Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প194 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কালোঘোড়া – ১৭

    সতেরো

    দিন পনেরোর মধ্যে শ্রীমন্ত আর সুমিত্রার মধ্যে বিবাহ হয়ে গেল। সমারোহের সঙ্গে নয়, শান্তভাবে এবং তিন আইন অনুযায়ী। সাবালিকা কন্যার ভালোমন্দ বোঝবার উপর যথেষ্ট আস্থা থাকা সত্ত্বেও ভাদ্র মাসে তিন আইন অনুযায়ী রেজেস্ট্রি-করা বিবাহে সুমিত্রার বাপ- মা কেউ উপস্থিত হতে পারলেন না। শ্রীমন্তর বাপ-মায়ের বালাই নেই। উভয়পক্ষের একমাত্র সাক্ষী ক্যাপ্টেন হেনরী আলেকজান্ডার।

    হেনরী ওকে উপহার দিয়েছে একখানা গোলাপী রঙের বেনারসী এবং ডাকছে ‘গোলাপী বন্ধু’ বলে। আর শ্রীমন্ত নিজে দিয়েছে জড়োয়া গহনা থেকে আরম্ভ করে সাবান পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার টাকার জিনিস। মাইনে থেকে সুমিত্রাও কিছু জমিয়েছিল। তাই থেকে সে একটা হীরার আংটি দিয়েছে।

    বাপ-মা বিয়েতে আসেননি বলে সুমিত্রার দুঃখ হয়েছিল। কিন্তু সে দুঃখ এখন আর নেই। বেশ আনন্দেই সে আছে। এখন তার মনে একমাত্র প্রশ্ন, চাকরি ছেড়ে দেবে কিনা। ঘরে তার মন বসেছে, বাইরের চাকরি আর ভালো লাগে না। বিয়ের পর কোন মেয়েরই বা লাগে?

    কথাটা একদিন ও শ্রীমন্তকে বললে অফিস থেকে ফেরবার পথে।

    শ্রীমন্ত আজকাল আর অফিস থেকে বেরুতে আগের মতো দেরি করে না। যদি-বা একটু দেরী হয়, সুমিত্রা অপেক্ষা করে। আশ্চর্য এই যে, ওদের বিয়ের খবর অফিসের জনপ্রাণীও জানে না- এমন কি বড়বাবু পর্যন্ত না।

    তার ফলে বড়বাবু মাঝে মাঝে শ্রীমন্তর সামনেই সুমিত্রার সঙ্গে রসিকতা করেন। ওরা হাসে, রাগ করে না।

    ট্রামে যা ভীড় তাতে শ্রীমন্ত দূরের কথা, সুমিত্রা পর্যন্ত কোনো কোনো দিন বসবার জায়গা পায় না। সুতরাং বড় একটা কথা হয় না। একে অফিসের হাড়ভাঙা খাটুনী, তার উপর ট্রামের এই ভীড়!

    সুমিত্রা বিরক্তভাবে বললে, আর ভালো লাগে না চাকরি। মনে করছি, ছেড়ে দোব। তুমি কি বলো?

    শ্রীমন্ত বললে, যা ট্রামে ভিড়! ভদ্রতা বজায় রেখে মেয়েদের যাওয়া-আসা করাই মুশকিল।

    ওরা বাড়ী এসে গিয়েছিল। হাতের বেঁটে ছাতাটা দুলিয়ে সুমিত্রা বললে, শুধু সেই জন্যেই নয়।

    —তবে?

    সুমিত্রা একটু রহস্যময় হেসে বললে, দু’জন খেটে-খুটে আসব, চাকরে চা দেবে, এইটে আমার ভালো লাগে না।

    —কি করতে চাও তার বদলে?

    —তার বদলে আমি তোমার জন্যে সেজেগুজে তৈরি হয়ে বসে থাকব। তুমি এলে হাসি দিয়ে তোমায় অভ্যর্থনা করব, নিজের হাতে চা তৈরি করে দোব। সেই ভালো, না?

    —নিশ্চয়!শ্রীমন্ত উৎসাহের সঙ্গে বললে।

    সত্য কথা বলতে গেলে, এই বিয়েতে সব চেয়ে লাভ হয়েছে শ্রীমন্তর। শুধু যে বাড়ির চেহারাই বদলে গেছে তাই নয়, তরকারিগুলোর স্বাদ পর্যন্ত।

    একটা ঠাকুর সম্প্রতি পাওয়া গেছে। ভাগ্যের বিষয়, সেটা কালা নয়। কিন্তু রান্না যে শুধু তারই নয়, তাতে সুমিত্রার হাতেরও স্পর্শ আছে, অন্তত সুমিত্রার তত্ত্বাবধানে তা বুঝতে বিলম্ব হয় না।

    ফলে এই অল্প দিনেই শ্রীমন্তর খাওয়ায়, শোওয়ায়, বেশ আরামের বোধ এসেছে। ও বুঝতে পারে, এই আরামের রসে জারিয়ে সুমিত্রা ওকে ধীরে ধীরে কাবু করে ফেলছে। তবু আরামের লোভ শেষ পর্যন্ত ছাড়তে পারে না। জ্ঞাতসারেই ও মাকড়সার জালে আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ছে। জ্ঞাতসারে এবং স্বেচ্ছায়।

    সুমিত্রা চাকরি ছেড়ে দিলে সেই আরাম ওর আরও বাড়বে এই সম্ভাবনায় পুলকিত হয়ে বললে, তাহলে আর দেরী কোরো না। কালকেই এক মাসের নোটিশ দিয়ে দাও।

    .

    পরের দিন সকালবেলা হঠাৎ শঙ্কর এসে উপস্থিত।

    —শ্রীমন্তদা!

    শ্রীমন্ত তখন ঈজিচেয়ারে শুয়ে জোরে জোরে খবরের কাগজ পড়ছিলো। ওর চেয়ারের হাতলে বসে সুমিত্রা শুনছিলো। শঙ্কর আসতে ধীরে ধীরে উঠে পাশের চেয়ারে গিয়ে বসলো।

    —কি খবর শঙ্কর?—শ্রীমন্ত খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞাসা করলে।

    শঙ্কর তখনও হাঁফাচ্ছে। মুখ উত্তেজনায় লাল। বললে, তোমার বাড়ির সামনে একটা খুন হয়ে গেল।

    শ্রীমন্ত এবং সুমিত্রা দু’জনে এক সঙ্গে চীৎকার ক’রে উঠলো : খুন?

    —হ্যাঁ। মোড়ের মাথায় কতকগুলো ছেলে একটা ট্রাম পোড়াচ্ছিল। এমন সময়ে একটা মিলিটারি পেট্রল এসে পড়লো। ছেলেরা যে যেদিকে পারলে পালালে। মারা পড়লো ফল-ওলা।

    শুনে ওরা স্তব্ধ হয়ে গেল।

    কংগ্রেস-নেতৃবৃন্দ আটক হওয়ার পর থেকেই এই কাণ্ড চলছে। ভারতের নানাস্থানে রেলের লাইন তুলে, টেলিগ্রাফের তার কেটে রেলস্টেশনে আর পোস্টাফিস পুড়িয়ে লোকেরা একটা বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করছে। কলকাতাতেও খুব গোলযোগ আরম্ভ হয়ে মধ্যে একটা বছর বন্ধ ছিল। আবার কি নতুন করে আরম্ভ হোল নাকি?

    শ্রীমন্ত জিজ্ঞাসা করলে, তুমি এদিকে কি করতে এসেছিলে?

    —তোমার কাছেই আসছিলাম। পথে ট্রাম পোড়ানো দেখে ওরই মধ্যে মেতে গিয়েছিলাম।

    —সর্বনাশ! খবরদার ওর মধ্যেও যেও না। মারা পড়বে কোন দিন।

    সলজ্জভাবে হেসে শঙ্কর বললে, আমাদের পাড়াতেও খুব গোলযোগ চলেছে। আমাদের বাড়ির সামনে একটা কাঁদুনে বোমা ছুঁড়েছিল। আমাদের দারোয়ানটা চোখ জ্বালা করে যায় আর কি!

    —তারপরে?—সুমিত্রা সাগ্রহে জিজ্ঞাসা করলে।

    উত্তর দিতে গিয়ে শঙ্কর থমকে গেল। উত্তেজনার মুহূর্তে সে প্রথমে সুমিত্রাকে খেয়ালই করেনি। এখন সবিস্ময়ে ওর দিকে চেয়ে রইলো।

    শ্রীমন্ত হেসে বললে, তোমার বৌদিদি।

    —বৌদিদি? শঙ্কর তবু যেন বুঝতে পারছিল না।

    শ্রীমন্ত লজ্জিতভাবে বললে, অত্যন্ত তাড়াতাড়ি বিয়ে হোল, তোমাদের কাউকে জানাতে পারিনি। মাকে বোলো একদিন ওকে নিয়ে যাবো তোমাদের বাড়ি।

    তারপর সুমিত্রার দিকে চেয়ে বললে, ওর নাম শঙ্কর। ওদেরই বাড়িতে আমি মানুষ হয়েছি। শোভাবাজারের ঘোষেদের নাম শোনোনি? তাদেরই বাড়ির ছেলে!

    বিদ্যুৎবেগে অনেক কথা সুমিত্রার মাথার ভিতর দিয়ে ঘুরে গেল। বললে, বুঝেছি, তুমি হৈমন্তীর ভাই?

    —ছোটদিকে আপনি চেনেন?

    —ঠিক চিনি না, নাম শুনেছি অনেক বার। বোসো, তোমার জন্যে চা নিয়ে আসি। শেষে তোমার ছোটদির কাছে গিয়ে নিন্দে করবে, ওদের বাড়ী গেলাম, এক পেয়ালা চাও খাওয়ালে না।

    দ্রুতপদে সুমিত্রা ভিতরে চলে গেল।

    শ্রীমন্ত একদৃষ্টে সুমিত্রার মুখের দিকেই চেয়েছিল। এখন শঙ্করের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, তারপরে?

    —আরও কিছু চাল চাই যে শ্রীমন্তদা।

    —বেশ তো। কালকে দিয়ে আসব। কিছু লজ্জা কোরো না আমাকে।

    —না। লজ্জা করব কেন?

    বলে শঙ্কর বুক পকেট থেকে পাঁচখানা দশ টাকার নোট বের করলে।

    বললে, সেবারের দাম তো বলে আসোনি। মা বললেন, পঞ্চাশটা টাকা নিয়ে যা। বেশী হোলে শ্রীমন্তকে বলবি এর পরের দিন যখন আসবে যেন চেয়ে নিয়ে যায়।

    দু’মণ চালের দাম তখন ত্রিশ। কিন্তু বিনা দ্বিধায় শ্রীমন্ত সমস্ত টাকাই পকেটে ফেললে। বললে, না। মাকে বোলো এর চেয়ে বেশী লাগবে না; আর বোলো কালকেই হোক আর পরশুই হোক, আরও এক বস্তা চাল আমি সেদিনকার মতো গিয়ে দিয়ে আসব।

    খুশি হয়ে শঙ্কর উঠতে যাচ্ছিল। এমন সময় সুমিত্রা এক হাতে একটা প্লেটে খাবার, অন্য হাতে চা নিয়ে এসে ওর সামনে রাখলে।

    শঙ্কর আবার বসলো।

    খেতে-খেতে বললে, আপনারা দু’জনে একদিন কিন্তু আমাদের বাড়ি আসবেন বৌদি। নইলে মা খুব দুঃখ করবেন।

    —নিশ্চয় যাব। তোমার ছোটদি রয়েছেন তো? তাঁকে বোলো একদিন গিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ করে আসব।

    —বেশ।

    শঙ্কর চলে যাওয়ার পরে শ্রীমন্ত সুমিত্রাকে জিজ্ঞাসা করলে, ক’বারই তুমি হৈমন্তীর কথা বললে সুমিত্রা। তুমি কি তার সম্বন্ধে ‘জেলাস’ হতে আরম্ভ করলে?

    সুমিত্রা ওর ঈজিচেয়ারের হাতলের উপর বসলো।

    বললে, না। কেন বলো তো? হৈমন্তীর সঙ্গে দেখা করব শুনে কি ভয় করছে তোমার?

    —ভয় কেন করবে?

    —পাছে তার কাছ থেকে বুক-পোড়ানো মন্তরটা শিখে আসি?

    শ্রীমন্ত হাসলে। বললে, সে কি সবাই পারে?

    কথাটার মধ্যে একটা খোঁচা ছিল। সুমিত্রার বুকে বিঁধলো। এবং সুমিত্রার মুখে কে যেন মুহূর্তের মধ্যে কালি মাখিয়ে দিলে।

    শ্রীমন্ত তাড়াতাড়ি নিজের কথা সংশোধন করে বললে, তুমি হোলে ভরা বর্ষার মেঘ, আর ও হোল বজ্র। বজ্রেরই কাজ বুক পোড়ানো, মেঘের নয়।

    সুমিত্রা বুঝলে, এটা সান্ত্বনা। কিন্তু এ নিয়ে কলহ করতে তার প্রবৃত্তি হোল না। বরং প্রকাশ্যে হেসে ব্যাপারটাকে হালকাভাবে উড়িয়ে দেবারই চেষ্টা করলে।

    জিজ্ঞাসা করলে, শঙ্কর কি জন্যে এসেছিল?

    শ্রীমন্ত হেসে বললে, সে এক কলঙ্কজনক ইতিহাস। চাল পাওয়া যাচ্ছে না জানো তো? চালের অভাবে ‘দেবধামে’ বহু দাসী চাকর ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু চাল ব্ল্যাক-মার্কেট থেকে কিনে কোন রকমে চালাচ্ছেন। কিন্তু বড় বাবু পারছেন না।

    —এই ব্ল্যাক-মার্কেট কি এমনি করেই চলবে?

    —চলবে। কারণ, যারা চালের মহাজন, বেশী লাভের লোভে তারা চাল লুকিয়ে ফেলেছে। সেই চাল ব্ল্যাক-মার্কেটে চড়া দামে বিক্রি করছে।

    —চাল লুকুচ্ছে কোথায়? হাজার হাজার বস্তা চাল তো সহজ নয়। ধরা পড়ছে না কেন?

    —না। ধরা না পড়বার কৌশল জানে তারা। যেখানে ইংরেজের রাজত্ব যাবার আশঙ্কা থাকে, সেখানে গর্বনমেন্ট সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেন। ব্ল্যাক-মার্কেটে ইংরেজের রাজত্ব যাবার আশঙ্কা তো নেই। তাই অবারিত ঘুষের জোরে ব্ল্যাক-মার্কেট প্রকাশ্যেই চলেছে।

    —কিন্তু লোকের কত কষ্ট হচ্ছে?

    শ্রীমন্ত হো হো করে হেসে উঠলো।

    বললে, ভারতবর্ষে লোকের কষ্ট কবে কম সুমিত্রা? বরাবরই তো এরা পঙ্গপালের মতো জন্মায় আর পিঁপড়ের মতো মরে। এ আর একটা নতুন ব্যাপার কি?

    ওর কথা শুনে এবং বলবার ভঙ্গি দেখে সুমিত্রা স্তব্ধ হয়ে গেল।

    শ্রীমন্ত বলতে লাগলো :

    —ব্ল্যাক-মার্কেট কি শুধু বড় মহাজনই করছে ভেবেছ? ঝি-চাকরগুলো পর্যন্ত এই নেশায় মেতেছে। তারা সদলবলে এসে কন্ট্রোলের দোকান থেকে কন্ট্রোলের দরে চাল, চিনি, কেরোসিন নিচ্ছে, আর অসহায় ভদ্রলোকদের কাছে চারগুণ দামে তাই বিক্রি করছে।

    —বলো কি, তারাও?

    শ্রীমন্ত বললে, এদিকে ঝি-চাকর খোঁজো, পাবে না। বোমার ভয়ে যারা পালিয়েছিল সব ফিরে এসেছে। কিন্তু তারা এখন আর লোকের বাড়ি চাকরি করতে চাচ্ছে না। সেদিন সোমেশ কি বললে জানো?

    —কি বললে?

    —ওদের বাড়ির ঝিটা ছেলের অসুখে দেশে যাবার নাম করে সরে পড়েছে। সোমেশের স্ত্রী পাশের বস্তীর একটি স্ত্রীলোককে ডেকে বললেন, একটা ঝি দেখে দিতে পারো দিদি? একগাল হেসে স্ত্রীলোকটি বললে, দিন কতক এখন নিজেই বাসন ক’খানা মেজে নাও দিদি; ঝি আর পাওয়া যাবে না। কন্ট্রোলে দাঁড়িয়ে তারা দিনে দুটো করে টাকা রোজগার করছে। শুনলে কথা?

    সুমিত্রা স্তব্ধ হয়ে শুনলে।

    জিজ্ঞাসা করলে, লাভের নেশায় এই যে সব মানুষ উম্মাদ হয়ে ছুটে চলেছে, এর পরিণাম কি বলতে পারো?

    —মৃত্যু। লাভের নেশায় যারা ট্যাঙ্ক নিয়ে যুদ্ধে চলেছে, তাদেরও যে পরিণতি, এদেরও তাই।

    —তবে যাচ্ছে কেন?

    শ্রীমন্ত হাসলে। বললে, আলোর দিকে পতঙ্গ কেন ছোটে?

    সুমিত্রা নিঃশব্দে ভাবতে লাগলো।

    হঠাৎ এক সময় জিজ্ঞাসা করলে, শঙ্করদের যে মিহি চাল দেবে, সে চালের তোমার যোগাড় আছে?

    —আছে।

    —কি করে যোগাড় করলে গো? এক বস্তা চাল তো আজকের দিনে সামান্য ব্যাপার নয়!

    শ্রীমন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ হেসে বললে, তোমাকে এখন জানাতে সঙ্কোচ নেই, বেনামীতে তিনখানা কন্ট্রোলের দোকান আমি চালাচ্ছি। ব্যাঙ্কে যে টাকা আমার জমেছে, তার অধিকাংশই এই থেকে। আমি বুঝতে পারছি, তুমি লজ্জা পাচ্ছ। কিন্তু যুদ্ধের পরে হীরে মুক্তো সোনায় তোমার সমস্ত লজ্জা ঢেকে দোব, এই প্রতিশ্রুতি দিলাম।

    তৃপ্তির আনন্দে শ্রীমন্ত হা হা করে হাসতে লাগলো।

    .

    ট্যাক্সির পিছনে এক বস্তা চাল লুকিয়ে নিয়ে সুমিত্রা ও শ্রীমন্ত ‘দেবধাম’ রওনা হোল।

    সন্ধ্যার মুখ। সূর্যের আলো তখন নেই, কিন্তু আলোর আভা একেবারে মিলিয়ে যায়নি। তারই একটুখানি সুমিত্রার প্রসাধন-সুন্দর মুখে এসে পড়েছে।

    শ্রীমন্ত আড়চোখে চেয়ে দেখলে, সুমিত্রা আজ যেন বিশেষ করে সেজেছে। ওই জমকালো শাড়ীখানা সেদিন শ্রীমন্ত সাধ্যসাধনা করেও সুমিত্রাকে পরাতে পারেনি। এত গহনাও সুমিত্রাকে সে এর আগে কখনও পরতে দেখেনি।

    এ কি তার যোদ্ধৃবেশ?

    হৈমন্তীর সামনে সে কি তার ঐশ্বর্যের বর্মচর্ম পরিধান করে দাঁড়াতে চায়?

    শ্রীমন্ত মনে মনে হাসলে। মুখে কিছু বলতে সাহস করলে না। সুমিত্রার কাছে হৈমন্তীর প্রসঙ্গে হৈমন্তীর পক্ষ টেনে কিছু বলতে এখন সে ভয় পায়।

    সেদিনকার মতো আজও ওদের ট্যাক্সি একেবারে ‘দেবধামে’র ভিতর গাড়ি- বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। কিন্তু আজ আর শঙ্কর এলো না ওদের সম্বর্ধনা করতে।

    রঘুয়া বললে, উপরে যান বাবু। মা ডাকছেন।

    শ্রীমন্ত ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে রঘুয়াকে বললে, পিছনের ক্যারিয়ারে এক বস্তা চাল আছে। সেটা নামিয়ে নাও। খবর সব ভালো তো রঘুয়া?

    চালটা নামাতে নামাতে রঘুয়া বললে, ভালো কিছু নয় বাবু। উপরে গেলেই শুনতে পাবেন।

    শ্রীমন্তর বুক ঢিপ ঢিপ করে উঠলো : কি এমন খারাপ খবর? কে জানে কার আবার কি হোল!

    ওরা দু’জনে দ্রুতপদে দোতলায় গেল। হিমাংশুবাবুর দরজা বন্ধ। ওদিকের বারান্দায় সন্ধ্যার অন্ধকারে প্রতিমূর্তির মতো নয়নতারা স্তব্ধভাবে দাঁড়িয়ে।

    ওরা তাঁকে প্রণাম করতেই দু’জনের মাথায় হাত রেখে তিনি আশীর্বাদ করলেন।

    –এসো মা, ভিতরে এসো। অ কদম, এঘরে দু’টো আসন দিয়ে যা তো।

    —কিছু দরকার নেই মা! এই তো চমৎকার বসলাম। ওরা মেঝেতেই বসে পড়লো এবং উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে গৃহিণীর দিকে চেয়ে রইলো।

    মিনিট খানেক নিঃশব্দে থেকে নয়নতারা বললেন, শঙ্করকে পুলিসে ধরে নিয়ে গেছে।

    —শঙ্করকে!-ওরা দু’জনে চমকে উঠলো।–-কেন?

    —আমাদের দেউড়ির পাশে যে চিঠির বাক্স আছে, সেইটেতে কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে ও আগুন দিচ্ছিল।

    —তারপরে?

    —পিছন থেকে মোটরে করে পুলিস আসছিল, ওরা টের পায়নি। এসেই ওদের ধরে ফেলে।

    শ্রীমন্ত ও সুমিত্রা স্তব্ধভাবে বসে রইলো।

    নয়নতারা বললেন, ছাড়াবার জন্যে বহু চেষ্টা হচ্ছে, হয়তো ছাড়া পেয়ে যেতো। কিন্তু শঙ্কর জেলে যাবার জন্যে বদ্ধপরিকর। সে যেন ছাড়া পেতেই চায় না।

    নয়নতারা আবার বললেন, এ বাড়ির ছেলে জেলে গেল এই প্রথম। তা যাক। কিন্তু যাদের সঙ্গে মিশে জেলে গেল সেইটেই লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা কারা জানো, এ পাড়ার যত ভবঘুরে ছেলে। তাদের না আছে চাল না আছে চুলো। জীবনে কখনও ও তাদের সঙ্গে মেশেনি। তাদের চেনে কি না সন্দেহ। কেন যে এমন মতিগতি হোল!

    নয়নতারা শঙ্করের জেলে যাওয়া মার্জনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু যার-তার সঙ্গে মিশে যে জেলে গেল, এইটে কিছুতে মার্জনা করতে পারছেন না। এ-বংশের ধারা যেন ও বদলে দিতে যাচ্ছে। সেইটেই পরিপাক করা ওঁদের পক্ষে কঠিন হচ্ছে।

    সেই ভারী নিস্তব্ধতার মধ্যে অনেকক্ষণ বসে থেকে সুমিত্রা জিজ্ঞাসা করলে, হৈমন্তীদি কোথায় মা?

    নয়নতারা ব্যস্তভাবে বললেন, ওমা তাই তো! সে বোধ হয় তোমাদের আসা টেরই পায়নি। অ কদম, বৌমাকে ছোট দিদিমণির ঘরে নিয়ে যা তো। বড্ড আঘাত পেয়েছে মা সে। আজ সকালে শঙ্কর ধরা পড়লো, তার পর থেকে আর ওঠেনি। সে যে কি করে ভালোয় ভালোয় নেয়েধুয়ে উঠবে মা, আর এক চিন্তা।

    নয়নতারা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

    কদম এসে সুমিত্রাকে তেতলায় হৈমন্তীর ঘরে নিয়ে গেল।

    .

    হৈমন্তী দরজার দিকে পিছন করে খাটে শুয়ে ছিল। ওদের পায়ের শব্দে পাশ ফিরেই ধড়মড় করে উঠে বসলো। সুমিত্রার দিকে এক মুহূর্ত অবাক হয়ে সে চেয়ে রইলো। ধীরে ধীরে ওর মুখ অনাবিল হাস্যে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো।

    আস্তে আস্তে বললে, আপনার সঙ্গে অনেক ঝগড়া করবার ছিল। কিন্তু এমন একটা নিরানন্দ দিনে এলেন যে, ঝগড়া করারও মন নেই।

    সুমিত্রা বলে, শঙ্কর-ঠাকুরপোর কথা শুনলাম। কিন্তু দুঃখ করে লাভ নেই ছোটদি। যুগের হাওয়া কেউ রোধ করতে পারে না। নইলে রায়বাহাদুরের বংশধর সাধারণের ছেলেদের সঙ্গে এক দড়িতে বাঁধা পড়ে?

    –কেন এমন হচ্ছে, বৌদি?

    –কি জানি ভাই। কিন্তু হচ্ছে,–শুধু এখানেই নয়, পৃথিবী জুড়ে সর্বত্রই এই হচ্ছে। নীল রক্তের আভিজাত্য আর বুঝি থাকে না।

    —আমাদের অপরাধ কি?

    —মানুষকে দূরে ঠেকিয়ে রাখা মস্ত বড় অপরাধ দিদি। দীর্ঘকালের সঞ্চয়ে সেই অপরাধ পর্বতপ্রমাণ হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর ভারকেন্দ্র আজ টলেছে। তাইতেই বুঝি এই বিপর্যয়।

    একটুক্ষণ চিন্তা করে হৈমন্তী জিজ্ঞাসা করলে, শঙ্করকে কি ছাড়ানো যাবে না?

    –জেলের থেকে? কেন যাবে না? এই শহরে আপনাদের কত বড় বড় আত্মীয়- স্বজন। তাকে ছাড়িয়ে আনা কিছু কঠিন নয়। কিন্তু আমার কি মনে হচ্ছে জানেন? তার মধ্যে নীল রক্তের ধারা বোধ করি স্তিমিত হয়ে এসেছে। আমার সন্দেহ হয়, ‘দেবধামের’ উত্তরাধিকারীকে আপনারা আর কোনো দিন ফিরে পাবেন না।

    —ওসব কথা বলবেন না বৌদি। আমার বড় ভয় করে।

    —ভয়েরই তো কথা ছোটদি। সেইজন্যেই মায়ের কাছে আমি চুপ করে ছিলাম। আপনাকে বলছি এই জন্যে যে, আপনি হয়তো প্রকৃত অবস্থা বুঝবেন।

    হৈমন্তী উষ্মার সঙ্গে বললে, ‘দেবধানে’ নীল রক্ত শেষ হয়ে আসছে, একথা বুঝতে আমার ভালো লাগবে, এ আপনি কেমন করে প্রত্যাশা করেন?

    সুমিত্রা হাসলে। বললে, ভালো লাগার কথা নয় ছোটদি। ভালো লাগবে না তাও জানি। তবু তৈরী থাকা ভালো। তাতে আঘাত কম লাগে।

    হৈমন্তী হঠাৎ চটে গেল। তার চোখ দপ্ করে জ্বলে উঠলো। বললে, এসে পর্যন্ত তুমি শক্ত শক্ত কথা শোনাচ্ছ কেন জানিনে বৌদি। ওসব আমার ভালো লাগে না।

    গ্রীবা বেঁকিয়ে হৈমন্তী গুম হয়ে বসে রইলো।

    সুমিত্রা এবার জোরে জোরে হেসে উঠলো। বললে, কী সুন্দর! তোমার এই রূপ দেখবার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলাম ছোটদি। এতক্ষণে দেখতে পেলাম।

    হৈমন্তী অবাক হয়ে ওর দিকে চেয়ে রইলো।

    সুমিত্রা ওকে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে বলতে লাগলো : যেদিন থেকে তোমার কথা শুনেছি, তোমাকে কল্পনা করেছি হোমাগ্নি শিখার মতো। এসে দেখি, সেই শিখা জ্যোতিহীন, ধোঁয়ায় মলিন। দুঃখ হোল। ভাবলাম, প্রথম দিনে তোমার এই মলিন রূপ দেখেই ফিরে যেতে হবে? ভাগ্য ভালো, তুমি প্রসন্ন হোলে। তোমার চোখে আগুন দেখতে পেলাম।

    হৈমন্তী বললে, কী পাগলের মতো এলোমেলো বকছ বৌদি?

    সুমিত্রা প্রাণপণবলে ওকে জড়িয়ে ধরে বললে, এলোমেলোই বটে। এ তুমি বুঝবে না, বোঝবার চেষ্টাও কোরো না। তোমাকে আমি কত রাত্রি স্বপ্ন দেখেছি জানো?

    —স্বপ্ন দেখেছ? আমাকে?—হৈমন্তীর বিস্ময়ের আর শেষ নেই।

    —হ্যাঁ, তোমাকে। সংসারে একটিমাত্র মেয়ে, যাকে আমি সুমিত্রা—স্বপ্ন দেখি। –কেন বলো তো?

    —তোমার শক্তি আমাকে অভিভূত করেছে।

    —আমার শক্তি? আমাকে তো তুমি চিনতেই না বৌদি! আমার শক্তির তুমি কী জানো!

    সুমিত্রা হঠাৎ নিজেকে সামলে নিলে। হেসে বললে, বিশেষ কিছুই জানিনে ছোটদি, তবু তোমাকে আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু বকে-বকে গলা যে শুকিয়ে গেল। একটু চা-ও কি খাওয়াবে না?

    হৈমন্তী হেসে বললে, আমার অন্নপূর্ণা মায়ের সঙ্গে যখন দেখা হয়েছে, তখন ভয় কিছুই নেই। ওই দেখ, কদম চা এনেছে দু’জনেরই। রাত্রে নিশ্চয় খেয়েও যেতে হবে। শ্রীমন্তদা কোথায় কদম?

    —বাবুর ঘরে।

    কদম টিপয়ের উপর দু’জনের চা খাবার নামিয়ে দিয়ে গেল।

    শ্রীমন্ত আবার বাবুর ঘরে! হৈমন্তী ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু কিছু বললে না।

    .

    ট্যাক্সিতে বসে শ্রীমন্ত প্রথম কথা কইলো : বড়বাবু একেবারে মুষড়ে গেছেন। মুহুর্মুহু শুধু মদ খাচ্ছেন আর কাঁদছেন।

    সুমিত্রা বোধকরি অন্যমনস্ক ছিল। বললে,

    শ্রীমন্ত বলতে লাগলো, শুধু ছেলের জেলই নয়। সংসারের অবস্থাও ভালো নয়। দু’লক্ষ টাকার দু’টো ডিক্রি ঝুলছে। এটর্নী জানা লোক। তাঁকে বলেকয়ে কোনরকমে থামিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু আর বোধ হয় থামানো যায় না। জমিদারীর কিছু কিছু বিক্রি হয়ে গেছে। বাকিও বুঝি যায়। বড়বাবুর ধারণা, এই দুঃখেই শঙ্কর জেলে গেছে। বোধ হয় ভেবেছে, নিজের চোখে সেই সর্বনাশ দেখার চেয়ে জেলে বসে থাকা ভালো।

    অন্যমনস্কভাবেই সুমিত্রা আবার বললে, হুঁ।

    —আমি বলে এলাম, জমিদারী আপনার একটা আয়। এটা রাখতেই হবে। বাড়িখানা বিক্রি করে দিন। এ বাজারে ওর দাম তিন লক্ষ টাকার কাছাকাছি হবে। এত বড় বাড়ির কোন দরকার নেই। দেনা শোধ করে বাকি টাকা দিয়ে একটা ছোট বাড়ি কিনুন। তাতে খরচও অনেক বাঁচবে। ভদ্রলোক হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলেন।

    কান্নার কথায় সুমিত্রা চমকে উঠলো। বললে, কে কাঁদলে?

    –বড়বাবু।

    –কেন?

    —কি বলো? কত পুরুষের ‘দেবধাম’। ওঁদের সমস্ত মর্যাদা, সমস্ত আভিজাত্য ওই বাড়ীর ইটের সঙ্গে গাঁথা। সেই বাড়ি বিক্রি করার কথায় কে না কেঁদে পারে?

    সুমিত্রা নিঃশব্দে ব্যাপারটা বোঝবার চেষ্টা করতে লাগলো।

    শ্রীমন্ত নড়েচড়ে বেশ শক্ত হয়ে বসে বললে, কিন্তু বাড়ি ওঁকে বিক্রি করতেই হবে। না করলে ওঁকে জমিদারীও বিক্রি করতে হবে, বাড়িও।

    সুমিত্রা শান্তকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলে, দেনা কি খুবই বেশি হয়েছে?

    —বেশি হয়নি? দু’লক্ষ টাকার তো ডিক্রিই ঝুলছে। আরও কত আছে কে জানে? আমার বিশ্বাস, আরও অন্তত লাখখানেক টাকার আছেই।

    সুমিত্রা সাড়া দিলে না। বাইরের দিকে চেয়ে রইলো।

    একটু পরে শ্রীমন্ত হঠাৎ জোরের সঙ্গে বললে, বাড়িটা ওঁকে বিক্রি করতেই হবে। ওটা আমার চাই।

    সুমিত্রা অবাক হয়ে ওর দিকে মুখ ফিরিয়ে চাইলে! বললে, ওর তো অনেক টাকা দাম!

    —তার জন্যে চিন্তা করি না। সে জোগাড় হয়ে যাবে।—শ্রীমন্ত অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাসল।

    বললে, আজ বলামাত্র কেঁদে ফেললেন। আর একদিন এসে ভালো করে বোঝাতে হবে। মাড়োয়ারীর হাতে যাওয়ার আগে আমার হাতে আনতে হবে।

    —ওই পুরোনো বাড়ীর উপর তোমার এত লোভ কেন? তুমিও কি আর একটা অভিজাত বংশের পত্তন করতে চাও?

    —না। আভিজাত্যের পরিণতি আমি অনেক দেখেছি। কিন্তু যখন ভাবি এই বাড়িতে অনুগৃহীত অনাথ বালকের মতো আমি মানুষ হয়েছি, তখন ওর মালিক হবার জন্যে আমার লোভ দুর্জয় হয়ে ওঠে।

    বাকি পথটুকু ওরা দু’জনে নিঃশব্দে চললো। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই শ্ৰীমন্ত সচেতন হয়ে উঠলো। ড্রাইভারকে বললে, রোকো, ওই সামনের বারান্দাওয়ালা বাড়ি।

    —এর মধ্যে এসে গেছি?

    মন্ত্রাভিভূতের মতো সুমিত্রা উঠলো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ওর দিকে একবার চেয়ে শ্রীমন্ত ট্যাক্সির ভাড়াটা মিটিয়ে দিলে।

    সিঁড়িতে উঠতে উঠতে বললে, তুমি কি ভাবছ বলো তো?

    –কী হবে শুনে?—সুমিত্রা উত্তর দিলে।

    —শুনি না!

    —তোমার হৈমন্তীর কথা।

    —আমার হৈমন্তী? —শ্রীমন্তর কণ্ঠস্বরে অপরিসীম বিস্ময়।

    পাখাটা খুলে দিয়ে শ্রীমন্তর চেয়ারটা ঘুরে ওদিকের চেয়ারে গিয়ে সুমিত্রা বসলো।

    বললে, হ্যাঁ গো, তোমারই হৈমন্তী। ওই তো ‘দেবধামের’ আত্মা। তাই তো ‘দেবধামের’ উপর তোমার লোভ এত দুর্জয়! দাঁড়াও, একটু কফির ব্যবস্থা করে আসি।

    হাওয়ায় শাড়ীর তরঙ্গ তুলে সুমিত্রা ভিতরে গেল।

    .

    ফিরে এসে সুমিত্রা নিচের ঠোঁটটা দাঁত দিয়ে চেপে ধরে নিঃশব্দে দুষ্টমিভরা হাসতে লাগলো।

    শ্রীমন্ত জিজ্ঞাসা করলে, হাসো কেন?

    সুমিত্রা জবাব দিলে না। আরাম কেদারায় একটা লোভনীয় এলায়িত ভঙ্গিতে বসে শুধু তেমনি করে হাসতে লাগলো।

    —বলো না কেন হাসছ?

    –শুনবে? হৈমন্তীর চোখে আমিও আগুন দেখে এলাম।

    —আগুন?

    —হ্যাঁ, হ্যাঁ, আগুন। যে-আগুনে তুমি পুড়েছ, বোধ করি ‘দেবধাম’ও পুড়বে। সে কী সুন্দর!

    চায়ের পেয়ালা শ্রীমন্ত মুখে তুলেছিলো, আবার নামালে। বিস্ময়ের সঙ্গে বললে, মাঝে মাঝে তুমি কী যে হেঁয়ালি বলো সুমিত্রা, আমি খেই পাইনে। আগুন তুমি কাকে বলছ?

    —সে তুমি বুঝবে না। হৈমন্তীও বুঝতে পারেনি। হৈমন্তী জানে, তোমার কাছে সে হেরেছে। তুমি পাথরের, তুমি হৃদয়হীন, তুমি সাপের চেয়েও ক্রর। কিন্তু আমি জানি, সে হারেনি, জিতেছে। তুমি যে পাথরের সে আমিও জানি। কিন্তু আমি আরও জানি যে, এই পাথরও সে টলিয়েছে। তার চোখের আগুনের দিকে চেয়ে সাপও মুহূর্তকালের জন্যে মুগ্ধ হয়ে ফণা তুলে দাঁড়িয়েছে।

    —এসব কী কথা বলছ তুমি? -শ্রীমন্ত চীৎকার করে উঠলো।

    একটা হাত তুলে সুমিত্রা তাকে চুপ করতে ইঙ্গিত করলে।

    বললে, থামো। তোমার সব কথা আমি জানি। নেশার ঘোরে তোমার সমস্ত বেদনার কথাই আমাকে শুনিয়েছ। লজ্জা পাচ্ছ? তোমারও লজ্জা আছে?

    সুমিত্রা জোরে জোরে হেসে উঠলো।

    বললে, হৈমন্তীকে দেখলাম। নিজেকেও চিনি। যখন ভাবি আমাদের মতো মেয়ে কি করে তোমার মত হৃদয়হীন পাষণ্ডের মুঠোর মধ্যে গিয়ে পড়লাম, তখন আর কিনারা পাইনে। তুমি কি রাগ করছ?

    —না। অতি-প্রশংসায় ভিতরে ভিতরে বিগলিত হচ্ছি। কিন্তু তুমি একথা বলছ সুমিত্রা?

    —অর্থাৎ মন্দকে মন্দ বলার অধিকার শুধু তাদেরই আছে যারা নিষ্কলঙ্ক। এই কথা বলতে চাও তো? তাহলে শোনো, ভালো আমিও নই। আমাদের বর্তমান সমাজের ভালো- মন্দের বিচারে আমার স্থান যে অনেক নিচে, সে আমি জানি। তবু বলি, আমি তোমার মতো পাষণ্ড নই। আমার হৃদয় আছে।

    কঠিন কণ্ঠে শ্রীমন্ত বললে, এই নূতন সংবাদের জন্যে ধন্যবাদ সুমিত্রা। তোমার হৃদয়ের কথাটা জানা রইলো, ভালই হোল।

    সুমিত্রার সমস্ত মন আজ যেন একটা প্রচণ্ড শক্তিতে কাজ করছে। বিদ্রূপ শেষ হবার আগেই তার মন হৈমন্তীর দিক থেকে তেমনি প্রচণ্ড বেগে শঙ্করের দিকে ধাবিত হোল। শ্রীমন্তর কথা বোধ করি তার কানেই গেল না।

    বললো, হ্যাঁগো, শঙ্করকে ছাড়াবার কি করছ?

    বিস্ময়ে শ্রীমন্তর চোখ কপালে উঠলো :

    —তুমি কী পাগলের মতো বকতে আরম্ভ করলে আজ! স্নেহাংশু ঘোষের নাতি, হিমাংশু ঘোষের ছেলেকে ছাড়িয়ে আনব আমি?

    —হ্যাঁ তুমি। এ ব্যাপারে তোমার চেয়ে যোগ্য লোক আর কেউ নেই। মানুষের পায়ে হাত দিতেও যতক্ষণ, ঘাড়ে হাত দিতেও ততক্ষণ। বিশেষ তিনখানা কন্ট্রোলের দোকান তুমি চালাচ্ছ! বহু লোকের সঙ্গে তোমার ডান-হাত বাঁ-হাতের সম্পর্ক। এ কাজ তোমার মতো সহজে আর কেউ পারবে না। কালকেই তোমাকে চেষ্টা করতে হবে। করবে কি না বলো?

    এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে শ্রীমন্ত বললে, করবো চেষ্টা। কিন্তু সে কেন জেলে গেছে জানো?

    —শুনেছি।

    —যদি সে ছাড়া পেতে না চায়?

    —তবু তাকে ছাড়িয়ে আনতেই হবে, বুঝিয়ে সুঝিয়ে যেমন করে হোক। বুঝলে?

    –বুঝলাম?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    মহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Our Picks

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }