Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    অভীক দত্ত এক পাতা গল্প431 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অপারেশন ট্রেইটর – ৫০

    ৫০

    সোবাহান তিনটের সময়েই এলেন।

    জাহিরের চেম্বারের ওয়েটিং রুমে নির্মল টিভি দেখছিল। সোবাহান এলে নির্মলকে ডেকে নিলেন জাহির।

    নির্মল চেম্বারে প্রবেশ করতেই সোবাহান তাকে দেখে বললেন, ‘সাদিকের ফাইল তোমার কাছে কিছু আছে?’

    নির্মল বলল, ‘না। আমার কাছে কিছু নেই। অফিসেই ছিল যা থাকার।’

    সোবাহান একটা মাত্র ফাইল নিয়ে এসেছিলেন। জাহিরের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘জনাব আমার কাছে এই একটা ফাইলই আছে। এই ফাইলে সাদিকের বিষয়ে তেমন সন্দেহজনক কিছু নেই। আসগর এককালে ক্রিমিনাল ছিল, পরে ভালো হয়ে যায়। সাদিক ওকে সৎ পথে নিয়ে আসে।’

    নির্মল বলল, ‘ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে সাদিকের ফাইলগুলো আনার ব্যবস্থা করা হোক। সেখান থেকেই ওর যাবতীয় ট্রানজাকশানের সম্পর্কে জানা যাবে।’

    জাহির বললেন, ‘সে সব ঠিক আছে। সোবাহান সাহেব, আপনি নির্মলকে ট্রেনিং ডিপার্টমেন্টে দিয়েছেন কেন?’

    সোবাহান বললেন, ‘আমি দিইনি তো। আনোয়ার সাহেবের সময় থেকেই ওকে ওখানে দেওয়া হয়েছে। আমি মন্ত্রীসাহেবের হুকুম তামিল করেছি মাত্র। ওকে ওর ভালোর জন্যই ওখানে দেওয়া হয়েছিল জনাব। নিরাপত্তার ব্যাপার আছে। যদি সাদিক শেখ সত্যিই বড় প্লেয়ার হয়, তাহলে নির্মলকে টার্গেট করবে। সেটা তো হতে দেওয়া যায় না।’

    জাহির বললেন, ‘ওকে যেখানে ছিল, সেখানে দিন। বাকিটা আমি দেখছি।’

    সোবাহান বললেন, ‘জি জনাব। আমি যাব এখন?’

    জাহির বললেন, ‘যান। বাই দ্য ওয়ে নির্মল, সাদিকের ট্যাক্সের ফাইলটা কে দিয়েছে তোমাকে?’

    নির্মল বলল, ‘আমার এক বন্ধু। সোর্সটা বলা যাবে না স্যার।’

    জাহির মাথা নাড়লেন, ‘তা ঠিক। তোমার ফ্যামিলি আছে তো?’

    নির্মল বলল, ‘জি জনাব। স্ত্রী।’

    জাহির বললেন, ‘তোমার ভয় লাগে না? বউ নিয়ে সংসার করছ, এই যে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ফাইল নাড়াচাড়া করছ, যদি ওদের কাছে খবর যায়, তোমার বউকে তুলে নিয়ে যায়, তাহলে কী হবে?’

    নির্মল চমকে জাহিরের দিকে তাকাল। জাহির বললেন, ‘সোবাহানকে আমিই চার্জ দিয়েছিলাম।’

    নির্মলের মাথা কাজ করছিল না। এই একটু আগেই তো জাহির অন্য কথা বলছিলেন! সোবাহান হাসছিলেন। জাহিরের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সংখ্যালঘুদের নিয়ে এই সমস্যা বুঝলেন জনাব। এরা সবসময় দেখাতে চায় এরা দেশকে ভালোবাসে। আসলে তো কাজ করে ইন্ডিয়ার জন্য। আবার কেমন সাহস দেখুন, আপনার কাছেও চলে এসেছে।’

    নির্মলের শরীরটা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল।

    জাহির বললেন, ‘তোমরা ইন্ডিয়ায় চলে যাও না কেন নির্মল? সুন্দর দেশ। কলকাতা সাইডে একটা জমি কিনে নিলে। নেতাদের টাকা খাইয়ে ওখানকার আইডিও পেয়ে যাবে। কী দরকার এ দেশে পড়ে থাকার? তুমি ট্রেনিং ডিপার্টমেন্টে থাকতে চাও না, ঠিক আছে, এক কাজ করো, আমি তোমাকে মায়ানমার সীমান্তে ট্রান্সফার করছি। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের চার্জটা বরং তুমি নিয়ে নাও। ওদিকে থাকলে খানিকটা বুঝতে পারবে বাকি দেশগুলো কীভাবে সংখ্যালঘুদের ট্রিট করে। নিজেই ঠিক করো, কলকাতা পালাবে না মায়ানমার সীমান্তে যাবে।’

    সোবাহান বললেন, ‘তাই দিন জনাব। ওর রক্ত গরম। এখন ব্যস্ত থাকুক। ঢাকা ওর জন্য না। ছোট ভাইয়ের মতো বোঝালাম, বাবা, আনোয়ার সাহেবকে দেখে শিক্ষা নাও। ওই লোকেরও তো অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল। সে থাকতেই পারে। ছেলের সে ইচ্ছাই নাই! তোমাকে রিম্যান্ডে নিলাম না, হ্যারাসও করলাম না, শুধু তোমাকে একটা ভদ্র জায়গা দিলাম, বললাম শান্ত হয়ে বসে চাকরিটা কন্টিনিউ করো, ট্রেনিং দাও, কিন্তু না! ছেলের হিরো সাজতে লাগবে। সব ইন্ডিয়ান সিনেমা দেখার ফল। এভাবেই আমাদের দেশটা ইন্ডিয়া ধীরে ধীরে কিনে নিচ্ছে। সবই বুঝতে পারি, কী করব, সহানুভূতির সঙ্গেই তো নির্মলের ব্যাপারটা বিবেচনা করেছি। অন্য কেউ হলে কি ওকে বাঁচিয়ে রাখত বলুন?’

    জাহির বললেন, ‘আমিই রাখতাম না। আপনি পরম ক্ষমাশীল।’

    বমি পাচ্ছিল নির্মলের। মনে হচ্ছে মাথার উপর যেন কেউ একমণ ভার চাপিয়ে দিয়েছে। দেওয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবিটা যেন তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

    সোবাহান বললেন, ‘তাহলে নির্মলের ট্রান্সফার লেটারটা…?’

    জাহির বললেন, ‘পেয়ে যাবে এখনই।’

    দুজনেই হেসে উঠলেন…।

    .

    ৫১

    দাবা খেলছেন দুজনে। মাথুর জিতছেন।

    খান চিন্তিত মুখে বললেন, ‘তুমি এত ভালো খেলা শিখলে কবে বল তো? আগে তো আমিই তোমাকে কতবার কিস্তিমাৎ করেছি। ইদানীং তুমি একবারে নতুন স্ট্র্যাটেজি নিয়েছ দেখছি। দাঁড়াতেই দিচ্ছ না। এত আক্রমণাত্মক খেলা শিখে গেছ, ভয় লাগছে তোমার সঙ্গে খেলতে।’

    মাথুর বললেন, ‘কাশ্মীরে জওয়ানদের সঙ্গে খেলে খেলে হাত পাকিয়েছি। কর্নেল রায় যেমন। উনি যদি সেনায় না গিয়ে দাবা খেলতেন, তাহলেও অনেক দূরে যেতেন। দে আর অসাম।’

    খান কোনমতে রানি বাঁচিয়ে বললেন, ‘সে তো ঠিক আছে, কিন্তু এখানে কাকে ডাকলে লাভ আছে বলে তোমার মনে হয়?’

    মাথুর বললেন, ‘আমার তো একজনের কথাই মনে পড়ছে।’

    খান বললেন, ‘কার কথা?’

    মাথুর বললেন, ‘আরে সায়কের আগে যে করাচীতে ছিল। ওকে কী যেন একটা কারণে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়ে বলা হয়েছিল না যে তুমি জাস্ট এখানে থাকো। তোমাকে আর কোথাও যেতেও হবে না, তোমাকে আর কিছু করতেও হবে না। একপ্রকার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।’

    খান বললেন, ‘অমল? ভেবোও না। তুষার স্যার রেগে যাবেন।’

    মাথুর বললেন, ‘হ্যাঁ, সে তো জানি, রেগে যাবেন, কিন্তু ঘটনাটা কী হয়েছিল করাচীতে? কী করেছিল অমল?’

    খান বললেন, ‘জানি না। সেগুলো স্যার জানেন। তবে ঢাকার কোনও ব্যাপারে ওকে ইনভল্ভ করা হয় না, এটা তো অলিখিতভাবে সবাই জানে।’

    খানের ফোন বেজে উঠল। তুষার ফোন করছেন। খান স্পিকারে দিলেন, ‘হ্যাঁ স্যার।’

    তুষার বললেন, ‘তোমাকে অদ্ভুত একটা খবর দিই খান। শেখাওয়াত বহু আগেই অমলকে অপারেশনে নিয়ে নিয়েছিল। অমল ঢাকায় বেশ খানিকটা সময় ধরেই সক্রিয়!’

    মাথুর শিস দিয়ে উঠলেন, ‘কী অদ্ভুত ব্যাপার স্যার, আমরা এতক্ষণ ওর ব্যাপারেই আলোচনা করছিলাম। আপনি আমাদের বলতেন ওকে অপারেশনে নেওয়া যাবে না, এদিকে শেখাওয়াত ওকে কাজে লাগিয়ে দিয়েছে? এরকম কন্ট্রাডিক্টরি কেন ব্যাপারটা?’

    তুষার বললেন, ‘জানি না। শেখাওয়াতের কথা একবারেই ট্রান্সপারেন্ট না। আমার মনে হচ্ছে ও অনেকখানি কথা পেটে রেখে তবেই কথা বলছে। ওকে আমি সবটা বিশ্বাসও করতে পারছি না। কিন্তু এই মুহূর্তে যদি অমল অ্যাক্টিভ থাকে, তাহলে আমি অমলকে ছাড়া আর কারো নাম ভাবতে পারব না। শেখাওয়াত একটা নাম্বার দিয়েছে। সেন্ড করছি। কন্ট্যাক্ট অমল।’

    খান বললেন, ‘ওকে স্যার।’

    তুষার বললেন, ‘শেখাওয়াত ঠিক কী কী করে রেখেছে, আমি এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। অমলের সঙ্গে আরেকটা ছেলে থাকার কথা। সে কন্ট্র্যাক্ট কিলার। শেখাওয়াত ওকে অমলের কাছে পাঠিয়েছে কাজ শেখার জন্য।’

    খান ভ্রু কুঁচকে মাথুরের দিকে তাকালেন, ‘যা ইচ্ছে তাই করছে তো!’

    তুষার বললেন, ‘করতে পারে। শেখাওয়াত সব সময় কিছু না কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা করেই যায়। এবারেও তাই করেছে। যাই হোক, ওসব নিয়ে ভেবো না, ওকে কন্ট্যাক্ট করো। আই এস আইয়ের হাতে আমাদের যেই থাকুক, তাকে রেসকিউ করা আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি। বাকি পরে দেখা যাবে। ক্লিয়ার?’

    খান এবং মাথুর দুজনেই বললেন, ‘ক্লিয়ার স্যার।’

    তুষার বললেন, ‘ওকে, টেক কেয়ার। আপডেট দিয়ে যাবে।’

    ফোন কেটে দিলেন তুষার। খান মাথায় হাত দিয়ে বললেন, ‘শেখাওয়াত কী করতে চাইছে বল তো? ওর মধ্যে আমি দেখেছি হিরো সাজার একটা ব্যাপার ছিল বরাবরই। যেদিনই ঢাকা থেকে আমরা সরে গেলাম, সেদিন থেকে ও অমলকে অ্যাক্টিভেট করেছে। অথচ আমি জানতাম…’

    মাথুর বললেন, ‘কী জানতে?’

    খান বললেন, ‘থাক। পরে সব ঘটনা মনে করে তারপর না হয় বলব। হতে পারে আমি ভুল।’

    তুষার নাম্বার পাঠিয়েছেন। খান দেরি করলেন না, নাম্বারটায় ফোন করলেন। একটা রিং হতেই ও-প্রান্তে ফোন রিসিভ হল, ‘হ্যালো।’

    খান বললেন, ‘আকাশে মেঘের সঙ্গে অ্যালিয়েন দেখা যাচ্ছে।’

    ও-প্রান্ত বলে উঠল, ‘অ্যালিয়েন আমেরিকা ছাড়া কিছু চেনে না।’

    খান হেসে উঠলেন, ‘রিয়েলি ফানি। আপনি অমল?’

    ‘না। ইমতিয়াজ। আপনি?’

    খান বললেন, ‘বাবা চাইছে ছেলে মা’র সঙ্গে কথা বলুক।’

    একটু নীরবতা। তারপর অমলের গলা পাওয়া গেল, ‘বলুন।’

    খান বললেন, ‘পাখি শহরের কাছে ঘুরছে না?’

    ‘না। পাখি তাড়া খেয়েছিল।’

    ‘ওকে। বুঝেছি। পাখির ঈদে জামা হবে, ট্রায়াল দেওয়ার দরকার। সব কাজ ফেলে আগে জামা কেনা দরকার।’

    ‘কিন্তু ঈগল সীতাকে নিয়ে গেছে।’

    ‘একসঙ্গে খোঁজা যাবে। আগে এখানে।’

    ‘ওকে।’

    খান মাথুরের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আসছে।’

    মাথুর বললেন, ‘ওকেই জিগ্যেস করব করাচীতে কী হয়েছিল?’

    খান হেসে ফেললেন, ‘একবারেই না। কাজের বাইরে কোনও কথা বলবে না।’

    মাথুর কাঁধ ঝাঁকালেন, ‘ওকে হুজুর। আপনার যেমন মর্জি।’

    .

    ৫২

    বৃষ্টি পড়ছে গাড়ির উইন্ডশিল্ডে। সাদা হয়ে যাচ্ছে চারদিক। নির্মল চুপ করে বসে আছে। চোখের কোণে জল আসছে, সে আর মোছার চেষ্টা করছে না।

    এ দেশটা তার না? জন্মভূমি, তার সব স্মৃতি তো এই দেশেই। এই দেশের মানুষদের কোনদিন পর বলে ভেবেছিল সে? চাকরি করতে গিয়ে প্রতিকূলতা থাকলেও যতদিন আনোয়ার সাহেব ছিলেন, কোনদিন মনে হয়নি এদেশ তার না। আজকে এভাবে অপমানিত হতে হল?

    জাহিরের চেম্বার থেকে বেরোনোর সময় শরীর খারাপ লাগছিল তার। আশাভঙ্গ একরকম, আর এ তো কেউ ডেকে এনে চড় মারার মতো ব্যাপার!

    গাড়ি স্টার্ট দিতে পারছে না। পা কাঁপছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে।

    বৃষ্টিটা ধরে এল হঠাৎ করেই। একটু বসে থেকে গাড়ির দরজা থেকে বেরোতেই দেখল আলমগির হোসেন দল নিয়ে চলে এসেছেন, ‘চলো।’

    নির্মল বুঝল তাকে রিমান্ডে নিতে এসেছে। সে বলল, ‘স্ত্রীকে একটা ফোন করতে পারি? এতদিন একসঙ্গে কাজ করেছি, এটুকু করতে দেবেন তো?’

    আলমগির থমথমে মুখে তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘করে নাও।’

    নির্মল কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন বের করে দীপাকে ফোন করল।

    দীপা ফোন ধরেই বলল, ‘কোথায় থাকো বলো তো? আমরা কক্সবাজারে এসেছি। কী মজা হচ্ছে! মামা বলছে যেখানেই থাকুক জামাইকে এখানে চলে আসতে বল। চলে এস না।’

    নির্মল কয়েক সেকেন্ড ধরে থেকে বলল, ‘আমাকে রিমান্ডে নিচ্ছে দীপা।’

    দীপা আর্তনাদ করে উঠল, ‘মানে? ইয়ার্কি মারছ তুমি?’

    নির্মল বলল, ‘না। রিমান্ডে নিচ্ছে। সাবধানে থেক। আমি যদি আর কোনদিন না ফিরি…’

    আলমগির নির্মলের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন কেটে সুইচ অফ করে দিয়ে বললেন, ‘চলো।’

    নির্মল গাড়ির চাবিটা আলমগীরের হাতে দিয়ে বলল, ‘আমার গাড়িটা বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।’

    আলমগির নির্মলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে। আমি পাশে বসছি। তুমি বাড়িতে গাড়ি রেখে চলো।’ আলমগির বাকিদের বললেন, ‘নির্মলের গাড়িটা ফলো করে এস।’ বাকিরা জিপে উঠে পড়ল।

    নির্মল গাড়িতে উঠে বসল। আলমগির তার পাশে। নির্মলের পা কাঁপছে, হাত কাঁপছে। আলমগির সেটা দেখে বললেন, ‘আমি চালাচ্ছি।’

    নির্মল গাড়ি থেকে নামল। আলমগির ড্রাইভিং সিটে এসে বসলেন। নির্মল বসল। গাড়ি স্টার্ট করে আলমগির বললেন, ‘কী করেছ তুমি? এই তো সারাক্ষণ আনোয়ার সাহেবের সঙ্গে কাজ করছিলে। এখন রিম্যান্ডে নিচ্ছে কেন?’

    নির্মল জানলার বাইরে তাকাল। শহরটাকে অচেনা লাগছে। এখন তাহলে সে বিদেশে আছে? এ দেশটা তো তার নয়!

    আলমগির হর্ন দিলেন, ‘শুনতে পাচ্ছ কী বলছি? কী করেছ যে সোবাহান সাহেব আমাকে স্পেশাল ইন্সট্রাকশন দিলেন তোমাকে এখনই রিমান্ডে নিতে হবে? তাড়াতাড়ি বলো, দেরি কোরো না।’

    নির্মল বলল, ‘আমাকে বলা হয়েছে আমি ইন্ডিয়ার এজেন্ট। আমি জানি না আমি কী করেছি ইন্ডিয়ার এজেন্ট হবার মতো।’

    আলমগির বললেন, ‘ব্যস? আর কিছু করোনি?’

    নির্মল বলল, ‘একজনকে এক্সপোজ করতে গেছিলাম। বুঝলাম তার হাত অনেক উপরে। আর কী বলি বলুন তো?’

    আলমগির বললেন, ‘হুঁ। মানে তোমার জায়গায় যেকোনও দিন আমিও থাকতে পারি আর কী।’

    নির্মল বলল, ‘তা কেন? আপনি তো আর সংখ্যালঘু নন। আপনাকে শুনতে হবে না আপনি ইন্ডিয়ার এজেন্ট।’

    আলমগির চুপ করে গেলেন। নির্মলের বাড়িতে গাড়ি পার্ক করা হল। নির্মলকে জিপে তোলা হল। সেই একই বিল্ডিং। কত লোককে এখানে এনে জেরা করেছে সে। এবার তাকে জেরা করা হবে। বাজে একটা কারণ দেখিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। নির্মল অনেকটা স্বাভাবিক হচ্ছিল। শেষটা জানলে টেনশন করার কোনও কারণ থাকে না।

    করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আলমগির গলা নামিয়ে বললেন, ‘লোকটা কি সাদিক শেখ?’

    নির্মল অবাক হল, ‘আপনি কী করে জানলেন?’

    আলমগির বললেন, ‘সাদিক সোবাহানের দুলাভাই। তুমি কেন, অনেকেই জানে না সেটা। আমরা যারা পুরোনো লোক, তারা জানি।’

    নির্মল হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    .

    ৫৩

    ‘আমরা সাদিকের বাড়ি নামব না। আগে নেমে যাব।’

    গাড়ি সবে শহরে ঢুকেছে। ফোন রেখে অমল ইমতিয়াজের দিকে তাকাল। অমলের কথা শুনে ইমতিয়াজ অবাক হল।

    ‘কেন? কী হয়েছে?’

    অমল বলল, ‘তুমি চলে যাও। আমাদের নামিয়ে দাও।’

    ইমতিয়াজ বলল, ‘ফোনটা কে করেছিল?’

    অমল বলল, ‘তোমার জানা উচিত। তুমি জানো না?’

    ইমতিয়াজ গম্ভীর হয়ে বলল, ‘উস্তাদ ফোন করেননি। উস্তাদ ছাড়া অন্য কারো কথা শোনা ঠিক হবে না।’

    অমল বলল, ‘আমি কোডের গোলাম বস। আমার এখানে কিছু করার নেই।’

    ইমতিয়াজ বলল, ‘বেশ। তুমি যখন বলছ, তখন তাই হোক। কোথায় নামাব?’

    অমল বলল, ‘এখানেই নামিয়ে দাও। এখান থেকে ফিরতে সুবিধে হবে তোমার।’

    ইমতিয়াজ বলল, ‘আমি যাব না?’

    অমল বলল, ‘না। তুমি চলে যাও।’

    রাণা অবাক হল। ফোনটা আসার পর থেকে অমল কেমন পাল্টে গেল।

    ইমতিয়াজ গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল। অমল রাণার দিকে তাকাল, ‘অস্ত্রটা ফেরত দিয়ে দাও।’

    রাণা কোনও কথা না বলে ইমতিয়াজের গাড়ির সিটে সন্তর্পণে রিভলভারটা রেখে দিল।

    অমল গাড়ি থেকে নামল, ‘চলো।’

    রাণা নামতে যেতেই ইমতিয়াজ বলল, ‘আজকেই করবে। মাথায় রেখো।’

    রাণা কথা না বলে গাড়ি থেকে নেমে গেল। ইমতিয়াজ বেরিয়ে গেল। অমল একটা সি এন জি ধরে ঠিকানা বলল। সি এন জি চলতে শুরু করলে রাণা ফিসফিস করে বলল, ‘কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না।’

    অমল ঠোঁটে আঙুল দিয়ে ইশারায় রাণাকে চুপ করে যেতে বলল।

    রাণা আর কোনও কথা বলল না। দোকানের সামনে এসে সি এন জি ছেড়ে দিল অমল।

    ট্রায়াল রুমে ঢুকে নক করতেই দরজা খুলে গেল।

    খান বললেন, ‘এস এস।’

    দুজনে ঘরে ঢুকতে খান দরজা বন্ধ করে দিলেন।

    মাথুর বললেন, ‘সেই ফেমাস অমল, হ্যাঁ? আপনার কথা অনেক শুনেছি। কত গল্প, কত মিস্ট্রি, ভাবাই যায় না।’

    অমল হাসল, ‘ও রাণা। ওকে উস্তাদ পাঠিয়েছেন আমার সঙ্গে থেকে কাজ করতে।’

    খান রাণার দিকে হাত বাড়ালেন, ‘তুমি জানো তুমি কত বড় কাজ করেছিলে? তারেক শেখকে কেমন অনায়াসে উড়িয়ে দিয়েছিলে! আনবিলিভেবল!’

    রাণা বলল, ‘আমার কাজই ওটা। তারেক শেখ কী কাজ করে, আমি কিছুই জানতাম না।’

    খান বললেন, ‘ঠিক। তোমাকে শেখাওয়াত এখানে পাঠিয়েছে কেন, আমরা সেটাই এখনো বুঝতে পারছি না। যাই হোক, এখন সবার আগে আমাদের লোককে উদ্ধার করতে হবে। তারপর বাকি কথা। আপনি বলুন অমল, আমরা কীভাবে ওকে উদ্ধার করতে পারব।’

    অমল বলল, ‘জল খাই একটু? তারপর বলি?’

    মাথুর ব্যস্ত হয়ে অমলের দিকে জলের বোতল এগিয়ে দিলেন। অমল অনেকটা জল খেয়ে বলল, ‘লাস্ট তিন বছরে আই এস আই এখানে অনেকটাই শক্তিবৃদ্ধি করেছে। অনেকগুলো জায়গায় ওদের ডেরা হয়েছে। তিন-চারজন রাজাকারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাজে লাগানো শুরু হয়েছে। তবে আমার মনে হয় গিয়াস ঢাকার বাইরে নয়, ঢাকার মধ্যেই কোথাও সাকিনাকে রেখেছে। তবে এখনো আছে নাকি জানা নেই। ওরা ওকে নিয়ে যেতে চাইবে যদি না কোনও ম্যাজিকে সাদিক সাকিনাকে আবার নিজের কাছে রেখে দেয় কিংবা…’

    একটু চুপ করে থেকে অমল বলল, ‘মেরে ফেলে।’

    মাথুর মাথায় হাত দিলেন। খান বললেন, ‘সে মারতেই পারে। কিন্তু ধরে নিয়ে গেলে…কতটা কী জানে আমাদের অ্যাসেট?’

    অমল বলল, ‘ঢাকা অপারেশনের সবটাই।’ রাণা অবাক হয়ে অমলের দিকে তাকাল।

    খান বললেন, ‘মাই গড। ইজ শি কেপেবল এনাফ?’

    অমল বলল, ‘কোন মেয়ে এসে সাদিকের মতো নরকের কীটের সঙ্গে শোবে বলুন তো? আর কত কেপেবিলিটি প্রমাণ করতে হবে?’

    খান লজ্জা পেলেন, ‘ছি ছি। আমি সেটা বলিনি। সব জানে বললেন বলেই বললাম। তার মানে শি ইজ দ্য মোস্ট ইমপরট্যান্ট অ্যাসেট নাও। ওর কাছে সব থেকে তাড়াতাড়ি পৌঁছনোর কী উপায়?’

    অমল বলল, ‘সাদিক।’

    খান বললেন, ‘সাদিক আপনাকে সাকিনার ডিটেলস দেবে কেন?’

    অমল বলল, ‘জানি না। কিন্তু ও ছাড়া অত তাড়াতাড়ি কেউ গিয়াসের কাছে নিয়ে যেতে পারবে না। একটা ফোন দিন।’

    খান তার ফোন এগিয়ে দিলেন। অমল নাম্বার ডায়াল করল। চট্টগ্রামের ভাষায় কিছুক্ষণ কথা বলে ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘কুড়ি জন মাদ্রাসা স্টুডেন্ট হারিয়ে গেছে। আমাকে সাদিক যেখানে যেখানে পাঠিয়েছিল, তার মধ্যে একটা জায়গার কোডে M ছিল। কাঠমান্ডুর কোড। M=মাদ্রাসা? আমি কাঠমান্ডু গেছি প্রায় এক মাস আগে। এক মাস আগে আজকের প্ল্যানটা করা ছিল তাহলে। আমাকে একটা কাগজ আর পেন দিন প্লিজ।’

    খান একটা প্যাড আর পেন এগিয়ে দিল।

    অমল দ্রুত গতিতে প্যাডে লিখল

    T M S = Twenty Madrasa Students (?)

    ভ্রু কুঁচকে সেদিকে কয়েকসেকেন্ড তাকিয়ে অমল বলল, ‘এত সোজা? এর জন্য কেউ কাঠমান্ডু যাবে কেন? অদ্ভুত!’

    .

    ৫৪

    ‘আপনি শেষ কবে ইন্ডিয়া গেছেন নির্মল?’

    একটা বাল্ব ঝুলছে। এই ঘরটা তার চেনা। কতবার প্রশ্নকর্তার জায়গায় বসেছে সে।

    এখন উল্টো দিকে তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন করছেন আরিফ রহমান। আরিফ সব সময়ে আসেন না। মাঝে মাঝে আসেন। হাই প্রোফাইল অপরাধীদের জন্য। সে তাহলে এদের কাছে হাইপ্রোফাইল অপরাধী। হয়ত আজ রাতেই তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে ফেলে দেওয়া হবে। গরম সীসার বুলেট ভেদ করে ফেলবে তার শরীর। এই দেশের মাটি, যাকে সে সবথেকে বেশি ভালোবেসেছিল, সে মাটি ভিজে যাবে তার রক্তে।

    আরিফ রহমানের প্রশ্নের উত্তরে নির্মল তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘নভেম্বরে। কলকাতায়, স্ত্রীর মামার ছেলের বিয়েতে।’

    আরিফ তার দিকে কঠিন চোখে তাকিয়ে বললেন, ‘সেখানে কার কার সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছিল?’

    ‘আমার শ্বশুরবাড়ির দিকের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে।’

    ‘আর?’

    ‘আর কেউ না।’

    ‘আপনি শিওর?’

    নির্মল হেসে ফেলল। আরিফের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আপনি আমার সঙ্গে কি র-এর লিংক খুঁজতে চাইছেন? এমনিই তো মেরে ফেলবেন বুঝতে পারছি। খামোখা নাটক প্যাঁচাচ্ছেন কেন?’

    আরিফ রাগী গলায় বললেন, ‘আমি যা প্রশ্ন করছি তার উত্তর দিন।’

    নির্মল বলল, ‘ওকে। করুন।’

    আরিফ বললেন, ‘আপনার ফোনে মাঝে-মাঝেই ইন্ডিয়া থেকে ফোন আসে। তারা কারা?’

    নির্মল বলল, ‘উনিশশো সাতচল্লিশ সালের আগে পাকিস্তান বলে কোনও দেশ ছিল না। শুধুই ইন্ডিয়া ছিল। দেশ ভাগ হল। এ-প্রান্তে থাকা অনেকেই ও-প্রান্তে চলে গেলেন। আত্মীয়তা সূত্রে অনেক মানুষই এখন এভাবেই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত আছে। যদি সত্যিই আপনি সোর্সগুলো দেখতে চান, এমব্যাসিতে খবর পাঠান, তারা ঠিকই বলে দেবে ফোনগুলো আমি আমার আত্মীয়-স্বজনকেই করেছিলাম।’

    আরিফ বললেন, ‘আপনার কথাগুলো কোনটাই সোজা না। আপনি কি এভাবেই টেরিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন?’

    নির্মল বলল, ‘গল্পের শেষটা দেখতে পারলে ছোটখাটো ভয়গুলো চলে যায়। আমি আমার গল্পের শেষটা জানি। একজন কোরাপ্টেড মানুষের সঙ্গে কতগুলো কোরাপ্টেড মানুষ যুক্ত হয়ে একটা দেশবিরোধী কাজ করছে। আমি মাঝে পড়ে গেছি। আমাকে সরাতে হবে। অকারণে আপনি নাটক করছেন আরিফ সাহেব। আপনার সময়ের দাম আছে। আপনি চলে যান। যা করার ওদের করে নিতে দিন। আমি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব, কথা দিচ্ছি।’

    আরিফ নির্মলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। একটু থেমে বললেন, ‘কোরাপ্টেড মানুষ মানে?’

    নির্মল বলল, ‘একটা ইনভেস্টিগেশন করছিলাম। সেখানেই সাপের ল্যাজে পা পড়েছে। আপনি কিছু জানেন না এটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?’

    আরিফ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে বসে থেকে বললেন, ‘ইন্ডিয়ার এজেন্টরা এভাবেই কথা বলতে শিখিয়ে দিয়েছে?’

    নির্মল বলল, ‘ইন্ডিয়ার এজেন্ট? আমার পারফরম্যান্স দেখেছেন আপনি? আনোয়ার সাহেবকে চিনতেন না আপনি? আপনি জানেন না উনি ইন্ডিয়ার হয়ে কাজ করেছেন না বাংলাদেশের জন্য শেষ দিন অবধি কীভাবে ভেবে গেছেন?’

    আরিফের ফোন বেজে উঠল। আরিফ ভ্রু কুঁচকে ফোনের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালেন, বললেন, ‘ওকে। এখনকার মতো এই অবধিই। রেস্ট করুন অফিসার।’

    অদ্ভুতভাবে আর কোনও কথা না বলে আরিফ ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

    নির্মল টেবিলে চুপ করে বসে রইল। আলমগির কাচের জানলার ওপাশ থেকে তাকে দেখছিলেন।

    নির্মল বলল, ‘কী হল? সাহেব চলে গেলেন কেন? অকারণ বসিয়ে রেখেছে কেন রাজাকারগুলো? যা করতে চায়, করতে বলে দিন না।’

    আলমগির চেম্বারে প্রবেশ করে বললেন, ‘তুমি মাথা ঠান্ডা করো। তুমি কেন ধরে নিচ্ছ যে এখনই সব শেষ হয়ে গেছে?’

    নির্মল বলল, ‘আমি তো বুঝতে পারছি। এটা না বোঝার কি কিছু আছে? আমি ইন্ডিয়ায় কার সঙ্গে দেখা করতে যাব? প্রশ্নগুলো কোনদিকে যাচ্ছে, তা বোঝার মতো বুদ্ধি কি আমার নেই?’

    আলমগির নির্মলের কাঁধে হাত দিলেন, ‘আবারও বলছি। আরিফ সাহেব কেন বেরোলেন সেটা দেখা যাক।’

    নির্মল দু’হাতে মুখ ঢেকে বসে রইল।

    ৫০

    সোবাহান তিনটের সময়েই এলেন।

    জাহিরের চেম্বারের ওয়েটিং রুমে নির্মল টিভি দেখছিল। সোবাহান এলে নির্মলকে ডেকে নিলেন জাহির।

    নির্মল চেম্বারে প্রবেশ করতেই সোবাহান তাকে দেখে বললেন, ‘সাদিকের ফাইল তোমার কাছে কিছু আছে?’

    নির্মল বলল, ‘না। আমার কাছে কিছু নেই। অফিসেই ছিল যা থাকার।’

    সোবাহান একটা মাত্র ফাইল নিয়ে এসেছিলেন। জাহিরের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘জনাব আমার কাছে এই একটা ফাইলই আছে। এই ফাইলে সাদিকের বিষয়ে তেমন সন্দেহজনক কিছু নেই। আসগর এককালে ক্রিমিনাল ছিল, পরে ভালো হয়ে যায়। সাদিক ওকে সৎ পথে নিয়ে আসে।’

    নির্মল বলল, ‘ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে সাদিকের ফাইলগুলো আনার ব্যবস্থা করা হোক। সেখান থেকেই ওর যাবতীয় ট্রানজাকশানের সম্পর্কে জানা যাবে।’

    জাহির বললেন, ‘সে সব ঠিক আছে। সোবাহান সাহেব, আপনি নির্মলকে ট্রেনিং ডিপার্টমেন্টে দিয়েছেন কেন?’

    সোবাহান বললেন, ‘আমি দিইনি তো। আনোয়ার সাহেবের সময় থেকেই ওকে ওখানে দেওয়া হয়েছে। আমি মন্ত্রীসাহেবের হুকুম তামিল করেছি মাত্র। ওকে ওর ভালোর জন্যই ওখানে দেওয়া হয়েছিল জনাব। নিরাপত্তার ব্যাপার আছে। যদি সাদিক শেখ সত্যিই বড় প্লেয়ার হয়, তাহলে নির্মলকে টার্গেট করবে। সেটা তো হতে দেওয়া যায় না।’

    জাহির বললেন, ‘ওকে যেখানে ছিল, সেখানে দিন। বাকিটা আমি দেখছি।’

    সোবাহান বললেন, ‘জি জনাব। আমি যাব এখন?’

    জাহির বললেন, ‘যান। বাই দ্য ওয়ে নির্মল, সাদিকের ট্যাক্সের ফাইলটা কে দিয়েছে তোমাকে?’

    নির্মল বলল, ‘আমার এক বন্ধু। সোর্সটা বলা যাবে না স্যার।’

    জাহির মাথা নাড়লেন, ‘তা ঠিক। তোমার ফ্যামিলি আছে তো?’

    নির্মল বলল, ‘জি জনাব। স্ত্রী।’

    জাহির বললেন, ‘তোমার ভয় লাগে না? বউ নিয়ে সংসার করছ, এই যে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ফাইল নাড়াচাড়া করছ, যদি ওদের কাছে খবর যায়, তোমার বউকে তুলে নিয়ে যায়, তাহলে কী হবে?’

    নির্মল চমকে জাহিরের দিকে তাকাল। জাহির বললেন, ‘সোবাহানকে আমিই চার্জ দিয়েছিলাম।’

    নির্মলের মাথা কাজ করছিল না। এই একটু আগেই তো জাহির অন্য কথা বলছিলেন! সোবাহান হাসছিলেন। জাহিরের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সংখ্যালঘুদের নিয়ে এই সমস্যা বুঝলেন জনাব। এরা সবসময় দেখাতে চায় এরা দেশকে ভালোবাসে। আসলে তো কাজ করে ইন্ডিয়ার জন্য। আবার কেমন সাহস দেখুন, আপনার কাছেও চলে এসেছে।’

    নির্মলের শরীরটা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল।

    জাহির বললেন, ‘তোমরা ইন্ডিয়ায় চলে যাও না কেন নির্মল? সুন্দর দেশ। কলকাতা সাইডে একটা জমি কিনে নিলে। নেতাদের টাকা খাইয়ে ওখানকার আইডিও পেয়ে যাবে। কী দরকার এ দেশে পড়ে থাকার? তুমি ট্রেনিং ডিপার্টমেন্টে থাকতে চাও না, ঠিক আছে, এক কাজ করো, আমি তোমাকে মায়ানমার সীমান্তে ট্রান্সফার করছি। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের চার্জটা বরং তুমি নিয়ে নাও। ওদিকে থাকলে খানিকটা বুঝতে পারবে বাকি দেশগুলো কীভাবে সংখ্যালঘুদের ট্রিট করে। নিজেই ঠিক করো, কলকাতা পালাবে না মায়ানমার সীমান্তে যাবে।’

    সোবাহান বললেন, ‘তাই দিন জনাব। ওর রক্ত গরম। এখন ব্যস্ত থাকুক। ঢাকা ওর জন্য না। ছোট ভাইয়ের মতো বোঝালাম, বাবা, আনোয়ার সাহেবকে দেখে শিক্ষা নাও। ওই লোকেরও তো অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল। সে থাকতেই পারে। ছেলের সে ইচ্ছাই নাই! তোমাকে রিম্যান্ডে নিলাম না, হ্যারাসও করলাম না, শুধু তোমাকে একটা ভদ্র জায়গা দিলাম, বললাম শান্ত হয়ে বসে চাকরিটা কন্টিনিউ করো, ট্রেনিং দাও, কিন্তু না! ছেলের হিরো সাজতে লাগবে। সব ইন্ডিয়ান সিনেমা দেখার ফল। এভাবেই আমাদের দেশটা ইন্ডিয়া ধীরে ধীরে কিনে নিচ্ছে। সবই বুঝতে পারি, কী করব, সহানুভূতির সঙ্গেই তো নির্মলের ব্যাপারটা বিবেচনা করেছি। অন্য কেউ হলে কি ওকে বাঁচিয়ে রাখত বলুন?’

    জাহির বললেন, ‘আমিই রাখতাম না। আপনি পরম ক্ষমাশীল।’

    বমি পাচ্ছিল নির্মলের। মনে হচ্ছে মাথার উপর যেন কেউ একমণ ভার চাপিয়ে দিয়েছে। দেওয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবিটা যেন তার দিকেই তাকিয়ে আছে।

    সোবাহান বললেন, ‘তাহলে নির্মলের ট্রান্সফার লেটারটা…?’

    জাহির বললেন, ‘পেয়ে যাবে এখনই।’

    দুজনেই হেসে উঠলেন…।

    .

    ৫১

    দাবা খেলছেন দুজনে। মাথুর জিতছেন।

    খান চিন্তিত মুখে বললেন, ‘তুমি এত ভালো খেলা শিখলে কবে বল তো? আগে তো আমিই তোমাকে কতবার কিস্তিমাৎ করেছি। ইদানীং তুমি একবারে নতুন স্ট্র্যাটেজি নিয়েছ দেখছি। দাঁড়াতেই দিচ্ছ না। এত আক্রমণাত্মক খেলা শিখে গেছ, ভয় লাগছে তোমার সঙ্গে খেলতে।’

    মাথুর বললেন, ‘কাশ্মীরে জওয়ানদের সঙ্গে খেলে খেলে হাত পাকিয়েছি। কর্নেল রায় যেমন। উনি যদি সেনায় না গিয়ে দাবা খেলতেন, তাহলেও অনেক দূরে যেতেন। দে আর অসাম।’

    খান কোনমতে রানি বাঁচিয়ে বললেন, ‘সে তো ঠিক আছে, কিন্তু এখানে কাকে ডাকলে লাভ আছে বলে তোমার মনে হয়?’

    মাথুর বললেন, ‘আমার তো একজনের কথাই মনে পড়ছে।’

    খান বললেন, ‘কার কথা?’

    মাথুর বললেন, ‘আরে সায়কের আগে যে করাচীতে ছিল। ওকে কী যেন একটা কারণে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়ে বলা হয়েছিল না যে তুমি জাস্ট এখানে থাকো। তোমাকে আর কোথাও যেতেও হবে না, তোমাকে আর কিছু করতেও হবে না। একপ্রকার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।’

    খান বললেন, ‘অমল? ভেবোও না। তুষার স্যার রেগে যাবেন।’

    মাথুর বললেন, ‘হ্যাঁ, সে তো জানি, রেগে যাবেন, কিন্তু ঘটনাটা কী হয়েছিল করাচীতে? কী করেছিল অমল?’

    খান বললেন, ‘জানি না। সেগুলো স্যার জানেন। তবে ঢাকার কোনও ব্যাপারে ওকে ইনভল্ভ করা হয় না, এটা তো অলিখিতভাবে সবাই জানে।’

    খানের ফোন বেজে উঠল। তুষার ফোন করছেন। খান স্পিকারে দিলেন, ‘হ্যাঁ স্যার।’

    তুষার বললেন, ‘তোমাকে অদ্ভুত একটা খবর দিই খান। শেখাওয়াত বহু আগেই অমলকে অপারেশনে নিয়ে নিয়েছিল। অমল ঢাকায় বেশ খানিকটা সময় ধরেই সক্রিয়!’

    মাথুর শিস দিয়ে উঠলেন, ‘কী অদ্ভুত ব্যাপার স্যার, আমরা এতক্ষণ ওর ব্যাপারেই আলোচনা করছিলাম। আপনি আমাদের বলতেন ওকে অপারেশনে নেওয়া যাবে না, এদিকে শেখাওয়াত ওকে কাজে লাগিয়ে দিয়েছে? এরকম কন্ট্রাডিক্টরি কেন ব্যাপারটা?’

    তুষার বললেন, ‘জানি না। শেখাওয়াতের কথা একবারেই ট্রান্সপারেন্ট না। আমার মনে হচ্ছে ও অনেকখানি কথা পেটে রেখে তবেই কথা বলছে। ওকে আমি সবটা বিশ্বাসও করতে পারছি না। কিন্তু এই মুহূর্তে যদি অমল অ্যাক্টিভ থাকে, তাহলে আমি অমলকে ছাড়া আর কারো নাম ভাবতে পারব না। শেখাওয়াত একটা নাম্বার দিয়েছে। সেন্ড করছি। কন্ট্যাক্ট অমল।’

    খান বললেন, ‘ওকে স্যার।’

    তুষার বললেন, ‘শেখাওয়াত ঠিক কী কী করে রেখেছে, আমি এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। অমলের সঙ্গে আরেকটা ছেলে থাকার কথা। সে কন্ট্র্যাক্ট কিলার। শেখাওয়াত ওকে অমলের কাছে পাঠিয়েছে কাজ শেখার জন্য।’

    খান ভ্রু কুঁচকে মাথুরের দিকে তাকালেন, ‘যা ইচ্ছে তাই করছে তো!’

    তুষার বললেন, ‘করতে পারে। শেখাওয়াত সব সময় কিছু না কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা করেই যায়। এবারেও তাই করেছে। যাই হোক, ওসব নিয়ে ভেবো না, ওকে কন্ট্যাক্ট করো। আই এস আইয়ের হাতে আমাদের যেই থাকুক, তাকে রেসকিউ করা আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি। বাকি পরে দেখা যাবে। ক্লিয়ার?’

    খান এবং মাথুর দুজনেই বললেন, ‘ক্লিয়ার স্যার।’

    তুষার বললেন, ‘ওকে, টেক কেয়ার। আপডেট দিয়ে যাবে।’

    ফোন কেটে দিলেন তুষার। খান মাথায় হাত দিয়ে বললেন, ‘শেখাওয়াত কী করতে চাইছে বল তো? ওর মধ্যে আমি দেখেছি হিরো সাজার একটা ব্যাপার ছিল বরাবরই। যেদিনই ঢাকা থেকে আমরা সরে গেলাম, সেদিন থেকে ও অমলকে অ্যাক্টিভেট করেছে। অথচ আমি জানতাম…’

    মাথুর বললেন, ‘কী জানতে?’

    খান বললেন, ‘থাক। পরে সব ঘটনা মনে করে তারপর না হয় বলব। হতে পারে আমি ভুল।’

    তুষার নাম্বার পাঠিয়েছেন। খান দেরি করলেন না, নাম্বারটায় ফোন করলেন। একটা রিং হতেই ও-প্রান্তে ফোন রিসিভ হল, ‘হ্যালো।’

    খান বললেন, ‘আকাশে মেঘের সঙ্গে অ্যালিয়েন দেখা যাচ্ছে।’

    ও-প্রান্ত বলে উঠল, ‘অ্যালিয়েন আমেরিকা ছাড়া কিছু চেনে না।’

    খান হেসে উঠলেন, ‘রিয়েলি ফানি। আপনি অমল?’

    ‘না। ইমতিয়াজ। আপনি?’

    খান বললেন, ‘বাবা চাইছে ছেলে মা’র সঙ্গে কথা বলুক।’

    একটু নীরবতা। তারপর অমলের গলা পাওয়া গেল, ‘বলুন।’

    খান বললেন, ‘পাখি শহরের কাছে ঘুরছে না?’

    ‘না। পাখি তাড়া খেয়েছিল।’

    ‘ওকে। বুঝেছি। পাখির ঈদে জামা হবে, ট্রায়াল দেওয়ার দরকার। সব কাজ ফেলে আগে জামা কেনা দরকার।’

    ‘কিন্তু ঈগল সীতাকে নিয়ে গেছে।’

    ‘একসঙ্গে খোঁজা যাবে। আগে এখানে।’

    ‘ওকে।’

    খান মাথুরের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আসছে।’

    মাথুর বললেন, ‘ওকেই জিগ্যেস করব করাচীতে কী হয়েছিল?’

    খান হেসে ফেললেন, ‘একবারেই না। কাজের বাইরে কোনও কথা বলবে না।’

    মাথুর কাঁধ ঝাঁকালেন, ‘ওকে হুজুর। আপনার যেমন মর্জি।’

    .

    ৫২

    বৃষ্টি পড়ছে গাড়ির উইন্ডশিল্ডে। সাদা হয়ে যাচ্ছে চারদিক। নির্মল চুপ করে বসে আছে। চোখের কোণে জল আসছে, সে আর মোছার চেষ্টা করছে না।

    এ দেশটা তার না? জন্মভূমি, তার সব স্মৃতি তো এই দেশেই। এই দেশের মানুষদের কোনদিন পর বলে ভেবেছিল সে? চাকরি করতে গিয়ে প্রতিকূলতা থাকলেও যতদিন আনোয়ার সাহেব ছিলেন, কোনদিন মনে হয়নি এদেশ তার না। আজকে এভাবে অপমানিত হতে হল?

    জাহিরের চেম্বার থেকে বেরোনোর সময় শরীর খারাপ লাগছিল তার। আশাভঙ্গ একরকম, আর এ তো কেউ ডেকে এনে চড় মারার মতো ব্যাপার!

    গাড়ি স্টার্ট দিতে পারছে না। পা কাঁপছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে।

    বৃষ্টিটা ধরে এল হঠাৎ করেই। একটু বসে থেকে গাড়ির দরজা থেকে বেরোতেই দেখল আলমগির হোসেন দল নিয়ে চলে এসেছেন, ‘চলো।’

    নির্মল বুঝল তাকে রিমান্ডে নিতে এসেছে। সে বলল, ‘স্ত্রীকে একটা ফোন করতে পারি? এতদিন একসঙ্গে কাজ করেছি, এটুকু করতে দেবেন তো?’

    আলমগির থমথমে মুখে তার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘করে নাও।’

    নির্মল কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন বের করে দীপাকে ফোন করল।

    দীপা ফোন ধরেই বলল, ‘কোথায় থাকো বলো তো? আমরা কক্সবাজারে এসেছি। কী মজা হচ্ছে! মামা বলছে যেখানেই থাকুক জামাইকে এখানে চলে আসতে বল। চলে এস না।’

    নির্মল কয়েক সেকেন্ড ধরে থেকে বলল, ‘আমাকে রিমান্ডে নিচ্ছে দীপা।’

    দীপা আর্তনাদ করে উঠল, ‘মানে? ইয়ার্কি মারছ তুমি?’

    নির্মল বলল, ‘না। রিমান্ডে নিচ্ছে। সাবধানে থেক। আমি যদি আর কোনদিন না ফিরি…’

    আলমগির নির্মলের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে ফোন কেটে সুইচ অফ করে দিয়ে বললেন, ‘চলো।’

    নির্মল গাড়ির চাবিটা আলমগীরের হাতে দিয়ে বলল, ‘আমার গাড়িটা বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে ভালো হয়।’

    আলমগির নির্মলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে। আমি পাশে বসছি। তুমি বাড়িতে গাড়ি রেখে চলো।’ আলমগির বাকিদের বললেন, ‘নির্মলের গাড়িটা ফলো করে এস।’ বাকিরা জিপে উঠে পড়ল।

    নির্মল গাড়িতে উঠে বসল। আলমগির তার পাশে। নির্মলের পা কাঁপছে, হাত কাঁপছে। আলমগির সেটা দেখে বললেন, ‘আমি চালাচ্ছি।’

    নির্মল গাড়ি থেকে নামল। আলমগির ড্রাইভিং সিটে এসে বসলেন। নির্মল বসল। গাড়ি স্টার্ট করে আলমগির বললেন, ‘কী করেছ তুমি? এই তো সারাক্ষণ আনোয়ার সাহেবের সঙ্গে কাজ করছিলে। এখন রিম্যান্ডে নিচ্ছে কেন?’

    নির্মল জানলার বাইরে তাকাল। শহরটাকে অচেনা লাগছে। এখন তাহলে সে বিদেশে আছে? এ দেশটা তো তার নয়!

    আলমগির হর্ন দিলেন, ‘শুনতে পাচ্ছ কী বলছি? কী করেছ যে সোবাহান সাহেব আমাকে স্পেশাল ইন্সট্রাকশন দিলেন তোমাকে এখনই রিমান্ডে নিতে হবে? তাড়াতাড়ি বলো, দেরি কোরো না।’

    নির্মল বলল, ‘আমাকে বলা হয়েছে আমি ইন্ডিয়ার এজেন্ট। আমি জানি না আমি কী করেছি ইন্ডিয়ার এজেন্ট হবার মতো।’

    আলমগির বললেন, ‘ব্যস? আর কিছু করোনি?’

    নির্মল বলল, ‘একজনকে এক্সপোজ করতে গেছিলাম। বুঝলাম তার হাত অনেক উপরে। আর কী বলি বলুন তো?’

    আলমগির বললেন, ‘হুঁ। মানে তোমার জায়গায় যেকোনও দিন আমিও থাকতে পারি আর কী।’

    নির্মল বলল, ‘তা কেন? আপনি তো আর সংখ্যালঘু নন। আপনাকে শুনতে হবে না আপনি ইন্ডিয়ার এজেন্ট।’

    আলমগির চুপ করে গেলেন। নির্মলের বাড়িতে গাড়ি পার্ক করা হল। নির্মলকে জিপে তোলা হল। সেই একই বিল্ডিং। কত লোককে এখানে এনে জেরা করেছে সে। এবার তাকে জেরা করা হবে। বাজে একটা কারণ দেখিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। নির্মল অনেকটা স্বাভাবিক হচ্ছিল। শেষটা জানলে টেনশন করার কোনও কারণ থাকে না।

    করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আলমগির গলা নামিয়ে বললেন, ‘লোকটা কি সাদিক শেখ?’

    নির্মল অবাক হল, ‘আপনি কী করে জানলেন?’

    আলমগির বললেন, ‘সাদিক সোবাহানের দুলাভাই। তুমি কেন, অনেকেই জানে না সেটা। আমরা যারা পুরোনো লোক, তারা জানি।’

    নির্মল হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    .

    ৫৩

    ‘আমরা সাদিকের বাড়ি নামব না। আগে নেমে যাব।’

    গাড়ি সবে শহরে ঢুকেছে। ফোন রেখে অমল ইমতিয়াজের দিকে তাকাল। অমলের কথা শুনে ইমতিয়াজ অবাক হল।

    ‘কেন? কী হয়েছে?’

    অমল বলল, ‘তুমি চলে যাও। আমাদের নামিয়ে দাও।’

    ইমতিয়াজ বলল, ‘ফোনটা কে করেছিল?’

    অমল বলল, ‘তোমার জানা উচিত। তুমি জানো না?’

    ইমতিয়াজ গম্ভীর হয়ে বলল, ‘উস্তাদ ফোন করেননি। উস্তাদ ছাড়া অন্য কারো কথা শোনা ঠিক হবে না।’

    অমল বলল, ‘আমি কোডের গোলাম বস। আমার এখানে কিছু করার নেই।’

    ইমতিয়াজ বলল, ‘বেশ। তুমি যখন বলছ, তখন তাই হোক। কোথায় নামাব?’

    অমল বলল, ‘এখানেই নামিয়ে দাও। এখান থেকে ফিরতে সুবিধে হবে তোমার।’

    ইমতিয়াজ বলল, ‘আমি যাব না?’

    অমল বলল, ‘না। তুমি চলে যাও।’

    রাণা অবাক হল। ফোনটা আসার পর থেকে অমল কেমন পাল্টে গেল।

    ইমতিয়াজ গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল। অমল রাণার দিকে তাকাল, ‘অস্ত্রটা ফেরত দিয়ে দাও।’

    রাণা কোনও কথা না বলে ইমতিয়াজের গাড়ির সিটে সন্তর্পণে রিভলভারটা রেখে দিল।

    অমল গাড়ি থেকে নামল, ‘চলো।’

    রাণা নামতে যেতেই ইমতিয়াজ বলল, ‘আজকেই করবে। মাথায় রেখো।’

    রাণা কথা না বলে গাড়ি থেকে নেমে গেল। ইমতিয়াজ বেরিয়ে গেল। অমল একটা সি এন জি ধরে ঠিকানা বলল। সি এন জি চলতে শুরু করলে রাণা ফিসফিস করে বলল, ‘কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না।’

    অমল ঠোঁটে আঙুল দিয়ে ইশারায় রাণাকে চুপ করে যেতে বলল।

    রাণা আর কোনও কথা বলল না। দোকানের সামনে এসে সি এন জি ছেড়ে দিল অমল।

    ট্রায়াল রুমে ঢুকে নক করতেই দরজা খুলে গেল।

    খান বললেন, ‘এস এস।’

    দুজনে ঘরে ঢুকতে খান দরজা বন্ধ করে দিলেন।

    মাথুর বললেন, ‘সেই ফেমাস অমল, হ্যাঁ? আপনার কথা অনেক শুনেছি। কত গল্প, কত মিস্ট্রি, ভাবাই যায় না।’

    অমল হাসল, ‘ও রাণা। ওকে উস্তাদ পাঠিয়েছেন আমার সঙ্গে থেকে কাজ করতে।’

    খান রাণার দিকে হাত বাড়ালেন, ‘তুমি জানো তুমি কত বড় কাজ করেছিলে? তারেক শেখকে কেমন অনায়াসে উড়িয়ে দিয়েছিলে! আনবিলিভেবল!’

    রাণা বলল, ‘আমার কাজই ওটা। তারেক শেখ কী কাজ করে, আমি কিছুই জানতাম না।’

    খান বললেন, ‘ঠিক। তোমাকে শেখাওয়াত এখানে পাঠিয়েছে কেন, আমরা সেটাই এখনো বুঝতে পারছি না। যাই হোক, এখন সবার আগে আমাদের লোককে উদ্ধার করতে হবে। তারপর বাকি কথা। আপনি বলুন অমল, আমরা কীভাবে ওকে উদ্ধার করতে পারব।’

    অমল বলল, ‘জল খাই একটু? তারপর বলি?’

    মাথুর ব্যস্ত হয়ে অমলের দিকে জলের বোতল এগিয়ে দিলেন। অমল অনেকটা জল খেয়ে বলল, ‘লাস্ট তিন বছরে আই এস আই এখানে অনেকটাই শক্তিবৃদ্ধি করেছে। অনেকগুলো জায়গায় ওদের ডেরা হয়েছে। তিন-চারজন রাজাকারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাজে লাগানো শুরু হয়েছে। তবে আমার মনে হয় গিয়াস ঢাকার বাইরে নয়, ঢাকার মধ্যেই কোথাও সাকিনাকে রেখেছে। তবে এখনো আছে নাকি জানা নেই। ওরা ওকে নিয়ে যেতে চাইবে যদি না কোনও ম্যাজিকে সাদিক সাকিনাকে আবার নিজের কাছে রেখে দেয় কিংবা…’

    একটু চুপ করে থেকে অমল বলল, ‘মেরে ফেলে।’

    মাথুর মাথায় হাত দিলেন। খান বললেন, ‘সে মারতেই পারে। কিন্তু ধরে নিয়ে গেলে…কতটা কী জানে আমাদের অ্যাসেট?’

    অমল বলল, ‘ঢাকা অপারেশনের সবটাই।’ রাণা অবাক হয়ে অমলের দিকে তাকাল।

    খান বললেন, ‘মাই গড। ইজ শি কেপেবল এনাফ?’

    অমল বলল, ‘কোন মেয়ে এসে সাদিকের মতো নরকের কীটের সঙ্গে শোবে বলুন তো? আর কত কেপেবিলিটি প্রমাণ করতে হবে?’

    খান লজ্জা পেলেন, ‘ছি ছি। আমি সেটা বলিনি। সব জানে বললেন বলেই বললাম। তার মানে শি ইজ দ্য মোস্ট ইমপরট্যান্ট অ্যাসেট নাও। ওর কাছে সব থেকে তাড়াতাড়ি পৌঁছনোর কী উপায়?’

    অমল বলল, ‘সাদিক।’

    খান বললেন, ‘সাদিক আপনাকে সাকিনার ডিটেলস দেবে কেন?’

    অমল বলল, ‘জানি না। কিন্তু ও ছাড়া অত তাড়াতাড়ি কেউ গিয়াসের কাছে নিয়ে যেতে পারবে না। একটা ফোন দিন।’

    খান তার ফোন এগিয়ে দিলেন। অমল নাম্বার ডায়াল করল। চট্টগ্রামের ভাষায় কিছুক্ষণ কথা বলে ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘কুড়ি জন মাদ্রাসা স্টুডেন্ট হারিয়ে গেছে। আমাকে সাদিক যেখানে যেখানে পাঠিয়েছিল, তার মধ্যে একটা জায়গার কোডে M ছিল। কাঠমান্ডুর কোড। M=মাদ্রাসা? আমি কাঠমান্ডু গেছি প্রায় এক মাস আগে। এক মাস আগে আজকের প্ল্যানটা করা ছিল তাহলে। আমাকে একটা কাগজ আর পেন দিন প্লিজ।’

    খান একটা প্যাড আর পেন এগিয়ে দিল।

    অমল দ্রুত গতিতে প্যাডে লিখল

    T M S = Twenty Madrasa Students (?)

    ভ্রু কুঁচকে সেদিকে কয়েকসেকেন্ড তাকিয়ে অমল বলল, ‘এত সোজা? এর জন্য কেউ কাঠমান্ডু যাবে কেন? অদ্ভুত!’

    .

    ৫৪

    ‘আপনি শেষ কবে ইন্ডিয়া গেছেন নির্মল?’

    একটা বাল্ব ঝুলছে। এই ঘরটা তার চেনা। কতবার প্রশ্নকর্তার জায়গায় বসেছে সে।

    এখন উল্টো দিকে তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন করছেন আরিফ রহমান। আরিফ সব সময়ে আসেন না। মাঝে মাঝে আসেন। হাই প্রোফাইল অপরাধীদের জন্য। সে তাহলে এদের কাছে হাইপ্রোফাইল অপরাধী। হয়ত আজ রাতেই তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে ফেলে দেওয়া হবে। গরম সীসার বুলেট ভেদ করে ফেলবে তার শরীর। এই দেশের মাটি, যাকে সে সবথেকে বেশি ভালোবেসেছিল, সে মাটি ভিজে যাবে তার রক্তে।

    আরিফ রহমানের প্রশ্নের উত্তরে নির্মল তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘নভেম্বরে। কলকাতায়, স্ত্রীর মামার ছেলের বিয়েতে।’

    আরিফ তার দিকে কঠিন চোখে তাকিয়ে বললেন, ‘সেখানে কার কার সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছিল?’

    ‘আমার শ্বশুরবাড়ির দিকের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে।’

    ‘আর?’

    ‘আর কেউ না।’

    ‘আপনি শিওর?’

    নির্মল হেসে ফেলল। আরিফের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আপনি আমার সঙ্গে কি র-এর লিংক খুঁজতে চাইছেন? এমনিই তো মেরে ফেলবেন বুঝতে পারছি। খামোখা নাটক প্যাঁচাচ্ছেন কেন?’

    আরিফ রাগী গলায় বললেন, ‘আমি যা প্রশ্ন করছি তার উত্তর দিন।’

    নির্মল বলল, ‘ওকে। করুন।’

    আরিফ বললেন, ‘আপনার ফোনে মাঝে-মাঝেই ইন্ডিয়া থেকে ফোন আসে। তারা কারা?’

    নির্মল বলল, ‘উনিশশো সাতচল্লিশ সালের আগে পাকিস্তান বলে কোনও দেশ ছিল না। শুধুই ইন্ডিয়া ছিল। দেশ ভাগ হল। এ-প্রান্তে থাকা অনেকেই ও-প্রান্তে চলে গেলেন। আত্মীয়তা সূত্রে অনেক মানুষই এখন এভাবেই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত আছে। যদি সত্যিই আপনি সোর্সগুলো দেখতে চান, এমব্যাসিতে খবর পাঠান, তারা ঠিকই বলে দেবে ফোনগুলো আমি আমার আত্মীয়-স্বজনকেই করেছিলাম।’

    আরিফ বললেন, ‘আপনার কথাগুলো কোনটাই সোজা না। আপনি কি এভাবেই টেরিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন?’

    নির্মল বলল, ‘গল্পের শেষটা দেখতে পারলে ছোটখাটো ভয়গুলো চলে যায়। আমি আমার গল্পের শেষটা জানি। একজন কোরাপ্টেড মানুষের সঙ্গে কতগুলো কোরাপ্টেড মানুষ যুক্ত হয়ে একটা দেশবিরোধী কাজ করছে। আমি মাঝে পড়ে গেছি। আমাকে সরাতে হবে। অকারণে আপনি নাটক করছেন আরিফ সাহেব। আপনার সময়ের দাম আছে। আপনি চলে যান। যা করার ওদের করে নিতে দিন। আমি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব, কথা দিচ্ছি।’

    আরিফ নির্মলের দিকে তাকিয়ে রইলেন। একটু থেমে বললেন, ‘কোরাপ্টেড মানুষ মানে?’

    নির্মল বলল, ‘একটা ইনভেস্টিগেশন করছিলাম। সেখানেই সাপের ল্যাজে পা পড়েছে। আপনি কিছু জানেন না এটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?’

    আরিফ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে বসে থেকে বললেন, ‘ইন্ডিয়ার এজেন্টরা এভাবেই কথা বলতে শিখিয়ে দিয়েছে?’

    নির্মল বলল, ‘ইন্ডিয়ার এজেন্ট? আমার পারফরম্যান্স দেখেছেন আপনি? আনোয়ার সাহেবকে চিনতেন না আপনি? আপনি জানেন না উনি ইন্ডিয়ার হয়ে কাজ করেছেন না বাংলাদেশের জন্য শেষ দিন অবধি কীভাবে ভেবে গেছেন?’

    আরিফের ফোন বেজে উঠল। আরিফ ভ্রু কুঁচকে ফোনের দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালেন, বললেন, ‘ওকে। এখনকার মতো এই অবধিই। রেস্ট করুন অফিসার।’

    অদ্ভুতভাবে আর কোনও কথা না বলে আরিফ ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

    নির্মল টেবিলে চুপ করে বসে রইল। আলমগির কাচের জানলার ওপাশ থেকে তাকে দেখছিলেন।

    নির্মল বলল, ‘কী হল? সাহেব চলে গেলেন কেন? অকারণ বসিয়ে রেখেছে কেন রাজাকারগুলো? যা করতে চায়, করতে বলে দিন না।’

    আলমগির চেম্বারে প্রবেশ করে বললেন, ‘তুমি মাথা ঠান্ডা করো। তুমি কেন ধরে নিচ্ছ যে এখনই সব শেষ হয়ে গেছে?’

    নির্মল বলল, ‘আমি তো বুঝতে পারছি। এটা না বোঝার কি কিছু আছে? আমি ইন্ডিয়ায় কার সঙ্গে দেখা করতে যাব? প্রশ্নগুলো কোনদিকে যাচ্ছে, তা বোঝার মতো বুদ্ধি কি আমার নেই?’

    আলমগির নির্মলের কাঁধে হাত দিলেন, ‘আবারও বলছি। আরিফ সাহেব কেন বেরোলেন সেটা দেখা যাক।’

    নির্মল দু’হাতে মুখ ঢেকে বসে রইল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Our Picks

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }