Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভূতগুলো সব ভয় দেখায় – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প976 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ধোঁয়া – শোভন সোম

    সম্পাদক মশাই,

    আপনার ফরমাশ মতো গল্প লিখতে বসে অনেক কাগজ নষ্ট করেছি। অনেক প্লট মাথায় ঘোরাফেরা করছে, কিন্তু লিখতে বসলেই কোন এক অদৃশ্য শক্তি বারবার আমার কলমকে এমন এক ঘটনার দিকে চালনা করছে, যে ঘটনার কথা আমি আজ পর্যন্ত কাউকে বলিনি। ঘটনাটি অতি ব্যক্তিগত। আপনি জানেন, ত্রিভুজ প্রেমের মূলে থাকে কিছু ঈর্ষা, কিঞ্চিৎ হীনমন্যতা বোধ। আপনি এও জানেন, ত্রিভুজ প্রেমের পথ কণ্টকসংকুল না হলেও বঙ্কিম তো বটেই। এই ধরনের প্রেমের পরিণতিতে একজনের হার ও একজনের জিত হয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যাকে হার মনে হয় আসলে তা জয় এবং অনেকে জিতেও হেরে যায়। যে হেরে যায় সে হেরে গিয়েও ছায়ার মতো, হাওয়ার মতো, আলোর মতো, গন্ধের মতো বাকি দু—জনের মাঝখানে বর্তমান থাকে। ত্রিভুজ প্রেমে তৃতীয় ব্যক্তিটির ভূমিকাও তেমনি।

    সম্পাদক মশাই, ধান ভানতে শিবের গীত অনেক গাওয়া হল। আসল কথায় এবার আসি। এই কাহিনি নারী সম্পর্কিত এবং সেই নারী অগ্নি—চন্দ্র—সূর্যকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করা আমার স্ত্রী।

    আমার ফুলশয্যার রাতের অভিজ্ঞতা আদৌ সুখকর হয়নি। পরদিন সকালে বারান্দায় বসে বিনিদ্র রাতের ক্লান্তি দূর করবার জন্য দ্বিতীয় কাপ চা পান করছিলুম। ঝি—চাকরেরা পোর্চে দাঁড় করানো গাড়িতে মিষ্টির হাঁড়ি তুলে রাখছিল। উৎসব বাড়ির উদবৃত্ত মিষ্টান্ন আত্মীয়—বন্ধুজনের বাড়িতে বিতরণের রীতি আছে। ড্রাইভার রামদুলারে ইতিমধ্যেই মিষ্টি বিতরণের দুটো ট্রিপ দিয়ে এসেছে। এবারও সে স্বভাবতই তার গন্তব্যস্থল জানতে চাইল। আমি বারান্দা থেকেই গলা চড়িয়ে জানতে চাইলুম : মা, রামদুলারে কোথায় যাবে, বলে দাও!

    মা সম্ভবত কাজে ব্যস্ত ছিলেন; ভেতর থেকে জবাব দিলেন, সইয়ের বাড়িতে।

    আমি রামদুলারেকে বললুম, অমলদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এসো। রামদুলারে আমার নির্দেশ শুনেও চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল দেখে আমি চটে গেলুম : দাঁড়িয়ে আছ কেন? যাও।

    রামদুলারে জবাব দিল, ভাই সাব, মিষ্টিগুলো তুলে নিতে বলুন। এখন পাঠানো ভালো দেখাবে না।

    একটা সন্দেহের কাঁটা রামদুলারে আমার মনে বিঁধিয়ে দিল। ব্যাপারটা অনেকেই জানে। তা বলে একটা মাইনে করা ড্রাইভারের এমন আস্পর্ধা! অমলের সঙ্গে না—হয় অনিতার ভালোবাসাবাসি ছিল, তবু অনিতা আমার বিবাহিতা স্ত্রী এখন। মা তাঁর সইয়ের বাড়িতে মিষ্টি পাঠাচ্ছেন, অমলের জন্যে নয়।

    রেগে অস্থির হয়ে আমি চেঁচিয়ে উঠলুম, ভালোমন্দ বিচার তোমার কাজ নয়, রামদুলারে। তোমাকে যা বলা হচ্ছে, তা করো।

    সে শান্ত স্বরে বলল, আপনি একটু মাতাজিকে আসতে বলুন। আর মিষ্টিগুলো এ অবস্থায় পাঠাবেন না।

    আমাদের কথাবার্তা শুনে মা নিজেই বেরিয়ে এলেন।

    রামদুলারের সঙ্গে মা—র কথাবার্তা শুনে হতচকিত আমি দ্রুতপায়ে দোতলায় নিজের ঘরটিতে পালিয়ে এলুম। ঘরভরতি যৌতুকের জিনিসপত্র, টাটকা তাজা দোকান—দোকান গন্ধ আর সকালের ঝকঝকে আলো। আমি বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লুম। এরপর এখানে আর থাকা যাবে না, কালই বোম্বেতে ফিরে যাব এবং অনিতাকে সঙ্গে নিয়েই।

    কিছুক্ষণ বাদেই অনিতা ঘরে ঢুকল। ওর সর্বাঙ্গে সুস্নাত স্নিগ্ধতা। ওর দিকে তাকিয়ে মনে হল, অনিতা যেন রূপকথার মানবী। দৈনন্দিনতার মধ্যেও এক দুর্জ্ঞেয় রহস্যে নিজেকে সে আবৃত করে রাখে।

    অনিতা ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছিল। আয়নায় আমি ওকে দেখতে পেলুম। দেখলুম তার চোখে রাতভর কান্নার চিহ্ন অবগাহনেও ধুয়ে যায়নি।

    হালকা প্রসাধন সেরে অনিতা বলল, তুমি একটু উঠে ওই চেয়ারটায় বসবে! আমি বিছানা তুলব।

    আমি হাত বাড়িয়ে ওর একটা হাত ধরলুম। ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বললুম, মিষ্টি কুল আমার ভুল হয়েছে; রাগ করো না।

    অনিতা তেমনি দাঁড়িয়ে থেকে বলল, ভুল তোমার নয়। যা চেয়েছিলে, দিচ্ছি।

    না, মিষ্টি কুল, ওগুলো তোমারই থাক। আমি দেখতে চাই না।

    ওর কোনো ভাবান্তর আমার চোখে পড়ল না। আর ওর হাত ছেড়ে দিয়ে উঠে চেয়ারে বসলুম। ও শান্ত ভাবে বিনা তুলতে লাগল।

    অমল গত রাতে এসেছিল। আমি তাকে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠছিলুম। উচ্ছ্বসিত নয়, উল্লসিত হয়েছিলুম। তাকে নিয়ে গিয়েছিলুম অনিতার কাছে। লাল বেনারসিতে, গয়নায় কনেচন্দনে অনিতাকে দেবীর মতো দেখাচ্ছিল। আমি বলেছিলুম, দেখ, কে এসেছে।

    অনিতা চোখ তুলে তাকায়নি। অমল নীরবে অনিতার হাতে একটা নীল ফিতে বাঁধা মোড়ক তুলে দিয়েছিল। তারপর সে বহু অনুরোধ—উপরোধ অগ্রাহ্য করে না খেয়েই চলে গিয়েছিল। যাবার সময় বাইরে গিয়ে আমার দুটি হাত ধরে বলেছিল, ‘তমাল, তুই সুখী হ’।

    আমি মনে মনে হেসেছিলুম। মনে হয়েছিল, ব্যর্থ প্রেমিকের আত্মপ্রসাদ— আহা, এতেই যদি তার মন ভরে তো ক্ষতি কি।

    রাত বারোটা নাগাদ খাওয়া—দাওয়ার পালা চুকে যাবার পর যখন নিজের ঘরে এলুম, তখন ঘর শূন্য। কিছুক্ষণ বাদে বউদি অনিতাকে নিয়ে এল।

    ভাই, তোমাদের আর জ্বালাতন করব না। অনেক রাত হল। এবার নিজের মানুষ বুঝে নাও।

    বউদির রসিকতার জবাব দেবার মতো মনের অবস্থা ছিল না। আমি গিয়ে তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে দিলুম। অনিতা ততক্ষণে এসে বিছানার পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি একটানে ওকে কাছে এনেই জানতে চাইলুম অমল কী দিয়েছে!

    অনিতা নিরুত্তর রইল।

    কই, দেখাও।

    অনিতার চোখ থেকে কান্নার বিন্দু উপচে পড়তে লাগল : সবই তো তুমি জানো।

    আমি জানতুম, অমল অনিতার লেখা প্রেমপত্র ফিরিয়ে দিয়েছিল। ব্যর্থ প্রেমিকরা কখনো কখনো এমনি উদারতা দেখায়। আমি শ্লেষের স্বরে বললুম, এই নাটুকেপনার কী প্রয়োজন ছিল আজ! এই ঢং অন্তত আজকের দিনে সে না দেখালে কি পারত না!

    অনিতা কান্না—ভেজা স্বরে বলল, তুমিই আমার সর্বস্ব।

    মনের জ্বালা যেন বিছুটির জ্বালা, কিছুতে যেতে চায় না। আমি সেই জ্বালার বশে কথার পিঠে কথা তুললুম : দেখ, কথা দিয়ে মন ভিজিও না।

    আমার বাকি রাত মনের জ্বালায় জ্বলে পুড়ে শেষ হল। ভোরের আলো স্পষ্ট হতেই রাতের সেই অপ্রসন্নতার জন্যে নিজেরই খারাপ লাগল। খামোকা আমি কেন সেন্টিমেন্টাল হতে গেলুম। জীবনের স্মরণীয় একটি রাত ব্যর্থ হয়ে গেল একজন তৃতীয় ব্যক্তির জন্যে। নারীর স্বামীত্বের প্রশ্নে পুরুষ চিরকাল নির্মম, নির্লজ্জ, সন্দেহপরায়ণ ও ঈর্ষাকাতর—জগতের এই সনাতন সত্য আমিও অগ্রাহ্য করতে পারিনি। যদি পারতুম, তবে অমলকে ক্ষমা করতুম আর ফুলশয্যার রাতের সব মাধুর্য আকণ্ঠ পান করতে পারতুম।

    দুপুরবেলা মা—কে নিভৃতে ডেকে বললুম, মা, আমি কালই চলে যাব। অনিতাকেও নিয়ে যাব।

    আমার ছুটির মেয়াদ তখনও ফুরোয়নি। অনায়াসে আরও চারদিন থাকতে পারি। ফেরা যাত্রা সেরে যাব, এটাই মা জানতেন। বোম্বেতে একটা ঘর নিয়ে থাকি, বড়ো ফ্ল্যাট না—পাওয়া পর্যন্ত অনিতা মা—র কাছে থাকবে কথা ছিল। হঠাৎ আমার অমন প্রস্তাবে মা স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট হলেন, তোদের রাজ্যি ছাড়া কাণ্ডকারখানা আমি বুঝি না। তোরা যা খুশি তাই কর।

    মা—র কথায় কী ইঙ্গিত ছিল, বুঝতে আমার কষ্ট হয়নি। অমলের সঙ্গে অনিতার ভালোবাসাবাসির কথা জব্বলপুর সুদ্ধ সব বাঙালি জানে। অমলের মা আমার মায়ের ছোটোবেলার সই। এলাহাবাদের মেয়ে দু—জনই। দু—জনেরই বিয়ে হয়েছিল জব্বলপুরে। দুই পরিবারে যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা ছিল। মা তাই এই বিয়েতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপত্তি করেছিলেন।

    আমি আর অমলও ছোটোবেলা থেকে একসঙ্গে পড়েছি একেবারে এমএ পর্যন্ত। আমরা রবার্টসন কলেজে যখন থার্ড ইয়ারে পড়ি, তখন অনিতার বাবা জব্বলপুরে স্টেশন মাস্টার হয়ে এলেন। অনিতা তখন ম্যাট্রিকের ছাত্রী। পনেরো বছর বয়েস। দু—বিনুনি বেঁধে শাড়ি পরে রিকশায় চড়ে রাইট—টাউনে স্কুলে যেত। আমাদের উনিশ বছরের উঠতি যৌবনের চোখে নেশা ধরানোর মতো ওই বয়েস ছিল যথেষ্ট। আমরা সাইকেলে করে কলেজে যাবার পথে রোজ রিকশায় ওর দেখা পেতুন। স্টেশন মাস্টারের মেয়ে দেখতে মিষ্টি, তাই আমরা নাম দিয়েছিলুম ইস্টিশনের মিষ্টি কুল। অমল সেই মিষ্টি কুলের ঘায়ে অতি সহজেই কাত হল। অমল ছিল মিশুকে।

    অমল তার ভালোবাসার ব্যাপার নিয়ে আমার বা বন্ধুবান্ধব কারও সঙ্গেই কোনো আলোচনা করত না। আমরাও তাকে কোনোদিন কিছু জিজ্ঞেস করিনি। ছোটো শহরে বাঙালির সমাজও ছোটো, সবাই সবাইকে চেনে এবং কোনো কথাই গোপন থাকে না। অমল—অনিতার ব্যাপারও সবাই জানত। তাই নিয়ে কারও কৌতূহল ছিল না।

    এমএ পাশ করে কপালের ফেরে আমি পেলুম বোম্বেতে বড়ো চাকরি আর অমল বসে রইল বেকার।

    দু—বছর বাদে দিয়ে জব্বলপুরে এসে দেখি, অমল স্কুলে মাস্টারি করছে। মঢ়াতালের কফি হাউসে বসে অনেকক্ষণ গল্প করলুম ওর সঙ্গে। বললুম, চল আজ দু—জনে এম্পায়ারে ছবি দেখে আসি। মনে আছে, কলেজে পড়বার সময় এম্পায়ারে আর ডিলাইটে কত ছবি দেখেছি!

    সে আর মনে নেই!—অমল হাসল : তুই তো আরও দু—তিন দিন আছিস। যাব’খন একদিন। আজ একটু কাজ আছে।

    রাখ তোর কাজ। কতদিন একসঙ্গে ছবি দেখিনি।

    অমল সলজ্জ হেসে বলল, তমাল আজ থাক।

    আমার জেদ চেপে গেল, তোর এমনকী কাজ দেখব আমি, চল যাই।

    অমল আমাকে নিয়ে সিদ্ধিবালা গ্রন্থাগারে আসতেই বইয়ের তাকের জ্যামিতি ফুঁড়ে যেন সে উদয় হল,—আমার বই এনেছ!

    হ্যাঁ, এনেছি। এই যে!—অমল হেসে ওর হাতে একটা বই তুলে দিল। আমাকে বলল, চিনতে পারিসনি!

    আলবাৎ। ইস্টিশনের মিষ্টি কুল না। আচ্ছা, আমি চলি রে।—আমি বললুম।

    ছবি দেখতে যাইনি বলে রাগ করিসনি তো?

    না রে না।—আর কিছু বললুম না বটে, তবে তখন আমি তাজ্জব বনে গেছি। এত বলল আমি অনিতার দিকে তেমন ভাবে তাকিয়ে দেখিনি? আজ যেন ওকে নতুন করে দেখলুম। যে অনিতাকে প্রথম দেখেছিলুম, সে ছিল কিশোরী, আমাদের উঠতি যৌবনের চোখের নেশা। আজ যাকে দেখলুম, সে যে সেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে, সে আজ দেহের কামনা, মনের বাসনা।

    কী আছে অমলের মধ্যে! এই রোগা পাতলা চেহারা, বাঁ গালে বিশ্রী জড়ুল, ওই তো সামান্য এক চাকরি, বাড়ির অবস্থাও তথৈবচ, একগাদা স্বজন পরিজনের সংসার। কী এমন পেয়েছে অনিতা ওর মধ্যে! আমার মাইনে চার অঙ্কের, আমি মোটামুটি সুপুরুষ, স্বাস্থ্যবান, স্মার্ট বলে আমার খ্যাতি আছে, বাড়ির অবস্থা বেশ ভালো; নিজস্ব বাড়ি, গাড়ি, সচ্ছলতা, সিকিউরিটি—আর কী চায় মেয়েরা। আদর্শ স্বামী হবার সব যোগ্যতা, কোনো মেয়ের প্রেমিক হবার সংগত অধিকার আমার আছে!

    সম্পাদক মশাই, এইখানেই দুটি সমান্তরাল রেখা ‘হঠাৎ অন্য একটি রেখার আবির্ভাবের দরুন তিনে মিলে ত্রিভুজ হয়ে গেল। ইটারন্যাল ট্রায়ানগল।

    বোম্বেতে ফিরে গেলুম বড়ো জ্বালা নিয়ে।

    সুযোগ আপনিই এল। মা চিঠিপত্রে বিয়ের কথা তুলতেই আমি আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করার প্রার্থনা জানালুম। প্রত্যুত্তরে মা আমায় সরেজমিনে তলব করলেন।

    বাপ—মরা আদুরে বাধ্য ছোটো ছেলে এমন অবাধ্য হবে, মা ভাবতে পারেননি। আকারে ইঙ্গিতে অমল অনিতার মাখামাখির কথাও তুলেছিলেন। আমি বলেছিলুম, তাহলে থাক, আমার বিয়ের দরকার নেই। মিথ্যে ডেকে পাঠালে।

    সম্পাদক মশাই, এত ঘটনার ঘনঘটার পর যদি গল্পটা এখানে শেষ করতে পারতুম, তবে ভালো হত। কিন্তু আপনি যা চান, এবং যে উদ্দেশ্যে এই এত কথা বলা, তার শুরু এখান থেকে।

    শ্বশুরমশাই পরদিন আমাদের দু—বাথের একটা কূপের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। ট্রেনের কামরার নিভৃত পরিবেশে প্রথম মিলিত হবার যথেষ্ট অবকাশ ছিল, কিন্তু বাঁধবার আগেই যে বীণার তার ছিঁড়ে গেছে, সেই বীণা তো সুরহীনা। আমাদের ব্যর্থতার ফিরিস্তি দিয়ে কী হবে, সম্পাদক মশাই! কোন এক কবির কবিতায় পড়েছিলুম :

    যে কথা ভুলতে চাও কিছুতে পারো না ভুলতে তা’

    সে যেন বুকের মধ্যে টনটনে পুরাতন ব্যথা।

    বোম্বেতে আমার এক—কামরার আবাস বান্দ্রায়। নতুন সংসার পাতবার কোনো আনন্দ, উৎসাহ আমি বোধ করিনি। পঁচিশ বছর বয়সের সব কামনা বাসনা নিয়ে যতবার অনিতার কাছে যাবার চেষ্টা করেছি, মনে হয়েছে একটি তৃতীয় অবাঞ্ছিত সত্তা ছায়ার মতো, হাওয়ার মতো, আলোর মতো, গন্ধের মতো আমাদের জড়িয়ে অবশ্যম্ভাবী, দুর্নিবার হয়ে রয়েছে।

    কয়েক মাস বাদে অনিতা বেশ স্বাভাবিক হয়ে এল। ওর সাংসারিক কথাবার্তা, টুকরো হাসি, ঈষৎ অভিমানের মধ্যে ওর স্বাভাবিকতার স্পর্শ পেলুম। আমি চাকরির সময়টুকু বাদে বাকি সময় অনিতার সান্নিধ্যেই কাটাতুম। ছুটির দিনে হয় সিনেমায় নয় কোথাও একসঙ্গে বেড়াতে যেতুম। একদিন সন্ধেবেলা অনিতা আমাকে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে বলল, তোমাকে একটা জিনিস দেব।—বলে অমলের দেওয়া সেই মোড়কটা আলমারি খুলে আমার হাতে তুলে দিল।

    আমি বাথরুমে গিয়ে সেটা পুড়িয়ে ফেলে ঘরে এসে দেখি, অনিতা বিছানার এক কোণে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে। আমি সেই প্রথম তাকে উন্মুক্ত বাহু দিয়ে বুকে টেনে নিলুম।

    অনিতার দেহে এরপর মাতৃত্বের লক্ষণ দেখা দিল; কিন্তু আমি সাহস করে ওকে জব্বলপুরে পাঠালুম না। বোম্বে আসা তক আমরা আর জব্বলপুরে যাইনি।

    বিশেষ করে দুপুরবেলা আমার অনুপস্থিতিতে অনিতার একাকিত্ব এই সময় আদৌ নিরাপদ নয়, তাই ওর দেখাশোনার জন্য বুড়ি ঝি সুলভাবাঈকে ঠিক করলুম।

    একদিন অফিসের জরুরি কাজে আটকা পড়ে ফিরতে বেশ দেরি হল। বাড়ি যখন পৌঁছলাম তখন রাত আটটা। ফিরে এসে দেখি অনিতা মিটিমিটি হাসছে। টিপয়ে রাখা অ্যাশট্রে ভরতি চার্মিনারের টুকরো। অনুমান করলুম, কেউ এসেছিল। অনিতা আমাকে কিছু বলল না; আমিও আপাতত চেপে গেলুম।

    দূরে গির্জের ঘড়িতে ঘণ্টা পিটিয়ে রাত এগিয়ে চললেও আমার চোখে তিলমাত্র ঘুম এল না। আর থাকতে না পেরে অনিতাকে কাছে টেনে জিজ্ঞেস করলুম, মিষ্টি কুল, কে এসেছিল বললে না তো?

    অনিতাও জেগে ছিল, অবাক হয়ে বলল, কখন!

    তাহলে অ্যাশট্রেতে অত সিগারেটের টুকরো কেন?

    যাও, দুষ্টুমি কোর না।—খিলখিল শব্দে অনিতা হেসে উঠল।

    না, না, সত্যি করে বল।

    বাব্বা, কোনদিন না আমায়ই ভুলে যাবে।

    হেঁয়ালি রাখ, অনিতা। কী লুকোচ্ছ তুমি?

    আমার স্বরের কঠোরতায় অনিতা বিস্মিত হল বোঝা গেল তার জবাবে।

    হেঁয়ালি করব কেন? তুমিই তো ন—টায় বেরিয়ে সাড়ে ন—টা না বাজতেই ফিরে এলে। বললে, দেরি করে যাবে। সারাদিন রইলে। তিনটের সময় বেরিয়ে গেলে। বলে গেলে ফিরতে দেরি হবে।

    সুলভাবাই কোথায় ছিল?—রুদ্ধশ্বাসে আমি জানতে চাইলুম।

    ও তো তুমি আসতেই তোমাকে দেখে চলে গেল। ফিরল বিকেল চারটের পর।

    অবাক হইনি, ভয় পেলুম। সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল, দরদর করে ঘামের স্রোত রোমকূপ গড়িয়ে ঝরতে লাগল। চার্মিনার সিগারেট আমি খাই না। চার্মিনার আমার সয় না। অনিতা সেটা জানে না সম্ভবত। দু—তিনটে ব্র্যান্ডে আমার আনাগোনা, কিন্তু কদাপি চার্মিনারে নয়। চার্মিনার অমলের প্রিয় ব্র্যান্ড ছিল। আমি অনিতাকে তখন আর কিছু বললুম না।

    পরদিন সুলভাবাইকে রাস্তায় পাকড়ালুম। কাল সারা দুপুর সে কোথায় ছিল, জানতে চাইলুম। কুঞ্চিত মুখে হাসির ঝালর ঝরিয়ে বুড়ি বাই জবাব দিল, ওই তো এক চিলতে ঘর। তোমরা দুটিতে থাকলে আমি মাঝখানে বাগড়া দিই কেন?

    ওকে আর কিছু জিজ্ঞেস করা সমীচীন বোধ করলুম না। সেদিন আর শরীর খারাপের অজুহাতে অফিসে গেলুম না।

    অনিতাকে শত চেষ্টাতেও কিছু বলতে পারলুম না। গতকাল আমি ন—টার সময় অফিসে বেরিয়ে বান্দ্রা স্টেশন থেকে ন—টা দশের ট্রেন ধরে ভি—টি স্টেশনে গেছি। ফোর্ট এলাকায় অফিসের বাড়িতেই ছিলুম সন্ধে ছ—টা অবধি! মাঝখানে একবার বাথরুমে আর একবার ডিরেক্টরের চেম্বারে যাবার জন্যে চেয়ার ছেড়ে উঠেছি। বাকি সময়টুকু বলতে গেলে চেয়ারের সঙ্গে সেঁটে ছিলুম। কাজের চাপ ছিল খুব বেশি। কোয়ালিটি কন্ট্রোল সেমিনারে ডিরেক্টর যে পেপার পড়বেন, সেটি গতকাল হাজার রেফারেন্স মেটিরিয়্যাল আর ডাটা ঘেঁটে আদ্যোপান্ত তৈরি করে টাইপ করা কপি ডিরেক্টরের হাতে তুলে দিয়ে তবে অফিস ছেড়েছি। যতক্ষণ অফিসে ছিলুম, দুনিয়ার তাবৎ কিছু তো বটেই, অনিতার সম্পর্কেও একলহমা ভাববার ফুরসত পাইনি। আমার পক্ষে তাই সারা দুপুর অনিতার সান্নিধ্যে শারীরিক উপস্থিতির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। অনিতা বা সুলভাবাই অন্য কাউকে আমি বলে ভুল করবে মনে হয় না, অথচ আমি কস্মিনকালেও চার্মিনার খাই না। তাহলে তমাল—কৃষ্ণ মজুমদার নামক ব্যক্তি সকাল সাড়ে ন—টা থেকে দুপুর তিনটে অবধি একই সঙ্গে দু—জায়গায় কী করে উপস্থিত ছিল!

    পরদিন অফিসে বেরোবার সময় অনিতাকে বলে গেলুম, আমি কিন্তু অফিস কামাই করে ফিরে আসব না। ফিরতে সন্ধে ছ—টা সাতটা হবে। ততক্ষণ যেন বাই থাকে।

    অনিতা কী বুঝল কে জানে।

    সেদিনও ফিরে দেখি টিপয়ে রাখা অ্যাশট্রে ভরতি চার্মিনারের টুকরো। আমি আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করলুম, এত সিগারেট কে খেল?

    অনিতা জবাব দিল, সারা দুপুর বিছানায় গড়িয়ে তুমিই তো ধ্বংস করলে।

    আমি!—বিস্ময়ে আমার গলা আটকে এল।

    না তো কে? তুমিই তো সাড়ে ন—টায় ফিরে এলে, রইলে তিনটে অবধি। আমি তোমাকে দেখেই জিজ্ঞেস করলুম, আজ যে বড়ো বলে গেলে কামাই করবে না, অথচ সে কথা রাখতেই পারলে না।

    তাই নাকি?

    কেন, এত ক্ষীণ তোমার স্মৃতিশক্তি! কী দেখছ অবাক হয়ে! তুমি না বললে, মিষ্টি কুল, তোমার কথা বড্ড মনে হচ্ছিল, ট্রেনে চড়তে গিয়েও তাই ফিরে এলুম।

    তারপর!

    তারপর তুমি তো সুলভাবাইকে সিগারেট আনতে পাঠালে। ওই তো প্যাকেটটা পড়ে আছে।

    মাথার বালিশের কাছে পড়ে থাকা চার্মিনারের হলদে প্যাকেট তুলে এনে আমি বললুম, এই সিগারেট তো আমি খাই না, অনিতা!

    কী বলছ তুমি!—অনিতা অবাক হয়ে তাকাল আমার মুখে : আমি বললুম, অত সিগারেট খাচ্ছ কেন। তুমি আমার কথা শুনলে না। আচ্ছা, তুমি আজকাল সব ভুলে যাও কেন, বল তো!

    কিন্তু অনিতা, আমি তো চার্মিনার খাই না। তুমি জান না!

    অনিতা স্তব্ধ বিস্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। থরথর করে ওর ঠোঁট দুটো কাঁপতে লাগল, কিন্তু কোনো কথা উচ্চারিত হল না।

    আমি আর নিজেকে চেপে রাখতে পারলুম না, এই ভয়ংকর খেলা আর আমার সহ্য হল না, দাঁতে দাঁত কষে বললুম, অনিতা, তুমি যত কথাই সাজাও না কেন, আমি সকাল ন—টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা অফিসেই গেছি। বিকেল পাঁচটা অবধি অফিসে ছিলুম। অফিসের প্রতিটি লোক এর স্বপক্ষে সাক্ষী দেবে। সুতরাং…সুতরাং…

    আমার অসমাপ্ত কথা কেড়ে নিয়ে অনিতা হঠাৎ জ্বলে উঠল, তুমি মিথ্যুক, মিথ্যেবাদী। সব পেয়েছ, এখন আরও কী চাও বল! তুমি এত ছোটো আমি জানতুম না।

    এই বিস্ফোরণের জন্যে আমি তৈরি ছিলুম না।

    পরদিন সুলভাবাইকে পইপই করে বলে গেলুম, যেন দুপুরে আমি এলেও সে অনিতাকে ছেড়ে না যায়। টেলিফোনে যোগাযোগ করে সেদিনই সন্ধেবেলা অফিস থেকে ফিরে এসে মনঃসমীক্ষকের কাছে অনিতাকে নিয়ে গেলুম। যে ক—দিন চিকিৎসা চলল, ছুটি নিয়ে রইলুম বাড়িতে। নির্দিষ্ট ক—টি সিটিং—এর পর ডাক্তার আমাকে নিভৃতে ডেকে বললেন, আপনি কি আপনার স্ত্রীকে সন্দেহ করেন?

    আমিও তাঁকে যতদূর সম্ভব খুলে বললুম। তিনি প্রেসক্রিপশন দিলেন, উপদেশ দিলেন : আপনার স্ত্রী মানসিক অবদমনে ভুগছেন, আর তার জন্যে আপনি দায়ী। ওঁকে সর্বদা প্রসন্ন রাখতে চেষ্টা করবেন। খোলামেলা জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাবেন। আর, কখনো কোনো কৈফিয়ত তলব করবেন না; কোনো কথায় বুঝতে দেবেন না যে আপনি ওঁকে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ করেন। ভালো কথা, ক—দিন গোয়াতে গিয়ে হাওয়া বদলে আসুন না! দেখবেন, মনের দিক থেকে আপনিও অনেকখানি সেরে যাবেন।

    গোয়া যাওয়া হয়নি ছুটির অভাবে। শেষপর্যন্ত অনিতাকে জব্বলপুরে মা—র কাছে পাঠানো ঠিক করলুম।

    রিজার্ভেশন হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু যত যাবার দিন এগিয়ে আসতে লাগল, অনিতার ভাবান্তর লক্ষ্য করে বিস্মিত হলুম। অনিতা কচি খুকির মতো আবদেরে হয়ে উঠল, আমার গলা জড়িয়ে প্রতিনিয়ত গাইতে লাগল : ওগো, তোমাকে ছেড়ে আমি যাব না। তাহলে আমি বাঁচব না।

    হৃদয় তো হৃদয়, এমন কাকুতিতে পাষাণও গলে।

    ওকে আর জব্বলপুরে পাঠালুম না।

    মনঃসমীক্ষকের কাছে যাবার পর থেকে এই পর্যন্ত প্রায় সাত—আট মাস আর দ্বিপ্রহরে দ্বিতীয় তমালকৃষ্ণ মজুমদারের আবির্ভাব ঘটেনি। আমিও তাই বেশ নিশ্চিন্ত ছিলুম। অনিতাকে ঘিরে সারাক্ষণ আসন্ন মাতৃত্বের এক স্বপ্নমেদুর বিহ্বল ভাব জড়িয়ে থাকত; ওকে আমি যেন নতুন করে চিনলুম। আমার সন্তানের মাতৃত্বের অধিকারে সে এখন আমার আরও বেশি আপন, আমার রক্তের রক্ত, নিশ্বাসের নিশ্বাস, অস্তিত্বের অস্তিত্ব।

    সম্পাদক মশাই, এখানেও যদি শেষ টানতে পারতুম, তাহলে নিজেকে সুখী বলে মনে করতুম। কিন্তু শেষটা যতই আকস্মিক হোক, আমাকে তা বলতেই হবে।

    সেদিন সকাল ন—টায় অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে স্টেশন অবধি এসেও হঠাৎ বুকের ভেতর কেমন হা—হা করে উঠল, আমি বাড়ি ফিরে এসে কলিংবেল টিপতেই দরজার ম্যাজিক—আইতে অনিতার চোখের আভাষ দেখতে পেলুম।

    ঝটিতি দরজা খুলে অনিতা বিছানার দিকে একবার মুখ ফিরিয়ে আবার আমার মুখে তাকাল। অনিতার সারা মুখে আতঙ্কের ছাপ, ব্যাস বিস্রস্ত, চুল অবিন্যস্ত। এলোমেলো বিছানায় এককোণে অ্যাশট্রেতে আধ—পোড়া চারমিনার ধোঁয়ার ফাঁস ওড়াচ্ছে।

    অনিতা বিস্ফারিত চোখে তেমনি আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল, কে তুমি, কে…

    আমি, আমি অনিতা।—অধীর আগ্রহে এগিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলুম : কী হয়েছে তোমার?

    আমার বাহুবন্ধনে তখন অনিতা থরথর করে কাঁপছে : তাহলে একটু আগে কে এসেছিল গো! সে—ও তো তুমি। আমি যখন দরজা খুলতে উঠি, তুমি তো তখন বিছানায় শুয়েছিলে। আবার কী করে তুমি বাইরে থেকে ফিরে এলে গো!—বলতে বলতে অনিতার মুখ বেয়ে গাঁজলা গড়াল, আমার বুকে যে মূর্ছা গেল।

    আপ্রাণ চেষ্টা করেও ডাক্তাররা কাউকেই বাঁচাতে পারলেন না। অনিতার সারা মুখে মৃত্যুর শান্ত প্রতিভা, ঈষৎ স্ফুরিত দুটি ঠোঁটে কোন সে অনুচ্চারিত শব্দের স্তব্ধতা, অনিতা এখন অতি দূরের রহস্যের, রূপকথার মানবী।

    নার্স হয়তো আমার মনের গোপন কথা বুঝতে পেরেছিলেন। যে অনাগত সন্তানকে ঘিরে অনেক কল্পনার প্রশ্রয় দিয়েছি, অথচ যে পৃথিবীর আলোয় চোখ মেলল না, এই হাওয়ায় বুক ভরে নিল না, তাকে একবার দেখতে বড়ো ইচ্ছে হল। আলতো হাতে শিশুর মুখের আবরণ নার্স সরিয়ে দিতেই আমি দেখলুম, শিশু অমল শুয়ে আছে। কোনো ভুল নেই— অমলই; মায় বাঁ—গালের সেই জডুüলটি পর্যন্ত!

    অব্যক্ত যন্ত্রণায় আমি চোখ বন্ধ করলুম। এ কী করে সম্ভব! অমল যে আমার ফুলশয্যার রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ড্রাইভার রামদুলারের মুখে এই বার্তা শুনেই তো পরদিন আমি জব্বলপুর থেকে পালিয়ে এসেছি।

    অমল এতদিন আমার আর অনিতার মাঝখানে অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর এখন, দুই মৃত্যুর মাঝখানে জেদ, দম্ভ আর ঈর্ষার ব্যবধান সৃষ্টি করে মূর্তিমান আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমি জিতে গিয়ে হেরে গেলুম। দেহ সৎকার করে ঘরে ফিরে আলো জ্বাললুম। চতুর্দিকে আমাদের বিবাহিত জীবনের স্মৃতির ছাপ। ঘরময় বুকচাপা, দম আটকানো চারমিনারের গন্ধ। দরজা—জানলা খুলে ফুলস্পীডে পাখা চালিয়ে দিলুম। রঞ্জিতবাবু, ওই গন্ধ নিরন্তর আমাকে জড়িয়ে রয়েছে। এর থেকে কি পরিত্রাণ আছে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিয়ের রাত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }