Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প195 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মহাকাল – ১১

    এগারো

    পরদিন দুপুরে মহেন্দ্র খাটে শুয়ে ছিল।

    দিবানিদ্রার অভ্যাস তার নেই। তবু বাংলাদেশের তেলে-জলে এই ক’দিনেই দিনে তার একটু তন্দ্রার মতো আসছে। সামান্য একটু তন্দ্রা,—মিনিট পনেরোর জন্যে।

    সেই তন্দ্রাও খুট শব্দে কেটে গেল।

    চোখ মেলে দেখে দ্বারপ্রান্তে ছোট ভাইটির হাত ধরে গায়ত্রী দাঁড়িয়ে আছে। দেখে তার আর বিস্ময়ের শেষ রইল না। ব্যস্তভাবে উঠে বসে বললে, বোসো, বোসো। বৃহৎ কাষ্ঠে দোষ নেই শুনেছি। তুমি ওই কাঠের চেয়ারটা টেনে বোসো বরং!

    শান্তভাবে একটু হেসে গায়ত্রী ভাইটিকে কোলে নিয়ে সেই রিক্ত মেঝের উপর বসে পড়লো।

    বললে, তোমাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে এলাম মহিন দা। অসুখ থেকে উঠে পর্যন্ত কোথাও বেরুইনি। কালই প্রথম তোমাদের বাড়ী বেরিয়েছিলাম।

    ওর শীর্ণ, ক্লান্ত কণ্ঠস্বরে এবং বিশুষ্ক মুখের দিকে চেয়ে শান্তকণ্ঠে মহেন্দ্ৰ বললে, তুমি তো এখনও ঠিক সেরে উঠতে পারোনি গায়ত্রী।

    —না, আমি বেশ সেরে উঠেছি। সংসারের সব কাজই এখন করতে পারি।

    মহেন্দ্র বললে, সেটা ভালো নয় গায়ত্রী। আরও কয়েকদিন তোমার বিশ্রাম করা উচিত। নইলে আবার পড়বে।

    গায়ত্রী ফিক করে হেসে বললে, তখন তুমি আছ। দিনরাত্রি আমার শিয়রে বসে তুমি তখন শুশ্রূষা করবে। পাড়ার লোকেরা আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করবে। মন্দ কি? মহেন্দ্ৰ থমকে গেল। তার মুখ রাগে ঘৃণায় কালো হয়ে উঠলো। বললে, তাই করছে নাকি?

    —করবে না? ডাক্তার আসে, রোগী দেখে, ভিজিট নেয়, চলে যায়। রোগীর শিয়রে বসে শুশ্রূষা কে করে? তাদের বলার তো দোষ নেই মহিনদা!

    উত্তেজিতভাবে মহেন্দ্ৰ বললে, দোষ নেই? তাদের ইঙ্গিত যেমন নোংরা, তেমনি মিথ্যে।

    গায়ত্রী মুখ নামিয়ে টিপে টিপে হাসতে লাগলো। একটু কি ভাবলে। তারপর শান্তকণ্ঠে বললে, একেবারেই মিথ্যে? তোমার মনকে জিজ্ঞাসা কর তো।

    মহেন্দ্ৰ চমকে উঠলো।

    তারপর ধীরে ধীরে বললে, একেবারে মিথ্যে হয়তো নয় গায়ত্রী। আমার মন তোমার অগোচর নয়। কিন্তু তোমাকেও বলছি, এর মধ্যে নোংরা কোথাও নেই।

    –সে আমি জানি, নইলে নির্জন দুপুরে একটা ছোট শিশুর হাত ধরে তোমার শোবার ঘরে আসতে পারতাম না। কিন্তু এ তুমি কী করলে মহিনদা! কেন আমাকে বাঁচালে!

    অস্ফুটস্বরে মহেন্দ্র বললে, কি জানি কেন তোমায় বাঁচালাম।

    দুজনে নিঃশব্দে অনেকক্ষণ বসে রইল।

    মহেন্দ্ৰ বললে, তোমার সেই করবীঝাড়টা সেদিন দেখে এসেছি গায়ত্রী। তাতে এখন কত ফুল!

    গায়ত্রী নতমস্তকে বসেছিল।

    তাড়াতাড়ি বললে, তুমি একটি মেমসাহেব বিয়ে করেছ বলে যে শোনা যায়, সেটা কি?

    —সেটা মিথ্যা। আমার সম্বন্ধে যে অসংখ্য মিথ্যা গুজব রটেছে ওটাও তারই একটি।

    —বিয়ের কথা কি হয়নি?

    —কোনো কালে না।

    —কিন্তু তুমিই তো বৌদিকে ওই রকম একটা কথা লিখেছিলে।

    —না। পোর্টসৈয়দে থাকতে একটি ইংরাজ পরিবারে চমৎকার একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল, সেই কথাই শুধু বৌদিকে লিখেছিলাম।

    —তারপরে বিয়ে হল না কেন?

    —হবার নয় বলেই হল না।

    —বাধা কি? তুমি তো জাত-ধর্ম মানো না।

    —না। কিন্তু হৃদয় মানি। সেই তরুণীটির সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্কই হয়নি।

    গায়ত্রী হেসে বললে, হলেই ভালো হত মহিনদা। আমাদের একটি মেমসাহেব বৌদি হত।

    —তোমাদের অদৃষ্ট!- কৃত্রিম সমবেদনার সঙ্গে মহেন্দ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললে।

    ওর দীর্ঘশ্বাস ফেলবার ভঙ্গিতে গায়ত্রী হেসে ফেললে। বললে, ফুলের কথা কি বলছিলে মহিনদা? একটু তাড়াতাড়ি বল, আমি আর বেশিক্ষণ বসতে পারব না।

    —ফুল? ও, সেই করবী গাছটার কথা। জ্বরের ঘোরে তুমি একদিন একটা কথা বলেছিলে গায়ত্রী : মরা গাছ বাঁচাতেই নেই, তার অভিশাপ লাগে।

    —লাগেই তো।

    —ফুলেভরা করবী গাছটার দিকে চেয়ে সেকথা আমার মনে লাগলো না। তবু বুকটা আমার কি রকম হু হু করে উঠলো। সেখানে আর দাঁড়াতে পারলাম না। পালিয়ে এলাম।

    গায়ত্রীর ছোট ভাইটা চুপি চুপি বললে, এইবার ওঠো দিদি।

    —এই যে উঠি ভাই।—বলে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করলে, পালিয়ে এলে কেন?

    —আর একটা কথা মনে পড়লো বলে।

    মহেন্দ্ৰ হেসে ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টিতে চাইতেই গায়ত্রীর মুখ এক ঝলক রক্তে রাঙা হয়ে উঠলো। তার বুঝতে বাকি রইল না কি কথা মহেন্দ্রর মনে পড়লো। কিশোরী মেয়ের দুঃসাহস আজও সে নিজেও ভুলতে পারেনি। আজও তার গভীর লজ্জার কারণ হয়ে রয়েছে।

    তখন কতই বা তার বয়স হবে, চৌদ্দর বেশি নয়। মহেন্দ্রকে তখন তার অদেয় কিছুই ছিল না। নিজেকে নিঃশেষেই নিবেদন করেছিল। তার সবটাই ছেলেবয়সের খেয়াল কিন্তু নয়। সেই বয়সেই তার হৃদয়পদ্ম দল মেলেছিল। সেই বয়সেই সহজাত বুদ্ধিবশে তার কি রকম মনে হয়েছিল, দরিদ্র পুরোহিত-কন্যাকে জমিদার চিন্তাহরণবাবু কিছুতেই বধূরূপে গ্রহণ করতে সম্মত হবেন না। তাই মহেন্দ্রকে হারাবার আশঙ্কা তাকে পাগল করে তুলেছিল।

    মহেন্দ্র সেইবার মেডিকাল কলেজের শেষ পরীক্ষা দেবে। কি একটা ছুটিতে দু’এক দিনের জন্যে বাড়ী এসেছিল।

    সেই সময় একদিন সন্ধ্যার অন্ধকারে ওই করবী গাছটারই আড়ালে গায়ত্রী তাকে চুপি-চুপি কলকাতায় নিয়ে পালিয়ে যাবার জন্যে মহেন্দ্রকে পাগলের মতো সেধেছিল।

    ওই করবী গাছটারই আড়ালে!

    গায়ত্রীর লজ্জারক্ত মুখের দিকে চেয়েও মহেন্দ্র নিষ্ঠুরের মতো সেই প্রসঙ্গেরই উল্লেখ করলে।

    উত্তরে স্খলিতকণ্ঠে গায়ত্রী শুধু বললে, তখন তো পারোনি।

    —না, সাহস হয়নি। কিন্তু যখন শুনলাম, তোমার বিবাহ হয়ে গেল তখন আর নিজেকে সামলাতে পারিনি। ক’দিন ধরে কেবলই কেঁদেছিলাম। সেই দুঃখেই আমি যুদ্ধে চলে যাই গায়ত্রী।

    গায়ত্রীর চোখ হঠাৎ জ্বালা করে উঠলো।

    তীক্ষ্ণকণ্ঠে বললে, ব্যস। তোমার সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। কিন্তু আমার কথাটা একবার ভেবেছিলে?

    তার উত্তেজিত কণ্ঠস্বরে থতমত খেয়ে মহেন্দ্র বললে, তোমার কি কথাটা গায়ত্রী?

    —এই বিয়ের কথাটাই। ভগবান অত শীগগির তাঁকে না নিলে আমার কি হত ভেবেছিলে? তাঁকে তো আমি কিছুতেই ঠকাতে পারতাম না। মরণ ছাড়া আর কোনো পথই যে আমার জন্যে খুলে রেখে যাওনি, সে কথা ভেবেছিলে? নিষ্ঠুর! শুধু নিজে পালিয়েই বাঁচার চেষ্টা করেছিলে! আজ মরা বাঁচিয়ে কৃতজ্ঞতা চাইছ বড় গলা করে? লজ্জা করে না?

    গায়ত্রী দুর্বল শরীরে হাঁপাতে লাগলে।

    তার উত্তেজিত কণ্ঠস্বরে এবং হাঁপানোতে ছোট ছেলেটা ভয় পেয়ে একদৃষ্টে দিদির মুখের দিকে চাইতে লাগলো। এবং আর একবার তাগাদা দিয়ে চুপি চুপি বললে, চলো দিদি।

    সে কথা বোধ হয় ওদের কারও কানেই গেল না।

    লজ্জিত কণ্ঠে মহেন্দ্র বললে, অত কথা অমন করে আমি তখন ভাবিনি গায়ত্রী। আমার অনেক অন্যায় হয়ে গেছে। কিন্তু আজ যদি আমি তোমাকে বলি, সেই অন্যায়ের প্রায়শ্চিত্ত করব, চলো আমার সঙ্গে। যাবে?

    —না।

    ছোট ভাইটির হাত ধরে গায়ত্রী উঠে দাঁড়ালো।

    ব্যাকুল কণ্ঠে মহেন্দ্ৰ বললে, কোনোদিন যাবে না? এ অভিমানের কোনোদিন শেষ হবে না?

    শান্ত দৃঢ় কণ্ঠে গায়ত্রী বললে, তুমি বুঝতে পারবে না মহিনদা। এ অভিমান নয়। তোমার কাছে আজ আমার কোনো প্রত্যাশাই নেই। চল খোকা!

    গায়ত্রী চলে গেল।

    গায়ত্রী চলে যাবার পর মহেন্দ্রের পায়ের তলার পৃথিবী দুলে উঠলো না, আকাশও পীতবর্ণ মনে হল না। সে শুধু নিঃঝুম হয়ে তার বিছানায় তেমনি করে বসে রইলো।

    ইব্রাহিম শোবার ঘরেই ট্রেতে করে চা নিয়ে এল।

    চা খেয়ে অনেকদিন পরে মহেন্দ্রর কি খেয়াল হল, তার সেই মেজরের পোশাকটা বের করে পরলো। যখন নেমে এল তখন ইব্রাহিম আর রাম সিং দুজনেই সগর্বে সেলাম করলে। দেখা যায় প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্কে অর্থনৈতিক দিকটাই সর্বত্র বড় নয় এবং বেতনটাও একমাত্র গর্বের বিষয় নয়। ইংরেজ সওদাগরী আফিসের চল্লিশ টাকা বেতনের কেরাণী দেশী মনোহারী দোকানের ওই বেতনের কেরানীকে সমকক্ষ ভাবে না।

    মহেন্দ্র গ্যারাজ থেকে মোটর গাড়ীখানা বের করলে, এবং সোজা চলতে আরম্ভ করলে।

    প্রচণ্ড বেগে ছোটে গাড়ী। এই তীব্রগতি আজ ওর ভালো লাগে। বন বন করে সমস্ত কিছুকে পিছনে ফেলে-যাওয়া, ছাড়িয়ে যাওয়া, হারিয়ে যাওয়া,—জীবনকালে হৃদয় যা সঞ্চয় করে তা পথের দু’পাশে মুঠো মুঠো করে ছড়িয়ে উড়িয়ে দিয়ে যাওয়া।

    এই গতি, এই যে দুর্বার গতি, এই তো জীবন

    মহাকাল।

    নিশ্চল, নিস্তরঙ্গ মহাকাল।

    তার বুকে ছোঁয়া লাগে গতির। জাগে মহাকাল, জাগে তরঙ্গ, জাগে সৃষ্টির আনন্দ। ঘোরে সূর্য, ঘোরে কোটি কোটি সৌরজগৎ। মহাকালের আঁচল থেকে ঝরে পড়ে পল- অনুপল-বিপলের রেণুকণা। ভোলানাথের শ্মশানে ফলে ভুলের ফসল। মানুষের চলায় আসে ছন্দ,-হারিয়ে যাওয়া ছাড়িয়ে যাওয়ার ছন্দ। আর্য ছাড়িয়ে যায় অনার্যকে শক হুনকে। মোগল ছাড়ালো পাঠানকে, বৃটিশ মোগলকে। রক্তের সমুদ্রে বারে বারে পৃথিবী যায় ভেসে। ক্লান্ত পৃথিবী, তবু তার থামবার উপায় নাই। সমস্ত স্তব্ধতাকে স্তব্ধ করে মহাকালের বিষাণ বাজে। যে থামবে, যে পিছিয়ে পড়বে, দূরের দিকে যে চাইবে না, তারই মৃত্যু হবে।

    মোটর চলেছে অবারিত মাঠের বুকের উপর দিয়ে।

    কালো পিচঢালা রাস্তা ভোজনশ্রান্ত অজগরের মতো নিশ্চল পড়ে ছিল। গতি সংক্রামক। মোটরের গতি তাকে ছুঁয়েছে, ছুঁয়েছে দু’পাশের গাছগুলোকে, দূরের গ্রামগুলোকে, পদতলের প্রান্তরকে, মাথার উপরের মেঘলোককে।

    সব ছুটছে।

    ছুটছে পথ। তীব্রবেগে ছুটছে দু’ধারের গাছগুলো। নিঃশব্দ সঞ্চরণে ঘুরছে মাঠ- ঘাট, ঘুরছে গ্রামরেখা, ঘুরছে মেঘলোক, ঘুরছে দিগ্বলয়।

    ঘুরছে মহেন্দ্র :

    শৈশব থেকে বাল্যে, বাল্য থেকে কৈশোরে, কৈশোর থেকে যৌবনে। মায়ের কোল থেকে খেলার মাঠে, খেলার মাঠ থেকে করবীবনে, সেখান থেকে রণক্ষেত্রে। একটিবারের জন্যে একটুখানি সে অন্যমনস্ক হয়েছিল। অমনি বাস চলে গেল, আর ফিরে আসবে না।

    গায়ত্রীর উপর তার রাগ নেই, অভিমানও নেই।

    হিস্টেরিক মেয়ে। একদিন গভীর আবেগে যে-জেদের সঙ্গে তার হাত ধরে সে নিয়ে যাবার জন্যে সেধেছিল; আর একদিন তেমনি আবেগে তেমনি জেদের সঙ্গে তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলে।

    হয়ত সব মেয়েই এমনি।

    হয়তো তার উপায় নেই। তার জীবনের গতি গেছে ফুরিয়ে। যাকগে—

    .

    মহেন্দ্র যখন ফিরলো তখন রাত্রি ন’টার কম নয়।

    পাড়াগাঁয়ে ন’টা রাত্রি অনেক। অধিকাংশ লোকই এর মধ্যে খেয়ে শুয়ে পড়ে। আগে যখন কেরোসিন পাওয়া যেত, তখন গ্রামের কিছুটা সাড়া পাওয়া যেত। কখনও কখনও স্যাকরার দোকানে হাতুড়ি পেটার শব্দ উঠতো। এখানে ওখানে তাস পাশা-দাবার কোলাহল এবং রামায়ণের মধুর সুর শোনা যেত। চাষীরা অন্ধকার দাওয়ায় বসে চাষ – বাস, সুখ দুঃখের গল্প করতো।

    যুদ্ধ বাধার পর থেকে সে সব বন্ধ। কেরোসিন নেই, মানুষের মনে আনন্দও নিস্তেজ।

    মহেন্দ্রকে অভ্যর্থনা করলে কতকগুলো ঘুমভাঙা কুকুর বিরক্ত চীৎকারে। এ ছাড়া গ্রামে জাগ্রত জীবনের আর কোনো লক্ষণ পাওয়া গেল না।

    গাড়ীটিকে গ্যারাজে পুরে মহেন্দ্র ফিরে এল বাগানবাড়ীতে। রামসিং এবং ইব্রাহিম পাশাপাশি বসে ঝিমুচ্ছিল। মহেন্দ্রর পায়ের শব্দে ধড়মড় করে উঠে দাঁড়ালো।

    পোশাক ছেড়ে বাথরুম থেকে হাতমুখ ধুয়ে খাবার ঘরে এসে মহেন্দ্র দেখে ট্রেতে কতকগুলো চিঠি সাজানো। গ্রামে আসা পর্যন্ত চিঠি তার বড় একটা আসেনি।

    খেতে খেতেই চিঠিগুলো একে একে খুলে দেখতে লাগলো। কতকগুলো বিলিতি ঔষধের পুস্তিকা। তার কলকাতার ঠিকানা থেকে রিডাইরেক্ট করে পাঠানো। একখানি ডাক্তারী পত্রিকা। আর একখানা খামের চিঠি, লিখছে বসন্ত।

    বসন্তকে সে ভুলেই গিয়েছিল।

    তারই সঙ্গে বসন্তও গিয়েছিল যুদ্ধে এবং তারই মত সেও মেজর হয়ে ফিরেছে। সম্প্রতি একটি গ্রীক তরুণীর পাণিপীড়ণে উদ্যত।

    অন্যগুলো একপাশে ঠেলে রেখে মহেন্দ্র এই চিঠিখানাই মনোযোগের সঙ্গে পড়তে লাগলো।

    দীর্ঘ পত্র। তার অধিকাংশই গ্রীকপত্নীর কথা ও কাহিনীতে পূর্ণ। মেয়েটি নানা বাধাবিঘ্নের ফলে ওদের সঙ্গে আসতে পারেনি। এত দিনে বহু কষ্টে এবং অনেক জায়গা ঘুরে এসে পৌঁছেচে। এবার তাদের বিয়ে হবে। দশ তারিখে দিনস্থির হয়েছে। তার পূর্বে নিশ্চয় যেন মহেন্দ্র আসে—এই অনুরোধ পুনঃপুনঃ জানিয়ে বসন্ত চিঠিখানা শেষ করেছে।

    আশ্চর্য! বসন্তের এখনও মহেন্দ্রকে মনে আছে!

    ওদের ছাড়াছাড়ি হয়েছিল বোধ হয় বেনগাজী থেকে। সেই সময় লম্বা একটা ছুটি নিয়ে মহেন্দ্র ভারতে ফিরে আসে। তার পর তাকে উত্তর আফ্রিকায় না পাঠিয়ে দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ায় পাঠানো হয়। সেইখানেই সে জাপানীদের হাতে ধরা পড়ে এবং শেষে আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগ দেয়।

    সে কত দিনের কথা!

    মহেন্দ্রের মন অকস্মাৎ সেই গ্রীক তরুণীকে দেখবার জন্যে অধীর হয়ে উঠলো। যে-মেয়ে একা কত বাধাবিপত্তি ভেদ করে, কত সমুদ্র পেরিয়ে একটা অপরিচিত দেশে, ততোধিক অপরিচিত সমাজের মধ্যে এসে তার প্রিয়তমের সঙ্গে মিলিত হতে পারে, তাকে দেখবার প্রলোভন জয় করা মহেন্দ্রের পক্ষে কঠিন।

    সে-মেয়ে গায়ত্রী নয়। গায়ত্রীর মতো তার ললাট তৃতীয়ার শশিকলার মতো ক্ষীণ নয়, চোখও কৃষ্ণতারা, স্নিগ্ধ এবং আয়ত নয়, চিবুকও হয়তো তেমন সুকুমার নয়। শরতের চাঁদের মত বর্ণও হয়তো নয়।

    সে মেয়ের চোখ কপিশ। জ্যৈষ্ঠ মাসের রোদের মতো ঝকঝকে তার রং। প্রশস্ত ললাটের গঠন সুদৃঢ়। চোয়াল প্রশস্ত। বলিষ্ঠ তার মণিবন্ধ, এবং নাতিস্থূল দীর্ঘ দেহ লবঙ্গলতিকার মতো ললিত নয়। সে আসে সাগর পেরিয়ে প্রিয়ের সঙ্গে মিলতে।

    মেয়েটিকে মহেন্দ্র এরই মধ্যে কল্পনায় দাঁড় করিয়ে ফেললো। তার পাশে গায়ত্রী মলিন হয়ে গেল, সূর্যের পাশে চাঁদ যেমন ম্লান হয়ে যায়।

    খেতে খেতে মহেন্দ্ৰ বললে, কাল আমি কলকাতা যাচ্ছি ইব্রাহিম।—হ্যাঁ সাব।

    —আবার কবে ফিরব তার ঠিক নেই।

    —হ্যাঁ সাব।

    —তোমাদের বকশিস কাল সকালেই দিয়ে দোব।

    —বহুৎ আচ্ছা সাব।

    ইব্রাহিম খুশি হয়ে পূর্বাহ্ণেই একটা সেলাম ঠুকলে। এবং কাঁটা-চামচ প্লেট সরিয়ে নিয়ে গেল।

    মহেন্দ্ৰ বললে, কাল লাঞ্চ খেয়ে যাব, বিকেলের ট্রেনে। আমার জিনিসপত্র সব কিন্তু কাল সকালেই বেঁধেছেদে রাখবে। জিনিসপত্র অবশ্য বেশি নেই। তবু সকালেই ওসব সেরে রাখা ভালো। ক’দিন তোমার খুব খাটুনি গেল ইব্রাহিম। পরশু থেকে আবার কিছুদিন বিশ্রাম পাবে।

    হাসতে হাসতে মহেন্দ্ৰ শুতে চলে গেল। কিন্তু ঘুম আসবে কি না সন্দেহ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ
    Next Article বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    Related Articles

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    Our Picks

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }