Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প736 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. রাইমোহন

    সন্ধের মুখে আবার একদিন গুপী স্যাকরার দোকানের ঝাঁপ ঠেলে ঢুকলো রাইমোহন। গুপী তখন বেরুবার উদযোগ করছিল, রাইমোহনকে দেখে বসে গেল।

    —ঘোষালমশাই যে! বহুৎদিন পায়ের ধুলো দ্যাননি ইদিকে। ভাবলুম বুঝি গরীবকে ভুলেই গ্যালেন।

    বেতের মোড়ায় হাঁটু উঁচু করে বসে পানের ডিবে বার করলো রাইমোহন। গুপীকে একটি দিয়ে, নিজে একটি মুখে পুরে বললো, দিনদিন যত গরীব হচ্চিস গুপী, তেমি তোর ভূড়িখানাও তো দিব্যি নেওয়াপাতি হচ্চে বেশ!

    —ওদিকে নজর দেবেন না! গরীবের তো এটাই সম্বল। আরও বেশী দুদিনের জন্য জমিয়ে রাখতে হয়।

    —বসত বাড়িটে একতোলা থেকে দোতোলা করিচিস দেকলুম যানো!

    —সেইজন্যই তো হাত একেবারে খালি। বাড়ি কত্তে গিয়ে একেবারে সর্বস্বান্ত হলুম।

    —এমন সর্বস্বান্ত হওয়াও ভাগ্যের কতা। তা একদিন বাড়িতে ডেকে নুচি মণ্ডা খাওয়া! তোর বাড়ি মানে তো আমাদের বাড়ি, আমাদেরই টাকায় করিচিস যখন–

    —আপনাদের মতন লোক এই অধমের কুঁড়েতে আসবেন, এ তো মহাভাগ্যের কতা। কবে পায়ের ধুলো দেবেন, বলুন!

    —সহজে দিতে পারবো না, অ্যাখন পায়ের ধুলো বড় আককারা, যা বৃষ্টি বাদলা চলছে। আমাদের এই চিৎপুরের রাস্তায় তো মেঘ ডাকলেই হাঁটু জল। পদ কাদা দিতে পারি।

    —তাই-ই দেবেন না হয়। আপনার পা ধুয়ে একটু চরণামৃত খেয়ে নেবো।

    –কী ব্যাপার রে, গুপী! এত খাতির কচ্চিস কেন রে আমাকে? অতি ভক্তি কিসের লক্ষণ য্যানো।

    —আপনাকে খাতির করবো না তো করবো কাকে? আগে পায়ে হেঁটে ঘুরতেন, তারপর দেখলুম পালকি ধরেছেন, অ্যাখুন। আবার দেখচি জুড়ি গাড়ি হাঁকাচ্চেন। গত মঙ্গলবার আমার পাশ দিয়ে ধাঁ করে চলে গেলেন, আমি কত ডাকাডাকি কল্পম, আপনি গেরাহ্যিই কল্লেন না। তবে বড় খুশী হইচি, আপনার উন্নতি দেখলে আমাদেরও আনন্দ হয়।

    —র, র, আর কাঁটা দিন সবুর কর, আরও কত দেকবি! এই তো সবে ছিপ ফেলিচি। অ্যাখুন। জুড়ি গাড়ি হাঁকাচ্চি, এরপর দেকবি তেঘূড়ি চৌঘুড়ি হাঁকাবো, নিজের, একেবারে নিজের!

    —সিদিনকে তবে কার গাড়িতে যাচ্চিলেন? আপনার নিজের নয়!

    —না রে, পাগলা।। ও গাড়ি রামকমল সিংগীর।

    —সিংগী বাড়িতে আবার ভিড়লেন কবে? এই যে কদিন খুব সরকার মশায়ের সঙ্গে ঘোরাঘুরি কচ্চিলেন। তেনাকে ছেড়ে এবার বুঝি রামকমল সিংগীকে ধরলেন?

    —ছাড়িনি, তেনাকেও ছাড়িনি। দুজনকে দু হাতে খেলাচ্চি বুজলি, পুকুরের দু ঘাটে চার ফেলিচি।

    —তাহলে আপনাকে একটা কাজ কত্তেই হবে আমার জন্যে। বাবু রামকমল সিংগী শুনলুম শিগগীরই ছেলের বে দিচ্চেন। কিছু না হোক, লাখখানেক টাকা খরচ হবে নিশ্চয়!

    —লাখখানেক কি রে ব্যাটা! এক লাখ তো আমার মতন বারো ভূতে লুটেপুটেই খাবে। শুনচি, গয়নার হিসেবই হয়েছে আড়াই লাখ।

    —ঘোষালমশাই, ওর থেকে আমায় কিছু কাজ ধরে দিতেই হবে। হাজার পঞ্চাশেক পেলেই আমার যতেষ্ট।

    নিঃশব্দ হাসিতে রাইমোহনের মুখখানা কুঁচকে গেল। তার হাসির মধ্যেও খানিকটা হিংস্ৰতা আছে। এই পৃথিবীর কাছে কখনো নিজে জব্দ হয়ে যাবার আগেই সে নানারকম বুদ্ধির প্যাঁচ খেলিয়ে দিতে চায়।

    বাঁ হাতটি তুলে গুপীর দিকে অভয় মুদ্রা দেখিয়ে সে বললো, এই কতা! মোটে পঞ্চাশ হাজার পেলে তুই সন্তুষ্ট?

    –আজ্ঞে হ্যাঁ।

    —যদি আরও বেশী কাজ দিই?

    –সে আপনার দয়া।

    —বিধু মুকুজ্যেও মেয়ের বে লোগাবে, সে খপির শুনিচিস?

    —কোন বিধু মুকুজ্যে? যিনি বড় উকিল?

    –হ্যাঁ, আমাদের রামকমল সিংগীর ফে ফি গা—কী বললেন?

    —ফেরেণ্ড, ফিলজফার অ্যাণ্ড গাইড। এটুকুও জানিস না?

    —এসব জানলে তো আমিও বাজারে নেমে পড়তুম। মুখ্যু বলেই না। সারাদিন আগুনের ধারে বসে হাঁপর চালাই।

    —সেই বিধু মুকুজ্যের বাড়ির কাজেরও বায়না। যদি জোগাড় করে দিই?

    —তাহলে আপনাকে রোজ দু বেলা পেন্নাম ঠুকবো!

    —শুধু পেন্নাম! হিস্যে দিবি না ব্যাটা বজ্জাত!

    –সেও আপনার দয়া। আপনি হিস্যে চাইলে কি আর আমি কখনো না বলতে পারি?

    —টাকায় এক আনা বাট্টা দিবি তো বল এখন থেকেই কাজে লেগে যাই। সিংগী বাড়িতে মাধব স্যা করার কাজ বাঁধা।

    দপ করে জ্বলে উঠলো গুপী। আর পাঁচজন নিরীহ, দুর্বল মানুষের মতন সে-ও নিজের পেশায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম সহ্য করতে পারে না। ইদানীং স্বর্ণকার হিসেবে মাধবের খুব খ্যাতি। আন্দাজে ঢ়িল ছোঁড়ার মতন রাইমোহন ওর নামটা তুলেছে।

    —মাধব! সে তো এক নম্বুরি চোর। বিষাকুম্ভ, বুঝলেন ঘোষালমশাই, বিষাকুম্ভ, এই বলে দিলাম আপনাকে। ও গুখেগোর ব্যাটাকে কেউ সেঁকো বিষ খাওয়াতে পারে না!

    —তবেই বোজ! মাধবকে সরানো চাট্টিখানি কতা নয়। দস্তুর মতন মেহনৎ করতে হবে, বুদ্ধি খচৰ্গ করতে হবে। কিছু আগাম দে!

    –আজ্ঞে?

    —একবার বললে বুঝি কতা বুঝিস না? দুবার তিনবার করে বলতে হবে? কিছু আগাম দে আমায়। এত বড় একটা কাজের পত্তন করবো, কিছু মালকড়ি ছাড়তে হবে না?

    —আগাম! এখন তো আমার হাতে কিচু নেই। আগে কাজ করি, বাবুদের কাঁচ থেকে পয়সা পাই, তারপর কড়ায় ক্রান্তিতে আপনার হিস্যে বুঝে দেবো।

    —আরে ব্যাটা, আগে দারোয়ানগুলোনকে হাত কত্তে হবে না? সেজন্য খচাঁপাতি নেই? এসব বড় বড় বাড়ির দারোয়ানরা এক একজন কাঁচাখেকো দেবতা, এদের খুশী না করে কিছুটি করার উপায় নেই।

    —ঘোষালমশাই, বিশ্বাস করুন, হাত একেবারে খালি।

    —দে দে ব্যাটা, বেশী ভ্যানতাড়া করিস না, শুভ কাজে অমন ব্যাগড়া দিতে নেই, অন্তত পঞ্চাশটা টাকা বার কর।

    —আজ নয়, আর একদিন বরং—

    –তবে কি মাধবের কাচে যাবো বলতে চাস? তোর ভালো চাই বলেই বলচি, নইলে আগ বাড়িয়ে আমার এত গরজ দেকাবার ঠ্যাকাটা কী? সিংগী বাড়িতে একবার যদি ঢুকতে পারিস-টিকটিকি হয়ে ঢুকবি, পাঁচ বছর বাদে কুমির হয়ে বেরিয়ে আসবি!

    —তবে আজ তিরিশ টাকা নিন!

    —অ্যাই তো! অমনি দরদরি শুরু করে দিলি। স্বভাব যায় না মলে, অভাব যায় না ধুলে। স্বভাবটা যাবে কোতায়! লাখ লাখ টাকার কারবার, আর তুই দশ-বিশ টাকা নিয়ে ঝামেলা কচ্চিস।

    —পঁয়তিরিশ নিন। তার বেশী আজ আর কিছুতেই দিতে পারবো না!

    —আর একটু ওঠ। আর একটু বাড়। আচ্ছা বেশী কতার দরকার নেই। দে, পঁয়তাল্লিশই দে। বাকি পাঁচ টাকা তোর ছেলে-মেয়েদের আমি মোয়া মিছরি খেতে দিলুম।

    অত্যন্ত অনিচ্ছার সঙ্গে গা মোচড়া-মুচড়ি করতে করতে গুপী কাঠের ক্যাশ বাক্সটা খুললো। ঘর থেকে টাকা বার করে দিতে গুপীর যেন হাড় পাঁজরা ভেঙে যায়। কিন্তু উপায়ও তো নেই, রাইমোহন ঘোষালের সঙ্গে সে কথায় এঁটে উঠতে পারবে না। কাজটাও বড় বেশী লোভনীয়। এই সব বড় মানুষদের বাড়ির একটা বিয়ের কাজ করেই অনেকে ভাগ্য ফিরিয়ে নেয়! মাধবের নাম করেই রাইমোহন গুপীর একেবারে ঠিক জায়গায় ঘা দিয়েছে। মাধবের কাছ থেকে কাজ কেড়ে নেবার আনন্দে গুপী পঞ্চাশ একশো টাকা অনায়াসে জলাঞ্জলি দিতে পারে।

    টাকাগুলো গুণে বেনিয়ানের জেবে ভরে নিয়ে রাইমোহন তৃপ্তির হাসি হাসলো। নিজের কৃতিত্বে সে নিজেই মুগ্ধ। উদারভাবে সে আবার পানের ডিবেটা বাড়িয়ে দিল গুপীর দিকে।

    —তাহলে কাজ ঠিক হাসিল হবে তো, ঘোষালমশাই?

    —তুই নিশ্চিন্তি থাক। তোর বাড়ি এবার তিনতোলা হলো বলে!

    —আজ মাল আনেননি কিচু?

    –নাঃ!

    —তাহলে এবার গা তোলা যাক। আজ খবর-টবরও কিচু শোনালেন না।

    —বোস, আরও কাজ আচে। খবর আর কী, দেশে মড়ক লেগেচে, ওলাউঠোয় কত মানুষ পটাপট মরে যাচ্চে! লোকে মড়া পুড়েবারও ফুর্সোৎ পাচ্চে না। গঙ্গায় হাজারে হাজারে শব ভাসচে। দেকে আয় গে, সে এক দ্যাকার মতন জিনিস!

    —রাম কহো! ও আবার কেউ দোকতে যায়!

    –ঘাটে এত মড়া ভাসচে যে সাহেবরা জাহাজ ভিড়োতেও পাচে না। বড় বড় কত্তারা এই নিয়ে মিটিং কত্তে লেগেচে। এমন মড়কের কথা জন্মে শুনিনি। এর মধ্যে শুনলুম দ্বারকানাথ ঠাকুর বিলেত থেকে ফিরলেন।

    গুপী চোখ কপালে তুলে জিজ্ঞেস করলো, বলেন কী? উনি বিলেত গেলেন কবে? কিচুই শুনিনি তো! কালাপানি পেরুলেন? জাত ধম্মো সব জলাঞ্জলি দিলেন?

    —ওঁর আর জাত ধম্মো আচে কী? বড় মানুষদের জাতে কখনো ফোস্কা পড়ে? কেউ পাঁতি দিতে গেলে তাদের গায়ে চাঁদির জুতি কষাবেন, অমনি সব ঠিক হয়ে যাবে। ওঁর গুরুঠাকুর কালাপানি পেরিয়েছেল আর উনি পেরুবেন না? যাকগে, শোন, এক ছড়া সোনার হার দে তো আমাকে। ছোট হলেই চলবে, বেশী বড়র দরকার নেই।

    —হার? আপনি কিনবেন?

    গুপী যদি অতিরিক্ত বিস্ময়াপন্ন হয়ে পড়ে, তা হলেও তাকে দোষ দেওয়া যাবে না। রাইমোহনই এদিক সেদিক থেকে হাত সাফাই করে আনা সোনার জিনিস বিক্রয় করে গুপীকে। বস্তুত সেই উপলক্ষেই তার এখানে পদাৰ্পণ ঘটে। আজ ঠিক তার বিপরীত ব্যাপার সঙঘটিত হচ্ছে।

    —হ্যাঁরে ব্যাটা, আমি কিনবো। কেন, ক্ষ্যামতা নেই নাকি আমার সোনা কেনার?

    —না, বলছিলুম কি, আপনি নিজেই আবার বে-শাদী কচ্চেন নাকি?

    —কতা বাড়াসানি। তোর কাচে হারটার কী আচে দ্যাকা, আমার তাড়া আচে।

    গুপী ছোট বড় নানা মাপের চার পাঁচটি হার বার করলো। কোনোটিতে পাথরের লকেট বসানো, কোনোটি সাধারণ নক্সাকাটা। এর মধ্যে থেকে একটি ছোট মফচেন তুলে নিয়ে রাইমোহন জিজ্ঞেস করলো, এটা ওজন কর, দ্যাক কতোটা সোনা–

    হারটি ছোট হলেও বেশ ভারী, পুরো দেড় ভরি। গুপী তার দর হাঁকলো পয়ত্ৰিশ টাকা। রাইমোহন তাই শুনে গুপীর খুতনিটা নেড়ে দিয়ে বললো, বা বা বা বা বা বা! বলিহারি। আক্কেল রে! আমি বেচিতে এলে বলবি উনিশ টাকা ভরি, তার বেশী একটা আধলা না, আর আমাকে তুই বেচাবি বেশী দরে? অ্যাঁ?

    —আজ্ঞে আমার বানিটা ধরবেন তো!

    —চশমখোর, আমার কাছ থেকেও বানি চাইচিস!

    অনেক দরাদরি করে বত্ৰিশ টাকায় রফা হলো। গুপী তার কমে কিছুতেই দেবে না। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাইমোহন বললো, আচ্ছা দে! আর পারি না তোর সঙ্গে।

    ছোট বাক্সে হারটি ভরে দিতে দিতে গুপী বললো, কিন্তু ঘোষালমশাই, এত ছোট হার তো কোনো হুরী-পরীর গলায় মানাবে না। লাল পাতর বসানোটি নিলে পাত্তেন, বেশ দ্যাখানদার ছিল।

    —তার দামটিও যে দ্যাখানদার! দে, দে, ওতেই হবে! তোকে আর ফোঁপরন্দালালি করতে হবে না।

    —কার গলায় পরাবেন?

    —চুপ মার!

    রাইমোহন যেন একটু লজ্জা পেয়েছে মনে হয়। আর কথা বাড়াতে চায় না। মোড়া থেকে টক র উঠে পড়লো, আর সঙ্গে সঙ্গে ওঁতে খেল মাথায়। তার দৈর্ঘ্যের তুলনায় এ ঘরের ছাতটি যে নীচু, সে কথা তার প্রায়ই মনে থাকে না।

    —চলি রে, গুপী!

    –দামটা দিলেন না?

    —অ! ভুলেই গিসলাম। আমি নগদানগদির কারবারই পছন্দ করি। ধারধোর রাখা আমার স্বভাব নয়।

    বেশ সাড়ম্বরে রাইমোহন একটু আগে গুপীরই দেওয়া সিকাগুলি বার করলো জেব থেকে। গুণে গুণে বত্ৰিশ টাকা তুলে দিল গুপীর হাতে। তারপর কৌটোটি ট্যাঁকে গুঁজে নিষ্ক্রান্ত হলো।

    এবার গুপীও মুচকি হাসলো একটু। সব দুঃখেরই সান্ত্বনা আছে। রাইমোহন চিনতে পারেনি। এই হারটিই রাইমোহন কিছুদিন আগে গুপীর কাছে বিক্রি করে গিয়েছিল আঠাশ টাকায়। গুপী তার ওপর চার টাকা লাভ রেখে দিল। ভাগ্যে না থাকলে এরকম দাঁও জোটে না।

    রাইমোহনের গন্তব্য বউবাজার। গুপীর দোকান থেকে বেরিয়েই অদূরেই পথে পড়লো জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি। সেদিকে তাকিয়ে রাইমোহন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

    এই বাড়িটির ওপর তার রাগ আছে। রাইমোহন এ বাড়িতে ভিড়তে গিয়েছিল, কিন্তু ঠোক্কর খেয়ে ফিরে এসেছে। দ্বারকানাথ ঠাকুরের বাড়ি গতায়াত করতে পারলে দেশের দশটা লোকের কাছে ইজত বাড়ে। রাইমোহনের কাকা দ্বারকানাথের বয়স্য ছিলেন। তিনি অকালে চোখ বুজেছেন। খুড়োর জায়গায় উপযুক্ত ভাইপোরই কাজ পাবার কথা। তা দ্বারকানাথ তো এখন আর দিশী লোকদের আমোলই দ্যান না। সাহেবসুবো ছাড়া কথা নেই, ঘুরে এলেন খোদ সাহেবদের মুলুক থেকে। সে যাই হোক, তাঁর ছেলে দেবেন্দ্ৰ এখন লায়েক হয়েছে, বিষয়কর্ম দেখছে, তাঁরাও এখন পারিষদের প্রয়োজন। গোড়ায় গোড়ায় দেবেন্দ্ৰবাবু যেরকম ফুর্তি-ফাতা শুরু করেছিল, তাতে বেশ আশা হয়েছিল রাইমোহনের। কয়েকবার সে ঘুরঘুর করেছিল দেবেন্দ্ৰবাবুর আশেপাশে। কিন্তু ঠিক পাত্তা পায়নি। দেবেন্দ্ৰবাবুর নাকি মতিগতি বদলে গেছে, মদ মেয়েছেলেতে আসক্তি নেই, নাচ গানের আসর বসান না, পুরুষমানুষের যোগ্য কাজ কিছুই করেন না। সংস্কৃত শেখার খুব ঝোঁক হয়েছে নাকি। এটা একটা অন্যায় কথা নয়? অত বড় বংশের ছেলে, একটু আধটু বখামি না করলে আর পাঁচজন লোকের অন্ন সংস্থান হবে কী করে? দেবেন্দ্রবাবুকে বাইরে আর প্রায় দেখাই যায় না, কিছু মেনিমুখো মদার সঙ্গে দিনরাত কী সব গুজুর গুজুর ফুসুর ফাসুর করেন। রাইমোহন ঠিক তাল ধরতে পারছে না। লোকে বলাবলি করছে, দ্বারকানাথের মোসাহেবরা এক একটি গড়র পক্ষী, আর সেই মানুষের ছেলে হয়ে দেবেন্দ্রবাবু চাট্টি বায়স পুষিছেন।

    রাইমোহন মনে মনে বললো, কেটে যাবে, এসবও কেটে যাবে। এসব নিরিমিষ্যি ভড়ং আর কতদিনের। জমিদার বাড়ির ছেলে রক্ত চাটবে না। এ কখনো হয়?

    জানবাজারে কমলাসুন্দরীর বাড়িতে আজ দারুণ আসর জমেছে। লখনৌ থেকে কালোয়াতী গানের এক ওস্তাদ আর তবলা বাজনাদার আনিয়েছেন রামকমল সিংহ। এ সবই কমলাসুন্দরীর মনোরঞ্জনের জন্য। কমলাসুন্দরীর নৃত্যের খ্যাতি দিকবিদিক ছড়িয়েছে, সে আরও তালিম নিতে চায়। ব্যয়ের ব্যাপারে রামকমল সিংহের কোনো কার্পণ্য নেই। কমলাসুন্দরীর যে-কোনো আবদার তিনি রক্ষা করতে প্ৰস্তুত। বাবু তো বাবু রামকমল সিংহ। এ কথা স্বীকার করছে সকলে। পাঁচজন লোক ডেকে নিজের রক্ষিতার নাচ দেখানো এমন কাজ আগে কেউ কখনো করেনি। বাঈ নাচের আসর বসাতে হলে সকলেই বাঈজী ভাড়া করে আনে, নিজের মেয়েমানুষকে রাখে আড়ালে। কিন্তু কমলাসুন্দরীকে আর পাঁচজনে তারিফ করলে রামকমল সিংহ যেন আরও বেশী আনন্দে মেতে ওঠেন।

    সন্ধ্যে থেকে বসে নাচ গানের আসর। জানবাজারের বাড়িটি সম্প্রতি রামকমল সিংহ কিনেই ফেলেছেন। ইয়ার বন্ধুদের সেখানে নিমন্ত্রণ করে ডেকে আনেন তিনি, খাদ্য মদ্য থাকে অঢেল, কিন্তু স্ত্রীলোক ঐ একটিই। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুর্তির মাত্ৰাও চড়তে থাকে। কমলাসুন্দরীর গাত্ৰবৰ্ণ ভ্ৰমরকৃষ্ণ, লাল রঙের ঘাঘড়া ও ওড়নাই তার পছন্দ, আসরের মাঝখানে তাকে মনে হয় একটি ঘুরন্ত রক্তবর্ণের শিখা। এক একবার নাচ থামলেই কেয়াবাৎ কেয়াবাৎ এনকোর এনকোর চিৎকারে হুলুস্কুলু পড়ে যায়। উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখনই এক সময় রামকমল সিংহ উঠে আসরের মাঝখানে এসে কমলাসুন্দরীর কোমর বেষ্টন করেন। সে সময় যুগল নৃত্যের জন্য সমস্বরে অনুরোধ আসে মুহুর্মুহু, কিন্তু রামকমল সিংহ সকলের সামনে নিজেকে এতটা খেলো করতে চান না। তাঁর মুখে ফুরফুরে হাসি, চক্ষু ঢুলু ঢুলু, তিনি সেই অবস্থায় কমলাসুন্দরীকে পাশের শয়ন কক্ষে নিয়ে গিয়ে দ্বার বন্ধ করে দেন।

    এই প্রকার ব্যবহারে রামকমল সিংহ বেশী আনন্দ পান। লাস্যময়ী কমলাসুন্দরী যখন উপস্থিত ভদ্র পঞ্চজনের কাছে কামনীয়া হয়ে ওঠে, যখন সে সকলেরই বুকে লালসা বহ্নি জ্বেলে দেয়, সেই সময়ই রামকমল সিংহ যেন তাদের বোঝাতে চান, দেখো, এই রমণী শুধু আমারই অঙ্কশায়িনী।

    রাইমোহন এ আসরে নিয়মিতই উপস্থিত থেকে এই মজা দেখে। আজ সে সেই গৃহের কাছাকাছি গিয়েও অন্দরে প্রবেশ করলো না। প্রথমে ভেবেছিল, কিছুক্ষণ অন্তত বসে খানিকটা পরস্মৈপদী সুরা টেনে আসবে। কিন্তু মন বদল করে ফেললো। সে চললো বউবাজারের দিকে।

    ছিপছিপ ছিপছিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। ছাতা সঙ্গে রাখে না। রাইমোহন, ভিজতেই লাগলো। লম্বা লম্বা পা ফেলতে লাগলো খানাখন্দ বাঁচিয়ে। তার মনের মধ্যে একটা দো-টানা চলছে। তার ফুর্তিপ্রিয় মনটা তাকে টানছে পেছনের দিকে, গান বাজনা সম্পর্কে তার একটা সহজাত প্রীতি আছে, প্ৰথম যৌবনে সে অনেক শখ করে সঙ্গীতের চাচা করেছিল। তখন উদ্দেশ্য ছিল বিশুদ্ধ আনন্দ, এখন অবশ্য সে সঙ্গীতকে অন্য কাজে লাগায়। তবু এখনো উঁচু জাতের গান তাকে আকৃষ্ট করে, সঠিক তালের নাচের মধ্যে সে লাস্য ছাড়া আরও কিছু পায়। কমলাসুন্দরী রামকমল সিংহের বলতে গেলে ক্রীতা রমণী, সেদিকে রাইমোহনের নজর নেই, কিন্তু তার নাচ দেখলে তবু অন্তত নাচটাই দেখা হয়। তাছাড়া সন্ধ্যের পর মজলিশে মজলিশে সময় কাটানো তার অনেক কালের অভ্যোস, দু পাত্তর টানার জন্য গলার ভেতরটা শক শক করছে। অথচ এ কথা রাইমোহন বোঝে যে একবার ঐ মজায় মজলে সে আর সহজে বেরুতে পারবে না। প্রায় রাতেই রাইমোহন কমলাসুন্দরীর নাচঘরের ফরাসেই গড়াগড়ি দেয়।

    আবার হীরেমনির কাছেও পাঁচ সাতদিন আসা হয়নি। সেজন্য রাইমোহন একটু একটু অপরাধী বোধ করে। শেষ পর্যন্ত পিছুটান উপেক্ষা করে সে জোরে জোরে পা চালালো।

    পায়ের ইংলিশ জুতো জল কাদায় মাখামাখি। মসজিদের পাশের পুকুরে ভালো করে পা ধুয়ে নিয়ে সে এসে দাঁড়ালো হীরেমনির বাড়ির সামনে।

    এ গৃহ আজি বর্ণহীন। জানলাগুলি বন্ধ, ভিতরে কোনো জনমনুষ্য আছে বলেই বোঝা যায় না। রাইমোহন অবাক হলো না। সদরদ্বার খোলাই ছিল, সে ভেতরে ঢুকে পড়লো। ঘুটফুটে অন্ধকারের মধ্যে পা ঘষে ঘষে কোনোক্রমে সে উঠতে লাগলো সিঁড়ি দিয়ে। হীরেমনির নোকারটি পালিয়েছে, রাইমোহন আগের দিন এসেই দেখেছিল, তার বদলে কাজ করছিল একটি পশ্চিমা স্ত্রীলোক। আজ বোধহয় সে-ও নেই। হীরোমনি আছে তো?

    ওপরে উঠে এসে বড় ঘরটির দরজা ঠেলে সে সভয়ে ডাকলো, হীরে, হীরোমনি!

    এ ঘরটিও অন্ধকার প্রায়। এক কোণে একটি মাটির মালসায় তুষের আগুন জ্বলছে ধিকিধিক করে। ঘরে কেউ আছে কি না বোঝা যায় না।

    দু তিনবার ডাকবার পর ক্ষীণ গলায় সাড়া এলো, কে?

    নিশ্চিন্ত হয়ে রাইমোহন ঢুকে পড়লো ঘরে। চক্ষু সঙ্কুচিত করে আধার সইয়ে নিয়ে সে দেখলো জাজিমের ওপর লম্বমান এক নারীকে।

    —কেমন আচিস, হীরোমনি?

    —তুমি ফের এয়েচো?

    রাইমোহন চলে গেল তুষের মালসার কাছে। সে জানে, পাশেই গন্ধক মাখানো টুকরো টুকরো পাটখড়ি রাখা থাকে। হাতড়ে হাতড়ে সেইরকম একটি পাটখড়ি পেয়ে সে তুষের আগুনের মধ্যে ঠেসে ধরলো, অমনি ফস করে জ্বলে উঠলো সেটা। সেই জ্বলন্ত পাটখড়ি উঁচু করে ধরে সে জিজ্ঞেস করলো, মোমবাতি কোতায় রে?

    বেশী খুঁজতে হলো না, মোমবাতি সে নিজেই পেল, সেটা ধরাবার পর সে বললো, একটা গামোছা কোতায় পাই বল দি নি? মাতাটা ভিজে জবজবে হয়ে গ্যাচে।

    স্নান আলোয় মেঘলুপ্ত চাঁদের মতন দেখায় হীরেমনির মুখখানি। দু চোখের নীচে মৃত্যুর পাণ্ডু রঙ। শরীর কঙ্কালসার। কণ্ঠে জোর নেই, তবু হীরোমনি বললো, পোড়ামুখো মনিষ্যি, তুমি ফের মরতে এয়োচো এখেনে! দূর হও! দূর হও!

    রাইমোহন হেসে বললো, আসা মাত্তরই দূর দূর করচিস কেন রে? লোকে কুকুর বেড়ালকেও এমনিভাবে তাড়ায় না!

    হীরোমনি বললো, তোমায় কতবার আসতে বারণ করিচি! আমি তো মরতে বসিইচি, তোমারও মারার সাধ হয়েচে বুঝি?

    হীরোমনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছে। তার ধারণা, তার সংস্পর্শে এলে রাইমোহনও পড়বে সেই অসুখে। তিন মাস হয়ে গেল হীরেমনিকে আঁকড়ে আছে। এই কালরোগ, নিচ্ছেও না, ছাড়াচেও না। হীরেমনির কাছে অনেকদিনই আর কেউ আসে না। তার জিনিসপত্রও ক্রমে ক্ৰমে উধাও হয়ে গেছে। যৌবন চলে গেলে বারবনিতার আর কিছুই থাকে না, কিন্তু হীরেমনির বয়েস এখনো কুড়ি পূর্ণ হয়নি, তবু তার এই দরদৃষ্ট।

    —চাঁদু কোতায়? চাঁদু?

    —ঘুমুচ্চে পাশের ঘরে।

    —এই সন্ধেবেলা ঘুমুচ্চে? খেয়েচে কিচু?

    –তোমার আত কতার দরকার কী?

    —আ মোলো, অমন কতায় কতায় মুখ ঝামটা দিচ্চিস কেন? ছেলেটা খেয়েচে কিনা জানবো না? সেদিন যে মাগীকে দেখে গোসলুম তোদের রান্না করে দিচ্চে, সে গেল কোতায়?

    -কে জানে!

    রাইমোহন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। বেঘোরে মরতে বসেও হীরেমনির অহংকার যায়নি, সে কিছুতেই রাইমোহনের কাছ থেকে কোনো সাহায্য নিতে চায় না। রাইমোহন টাকা দেওয়ার চেষ্টা করলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। হীরেমনির ছেলে চন্দ্রনাথের বয়স এখন তিন বছর, মায়ের এই অসুখে তারও দুরবস্থার একশেষ হচ্ছে। কেই বা দেখাশুনো করবে। যা অবস্থা, তাতে চোর ডাকাতরা যে কোনোদিন মা-ছেলেকে কেটেকুটে বাকি সব জিনিসপত্রও নিয়ে চলে যাবে। রাইমোহনের সংসারে কেউ নেই, কবেই সব উৎসন্নে গেছে, সুতরাং চন্দ্রনাথকে সে নিজের কাছে নিয়ে রাখতেও ভরসা পায় না। আর কার কাছেই বা রাখবে, বেশ্যার ছেলেকে কে নেবে?

    পাশের ঘর থেকে ঘুমন্ত চন্দ্রনাথকে তুলে নিয়ে এলো রাইমোহন। ছেলেটার চোখের নীচে শুকনো জলের দাগ, তাই দেখে কঠিন হৃদয় রাইমোহনেরও বুকটা একটু মুচড়ে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে রাগও হলো তার।

    হীরেমনির পাশে বসে সে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলো, তুই এখনো বল, হীরেমনি, এ ছেলে কার? আমি তার গলায় গামছা দিয়ে এখানে হিড়হিড় করে টেনে আনবো! গোটা কালকেতা শহরে খবর রটিয়ে দেবো।

    হীরেমনি ফোঁস করে উঠে বললো, ফের ঐ কতা? দূর হয়ে যাও আমার চোকের সুমুখ থেকে। ছেলে আমার, ভগমন আমায় দিয়েচেন।

    এ কি বিস্ময়কর বিশ্বস্ততা হীরেমনির! মৃত্যু শিয়রে রেখেও, সে সততার জেদ ছাড়বে না। এই ব্যাপারটাই রাইমোহনকে বেশী টানে। তঞ্চকতাই তার পেশা; ভণ্ডামি, জুয়াচুরি ও মিথ্যের অস্ত্রগুলি সে সারা জীবন শানিয়ে বেড়াচ্ছে; আর একজন সামান্য স্ত্রীলোক হারিয়ে দিচ্ছে তাকে। সতীত্ব নেই অথচ সততা আছে, এমন স্ত্রীলোকও বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ডে থাকে?

    —যদি জগমোহন সরকার হয় তো একবারটি বল, আমি হাটে হাঁড়ি ভাঙবো। সে নচ্ছারটা ফিমেল উদ্ধারের নাম করে ভদ্দরলোকের বাড়ির অন্দরে টু মেরে বেড়াচ্চে। মাথা ভরা কুমতলব, আর মুখে বড় বড় কতা! কত পিরীত ছিল তোর সঙ্গে, এখুন। আর ইদিকে আসবার নামটি নেই।

    —হাজার বার বলিচি তিনি নন।

    –বেশ, তবে আজ থেকে আমিই চাঁদুর বাপ হলুম।

    —না, তোমার মুরোদে কুলোবে না। ওর বাপ কেউ নয়। ওর বাপ নেই। আমি মরলে চাঁদুও আমার সঙ্গে মরবে।

    —হীরে, আমার ওপর কেন অত রাগ করিস? সুখের খোঁজে লোকে তোদের মতন মেয়েমানুষের কাচে আসে। অসুখে-পড়া মাগ দেখতে কেউ ভুলেও আসে না। কিন্তু আমি তো এসিচি।

    –বেশ কোরেচো। এখন বিদায় হও।

    –চাঁদুকে আমি আজ থেকে পুষ্যি নিলুম। এই দ্যাখ।

    ট্যাক থেকে সোনার হারটা বার করে সে পরিয়ে দিল চন্দ্রনাথের গলায়। তারপর ছোট একটি হাততালি দিয়ে বললো, বাঃ দিব্যি মানিয়েচে।

    —খুলে নাও, এক্ষুনি খুলে নাও। কার ঘর ঠেঙে চুরি করা মাল তুমি এখেনে গচাতে এয়োচো!

    —চুরি করা? তোকে কিরে কেটে বলচি, এ আমার হকের জিনিস। ওকে আজ ছেলে বলে ডাকালুম, খালি হাতে আসা যায়? তোকে আর একটা কতাও বলচি, আজ থেকে আমি এখেনেই ঠাঁই নেবো। আর যাচ্চিনি। আমি এখুনি বেরিয়ে খাবারদাবার কিনে আনচি। তুই ভেবেচিস আমায় ফাঁকি দিয়ে পালাবি?

    চন্দ্রনাথের মুখশ্ৰী সুন্দর, গৌরবর্ণ, সোনার হারটি পরানোতে সেই শিশুকে আরও সুশোভন দেখায়। রাইমোহন সেদিকে মুগ্ধভাবে তাকিয়ে রইলো। পুষ্যি নেওয়ার দিন একটা কিছু স্বৰ্ণালঙ্কার দেওয়া নিয়ে কথা। তারপর আবার টাকা পয়সার হঠাৎ ঘাটতি পড়লে ঐ হারটিই বেচে দিয়ে আবার দু পাঁচদিন চালানো যাবে।

    হীরোমনি আর পারলো না, নিঃশব্দে অশ্রু বর্ষণ করতে শুরু করলো। রাইমোহন হীরেমনির শীর্ণ গ্ৰীবায় হাত রেখে বললো, তোকে আমি সারিয়ে তুলবোই! তুই ভালো হয়ে ওঠ, হীরে, তারপর তোতে আমাতে মিলে আগুন জ্বালাবো! তোকে আমার খুব দরকার।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্রিস-ক্রস – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    Next Article একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Our Picks

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }