Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প379 Mins Read0
    ⤶

    গানের বাগান

    রাইচাদবাবু তখন সবে চলে গেছেন। আগে রেডিওতে দুপুরের অধিবেশন শুরুই হত ফৈয়াজ খাঁকে নিয়ে। মাঝে রাইবাবুর বাবা লালাদ বড়াল। রাস্তার পিচ গলে গেছে। দরজা-জানলা বন্ধ করে ফৈয়াজ, লালচঁাদ—সুরেলা দাপটে অন্ধকার ঘর ভরাট। শুনি আর গলার এক-একটা দানাদার কাজ বহুদিন বিধে থাকে মাথায়।

    মনে করার চেষ্টা করি—ওঁরা যখন গেয়েছেন—মানে ওঁদের মাপের সব গাইয়ে যখন রাজত্ব করছেন, তখন কোন সাল ? এই শতাব্দী সবে দোর খুলেছে। প্রথম মহাযুদ্ধ আসেনি। সারেঙ্গি, হারমােনিয়াম ওঁদের গলার আগুপিছু কথা বলতে বলতে এগােয়।

    কুচকুচে কালাে কাক গরমের দুপুরে তৃষ্ণায় নির্জন কলতলায় গিয়ে হাঁ। করে যা দু-একফোঁটা জল পাওয়া যায়—তাই খাবার প্রাণপণ চেষ্টা করে। তখন কালাে কাকের হাঁ-মুখ দেখা যায়। দগদগে লাল। সবে কাটা আধখানা তরমুজের বুক একদম। ওঁদের গান মানুষের বুকের ঠিক অমন জায়গা থেকে সিধে উঠে আসে।

    এইসব গান যখন কলকাতা দখল করে নিচ্ছে—তখন ট্রাম ইলেকট্রিকে ছুটতে শুরু করল। বড়ােদিনে জয়পুর, মাইশােরের মহারাজারা কলকাতায় বড়ােলাটকে ভেট দিতে আসছেন। গওহরজান একদা খিদমতগার আবদুল্লাকে বুক থেকে নামিয়ে ভিটেছাড়া করতে বি এল মিত্তিরের মতাে ব্যারিস্টার লাগাল। শিশির ভাদুড়ি, সুনীতি চাটুজ্জে মতি শীলের ফ্রি কলেজে এগজামিন দিচ্ছেন। লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করবেনই।

    পুরনাে রেকর্ড আঁতিপাঁতি করে খুঁজি আর চোখ বুজলে সময়টা আবছা দেখতে পাই। চোরবাজার, গােপালনগর, ধর্মতলা—কোথায় নয়। ওঁদের গলার এক-একটি টুকরাে কাজ আমার চোখের সামনে টপাং করে ১৯০৮, ১৯১০, ১৯১৩ লাফিয়ে পড়ে। একদম মুখােমুখি।

    কিশাের কৃষ্ণচন্দ্র ছাদে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে অন্ধ হয়ে নীচে নেমে এল। ওস্তাদ জামিরুদ্দিন তালিম দিচ্ছেন তাঁকে। নজরুল ইসলাম এসে জুটে যাওয়ায় হয়ে গেলেন কৃষ্ণচন্দ্রের গুরুভাই। মেঘ হেরি নীল গগনে। মিস লাইট। কে—

    মল্লিকের রেকর্ড বেরুল। ওই মহাসিন্ধুর… | টকি নিয়ে এল পঙ্কজ, সায়গল, কাননকে। হলুদ গাঁদার ফুল। চব্বিশ বছর বয়সেই ভীষ্মদেব ভীষ্মদেব। জ্ঞান গোঁসাইয়ের ক্ষয়রােগ ধরা পড়েছে। শূন্য এ বুকে পাখি মাের। শচীনদেব আড্ডা দিচ্ছেন গােপালনগর যাবার ব্রিজে উঠতে বাঁ-হাতে গ্রহশান্তি মন্দিরের পাশে বাটার দোকানের লাগােয়া বায়া-তবলার দোকানে। তুমি যে গিয়াছাে..হেমন্ত মুখােপাধ্যায় এই তাে সেদিন বললেন, রাজা বসন্ত রায় রােডে শচীনদা গলা সাধছেন—আমি পায়ের বুড়াে আঙুলে ভর দিয়ে যতটা পারি লম্বা হয়ে ওঁকে দেখার চেষ্টা করছি। যদি দেখা যায়। ফাংশনে গাইতে যাই। পঙ্কজদা এলেন, গাইলেন, চলে গেলেন। আকাশে হেলান দিয়ে। বসে আছি তাে বসেই আছি। কখন ডাক পড়বে। জানি না। এইসব ভাবি আর হাতের বুড়াে আঙুলের নখ দিয়ে বাতাস চুলকে তার ভেতর থেকে সায়গলকে বের করতে চেষ্টা করি। হুইস্কি না খেয়ে গাইলে গানই হয়—

    —এ রকম বিশ্বাস ছিল তার। নাই বা ঘুমালে প্রিয় রজনী এখনও বাকি। রাইবাবু হিন্দিতে কীর্তন গাওয়ালেন তাকে দিয়ে।

    আনােয়ার শা রােড দিয়ে শীতের সন্ধ্যায় যাচ্ছি। রাস্তাটা তখন সরু। নিউ থিয়েটার্স দু-নম্বর স্টুডিওর গেটে সিমেন্ট করা বেঞ্চে বসে পঙ্কজ মল্লিক। গাড়ির অপেক্ষায়। পাড়ার কয়লার উনুনের ধোঁয়া এখানে-সেখানে ঝুলে আছে। ডাক্তার ছবিতে পালঙ্কে বসে পঙ্কজ সেতার বাজিয়ে গাইছেন। গালে দাড়ি। গানটা মনে নেই আর। কেন ভুলে যাই? সেই যে—চরণ ধরিতে দিয়াে—

    গাে আমারে…

    পঞ্চাশ-বাহান্ন বছর আগে গড়িয়াহাটের মােড় ফঁকা ফাঁকা। বড়ুয়ার নতুন নায়ক রবীন মজুমদার পাজামা-পাঞ্জাবির ওপর চাদর জড়িয়ে কী কিনতে এসেছেন দোকানে। সেই আমার কলকাতায় প্রথম আসা। বড়দার হাঁপানির চিকিৎসার জন্যে। এই লােকটাই গায়? কত সহজে একটিন বিস্কুট কিনলেন। টিনটা হাতে নিলেন। হাত কাঁপল না। আমার আঁধার ঘরের প্রদীপ যদি নাই বা জ্বলে…

    স্কুলের নিচু ক্লাসে মফস্বলের ছবিঘরে শরৎচন্দ্রের কাশীনাথে অসিতবরণ গাইছেন। পরে অনেক পরে কলকাতায় মুদিয়ালির মােড়ে র‌্যাম্বলার গাড়ি থেকে অসিতবরণ নামলেন। খাঁচায় বন্দি পাখির সামনে গান—ও বনের পাখি-ই-ই…

    তখনও উত্তম আসেননি। গায়ক-নায়কদের যুগটা প্রায় শেষ। সায়গল নেই। পাহাড়ি সান্যাল আর কবি বিদ্যাপতি হয়ে গান গান না সিনেমায়। রবীন মজুমদার, অসিতবরণ গান থামিয়ে প্রথমে বিকাশ রায়, তারপর উত্তমকুমারকে জায়গা করে দিচ্ছেন। আমি চোখ বুজলে দেখতে পাই কানন দেবী মন খারাপ করে যােগাযােগে ট্রেন ধরতে ছুটে এসেছেন রেলস্টেশনে। মালতীর গন্ধে ভরা…

    গানের এ এক অদ্ভুত ন্যাশনাল হাইওয়ে। রাস্তার দুধারে মােটেলগুলাের নাম এইসব কিন্নর-কিন্নরীর নামে। লালাদ। গওহরজান। সায়গল। জ্ঞান। গোঁসাই। কৃষ্ণচন্দ্র। পঙ্কজ। কানন। রবীন মজুমদার। অসিতবরণ। ভীষ্মদেব। হেমন্ত। শচীনদেব। রােদে পুড়ে যাচ্ছে হাইওয়ে। কৃষ্ণচন্দ্র, সায়গল, শচীনদেব—যেকোনও মােটেলে ঢুকলে শান্ত, গাঢ় ছায়া। মেঘ হেরি নীল গগনে। রজনী এখনও বাকি। তুমি যে গিয়াছাে বকুল বিছানাে পথে…।

    এই ছায়ার খোঁজে ঘুরতে ঘুরতে এমন এমন গলার স্বরের স্বাদ পাই—যা কিনা সেই গান যেদিন গাওয়া হয়েছিল—সেই সময়কার আলাে, বাতাস, গন্ধ, লােকজন, রাস্তাঘাট নিয়ে আসে চোখের সামনে। জন্মের আগের এই পৃথিবী কেমন ছিল। যখন হামাগুড়ি দিচ্ছি তখন। কিশাের ছিলাম যখন। প্রথম যৌবনে। সব—সব দেখতে পাই। এক-একটি গলা সেই বুজে যাওয়া কুয়াে খুঁড়ে বের করে আনে এক-একখানা পৃথিবী। এ-এক অদ্ভুত বাগান। নিজে শরীর থেকে স্বর বের করে ফুল ফোটালাম। নিজে চলে গেলাম একদিন। কোনও চিহ্ন থাকল না। থেকে গেল শরীর দিয়ে ফোটানাে ফুলটা।

    প্রেম যদি না দিলে তাকে…সায়গলের বাকিটা উদ্ধার করা গেল না। ওখানটায় সাত পুরনাে আটাত্তর আর পি এম রেকর্ড ঘষে গিয়ে প্লেন হয়ে গেছে। পিন পিছলে যাচ্ছে। গানের কথা নির্ঘাত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগেকার। এই উনিশশাে ছত্রিশ-সাঁইত্রিশের। তার মানে সায়গলের তখন বত্রিশ-তেত্রিশ বছর বয়স। আমার মা সায়গলের বয়সি। ঠিক বঙ্গভঙ্গের আগে-পিছনে জন্ম। এ গান শুনে মায়ের ভালাে লেগেছিল। আমার বড়াে মেয়ের এখন ওই বয়স। এই গান আমাকে এখন আমার মায়ের যৌবনে নিয়ে গেল। আবার একই সঙ্গে আমার বড়াে মেয়ের যৌবনেও পৌছে যাচ্ছি। এ-এক অদ্ভুত বাগান। যেখানে ফুল ফুটেই থাকে। কখনও ঝরে না। এ-এক অক্ষয় উদ্যান।

    পুরনাে অমৃতবাজার অফিস বাগবাজারে, তার পেছনে শৈলেন মিত্তির থাকেন। পাট কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার বাবা বিলেত থেকে মাছ ধরার ম্যাগাজিন এনে ইজিচেয়ারে শুয়ে শুয়ে পড়েন। এক সময় এরিয়ান ক্লাব গড়ে তুলেছিলেন। তা সেই শৈলেনবাবু মৈজুদ্দিনের পিচবাের্ডের রেকর্ড বাজিয়ে উনিশশাে দুই-তিন সালের ঠুংরি শােনালেন। গাইবার আগে মৈজুদ্দিন খুব সন্দেশ খেতেন। আমি যখন প্রথম বাড়ি করি-বড়াে মিস্ত্রি ছিলেন দেবেনবাবু। তিনি সন্ধেবেলা বাংলা পাকি মদের সঙ্গে আড়াইশাে গ্রাম সন্দেশ খেতেন।

    মৈজুদ্দিনের ঠুংরির টোরকিপ শুনে বেরিয়ে এসে সন্ধেবেলায় বাগবাজারের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবি—এত এত হারিয়ে যাওয়া সব ফুল পুরনাে ভাঙা রেকর্ড হয়ে এই বিশাল কলকাতায় কার কার বাড়ি পড়ে আছে—তা খুঁজে পাব কী করে ? এক জীবনে তাে হবে না। আফসােস। আফসােস। কিছু করার নেই।

    ধর্মতলায় রাস্তার দোকানিদের রেকর্ডের গাদি থেকে পরশপাথর খুঁজি। বেশির ভাগ রেকর্ডে লেখা মুছে গেছে। অমুক বাণীচিত্রে সত্যভামিনী। তমুক বাণীচিত্রে অমুকের ক্ল্যারিওনেট। দরকারি নামগুলােই মুছে গেছে। বাড়ি এনে সাবান ঘষে রেকর্ড প্লেয়ারে চড়াতে সেই সুদূরে আশি-নব্বই বছর পেছন থেকে ক্ষীণ গলা ভেসে আসে। হাতড়াই। ফুলটি একেবারে ঝরে যায়নি। কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে।

    এইভাবেই পেয়ে যাই জহুরাবাই। আমিরবাই কর্নাটকি। মিস পদ্মারানী। যেন সিঙ্গিল লাইনের কোনও পুরনাে রেলস্টেশন। এক সময় গাড়ি যেত-আসত। ডিসট্যান্ট সিগনালটাও আছে। কিন্তু এখন আর ট্রেন দাঁড়ায় না।

    এইভাবেই একদিন লালাদ বড়ালদের বাড়ি গিয়ে হাজির। খুবই অল্প বয়সে মারা যান তিনি। তার তিন ছেলে—জলু বড়াল, গঙ্গু বড়াল, রাইচাঁদ বড়ালও তখন নেই। আছেন লালচঁাদের নাতি-নাতনিরা। দুনিচঁাদ। চাদুদ। দুনিবাবু ধ্রুপদ গাইছেন। থামওয়ালা বাড়ি। ভেতরে উঠান। লালচঁাদের বাবা অ্যাটর্নি ছিলেন। তাঁর বানানাে। মানে একশাে বছরেরও আগে তৈরি এই বাড়ি। ঢুকেই ডান হাতে সিঁড়ি। পায়ে পায়ে উঠি। উঠেই দোতলায় বিরাট অয়েল পেইন্টিং। গত শতাব্দীতে নেপালের রাজার সঙ্গে সারা ভারতের সব শাহেনশা গাইয়ে-বাজিয়ের গ্রুপ ছবি। দাড়ি। পাগড়ি। পায়ে লপেটা। যাকে বলে হ্যান্ডেলবার গোঁফ। কেউ এলিয়ে বসেছেন। একজন মহিলাও আছেন। দুনিৰ্চাদবাবু বললেন, উনি মুস্তরিবাই। কিছুই জানি না। ভয়ে, ভক্তিতে ছবির চারদিকে দৈবী আলাের বলয় দেখতে পাই। বসবার ঘরখানি লাগােয়া। তার একদেওয়াল জুড়ে বিশাল আয়না। দুনিবাবু বললেন, ড্রেসডেনের। মল্লিক প্যালেসের সিলিং থেকে ঝুলে থাকা ঝাড় দেখেছি। তাও ড্রেসডেনের।

    আয়নার পাশেই বাঁধানাে ফটোতে জলু বড়াল বসে তবলা বাজাচ্ছেন। বিরাট গোঁফ। বাড়িটি ফাঁকা। এই বাড়ি থেকে এক সময় কয়লার উনুনের ধোঁয়ার মতােই সুর বেরুত। দুনিবাবু জানালেন, তিনি নিখিল বঙ্গ বাঈজি সমিতির সভাপতি। বুঝলাম, দুনিৰ্চাদবাবু গানের বাগানেই থাকেন। ফুল দেখেন। গন্ধ পান। নিজেও সুবাস ছড়ান।

    এইভাবে একটু-একটু শােনা, একটু-একটু পাওয়া, একটু-একটু দেখা আর একটু-একটু ভাবা নিয়েই আমার ঝােলা ভর্তি হচ্ছিল। আবার আহ্লাদ—আনন্দ গানটি গাওয়ার সময়কার বাতাসে, আলােয়, গন্ধে চলে যাওয়া। হাতড়ে হাতড়ে ধরে ফেলা। রাস্তাঘাট। লােকজন। তখনকার শীতের গরম শিঙাড়া ভেঙে তার ভেতরকার ফুলকপির গন্ধ, ফিকে সবুজ উঁটি। গােলাপ হয়ে উঠুক ফুটে তােমার রাঙা কপােলখানি….

    একদিন দুপুরে রাস্তার পিচ গলে গেছে। গােপালনগরের মােড়ে পুরনাে ফার্নিচারের কেনাবেচা রাস্তার দিকে। শুড়ি গলি ধরে ভেতরে গেলে দেখা যাবে দড়ির মাচা করে পরেপ্পর মানুষ ঘুমােচ্ছে। এরা কি সারা রাত জেগে চুরি করে ? টালির ছাদ অবধি দড়ির খাটিয়া ওপরের দিকে উঠে গেছে সাত থাক। সেখানেই পুরনাে বাতিল জিনিসের কারবার।

    ঘাঁটতে-ঘাঁটতে পেয়ে যাই নার্স সি সি বাণীচিত্রে অসিতবরণ। ছবিটি দেখা। নায়িকা ছিলেন ভারতী। তিনিই নার্স সেজেছিলেন। সে পঞ্চাশ বছরেরও আগে। বাড়ি ফিরে সাবান দিয়ে ভালাে করে ধুয়ে বাজাই। তিন মিনিটের জন্যে উনিশশাে তেতাল্লিশ ঝাপিয়ে পড়ে। নিখাদ ভালােবাসার গান। তাতে দেশভাগ নেই। পেনিসিলিন নেই। সে এক অক্ষয় উনিশশাে তেতাল্লিশ।

    ঘুরে ঘুরে দেখি। কোনও দোকানে অসিতবরণ নেই। রবীন মজুমদার আছেন। অসিতবরণ নেই। কোনও এল পি নেই। কোনও ক্যাসেট নেই। খুব কষ্ট হয়। প্রতিশ্রুতিতে পাহাড়ি সান্যালের সেই ছােটোভাই অসিতবরণ। খােলামেলা গলা। একদিন রেডিওতে শুনলাম ওকে—

    আয়িরে আমিরে মেরে বাগিয়ামে

    কুকে কোয়েলিয়া বৈরী বসন্তি আয়িরে—

    কুকে কোয়েলিয়া। কোকিল ডাকছে। সত্যিই গলায় বসন্ত এসে ভর করেছে অসিতবরণের। এই তাে সেই অক্ষয় ফুল। গানের বাগানে।

    কোথায় অসিতবরণ ! কোথাও পাওয়া যায় না তাকে। কোনও গানের দোকানে তিনি নেই। তার গলায় বসন্ত যেন যৌবনে পৌছল। খনখনে, খােলমােলা, ভঁটো দেখতে মানুষটি।

    একদিন দেখা পেলাম মানুষটির। ব্যাগ হাতে সকালবেলা বাজার করতে যাচ্ছেন। ওঁর পাড়াতেই তখন বাড়ি ভাড়া নিয়ে উঠে এসেছি। মাথা সাদা-কালাে। একদিন কথায় কথায় সিনেমার কথা বলতে যাচ্ছিলেন। গানের কথাও। মাঝখানে থেমে পড়লেন হঠাৎ। কী হবে এসব কথা বলে!

    হিন্দিতে ওঁর একটা জানা গান গাইবার চেষ্টা করি—

    ম্যায় জান গয়া

    পহেচান গয়া

    তুনে মুঝে পুকারা—আ

    আমাকে শুধরে দিয়ে তিনি নিজেই গেয়ে উঠলেন। ওঁরই পুরনাে রেকর্ডে শােনা গান। গলা এখন আর তেমন নয়। গান থামিয়ে বললেন, হিন্দিতে আমার হিরাে হওয়া এগােল না।

    কেন? | ডিস্ট্রিবিউটররা বললেন, আমার হিন্দি উচ্চারণে ত্রুটি আছে। সত্যি? সত্যিই কি হিন্দি উচ্চারণে ভুল আছে আমার?

    চুপ করে থাকি। আমি কী করে বলব? শেষে বলি, গান শুনেছি রেকর্ডে। আমার তাে ভালাে লাগে।

    হবেও বা! কে জানে? বলতে বলতে বাজারে চলে গেলেন তিনি। সিনেমা। গানের জগৎ। কিছুই জানি না। নানা কাজের ভেতর ভুলতে পারি না—ওঁর কেন কোনও রেকর্ড নেই? ক্যাসেট নেই? সবাই ভুলে গেল? গানের বাগানে ফুটে থাকা এই অক্ষয় ফুলটির কথা কেউ জানবে না ? কোথায় কোন অজানা বাড়িতে ধুলাের ভেতর কোনও একখানা ভাঙা রেকর্ডে হয়তাে উনি পড়ে আছেন।

    কাগজ খুলে একদিন দেখি তিনি নেই। শেষকৃত্যও হয়ে গেছে। ওঁর এক ছেলে আমাকে একখানি শ্রাদ্ধের চিঠিও দিয়ে গেলেন। আমাকে দেখেছেন তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলতে। সেই সুবাদে।

    তারপর আস্তে আস্তে সব চুকেবুকেও গেল। দু-একটা বছরও ঘুরে গেল। আমিও ভুলে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কী খেয়াল হল। ওঁর বাড়িতে তাে ওঁর রেকর্ড থাকতে পারে।

    বাড়িতে বড়াে ছেলে ছিলেন। সুদর্শন। জানতে চাইলে তিনি বললেন, না। বাবার কোনও রেকর্ড নেই। উনি নিজেই রাখতে দিতেন না শেষ কয়েক বছর।

    যা ছিল বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

    কার কাছে? তা তাে বলতে পারব না। কোথাও নেই ? কারও কাছে থাকতে পারে, সে তাে আমরা জানি না। রেকর্ড কোম্পানিতে? ওদের কাছে মাস্টার টেপে ধরা আছে হয়তাে। আছে কি? ঠিক জানেন? তা বলতে পারব না। হয়তাে নষ্ট হয়ে গেছে। একবার দেখুন না— কী হবে দেখে? আমি টেপ করে নিতাম। নিয়ে কী করবেন?

    শুনতাম। ওঁর গান খুব ভালাে লাগে। ওই গান শুনলে ওঁর গাওয়ার সময়টার স্বাদ পাই। সেই সময়ের গন্ধ পাই। সময়টাকে দেখতে পাই।

    বড়াে ছেলে মধ্যবয়সি। সংসারধর্মের একেবারে মাঝখানে। আমার মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেন।

    একদিন ওঁর বাড়ি গিয়ে কয়েকখানা ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটও দিয়ে এলাম। দেবার সময় জানতে চাই, খোঁজ নিয়েছিলেন?

    এই নেব। এখনও নেওয়া হয়ে ওঠেনি। একমাস দু-মাসের ফাক দিয়ে প্রায়ই যাই। কখনও দেখা হয়। কখনও হয় । এক-একবার মনে হয় আর যাব না। কেন এই বিরক্ত করা ? কবে কোন আমলে নায়ক ছিলেন! কবে কোন যুগে গায়ক ছিলেন !! এখন মানুষটাই নেই। তাঁকে নিয়ে এই বাড়াবাড়ি করা কেন? হয়তাে ওঁদের এই গায়ে পড়া ভাব ভালাে লাগছে না। মুখে বলতে পারছেন না চক্ষুলজ্জায়।

    প্রায় হাল ছেড়ে দিয়ে একদিন গেছি। ঠিকই করে ফেলেছি, এই শেষ। আর যাব না। ওঁর বড়াে ছেলে হাসতে হাসতে বললেন, আপনার ভাগ্য ভালাে। মাস্টার টেপ আছে। নষ্ট হয়নি।

    আমার চোখ বােধ হয় জ্বলে উঠেছিল। আনন্দে। উৎসাহে। বললাম, তবে তাে খুব ভালাে কথা। চারটে ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেট দিয়ে গেছি। যতগুলাে গান পারেন তুলে আনবেন। একটু কষ্ট করে।

    আবার সেই যাই আর আসি। বড়াে ছেলে বাড়ি নেই। কিংবা তিনিই বলেন, যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এইবার যাব। ভাবি, তীরে এসে নৌকো ডুববে? সেই খােলামেলা—তাজা বসন্তের সঙ্গে দেখা হবে না? যে বসন্তের আলাদা সুবাস। যার ক্ষয় নেই। নিজের সময়কে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অটুট। শুধু বালি খুঁড়ে ফন্তুর সঙ্গে দেখা হওয়া বাকি।

    গায়ক-নায়ক তার সময়ে এই বাড়িটি করেন। দোতলা। বড়াে বড়াে ঘর । আশপাশে এখন অনেক বাড়ি উঠে গেছে। একদিন সন্ধে-সন্ধে যেতেই বড়াে ছেলে বললেন, হয়ে গেছে আপনারটা—

    আমার বুক ঢিপঢিপ করতে থাকে। মনে মনে বলি, শুধু আমার কেন? আপনারও তাে।

    দোতলায় মাঝের ঘরটি বড়াে। বিরাট তক্তপােশে ক্যাসেট প্লেয়ার। পাশে আমার দেওয়া ব্ল্যাঙ্ক ক্যাসেটগুলাে।

    তক্তপােশে ওঁর বড়াে ছেলে বসতে যাবেন। স্কুলের দু-তিনটি বড়াে ছেলে এগিয়ে এল। সঙ্গে সবে শাড়ি ধরা একটি মেয়ে। ভদ্রলােক বললেন, এই তােমরা কিন্তু গােলমাল করবে না। ওদিকে মা ঠাকুরঘরে এখন—

    বাবা। না বাবা—

    মার তাে খেয়ালই হয়নি। এই অক্ষয় যৌবনের সাক্ষী অসিতজায়ার সঙ্গে তাে কোনওদিন দেখা হয়নি। মুখে বললাম, আপনাদের মা—

    হ্যা আমাদের একটি বােন ছিল। মােটর অ্যাকসিডেন্টে বিয়ে হয়েছিল?

    হা। তারপর থেকেই মা-বাবা দুজনেই—

    হঠাৎ ক্যাসেট বেজে উঠল। বড়াে ছেলে বললেন, শুধু একটা ক্যাসেটের মতাে গান জোগাড় করতে পেরেছি। মাত্র একখানাই মাস্টার টেপ ভালাে আছে

    এখনও।

    মনে মনে বলি, তাই বা কম কী ?

    এগুলাে বাবা সব হিন্দি ছবিতে গেয়েছিলেন বাংলা পাইনি।

    ততক্ষণে ঘর ভরে গেছে। সেই সব অক্ষয় ফুলের সুবাসে। স্কুলপড়ুয়া ছেলে দুটি কোনওদিন এসব গান শােনেনি। বােঝাই যাচ্ছে। ওরা কান খাড়া করে সবটুকু মাথায় শুষে নিতে চাইছে।

    মতােয়ালে

    নয়নােসে ও দিলকো

    যারাসা খাে গয়ে—এ—এ

    শাড়িপরা মেয়েটি মুখ তুলে তাকাল। চোখদুটো আচ্ছন্ন। হয়তাে কলেজে ঢুকেছে। কোনওদিন যে এসব গান শােনেনি বােঝাই যাচ্ছে। তার ঠোট ফেটে বেরিয়ে এল—দাদু এত ভালাে গাইতেন?

    চোখ তুলে তাকাই। বলতে যাব—নিজের দাদুর গলা শােননি? কিন্তু মেয়েটির মাথার পেছনে দূরে আরেকখানি মুখ। ঘরের লাগােয়া করিডরে তিনি এইমাত্র এসে দাঁড়ালেন। চোখে চশমা। মুখে হাসি। যেন অনেকদিনের চেনা কাউকে দেখতে পেয়ে অল্প হেসে এইমাত্র তাকালেন। পরনে সাদা থান।

    —

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসেরা ৪৫ – সায়ক আমান
    Next Article সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }