Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প379 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সিধু পালের হিমসাগর

    ওপারে হাজিপুরের পাটকলে চিমনির ডগায় এই সাত সকালেই সাদা ধোঁয়া। এপারে পর্তুগিজ গির্জার ঘাটে পা দোলাতে দোলাতে একটা সাদা মতাে বুড়াে গঙ্গার দিকে নজর রাখছিল। এই মাত্র ত্রিবেণীর লঞ্চ কেওটা সাগঞ্জের দিকে ছুটল। তার ভাঙা ঢেউয়ে তখনাে কয়েকটা মেছাে বক ফেউ হয়ে উড়ছে।

    ফাগুনের সকালের আলােয় তাপ। কুয়াশা কেটে যেতে বােঝা গেল একখানা বুকখােলা হা হাভাতে নৌকো জল কেটে কেটে এদিকেই যেন আসছে। গির্জা ঘাটের সাদা বুড়ােটা তা দেখেই উসখুস করে উঠল।

    বুড়াের গায়ে বুকখােলা নীল শার্ট গঙ্গার বাতাসে বেলুন হয়েই দেখা যাচ্ছিল—বুড়াের চামড়া ফোসকা পড়া যেন। হাঁটু ছাড়াই ছাড়াই ধুতি। মাথাটা পাকা চুলে দুধসাদা। সেই মাথা গির্জার ডগার ছুঁচলাে হয়ে পড়া ছায়ার ভেতর এদিক ওদিক নড়ে উঠল—ও ফকির-আজ আবার এলে কেন? | সেই বুকখােলা নৌকোখানা এবার স্পষ্ট। তাতে খালি গা বসে থাকা একটা পেল্লাই লম্বা লােক দূর থেকে ভেসে আসতে আসতেই বলল, তা হয় না পাল মশায়। রােজ লােক ভাড়া করে—করাত ভাড়া করে ফিরে যেতে পারবনি।

    এই বুড়াে সিধু পালের কথার বরখেলাপি হয় না ফকির। কথা দিয়েছি—টাকা আগাম নিলাম—ও গাছ তােমাদেরই ফকির। ওদের কাঠ, শেকড় বাকল—ডাল। পাতা—সবই তােমাদের। আজ আর ফিরছিনে পালমশায়। করাত কুড়ােল, দড়িদড়া নিয়ে এখন ফিরলে ওপারে সবাই হাসবে।—বলতে বলতে ফকিরের নৌকো এসে গির্জা ঘাটে ভিড়ল।

    বুক খােলা বজরা। জনা-ছয়েক লােক লাফিয়ে নেমেই গঙ্গার নাবাল গায়ে লােহার নােঙরটা আছড়ে ফেলে গেঁথে দিল। তারপর ভাসন্ত বজরায় বাঁধা। কাছির ডগা টেনে এসে সে নােঙরে আচ্ছা করে বেঁধে দিল। বজরা তখনাে দুলছিল। দুলছিল বজরার বুকে শােয়ানাে প্রমাণ সাইজের করাতখানা।

    না। হাসবে না ফকির। গাছেরও তাে একটা জীবন আছে। না কি বল ? আজ তােমরা ফিরে যাও।

    টেটিয়া হয়ে দাঁড়াল ফকির। না, আজই করাত বসাব। কুড়ােল চলবে—

    আজ গুরুবার ফকির। তিন তিনটে হিমসাগর গাছ ফেলবে গুরুবারে? গেরস্থর অকল্যাণ হবে যে—কাঠ ব্যাপারী হয়ে তােমার হাত দিয়ে আমার অমঙ্গল ঘটাতে চাও।

    ফকির ব্যাপারীর চোখে পলক পড়ল। সে একই সঙ্গে দুই মনে বলল, তাহলে আজ গাছের তলাতেই কাটাই। খুটো বসাই। দড়িদড়া তাে বাঁধতে হবে। আর—

    আর কী ফকির? | দশ আনা বাগান তাে আপনার বিক্রি হয়ে গেল। মানুষজন বাড়ি বানাচ্ছে। তারা চড়া দর দিয়ে গাছ সুদ্ধ বাগান কিনে নিল তাে এ কবছরে। ঠেকাতে পারলেন!

    এখন সবাই দালান চাষ করে ফকির। বাড়ির পর বাড়ি উঠছে। ফলের চাষ আর থাকবে না দুনিয়ায়—

    বাগান সুদ্ধ জায়গা কিনে গাছকে গাছ ফর্দাফাই। ঠেকাতে পেরেছেন?

    শান্ত গলায় সিধু পাল বলল, যে বাগানে বাবার হাত ধরে ছেলেবেলায় সরি, পেয়ারাফুলি কুড়িয়ে ফিরেছি ফকির—এখন সেখানে দোতলা বাড়ি—পিচ রাস্তা। ইলেকট্রিক পােস্ট!

    তাহলে আর আমাদের কেনা গাছ কাটতে বাদ সাধেন কেন পালমশায় ?

    গঙ্গার গা ধরে জবরদখল জায়গায় ধানের চাষ। একেবারে সিঁথি কেটে চারা বসানাে। সেখানে আলে সাবধানে পা ফেলে ফেলে গির্জার মাঠে উঠে এল সিধু পাল। তার পেছনে করাতখানা চ্যাংদোলা করে তিনজন লােক। করাতের জিভটা তাদের চলার চালে লক লক করে দুলছিল। তারও পেছনে ফকির ব্যাপারী আর জনা-তিন কাঠুরে। কুড়ুল কঁাধে।

    | সিধু পাল কোনাে জবাব দিল না। বাগান রাখতে হলে জোগানদার, আমপাড়া, বাগানদার রাখতেই হবে। রাখতে গেলে টাকা চাই। নইলে লক্ষ্মীছাড়া হাভাতের দল হনুমান হয়ে যা ফলবে সাবাড় করবে। তখন বাগান রাখা-না-রাখা একই।

    তাই খানিক খানিক বাগান বেচে দিয়ে গােটা-চল্লিশেক গাছ বাগান-সমেত বাঁচাতে পেরেছে সিধু পাল। কতদিন আর বাঁচিয়ে রাখতে পারবে—তা সে জানে না। মজুরির যা হালফিলের দর—তাতে ফলফলারির চাষ উঠে যাবে।

    তারই বেচা বাগান জুড়ে বলাগড় রােড আর বুনাে মসজিদের গা ধরে নতুন ছিমছাম বসতি গড়ে উঠেছে। লােকে বলে সিধু পালের বাগানে থাকি। তার মানে আমগাছ সাবাড় করে দিয়ে সেখানে ওদের দালান চাষ হয়েছে। এই বিশ বছরে। তারই কোনােটায় থাকে। যেখানে রেডিয়াে বাজে। টিভি চলে। আগে আগে যেখানটায় দাঁড়িয়ে সিধু পাল হিমসাগরের ডালে ওষুধ দিয়েছে। ল্যাংড়ার পাতায় মুকুল আসার পর ওষুধ ছিটিয়েছে। পাছে মধু লাগে।

    লােকজন নিয়ে ফকির ব্যাপারী হিমসাগর তলায় পুঁজি বাঁধল। তালপাতা, বাঁশ, বড়াে শালপাতার দুই পাটে কুঁজি। মাঝে বাঁশ। পাশাপাশি তিন তিনটে হিমসাগর গাছ। মােটা গােলাই গুড়ি। শির তােলা বাকল। গাছ তিনটের বয়স হয়েছে। তাদের পায়ের কাছে খুটো, কাছি, কুড়ােল পড়ে থাকল। শুধু করাতখানা কাপড়ে মুড়ে কুঁজির পাশে সাবধানে রাখা হল। এবার ফকির ব্যাপারী পান্তার হাঁড়ি বের করবে। খেয়ে নিয়ে তবে কাজে লাগা।

    গাঁয়েই সিধু পালের ভিটে বাড়ি। সে বাড়ির গায়ে গায়ে পুকুর আর বাগান। বাগানে সারি সারি গাছ। গম্ভীর হয়ে দাঁড়ানাে। এখনাে ফাগুনে বাতাস ওঠেনি। সবে মুকুল দেখা দিচ্ছে। গাছেদের হাঁটু অব্দি মরা পাতা ঝরে পড়ে আছে।

    নিজের বাড়ির বারান্দায় বসে সে জানলা দিয়ে দেখতে পেল-ফকির ব্যাপারী কাছেপিঠের কেটে আনা তালের ডেগাে দিয়ে শােবার, থাকার কুঁজি সাজাচ্ছে। ভাড়া করা লােকদের একজন কোদালে ঘাস চেঁছে রান্নাবান্নার জায়গা

    পরিষ্কার করছিল। সিধু পালের বুকের ভেতটা গুড়গুড় করে উঠল। তিন তিনটে বয়স্ক হিমসাগর গাছ কেটে সাইজ করা—নৌকোয় সাজিয়ে ওপারে চালান | দেওয়া মানে দিন কুড়ির ধাক্কা। তারই গােড়াকার কাজকম্ম সাজাচ্ছে ফকির ব্যাপারী। সিধুর বুকের ভেতরেই যেন মড়মড় করে পয়লা গাছটা ভেঙে পড়ল।

    বাপঠাকুর্দার আমলের বাড়ি। ঘরের পর ঘর। ডানদিকটা ঘুপচি হয়ে ভেঙে পড়েছে। উঠোনে বিচি রাখার সবেধন লাউটি মাচায় একা ঝুলছে। শুকনাে গােবরের ভেতর বাঁজা গাই একা দাঁড়িয়ে। প্রাণে ধরে ওকে দূরের মাঠে গিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসতে পারেনি সিধু। এই একদিকে গঙ্গা—আরেক দিকে ব্যান্ডেল ছুঁয়ে চলে যাওয়া রেললাইন—তার মাঝের ঘাটে সে প্রায় আশিটা বছর জুড়ে বেঁচে আছে। এই বাতাসে নাক পেতে রেখে সে আশ্বিনা আমের বউলের কটু বাস ধরতে পারে। মধু লাগাবার জন্যে মৌমাছির ঝাক নয়া সরাইয়ের দিক থেকে ঘূর্ণি খেয়ে উঠে আসছে কিনা—এই বাতাসেই কান পেতে সিধু ধরে ফেলতে পারে।

    ঠিক এমন সময় সিধুর চার ছেলে-ছয় মেয়ের মা—তরঙ্গিনী পাল এসে বলল, উনত্রিশটা টাকা দাও তাে। মনিঅর্ডার করব।

    কোথায় পাঠাবে?

    সে খোঁজে তােমার কী দরকার। তিন তিনটে গাছ বেচে তাে সাড়ে আট হাজার টাকা পাচ্ছ। জানি জানি। সব জানি আমি।

    জেনেছ তাে ভালাে। টাকা অত শস্তা জিনিস নয়। কোথায় পাঠাবে বলতাে?

    তরঙ্গিনী একখানা কাগজ এগিয়ে দিল। এ কাগজ চেনে সিধু পাল। লুধিয়ানার চোরচোট্টারা শস্তায় সেলাইকল, রেডিয়াের লােভানি দিয়ে সারা দেশে এইসব কাগজ ছড়ায়। আর তরঙ্গিনী ওদের একের নম্বরের খদ্দের।

    কাগজখানা ফেলে দিয়ে সিধু বলল, না। হবে না। টাকা নষ্ট করার জিনিস নয়।

    করলামই না হয় নষ্ট। মােটে উনত্রিশটা টাকা তাে।

    আমার একটা টাকাও দামি। নষ্ট করতে হয় ছেলেদের কাছে টাকা চেয়ে নাও।-বলেই সিধুকে উঠতে হয়। গঙ্গার ওপার থেকে এই সময় আঁকে ঝুঁকে পাখি আসে। তারা কচি মুকুল খায়। নষ্ট করে। বউল আসা কমে যায় ফলে। ওদের তাড়াবার জন্যে গাছে গাছে টিনের তঁাডরা বসানাে আছে। নীচে ঝােলানাে দড়ি ধরে টানলেই বিকট আওয়াজ। সেই দড়ি টানতে বাগানে ঢুকে পড়ল সিধু পাল। ঢুকতে ঢুকতেই মনে পড়ল—ছেলেরা তাে তরঙ্গিনীকে একটি টাকাও ছোঁয়াবে না। চকবাজারে গন্ধেশ্বরী ভাণ্ডারে নিজেদের ভেতর কামড়া-কামড়ি করে ব্যবসা করে। বউমায়েরা সব আলাদা আলাদা। ভাগ্যিস মেয়েগুলাে পার করা সারা। আজ তারা সংসারে থাকলে কী হত। সিধু বছরকার চালডাল ধরে দেয়। বাকিটা ওরাই চালায়। কতদিন আর সে এই ভূতের সংসারে চাল ডাল তেল জোগাতে পারবে তার ঠিক নেই। জায়গা বেচতে বেচতে বাগান ছােটো হয়ে এসেছে। অথচ খরচাদার বাগান বজায় করতে জায়গা না বেচেও উপায় নেই। সে আর ভাবতে পারে না। এক সময়কার তিনশাে গাছের বাগান এখন। তিরিশ-চল্লিশটি গাছে এসে ঠেকেছে। বাগানের গা ধরেই নয়া বসতি। লােকজন। নতুন নতুন সংসারপাতি।

    খানিকটা ঢুকে পড়তেই সিধু পালকে তার বাগানের ক্ষীরসাপাতি, ল্যাংড়া, হিমসাগর গাছগুলাে প্রায় গিলে ফেলল।

    সত্তর-বাহাত্তর বছর আগে যে শিস দিতে শিখেছিল সিধু–বাবা মতি পালের হাত ধরে—অবিকল সেই শিস দিয়ে দিয়ে সে গম্ভীর আমবাগানের ভেতর ঢুকবার চেষ্টা করতে থাকল—সত্যিই মুকুলখাের পাখির ঝাক এল কি না। ওরা এসে ঝাঁক বেঁধে গাছের মগডালে বসে। কচি মুকুল কুটুর কুটুর করে খায়। সব গাছগুলােই তার চেনা। আশ্বিনা গাছটায় সবচেয়ে আগে টোকো আমের গুটি ধরে। আচারের জন্যে এ গাছ থেকে আম নেয় চৌধুরী কোম্পানি। নৌসরা আমের কলম তার নিজের হাতে ধরানাে। আঁটির আমের চারার সঙ্গে পেয়ারাফুলি গাছের নরম ডালে সে নিজের হাতে মাটি ধরিয়েছিল। তখন তরঙ্গিনী এতটুকু বউ। বাবা মতিলাল কুঁচড়াে বাজারে মেয়েমানুষের জন্যে ঘর নিয়ে উঠে গেছেন। বাবাকেও মাস গেলে আড়াইশাে টাকা পাঠাতে হত। সিধুর—সেই বাজারে। তখন প্রায় তিনশাে গাছের বাগান তাদের। সে ছেলেবেলায় শােনে—মতি পালের বাগান। তারপর দেখতে দেখতে লােকে বলতে লাগল সিধু পালের বাগান।

    বাগানের জোগানদারদের জন্যে বালতি পড়ে আছে ল্যাংড়া তলায়। ওষুধ মিশিয়ে মরশুমে চার চারবার সারা গাছ ভিজিয়ে দিতে হয়। একবার গাছ ভেজাও। তারপর ডাল পাতা। তারও পর বউল এলে ভিজিয়ে যাও। শেষ ভেজানি গুটি এলে। তাও রক্ষে নেই। মহল্লার কচিকাঁচারা আম পাড়তে আসে। বাধা দিলে চলে? তাদেরও বলতে হয়—নাও বাবারা নাও। পেড়ে খাও। একবার দেখা গেল—তারা যা পেড়েছে—পেড়েছে। বাকি আম ব্লেড ঘষে দাগি করে রেখে গেছে।

    বাগান নাম পেল সিধু পালের। কিন্তু গাছ সমেত জায়গা হাতছাড়া হতে থাকল সিধুর। চার চারটে ছেলে। ছ-ছটা মেয়ে। এদের বিয়ে। এদের হিল্লে। টাকার থলে হাতেও লােক এগিয়ে এল। জায়গা দাও—বাড়ি হাঁকাব। দশ পনেরাে বছরে ময়দানবী কাণ্ড ঘটে গেল। গাছ কেটে—এঁদো ডােবা বুজিয়ে বাড়ির পর বাড়ি উঠতে লাগল। মানুষের মজুরিও বাড়ল—লােভও বাড়ল। ফলে লােভ সবার। মানুষের। ব্যাপারীরও। কচিকাচাদের। পাখি তাে আছেই। আবার মৌমাছিরাও। তারও পরে আছে পােকা। এত দরজা পেরিয়ে তবে সরি, ক্ষীরসাপাতি, ল্যাংড়া, হিমসাগর। এক একটি আম—এক একটি ব্রহ্মাণ্ড। সপ্তকাণ্ড পেরিয়ে তবে সিদুরে রং—আঠা আঠা সুবাস। মুখে দিলে অমৃত।

    পুকুরের মৌরল্লা, মাঠের বিউলির ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে সিধু বারান্দাতেই ঘুমােয়। বিচির লাউটা তাকে দেখে। দেখে বাঁজা গাই। আর দেখে বাগানের পেয়ারাফুলি, সরি, নৌরসা, হিমসাগরের মাথা। সেই সেই ডগায় পাতার এক পিঠ কালচে সবুজ। আরেক পিঠ কিছু ফিকে।

    সারা বাড়িতে দুই প্রাণী। অন্যজন তরঙ্গিনী। কখন খায়—কখন শােয়—তা জানে না সিধু পাল। সন্ধে রাতে আগান বাগান সেরে সিধু এসে বারান্দায় বসে। কথা বলে। একা একাই। কোনােদিন তরঙ্গিনী শােনে। কোনােদিন কথার পিঠে কথা দেয়। কোনােদিন বা পড়ে পড়ে ঘুমােয়। গাই দেখা—হেরিকেন ধরানাের মাহিন্দির লােকটিই ওদের দুটিকে ফুটিয়ে খেতে দেয় দুটি-সদর দোর আটকায়—আলাে নেভায়।

    আমবাগানের ছায়া মাখানাে জ্যোৎস্নায় বসে এক একদিন সিধু পাল তার বাপেরও বাপ-হারু পালের গল্প বলে একা একা।

    কোনওদিন হয়তাে তরঙ্গিনী বলে বসে, সেই হারুকে দেখেছ তুমি?

    আমি দেখব কোথেকে! বাবার অল্প বয়সে তিনি যান। রেললাইন বসাবার মাটি কাটতে এসেছিল পুবদেশ থেকে। তারপর এখানেই থেকে যায়। সাহেবরা কিংবা রেলকোম্পানি তাকে এসব জায়গা দেয়।

    তরঙ্গিনী ফুট কাটে মাঝে। তারপর হারু একদিন নিজের বসানাে আমবাগানে হারিয়ে গেল।

    ভদ্র করে কথা বল। তিনি তােমার দাদাশ্বশুর। ওই হল গিয়ে একরকমের! সিধুর এক-এক সময় সন্দেহ হয় তার বউটার মাথা খারাপ হয়ে যায়নি তাে। আবার মনে হয়—তা কী করে হবে। আমের সময় তাে দিনে দিব্যি বিশ পঁচিশটা খেয়ে বসে থাকে। সিধু নিজে সারাদিনে তেতাল্লিশটা পর্যন্ত আম

    খেয়েছে।

    বিকেল বিকেল চোখ লাল করে ঘুম থেকে উঠল সিধু। উঠে গঙ্গার দিকে তাকিয়ে নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিল সে। ভাগ্যিস ওপারের মতাে এপারেও এলােপাথাড়ি ইটখােলা গজায়নি। ইটখােলার আগুনের হলকা বাতাসে বাগানের বউল ঝলসে যায়।।

    সন্ধে হয় হয়। সরস্বতী পুজোর পর দুটি সপ্তাহ গেছে। হিমসাগর তলায়। ফকির ব্যাপারীর মাটির খোঁড়া উনুনে শুকনাে কাঠে আগুন দিল ফকির। আগুনের বাইরেই অন্ধকারে চাপ ধরে আমবাগান দাঁড়ানাে। বাগান কেটে নয়া বসতির ঘরে ঘরে ইলেকট্রিক আলাে, রেডিয়াের গান—আর টিভি-তে বাজনা, কথা, ছবি। এক একটা আস্ত বাগানের জায়গায় মানুষজন কলকল করছে।

    ছেলেরা দোকান করে ফিরতে ফিরতে রাত হয়। বউমায়েরা সবাই দোতলার বাসিন্দা। ওরা এখন আলাদা আলাদা কেটলিতে চা খাবে। বড়াে বউমা ঠক করে এক কাপ চা সিধুর সামনে রেখে যাবে।

    ফকির ব্যাপারী ডালে সম্বরা দিয়ে অন্ধকার বাগানের দিকে তাকিয়েছিল। সে এখানে এলে কাঠের একটা আন্দাজ পায়। কোনাে কোনাে গাছ এতই পুরনাে—যারা আর আম দেয় না —বাকল ফেটে মােটা গুড়ির গােলাই গা বেরিয়ে পড়েছে—নানান পােকায় অবিরাম কুরে কুরে খেয়ে চলেছে তাদের গাথাবড়া মারলে ঝুর ঝুর করে কাঠের পাউডার পড়তে থাকে সেখান থেকে।

    আচমকা সে তাকিয়ে দেখে খােদ পালমশায় তার সামনে দাঁড়িয়ে। সঙ্গে সঙ্গে সে বলে, চাদ্দিকে নগর বসে গেছে পালমশায়। এ বাগানের যাও বা ধরে আছেন—তা ফসকে যাবেই—দেখবেন আপনি! সব জুড়ে ঘর-গেরস্থি বসে যাবে।

    এসব কথা ফকির বলে—আর মনের ওপর বসানাে চোখে সে দেখতে পায়—সারা বাগান তার করাতে কুড়ুলে ঢলে পড়ছে। এক একখানা গাছে। হাজারখানা করে পিড়ি হচ্ছে। হচ্ছে পিলসুজ। আলনা। চৌকি। ফকির ব্যাপারী নিজের বুকের ভেতর পেয়ারাফুলি, হিমসাগরদের ঢলে পড়ার মড়মড় শব্দ টের পায়। বড়াে সুখের শব্দ। সচ্ছল শব্দ। বুকের ভেতর ক্ষীরের পাটালি ভাঙার শব্দ।

    তখনাে সিধু পাল মুখ খুলছে না দেখে ফকির বড়াে আশায় আশায় বলল, পালমশায়—আপনার অনেক গাছের মগডাল দেখে দেখে সারাদিনে বুঝলাম

    কী বুঝলে ? বয়সের ভারে—তােয়াজের গাফিলতির দরুন ওসব গাছ ফোপরা হয়ে আছে। ফল তাে দেবেই না—

    তাতে কী হল! ঝুটমুট বাগানের জায়গা দখল করে আছে এক একটা আলিসান গাছ। গঙ্গায় এখন ভরা জোয়ার। গির্জার মাঠের ঘাটে জল এসে অনবরত তড়পাচ্ছে। সেখান থেকে জল ভাঙার শব্দ বাতাসে এতদূরে চলে আসছিল। শব্দটা যেন সিধুর মনের ওপর ঘুরে কিরে মাছি হয়ে বসতে চাইছে। সিধু পাল কিছুতেই তাড়াতে পারছে না। তার মন অন্য কোথায় বিমনা হয়ে পড়ে আছে। তাই আচমকাই তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল অন্য কথা। একদম অন্যদিক থেকে।

    দ্যাখাে ব্যাপারী। এবারে তােমরা ফিরে যাও।

    ফকির উঠে দাঁড়াল। বলেন কী পালমশায়?

    হা। ফিরে যাও | আমার বাগানের ফোপরা গাছের স্বপন দেখা ছেড়ে দিয়ে এবার তােমরা ওপারে ফিরে যাও—গাছ দেখলেই মনে মনে করাত শানানাে ছাড়াে। বয়স তাে হল। ওপরে গিয়ে কী জবাবদিহি করবে!

    বাঃ! তিন তিনবার নানান ওজরে আমায় ফেরালেন। এবার আমি ফিরছিনে পালমশায়—

    টাকা দিয়েছ। গাছও তােমার রইল। সময় হলে কেটে নিয়ে যাবে। এ তিনটে গাছই বাবার নিজের হাতে বসানাে ফকির। এক সময় আমে ঢেকে যেত। আঁটির চারার সঙ্গে কলমের ডালে মাটি ধরাত বাবা। তারপর ধরানাে গাছ মাটিতে বসলে আঁটির চারাটি নিজের হাতে কেটে দিত। তােমার নামে তাে রােকড় খাতায় তােলা রইল গাছ তিনটে। আমি যদি চোখও বুজি ছেলেরা কোনাে আপত্য করতে পারবে না ফকির নাতি-নাতনিরা দোতলার বারান্দায় ধামসাচ্ছে। ঝাঁপুনি, কঁদুনির আওয়াজ সারা পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ছিল।

    তার ভেতরই ফকির ব্যাপারী বলল, তা হয় না পালমশায়। কাল ভােররাতেই করাত পড়বে।

    ফকিরের গলা এমন অমােঘ-—যেন কোনাে মােষ আগড় ঠেলে শিং সমেত বড়াে মাথাটা সিধুর বুকের ভেতর সেঁধিয়ে দিল।

    সিধু পাল বলল, তবে শােনাে ফকির—এট্টা গল্প বলি। এ আমার ঠাকুর্দা হারু পালের নিজের জীবনের কথা।

    আগের বারও আপনি সাত সতেরাে গল্প করে রাত্তির কাবার করে দিলেন। শেষে বললেন—এবার নয় ফকির-আরবারে এসাে।

    আরে শােনােই না গল্পটা। আমিও খুব ছােটোবেলায় শুনতাম-হারু পালের বাগান। তা হারু পাল আমার জন্মের কত আগেই ফৌত! কিন্তু তার বসানাে শ-তিনেক গাছের বাগানে জন্মে ইস্তক ঘুরে বেড়াই—পাখির ডাক শুনি— মৌমাছিদের চাপ ধরে ঘূর্ণি খেতে দেখি। আর আম খাওয়ার কথা যদি বল তাে আমি বলব—আম খাইনি-আমের বাগানে সাঁতার দিতাম। সেই বয়স থেকেই বাগানের জোগানদার, বাগানদার, আমপাড়াদের সঙ্গে আমার ওঠাবসা। তখন আমার বাপ মতি পালের আমল।

    গল্প শােনার ইচ্ছে ছিল না ফকির ব্যাপারীর। কিন্তু সেও দেখল—শুধু সে-ই শুনছে না—তার সঙ্গে গােল হয়ে বসে শুনছে ভাড়া করা লােকজনও। ফকির তবু দাবড়ে উঠল, রাত হচ্ছে—ভাতটা বসিয়ে দে রাখাল—

    সিধু পাল দেখল—রাখাল নামের লােকটা খুব সম্ভব কাঠুরেদের কেউ হবে। দিব্যি তাগড়া—হাড় হাড় হাত-পা। সে তার কথায় কান রেখে ভাত বসিয়ে দিল। কাঠের আঁচও উশকে দিল। হাঁড়ির মুখ খানিক ফঁক রেখে সরায় ঢাকল।

    আমি বালক বয়স থেকেই বাগানদার, জোগানদার, আমপাড়াদের সঙ্গে বাগানে বসে বসে গল্প করি। খুনখুনে বুড়াে এক জোগানদার ছিল ঠাকুর্দার আমলের। বােধহয় হারু পালের সঙ্গে রেললাইন বসাবার মাটি কাটতে এসেছিল। সেই বলেছিল—তােমার ঠাকুর্দা কি এত গাছ নিজির হাতে বসিয়েছে? তাই ভাব বুঝি!

    অবাক হয়ে জানতে চেয়েছি—তবে কে বসাল ? হুঁ হুঁ। সেই তাে মজা। তােমার ঠাকুর্দা হারু পাল গাছ চালান দিত।

    সে কীরকম? ধরাে উঁচড়াে কোর্টে হারু গেছে মামলা করতে। আদালতের হাতায় ভারী সুন্দর একটা ল্যাংড়া গাছ দেখল। কলমের ঝাকালাে গাছ। আর দু-বছরের মাথায় ফল আসবে। হারু পাল রাতারাতি সে গাছ চালান দিয়ে দিল নিজেরই বাগানে। আর উঁচড় কোর্টের হাতায় চালান দিয়ে দিল নিজেরই একটা টোকো আমগাছ। কাছাকাছি চেহারার বলেন কী পালমশায় ?

    কাঠুরেদের একজনের চোখ গােল হয়ে গেছে। তার চোখে চোখ রেখে সিধু পাল বলল, আগে তাে গঙ্গার আকাশে সারারাত ধরে আমগাছ চালাচালি হত। হাজিপুরের হিমসাগর যাচ্ছে ক্যাওটা সাহাগঞ্জ। নয়াসরাইয়ের ল্যাংড়া চলল নৈহাটি। এই ভাবেই চালান হত সব সারারাতি। একটা গাছ চালান দিলে তাে সে জায়গায় আরেকটা ফিরতি চালান পাঠাও। বাগান তাে আর খালি থাকতে পারে না।

    গল্পে গল্পে ভাত কখন ভুগ-ভুগ করে ফুটে আপনা আপনি থেমে গেছে। গির্জার ঘাটে জলভাঙা কিন্তু থামেনি। তার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ এখন অনেক স্পষ্ট। দোতলার ঘরে ঘরে সিধু পালের ছেলেরা ফিরেছে। এখন তারা যে যার আলাদা করে উপহারের প্যাকেট খুলবে। মেয়েকে দেবে। ছেলেকে দেবে। ঘুম থেকে তুলে। কেক, লবেথুস। তালমিছরি। তার মানে যে ছেলে যেমন পেরেছে এজমালি গন্ধেশ্বরী ভাণ্ডার থেকে মাল সরিয়েছে—দোকানের গােড়া কেটে আগায় জল দিচ্ছে।

    গাছ চালাচালির কথায় ফকির ব্যাপারীর মুখ ছুঁচলাে—চোখ ছােটো হয়ে এসেছে। সে ভাবছিল, গঙ্গার আকাশে গাছগুলাে হুগলীঘাট, ব্যান্ডেল স্টেশনের লােকাল ট্রেনের মতাে যাতায়াত করছে। একটা পাতা কিংবা ফলও খসে পড়ছে না নীচের জলে! শেকড় বাকল সমেত আস্ত আস্ত গাছ চালান হয়ে যাচ্ছে। এ বাগান থেকে ও-বাগানে। কেননা, একটা চালান দিলে বদলি আরেকটা ফিরতি চালান তাে পাঠাতে হবে। পুরােটা ভাবতে গিয়ে ফকির ব্যাপারীর মাথা ঘুরে যায়। কী আশ্চর্য কাণ্ড! তার ঘিলু টিপটিপ করে।

    যা চেয়েছিল সিধু পাল—তাই ঘটতে চলেছে। চুলাের আগুনের লাফালাফি আলাের বাইরেই অন্ধকার বাগান—একটু দূরে ভদ্দরলােকদের সব বাড়ি—সেসব বাড়িতে মানুষজনের কলকল, গির্জার ডগায় লাল আলাের ডুম, নদীর ওপারে সারি সারি ঘরবসতির আলাের চাঁদমালা—আর মাথার ওপর চঁাদের টিপ পরানাে একখানি ফরসা মতাে আকাশ। এর মধ্যিখানে লম্ফ জ্বলা হিমসাগরতলা। সেখানে সারাদিন খাটাখাটুনির পর ফকির ব্যাপারীর জন ছয় ভাড়া করা লােকের ঢুলু ঢুলু চোখ।

    সিধু পাল চাইছিল, ওরা আরও বেশি করে ঢুলে পড়ুক। তখনই তার আসল কথা পাড়বে। এবারের মতাে এসাে। আরবার দেখা যাবে। গাছ তিনটে তাে তােমারই ফকির। কিন্তু এখনই কেন?

    তার আগে আরও ঘুমপাড়ানি অথচ আরও সম্ভ্রম জাগানাে ঘটনাগুলাের সব ঘনঘটা করে আসা দরকার। সিধু পাল তাই চুলাের পাশেই বসে পড়ল।

    একথা আমি প্রথম শুনি আমার পিতা ঈশ্বর মতি পালের মুখে। তিনি শােনেন—তার পিতা ঈশ্বর হারু পালের বয়ানে—

    হারু পাল একদিন হাল দিচ্ছিলেন। পাওয়া জমিতে তিনি নিজেও পরিশ্রম করতেন খুব। তাতেই আসলে জমিজায়গা সযুত হয়ে আমবাগানের যােগ্য হয়ে ওঠে একথা এদিককার কে না জানে! | দম নিয়ে সিধু পাল সবার মুখে তাকাল। হা—যেমনটি চাওয়া তেমনটি হয়ে উঠছে মুখগুলাে, ছুঁচলাে। গােলালাে। সম্ভ্রমে একাগ্র—একমুখাে। আর চোখগুলাে ঢুলু ঢুলু।

    তা হাল দিতে দিতে খিদে পেয়েছে। দিনের বেলা। মুখ তুলে হারু পাল দেখেন—একটি ল্যাংড়া গাছ চুঁচড়াে-মানকুণ্ডুর দিকে উড়ে যাচ্ছে।

    ফকির ব্যাপারী সামান্য অবিশ্বাসের গলায় জানতে চাইল, দিনের বেলাতেই চালাচালি ?

    তবে না তাে কী? এ কি হারু পালের চালান !! তবে? শােনােই না সবটা। হারু পাল তাে এক ডাকে উড়ন্ত গাছটি নামাল। ল্যাংড়ায় গাছের পাতা দেখা যায় না। নামানাে গাছ থেকে অপূর্ব সুন্দরী চার পরী নেমে এলেন মাঠের মাঝখানে। রূপে তারা ফেটে পড়ছেন। গনগনে দুপুরে।

    এক পরী এগিয়ে এসে বলল, আমাদের নামানাে হল কেন? হারু পাল গলায় গামছা দিয়ে জোড়হাত করে বললেন, অপরাধ নেবেন মা লক্ষ্মীরা। খিদে পেয়েছে—-আমরা তাই চার গণ্ডা আম নিচ্ছি। তারপর আপনারা যেমন উড়ে যাচ্ছিলেন তেমনি উড়ে যাবেন—

    আম ক-টা ছিড়ে নেবার পর একটি মুখে দিয়ে তার সােয়াদে মুখ ভরে গেল হারু পালের। তিনি জানতে চাইলেন, কোথেকে আসা হচ্ছে? এ আম কোন বাগানের মা?

    পরীদের একজন মিষ্টি মিহিন গলায় বলল, অশােকবন। লঙ্কার— কোথায় যাবে?

    অযােধ্যায়। সীতার কাছে। তারই পছন্দের গাছ ছিল কিনা লঙ্কায়। রাবণের বাগানে থাকতে লঙ্কায় এই ল্যাংড়াই মনে ধরে সীতার।

    পরী বলে কথা। তাই দিনে দিনেই চালান। হারু পাল বুঝদার মানুষ ছিলেন। জানতে চাইলেন, রাম সীতা তাে সে অনেক আগের যুগের ব্যাপার মা লক্ষ্মী?—এ পর্যন্ত বলে সিধু পাল দেখল, ফকির ব্যাপারীর দুই চোখ ঢুলুঢুলু না হয়ে বরং ঢেলা ঢেলা হয়ে বেরিয়ে পড়ার জোগাড়।

    ফকির ব্যাপারী বলল, আপনার ঠাকুর্দা তাে খুব স্যায়না মানুষ ছেলেন। ঠিক খেয়াল হয়েছে। সীতার পছন্দ ল্যাংড়া তাে তাহলে সত্যযুগের ল্যাংড়া হবে

    শােনােই না বাকিটা। ঠাকুর্দার কথায় সেই সুন্দরী পরী একটুও ঘাবড়ালেন।

    বললেন—আমরা পাঁচ হাজার বছর লেট হয়ে গেছি হারু। নাও এবার গাছ ছাড়াে। দিনে দিনেই এতটা পথ যাব।

    ফকির জানতে চাইল, তখন?

    তখন আর কী! পরীর আদেশ। সীতার জন্যে চালান দিয়ে নিয়ে যাওয়া উড়ন্ত ল্যাংড়া গাছ কে আটকায়? কার সাধ্যি? শনশন করে গাছ উড়ে গেল মধ্যি আকাশে। তারপর বাঁই বাঁই। চোখের নিমেষে সব উধাও। সেই ল্যাংড়ার আঁটি থেকে চারা করে আমার ঠাকুর্দা কলম ধরান—কলম বসান—তবেই না এত গাছ ফকির।

    পরী, সীতা, উড়ন্ত ল্যাংড়া, সত্যযুগ, পাঁচ হাজার বছর আগের অশােক বন—সব মিলিয়ে ফকির ব্যাপারী তখন গল্পের রঙিন জালে জড়িয়ে গেছে। ঠিক এই সময়েই ঠিক যখন যুক্তি জাল খাড়া করতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে ফকির—তখনই সিধু পাল তার মােক্ষম কোপটি ঝােপ বুঝে মারবে ঠিক করেছিল।

    কেননা, এমন নানা ছবিতে বিছানাে রঙিন জালে ফকির ব্যাপারী ঠিক এই সময়টাতেই একেবারে কুপােকাত হবে—এ তাে সিধু পালের জানা। পাঁচ হাজার বছর পিছিয়ে থাকা পরীদের জন্যে এখন কোতথেকে আসবেন সীতা? কোথায়ই বা থাকবে সেই অযােধ্যা?-—এসব প্রশ্ন ফকির ব্যাপারী কিছুতেই সাজিয়ে তুলতে পারবে না।

    আর ঠিক এই সময়েই সিধু পাল বলে বসত—এবারের মতাে ঘুরে এস ফকির। গাছ তাে রইলই। না হয় আরবারে এসেই করাত ধরাবে—

    কিন্তু তার এসব বলার আগেই দোতলার জানলা দিয়ে বড়াে বউমা ডাকল, ভাত বেড়েছি বাবা | টং করে সিধু পালের মনে পড়ল, তাহলে তাে মহিন্দর আজ ভাত ফোটায়নি। এজমালি সংসার থেকে বড়াে বউমা খাবার ব্যবস্থা করেছে। এক্ষুনি ছুটে যেতে হয়। নইলে বাড়া ভাত সুষ্ঠু বগি থালাখানা দালানে কোনাে বউমার পেয়ারের বেড়ালের ভােগে চলে যাবে। বড়াে বউমা তাে ভাত বেড়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার লােক নয়।

    ছুট। ছুট। আজ নিশ্চয় ভালােমন্দ রান্না হয়েছে দোতলায়। বড়াে ছেলের ঘরে।

    খেয়েদেয়ে আর বেরােনাে হল না সিধু পালের। ঘরেও ওঠা হল না। ফল পাকুড়ের ভেতর বেড়ে ওঠা—গড়ে ওঠা শরীরখানা একতলার বারান্দাতেই ছেড়ে দিল সিধু পাল। লাউডগা দিয়ে হরিণে চিংড়ির ঝােল। গাটি কচুর ডালনা। ঝাল ঝাল। আর মুগডাল। খেয়ে তৃপ্তিতে তার সারা শরীর অবশ হয়ে এল। চোখ ঢুলে পড়ল। ভাতের পাতেই আঁচিয়ে এক ফেরাের সবটা জল খেয়ে সে গা ছেড়ে দিল বারান্দায়।

    অনেক পরে-নিশুতি রাতে সিধু পাল টের পেল—কে যেন তাকে ডাকছে। কিন্তু নাম ধরে।

    ঘুম চোখে তাতেই কিছু খটকা লাগল। সিধু। ও সিধু।

    যাই—বলে ঠেলে উঠল সিধু পাল। ডাকটা সদর দরজার বাইরে। উঠে বসেই সে বলল, কে?

    আরে আমরা। আমরা ছাড়া কে ডাকবে তােমায় এমন সিধু সদর দরজা খুলে বাইরে এল।

    এসেছ? এসাে। আমরা তিনজনই তােমার বাপ মতি পালের হাতে বসানাে কলম

    একথায় খচ করে মুখ তুলে তাকাল সিধু।

    গাছ তিনটে রাত ফাটানাে জ্যোৎস্নায় একটু একটু দুলছে। আর কদিন পরেই দোল পূর্ণিমা।

    এসাে। এখানে এসাে সিধু। আমরা তিনজনই তােমার চেয়ে বয়সে বড়াে সিধু সিধু পাল বেশ ভয়ে ভয়েই সেই তিন হিমসাগরের তলায় এসে দাঁড়াল।

    তােমার জন্মের তিন বছর আগে মতি পাল আমাদের বসায়। নইলে তােমায় নাম ধরে ডাকতে পারি সিধু! আমরা তােমার বড়াে ভাই সিধু

    পরিষ্কার লতাপাতা জড়ানাে গলা। সিধুর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসার জোগাড়। সে বুঝতে চাইল—সে জেগে আছে? —না, স্বপ্ন দেখছে?

    না। সে জেগে আছে। ঘুমােচ্ছে ফকির ব্যাপারী আর তার ভাড়া করা লােকগুলাে। এলােমেলাে হয়ে ছড়িয়ে পড়ে ঘুমােচ্ছে। চুলাে নেভানাে। লম্ফটা জ্বলে জ্বলে নিভে গেছে। উঠোনে বাঁধা বাঁজা গাইটার কানের লটর পটর আওয়াজ। কিন্তু গঙ্গায় জলের সে শব্দ এখন অনেক কম। শেষ রাতেই তাে ঊটার শুরু। সামনে চাপ ধরা অন্ধকারে সারি সারি গাছের আমবাগান।

    সিধু পাল বুঝল, কাল ভােরে উঠেই ফকির ব্যাপারী করাত ধরাবে। তাকে কেউ আর আটকাতে পারবে না তখন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসেরা ৪৫ – সায়ক আমান
    Next Article সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }