Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কলিকাতায় নবকুমার – ২

    দুই

    স্নান খাওয়া শেষ করে নবকুমার ঘোষণা করল। শোনামাত্র মা মুখে আঁচল চাপা দিয়ে সরে গেল সামনে থেকে। চিৎকার দূরের কথা, একচিলতে কান্নাও তাঁর গলা থেকে বের হল না। কিন্তু বাবা এসে দাঁড়াল সামনে, ‘যাচ্ছ যাও, কিন্তু কাল যদি তোমার মা মারা যায় তাহলে খবর পাঠাব কোন ঠিকানায়? সেটা দিয়ে যাবে।’

    হকচকিয়ে গেল নবকুমার। মাস্টারদার সঙ্গে সে কলিকাতায় যাবে রোজগার করতে। এর বাইরে সে কিছুই জানে না। সেখানে যাওয়ার পরে যেখানে থাকবে সেটাই তার ঠিকানা হবে। মাস্টারদাও কিছু বলেনি। একবার বলেছিল, ‘মনে রেখো এখন তুমি একটা পাতা। গাছ থেকে খসে নদীর স্রোতে পড়েছ। নদী তোমাকে কোথায় নিয়ে গিয়ে তুলবে তা তুমি জানবে কী করে? নদী নিজেই জানে না। এই নদীর নাম কী জানো?’ হেসেছিল মাস্টারদা, ‘জীবন।’

    এসব কথা শুনতে খুব ভালো লেগেছিল। এখন বাবার সামনে দাঁড়িয়ে সে বুঝতে পারল মনে যা দাগ কাটে মুখে তা বলা যায় না। নবকুমার নীচু গলায় বলেছিল, ‘কলিকাতায় যাওয়ার পর ঠিকানা জানতে পারব।’

    ‘ও।’ বাবা একটু ভাবল, ‘দিনসাতেকের মধ্যে যদি ঠিকানা না জানাতে পার তাহলে দয়া করে ফিরে এসো দশ দিনের মাথায়।’

    বেরুবার সময় মা-বাবাকে প্রণাম করতেই বাবার প্রশ্ন, ‘সঙ্গে টাকা আছে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কত?’

    ‘দুশো।’

    ‘সর্বনাশ। এত টাকা তুমি কোথায় পেলে?’

    ‘অনেকদিন ধরে জমিয়েছি।’

    ‘চমৎকার।’

    ‘মা!’

    মা অন্যদিকে মুখ ঘোরানো। ‘কলিকাতা থেকে কোনও শাখচুন্নিকে বউ করে নিয়ে এলে আমি গলায় দড়ি দেব।’

    হাতে একটা টিনের স্যুটকেস। স্যুটকেসের ওপর একটা লাল গোলাপ আঁকা। স্টেশনের পথে আসার সময় অন্তত তেরোজন হাজার প্রশ্ন করল। এই গ্রামের কেউ রোজগার করতে কলিকাতায় যায়নি। নবকুমার যখন যাচ্ছে, তখন নিশ্চয়ই অনেক বড়লোক হয়ে ফিরবে। কেউ-কেউ আবদার করল, নবকুমার ওখানে গিয়ে থিতু হলে ভরসা পেয়ে সে-ও যাবে।

    রতনের দোকানে মাস্টারদা বসে পা দোলাচ্ছে। তাকে দেখে বলল, ‘ভালো করেছিস। শার্ট পাজামা পরলে চালাক-চালাক বলে মনে হয় না। তাই যে দেখবে, সে-ই তোকে ভালোমানুষ বলে মনে করবে। চল।’

    সেকেন্ড ক্লাস ট্রেনে কলিকাতায় পৌঁছতে অনেক টাকার টিকিট কাটতে হল। ট্রেন এল। মাস্টারদা তাকে নিয়ে যে কামরায় উঠল সেটা যাত্রীঠাসা। কোনওমতে বেঞ্চির এক চিলতে জায়গা আবিষ্কার করে মাস্টারদা বলল, ‘দয়া করে বসে পড়। আমার জন্য চিন্তা কোরো না। আমি ঠিক জায়গা তৈরি করে নেব।’

    .

    .

    কামরা দুলে উঠল, ট্রেন চলল। আধখানা জানলা দিয়ে শেষ বিকেলের আলোয় নবকুমার দেখতে পেল গ্রামে যাওয়ার রাস্তা, ভ্যানরিকশা, মুখার্জিদের পোড়ো শিবমন্দির পেছনে-পেছনে যাচ্ছে। তারপরেই মাঠঘাট, জঙ্গলের ছবি। বুকের ভেতরটা কীরকম শিরশির করে উঠল তার। চোখ বন্ধ করে বসে রইল কিছুক্ষণ। স্কুলে পড়ার সময় একজন প্রবীণ শিক্ষক কিছুদিনের জন্যে তাদের স্কুলে এসেছিলেন। তিনি বলতেন, ‘যখনই মন অনিশ্চিত হবে, সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না, ভয় পাবে তখনই চোখ বন্ধ করে বিবেকানন্দের কথা ভাববে। দু-হাত বুকের ওপর ভাঁজ করা সেই তেজোদীপ্ত মানুষটিকে বন্ধ চোখের পাতায় দেখতে চাইবে। দেখবে মনে বল এসে যাবে।’ সমস্যায় পড়লেই সে চোখ বন্ধ করে বিবেকানন্দকে স্মরণ করত। আজ এই সন্ধে নামা সময়ে ছুটন্ত ট্রেনের কামরায় বসে চোখ বন্ধ করে বিবেকানন্দকে দেখার পর ধীরে-ধীরে মন ধাতস্থ হল।

    ইতিমধ্যে তিনটি স্টেশন ছুঁয়ে ট্রেন চলেছে অন্ধকার দিয়ে। মাস্টারদা ইতিমধ্যে জায়গা পেয়ে গেছে। আশেপাশের লোকদের এগিয়ে দেওয়া বিড়ি টানতে-টানতে তাদের গল্প শোনাচ্ছে। ও-পাশে কিছু লোক ঘুমোচ্ছে। হঠাৎ খেয়াল হল মাস্টারদার, ‘আরে, তুমি এখনও উচ্চিংড়ের মতো বসে আছো? কত লোক নামল, জায়গা করে নিলে না। শোনো নবকুমার, বঙ্কিমচন্দ্র মানুষের উপকার করতে তোমাকে কাঠ কাটতে পাঠিয়ে নৌকো ছেড়ে দিয়েছিল। তা থেকে তোমার শিক্ষা নেওয়া উচিত। ওই, ওইখানে গিয়ে আরাম করে বোসো।’

    দূর থেকে চেঁচিয়ে কথাগুলি বলে আঙুল দিয়ে জায়গাটা দেখিয়ে দিল মাস্টারদা। জায়গাটা দেখে সিঁটিয়ে গেল নবকুমার। কামরার কোণের দিকে যে পরিবারটি চলেছে তাদের পাঁচজনের মধ্যে চারজনই মহিলা। একজন বৃদ্ধ ওদের সঙ্গে। স্টেশনে-স্টেশনে কিছু লোক নেমে যাওয়ায় ওরা হাত-পা ছড়িয়ে বসেছে। ওখানে গেলে ওরা নিশ্চয়ই খুশি হবে না।

    ‘আরে! ভাবার কী আছে?’ মাস্টারদা চেঁচল, ‘এই পৃথিবীর নিয়ম হল কেউ তোমাকে জায়গা করে দেবে না, তোমাকে নিজেই জায়গা আদায় করতে হবে। যাও।’ মাস্টারদা এর মধ্যেই যাদের সঙ্গী করে ফেলেছে, তারা দাঁত বের করে হাসছে দেখে নবকুমার উঠে দাঁড়াল। স্যুটকেস নিয়ে ভিড় সামলে কোণের দিকে গিয়ে দাঁড়াল সে। সবচেয়ে বয়স্কার বয়স অন্তত সত্তর। তারপর পঞ্চাশ, পঁয়ত্রিশ, পনেরো। ওরা তাকে দেখেও দেখল না। প্রায় ঘাড়ের কাছে স্যুটকেস হাতে দাঁড়িয়ে আছে একজন দেখে দলের ছুটকি চাপা গলায় বলল, ‘একটু কাত হয়ে শুয়ে পড়ি।’

    বয়স্ক ব্যাপারটা না বুঝে বলল, ‘এই ভর সন্ধেবেলায় শুবি কীরে? হ্যাঁ! একটু পরে খাবার খেয়ে তারপর ঘুমাস!’

    পঞ্চাশ বলল, ‘মা, বোতলে জল কম আছে।’

    ‘থাকবেই তো। ইস্টিশনে এসেই ঢোঁক-ঢোঁক করে এক পেট জল খেয়ে নিলেন ইনি। পইপই করে বললাম, যাও আবার জল ভরে নিয়ে এসো, কানেই তুলল না।’ বয়স্কা ঝাঁঝিয়ে উঠলেন।

    একপাশে বসে বৃদ্ধ চোখ বন্ধ করে থেকেই বললেন, ‘কী করব! ট্রেন এসে গিয়েছিল যে। জল আনতে গেলে টেরেনে উঠতে পারতাম না।’

    ‘তাহলে খাবার খেয়ে জল চেয়ো না।’

    ছুটকি বলল, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে। পরের স্টেশনে নেমে জল নিয়ে আসব।’

    বয়স্কা চোখ কপালে তুলল, ‘সর্বনাশ! এই রাত্তিরে অজানা জায়গায় তুই যাবি জল আনতে? ঘাটে কি আর মড়া নেই যে তুই যাবি ভিড় বাড়াতে?’

    ধমক খেয়ে ছুটকি চুপ। বৃদ্ধ বললেন, ‘কাউকে যেতে হবে না। আমিই যাব।’

    পঞ্চাশ বলল, ‘না বাবা। যদি ট্রেন ছেড়ে দেয় আর তুমি উঠতে না পারো।’

    ‘তাহলে তোর মা দু-হাত তুলে নাচবে, তোরা নৃত্য দেখবি।’ বৃদ্ধ বললেন।

    পঁয়ত্রিশ বয়স্কাকে ইশারা করল চুপ করতে। তারপর বলল, ‘তার চেয়ে কাউকে একটু ভালো করে বললেই হয়, এনে দেবে। মানুষের মনে তো এখনও দয়ামায়া আছে।’

    বয়স্কা, ‘তাই নাকি? দেখি!’ মুখ ফিরিয়ে নবকুমারের দিকে তাকিয়ে একটু হাসার চেষ্টা করল। ‘ও ভালোমানুষের ছেলে, বলি যাওয়া হচ্ছে কোথায়?’

    এতক্ষণ নবকুমারের মনে হচ্ছিল রেডিওর নাটক শুনছে। বলল, ‘কলিকাতায়।’

    সঙ্গে-সঙ্গে পঁয়ত্রিশ আর পনেরো খিলখিল করে হেসে উঠল।

    বয়স্কা ধমক দিল, ‘অ্যাই, থাম।’

    বৃদ্ধও ধমক দিলেন, ‘হাসছিস কেন? হ্যাঁ, ছেলেবেলায় শুনেছি, আসল নাম ছিল কলিকাতা। সাহেবরা বলত ক্যালকাটা। তা থেকে কোলকাতা। তা বাবা, তুমি কি কোলকাতায় থাকো।’

    ‘না।’ নবকুমার বুঝতে পারছিল না এরা এইভাবে হাসল কেন? সে বইতে পড়েছে, কলিকাতা, সুতানুটি এবং গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রাম ছিল। পরে তারা একত্রিত হলে নাম রাখা হয় কলিকাতা। তা হলে ভুল কী বলল?

    ‘এই প্রথম যাচ্ছ নাকি?’ বৃদ্ধের কৌতূহল কমছিল না।

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তা বলছিলাম কী, আমাদের একটু জল দরকার। আমি তো বুড়োমানুষ আর সঙ্গে, দেখতেই পাচ্ছ, সব মেয়েছেলে।’

    এই সময় ট্রেনের গতি কমে এল। অন্ধকার পেরিয়ে একটু আলোকিত স্টেশনে গাড়ি থামতেই পঁয়ত্রিশ দু-দুটো জলের বোতল নবকুমারের দিকে এগিয়ে ধরল। হাতের স্যুটকেস কোথায় রাখবে বুঝতে পারছিল না সে। পঁয়ত্রিশ বলল, ‘এই, স্যুটকেসটা ধর।’

    পনেরো ছোঁয়া বাঁচিয়ে স্যুটকেস ধরল।

    বোতল দুটো নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়িয়ে মাস্টারদার দিকে তাকাল নবকুমার। মাস্টারদা তখন তার পাশের লোকটিকে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে কিছু বোঝাচ্ছে।

    কামরা থেকে নামল নবকুমার। আধা আলোছায়ায় মোড়া প্ল্যাটফর্মে জলের কল নজরে এল না। একজনকে জিজ্ঞাসা করতে সে দূরের দিকে হাত তুলল। নবকুমার দ্রুত পা চালাল। অনেকটা যাওয়ার পরে টিউবওয়েল চোখে পড়ল। তাকে ঘিরে একটা জটলা। শেষপর্যন্ত সুযোগ পেতেই সে হাতল নাড়তে-নাড়তে বোতলে জল ভরতে লাগল। এবং তখনই হুইসল দিয়ে ট্রেন চলতে শুরু করল।

    একটা বোতলের গলা পর্যন্ত জল ভরে এসেছে, দ্বিতীয়টি ফাঁকা। সেই অবস্থায় দৌড়তে লাগল নবকুমার। ইতিমধ্যে ট্রেনের গতি বাড়ছে। যে কামরায় ওরা ছিল সেখানে পৌঁছনো অসম্ভব বুঝতে পেরে কোনওমতে সামনের কামরায় উঠে পড়ল সে। উঠে দেখল কামরাটা প্রায় ফাঁকা। দুজন লোক গম্ভীর হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

    ‘নেক্সট স্টেশনে নেমে যাবে।’ একজন গম্ভীর গলায় বলল।

    দ্রুত মাথা নাড়ল নবকুমার। তখনও তার বুকের ভেতরটা ধকধক করছিল। আর একটু হলেই ট্রেনটাকে ধরতে পারত না। মাস্টারদা নিশ্চয়ই খুব রেগে যাবে। অন্যের উপকার করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনার জন্যে ধমকাবে। এবং এটা মনে হতেই হেসে ফেলল সে। নবকুমার সহযাত্রীদের উপকার করতে কাঠ কাটতে জঙ্গলে গিয়ে পথ হারিয়েছিল। তাকে ফেলেই সহযাত্রীরা নৌকো নিয়ে চলে গিয়েছিল। তারও অবস্থা আর-একটু হলে ওইরকম হচ্ছিল।

    হঠাৎ কানে এল, ‘পাগল নাকি? একা-একা হাসছে!’ শোনামাত্র নবকুমার গম্ভীর হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল না এত বড় কামরায় মাত্র দুজন লোক বসে আছে কেন? যেখানে অন্য কামরায় যাত্রীরা ঠাসাঠাসি সেখানে একটা পুরো কামরা খালি যাচ্ছে?

    পরের স্টেশনে ট্রেন থামতেই সে প্ল্যাটফর্মে নেমে দাঁড়াল। সঙ্গে-সঙ্গে দুজনের একজন দরজায় চলে এসে গম্ভীর গলায় বলল, ‘এটা মিলিটারির অফিসারদের জন্য। এর পরের বার না দেখে উঠলে বিপদে পড়বে। গেট আউট।’

    দ্রুত পা চালাল নবকুমার। হঠাৎ কানে এল, ‘ওই যে, ওই যে।’

    মুখ তুলে সে দেখতে পেল পনেরো বছরকে। কামরার দরজায় দাঁড়িয়ে হাত তুলে তাকে দেখাচ্ছে পঁয়ত্রিশকে। নবকুমার দরজার কাছে পৌঁছতে পঁয়ত্রিশ বলল, ‘উ: কী ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম আমরা। আপনি যদি জলের জন্যে ট্রেনে না উঠতে পারতেন তাহলে আমরাই দায়ী হতাম।’

    পনেরো বলল, ‘আগে ওকে ওপরে উঠে আসতে বলো তারপর এসব শোনাও।’ নবকুমার লক্ষ করল দূর থেকে তাকে দেখে পনেরোর মুখে যে উচ্ছ্বাস ঠিকরে উঠেছিল এখন তা উধাও। সে ওপরে উঠে এসে এক বোতল জল পঁয়ত্রিশের দিকে এগিয়ে ধরল। ‘কোনওমতে একটাই ভরতে পেরেছিলাম।’

    ‘তাতেই হবে। অনেক ধন্যবাদ।’ ওরা ফিরে গেল নিজের-নিজের জায়গায়।

    মুখ ফেরাতেই চোখাচোখি হল মাস্টারদার সঙ্গে। বিড়ি টানতে-টানতে উঠে এল মাস্টারদা, সামনে দাঁড়িয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল।

    ‘তুমি কার সঙ্গে কলিকাতায় যাচ্ছ?’

    ‘আপনার সঙ্গে।’

    ‘অতএব আমার কিছু দায়িত্ব থেকেই যাচ্ছে তোমার সম্পর্কে।’

    মুখ তুলল না নবকুমার।

    ‘পরোপকার করার ধান্দায় যদি অজানা স্টেশনে জল আনতে ছুটে যাও এবং ফিরে না আস তাহলে বঙ্কিমবাবু যাই বলে থাকুন আমি তোমাকে গর্দভ ছাড়া আর কিছু বলব না। দ্বিতীয়বার এই কর্মটি কোরো না।’ বিড়ির বাকিটা বাইরে ছুড়ে ফেলে খিকখিক শব্দে হাসল মাস্টারদা।

    বকুনির পরেই হাসিতে অবাক হল নবকুমার, ‘হাসছেন কেন?’

    ‘হাসব না? তুমি তো দেখছি জব্বর মেয়ে-কপালে ছোকরা। ট্রেনে উঠতে-না-উঠতেই মেয়ে জুটিয়ে ফেললে। তা-ও একটা নয়, এক জোড়া?’

    ‘কী যা তা বলছেন?’

    ‘যা-তা? বোনঝি বলে আমার দোষ, মাসি বলে আমার!’

    ‘আপনি কী করে এদের সম্পর্ক জানলেন?’

    ‘এটা জানতে না পারলে চিৎপুরে করে খাচ্ছি কী করে? তোমাকে জল আনতে পাঠাল কেন বলে ধমকাতেই সব বেরিয়ে পড়ল। তবে একটা কথা শোনো, মেয়ে-কপালে হও অথবা পরোপকারে ঝাঁপাও, সবসময় মনে রাখবে তুমি একটা ঘোড়া, তোমাকে রাশ টেনে নিজেকে থামাতে হবে।’ মাস্টারদা চলে গেল তার জায়গায়।

    নবকুমার ভেবেছিল, সে ফিরে এসে সবার কাছে সহানুভূতির কথা শুনতে পাবে। মানুষের উপকার করতে যাওয়াটা এখন অপরাধ বলে মনে হল।

    স্যুটকেসটা নেওয়ার জন্য সে মহিলাদের কাছে যেতেই বয়স্কা বলল, ‘খুব চিন্তায় পড়েছিলাম বাবা। কোনও সমস্যা হয়নি তো?’

    ‘না।’

    ‘বেশ সাহসী মনে হচ্ছে!’ পঁয়ত্রিশ কথাটা বলে ঠোঁট মোচড়াল।

    ‘আমার স্যুটকেসটা!’

    ‘ওমা, তুমি তো কোলকাতায় যাবে, এখনই স্যুটকেস নিয়ে কী করবে! এসো! ওখানে বসো। বাড়ি থেকে কি খাবার এনেছ? বয়স্কা জিজ্ঞাসা করল।

    ‘না।’

    ‘তা হলে তো তোমাকে বসতেই হবে। ও ছুটকি, একটু জায়গা করে দে না।’ যাকে বলা হল তার মুখ গম্ভীর, ‘আবার?’

    ‘ওহো! আর ভুল হবে না।’ বয়স্কা হাসল।

    পনেরো বছর খানিকটা শরীর সরালে বসার জায়গা পেল নবকুমার। সন্তর্পণে সে বসল সেখানে। বসেই মাস্টারদার দিকে তাকাল। মাস্টারদার মুখ দেখা যাচ্ছে না ওখান থেকে।

    এইবার বয়স্কা ব্যাগ থেকে অনেকগুলো কৌটো বের করে খাওয়ার ভাগ করতে শুরু করল। পঞ্চাশ তাকে সাহায্য করছিল। গোটা চারেক রুটি, তরকারি আর একটা মিষ্টি শালপাতায় সাজিয়ে বয়স্কা এগিয়ে ধরতে পঁয়ত্রিশ সেটা নিয়ে নবকুমারকে দিল। নবকুমার অপেক্ষা করল। আজ দুপুরে বাড়ির খাবার সে তৃপ্তি করে খেতে পারেনি। এখন খাবার দেখার পর খিদে বেশ চাগিয়ে উঠল। কিন্তু আগেই খেতে শুরু করলে অভদ্রতা হবে বলে সে চুপচাপ বসে রইল।

    খাওয়া শুরু করার পর বয়স্কা জিজ্ঞাসা করল, ‘কেমন লাগছে রান্না?’

    বৃদ্ধ এতক্ষণ চুপচাপ ছিলেন। এবার বললেন, ‘এটা আবার রান্না নাকি? একটা যাহোক তরকারি বুঝলে হে, নামটা কী যেন—?’

    ‘আজ্ঞে, নবকুমার।’

    পাশে বসা পনেরো বছর ফিক করে হেসে উঠল।

    নবকুমার বুঝল, এই মেয়েটার অকারণে হাসির অভ্যেস আছে।

    ‘হ্যাঁ, বুঝলে হে নবকুমার, আমার মায়ের হাতের রান্না খেলে ভুলতে পারবে না।’ বৃদ্ধ চোখ বন্ধ করে বললেন, ‘অমৃত হার মানে?’

    ‘কান ঝালাপালা হয়ে গেল। যেন অমৃত কত খেয়েছে!’ বয়স্কা বলল। সঙ্গে-সঙ্গে বৃদ্ধ চুপ। খেতে একটু অসুবিধে হচ্ছিল নবকুমারের। আলু-পটলের তরকারিতে যেন চিনি ঢেলে দিয়েছে রান্নার সময়। তাদের বাড়িতে রান্না হয় একটু ঝাল-ঝাল। শুকনো লঙ্কা নয়, কাঁচা লঙ্কার ঝাল থাকলেও স্বাদ হয় ভালো। তরকারিতে মিষ্টি খাওয়ার কথা ওরা ভাবতেই পারে না। তবু খেতে হল।

    ‘যে এনেছে সে এক ঢোঁক জল প্রথমে খাক।’ পঁয়ত্রিশ বোতল এগিয়ে ধরল। ঠিক এক ঢোঁক জল গলায় ঢেলে শালপাতা বাইরে ফেলে দিল নবকুমার জানলা গলিয়ে। হঠাৎ তার খারাপ লাগা শুরু হল। একসঙ্গে এসে সে একা-একা খেয়ে নিল আর মাস্টারদা না খেয়ে রয়েছে। নবকুমার উঠল। মাস্টারদার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘খাওয়াদাওয়া করবেন না?’

    ‘সামনের স্টেশনে পাঁচ মিনিট থামবে। তখন পুরি আর তরকারি খাব।’

    ‘আমাকে ওরা জোর করল! অবশ্য খেতে একটুও ভালো লাগেনি। কী মিষ্টি!’

    ‘পেটে তো গেছে। আরে এতে সঙ্কোচের কারণ নেই। একজনের খাওয়া খরচ তো বেঁচে গেল। পরে ওটা কাজে লাগবে। মেয়েছেলেগুলোকে শুধু ঘাড়ে চড়তে দিও না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }