Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প379 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুগাপুর হল্ট

    দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই থমকে দাঁড়াল সুবিমল ঘােষ। মেঝে থেকে চেয়ারের বসবার জায়গা অব্দি থাকে থাকে সাজানাে। সারা ঘর জুড়ে। এমনকি টেবিলের নীচে পা রাখবার জায়গাও নেই। সেখানেও। নােটের বান্ডিল। সব একশাে টাকার নােট।

    বিশ বছরের চাকরি হলেও সুবিমল বেরিয়ে আসছিল। কেননা চেয়ার খালি। দরজা খােলা রেখে এভাবে কেউ এতগুলাে টাকা রেখে বেরােয় ? আজই অবশ্য ভ্যানে করে এ টাকা ব্যাংকে চলে যাবে। যেমন যায় রােজ। কাল রাত অব্দি বিক্রির টাকা।

    দাঁড়ান।

    দাঁড়াতে হল। অথচ চোখ মেলে তাকানাে যায় না। খালি গা। পরনে শুধু আন্ডারঅয়ার। ঘরের লাগােয়া টয়লেট থেকে ষাট বছরের একটি মােটাসােটা বালক যেন বেরিয়ে এসেছে এইমাত্র। ভিজে পা। ভিজে হাত। খালি পা। দেওয়ালে ধুতি-পাঞ্জাবি ঝুলছে। তাদের নীচেই পায়ের অপেক্ষায় চওড়া একজোড়া পাম্পসু।

    যাচ্ছেন কেন? বসেন।

    দরজা থেকে ভেতরে ঢুকে সুবিমল কোনােমতে একটা চেয়ারে বসল। তাকে পা রাখতে হল বােধহয় নােটের বান্ডিলে। ঘরের কোণে যে লাগােয়া টয়লেট আছে—তা জানা ছিল না তার।

    ভুলে দরজা খােলা রেখেই বাথরুমে গিয়েছিলেন—

    না। খােলা রেখেই যাই। কে নেবে? নিলে গেটেই তাে ধরা পড়বে বেরােনাের সময়। বিশ বছর আমি এ অফিসের চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট। দেবেন সেন সবাইকে চেনে।

    সুবিমল দেবেন সেনের গােল মুখখানায় তাকাল। মাথায় চুল নেই। চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানাে না। চোখে চশমা। চুলে ঢাকা চওড়া বুক। কিন্তু পরনে শুধু আন্ডারঅয়ার।

    সেই অবস্থাতেই চেয়ারে বসে দেবেন সেন তার বিখ্যাত একসারসাইজ বুকখানা বের করল, কী ? আবার চাই? তাই না!

    ওই দু নম্বর একসারসাইজ খাতাখানায় অফিসের প্রায় সবারই নাম দেবেন সেন সবুজ কালিতে লিখে রেখেছে। মাইনের দিন এই খাতা দেখে দেখে দেবেন সেন কিস্তিতে টাকা কেটে রাখে। মুখে মুখে এমন ধার নেবার ব্যবস্থা আর কোথাও আছে বলে সুবিমল ঘােষের জানা নেই। আর এ ধারের কোনাে সুদ নেই। দেবেন সেন খুব মন দিয়ে জিরজিরে খাতাখানায় সুবিমলের নামের জায়গাটা খুঁজছিল। ঝুঁকে পড়া গােল টাক। টেবিলের নীচেই লােমে ঢাকা দুই পায়ের উদোম থােড়া। ভাগ্যিস চোখে দেখতে হচ্ছে না। শুধু এই জন্যেই দেবেন সেনের কাছে সুবিমল মনে মনে কৃতজ্ঞ হয়ে পড়ল। তা ছাড়া এই সময়টায়—বিশেষ করে ধার করতে এসে, সুবিমল জানে—তার মুখে বিস্ময় আর ভক্তির মিশ্র ছায়া পড়ে। যেন সে পিরামিডের সামনে ডেকরেটরের কাছে থেকে ভাড়া করে আনা একখানা ফোল্ডিং চেয়ারে বসে আছে।

    এই অবস্থাতেই সুবিমল ঘােষ কঁচা রাতেই সন্দেহবাইয়ে ভােগা কুকুরের মতােই ভুগ ভুগ করে ডেকে উঠল প্রায়।

    কী হল? দেবেন সেন মাথা তুলে তাকাল। না। কিছু না। কাশি আসছিল—

    এয়ারকন্ডিশনে তাে বসেন না। কমায়ে দেব ?—বলেই ষাট বছরের বালকটি টেবিলের তলা থেকে সেই পা দু খানা বের করে দেওয়ালের কাছে গেল। নােটের থাকের ভেতরের ফাঁকে ফাঁকে সাবধানে পা ফেলে। সুবিমলের দিকে পেছন ফিরে উবু হল দেবেন সেন। এয়ারকুলারের নব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কি করল। তারপর একই ভাবে সাবধানে ফিরে এসে আবার চেয়ারে বসল। পা দুখানা আবার টেবিলের নীচে চলে গেল।

    আসলে সুবিমল হাসি চাপতে গিয়ে কেশে ফেলেছিল একটু আগে। মনে মনে সে অফিস গেটে দাঁড়িয়ে থাকা কাবুলিদের ভেতর দেবেন সেনকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে ভাবছিল—সিনটা দেখতে কেমন হবে। কাবুলি পিছু ছ-মিটার কাপড় গায়ে। আর দেবেন সেন পরে আছে শুধু দেড় মিটারের আন্ডারওয়ার। ওরা চড়া সুদে টাকা দেয় অনেক লিখেপড়ে। দেবেন সেন দেয় শুধু জিরজিরে খাতাখানায় নামটি লিখে। কোনাে লেখাপড়া নেই। নেই কোনাে সুদ। কী

    আকাশপাতাল ফারাক।

    কত?

    চব্বিশ-বলতে গিয়ে গলা কেঁপে ওঠে সুবিমলের। সে বড়ােজোর সাত-আটশাে টাকা ধার নেয়। মাসে মাসে একশাে টাকা করে কেটে নিয়ে শােধও হয়ে যায়। এবার সে বুক ঠুকে চব্বিশশাে টাকা চাইল। কয়েকটা দেনা শােধ দেবে। দিয়ে সাত-আটশাে টাকা বাঁচলে একটা ছােটোমতে পুকুর কাটাবে। পুকুরের শখ অনেকদিনের তার। ডেলি-প্যাসেঞ্জারি করে কলকাতায় চাকরিতে আসে। কলকাতার গায়েই ছােটোমতাে বাড়ির পাশে পুকুর কাটানাের

    জন্যে তার কয়েক কাঠা জমি কেনা আছে। শস্তায়।

    কী করবেন?

    তখনাে খাতা থেকে মুখ তােলেনি দেবেন সেন। সুবিমল ফট করে বলে বসল, পুকুর কাটাতাম—

    জায়গা কেনা আছে? টাকাটা বেশি চাওয়া হয়ে যাচ্ছে ভেবে জমি কেনার খরচটাও যােগ দিয়ে সুবিমল বলল, আপনি দিলে কিনব।

    খাতায় কী যেন খুঁজছিল দেবেন সেন। রুলটানা পাতার প্রতি লাইনে সবুজ কালিতে নিজের হাতে একজন করে খাতকের নাম লেখা। লেখা তার পাশে টাকার অঙ্ক। কথাও বলে না—মাথাও তােলে না—দেবেন সেন কি খাতকদের নামের জঙ্গলে হারিয়ে গেল ? ঠান্ডা ঘরে এমন উজ্জ্বল আলাের ভেতর চুপ করে কতক্ষণ বসে থাকা যায়। বিশেষ করে অন্যজন যদি আর একটা কথাও

    বলে না তাকায়।

    সুবিমল বুঝল, তার বেশি চাওয়া হয়ে গেছে। চুপ করে থাকা মানে—এত টাকা দেবেন সেন ধার দেবে না। এখনকার মতাে উঠে চলে যাওয়াই ভালাে। নাহয় ক-দিন পরে এসে বলবে—দিন, ষােলােশাে টাকা ধার দিন। মাসে দু-শাে করে কাটলে এক বছরেই শােধ হয়ে যাবে। জমিটা শস্তায় পাওয়া গেল। ঠিক এক্ষুনি আর কমিয়ে চাওয়া যায় না।

    আমি যাব? টাকা নিয়েছেন? নেননি তাে! না। তবে বসে আছেন কেন?

    এটা একটা কঠিন নিষ্ঠুর রসিকতা ভেবে সুবিমল ঘােষ উঠে দাঁড়াল। তাই তাে যাব বলছিলাম স্যার

    যে টাকা দিতে পারে তাকে স্যার বলে ডাকা মানিয়েও যায়। হেসে ফেলল দেবেন সেন। টাকা নিয়ে যান। কীসে নেবেন?

    পকেটে।—বলেই হাসল সুবিমল। এতক্ষণ সে একখানা ক্ষুরের ধারালাে লাইনের ওপরেই দাঁড়িয়ে ছিল।

    অত টাকা তাে পকেটে ধরবে না— বলে কী লােকটা? চব্বিশখানা একশাে টাকার নােট ভঁজ করে দিব্যি পকেটে ঢুকিয়ে রাখা যায়।

    এক কাজ করুন। ধুতির খোঁটে বেঁধে নিয়ে নিজের সিটে চলে যান। তারপর কলিগদের কারাের অ্যাটাচি ব্যাগ চেয়ে নিয়ে দিনে দিনে বাড়ি চলে যান। কাল অফিসে এসেই ব্যাগ ফেরত দিয়ে দেবেন। পারবেন না?

    মনে মনে সুবিমল তখন বলছিল, দয়ার স্যার। ভেতরে ভেতরে আপনার মন যে এত নরম তা তাে জানতাম না। সদগুণ না থাকলে কেউ কি সামান্য জুনিয়র থেকে চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট হয়! খুব পারব স্যার—

    তাহলে দেওয়ালের কোণে ওই যে পঁচিশ হাজারের বান্ডিলগুলাে আছে—তার যে-কোনাে একটা থেকে গুণে এক হাজার টাকা বের করে আমার টেবিলে রাখেন। বাকি চব্বিশ হাজার মিলে গেল আপনার—

    স্যার?

    কেন? অসুবিধা হবে? আমি যে আবার খুব একটা নিচু হয়ে বান্ডিল খুলতে পারি না। কোমরের হাড়ে লাগে। তাই আপনাকে বলা—আমরা তাে আপনাদের চেয়ে ঝাড়া বিশ বছরের বড়াে হব। কী বলেন? এটুকু তাে বলতে পারি।

    সে তাে নিশ্চয় স্যার, নিশ্চয়।—এর বেশি কথা সুবিমলের গলায় একসঙ্গে আর জোগাল না। তার সবকিছু গুলিয়ে গেছে। চেয়েছিল চব্বিশশাে টাকা। দেবেন সেন দিচ্ছে চব্বিশ হাজার। কোনােরকম মুখঝামটা বা অপমান না করেই রীতিমতাে ভদ্রভাবে—যেন, আমাদের গাই সদ্য বিইয়েছে—এক পােয়া দুধ নিয়ে যান—ঠিক এইভাবে।

    ভূতুড়ে অন্ধকার বাড়ি থেকে ভূতে পাওয়া বােবা যেভাবে ছুটে পালায়—ঠিক সেইভাবেই সুবিমল ঘােষ ভীষণ তাড়াতাড়ি গােছা থেকে এক হাজার টাকা বের করে টেবিলে রাখল। রেখে বাকি চব্বিশ হাজার ধুতির খোঁটে বেঁধে ঝকঝকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছিল।

    শােনেন। আধখােলা দরজায় মুখ বাড়িয়ে তাকাল সুবিমল।
    মাসে মাসে চারশাে টাকা করে কেটে নেব।

    মাথা নেড়ে সায় দিয়েই সুবিমল একদম বেরিয়ে যাচ্ছিল। আবার তাকে দাঁড়াতে হল।

    আর শােনেন। এবার সুবিমল দরজা ভেজিয়ে দিয়ে আবার ঘরের ভেতর এসে দাঁড়াল। আমরা কেউ কিন্তু কারাের না।

    সুবিমল ঘােষ ভীষণ অবাক হয়ে তাকাল। তার শােনা আছে, দেবেন সেন বড়াে ফুটবল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। নিঃসন্তান। বাড়িতে বিরাট ফুলের বাগান। বহুমূত্রে ভুগছেন বলে ইদানীং সারা বিছানা জুড়ে অয়েলক্লথ পেতে শােন এবং কোনও গুরুর কাছে দীক্ষাও নিয়েছেন। বরানগর থেকে আসে পারচেজের শৈবাল দত্ত। সে নাকি দেখেছে—দেবেন সেন রবিবার রবিবার গাড়ি করে সকালের দিকে কাচমন্দিরে যায়। সেখানে গীতাপাঠ, আলােচনা সবই হয়।

    দেবেন সেন আবার বলল, এই যে সম্পত্তি করছেন—পুকুর কাটাচ্ছেন—শেষে নারকেল গাছও বসাবেন—তাতে একদিন ডাবও ধরবে—কিন্তু আপনাকে চলে যেতে হবে।

    সে তাে নিশ্চয় স্যার! তা আর বলতে!! ডাক এলে বসে থাকার উপায় নেই। সব-কিছু তখন পেছনে পড়ে থাকবে।

    সে তাে অবশ্যই স্যার! কোথায় যাবেন ? সােনারপুরে নেমে দুর্গাপুর হল্টের কাছে আমার বাড়ি

    ধ্যাৎ! আমি বলছি মরণের পরপারের কথা।

    এতগুলাে টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার তাড়া তাে। তাই গুলিয়ে গেছে স্যার। বুঝেছি আমি।

    কী বুঝলেন? টাকা দিলে লােকে ধমকও দেয়। তাই আবার গুলিয়ে যেতে পারে ভেবে সুবিমল চুপ করে গেল। দেবেন সেন নিজেই বলল, এ ডাকের কোনাে টাইমটেবিল নেই যে ৬টা চল্লিশের সােনারপুর লােকাল ৬টা চল্লিশেই হুইসেল দিয়ে ছাড়বে!

    আজকাল স্যার কোনাে গাড়িই সময়মতাে ছাড়ে না। রেকের অভাব। মেইন্টেনান্স নেই। তারপর লাইন অবরােধ। কারেন্ট থাকে না।

    আমি যে-ডাকের কথা বলছি—তা সময় হলেই আসবে কিন্তু। কেউ আটকাতে পারবে না। জীর্ণ শরীর থেকে আত্মা বেরিয়ে গিয়ে পৃথিবীর সব সম্পর্ক মুছে ফেলে সম্পূর্ণ নিঃসম্পর্ক হয়ে যাবে। কে কার বাবা! কে কার স্বামী ! সব ঘুচে যায়। তাই বলছিলাম, আমরা কেউ কারাের না। শুধু শুধু ছবি আর মূর্তি নিয়ে বাড়াবাড়ি।

    সব গুলিয়ে গেল সুবিমলের। স্যার-ফের যদি একটু বলেন—

    বলছিলাম, যে স্ট্যাচু নিয়ে আমরা হামলে পড়ি—সেই চেহারার ভেতরকার ‘আমি’ মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাে অন্য ‘আমি’ হয়ে যায়। পুনর্জন্মে নতুন সম্পর্ক শুরু হয়। না জন্মালে সে তখন নিঃসম্পর্ক—অবিনাশী আত্মা—বা ‘আমি’—যা-ই বলুন।

    এতটা বুঝতে পারলে তাে স্যার বুকটা খাঁ খাঁ করে ওঠে। যাদের নিয়ে মেতে আছি—এরা আমার কেউ নয়। কোত্থেকে এসেছি, কোথায় যাব—তাও জানি না।

    তাই তাে বললাম, আমরা কেউ কিন্তু কারাের নয়। সেকেন্ড তিনেক দুজনই চুপ করে থাকল। তারপর দেবেন সেন বলল, আসুন। আপনার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

    ঠান্ডা ঘর থেকে বেরিয়ে অফিসের অর্ডিনারি লােকদের জায়গা মাড়িয়ে পেছনের লিফট দিয়ে একদম রাস্তায় এসে নামল সুবিমল। সে অফিসের কলমে লেখে। অফিসেরই সাবসিডাইজড ক্যান্টিনে টিফিন করে। জল খায় বারােয়ারি গ্লাসে। ঘাম হলে মুখ মােছে অফিসেরই প্যাডের কাগজে। তার কোনাে চাবি নেই। টেবিলের সব ড্রয়ার খােলা থাকে। খাতাপত্তর সে টেবিলেই রাখে। বােনাস পায় শতকরা ৮.৩৩। তাই হাতে তার কিছু থাকে না। শুধু বুক পকেটে থাকে ট্রেনের মান্থলি আর দু-এক টাকার নােট, খুচরাে।

    কিন্তু কাপড়ের খোঁটে চব্বিশ হাজার টাকার নােট নিয়ে তাে হালকা হয়ে চলা যায় না। অফিসের উল্টোদিকের চেনা মনােহারি দোকান থেকে ধারে একটা জাবদা সাইডব্যাগ কিনল সুবিমল। কাল অফিসে ঢােকার আগেই টাকাটা দিয়ে যাব আমি কি চেয়েছি! আপনাকে বিশ বছর তাে দেখছি।

    কাগজে মােড়া শেষের গােছা ব্যাগে ভরতে ভরতে দোকানির কথাগুলাে বড়াে ভালাে লাগল সুবিমলের। বেশ লুকিয়েই নােট ভরতে হল। পাছে দোকানদার দেখতে পায়—তাই এখানে সে গােছা বের করেনি। ব্যাগের দামটা বাকি রেখে কাল দিয়ে দেবে। রাস্তায় নামার আগে বলল, তা আপনার দোকানও তাে অনেকদিনের—

    পঞ্চাশ বছর হয়ে গেল। বাবার পরে আমি বসছি। আপনাদের অফিসের সঙ্গে আমাদের অনেকদিনের সম্পর্ক।

    ঘচ করে ঘুরে তাকাল সুবিমল ঘােষ। সম্পর্ক কথাটা তার ঘিলুর ভেতর নরম জায়গায় একটা বন্টু হয়ে গেঁথে গেল। তখনই তার চোখের সামনে ব্যস্ত মানুষের যাওয়া-আসা। কেউ কাউকে চেনে না। স্রেফ নিঃসম্পর্ক হাঁটাহাঁটি।

    সুবিমল ঘােষ আর কথা বাড়াল না। সেই নিঃসম্পর্ক হাঁটাহাঁটির ভেতর এসে দাঁড়াল। কোনাে অদৃশ্য জলে ভাসা কুটো হয়ে মানুষ ভেসে যাচ্ছে। তবে দুদিকেই ভাসতে ভাসতে যাচ্ছে। নানান স্পিড়ে। যেখানেই দাঁড়াও—সেখান থেকেই যেন শুরু—দুদিকে দুটো অদৃশ্য তে চলেছে—একদম উল্টোমুখাে—দুই মােহনার দিকে।

    এটা লক্ষ করে সুবিমল ব্যাপারটা যাচাই করতেই জায়গা বদলাল। প্যারাডাইস সিনেমার সামনে এসে দেখল, এখানেও সেই আগেরই মতাে। হনহন—হনহন করে মানুষ চলে যাচ্ছে। রাস্তার এক ধারে পর পর দুটো ছবিঘর। ওজন নেবার কলে লাল আলাে। মুসুম্বির শরবতের ব্যালকনিদার ফোল্ডিং দোকান। এখানে সে টের পেল, মানুষের কুটোগুলাে আরও জোরে ভেসে যাচ্ছে। আরও দিবিদিক।

    এইভাবেই হাঁটতে হাঁটতে সুবিমল এবার নিজেকে গ্র্যান্ড হােটেলের গাড়িবারান্দার নীচে পেল। কাচের শােকেসে আরামের গদি-তােশক, ভালাে সােয়েটার, বরফি-কাটা সুটকেশ, দৌড়বার জুতাে, গলার নেকলেস—কত কী। ছােটো ছােটো ট্যাগে কুটি কুটি করে লেখা ফ্যানসি দাম।

    আজ কোনাে দামই খুব একটা বেশি ঠেকল না সুবিমলের। সে তার হাতব্যাগের ভেতর এখন এমন এক অ্যাসিড নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে যাতে কি

    যে-কোনাে দাম গালিয়ে জল করে দেওয়া যায়।

    অনেকদিন পরে নিজের পায়ের নীচে হাঁটবার পাতা দুখানা আরও চটপটে মনে হল। কলকাতা তার নিজের মতাে করে সন্ধে হয়ে যাচ্ছিল। হাঁটতে হাঁটতে মিউজিয়ম। পার্ক স্ট্রিটের বাঁকের আগেই একটা বিখ্যাত বাড়ির গেটে কাঠ বা লােহা দিয়ে সংখ্যায় লেখা ১৮১৪—প্রতিষ্ঠা বছর। ওর সামনে দাঁড়িয়ে সুবিমল আজ হাতির পিঠে বসা অভিযাত্রী জিওলজিস্টদের কিচিরমিচির শুনতে পাচ্ছিল। সেই প্রথম ইন্ডিয়ার মাপ নেওয়া শুরু হয়।

    এশিয়াটিক সােসাইটির গায়ে পৌঁছতে পৌছতে ঘাড় লটকানাে ঘুমন্ত গৃহস্থ গিন্নি-সামনে পাতা চাদরে দশ পয়সা সিকি আধুলি। যােগ দিলে বড়ােজোর চোদ্দো-পনেরাে টাকা। সেই সকাল থেকে এই সন্ধে অব্দি সরল পাটিগণিত কী বলে? চব্বিশ হাজার তাহলে কত বছরে ক-জন ঘুমন্ত গিন্নি লাগে। মুখে মুখে যেকোনাে ঐকিক অঙ্ক গুলিয়ে যেতে বাধ্য। শুধু মনে থাকে ঘাড় লটকানাে—নিরুপায় নির্বাক রমণীর চারধার ঘিরে থাকে বাড়ি গজানাে—সামনের অ্যাভিনু দিয়ে স্লিক স্নিক গাড়ি পিছলে যায়। এ পাড়াটা আনন্দ, খাদ্য, জামা, আইসক্রিম, মােপেড কেনার রাস্তা।

    তার ভেতর দিয়ে ভাসতে ভাসতে সুবিমল ঘােষ খুব সহজেই এক খালি বাড়ির দোরে এসে দাঁড়াল। তখন তার মাথার ভেতর দিয়ে জিসের প্যান্ট, ফিতে প্যাটার্ন লেদার বেল্ট, কাথবার্টসনের ফুটের আলপনা তােলা সু জুতাে, চিরাগদিনের শার্ট, বন্ধ টিনের কৌটোয় ভরা ল্যাংড়া আমের রস, কিস্তিবন্দির মােপেড, পঁচিশ টাকা ডজন পিচ ফল অগােছালাে হয়ে আসছিল। এসব দোকানের সেলস গার্ল, ম্যানেজার, রিসেপশনিস্ট, সেলসম্যান একটু একটুর জন্যে সুবিমলকে হারিয়েছে। সে এত সিরিয়াসলি দর করে যে সবাই ভেবেই বসে দোতলা থেকে বাবু এইমাত্র কিনতে নেমে এসেছেন।

    ওদের সবার হাত ফসকে সুবিমল এইমাত্র খালি বাড়ির দোতলায় ওঠার সিড়ির মুখে এসে দাঁড়াল। সঙ্গে সঙ্গে সিঁড়ির ডুমটা জ্বেলে দিয়ে মাগির-দালাল তার হাতখানা দুহাতে জাপটে ধরল, আসুন হুজুর। আসুন—

    ধরা মানে এখানে টেনে তােলা। লােকটা সরু পাজামার ওপর ঝলমলে পাঞ্জাবি চড়িয়েছে। ফাস্ট-ব্রাকেট গোঁফ; সুবিমল বলল, হয়েছে। ছাড়াে।

    সুবিমল নেমে যাচ্ছিল। লােকটা তার ব্যাগ ধরল। বাড়িটা পুরনাে হুজুর। তার সরু সিঁড়ি। আপনার উঠতে কষ্ট হয়েছে। আমি নিচ্ছি—বলে লােকটা ব্যাগটা হাতে তুলে নিল।

    সুবিমল ঘােষ নিজের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে সরু রাস্তায় নেমে এল। লােকটা তখনাে নাছােড়। একটু শরবত খান বসে বসে। বঢ়িয়া শরবত। তারপর পসন্দ হয় বসবেন। না হয় চলে যাইবেন—জবরদস্তি কুছ নাহি।

    পানে রাঙানাে ঠোটের ভেতর দিয়ে খানদানি ভদ্রতা বেরিয়ে আসছিল। সেইসঙ্গে জাফরানি জর্দার গন্ধ বাতাসে যােগ হচ্ছিল। আবছা আলােয় ছােকরা মতাে এই লােকটার চোখে কত বন্ধুত্ব। গলির মুখে পেঁয়াজির গন্ধে বৃষ্টির ছিচকে ছাঁট ধরা পড়ছে। মাথা বাঁচাতে সুবিমল সিঁড়ির কাছাকাছি এসে দাঁড়াল।

    বাঁ-হাতে ব্যাগটা শক্ত করে ধরা। সে নিজের মনকে বলল, টাকা বের করার সময়েই তাে ধরা পড়ে যাব। সবই তাে বান্ডিলের গােছায় গার্ডার আটকানাে।

    বৃষ্টি বরং চেপে এল। ছােকরার সঙ্গে এক সিঁড়ি ওপরে উঠে দাঁড়াল সুবিমল। সেদিকটাতেই তবু কিছু আলাে। রাস্তার আলাে জ্বলে বােধহয় নিভে গেল। জল এখন এক জুতাে।

    কেন মিছিমিছি কষ্ট পাচ্ছেন হুজুর। আপনাদের মতাে লােক বারিষে ভিজবেন? না, ওপরে গিয়ে বসবেন—

    না। না। বৃষ্টি থামলেই চলে যাব।

    তাইলে ঝুটমুট ভিড় বাড়াচ্ছেন কেন ? পুলিশের ঝামেলা আছে। আসল খদ্দেরভি ভিড়বে না।

    বৃষ্টি থামেনি তাে। একদম ভিজে যাব।

    তা আমি কী করব বােলেন? এখােন কলকাত্তায় এক গ্লাস পিনে কা পানি দশ দশ পয়সা!

    সুবিমল মনে মনে বলল, কী জায়গা রে বাবা! এ তল্লাটের রাস্তাঘাটে ইতিহাসের গন্ধ। তাতে বৃষ্টির জল পড়ে নালা, নদৰ্মা অল্পক্ষণে একাকার শেষমেশ স্বাস্থ্য নষ্ট। মুখে বলল, চল।

    ওপরেই চল—

    চলুন চলুন। হুজুর চলে আগাড়ি

    ম্যায় চলে পিছাড়ি

    —এরকমই কয়েকটা কথা সুর করে গুনগুন করে লােকটা পেছন পেছন উঠে এল। ঠুংরির চালে।

    দোতলার মুখ থেকেই সব একদম আলাদা।। সাজানাে গােছানাে। দেওয়ালের রঙে চোখের আরাম। বড়াে পর্দা সরিয়ে সুবিমলকে বসার জায়গায় নিয়ে বসাল লােকটা। আরামসে বৈঠিয়ে—

    আরামের বাবা। সুবিমল বলে ফেলল, এসব কী দরকার ছিল। বেশ তাে সিঁড়িতে ছিলাম—

    তার কথার ভেতরেই ছ-সাতটি মেয়ে এসে সামনের সােফায়—তার সােফায় এসে বসল। ন-টিও হতে পারে। কেননা, সুবিমল আর গুনতে পারল তার ডান হাতের কবজিতে একটা শিরার ভেতর রক্ত বেশি এসে যাওয়ায় সে তার বুকের ভেতর দড়াম দড়াম আওয়াজ পেতে লাগল। তার বাঁ হাতের কবজিতেও সেই একই শিরা বেশি রক্ত পেয়ে ফুলল ঠিকই কিন্তু ঘড়ির মেটাল ব্যান্ডের নীচে চাপা পড়ে দাপাতে লাগল।

    ওরা কজন একদম কথা না বলে সুবিমলের মুখে তাকিয়ে হাসছিল। যাতে কিনা সুবিমল অস্বস্তি বােধ না করে। কিন্তু ততক্ষণে লােভ, ভয়, কৌতুহল, লােকলজ্জা তার ভেতরে এলােপাথাড়ি ঘষা খাচ্ছিল। সে পা থেকে মাথা অব্দি একজন আস্ত উজবুক হয়ে উঠল। এখন কী করবে—বা কী করবে না—তার কোনােটাই ঠিক করার মতাে দশা আর ছিল না।

    মেয়েদের পেটেই মানুষ জন্মায় বলে ওদেরই ভেতর একজন উঠে এসে খুব স্বাভাবিক ভাবে সুবিমলের থরথর করে কাপা হাতখানা ধরে টানল। সুবিমল উঠতে উঠতে ব্যাগটা নিয়ে দাঁড়াল।

    মেয়েটির বয়স তিরিশ হবে। সাঁইত্রিশ হতে পারে। চোখের নীচে কালি বা কাজল কে বলবে। সে চাপা গলায় বলল, ন্যাকা—

    তারপর হ্যাচকা টানে সুবিমল তার সঙ্গে চলে গেল। ছােট্ট ঘর। ছােট্ট জলের কুঁজো। ছােট্ট খাট। তবে সাজানাে। সাঁই সাঁই পাখা। ভারী পর্দার ওপাশেই কলকাতা। বৃষ্টি।

    যদি সারারাত থাকি।

    এই তাে বােল ফুটেছে। তারপর খুব কাজের গলায় বলল, আমরা রাত আটটায় চলে যাব যে

    খচ করে মনে পড়ল সুবিমলের, রাত আটটা চল্লিশে তার গাড়ি। দুর্গাপুর হল্টে থামার কথা স-নটায়। সে বলল, কত দিতে হবে?

    কেন? কিছু বলেনি চিরঞ্জি? চিরঞ্জি কে?

    ন্যাকা! দোরে যার সঙ্গে ওপরে উঠে এলে। আমার ঘাট। ঘর বারাে। সার্ভিস পাঁচ। একটা বিয়ার আনাই?

    কত? ষােলাে টাকা। আমার আবার গলা না ভিজলে কিছু ভালাে লাগে না।

    কে আনতে যাবে? এখানেই আনানাে আছে। পর পর মনে করছ কেন। বসাে।

    খাটে বসল সুবিমল। তার বাড়ি শেয়ালদা থেকে চব্বিশ কিলােমিটার। সেখানে সে একটা পুকুর কাটাবে। পারলে পুকুরের পাড়ে সামনের বর্ষায় সজনে গাছ বসাবে একটা।

    ভকাস করে বােতলের মুখটা খুলে দুটো গ্লাসে ঢেলে একটা সুবিমলকে এগিয়ে দিল। দিয়ে বলল, ভয় করে বুঝি!

    নাঃ! তা কেন? এই তাে খাচ্ছি।—বলতে বলতে লম্বা গ্লাসটা এক চুমুকে ফুরিয়ে দিল।

    মেয়েটি কিন্তু আস্তে আস্তেই খাচ্ছিল। খেতে খেতে ম্যাকসিটা ঘাড়ের কাছে ঢিলে করে দিল। দিয়ে বলল, গরম গরম কাবাব খাবে ? উল্টোদিকের দোকানেই পাওয়া যায়। রাস্তা পেরিয়ে—

    তুমি খেতে পারাে। বলে খেয়াল হল সুবিমলের—এখন তাে ব্যাগের মুখ খুলে একশাে টাকার একখানা নােট বের করতে হবে। ভাঙিয়ে তবে বিয়ারের ষােলাে টাকা, কাবাবের দাম, ঘর ভাড়া—

    মেয়েটা দোর খুলে লােক ডাকতে যেতেই রবারের গার্ডারে পেঁচানাে বান্ডিল থেকে একখানা একশাে টাকার নােট হেঁচড়ে বের করে ফেলল সুবিমল। কাবাব এলে ঠিক বউয়ের মতােই প্লেটে সাজিয়ে দিল মেয়েটি। সুবিমলের নিজের ঘরে বসে বেলপানা খাবার সময় সকালে সে জানলা দিয়ে দক্ষিণ দিককার দিগন্ত দেখতে পায়। মানে দুগগাপুর হল্টের দিগন্ত। যা কিনা অমাবস্যার রাতে অন্ধকারে মুছে যায়। লক্ষ্মীপূর্ণিমা ঝাপসা হলেও দূরে জেগে থাকে। আমি অ্যাতাে খাব না। তুমি নাও। কেন? কী হল? একদম পরিষ্কার।

    আমি টিফিন করেছি বিকেলে। তুমি খাও— মেয়েটি হাঁ করে তারিয়ে তারিয়ে খেতে লাগল। আত্মীয় নয় এমন কোনাে মেয়েলােকের সঙ্গে সুবিমল এই প্রথম বন্ধ ঘরে বসে পােড়ানাে মাংস খাচ্ছিল। কাবাবের রং, মেয়েটির টাকরা, আলজিভের দিকটার রং—একই রকমের। এমনকি ছায়ার ভেতর বােতলের তলানির বিয়ারও একই রঙের। কাবাব মুখেই উঠে দাঁড়াল সুবিমল।

    একি? কোথায় চললে? এক হ্যাচকায় ব্যাগটা হাতে তুলে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল সুবিমল। কোথায়? কোথায় যাবে?

    এখুনি আসছি।-বলেই আঁ আঁ করে পর্দা তুলে সরু সিড়িতে গিয়ে পড়ল সুবিমল।

    নােটের ভাঙানি—বলতে বলতে মেয়েটি সিঁড়ির মুখে। কথাগুলাে কানে ঢােকার মুখে সুবিমলের সামনে পড়ল চিরঞ্জি।

    ক্যা বাবু?

    সুবিমল তাকে প্রায় হুঁ মেরে রাস্তায় পড়ল। অমনি বাড়ির গায়ে চায়ের খুপরি থেকে বাচ্চা ছেলেটা চেঁচিয়ে উঠল, চোর—চোর—

    তখন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের আকাশে তিনখানা মেঘ ছিড়ে গেল।

    অগত্যা ব্যাগ হাতেই দৌড়। জল থেতলে পড়তে পড়তে সুবিমল বাঁ হাতে একটা বারের কাচের দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে পড়ল। সামনেই খালি টেবিল দেখে হাঁপাতে হাঁপাতে বসে পড়ল। হুইস্কি—

    একবার পেছন ফিরে দেখল সুবিমল—বাইরে বৃষ্টি—তবু কাচের দরজাটা ঘেমে আছে।

    শরীরটা যখন ভাসন্ত তখন ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রিকশায় বসল সুবিমল।

    শেয়ালদা সাউথ স্টেশনে ঢুকল যখন—-চাদ্দিক তখন একদম শুনশান। ঝক ঝক করছে আলাে। কিছু রেলপুলিশ। ভেন্ডারদের ঝকার পাহাড় টপকে সুবিমল একটা ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের কামরার হাতল ধরতে পারল কোনােক্রমে।

    উঠবেন না। উঠবেন না। গার্ডের কথা কানেই নিল না সুবিমল। দরজাটা খুলুন। পড়ে যাব যে— যত্ত সব—বলতে বলতে গার্ড দরজা খুলল।

    জলে আর ঘামে ভিজে ভিজে সুবিমল ব্যাগসুদ্ধ ভেতরে ঢুকল। ততক্ষণে ব্যাগের মুখ খুলে গেছে। ভেতরে ওলটানাে নােটের বান্ডিল তার দিকে তাকিয়ে থাকলেও কিছু করতে পারল না সুবিমল। সেই অবস্থাতেই গার্ডের মােটা লগবুকের ওপর ব্যাগটা কোনােক্রমে রাখল। তার গায়ে আর জোর নেই। হুইস্কির সঙ্গে শস্তার কাবাব, বারে খাওয়া কাটলেটের টুকরাে বমি হয়ে গলায় উঠে এল।

    সঙ্গে সঙ্গে সুবিমল ওপাশের দরজার জানলা দিয়ে মাথা বের করে ফেলল। আরে। কী হচ্ছে। খাম্বায় গুঁতাে খাবেন—

    সুবিমল ওয়াক করে বমি তুলতে গিয়েও তুলতে পারল না—খােলা ব্যাগের ডালা দিয়ে একশাে টাকার নােটের বান্ডিল তাকিয়ে আছে। বমি তুলতে গিয়ে পেটে অসম্ভব মােচড় খেল সুবিমল। সেই অবস্থাতেই বলল, আমার কোমরটা শক্ত করে ধরুন গাৰ্ডসাহেব।

    গার্ড দুহাতে সুবিমলকে পেছন থেকে কোমরে জড়িয়ে ধরল।

    এক পশলা বমি করেই মাথাটা আরাে এগিয়ে দিল সুবিমল। আরেক দমক বমি এসে গেল।

    করছেন কী? পােস্টে ধাক্কা খাবেন যে মাথায়— শক্ত করে ধরুন স্যার। আমার ওপরের দিকটাই বেশি ভারি—। গার্ডসাহেব একটু উঠে সুবিমলকে জাপটাতে গিয়ে অসাবধানে পিঠের ধাক্কায় ব্যাগটাকে গুতিয়ে ফেলল। তখন ইলেকট্রিক ট্রেন পার্ক সার্কাস স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।

    সুবিমল ওয়াক তুলে হড়হড় করে বমি করল। গার্ড দেখতে পেল—তার পায়ের সামনেই কামরার মেঝেতেই একগাদা নােটের বান্ডিলে ব্যাগটা উলটো হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।

    সুবিমল তার বমির তেসরা পশলা ওগরাতে গিয়ে একটু কথা বলার ফাক পেল। শক্ত করে ধরবেন স্যার। আমার ওপরের দিকটাই বেশি ভারী—বলতে বলতেও সুবিমল টের পেল তার মাথা এইমাত্র একটা শক্ত খটখটে থাম্বা এক চুলের জন্যে মিস করল। গার্ডের সঙ্গে তার কোনাে সম্পর্ক নেই। তবু কেমন। দুহাতে তার কোমর জড়িয়ে ধরে ডিউটি দিচ্ছে।

    আর তখনই লাইনে দুপাশের ট্যানারির গন্ধের ভিজে দমকার ভেতর গার্ডের মাথাটা ঘুরে গেল। সে দুহাতে নােটের বান্ডিলগুলাে কুড়ােতে লেগে গেল। দু-তিন মিনিটের ভেতরেই বালিগঞ্জ স্টেশন। আর সময় নেই যে—

    ঠিক এই সময় গার্ডের কামরার বাইরে অন্ধকার ভিজে পাটির ওপর দিয়ে ট্রেনটা স্থির করে দেওয়া নিজের লাইন খুঁজে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। ভীষণ জোরে।

    শরীরের ভারী দিকটা কামরার মেঝের সঙ্গে সুবিমলের হালকা দিকের সব সম্পর্ক চুকিয়ে দিল। সে এখন আর কারাে নয়। লাইনের দুধারে অবিচল যেকোনাে থাম্বা এখন তার পরমাত্মীয় হয়ে উঠতে পারত। কামরার বাইরে তার এই শেকড়সুদ্ধ ওপড়ানাের শব্দ ট্রেনের আওয়াজে একদম চাপা পড়ে গেল। চার্দিক অন্ধকার। একই অন্ধকার দুগগাপুর হল্টেও ট্রেনটার জন্যে থানা গেড়ে বসে আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসেরা ৪৫ – সায়ক আমান
    Next Article সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }