Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প194 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কালোঘোড়া – ১১

    এগারো

    ১৯৪২ সালের ডিসেম্বর।

    সে এক স্মরণীয় দিন।

    রাত্রে ফুটফুটে জ্যোৎস্না। চাঁদ ওঠার দু’ঘণ্টা পরেই বাজে সাইরেন। ভীত মানুষ যে যেখানে পারে, আশ্রয় নেয়। জাপানী এরোপ্লেন আসে শহরের মাথায়। বোমা পড়ে,—কখনও শহরের ভিতরে, কখনও বাহিরের শিল্পাঞ্চলে; পরদিন সকাল থেকে আরম্ভ হয় শহর ছাড়বার ধুম।

    হাওড়া আর শিয়ালদহ,—দু’দিকের দুটো স্টেশনে সমস্ত দিন রাত্রি জনসমুদ্র গর্জন করছে। ট্রেনের সংখ্যা কমে গেছে। নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট সকালের দিকে কিছুক্ষণের জন্যে বিক্রি হয়! সে আর ক’খানা? তারপরে সারাদিন চলে ঘুষের খেলা। ধনীরা মুঠো- মুঠো নোট দেয় গুঁজে, ট্রেনে ওঠবার তাড়ায়, শহর থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাবার ব্যাকুলতায়।

    মধ্যবিত্তেরাও দিচ্ছে তাদের সর্বস্ব উজাড় করে। যারা চালাক, তারা ফন্দিফিকির খুঁজছে। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসবার আগেই কেউ বা দু’টাকা ঘুষ দিয়ে, কেউ বা লুকিয়ে বেড়া টপকে ইয়ার্ডে গিয়ে ঢুকছে।

    যারা পারছে না তারা স্টেশনের প্রবেশপথে অপমানিত হচ্ছে, মার খাচ্ছে। যারা জখম হচ্ছে, দয়া করে তাদের স্টেশনে ফার্স্ট এড দেওয়া হচ্ছে এবং স্ট্রেচারে করে নিয়ে গিয়ে ট্রেনে উঠিয়েও দেওয়া হচ্ছে। তাদের আহত বিবর্ণ মুখে তখন পরিতৃপ্তির কী হাসি!

    এত ঝামেলা যারা পোয়াতে রাজি নয়, তারা চলছে হেঁটে। কেউ কেউ সপরিবারেই।

    নিরবচ্ছিন্ন ধারায় চলেছে মূষিকের মতো মানুষের দল।

    কারও মাথায় পাগড়ি, কারও হাতে লাঠি, কারও বাঁক—তাতে তার সমস্ত সম্পত্তি। কেউ চলেছে একা, কেউ সপরিবারে, কচি-কাচা ছেলেপুলে নিয়ে, কারও সঙ্গে গরু- বাছুর-মহিষ।

    জনতার যেন আর শেষ নেই!

    দেখতে দেখতে চোখ ক্লান্ত হয়ে আসে। এত লোকও এই কলকাতা শহরে ছিল? চলেছে তো চলছেই। এর আর ছেদ নেই। চৌবাচ্চা খুলে দিলে যেমন হুড় হুড় করে জল বেরিয়ে যায়, এই দুটি নির্গমপথ দিয়ে তেমনি হুড় হুড় করে লোক বেরিয়ে চলেছে।

    এ ছাড়া নদীপথও আছে। নৌকা ভাড়া করেও বহু পরিবার চলে যাচ্ছে। তিন ঘণ্টার পথ, তিন দিনে পৌঁছুবে। কি আর করা যায়? হাঁটবার শক্তি নেই, ট্রেনে ভিড় ঠেলাও অসম্ভব। তার চেয়ে তিন দিন, তিন দিনই সই।

    যারা রইল তাদের অবস্থাও সুখকর নয়।

    সকাল হোলেই রকম-বেরকমের গুজব উঠছে। সে-সমস্ত শুনলেও বুকের রক্ত হিম হয়ে যায়। সন্ধ্যা হোলে যখন পথের লোক যায় বিরল হয়ে, পল্লী স্তব্ধ হয়ে আসে, —তখন ঘরের মধ্যে বসে থেকেও গা ছমছম করে। ঘুম আসে না, কখন সাইরেন বাজে!

    এই সাইরেন!

    আহত মুমূর্ষু কুকুরের আর্তনাদের মতো এই যে ডাক,—বোমার চেয়েও সে ডাক ভয়ঙ্কর। শুনলে মুখ শুকিয়ে যায়, হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়, দেহের গাঁটে গাঁটে ঝিনঝিনি ধরে।

    যেন শ্মশানের প্রেতের আর্তনাদ।

    শ্রীমন্ত কোথাও যায় নি।

    সে অবশ্য বড় কথা নয়। যারা পালাচ্ছে তাদের মধ্যে ঝি-চাকর, রিকশওলা- ঘোড়াগাড়িওলা, ফিরিওলা, কুলী-মজুর আর ছোট-বড়-মাঝারি ব্যবসাদারের সংখ্যাই বেশি। চাকুরি-জীবি সম্প্রদায়ের মধ্যে খুব কমই পালাচ্ছে। তারা যে সাহসী বেশি বলে পালাচ্ছে না তা নয়, এখনই-এখনই চাকরি ছেড়ে পালানো তারা শ্রেয় মনে করছে না। তারাও পালাবে। সত্য কথা বলতে কি, পালাবার জন্যে তারা সকল সময় তৈরি হয়েই রয়েছে। কেবল আরেকটু না দেখে পালাতে প্রস্তুত নয়।

    সুতরাং শ্রীমন্ত যে পালায়নি তাতে আশ্চর্যের কিছুই নেই। তাদের অফিসের মোটে তিনজন ছাড়া আর কেউ পালায়নি। আশ্চর্য এইখানে যে, সে বলে, তার ভয় করে না।

    কলকাতা শহরে এখন বাড়ির অভাব নেই। সস্তায় চমৎকার একখানা বাড়ি সে ভাড়া করেছে।

    সেই রাত্রের পর হোটেলে বড় একটা আর যায় না। সন্ধ্যার পরে আজকাল বাইরে কোথাও বেরুনো ঠিক নয়। অফিসেও আজকাল সে আর অত রাত্রি করে না। সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসে।

    হাত মুখ ধুয়ে পোশাক ছেড়ে আজকাল সে বাইরের বারান্দায় এসে বসে।

    মেয়েছেলে দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেবার পর বাড়ি পাহারা দেবার কাজ় বড়বাবুর কমেছে। তিনিও মাঝে মাঝে আসেন। মাঝে মাঝে আসে আলেকজান্ডার। তার সঙ্গে শ্রীমন্তরও খুব ভালো জমেছে। দু’জনে দু’জনকে নাম ধরেই আজকাল ডাকে। শ্রীমন্ত ডাকে হেনরি বলে, আর আলেকজান্ডার বলে মন্টি।

    ওদের দু’জনের এই ঘনিষ্ঠতায় সুমিত্রা খুশি নয়।

    শ্রীমন্ত তা বুঝতে পারে। কিন্তু কি করবে? রাগ ওর আসে না, ওর মনে ‘জেলাসি’ বলে কিছু নেই। মনের ‘ফ্রন্টে’ সুমিত্রা ক্রমাগত সৈন্য-সমাবেশ করছে। কিন্তু শ্রীমন্তর সেজন্যে কিছুমাত্র দুশ্চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। সে যুদ্ধ করবেই না।

    এমনি কি সেই হাওয়াই-হামলার রাত্রে সুমিত্রা যে হেনরির সঙ্গে কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেল, তাকে একলা ফেলে রেখে, তার জন্যে আজ পর্যন্ত কোনো দিন একটা কৈফিয়ৎও সে চায়নি।

    সুমিত্রা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে একটা কৈফিয়ৎ হয়তো দিতে চেয়েছে। কিন্তু তার ভণিতাতেই আন্দাজ পেয়ে শ্রীমন্ত তাড়াতাড়ি অন্য বিষয়ের অবতারণা করেছে।

    ভেবে পায় না সুমিত্রা, এ রাগ, না অভিমান, না ঔদাসীন্য?

    শুধু শ্রীমন্ত জানে, ওসব কিছুই নয়। হৃদয়বৃত্তির চর্চা করার সময় তার নেই। জীবনের গতিপথে কালো ঘোড়ার মতো সে ছুটে চলেছে আপন লক্ষ্যের দিকে। তার ভাগ্যদেবতাই জানে, সেখানে তার জন্যে কি সঞ্চিত হয়ে রয়েছে—অভিশাপ, না আশীর্বাদ। যা-ই থাক, সে-ই তার একান্ত লক্ষ্য। এ পথে হৃদয়ের কোনো স্থান নেই।

    মানুষের মূল্য তার কাছে প্রয়োজনের তুলাদণ্ডে ওজন করা হয়। কারবার চলে ‘cash and carry’-র। তার মধ্যে রাগ-অভিমানের বালাই নেই।

    বড়বাবু, সুমিত্রা, হেনরি, এদেরকে তার প্রয়োজন। সেই হিসাবেই এদের সে খাতির করে, যত্ন করে এবং এদের পিছনে খরচও করে। তার জন্যে ওরা সবাই খুশি।

    বাদে সুমিত্রা। সেই কেবল মাঝে মাঝে বিগড়ে যায়। মাঝে মাঝে বুঝতে পারে না শ্রীমন্তর ব্যবহারে সে চটবে কি খুশি হবে। পুরুষমানুষের মনে ‘জেলাসি’র বাষ্প পর্যন্ত নেই, একথা ভাবতেও ওর অবাক লাগে।

    এ কি করে সম্ভব হয়?

    সুমিত্রা ভাবে, কিন্তু ভেবেও কোন কিনারা পায় না।

    প্রতিদিনের মতো আজকেও শ্রীমন্ত অফিস থেকে ফিরে বারান্দার উপর থেকে চলমান জনতা দেখছিল।

    প্রথমে দু’দিনের পরে জনতা অনেক ফিকে হয়ে এসেছে। তবু এখনও কম নয়। সেই জনতার স্রোতে তার মন করবী ফুলের মতো নিরুদ্দেশে ভেসে চলেছে।

    হঠাৎ পিছন থেকে তার পিঠের উপর একটা টোকা পড়লো।

    —সুমিত্রা? এসো, বসো।

    শ্রীমন্ত খুশি হয়ে উঠলো। তার মন কোনো কারণেই এমন করে ভেসে চলে, এ সে সহ্য করতে পারে না। সুমিত্রা এলো, ভালোই হোল। একটা নোঙ্গরের তার দরকার ছিল।

    —কি দেখছিলে? জনতা?

    —হ্যাঁ।

    শ্রীমন্ত পাশের চেয়ারে বসে বললে, দেখছিলাম, ওদের মুখে কি লেখা রয়েছে।

    —কি দেখলে?

    —দেখলাম, শুধু ভয় নয়।

    —তবে?

    —পিছন থেকে ভয়ের একটা ঠেলা অবশ্য আছেই। কিন্তু সেই সঙ্গে সামনের একটা টানও আছে।

    —সে টানটা কিসের?

    —বুঝলে না? গেল বারে ইভ্যাকুয়েশ্যনে যাদের বাইরে পাঠিয়েছে, মা-বাপ-স্ত্রী- পুত্র-কন্যা, টানছে তারা। ট্রেনে এখনও যথেষ্ট ভিড়। বড়বাবুকে বললাম, এই ভিড়ে একটা দিনের জন্যে কেন কষ্ট করে দেশে যাচ্ছেন? বললেন, ‘বোঝ না ভায়া, বাড়িতে সবাই ভাবছে! কাগজে যা পাচ্ছে তা তারা বিশ্বাস করতে পারছে না। চোখে না দেখা পর্যন্ত তারা শান্ত হতে পারবে না।’ সেই থেকেই কথাটা ভাবছি।

    —ভেবে কিছু কিনারা পেলে?

    এমন সময় ভারি বুটের শব্দ করে হেনরি এল। তাকে সংবর্ধনা জানিয়ে শ্রীমন্ত সুমিত্রার কথার উত্তর দিলে।

    —কিনারা ঠিক পাইনি। তবে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে যেন পায়ে মাটি ঠেকছে।

    হেনরি জিজ্ঞাসা করলে, কিসের মাটি?

    শ্রীমন্ত হেসে বললে, কবরের। শোনো হেনরি, আমাদের সম্বন্ধে তুমি কি-ধারণা নিয়ে যাবে জানিনে। কিন্তু ক’টা কথা তোমার জানা দরকার।

    হেনরি সাগ্রহে বললে, কি? বলো।

    শ্রীমন্ত বললে, আমাদের একটা বদনাম—আমরা ভীরু। বাইরে থেকে দেখলেও তাই মনে হবে। সেটা সত্যি নয়। সত্যি এই যে, আমরাও তোমাদেরই মতো সাহসী।

    —প্রমাণ করো।

    —প্রমাণ করছে ভারতের সৈন্যবাহিনী।

    —আর যারা পালাচ্ছে?

    —তারাও ভীরু নয় সবাই।—শ্রীমন্ত চেয়ারে সোজা হয়ে উঠে বসলো—ইউরোপের যে সব শহরে বোমা পড়েছে সেখানকার কথা ভাবো। এমন কি, তোমার লন্ডনের লোকেরাও এর চেয়ে সাহস দেখায়নি। তারপরে, বলতে পারো এখানে থেকে এরা প্রাণ দেবে কিসের জন্যে? একি স্বাধীন দেশ? না ওদের হাতে অস্ত্র আছে?

    হেনরি জিজ্ঞাসা করলে, অস্ত্র তুমি কাকে বলো? তলোয়ার? রিভলবার? বন্দুক? কিন্তু সে নিয়েও তো হাওয়াই-হামলা ঠেকানো যায় না।

    এবারে সুমিত্রা উত্তর দিলে। বললে, না, যায় না। তবু তাতে বল বাড়ে। ভাবো তো হেনরি, এত বড় দুর্দিনেও যারা আত্মরক্ষার প্রয়োজনেও বন্দুক-রিভলবার ব্যবহারের অনুমতি পেলে না, আত্মরক্ষার জন্যে তাদের পলায়ন ছাড়া কি রইল?

    এই উত্তরে হেনরি এবং শ্রীমন্ত উভয়েই হেসে উঠলো।

    শ্রীমন্ত বললে, তাছাড়াও কথা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমরা তোমাদের মতো মরিয়া হতে পারি না।

    —কেন পারো না?

    —সেই কথাই সুমিত্রাকে বলছিলাম। পারি না আমাদের এই সমাজব্যবস্থার জন্যে। আশ্চর্য একটা ব্যবস্থা! কিন্তু দাঁড়াও, তার আগে তোমাদের চায়ের কথাটা বলে আসি।

    হেনরি না বলে পারলে না : বলে আসতে হবে কেন মন্টি, এখানেই তাকে ডাকো না?

    —তা সম্ভব নয়;—গম্ভীরভাবে শ্রীমন্ত বললে,—কারণ এই নতুন লোকটি বদ্ধ কালা।

    —সর্বনাশ!

    —কিছু সর্বনাশ নয়, বরং ভালোই হয়েছে। সাইরেন যখন বাজে তখনও নিশ্চিন্তে ঘুমোয়। বোমার শব্দে ওর ঘুমও ভাঙে না, ভয়ও করে না।

    শ্রীমন্ত হাসতে হাসতে চলে গেল।

    ফিরে এসে বলতে লাগলো :

    —আমাদের এই দেশকে যদি বুঝতে চাও, তাহলে সব চেয়ে আগে বুঝতে হবে এদেশের সমাজ-ব্যবস্থা। একান্নবর্তী পরিবার যে কি বস্তু সে তোমার ধারণা নেই। একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপর নির্ভর করে থাকে বৃদ্ধ বাপ মা, বিধবা পিসিমা, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা, নাবালক ভাইবোন, অনেকে। তারপরে ধরো,—এদেশে বিধবা-বিবাহ নেই। তোমরা যুদ্ধে এসেছ, তোমাদের এই ভরসা আছে, কারও মৃত্যু হোলে তার স্ত্রী একেবারে পথে বসবেন না। প্রথমত, তাঁর নিজের উপার্জন করবার শক্তি আছে; দ্বিতীয়ত, তিনি হয়তো আবার বিবাহ করে ঘর-সংসার পাতবেন। কিন্তু এদেশের কথা ভাবো : স্বামীর মৃত্যু হোলে স্ত্রীর ভাই কিংবা দেওরের গলগ্রহ হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

    হেনরি বললে, কিন্তু এই তো, মিস্ রয় চাকরী করছেন?

    সুমিত্রা হেসে বললে, করছি। কিন্তু এত বড় দেশে আমাদের মতো মেয়ের সংখ্যা কত? তাছাড়া, তুমি জানো না, এর জন্য আমাদের এই মুষ্টিমেয় ক’জনকে কত বাধা এবং নিন্দার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়।

    শ্রীমন্ত বললে, তাছাড়াও বাধা আছে। আজ যুদ্ধের জন্যে চাকরি সুলভ হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় বারো আনা ছেলে বেকার থাকে। এর উপর মেয়েরাও যদি চাকরি খুঁজতে আরম্ভ করে, তাহলে বেকার সমস্যা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

    চাকর চায়ের সরঞ্জাম নিয়ে এল। সুমিত্রা উঠলো চা তৈরি করতে।

    সুমিত্রা হেসে জিজ্ঞাসা করলে, এই লোকটি কালা?

    শ্রীমন্ত বললে, হ্যাঁ। বদ্ধ কালা। প্রথম দিন বোমা পড়তেই সে চাকরটা পালিয়েছে। বহু কষ্টে দ্বিগুণ মাইনেতে একে পেয়েছি। কানে শোনে না, ভরসা হচ্ছে, বোমায় একে ভয় দেখাতে পারবে না। কি বল?

    সবাই হেসে সম্মতি দিলে।

    ওর হাতে একটা টাকা দিয়ে শ্রীমন্ত ইসারায় এক প্যাকেট সিগারেট আনতে বললে।

    লোকটি বললে, ভাঙানী ছাড়া দেবে না।

    বিরক্ত কণ্ঠে চীৎকার করে শ্রীমন্ত বললে, ভাঙানীর দরকার নেই, ওতে যত প্যাকেট হয় নিয়ে আয়। পয়সা কিছু বাঁচলে দেশলাই নিয়ে আসবি। বুঝলি?

    লোকটি বুঝলে কি না, কে জানে! বাবুর চীৎকারে ভয় পেয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল।

    শ্রীমন্ত ওদের দিকে চেয়ে বললে, এই আর এক বিপদ হয়েছে। চাকরটা পালিয়ে যাওয়ার পর দুদিন চা খেতেই পেলাম না। এ পাড়ার চায়ের দোকান সব বন্ধ। মুদির দোকান, তাও বন্ধ। এ রকম করে ক’দিন চলবে?

    চিন্তার কথা!

    সুমিত্রা বললে, এমনি একটা কালা আমাকে যোগাড় করে দিতে পার?

    শ্রীমন্ত হেসে বললে, দেখব। তারপর বলল, কী লোকটাই পালালো এবং এখনও পালাচ্ছে! কদিন ধরেই ভাবছি এদের কথা! আমার কি মনে হচ্ছে জানো? প্রাণের ভয় একটা মস্ত বড় কথা সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের সমাজ-ব্যবস্থাও এর জন্যে অনেকখানি দায়ী। অনেকে কিন্তু বুড়ো বাপ-মা, স্ত্রী-পুত্রের চিন্তিত মুখ স্মরণ করেই পালিয়েছে। নইলে হয়তো থেকে যেত।

    হেনরি অনেকক্ষণ নিঃশব্দে ঘাড় নীচু করে ব্যাপারটা ভেবে দেখতে লাগলো। তারপর বললে, তুমি যা বলছ মন্টি, সে অসম্ভব নয়। অন্তত এর মধ্যে ভেবে দেখবার ব্যাপার আছে। আমার কি মনে হচ্ছে জানো? মেয়েদের অসহায় করে তোমরা নিজেরাই নিজেদের বিড়ম্বনা বাড়িয়েছ। এখন দুঃখ করা বৃথা। তোমাদের পায়ে পরাধীনতার বেড়ি এবং সমাজ-ব্যবস্থার বেড়ি পরস্পর জড়িয়ে গেছে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কিছু চিন্তা করেছ?

    শ্রীমন্ত হাসলে। বললে, আমার কথা ছেড়ে দাও। এদেশের যাঁরা জ্ঞানে, চিন্তায়, কর্মে সকলের বড়—যাঁরা অন্য দেশের কারো চেয়েও ছোট নন, তাঁরা চিন্তা করছেন। কিন্তু কিনারা পেয়েছেন ব’লে মনে হয় না। আমাদের দেশের যত কিছু সমস্যা সব পরস্পর সম্বন্ধ হয়ে একটা দুষ্টচক্রে ঘুরছে। এর মধ্যে একক কোনোটিকে আলগোছে তুলে নিয়ে সেই সমস্যাটির সমাধান করবে, তার উপায় নেই। অনেক চিন্তা করে দেখা গেছে, আমাদের দেশের পরাধীনতার সমাধান না হোলে কোনোটিরই সমাধান সম্ভব নয়।

    হেনরি সবিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করলে, ততদিন অন্য সমস্যাগুলি অপেক্ষা করে থাকবে?

    —উপায় কি?—হেনরির মুখের দিকে চেয়ে হেসে শ্রীমন্ত বললে, আমি বুঝতে পারছি, তোমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু মার্কিন স্বাধীনতাযুদ্ধের কালে যাঁরা জন্মেছিলেন, তোমার সেই পূর্বপুরুষদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা আমার কথাতেই সায় দিতেন।

    অজ্ঞাতসারে শ্রীমন্ত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললে। সেটা ওর পক্ষে এমনই একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার যে সুমিত্রা পর্যন্ত চায়ের পেয়ালার ফাঁক দিয়ে অবাক হয়ে ওর দিকে চাইলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    মহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Our Picks

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }