Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প379 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সকলই তার ইচ্ছা

    আপনি কিন্তু আমার জন্মদিনে আসবেন।

    নিশ্চয়। কবে তােমার জন্মদিন?

    এই তাে দোসরা আগস্ট। ওই দিন আপনি গরদের পাঞ্জাবি পরে আসবেন। আপনার পাশে দাঁড়িয়ে আমি একখানা ছবি তুলব। গরদের পাঞ্জাবি পরলে আপনাকে একদম রাজার মতাে দেখাবে।

    কী পাগলের মতাে বলছ রাখী। আমি এখন রাজা সাজব কী! আমি তােমার চেয়ে কত বড়াে তা তুমি জানাে। তােমার বাবা আমার কাছে পড়েছে। আমার মাথা তাে প্রায় সাদা।

    কত বড়াে? আপনি কি আমার বয়স জানেন?

    তুমি সবে কলেজে ঢুকেছ রাখী। এইমাত্র টিউটোরিয়াল থেকে পড়ে ফিরলে। কুড়িও হয়নি তােমার।

    আবদার। আমার আসল বয়স বের করার ফন্দি?–বলে রাখী টেবিল। ল্যাম্পটা জ্বেলে দিয়ে তার আলােছায়ার ভেতর দাঁড়াল। এখন সন্ধেবেলা।

    আমি জানতে চেয়েছি নাকি? শুনুন না। আপনি কি ফিরােজা বেগম শােনেন ? ফিরােজার গলায় কী যেন আছে। শুনলে অনেক কিছু মনে পড়ে যায়। কেন? ফিরােজা দরকার তােমার ?

    ওঁর একটাও ক্যাসেট নেই আমার। যা শুনেছি রেডিও থেকে।

    তােমার জন্মদিনে নিয়ে আসব।

    আপনার জন্যে একটা ডিম ভেজে আনি।—বলে রাখী উঠে দাঁড়াল। অলক তালুকদার ধুতির কেঁচাটি কোলে তুলে নিয়ে সােফায় ডানদিকে হেলে বসলেন। চল্লিশ বছর আগে তিনি পুরােদস্তুর যুবক ছিলেন। তাঁর বাঁদিকে রাখীর বাবা বসে। পরিতােষ সরকার। তার সামনে টেবিলে বাড়ির নকশা। নকশার চার কোণে চারটি পেপারওয়েট। বাড়ি উঠবে। পরিতােষ নকশার একটা খসড়া দিয়েছেন, কনসালট্যান্ট হিসেবে অলক তালুকদার তাই নিয়ে কথা বলতে এসেছেন। তিনি বড়াে বড়াে বাড়ির চারপাশ কীভাবে সাজানাে হবে—তারই এক্সপার্ট। সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ছাত্রজীবনে পরিতােষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অলকের কাছে পড়েছেন। অলক পাঁচ ছ-বছর হল কলেজ থেকে রিটায়ার হয়ে কনসালটেন্সি করছেন।

    রাখী। এই বয়সে কেউ ডিম খায় না। তােমার মা তাে চা দিলেন। উহু। আমি টিউটোরিয়ালে ছিলাম। মা নিশ্চয় শুধু চা দিয়েছেন আপনাকে। তা কি হয়? আমি মাখন দিয়ে ডিম ভেজে এনে দিচ্ছি। দেখবেন—খেতে খুব ভালাে লাগবে।

    পরিতােষ তার মেয়ের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। যাকে বলে প্রশ্রয়ের হাসি। মুখে বললেন, স্যার! ও যদি কারও কথা শােনে! বলতে বলতে পরিতােষ খসড়া নকশাটি গুটিয়ে নিয়ে ভেতরের ঘরে গেলেন। সফল সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। নতুন বাড়ি। বিরাট লিভিংরুম। সেই আন্দাজে সাজানাে। পরিতােষের একটিই ইস্যু—সে এই রাখী। পরিতােষ নিজেই ওর পড়া দেখে দেন। এইমাত্র রাখী ফিজিক্স টিউটোরিয়াল থেকে পড়ে ফিরেছে। ফিরেই বলেছিল, ফিজিক্স না বড়াে বাজে জিনিস। আমি প্রবলেমগুলাে সব পারব। কিন্তু পড়ে কী লাভ বলুন তাে? কত সুন্দর সুন্দর জিনিস আছে জীবনে—সেসব কখনও পড়াবে না।

    লিভিংরুমের গায়েই সাজানাে কিচেন। সেখানে কাজের মেয়েটি দাঁড়িয়ে কী রাঁধছিল। তাকে সরিয়ে রাখী ডিম ভাজতে লাগল। সালােয়ার কামিজ। লম্বা বেণী। বছর ষােলাে সতেরাে হবে। সতেরােই হবে। তাই মনে হল অলক তালুকদারের। মুখখানি ভরাট। বড়াে বড়াে চোখ। শ্যামলা রঙ।

    লম্বা একটি ডিমভাজা এনে অলকের সামনে ধরল। গরম। একটু পরে কেটে কেটে খাবেন।। তুমি খাবে না। আমি এখন খাই না। সকালে গান গাইতে গাইতে ভাজি। তারপর খাই। তুমি গান গাও?—বলে অলকের মনে হল—ভারী খেয়ালি তাে মেয়েটা। ওমা! তাও জানেন না। আমি জানব কী করে? তাও তাে ঠিক। একটা গান কর না— এখানে আমি গান করি না। আমার ঘরে আমি গাই।

    কোন ঘরটা তােমার? তাও দেখেননি? বাঃ। আমি দেখব কী করে।

    ওই কোণের ঘরটা। তাই বলে এখন ওখানে আপনাকে নিয়ে যাব না। আমার ওপর আপনার ধারণা খারাপ হয়ে যাবে। এমন নােংরা হয়ে আছে না—এবার খান। ঠান্ডা হয়ে এসেছে।

    ঠিক এই সময় একতলার সিঁড়ি বেয়ে একটি ছেলে উঠে এল। মাথা ভর্তি কেঁকড়া চুল। চশমার পেছনে বড়াে বড়াে চোখ। ট্রাউজারের ভেতর সাদা হাফশার্ট গোঁজা। কোমরে বেল্ট। ঘিয়ে রঙের প্যান্টের পায়ার নীচে কালাে নর্থ স্টারের ডগা। পিঠে ব্যাগ ভর্তি বই। ডান হাতে যেন কী একটা।

    এ কী? এ কী ? সিধে দোতলায়? ছেলেটি থতমত খেয়ে বলল, এটা ফেলে এসেছ ক্লাসে।

    বাঁ হাত দিয়ে রাখী ছেলেটির হাত থেকে জিনিসটা তুলে নিয়ে বলল, হা। তাই তাে। আমার মাথার ব্রোচ। ক্লাসে খুলে রেখেছিলাম। ভুলে ফেলে এসেছিলাম—বলতে বলতে ব্রোচটি নিজের বেণীর গােড়ায় বসিয়ে নিয়ে ঘরের মাঝখানটায় ফিরে এল।

    অলক তালুকদার দেখলেন, ছেলেটি দোরগােড়ায় তখনও দাঁড়িয়ে। রাখী তার সঙ্গে আর একটিও কথা বলল না। যেন ওখানে দাঁড়িয়ে নেই ছেলেটি। তিনি বেশ অস্বস্তিতেই পড়লেন। নিজে বসে আছেন সােফায়। পরিতােষ নকশাটি ঘরে রাখতে গিয়ে আর ফিরছে না। পরিতােষের বউ অন্য কোনও ঘরে। রাখী লিভিংরুমের বাহার—টেবিল ল্যাম্পটার কাছাকাছি ফিরে আসায় আলােছায়ার ভেতর তাকে আর টিউটোরিয়াল ফেরত স্টুডেন্ট মনে হচ্ছে না। আচমকাই যেন পুরােদস্তুর একটি মেয়ে হয়ে উঠেছে। অথচ অলক তাে জানেন—তিনি নিজে এখন পঁয়ষট্টি।।

    লিভিংরুমের মাঝামাঝি দাঁড়ানাে রাখী বলল, একজনের যদি কাউকে ভালাে লাগে—

    অলক মনে মনে বললেন, কী সর্বনাশ। পরিতােষ এসে পড়লে কী ভাববে? আমি তাে নিজের থেকে রাখীকে কিছু বলিনি। কেন যে শুধু শুধু মানুষের বয়স বেড়ে যায়। একদম শুধু শুধু।

    ধরুন একজনের যদি কাউকে মনে ধরে যায়—

    অলক তালুকদার বহু বহুকাল এমন কথাবার্তার মুখােমুখি হননি। এই ধারার কথা ভুলে গেছেন। রাখী নিজের কথার ভেতর জড়িয়ে আছে। যেন বা জলে নিজেরই ছায়ার মুখােমুখি। এতটাই মজে আছে।

    কাউকে ভালাে লেগে গেলে সে কথা কি সে বলতে পারে ? পারে না। কিছুতেই পারে না।

    দোসরা আগস্ট বিকেলে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল। গরদ নেই অলক তালুকদারের, খুঁজে পেতে ঘিয়ে রঙের একটা তসর পাওয়া গেল। অনেকদিন আগে দরজি পাঞ্জাবি বানাতে গিয়ে সেলাই কলের তেল ঢেলে ফেলেছিল। তার দাগ ওঠেনি।

    তাই গায়ে দিয়ে অলক তালুকদার ফিরােজা বেগমের ক্যাসেট হাতে নিয়ে হাজির হলেন। ছেলে বলতে মেয়ে বলতে ওই একাই রাখী। পরিতােষ আর তার বউয়ের জীবনে এই দিনটি দিনের মতাে দিন। ফুল, গান, খাবার, আলাে—কোনও কিছুরই অভাব নেই। রাখী আজ একটা লাল ডুরে পরেছে।

    লিভিংরুম উপচে রাখীর বন্ধু, বন্ধুনী। অলক যেতেই তার হাত থেকে ফিরােজা বেগমের ক্যাসেটটি প্রায় কেড়ে নিল রাখী। তারপর একটা চলন্ত ক্যাসেটকে বের করে দিয়ে ফিরােজাকে প্লেয়ারে ভরে দিল। দিয়ে একঘর মানুষের ভেতর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চোখ বুজে ফেলল রাখী।

    সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভেতর তিনটি মেয়ে দুটি ছেলে চোখ বুজে ফিরােজার গলার সঙ্গে দুলতে লাগল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। নজরুলের লেখা গান।

    সেদিন যদি জানিতাম এই পথেরই বাঁকে তােমার সঙ্গে দেখা হবে হবেই দেখা চোখ বুজে দুলতে থাকা ছেলে তিনটির ভেতর সেই ছেলেটিও আছে। যে সেদিন সন্ধ্যাবেলা রাখীকে তার ফেলে আসা ব্রোচটা দিতে এসেছিল। অলক তালুকদার পরিষ্কার বুঝতে পারছেন—এ ঘরে তিনিই একমাত্র বিনা টিকিটের প্যাসেঞ্জার।

    ছখানি গানের শেষে ক্যাসেট ঘুরল। তুমুল হাসি। এই শােন রাখী সেদিন—। এরকম জাতের অনেক রকম কথা। কথা না বলে বরং বলা ভালাে-কাকলী। সেই সঙ্গে বাতাস সুগন্ধীতে ম ম। তার ভেতর ক্যাটারারের লােক চিকেন বাটার রােল—পনির ক্যাপসিকাম—নানান খাবার এগিয়ে দিচ্ছে। মেয়ােনেজ।

    সবাই খাচ্ছে। হাসছে। কারও শাড়ির আঁচলের জরি ঝিকমিক করে উঠল। তাদের হাসিতে আলাে ঠিকরে পড়ছে। গলার স্বর টাটকাদানাদার। অলক দেখলেন, মেয়েরা-ছেলেরা—সবাই এই পৃথিবীর নতুন মানুষ। তার ভেতর পরিতােষ—তার বউ কিছু পুরনাে। তিনি নিজে একেবারেই সাবেক কোচা লুটোনাে ধুতি। তার ওপর বেশি ঝুলের তসর। ছেলেগুলাের কোমরের বেল্টে এনামেল করা বগলসগুলাে ওদের চোখের মতােই চকচকে। নিজের মাথা তিনি দূরে উল্টোদিকের দেওয়াল আয়নায় দেখতে পেলেন। অল্প অল্প কালাের ভেতর এবড়াে-খেবড়াে সাদা। বড়াে রেলইয়ার্ডের শেষ দিকে একসময়কার ওয়াগন মাটিতে গেঁথে গিয়ে কাত হয়ে থাকে।

    গান থামতেই রাখী এগিয়ে এসে দুহাতে অলকের দুখানি হাত ধরল। ধরে অলককে টানতে টানতে ঘরের মাঝখানে নিয়ে এসে রাখী নিজেই ফিরােজার ঢঙে গেয়ে উঠল—লম্বা টানে—সেদিন যদি জানিতাম—

    সারাটা লিভিংরুমে তাজা গলার হাসিতে ভেসে গেল। অলককে ঘিরে সবাই দাঁড়িয়ে। দূরে সােফায় হাসি হাসি মুখে রাখীর মা-বাবা বসে। অলক বুঝতে পারছেন না কী করবেন। গাইবেন? কিন্তু গাইতে তিনি জানেন না। স্রেফ, গুনগুন করতে পারেন। হাসবেন? বেশ কিছুকাল হল হাসলে তাকে খুব একটা ভালাে দেখায় না। কিন্তু গম্ভীর হয়ে তাে থাকা যায় না। হাসি হাসি মুখে তিনি তাকালেন।

    রাখী ঘােষণার গলায় বলে উঠল, এবার আমরা ছবি তুলব।

    রাখী নিজে অলক তালুকদারের বাঁ পাশে ছবির জন্য পােজ দিয়ে দাঁড়ালে বাকিরা তার গা ঘেঁষে দাঁড়াল। রাখী বলে উঠল, উঁহু। আমি একা ওঁর সঙ্গে ছবি তুলব। তােমরা সবাই সরে যাও। এই ঊর্মি? তাের ক্যামেরা? অমনি ঊর্মি তার ফ্ল্যাশগান নিয়ে তৈরি। বাকিরা সবাই সরে দাঁড়াল। অলক তালুকদার বুঝতে পারছেন না—কী করবেন? সরে দাঁড়াবেন? নতুনদের বাদ দিয়ে তার মতাে একজন সাবেককে নিয়ে ? এ হয় না। কিংবা, রাখীর আরও গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন ?

    উর্মি মেয়েটি ফোকাস ঠিক করে ফেলেছে। এইবার শাটার টিপবে। সেদিন রাখীর ব্রোচ ফিরিয়ে দিতে আসা সেই ছেলেটিকে দেখতে পাচ্ছেন অলক তালুকদার। হাসি হাসি মুখ। কিন্তু চোখ ছােটো হয়ে এসেছে। ছেলেটি যেন তাকে পেনসিলের শিসের ডগায় বসিয়ে মন দিয়ে দেখছে। নিজেকে অলকের এত ছােটো লাগল।

    তখনই দপ করে সারা এলাকার আলাে নিভে গেল। পরিতােষের গলা শুনতে পেলেন অলক।

    কেউ নড়বে না। অনেক প্লেট, কাচের গ্লাস রয়েছে। স্যার-নড়বেন না। আমি এখুনি ইনভার্টার চালু করে দিচ্ছি।

    কিন্তু এতজনের ভিড়ের ভেতর দিয়ে পরিতােষ ইনভার্টারের কাছে পৌছবে কী করে? অলক বুঝতে পারছেন না। অন্ধকার বলে নানারকমের সুগন্ধীতে বাতাস ভার। কয়েক পলকে আলাে না থাকার অন্ধকার চোখে সয়ে গেল। অনেকগুলাে নতুন শরীর। লিভিংরুমটা এখন বনবিভাগের কচি শালবাগান। অলক তালুকদার একটু একটু করে আন্দাজে ডানদিকে সরে যেতে লাগলেন। ইনভার্টারে আলাে ফুটল। মাথার ওপর পাখা ঘুরতে শুরু করল। ফের হাসি। টাটকা ভরাট সব গলা। তীক্ষ। ও কী? আপনি অত দূরে থাকলে ছবি আসবে কী করে? উর্মির এই সরল কথায় সবাই দমকা হাসি হেসে উঠল। সেই ছেলেটিই এগিয়ে এসে অলককে ধরে রাখীর ঠিক গা-ঘেঁষে ফের দাঁড় করিয়ে দিল। দিয়ে বলল, স্মাইল, প্লিজ।

    অলক তালুকদার বুঝতে পারছেন, তিনি এমনিতেই গাইতে পারেন না। তড়বড় করে তাজা তাজা কথাও বলতে পারেন না। আর এখন ইনভার্টারের আলােয় তেমন করে হাসিও আসছে না তার মুখে। রাখীর পাশে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন—একেবারে গরুচোর।

    অলক তালুকদার ডানদিকে সরে গিয়ে বলে উঠলেন, না না। তােমরা সবাই মিলে ছবি তােল। আমি কেন?

    দূর থেকে পরিতােষ সরকার গলা তুলে বললেন, দাঁড়ান না স্যার। ওরা যখন বলছে।

    না না। তা হয় নাকি!

    সেই ছেলেটি এগিয়ে এসে ফের অলকের হাত ধরল, খুব হয়। আসুন তো—

    চমকে উঠলেন অলক তালুকদার। নতুন বয়সের উদার বীর। এখন হয়তাে এরকমই হয়। তিনি দেখলেন, একটু দূরে রাজরানির পােজে কথাটি না বলে রাখী দাঁড়িয়ে। জন্মদিনে খুব সেজেছে। চুপ করে থেকে সে এখন নিজেই আগাগােড়া একটি আদেশ। অলক রাখীর পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন। উর্মি তার ক্যামেরার শাটার টিপতে রেডি হল।

    সেই ছেলেটি বলে উঠল, মুখটা তুলুন। মুখটা কিছুতেই তুলতে পারছেন অলক। তিনি বুঝতে পারছেন, রাখীর ইচ্ছাই ছেলেটির ইচ্ছা। ও তাে ফাকা ক্লাসঘরে কুড়িয়ে পেয়ে ব্রোচটা ফেরত দিতে এসেছিল রাখীকে।

    ফ্ল্যাশগান দপ করে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে হাততালিতে কচি শালবাগান ভরে গেল। রাখীর হাসি হাসি মুখ ছেলেটির মুখে আদেশ হয়ে তাকাল। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটি খুব স্মার্ট ভঙ্গিতে একটা বােতলের ছিপি খুলল শব্দ করে। তারপর অলকের দিকে ঐ ভরে এগিয়ে ধরল, কোল্ড ড্রিঙ্কস?

    আমি এখন খাব না। ইনভার্টার আলাে দেয় ব্যাটারি থেকে। উর্মির ক্যামেরার ফ্ল্যাশগানও ব্যাটারি থেকেই আলাে দিল। সেই আলাে এইমাত্র পলকে অলকের মুখে আঁপিয়ে পড়েই ফুরিয়ে গেছে। কিন্তু তাতে তার চোখ ধাঁধিয়ে গেছে। তিনি সােফায় গিয়ে বসতেও পারছেন না—আবার লিভিংরুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতেও তাঁর খুব অস্বস্তি লাগছে। তাঁর সামনে সেই ছেলেটি ছিপি খােলা কোল্ড ড্রিঙ্কসের বােতল হাতে দাঁড়িয়ে। বােতলের ভেতর থেকে একটি লিকলিকে স্ট্রর মাথা বেরিয়ে। কেমন বেখাপ্পা। অনেকটা অলকেরই মতাে। একতলা থেকে বােগেনভেলিয়া লতিয়ে দোতলার জানলায় উঠে এসেছে। তার ফিকে গােলাপি ফুলসুদ্ধ কয়েকটি সবুজ পাতায় একটুখানি লতা রাখী ছিড়ে আনল। খােলা জানলার বাইরে সারা পাড়া অন্ধকার। সেই অন্ধকারের ভেতর থেকেই রাখী যেন ফুলগুলাে তুলে আনল। এসে সবার সামনে অলকের দিকে এগিয়ে ধরল।

    সে ফুল নিতে অলক তালুকদারের হাত উঠল না। সে ফের টের পেল—কোল্ড ড্রিঙ্কসের বােতল হাতে ছেলেটি তাকে আবার পেনসিলের সরু শিষের ওপর বসিয়ে মন দিয়ে দেখছে। চোখ ছােটো করে। বােতলে রক্ত হাতে এইভাবে লােকে অপারেশন থিয়েটারের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে।

    হাত না এগিয়ে আসায় রাখী ফুল সমেত লতানাে বােগেনভেলিয়ার উঁটি অলকের তসরের পাঞ্জাবির বুক পকেটে ভরে দিল। সবার সামনে। লজ্জা লজ্জা চোখে।

    ফের হাততালি। হাসি। কথা নয়। কাকলী।

    এসব কি রাখীকে এনকোর দিতে? না আমাকে ঠাট্টা করে? এইসব ভাবনায় ডুবে যেতে যেতে আঁতকে উঠলেন অলক তালুকদার।

    রাখী এবার বড়াে একখানি ক্যাডবেরির অনেকখানি ভেঙে তাঁর সামনে এগিয়ে ধরেছে। একেবারে খােলাখুলি। তাঁকে এভাবে রাখীর সবার থেকে আলাদা করে নিয়ে ফুল দেওয়া—তারপর ক্যাডবেরি ভেঙে এগিয়ে দেওয়ায় অলক তালুকদার একদম জবুথবু হয়ে পড়লেন। একদম একটি কচি শালবাগানের ভেতর তিনি চোখ তুলে তাকাতে পারছেন না। মাথা নিচু করে হাত এগিয়ে দিলেন।

    উঁহু। হাঁ করুন। আমি খাইয়ে দেব।

    পয়ষট্টি বছর বয়সে কী না করা যায়! অলক কোনওরকমে মুখ খুললেন। তাতে রাখী ক্যাডবেরি ঠেসে দিল। কোনওরকমে মুখের ভেতরে নিয়ে নিলেন। অলক।

    উর্মি আর তার সঙ্গীসাথীরা বলে উঠল, চল রাখী ছাদে যাই। বড় গরম লাগছে—

    অলকও দেখলেন ক্লান্ত ইনভার্টার মাথার ওপরের পাখা আর ঘােরাতে পারছে না।

    ছাদে ওঠার সিঁড়ি অন্ধকার। রাখীর গলা পাওয়া গেল। পরিষ্কার ঝঙ্কার তােলা গলা। টর্চটা ধর সমীর

    ছেলেটির নাম কি তাহলে সমীর? বুঝতে পারলেন না অলক। ফের রাখীর গলা। একটা ফোল্ডিং চেয়ার আনিস কিন্তু

    পেছন পেছন টর্চের ফোকাসের ভেতর দিয়ে অলক তালুকদার। অনেকের সঙ্গে। দোতলা থেকে টর্চের আলাে। সেই সঙ্গে একটি ফোল্ডিং চেয়ার টেনে তােলার আওয়াজ। সিড়ির ধাপের সঙ্গে চেয়ারের পায়ার ঘসটানি। তাহলে সেই ছেলেটির এক হাতে টর্চ। আরেক হাতে ফোল্ডিং চেয়ার। কোল্ড ড্রিঙ্কসের বােতলটা রাখল কোথায় ? এ ভারি অন্যায় রাখীর।

    বাঃ! খােলা ছাদ ভর্তি ঠান্ডা বাতাস। সারা এলাকা অন্ধকার। দূরে কোথায় জেনারেটর চলছে। মাথার ওপর ঘষা কাচের ভঙ্গিতে আবছা মতাে চাঁদ।

    আমি একা চেয়ারে বসব নাকি? ছিঃ।

    দু-হাতে রাখী অলকের দুখানি হাত ধরল। হ্যা। আপনিই শুধু বসবেন। আমরা সবাই আজ দাঁড়িয়ে থাকব।

    বলে রাখী তাকে বসিয়ে দিল। এবার অলক দেখলেন, তিনি ভুল ভাবেননি। সেই ছেলেটির হাতেই টর্চ। টর্চের গা চাঁদের আলােয় ঝিকমিক করছে। ওরই নাম তাহলে সমীর।

    উহু রাখী। আজ তােমার জন্মদিন। তুমি চেয়ারে বস। বলে অলক উঠে দাঁড়ালেন।

    রাখী শুনল না। তাঁকে জোর করে ধরে বসিয়ে দিল। তিনি বসে পড়ে সমীরের মুখ দেখার চেষ্টা করলেন। দেখতে পেলেন না।

    পনেরাে ষােলােজনের দলটা নানান ভাগে ভাগ হয়ে ছাদের রেলিংয়ের এক এক জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল। বাড়ির গা ধরে সুপুরি গাছ ঠেলে উঠেছে। আলাে আসার নাম নেই। পরিতােষ বা তার বউ—কেউই তাে ছাদে এল না। অলক বুঝতেই পারছেন, সবে তরুণী হয়ে ওঠার স্বাধীনতায়—জন্মদিনের সাজে, সুগন্ধীতে, আনন্দে রাখী ডগমগ হয়ে আছে এখন। ঠিক এই সময় ছাদের আবছা মতাে কোণ থেকে খুব চেনা একটি গান গেয়ে উঠল রাখী। খুবই চেনা অলকের।

    তুমি যে আমার ওগাে তুমি যে আমার শুধু একবার বল তুমি যে আমার বেশ থেমে থেমে গাইছে রাখী। থেমে থেমে। জায়গা মতাে গলা নরম করে। যেমন করে কোন সিনেমায় গেয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। সন্ধ্যা মুখােপাধ্যায়ের গলায়।

    এসব ছবি হঠাৎ হঠাৎ দুপুরবেলা এসে পড়ে টিভি-তে। সমীর এগিয়ে এসে বলল, আসুন না। ওই কোণে গিয়ে দাঁড়াই।

    তুমি গেলে যাও। সমীর বলল, আসুন না। গান শুনবেন রাখীর। এখান থেকেই শুনতে পাচ্ছি। কাছে গিয়ে শুনতে হলে তুমিই শােন গিয়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসেরা ৪৫ – সায়ক আমান
    Next Article সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }