Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প379 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইতিহাসােমিটার

    ১। আওরঙ্গজেব কি হিন্দুদের দেখতে পারতেন?

    ২। না, তার বড়াে ভাই—শাহজাদা দারাশুকো হিন্দুদের পাল টানবেন বলেই আওরঙ্গজেব হিন্দু-বিদ্বেষী হয়ে পড়েন?

    ৩। কিংবা, শাহজাহান বাদশা বড়াে ছেলে দারাশুকোর পাল টানতেন বলেই সেজো ছেলে আওরঙ্গজেব দারা-বিদ্বেষী হয়ে পড়েন?—সেই দারা হিন্দুদের পাল টানতেন বলেই পরিণামে আওরঙ্গজেব হিন্দু-বিদ্বেষী?

    ৪| দারা হিন্দুদের পাল টানতেই বলেই মৌলবি-উলেমারা আওরঙ্গজেবের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে ওসকাতে শুরু করেন! আওরঙ্গজেব তাই দারা আর হিন্দুদের দেখতে পারতেন না। নয়তাে হিন্দুদের ওপর আওরঙ্গজেবের এমনিতে কোনও বিদ্বেষ ছিল না।

    ৫। তিনি একবারই প্রেমে পড়েন। সেই প্রেয়সী হিন্দু-হীরাবাঈ। আওরঙ্গজেব সারা জীবনে মাত্র দুবার মদের গ্লাস হাতে নেন। একবার ছােটো ভাই মুরাদকে ভুলিয়ে বন্দি করার জন্যে। আরেকবার হীরাবাঈয়ের তুলে ধরা সরাবের গ্লাস আওরঙ্গজেব হাতে নেন—ফিরিয়ে দিতে পারেননি। তাতেই হীরাবাঈ মুগ্ধ। তিনি বলেছিলেন—থাক শাহজাদা। তােমাকে খেতে হবে না। হাতে নিয়েছ এই যথেষ্ট।

    ৬। আসলে সবকিছুই ঘুরছিল একটি জিনিসকে ঘিরে। তা হল হিন্দুস্থানের বাদশার মসনদ। এই মসনদকে ঘিরে শাহজাদা দারাশুকো, আওরঙ্গজেব, বাদশা শাহজাহান, সংখ্যাগুরু হিন্দু সমাজ ও ধর্ম, যােদ্ধা রাজপুত সামন্তরাজার দল, | মৌলবি-মৌলানাদের রাজধর্ম ইসলাম, মুঘল ফৌজ এবং তাগদ যেন গােল্লাছুট

    খেলছে। আসলে কহানি মসনদকা!

    ৭| সবকিছুরই শেষ তাগদ। ঘােড়সওয়ার, কামান, ফৌজ। তাগদের চশমায় চোখ রেখে আওরঙ্গজেব হিন্দুস্থানের মসনদের দিকে তাকিয়েছেন। তাই দরকার মতাে তিনি হিন্দু-বিদ্বেষী। আবার দরকার মতাে হিন্দুপ্রেমিকও। তাই মীর্জা রাজা জয়সিংকে একসময় দামি একখণ্ড হিরে আর একটি শাহি হাতিও তিনি ভেট পাঠিয়েছেন।

    এই সব যুক্তির ভেতর রাস্তা হারিয়ে ফেললেন অমল পালিত। নিজের স্টাডিতে বিরাট সেকরেটারিয়েট টেবিলে সাদা কাগজ সাজানাে। তার পাশে তিন চারটে ভালাে কলম। একটি ডট পেন। তিনি কোশ্চেন করে থাকেন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইতিহাস অনার্সের। বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিসে তিনি এগজামিনারও থাকেন।

    বিধানসভার ভােটে একবার একটা বড়াে দল তাঁকে তাদের ক্যান্ডিডেট করতে চেয়েছিল। তিনি দাঁড়াননি। কারণ, ডক্টর পালিত তখনাে জানতেন—তিনি একজন প্রতিভাবান মানুষ। প্রতিভা কখনাে ভােটে দাঁড়ায় না। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আগাগােড়া প্রথম। তখন থেকেই পরীক্ষায় মাঝারি বা খারাপ করা মানুষজন তাঁকে একজন প্রতিভা হিসেবে সম্ভ্রম দেখাত। কেন না তিনি স্বল্প বয়সেই রেজাল্টের জোরে ভালাে ভালাে মাইনের চাকরি, সম্মান পেতেন। একদিন যেদিন টের পেলেন—তিনি কিছু জিনিস মুখস্থ করে অন্য সবার চেয়ে তা ভালাে করে পরীক্ষার খাতায় গিয়ে ঢেলে দিতে পারেন—মানে ক্র্যামার্স ওয়ার্ল্ডে—মুখস্থ শক্তির দুনিয়ায় তিনি সবার সেরা—আর সে জন্যেই তিনি লােকমুখে সেরা ছাত্র—প্রতিভাধর—কিন্তু মানুষ কী করে আবিষ্কার করে, ভাবে, বানায়—তা তিনি জানেন না—তখন তিনি জানালেন, তাঁর কোনও দৃষ্টিকোণ কিংবা দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠেনি—যার জোরে কোনও কিছুকে নিয়ে তিনি মৌলিক কোনও কথা বলতে পারেন।

    যেমন—একটি মেয়েকে সুন্দর লাগে কেন? অন্য মেয়ের চেয়ে ? তিনি ভেবে দেখলেন—শুধুই সুষম হাত পা নাক চোখ মুখ নয়—গায়ের চামড়ার টেক্সচার কিংবা মাথার চুল নয়—আরও কিছু। এই আরও কিছু আসলে কী? যে দেখছে—তার মনের মাধুরী ? মেয়েটির হাসি? গলার স্বর ? ভঙ্গি? উপরন্তু মেয়েটির মত? তার মাথার ভেতরকার পড়াশুনাে, দেখার জগতের দিগন্ত ?

    ডক্টর পালিত ন্যাশানাল প্রফেসর হবেন। এমনিতেই খুব অল্প বয়সে তিনি প্রফেসর হন। তারপর ইউ জি সি স্কেল টেলের একেবারে শেষধাপে তিনি অল্প বয়সেই পৌছে যান। এই সরকারি ফ্ল্যাটবাড়িটি বেশ বড়াে। সামান্য ভাড়া। নিয়েছেন সেই তিরিশ বছর আগে। এখন সকালবেলা। স্ত্রী মানসী এবার ঘুম থেকে উঠে তাঁকে চা দেবেন। ফাঁকা, নির্জনে ড. পালিত কোশ্চেন করতে বসেছিলেন। ক-দিনের ভেতরেই পেপার সেট করে ইউনিভার্সিটিতে জমা দিতে হবে।

    ছেলেমেয়েরা বড়াে হয়ে যে-যার কাজের জায়গায়। মেয়েরা শ্বশুরবাড়ি— ছেলেরা চাকরিতে। জব্বলপুর, জামশেদপুর, কানপুর, ফতেপুর, হাজিপুর, মেদিনীপুর, দুর্গাপুর ইত্যাদি জায়গায় ছড়িয়ে।

    ডক্টর পালিত জানেন—এখুনি ঘুম থেকে উঠে মানসী খুব সন্ত্রমভরে তাঁর টেবিলে চায়ের কাপ এনে রাখবে। কারণ, তিনি একজন বড়াে প্রফেসর। কোশ্চেন করেন। থিসিসের এগজামিনার। আগাগােড়া ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। আগে বাংলা ছায়াছবির ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট নায়করা ল পড়তে যেত। ভাবী শ্বশুরকে সন্ত্রমভরে নুয়ে পা ছুঁয়ে প্রণাম করত। সেরকম সম্ভ্রম নিয়েই ডক্টর পালিত খানিকবাদে মানসীর হাত থেকে চায়ের কাপ নিয়ে মানসীর মুখে তাকাবেন। হাজার হােক মানসী একজন প্রতিভাধর ফার্স্ট ক্লাস ফাস্টের নিজের বউ। ড. পালিত মনে করার চেষ্টা করলেন—তিনি যে একজন সেরা, প্রতিভাধর এই কথাগুলাে কবে থেকে তাঁর মাথায় ঢােকানাে হয়েছে। আমি কোনওদিন কোনওকিছু আবিষ্কার করিনি। একটা গানের সুর দেওয়া, একজন হতাশ মানুষকে তার জীবনে বিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা ভালােবাসা আর ধৈর্যের ভেতর সমঝােতা এনে দেওয়ার মতাে কোনও কাজ আমি কোনওদিন করিনি। টেলিফোন, রেডিও, গ্রামােফোন আবিষ্কার তাে দূরের কথা। আমি মুখস্থ রাখতে পারি। আর সেসব কথা পরীক্ষার খাতায় ঢেলে দিতে পারি। আমার যতদূর মনে পড়ে—আমার ছােটোকাকি আর বড়ােজেঠি আমার মাথায় ঢুকিয়ে দেন—আমি সেরা—আমি প্রতিভাধর। সেইসঙ্গে যােগ হয় আমার অল্পবয়সে রেজাল্টের জোরে ভালাে চাকরি পেয়ে যাওয়া। অনেক পরে ডক্টর পালিত জানতে পারেন—ছােটোকাকি টায়েটোয়ে বি-এ। বড়ােজেঠি একবার কম্পার্টমেন্টাল।

    আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি নিয়ে কোশ্চেন করতে গিয়ে ডক্টর পালিত ক-দিন ধরেই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আওরঙ্গজেব পড়ছেন। যতই পড়ছেন ততই অবাক হচ্ছেন। আগে তাে এভাবে তিনি আওরঙ্গজেবকে দেখেননি।

    সেইসব কথাই সাজিয়ে সাজিয়ে ভাবতে গিয়ে অমল পালিত ওইসব যুক্তির ভেতর রাস্তা হারিয়ে ফেলেছেন। বেশ বড়াে ঘর। দোতলা থেকে সামনের বড়াে রাস্তা দেখা যায়। এঘরেই ডক্টর পালিতের শােওয়া-বসা, খাওয়া-দাওয়া, লেখাপড়া—ঘুমােনাে। টেবিলেই একটা খুদে ট্রানজিস্টর। ভাের ভাের বি-বি-সি-নয়তাে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা খবর শুনে থাকেন ডক্টর পালিত। খবরগুলােকে তাঁর মনে হয়—ভবিষ্যতের ইতিহাসের ছােটো ছােটো ধরতাই—বা, আগাম সিনপসিস।

    খুব ছােটোবেলায় মামার বাড়িতে প্রায় পঞ্চান্ন বছর আগে আলমগির যাত্রা দেখেছিলেন বালক অমল পালিত। আওরঙ্গজেব কিল্লা কান্দাহার অবরােধ করে দুর্গের সামনে দাঁড়িয়ে। সেই অবস্থায় হঠাৎ নিজের মাথার চুল দুই খাবলা খামচে ধরে চেঁচিয়ে উঠলেন আলমগির। দারা! দারা! সর্বক্ষণ দারা। বড়েভাই দারাশুকোর কথা ছাড়া আর কি কোনও কথা নেই? হিন্দুস্থানের বাদশা শাহজাহানের পহেলা শাহজাদা দারাশুকো—আমার বড়েভাই দারাশুকো! তােমাকে ছাড়া আর কোনও চিন্তা নেই আমার ? শুধু এক চিন্তা–দারা। দারা আমায় সর্বক্ষণ কুরে কুরে খায় কেন? আমিও তাে বাদশা শাহজাহানের ছেলে। আব্বা হুজুর শাহজাহান। আপনি শুধু আপনার দারাকে ভালােবাসবেন? আপনার আওরঙ্গজেবকে ভালােবাসবেন না?

    ডক্টর পালিতের গলিপথে আলমগির মিলিয়ে যান। তাঁর মনে হয়—আমি কীসের ইতিহাসের প্রফেসর ! এই ডায়ালগ ভেবে নিয়েই তাে আমি ইতিহাসের গবেষণার ছায়াঢাকা পথে ঘুরতে ঘুরতে এই সত্য আবিষ্কার করতে পারতাম পিতার অবহেলায়-অন্যায় পক্ষপাতিত্বে—ভালােবাসাহীন বঞ্চনায় আওরঙ্গজেব নামে শাহজাদা—হিন্দুস্থানের ভবিষ্যৎ বাদশা, আলমগির নিজেকে কোণঠাসা ভেবে দিনে দিনে দারার দুশমন হয়ে উঠেছেন—আর সেই দারা হিন্দুদের পাশ টানেন বলেই তিনিও হিন্দু-বিদ্বেষী হয়ে পড়েছেন। নয়তাে এই আওরঙ্গজেবই জৈনমন্দির চিন্তামন ভেঙে মসজিদ করলেও—মথুরায় কেশব রায়ের মন্দির ভাঙলেও—ধর্মচর্চার জন্যে নিষ্কর জমি দিয়ে জৈনসাহিত্যে—হিন্দুসাহিত্যে অজস্র প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আমি মুখস্থ করে প্রতিভাধর হয়েছি! প্রফেসর হয়েছি! আমি যদি সত্যিই প্রতিভাধর হতাম—তাহলে গ্রাহামবেল, টমাস আলভা এডিসনের মতাে ইতিহাসের প্রকৃত সত্য উদ্ধারের জন্যে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিকোণ দিয়ে—উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটা ইতিহাসমিটার কি আবিষ্কার করতে পারতাম না?—যা কিনা আওরঙ্গজেবের মন্দির ভাঙার আসল কারণ কিংবা মুঘল দরবারে ফারসি জানা হিন্দু কবিদের মাসােহারা বন্ধ করে দেওয়ার ঠিকঠাক কারণ খুঁজে বের করতে পারত।

    আসলে ভারতে রেলপথ আর বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজরা কাছাকাছি সময়ে বসায়। দুটোরই বয়স প্রায় দেড়শাে। এই এতগুলাে বছরে কত ছাত্র ট্রেনে চড়ে যে যার জায়গায় ভুল শিখে চলে গেল। এই এতগুলাে বছরে কত কত ছাত্রী বি-এ পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে যার জায়গায় ভুল শিখে চলে গেল।

    এই দেড়শাে বছরে কত কত মুখস্থে-ওস্তাদ প্রতিভাধর প্রফেসর সহজ সরল করে ছাত্রীদের আর ছাত্রদের বুঝিয়ে দিলেন—আওরঙ্গজেব হিন্দু-বিদ্বেষী ছিলেন। সেই সব ছাত্র—সেই সব ছাত্রী তাদের সারা জীবন ধরে সমাজের শরীরে দেড়শাে বছর ধরে তাদের ভুল শেখাটা ছড়িয়ে দিলেন—আওরঙ্গজেব হিন্দু-বিদ্বেষী ছিলেন!

    আর! যদি একটা ইতিহাসসামিটার থাকত! থাকলে জানা যেত মুঘল যুগে মুঘলরা কি জুতাে পায়ে দিতেন। জানা যেত বাদশা-বেগম নূরজাহান সত্যিই কি লাহােরে মারা যান? সারা ইতিহাসে এর কোনও সঠিক হিসেব নেই। দেড়শাে বছর ধরে মুখস্থে-ওস্তাদ আমাদের প্রতিভাধর প্রফেসররা তাহলে কী করলেন ? শুধুই মাস মাইনে, সপ্তাহে আটটা। ক্লাস আর বছরে পাঁচ মাস ছুটি? তার বদলে তারা কোনও দৃষ্টিকোণ বা দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারেননি—যা দিয়ে কল্পনার ময়ামে তাঁরা ইতিহাসের ছায়াঢাকা পথে অতীত থেকে খাঁটি সত্যিকে তুলে আনতে পারতেন। এ জন্যেই দরকার ছিল একটা ইতিহাসােমিটারের।

    ডক্টর পালিত এইসব ভাবতে ভাবতেই একটা গেঞ্জি গায়ে দিলেন। তারপর একটা পাঞ্জাবি চাপালেন। হেমন্ত যায় যায়। ভাের ভাের বাতাসে হিম থাকে। হেঁটে আসবেন কিনা ভাবছেন—এমন সময় দেখলেন—তার ঘরের কোণে প্রায় বাঘের সাইজের একটা কালাে বেড়াল বসে। লেজ গুটিয়ে। রীতিমতাে লজ্জিত ভঙ্গিতে। কিন্তু মুখে-মুখের গোঁফে ঝাপিয়ে পড়ার চতুর হাসি।

    ক-দিন ধরেই এই অতিকায় কালাে বেড়ালের সঙ্গে ডক্টর পালিতের দেখা হচ্ছে। ঠিক পড়ার টেবিলটার গায়ে ঘরের কোণে ও লাজুক মুখে বসে থাকে। তিনি কয়েকবার যাঃ! যাঃ! বলে চেঁচিয়ে তাড়াবার চেষ্টা করেছেন। পাশের ঘর থেকে মানসী ছুটে এসেছেন। কাকে তাড়াচ্ছেন? ডক্টর পালিত আঙুল দিয়ে কালাে বেড়ালটাকে দেখাতে গিয়ে দেখেছেন—বেড়ালটা সেখানে নেই। হাওয়া। আসলে শুধু তিনি একাই ওকে দেখতে পান। কাউকে দেখাতে পারেন—

    ডক্টর পালিত হাঁটতে না বেরিয়ে ফের তাঁর চেয়ারে বসলেন। সাদা কাগজগুলাে কোশ্চেনের জন্যে তাঁর দিকে তাকিয়ে। পাশেই কলম, ডটপেন।

    মুঘল যুগের নানান ইতিহাস। বায়ুনি। কাফি খাঁ। লেন-পুল। যদুনাথ। ভিনসেন্ট স্মিথ। ঈশ্বরী প্রসাদ। নুমানী সিবলির লেখা ঔরঙ্গজিভ পর এক নজর। আওরঙ্গজেবের ওপর ষােলাে নম্বরের একটা কোশ্চেন করতে গিয়ে এই শীত ভােরে বিশাল এক টানাপােড়েনের ভেতর পড়ে ডক্টর পালিতের ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ার দশা। কোনদিকে যাবেন তিনি? আওরঙ্গজেব হিন্দু-বিদ্বেষী? না, বাবা শাহজাহানের দারার দিকে একচোখেমির দরুন সেই দারা হিন্দুদের বাঁচিয়ে চলায় আওরঙ্গজেব হিন্দু-বিদ্বেষী হয়ে পড়েন? |

    তারপর তাে ছিল আকবরের আমলের সুলহ্-ই-কুল—সর্বধর্মে সহিষ্ণুতা—যা কিনা সামাজিক ন্যায় বিচারকে আশ্রয় করে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল। তাকে বিদায় দিতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন কাঠ মােল্লারা। তারাই মসনদের ওপর আওরঙ্গজেবের দাবি জোরদার করতে তাঁকে হুইসপার ক্যাম্পেন চালিয়ে ইসলামের ভরসা—জিন্দা পির করে তােলে।

    মুঘলরা তাে তাগদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাইতাে জানেন ডক্টর পালিত। ঘােড়া দাবড়ে, কামান দেগে, হাতি চালিয়ে তারা তাদের জয়ের ইচ্ছা, ভােগের। খােয়াব, দখলের মুঠো সফল করেছেন। তারা তাে নিয়তিকে বিশ্বাস করতেন—

    হিন্দুকুশ পাহাড়, উসুরি নদী, সমরখন্দ, তৈমুরাবাদ পেছনে ফেলে খাইবার গিরিপথ দিয়ে ওদের আসা। পথে গজনি, হিরাট, কান্দাহার। হেলমন্দ নদী। ঘােড়া, কামান, তােপ। হিন্দুস্থানে এসে মুঘলরা হাতির প্রেমে পড়ে গেলেন। কতরকমের হাতিদের চর্চা। জাহাঙ্গির হাতিদের আলানসঙ্গিনীর ব্যবস্থাও করেছিলেন। সরাব তাে তাদের খাওয়াতেনই। ঠিক লড়াইয়ের সময়।

    হাতির সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি হিন্দুস্থানি অভ্যেস তাদের হল। নিয়তিতে ভরসা। তাইতাে দারার জন্মের ছ-দিনের মাথায় শাহজাহান বাদশা ছেলের কপালে দুর্ভাগ্যের চিহ্ন দেখতে পান। গণতকার তাকে বলেন, আপনার—

    যে-ছেলেটি গৌরবর্ণ সে-ই হবে মুঘল বংশের পতনের কারণ। বাদশা তাই। তিসরি শাহজাদাকে তার ছােটোবেলায় শ্বেত-সাপ বলে ডাকতেন। এটাও কি বাবার জন্যে আওরঙ্গজেবের মনে বিষ জমে ওঠার কারণ? শাহজাহান কি নিজের জীবনের বিদ্রোহী দিনগুলাের ছায়া এই ছেলের ভেতর দেখতে পেতেন? পেয়ে শিউরে উঠতেন? তাই এই বিজ্ঞপ্তি ? সব ক্ষমতার ভেতরেই বিদ্রোহের বীজ থাকে।

    কী কোশ্চেন করব? প্রফেসর অমল পালিত ভাবলেন—এমন কোশ্চেন হতে পারে—আওরঙ্গজেব আদৌ হিন্দু-বিদ্বেষী ছিলেন না। হিন্দুস্থানের মসনদকে ঘিরে তাগদের খেলায় তাকে হিন্দু-বিদ্বেষী না হয়ে উপায় ছিল না। কেননা, তা নাহলে তিনি দারার দুশমনদের সাহায্য পেতেন না।—এলুসিডেট।

    ডক্টর পালিত জানেন—আসলে সেই সময়টা ছিল ধর্মে বড়াে বড়াে বিপ্লবের সময়। সেটা ছিল হৃদয় আর সমর্পণের যুগ। হিন্দুস্থানের পথে পথে আউল বাউলের গান। সুফি সাধকদের দিন। সন্ন্যাসী দরবেশদের ঈশ্বর খুঁজে বেড়াবার সময়।।

    এক দরবেশ তাে গেয়েই বসলেন—

    হিন্দু কহে শােন হাম বড়ে

    মুসলমান কহে হাম।

    এক মুঙ্গ-কা দো খান্দ হৈ

    কুন জিয়াদা কুন কাম ৷

    তবে কি প্রশ্নটা এমন করা যায়—আকবরের আমলের হিন্দুয়ানির ব্যাকল্যাস আওরঙ্গজেবের উদ্ভব ?

    নানারকম যুক্তির ভেতর ডক্টর পালিত দিশেহারা হয়ে পড়লেন। তিনি দেখলেন—তিনি সহজ, সরল, সিধেভাবে আওরঙ্গজেবকে হিন্দু-বিদ্বেষী বলতে পারছেন না। তবে কি আমারও একটা দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠছে? দেড়শাে বছর ধরে রেলের বয়সি বিশ্ববিদ্যালয় কয়েক লক্ষ বি. এ. পাশ লােককে বুঝিয়েছে—আওরঙ্গজেব হিন্দু-বিদ্বেষী। তাই বুঝে নিয়ে তারা সমাজের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে ফল যা হবার তাই হয়েছে।

    প্রফেসর পালিত দেখলেন, তিনি কিছুতেই আওরঙ্গজেবকে নিয়ে কোনও কোশ্চেন করতে পারছেন না। এবার মানসীর ঘুম থেকে ওঠার সময় হয়ে এল। তিনি ঘরের কোণে তাকাতে সাহস পেলেন না। কেননা, তাঁর দেখা। অতিকায় কালাে বেড়ালটাকে তিনি এখন দেখতে পেলেও—মানসী উঠে এসে ওকে কিছুতেই দেখতে পাবে না। এ এক আশ্চর্য কালাে বেড়াল। লাজুক অথচ হিংস্র। ঠিক এই সময় টেবিলে রাখা খুদে ট্রানজিস্টরটা বেজে উঠল।

    ভয়েস অব হিন্দুস্থান।

    আজ অল হিজরি ১১১৬ সন সােমবার ১২ই জিলকাদা বাংলা সন ১১১৪-১৭ই চৈত্র।

    ইসাহি ১৭০৭-২৬শে মার্চ।

    জাহানাবাদ-দিল্লি থেকে বলছি : গতরাতে দৌলতাবাদে বাদশা আওরঙ্গজেবের এন্তেকাল হয়েছে। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইল্লা ইলাহে রজেউন। তুমি যে পথে যাচ্ছাে আমরাও সেই পথের অনুগামী। আল্লা আমাদের বিপদ থেকে রক্ষা করুন। তার বয়স হয়েছিল ৮৯। আকবর বাদশার মতােই তিনিও প্রায় অর্ধশতাব্দী হিন্দুস্থানের মসনদে বসেছেন।

    কী ব্যাপার? ডক্টর পালিত ছুটে গিয়ে ট্রানজিস্টরটা কঁকাতে লাগলেন। একলাফে তিনশাে বছর পিছিয়ে গেলাম কী করে?

    নাছােড় ট্রানজিস্টর তখন বলে চলেছে, এখন হিন্দুস্থানের সামনে বিশাল সংকট। এখন প্রার্থনার সময়। এখন এক হয়ে থাকার সময়। হিন্দুস্থানের শাহেনশা—ইসলামের জিন্দাপির মরহুম বাদশা আওরঙ্গজেবই গুজরাটের রাস্তাঘাট দস্যুমুক্ত করেছিলেন। দক্ষিণের অজম্মা সব সুবায় তিনিই জাতজিরেতের বন্দোবস্ত করে চাষিদের বসিয়ে যান। আজ সেখানে আখ থেকে আঙুর সবই চাষ হয়ে থাকে। তার আমলেই পাঞ্জাবের দোয়ার অঞ্চলে সরেস জমিতে পাঠান আর আফগান অনুপ্রবেশকারীরা চোরাগােপ্তা করে যাচ্ছিল। মনে রাখতে হবে এই পাঠান আর আফগানরাই সব মিলিয়ে মােট চারশাে বছরের ওপর দিল্লিতে সুলতানি করে গেছে। বাদশা আওরঙ্গজেব তাদের হঠিয়ে দেন।

    জানলা দিয়ে উক্টর পালিত দেখতে পেলেন একদল কিশাের চলেছে। তাদের মাথায় ফেজ। আগে আগে চলেছেন একজন মৌলবি সাহেব। বিশ্বাস হচ্ছিল না প্রফেসর পালিতের। ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যালকনি থেকে তিনি মৌলবি সাহেবকে বললেন, আদাব আরজ! কোথায় চললেন ? | মৌলবি সাহেব থেমে পড়লেন। বললেন, এইসব মাদ্রাসার বাছাই ছেলেকে নিয়ে বারাণসী যাচ্ছি—

    কী ব্যাপার ? ওরা সেখানে আয়ুর্বেদ পড়বে। পরীক্ষা নিয়ে এদের বাছাই করা হয়েছে। চলি—বলে মৌলবী সাহেব ফের রওনা দিলেন।

    প্রফেসর পালিত বিড়বিড় করে বললেন, এটা হল এখন অল হিজরি ১১১৬। ইসাহি ১৭০৭। এখন থেকে হাজার বছর আগে খলিফা হারুণ অল রসিদের আমলে বাগদাদের হাসপাতালে তিনি বারাণসীর কবিরাজ ধন্বন্তরীকে সুপারিনটেনডেন্ট করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তা আজ বাছাই মুসলমান ছেলেরা যে বারাণসীতে আয়ুর্বেদ পড়তে যাচ্ছে এতে আর আশ্চর্য কী! কিন্তু ওরা যাবে কী করে। হিন্দুস্থানের বাদশার এন্তেকাল হয়েছে। নদীতে নদীতে সবরকম খেয়া বন্ধ। বন্ধ সবরকম পালাগান, কথকতা। এখন মন্দিরে প্রার্থনা—মসজিদে মােনাজাত। রাস্তায় রাস্তায় অতি বিশ্বস্ত রাজপুত ফৌজের পাহারা এবার ছড়িয়ে পড়বে।

    রাস্তায় বেরিয়ে তিনি দেখলেন, বেশির ভাগ দোকান পাটের ঝাপ বন্ধ। মােড়ে মােড়ে হামামের আসনে বেকার মানুষজনের গুলতানি। এখানে সেখানে দু-একজন ঘােড়সওয়ার। গাছতলায় তাদের ঘােড়া বেঁধে রাখা! একজনকে দেখে মনে হল—তিনি হিন্দু-দেওয়ান খানার দুদে কায়েত আমলা। নিশ্চয়ই ফারসিতে তুখােড় তিনি তর্কাতর্কির ভেতর দিব্যি যুক্তি দিয়ে আওরঙ্গজেবের পাশ ঠেলে কথা বলছেন। কথাগুলাে এরকম—

    কে বলেছে বাদশা গান বাজনাকে কবর দিতে বলেছিলেন? ওসব রটনা। আজ তিনি নেই। আমি বলব, যে-মানুষ কথায় কথায় সাদি, হাফিজের রুবাই আওড়াতেন—তিনি কখনােই গানবাজনাকে কবর দিতে বলতে পারেন না। আর যারা বলেন, তিনি হিন্দুদের দেখতে পারতেন না—তাদের কাছে আমি জানতে চাই—কার আমলে হিন্দু মনসবদার সবচেয়ে বেশি হয়েছেন? ভুলে যাবেন না—আওরঙ্গজেব বাদশার আমলেই মারাঠারা সবচেয়ে বেশি মনসবদার হয়েছেন। ভুললে চলবে না—দিল্লির মসনদের লড়াইয়ে বাদশা আওরঙ্গজেবের সেনাপতিদের ২১ জনই ছিলেন হিন্দু। শাহজাদা দারার পক্ষে ছিলেন রাও ছত্রশাল। কিন্তু ছত্রশালের বড়ােছেলে তাে আওরঙ্গজেবের হয়ে লড়েছেন। বাদশা হিন্দু-বিদ্বেষী হলে এইসব তাবড় তাবড় যােদ্ধা কি তাঁর হয়ে লড়তেন?

    প্রফেসর পালিত দেখলেন, সারা জমায়েত একদম নিশ্ৰুপ। ওদেরই ভেতর একজন শান্ত গলায় বললেন, সবটাই সাবেক বাদশা শাহজাহানের ভুল। এতকিছু ঘটত না—যদি না তিনি চোখ বুজে শুধু শাহজাদা দারারই নাম করে চলতেন।

    কীরকম?

    যে জানতে চাইল—তাকে অনেকটা দক্ষিণে নর্দার ওপারে তেলিঙ্গানার দিককার মানুষ মনে হল প্রফেসর পালিতের। রাজধানী দিল্লি-জাহানাবাদ-আগ্রার দিককার হাটে-বাজারের চলতি কলােকিয়াল উর্দু আটকে আটকে যায় লােকটির মুখে। নয়তাে এত ছােট্ট প্রশ্ন করত না। হিন্দুস্থানের নােক দক্ষিণ থেকে উত্তরে এলে এমনই করে থাকে। রাস্তা দিয়ে এইমাত্র একদল রাজপুত ঘােড়সওয়ার শহরের বড়াে চকের দিকে চলে গেল। আজ হামাম বন্ধ।

    সেই লােকটি বলল, আমার ঠাকুর্দার বাবার মুখে ছেলেবেলায় একবার শুনেছিলাম—শাহজাহান বাদশা নাকি একবার শাহজাদা আওরঙ্গজেবকে বরখাস্ত করেছিলেন—দক্ষিণের সুবেদারি থেকে।

    সবাই আপত্তি করে উঠল। যাঃ! তা হতে পারে নাকি? শাহজাদা আওরঙ্গজেব অল্পবয়স থেকেই বাহাদুর মানুষ। তাঁকে বাদশা এভাবে বেইজ্জতি করতে পারেন নাকি?

    প্রফেসর পালিত মনে মনে বললেন, হ্যা। শাহজাহান বাদশা আজ থেকে প্রায় ৬৩ বছর আগে দক্ষিণের সুবেদারি থেকে শাহজাদা আওরঙ্গজেবকে বরখাস্ত করেছিলেন। তখন শাহজাদার নওজওয়ান বয়স মাত্র ২৬।

    ভিড়ের ভেতর একজন বলল, ১৫/১৬ বছর বয়সেই শাহজাদা বর্শা ছুড়ে খ্যাপা হাতি আটকে বাদশার বাহাদুরি পান। তাঁকে কেন বরখাস্ত করা হবে?

    প্রফেসর পালিত নিজে বললেন, হ্যা। আওরঙ্গজেবকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। দারার দিকে বাদশার একপেশে টান—আর অন্য দিকে দক্ষিণে সুবেদারি করতে গিয়ে বাদশার কাছ থেকে সেখানকার অজম্মায় কোনও সাহায্য বা সহানুভূতি না পেয়ে শাহজাদা আওরঙ্গজেব বাদশার খারাপ খারাপ চিঠিই পাচ্ছিলেন শুধু। এইসময় ওদের বড়দি শাহজাদি জাহানারা আগুনে পুড়ে যান। তাঁকে আগ্রায় দেখতে এসে আওরঙ্গজেব শাহি দরবারে-লােকজনের সঙ্গে কথায়বার্তায় বড়েভাই দারার বিরুদ্ধে কড়া কড়া কথা বলে বসেন। তা কানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শাহজাহান বাদশা আওরঙ্গজেবকে বরখাস্ত করেছিলেন। অপমানে আওরঙ্গজেব তাঁর কোমরের তলােয়ার খুলে ফেলেন। ঠিক করেন ফকির হয়ে যাবেন। কিন্তু জাহানারার অনুরােধে শাহজাহান তাকে ফের সুবেদার করেন—তবে গুজরাটের। সেখানে গিয়েও আওরঙ্গজেব বসে থাকেননি। রাস্তাঘাট দস্যুমুক্ত করেছেন। সুবেদারি করতে গিয়ে শাহজাদা সুজা বা শাহজাদা। মুরাদের মতাে তিনি ভােগবিলাস, শিকারে ডুবে থাকেননি। বরং লােকহিতে নেমে পড়েছেন। অথচ সেই নওজওয়ান বয়সে শাহজাদারা তাে ভােগসুখেই ডুবে থাকেন।

    এসব কথা গুলতানির ভিড়ে বলে কোনও লাভ নেই। ইতিহাস পড়তে গিয়ে—পড়াতে গিয়ে ডক্টর পালিত নওজওয়ান আওরঙ্গজেবের জেদ, লেগে পড়ে থাকার শক্তির বারবার প্রশংসা না করে পারেননি। হিন্দুকুশ পর্বত উমুরী নদীর গা ঘেঁষে শীতের ভেতর মুঘল ফৌজ নিয়ে ২৮ বছরের আওরঙ্গজেব হিন্দুস্থানে ফিরছিলেন। উমুরী উজবেকরা কসাক ধাচে হামলা করে হয়রান করছে। তুষার পেছল খাড়াই গিরিপথ দিয়ে ফেরা মহা কঠিন। পথে সুরকলি নদীতে দশহাজার সৈন্যই ভেসে গেল। ভেসে গেল কত যে হাতি, ঘােড়া, উট, কামান। শাহজাদা হিন্দুস্থানে ফিরে এলেন। পেছনে পড়ে থাকল জয় করা

    বলম্বদান। সমরখন্দ, তৈমুরাবাদ যাবার রাস্তা। হিন্দুকুশের গায়ে উমুরী নদী। বাবর হুমায়ুনের দেশ। যা কিনা জয় করে হিন্দুস্থানের সামিল করার খােয়াব দেখেছিলেন বাদশা শাহজাহান। তাই তাে তিনি শাহজাদা আওরঙ্গজেবকে পাঠিয়েছিলেন। কোটি কোটি টাকার নিষ্ফল অভিযান।

    হামামের চাতালের দিকে তাকিয়ে ডক্টর পালিত বুঝলেন, বসে থাকা মানুষজনের কারও বয়স চল্লিশের ওপর নয়। দেওয়ানখানার উঁদে কায়েত আমলাটিই বয়সে সবার চেয়ে বড়াে। তারই বয়স বড়ােজোর ৪৫/৪৬। ওরও জন্মের প্রায় ১২/১৩ বছর আগে শাহজাহান বাদশা শাহজাদা আওরঙ্গজেবকে কিল্লা কান্দাহার উদ্ধার করতে পাঠিয়েছিলেন। ইরানি ফৌজ কিল্লা দখল করে বসে আছে। খারাপ কামান, ফৌজ নিয়ে আওরঙ্গজেব নাস্তানাবুদ হচ্ছিলেন। তার ওপর খােদ বাদশা কাবুলে বসে চিঠি মারফত লড়াই চালাচ্ছিলেন। আওরঙ্গজেব লড়াইয়ে খােলা হাত পাচ্ছিলেন না। মরিয়া আওরঙ্গজেব বাদশাকে লিখলেন, আমি খােলা তলােয়ার হাতে কিল্লা কান্দাহারের দেওয়াল বেয়ে উঠতে চাই। অনুমতি দিলেন না বাদশা। লিখে পাঠালেন, ঢের হয়েছে। ফিরে এসাে। তুমি অপদার্থ। এত পাঁয়তাড়া—এত খরচের পর ব্যর্থ?

    আওরঙ্গজেব যুদ্ধ না করেই গজরাতে গজরাতে ফিরতে বাধ্য হলেন। আমি লড়াই দিয়েও অপদার্থ ? আব্বাহুজুরের হাতে অপমানিত! আর বড়েভাই দু-দুবার কান্দাহার অব্দি এসে দুশমনের মুখােমুখিই হলেন না—অথচ হিন্দুস্থানে ফিরে বাদশার হুকুমে বিজয়ীর সংবর্ধনা পেলেন সব জায়গায় ? এই কি বিচার ? এই কি ইনসাফি? আব্বাহুজুর, আমিও তাে আপনার ছেলে। শহরের রাস্তায় আজ আমির ওমরাহরা খালি পায়ে হেঁটে চলেছেন। তাদের চলাফেরার জন্যে কোনও সুখদোলা নেই। নেই কোনও হাতি ঘােড়া।

    গাড়ি। গাড়ির চাকা হল গিয়ে মানুষের সব চেয়ে বড়াে আবিষ্কার। গতি। গাড়ির চাকাই হল মানুষের আবিষ্কারের ইতিহাস। এই গাড়ি টানা হয় স্কুল পরিশ্রম করে। জীবন এক চলন্ত গতি। মৃত্যু তাতে এক ছেদ। এই জ্বলন্ত গতিময় জীবনই এক ইতিহাস। মুঘল শাহেনশারা রােজকার ইতিহাস লিখিয়ে রাখেন। যাঁরা লেখেন—তাঁরা হলেন ওয়াকেনবিশ। গতকাল সকালে আওরঙ্গজেব তাঁর মৃত্যুর আগে ক-বার নামাজ পড়েছেন তাও নির্ভুলভাবে ওয়াকেনবিশরা লিখে রেখেছেন। ওঁরা মাছিমারা ছাপােষা হিসেবনবিশ মাত্র। প্রতিভাধর নন। একটি ইতিহাসােমিটার কোনও প্রতিভাধর আবিষ্কার করতে পারলে কালের ঘণ্টাধ্বনিরও মানে খুঁজে পাওয়া যেত সহজেই।

    ঠিক এই সময় বিশাল এক মিছিল এসে হাজির হল। তাদের হাঁটু অব্দি হিন্দুস্থানের দেহাতি ধুলাে। গায়ের পিরানে, আঙ্গিয়াতেও সেই ধুলাে। তারা বলতে বলতে আসছিল—

    আওরঙ্গজেব
    চল বসে

    আওরঙ্গজেব

    অমর রহে

    হামামের চাতালে বসা গুলতানির দলটিও এই মিছিল দেখতে উঠে দাঁড়াল। হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই পাহারায় ছড়িয়ে থাকা রাজপুত সেপাইরা ছুটে এসে সবাইকে পাকড়াও করতে লাগল। মিছিলের সবাই ছুটোছুটি লাগিয়ে দিল। সেই চুঁদে কায়েত আমলার চুলের ঝুঁটি ধরেছে একজন সেপাই। আর সেই আমলা চেঁচিয়ে বলছে—আমায় ছেড়ে দাও। ভালাে হবে না কিন্তু। আমি দেওয়ানখানার দলিল দস্তাবেজ দেখাশুনাের মির মুনশি।

    আর মির মুনশি! কে কার কথা শােনে। ডক্টর পালিতও ধরা পড়লেন। সবাইকে হাটিয়ে ঝােড়া মারতে মারতে সেপাইরা যেখানে নিয়ে তুলল—সেখানটা দেখেই চিনতে পারলেন অমল পালিত। এ যে যশিডি রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম। গত শীতেই তিনি এক বিকেলবেলায় মানসীকে সঙ্গে নিয়ে হাওড়া থেকে এখানে ট্রেনে করে এসে নেমেছিলেন। ক-দিনের ছুটি কাটাতে। সারা বছর ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির পর তিনি এক এক জায়গায় বেড়াতে গিয়ে টান টান স্নায়ুগুলাে শিথিল করে নেন। গত বছরের জায়গাটা ছিল এই যশিডি। রেলপ্ল্যাটফর্ম থেকে বাইরে বেরুলেই জায়গাটার নাম বদলে হয়ে যায় দেওঘর। নিচু হয়ে নেমে যাওয়া রাস্তাটা দূরে গিয়ে উঁচু হয়ে উঠেছে। ওখানে শুকনাে বুক নিয়ে পড়ে আছে দারােয়া নদী। তার গা ধরে কয়েকমাইল হাঁটলে রােহিনী নামে একটা ছােট্ট জায়গা পাওয়া যায়। গত বছর শীতে বেড়াতে এসে এসব দেখে গেছেন ডক্টর পালিত। দেখে গেছেন ছােটো লাইনের রেলগাড়ি। বৈদ্যনাথ ধাম।

    হঠাৎ তিনি দেখতে পেলেন—স্টেশন মাস্টারের টেবিলের পাশে ঘরের কোণে সেই অতিকায় কালাে বেড়ালটা বসে আছে। প্রায় বাঘের সাইজের। বেশ লাজুক ভঙ্গিতে সে তাকাচ্ছে। মুখে, গোঁফে কী এক চতুর হাসি। যে কোনও সময় ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।

    স্টেশন মাস্টার ঘরে নেই। পাহারায় রাজপুত সেপাইরাও কোথায় মিলিয়ে গেছে। তিনি বেড়ালটাকে বললেন—যাঃ! যাঃ!

    কাউন্টারে টিকিট বিক্রিতে বসা ছেলেটি অবাক হয়ে ফিরে তাকাল। ডক্টর পালিতকে দেখল। দেখল ধুতি পাঞ্জাবিতে ঢাকা একজন প্রবীণকে। তারপর জানতে চাইল, কাকে ধমকাচ্ছেন?

    দীর্ঘকাল ধরে প্রতিভাধর বলে পরিচিত মুখস্থে-ওস্তাদ—পরীক্ষার খাতায় উগরে দিয়ে সেরা হওয়া ডক্টর পালিত দেখলেন, সেই কালাে বেড়ালটা মিলিয়ে গেছে। থাকলেও বেড়ালটাকে শুধু তিনি একাই দেখতে পেতেন। অতিকায়। কালাে। লাজুক। ঠোটে, গোঁফে চতুর হাসি। যেকোনও মুহূর্তে ঝাপিয়ে পড়তে পারে। টিকিট বেচতে বসা কাউন্টারের ছেলেটি কিছুতেই ওকে দেখতে পেত না। আফসােস। যদি একটা ইতিহাসােমিটার আবিষ্কার করতে পারতাম। টমাস। আলভা এডিশন কিংবা গ্রাহাম বেলের আবিষ্কারের ধাঁচে। টেলিফোন। গ্রামােফোন। সিনেমা। দৃষ্টিকোণ আর দৃষ্টিভঙ্গির মিশেল দিয়ে। ইস! একটা ইতিহাসােমিটার। তাহলেই ঠিক ঠিক জানা যেত আওরঙ্গজেব সত্যি হিন্দু-বিদ্বেষী ছিলেন কিনা। কেননা, মৃত্যুর পর একজন বাদশার একই কাজের নানান ব্যাখ্যা বের করা যায়। তার ভেতর থেকে সঠিকটি বেছে নিতে দরকার হয় একটি ইতিহাসােমিটারের। তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে ওই অতিকায় কালাে বিড়ালের চতুর হাসি স্ক্যান করে নেওয়া যেত।

    এমন সময় প্ল্যাটফর্মে ঝােলানাে লােহার পাটিতে হাতুড়ি মেরে ট্রেন আসার ঘণ্টা হল। ডক্টর পালিত বেরিয়ে এসে দেখলেন লােহার পাটিটি আগাগােড়া—

    একটি স্যান্ডাে গেঞ্জি দিয়ে মােড়া। দেখেই চিনতে পারলেন। এ তাে আমার গায়ের গেঞ্জি। কী করে ওখানে গেল?

    প্রফেসর পালিত পাঞ্জাবির নীচে হাত দিয়ে দেখলেন—তাঁর গায়ে গেঞ্জি নেই। তিনি চমকে উঠলেন। এ কী করে সম্ভব? পাঞ্জাবি খুললে তবে তাে গায়ের গেঞ্জি খােলা যায়। আশ্চর্য! গায়ে পাঞ্জাবি আছে। কিন্তু নীচে গেঞ্জি নেই। চিৎকার করে উঠলেন প্রফেসর পালিত। কী করে হল? তিনি মাথা ঠিক রাখতে পারছেন না। তিনি বুঝলেন—সব গুলিয়ে গিয়ে তাঁর মাথার ভেতর যুক্তি সাজানাের সুতােগুলাে পট পট করে ছিড়ে যাচ্ছে। তিনি বুঝলেন, তিনি পাগল হয়ে যাচ্ছেন। তখন তাঁর মনে হল—এবার আমি ইতিহাসােমিটার আবিষ্কার করে সত্যিই সেরা—সত্যিই প্রতিভাধর হব। কেননা, আমি বুঝতে পারছি—আমার একটা দৃষ্টিকোণ—একটা দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসেরা ৪৫ – সায়ক আমান
    Next Article সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }