Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প194 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কালোঘোড়া – ২৩

    তেইশ

    শ্রীমন্তদের কালো রঙের ট্যাক্সিটা কালো কলকাতার বুক চিরে চোখ পিট পিট করতে করতে ছুটলো। প্রথমে এটর্নীর বাড়ি। সেখানে গিয়ে শুনলে তিনি এখনও ফেরেননি, চেম্বারেই রয়েছেন বোধ হয়। সুতরাং সেখান থেকে চললো হাইকোর্টপাড়ায়, এটর্নীর চেম্বারে। শ্রীমন্ত মরিয়া। সে স্থির করেছে, বায়নাপত্র না করে আজ ফিরবে না। এটর্নীকে পেতেই হবে। চেম্বারে যদি না পাওয়া যায় তাহলে যেখানে তিনি আছেন সেখান থেকে তাঁকে আনতে হবে। উপবাস-ক্লিষ্ট অজগর যেমন করে তার শিকারকে পাকে পাকে বেষ্টন করে থাকে তেমনি করে হিমাংশুবাবুর অর্ধ-অচেতন শিথিল দেহটাকে সে জড়িয়ে ধরে আছে।

    ভাগ্যক্রমে এটর্নীকে তার চেম্বারেই পাওয়া গেল।

    রায়বাহাদুর পান্নালাল ঝুনঝুনওয়ালার একটা জটিল মামলা নিয়ে তিনি ব্যারিস্টারের সঙ্গে পরামর্শ করতে গিয়েছিলেন। এইমাত্র রায়বাহাদুরের ম্যানেজারকে নিয়ে সেখান থেকে ফিরেছেন।

    সিঁড়ির মাথাতেই সে খবর শুনে শ্রীমন্ত আশান্বিত হয়ে মা-কালীর উদ্দেশে যুক্তকর ললাটে ঠেকাল। মনে মনে প্রার্থনা জানাল, তার অভীপ্সা যেন পূর্ণ হয়, পূর্ণ হয়।

    ট্যাক্সি থেকে সযত্নে হিমাংশুবাবুকে নামিয়ে সে উপরের বসবার ঘরে একটা ঈজিচেয়ারে তাঁকে শুইয়ে দিলে। বেয়ারাটার হাতে একটা টাকা দিয়ে বললে, এঁর দিকে লক্ষ্য রাখবে যে পড়ে না যান।

    তারপর এটর্নীর ঘরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করলে।

    —কি খবর শ্রীমন্তবাবু? অসময়ে দর্শন?—এটর্নী সহাস্যে জিজ্ঞাসা করলেন।

    –একটা জরুরী কাজ ছিল। একটু গোপনীয়।—বলে শ্রীমন্ত রায়বাহাদুরের ম্যানেজারের দিকে চাইলে।

    এটর্নী অফিসে গোপনীয়তার বালাই বড় একটা নেই। সবাই পাশাপাশি বসে নিজের নিজের মামলার কথা বলে। নিরিবিলি আলোচনা করার সময় কোথায়। কেবল সুবিধা এই যে, কে কাকে চেনে! সবাই নিজের নিজের তালে রয়েছে। অন্যের ব্যাপারে উৎসাহের অবসর নেই।

    কিন্তু ম্যানেজারের কাজ শেষ হয়ে এসেছিল। ফিরে গিয়ে মনিবের কাছে তাঁকে মামলার বিবরণ দাখিল করতে হবে। তিনি এ নিয়ে খুব উৎকণ্ঠিত আছেন। কয়েক লক্ষ টাকার মামলা। এর মধ্যে তিনি টেলিফোনও করেছেন।

    সুতরাং এই সুযোগে ম্যানেজার উঠলেন। নমস্কার জানিয়ে বললেন, আজ আমি উঠি দেবেশবাবু। দরকার হোলে রাত্রে টেলিফোনে আপনাকে একটু তকলিফ দিতে পারি। নয়তো কাল সকালে আপনার বাড়িতে।

    নতুন মক্কেলের আবির্ভাবে দেবেশবাবুও একটু চঞ্চল হয়ে উঠেছিলেন। বললেন, আচ্ছা, আসুন।

    ম্যানেজার চলে যেতেই তিনি শ্রীমন্তর দিকে চেয়ে সম্মিত মুখে জিজ্ঞাসা করলেন, তারপরে? বলুন তো কি ব্যাপার?

    —সেই বাড়ি কেনার ব্যাপারটা।

    —হ্যাঁ, হ্যাঁ। কতদূর এগুলেন?

    —মালিক এসেছেন। এই রাত্রেই বায়নাপত্রটা সেরে ফেলতে হবে।

    —কোথায় তিনি?

    —পাশের ঘরে। একটু অসুস্থ।

    দেবেশবাবু ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। তাঁর কণ্ঠে ঈষৎ বিরক্তির আভাসও জাগলো। বললেন, কী রকম অসুস্থ? হার্ট ট্রাবল নেই তো? দেখবেন, ফ্যাসাদে ফেলবেন না যেন। অসুস্থ অবস্থায় এখনই নিয়ে আসবার কিছু দরকার ছিল না। ছেলে মানুষ, ধৈর্য কম। এসব ব্যাপারে…চলুন, চলুন, দেখিগে তাঁকে।

    গড় গড় করে অনেক কথা বললেন তিনি। অনেক তিরস্কার করলেন। শ্রীমন্ত নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে। ধৈর্যাভাবের অভিযোগের উত্তরে তার ঠোটের কোণে হয়তো একটু হাসির রেখা বিদ্যুৎস্ফরণের মতো চমক দিয়েই মিলিয়ে গেল, হয়তো তাও না।

    শান্ত কণ্ঠে সে বললে, আজ্ঞে, না স্যার, ঠিক অসুস্থ নয়। একটু ড্রিঙ্ক করেছেন বলেই বোধ হয়।

    —ও ড্রিঙ্ক!-দেবেশবাবু আশ্বস্ত হয়ে বললেন,—আমি ভেবেছিলাম…ঠিক আছে, চলুন, চলুন।

    .

    ঈজিচেয়ারে চোখ বন্ধ করে শুয়েছিলেন হিমাংশুবাবু। একটু আগেই বিড় বিড় করে বোধহয় কিছু বলছিলেন। তার রেশটা যেন এখনও ঠোটের কোণে লেগে রয়েছে। কিন্তু নেশা তাঁকে এখনও কাবু করতে পারেনি।

    ওদের পায়ের শব্দ পেতেই তিনি চোখ মেলে চাইলেন। দেবেশবাবুর নমস্কারের উত্তরে প্রতি নমস্কার জানালেন। এবং শ্রীমন্তর দিকে চেয়ে একটু অসহিষ্ণুভাবেই বললেন, কত দেরি হে শ্রীমন্ত?

    দেবেশবাবু তিন পুরুষে এটর্নী। মাথার চুলেও পাক ধরেছে। হিমাংশুবাবুর দিকে একবার চেয়েই বুঝে নিলেন, তাঁর আভিজাত্যের আয়ু শেষ হয়ে এসেছে। শ্রীমন্ত উপলক্ষ্য মাত্র। হয়তো শ্রীমন্ত তার লোভার্ত তৎপরতায় সেই পরমায়ু আরও দ্রুত শেষ করে দিলে। হয়তো তৈলহীন প্রদীপ শুধু সলিতার জোরে আরও কিছুদিন জ্বলতো। কিন্তু তারপরে কোনো মাড়োয়ারী কিংবা কালোয়ার, কিংবা যে কোনো লোক এসে দাঁড়ালে তার শুধু নিশ্বাসেই ‘দেবধাম’ ঝুর ঝুর করে পড়ে যেত।

    শ্রীমন্তর আগেই দেবেশবাবু উত্তর দিলেন, কিছু দেরী হবে না স্যার। শুধু দলিলগুলো একবার দেখেই-

    —দলিলগুলো?- হিমাংশুবাবু শ্রীমন্তর দিকে চাইলেন।

    শ্রীমন্ত তাড়াতাড়ি বললে, এই যে, আমার কাছেই রয়েছে।

    দেবেশবাবু বললেন, তাহলে একটু এ ঘরে বিশ্রাম করুন। আমরা পাশের ঘর থেকে এক্ষুনি আসছি। চলুন শ্রীমন্তবাবু।

    শ্রীমন্ত একটু ইতস্তত করলে। বললে, উনি একলা থাকবেন?

    দেবেশবাবুও একটু ভাবলেন। বললেন, বেয়ারাটা রয়েছে।

    বলে তাকে ওঁর দিকে লক্ষ্য রাখবার জন্যে ইঙ্গিত করলেন।

    পাশের ঘরে ঢুকেই দেবেশবাবু শ্রীমন্তর পিঠ চাপড়ে বললেন, আমাকে মাফ করবেন শ্রীমন্তবাবু, আপনার সম্বন্ধে আমার হিসেবে ভুল হয়েছিল। বাহাদুর আছেন! আমি তিন পুরুষে এটর্নী, ওই বুড়োকে নিয়ে আসতে আমারও বুক কাঁপতো। সাবাস্! কিন্তু একটু অসুবিধাও যে আছে শ্রীমন্তবাবু।

    অসুবিধার নামে শ্রীমন্তর মুখ শুকিয়ে গেল। বললে, কি অসুবিধা?

    কুটিল হাস্যে দেবেশবাবু বললেন, যদি ওঁর উত্তরাধিকারীরা পরে কেউ আপত্তি করেন যে মদ খাইয়ে এই বায়না করা হয়েছে তাহলে বায়নাপত্র বাতিলও হয়ে যেতে পারে।

    শ্রীমন্তর ললাটে ভ্রুকুটি দেখা দিল। শঙ্করকে তার ভয় নেই। সে অধঃপাতের পথ খুঁজে পেয়েছে। কিছু টাকা দিয়ে তার মুখ বন্ধ করা খুব কঠিন হবে না। ভয় সুবিমলকে। তার পক্ষে বাধা সৃষ্টি করা অসম্ভব নয়। সে ধনীর সন্তান, শিক্ষিত, প্রভাব-প্রতিপত্তিও যথেষ্ট।

    শ্রীমন্তর ললাটে ভ্রকুটি আরও ঘনীভূত হোল।

    সে পারে। কিন্তু করবে না, অথবা করার উৎসাহ বোধ করবে না যদি হৈমন্তী না বাঁচে। কে জানে হৈমন্তী বাঁচবে কি না। কে জানে তার অসুখটাই বা কি।

    দেখতে দেখতে শ্রীমন্তর ছোট ছোট চোখদুটো যেন চিক চিক করে জ্বলতে লাগলো, নাক দিয়ে গরম নিঃশ্বাস জোরে বইতে লাগলো। চোয়ালে চোয়াল ঘষে সে মনে মনে বললে, শঙ্কর হোক, হৈমন্তী হোক, সুবিমল হোক, আর বড়বাবু নিজেই হোক, তার ওঠবার পথে যে এসে দাঁড়াবে, সে মরবে।

    কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে সে সামলে নিলে। মুচকি হেসে বললে, সম্পত্তি করতে গেলে ঝুঁকি তো কিছু নিতেই হবে স্যার।

    —Good!—দেবেশবাবু কুটিল উল্লাসে বললেন,—সেটা যদি বুঝে থাকেন, তাহলে আপনাকে নিয়ে আমার কিছুমাত্র অসুবিধা হবে না। তথাপি সমস্ত রকম সম্ভাবনা সম্বন্ধে আপনাকে সচেতন রাখা আমার কর্তব্য। দেখি, দলিলগুলো দিন।

    শ্রীমন্ত দলিলগুলো দিলে।

    দলিলগুলোর উপর চোখ বুলোতে বুলোতে দেবেশবাবু বললেন, এগুলোর একটা রসিদ করে দিচ্ছি। কাল বিকেলে বায়না-পত্র তৈরি থাকবে।

    শ্রীমন্ত যেন লাফিয়ে উঠলো : কাল বিকেলে কি মশাই! আজ এখনই বায়নাপত্র সই হয়ে যাবে!

    —অসম্ভব! সে কি করে হবে!

    শ্রীমন্ত দেবেশবাবুর হাতদুটো জড়িয়ে ধরে বললে, সেই অসম্ভবই সম্ভব করতে হবে দেবেশবাবু, যত রাত্রিই হোক। কাল বিকেলকে আমি বিশ্বাস করতে পারি না। তার মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ‘দেবধাম’ আমার চাই। এ সম্বন্ধে কোনো অনিশ্চয়তার ঝুঁকি নিতে আমি রাজি নই।

    দেবেশবাবু স্তব্ধ বিস্ময়ে চেয়ে দেখলেন, যুদ্ধের ঘোড়ার মতো শ্রীমন্তর নাসারন্ধ্র স্ফীত হয়ে উঠেছে। ওর চোখ ভয়ঙ্কর হিংস্রতায় চক্‌চক্ করছে।

    দেবেশবাবু হাসলেন। বললেন, শ্রীমন্তবাবু, বিশ বছর এটর্নীগিরির পরে আজ প্রথম একজন লোক পেলাম, যাকে না বলা যায় না। দেখি কি করা যায়। ইতিমধ্যে আপনি একটা কাজ করুন।

    —কি বলুন।

    —জানা উকিল আছে?

    —আছে।

    —এখন আনতে পারবেন?

    –পারতে পারি।

    —তাহলে তাঁকে নিয়ে আসুন। হিমাংশুবাবুর উকিল হিসেবে তাঁকেও এই বায়নাপত্রে সই করতে হবে।

    —তাতে কি হবে?

    —এই হবে যে, কাল হিমাংশুবাবু যদি বলেন যে, তাঁকে মদ খাইয়ে বায়নাপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাহলে হিমাংশুবাবুর উকিল হিসেবে তিনি বলতে পারবেন যে, না, তা নয়।

    শ্রীমন্তর চোখ আবার চকচক করে উঠলো,—এবারে খুশিতে।

    বললে, তাহলে আমি আর দেরি করব না।

    —না, দেরি করবেন না। কিন্তু এই ব্ল্যাক-আউটের রাত্রে যাবেন কি করে বলুন তো?

    —আমার ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি যত শীঘ্র পারি ফিরে আসব। ইতিমধ্যে হিমাংশুবাবুর দিকে কিন্তু লক্ষ্য রাখবেন।

    শ্রীমন্ত বেরিয়ে গেল।

    .

    ‘স্টেনো’কে ডেকে দেবেশবাবু বলে যেতে লাগলেন আর সে লিখে যেতে লাগলো। শেষ হতেই বললেন, ওটা একখানা স্ট্যাম্প কাগজে তখনই টাইপ করে দিতে। তারপরে তিনি গেলেন পাশের ঘরে হিমাংশুবাবুর সঙ্গে গল্প করতে।

    তিনি তখন পিছনে দুই হাত সম্বদ্ধ করে ঘরের মধ্যে চঞ্চলভাবে পদচারণা করছিলেন। দেবেশবাবুর পদশব্দে চমকে মুখ তুলে প্রশ্ন করলেন, কে আপনি?

    —আমি এটর্নী।

    —শ্রীমন্ত কোথায়?

    —তিনি একটু বেরিয়েছেন! এখনই ফিরবেন।

    —এত দেরি করছে কেন? আমাকে ফিরতে হবে তাড়াতাড়ি। হিমাংশুবাবুর কণ্ঠে বিরক্তির সুর।

    দেবেশবাবু আশ্বাস দিলেন, না দেরি হবে না। তিনি এখনই এসে পড়বেন। আপনার পক্ষ থেকে একজন উকিল দরকার। তিনি উকিল আনতে গেছেন। তাঁরা এসে পড়লেই দলিলে সই হবে। দলিল প্রায় তৈরি।

    হিমাংশুবাবু এতক্ষণ যেন অন্য লোকে ছিলেন। দলিলের কথায় তাঁর মুখের চেহারা বদলে গেল। প্রায় প্রকৃতিস্থভাবে বললেন, হ্যাঁ। বাড়ির দলিল। দেখুন, বাড়িটা আমাকে বেচতেই হবে। এ বিষয়ে আমি মনঃস্থির করেছি।

    তারপর লজ্জিত হাস্যে বললেন, এই কথাটাই আমি এতক্ষণ ধরে ভাববার প্রাণপণ চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছিলাম না, কি জন্যে এখানে এসেছি। কিছু মনে করবেন না।

    দেবেশবাবুর মনে করার কিছু ছিল না। বললেন, কিছুই মনে করিনি। আপনি ব্যস্ত হবেন না।

    কিন্তু হিমাংশুবাবু সত্যসত্যই ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। বললেন, ব্যস্ত হব না? বলেন কি! জানেন, শ্রীমন্ত আমার ছেলের মতো? আমারই বাড়িতে থেকে সে লেখাপড়া শিখেছে। আমার স্ত্রী ওকে যা স্নেহ করেন, ওর নিজের মাও তার চেয়ে বেশি করতে পারতেন না। জানেন এ সব? তা ওকে মানুষ করা সার্থক হয়েছে। শ্ৰীমন্ত সত্যিই শ্রীমন্ত। যথেষ্ট পয়সা করেছে।

    বলে গর্বিত হাস্যে দেবেশবাবুর দিকে চাইলেন।

    দেবেশবাবু এতখানি বিস্ময়ের জন্যে প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি অবাক হয়ে শ্রীমন্তর আশ্রিত-জীবনের কাহিনী শুনে যেতে লাগলেন। সায় দেবার মতো স্বরও তাঁর গলা থেকে বার হচ্ছিল না।

    ইতিমধ্যে চার গুণ ফি দেবার প্রতিশ্রুতিতে শ্রীমন্ত কোথা থেকে একজন উকিল নিয়ে এসে উপস্থিত হোল। ছিন্ন মলিন বেশধারী শীর্ণদেহ একটি উকিল।

    এই অল্প সময়েই হিমাংশুবাবুর কাছ থেকে শ্রীমন্তর যেটুকু পরিচয় দেবেশবাবু পেয়েছেন, তাতে নিঃসংশয়ে তিনি বুঝেছেন, এই লোকটির অসাধ্য কিছুই নেই। সুতরাং তাঁর সন্দেহ হোল, আগন্তুক ভদ্রলোক সত্যই উকিল কি না। এবং শ্রীমন্তকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হোল সেকথা।

    শ্রীমন্ত হেসে বললে, সে কি কথা! বাজে উকিল নিয়ে এসে নিজের স্বার্থের হানি করব এই কি আপনি বিশ্বাস করেন?

    —না তা করি না। কিন্তু আপাত- প্রয়োজনে অত্যন্ত বুদ্ধিমান লোকও অনেক সময় বেকুবি করে বসেন। তাই জিজ্ঞাসা করছিলাম। যাই হোক, রাত্রি হয়ে যাচ্ছে। কাজটা সেরে নেওয়া যাক।

    বায়নাপত্র টাইপ হয়ে গিয়েছে।

    সেটা হিমাংশুবাবুর সামনে ফেলে দিয়ে দেবেশবাবু একটা জায়গায় আঙুল দিয়ে বললেন, এইখানটায় সই করুন। ইনি আপনার উকিল, আপনার পরে ইনিও সই করবেন।

    অকস্মাৎ হিমাংশুবাবুর সমস্ত মুখভাব যেন বদলে গেল। তিনি যেন দেবেশবাবুর কথার একটা বর্ণও বুঝতে পারলেন না, এমনি ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইলেন।

    দেবেশবাবু কলমটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, নিন, সই করুন।

    হিমাংশুবাবু দৃঢ়ভাবে ঘাড় নেড়ে বললেন, না।

    এবং নিশ্চিন্তভাবে চেয়ারে ঠেস দিয়ে চোখ বন্ধ করলেন।

    সকলে অবাক।

    দেবেশবাবু বললেন, এই এক্ষুনি যে আপনি বাড়ি বেচবার জন্যে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। হঠাৎ আবার কি হোল?

    কে জানে কি হোল। মদের প্রভাবে মস্তিষ্ক যে কখন কি ভাবে কাজ করে তার হিসাব রাখা কঠিন। কি যে হোল, হিমাংশুবাবুও তা হয়তো জানেন না।

    বললেন, কিছুই হয়নি, সব ঠিক আছে। কেবল সই আজ হবে না, কাল হবে।

    শ্রীমন্তর চোখ আবার সাপের মতো জ্বলছে। মনে হোল, সে হয়তো এখনই বিদ্যুৎবেগে ছুটে গিয়ে বৃদ্ধের জীর্ণ দেহটাকে পাকে পাকে জড়িয়ে মড় মড় করে ভেঙে ফেলবে।

    দেবেশবাবু শান্ত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন, কাল কেন? আপনার ছেলের সঙ্গে একবার পরামর্শ করবেন?

    —ছেলে!—হিমাংশুবাবু গুলি-খাওয়া বাঘের মতো গর্জন করে উঠলেন—আমার ছেলেকে জানেন আপনি? একটা জোচ্চোর, লোফার, বদমাইস! তাকে জিগ্যেস করব আমি! কি বলেন আপনি! তার জন্যেই আমি এত তাড়াতাড়ি বাড়ি বিক্রির জন্যে ব্যস্ত হয়েছি।

    —তাহলে আর অনর্থক দেরি করছেন কেন?

    —না। আর দেরি করব না। দিন, সই করি।

    খস খস করে নামটা সই করেই হিমাংশুবাবু পাগলের মতো হঠাৎ অট্টহাস্য করে উঠে দাঁড়ালেন। শ্রীমন্ত আস্তে আস্তে তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে দিলে।

    দেবেশবাবু বায়নাপত্রটা উকিলের সামনে দিলেন।

    তিনি এতক্ষণ ধরে তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে ব্যাপারটা নিরীক্ষণ করছিলেন। বললেন, আমি তো এখনও ইনস্ট্রাকশন পাইনি স্যার!

    —ইন্‌স্ট্রাকশন! বিস্মিতভাবে দেবেশবাবু শ্রীমন্তর দিকে চাইলেন।

    শ্রীমন্ত পকেটে হাত দিয়ে কয়েকখানা নোট বার করতেই উকিল গম্ভীরভাবে বললেন, একশো টাকার কমে সই করব না।

    শ্রীমন্ত তৎক্ষণাৎ একশো টাকার একখানা নোট উকিলের হাতে দিতেই তিনি বললেন, ট্যাক্সি ভাড়াটা?

    নিঃশব্দে শ্রীমন্ত আরও একখানা দশ টাকার নোট তাঁর হাতে গুঁজে দিতেই তিনি প্রসন্নবদনে সই করে দিলেন।

    শ্রীমন্ত আরও কতকগুলো নোট এটর্নীর হাতে দিয়ে বললে, পাঁচ হাজার আছে।

    এটর্নী নোটগুলো হিমাংশুবাবুর হাতে দিয়ে বললেন, পাঁচ হাজার আছে, গুণে নিন।

    হিমাংশুবাবু আবার অট্টহাস্য করে উঠলেন : শ্রীমন্তর দেওয়া নোট গুনে নোব! নেশা কি বেশি হয়েছে নাকি! বলিনি শ্রীমন্ত আমার বড় ছেলে?

    খুশির আমেজ শ্রীমন্তর শিরায় শিরায় কেবল রিন রিন করে উঠছিল। হঠাৎ সে ঘামতে আরম্ভ করলে।

    দেবেশবাবু নমস্কার করে বললেন, এবারে ওঠা যাক তাহলে। আপনাদের ট্যাক্সিটা ছেড়ে দেননি তো?

    উকিলবাবু বললেন, আপনাদের ট্যাক্সিতেই আমাকে তাহলে বাড়ি পৌঁছে দেবেন স্যার।

    শ্রীমন্ত বললে, আমাকে একটু জল দিতে বলবেন?

    জল আসতেই এক গ্লাস ঢক ঢক করে নিঃশেষে পান করে শ্রীমন্ত গ্লাসটা ঠক করে টেবিলে নামিয়ে দিলে। একটুক্ষণ কি যেন ভাবলে। তারপর হিমাংশুবাবু ও উকিলের দিকে চেয়ে বললে, চলুন তাহলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    মহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Our Picks

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }