Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤶

    কলিকাতায় নবকুমার – ৬০

    ষাট

    হাঁ হয়ে গেল নবকুমার। দরজা তো বন্ধই, জানলাগুলোও খোলা নেই। মুক্তো তাহলে বাড়িতে নেই! অথচ এখন তার ইচ্ছে করছিল, গা-হাত-পা ধুয়ে বিছানায় শরীরে এলিয়ে দিতে। কী করবে সে? মুক্তো ফিরে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে তাকে। দরজার গায়ে ঠেস দিয়ে সে দেখল, যে-গাড়িটা তাকে স্টুডিও থেকে পৌঁছে দিতে এসেছিল সেটা ফিরে গেল।

    এখন রাত হয়েছে। মুক্তো নিশ্চয়ই শেফালি-মায়ের কাছে গিয়েছে। কিন্তু ওর তো উচিত ছিল অনেক আগে ফিরে আসা। শেফালি-মাকে ফোন করলে জানা যাবে ও রওনা হয়েছে কি না! কিন্তু এ-পাড়ায় টেলিফোন বুথ কোথায়? এই সময় ট্যাক্সিটা এসে থামল বাড়ির সামনে। উলটোদিকের বাড়ির মেয়েটা ভাড়া মিটিয়ে নামতেই তার মোবাইল বেজে উঠল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সে তিনবার ‘সরি’ বলে লাইন কেটে দিতেই নবকুমার বলে ফেলল, ‘শুনছেন?’

    মেয়েটি তাকাল। ট্যাক্সি চলে যেতেই ভ্রূ কুঁচকে মেয়েটি তাকাল। নবকুমার বলল, ‘আমি এই বাড়িতে থাকি। এসে দেখি দরজায় তালা দেওয়া। আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে একটা ফোন করতে পারি।’

    মেয়েটি কাছে এগিয়ে এল, ‘নম্বর প্লিজ!’

    শেফালি-মায়ের ফোন নম্বর বলল নবকুমার। মেয়েটি বোতাম টিপল। যন্ত্রটা কানে চেপে মাথা নাড়ল, ‘ইটস নট ওয়ার্কিং। ফোন খারাপ আছে।’

    ‘ফোন খারাপ?’

    ‘ইয়েস! শুনতে চান?’

    ‘না-না। ঠিক আছে। এখন আমি কী করি!’

    মেয়েটি কাঁধ নাচিয়ে নিজের বাড়ির দরজায় চলে গিয়ে বেল বাজাল। কেউ সেটা খুলে দিলে ভেতরে ঢুকে গেল।

    দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছিল। কোমরটা যেন পাথর হয়ে আছে। এই কোমরেই পুলিশের লাথিটা পড়েছিল বেশ জোরে। হঠাৎ মন্দাক্রান্তার কথা মনে এল। আশুতোষ কলেজের কাছাকাছি টেলিফোন বুথ থেকে মন্দাক্রান্তাকে ফোন করে সমস্যার কথা বলবে? প্রশ্নটা মনে আসতেই মাথা নাড়ল সে। মন্দাক্রান্তাকে সে এমনিতেই কত ঝামেলায় ফেলেছে, বড়বাবু যে তার প্রতি সদয় হয়েছেন সেটাও মন্দাক্রান্তার জন্যেই, আর নতুন করে ওঁকে বিব্রত করা উচিত হবে না।

    রাত সাড়ে ন’টা বেজে গেল। পকেটে প্রাোডাকশনের দেওয়া ছয় হাজার টাকা রয়েছে। কথাটা খেয়ালে আসতে কীরকম অস্বস্তি শুরু হয়ে গেল। কোনওমতে খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে হেঁটে বড় রাস্তায় চলে এল নবকুমার। শেষপর্যন্ত আর না পেরে সে একটা টেলিফোন বুথে ঢুকল। শেফালি-মায়ের নম্বর ডায়াল করতে একটা যান্ত্রিক আওয়াজ কানে এল। টানা। রিং হচ্ছে না। রিসিভার নামিয়ে মন্দাক্রান্তার নম্বর ডায়াল করল সে। এই নম্বর দুটো এখন সে মুখস্থ করে ফেলেছে। রিং হচ্ছে। তার পরেই মন্দাক্রান্তার গলা কানে এল, ‘হ্যাঁ! বলছি।’

    ‘আমি নবকুমার।’

    ‘আরে! কী আশ্চর্য! কনগ্র্যাচুলেশন! আজ নাকি তুমি খুব ভালো অভিনয় করেছ। গীতিময়বাবু তো বটেই, খোদ বড়বাবুও একটু আগে তোমার প্রশংসা করলেন। কোথায় তুমি?’

    ‘আমি রাস্তায়। অনেকক্ষণ আগে ভবানীপুরের বাড়িতে পৌঁছে দেখছি, দরজায় তালা দেওয়া। মুক্তো নেই। শেফালি-মাকে ফোন করছি। কিন্তু রিং হচ্ছে না।’ নবকুমার বলল।

    ‘সেকী! মুক্তো কোথায় গেল?’

    ‘জানি না। আমার শরীরটা, মানে খুব টায়ার্ড লাগছে—!’

    ‘লাগবেই তো। তুমি ওখানেই দাঁড়াও। আমি শেফালি-মাকে ফোন করে দেখি!’ লাইন কেটে দিলেন মন্দাক্রান্তা। বুথের লোকটাকে টাকা দিয়ে একটু সরে দাঁড়াল নবকুমার। মিনিটখানেকের মধ্যেই বুথের ফোন বেজে উঠতেই লোকটা রিসিভার তুলে কথা বলে বেরিয়ে গেল, ‘এই যে, আপনার নাম নবকুমার তো? আপনার ফোন এসেছে। রিসিভ করলে এক টাকা দেবেন।’

    ভেতরে ঢুকে রিসিভার তুলল নবকুমার, ‘বলুন।’

    ‘হ্যাঁ। ফোনটা খারাপ। তুমি এক কাজ করো। আমার এখানে একটা ট্যাক্সি নিয়ে চলে এসো। কাল সকালে তোমার শ্যুটিং আছে। কতক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে তুমি।’

    ‘আপনার ওখানে? কিন্তু বড়বাবু—!’

    ‘সেটা আমি বুঝব।’

    ‘না। আমার জন্যে আপনি সমস্যায় পড়বেন। তার চেয়ে আমি ট্যাক্সি নিয়ে শেফালি-মায়ের কাছে চলে যাচ্ছি!’

    ‘দ্যাখো, শেফালি-মাকে আমি যতটুকু বুঝেছি উনি দায়িত্বজ্ঞানহীন নন। তুমি বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছ জেনেও মুক্তোকে পাঠাবেন না, এটা কখনওই উনি করবেন না। আমার মনে হচ্ছে ওঁর কোনও অসুবিধে হয়েছে।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

    ‘তাহলে তো আমার এখনই যাওয়া উচিত।’

    ‘দাঁড়াও। তুমি এখন কোথায় আছ?’

    ‘আশুতোষ কলেজের উলটোদিকের গলির কাছে।’

    ‘তুমি কলেজের গেটের কাছে চলে এস। পনেরো মিনিটের মধ্যে আমি আসছি।’ লাইন কেটে দিলেন মন্দাক্রান্তা। একটা টাকা লোকটাকে দিয়ে বাইরে চলে এল নবকুমার। এটা কী হল? মন্দাক্রান্তা আসছেন মানে তাকে শেফালি-মায়ের কাছে পৌঁছে দেবেন। এত রাতে সোনাগাছিতে ওঁকে নিয়ে যাওয়া যায় না। বড়বাবু জানতে পারলে তাকে শেষ করে দেবেন। তা ছাড়া, ওখানকার খারাপ লোকগুলো কীরকম ব্যবহার করবে তা কেউ জানে না। সে হাত তুলে একটা ট্যাক্সি থামাল। উঠে বসে বলল, ‘সেন্ট্রাল অ্যাভিন্যু-গ্রে স্ট্রিট।’ ট্যাক্সি চলতে শুরু করলে একটু স্বস্তি হল দুটো কারণে। বসতে পেরে এতক্ষণ বাদে শরীর একটু আরাম পেল আর মন্দাক্রান্তার যাওয়া বন্ধ করতে পারল। গাড়ি নিয়ে আশুতোষ কলেজের সামনে পৌঁছে তাকে দেখতে না পেলে মন্দাক্রান্তা নিশ্চয়ই তাঁর বাড়িতে ফিরে যাবেন।

    সিনেমা হলগুলো সরে-সরে যাচ্ছে। এই শহরে প্রথম যেদিন পা দিয়েছিল সে, সঙ্গে মাস্টারদা ছিল। লোকটা দুম করে মরে গেল। মাস্টারদা বলত, কর্পোরেশনের জল পেটে পড়লে মানুষ বদলে যায়। কথাটা বোধহয় ঠিক। প্রথম শহরের পথে হাঁটতে ভয় লাগত। যদি রাস্তা গুলিয়ে ফেলে, যদি বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে না পায়। ট্যাক্সিতে একা ওঠার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারত না। এখন পারছে সে। কর্পোরেশনের জলে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে বলেই হাসপাতাল থেকে মাকে বাবা গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে কি না তা জানতে ইচ্ছে করলেও জানা হয়নি। এই শহর তাকে শেখাতে চাইছে কী করে শুধু নিজের জন্যে বাঁচতে হয়। তাই গোলমাল হয়ে যায় শেফালি-মা বা মন্দাক্রান্তাকে দেখে। সারা শহর জুড়ে যখন লোহায় জং পড়ছে তখন কেউ-কেউ ইস্পাত হয়ে দারুণভাবে বেঁচে আছে।

    ক্লান্তিতে এবং ব্যথায় ঘুম আসছিল। শরীরটাকে আরও একটু আরামের জন্যে ট্যাক্সির সিটে ছড়িয়ে দিতেই অন্ধকারে কিছুর স্পর্শ পেল নবকুমার। হাতড়ে-হাতড়ে যেটা তুলে নিল সেটা একটা বই। ট্যাক্সিটা তখন একটা রেড লাইটে দাঁড়িয়ে। বাইরের আলোয় সে বইটাকে দেখল। একলা নদীর সঙ্গে। এটা নিশ্চয়ই কবিতার বই। পাতা ওলটাতে কবিতার চেহারা দেখতে পেল সে। কবিতার ব্যাপারে তার কোনও আগ্রহ নেই। সে ট্যাক্সিওয়ালাকে বইটার কথা বলল। অবাঙালি ড্রাইভার বলল, আগে যে মেয়েটা উঠেছিল, সম্ভবত সে ফেলে গিয়েছে। তার দরকার নেই, বাবু ইচ্ছে করলে নিয়ে যেতে পারেন।

    বিন্দুমাত্র আগ্রহ হচ্ছিল না বইটা নিয়ে যেতে। অন্ধকারে কিছুই পড়া যাচ্ছে না। এসপ্ল্যানেডে ট্যাক্সি দাঁড়াতেই যে পাতাটা খুলে চোখের সামনে ধরল সে, তার লাইনগুলো পড়তে বাধ্য হল নবকুমার, ‘আমার বুকের ভিতর একটা গভীর ক্ষত আছে। সেখানে/একসঙ্গে বাস করে অগ্নি, জল আর বায়ু/এরা রোজ দাবা খেলে, চাল দেয়, কিস্তিমাত করে/এদের নিয়েই আমি বেঁচে আছি/এরাই আমার পরমায়ু…

    দাবা খেলা অনেক দেখেছে নবকুমার। গ্রামের বটতলার বাঁধানো চাতালে কৃষ্ণজ্যেঠু আর বলরাম কাকা দাবা খেলতেন। মাঝে-মাঝে রাতদুপুর পর্যন্ত। অনেকেই ভিড় করে ওঁদের খেলা দেখত। কৃষ্ণজ্যেঠুর বউ জেঠিমা বলতেন, ‘আহা খেলুক। ওই নিয়েই তো বেঁচে আছে।’ আজ মনে হল, জীবনটা বোধহয় ওই দাবা খেলার মতো। যতক্ষণ চাল দেওয়া যায় ততক্ষণ পরমায়ু থাকে। বইটার নাম আবার দেখল সে। একলা নদীর সঙ্গে। রচয়িতার নাম সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়।

    ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে কিছুটা পেছনে হেঁটে এসে নবকুমার দেখতে পেল পেট্রল পাম্পের সামনে তিন-তিনটে পুলিশের জিপ আর ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে। ওখান থেকেই বুঝতে পারল রাস্তা জনশূন্য। সে সোনাগাছিতে ঢোকার আগের গলিতে ঢুকে পড়ল। এদিক দিয়ে একটু ঘোরা হলেও শেফালি-মায়ের বাড়ির সামনে যাওয়া যায়। চৌমাথার কাছে এসে দেখল, রাস্তার দোকানপাটগুলো বন্ধ। আলো নিভে গিয়েছে। সোনাগাছিতে এই সময় দিনের আলোর মতো চারধার উজ্জ্বল থাকে। পান-সিগারেটের দোকানটা আধা বন্ধ। তার সামনে গিয়ে নবকুমার জিজ্ঞাসা করল, ‘কী হয়েছে?’ উড়িষ্যাবাসী দোকানদার ভেতর থেকে বলল, ‘আপনি কি কাস্টমার?’

    ‘না। আমি এখানেই থাকতাম।’

    ‘তাড়াতাড়ি বাড়িতে ঢুকে পড়ুন। বহুত হামলা হয়েছে আজ।’

    ‘কারা হামলা করল?’

    প্রশ্ন করা মাত্রই দূরে ‘মার-মার-মার শালাকে’ চিৎকার করল কয়েকজন। দোকানদার বাকিটা বন্ধ করে দিল। ফুটপাত ধরে এগিয়ে গেল নবকুমার। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল খুব। শেফালি-মায়ের বাড়ির দরজা হাট করে খোলা। সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই মেয়েগুলোকে দেখতে পেল। সাজগোজ নেই, মুখে রং নেই, মেয়েগুলো মাটিতে বসে আছে চুপচাপ, পাথরের মতো। ওদের একজন নবকুমারকে দেখতে পেয়েই চিৎকার করে কেঁদে উঠল। সঙ্গে-সঙ্গে কান্নাটা ছড়িয়ে গেল অন্যদের মধ্যে। হতভম্ব নবকুমার জিজ্ঞাসা করল, ‘কী হয়েছে?’

    যে মেয়েটি সেদিন ওদের হয়ে শেফালি-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল, সে উঠে দাঁড়াল, ‘সব্বোনাশ হয়ে গিয়েছে দাদাভাই।’

    নবকুমার ওপরের দিকে তাকাল। দোতলা অন্ধকারে ঢাকা।

    ‘শেফালি-মা ওপরে নেই?’

    ‘না।’ মেয়েটি চোখ মুছল।

    ‘কী হয়েছে বলবেন?’

    এবার সবাই মুখ খুলল, একসঙ্গে। প্রত্যেকের কথাগুলো থেকে যেটুকু জানা গেল তাতে নবকুমারের মনে হল পৃথিবীটা দুলছে। সে বসে পড়ল।

    আজ দুপুরে সেই লোকটা দলবল নিয়ে এসেছিল। এই লোকটাই আগের দিন একজন সঙ্গী নিয়ে এসে শেফালি-মাকে বাড়ি বিক্রি করতে বলেছিল। আজ সে সরাসরি জানতে চায় শেফালি-মা তাদের কাছে বাড়িটা বিক্রি করবে কি না? তাদের কাছে খবর গিয়েছে এই বাড়ি হয় দুর্বারকে দিয়ে দেওয়া হবে, নয়তো ভাড়াটে যৌনকর্মীদের দান করা হবে। সোনাগাছি পাড়ায় এরকম কথা কেউ শোনেনি। শেফালি-মা স্পষ্ট বলে দেন, তিনি বাড়ি বিক্রি করবেন না। ঝগড়া আরম্ভ হয়। লোকটা দলবল নিয়ে ওপরতলায় ঢুকে যায়। জিনিসপত্র ভাঙে, টেলিফোনের তার ছিঁড়ে দেয়। প্রতিবাদ করায় একজন শেফালি-মাকে এত জোরে চড় মারে যে তিনি ঘুরে পড়ে যান। তখন ইতি আর স্থির থাকতে পারে না। সে সবসময় শেফালি-মায়ের পাশে থেকে ওদের চলে যেতে বলছিল। শেফালি-মা মার খেতে রান্নাঘর থেকে বঁটি এনে যে লোকটা চড় মেরেছিল, তার ঘাড়ে আঘাত করে। লোকটা পড়ে যায়। তখন তিন-চারজন ইতিকে ধরে উলঙ্গ করে ধর্ষণ করতে শুরু করে। শেফালি-মা কোনওমতে উঠে বঁটিটা তুলে নিয়ে লোকগুলোকে আঘাত করতে যেতে ওরা সরে যায়। বঁটিটা গিয়ে আঘাত করে ইতির গলায়। সঙ্গে-সঙ্গে মারা যায় সে। লোকগুলো দুদ্দাড় করে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কিন্তু পাড়ার লোকজন ওদের দুজনকে ধরে ফেলে। প্রচণ্ড মার মারে ওদের। পুলিশ আসে। লোকদুটোকে হাসপাতালে পাঠায়। ইতির ডেডবডি নিয়ে যায়। আর শেফালি-মাকে খুনের দায়ে গ্রেফতার করে। কিন্তু শেফালি-মা তার আগেই পাগল হয়ে গিয়েছেন। মুক্তোও মার খেয়েছে খুব। তাকেও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাড়ার লোকজনের ধারণা, দু-একজন গুন্ডা এখনও এখানে লুকিয়ে আছে। পুলিশ এসে আবার সব কিছু তছনছ করছে।

    মাথা তুলতে পারছিল না নবকুমার। চোখের সামনে যেন নিচ্ছিদ্র অন্ধকার। ঠিক যেই কিস্তিমাত বলে বলরামকাকা সোল্লাসে চিৎকার করতেন তখন কৃষ্ণজ্যেঠুর মুখটা যেরকম ঝুলে পড়ত, নবকুমারের যেন সেরকম হয়ে গেল।

    খবর পৌঁছে গিয়েছিল। খানিক বাদেই দুর্বারের মেয়েরা চলে এল এই বাড়িতে। কবিতা কথা বলতে পারছিল না। চন্দ্রিমা বললেন, ‘আমরা যদি হেজিটেট না করে ওঁর কথায় রাজি হয়ে যেতাম তাহলে হয়তো এই ঘটনা ঘটত না। আমরা চেষ্টা করছি শেফালি-মাকে জামিনে ছাড়িয়ে আনতে। কিন্তু উনি তো একটাই কথা বলছেন, আমি খুনি, আমি খুনি।’ নবকুমার চোখ বন্ধ করে দু-হাতে মুখ ঢেকে বসেছিল।

    কবিতা বলল, ‘কাল সকালেই বড় উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করব আমরা। শেফালি-মায়ের মাথা খারাপ ছিল বললে বেশি শাস্তি হবে না।’

    সঙ্গে-সঙ্গে মুখ তুলল নবকুমার, ‘মিথ্যে কথা। শেফালি-মায়ের মাথা আমাদের সবার চেয়ে অনেক ভালো ছিল, ভালো আছে।’

    ‘তুমি জানো না ভাই, এখন উনি মানুষ চিনতে পারছেন না।’

    ‘এত ভালো মানুষ চিনেছিলেন, তাই ইতিকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আমরা কেউ তো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারি না। উনি সুস্থ বলে পেরেছিলেন।’ নবকুমার জোরে-জোরে শ্বাস নিল।

    চন্দ্রিমার মোবাইল বেজে উঠল। অন করে কথা শুনে চন্দ্রিমা বললেন, ‘ইতির পোস্টমর্টেম হয়ে গিয়েছে। ডেডবডি নিয়ে আসা হচ্ছে। তোমরা নিশ্চয়ই ওর শেষ যাত্রায় সঙ্গী হবে?’ প্রশ্নটা অন্য মেয়েদের উদ্দেশ্যে।

    একসঙ্গে উত্তর ছুটে এল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ।’

    .

    একটা ছোট ম্যাটাডর ভ্যান ফুলে-ফুলে উপচে পড়ছে। ইতি সেই ফুলের পাহাড়ের নীচে শুয়ে আছে। শুধু তার মুখখানি উন্মুক্ত। দুর্বারের কেউ হয়তো, একটা বড় ফেস্টুন ম্যাটাডরের ওপর টাঙিয়ে দিল। ইতি যুগ-যুগ জিও। তার নীচে বড় করে লেখা, শেফালি-মা জিন্দাবাদ।

    মানুষে-মানুষে থিকথিক করছে সোনাগাছির রাস্তা। দরজায় না দাঁড়িয়ে আজ সব মেয়ে নেমে এসেছে পথে। রংবিহীন মুখগুলো পাথর। নবকুমার ওই বাড়ির মেয়েদের সঙ্গে বেরিয়ে এসেছিল পথে। সে দেখল, যে ছেলেগুলো একদিন ইতির কারণে তাকে মেরেছিল আজ তারা হাউ-হাউ করে কাঁদছে।

    ম্যাটাডর এগিয়ে যাচ্ছে নিমতলা শ্মশানের দিকে। ভিড়ের সঙ্গে হাঁটতে গিয়ে আবার ব্যথাটা টের পেল নবকুমার। এতক্ষণ এইসব ঘটনার মধ্যে থেকে তার শরীর যেন অসাড় হয়েছিল, এখন জানান দিল। তার পক্ষে এই শরীর নিয়ে শ্মশান অবধি হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়।

    মেয়েরা কেউ কথা বলছে না। যে যেমন ছিল, নেমে এসেছে এই অন্তিম যাত্রায়। এদের কে ইতিকে কতটা চিনত তা নিয়ে কোনও কথাই ভাবছে না। ওদের একজন প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হয়েছে, তাকে সম্মান জানানো কর্তব্য।

    নবকুমার ধীরে-ধীরে ফুটপাতে উঠে দাঁড়াল। অসংগঠিত মিছিল তার পাশ দিয়ে নীরবে চলে যাওয়ার পর তার মনে হল, সোনাগাছি খালি হয়ে গিয়েছে।

    তার উচিত ছিল ইতির সঙ্গে যাওয়া। এই ইতি তাকে জোড়াসাঁকো দেখিয়েছিল। এই ইতি তার জন্যে ব্যাবসা ছেড়ে দুর্বারে যোগ দিয়েছিল। নিজের নানান বানানো নাম ছেড়ে দিয়ে সে তাকে সত্যি নামটা বলেছিল।

    ‘ইতি, তুমি কিছু মনে কোরো না, আমি হাঁটতে পারছি না।’

    ‘বাবু, যাবেন?’ একটা রিকশাওয়ালা সামনে এসে দাঁড়াল।

    ওই রিকশায় উঠলে বিনা কষ্টে শ্মশানে যাওয়া যায়। সে শুনেছে নিমতলায় ইলেকট্রিক চুল্লি আছে। তাই কাউকে জ্বলতে দেখতে হয় না। কিন্তু ফিরতে রাত হবে। অনেক রাত। মাথা নেড়ে না বলে নবকুমার শেফালি-মায়ের বাড়িতে ফিরে এল। নীচে কোনও মেয়ে নেই। সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠে এসে খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে আলো জ্বালল সে। বাগানে কয়েকটা গরু ঢুকে যে দশা করে এই ঘরগুলোর এখন সেই অবস্থা। দরজাটা বন্ধ করে যে ঘরে সে থাকত সেখানে চলে এল নবকুমার। আর দাঁড়াতে না পেরে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিল।

    ইতি আর চুপচাপ এসে সামনে দাঁড়াবে না। শেফালি-মা হয়তো কোনওদিন—! হঠাৎ বিদ্যুতের শক খেল নবকুমার। কোনওদিন কি সে শেফালি-মায়ের ঋণ শোধ করতে পারবে? সেই সুযোগ হয়তো কোনওদিনই পাবে না। কিন্তু শেফালি-মাকে সুস্থ করে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্ত করে আনা কী সম্ভব নয়?

    হঠাৎ কথাটা মনে হল। শেফালি-মা বলেছিলেন, ‘আবেগ না থাকলে সে মানুষ নয়। কিন্তু আবেগে যে ভেসে যায় সে তলিয়ে যায়। আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যে কাজ করে যেতে পারে সে-ই ঠিকঠাক মানুষ।’

    নবকুমার পাশ ফিরল। এখন তার খিদে পাচ্ছে, ব্যথাও। কিন্তু সে এখন ঘুমোতে চায়। এই শহর তাকে শিখিয়েছে সুযোগের সদব্যবহার করতে। সেটা করতে হলে কাল ভোর-ভোর উঠে ভবানীপুরের বাড়ির সামনে যাওয়া দরকার। সেখানে স্টুডিওর গাড়ি আসবে সকালে, তাকে রং মাখাতে নিয়ে যাওয়ার জন্যে।

    আগামীকালের লড়াই-এর জন্যে তার আজ ঘুম দরকার।

    .

    সমাপ্ত

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }