Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভূতগুলো সব ভয় দেখায় – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প976 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পণ্ডিত ভূতের পাহারায় – শেখর বসু

    চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে মনের মতো একটা বাড়ি বানিয়েছিলেন হরিচরণ সাঁই। কৃপণ বলে ভীষণ বদনাম ছিল ওঁর, কিন্তু বাড়ি বানাবার ব্যাপারে কোনো কার্পণ্য করেননি। দু—হাতে টাকা খরচ করেছেন। বাড়ির প্রতিটি জিনিস সেরা। ছোট্ট দোতলা বাড়ি, সামনে একটা বাগান।

    এই গাঁয়ে আরও কয়েকটা দোতলা বাড়ি আছে, কিন্তু সেগুলো দেখতে একটুও ভালো নয়। ইটের পরে ইট গাঁথা মাঠকোঠা। ছোটো—ছোটো জানালা—দরজা। সেই জন্যে ঘরগুলো কেমন যেন অন্ধকার—অন্ধকার। কিন্তু হরিচরণের বাড়ি অন্য নিয়মে বানানো। শহর থেকে বড়ো মিস্তিরি এনেছিলেন। সেই সঙ্গে এনেছিলেন দামি—দামি মালপত্র।

    গাঁয়ের লোকে হাঁ করে সেই বাড়ি বানানো দেখত। বাড়ি নয়, যেন ছবি। বড়ো বড়ো জানলা—দরজা। দোতলায় বাহারি রেলিং বসানো ঝুলবারান্দা। বাড়ির দেয়ালের রঙের কী বাহার!

    গাঁয়ে কয়েকজন বন্ধু আছেন হরিচরণের। তাঁদের সবার মুখেই এক কথা। বলতেন : হরি তোমার হলটা কী! সারা জীবন তোমার হাত দিয়ে একটা পয়সাও গলেনি। কিপটেমি করে কাটালে। এখন সব জমানো টাকা ঢেলে দিচ্ছ বাড়ি তৈরির পেছনে! বাড়ির দিকে তাকিয়ে কি তোমার পেট ভরবে! চাকরিবাকরি শেষ, জমানো টাকার কিছুটা রেখে না দিলে বাকি জীবনে খাবে কী! তুমি একা নও, বউ আছে। দুটো পেট, খেয়ে—পরে বাঁচতে হবে তো!

    হরিচরণ মুচকি হেসে সব বন্ধুকে এক কথা শোনাতেন। বলতেন : ভাই, এইরকম বাড়ি বানানো ছিল আমার সারা জীবনের স্বপ্ন। সেই জন্যই চিরটাকাল অত কষ্টে থেকে টাকাপয়সা জমিয়েছি। কথায় বলে, কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না। তা, আমার কেষ্ট এই বাড়িটা। সাত গাঁয়ের লোক বলবে, হ্যাঁ, বাড়ি বটে একখান! শহরের লোকও চমকে যাবে এই বাড়ি দেখে। আর, খাওয়াদাওয়ার কথা বলছ? আমাদের পেট বলতে মাত্র দুটো। ছেলেপুলে নেই। ডাল ভাত খেয়ে বুড়োবুড়ির দিব্যি চলে যাবে।

    দোতলা বাড়ি বানাবার পেছনে হরিচরণের আর একটা হিসেব ছিল। সেই হিসেবটা উনি গোড়ার দিকে বন্ধুবান্ধবদের কাছে ভাঙেননি। হিসেবটা পরিষ্কার। এখন গাঁয়ে বেশ কিছু সরকারি কাজকর্ম শুরু হয়েছে। সেই কাজের সুবাদে বাইরের লোকজন আসছে। তাদের থাকার মতো খুব বেশি জায়গা নেই এই গাঁয়ে। হরিচরণ ঠিক করেছিলেন, ওঁদের কারও কাছে এ—বাড়ির একতলাটা ভাড়া দিয়ে দেবেন। নিজেরা থাকবেন দোতলায়। ভাড়ার টাকায় দিব্যি চলে যাবে খাওয়াপরা।

    নিখুঁত হিসেব। বাড়ি শেষ হওয়ার মুখ থেকেই বাড়ি ভাড়া নেওয়ার জন্যে ঘুরঘুর করতে শুরু করে দিয়েছিল লোকজন। সবার সঙ্গেই কথা বললেন হরিচরণ। শেষে বেশ মোটা টাকায় ভাড়াটে বসালেন একতলায়। কিন্তু মাস ফুরোবার আগেই সে ভাড়াটে পালাল। তার পরে যে এসেছিল তার আয়ু মাত্র পনেরো দিন। এই ঘটনাই ঘটতে লাগল পরের পর। সাত মাসে আট জন ভাড়াটে পালাল এই বাড়ি থেকে।

    বদনাম হয়ে গিয়েছিল বাড়ির। এত সুন্দর বাড়ি, কিন্তু ভাড়াটে আর জুটছিল না। হরিচরণ বাড়ির ভাড়া কিছু কমিয়েও দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাও কেউ এল না। যে আটজন ভাড়াটে এ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে তাদের সবার মুখেই এক কথা : রাত্তিরে যদি ঘুমোতেই না পারি, সুন্দর বাড়িতে থেকে আমাদের হবেটা কী?

    হরিচরণের বন্ধুবান্ধবরা এসে বোঝাতে শুরু করলেন বন্ধুকে। একটু ঘুরিয়ে—ফিরিয়ে সবার মুখেই এক কথা। বললেন : হরি, তোমার এ পাগলামো ছাড়ো। লোকে বাড়ি ভাড়া নেয় কেন? থাকার জন্যে তো? তা, থাকা মানে তো শুধু দিনের বেলায় থাকা নয়। রাত্তিরে ঘুমও দরকার। সেই ঘুমটাই যদি না হয়, এ বাড়িতে থাকার কোনো মানে হয় না।

    এসব কথা শুনে চটে উঠতেন হরিচরণ। সব বন্ধুকেই শুনিয়ে দিতেন একই কথা। বলতেন: আমার টাকা পড়ে—পাওয়া টাকা নয়। রক্ত জল করে রোজগার করেছি। নিজের কোনো শখ—টখ মেটাবার দিকে যাইনি কখনো। কষ্ট করে থেকেছি। কেন থেকেছি? না, চাকরিবাকরি শেষ হলে জমানো টাকা দিয়ে মনের মতো একটা বাড়ি বানাব। সে বাড়ি আমি বানিয়েছি শেষপর্যন্ত। বানানো মানেই কিন্তু কাজ শেষ নয়। বাড়ি দেখাশোনা করাও তো কাজের মধ্যে পড়ে। দিনের বেলায় দেখার লোকের অভাব হয় না। কিন্তু রাতে? রাতে কে দেখবে? রাতে দেখা মানে পাহারাদারি করা। আমি সেই পাহারাদারির কাজটুকু করি। বিনি পয়সায় এতবড়ো একটা কাজ করে দেওয়ার জন্যে ভাড়াটেদের তো কৃতজ্ঞ থাকা উচিত ছিল আমার কাছে! তা না, উলটে ওরা আমার নিন্দেমন্দ করে বেড়াচ্ছে। বলে কিনা বুড়ো বয়েসে ভীমরতি ধরেছে আমার! দরকার নেই আমার ভাড়াটের। কিন্তু আমার বাড়ি আমি পাহারা দেবই। ঘরের ভেতরের দামি জিনিসপত্রের কথা বাদ দাও, এ বাড়ির জানলা—দরজা, এমনকী দেয়ালেও অনেক দামি—দামি জিনিসপত্র লাগানো আছে। ওগুলো চুরি হয়ে যেতে পারে যেকোনো রাতে। চোররা যাতে সে সুযোগ না পায় তার জন্যে নজরদারি তো আমাকে চালাতে হবেই। কী, অন্যায় কিছু বললাম?

    হরিচরণের সঙ্গে তর্কে এঁটে ওঠা কঠিন। তা ছাড়া এ—বাড়িটা ওঁর নিজের বাড়ি। কীভাবে চালাবেন সে—ব্যাপারে ওঁর কথাই শেষ কথা। তবু বন্ধুরা এই বন্ধুটির মতি ফেরাবার চেষ্টা করতেন। কেউ বলতেন, ‘এ গাঁয়ে তো তেমন চুরি হয় না।’

    উত্তরে বেশ জোর গলায় বলতেন হরিচরণ, ‘আজ তেমন হচ্ছে না, কিন্তু কাল থেকে তো হতে পারে। কথায় বলে, সাবধানের মার নেই। আমি সাবধানে থাকছি শুধু।’

    কেউ বলতেন, ‘ঠিক আছে, তুমি পাহারা দিচ্ছ দাও। পাহারা দেওয়ার ভঙ্গিগুলো শুধু পালটে দাও।’

    এই ধরনের কথার জবাবে একটু চটেই যেতেন হরিচরণ। ‘চোর যাতে বাড়িতে না ঢোকে সেই জন্যে তো আমি রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। তা, আমি যে চোর তাড়াবার জন্যে জেগে বসে আছি, এটা চোররা জানবে কীভাবে? ওদের জানান দেওয়ার জন্যে আমি তাই একটু—আধটু কায়দা করি।’

    ‘কী কায়দা?’

    ‘সে আছে কয়েকটা।’

    ‘বলো না।’

    ‘এর আবার বলাবলির কী আছে! আর পাঁচজনও তো নিজেদের বাড়ি পাহারা দেয়, আমিও দিই। আমার শুধু নিজস্ব কয়েকটা কায়দা আছে।’

    ‘কী সেই কায়দাগুলো।’

    নাছোড় এক বন্ধুর পাল্লায় পড়ে কায়দার কথা ফাঁস করতে বাধ্য হলেন হরিচরণ। ‘আমার একজোড়া মোটা কাঠের খড়ম আছে। কাশীতে গিয়ে কিনেছিলাম অনেক বছর আগে। তোলাই ছিল খড়মজোড়া, এখন একটু—আধটু কাজে লাগাই।’

    ‘কীরকম?’

    ‘রাত একটু গভীর হলে এই পাড়াটা একেবারে নিঝুম হয়ে যায়। তখন আমি ওই খড়মজোড়া বার করি। তারপর গায়ে গলিয়ে হেঁটে বেড়াই দোতলার তিনটে ঘরে আর বারান্দায়। ওইটুকু খড়ম, কিন্তু কী তার আওয়াজ! শুনলে মনে হয় আর একটু শুনি।’

    ‘তোমার ঘরগুলোর নীচেই তো ভাড়াটের ঘর, তাই না?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তো, ওই বিকট আওয়াজে তো ওদের ঘুম ভেঙে যেত।’

    ‘বিকট ভাবলে বিকট, মধুর ভাবলে মধুর।’

    তর্কের মধ্যে না ঢুকে বন্ধু বললেন, ‘ভাড়াটেদের ঘুম ভেঙে যেত, এটা তো তুমি মানছ—।’

    ‘এর আবার মানামানির কী আছে! অনেক কারণেই অনেকের ঘুম ভেঙে যায় রাত্তিরে। কিন্তু ঘুম তো কাচের বাসন নয় যে, জোড়া দেওয়া যাবে না। ফের ঘুমোলেই তো ভাঙা ঘুম জুড়ে যায় আবার।’

    ‘কিন্তু ঘুম জোড়া দেওয়ার সময় পেত না যে ভাড়াটেরা। সারা রাত খড়ম পায়ে ছাতের ওপরে হেঁটে বেড়ালে কি ঘুমানো যায়? তোমার ঘরের মেঝে মানে ভাড়াটেদের ছাত।’

    আপত্তি করার গলায় হরিচরণ বলেছিলেন, ‘আমি তো খড়ম পায়ে সারারাত হাঁটি না। খড়ম পায়ে থাকে শুধু প্রথম রাতে। তারপর আমার কাশি শুরু হয়। আমার একটু কাশির ধাত আছে, জানো তো?’

    বন্ধু হেসে বললেন, ‘কাশি যদি পায় কাশবে। কাশি পেলে সবাই কাশে। এটা তো আর দোষের নয়।’

    হরিচরণ গম্ভীর মুখে বললেন, ‘না হে, আমার কাশি খুকখুকে কাশি নয়। জোরালো কাশি। রাতের দিকে সেই কাশির জোর আরও বেড়ে যায়। আমার বউ তো এখন একদম কানে শুনতে পায় না। রাম কালা। কিন্তু যখন শুনতে পেত তখন দূরের ওই পুকুরপাড়ে বসেও চমকে উঠত। বলত, তোমার কাশি শুনে মনে হয় বাড়িতে ডাকাত পড়েছে। লাঠির বাড়ি মেরে টিনের চাল ভাঙছে। তা, কথাটা তখন আমার মন্দ লাগত না। ব্যাটাছেলের কাশি তো এইরকমই হওয়া উচিত। বয়েস বাড়ার জন্যে কাশির জোরও বেড়ে গেছে এখন। তবে আগে কাশির মধ্যে যে বীরত্বের ভাবটা ছিল, এখন তা আর নেই। এখন কাশিটা কেমন যেন? মনে হবে, আওয়াজ মাটির নীচে থেকে এসে কলসির তলা ফুটো করে ঢুকে বিকট হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। একটু শুনবে নাকি?’

    বন্ধু আঁতকে উঠে বলল, ‘না—না, থাক।’

    হরিচরণ কাপড়ের খুঁট দিয়ে কপালের ঘাম মুছে বললেন, ‘তা, রাতের দিকে ওই কাশিটা এলে আমি আর ওকে সহজে ছাড়ি না।’

    ‘সহজে ছাড়ো না মানে?’

    ‘গলায় কাপড়—টাপড় জড়িয়ে নিলে, কাশির ওষুধ খেলে, আপদ বিদেয় হয়। কিন্তু আমি রাতের বেলায় আমার কাশিকে আপদ ভাবি না। একটু কষ্ট হয় ঠিকই, আমি গলা সাধার কায়দায় কাশিটাকে অনেক দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাই।’

    ‘কিন্তু কেন?’

    ‘একটাই কারণ। বিকট ওই শব্দ শুনে চোর ভাবে গেরস্ত জেগে আছে। লোক জেগে থাকলে চোরেরা কি আর চুরি করতে বাড়িতে ঢোকে?’

    ‘তা হয়তো ঠিক। কিন্তু তোমার কাশির যে রকমসকম শোনালে, ওই শব্দে তো তোমার একতলার ভাড়াটের ঘুম ভেঙে যেত নির্ঘাত।’

    বন্ধুর কথায় একটু বিরক্ত হয়ে হরিচরণ বললেন, ‘তুমি ওদের ঘুম ভেঙে যাওয়াটাই বড়ো করে দেখছ! আমি যে কত কষ্ট করে গোটা বাড়িটা পাহারা দিচ্ছি, সেটা কি কিছুই নয়!’

    থতমত খেয়ে গিয়ে বন্ধু বললেন, ‘তা ঠিক, তা ঠিক। তবে তুমি সবার কথা যেভাবে ভাবছ, সবাই তো আর তোমার কথা সেভাবে ভাবছে না। বরং উলটো বুঝছে। দুনিয়াটাই এইরকম। তা, তোমার চেয়ে তাড়াবার আর কি কোনো কায়দা আছে?’

    মুচকি হেসে হরিচরণ বললেন, ‘এই কায়দাটা আমার কিন্তু মন্দ লাগে না। ছেলেবেলায় রাসের মেলায় গেলেই আমি বেহালা কিনতাম। খেলনা বেহালা। ওই বেহালায় ছড় টানতে টানতে মনে হত, আমি একদিন ঠিক যাত্রাদলের বাজিয়ে হব। কিন্তু মানুষ যা চায় তা তো আর পায় না বেশিরভাগ সময়। যাত্রাদলের বেহালা বাজিয়ে হওয়া আমার আর হয়ে ওঠেনি। তবে মনের মধ্যে ওই সাধটা এখনও রয়ে গেছে। বেহালার মতো কিছু একটা বাজাবার ভঙ্গি করলে আজও সুখ পাই। আমাদের দোতলায় টানা বারান্দাটা তুমি দেখেছ তো?’

    ‘দেখেছি, খুবই সুন্দর।’

    ‘গোটা বারান্দায় লম্বা গ্রিল বসানো। রাতের আবছা আলোয় দেখলে মনে হবে, গ্রিল নয়, বেহালার তার। ঘরে বাহারি একটা ছড়ি আছে, রাতের বেলায় ওটাকেই মনে হয় বেহালার ছড়। ওই ছড় আমি বেহালা বাজাবার কায়দায় গ্রিলের ওপরে টানি। এলোপাথাড়ি টান নয়। টানের মধ্যে বেশ একটা তাল আছে। তালটা কীরকম জানো—ক্রি রিং ক্রি রিং ঘ্যাঙ, ক্রি রিং ক্রি রিং ঘ্যাঙ—।’

    আঁতকে উঠে বন্ধু জিজ্ঞেস করলেন, ‘আওয়াজ ওঠে কীরকম?’

    ‘গানবাজনা মানেই তো আওয়াজ। আমার ওই নতুন ধরনের বেহালার আওয়াজ গোটা এলাকার লোকই বোধহয় কমবেশি শুনতে পায়।’

    ‘তোমার ওই বাজনা চলে কতক্ষণ?’

    ‘মাঝরাত্তিরের পরেই শুরু করি, আর ভোরের আলো ফুটলেই থামি।’

    দু—দিকে দু—হাত ছড়িয়ে বন্ধু হতাশ মুখে বললেন, ‘তা হলে তোমার ভাড়াটেরা তো রাত্তিরের কোনো সময়েই ঘুমোবার সুযোগ পেত না।’

    ‘কেন পেত না? ইচ্ছে থাকলেই পেতে পারত। গান—বাজনায় ঘুম তো আরও গাঢ় হয়। নিজের মুখে বলা ঠিক নয়, তবু বলছি। আমার সব শব্দের মধ্যে বেশ একটা সুরতাল থাকে। কেউ একটু ভালো লাগাবার চেষ্টা করলেই নির্ঘাত ভালো লাগত। সব সময় অমন পালাই—পালাই করলে হয় না। আমি দেখেছি আজকালকার মানুষজনের ধৈর্য বড়ো কম।’

    ‘তুমি এক কাজ করবে?’

    ‘কী?’

    ‘যারা রাত্তিরে ঘুমোয় না, তাদেরই তুমি এবার ভাড়াটে হিসেবে বসাও।’

    সরল মনে হরিচরণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘তারা কারা?’

    মুচকি হেসে বন্ধু বললেন, ‘কারা আবার, চোররা। রাত্তিরে চুরি করতে বেরোবে, সুতরাং তোমার বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে থাকতে কোনো অসুবিধে নেই। চুরি করে ভোরে যখন ফিরবে তখন তো বাড়ি শান্ত ঘুমোতে কোনো অসুবিধে হবে না।’

    বন্ধুর ঠাট্টা শুনে হরিচরণ খুব কষ্ট পেলেন, কিন্তু উনি আর তর্কাতর্কির মধ্যে না গিয়ে চুপ করে গেলেন। কিন্তু ঠাট্টার জ্বালা ভুলতে না পেরে সন্ধেবেলায় বউকে বললেন, ‘আচ্ছা, তুমিই বলো, আমি কি কোনো অন্যায় করেছি? এদিকে চোরের উৎপাত এখনও ঠিক সেভাবে শুরু হয়নি, কিন্তু হতে তো পারে যেকোনো দিন। আমি তাই সারারাত জেগে বাড়ি পাহারা দিই। গেরস্ত জেগে থাকলে চোর তো চুরি করতে ঢোকে না। সেই জন্যেই আমার জেগে থাকা। আর নানান ধরনের শব্দটব্দ করে চোরদের জানান দেওয়া যে, আমি জেগে আছি। এখানে সুবিধে হবে না। অন্য বাড়ি দেখো। তুমি বলো, এটা কি অন্যায়? কিন্তু ভাড়াটেরা ভুল বুঝে বাড়ি ছাড়ে। এখন নিন্দেমন্দ করে বেড়াচ্ছে আমার। ব্যাপারটা কত দূর করে আমার সঙ্গে। বলে, তোমার বাড়ি তা হলে চোরদের ভাড়া দিয়ে দাও। এখানে থাকতে চোরদের কোনো অসুবিধে হবে না। কথাটা শুনে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি মনে। কিছুতেই ভুলতে পারছি না সে কষ্ট।’

    সব কথা বলা শেষ হলে গিন্নি বললেন, ‘কী আর করবে বলো! তবে এবার থেকে সাবধান হতে হবে। আমাদের বাগানের গেটটা পলকা। একটু চাপ দিলেই খুলে যায়। গেটে ঠেলা দিয়েই গেট খুলে বাগানে ঢুকে বাগান নষ্ট করছে গোরু। তুমি এবার বাগানে একটা লোহার গেট বসিয়ে দাও। ব্যস, তা হলে আর গোরু—ছাগল বাগান নষ্ট করতে পারবে না।’

    কী কথার কী উত্তর! হরিচরণ কপাল চাপড়ে বললেন, ‘কালার মরণ! একটা কথা যদি কানে যায়!’ বিরক্ত হয়ে উনি ঘর ছেড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন।

    এইভাবেই দিন গড়াতে লাগল। মাসের পর মাস কেটে গেল, কিন্তু হরিচরণের বাড়িতে আর কোনো ভাড়াটে এল না। তার বদলে যাঁরা এলেন তাঁরা সাধারণত পোড়োবাড়িতে থাকেন। হরিচরণের একতলার ফ্ল্যাটে বিনে ভাড়ার বাসিন্দা হলেন দুজন ভূত। এঁরা আজেবাজে ভূত নন, খুব পণ্ডিত ভূত। ভূতদের সমাজে সবাই এঁদের খুব মান্যিগন্যি করেন। পড়াশুনোর সুবিধের জন্যে এঁরা একটা নিরিবিলি জায়গা খুঁজছিলেন অনেক দিন ধরে। হঠাৎ এই ফাঁকা ফ্ল্যাটটা পেয়ে গিয়ে ওঁদের আনন্দ আর ধরে না।

    সাজানো—গোছানো ঘর। প্রতিটি ঘরে দেয়াল—আলমারি। কোণের দিকের একটা ঘর বেছে নিয়ে ভূত দুজন নিজেদের বইপত্তর গুছিয়ে ফেললেন আলমারির মধ্যে। এঁরা খুব একটা দরকারি বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন। বিষয়টি হল ‘মানুষদের ভূতের মতো ব্যবহার।’ কিছু মানুষের কাণ্ডকারখানা ঠিক চ্যাংড়া ভূতদের মতো। মানুষগুলো কেন অমন করে? স্বভাব—ভূতুড়ে হয় কেন? এইসব কারণ খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন এই দুই পণ্ডিত ভূত।

    রাত একটু গভীর হলে পণ্ডিত ভূত দুজন বসে গেলেন পড়াশুনো করতে। চারদিক অসম্ভব নির্জন। লেখাপড়ার কাজ এগোতে লাগল তরতর করে। হঠাৎ দুজন ভূতই চমকে উঠলেন একসঙ্গে। মাথার ওপর খট—খট—খটাং। কী ব্যাপার! পাড়ার কিছু বাজে ভূত কি বিরক্ত করতে এসেছে ওঁদের!

    কিছুক্ষণ মন দিয়ে শব্দটা শোনার পরে ওঁরা বুঝতে পারলেন, এ শব্দ ভূতের নয়। দোতলায় কোনো মানুষ শব্দ করে হেঁটে বেড়াচ্ছে। অদ্ভুত তো!

    কোনো শব্দ যদি একভাবে একটানা অনেকক্ষণ ধরে চলে, আস্তে আস্তে সেটা কানে সয়ে যায়। পণ্ডিত দুই ভূত আবার তাঁদের কাজে মন বসালেন কোনোমতে। কিন্তু কাজ বেশিদূর এগোতে পারল না। হঠাৎ খক—খক করে প্রচণ্ড জোরে কাশির শব্দ উঠল। কাশি আর থামতেই চায় না। নিশুতি রাতে বিকট কাশির দমকে গোটা পাড়াটা প্রায় কেঁপে কেঁপে উঠছিল। এই শব্দটাও ভেসে আসছে দোতলা থেকে।

    এইরকম বিকট শব্দের মধ্যে কি কাজে মন বসানো যায়! কিন্তু বসাতেই হবে। গবেষণার কাজে মন না বসালে চলে না। ভূত দুজন আবার নিজেদের কাগজপত্তরের দিকে ঝুঁকে পড়লেন।

    কিছুক্ষণ বাদে ভয়ংকর একটা শব্দে ওঁদের হৃৎপিণ্ড লাফিয়ে উঠেছিল। হাতের ধাক্কায় দরকারি কাগজপত্তর ছড়িয়ে পড়েছিল মেঝেয়। এটা আবার কীসের শব্দ? ক্রি—রিং—ক্রি—রিং ঘ্যাঙ, ক্রি—রিং ক্রি—রিং ঘ্যাঙ। দোতলার ওই বিদঘুটে শব্দ সারা পাড়া প্রায় কাঁপিয়ে দিচ্ছিল।

    এত গোলমালের মধ্যে কাজকর্ম করা তো দূরের কথা, ঘরের মধ্যে চুপচাপ বসে থাকাও অসম্ভব। ব্যাপার কী দেখার জন্যে পণ্ডিত দুই ভূত হাওয়ায় মিশে গিয়ে শাঁ করে দোতলায় চলে এলেন।

    এখানে এসে ওঁদের চমকাতে হল আরও একবার। হরিচরণের পরনে খাটো ধুতি, গায়ে ফতুয়া, পায়ে খড়ম; তিনি একমনে ছড়ি টেনে যাচ্ছিলেন বারান্দার গ্রিলে। ওই টানেই বিকট শব্দ উঠছিল।

    পণ্ডিত দুই ভূতের মধ্যে একজন মাস্টারমশাই আর একজন ছাত্র। মাস্টারমশাই ফিসফিস করে ছাত্রকে বললেন, ‘আরে! এ লোকটা তো আমাদের গবেষণার কাজে লেগে যাবে। একেই বলে মানুষের ভূতের মতো ব্যবহার। কিন্তু লোকটা এরকম করছে কেন?’

    কারণটা জানার জন্য ভূত দুজন মানুষের চেহারা ধরে হরিচরণের সামনে গিয়ে হাজির হলেন। মাঝ রাত্তিরে হঠাৎ ঘরের মধ্যে লোক দেখে হরিচরণ ‘চোর চোর’ বলে চেঁচাতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তার আগেই মাস্টারমশাই ভূত বলে উঠলেন, ‘আমরা চোর নই, ভূত। আপনি শুধু শুধু ভয় পাবেন না।’

    হরিচরণ ভূতের চাইতে চোরদের ঢের বেশি ভয় পান। ভূতের কথায় সামান্য বুঝি ভরসা পেলেন। তবে মন থেকে সন্দেহ দূর হচ্ছিল না। চোখ ছোটো করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনারা যে ভূত, তার প্রমাণ কী? আপনারা কি নিজেদের মাথা নিজেরাই চিবিয়ে খেতে পারেন?’

    এই ধরনের বিচ্ছিরি একটা প্রমাণ চাওয়ার জন্য পণ্ডিত ভূত দুজন বেশ কষ্ট পেলেন। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পরে মাস্টারমশাই ভূত বললেন, ‘আমরা লেখাপড়া নিয়ে থাকি। চ্যাংড়া ভূতদের মতো ওইসব কাণ্ডকারখানা আমাদের পক্ষে দেখানো সম্ভব নয়। তবে আপনি যখন প্রমাণ চাইছেন, আমরা একটু ভূতের নাচ নেচে দেখাতে পারি। দেখবেন?’

    ছেলেমানুষের মতো খুশি হয়ে হরিচরণ বললেন, ‘ভূতের নাচ! সে তো শুনেছি দারুণ জিনিস! নিশ্চয়ই দেখব।’

    ঘরের মধ্যে নাচ জুড়ে দিলেন দুই পণ্ডিত ভূত। বিশুদ্ধ ভৌতিক নাচ। মাথা নীচে, পা ওপরে। ভূতরা কখনো এপাশে কখনো ওপাশে, কখনো জানলায় কখনো সিলিং—এ।

    হরিচরণ আজকাল বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মেলামেশা করা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। কালা গিন্নির সঙ্গে কথা বলে সুখ নেই। এই অবস্থায় ভূতের নাচ দেখে খুব মজা পেলেন উনি।

    নাচার ফলে দুই পণ্ডিত ভূতই বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। লম্বা নিশ্বাস ফেলে মাস্টারমশাই ভূত বললেন, ‘আমরা যে সত্যি সত্যিই ভূত, এবার বিশ্বাস হয়েছে তো?’

    হরিচরণ হেসে জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ—হ্যাঁ, হয়েছে। এবার বলুন, আপনাদের জন্যে আমি কী করতে পারি?’

    পণ্ডিত দুই ভূত ঘোরপ্যাঁচের ভূত নন। সাদা, সরল ভূত। পরিষ্কার ভাষায় মাস্টারমশাই ভূত বললেন, ‘আমরা পড়াশুনো করা ভূত। একটা গবেষণার কাজে হাত দিয়েছি। এখন আপনি যদি আমাদের একটা সাহায্য করেন—।’

    ‘কী ধরনের সাহায্য?’

    ‘আপনার একতলায় কোণের ঘরটায় বসে আমরা পড়াশুনো করব। আপনার সঙ্গে মাঝেমধ্যে এসে গল্পও করে যাব। এর বিনিময়ে যা চান তাই দেব আপনাকে।’

    হরিচরণ বিষয়ী মানুষ। ভূতের কথা শোনার পরে ওঁর গোঁফের ফাঁকে একটা ধূর্ত হাসি খেলে গিয়েছিল। হাসতে হাসতে বললেন, ‘আপনারা পণ্ডিত ভূত। পড়াশুনো করবেন, এ তো খুব আনন্দের কথা। আমি খুব একটা লেখাপড়া করার সুযোগ পাইনি, কিন্তু লেখাপড়া ভীষণ ভালোবাসি। তা, কতদিন আপনারা ওই ঘরটায় বসে পড়াশুনো চালাতে চান?’

    ‘বেশি দিন নয়, মাত্র দশ বছর।’

    একটু চমকে উঠে হরিচরণ বললেন, ‘আপনাদের কাছে দশ বছর কিছুই নয়, কিন্তু মানুষের কাছে দশ বছর মানে অনেকখানি। আমি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। ষাট পেরিয়ে গেছে। অদ্দিন কি আর বাঁচব?’

    মাস্টারমশাই ভূত স্নেহের গলায় বললেন, ‘খুব বাঁচবেন। প্রাণে শান্তি থাকলে যে কেউ বহু বছর বেঁচে থাকে। আপনি যাতে শান্তিতে থাকেন, আনন্দে থাকেন, সেটা দেখা আমাদের কর্তব্য।’

    কথা শুনে বেশ আশ্বস্ত হলেন হরিচরণ। ওঁর বিষয়বুদ্ধিটাও মাথা চাড়া দিয়ে উঠল আবার। বললেন, ‘তা হলে আপনারা ওই ঘরে আপনাদের পড়াশুনো চালাতে চালাতে আমার যদি একটা ছোট্ট উপকার করেন।’

    ‘কী উপকার?’

    হরিচরণের মুখ দুঃখী মানুষের মতো হয়ে উঠেছিল। বললেন, ‘জানেন তো আমার কষ্টের শেষ নেই। আমি অনেকদিন ধরে রাতে ঘুমোতে পারছি না।’

    ‘কেন, আপনি কি অনিদ্রা রোগে ভুগছেন?’

    ‘না—না, রাত হলেই ঘুমে আমার চোখের পাতা ভারী হয়ে যায়। অথচ ঘুমোতে পারি না।’

    ‘কী দুঃখের কথা! কেন এমন হয় বলুন তো?’

    মাস্টারমশাই ভূতের স্নেহমাখানো কথা শুনে কান্না পেয়ে গিয়েছিল হরিচরণের। ঢোক গিলে বললেন, ‘সারা জীবন ধরে তিল—তিল করে জমানো টাকা নিয়ে এত সুন্দর এই বাড়িটা আমি বানিয়েছি। এ বাড়ি তো আমার দেখাশোনা করা দরকার।’

    ‘নিশ্চয়ই।’

    ‘পাহারা দেওয়া দরকার।’

    ‘নিশ্চয়ই।’

    আর একবার ঢোক গিলে হরিচরণ বললেন, ‘আমি খবর পেয়েছি আশেপাশের অনেক চোরের নজর আছে এই বাড়ির ওপর। রাতে আমি ঘুমোলেই ওরা হানা দেবে এখানে। বাড়িতে নানারকমের দামি জিনিসপত্র আছে। আমি ঘুমোলেই ওরা সেগুলো চুরি করবে।’

    মাস্টারমশাই মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বললেন, ‘ঠিকই বলেছেন আপনি। চোর তাড়াবার জন্যেই তা হলে আপনাকে জেগে থাকতে হয়, তাই তো?’

    দু—চোখ জলে ভরে উঠেছিল হরিচরণের। বললেন, ‘ঠিক তাই। এখন আপনারা যদি আমার একটা উপকার করেন।’

    ছাত্র ভূত তড়াক করে বলে উঠল ‘বুঝতে পেরেছি। চোর তাড়াবার দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের। তাই না?’

    ‘হ্যাঁ, তাই।’

    ছাত্র ভূতের বয়েস কম। বুক ফুলিয়ে বলল, ‘ও নিয়ে আপনি একদম ভাববেন না। কেউ এ বাড়িতে চুরি করতে ঢুকলে তার ঘাড় মটকে দেব।’

    কথাটা শুনে খুব খুশি হলেন হরিচরণ। তারপর একটু দোনামনা করে বললেন, ‘প্রথমেই ঘাড় মটকাবার দরকার নেই। আগে একটু ভয় দেখালে হয় না? তাতে কাজ না হলে পরে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’

    মাস্টারমশাই ভূত ঘাড় নাড়লেন হরিচরণের কথায়। ‘আপনি ঠিকই বলেছেন। প্রথমে ঘাড় মটকাবার দিকে যাব না আমরা। ভয় দেখালে চোর পালাবে। কেউ—কেউ ভয়ে অজ্ঞানও হয়ে যাবে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। এ বাড়িতে ঢুকে চুরি করবার সাধ্য কোনো চোরের হবে না।’

    ভূতের কথা শুনে খুশি মনে হরিচরণ বললেন, ‘ঠিক আছে একতলায় কোণের ঘরে আপনারা পড়াশুনোর কাজে লেগে পড়ুন। আমার কোনো আপত্তি নেই।’

    মাসখানেক ধরে বিস্তর চেষ্টা করার পরে বাড়িতে আবার ভাড়াটে বসালেন হরিচরণ। একতলার কোণের ঘরটা বাদে বাকি দুই ঘরে ভাড়াটে বসে গেল। ওই ঘরটা তালা দেওয়া থাকে সবসময়। মাঝে মাঝে ওই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে কথা বলেন হরিচরণ।

    ভাড়াটেরা ভাবে ভীমরতি ধরেছে বুড়োর। তা ধরুক। আগের মতো তো আর সারারাত ধরে বিদঘুটে শব্দ আর করে না। নিশ্চিন্তে এখন রাত কাটে সবার এ—বাড়িতে। সবাই ঘুমোতে পারে।

    আসল কথাটা হরিচরণ কিন্তু কারও কাছে ফাঁস করেননি। ভূতটুতে এখন বিশ্বাস করে না অনেকে। বলে, ভূত বলে কিছু নেই। বলুক না, যে যা খুশি বলুক। এ নিয়ে তর্ক করার কোনো মানে হয় না। আসল ব্যাপারটা তিনি তো জানেন।

    একতলার কোণের বন্ধ ঘরে দুই পণ্ডিত ভূত গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পুরো দমে। বিরাট কাজ। এ—কাজ শেষ হতে নাকি কমপক্ষে দশ বছর লেগে যাবে।

    হরিচরণ নিশ্চিন্ত। একঘুমে লম্বা—লম্বা রাত কাবার করে দিচ্ছেন। বাড়ি পাহারা দেওয়ার আর দরকার নেই। উনি খুব ভালোভাবে জানেন কোনো পাকা চোরের পক্ষেও এ—বাড়ি থেকে এখন কিছু চুরি করে নিয়ে পালানো অসম্ভব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিয়ের রাত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }