোবাসার একমাত্র স্মারক, যুদ্ধের নামে মেয়ের নাম।

    মুক্তি নাম ব্যতিরেকে যুদ্ধের আর কিছু ধারণ করে না, জানেও না বিশেষ। জানার দরকারও হয়নি বীরাঙ্গনাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের চাকরিটা পাওয়ার জন্য। বরং আগেভাগে কিছু জানার চেয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে শোনাটাই যে বেশি জরুরি এবং শুনতে শুনতে একদিন যুদ্ধের আগাপাশতলা জানা হয়ে যাবে, কর্তৃপক্ষ প্রথম দিনই তাকে পইপই করে বলে দিয়েছেন। গত দু’দিন ধরে মুক্তি তা-ই করেছে। মরিয়ম বলে গেছে আর তার কাজ ছিল বিনা বাক্যে শুনে যাওয়া। কিন্তু এখন তো স্বয়ং সাক্ষাৎকারদাতাই অত্যধিক ঘুমের বড়ি খেয়ে বেহুশ। আর সময়টা হচ্ছে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, মুক্তির জন্মের আগমুহূর্তের এক বিভীষিকাময় মধ্যরাত। কালনাগের দংশনের রাত। প্রতারণা আর সামঞ্জস্যহীন রাত। গাছের গুঁড়ি, খালি পানির ট্যাংকের ব্যারিকেডের বিরুদ্ধে কামান আর মেশিনগানের রাত। স্লোগানের বিপরীতে অজস্র গুলিবর্ষণের রাত। অসহযোগের বিরুদ্ধে সহিংসতার রাত। তখন মুক্তির মা জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছেন, সামর্থ্যেরও বাইরে শক্তি প্রয়োগ করে চাপ দিচ্ছেন, কিন্তু ডাক্তারের অভাবে প্রসব করতে পারছেন না। এদিকে মরিয়ম বাবাহীন সন্তানের জন্ম দিতে দিতে নিজেও তখন ভ্রণের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছে।

    রাত বাড়ছে…

    আটাশ বছর, অর্থাৎ–দুই বছর কম তিন দশক। পাহাড়সমান না হলেও, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যুদ্ধের নথিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, বই, গ্রন্থাগারের বাসি গন্ধময় খবরের কাগজের মুক্তিরা উত্তরাধিকার। তবে পড়ে দেখেনি। মাথা অক্ষরহীন কাগজের মতো সাদা। মরিয়মই তাতে প্রথম দাগ কাটে। হাতেখড়িটা হয় তাকে দিয়েই। সূচনার এই পর্বে চোখ ফোটেনি যখন, কোনটা খাদ্য কোনটা অখাদ্য জানে না, প্রাণিজগতের এমন এক অবোধ-অন্ধ নবজাতকের মতো মুক্তি বইপত্রের স্তূপ থেকে ২৫ মার্চ রাতটাকে খুঁটে খুঁটে বাইরে আনে।

    এ রাতের অভিনবত্ব–যারা কুশীলব তারাই দর্শক। তারা বাঙালির ঔদ্ধত্যে বিরক্ত হয়ে উত্তর দিক থেকে যখন ঢাকা আক্রমণ করে, দক্ষিণ দিক থেকে তখন বসন্তের বাতাস বইছিল। এ ছিল ফুলের গন্ধভরা বাঁশি বাজানোর ভালোবাসাবাসির এক অপূর্ব রাত। শহর থেকে নিরাপদ দূরত্বে–প্রদেশের রাজধানী হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে বসে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল যে জায়গাটায়, যার নাম তখন ছিল সেকেন্ড ক্যাপিটাল, সেখান থেকে নির্দেশদানকারীরা বায়স্কোপ দেখার মতো তাদের নৃশংসতা উপভোগ করেছিল। তাদের বাধা দেওয়ার মতো আশপাশে কেউ ছিল না। যুদ্ধের আটাশ বছর পর, মুক্তি ২৫ মার্চ রাত পুনর্নির্মাণে দূরবর্তী সেই নিরাপদ জায়গাটিই বেছে নেয়। আর অনুসরণ করে পাকিস্তানি মেজর সিদ্দিক সালিকের উইটনেস টু সারেন্ডার বইটিকে। অমানবিক সর্তকতা সত্ত্বেও খুনি পায়ের ছাপ রেখে যায়–রক্তের দাগ মুছে দিতে দিতে এগিয়ে গেলেও, অগণিত লাশ বুলডোজার দিয়ে গর্ত খুঁড়ে পুঁতে ফেলার পরও, মেজরের ‘অপারেশন সার্চলাইট—এক’ পরিচ্ছেদে এই সত্যটি আরেকবার প্রমাণিত হয়।

    মুক্তি খুনির পায়ের ছাপ অনুসরণ করে…

    ২৫ মার্চ রাতে সেকেন্ড ক্যাপিটালের ঘাস-ছাঁটা আঙিনায় ‘আউটডোর অপারেশন কক্ষ’ লেখা ব্যানার টাঙানো হয়েছে। ঘাসের ওপর সারি সারি সোফা আর আরামকেদারায় দর্শকরা একে একে আসন গ্রহণ করে। তারা যাতে রণসংগীতের মূর্ঘনায় ঘুমিয়ে না যায়, তাই পাশের টেবিলে ফ্লাস্কভর্তি চা-কফি মজুত রাখা হয়েছে। একটা জিপের পিঠে বসানো হয়েছে বেতারযন্ত্র। যন্ত্রটা যুদ্ধের ধারাবিবরণী পেশ করবে। দর্শকদের মুখ দক্ষিণ দিকে–শহরের পানে। সেখানে দিগন্তব্যাপী ন্যাচরাল স্ক্রিন। যা এখন শূন্য, শান্ত, অন্ধকার। যারা শহরের রাস্তায় বড় বড় গাছ কেটে ব্যারিকেড তৈরি করেছিল তারা পরিশ্রান্ত। ঘুমিয়ে পড়েছে কেউ কেউ। ৩২ নম্বর বাড়ির ব্রিফিং-পর্ব শেষ। নেতারা অন্ধকারে গা ঢাকা দিচ্ছেন। তাদের নিঃশব্দ সঞ্চরণ পর্দায় দেখা যায় না। দেখা। যায় না, শেখ মুজিবুর রহমানের আনমনে পাইপ টানার দৃশ্যটিও। কারণ পর্দাটা অন্ধকার, বাতি নেভানো ঘুমন্ত শহর বুকে ধারণ করে নিঃসাড় হয়ে আছে তখনো।

    সেকেন্ড ক্যাপিটালের দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একটি বীভৎস হত্যাকাণ্ডের। এদিকে আক্রমণকারীরাও সশস্ত্র, উদ্যত, অস্থির। বেতারযন্ত্র মারফত মিনিটে মিনিটে আবদার আসছে–ইমামের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, আর কতক্ষণ অস্ত্র হাতে তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কিন্তু পিআইএর স্পেশাল ফ্লাইটটার যত দ্রুত করাচির আকাশসীমায় পৌঁছে যাওয়ার কথা, তত দ্রুত পৌঁছাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া তাতে সওয়ার। রাতের অন্ধকারে ঢাকা ত্যাগ করে তিনি এখনো কলম্বো করাচির মাঝপথে, ৩০ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ছেন। এভাবে কালক্ষেপণ মস্ত বড় হেঁয়ালি। কুশীলবরা মেকআপ নিয়ে বসে আছে অথচ পর্দাটা তোলা হচ্ছে না। জেনারেলের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আর অতর্কিত আক্রমণ দুটোই প্রয়োজন। একদিকে সময়কে হাতে রাখা, অন্যদিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া। শেষমেশ আক্রমণের এইচ-আওয়ার কাগজে-কলমে রাত একটায় গিয়ে ঠেকে। যদিও কার্যত যা শুরু হয় দেড় ঘণ্টা আগে।

    বসন্তের মিষ্টি হাওয়ায় সেকেন্ড ক্যাপিটালের দর্শকদের চোখে ঘুম নামে। আয় ঘুম, যায় ঘুম, এর মধ্যে তাদের সিন বাই সিন যুদ্ধ দেখতে হবে। এটি যুদ্ধ করার সমান পুণ্যের।

    মহাভারতের অন্ধ রাজা ধৃতরাষ্ট্রকে কুরুক্ষেত্রের পুরো যুদ্ধটা দেখতে হয়েছিল। দেখিয়েছিলেন সঞ্জয়–এক অন্ধ পিতাকে পুত্রদের হত্যাদৃশ্য, কৃষ্ণের কূটচাল, ধর্মপুত্রের মিথ্যাচারণ, বালক অভিমন্যুর চক্রব্যুহে প্রবেশ। সে ছিল আঠারো দিনের যুদ্ধ। দু’পক্ষের উত্থান-পতন আর জয়-পরাজয়ের জটিল কাহিনি। অত বড় হত্যাযজ্ঞের পর যারা জয়ী হয়েছিলেন, তারা রূপকথার রাজা-রানির মতো সুখী হলেন না। গভীর মর্মপীড়া অহর্নিশি খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাদের আত্মহত্যার সবচেয়ে প্রলম্বিত পথ মহাপ্রস্থানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। আজকের এই দর্শকদের হিসাবটা শুধু এক রাতের। তাদের পক্ষ একতরফা মারবে। বাকি নয় মাস হিসাব করেনি। তাই তাদের যুদ্ধ দেখার কাজটা হয়ে ওঠে বায়স্কোপ দেখার মতন। নিরুদ্বেগ, ভয়হীন, বিনোদনমূলক। যা নিদ্রাসুখ পরিত্যাগ না করেই দেখা সম্ভব। তা ছাড়া সঞ্জয় যেমন অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রকে কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধের খবরাখবর দিচ্ছিলেন, এখন এ কাজের জন্য বেতারযন্ত্রটি তো রয়েছেই।

    রাত ১১টা ৩০ মিনিটে সেনাদের পদভারে পর্দাটা কেঁপে ওঠে। তারা সেনানিবাস ছেড়ে শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা আগে। তাদের চলার গতিতে আত্মবিশ্বাসটা প্রবল। যেন যুদ্ধ নয়, এপাড়া থেকে ওপাড়ায় পাতানো খেলা খেলতে চলেছে। সামনে শত্রু আছে ঠিকই, তবে নিরস্ত্র। সৈন্যদের সামনে এখন ফার্মগেটের ব্যারিকেড। পর্দাজুড়ে বড় বড় গাছের গুঁড়ি, নষ্ট গাড়ির খোল, পরিত্যক্ত স্টিমরোলার। প্রতিবন্ধকতার ওপাশে মানুষ দেখা যায় না। কিন্তু অগ্রগামী সেনাদের হকচকিত করে স্লোগান ওঠে–জয় বাংলা!

    দর্শকরা স্প্রিংয়ের মতো লাফিয়ে ওঠে। তাদের ঘুম ঘুম আমেজ ছুটে যায়। নিজেদের আক্রান্ত হওয়ার কথাই হয়তো ভাবে তখন। কারণ অপারেশন সার্চলাইট শুরু হতে তখনো দেড় ঘণ্টা বাকি। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া তখনো শূন্যে। পাকিস্তানের পাকভূমি স্পর্শ না-করা তক তার নিরাপত্তার দিকটি তাদের খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ভারতীয়দের বিশ্বাস নেই। ফকার ছিনতাই, লাহোরে তা ধ্বংস করার প্রতিশোধ তারা নিতেই পারে। তা ছাড়া ঢাকা আক্রমণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে প্লেনসুদ্ধ প্রেসিডেন্টকে আকাশ থেকে নামিয়ে ফেলতে পারে ভোকাট্টা ঘুড়ির মতন। হয়তো নামাল না, তোপ মেরে পাঠিয়ে দিল বেহেশতে-এখন শরাব আর হুরি সহযোগে তিনি যার কাছাকাছিই আছেন। দর্শকরা আকাশের দিকে তাকায়ভুলবশত। তারপর পর্দায়। তাদের চোখ পড়ে। ততক্ষণে শ্লোগান নিশানা করে মারণাস্ত্রের মুখ খুলে গেছে। বাতাসে শিস দিচ্ছে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। পর্দাটা ঢেকে যায় ধোঁয়ায়। জয় বাংলার কণ্ঠগুলো বুলেটবিদ্ধ হয়। আর স্লোগান শোনা যায় না। সৈন্যরা শহরে ঢোকে। দর্শকরা কফির পেয়ালা হাতে ফের আসন গ্রহণ করে।

    পর্দায় তখন রকেট লঞ্চার ছুঁড়ে ৩২ নম্বরের প্রবেশপথের ব্যারিকেড ভাঙা হচ্ছে। অদূরে একটি বিবর্ণ হলদে বাড়ি। পর্দায় যা ধূসর সাদা দেখায়। বাড়িটা গার্ডহীন, অরক্ষিত। সৈন্যরা সেদিকে চলেছে ট্যাংক, ভারী অস্ত্রশস্ত্রের বিশাল লটবহর নিয়ে। রাস্তার প্রতিবন্ধকতা সরানোর পর বাড়ির চার ফুট উঁচু দেয়াল কমান্ডো বাহিনীর গতিরোধ করে। তারা তা অনায়াসে ডিঙিয়ে যায়। স্টেনগান থেকে ব্রাশফায়ার হয়। বুটের দুপদাপ শব্দ বারান্দা অতিক্রম করে সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় ওঠে। পর্দাজুড়ে একটি তালাবন্ধ ঘরের দরজা। ঝুলন্ত ইস্পাতখণ্ডটি বুলেটে বিদীর্ণ হয়। দরজা খুলে যায়। মুজিব বেরিয়ে এসে জানতে চান, ‘তোমরা গুলি ছুড়তাছো ক্যান?’

    কমান্ডো আক্রমণের কয়েক মিনিট পর সেকেন্ড ক্যাপিটালের দর্শকরা বেতারযন্ত্রটির কোঁকানো শুনল। তারপর একজনের কাঁপা কাঁপা কণ্ঠস্বর, ‘বড় পাখিটা খাঁচার ভেতর…অন্যগুলো নীড়ে নেই…ওভার।’

    ততক্ষণে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া নিরাপদে করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন। বেতারযোগে ফরমান আসে, ‘সর্ট দেম আউট।’ বাছাই করো… খতম করো বাঙালিদের।

    দর্শকদের সামনের কালো পর্দাটা লোহিতবর্ণ ধারণ করে। লকলকে অগ্নিশিখা লাফিয়ে ছুঁতে চায় আকাশটাকে। বিশাল ধূম্রকুণ্ডলী এর গতিরোধ করে। খানিক আকাশযুদ্ধ চলে ধোঁয়া আর অগ্নির। হঠাৎ আকাশজুড়ে ট্রেসার বুলেটের আতশবাজি-দর্শকরা চমৎকৃত হয়। তাদের আনন্দদানের জন্য তা চলতে থাকে খানিক বিরতি দিয়ে দিয়ে। যেন অগ্নি আর ধূমের একঘেয়ে প্রদর্শনীর মাঝখানে ঝটিকা বিজ্ঞাপন-ঝলমলে, স্মার্ট।

    রাত তখন দুটো। কড়কড়িয়ে বেজে ওঠে বেতারযন্ত্রটি। সবাই ছোটে সেদিকে। তবে মাউথ পিসটি মুখের কাছে টেনে নেয় সেই ব্যক্তি, যে এ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত।

    ধৃতরাষ্ট্র কহিলেন ‘হে সঞ্জয়! আমার সৈন্যগণ মহাবল-পরাক্রান্ত লঘু ও আয়তকলেবর, ব্যাধিশূন্য, বর্ম্মসমাচ্ছন্ন, বহু শস্ত্র ও পরিচ্ছদসম্পন্ন, শস্ত্র গ্রহণে সুনিপুণ এবং ন্যায়ানুসারে ব্যূহিত। তাহারা অতিশয় বৃদ্ধও নয়, বালকও নয় এবং কৃশ নয় ও স্কুলও নয়। তাহারা আমাদিগের নিকট সৎকৃত হইয়া আমাদেরই অভিলাষানুসারে সতত কার্য নির্বাহ করিয়া থাকে। তাহারা আরোহণ, অধিরোহণ, প্ৰসরণ, সম্যক প্রহার, প্রবেশ ও নির্গম বিষয়ে সুদক্ষ এবং হস্তী, অশ্ব ও রথচৰ্য্যায় পরীক্ষিত।’

    বেতারযন্ত্রটির বাকস্ফুরণ ঘটে…

    : ইকবাল হল, জগন্নাথ হলের ছাত্ররা আমাদের দিকে গুলি ছুড়ছে।

    : তাদের হাতে অস্ত্র কী আছে?

    : থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল।

    : তোমাদের?

    : রকেট লঞ্চার, রোমিও রোমিও (রিকয়েললেস রাইফেল), মর্টার এবং….

    : ননসেন্স! ইমাম বলছেন–সবগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করো। দু’ঘণ্টার ভেতর ধ্বংস করো।

    হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উল্টো দিকে ইংরেজি দৈনিক দ্য পিপল-এর অফিস। হোটেলের ১১ তলায় দাঁড়িয়ে বিদেশি সাংবাদিকেরা সামনের রাস্তা দিয়ে মেশিনগান বসানো জিপ এগিয়ে যেতে দেখে। পদাতিক বাহিনী পেছনে। তাদের কাঁধে রকেট জাতীয় অস্ত্র। সৈন্যরা একসঙ্গে গোলাবর্ষণ শুরু করে। প্রেসের যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে। ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    : দ্য পিপল-এর খবর জানাও। ওভার।

    : আমাদের দুজন সৈন্য গুরুতর আহত। সিএমএইচ-এ পাঠানো হয়েছে।

    : ক্যাজুয়ালটি কত আনুমানিক?

    : এই মুহূর্তে বলা অসম্ভব। আগুন জ্বলছে। একেবারে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো কোনোদিনই জানা যাবে না, এখানে কতজন বাঙালি ছিল।

    বেতারযন্ত্রটি পিলখানার ইপিআর ক্যাম্প পতনের খবর দেয় রাত আড়াইটার সময়। দু’দিন আগে আক্রান্তদের নিরস্ত্র করা হয়েছিল এই বলে যে, শিগগির শেখের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে, দেশে এখন শান্তি বিরাজ করছে, তোমরা অস্ত্র জমা দিয়ে বিশ্রাম নাও। ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় বাঙালি ইপিআর বাহিনী প্রথম বুঝতে পারে, তারা প্রতারিত হয়েছে। অস্ত্রাগারে তখন বিশাল তালা। মাঝরাতে নিরস্ত্র ইপিআর সদস্যদের দিকে ছুটে আসে কামানের গোলা আর ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি।

    পর্দাটা লাল, রক্তাক্ত শহর বুকে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আকাশটাও লাল। ধোঁয়া হটে গেছে, জায়গায় জায়গায় আগুন। আগুনের রক্তিমাভা। পর্দাটা এখন আগুনের দখলে। বস্তিতে আগুন ধরানোর পর অর্ধভুক্ত, কঙ্কালসার, হালকা-পলকা মানুষগুলো যে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়তে শুরু করেছে, পর্দায় তা দেখা গেল না। তারপর যে গুলি খাওয়া ছোট ছোট পাখির মতো ঝুরঝুরিয়ে পড়ে গেল মাটিতে, সেই দৃশ্যটিও নয়। বেতারযন্ত্রটি চুপ। আবর্জনার মানুষ আবর্জনা হয়ে গেছে। মাঝখানে ওড়ার দৃশ্যটি শুধু ব্যতিক্রম।

    : বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো গোলাগুলি চলছে?

    : এতগুলো বিল্ডিং শেষ করতে সময় লাগছে। ছাত্ররা গুলি ছুড়ছে। কিন্তু আমাদের কোনো ক্যাজুয়ালটি হয়নি। ওভার।

    : খুব শিগগির বিগ ব্রাদার (আর্টিলারি সাপোর্ট) পৌঁছে যাবে। ইকবাল হল, লিয়াকত হল মনে হয় চুপ মেরে গেছে! অ্যাম আই কারেক্ট?

    : ইয়েস।

    : দ্যাট ইজ জলি গুড! নাউ লিসন। মাইকে কারফিউর ঘোষণা দিতে বলো–নম্বর-এক। নম্বর-দুই, বাংলাদেশের পতাকা যে বাড়ির মাথায় উড়বে, এর ফল ভোগ করতে হবে বাড়ির লোকদের। শহরে যেন একটিও কালো পতাকা দৃশ্যমান না হয়–পরিণাম অত্যন্ত খারাপ হবে, অ্যানাউন্স করে দাও। রাস্তায় কাউকে ব্যারিকেড দিতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে গুলি। যে এলাকার রাস্তায় ব্যারিকেড আছে–পিপল ফ্রম দ্যাট লোকালিটি উইল বি প্রসিকিউটেট। অ্যান্ড দ্য হাউজেস…লেফট অ্যান্ড রাইট–আমি আবার বলছি, ডানে-বাঁয়ের বাড়িগুলি ডেমলিশ করে দাও-ডেমলিশড।

     কয়েকটা জিপ উত্তর দিক থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে শহিদমিনারের কাছটায়। থামে। রাস্তাজুড়ে বটের মোটা মোটা কাণ্ড। খালি পানির ট্যাংক ইটে বোঝাই। সৈন্যরা গাড়ি থেকে দুপদাপ নেমে পড়ে। রাস্তার বাঁ পাশে বাউন্ডারি ওয়াল, মাঝখানে লোহার গেট। তারা একটানে খুলে ফেলে গেটের তালা। আঙিনা দৌড়ে পার হয়। তিন-চারটা করে সিঁড়ি একলাফে ডিঙিয়ে যায়। ফ্ল্যাটের দরজায় বুটের লাথি পড়ে। পর্দাটা কেঁপে। কেঁপে জানান দেয়, ঘরের ভেতরের মানুষগুলোর হৃৎপিণ্ডের লাফঝাঁপ। যা পরক্ষণেই বুলেট বিদ্ধ হবে, মানুষগুলো মুখ থুবড়ে পড়বে সিঁড়িতে, ল্যান্ডিংয়ে, ছোট আর সমান করে ছাঁটা সবুজ ঘাসের চাতালটায়। সৈন্যরা দৌড়ে দৌড়ে পর্দা থেকে বেরিয়ে যায়। পেছনে রক্তের ভেলায় ভাসতে থাকে কয়েকজন মৃত্যুপথযাত্রী। তারা শেষবারের মতো পানি খেতে চাইছে।

    রাত তিনটার দিকে বেতারযন্ত্রটি ঘর্ঘর করে বলে চলে-রাজারবাগ ক্যাপচাড়…রমনা থানা ক্যাপচাড়…কমলাপুর রেলস্টেশন ক্যাপচার্‌ড্‌…টিভি/রেডিও আন্ডার কন্ট্রোল…এক্সচেঞ্জ ক্যাপচার্‌ড্‌…

    : এত আগুন কীসের?

    : পুলিশ লাইন জ্বলছে।

    : গুড শো!

    ভোর চারটায় বেতারযোগে বিশ্ববিদ্যালয় পতনের খবর আসে সেকেন্ড ক্যাপিটালে। মাঠে যেন চূড়ান্ত গোল দেওয়া হয়ে গেছে–আনন্দে উচ্ছ্বাসে লাফায় দর্শকেরা।

    সৈন্যরা তখন ‘সারেন্ডার অর ইউ সেল বি কিলড’ ঘোষণা দিতে দিতে জগন্নাথ হলের অভ্যন্তরে ঢুকতে শুরু করেছে কেবল। হত্যাকাণ্ডের মাঝপথে তারা। কক্ষের কোনা, পাঁচিলের নিচ, কচুক্ষেত, সার্ভেন্টস কোয়ার্টার থেকে ছাত্রদের ধরে এনে তখনো গুলি করা বাকি। তারপর আছে ছড়ানো-ছিটানো লাশ টেনে এনে এক জায়গায় শুমার করা। তার জন্য অবশিষ্ট ছাত্র, সুইপার, মালি, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আর দারোয়ানদের জড়ো করা হয়। এক পর্যায়ে অবাঙালি মেথর, মালি আর মিস্ত্রিরা দেনদরবার শুরু করে মিলিটারির সঙ্গে, যদি কোনো প্রকারে বাঁচা যায়–

    : নেহি সাব, হাম বাঙালি নেহি হ্যায়, পশ্চিমা হ্যায়, হামলোক তো ভাঙ্গি হ্যায়।

    : তুম ইহা কেয়া কার রাহা হ্যায়?

    : সায়েব হাম তো নোকরি করতা হ্যায়। ঘরমে ছোটা ছোটা বাচ্চা হ্যায় ম্যারা–কোনো কাজ হয় না। লাশ বহন করা শেষ হলে তাদেরও লাইন করিয়ে হত্যা করা হয়। সৈন্যদের চিরুনি অভিযানের পর ঘটনার সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকে কয়েকজন। ম্যানহোলের আশ্রয় থেকে একজন দেখেছিল পুরো হত্যাকাণ্ডটি। উনিশ ঘণ্টা পর বেরিয়ে এসে তার মনে হয়, পৃথিবীর সব লোক মৃত, সেই একমাত্র জীবিত ব্যক্তি, যে নর্দমার পাতাল থেকে উঠে এসেছে।

    জগন্নাথ হল। উত্তর বাড়ি। ২৯ নম্বর কক্ষ। তিনজন ছাত্রকে একত্রে ব্রাশফায়ার করা হয়। গ্রেনেড ছোড়ে রুমটিতে। ধ্বংসস্তূপ আর রক্তের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একজন–মানুষ নয়, যেন প্রেতাত্মা।

    ছাদে পঁচিশজনকে একসঙ্গে ব্রাশফায়ার করা হয়। তার মধ্যে কাঁধে গুলি খেয়ে বাঁচে খর্বাকৃতির একজন। আসল বুলেটটি তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়।

    আরেকজন পায়ে গুলি খেয়েছিল কক্ষের ভেতর। সে জানালার রড খুলে বাইরে এসে ড্রেনে পড়ে। তারপর কুলগাছের নিচের ঝোঁপঝাড়ের ভেতর দিয়ে নেমে যায় পুকুরে। নাকটা শুধু ভাসানো ছিল। মাথার ওপর ভোরের কুয়াশায় ডানা মেলে ঝাঁকে ঝাঁকে কাক-শকুন উড়ছিল। একটা কাক নেমে আসে নিচে। নাকে ঠোকর দেবে যখন, সে জিব নেড়ে কাকটাকে তাড়ায়।

    হলজীবনের সঙ্গী, রুমমেট, শিক্ষকদের মৃতদেহ টেনে এনে জড়ো করা হয়েছিল যে জায়গায়, সেখানে লাশ টানা লোকদের ব্রাশফায়ার করার আগমুহূর্তে একজন ক্লান্তিতে শুয়ে পড়ে। খোলা পানির কলের মতো কলকলিয়ে গরম রক্ত ছুটে আসছে চারদিক থেকে। সে ঢাকা পড়ে যায় রক্তের আড়ালে। অদূরের কোয়ার্টার থেকে এক অধ্যাপক ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডারে দেখেন, সৈন্যরা চলে যাওয়ার পর মৃতদেহের স্তূপ থেকে উঠে এক অদ্ভুত চেহারার লোক ধোয়া আর কুয়াশায় দৌড়ে যাচ্ছে। গায়ের রক্ত দিয়ে যারা আড়াল করেছিল, লোকটির জীবদ্দশায় তারা খালি হাতছানি দিয়ে ডাকত। কারণ বুলডোজার চালিয়ে সমান করার পরও কারো কারো হাত কবজি পর্যন্ত গণকবরের বাইরে থেকে গিয়েছিল।

    : বিশ্ববিদ্যালয়ে কত জন হতাহত হলো–তোমার আনুমানিক হিসাবটা বলল। জাস্ট গিভ মি দ্য অ্যাপ্রোক্সিমেট নম্বর। ওভার।

    : তিন শ’র মতো।

    : এক্সসিলেন্ট। ইমাম জানতে চাচ্ছেন, তিন শ মারা গেছে, না আহতও আছে?

    : আমি একটাই বিশ্বাস করি…তিন শ মারা গেছে।

    : আমিও তোমার সঙ্গে একমত। ওই কাজটাই সহজ। নো, নাথিং আড়, নাথিং ডান। তোমাকে ব্যাখ্যা করতে হবে না। আমি আবারও বলছি, ভালো করেছ। চমৎকার কাজের জন্য আবারও বলছি, শাবাশ। ম্যায় বহৎ খুশ হু।

    ওভার… রাত্রি ভোর হয়ে আসছে। পর্দাটা খালি। বায়স্কোপ দেখাও শেষ। দর্শকরা ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে ঘুমোতে। ইমাম এসি রুমে ঢুকে আবার গত রাতের উন্মুক্ত অপারেশন কক্ষে ফিরে আসেন। চশমার ঘোলা কাঁচ মোছেন রুমালে ঘষে ঘষে। শহরের শরীর থেকে ধোঁয়া উড়ছে। ভোরের আজানের সুরে সুরে ঝরে পড়ছে করুণ আর্তনাদ। ইমাম। চোখে চশমা তুললেন–খোদা মেহেরবান, একটা মানুষও নেই। একটা রাস্তার কুকুর ভয়ে ভয়ে ধোঁয়া ভেদ করে শহরের দিকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }