Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভূতগুলো সব ভয় দেখায় – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প976 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জানলার ওপাশে – অশেষ চট্টোপাধ্যায়

    বাপন জানে রাত্তিরে এই সময়টা বাবা একলা থাকতে ভালোবাসেন। একটা সময় ছিল যখন আকাশের দিকে তাকালে বাড়তি কিছু দেখতেন। যা মনে হত লিখে রাখতেন ডায়েরির পাতায়। পরের জীবনটা এই সময়ের সঙ্গে জোড়ে মিলল না। ডায়েরিগুলো হারিয়ে গেছে কবে।

    এখন বাবা অফিসে বসেন এয়ার—কন্ডিশান্ড ঘরে। আগেকার আমিকে মনে পড়ে না। আকাশের দিকে তাকাবার ফুরসত কই। ফাঁক পেলে রাত্তিরে খাবার আগে দশ তলার এই ব্যালকনিতে ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে বসেন বাবা। তাকিয়ে থাকেন আকাশের দিকে। পুরোনো সেই লেখালেখির কাজই করেন বোধহয়। তবে কাগজে—কলমে নয়, মনে মনে।

    এই সময়টা কথাবার্তার বাইরে রাখতে চান। টেলিফোন ধরেন না। বাবা এমনিতেই একটু দূরের মানুষ। কতটুকু সময়ই বা বাপন কাছে পায়। আবার মাকেও কথাটা জিজ্ঞেস করার নামেই অস্বস্তি। মা আগে কলেজে অঙ্ক কষাতেন। বাপনের জন্মদিনে বিজ্ঞানের বই উপহার দেন। মাকে বললে হয়তো হেসে উড়িয়ে দেবেন। উলটো বিপত্তিও হতে পারে। হয়তো শোনাতে বসবেন পনেরো বছর বয়েসে কোন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের কী প্রতিভার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল তার গল্প। অথচ বন্ধু টুকাইয়ের সঙ্গে প্রচণ্ড তর্ক হয়ে গেছে বিকেলে: ভূত আছে, না নেই? বাপন মায়ের কথাগুলো নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছিল—ভূতটুত কিছু নেই। আসলে বহু বছরের সংস্কার, অজ্ঞতা আর ভয়ের সঙ্গে পরিবেশের কিছু অস্বাভাবিকতা মিলে হ্যালিউসিনেশানের সৃষ্টি করে। টুকাই কিন্তু মেনে নিল না বাপনের যুক্তি। ওর ছোটোমামা নাকি নিজের চোখে এক মৃত বন্ধুকে দেখেছেন শ্রাদ্ধশান্তি হয়ে যাবার পর। ছোটোমামাও আগে কিছু জানতেন না। এই অভিজ্ঞতার পর থেকে স্পিরিচুয়ালিজম নিয়ে মেলাই পড়াশুনা শুরু করে দিয়েছেন।

    নিজের সঙ্গে খানিকক্ষণ যুদ্ধ করল বাপন। তারপর নিয়ম ভেঙে বাবার এই সময়ের নিজস্ব সাম্রাজ্যের মধ্যে ঢুকে পড়ার কথা ভাবল। দশতলার ওপর থেকে কলকাতাকে চির—দেওয়ালির শহর বলে মনে হয়। ওপরে তারার শলমা—চুমকি বসানো মস্ত চাঁদোয়া। এখান থেকে দেখলে আকাশের চেহারা অন্যরকম।

    বাবার সঙ্গে সব সময় থাকে স্টেট এক্সপ্রেসের প্যাকেট আর গ্যাস লাইটার। নিজে খান খুব কম, অন্যকে বিলোন বেশি। তবে এই সময়টাতে জ্বলন্ত সিগারেট বাবার আঙুলে ধরা থাকে। আজও ছিল।

    ‘বাবা’, বাপন একটু দোনোমোনো করে নীচু গলায় ডাকল।

    ‘কী রে, কিছু বলবি?’ বাবা যে তারাদের রাজ্যপাট ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি পৃথিবীতে ফিরে আসবেন বুঝতে পারেনি বাপন। তাই কথাগুলো সাজিয়ে নিতে একটু সময় লাগল। বাবা কিন্তু তাকিয়ে আছেন বাপনের দিকে। আবছা আলোতেও বাবার মুখে একটা আলগা হাসি। এ—রকম হাসি ভেতরের কথা টেনে আনে।

    বাপন চোখ—কান বুজে দুদ্দাড়িয়ে বলে ফেলল। বাবা কিন্তু হাসিটাকে টেনে বাড়ালেন না। তেমনই তাকিয়ে রইলেন বাপনের দিকে। ‘পরশুরামের লেখা মহেশের মহাযাত্রা পড়েছিস?’ বাবার প্রশ্নটা বাপনের কাছে মনে হল একটা ধাঁধা। বলতেই হল, এরকম কোনো লেখা সে পড়েনি।

    ‘এই জন্যেই আমি সোকলড ইংলিশ—মিডিয়াম স্কুলগুলো দুচক্ষে দেখতে পারি না,’ বললেন ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশানের প্রাক্তন ছাত্র, ‘রবীন্দ্রনাথের শিশু ভোলানাথ, সে, খাপছাড়া, অবন ঠাকুরের বুড়ো আংলা, আলোর ফুলকি, সুকুমার রায়ের বানানো একটা আশ্চর্য নেভার—নেভার ল্যান্ড—এ সবই চিরদিন নাগালের বাইরে থাকবে। পরশুরাম তো অনেক দূরের কথা।’

    বাপন কিন্তু বাবাকে নতুন করে চিনছে। মস্ত বড়ো মাল্টিন্যাশনালের ব্যস্ত সিনিয়র একজিকিউটিভ নন। বেশ আটপৌরে ঘরোয়া গোছের বাবা। যিনি বাড়িতে লুঙ্গি পরে খালি গায়ে মেঝের ওপর বসে ছেলের হালচালের খোঁজখবর নেন। ‘পরশুরামের গল্পে মহেশ আর হরিনাথ দুই বন্ধুর মধ্যে এই একই প্রশ্ন নিয়ে হাতাহাতির অবস্থা,’ বাবা বলে চললেন, ‘তবে আমার নিজের কাছে ব্যাপারটা একটা বর্ডার লাইন কেস হয়ে আছে। মানে, ইট ক্যান বি এক্সপ্লেন্ড আইদর ওয়ে। মহেশ মৃত্যুর পরে হরিনাথকে বলে গিয়েছিলেন, আছে, আছে, সব আছে, সব সত্যি, বিশ্বাসীরা হয়তো তাই বলবে। আবার যদি বল হ্যালিউসিনেশান উত্তপ্ত মস্তিষ্কের কল্পনা, তাহলেও প্রতিবাদ করব না। সেভাবে ব্যাপারটার ব্যাখ্যা করা যায়।’

    ‘তার মানে, তুমি বলতে চাও তোমার নিজেরই সুপার ন্যাচারাল এক্সপিরিয়ান্স আছে।’ বাপন তার রাশভারী বাবার কথা শুনে তাজ্জব।

    ‘ইয়েস স্যার, যদি শুনতে চাও তো ঘর থেকে একটা ফোল্ডিং চেয়ার এখানে নিয়ে এসো।’

    বাপনকে আর বলতে হল না। ডিনারের মেনুতে আজ রেশমি কাবাব আছে। মা জনার্দনকে নিয়ে কিচেনে ব্যস্ত। বাবা এর মধ্যে আবার নতুন করে সিগারেট ধরিয়েছেন।

    বাবা মানে চোখা ইংরিজি উচ্চারণ, স্যুট—টাই—পরা একটি জলজ্যান্ত ব্যস্ততা। গল্প যারা বলে বলে তাদের চালচলনের সঙ্গে মেলে না। অথচ একই মানুষের মধ্যে থাকে এমন একজন যে কখনো চেনা, কখনো অচেনা। সেই অচেনা মানুষটাই গল্পের বঁড়শি দিয়ে টেনে নিল বাপনকে।

    ‘যত দিন যাচ্ছে,’ বাবা বললেন, ‘মানুষ ততই সরে যাচ্ছে প্রকৃতির কাছ থেকে। আমাদের ছোটোবেলাতেও কলকাতায় কত বেশি গাছ ছিল। বছর দশ—বারো আগেও বাকসা ডুয়ার্সের জঙ্গলে দেখেছি দিনদুপুরে সন্ধেবেলার আলো—আঁধারি। আমার ঠাকুরদা একটা ছোটো ব্যবসা থেকে তিন—চারটে বড় ব্যবসা বানাতে পেরেছিলেন। আদতে কিন্তু গ্রামের লোক। গাছপালা ভালোবাসতেন। মাঝেসাঝে তাঁর ইচ্ছে হত ব্যবসা—বাণিজ্য, হিসেবনিকেশ দিন—কয়েকের জন্যে ভুলে যেতে। দু—চোখ ভাব আকাশের নীল আর গাছের সবুজ দেখে আবার নতুন উৎসাহে কাজে লেগে পড়া। তাই কলকাতার নাগাল ছাড়িয়ে পেল্লায় এক বাড়ি করেছিলেন মধুপুরে। সেকালে অনেক সচ্ছল অবস্থার বাঙালিই বাড়ি করতেন এইরকম ফাঁকফর্দা জায়গায়। কতকটা হলিডে রিসর্ট গোছের। একটু গাছপালা, নির্জনতা, পাখির ডাক, মনটাকে তরতাজা করে দিত। এখনও সেসব বাড়ি পড়ে আছে নানান জায়গায়। কিন্তু তাদের হালের মালিকরা ওদিক মাড়ানো মানে সময়ের অপব্যয় বলে মনে করে।’

    ‘তুমি যে বাড়িটার কথা বললে সেটা এখনও আছে?’ বাবা একটু থামতেই বাপন জিজ্ঞেস করল।

    ‘হ্যাঁ আছে, আমি শেষবার গেছি বছর—কুড়ি আগে।’ বলতে বলতে কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন বাবা বললেন, ‘কিন্তু আর যাইনি, যাবও না বোধহয় কোনোদিন।’

    ‘কেন বাবা?’ বাবার তৈরি সাসপেন্সের চতুর্দোলা থেকে নামবার জন্যে বাপন জিজ্ঞেস করল।

    ‘সেইটেই আমার গল্প,’ বাবা সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বললেন, ‘আর তার মধ্যেই তোমার জিজ্ঞাসার উত্তর।’

    ‘তুমি যেমন আমার এক ছেলে,’ বাবা নতুন করে খেই ধরলেন, ‘আমিও আমার বাবার এক ছেলে এটুকু তুমি জানো। আমার ঠাকুরদা ডালপালা ছড়িয়েছিলেন অনেকগুলো। সবসুদ্ধ বোধহয় জনা—চোদ্দো ছিল। আমার বাবা তো শেষের দিকের ছেলে। আমার জ্ঞান হয়ে আমি তিন জ্যাঠা আর দুই পিসিকে দেখেছি। তাও এক জ্যাঠা, তিনি আবার বিয়ে—থা করেননি, সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছিলেন। অনেক সময় পুজো কি গরমের ছুটিতে দাদু, ঠাকুমা, জ্যাঠতুতো আর পিসতুতো ভাইবোনেরা গিয়ে জমায়েত হত মধুপুরের সেই বাড়িটাতে। সবাই যে সব সময় যেত তা নয়। তাহলেও বাড়িটা বেশ জমজমাট হয়ে উঠত। ছোটোবেলাতেই মাকে হারিয়েছি, তাই জ্যাঠাইমা আর পিসিমাদের একটু বাড়তি আদর পেতাম। আরেকজনের স্নেহ—ভালোবাসার সিংহভাগ তোলা ছিল আমার জন্যে। সে হল মেজো জ্যাঠার ছোটো মেয়ে শিপ্রাদি। আমার চেয়ে সাত বছরের বড়ো। তাকে শেষ দেখি আমার দশবছর বয়সে। সেও আজ পঁচিশ বছর হয়ে গেল। তাকে দেখি মানে তার জলে ভেজা দেহটা দেখি। ওই মধুপুরের বাড়িতেই কুয়োর মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। কী করে বলতে পারব না। আমি ছোটো, তাই হয়তো ব্যাপারটা কেউ আমার সামনে আলোচনা করেনি। তবে সেই বয়েসেই জানতাম শিপ্রাদির মধ্যে একটা অ্যাবনরমালিটি আছে। ছোটোবেলায় একবার মেনিনজাইটিস হয়েছিল। সেকালে এসব রোগের চিকিৎসা প্রায় ছিল না কিছু। তবু কী করে যেন বেঁচে গিয়েছিল। কিন্তু ডাক্তাররা বলেছিলেন ওর দ্বারা লেখাপড়া আর হবে না। কোনোরকম বাড়তি মানসিক চাপ ওর জখম মস্তিষ্ক নিতে পারবে না। তাই পড়াশোনার জন্যে কেউ জোরাজোরি করেনি ওকে। মেজো জ্যাঠাইমা শিপ্রাদিকে নিয়ে অনেক সময় থাকতেন মধুপুরের বাড়িতে। প্রকাণ্ড আম, জাম, পেয়ারা, কাঁঠাল আর ফুলের বাগান। তার মধ্যেই শিপ্রাদি কতকটা কপালকুণ্ডলার মতো বড়ো হয়ে উঠেছিল।

    ‘কেন জানি না আমাকে অসম্ভব ভালোবাসত। প্রায়ই আমাকে বলত, অভি, আমি যখন থাকব না, তখন মনে রাখবি তো আমাকে? আমি বলতাম, কেন, তুমি আবার কোথায় যাবে। শিপ্রাদি বলত, দেখিস একদিন আমি হারিয়ে যাব, আর দেখতে পাবি না আমাকে। তুই কিন্তু আমার কথা ভুলিস না। কথাগুলো বলতে বলতে শিপ্রাদির চোখ জলে ভরে উঠত। তাই দেখে আমারও কান্না পেত। ও চোখের জল মুখে বলত, ভুলে যদি যাস, তাহলে আমিই তোকে মনে করিয়ে দেব। তখন ওর কথাগুলোর মানে বুঝিনি।

    ‘সুন্দর মাটির পুতুল বানাত শিপ্রাদি। নিজেই সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে রং করত। সে পুতুলের দাবিদার ছিল অনেক। কিন্তু সেরা পুতুলগুলো আমার কপালেই জুটত। এই নিয়ে আবার ভাইবোনেদের মধ্যে নানান মান—অভিমানের পালা চলত। যা হোক, একটা সালিশি করে দিত ওই শিপ্রাদিই। সবাইকে কাছে টানত, গল্প বলত বানিয়ে বানিয়ে। গল্পগুলো ঠিক মনে নেই এতদিন পরে। তবে এটুকু খেয়াল আছে সেগুলোর চরিত্র বা পরিবেশ কোনোটাই ঠিক চেনাজানার মধ্যে পড়ে না। আবার এক এক সময় কী রকম যেন একা হয়ে যেত সকলের মধ্যে থেকেও। কথা বললেও জবাবা দিত না তখন। কাউকে দেখেও দেখত না। মুখে ফুটে উঠত এক অদ্ভুত হাসি। সে হাসির সঙ্গে কোনো কিছুর মিল দেওয়া যায় না। তখন কেন জানি আমার মনে হত শিপ্রাদি ঠিক আমাদের মতো মানুষ নয়। আমাদের সঙ্গে চিরদিন থাকার জন্যে আসেনি। কোনো প্রিয়জন যেন বেড়াতে এসে থেকে গেছে কিছুদিনের জন্যে। আবার যেদিন ঘরের কথা মনে পড়বে, সেদিনই চলে যাবে। মাঝে—মাঝে ঘণ্টা—কয়েকের জন্যে বেপাত্তা হয়ে যেত। হাজার খুঁজেও ওর নাগাল পাওয়া যেত না। আবার নিজে নিজেই চলে আসত। কোথায় গিয়েছিল জিজ্ঞাসা করলে হাসত শুধু, জবাব দিত না।

    ‘শিপ্রাদির জীবনের শেষ দিনটার কথা আমার এখনও বেশ মনে পড়ে। পুজোর ছুটির সময়। আমরা সবাই মিলে গাইতাম, আজি ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা। শিপ্রাদি ওর ঝামর চুল উড়িয়ে নিজের মতো করে নাচত আমাদের গানের সঙ্গে। গায়ের রং ফরসা হতে গিয়েও হয়নি। কিন্তু চোখমুখ ছিল দেবীপ্রতিমার মতো, আর ছিল মস্ত এক ঢাল চুল যা কখনো খোঁপা বা বিনুনির চেহারা নেয়নি। ওর মতো চুলের গোছ আজ পর্যন্ত আমার নজরে পড়েনি।

    ‘দুপুরে খাওয়ার আগে শিপ্রাদিকে পাওয়া গেল না সেদিন। খোঁজাখুঁজি ঠিকই হল। তবে বড়োরা কেউ ভীষণরকম তোলপাড় কিছু করল না। এ—রকম ডুব মারাটা নতুন কিছু নয়। শুধু আমার মনটা কেন জানি ছ্যাঁত করে উঠল। সেদিনই সকালে আমাকে বলেছিল, জানিস অভি, ওরা সব সময় আমাকে ডাকছে। খালি বলছে, চলে আয়, চলে আয়। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কারা তোমাকে ডাকে এমন করে! আমার কথা যেন শুনতেই পেল না। নিজের মনে বলল, ওরা তো মাঝে—মাঝেই আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। নিজেই আবার জোর করে ছাড়িয়ে চলে আসি। কিন্তু এবারে বোধহয় আমার যাবার সময় হল। গেলে আর আসব না। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, কী রে, আর যদি না আসি, মনে রাখবি তো আমাকে। আমার বুক ঠেলে কান্না আসচিল। জোর করে ওর হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ছুটে পালিয়েছিলাম। জীবিত অবস্থায় সেই ওকে শেষ দেখি।’

    বাবা আবার নতুন করে সিগারেট ধরালেন। পর পর তিনটে সিগারেট কখনো খান না। বাপন অবাক হতে ভুলে গিয়েছিল। এক মনে শুনছিল বাবার কথাগুলো।

    ‘বিকেলের দিকে একটা হইচই শুনলাম। তার সঙ্গে সেজো জ্যাঠাইমার আছাড়িপিছাড়ি কান্না। আমি যখন গেলাম, কুয়ো থেকে তোলা হয়েছে শিপ্রাদিকে। ভিজে কাপড়ে, এক ঢাল ভিজে চুলের ফ্রেমে বাঁধানো মুখে অস্বাভাবিক মৃত্যুর কোনো ছাপ নেই। চোখ বোজা। মুখে সেই হাসিটার আভাস। যে হাসির মানে বোঝা যেত না। ও নিজেও কখনো বোঝাত না। আমি ভাবতেই পারছিলাম না শিপ্রাদি আর বেঁচে নেই। কে যেন আমাকে সরিয়ে নিয়ে গেল কুয়োতলা থেকে।

    ‘শিপ্রাদির মারা যাবার পরেই ও বাড়ির আনন্দের হাট ভেঙে গেল। এক বছর আগুপিছু করে আমাদের দাদু আর ঠাকুমা বলে ডাকার কেউ থাকল না। বাড়িটার সঙ্গে দূরত্ব বেড়েই চলল। বাবা—জ্যাঠা—পিসিদেরও ওদিক পানে যাবার ইচ্ছেয় ভাঁটার টান। অথচ সকলেই জানে বাড়িটা ঠিকই আছে; আছে ওখানকার সম্পত্তি দেখাশোনার জন্যে নায়েবগোছের একজন। তা ছাড়াও আছে কাজের লোক, দরোয়ান। এমনি করে কেটে গেল অনেকগুলো বছর। আমি লেখাপড়া শেষ করে একটা কোম্পানিতে সেলসের কাজে ঢুকলাম। পাটনায় আমাদের মতো ফেরিওয়ালাদের জন্যে একটা অফিস থেকে কনফারেন্স ডেকেছিল। সেখান থেকে ট্রেনে ফিরছিলাম কলকাতায়। শীত পড়ি—পড়ি করছে তখন। দুপুর নাগাদ ট্রেন পৌঁছল মধুপুর। আগেও বহুবার এপথে এসেছি, গেছি। স্টেশনটা বোধহয় ঘুমের মধ্যে পার হয়ে গেছি অনেক রাতে। কিন্তু দিনের আলোয় জায়গার নামটা থিতিয়ে পড়া অনেক স্মৃতিকে তোলপাড় করে তুলল। সেইসব স্মৃতির হাত ধরে মনটা চলে যেতে চাইল ছোটোবেলায়। ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে হাল আমলে ফেরাতে পারলাম না। বাড়িটা চুম্বক হয়ে টানতে লাগল আমাকে। সুখে—দুঃখে একাকার বাড়িটার স্মৃতি আমাকে বের করে আনল ট্রেনের কামরা থেকে। সেই প্রচণ্ড টানকে ততক্ষণে আরও জোরদার করেছে আমার নিজের হঠাৎ চাগিয়ে ওঠা কৌতূহল। দেখিই না কেমন আছে বাড়িটা। আবার কাল সকালেই তো কলকাতা ফেরার পালা। একটা রাত না হয় নাড়াচাড়া করব ছোটোবেলার স্মৃতিগুলো নিয়ে।

    ‘নায়েববাবু আরও বুড়িয়ে গেছেন। তবু আমাকে চিনলেন ঠিকই। খুব খুশি আমাকে দেখে। আগের দিনের কথা মনে করে অনেক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। কেউ আর এদিক মাড়ায় না বলে দুঃখের শেষ নেই তাঁর। এই বিশাল বাড়ি যক্ষের মতো আগলে বসে আছেন। উনি চোখ বুজলে এই মস্ত সম্পত্তি পাঁচ ভূতে লুটেপুটে খাবে।

    ‘বাড়িটার তিনতলায় ঘর ছিল কুল্যে একখানা। কেন জানি না ওই ঘরটাতেই রাত কাটানোর ইচ্ছে হল আমার। নায়েববাবু একটু খুঁতখুঁত করলেন। নীচের ঘরগুলো সাফসুতরো করাই আছে। খাট—বিছানারও অভাব নেই। আমি তবু তিনতলার ঘরটাতে থাকবার জন্যে জেদ করলাম। সারা বিকেল, সন্ধে এলোমেলো ঘুরে ছোটোবেলার সঙ্গী—সাথীদের খুঁজলাম। বিশেষ কাউকে পেলাম না। যে ক—জন আছে, তারাও নিজের নিজের রুটিরুজির ধান্ধায় ব্যস্ত। ছোটোবেলার স্মৃতিচারণের ইচ্ছে বা সময় কোনোটাই নেই তাদের।

    ‘খবর দিয়ে আসিনি। তাহলেও দুবেলা খাওয়াদাওয়া ভালোই হল। রাত্তিরের খাবার পাট চুকিয়ে নিলাম তাড়াতাড়ি। পরের দিন ভোরঘেঁষা সকালে ফেরার ট্রেন। তিনতলার ঘরটায় ঢুকে আলো জ্বালতেই চার দেওয়াল, চারটে হাত হয়ে আপনজনের মতো টেনে নিল আমাকে। বইয়ের র‌্যাক থেকে ধুলো ঝেড়ে বের করলাম যোগীন সরকারের বনে—জঙ্গলে, ছবি ও গল্প। ছোটোবেলায় কী ভালই না লাগত বইগুলো। মনে হল খুব কাছের লোকের সঙ্গে দেখা। এই নতুন করে দেখার আগে অনেকগুলো বছর ঢুকে গেছে। আলাপ—পরিচয় তাই ঠিক আগের মতো ঝালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। কেমন যেন সুর কেটে গেছে। তখন আমার বয়েস ছিল দশ, এখন পঁচিশ। পনেরোটা বছর অনেকখানি সময়। একটা মানুষকে আগাগোড়া বদলে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। পঁচিশ বছর বয়েসে দশ বছর বয়েসের স্মৃতি নিয়ে নাড়াচাড়া করা যায়; নাগাল পাওয়া যায় না ছোটোবেলার সেই মনটার। চেষ্টা করলাম নিজেকে হারিয়ে খোঁজার। কিছু পেলাম, ভাঙাচোরা টুকরো—টাকরা। বুঝলাম নেহাতই ঝোঁকের মাথায় এসে পড়েছি। এখানে সময় পনেরো বছর ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আমি কোনোদিন, সেখানে ফিরতে পারব না।

    ‘আগেই বলেছি শীত জাঁকিয়ে বসার কাছাকাছি সময়। ঘরের প্রায় সবগুলো জানলা বন্ধ। খোলা শুধু একটা। পরিপাটি বিছানা পাতা। কাল ভোরে ওঠার কথা মনে করে শুয়ে পড়লাম। ঘুমোবার আগে বইয়ে চোখ বোলানো অভ্যেস। সঙ্গে ছিল পাটনা স্টেশনে হুইলারের স্টল থেকে কেনা ইংরিজি ডিটেকটিভ উপন্যাস। ভালো ঘুমপাড়ানি ওষুধ। ভেবেছিলাম চোখে টান ধরলেই বেড সুইচ টিপে বাতি নিবিয়ে দেব। পাতা উলটে গেলাম বেশ কয়েকটা। কিন্তু ঘুমের নাগাল পেলাম না। বইয়ের অক্ষরগুলো মানেটানেসুদ্ধ পিছলে যাচ্ছে চোখের সামনে দিয়ে। পড়ছি, কিন্তু মনে কিছুই দাগ কাটছে না। বইটা রেখে উঠে পড়লাম। দাঁড়ালাম ঘরের একটিমাত্র খোলা জানলার ধারে। বাইরে চাঁদের আলো অন্ধকারকে বাড়তে দেয়নি। সামনে অনেকখানি জায়গা জুড়ে বাগান। তারপরেই একটা কুয়ো। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অমনি মনের মধ্যে একটা ছায়া পড়ল। ভিজে এক ঢাল চুলের ফ্রেমে বাঁধানো মুখে একটা বেমানান হাসি নিয়ে শুয়ে ছিল একজন। পুরোনো অ্যালবাম থেকে একটা ছবি আলাদা হয়ে খুলে এল। সময়ের ঘষায় এতটুকু অস্পষ্ট হয়নি। মন থেকে মুখে ফেলতে চাইলাম ছবিটা। পারলাম না। কেমন একটা অস্বস্তি একটু—একটু করে পেয়ে বসছে আমাকে। জ্যোৎস্নায় ধোওয়া। সেই কুয়োতলা থেকে কিছুতে চোখ সরাতে পারছি না। হালকা হাওয়ায় গাছপালা মাথা দোলাচ্ছে। আলো আর অন্ধকার জায়গা বদলাবদলি করছে সমানে। ঝিঁঝির ডাক ছাড়া অন্য শব্দ নেই। মনে হল সারা বাগান, ওই কুয়োতলা হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাকে।

    ‘দড়াম করে বন্ধ করে দিলাম জানলাটা। আবার এসে বসলাম বিছানায়। গরম নেই ঘরের মধ্যে। তবু টের পেলাম কপালে বিন্দু—বিন্দু ঘাম জমে গেছে। আমি পঁচিশ বছরের সুস্থ সবল মানুষ একজন। ছাত্রজীবনে কবিতা লিখেছি, ছাপাও হয়েছে। কিন্তু কল্পনা কখনো এ—রকম লাগামছাড়া হয়নি। ট্যুরের চাকরি। অজস্রবার অচেনা অজানা বাংলোতে রাত কাটিয়েছি। চোর—ডাকাত ছাড়া অন্য কোনো কারণে এ—ধরনের ছমছমে অস্বস্তি বোধ করিনি। অথচ এই ঘর আমার চেনা, কত স্মৃতি এর সঙ্গে জড়িয়ে। বুঝতে পারছি এই মুহূর্তে যেটা অস্বস্তি, যে—কোনো সময় সেটাই ভয়ের চেহারা নিতে পারে। যুক্তিবাদী মনটা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সব কিছুর মানে খুঁজে বের করার। একটা সময় তাকে হার মানতেই হবে। আর ঠিক তখনই জেঁকে বসবে ভয়।

    ‘বিছানায় শুয়েও শয্যাকণ্টকী। বই সামনে ধরলেও চোখের নজর যায় পিছলে। ছাপার অক্ষর টপকে চলে যায় বন্ধ জানলাটার ওপর। অমনি মনের আয়নায় দেখতে পাই জ্যোৎস্নায় নিকোনো কুয়োতলাটা। অনেক চেষ্টা করেও এই ছবিটা অন্য চিন্তা দিয়ে আড়াল করা গেল না। উলটে একটা বাড়তি ভাবনা পেয়ে বসল আমাকে। যাকে ভেবে মন বারবার ছুটে যাচ্ছে কুয়োতলায়, সে নিজেই এসে দাঁড়িয়েছে, বন্ধ জানলার ওপাশে। হাজার যুক্তির ঝাড়ু চালিয়েও কথাটা তাড়াতে পারলাম না। এমন সময়,’ বলে বাবা থামলেন একটু।

    ‘এমন সময় কী?’ বাপনের গলাটা একটু চড়ে গেল। বাবার গল্পের মধ্যে কতখানি ঢুকে গেছে নিজেই বুঝতে পারেনি।

    ‘বন্ধ জানলার ওপাশ থেকে কাঠের পাল্লার ওপর স্পষ্ট শব্দ হল ঠকঠক। পোকা নয়, মাকড় নয়। পরিষ্কার মানুষের হাতে আঙুলের উলটো দিকের গাঁট দিয়ে ঠোক্কর মারার আওয়াজ। যেন কেউ আমার নজর কাড়ার চেষ্টা করছে। ঘরের মধ্যে ইলেকট্রিকের আলো। আবার ঠিক মাপা দুটি নৌকা জানলার ওপর। শব্দটা আমার মন থেকে যুক্তিটুক্তিতে ভাগিয়ে আমাকে ফেলে দিল ভয়ের গর্তে। সে গর্তের আবার তলা নেই। একবার তার মধ্যে পড়লে শুধু তলিয়েই যেতে হয়।

    ‘আমি বিছানায় আধশোয়া হয়ে। বন্ধ জানলাটা থেকে কিছুতে চোখ সরাতে পারছি না। ফের শব্দ হল—ঠক ঠক। সামান্য একটু বাদে আবার ঠক ঠক। আপনা হতেই শব্দগুলো আমার কাছে কথা হয়ে গেল। পরিষ্কার শুনলাম। অভি—এই অভি!

    ‘এখানে আমাকে এভাবে একজনই ডাকতে পারে। এবং সে—ই ডাকছে আমাকে। কেন একথা মনে হল বলতে পারব না। হয়তো ভয়টাকে আরও পাকাপোক্ত করবার জন্যে আমার মনই চাইছিল এই ধরনের একটা বিশ্বাসের ভিত তৈরি করতে। ভয় আর যুক্তিহীন বিশ্বাস এ ওকে আঁকড়ে ধরল আরও জোরে। বুদ্ধিবৃত্তির শেষ টিমটিমে আলোটা নিবে যেতে সেই অতল ভয়ের মধ্যে এক ধরনের নিশ্চিন্ত ভাবের অবলম্বন পেয়ে গেলাম। আর কোনো সন্দেহ রইল না: শিপ্রাদিই ডাকছে আমাকে জানলার ওপাশ থেকে। বাইরের দেওয়ালে হয়তো টিকটিকি আটকে থাকতে পারে, কিন্তু কোনো মানুষের পায়ের বুড়ো আঙুল আটকাবার মতো জায়গা নেই।

    ‘আবার এল সেই ডাক। একই ধরনের। অভি, এই অভি। আমার হাত—পা অনেকক্ষণ বরফের চাদরের ওপর শুয়ে থাকলে যা হয় সেই রকম। বুকের মধ্যে ঢাক বাজাচ্ছে হৃৎপিণ্ড। ঘরের টেমপারেচার ফ্রিজিং পয়েন্টে নেমে গেছে। বুঝতে পারছি ঘামে সারা গা ভিজে গেছে বলে ঠান্ডাটা বেশি লাগছে। একবার পঁচিশ বছর বয়সি আমি মরিয়া হয়ে শেষবারের মতো ঘাই মারল একেবারে নেতিয়ে পড়ার আগে। বলল যাও না, জানলাটা খুলেই দেখো না ব্যাপারটা কী! জানলা খোলার কথা ঝিলিক দিয়েই মিলিয়ে গেল। অমনি আবার নতুন করে ভয়কে ফিরে পেলাম। যুক্তি লাগসই না হলে একটা সংশয়ের খোঁচ থেকেই যায়। এই ভয় আমাকে সেই অস্বস্তির হাত থেকে বাঁচল।

    ‘জানলার ওপাশ থেকে শব্দগুলো আমার কাছে টেলিগ্রাফের টরেটক্কা হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না। শিপ্রাদি ডাকছে আমাকে। অভি, এই অভি, ওঠ না, দেখ আমি এসেছি। কখনো বলছে : তুই এতদিন পরে কেন এলি অভি। আমার একা—একা আর ভালো লাগে না।

    ‘আমি যে কতক্ষণ একটা জ্যান্ত সিমেন্টের চাঙড় হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলাম খেয়াল নেই। সেই অদ্ভুত একতরফা সংলাপ শুনে যাচ্ছি তো শুনেই যাচ্ছি। নিজেই বুঝিনি বুদ্ধিভ্রষ্ট ভয় একটা বেপরোয়া সাহসকে খুঁচিয়ে তোলে অনেক সময়। সেই সাহস আচমকা আমাকে ইলেকট্রিকের শক দিল। অনেকটা সময় আমাকে পাকড়ে রাখার পর ভয়ের মুঠোও বোধ হয় একটু ঢিলে হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ এক ঝটকায় উঠে দাঁড়ালাম। যা—থাকে—কপালে ধরনের একটা খ্যাপামি আমাকে গুলতি থেকে ছিটকে যাওয়া গুলি বানিয়ে দিল। আছড়ে গিয়ে পড়লাম জানলাটার ওপর। শরীরের সবটুকু শক্তি নিংড়ে দিলাম পাল্লাদুটো হাট করে খুলে দেবার চেষ্টায়। তাকালাম খোলা জানলা দিয়ে। দেখলাম—’

    ‘বাপন, তোমার বাবাকে নিয়ে খেতে এসো। দেরি হলে কাবাব ঠান্ডা হয়ে যাবে।’ ভেতর থেকে মা ডেকে বললেন।

    বাপন শুনেও শুনল না, বলল, ‘জানলার ওপাশে কী দেখলে বাবা?’

    ‘সেইটেই আমার কাছে খুব স্পষ্ট নয়,’ আস্তে আস্তে বললেন বাবা, ‘মনে হল শিপ্রাদিই, তেমনি চুল খোলা, আলো—অন্ধকারে মিলেমিশে আছে, তবুও পরিষ্কার শিপ্রাদি। তবে এই দেখাটা বোধহয় এক লহমার জন্যে। তবে একটা কথা,’ একটু হাসলেন বাবা, ‘আমার মন তো তাই চাইছিল দেখতে। হয়তো পুরোটাই হ্যালুসিনেশান, যার পেছনে অটো—সাজেশান থাকতেও পারে। তবে একটা কথা। এর ঠিক পরেই বুঝলাম ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো ভয়ও আমার শরীর—মনের চৌহদ্দি ছেড়ে পালিয়েছে। আমি বিছানায় এসে পড়া মাত্র ঘুমের মধ্যে তলিয়ে গেলাম।’

    ‘কিন্তু বাবা, তোমার শিপ্রাদির ঠোঁটের বাঁ কোণের ওপরে কি একটা বড়ো তিল ছিল,’ ধাঁ করে জিজ্ঞাসা করল বাপন।

    ‘তুই কী করে জানলি!’ এবারে বাবার অবাক হবার পালা।

    ‘না, এমনি হঠাৎ মনে হল।’

    ভেতর থেকে বাপনের মা আবার খেতে ডাকলেন। বাবা মাথায় ঝাঁকি দিয়ে নিজের মনেই বললেন, ‘আশ্চর্য! তোর তো সে—কথা জানার নয়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিয়ের রাত – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ২৫টি শ্রেষ্ঠ কিশোর গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }