Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভূতগুলো সব ভয় দেখায় – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প976 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অদ্ভুত এক হাওয়া – বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

    আর একটু হলেই ট্রেনটা বেরিয়ে যেত। দুটো লোক সামনের কামরার দরজা আটকে দাঁড়িয়েছিল। অরূপ প্রায় তাদের ঠেলেই মনীষাকে তুলে দিল। ওভাবে উঠতে গিয়ে শাড়িটা গোড়ালি ছাড়িয়ে একটু উঁচুতে উঠে গিয়েছিল। তাড়াতাড়ি নীচু হয়ে নামিয়ে দিতে গিয়ে নীচে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা লোক দুটোর দিকে চোখ পড়ে গেল। তাকিয়ে আছে ওর পা—র দিকে। মনীষা অনেক পুরুষ মানুষের তাকিয়ে থাকা দেখেছে। কিন্তু এদের দৃষ্টি অদ্ভুত, আলাদা।

    সবে নড়ে উঠেছে ট্রেন, অরূপ কাঁধের ব্যাগ আর দু—হাতে দুটো সুটকেস নিয়ে কোনোরকমে উঠে পড়ল। ট্রেনটা এবার সত্যিই চলতে শুরু করেছে। বুক ভরে নিশ্বাস নিল অরূপ। ছাড়ল অনেকটা সময় নিয়ে। তারপর তাকাল মনীষার দিকে। যৎসামান্য হাসি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েও পারল না মনীষা। চোখ ফিরিয়ে নিল জানালা দিয়ে বাইরে। দূরে ছুটে চলা টিমটিমে দু—একটা আলোর অন্ধকারের ভেতরে তখনও বৃষ্টি পড়ছে দু—এক ফোঁটা। বৃষ্টির ওপারে মেঘ। মেঘের ওপারে ছুটে চলেছে চাঁদ ট্রেনের পাশাপাশি।

    বৃষ্টি শুরু হয়েছিল সেই কাকসকালে, প্রায় মশারির ভেতরে। ঘুমের মধ্যে মনীষা তখন জড়িয়ে শুয়েছিল অণিমাকে। সাতাশ বছর আগে অণিমার পেটের ভেতর যখন একটু একটু করে বেড়ে উঠছে মনীষা তখন থেকেই অণিমার গায়ের গন্ধের নেশা ধরে গিয়েছিল। ঘুম পেলে সেই গন্ধটা তার নাকে এসে লাগত। আজ সকাল পর্যন্ত ছিল সেই গন্ধটা। এখন নেই। নেই? খুব জোরে নিশ্বাস নিয়ে গন্ধটাকে খুঁজতে গিয়ে চিকচিক করে উঠল চোখের তলা। এই নেশাটার কথা অরূপ জানে না।

    —চলো, ভেতরে যাই। সুটকেস দুটো তুলে নিয়ে ভেতরে এগিয়ে যেতে লাগল অরূপ। তারপর কী ভেবে বলল—তুমি বরং দাঁড়াও। আমি দেখে আসি আগে বসার জায়গা পাওয়া যায় কিনা।

    মনীষা মাথা নেড়ে তাকিয়ে থাকল সুটকেস দুটোর দিকে। নতুন। আজ সকালবেলা কিনেছে বর্ধমানের জামির স্টোর্স থেকে। নীলিমার বাড়িতে জমিয়ে রাখা শাড়ি, নেলপালিশ, সেন্ট, চপ্পল থেকে শুরু করে অরূপের জামাকাপড়, বই, গানের ক্যাসেট, ছোটো ক্যাসেট প্লেয়ার—সব ও দুটোর মধ্যে। তারপর বাস ধরে দুর্গাপুরে ম্যারেজ—রেজিস্টারের অফিস। তারপর শ্যামল নীলিমা দুলাল নিখিল শাশ্বতীদের নিয়ে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া ঠাট্টাইয়ার্কি করতে কখন সময় গড়িয়ে গেছে আটটায় কারোই খেয়াল ছিল না। ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছিল প্রায় সারাক্ষণ। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে প্রায় চিৎকার করে উঠেছিল শাশ্বতী।

    —মা এতক্ষণে পায়ে চটি গলিয়ে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু বলে আসিনি।

    উঠে দাঁড়াল সবাই। সত্যিই দেরি হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া ট্রেনের সময়ও হয়ে এসেছে।

    জিনিসপত্র নিয়ে স্টেশনের রিকশায় উঠে বসার পর যতদূর চোখ চলে ঘাড় ঘুরিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে ছিল মনীষা। কতদিন পর আবার দেখা হবে। যদি কোনোদিন আর দেখা না হয়? এতক্ষণে শ্যামল আর নীলিমা ঘুমিয়ে পড়েছে। শাশ্বতী হয়তো নিখিলকে দেখছে স্বপ্নে। দুলাল তার চিলেকোঠার ঘরের আলো নিবিয়ে বিছানায় উড়িয়ে নিয়ে এসেছে আরতিকে, কলকাতার বিডন স্ট্রিটে বিয়ে হয়ে যাওয়া স্বামীর পাশ থেকে। শুধু বর্ধমানে তাদের বাড়িটায় এখনও জেগে আছে বিকাশ তার মেয়ে মনীষার জন্য। আর বারবার ছিঁড়ে যাওয়া তন্দ্রার ভেতরে চোখের জল বেরিয়ে এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে অণিমার মুখ।

    হঠাৎ চোখ তুলে তাকাল মনীষা। সেই দু—জন লোক। তার দিকে তাকিয়ে আছে। মনীষা বুঝতে পারল অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে আছে। কখন যে ওরা ট্রেনে চেপে বসেছে খেয়ালই করেনি মনীষা। মুখ ফিরিয়ে নিল। দেখতে পেল অরূপ ফিরে আসছে দু—হাতে সুটকেস নিয়ে। চোখে একরাশ বিরক্তি।

    —কোনো জায়গা নেই। আন—রিজার্ভ কামরা। লোকজন থিকথিক করছে। এই সুটকেসের ওপর বসে রাত কাটিয়ে দিতে হবে। পারবে?

    মনীষা মাথা নাড়ল।—পারব।

    অরূপ সুটকেস দুটো পাশাপাশি রাখল অন্যদিকের দরজা ঘেঁষে।

    —যতক্ষণ এদিকটায় স্টেশন না আসছে বসতে পারবে। চাইলে ঘুমাতেও পারো। আমি জেগে থাকব।

    —পাহারা দেবে আমাকে? আলতো হেসে বলল মনীষা। তারপর কী মনে পড়ে যেতে আড়চোখে তাকিয়ে দেখল লোক দুটো তখনও তাকিয়ে আছে তার দিকে। পলক পড়ছে না। যেন মনীষার সবটাই দেখতে পাচ্ছে। অদ্ভুত তো! আঁচলটা জড়িয়ে নিল। তাকাল অরূপের দিকে। বুঝতে পারল অরূপও দেখেছে ওদের। কিন্তু লোক দুটোর কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।

    —জল খাবে?

    মাথা নেড়ে না বলল মনীষা। বদলে যাচ্ছে ট্রেনের শব্দ। একটা ব্রিজের ওপর দিয়ে নদী পেরোচ্ছে ট্রেনটা। সব কিছু কেমন অদ্ভুত লাগছে ভাবতে। যেন স্বপ্ন—দুঃস্বপ্নের মাঝখানের কোন সময় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে সে। বাবার ‘না’ বলে চিৎকার করে ওঠা এখনও শুনতে পাচ্ছে। শুনতে পাচ্ছে সাতাশ বছরের মনীষাকে জোর করে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেবার শব্দ, শুনতে পাচ্ছে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে মা—র কান্না, কল থেকে জল পড়ে বাথরুম ভেসে যাবার শব্দ, শুনতে পাচ্ছে অরূপের টেলিফোন বেজে চলার শব্দ। কেউ তুলছে না। তোলা বারণ। বন্ধ ঘরে চেয়ারে পা তুলে গুটিসুটি মেরে বসে থাকতে থাকতে ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়েছিল সেদিন। ঘুম ভেঙেছিল দরজা দিয়ে খবরের কাগজ ঢুকে পড়ার শব্দে। আর তখনই মনীষা ঠিক করে নিয়েছিল কী করবে। অরূপের দিকে তাকাল। একটা সিগারেট ধরিয়েছে। আশ্চর্য সহজ মুখের মধ্যে সবচেয়ে গভীর দুটো চোখ। আর ওর হাতের দৈবে পাওয়া আঙুলগুলোর মতো সুন্দর কারও আঙুল দেখেনি মনীষা। ওই আশ্চর্য চোখ দুটোর জন্য, আঙুলগুলোর জন্য সবকিছু করতে পারে মনীষা। ঝরে যেতে পারে, মরে গিয়ে বেঁচে উঠতে পারে আবার। মনীষার নিজের চোখও কম সুন্দর নয়। ছোটোবেলায় বাবা ওর ঘুমে বুজে থাকা চোখের ওপর ঠোঁট রেখে আস্তে আস্তে গরম ফুঁ দিত আর হেসে চোখ মেলে মনীষা জড়িয়ে ধরত বাবার গলা। আজ পাঁচ বছর চশমা উঠেছে চোখে তবু নতুন কেউ তাকে দেখে এখনও প্রশংসা করে তার চোখের। কিন্তু অরূপের চোখের দিকে তাকালে মনে হয় সে সব কিছু নয়। আরও অনেক, অনেক সুন্দর অরূপের চোখ।

    —কী ভাবছ?

    মনীষা তাকায় অরূপের দিকে। বলে— কী ভাববো?

    —ভাবছ কেমন ম্যাড়ম্যাড়ে একটা বিয়ে হল আমাদের! লোকজন এল না! আমার টোপর পরা, তোমার বেনারসি পরে বসে থাকা হল না… এই সব, না?

    অরূপের মধ্যে কোথাও এখনও আভাসে লুকিয়ে আছে এক গ্রাম্যতা। এটুকু মেনে নিয়েছে মনীষা। মাঝে মাঝে মজার লাগে। যেখানে—সেখানে চন্দবিন্দু বসিয়ে দেয়, যেখানে দরকার সেখানে দেয় না। চাঁদকে চাদ বলে, আরশোলাকে আঁরসুলা।

    —আমার বয়স জানো না? এসব ভাবার বয়স আছে?

    —তবে কী ভাবছ?

    —ভাবছি দু—একদিন পর স্কুলে যখন সবাই শুনবে অঙ্কের দিদিমণি প্রেম করে পালিয়েছে ড্রিলের মাস্টারের সঙ্গে তখন মেয়েগুলোর মুখ কেমন হবে।

    মনীষা আসলে এসব কিছুই ভাবছে না। ভাবছে অন্য একটা কথা। বাবার কথা। ভাবতে ভাবতে একটা রাগ উঠে আসছে শরীরের অনেক নীচে চাপা পড়ে থাকা অন্ধকার থেকে। বিকাশ চিরকাল চেয়েছে মনীষা ছোটো হয়ে থাক। সারাজীবন টিফিন কৌটো নিয়ে বেণী বেঁধে স্কুলে যাক। হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান শিখুক। শার্লক হোমস—এর বইয়ের জন্য বাবার কাছে বায়না করুক। আর মাঝে মাঝে বাবার আদর খাক। স্কুলের উঁচু ক্লাসে পড়তে পড়তে মনীষা ভাবত যখন কলেজে পড়বে তখন সব ঠিক হয়ে যাবে। কলেজে গিয়ে ভাবত এমএ. পড়ার সময় বাবা বুঝবে সত্যিই বড়ো হয়েছে ও। বুঝবে মনীষার নিজেরও কিছু ইচ্ছে আছে, ভাবনা আছে জীবন সম্পর্কে। চাকরি করতে গিয়ে ভেবেছিল এবার বাবা বদলাবেই। আজ চার বছর স্কুলে পড়াচ্ছে মনীষা। কিন্তু বিকাশ বদলায়নি। বরং অসন্তুষ্ট হয়েছে ছোটোবেলার মতো জড়িয়ে ধরে আদর করতে পারে না বলে। মাঝে মাঝে বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায় বলে। বাড়িতে মনীষা ছাড়া আর কারও বিশেষ একটা ফোন আসে না বলে। আগে আগে অরূপের ফোন এলে ডেকে দিত। ইদানীং কিছু না বলে ফোন নিঃশব্দে নামিয়ে রেখে দেয়। অণিমাকেও কিছু বলে না। অরূপের সঙ্গে দেখা হবার পর বাড়ি ফিরে এলে মনীষার চোখের প্রশ্নের সামনে এমনভাবে তাকায় যেন কিছুই হয়নি। অরূপকে ঘেন্না করে বিকাশ। দামোদর পেরিয়ে রায়নার দিকে বাসে প্রায় ঘণ্টাখানেক গেলে অরূপদের কাঁচা গাঁথনির বাড়ি। পাঁচ ভাই, তিন বোন। বুড়ি মা। বর্ধমানের একটা মেসবাড়িতে আরও চারজনের সঙ্গে চৌকি পেতে শোয় আর স্কুলে এন.সি.সি. করার সুবাদে ছত্রিশ বছর বয়সে আটশো টাকা মাস মাইনেতে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত মেয়েদের ড্রিল শেখায়। বিকাশের পৃথিবী আলাদা। কিছুটা উঁচু পদের নিশ্চিন্ত সরকারি চাকরি, বাবার দেওয়া বাড়ি ও বিষয়—আশয়, মাঝে মাঝে সেতার বাজানো আর গোগ্রাসে থ্রিলার পড়তে পড়তে কাদা হয়ে গিয়ে তারস্বরে নাক ডাকা। ছোটোবেলায় মাঝে মাঝে সেই ঘুম ভেঙে গেলে মনীষা উঠে গিয়ে বাবার নাক চেপে ধরত। আসলে, বিকাশ কখনও অরূপের দিকে চেয়ে দেখেনি। অরূপের কথা শোনেনি। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে স্বপ্নগুলোর খোঁজ পায়নি কোনোদিন।

    —তুমি কী ভাবছ? মনীষা জিজ্ঞাসা করে।

    —ভাবছি ভূপালে পৌঁছতে পৌঁছতে কাল বিকেল। ছোটোখাটো একটা হোটেল খুঁজে বের করতে হবে। তারপর হনিমুন, নতুন স্কুলে ড্রিল মাস্টারের চাকরি, তোমার চাকরি খোঁজা সব একসঙ্গে।

    মনীষা হাসে। বলে—তুমি হিন্দি জানো? ওখানে তো ছেলেদের সঙ্গে হিন্দিতে কথা বলতে হবে।

    —যাতা হ্যায় খাতা হ্যায় পর্যন্ত পারি। তারপর চালিয়ে নেব। একটু থেমে বলে—পৌঁছে কিন্তু বাড়িতে সব জানিয়ে একটা চিঠি লিখে দিও। ওঁরা ঠিক বুঝবেন, মানে তোমার বাবা। কিছু করার তো নেই আর ওঁর। তুমি দেখো, আমরা আবার বর্ধমানে ফিরে আসব। ব্যাংক কলোনি বা তার ধারে কাছে কোথাও একটা ছোটো বাড়ি নেব। তোমার শার্লক হোমস আর আগাথা ক্রিস্টির বইগুলো সব সাজিয়ে রাখব। তুমি শুয়ে শুয়ে চোখ বুজে গান শুনবে, আমি তোমার জন্য পালংপাতা দিয়ে ডাল রান্না করব, কচুর লতি আর সরষে দিয়ে কুমড়োপাতায় ঘণ্ট করব, কুচি মাছের টক করব। জামাইষষ্ঠীর দিন কোঁচা ঝুলিয়ে ধুতি পরে ঘাড় উঁচু করে তোমার সঙ্গে তোমাদের বাড়ি যাব। সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি ভেব না।

    মনীষা বলে—আমি এসব ভাবছি তোমাকে কে বলল?

    —তোমার চোখ।

    চোখ সরিয়ে অন্য দিকে তাকাল মনীষা। লোক দুটো নেই। মুখ ঝুঁকিয়ে কম্পার্টমেন্টের ভেতরটা দেখার চেষ্টা করল। দেখতে পেল না লোক দুটোকে। ট্রেনটা পাগলের মতো ছুটছে। দুলছে জানালাগুলো। দুলছে বাইরের ঘুরঘুট্টে অন্ধকারের ভেতরে মনীষার সাতাশটা বছর, তার ছোট্ট হলুদ ফ্রক, মা—র সিঁদুরের কৌটো, দাদুর বেতের ছড়ি আর বাবার হাতের আংটি।

    —একটু ঘুমিয়ে নাও।

    মনীষা বলল—ঘুম পাচ্ছে না। তুমি ঘুমোও। আমি পাহারা দিচ্ছি।

    হেসে উঠল অরূপ। তারপর আস্তে আস্তে ওর মুখে অদ্ভুত একটা কষ্ট ফুটে উঠল।

    মনীষা বলল—কী হল?

    —আমি জানি না ঠিক করলাম কিনা। কেন যে এমন হল! তোমার বাবার কথা তো ভুল নয়। তোমাকে সত্যিই কি আমি কিছু দিতে পারি? কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতাম না। এটা সত্যি। তুমি বাঁচতে?

    অরূপ দেখতে পেল মনীষা ঠোঁট নড়ে উঠল। কিন্তু কথাগুলো বেরিয়ে এসে অরূপের কান পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই এক ঝলকে চৌচির হয়ে ভেঙে পড়ল আকাশ পাতাল জল স্থল নিয়ে সমস্ত পৃথিবী। শূন্যে পাক খেয়ে উঠে গেল কামরাটা একটা বলের মতো। নীচে আছড়ে পড়ার সামান্য আগে অরূপ তার সমস্ত শরীর, হাত আর স্মৃতি বাড়িয়ে প্রায় উড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরল মনীষাকে, ঢেকে নিল মনীষার সবটুকু। আর তারপরই হাজার সমুদ্র একসঙ্গে গ্রাস করে নিল তার চেতনাকে। তার এক পল আগে মনীষা শুধু শুনতে পেল তার বাঁদিকে চশমার ফ্রেম খুট শব্দ করে ভেঙে পড়ে গেল। নাকি খুলে পড়ে গেল তার চোখ? তারপরের কোনো কিছুই আর জানে না মনীষা।

    হাজার মানুষের হালকা চিৎকার কান্না চেঁচামেচি দৌড়াদৌড়ি ঘূর্ণির মতো ঘুরতে ঘুরতে এক সময় আছড়ে পড়ল মনীষার কানে। অনেক কষ্টে চোখ মেলে তাকাল। কিছুই মনে পড়ল না। কোথায় শুয়ে আছে ও? বাড়িতে? বাবার পাশে ছোটোবেলার ভোরগুলোর মতো গুড়িসুড়ি মেরে আর মুখে সুড়সুড়ি দিতে দিতে বাবা গান গাইছে ‘তোমারও অসীমে…’? না কি এই সেদিনও যেমন মা—কে জড়িয়ে ধরে শুয়েছিল তেমনই শুয়ে আছে? কিন্তু সেই গন্ধটা তো নেই? তারপরই আস্তে আস্তে সব মনে পড়তে শুরু করল। মনে পড়ল ট্রেনের জানালার বাইরে মেঘের ভেতর দিয়ে চাঁদের ছুটে চলা। মনে পড়ল শূন্যে উঠে গিয়ে তাদের কামরাটার অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে আছড়ে পড়া ভয়ংকর এক অন্ধকারে, মনে পড়ল দুটো হাতের তার শরীরকে জড়িয়ে ধরা। কার হাত? উঠে বসল মনীষা। অরূপ কোথায়? চারপাশে তাকিয়ে দেখল। অনেক দূরে আকাশে অদ্ভুত এক আলো, আস্তে আস্তে বাড়ছে। ভোর হচ্ছে। পেছনে তাকাল। চমকে উঠল সঙ্গে সঙ্গে। গত রাতের সেই ট্রেনটা। ধনুকের মতো বেঁকে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে আছে। ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে এদিক—ওদিক থেকে। কিন্তু অরূপ কোথায়?

    উঠে দাঁড়াতে গিয়ে টের পেল ডান হাঁটুতে অসহ্য যন্ত্রণা। বুঝতে পারল পারবে না। চুপচাপ বসে থাকল মনীষা সেই নরকের মধ্যে। চারপাশে উলটে পড়ে আছে মানুষের শরীর। ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে কাটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। রাশি রাশি জিনিস। মরা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে হাত—পা ছুড়ে কাঁদছে অল্পবয়সি এক মা। হঠাৎ মনে হল পেছনে ঠান্ডা কী যেন লাগছে। সরে বসতে গিয়ে দেখতে পেল সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে রক্ত ভেসে এসে তাকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সাপের মতো এঁকেবেঁকে। দূরে কিছু মানুষ দৌড়চ্ছে। কিছু মানুষ হাত ধরে দাঁড়াতে সাহায্য করছে অন্য কিছু মানুষকে। কেউ কেউ এক—একটা শরীর তুলে খুঁজে বেড়াচ্ছে তাদের চেনা মুখ। না পেয়ে ফেলে দিচ্ছে আবার। অরূপ ওদের মধ্যেই কোনো একজন নয়তো? ভয়ে কেঁপে উঠল মনীষা। আরও অনেকের মতো চিৎকার করে কেঁদে উঠতে চাইল। নাকের কাছে কী যেন লাগছে। হাত লাগিয়ে বুঝতে পারল নাকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে নীচে শুকিয়ে আছে রক্তের ডেলা। মাথা ঘুরে উঠল মনীষার। বুঝতে পারল গভীর গোপন কোনো ঘুম আস্তে আস্তে ঘিরে ফেলতে চাইছে তাকে। চোখ বুজে আসার আগে শুনতে পেল কে যেন তার নাম ধরে ডাকতে ডাকতে ছুটছে। হাত তুলে সাড়া দেবার চেষ্টা করল। ডাকটা এগিয়ে আসছে আরও কাছে। অনেক কষ্টে মনীষা মুখটা সামান্য তুলতে পারল মাত্র। বুঝতে পারল অন্য একটা মুখ ঝুঁকে পড়ছে তার ওপর। নিশ্বাস এসে লাগছে ঠোঁটে। চেনা একঝাঁক আঙুল স্বপ্নের মতো ভেসে আসছে মুখের ওপর। প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে তাকে। আর তাকিয়ে থাকতে পারল না মনীষা। ঘুম গিলে ফেলছে তাকে। ঘুমের ভেতর দেখতে পেল অদ্ভুত এক ঘুমন্ত রোদ্দুর। তার ভেতর সে, অরূপ আর তাদের বেঁচে থাকা।

    মনীষার শরীরটাকে কোনোরকমে কাঁধে তুলে নিল অরূপ। পাশেই পড়েছিল দুটো সুটকেসের একটা। তুলে নিল অন্য হাতে। তারপর এলোপাতাড়ি ছুটতে শুরু করল। আলো অনেক বেড়েছে। ভোর হয়েছে সামান্য একটু আগে। ভোর যে আবার কোনোদিন দেখতে পাবে ভাবতেও পারেনি কাল, যখন প্রচণ্ড শব্দ করে ভেঙে পড়েছিল তাদের কামরাটা। ভালো করে ছুটতে পারছে না অরূপ। চারপাশে ছড়ানো ছিটোনো মানুষের শরীর, ছোটো—বড়ো নানান সুটকেস ব্যাগ জলের বোতল। সাবধানে পা ফেলে ফেলে দৌড়তে হচ্ছে। মাটিতে লুটয়ে থাকা একজন হাত এগিয়ে দিল অরূপকে দেখে। তাড়াতাড়ি সুটকেসটা নামিয়ে হাত বাড়িয়ে লোকটিকে উঠে বসতে সাহায্য করল। তারপর আবার দৌড়তে লাগল। যত তাড়াতাড়ি বের হয়ে যাওয়া যায়। কনুইয়ের কাছে অনেকটা চিরে গেছে অরূপের। রক্ত পড়ছে এখনও। হাড় হিম করা একটা ব্যথা ঘাড় পর্যন্ত উঠে আসছে। কিন্তু ও কিছু না। শেষপর্যন্ত বেঁচে থাকা মানুষদের মধ্যে সেও যে আছে এটা ভাবতেই অদ্ভুত ভালো লাগছে অরূপের। পেছন ফিরে দেখল বেশ খানিকটা দূরে ফেলে এসেছে সেই দুঃস্বপ্নের ট্রেন, মৃত মানুষের স্তূপ এবং তাদের এক নিমেষে হারিয়ে যাওয়া সুখ, দুঃখের স্মৃতিগুলো। কিন্তু মনীষা? বেঁচে আছে তো? নাকি ওর নিষ্প্রাণ শরীর নিয়ে ছুটছে অরূপ? ছ্যাঁত করে উঠল অরূপের বুক। দাঁড়িয়ে পড়ল। আস্তে আস্তে মাটিতে নামাল মনীষাকে। শুইয়ে দিল। ভালো করে তাকিয়ে দেখল। গায়ে হাত দিল। কান নিয়ে এবং বুকের কাছে। শব্দ হচ্ছে। পকেট থেকে রুমালটা বের করে আস্তে আস্তে যত্ন করে মুছিয়ে দিল মনীষার মুখ।

    অনেকক্ষণ সময় নিয়ে চোখ মেলল মনীষা। তাকাল অরূপের দিকে। একটা নিশ্চিন্তের হাসির আভাস ফুটে উঠল তার মুখে। ফিসফিস করে বলল— তোমার কিছু হয়নি তো?

    —না। তোমার কোনো কষ্ট হচ্ছে?

    মাথা নাড়ল। না জানাল মনীষা।— তোমার?

    —না।

    —আজ কত তারিখ?

    —তেইশ।

    —কী বার?

    —বুধবার। কথা বোলো না। একটু চুপচাপ শুয়ে থাকো। দেখবে অনেক ভালো লাগছে।

    —আমি ভালো আছি। মনীষা হাত তুলে তার নাকের কাছে আনল। রক্ত লেগে আছে? নাকের নীচে?

    —না।

    —তুমি মুছিয়ে দিয়েছ, না? অদ্ভুতভাবে হাসল মনীষা।

    দূর থেকে গাড়ি যাবার শব্দ ভেসে এল। উঠে দাঁড়াল অরূপ। প্রথমে মনে হল এক চিলতে একটা নদী। তারপর বুঝতে পারল সকালের আলো পড়ে রুপোর মতো চিকচিক করছে দূরের একটা পিচের রাস্তা। হাওয়ায় ভেসে এল ইঞ্জিনের শব্দ। দেখতে পেল একটা গাড়ি আস্তে আস্তে এসে থামল। সামান্য থেমে আবার চলে গেল। গাড়িটা বিন্দুর মতো অনেক দূরে মিলিয়ে গেলে মুখ ফিরিয়ে অরূপ তাকাল মাটিতে শুয়ে থাকা মনীষার দিকে। মনীষার চুল উড়ছে, আঁচলের দিকটা উড়ছে, পায়ের দিকের শাড়ি বেশ কিছুটা ওপরে উঠে গেছে। নামিয়ে দিতে গিয়েও থেমে গেল অরূপ। তাকিয়ে থাকল খোলা পা—র দিকে। চারদিকে শুধু হাওয়া আর হাওয়া। তার মাঝখানে চোখ বুজে শুয়ে আছে মনীষা। নাকি একটু ঘমিয়ে পড়েছে? হঠাৎ কেমন অন্যরকম লাগল মনীষাকে। ভালো করে তাকিয়ে বুঝতে পারল চোখে চশমাটা নেই। কোথায় গেল চশমা? খুলে পড়ে গেছে কাল কোন অন্ধকারে, এখন আর পাওয়া যাবে না। ভূপালে পৌঁছে প্রথমেই মনীষার চশমা করাতে হবে। তারপর অন্য কাজ। এত কিছুর পরেও এখন ভালো লাগছে অরূপের। প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে সিগারেটের প্যাকেটটা খুঁজে পেল। আঙুলটা আর একটু সরাতেই দেশলাইয়ের বাক্সটা। মনীষার পাশে বসে একটা সিগারেট ধরাল। মনে মনে হাসি পেল অরূপের। মরতে মরতে আশ্চর্যভাবে বেঁচে গিয়ে একটা আকাশছোঁয়া প্রান্তরের মধ্যে বসে সিগারেট টানছে সে, পাশে মনীষা। বেঁচে আছে সেও। বেঁচে গেছে তাদের স্বপ্নগুলো। বেঁচে গেছে তাদের মনে মনে এঁকে রাখা ঘর—গেরস্থালি। তাদের পরস্পরকে জড়িয়ে—মড়িয়ে বেঁচে থাকার অনেক অনেক দিন। কিন্তু ভূপালে পৌঁছবে কী করে? কতদূর এ জায়গাটা ভূপাল থেকে? জায়গাটার নামই বা কী? হঠাৎ অরূপের মনে হল কেউ দেখছে তাদের। মুখ ফিরিয়েই মুহূর্তের জন্য হিম হয়ে গেল তার শরীর। কাল রাতে দেখা ট্রেনের সেই দুটো লোক। তাকিয়ে আছে মনীষার খোলা পা—র দিকে। লোক দুটোর মুখময় শুকিয়ে আছে রক্ত। রক্ত তাদের জামাকাপড়ে। আস্তে আস্তে মুখ তুলে অরূপের দিকে তাকাল লোক দুটো। তারপর হেঁটে যেতে লাগল সামনে।

    বেশ খানিকক্ষণ পরে মনীষা চোখ মেলে তাকাল। দেখল অরূপ চেয়ে আছে তার দিকে। কী গভীর আর উজ্জ্বল লাগছে তার চোখ দুটো। মাথার ওপর এগিয়ে আসছে সেই আঙুলগুলো। নড়ছে। আরাম লাগছে মনীষার। মনীষা হাসল।

    অরূপ বলল— উঠতে পারবে? আমাকে ধরে ধরে হাঁটতে পারবে? ওই বড়ো রাস্তাটা পর্যন্ত? ওখান থেকে কিছু পাওয়া যেতে পারে। শহর—টহর কোথাও একটা পৌঁছনো দরকার। পারবে?

    মনীষা বলল— পারব।

    তারপর আস্তে আস্তে উঠে বসল নিজেই। হাত বাড়িয়ে মনীষাকে উঠতে সাহায্য করল অরূপ। দাঁড় করিয়ে দু—হাত ছেড়ে দিল।

    —সত্যি পারবে? অরূপ জিজ্ঞাসা করল।

    —ভোরে মনে হচ্ছিল কোনোদিন আর হাঁটতে পারব না। হাঁটু দুটো যন্ত্রণায় ভেঙে যাচ্ছিল। এখন ব্যথাটা একদম নেই। হাঁটব? দেখবে?

    মাথা নাড়ল অরূপ। দেখল সত্যিই মনীষা এক পা দু—পা করে হাঁটতে পারছে। সুটকেসটা এক হাতে তুলে নিল। অন্য হাত দিয়ে মনীষার কনুইয়ের ওপর শক্ত করে ধরল। বলল— চলো। না পারলে বলবে। কাঁধে নিয়ে নেব। এখানে তোমাকে কেউ দেখবে না।

    মনীষা হাসল। বলল— নিয়েছিলে তো কাঁধে। ছুটছিলে। আমি বুঝতে পারছিলাম। কষ্ট হচ্ছিল তোমার, না?

    —না। তোমাকে অনেকক্ষণ ধরে খুঁজছিলাম। এক সময় মনে হচ্ছিল আর পাব না। তারপর তোমাকে দেখলাম। দেখলাম বেঁচে আছ। তখন মনে হচ্ছিল আমি সব করতে পারি।

    আস্তে আস্তে হাঁটতে লাগল মনীষা আর অরূপ। বড়ো রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছতে প্রায় আধঘণ্টা লেগে গেল। রোদ বেড়েছে। সামনে একটা গাছ দেখতে পেয়ে তার তলায় গিয়ে দাঁড়াল ওরা। দূর থেকে মাইকে একটা গান ভেসে আসছে। কান পেতে শুনে মনীষা বুঝতে পারল কোনো হিন্দি সিনেমার গান। সামনেই কোনো গ্রাম বা আধা শহর গোছের কিছু একটা আছে। কিন্তু কিছু দেখতে পেল না। মুখ ঘুরিয়ে তাকাল অরূপের দিকে। তাকিয়ে আছে রাস্তার দিকে। যদি বাস বা গাড়ি কিছু আসে। যদি আর কোনোদিন দেখা না হত অরূপের সঙ্গে? যদি মরে যেত অরূপ আর শুধু বেঁচে থাকত ও? কী করত তাহলে? বর্ধমান ফিরে যেত একা একা? কিংবা যদি শুধুই অরূপ বেঁচে থাকত?

    হঠাৎ দেখতে পেল ধুলোঝড়ের মতো ছুটে আসছে একটা ঘূর্ণি। অদ্ভুত একটা শব্দ শোনা যাচ্ছে। তারপর আস্তে আস্তে বুঝতে পারল ধুলো উড়িয়ে একটা বাস আসছে। কাছে এসে পড়েছে বাসটা। অরূপ হাত তুলে প্রবলভাবে নাড়তে লাগল বাসটাকে দাঁড় করানোর জন্য। আরও কাছে এলে দেখতে পেল বাসের ওপর লেখা আছে ভূপাল। যাচ্ছে, না আসছে ভূপাল থেকে? বাসটা ওদের দেখেছে। আস্তে আস্তে সামনে এসে দাঁড়াল।

    ছুটে গিয়ে অরূপ জিজ্ঞাসা করল— ভূপাল?

    বাসের কন্ডাক্টর বা খালাসির মতো কেউ মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানাল। নেমে সুটকেসটা তুলে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে বাসের ছাদে উঠে গেল। বাঁধল একটা দড়ি দিয়ে আরও অনেক মালপত্রের সঙ্গে। অরূপ মনীষাকে ধরে বাসে ওঠাল। তারপর নিজেও উঠল। হঠাৎ কী দেখে মনীষা প্রায় মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিল। তাড়াতাড়ি ধরে ফেলল অরূপ। দেখল সেই লোক দুটো। বসে আছে বাসের ভেতর। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মনীষার দিকে।

    বাসটা ছুটছে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে উড়ে যাচ্ছে। অরূপের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে মনীষা। বেলা শেষ হয়ে আসছে। আকাশে লাল আভা ফুটে উঠছে আস্তে আস্তে। ভূপাল পৌঁছতে অনেক রাত্রি হয়ে যাবে। সন্ধ্যার পর বাসটা একবার থেমেছিল একটু। চা ছাড়া আর কিছু খেতে চায়নি মনীষা। অরূপের অল্প অল্প খিদে পাচ্ছে এখন। ভূপালে পৌঁছে আগে একটা ছোটোখাটো হোটেল খুঁজে বের করতে হবে। পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন হওয়া চাই। মনীষার একটু পরিষ্কার পরিষ্কার বাতিক আছে। এই জামাকাপড় ছাড়তে না পারলে অরূপের নিজেরই ঘেন্না লাগছে। হোটেলে গিয়ে আগে ভালো করে স্নান করতে হবে। কী পরবে স্নান করে? ওর সুটকেসটা তো খুঁজে পায়নি কোথাও। ওতে সব ছিল।

    কন্ডাক্টারকে আগেই বলে রেখেছিল অরূপ হোটেলের কথা। বাজারের সামনে আসতেই সে বলে উঠল— ইঁহা উতর যাইয়ে। ও সামনে হ্যায় হোটেল। বাঙ্গালি হোটেল।

    বাস থামল। মনীষা উঠে পড়েছে। চারদিক তাকিয়ে দেখল। হঠাৎ মনে হল সেই লোক দুটো কোথায়? বাসের ভেতর কোথাও তো নেই লোক দুটো। লোক দুটোর কথা ভেবে অবাক লাগল মনীষার। তারপর নিজেই আস্তে আস্তে নামল বাস থেকে। জমজমাট করছে জায়গাটা। চারদিকে আলো। দোকান। লোকজন। ভালো করে তাকিয়ে মনে হল মুখগুলোর মধ্যে কোনো মায়া নেই, স্বপ্ন নেই।

    ছাদ থেকে সুটকেস নামিয়ে আনতে ছুটে গেল কন্ডাক্টার। সুটকেসটা নিয়ে অরূপ দুটো টাকা দিল তাকে।

    —সেলাম। কপালে হাত ঠুকল লোকটি। তারপর দৌড়ে উঠে পড়ল বাসে। হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে হাত চাপড়াতে লাগল বাসটার গায়ে। বাসটা চলে গেলে উলটো দিকে চোখ পড়ল— নিউ বেঙ্গল হোটেল। কন্ডাক্টারের বুদ্ধির মনে মনে তারিফ করল অরূপ। মনীষার দিকে তাকিয়ে বলল— চলো।

    এটাচড বাথ দেড়শো। কমন একশো। মনীষার দিকে তাকিয়ে এটাচড বাথই নিল অরূপ। দুই—এক দিনের ব্যাপার। তারপর স্কুল থেকে একটা ঘর ঠিক করে দেবে বলেছে। কাল ঘুম থেকে উঠেই আগে স্কুল। তারপর মনীষার চশমার জন্য ডাক্তারের খোঁজ করা। তারপর শহরটা ঘুরে দেখা।

    তিনতলার একটা ঘর। ঢুকে মন্দ লাগল না মনীষার। বাহুল্য নেই। একটা ডবলবেডের খাট। পাট করে চাদর পাতা। বালিশের ঢাকনাগুলো পরিষ্কার। একটা আলনা। একটা টেবিল আর চেয়ার। বাথরুমের দরজাটা খুলে দেখে নিল। সস্তার দুটো সাবান আর রং উঠে যাওয়া দুটো ধোয়া তোয়ালে। ঠিক আছে। অল্পবয়সি একটা বেয়ারা এসে জলভরতি কাচের জাগ আর দুটো গ্লাস দিয়ে গেল। দেখে মনে হল বাঙালি। মনীষার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল। কাল কথা বলবে ছেলেটার সঙ্গে। জানলা দুটো খুলে দিল মনীষা। একঝলক হাওয়া এসে লাগল মুখে। শরীরের সমস্ত তন্তু দিয়ে মনীষা টেনে নিল সেই হাওয়া তার বুকে। তারপর তাকাল অরূপের দিকে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অরূপ। দু—চোখ জুড়ে মায়া। আরও যেন কিছু আছে সেই চাউনিতে। কী যেন চাইছে চোখ দুটো তার কাছে। কত যুগ ধরে এভাবে তাকিয়ে আছে অরূপ তার দিকে?

    —চশমা ছাড়া তোমার চোখ আরও সুন্দর লাগছে। অরূপ বলল ফিস ফিস করে।

    সব বুঝতে পারল মনীষা। কতকাল ধরে অপেক্ষা করে আছে মনীষা এই মুহূর্তের জন্য। অপেক্ষা করে আছে অরূপ। ঘেমে উঠেছে তার মুখ। অরূপ দেখল মনীষার উজ্জ্বল দুই চোখের চারপাশে, ঠোঁটের চারপাশে জমে উঠছে ঘাম।

    খুট করে একটা শব্দ হল। আলো নিবিয়ে দিল অরূপ। তারপর এগিয়ে যেতে লাগল মনীষার দিকে। হঠাৎ মনে হল চাপা এক অন্ধকারের ভেতর দিয়ে অনেকক্ষণ হাঁটছে সে। কিন্তু মনীষা কোথায়? ঠিক এই সময় তার হাত, হাতের আঙুল স্পর্শ করল মনীষার শরীর। অরূপ জড়িয়ে ধরল মনীষাকে। বুঝতে পারল মনীষাও জড়িয়ে ধরেছে তাকে। শুষে নিতে চাইছে দু—জন দু—জনার শরীর। অন্ধকারের মধ্যে আস্তে আস্তে অরূপের চোখের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল মনীষা। বাড়িয়ে দিল তার আঙুল। অরূপের ঠোঁটের ওপর দিয়ে, নাকের ওপর দিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল মনীষার আঙুল। তারপর দুটো গর্তের মধ্যে ঢুকে গেল। এগিয়ে যেতে লাগল সেই গর্ত দুটোর মধ্যে দিয়ে। এ কি, কোথায় অরূপের চোখ? চোখের জায়গায় হাড়হিম এক আঁধারের মধ্যে দিয়ে কোথায় চলেছে তার আঙুল? আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল মনীষা। ঝরে যেতে লাগল আসমুদ্র অন্ধকার, সেই ঘর, সময়।

    অরূপের আঙুল উঠে এল মনীষার চোখের দিকে। তারপর দুটো গর্তের মধ্যে ঢুকে গেল তার আঙুল। অরূপ বুঝতে পারল সব। বুঝতে পারল দুটো গর্তের মধ্যে দিয়ে এক অনন্ত জলরাশির ভেতর ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে দুটো আঙুল। অনেক অনেক দূরে মনীষার কান্না তবু ছুঁতে পারল অরূপ। কেন এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে গেল সব? নাকি তারা এমনই ছিল চিরকাল? মনীষা কি কোনোদিনই মানুষী ছিল না? সেও কি মানুষ ছিল কোনোদিন? কিছু মনে পড়ল না অরূপের। মনীষারও মনে পড়ল না কোনোকিছু। শুধু অদ্ভুত এক হাওয়া এসে ঘিরে নিল তাদের।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিয়ের রাত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অদ্ভুতুড়ে সিরিজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    July 13, 2026
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }