Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প195 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মহাকাল – ২০

    কুড়ি

    মহেন্দ্রের মনে একটা আশা ছিল, গায়ত্রী অন্তত একবার তার সঙ্গে দেখা না করে থাকতে পারবে না। এর আগের বারও দু’দিন সে নিজে এসে মহেন্দ্রর সঙ্গে দেখা করে গেছে। কিন্তু সকাল কেটে দুপুর আসে, দুপুর কেটে বিকেল, তারপর রাত্রি আসে। মুহূর্তগুলি যতই বয়ে যায়, মহেন্দ্রর আশাও তত ক্ষীণ হয়।

    অবশেষে মঙ্গলবার সকালে মহেন্দ্র বললে, আর নয় পেনিলোপী। বসন্তর কষ্ট হচ্ছে। কলকাতায় বহু কাজই পড়ে আছে। কাল সকালে রওনা দেওয়া যাক।

    —বেশ তো! আজ বিকেলে কথা আছে তোমার বৌদি আর গায়ত্রীকে নিয়ে মোটরে একটু বেড়াতে যাব।

    —সেই ব্যবস্থা হয়েছে বুঝি?

    —হ্যাঁ, তোমার বৌদির ভয়ানক সখ। একদিন নাকি তোমার সঙ্গে গিয়েছিলেন।

    —হ্যাঁ। দাদার উৎপাতে কোথাও তো বেরুতে পায় না। নিয়ে যাও বেড়াতে।

    —তুমি যাবে? চল না।

    —না!

    —এর মধ্যে একদিনও ওবাড়ী যাওনি বোধ হয়?

    উদাসভাবে মহেন্দ্ৰ বললে, কই আর গেলাম!

    পেনিলোপী আর কিছু বললে না।

    হঠাৎ এক সময় মহেন্দ্র জিজ্ঞাসা করলে, তুমি সাঁতার জানো পেনিলোপী?

    —জানি। কেন?

    —চল। আজ নদীতে সাঁতার কেটে আসা যাক। হাত-পায়ের গাঁটগুলো যেন জমে যাচ্ছে।

    পেনিলোপী উৎফুল্ল হয়ে বললে, চলো। কিন্তু আমার পোশাক নেই যে! কিনতে পাওয়া যাবে এখানে?

    —পাগল! তার দরকারও নেই। মেয়েদের প্রকাশ্যে সাঁতার কাটাই তো এখানে একটা ভীষণ ব্যাপার। তার ওপর সুইমিং-কস্ট্যুম পরলে তো আর রক্ষেই নেই।

    পেনিলোপী বললে, কস্ট্যুমে কাজ নেই তাহলে। শাড়ীতেই যা সাঁতার কাটব, তা তুমি পারবে না।

    —তাই নাকি? চলো বিদেশিনী, সাঁতার কি করে কাটতে হয়, তোমাকে শিখিয়ে দিই।

    দু’জনে তখনই বেরিয়ে পড়লো।

    পেনিলোপীর সঙ্কোচের বালাই নেই। আঁচলটা কোমরে জড়িয়ে মহেন্দ্রর সঙ্গে সঙ্গে সেও নদীর উপর থেকে জলে ঝাঁপিয়ে পড়লো। স্নান করবার জন্যে যারা ঘাটে ছিল তারা তো অবাক! পুরুষ মানুষের গা ঘেঁষে মেয়েরা যে এমন করে সাঁতার দিতে পারে এ তারা স্বপ্নেও ভাবেনি। তারা আমোদ দেখতে দাঁড়িয়ে রইলো আর ওদের দু’জনকে নিয়ে যে আলোচনা আরম্ভ করলে, তা কানে শোনা যায় না।

    বহু দূর অবধি ওরা দুজনে সাঁতার কেটে চলে গেল।

    খালি গায়ে পেনিলোপী মহেন্দ্রকে কখনও দেখে নি। বুঝলে মহেন্দ্ৰ দুৰ্বল নয়। জিজ্ঞাসা করলে, তুমি তো ব্যায়াম কর না মহিন। কিন্তু চমৎকার তোমার দেহ! এই গ্রামের লোক বলে মনেই হয় না।

    মহেন্দ্র হাসলে। পেনিলোপীর দিকে সে চাইতেই পারছিল না। মাঝে মাঝে তার দেহের যেটুকু আভাষ পাচ্ছিল তাতেই তার মনে হচ্ছিল, বাঙালী মেয়ের দেহের গড়ন এমনি বলিষ্ঠ, এমনি সুন্দর কবে হবে।

    স্রোতের বিরুদ্ধে চলছে ওরা। আরও খানিক যাওয়ার পরে পেনিলোপী বললে, আর নয়। অনেক দূর এসে গেছি। চল এইবার ফিরি।

    —তা হবে না পেনিলোপী। হার তুমি যতক্ষণ না স্বীকার করছ, ততক্ষণ ফিরব না। হার পেনিলোপী কিছুতেই মানবে না। প্রাণপণ শক্তিতে সে সাঁতার কেটে চলে। কিন্তু বেশিক্ষণ পারলে না। শেষকালে বললে, হার স্বীকার করছি মহিন। চল ফিরি। অনেক দিন অভ্যাস নেই, হাত ক্লান্ত হয়ে আসছে।

    —ধরব?

    —ধর একটু।

    ফেরবার সময় মহেন্দ্রের কাঁধে ভর দিয়ে পেনিলোপী অনেকখানি এল। গ্রামের মধ্যে যারা অতিরিক্ত উৎসাহী তারা তাও দেখলে।

    ওরা গ্রাহ্যও করলে না। নদীর কাছেই বাগানবাড়ী। ওরা ভিজে কাপড় সটপট করতে- করতে হাসতে-হাসতে বাগানবাড়ী চলে গেল।

    .

    কাপড় ছেড়ে বাইরে এসে বসতেই নরেন এল।

    ভূমিকায় প্রথমেই নানা কাজের ভিড়ে আসতে না পারার জন্যে নরেন পেনিলোপীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলে। তারপর মহেন্দ্রের দিকে চেয়ে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললে, এদিকে ব্যাপার তো বিশেষ সুবিধা মনে হচ্ছে না মহিন।

    —কিসের ব্যাপার?

    —এই গ্রামের ব্যাপার আর কি! মুসলমান পাড়ার ছেলেরা ক’দিন থেকে মসজিদে খুব মিটিং করছে।

    —কিসের মিটিং?

    —পাকিস্তানের। মধ্যে মধ্যে ‘মারকে লেঙ্গে’ ‘লড়কে লেঙ্গে’ ধ্বনিও শুনতে পাই।

    —গোলমাল হবে বলে কি আশঙ্কা করছেন?

    —গোলমাল হবার তো কথা নয়। অধিকাংশই শান্তিপ্রিয় নিরীহ মুসলমান। কিন্তু ছেলেদের মেজাজ যেন গরম-গরম।

    —ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়ে রাখা উচিত।

    —তাই ভাবছি। এর পর যেদিন সদরে যাব, জনসন সায়েবকে জানিয়ে আসব ভাবছি।

    মহেন্দ্র আশ্বাস দিলে, ভয়ের কারণ কিছু নেই। এদিকে কোনো গোলমাল হবে না।

    নরেন পেনিলোপীর দিকে চেয়ে বললে, আপনারা আজ বেড়াতে যাচ্ছেন তাহলে?

    —ইচ্ছা আছে।

    —যান। আপনি সঙ্গে থাকলে ভয়ের কিছু নেই। তুমিও যাচ্ছ নাকি মহিন? মহিন বললে, আজ্ঞে না।

    —গেলে পারতে। একজন ব্যাটাছেলে থাকা ভালো

    উনি থাকলে কিচ্ছু দরকার হবে না।—বলে মহেন্দ্ৰ পেনিলোপীর দিকে চাইলে। তারপর বললে, আমার একটু কাজও আছে।

    —তা বেশ, তা বেশ।

    বলে আর এক দফা নমস্কার করে নরেন চলে গেল। পেনিলোপী জিজ্ঞাসা করলে, এই যে তোমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক বিরোধ-এর কি কোনো মানে হয় মহিন?

    —না। কিন্তু পরাধীন দেশকে এ দুর্ভোগ পোহাতেই হবে। এর জন্যে হিন্দুও দায়ী নয়, মুসলমানও দায়ী নয়। তাদের পরাধীনতাই তাদের মাথায় আনছে যত রাজ্যের মুঢ়তা, দুর্বুদ্ধি এবং বিভ্রান্তি। ইংরেজ চলে না গেলে এর থেকে তারা মুক্তি পাবে বলে আমরা আশা করি না। ইংরেজের আওতার বাইরে নেতাজির অধীনে আমাদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মিলতে কতক্ষণ লেগেছিল?

    কথাটা পেনিলোপীর মনে লাগলো। বললে, ঠিক বলেছ মহিন। ইউরোপেও এর নজিরের অভাব নেই। স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো জার্মানীর দখলে আসবার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে গজিয়ে উঠলো বিশ রকম দল, ঘনিয়ে উঠলো কলহ। এমনিই হয়।

    মহেন্দ্র বললে, এর জন্যে আমি খুব ভয় পাই না পেনিলোপী। এগুলো বুদ্বুদ, ঘোলালেই ওঠে। এই বিরোধ হল দুর্বলের অস্ত্র। কিছুক্ষণের জন্যে তালপাতার অস্ত্র ঘুরিয়ে তারা রঙ্গমঞ্চে আস্ফালন করে মাত্র। তাদের হারতেই হবে। জেতে তারাই যাদের কণ্ঠে বাজে কল্যাণ এবং শান্তির বাণী। তারাই ইতিহাস সৃষ্টি করে। ইউরোপের কথা তুলছিলে পেনিলোপী, সেইদিকেই চাও। হিটলারের আকস্মিক আবির্ভাব হল একটা অতিকায় দৈত্যের মতো। মুখে তার লেবেলশ্রাম আর ব্লিৎসক্রাইগ, ঘৃণা, বিদ্বেষ আর বিরোধের অগ্ন্যুদ্‌গার! কিন্তু শেষ কি হল? অথচ তার পাশের রাশিয়ার দিকে চাও। নিপীড়িত মানুষের জন্যে সে গড়ে তোলবার চেষ্টা করছে নতুন রাষ্ট্র। হিটলারের বজ্রাঘাত তাকে মারতে পারলে না, বরং আরও বলিষ্ঠই করে তুললে।

    একটা সিগারেট ধরাবার জন্যে মহেন্দ্ৰ থামলে।

    তারপর বললে, গৃহযুদ্ধের নামে সকলের মুখেই দেখি শঙ্কার ভাব। আমি কিন্তু এতটুকু ভয় পাই না। লোকক্ষয়, ধনক্ষয় হয়তো অনেক হবে। কিন্তু তার বিনিময়ে যে শক্তি এবং পাথেয় আমরা সঞ্চয় করব, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ জয়যাত্রার পথে তার মূল্য অনেক। তার পরেই দেখো, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে সত্যিকার মিলন প্রতিষ্ঠিত হবে। তারা বুঝবে, কি রাষ্ট্রক্ষেত্রে, কি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একজনকে ছেড়ে আর একজন এক পাও চলতে পারে না। একই মহৎ এবং বৃহৎ স্বার্থে অনুপ্রাণিত হয়ে সেইদিন তারা পরস্পর’ পরস্পরকে যথার্থ ভালোবাসতে শিখবে।

    .

    বিকেলে পেনিলোপী বেরিয়ে গেল মোটর নিয়ে। মহেন্দ্র বাগানবাড়ীতেই বসে রইল।

    একবার মনে করলে গোলকের বাড়ীর দিকে যায়। তারপর ভাবলে, থাকগে। খবরের কাগজগুলো উলটে-পালটে দেখতে লাগলো। কিন্তু তাও ভালো লাগলো না। খবরগুলোর মধ্যে যেন সজীবতা নেই, তার সঙ্গে আজ সে কিছুতেই হৃদয়ের সংযোগ করতে পারছে না। বারান্দায় পায়চারী করতে লাগলো। শেষে আলোয়ানটা জড়িয়ে গোলকের বাড়ীর দিকেই বেরুলো।

    জীর্ণ একখানি কুঁড়ে। চালে সর্বত্র খড় নেই। যেখানে আছে সেখানেও এত পাতলা যে হাত দিলে ধুলোর মত ঝরে পড়বে। গেল বর্ষাটা রোখবার জন্যে নিরুপায় হয়েই বোধ হয় গোলক কতকগুলো তালের বাগড়া এখানে-ওখানে রেখেছিল। সেগুলো এখনো রয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি কতখানি আটকেছিল, সে বিষয়ে সন্দেহ আছে। কারণ ঘরের দেওয়ালগুলো ঠিক আস্ত নেই। দেওয়ালের গা বেয়ে ধারা নেমেছিল জলের। তার দাগ রয়েছে। দেওয়ালের উপরাংশ বৃষ্টিধারায় পাতলা হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ফুটোও হয়েছে।

    এই কুঁড়ে! আর সামনে এক ফালি উঠান, তার বেড়ার বালাই নেই। একদিন এই কুঁড়েই তার কত পরিচিত ছিল! এই উঠানে, ওই ঘরে শিশুকালে কত উৎপাত করেছে! সেই বুড়ীমাও নেই, তার সমবয়সীর দলেরও অনেকে মারা গেছে। যারা বেঁচে আছে তাদের এখন চিনতেও কষ্ট হয়।

    ঘরের দরজা নেই। একটা ঝাঁপ আছে, তা বন্ধ।

    উঠানে দাঁড়িয়ে মহেন্দ্র চারিদিকে চাইলে। অধিকাংশ বাড়ীই পতিত। কতকগুলোর দেওয়াল যেন বাইরের পৃথিবীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেই এখনও উদ্ধত, উলঙ্গভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দুর্বলতরেরা পৃথিবীর কোলে আত্মসমর্পণ করেছে।

    পাড়া জনশূন্য। এই সময় আগে যেখানে উঠানে উঠানে লোক গিসগিস করতো, আজ সেখানে জীবনের স্পন্দনমাত্র নেই। খানিকটা দূরে একটা বাড়ীর উঠানে একটা নয়-দশ বছরের উলঙ্গ মেয়ে পিছন ফিরে কি যেন করছিল।

    তাকেই সে চীৎকার করে জিজ্ঞাসা করলে, ওরে শুনছিস, গোলক কোথায় গেল জানিস?

    মেয়েটি মনুষ্যকণ্ঠের জন্যে যেন প্রস্তুত ছিল না। চমকে পিছন ফিরে চেয়ে মহেন্দ্রকে দেখেই, বোধ হয় নিজের নগ্নতা ঢাকবার জন্যেই, দ্রুতবেগে পাশের আতাগাছটার আড়ালে গিয়ে লুকোলো।

    মহেন্দ্র আবার জিজ্ঞাসা করলে, গোলক গেল কোথায় জানিস?

    আতাগাছের আড়াল থেকেই মেয়েটি শীর্ণকণ্ঠে চীৎকার করে উত্তর দিলে, সে বাড়ীতে নাই!

    —তা তো দেখতেই পাচ্ছি। গেল কোথায় জানিস?

    —মদ খেতে গিয়েছে।

    ভিতর থেকে কে যেন মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলে, কে রে ক্ষ্যান্ত? কার সঙ্গে কথা কইছিস?

    ক্ষান্ত ফিসফিস করে বললে, ছোটবাবু।

    ভিতর থেকে বড় মেয়েটি বললে, এখুনি ফিরবে। আপনি যাও। এলেই তাকে আপনার কাছে পাঠিয়ে দোব।

    —তাই দিও।

    মহেন্দ্ৰ সেখান থেকে বেরিয়ে মাঠে এসে পড়লো। শীতকালে বিকালের এই রোদটা তার বড় ভালো লাগে। উজ্জ্বল সোনালী রোদ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। মহেন্দ্র ঘুরতে ঘুরতে নদীর ঘাটের পথটা ধরলে।

    সেই করবী গাছটা।

    তার থেকে একটু দূরেই বেণী বাঁড়ুয্যের খিড়কি। বাঁশ ঝাড়ের আড়ালে তাদের ঈষদুম্মুক্ত খিড়কির দরজা দেখা যাচ্ছে। মহেন্দ্র অকারণেই চেয়ে রইলো সেই দিকে।

    হঠাৎ মনে হোল, ঘড়া কাঁখে কে যেন একটি মেয়ে সেই বাড়ী থেকে বেরুচ্ছে। বাঁশ ঝাড়ের আড়ালটা কাটতেই চিনতে পারলে : গায়ত্রী। নদীর ঘাটে জল নিতে আসছে বোধ হয়।

    মহেন্দ্র সরে যাবে কি না ভাবছে, এমন সময় গায়ত্রীও তাকে দেখতে পেয়ে থমকে দাঁড়ালো। তারপরে হাত-ইসারায় ডাকলে।

    মহেন্দ্র একটু দ্বিধা করলে।

    কিন্তু গায়ত্রী আবার ডাকতেই ধীরে ধীরে সেই দিকে অগ্রসর হল।

    গায়ত্রী ঘড়াটা নামিয়েছে। কিন্তু কাপড় ভিজে সপ সপ করছে।

    মহেন্দ্র জিজ্ঞাসা করলে, তুমি যাওনি যে বেড়াতে?

    গায়ত্রী বললে, না। মায়ের জ্বর। ঘরে জল নেই এক ফোঁটা। যাচ্ছিলাম আনতে। তারপর ছোট দুটি ভাই, তাদের জন্যে দুটো ভাতে-ভাত ফুটিয়েও দিতে হবে। তাই পারলাম না যেতে।

    তা এই শীতে ভিজে কাপড়ে বেরিয়েছ যে? আর কাপড় নেই বুঝি? গায়ত্রী হেসে বললে, আছে আরও একখানা।

    —তারও অবস্থা আশা করি এই রকমই জমকালো?

    ছেঁড়া কাপড়ের উল্লেখে জড়সড় হয়ে গায়ত্রী কাপড়খানা টেনে-টুনে নিজেকে সম্বত করে নিলে।

    হেসে বললে, প্রায় এই রকমই। শোনো, আর কতদিন থাকবে এখানে?

    তীক্ষ্ণকণ্ঠে মহেন্দ্ৰ বললে, কেন বলো তো? আমার যাওয়া-না-যাওয়ার সঙ্গে তোমার কী সম্পর্ক?

    —আছে একটু। আজ সকালে মেমটাকে নিয়ে নদীর ঘাটে যে কেলেঙ্কারী করেছ, তাতে গাঁয়ে ঢি ঢি পড়ে গেছে। তুমি না হয় লজ্জা-সরমের মাথা খেয়েছ। কিন্তু আমাদের তো লজ্জা আছে। তোমায় পায়ে পড়ি মহিনদা, আর এখানে থেকে আত্মীয়-স্বজনের চোখের সামনে ঢলাঢলি কোরো না। এইবারে কলকাতা চলে যাও।

    শেষের দিকটায় গায়ত্রীর কণ্ঠস্বর তীক্ষ্ণ হয়ে উঠলো।

    মহেন্দ্র হাসলে।

    তার মুখে-চোখে একটা অস্বাভাবিক ক্রূরতা ফুটে উঠলো। বললে, ঢি ঢি তো এ গাঁয়ে কথায় কথায় পড়ে গায়ত্রী। তোমাকে নিয়েও আমার সম্বন্ধে কম ঢি ঢি পড়েনি। তবু তার মধ্যে কিছু সত্যি ছিল। তাতে তো আমাকে তাড়াবার জন্যে এত ব্যস্ত হওনি গায়ত্রী, আর এই মিথ্যে টি টি-তে এত কাতর হচ্ছ কেন?

    —এ মিথ্যে? অতগুলো লোক সব ভুল দেখলে?

    —তারা হয়তো ঠিকই দেখেছে গায়ত্রী। তবু এ যে সত্যি হতে পারে না সে তো তুমি জানো।

    একবার অস্ফুটস্বরে ওর কথার প্রতিধ্বনি করে গায়ত্রী বললে, আমি জানি! একবার স্থির দৃষ্টিতে ওর মুখের দিকে চাইলে। তারপর বললে, বড় শীত করছে। আর দাঁড়িয়ে

    থাকতে পারছি না। পথ ছাড়। এইবার যাই।

    মহেন্দ্র পথ ছাড়লে না। নির্নিমেষে ওর দিকে চেয়ে রইলো। ধীরে ধীরে বললে, অনেক দিন পরে দু’জনে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি। মনে হচ্ছে, অনেক জন্ম পরে। আজকে আমাকে কি কিছুই তোমার বলবার নেই গায়ত্রী?

     গায়ত্রী প্রথমে জবাব দিলে না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর বললে, না।

    মহেন্দ্র আর কিছু বললে না। শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওদিকের মাঠ দিয়ে হন হন করে চলতে লাগলো। পিছন দিকে একবারও ফিরে চাইলে না।

    .

    কিছুদূর গিয়েই মহেন্দ্রের চোখে পড়লো, টলতে টলতে এবং বিড় বিড় করে কি যেন বকতে বকতে গোলক এই দিকেই আসছে। মহেন্দ্রের খেয়াল হোল, আর একটু আগে বাঁদিকের মোটা আলটাই বাগদীপাড়া যাওয়ার পৃথ। সে একটু এগিয়ে গিয়ে আলটার উপর দাঁড়ালো।

    গোলক আপন মনেই আসছিল। হঠাৎ সামনে চেয়ে মহেন্দ্রকে দেখে থমকে দাঁড়ালো।

    —ছোট বাবু?

    গোলক ভক্তিভরে প্রণাম করতে গিয়ে সেইখানেই শুয়ে পড়লো, আর উঠতে পারলে না। নেশার মাত্রা একটু বেশি হয়েছে।

    অবস্থা দেখে মহেন্দ্ৰ হেসে ফেললে।

    বললে, নেশাটা একটু বেশি করে ফেলেছ গোলকদা। না ধরলে বোধ হয় উঠতে পারবে না।

    গোলক অম্লানবদনে বললে, না বোধ হয়।

    মহেন্দ্র তাকে উঠিয়ে বসালে।

    গোলক হাতড়ে হাতড়ে ওর পায়ের ধুলো নিয়ে বললে, সেইদিনকার মতো আর একটিবার বোসো ছোটবাবু, দুটো প্রাণের কথা কই।

    গদগদ কণ্ঠে বললে, সব মরে হেজে গেল ছোট বাবু, দুটো প্রাণের কথা বলি এমন লোক নাই। সেই হারামজাদী মাগীটা শেষ পর্যন্ত ছিল, তা সেও মরে গেল।

    পরলোকগত স্ত্রীর সম্বন্ধে এই সপ্রেম উক্তি করে গোলক পৃথিবীর দুরবস্থায় হতাশভাবে হাতের তালু ওলটালে। কিন্তু মাঠের মধ্যে এই মাতালটার সঙ্গে বসে দুটো প্রাণের কথা কইবার প্রস্তাবে মহেন্দ্রের তালু শুকিয়ে উঠলো।

    বললে, সে সব নিরিবিলি কাল হবে গোলোক দাদা। আজকে বাড়ী যাও। তোমার বাড়ী আমি গিয়েছিলাম যে!

    —আমার বাড়ী তুমি গিয়েছিলে?—গোলক উঠছিল, আবার বসে পড়ল, ওরে আমার রাখালরাজা! ওরে আমার রাখালরাজা!

    বলে আর কাঁদে আর হাতড়ে হাতড়ে মহেন্দ্রের পায়ের ধূলো নেয়। মহেন্দ্ৰ প্ৰমাদ গণলে।

    গোলক বললে, আমার বাড়ী কেন ছোটবাবু?

    —কাল আমি কলকাতা যাচ্ছি।

    গোলক আপন মনে বিড় বিড় করে বললে, তাই যাও। এখানে আর সুখ নেই।

    —এই দশটি টাকা, এখন নিলে তুমি হারিয়ে ফেলবে না তো?

    —না, হারাব না, আপনি দাও।

    বলে হাত বাড়ালে।

    একখানি দশ টাকার নোট তার হাতে দিয়ে মহেন্দ্র বললে, তোমার যা ইচ্ছে হবে, তাই কিনে খেও।

    জড়িত কণ্ঠে গোলক বললে, খাবো। ভালো মন্দ জিনিস এক এক সময় খেতে ভারি মন হয়। তাই খাবো।

    বলে আর একবার হাত বাড়িয়ে মহেন্দ্রের পায়ের ধূলো নিয়ে নোটখানা হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে উঠে দাঁড়ালো এবং টলতে টলতে নিজের বাড়ীর দিকে চলতে লাগলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ
    Next Article বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    Related Articles

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    Our Picks

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }