Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালাশ – শাহীন আখতার

    শাহীন আখতার এক পাতা গল্প418 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৩. স্বর্ণযুগ

    স্বর্ণযুগ

    শহরে ঢুকেই মনোয়ারা বেগমের আত্মবিশ্বাসে টোল খায়। মেয়ের হাত না-ধরে এক কদমও চলতে পারছেন না। ঘুটঘুঁটে অন্ধকারে কফিলউদ্দিনের ভিটেয় যিনি দাবড়ে বেড়াতেন, শহরের আলো-ছড়ানো রাস্তায় পদে পদে তাকে এখন হোঁচট খেতে হচ্ছে। ‘অহ্, মরিয়ম, জুতাজোড়া খুইল্লা হাতে নে তো মা, মউত্যার জিনিস পিন্দা মানুষ ক্যামনে হাঁটে!’ বাসস্ট্যান্ড থেকে বেরিয়ে মেরি তাড়াতাড়ি একটা রিকশা নেয়। এখন যাবে কোথায়? রায়েরবাজারের বাসায় দু’বছর আগে গোলাম মোস্তফা ভাড়াটে বসিয়েছেন। তা না হলে লুটপাট আর দখলের যা হিড়িক, সেই কবেই বাড়িটা বেহাত হয়ে যেত। আগে তারা ঢাকা শহরে ঢুকেই সরাসরি উঠেছে মগবাজারের বাসায়। এখন দুজন স্বামীবিচ্ছিন্ন নারীর জন্য অপরিচিত ভাড়াটের আশ্রয়, না আত্মীয়ের বাড়ি ভালো? মনোয়ারা বেগমকে জিগ্যেস করেও জবাব মেলে না। রিকশায় আরাম করে বসে তিনি চারপাশটা মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগলেন। বাচ্চাদের মতোই তার কৌতূহল। প্রশ্নও অনেক। অনেকদিন পর ঢাকা এসেছেন। শহরটা কেমন হতচ্ছাড়া। এত দালানকোঠা, গাড়িঘোড়া, আলোর ঝলকানি–তবু অন্ধকার দূর হয় না। বোঁচকা বাচকি, বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে দলে দলে মানুষ সব কোথায় যায়? এই না-খাওয়া হাড্ডিসার ছিন্নমূল মানুষগুলো? রিকশাঅলা বলে, লঙ্গরখানায়। সরকার লঙ্গরখানা খুলছে না! ওইহান খাইতে-থাকতো যায়। মনোয়ারা বেগমের তখন ফুলতলি গাঁয়ের ভুখা মিছিলটার কথা মনে পড়ে। শহরে আসতে পারলে লোকগুলো হয়তো খেয়ে-পরে বাঁচত। ভাড়ার অভাবে তিনি তাদের বাসে তুলতে পারলেন না। গন্ডায় গন্ডায় মানুষ, আস্ত একটা বাস তাদের জন্য রিজার্ভ করতে হতো। এ তো হাজার টাকার মামলা। এত টাকা পাবেন কোথায়। মা-মেয়ের বাস ভাড়াই কফিলউদ্দিন আহমেদের পকেট থেকে আগের রাতে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। তা-ই দিয়ে দুজন মানুষ কোনোক্রমে বাসে লাফিয়ে ওঠেন। ভুখা মিছিলটা বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার কিনারে। সারাটা পথ তিনি যেন সাপুড়ের মতো তালি বাজিয়ে বাজিয়ে তাদের বাসস্ট্যান্ডে এনে ছেড়ে দিয়েছেন। লোকগুলো প্রতারিত, ক্ষুব্ধ। কন্ডাক্টর আর দেরি করেনি। জনতা ছোবল মারার আগেই সে উল্টো তালি বাজাতে ড্রাইভার বাস ছেড়ে দেয়।

    মনোয়ারা বেগমের আফসোস শেষ হওয়ার আগে পথ শেষ হয়। তাদের রিকশা থামে কফিলউদ্দিন আহমেদের নাম-ঠিকানা লেখা কালো গেটের সামনের অন্ধকার রাস্তায়। গেট খোলা পেয়ে নিঃশব্দে ডাকাতের মতো দুটি নারী বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে। ঘরের বাইরে বাড়ন্ত হাস্নাহেনার ঝোঁপ, ভেতরে এক দঙ্গল বাচ্চাকাচ্চাসহ এক দরিদ্র কেরানির সংসার। লোকটা স্বভাবে নিরীহ। সময়মতো ভাড়া পরিশোধ করতে না পারলেও সে যে গোবেচারাসাত চড়ে রা করবে না, গোলাম মোস্তফা এ বিষয়টি শুরুতেই বিবেচনায় রেখেছিলেন। এখন তা মা-মেয়ের কাজে লাগে। বাড়িঅলাকে যে স্বচক্ষে দেখেনি, তার পরিবার কেমন, কী বৃত্তান্ত কিছুই যার জানা নেই, সে মরিয়ম আর মনোয়ারা বেগমকে এক কথায় বিশ্বাস করে। রেশনের আটার রুটি থেকে তাদের ভাগ দেয়। বড় ঘরটা মা-মেয়েকে ছেড়ে দিয়ে আধপেটা হাফ ডজন ছেলেমেয়ে নিয়ে চলে যায় পাশের ছোট ঘরে। আগন্তুকরা যেন তার কুটুম। তাদের জন্য সব সে করে পরম নিষ্ঠাভরে, যত্নসহকারে। অন্যদিকে কেরানির স্ত্রী শুরু থেকেই বাকরহিত। তার কাগজের মতো সাদা মুখটা আতঙ্কে আরো ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। দুর্ভিক্ষের বাজারে দুজন বাড়তি মানুষ। তার ওপর মৃত্যুর ফরমান হাতে আজরাইলের মতো তারা বাড়িছাড়ার নোটিশ নিয়ে হাজির হয়েছে। মুখে কিছু বলেনি বটে, তবে মা-মেয়ের চেহারা-সুরত দেখেই বোঝা যায়, তারা কষ্টেসৃষ্টে একঘর লোকের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার লোক নয়। হাত-পা ছড়িয়ে থাকাটাই তাদের অভ্যাস। কেরানির বউয়ের ভাবনাটা পরদিনই সত্য হয়।

    সকালে ঘুম থেকে উঠে মনোয়ারা বেগম বাড়ির কোথায় ময়লা জমে আছে, গাছের গোড়ার আগাছা সাফ করা হয়নি কেন, টিউবওয়েলের পাটাতনে শ্যাওলা জমে আছে–এরকম হাজারটা দোষ ধরে, চিৎকার-চেঁচামেচি করে ভাড়াটে স্বামী-স্ত্রীর কান ঝালাপালা করে দেন। বাচ্চারা টু শব্দ করে তার কাছে ধমক খায়। মরিয়মের আশ্রিত জীবনের কথা মনে পড়ে। গত পাঁচটা বছর মেয়ে কোন নরকে ছিল, মা জানেন না। মেয়েও তা বুঝতে পারছে কেরানি পরিবারটির লাঞ্ছনা দেখে। মায়ের এটা নতুন রূপ। কফিলউদ্দিন আহমেদকে হুবহু নকল করছেন। বাড়িতে বলেকয়ে না এলেও স্বামীর ছায়াটা যেন তার সঙ্গে সঙ্গে শহরে এসেছে। মরিয়ম মুখে কিছু বলে না। মা বিগড়ে গেলে তাকে পথে বসতে হবে। তার চেয়ে কেরানির পরিবারটি না-হয় পথে বসুক!

    টানা এক মাস মনোয়ারা বেগম একটি পরিবারের ওপর নির্বিঘ্নে রাজত্ব করেন। তাদের চলে যাওয়ার দিন হঠাৎ করে মনটা তার নরম হয়ে গেল। ঝোঁকের মাথায় ভাড়াটের বড় মেয়েকে বিয়ের অগ্রিম উপহারস্বরূপ সোনার একজোড়া কানপাশা দেন। ছোট বাচ্চাদের আদর করেন কোলে বসিয়ে। একটা ঠেলাগাড়িতে পুরো পরিবারটি মালামালসহ এঁটে গেল। সব সময় উচ্ছেদকৃত মানুষের পরিত্যক্ত ভিটেয় মরিয়মের ঠাঁই হয়েছে। তাদের চলে যাওয়া সে কখনো নিজের চোখে দেখেনি। এবার একটা ঠেলাগাড়ি আটজন মানুষ পিঠে নিয়ে চলতে শুরু করলে মরিয়ম কান্নায় ভেঙে পড়ে। ‘মা, আমরা সুখী হব না, মনোয়ারা বেগম তার কান্নার কারণ জানতে চাইলে এর বেশি কিছু বুঝিয়ে বলা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। সুখ!’ মেয়ের মুখে সুখী শব্দটি শুনে তিনি তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। সুখ কি গাছে ধরে মরিয়ম, যে ডাল থেকে ছিড়া নিবি! তুই নিজের কপাল ভাঙছস, আমারেও শেষ করছস। এমন গুণের মাইয়্যা তুই।

    মা কী বলে! মরিয়মের কান্না থেমে যায়। এরপর দুজনের মধ্যে যা হয়, তাকে বলে কাজিয়া, বচসা। একে অন্যকে দোষারোপ করে। পরবর্তী আট মাস তারা সময় অসময় তা-ই করেছে। এই পর্বের সমাপ্তি ঘটে বাহাদুর শাহ পার্কের এক গণকের হাতে। লোকটার পোষমানা টিয়া পাখি মনোয়ারা বেগমের ভাগ্যের লটারি চটের ওপরের অনেকগুলো খাম থেকে ঠোঁটে টেনে তোলে। তাতে কী লেখা ছিল, মরিয়ম আজও জানে না। পরদিন ব্যাগ গুছিয়ে মা বাড়ি চলে যান। মনোয়ারা বেগমের অমরকীর্তি, সে সময় অনুরাধার ভবিষ্যদ্বাণী চুরমার করে মরিয়মকে তিনি বেশ্যা হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। তা ছিল মেয়ের প্রতি একজন মায়ের কঠিন দায়িত্ব, তার ওপর একটি জাতির অসমাপ্ত কাজ-বীরাঙ্গনার আধাআধি সামাজিক পুনর্বাসন।

    মরিয়মের জন্য সময়টা ছিল স্বর্ণযুগ। মা-মেয়ে তখন সোনা বেচার মূল্যে জীবন ধারণ করছে। প্রথম একটি সেলাই মেশিন কেনা হয় হাতের একজোড়া অনন্ত বালা বেচে। এ থেকে উপার্জন হওয়ার আগ পর্যন্ত একটা একটা গয়না ভাঙিয়ে দুর্মূল্যের বাজারে তারা সওদাপাতি করেছে। বটুয়ায় করে সোনা নিয়ে মা-মেয়ে বাজারে যেত। সেখানে তা অর্ধেক দামে টাকায় রূপান্তর করে কেনা হতো চাল-ডাল-মাছ তরিতরকারি। মনোয়ারা বেগমের রেশনের আতপ চালের গন্ধ সহ্য হয় না। টিনের গুঁড়ো দুধও তিনি মুখে দিতে পারেন না। এদিকে চালের দাম ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে। এক মাসে মূল্যবৃদ্ধির হার দ্বিগুণ যখন, তখনো মা-মেয়ে রিকশায় চালের বস্তা নিয়ে দোকান থেকে বাসায় ফিরেছেন। রোজ সকালে কামরাঙ্গীরচর থেকে এক বৃদ্ধ গোয়ালা ফেনা ওঠা টাটকা গরুর দুধ জগে করে দিয়ে যেত। সকালের নাশতায় আটার রুটির বদলে তেলে ভাজা ময়দার পরোটা। শহরে থাকতে হলে মনোয়ারা বেগমের কথা হলো, খাঁটি শহুরে হয়েই থাকতে হবে। এ ব্যাপারে নয়-ছয় করলে চলবে না। এর মধ্যে উঁচু হিলের জুতো পরে খটখটিয়ে হাটা রপ্ত করে ফেলেন। ফুলতলি গায়ের কথার টান তার বচনে আর নেই বললেই চলে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে মনোয়ারা বেগমের ইংরেজি শব্দের স্টকও হু-হুঁ করে বাড়তে থাকে। গোলাম মোস্তফা মাঝে মাঝে এসে বোনের চালচলন, কথাবার্তার তারিফ করে যান। মরিয়মকে কাছে ডেকে নিচু স্বরে দু চারটা উপদেশও দেন। তিনি বলেন, নারীজন্মের সার্থকতা যে বিবাহে আর মাতৃত্বে তা তার ভুলে গেলে চলবে না। নারীর যৌবন হচ্ছে কলাগাছ। যত দ্রুত বৃদ্ধি, তত দ্রুত লয়। তখন পথের কুকুরের চেয়েও অধম সেই নারী।

    গোলাম মোস্তফার কথায় ধার থাকলেও বলার ভঙ্গিটা কেমন যেন গা-ছাড়া। যেন মুরুব্বি হিসেবে দু-চারটা দামি কথা বলতে হয় বলেই ভাগনিকে বলে রাখছেন। আগের মতোই তিনি একজন ব্যস্ত মানুষ। শত্রুসম্পত্তি আইনের খোলনলচে ঠিক রেখে স্বাধীন দেশের সরকার শুধু নামটা বদলে দিয়েছে। তবে জমি কেনাবেচায় গোলাম মোস্তফার আর মন নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন যেমন ঘোলাটে, ছেঁড়া জাল পেতে রাখলেও মাছ উঠবে। তিনি এখন ফুলটাইম রাজনীতি করেন। কফিলউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে তার বক্তব্য সোজাসাপটা। তিনি উচ্চকণ্ঠে মনোয়ারা বেগমকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলেন, ‘দুলাভাই এহনও নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরে যাচ্ছেন। আমি কচ্ছি বুবু, হে একটা আস্ত পাগল।’ বুঝদার ভাইয়ের কথায় বোন সঙ্গে সঙ্গে সায় দেন, ‘কম কষ্টে মাইয়্যামানুষ ঘর ছাড়ে, ভাই! মানুষটা যে চোখের সামনে পাগল হইয়্যা গেল, হেই দুঃখ আমি কারে ভেঙে কই।’ কফিলউদ্দিন আহমেদ যে জমিজমা বেচে সংসারটা ছারখার করছে, এ নিয়ে ভাইবোন নির্বিঘ্নে খানিক কথা চালাচালি করেন। তাদের মতভেদ দেখা দেয় তখন, যখন গোলাম মোস্তফা অকস্মাৎ বলে বসেন, ‘যার ছেলে শহিদ, বুবু আমারে আগে কথা শেষ করতে দেন, তার আজকের দিনে কিছু করা লাগে? দুলাভাই তো আহম্মক, এমন সুযোগ কাজে লাগাতি পারলেন না।’

    গোলাম মোস্তফার কথা শেষ হওয়ার আগে মনোয়ারা বেগম ভাইয়ের সামনে থেকে অভুক্ত নাশতার প্লেট দু’হাতে টেনে নিয়ে রান্নাঘরে চলে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন যখন, তখন তার চোখ দুটি টকটকে লাল। তাতে পানি নেই। শুকনো খটখটে। বারুদের সামান্য ঘষা লাগলেই দাউদাউ জ্বলে উঠবে। গোলাম মোস্তফা ‘জরুরি একটা মিটিং আছে’ বলে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ালে মনোয়ারা বেগম গর্জে ওঠেন, ‘যাস কই মোস্তফা? খাড়া!’ গলাটা তার ওই উঁচু থেকে হঠাৎ খাদে নেমে আসে। তিনি থেমে থেমে দম নিয়ে বলেন, ‘তুই আমার মরা মুখ দেখবি, আর কোনো দিন যদি মন্টুর নাম এ বাড়িতে উচ্চারণ করছস।’

    দুপদাপ করে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান গোলাম মোস্তফা। কিন্তু মনোয়ারা বেগমের অভিশাপ, ভর্ৎসনা কিছুতেই থামে না। ‘চামার চামার, ভাইটা আমার চামার। অমানুষ। যে আগুনে আমি জ্বলছি, খোদা য্যান তারে সেই আগুনে পোড়ায়। নিজের পোলার মরা-মুখ তুই দেইখ্যা মরবি মোস্তফা–এই আমি কয়ে রাখলাম।’

    কথাগুলো গোলাম মোস্তফার কানে না পৌঁছালেও এসব বলে বলে মনোয়ারা বেগমের মনটা একসময় হালকা হয়। ভাই চলে যাওয়ার পর তিনি ট্রাংক থেকে পাটভাঙা শাড়ি খুলে যত্নসহকারে পরেন। ভাঙাচোরা চোয়াল, চোখের কোল, কপালে পাউডার ঘষে, পানের খিলি মুখে পুরে, হিল খটখটিয়ে পাড়া বেড়াতে বের হন। মনোয়ারা বেগম মরিয়মের তৈরি রেডিমেড পোশাকের মার্কেটিং ম্যানেজার। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে বলেন, ‘আমার বড় মেয়ের হাত দুইটা সোনার মতো খাঁটি। ভেজাল নাই বাজারের জিনিসের মতো। পেটিকোট, ব্লাউজ (হাতঅলা, হাতকাটা), ব্যালবটম, কোর্তা অর্ধেক প্রাইজে হে সেলাই কইর‍্যা দিব। আপনেরা যাইবেন গো হেই বাঁশঝাড়অলা (এখন হাস্নাহেনার ঝোঁপ) বাসায়!’

    পাড়ার পুরোনো বউ-ঝিদের স্মৃতিতে বাঁশঝাড়টা অম্লান। তবে হাস্নাহেনা ফুলের গন্ধ শুঁকে শুঁকে বাড়ি চিনে তারা আসে। এ বাড়ির ছেলেটা যুদ্ধে মারা গেছে। মেয়ে বীরাঙ্গনা। মায়ের আমন্ত্রণে তারা আসে আসলে মেয়েকে দেখতে। মাও দ্রষ্টব্যের বিষয়। কিন্তু ছেলের জন্য মনোয়ারা বেগমের কোনো শোকতাপ আছে বলে তাদের মনে হয় না। তারা শুধু তার বাইরের ঠাটবাটই দেখে। মায়ের ভেতরটা যে ঘুণে ধরা, কুটকুটিয়ে দিনরাত কাটছে, তিনি যে খুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছেন–সেসব বোঝার ক্ষমতা নেই মেয়েগুলোর। মনোয়ারা বেগম তাদের মনের গতিবিধি, চোখের চাহনি পরখ করে যারপরনাই হতাশ হন। আনকোরা সেলাই মেশিনটা তারা দেখেও দেখে না। মেরির সোনার হাতের দিকে তাদের নজর নেই। নতুন ডিজাইনের সুন্দর সুন্দর জামাকাপড়গুলো একপাশে সরিয়ে, মিলিটারির নষ্ট করা শরীরটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার পর নাশতার সঙ্গে ঘন দুধের চা খেয়ে উঠে পড়ে। মনোয়ারা বেগম অভ্যাসবশত। অতিথিদের গেট পর্যন্ত এগিয়ে দেন। তারা ঘরের ভেতরের চেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলা পছন্দ করে বেশি। একথা-সেকথার পর শেষ পর্যন্ত বলে ফেলে, ‘মাইয়্যার রোজগার খাইলে চলব। বিয়া দিবেন না? অথবা বিয়া দ্যান না ক্যান। নাকি সম্মন্ধ আসে না?’ এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে পাড়ার মহিলারা যে যার মতো চলে যায়। মনোয়ারা বেগম গজগজ করতে করতে ঘরে ফিরে হিসাবপত্র নিয়ে বসেন। চা-নাশতা আটআনা আটআনা এক টাকা। পান এক খিলি দুই পয়সা। ‘অহ্ মরিয়ম, মাইয়্যালোকগুলি কি খাইয়্যা খাইয়্যা চইল্লা যাইব? কাজ দিব না? তুই নিজেও দুবছস। আমারেও ডুবাইছস।’

    তারপর আর ভালো কোনো কথা থাকে! তারা কে কাকে কতখানি ডোবাচ্ছে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে তা জাহির করে। সোনার ভাণ্ড যত ফুরিয়ে আসে, তাদের বচসা তত বেড়ে যায়। মরিয়ম একদিন অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। রাগটা তার নিজের ওপরই বেশি। সে এমন কেন যে, আপন মায়ের সঙ্গেও তার বনিবনা হয় না! পৃথিবীর কোন জায়গায় এ মেয়ের ঠাই হবে। যুদ্ধের আগেও সংকটে পড়লে ফুলার রোডের শিরীষ অরণ্য তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকত। এর জাফরি-কাটা ছায়ায় মরিয়মের স্বপ্নগুলো একদিন ডানা মেলে উড়তে শিখেছিল। এবারও বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে ছুটে যায় হারানো সেই স্বপ্নের উৎসস্থলে। জায়গাটা আগের মতোই কোলাহলপূর্ণ। তবে কাক তাড়ানো সেই মিছিল-স্লোগান আর নেই। দেয়ালগাত্র থেকে দাবিদাওয়া মুছে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংগ্রাম-আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটেছে তাহলে! নাকি মানুষগুলো ক্লান্ত? মরিয়ম তখনো স্বর্ণযুগে। তাই জানে না যে, দেশে এখন জরুরি অবস্থা চলছে। সভা-সমিতি, শোভাযাত্রা, ধর্মঘট, লকআউট নিষিদ্ধ।

    মরিয়ম সাদা দেয়ালের পাশ ঘেঁষে স্লোগানহীন রাস্তা দিয়ে হাঁটে। ক্লান্ত হলে বসে পড়ে ধুলিমলিন ফুটপাতে। মাথার ওপর প্রাচীন শিরীষ বৃক্ষের কারুকাজময় ছত্র। নিচে নতুন নতুন প্রেমিক যুগল বাদাম ভেঙে একে অন্যকে দিয়ে খাচ্ছে। তাদের স্বপ্নগুলো মনে হয় অলীক, কুয়াশাময়। মরিয়ম অদূরে বসে আছে কি নেই, তা তাদের চোখে পড়েও যেন পড়ে না। বিকালের দিকে প্রেমিক-প্রেমিকার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে জায়গাটায় ভিড়ভাট্টা লেগে যায়। মাছবাজারের মতো গমগম করে। তখন বসার বিশেষ জায়গা মেলে না। মরিয়ম জোরপূর্বক কখনো-সখনো বসে থাকলে তারা নানারকম কটুক্তি করে তাকে তুলে দেয়। একে তো সে সঙ্গীহীন-একা, তার ওপর এখানে বয়সের হিসাবও বড্ড কড়াকড়ি। মরিয়মের যে বয়স বাড়ছে, প্রেমিকদের কথা শুনে সে বুঝতে পারে। তার পরও স্বপ্নের উৎসস্থলের অধিকার সে ছাড়ে না। বাসায় মায়ের তিরিক্ষি মেজাজ, লবণের অভাবে কাছাকাছি ট্যানারিগুলোর চামড়া-পচা দুর্গন্ধ। সকালে ঘুম থেকে উঠেই মরিয়মের বাইরে বেরোনোর প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু দুপুরের আগে সে বাড়ি থেকে বের হয় না। যে সময়টায় শিরীষ অরণ্যের প্রেমিক-প্রেমিকারা ক্লাসরুমে লেকচার শোনার ফাঁকে ফাঁকে কবজি উল্টে ঘড়ি দেখে, মরিয়ম তখন তৃক আর কেশচর্চায় ব্যস্ত থাকে। মনোয়ারা বেগম হঠাৎ করে মেয়ের এ সাজসজ্জার ঘটা দেখে তাজ্জব। তবে বোঝেন যে, দোষটা বয়সের। কিন্তু মেয়ে আলাদা সংসার পাতলে তার কী গতি হবে? অথবা সে যদি রান্ডি হয়ে যায়? ধরা যাক, মেয়ে রান্ডি হলো না, কলমা পড়ে ফের বিয়েই করল, এরপর তার বাচ্চা হলো। মনোয়ারা বেগম জানেন, মেরির। কোলের সন্তান তার পুত্রশোক কমাতে পারবে না। হতাশায় ঘরের জিনিসপত্র যখন তখন তিনি হাত থেকে পাকা মেঝেতে ফেলে দেন। তুলতে তুলতে আবার ফেলেন। মেয়েকে কী বলবেন বুঝতে পারেন না। মরিয়ম যখন শাড়ির আঁচল উড়িয়ে, প্রসাধনের সুবাস ছড়িয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়, তখন তিনি নির্বাক। তবে বিশ্ব নারীবর্ষের ‘৭৫ সালে মা হব না’ স্লোগানটি, যা মেয়ের মুখ থেকে শোনা, তা চৌকাঠে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মন্ত্রের মতো জপতে থাকেন। মনোয়ারা বেগমের ভয়ার্ত মুখে একসময় দুষ্ট হাসি খেলে। তিনি কফিলউদ্দিন আহমেদকে একটা সংক্ষিপ্ত চিঠি লেখার পরিকল্পনা করেন। তাতে শুধু এই কথাটাই থাকবে—’৭৫ সালে মা হব না।’ ছেলে-ছেলে করে যে লোক খেপেছে, তার জন্য এ হবে উচিত শিক্ষা। ভাবনাটা মনোয়ারা বেগমকে অতিশয় আনন্দ দেয়।

    শিরীষ অরণ্যে বসে বসে মরিয়ম অন্যের স্বপ্ন নিজের চোখ দিয়ে দেখে। যদিও এসব শপ-উইন্ডোর ওপাশের সারি সারি দামি সামগ্রীর মতো তার নাগালের বাইরে আর ধরাছোঁয়ারও অতীত, তবু সে পরোক্ষ স্বপ্ন দেখা থেকে বিরত হয় না। সে স্বপ্নের কুয়াশাময় পথে হেঁটে হেঁটে প্রবেশ করে পাঁচ বছর আগের হারিয়ে যাওয়া এক নগরীতে। সেখানে মিছিল-মিটিং আর বক্তৃতার ফুলঝুড়ি। মানুষগুলো টগবগিয়ে ঘোড়ার মতো ছুটছে। প্রত্যেকের মুখে একটাই স্লোগান। প্রত্যাশাও সবার এক। অভুক্ত মানুষ, ভরপেট বা ভুড়িঅলা মানুষ, নাঙা মানুষ, সুটবুট পরা মানুষ–একযোগে তারা চায় স্বাধীনতা। এমন এককাট্টা, জটিলতাহীন, প্রাণবন্ত শহরে জানান না দিয়ে একদিন সৈন্য নামে। গুলির শব্দে, বারুদের গন্ধে আর বুটের আওয়াজে পাখির মতো ঝাঁক বেঁধে স্বপ্নরা পালিয়ে যায়। বাদামের ঠোঙা ফেলে প্রেমিকেরা চলে যায় যুদ্ধ করতে। প্রেমিকারা অরক্ষিত, ভাসমান। শত্রু সৈন্য তাদের তাড়া করে ঝোঁপঝাড়, পুকুরপাড়, গাছতলা থেকে ক্যাম্পে ধরে আনে। তখন মৃত্যু কি গর্ভধারণ তাদের অনিবার্য নিয়তি। যুদ্ধশেষে জীবিত প্রেমিক-প্রেমিকারা ফিরে আসে। তবে তাদের মিলন হয় না। শিরীষ অরণ্যে পুরোনো স্বপ্নের খোঁজে প্রেমিকার দুপুর-বিকাল কচুপাতা থেকে জলের ফোঁটার মতো নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ে।

    সময় ভয়ানক প্রতারক। মরিয়মের কাছে নতুন কোনো স্বপ্ন দুপুর-বিকালগুলোতে আর ধরা দেয় না। তবে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় একা বসে থাকার জন্যই হোক বা তার মাত্রাতিরিক্ত সাজসজ্জার কারণেই হোক, সে একসময় পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। এ-ও নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রথম ধাপ, যার অর্থ বয়সটাকে এই প্রেমিক-প্রেমিকার স্তরে নামিয়ে আনা। কিন্তু তার দিকে পুরুষগুলোর ইশারা-ইঙ্গিত সবই এক কিসিমের। তারা শুধু পাঁচ মিনিটের একটা সংগম চায়, দশ বিশ টাকার বিনিময়ে। আর এর জন্য অঙ্গুলিনির্দেশ করে তাকে যেতে বলে রমনাপার্ক বা খদ্দেরদের মেসবাড়িতে। আব্রুহীন পার্কের শয্যা বাদ দিলে বাকি থাকে মেসবাড়ি-ব্যাচেলর কোয়ার্টার। সেখানে একেকটা কামরায় তিন-চারজনের বাস। তাদের বাথরুম সাবানজল জমে নোংরা। তামাকের বাসি কটু গন্ধ মাকড়সার জালে ঝুলে থাকে। লোকগুলোর পানের রসসিক্ত দাঁত, কামার্ত চোখ মরিয়মের ভালোবাসাহীন দেহে সাড়া জাগাতে পারে না। তারা যখন রিকশার সিটের একপাশে সরে বাকি অর্ধেকটায় তাকে ইশারা করে বসতে, সে তখন মুখ ঘুরিয়ে পাশের প্রেমিক যুগলের দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ সে কাম নয় স্বপ্ন চায়, তা শপ উইন্ডোর নিচ্ছিদ্র কাঁচের মধ্য দিয়ে হলেও। সেই অবস্থাটাও তার প্রতিকূল। প্রেমিক-প্রেমিকার নিবিষ্টতায় লজ্জা পেয়ে সে ফের রাস্তার দিকে তাকায়। কোনো-কোনোদিন গাছ থেকে কাকের বিষ্ঠা পড়ে মাথায়। মরিয়ম চারদিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি চুলে-বেণিতে রুমাল ঘষে। এখানে বসে থাকার আর কোনো অর্থ থাকে না। প্রেমিক যুগলদের কটুক্তি শুনে বিতাড়িত হওয়ার আগে, সেসব দিনে সে ফুটপাতের আসন ছেড়ে আগেভাগে উঠে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পলাশীর মোড়ে এসে রিকশার জন্য দাঁড়ায়। সেখানে প্রথম দিনের মুচির জায়গায় নতুন মুচি। মাথা নিচু করে একই ভঙ্গিতে ছেঁড়া জুতো সেলাই করছে। লোকটা মরিয়মের ক্লান্ত পায়ে ঘষটে ঘষটে চলার শব্দ শুনে মুখ তুলে তাকায়। তবে তাকে না দেখে, তার পাশে প্রথম দিনের মুচির চোখ দিয়ে যেন আবেদকে খোঁজে। মরিয়ম ভাবে, সে হয়তো নতুন করে গড়ে ওঠা পাশের বস্তিটারই বাসিন্দা, ফের যুদ্ধ বাধলে রাত বারোটার পর প্রথম দিনের মুচির মতোই যে সপরিবারে পুড়ে ছাই হবে।

    যদি আরেকটা যুদ্ধ হয় জ্যান্ত পুড়ে ছাই হবে যে, সেই মুচির চোখ একদিন মরিয়মের হেঁটে আসার পথে আটকে যায়। দুজন রিকশা আরোহী মেয়েটিকে অনুসরণ করে করে শিরীষ-অরণ্য থেকে পলাশীর মোড় পর্যন্ত চলে এসেছে। তাদের একজনের চোখে সানগ্লাস, পরনে ব্যালবটম প্যান্ট আর গায়ে চকরা-বকরা প্রিন্টের শার্ট। অন্যজন সাধারণ পোশাকের, মাথাভর্তি লম্বা চুল। বাক্স-পেটরা ছেড়ে মুচি হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়তে মরিয়ম পেছন ফিরে তাকায়। সানগ্লাস পরা লোকটি ততক্ষণে রাস্তায় নেমে তার দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। মুখটা আশ্চর্য রকমের হাসি হাসি। মরিয়ম ফুটপাতের সাদা দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ে এবং চোখ থেকে সানগ্লাস না-খোলা পর্যন্ত আবেদের একসময়ের গোবেচারা রুমমেট সুমনকে চিনতে পারে না। এ নিয়ে ওরা তিনজনই হেসে কুটিকুটি, মুচি ছাড়া। সে ততক্ষণে মাথা নিচু করে ছেঁড়া জুতো ফের সেলাই করতে লেগে গেছে।

    সুমন এখন একজন রোজগেরে যুবক। বলে, চাকরি না পেয়ে কন্ট্রাকটরি করছে। আজিমপুরে বাসা। এখান থেকে হাঁটা পথ। আর পাশের ছেলেটি চাকরি-বাকরি কিছু করে না। লেখালেখির হাত আছে। তার প্রতিভার সমঝদার সুমন। ছেলেটার প্রতি সুমনের সমীহভাব চোখে পড়ার মতো। মরিয়মকে তারা বাসায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে এক কথায় সে রাজি হয়ে যায়। তা নতুন মুচির পছন্দ হয় না। মেয়েটি রোজ চটি-ঘষটে তার ধ্যানভঙ্গ করে একা একা এ পথ দিয়ে বাড়ি ফিরেছে। নতুন মুচিও তাতে স্বস্তি পেয়েছে। আজ যুবকদের সঙ্গে মরিয়মের চলে যাওয়া দেখে, প্রথম দিনের মুচির চেনা আবেদ-মেরি জুটির জন্য তার বুক ছেড়ে ছোট্ট একটুকরো দীর্ঘশ্বাস পাখির মতো ডানা ঝাঁপটাতে ঝাঁপটাতে উড়ে যায়।

    আজিমপুর গোরস্থানসংলগ্ন দু’কামরার ব্যাচেলর কোয়ার্টার। মাথার ওপর লম্বা দড়িতে লুঙ্গি-জাঙ্গিয়া গামছা জড়াজড়ি করে ঝুলছে। বাথরুমটা নোংরা, সাবানজলে স্যাঁতসেঁতে। সেখানে বাসি তামাকের কটু দুর্গন্ধ। রিকশায় উঠে বসতে যারা মরিয়মকে ইশারা করে, তাদের ঘরদোর যেমন হতে পারত, অবিকল সেরকম। মরিয়মের মনে হয়, তার দেখা কোনো দুঃস্বপ্নের সঙ্গে দৃশ্যটা হুবহু মিলে যাচ্ছে–যা ভয়ানক অস্বস্তিকর। কিন্তু সে চাইলেও বাসাটা থেকে এখন বেরিয়ে আসতে পারছে না। আর যা-ই হোক স্বেচ্ছায় এসেছে। ছেলে দুটিও খারাপ আচরণ করছে না। তাকে তারা বসতে দিয়েছে ঘরের একমাত্র চেয়ারের ধুলা ঝেড়ে। তাড়াতাড়ি ব্যালবটম ছেড়ে লুঙ্গি পরে সুমন রান্নাঘরে চা বানাতে গেছে। সেখান থেকে এক ফাঁকে দৌড়ে গিয়ে গলির দোকান থেকে বিস্কুট-কলা-চানাচুর কিনে এনেছে। প্রতিভাবান সেই তুলনায় স্থবির। মরিয়ম সুমনের অনুপস্থিতিতে তার সঙ্গে কী নিয়ে কথা বলবে বুঝতে পারে না। ছেলেটিও চুপ। লম্বা চুলে শুধু বিলি কাটছে। মনে হয়, সুমন যতখানি সরব কবিকে নিয়ে, সে ঠিক ততটাই নীরব। যেন একরকম দায়ে পড়ে ভক্তকে সহ্য করে যাচ্ছে। চা-বিস্কুট-চানাচুর সামনে সাজিয়ে দিয়ে সুমন ছেলেটির ছাপা, আ-ছাপা, খসড়াসহ এক গুচ্ছের লেখাপত্র বালিশের তলা থেকে টেনে বার করে। কাজটা করতে গিয়ে সে চাপাস্বরে লেখকের ধমকও খায়। তাতে তার আগ্রহ বাড়ে বৈ কমে না। বেচারা সুমন! উনসত্তর থেকে একাত্তর ছাত্রনেতা আবেদ ছিল তার গুরু, পঁচাত্তরে একজন লেখক। এখন তাহলে রাজনীতি থেকে মানুষের মন উঠে সাহিত্যে পড়েছে? আজ কি তারাই হিরো, যারা লেখে? মরিয়ম সুমনের মুগ্ধতার মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়টা বোঝার চেষ্টা করে। কাগজগুলোর পৃষ্ঠা উল্টে সে দেখে, লেখকের নামও আবেদ। তবে সঙ্গে জাহাঙ্গীর নেই। সামির। আবেদ সামির-সাহিত্যিকের মতো নাম বটে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }