Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালাশ – শাহীন আখতার

    শাহীন আখতার এক পাতা গল্প418 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৮. আরেকটা গণ-আদালত, না হয় মুক্তিযুদ্ধ

    আরেকটা গণ-আদালত, না হয় মুক্তিযুদ্ধ

    মরিয়মের দ্বিতীয় বিয়ের দশ বছর পর মুক্তি যখন ঠিকানা খুঁজে খুঁজে রায়েরবাজারের বাসায় হাজির হয়, দেবাশিস তখন আর ওখানে নেই। তাকে দরজা খুলে দেয় টুকি। বারান্দায় বেঞ্চিতে বসে মুক্তি অপেক্ষা করে একজন বীরাঙ্গনার, বেবির লেখা কেসহিস্ট্রিতে যার বয়স বাইশ। পুনর্বাসনকেন্দ্রের চিকিৎসার পর বয়সটা আরো কম দেখাত–গর্ব করে তাকে বলেছিল বেবি। যদিও বারবার জিগ্যেস করেও জবাব পায়নি, মেয়েটা একা একা হাসত যখন, তখন চুলের ফাঁক দিয়ে তার গালে টোল পড়তে দেখেছে বেবিরা। তারপর তো মরিয়মের মানসিক রোগ ধরা পড়ে। ভাগ্য ভালো যে, ঠিক সময়ে গার্জিয়ান এসে মেয়েটাকে বাড়ি নিয়ে গেছে। তা না হলে, বিদেশি ডাক্তাররা চলে যাওয়ার পর তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চালান দেওয়া হতো। যারা একবার ওখানে গেছে, তারা আর বাইরের আলো দেখেনি। ওখানকার। পাগলেরাই হয়েছিল তাদের আপনজন। সবশেষে বেবি পত্রিকার হারানো বিজ্ঞাপনের ভাষায় মুক্তিকে বলে, মেয়েটির বাম গালে একটা গোলাপি আঁচিল আছে আর মুখাকৃতি চাঁদের মতো গোলাকার। মুক্তিকে পরে নতুনগাঁওয়ের জৈতুন বিবিও মরিয়মের কথা বলতে যেয়ে চাঁদপানা মুখের উল্লেখ করেছিল।

    বয়স বাইশ বছর এবং মুখাকৃতি গোলাকার, চেনার এ দুটি লক্ষণ মাথায় নিয়ে মুক্তি বারান্দার নড়বড়ে বেঞ্চিতে বসে থাকে। টুকি সামনে দিয়ে এমনভাবে আসা যাওয়া করে, যেন সে-ই এ বাড়ির ঘরনি। উঠোনের দড়ি থেকে কাপড় তোলে টুকি। পোষা মুরগিগুলোকে কক কক শব্দ করে ডেকে নিয়ে যায় রান্নাঘরের পেছনে। তাকে মুক্তি মরিয়ম ভাবে না, শুধু এ কারণে যে, তার বয়স বাইশ নয়, আর মুখাকৃতিও গোলাকার নয়। তারপর মরিয়ম সামনে এসে দাঁড়ালে সে সালাম দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। নিজের পরিচয় দিয়ে বলে যে, সে মরিয়ম বেগমের একজন সাক্ষাৎপ্রার্থী, অনেকক্ষণ হয় এসেছে, তাড়াতাড়ি ভদ্রমহিলার দেখা পেলে ভালো হয়, কারণ সে থাকে মিরপুর, রাত হয়ে আসছে, তাকে বাসে করে বাসায় ফিরতে হবে। মরিয়ম তার দীর্ঘ বাক্যটি শুনতে শুনতে ঘরে ঢুকে বাতি জ্বালায়। তার দিকে একটি বেতের চেয়ার এগিয়ে দিয়ে নিজে মোড়া টেনে বসে বলে, ‘আমার নাম মরিয়ম বেগম।’

    মুক্তির মুখ থেকে কথা সরে না। মাঝখানে আটাশটা বছর যে পালিয়ে গেছে, তা তার ধীরে ধীরে মনে আসে। তাহলেও ভদ্রমহিলার বয়স মাত্র পঞ্চাশ এখন। একজন বীরাঙ্গনা এত অর্ডিনারি হয় দেখতে! রাধারানী তো এরকম নয়। মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান। সত্ত্বেও ওর জেল্লা আছে চেহারায়। এদিকে মরিয়মের গোলাকার মুখের চন্দ্রিমাভা বয়সের রাহুগ্রাসে হারিয়ে গেছে। কিন্তু তার চেহারা তো হওয়ার কথা নাটক-সিনেমার সেসব মা-খালাদের মতো, মেকআপ দিয়ে যাদের বয়স বাড়ানো হয়েছে, আসলে তারা বয়স্ক নয়।

    নিজের চেহারা অন্য আরেকজনের খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা মরিয়মের পছন্দ হয় না। সে কি নতুন বউ যে বাইরের মানুষ এসে তার মুখ দেখবে! মুক্তিকে সে জিগ্যেস করে, বেবি তার সম্পর্কে কী বলেছে। কিন্তু উত্তর শোনায় মনে হলো, তার বিশেষ আগ্রহ বা ধৈর্য নেই, দুম করে বলে বসে, ‘হে তো একটা মাথা পাতলা মহিলা।’ তারপর তার একপ্রস্থ গালাগাল শুনতে শুনতে মুক্তির চোখের সামনে থেকে অর্ডিনারি চেহারাটা অন্তর্হিত হয়ে মরিয়মের গালের গোলাপি আঁচিলটা জ্বলজ্বল করতে থাকে। বীরাঙ্গনার রাগ না-থাকাটাই অস্বাভাবিক। আগে যা ছিল অভিমান, এখন তা হয়তো ক্ষোভ-তবে কার বিরুদ্ধে বোঝা যায় না। সে যা-ই হোক, কথাবার্তা শুরুর আগে ভদ্রমহিলার কঠিন দিল ভিজিয়ে খানিকটা নরম করা দরকার।

    ‘আপনাদের আত্মত্যাগ ছাড়া তো দেশ স্বাধীন হইত না। আপনারা বিশেষ কিছু… মানে।’ কথার মাঝখানে তোতলাতে থাকে মুক্তি। এদিকে মনে হয় জেঁকের মুখে নুন পড়েছে। মরিয়ম মোড়া ছেড়ে পাশের চেয়ারে গা এলিয়ে বসে। চোখ সিলিংয়ের দিকে। আজ কত বছর পর একজন তার বাড়ি খুঁজে খুঁজে এসেছে। অনুরাধা তাহলে মিথ্যা বলেনি। মানুষের কষ্ট-নির্যাতনেরও দাম আছে। কিন্তু তারা যে। বিশেষ কিছু–সেটা কী? তা কি মাপা যায়-সম্মান, মর্যাদা, ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা দিয়ে?

    দুটি বিয়ের পর, অল্প দিনের জন্য হলেও মরিয়মের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বেড়ে গিয়েছিল। এর সঙ্গে যদিও একাত্তরের ধর্ষণের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বিশেষত, দ্বিতীয় বিয়ের বহু আগে বীরাঙ্গনার লেবাস মরিয়মের গা থেকে এমনিই খসে পড়েছিল। এটি ছিল অস্বাভাবিক বিয়ে, যার মধ্যস্থতাকারী মহল্লার লোকজন। তাদের অজুহাত ছিল, দুর্নামের হাত থেকে মহল্লার মান-ইজ্জত রক্ষা করা, প্রকারান্তরে একজন বীরাঙ্গনার পায়ে শিকল পরানো, যে তাদের অগোচরে পরপুরুষ সংসর্গ করছে।

    বিয়ের দ্বিতীয় দিনে হাজির ছেলে বর-কনেকে দাওয়াত করে খাওয়ায়। হাজি সাহেবের বিধবা স্ত্রী মরিয়মকে উপহার দেন একটা হাফ সিল্ক জামদানি শাড়ি। দেবাশিসের জন্য কিনে আনেন সিল্কের টুপিসহ তসরের পাঞ্জাবি। আশপাশের বাড়ির ছেলেপেলেরা রাস্তায় দেখা হলে বর-কনেকে সালাম দিত। বিয়ের খবরে টলেননি শুধু মনোয়ারা বেগম। ‘ধুর ধুর, এইডা একটা বিয়া অইলো! ছন্দা তোরও মাথা খারাপ–বইনের বিয়ার কথা শুইন্যা নাচতাছস। তোর বাপও একদিন নাচছিল, হে যখন মমতাজরে শাদি করে।’ তিনি তো ঢাকা এলেনই না, ছন্দাকেও ভিড়তে দেননি এদিকে। পরে যখন স্কুলমাস্টার কলিগের সঙ্গে ছন্দার বিয়ে হয়, তখনো মরিয়ম আর দেবাশিস দাওয়াত পায়নি। মনোয়ারা বেগম ছাড়া মেরির বিয়েতে নাখোশ ছিল আরেকজন–স্বয়ং দেবাশিস। মরিয়মের সঙ্গে তার স্বাভাবিক বন্ধুত্বের সম্পর্কটা বিয়ের পর নষ্ট হয়ে যায়। কোথাও যাবার জায়গা না থাকায় আরো দুটি বছর সে এ বাড়িতে ছিল। তখন ঘুমাত পাশের ঘরে। নৌকাডুবির দুঃস্বপ্নটা মাঝরাতে মরিয়মের ঘরে তাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারেনি। ঠিকা ঝির তো আক্কেলগুড়ুম। স্বামী-স্ত্রী একঘরে থাকে না, এক বিছানায় শোয় না–এ কেমন! দেশের বাড়ি থেকে স্বামী-বশীকরণের তাবিজ আর পানিপড়া এনে মরিয়মকে দিয়েছিল ঠিকা ঝি। সেসব কাজে না দিলে চাকরি ছেড়ে চলে যায় সে।

    ঠিকা ঝি তো চাকরি ছেড়ে খালাস। একটা ব্যর্থ বিয়ে দিনে দিনে মরিয়মের মনে ক্রোধের জন্ম দেয়। বয়স তখন তার চল্লিশ। সন্তানের মা হতে কোনো বাধা নেই। পাশের ঘরে স্বামী রয়েছে, অথচ সে তার সঙ্গে শোয় না। পাড়ার লোকেরা তাকে বিয়ে দিয়ে তিলে তিলে যে শাস্তি দিচ্ছে, এর চেয়ে পাথর মারা অনেক ভালো ছিল। একবারেই সব শেষ হয়ে যেত। মরিয়ম মাঝরাতে বিছানা ছেড়ে উঠে দেবাশিসের ঘরের কড়া নাড়ে। ভেতর থেকে সাড়া আসে না। বারান্দার বেঞ্চিতে বসে তার মনে আকাশসমান ঘৃণা জন্মায় দেবাশিসের প্রতি। সে কি দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে পারে না একবার! মরিয়ম শারীরিক সম্পর্ক চায় না, সন্তান চায় না, দেবাশিস শুধু তার মাথায় হাত রাখুক, সে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়বে। পরদিন কথাটা শোনার পর দেবাশিস মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়াতে এসেছিল। যে পুরুষটি নির্ভেজাল পুরুষ-আসক্ত, তার ছোঁয়া পাওয়া মাত্র মরিয়মের শরীরের গ্রন্থি আলগা হতে শুরু করে। কোল থেকে মাথা নামিয়ে উঠে পড়ে দেবাশিস। সব জানার পর ভগবান জানেন, মেরি কেন তাকে বিছানায় চায়। সারা রাত কামার্ত বাঘিনির মতো বারান্দার এমাথা-ওমাথা পায়চারি করেছে মরিয়ম। এ তামাশা দেখার লোক ছিল না। হাজির বাড়ির দোতলাটা অন্ধকার। সবাই যার যার বিছানায় ঘুমাচ্ছে। মেরি-দেবাশিস স্বামী-স্ত্রীলোকজন বিয়ে দিয়েই দায়মুক্ত, তাদের রাত কীভাবে কাটে, এ নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। গলা ফাটিয়ে মরিয়মের চাচাতে ইচ্ছা করে–যে পুরুষ কিছু করতে পারে না, সে মাথায় হাত বোলাতে আসে কেন?

    এভাবে বঞ্চিত হওয়া কি ধর্ষণের চেয়ে খারাপ? মরিয়ম অতীতের ধর্ষকদের একে একে স্মরণ করে। বাড়ির উঠোন থেকে গলির শেষ মাথা পর্যন্ত তাদের লম্বা লাইন। সে কি পাগল হয়ে যাচ্ছে? আবেদ জাহাঙ্গীর, মেজর ইশতিয়াককেও তার আর মনে ধরে না। এই রাতে দেবাশিসকেই তার চাই–যে তার শরীর চায় না।

    ‘তুমি অসুস্থ অসুস্থ, আমি বলছি, মেরি,’ দেবাশিস দিনের বেলা চাচায়, ‘তুমি ডাক্তার দেখাও।’ মরিয়ম অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। ‘দূর হ হারামজাদা,’ বলে দেবাশিসের গায়ে পায়ের স্যান্ডেল ছুঁড়ে মারে সে। ভেবেছিল, লজ্জা থাকলে ছেলেটা আর এ মুখো হবে না। দু’দিন পর ঠিকই ফিরে আসে। সঙ্গে আরেকটা কমবয়সি ছেলে। দেবাশিস পরিচয় করিয়ে দেয়, এর নাম অনুপম সিকদার। জগন্নাথ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বাড়িটা যে মরিয়মের, এ নিয়ে দুজনের কারো মাথাব্যথা নেই। তাকে অবশ করে দিয়ে তারা ঘরে ঢুকে দরজার খিল তুলে দেয়। পরিস্থিতি মরিয়মকে বোবা করে দিয়েছে। এবার নিজের বাড়িতেও সে পরবাসী। প্রতিবাদ করতে গেলে ফের যদি একা হয়ে যায়! বাইরের অবস্থাও তখন উত্তপ্ত। এরশাদ পতনের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। আজ প্রতিরোধ, কাল হরতাল। একদিন অফিসে গেলে দু’দিন ঘরে থাকতে হয়। ছেলে দুটি সারা দিনে একবারও বাইরে বেরোনোর নাম করে না। ঘরের ভেতর জেঁকে বসেছে। জোরে জোরে রেডিও শোনে। ফাঁকে ফাঁকে উঠে গিয়ে খিচুড়ি পাকায় আর ডিম ভাজা করে নিজেরা খায়, মরিয়মকে খেতে দেয়।

    এ ব্যবস্থায় মনোয়ারা বেগম মহা খুশি। তিনি ঢাকা এসেছেন ডাক্তার দেখাতে। রায়ের বাজারের দিকে না এসে বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি চলে যান মগবাজার, গোলাম মোস্তফার বাসায়। পরদিন আসেন মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে। ‘মরিয়ম তুই খুব ভালো স্বামী পাইছস। ছেলেডা কিউট!’ মেরির গোমড়া মুখ দেখে তিনি চটে যান, ‘কী বেআক্কেলে মাইয়্যা তুই! বুড়া বয়সে বিয়া অইছে। কই স্বামীর সেবাযত্ন করবি, তা না, ঠ্যাংয়ের ওপর ঠ্যাং তুইল্যা খাইতাছস।’

    মায়েরা নাকি মেয়ের দুঃখ বোঝে। মা তো উল্টা বুঝলেন। মার কাছে আসল ঘটনা ভেঙে বলতে মরিয়মের ইচ্ছা করে। দুনিয়ায় অন্তত একজন মানুষ জানুক, কী নরকের মধ্যে সে দিন গোজার করে। কিন্তু মনোয়ারা বেগমকে দেখে মনে হচ্ছে, এমন বাজে কাজে নষ্ট করার মতো সময় তার নেই। দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। বাড়িটা আগাছায় ছেয়ে গেছে। হাস্নাহেনার ঝোঁপের আর দরকার কী। জোড়া সাপের বদলে, বাড়ি পাহারা দিতে একজোড়া পুরুষই তো আছে। তিনি দা-কুড়াল হাতে দিয়ে দেবাশিস আর অনুপমকে গাছ কাটায় লাগিয়ে দেন। মহা উদ্যমে তারা গাছ কাটে। মনোয়ারা বেগম দুপুরের কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে তদারক করেন, হাতে হাতে গাছের ডালপালা সরান। মরিয়মের অস্থির লাগে। মা মনে হয় দিন দিন খুকি হচ্ছেন! এ বয়সে এতটা পরিশ্রম সহ্য হবে? হার্টের অবস্থা খারাপ, ডায়াবেটিসেও ধরেছে। মনোয়ারা বেগম মেয়ের কোনো কথাই কানে তোলেন না। বাড়িটাকে ন্যাড়া বানিয়ে, মরিয়মকে হতাশার অতলে ফেলে, সন্ধ্যা নামার আগে আগে ভাইয়ের বাসায় ফিরে যান। তার কোনো পিছুটান নেই। ’৭৪-৭৫ সালে যে মায়ের ধ্যানজ্ঞান ছিল মেয়ে, মেয়ের পুনর্বাসনের জন্য যিনি পাগল হয়ে উঠেছিলেন, নব্বইয়ে তার এ পরিবর্তন!

    বছরটাও নানা আলামতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে। বাবরি মসজিদ আক্রান্তের উড়ো খবরে দাঙ্গা বেধে গেল পুরান ঢাকায়। মরিয়ম ও অনুপম দুজনেই দেবাশিসের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। সরকার সারা দিন হিন্দুর দোকানপাট, ঘরবাড়ি অবাধে লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করতে দিয়ে সন্ধ্যায় কারফিউ জারি করে। অনুপম বাইরে থেকে ঘুরে এসে বলে, ‘এইডা এরশাদশাহির কাণ্ড। সরকারবিরোধী আন্দোলন বিভ্রান্ত করতে শালা দাঙ্গা বাধাই দিছে।’ দেবাশিস কিছু বলে না। সারা দিন ঘরে বসে পায়ে তার ঝি-ঝি ধরে গেছে। সে বাইরে বেরোতে চাইলে অনুপম স্বামীভক্ত পত্নীর মতো তার শার্ট টেনে ধরে। ‘দেবাশিস খাড়াও, এ বিপদের মধ্যে বাইরে যাবা না কইলাম! মরিয়মকে বারান্দায় দেখে দেবাশিস অপ্রস্তুত হাসে, আহ্ ছাড়ো বলছি! আমি দেবাশিস না, আবেদ ইশতিয়াক।’ তাই তো! দেবাশিস যে কলমা-পড়া মুসলমান–মরিয়মের মনেই ছিল না। ‘তুমি আবেদ ইশতিয়াকই হও আর যে হও, অনুপম গোঁ ধরে, এখন বাইরে গেলে আমার লাশের ওপর দিয়ে যাইবা।’

    দেবাশিস বাইরে যায় না ঠিকই, কিন্তু অনুপম গাল ফুলিয়ে বসে থাকে। মরিয়মের দিকে দেবাশিসের নরম চোখে তাকানো, মিষ্টি স্বরে কথা বলা–এসব তার ভালো ঠেকছে না। সে জাতকুল ছাড়ার মতো হোস্টেল ছেড়ে চলে এসেছে। বন্ধুরা বুঝুক না বুঝুক তাকে নিয়ে ঠাট্টা করে। তাদের সন্দেহ মরিয়মকে নিয়ে। মহিলা একাত্তরের বীরাঙ্গনা, বহুগমনে অভ্যস্ত, এক স্বামীতে চলছে না, তাই অনুপমকে ভাড়া খাটাতে স্বামীকে পাঠিয়ে হোস্টেল থেকে তুলে নিয়েছে। দেবাশিসকে তারা মনে করে কাপুরুষ, পুরুষ জাতির কলঙ্ক।

    অনুপমের মুখে এসব অভিযোগ শুনতে শুনতে দেবাশিস মরিয়মকে ডাকে, ‘মেরি শুনছ, অনু কী বলে, মজার ব্যাপার শুনে যাও।’ মরিয়ম দরজা পর্যন্ত এসে থমকে দাঁড়ায়। অনুপম মুখ চেপে ধরেছে দেবাশিসের আর ‘ওগো শুনছো ওগো শুনছো’ বলে ভেংচি কাটছে। অর্ধেক বয়সের ছেলে বাড়ি তুলেছে দেবাশিস, দিনে দিনে মজা আরো টের পাবে। দরজা থেকে সরে আসছিল মরিয়ম, মুখ থেকে অনুপমের হাত সরিয়ে দেবাশিস এবার চাচায়, ‘মেরি, জগন্নাথ কলেজের ছাত্ররা আমারে কয়…’

    এই মিষ্টি মিষ্টি খুনসুটি বেশি দিন চলে না। দেশ-বিদেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত : ঢাকার রাস্তায় মিছিলের ওপর ট্রাক তুলে দিয়েছে পুলিশ, ইরাক আক্রমণ করতে যাচ্ছে আমেরিকা, লৌহমানবী থেচারের পতন আসন্ন, বেনজির ভুট্টো নির্বাচনে হেরে যাচ্ছেন। বিবিসির খবর না শুনলে দেবাশিসের রাতে ঘুম আসে না। অনুপম ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে খবরের মাঝখানে রেডিওটা একদিন আছাড় মেরে ভেঙে ফেলে। মরিয়ম নিজের ঘরে শুয়ে ম্যাগাজিন পড়ছিল। ভাঙাভাঙির শব্দে তার ভুরুজোড়া সামান্য কোঁচকায়, পরক্ষণে সে ফিরে যায় চটুল ম্যাগাজিনে। থমথমে মুখে ঘরে ঢোকে। দেবাশিস। কী যেন বলতে এসেছিল, তাকে বইয়ের পাতায় নিমগ্ন দেখে না-বলেই বেরিয়ে যায়।

    এরশাদ পদত্যাগ করার পরদিন বিজয় মিছিল থেকে দেবাশিস আর অনুপম ফেরে না। অপেক্ষা করে করে মাঝরাতে তাদের ঘরে ঢুকে বাতি জ্বালায় মরিয়ম। দরজার পাশের আলনাটা খালি। ঘরে জিনিসপত্র কিছু নেই। বিছানায় বালিশচাপা এক টুকরো কাগজ। আত্মহত্যার নোটের মতো কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা। চলে যাচ্ছে দেবাশিস। কারণ মরিয়মকে সহ্য করতে পারছে না অনুপম। সে জেলাস। দুজনের না-বলে যাওয়ার কারণ–দেবাশিস মনে করে, মরিয়ম তাকে যেতে দেবে না। তাদের খোঁজ করাটাও অযথা সময় নষ্ট হবে–জানিয়ে গেছে দেবাশিস।

    মহল্লার জনতার উদ্যম, কৌতূহলে ভাটা পড়ে গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মতো ব্যর্থ এ মহিলার জীবন। বারংবার অন্ধকার গর্তে পড়া তার নিয়তি। তার জন্য ভালো কিছু করতে গেলে হিতে বিপরীত হয়। তাদেরও তো বয়স বাড়ছে। খোদার লীলাখেলা আর নেতাদের ভণ্ডামি দেখতে দেখতে ক্লান্ত। পাড়ার নতুন প্রজন্ম যারা হাফপ্যান্ট ছেড়ে ফুলপ্যান্ট ধরেছে, লুকিয়ে-চুরিয়ে সিগারেট ফুঁকছে, না-ওঠা মোচে তা দিচ্ছে, তাদের মায়ের বয়সি মরিয়ম। তবে কারো মা নয় সে, তার না-থাকা সন্তানের বাবারা আজ আছে, কাল নেই। এসব দেখে দেখে তারা হাঁটতে শিখেছে। এখন পাড়ার গলিতে সকাল-বিকাল ফুটবল খেলে। শরীরের জন্মদাগের মতোই প্রশ্নাতীত এ নারী তাদের জীবনে। শুধু তার ব্যবহারটা যদি আরেকটু ভালো হতো, তারা খুশি। থাকত। তাদের ফুটবল ঘরের চালে পড়লে মরিয়ম গলা ফাটিয়ে চিৎকার জুড়ে দেয়। কখনো তার কাছ থেকে বল ফেরত পাওয়া যায় না। সাহস করে দেয়াল টপকে কখনো যদি ছেলেরা বাড়িতে ঢোকে, ‘আন্টি এই শেষ, আর কোনোদিন ঘরের চালে বল পড়বে না’ বলে নাকে খত দিয়ে বেরিয়ে আসতে হয়। বাড়ির ভেতরটা অবশ্য ছেলেদের খুব টানে। কেন, তা তারা জানে না। তাদের কাছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধটা। সুদূর পলাশী বা পানিপথের যুদ্ধের কাছাকাছি ইতিহাস বইয়ের ঘটনা বৈ কিছু নয়। বাতাসে কিছু কথা ভেসে উঠে হারিয়ে যায়।

    বাস্তব জীবনের মতো রাতের দুঃস্বপ্নেও মরিয়ম বারবার অন্ধকার গর্তে পড়ে। তবে অলৌকিকভাবে উদ্ধারও পেয়ে যায়। এক রাতে হয়তো দেখল, একটা উঁচু দালানের ওপর থেকে পড়ে যাচ্ছে, পায়ের তলায় সাপোর্ট নেই, পড়তে পড়তে কার্নিশ ধরে সে ঝুলে রইল। কিংবা আরেক রাতে উঁচু দালান থেকে পড়ার আগে দেখতে পেল, নেমে যাওয়ার একটা ঝুলন্ত সিঁড়ি। অন্য একটা স্বপ্ন যা মরিয়ম প্রায়ই দেখে, সেটা হলো, সে একটা গাঙ পার হচ্ছে কাঠের সাঁকোর ওপর দিয়ে, যার মাঝখানটা নেই। ঘুমের ভেতর যখন সে ভয়ে দিশাহারা, পানিতে পড়ো পড়ো ভাব, তখন অস্পষ্ট কিছু একটা দেখতে পায় ওপারে যাওয়ার। জিনিসটা কী–জেগে ওঠার পর মনে থাকে না। তবে মরিয়ম ওটাকে আলকাতরা মাখানো, নতুন পাল-বৈঠার একটা নৌকাই ভাবে।

    জীবনের শেষ কোথায় আর কীভাবে–না জানলেও, দেবাশিস চলে যাওয়ার পর মরিয়ম যে শূন্য গর্তে পড়ে গেছে, একটা নতুন পালতোলা নাও তাকে এতখানি ভরসা দেয় যে, সে নিশ্চিত–আজ হোক কাল হোক এ থেকে উতরাতে পারবে। তাই ১৯৯২-এর ২৬ মার্চ, সকাল এগারোটায় পশ্চিম পার্শ্বের গেট দিয়ে সে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে। জায়গাটা মানুষে মানুষে সয়লাব। ২১ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষণা হবে। মরিয়মের চোখে কালো চশমা, মাথার চুল চূড়ায় তুলে খোঁপা-বাঁধা। তাকে ছদ্মবেশী নায়িকার মতো দেখায়। সে কালো চশমার আড়াল থেকে পুরোনো মানুষদের খুঁজছে। যারা নির্যাতিত হয়েছিল, তারা কি এই বিলম্বিত বিচারসভায় হাজির হবে না? হোক না তা প্রতীকধর্মী। আর কেউ না আসুক, অনুরাধা আসবেই, যদি সে বেঁচে থাকে। মরিয়মের মতো কালো চশমা, উঁচু খোঁপার আরো কয়েকজন ইতস্তত ঘুরছে। তারাও হয়তো একাত্তরের বীরাঙ্গনা। গণ-আদালতের রায় শুনতে এসেছে বা তার মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে নির্যাতন ক্যাম্পের সাথিদের। রোদের তেজ ক্রমশ বাড়ছে। অদূরে বাজছে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ-আর যদি একটা গুলি চলে…ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। সেই একই জায়গা–তখনকার রেসকোর্স ময়দান। তখন এত গাছপালা ছিল না। বিরান মাঠ। বিশাল জনসমুদ্র দেখে মন্টু ঘাবড়ে গিয়েছিল, ‘মেরিবু, আমি যদি হারাই যাই, খুঁজিস না, তুই। একটা রিকশা ধরে সটান বাসায় চলে যাইবি।’ কত বছর আগের কথা? বিশ! না একুশ? মরিয়ম চশমা খুলে চোখ মুছে ফের জনসমুদ্রের দিকে তাকায়। শাড়িতে হঠাৎ টান পড়ে। ‘কে, মেরি আফা না?’ পেছন ফিরতেই তার মুখোমুখি টুকি। হাতে টিফিন কেরিয়ার। নতুনগাঁওয়ের সেই কাজের মেয়ে, একই দিনে মিলিটারি তাদের ধরে নিয়ে গিয়েছিল। টুকি গণ-আদালত দেখতে আসেনি। উদ্যানটা তার গার্মেন্টসে আসা-যাওয়ার শর্টকাট পথ। আলসারের ব্যথা ওঠায় আজ তার কাজে যেতে দেরি হয়েছে। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসেও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খোলা থাকে? আশ্চর্য তো! মরিয়ম অবাক হয়। টুকি বলে, ‘আপনে কী মনে করেন! বচ্ছরের ৩৬৫ দিনই খোলা। কামাই দিলে বেতন কাইটে নেয়। কিন্তু মরিয়মের সঙ্গে দেখা হওয়াতে টুকি অফিস কামাই দিয়ে সোহরওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে থাকে। কার বিচার, কী বৃত্তান্ত ভিড়ের ঠ্যালায় বোঝার উপায় নেই। কুষ্টিয়া থেকে তিনজন বীরাঙ্গনার সাক্ষী দিতে আসার কথা। মরিয়ম তাদের একনজর দেখতে চায়। যদি পরিচিত কেউ হয়! ‘তাইলে তো আপনেরে গাছের আগায় উঠতে হবে।’ পাশ থেকে একজন পাজামা-পাঞ্জাবি পরা পুরুষ মন্তব্য করে। সত্যি গাছের ডালে ডালে মানুষ। ট্রাকের ওপর থেকে জাহানারা ইমাম যে গণ আদালতের বিচারের রায় ঘোষণা করছেন, নিচের মানুষ তা দেখতে পাচ্ছে না। মাইকও নেই যে, ঘোষণাটা কানে শুনবে। ‘পুলিশ ঢাকা শহরের সব মাইক বাজেয়াপ্ত করেছে।’ তারা প্রশ্ন না করলেও পাজামা-পাঞ্জাবি পরা লোকটি জবাব দিয়ে যাচ্ছে। ‘লোকটার চরিত্র খারাপ!’ বলে টুকি মরিয়মকে টানতে টানতে উদ্যানের বাইরে নিয়ে আসে।

    গোলাম আযমের ফাঁসির রায় কার্যকর না হলেও, সেই স্মরণীয় দিনে মরিয়ম টুকিকে কুড়িয়ে পায়। টুকি আসার পর বাড়িটা আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মনোয়ারা বেগম হাস্নাহেনার ঝোঁপ নিকেশ করে চলে গেছেন। বাঁশঝাড় তো কবেই শেষ। পাকা কুয়ার ধার ক্ষয়ে গেছে। টুকি প্রথম কোদাল দিয়ে কুয়ার পাড়টা সাফ করে। দেয়ালের ধার ঘেঁষে পেঁপে আর কলাগাছ লাগায়। কয়েকটা মোরগ-মুরগি নিয়ে সে গার্মেন্টসের চাকরির বিকল্প একটা প্রকল্প দাঁড় করায়। প্রকল্পের পুঁজি মরিয়মের আর পরিকল্পনা ও শ্রম টুকির। ‘বাসায় ইত্তো ইত্তো খালি জাগা! পশু-পাখি ছাড়া মানুষের জীবন চলে?’ এটা টুকির থিওরি। এদিকে মুরগিগুলোর ঘরের যত্রতত্র পায়খানা করায়, বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বিছানায় ওঠায়, অসময়ে ডাক ছাড়ায় মরিয়ম ত্যক্ত-বিরক্ত। মুখে কিছু বলে না। টুকি থাকলে মুরগি থাকবে, মুরগি না থাকলে টুকি থাকবে না–এ অলিখিত নিয়ম। তা মানতে হবে। না মানলে আবার অন্ধকার গর্তে পড়া অনিবার্য, যা সে যমের মতো ভয় পায়।

    বাড়িতে মরিয়ম আর একা নয়। অফিস থেকে সন্ধ্যায় ফিরে এলে হাসিমুখে দরজা খুলে দেওয়ার একজন মানুষ আছে। সারা দিন কোন ক্লায়েন্ট কী করল, বসের ব্যবহার কেমন ছিল, দুপুরে লাঞ্চ করেছে কী দিয়ে–মন খুলে এসব তুচ্ছ কথা বলা যায়। টুকি টুকটুক করে মোরগ-মুরগিদের আধার খাওয়ায়, ‘গার্মেন্টস মালিকের কত বড় সাহস, এত দিন আমারে শোষণ করছে! আমি একজন বীরাঙ্গনা। আয় আয় কক কক। মেরি আফা, সাদা ডুরি মুরগিডার মনে অয় ডিম পাড়ার সময় হয়েলো, সারা দিন টইটই কইরে জাগা বিছরায়।’

    দেরিতে হলেও ’৭২ সালের আদলে টুকির পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। তখন মিরপুরে পোলট্রি ফার্ম করা হয়েছিল বীরাঙ্গনাদের রোজগারের জন্য। তারা মুরগি পুষবে। ঝকায় আঁকায় ডিম যাবে বাজারে। উৎসাহ জোগাতে শুরুর দিকে পুনর্বাসনের উদ্যোক্তারা ডিম কেনা শুরু করেন। বাড়িতে রান্নার পর গৃহকত্রী জনে জনে জানান দিতেন, ‘ডিম খাচ্ছো-খাও। জিগ্যেস করো না, কাদের মুরগির ডিম খাচ্ছে।’ কারণ বিষয়টা গোপন রাখার কেন্দ্রের নির্দেশ ছিল। মানুষ যদি সত্য কথা জানতে পেরে বাজার থেকে ডিম কেনা বন্ধ করে দেয়! টুকির সেই চিন্তা নেই। সে যে বীরাঙ্গনা, ঢাকা শহরে মরিয়ম ছাড়া কাকপক্ষীও জানে না।

    ‘কিন্তু মেরি আফা, আমার কী লাভ অইলো?’ রাতে মুরগিগুলো ঘুমিয়ে পড়লে পাশাপাশি বিছানায় শুয়ে টুকি জানতে চায়। মরিয়ম প্রথম বুঝতে পারে না—‘লাভ অইলো মানে?’

    ‘এই যে ঢাকার কাকপক্ষীতেও জানতি পারল না, আমি একজন বীরাঙ্গনা!’

    অন্ধকারে মরিয়ম নিঃশব্দে হাসে। একটা গণ-আদালত টুকিকে উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সে আর সাধারণ থাকতে চাচ্ছে না, নেত্রী হতে চাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ কি মানবে, যে এক লাইনও পড়তে জানে না! একটা সংবর্ধনা দিয়ে ছেড়ে দেবে–এবার নিজেরটা নিজে করে খাও। আর সন্তানের বয়সি ছেলেমেয়েরা ক্যামেরায় ছবি তুলে সামনে মাইক ধরে জানতে চাইবে, ‘দিনে কয়বার পাকিস্তান আর্মি আপনেরে ধর্ষণ করছে?’

    অন্ধকারে মরিয়মের চিন্তার নাগাল পায় না টুকি। তার মুখের ক্রুর হাসিটাও দেখতে পায় না সে। ‘জীবনে আমি স্বামী পালাম না, বাচ্ছা পালাম না, সংসার পালাম না।’ টুকি না-পাওয়ার তালিকাটা দীর্ঘ। সারা রাত বলেও শেষ করা যাবে না। তবে হাতে এখন তার টাকা আছে। টাকা থাকলে টুকির ডবল বয়সের পুরুষও স্ত্রী পায়, বাচ্চা পায়, সংসার পায়। টুকি হচ্ছে মেয়েলোক। তার জন্য বয়স একটা ফ্যাক্টর। বীরাঙ্গনা হওয়ার দুর্নাম বা সুনাম না-হয় এ বেলায় বাদই দেওয়া গেল। সেই বুঝে টুকির কথাগুলোও অন্ধকারে মোড় নেয়। ‘মেরি আফা, ঘুমাই পড়ছেন? আরেকটা কথা।’ মরিয়ম সাড়া দেয় না। সে ঘুমিয়ে পড়লেও টুকি আরেকটা কথা না-বলে পারবে না। আর সেটি হচ্ছে, কুষ্টিয়ার তিনজন মহিলা গণ-আদালতে সাক্ষী দিয়ে চলে গেল। টুকির মনে খেদ, ‘তারা টাকাও পাইছে শুনলাম! আমরা ঢাকা বইসে কিছু জানতি পারলাম না। বুইঝতে পারলাম না। মেরি আফা, আমাদের মতো বীরাঙ্গনা এ দেশে কয়জনা। এখনো অমাবস্যা-পূর্ণিমা আলি এই পাশ থেইক্যে ওপাশে নড়ে শুতি পারি না। শইলের সব জায়গায় ব্যথা। ভিতুরে ভিতুরে জ্বর বায়।’ অন্ধকারে টুকি দীর্ঘশ্বাস ফেলে । মরিয়ম একজন লেখাপড়া জানা মহিলা। অফিসে চাকরিও করে। তার অগোচরে কোন ফাঁকে একটা গণ-আদালত হয়ে গেল! মরিয়ম আশ্বস্ত করে যে, এবার থেকে সে চোখ-কান খোলা রাখবে। যাতে মঞ্চে উঠে সাক্ষী দেওয়ার সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া না হয় টুকির।

    আরেকটা গণ-আদালতের স্বপ্ন নিয়ে টুকি ঘুমিয়ে পড়ে। এবার বিছানায় এপাশ ওপাশ করার পালা মরিয়মের। গণ-আদালত বসলে সে কি সাক্ষী দেবে? কার বিরুদ্ধে? যে পাকিস্তানি সৈন্যরা দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ করেছে, সেসব ধর্ষকের সে নাম জানে না, পদ কী বলতে পারবে না, চেহারাও তাদের অস্পষ্ট। যার কথা যুদ্ধের এত বছর পরও মরিয়মের মনে আছে, সে মেজর ইশতিয়াক। মেজর ইশতিয়াকের সঙ্গের প্রেমের উপ্যাখ্যান সে কোথায় ফেলবে? তা লোকটার পক্ষে, না বিপক্ষে যাবে? আবেদ জাহাঙ্গীর, আবেদ সামির, মমতাজের বিরুদ্ধে মরিয়মের কোনো অভিযোগ নেই? যারা তার জীবনটা ছারখার করে দিয়েছে? মরিয়মের ছোট ভাই মন্টু সম্মুখযুদ্ধে শহিদ। তার মৃত্যুর নাকি বিচার হবে না। কারণ সে সিভিলিয়ান নয়, যোদ্ধা। কিন্তু গোঁফ ওঠার আগেই কেন তাকে যুদ্ধে যেতে হয়েছিল–এর জবাব নেই। গোলাম মোস্তফা মরিয়মের মামা, কোলাবোরেটর ছিলেন পাকিস্তান আর্মির, ১৯৭১ সালে। তিনি স্বয়ং যুদ্ধাপরাধী। মরিয়ম যে বাড়িতে থাকে, সেটি ছিল শত্রুসম্পত্তি, জলের দরে কফিলউদ্দিন আহমেদ হিন্দুর পরিত্যক্ত ভিটাবাড়ি ক্রয় করেছিলেন। তিনি আজ মৃত। মরিয়ম তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী। এদিক দিয়ে ইতিহাস কি তাকে ছেড়ে কথা কইবে?

    সত্তর-আশি–এই দুই দশক মরিয়ম নিজের সমস্যা নিয়েই ছিল। নব্বইয়ের শুরু হিসাব-নিকাশ আর বোঝাপড়া দিয়ে। তাতে কে হারে, কে জিতে বলা যায় না। কষ্টের নিরিখে যদি বিচার হয়, তবে মরিয়মেরই জিত হবে। কারণ পাকিস্তানিরা তাকে যে অত্যাচার করেছে, এর তুলনায় মেজর ইশতিয়াকের সঙ্গে ভালোবাসাবাসি সমুদ্রে এক ফোঁটা শিশিরবিন্দু। আর গোলাম মোস্তফার রাজাকারি করার পেছনে মরিয়মের কোনো হাত ছিল না। লোকটাকে সে বরাবর অপছন্দই করেছে।

    নিজেকে একবার বাদী আরেকবার বিবাদী ভাবতে ভাবতে মরিয়মের রাত কাবার। যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে অনেকের মতো সেও বিভ্রান্ত। এসব ঝামেলা নেই টুকির। সে প্রলেতারিয়েত। ঘুমের ভেতর দিয়ে সুখী-সমৃদ্ধিশালী ভবিষ্যতের দিকে ছুটে যাচ্ছে। তার গন্তব্য আরেকটা গণ-আদালত।

    বছরের পর বছর গড়ায়, গণ-আদালত আর বসে না। টুকি জেরা করে, ‘মেরি আফা, খবরের কাগজটা খুটোয় খুটোয় দেখছেন তো? চশমা পরে আরেকটু দ্যাখেন।’ আরেকটা গণ-আদালত বসাতে লোকজনের এত দেরি হচ্ছে–টুকির বিশ্বাস হতে চায় না। হালে মরিয়মেরও চোখে নতুন একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আগে চশমা ছাড়া দূরের সবকিছু ঝাপসা লাগত, এখন খবরের কাগজ পড়তে গেলে চোখ থেকে চশমাটা খুলে ফেলতে হয়, নয়তো ঝাপসা লাগে। সে টুকির দিকে চশমা পরে তাকায়, পরক্ষণে খবরের কাগজ পড়ে চশমা খুলে। টুকি তা পছন্দ করে না। মেরি আফার সবকিছুতেই ধরি মাছ না-ছুঁই পানি ভাব। নিজে তো মরে মরে বেঁচে রয়েছে, টুকির জীবনে উন্নতি হোক, সেটিও চায় না। এ কেমন মানুষ!

    গণ-আদালতের ভাবনাটা যখন মুছে যাচ্ছিল টুকির মন থেকে, তখন হঠাৎ একদিন খবরের কাগজ ঘাঁটতে ঘাঁটতে মরিয়মের কুয়াশাময় দৃষ্টিপথে মুক্তিযোদ্ধা। তারামন বিবি ভেসে ওঠে। ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে চরাঞ্চলে তার বাড়ি। পথ দুর্গম। নদী পার হয়ে, চরের উত্তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে সাংবাদিকেরা ছুটে যাচ্ছে। তাদের সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পর তারামন বিবি সশরীরে আবির্ভূত হন। চোয়াল ভাঙা রোগাক্রান্ত চেহারার এক নারী। পেশা উঞ্ছবৃত্তি। স্বাধীনতার ২৪ বছর পর যক্ষ্মা রোগে ভুগে ভুগে শেষাবস্থায় জাতির সামনে উপস্থিত হয়েছেন। খবরের কাগজ খুললেই তার ছবি, খবর, সাক্ষাৎকার। তারামন পেট ভরে ভাত খেতে চায়। তারামন বাঁচতে চায়। বাঙালি জাতির প্রতি তারামনের আহ্বান, ‘একসময় আমার শরীলে জোর ছিল, এখন কডা হাড্ডি আছে খালি, গায়ে শক্তি নাই, তাই আপনাদের কাছে আমার একটা কথা, এই বাংলাদেশটারে আপনেরা সবায় ধইরা রাইখেন। কারো হাতে ছাইড়া দিয়েন না।’ তারামনের অভিব্যক্তি, ‘মনে অয় য্যান দেশ আবার স্বাধীন হইছে।’ তারামনের মুক্তিযুদ্ধ করার কারণ, ‘পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাগো ভালো ভালো খাদ্যবস্তু, কাপড়লতা সব লইয়া যাইতো। আমরা পাঞ্জা দিয়া ধরছি, যুদ্ধ করছি, যুদ্ধ কইরা দ্যাশ স্বাধীন করছি।’ ঢাকা এসে তারামন বিস্মিত, ‘মানুষ কত ভালো ভালো খাওন খায়, দালানে ঘুমায়। আর আমার কপালে দুই বেলা নুনভাত জুটে না!’ বিবিসির কাছে তারামনের নালিশ, ‘খুনি আসামি যদি অইতাম, তাইলে নিশ্চয় সরকার আমারে বাহির করা হারতো। আমারে হাজতে দিয়া থুইতো। আইজ যুদ্ধ কইরা, শরীলের রক্ত দিয়া যুদ্ধ কইরা আমি ঘরে বইস্যা রইছি। কেহই খোঁজও নেয় না।’

    এসব টুকিরও মনের কথা। তবে কথাগুলো স্টেজে উঠে নিজের মুখে বলতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এ সুযোগ একা তারামনের। রাস্তায় দাঁড়িয়ে লাফালাফি করলেও সাংবাদিকদের ক্যামেরা এখন টুকির দিকে ঘুরবে না। সেসব ব্যস্ত তারামনকে ধরতে–প্রধানমন্ত্রী পদক তুলে দিচ্ছেন তারামন বিবির হাতে, শহিদমিনারে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করছেন তারামন বিবি, সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে গেছেন তারামন বিবি, তারামনকে সামনে দাঁড় করিয়ে শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান গাইছেন, নারী নেত্রীরা মাইক ধরে আছেন তারামনের মুখের ওপর।

    মরিয়মের কাছে টুকি শোনে, সরকার পঁচিশ হাজার টাকা দিয়েছে তারামন বিবিকে। ‘ইত্ত টাকা! হে তো বড়লোক হইয়ে যাবে, আফা। কী কাজ করে এত টাকা পাইলো?’

    ‘অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে তারামন।’

    ‘যুইদ্ধ করলে টাকা পাওয়া যায়? এ দেশে আর যুইদ্ধ হবে না?’

    যুদ্ধাপরাধের বিচারের গণ-আদালত বাদ দিয়ে, আরেকটা যুদ্ধের অপেক্ষা করে টুকি বেগম। যাতে সে অস্ত্র হাতে লড়তে পারে। কিন্তু টাকা আর খ্যাতি তো পাওয়া যায় যক্ষ্মা হওয়ার পর, স্বাধীনতার ২৪ বছর পর। এতগুলো বছর কি তার হাতে আছে? এক ঝাঁক মোরগ-মুরগির মধ্যে মন খারাপ করে বসে থাকে টুকি। সুযোগের অভাবে জীবনে উন্নতি হলো না। মুরগির ডিম বেচে পঞ্চাশ-একশো টাকা দিয়ে কী হয়। তারামন বিবির মতো একমোটে পঁচিশ হাজার, পঞ্চাশ হাজার পেলে না কথা ছিল।

    সপ্তাহ খানেক পর মরিয়মের খেয়াল হয়, মুরগির সংখ্যা ধাই ধাই করে কমে যাচ্ছে। টুকিকে জিগ্যেস করলে সে মুখ ঝামটা দেয়, ‘বেজিতে ধইরে নে যাচ্ছে। আমি কী করব?’ বেজি! ঢাকা শহরে বলে বিড়ালই প্রায় নেই, বেজি আসে কোত্থেকে? দু তিন রাত জেরা করার পর বের হয়, ফেরিঅলার কাছে মুরগি বেচে দিচ্ছে টুকি। ক্ষুদ্র ব্যবসায় তার আর মন বসছে না। তাহলে সে কী করবে? মরিয়ম ক্ষুব্ধ-এ বাড়িতে যারাই থাকতে আসে, তাদেরই মাথা বিগড়ে যায়। দোষ বাড়িটার, না মেরির? আবার বোতল পরা এনে চারধারে পুঁতলে কেমন হয়? মরিয়ম তা-ই করবে। তার আগে, টুকির এত অর্থ-প্রতিপত্তির লোভ, সে যে একজন বীরাঙ্গনা, এ খবরটা পত্রিকা অফিসে ফোন করে জানাতে হয়। সাংবাদিকরা হয়তো ক্যামেরা নিয়ে আসবে, কিন্তু টুকির অর্থপ্রাপ্তির তাতে গ্যারান্টি নেই। পেতে পারে, আবার না-ও পারে। তা ছাড়া সাংবাদিকরা হয়তো কথায় কথায় জেনে যাবে, এ বাড়িতে একজন না, দুজন বীরাঙ্গনা। পরের জন শিক্ষিত, চাকরি করে। এযাবৎ যত বীরাঙ্গনার হদিশ পাওয়া গেছে, তারা সবাই গরিব। টাকাপয়সা আর ছেলেমেয়ের চাকরির জন্য একাত্তরের ইজ্জত লুণ্ঠনের কথা বলে সমাজের কাছে আরেকবার বেইজ্জত হয়েছে। শিক্ষিতরা বেনামি, চেহারাহীন। টিভি নাটকে তাদের জায়গায় পেশাদার নায়িকারা অভিনয় করেন। সাংবাদিকরা মরিয়মের সন্ধান পেলে, দেখা যাবে, টুকিকে বাদ দিয়ে তার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।

    বীরাঙ্গনা নিয়ে এত পলিটিক্স! দেখে-শুনে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় টুকির রুচি হয় না। সে মুরগি পোয় ফের মন দেয়। সন্তানস্নেহে ছানাপোনা লালন-পালন করে। সে একাই এদের বাপ-মা, ভাই-বোন, মামা-খালা। আর অবসর সময় তার কাটে জায়নামাজে বসে তজবি জপে। টুকি তো পরকালের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, মরিয়মের বয়স পঞ্চাশ হতে চলল, কাউকে কিছু না জানিয়ে দুনিয়া থেকে সে বিদায় নেবে?

    গোলাম মোস্তফার মৃত্যুতে মরিয়মের বুক থেকে পাষাণ নামে। যুদ্ধাপরাধের শাস্তি না পেয়েই তিনি রোগে ভুগে গত হয়েছেন। আরেকজন যিনি, খবরের কাগজে মেয়ের নির্যাতনের কাহিনি পড়ে ভর্ৎসনা করতে ছুটে আসতেন ঢাকায়, তিনিও পরলোকগত। মনোয়ারা বেগমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে মরিয়ম গোপন কথা ফাঁস করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ব্যাপার রত্না-ছন্দাকে জানানোর সে প্রয়োজন মনে করে না। তাদের একজন ফুলতলি, আরেকজন সৌদি আরবে সুখে-শান্তিতে স্বামীর সংসার করছে। বিপদে আপদে কোনোদিন তাদের পাশে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারেও তাই বোনদের দূরে রাখা মরিয়ম শ্রেয় মনে করে। প্রস্তুতির শেষ অবস্থায় মুক্তি যখন দরজায় কড়া নাড়ে, তত দিনে বাংলাদেশের বয়স আটাশ। আর সময়টা হচ্ছে ১৯৯৯ সাল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }