Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভূতগুলো সব ভয় দেখায় – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প976 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মুখ – মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    অনেক, অনেক দিন কেটে যাবে তারপর। শেষে একদিন একটি সোনালি বিকেলে হয়তো সীতা নিঃশেষে ফুরিয়ে যাবে। আর, সেই ঝরে যাওয়ার পরে কেউ কি মনে রাখবে যে এখানে একদা ভোরবেলাকার শিশির সূর্যের ছোঁয়া পেয়ে ঝলমল করে উঠেছিল। শুধু সেদিনকার সেই শিশিরের স্মৃতিতে দিন কয় হয়তো তাকিয়ে থাকবে নির্জন শিশুগাছটা। তারপর একসময়ে, শীতের সময়ে শিশুগাছের পাতা ঝরবে টুপটাপ, পড়ন্ত রোদের মিষ্টি আভার দিকে তাকিয়ে কিছুকাল মোহ্যমান থাকবে গাছটি, তারপর একদিন সকালের লালে সে নিজেই অবাক হয়ে যাবে—নতুন সবুজ পাতার রঙে—রঙে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তখন আর সেই নীল নির্জন মুহূর্তের কথা মনেও থাকবে না তার।

    জানলার কাচের ওপাশে বিকেলের রোদ। এপাশে মারবেল পাথরের মেঝেয় তারই চৌকো আলো।

    সাদা, নরম, দুধের বিছানা থেকে উঠল সীতা। রুগণ পাণ্ডুর বি—রঙ হাতে খুলে দিল জানলাটা। নিটোল একটি বিকেল গড়িয়ে পড়ল মারবেল পাথরের মেঝেয়। জানলার শিক ধরে দাঁড়িয়ে রইল সীতা, সেদিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। শুরকি—ঢালা ফুলের কেয়ারি—করা লন। দীঘল একসার বনঝাউ, লম্বা ঝাঁক—বাঁধা বাদাম, আম গাছের সবুজ পাতায় ছায়ার আলপনা, শঙ্খলতা রাজকন্যার দীঘল নরম আঙুলের মতো সোনালি রঙের চাঁপা গাছ। গাড়ি—বারান্দা লন পেরিয়ে ফটক।

    উঃ, কতদিন হল সীতা বাইরে বেরোয়নি! অনেকদিন বাদে সেদিন ফটক পর্যন্ত গিয়েছিল। মালিকে ডেকে কিছু—একটা বলতেও যাচ্ছিল তখন, তারপর সেই মুখটা চোখের সামনে অসহ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠায় কিছুই করতে পারেনি। ভয়ে বিবর্ণ হয়ে গিয়ে ফিরে এসেছিল। মারবেল পাথরের বারান্দা পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে এসে ঢুকেছিল তেতলার এই ঘরটায়। তারপর নিজেকে এলিয়ে দিয়েছিল সাদা দুধের মতো ফেনা জমানো বিছানায়। বালিশে মুখ গুঁজে অনেকক্ষণ ফুঁপিয়ে—ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল সেদিন।

    কী করতে পারে এ ছাড়া?

    লাইব্রেরিগুলো থেকে প্রায় প্রত্যেক দিনের ডাকেই নতুন—নতুন বই আসে। সুন্দর, ঝকঝকে কাচের হালকা মতো সেলোফেনে মোড়া বই। দামি—দামি। উঃ কত কী লিখতে পারে লোকে! আজকাল সীতার আর পড়তেও ভালো লাগে না একঘেয়ে লাগে। পানসে লাগে খবর কাগজেও। চুপ করে কতক্ষণ আর ভাবা যায়? মাথাটা ঝিমঝিম করে ওঠে, শীর্ণ গাল বেয়ে ধারাপাত হয় শ্রাবণের, তারপর ঠোঁটে যখন সেই জল এসে পড়ে, তখন বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা ছাড়া কী আর করবার থাকে তার?

    এত বড়ো বাড়িটা কী নির্জন!

    সীতা জানালার শিক থেকে হাতটা সরিয়ে আনলে, আকাশ থেকে ফিরিয়ে আনলে চোখ। তাকালে ঘরের দেয়ালে। দেয়ালে এবং ঘড়িতে। বিকেল তখন। তাকালে সরোজের অয়েল পেন্টিংটার দিকে। সুন্দর,স্বাস্থ্যবান সরোজ। তাকালে টেবিলে। ফুলদানিতে একগুচ্ছ রজনিগন্ধা। নতুন ফুল। কখন যে মালি এসে ফুল বদলে দিয়ে গেছে জানে না সীতা। হয়তো ঘুমিয়েছিল তখন। সাদা টেবিল ক্লথটায় সুন্দর একটা নকশা কাটা। সাদা লেসের। সীতারই করা।

    পায়ে—পায়ে টেবিলের কাছে এগিয়ে এল সীতা। সাদা শীর্ণ হাত বুলিয়ে নিল নকশাটার ওপর।

    কী করবে সীতা এখন? ঘরটা আবছা হয়ে আসছে। অন্ধকারে। সন্ধে নামছে তেতলার এই ছোট্ট ঘরটায়।

    আলোটা জ্বালল সীতা। বোতাম টিপতেই ঝলমল করে উঠল সারা ঘর। এমনি করেই হয়তো উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারত সীতার জীবন।

    টেবিলের ড্রয়ার খুলল সীতা। একটা চৌকো নীল কাগজের বাক্স। চিঠির। আলগোছে একটা চিঠি তুলে নিল সীতা। কালির রং এখনও তো বিবর্ণ হয়নি, চিঠির মসৃণ কাগজটায় এখনও হালকা মিষ্টি একটা গন্ধ আছে। তবে কেন সীতার সব ফুরিয়ে গেল? কেন ফুরিয়ে গেল সীতার সবকিছু?

    বিয়ের রাতে বিকাশ সীতাকে পাঠিয়ে দিয়েছিল চিঠিগুলো। স্পষ্ট, তীক্ষ্ন অক্ষরে লিখে দিয়েছিল একটা ছোট্ট মন্তব্য : এখন আর কী দরকার আমার এই চিঠিগুলোয়? তোমার চিঠি তোমারই থাক।

    বিয়ের রাতের কথা মনে পড়তেই ফ্যাকাশে হয়ে এল সীতার শীর্ণ মুখ। তারপর আলতো হাতে একটা নীল কাগজ তুলে নিলে সীতা। আবার পড়ল নিজেরই লেখা অনেকবার—পড়া চিঠিটা।

    অনেক, অনেকদিন পর চিঠি লিখতে বসে ভাবছি, সবই তো বলা হয়েছে, তবুও কেন আমার আকুলতা কমল না। প্রত্যেক ভোরে কোথায় যে ফুল পায় পূজারি, অথচ ফুল ছাড়া তার পুজো তো সারা হয় না। হেসো না। আমার হয়েছে মুশকিল। আমি চাই তোমাকে কিছু বলতে, এমন—কিছু যে আমার ভাবনাটাকে যাতে সুন্দরতর করে গোছানো যায়, গুছিয়ে তোমার কাছে মেলে ধরা যায়, কিন্তু বড়ো এলোমেলো হয়ে পড়ে।

    কত কথাই যে কত সময় ভাবি। তুমি যদি কোনোরকমে আমার মনের মধ্যে একবার ঢুকতে পারতে, তবে অবাক হয়ে যেতে।

    অসম্ভব মন কেমন করছে তোমার জন্যে।

    স্নান করতে করতে উঠে এসে সোনালি বালুর ওপর শুয়ে থাকি মাঝে মাঝে। একা, একেবারে একা। দুই হাত মাথার নীচে দিয়ে তাকিয়ে থাকি সমুদ্রের ফেনার দিকে। সাদা—সাদা ফেনার কুচি, ঠিক তোমার হাসির মতো। সকালবেলার সচিত্র আলো আমার চোখে—মুখে। গাঙশালিখের কাঁপা ডানার পালকে রোদ্দুরের ঝালর। তোমায় মনে পড়ে। তখন মনে হয়, হয়তো চোখ ফিরিয়েই দেখব তুমি নিঃশব্দে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছ। কিংবা মনে হয় এখুনি তুমি টানবে আমার হাত ধরে। টানতে টানতে নিয়ে যাবে সমুদ্রের দিকে।

    স্নান সেরে যখন বাড়ি ফিরি, তখন ভিজে শাড়ি ছপছপ করে। চুল থেকে বালি ঝরে। ঝাউবনের পথ দিয়ে চলি। মনে হয় তুমিও চলেছো আমার পাশাপাশি। তখন আর আশেপাশে তাকাতে মন চায় না। তাকালেই দেখব তুমি নেই। সে তো আমি চাইনে। তুমি আছো। তুমি আছো আমার পাশে, আকাশের নীলে, হাওয়ায়, সবখানে, আমার মনে। ইচ্ছে হয়, পথ যেন আর না—ফুরোয়।

    কী করে হয় তা? বাড়ির গেট তো একটু পরেই। তুমিও নেই আমার পাশে। বাড়ি ঢুকে চান—ঘরের শাওয়ারের নীচে এলিয়ে দিই শরীর। তারপর একঘেয়ে দিন। ভালো লাগে না।

    সত্যি কথা, বিকাশ, বিশ্বাস করো তুমি। সেদিন সন্ধের সময় যখন বৃষ্টির নূপুর বাজল, ঝাউবনের আবছায়ার দিকে তাকিয়ে আমার অসম্ভব মন কেমন করে উঠল। স্পষ্ট যেন তোমার সিগারেটের গন্ধ পেলাম। তোমার গায়ের উত্তাপ আর সকৌতুক চাহনি অনুভব করলাম যেন সর্বাঙ্গে।

    জীবনের কোথাও যেন বাঁক নেই, এই কথাটাই সবচেয়ে বেশি মনে হচ্ছে আজকাল। তাই মাঝে মাঝে অসহায় রাগ হয় আমার। ভীষণ। ভাবি, এমন—একটা জায়গা কি থাকবে না, যেখানে শুধু আমি, শুধু আমার একলার সত্তা।

    শুনলে হয়তো অবাক হবে। হয়তো—বা ঠোঁট চেপে একটু হেসেও নেবে একটা গল্প শুনলে। গল্পটা অবশ্য তোমার ভাবনা আমার কেমন পেয়ে বসেছে তার একটা উজ্জ্বল নমুনা। কাল দুপুরবেলায় নতুন ধরনের একটা মাছ রান্না করা হচ্ছিল সয়া সস দিয়ে। চমৎকার লাগল। খুব ভালো। ভাবলাম, রান্নাটা শিখে নিই। তারপর মুহূর্তেই মনে হল, কবে যেন তুমি বলেছিলে সয়া সস তোমার খুব বেশি একটা ভালো লাগে না। তবে আর শিখে কী লাভ? কোনো উৎসাহ আর আমাকে ধন্য করতে পারল না। শেখা হল না রান্নার কায়দাটা।

    খুব মজার গল্প সন্দেহ নেই, কিন্তু ভেবে দ্যাখো তো কী করুণ অবস্থা আমার। নিজের যেটা ভালো লাগে তা—ও আমার কাছে নগণ্য, যদি—না তোমার মনের মতো সেটা হয়।

    এবার থেকে তোমার সব কথা মেনে নেব না, এমনি একটা সংকল্প গ্রহণ করলে মন্দ হয় না। যা দেখছি, কোনোদিন তোমার হয়তো একঘেয়ে লাগবে এমন অনুগত সীতাকে পেয়ে। ঝগড়া করা তো দুজনেই বোধহয় ভুলে গিয়েছি। এখন মনে হয়, লোকে কী করে ঝগড়া করে সময় নষ্ট করে।

    চোখের কালো মণি নীল কাগজটা থেকে উঠে এসে পড়ল জানলায়। একটানা অল্পক্ষণ বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকার পরে দৃষ্টিটা আবার ফিরে এল ঘরের ভিতরে—দেয়ালে আর ঘড়িতে। সরোজের ছবিটায়। আর সঙ্গে সঙ্গে সেই মুখ, সেই ভয়াবহ মুখটা ফুটে উঠল সীতার চোখের সামনে।

    তাড়াতাড়ি টেবিলের দেরাজ বন্ধ করলে সীতা। দৃষ্টিকে নামিয়ে আনতে চাইলে সরোজের ছবিটা থেকে। কিন্তু পারল না। চুম্বকের মতো তাকে আকর্ষণ করল একটি মুখ, একটি ভয়াবহ মুখ।

    পরক্ষণেই সরোজ তার স্টাডি থেকে শুনতে পেল চিৎকারটা, যে—চিৎকারটা আজকাল নিয়মিত হয়ে উঠেছে : ‘ওই যে! ওই যে!’

    ছুটে এসে ঘরে ঢুকল সরোজ, তেতলার ঘরটায়। আবার অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে সীতা। মেঝের ওপর।

    সন্ধে সাতটার সময়ে ডাক্তার রায় আসবেন। এক মিনিট এদিক—ওদিক হবার উপায় নেই। ভারি কড়া লোক! তিনি একাই রুগির সঙ্গে কথা বলবেন, ঘরে আর—কেউ থাকবে না। মানসিক চিকিৎসার ধারাই নাকি এই—রকম—ডাক্তার রায় আগেই জানিয়েছেন।

    সীতার বিছানার পাশে সরোজ বসেছিল। সীতার জ্ঞান হয়েছে বটে কিন্তু চোখ বুজে শুয়ে আছে সে। সাতটা বাজতে পনেরো মিনিট বাকি। চাকর এসে খবর দিলে ফোন এসেছে। পা টিপে—টিপে সন্তর্পণে সরোজ ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    সীতা বিছানায় পাশ ফিরল। মাথার মধ্যে কী—রকম একটা অস্বস্তি হচ্ছে। ঠিক যন্ত্রণা নয়, কিন্তু যন্ত্রণার চেয়েও যেন খারাপ। দেখল ঘরে কেউ নেই। সরোজ বোধহয় কোনো কাজে বাইরে গেছে। টেবিলের ওপরের ফুলদানির রজনিগন্ধা এখন গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। পর্দার ফাঁকে এক ঝলক হাওয়া এসে ফুলের গন্ধ সারা ঘরে ছড়িয়ে দিলে। দেয়ালের ঘড়িতে সাতটা বাজতে তেরো মিনিট বাকি। নিশ্বাস ফেলতে অসুবিধে হচ্ছে সীতার। রুমালটা নিয়ে সে ঘামে ভেজা কপালের ওপর বুলিয়ে নিলে। রুমালে ল্যাভেন্ডারের ভিজে ঠান্ডা গন্ধ। বোতাম টিপে সীতার কথামতো ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়েছিল সরোজ। চোখে আলো এসে পড়লে বড্ড লাগে। বারান্দার ঝোলানো ঝাড়লণ্ঠনটার ক্ষীণ আলো এসে পড়েছে পর্দার ফাঁক দিয়ে। সন্ধের অন্ধকারে অস্পষ্টের মতো ঘরের সমস্ত জিনিস।

    একটা গভীর নিশ্বাস ফেলে সীতা পাশ ফিরে শুলো। সন্ধের অন্ধকারে মাথার কাছে বিছানার ধারে সন্তর্পণ পায়ে যেন কে এসে দাঁড়ালে। চোখ বুজেই সীতা শুধোলে, ‘কে?’

    নরম গলায় উত্তর এল, ‘ব্যস্ত হবেন না। যেমন শুয়ে আছেন, থাকুন। আচ্ছা, আপনার অসুখের সব কথা আমার কাছে খুলে বলুন তো—কিছু বাদ দেবেন না।’

    ‘ওঃ, ডাক্তার রায়? বসুন।’

    ‘থাক, থাক—যেমন চোখ বুজে শুয়ে আছেন থাকুন।’

    মাথার ভিতরে খুব অস্বস্তি হচ্ছে সীতার। আর সহ্য হয় না।

    ‘আচ্ছা, শুনুন তাহ’লে। সব কথাই বলছি। প্রায় চার—পাঁচ মাস হল এ ব্যাপারের শুরু হয়েছে। একদিন গীতবিতানের সংগীত সম্মেলন থেকে ফিরছি, রাত প্রায় আটটা। সারকুলার রোড আর চৌরঙ্গির মোড়ের কাছে আমার গাড়ি দাঁড়াল লাল আলোর জন্যে। হঠাৎ দেখি গ্যাসপোস্টের তলায় একটা লোক আমার দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে আছে। এত খারাপ লাগল, ভীষণ! রোগা লম্বা চেহারা। একদিকে চোখ ঝুলে নেমে এসেছে। কপালের ওপর এলোমেলো চুল। খোঁচা—খোঁচা দাড়ি। চোয়ালটা যেন আলগা, যেন অন্য—কারু। মুখটা হাঁ হয়ে গেছে, জিভও একটু বেরিয়ে পড়েছে।’

    ‘আপনি তো বেশ ভালো করেই লক্ষ করেছিলেন?’

    ‘হ্যাঁ।’ নিস্তেজ গলায় বলতে থাকে সীতা : ‘আর তা ছাড়া একবার তো শুধু দেখিনি, তারপর অনেকবার। এত ভয় করছিল তখন! লোকটা আমার দিকে উঁচু—নীচু দাঁত বের করে হেসেছিল। ময়লা ছেঁড়া স্যুট গায়ে ঢলঢল করে আলগা হয়ে ঝুলছিল। ভয়ে শরীর আমার যেন কাঁটা দিয়ে উঠল। ড্রাইভরাকে তাড়াতাড়ি গাড়ি চালিয়ে যেতে বললাম। কিন্তু সেই বিশ্রী ভয়ানক মুখ আমার স্বপ্ন—জাগরণ ছেয়ে থাকল। কখনো লোকটাকে দেখিনি, তবু বার—বার মনে হতে লাগল একে যেন চিনি। কী—রকম বিশ্রী ভিজে ভিজে ফ্যাকাশে মুখ।’

    ‘তারপর?’

    একটু দম নিলে সীতা। কপালে তার বিন্দু—বিন্দু ঘাম জমেছে। বোজা চোখের দু—পাশে গালের রগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—নীল রগ। একটা হাত বালিশের তলায় গুঁজে সীতা বলতে থাকল, ‘তারপর যখনই বাড়ি থেকে বেরোই, মনে হয় লোকটা বোধহয় আমার জন্যে কোথাও দাঁড়িয়ে আছে। নিউ মার্কেট থেকে কিছু জিনিসপত্র কিনে হয়তো গাড়িতে উঠতে যাব, এমন সময় হয়তো চোখে পড়ল, সেই লোকটা গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আমার দিকে মিটমিট করে তাকাচ্ছে, কিংবা কখনো অপলক স্থির চোখে। আমি হয়তো তখন তাড়াতাড়ি গাড়ির দরজা বন্ধ করে দিলাম। তারপর থেকে মনে একটা দারুণ ভয় হল। অনেক দিন অনেক পথের মোড়ে দেখতে পেলাম এই লোকটাকে। একদিনের কথা বলছি। এক বান্ধবীর বাড়ি গিয়েছিলাম। সন্ধের পর বান্ধবীটি আমাকে বাড়ির কাছে নামিয়ে দিয়ে গেল। নির্জন শব্দহীন পথ। শুধু মাঝেমাঝে গ্যাসের আলো। হঠাৎ মনে হল, যদি সেই লোকটার সঙ্গে দেখা হয়ে যায়! সঙ্গে সঙ্গে শিরশিরিয়ে উঠল সারা গা। ভয়ে ভয়ে পিছন ফিরে দেখি পাঁচ—সাত হাত দূরে লোকটা খুঁড়িয়ে—খুঁড়িয়ে আসছে। ভয়ে যেন হাত—পা ঠান্ডা বরফ হয়ে গেল। প্রায় ছুটতে ছুটতে বাড়ির দিকে এগুলাম। পিছনে একটানা খুঁড়িয়ে চলার শব্দ। বাড়ির গেট পার হয়ে ছুটতে—ছুটতে হলঘরে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়লাম।’

    সীতা একটু চুপ করে থাকল। উত্তেজনায় আর ভয়ে মুখ যেন ছাইয়ের মতো ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। ঘরে কোনো শব্দ নেই। নীচে সিঁড়ির পাশে সরোজের গলা শোনা যাচ্ছ। টেলিফোনে কথা বলছে। হাওয়ায় ঘরের পর্দা সামান্য দুলছে। ফুলের গন্ধে হাওয়া ভারী হয়ে উঠেছে।

    ‘অনেকদিন’—সীতা বলতে থাকল, ‘আমার স্বামীকে কিছু বলিনি। নানা কাজে উনি ব্যস্ত, আমিও তাই। কিন্তু একদিন বললাম। উনি হেসেই উড়িয়ে দিলেন। বললেন, বয়েস হবার আগেই ভিমরতি হল? জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা শুরু করলে নাকি। বাড়ির গেটের কাছে এরকম কোনো লোককে তো দারোয়ান দ্যাখেনি। তুমি বরং দিন কতক বাড়িতে বিশ্রাম নাও! কিন্তু ডাক্তার রায়, তারপর থেকেই আমি অসুস্থ বোধ করতে লাগলাম।’

    ধীর, স্পষ্ট গলায় উচ্চারিত হলো, ‘আচ্ছা, ব’লে যান’

    ‘তারপর রাস্তায় একদিন অ্যাকসিডেন্ট। একটি ছোটো মেয়ে বাসের তলায় বীভৎসভাবে চাপা পড়েছে। লোকেরা ড্রাইভারকে ধরে মারতেই ব্যস্ত। ভিড়ের মধ্যে দেখি সেই লোকটা। ছোটো মেয়েটার রক্ত—মাখা শরীরের দিকে লোলুপ চোখে তাকিয়ে আছে— চোখে—মুখে একটা কুৎসিত উল্লাস। ড্রাইভার মেয়েটিকে আমার গাড়িতে তুলে আনল হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্যে। দেখতে পেলাম লোকটা ভিড়ের ভেতর থেকে আঙুল তুলে আমাকে যেন শাসাচ্ছে। সেই রাত্রে, ডাক্তার রায়, কী বিশ্রী যে স্বপ্ন দেখলাম! দেখলাম, আমি যেন কোনো হাসপাতালে অপারেশান টেবিলে শুয়ে আছি। ক্লোরোফর্ম দিতে কে যেন আমার মাথার কাছে এসে দাঁড়াল—তাকিয়ে দেখি সেই লোক। চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেলাম। তারপর থেকেই অসুখের খুব বাড়াবাড়ি। প্রায় সব সময়েই মনে হয় যেন সেই মুখ দেখা দেবে। রত্রে ঘুম হয় না। হার্ট ভয়ানক দুর্বল হয়ে গেছে। আর সইতে পারিনে। ডাক্তার রায়—’ সীতার উত্তেজিত গলা কথা ক’য়ে উঠল, ‘ডাক্তার রায়, হয় আমাকে সারিয়ে ফেলুম নয়তো দ্রুত যেন আমার মৃত্যু হয়। এইভাবে আর পারিনে।’

    গভীর নিশ্বাস ফেলে সীতা তেমনি চোখ বুজে শুয়ে থাকল। সুন্দর ফরসা কপাল ঘামে ভিজে উঠেছে, শ্রান্ত মুখটি বড়োই করুণ। ঘর অন্ধকার। প্রায় কিছুই দেখা যায় না। শুধু খোলা জানালার পর্দার ফাঁকে সামান্য একটু আলো বিছানার ওপর এসে পড়েছে।

    ‘আচ্ছা, সেই লোকটাকে আপনার বাড়িতে কখনো দ্যাখেননি, না?’

    ‘না, তাহলে তো মরেই যেতাম।’

    ‘মুখটা কি খুব বিশ্রী?’

    ‘ভীষণ! সে ভাষায় বোঝানো যায় না!’

    ‘দেখুন তো, এই রকম কি?’

    একটা মুখ বিছানার ওপর ঝুঁকে পড়ল। চোখ খুলেই চিৎকার করে উঠল সীতা।

    তীব্র ভয়ের সেই চিৎকার একবার যে শুনেছে, সে কখনো ভুলতে পারবে না।

    ‘সীতা! সীতা!’ সরোজ টেলিফোন রেখে দ্রুত পায়ে খোঁড়াতে—খোঁড়াতে ওপরে ছুটে এল।

    বিছানায় সীতার নিশ্চল স্পন্দনহীন দেহ। ঘরে কেউ নেই।

    সীতার নিঃসাড় বুকে স্পন্দনের ধ্বনি অনুভব করবার জন্যে সরোজ কান পাতল। কিন্তু কোনোদিন যে ওই বুকে আর স্পন্দন শোনা যাবে না, এই কথা যখন সরোজ বুঝতে পারল, তখন তার বিস্ফারিত চোখের মণি অকস্মাৎ অদ্ভুত হয়ে উঠেছে।

    নীচের হলঘরের ঘড়িতে সাতটা বাজার সঙ্গে—সঙ্গেই ডাক্তার বিকাশ রায়ের মোটরের হর্ন শোনা গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিয়ের রাত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }