Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প194 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কালোঘোড়া – ১০

    দশ

    হ্যারিসন রোডের মেস। সেখান থেকে অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল হোটেল। তারপর সুন্দর একটি ফ্ল্যাট। এই একটা বছরে শ্রীমন্ত ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে।

    ধর্মতলার উপরেই এই ফ্ল্যাট। চারতলায় দু’খানি প্রশস্ত ঘর। সামনের ঘরখানি বসবার ঘর। এই দুর্মূল্যের বাজারেও তা মূল্যবান আসবাবপত্রে সাজানো। পাশেরটি শোবার ঘর। সেটিও সুসজ্জিত। একটি চাকর রেখেছে। সে-ই রান্নাও করে।

    অফিস থেকে বেরিয়ে মাঝে মাঝে ওরা হোটেল ডি-রিও-তে এখনও যায় কিন্তু বেশির ভাগ সন্ধ্যায় ওদের এই ঘরেই মজলিস বসে।

    শীতের সন্ধ্যা।

    নিভৃত গৃহকোণে একটি সোফায় একখানি ‘রাগ’ কোলের উপর রেখে দু’জনের সন্ধ্যা-যাপন কি মনোরম! সিগারেটের ধোঁয়া ওঠে স্বপ্নের মতো।

    সেদিন সন্ধ্যায় একটু বিশেষভাবে সাজানোও হয়েছে। উপরে রান্নাঘরে রকমারি রান্নাও হচ্ছে।

    সুমিত্রা ঘরে পা দিয়েই বিস্মিতভাবে জিজ্ঞাসা করলে, কি ব্যাপার?

    ওকে সযত্নে একটি সোফায় বসিয়ে শ্রীমন্ত বললে, আছে ব্যাপার।

    সুমিত্রাকে ওইখানে বসাবার জন্য আগে থেকেই যেন ব্যবস্থা করা আছে। ও বসতেই ঢাকা-আলোর ফাঁক দিয়ে সমস্ত আলো ওরই পরনের হালকা নীল-শাড়ীর জরিদার পাড়ের উপর ঝলমলিয়ে উঠলো।

    ওর পায়ের তলার লাল কার্পেটখানা আধো-আলো, আধো-অন্ধকারে যেন অবগুণ্ঠনের মধ্যে হাসতে লাগলো! রেডিও সেটটা বাজছে। ওরা দু’জনে থাকলে রেডিও বড় একটা বাজে না।

    সুমিত্ৰা সন্দিগ্ধভাবে আবার বললে, কি ব্যাপার বলো তো?

    হেসে শ্রীমন্ত বললে, একটু পরেই বুঝতে পারবে।

    —তবু?

    শ্রীমন্তকে উত্তর দিতে হোল না, স্বয়ং বড়বাবু এসে দাঁড়ালেন ঘরের একেবারে মাঝখানে।

    আধো-অন্ধকারে তসরেটের কোট নেই, পেন্টলুন নেই, সেই ভারি শু-জুতোও না। তার বদলে মূল্যবান শান্তিপুরী ধুতি, গিলেকরা আদ্দির পাঞ্জাবী, জরিপাড় সূক্ষ্ম চাদর এবং পায়ে সোয়েডের নিউ-কাট জুতো।

    গা দিয়ে ভুর ভুর করে এসেন্সের উগ্র গন্ধ বার হচ্ছে।

    প্রথম দৃষ্টিতে সুমিত্রা কেন, সকলেরই চেনা মুশকিল।

    শ্ৰীমন্ত ‘আসুন’, আসুন’ বলে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ালো। সেই সঙ্গে সুমিত্ৰাও।

    কর্কশ কণ্ঠ যথাসাধ্য মোলায়েম করে বড়বাবু উত্তরে বললেন, এই যে! কি ব্যাপার বলো তো? হঠাৎ আমার মতো অরসিককে আহ্বান!

    —কিচ্ছু না, এমনিতেই আমার ঘরে একটু পায়ের ধুলো চাইলাম।

    শ্রীমন্ত এমন সমাদরে ওঁকে সুমিত্রার পাশের কুশনটায় বসালে যেন স্বয়ং গভর্নর এসেছেন ওর ঘরে।

    অভ্যাসবসে সুমিত্রা পর্যন্ত ব্যস্ত হয়ে উঠলো। অফিসে এই ব্যক্তিটি সামান্য তো নন, গভর্নরেরই সামিল। ‘মারিলে মারিতে পারে, রাখিতে কে করে মানা।’ তাঁর ঐ কর্কশ বাক্য অনেকেরই হৃৎকম্প সৃষ্টি করে।

    সোনালী-তবক-মোড়া পান এলো, দামী সিগারেটের টিন এবং উৎকৃষ্ট জর্দা এলো। চাকরটা একটা অ্যাশ্-ট্রেও রেখে গেল।

    দেখতে দেখতে বড়বাবু সম্বন্ধে সুমিত্রার ধারণা গেল বদলে। তাঁকে যতখানি ভয়াবহ এবং নীরস ব্যক্তি বলে তার ধারণা ছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হোল। দেখা গেল, বৃদ্ধ হোলেও ভদ্রলোক অতি সুরসিক ব্যক্তি। নিজের হাতে ওকে তিনি সিগারেট এগিয়ে দিলেন।

    হাত জোড় করে সুমিত্রা অসম্মতি জানালে। কিন্তু বড়বাবুর অমায়িক ব্যবহারে সে এত মুগ্ধ হয়ে গেল যে, নিজে দেশলাই জ্বেলে ওঁর সিগারেটটা ধরিয়ে দিলে। দু’জনের মুখ কাছাকাছি আসতেই ভক্ করে তার নাকে যেন মদের গন্ধ এলো।

    কাঠিটা নিভিয়ে ট্রের মধ্যে ফেলে এদিকে চাইতেই দেখলে, শ্রীমন্ত দিব্যি একটা সিগারেট ধরিয়ে বড়বাবুর সামনে টানছে।

    বড়বাবুর সামনে সিগারেট!

    বিস্ময়ে তার চোখ-মুখের এমনই অবস্থা হোল যে, তা বড়বাবুর ক্ষীণ দৃষ্টিও এড়ালো না।

    জবাফুলের মতো লাল চোখ ঢুলঢুল করে বললেন, Never mind, Miss Roy. We are friends here, we are all friends here. এটা অফিস নয়। এখানে সব বন্ধু আমরা।

    বলে ভদ্রলোক এমন জোরে হেসে উঠলেন যে সুমিত্রা চমকে উঠলো।

    .

    পরের দিন সুমিত্রা অফিসে এলো না। লিখে পাঠিয়েছে তার মাথা ধরেছে, জ্বরের মত হয়েছে।

    শ্রীমন্ত অফিসের শেষে বড়বাবুর কাছে গিয়ে হাসতে হাসতে বললে, You perhaps drove too rashly, Sir.

    বাঁ হাতে খানিকটা হাওয়া যেন ঢেউ দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বড়বাবু বললেন, Don’t you worry. সব ঠিক হো যায়েগা। শোনো। একটা ভালো চাকরি খালি হচ্ছে। পরেশ চলে যাচ্ছে দিল্লীতে। তার জায়গায় আমি তোমার নাম সুপারিশ করেছি! সাহেব রাজি হয়েছেন।

    আহ্লাদে গদগদ হয়ে শ্রীমন্ত বড়বাবুর পায়ের ধূলো মাথায় তুলে নিয়ে পথে বেরিয়ে পড়লো। তখন তার দেহ যেন তুলোর মতো হালকা হয়ে গেছে।

    এই চাকরিটা মানে মাসে তিনশো পঁচাত্তর টাকা!

    আর এক ধাপ, তার পরেই সুপারিন্টেন্ডেন্ট!

    বাসায় ফিরে সে তাড়াতাড়ি স্নান সেরে নিলে। শোবার ঘরে এসে গুন্ গুন্ করে সুর ভাঁজতে ভাঁজতে যখন সে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে মাথা আঁচড়াচ্ছে, নিঃশব্দ পদ-সঞ্চারে সুমিত্রা এসে ওর খাটের এক প্রান্তে বসলো।

    নিঃশব্দে।

    শ্রীমন্ত টেরই পেত না, যদি না আয়নায় ওর ছবি পড়তো।

    পিছন ফিরেই সে চমকে উঠলো :

    সুমিত্ৰা!

    সুমিত্রা সাড়া দিলে না। নীরবে চোখ মেলে চাইলে।

    এই ঘরটিতে আলোটা এমন জায়গায় বসানো যে, জানালা খোলা থাকলেও বাইরে আলো পড়ে না। সে জন্যে এ-ঘরের আলোয় আর কাগজের ঘেরাটোপ দেবার আবশ্যক হয়নি।

    সেই পরিপূর্ণ আলোয় শ্রীমন্ত দেখলে সর্বস্ব হারালে মানুষের চোখে যে দৃষ্টি ফুটে ওঠে, সেই বিভ্রান্ত ব্যাকুল দৃষ্টি সুমিত্রার চোখে!

    শ্রীমন্ত ধীরে ধীরে ওর পাশে বসে ওর পিঠের উপর একখানি হাত রাখলে। মিনিট কয়েক তার মুখে একটাও সান্ত্বনার কথা বার হোল না।

    একটু পরে বললে, বিশ্বাস করো সুমিত্রা, আমি নিজেও এর জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না।

    সুমিত্রা ভর্ৎসনার দৃষ্টিতে ওর দিকে চাইলে।

    তারপর বললে, আমাকে তুমি কচি খুকী পেয়েছ, না? তাই বোঝাতে চাইছ, তুমি কিছু জানতে না?

    শ্রীমন্ত অভিনয় মন্দ করে না।

    কাতরস্বরে বললে, আমাকে তুমি অবিশ্বাস কোরো না সুমিত্রা।

    তীব্রকণ্ঠে সুমিত্রা বললে, তাহলে তুমি বড়বাবুকে নিমন্ত্রণ করেছিলে কেন?

    —এমনি। একটু তোয়াজ করবার জন্যে। বুঝতেই তো পারছ।

    —বুঝতে সবই পারছি। তুমি জানতে সন্ধ্যের পর আমি আসব। তার পরেও বড়বাবুকে নিমন্ত্রণ করেছিলে। খাবার আয়োজনও করেছিলে তিন জনের জন্যে। বড়বাবু এলেন মত্ত অবস্থায়। বললেন, We are all friends here! তার পরেও বলতে চাও, এর পিছনে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল না?

    প্রতিবাদে শ্রীমন্ত কি একটা বলতে যাচ্ছিল। বাধা দিয়ে সুমিত্রা বললে, বড়বাবুকে তোয়াজ করবার জন্যে? আমি শুধু এই কথাটা জানতে এসেছি, বড়বাবুকে তোয়াজ করবার জন্যে কতদূর যেতে পারো তুমি? শেষ পর্যন্ত?

    শ্রীমন্ত রাগ করলে না। আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে শান্তকণ্ঠে বললে, রাগ কোরো না সুমিত্রা। রাগ করবার কী আছে এতে? কী এমন হয়েছে?

    অবাক হয়ে সুমিত্রা ওর দিকে চাইলে :

    —তুমি বলছ কি?

    খুব বিজ্ঞের মতো শ্রীমন্ত হাসলে।

    বললে, এমন কিছু হয়নি। একটা গলিতনখদন্ত কামার্ত বৃদ্ধ…

    আকাশে দুই হাত তুলে সুমিত্রা বললে, থামো, থামো, থামো। ঘেন্নায় আমার সমস্ত শরীর পাক দিয়ে উঠছে!

    —তবে?

    শ্রীমন্ত হো হো করে উচ্ছ্বসিত হেসে উঠলো :

    —তাহলেই বোঝ, রাগের কিছু নেই।—ব্যাপারটা ঘেন্নার। তবু লোকটির সম্পূর্ণ পরিচয় তুমি জানো না। যে লোকটি কাল স্বচ্ছন্দে তোমাকে সিগারেট এগিয়ে দিয়েছিল, বাড়িতে সেই লোকটিরই রূপ আলাদা। গৃহিণীর ছাদে যাবারও হুকুম নেই। রাস্তার দিকের জানালা কাঠ দিয়ে পেরেক মেরে বন্ধ করে দিয়েছে। পাছে তার গৃহিণী তার অনুপস্থিতিতে জানালায় এসে দাঁড়ায় এবং বাইরের কেউ দেখে ফেলে।

    —বলো কি?

    সুমিত্রা সব ভুলে অবাক হয়ে বললে।

    —তাই। অফিসে বেরুবার আগে স্ত্রীকে ঘরের মধ্যে তালাবন্ধ করে রেখে দেয়, বড় বড় ছেলেমেয়ের সামনে।

    —যাঃ—সুমিত্ৰা হো হো করে হেসে উঠলো।

    —সত্যি কথা।

    ওকে হাসতে দেখে শ্রীমন্তর সাহস বেড়ে গেল।

    বললে, স্বার্থের খাতিরে এই লোককে যদি একটু নাচানো যায়, কী এমন দোষ?

    -–এর জন্যে তুমি আমাকে পর্যন্ত ব্যবহার করবে?

    অম্লান বদনে শ্রীমন্ত বললে, যদি তুমি দয়া করে রাজি হও।

    মুহূর্তের জন্যে সুমিত্রা বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে রইল। তারপর হো হো করে হেসে বললে, তুমি একটা Villain। তবু আশ্চর্য তুমি! সকালে উঠে ভেবেছিলাম, জীবনে বুঝি তোমার কাছে আর মুখ দেখাতে পারব না। ভালোই হোল এলাম। তোমায় চিনলাম, তোমার বড়বাবুকেও চিনলাম। মনটা হালকা হোল। ব্যাপারটা সত্যিই রাগের নয়।

    সুমিত্রা হাসলে।

    বললে, একটু চা খাওয়াবে?

    সুমিত্রার কথাগুলি কেমন যেন বাঁকা বাঁকা। একবার শ্রীমন্ত একটু দ্বিধা করলে। তারপর বললে, চলো না, হোটেল-ডি-রিও?

    —হোটে-ল-ডি-রি-ও? চলো।

    শ্রীমন্ত তাড়াতাড়ি জামাটা গায়ে গলিয়ে নিলে। মানি-ব্যাগটা পকেটে পুরে উঠে দাঁড়ালো।

    বললে, চলো।

    অন্যমনস্কের মতো সুমিত্রা উঠে দাঁড়ালো। শ্ৰীমন্ত বুঝলে, মুখে যাই বলুক, কালকের ধাক্কা সুমিত্রা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

    হোটেলের একটি কোণে একখানা নিরিবিলি টেবিলে ওরা দু’জন বসলো।

    চারিদিকে যেন তরুণ-তরুণীর মেলা বসে গেছে। যেন অসংখ্য প্রজাপতি গুচ্ছে- গুচ্ছে ফুলে-ফুলে বসে গেছে। তারই এক কোণে ওরা দু’জনে বসলো।

    শ্রীমন্ত খাবারের ফরমাশ দিয়ে অপাঙ্গে সুমিত্রার দিকে চাইলে। মুচকি হেসে জিজ্ঞাসা করলে, রাগ পড়লো?

    কৃত্রিম কোপে ভূভঙ্গি করে সুমিত্রা শুধু বললে, Brute।

    এই জায়গাটার একটা বিশেষ গুণ আছে। এই আলো-ঝলমল প্রশস্ত সুসজ্জিত হল, এই গুচ্ছ-গুচ্ছ প্রজাপতির সুসংযত ভিড়, খাদ্য ও পানীয়, সমস্ত মিলে মানুষের মনকে যেন সমাজ, স্বদেশ ও সংস্কার থেকে বিচ্ছিন্ন করে আনে। তাকে শুধু হালকা হাওয়ায় উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়।

    কামার্ত বৃদ্ধের আচরণে যে গ্লানি সকাল থেকে সুমিত্রার দেহ ও মনকে পীড়িত করছিলো, তার কিছুটা গিয়েছিল শ্রীমন্তের ঘরে; অবশিষ্ট এই সুন্দর হলে প্রবেশ করামাত্র নিঃশেষ হয়ে গেল।

    সুমিত্রার মন আবার আগের মতো হালকা হয়ে গেল। শ্রীমন্তের দিকে চেয়ে সে অকারণে মৃদু মৃদু হাসতে লাগলো।

    শ্রীমন্ত বললে, তোমাকে একটা সুখবর দিই শোনো।

    সুমিত্রা উৎসুক দৃষ্টিতে চাইলে।

    —পরেশ হালদারকে তুমি চেনো?

    —কে পরেশ হালদার?

    —আমাদের অফিসে চাকরি করে। Parmanent staff। দিল্লীতে বদলী হয়ে যাচ্ছে।

    -—তারপরে?

    একটু থেমে মুচকি হেসে শ্রীমন্ত বললে, তার জায়গায় আমি যাচ্ছি।

    —বলো কি? তুমি তো এখনও temporary!

    —Permanent হয়ে যাব। সঙ্গে সঙ্গে তিনশো পঁচাত্তর টাকা মাইনে।

    সুমিত্রা ব্যাপারটা একটু ভেবে দেখলে। তারপর চায়ে একটু চুমুক দিয়ে হেসে বললে, এর মূল্য দিতে হোল আমাকে তো?

    —হুঁ। তুমি করুণাময়ী, তোমার জয় হোক।

    শ্রীমন্ত হাসলে।

    —Good evening Miss Roy.

    দু’জনেই চমকে উঠলো। একটি শ্বেতাঙ্গ সৈনিক ওদের টেবিলে এসে দাঁড়িয়েছে।

    সুমিত্রা আনন্দে লাফিয়ে উঠলো :

    Good evening, Capt. Alexander! তুমি এখানে? ভারি খুশি হলাম। দাঁড়াও তোমাদের পরিচয় করিয়ে দিই। মিঃ মিত্র, ক্যাপ্টেন আলেকজান্ডার of the American Army.

    ওরা পরস্পরের করমর্দন করলে।

    সুমিত্রা ওকে চায়ে আহ্বান করলে। মার্কিন সৈনিকটি বড় অমায়িক লোক, তখনই রাজি হয়ে গেল।

    শ্রীমন্তর দ্বিধা ঘোচেনি। সন্দিগ্ধভাবে ওর দিক চাইতে লাগলো। তবু বিদেশী অতিথি। চুপ করে থাকা ভদ্রতা নয়।

    জিজ্ঞেস করলে, কেমন লাগছে এ দেশ?

    —Splendid! আশ্চর্য তোমাদের এই দেশ! আমাদের সঙ্গে তোমাদের মিল নেই আচারে-ব্যবহারে। বাইরে থেকে যারা তোমাদের দেখবে, তাদের অদ্ভুত লাগবে। কিন্তু আমার ভাগ্য ভালো, আমি তোমাদের সঙ্গে মেশবার সুযোগ পেয়েছি। তোমাদের যত দেখছি…

    সুমিত্রা বাধা দিলে। হাসতে হাসতে বললে, থামো, থামো। তারপর দেশে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে বই লিখবে তো? তোমাদের আমরা চিনেছি।

    আলেকজান্ডার গম্ভীর হয়ে গেল। বললে, সে অপরাধ আমি স্বীকার করি মিস রায়। আমার লজ্জা হচ্ছে, আমি সেই সব অভিযোগ বিশ্বাস করেছিলাম।

    শ্রীমন্ত বললে, কেন, এখন বিশ্বাস করো না? আমি তো দেখছি, তার অনেক অভিযোগ একেবারে মিথ্যা নয়।

    —না।—আলেকজান্ডার উৎসাহিত হয়ে উঠলো,–সেইটেই আরও অনিষ্টকর। আধখানা সত্যের চেয়ে ভয়ঙ্কর আর কিছু নেই।

    চায়ে চুমুক দিয়ে আলেকজান্ডার বললে, আসল কথা কি জানো, আচার-অনুষ্ঠানটা বাইরের জিনিস। তার পেছনের যে ফিলজফি সেইটে না বুঝলে কিছুই বোঝা হয় না। তার জন্যে সময় দরকার। দরকার সহানুভূতির। এ ট্যুরিস্টের কাজ নয়।

    আলেকজান্ডার উৎসাহের সঙ্গে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল।

    হঠাৎ সাইরেন বেজে উঠলো আহত কুকুরের আর্তনাদের মতো।

    চক্ষের পলকে এত বড় হল-ঘরের সমস্ত আলো নিভে গেল। শুধু দু’প্রান্তে দুটি আলো মিটমিট করে জ্বলতে লাগলো। এক মুহূর্তে সমস্ত পরিবেশ যেন ভয়ে ও দুর্ভাবনায় স্তব্ধ হয়ে গেল!

    সাইরেন অনেকক্ষণ ধরে কারে-কারে কেঁদে চুপ করলো।

    কোথাও একটা শব্দ নেই।

    বাইরে রাজপথের যান-বাহন, জন-কোলাহল বন্ধ হয়ে গেছে।

    সকলে রুদ্ধ-নিশ্বাসে প্রতীক্ষা করতে লাগলো।

    কিসের? মৃত্যুর?

    এরোপ্লেনে চড়ে আসছে মৃত্যুর দূত। বিজ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ দান! অদৃশ্য ঊর্ধ্বলোক থেকে করবে মৃত্যুবর্ষণ। বাড়ি উড়ে যাবে। মাঠ পুকুর হয়ে যাবে। আর মানুষ মরবে কীটের মতো।

    আহত কুকুরের আর্তনাদ থেমেছে। চারদিক নিস্তব্ধ। শোনা যাচ্ছে, শুধু নিজের হৃৎপিণ্ডে হাতুড়ী-পেটার মতো শব্দ।

    এমনি কাটলো মিনিট দশেক।

    তারপরে,—

    দুমদুম… দুমদুম…

    খুব দূরে…অস্পষ্ট ভাবে—

    ওই! আলো নেবাও, আলো নেবাও!

    হলের দুই প্রান্তে যে দুটো আলো জ্বলছিল, তাও নিবিয়ে দেওয়া হোল। কে জানে, এই আলো কোনো ছিদ্রপথে যদি বাইরে যায়। মৃত্যুদূতের মোটামোটা ফীল্ডগ্লাসপরা চোখের দৃষ্টি শকুনের মতো তীক্ষ্ণ।

    গুম্… গুড়ুম্…

    আরম্ভ হয়ে গেল।

    খুব দূরে বোধ হয় নয়। হয়তো ড্যালহৌসী স্কোয়ারে কিংবা ফোর্টে।

    উপর থেকে পড়ছে বোমা। নিচে থেকে ছুঁড়ছে অ্যান্টিএয়ার-ক্রাফট কামান। শব্দ হচ্ছে প্রচুর। এ বাড়ির দরজা-জানালাগুলো থেকে থেকে কেঁপে উঠছে।

    বু-উ-ম্!

    প্রচণ্ড শব্দ! এবারে যেন বেশ কাছে। ও-কোণে কে একটি মেয়ে সুতীক্ষ্ণ চীৎকার করে উঠলো।

    ভয় সবাই পেয়েছে। সুমিত্রাও। ভয়ে সে আলেকজান্ডারের একখানা হাত জড়িয়ে ধরেছে খুব জোরে। কে জানে, এ জীবনের আজকেই শেষ দিন কি না!

    তবু নিজের নিজের আসনে বসেই পুরুষেরা যথাসম্ভব শান্তকণ্ঠে ও-কোণের মেয়েটিকে সান্ত্বনা দিলে : ভয় কি, ভয় কি!

    .

    পঁয়তাল্লিশ মিনিট এমনি কাটলো।

    .

    বোঁ-ও ও ও…

    অসংখ্য মৌমাছি যেন একসঙ্গে গুঞ্জন করে উঠলো।

    অল ক্লীয়ার!

    আঃ?

    আলো, আলো!

    আলো জ্বললে দেখা গেল, ক্যাপ্টেন আলেকজান্ডার নেই,সেই সঙ্গে সুমিত্ৰাও নেই।

    অল ক্লীয়ার দিতেই কখন তারা উঠে চলে গেছে!

    শ্রীমন্ত স্তম্ভিতের মতো দাঁড়িয়ে রইলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    মহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Our Picks

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }