Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প736 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. নবীনকুমার

    শোনা যায় নবীনকুমারের যখন মাত্ৰ পাঁচ মাস বয়েস, সেই সময়েই সে একটি বিস্ময়কর কাণ্ড করেছিল। একদিন সে খাট থেকে গড়িয়ে পড়ে যায় মাটিতে। বিম্ববতী সেদিন পাল্কি চেপে গঙ্গাস্নানে গিয়েছিলেন, পুত্রের ভার দিয়ে গিয়েছিলেন অতি বিশ্বস্ত চিন্তামণি দাসীর ওপর। শিশুকে ঘুমন্ত ভেবে চিন্তামণি সবেমাত্র একবার ঘরের বার হয়েছে, অমনি শিশু সেই শয্যা থেকে গড়িয়ে পড়ে গেল ভুঁয়ে।

    শব্দ পেয়েই চিন্তামণি ছুটে এলো হাঁকুপাঁকু করে। এসে, ঐটুকু ছেলের কাণ্ড দেখে তার চোখ কপালে উঠলো। অতি উঁচু থেকে পড়ে গিয়েও নবীনকুমার কাঁদেনি, বরং হামাগুড়ি দিয়ে সে পালঙ্কের নীচে লুকোবার চেষ্টা করলো যেন। হামাগুড়ি। ভয়ে বুক টিপচিপ করতে লাগল চিন্তামণির। পাঁচ মাসের শিশুকে হামাগুড়ি দিতে দেখেছে। কেউ কখনো? পালঙ্কের নীচে হাত বাড়িয়ে চিন্তামণি ব্যাকুলভাবে ডাকতে লাগলো, অ ছোটবাবু! ছোটবাবু!

    চিন্তামণি নবীনকুমারকে ধরে তুলতে সাহস পাচ্ছিল না। তার ধারণা হলো, এ ছেলের ওপর অপদেবতার দৃষ্টি পড়েছে নিশ্চিত। চাঁচামেচি করে বাড়িশুদ্ধ লোককে সে ডেকে জড়ো করলো সেখানে।

    নবীনকুমার গুটিসুটি মেরে বসে আছে পালঙ্কের নীচে। মুখ দেখলে মনে হয়, ঠিক যেন দুষ্টুমী করে হাসছে সে। তার কপালের বাঁদিক কেটে গেছে। সরু। ধারায় রক্ত গড়াচ্ছে সেখান থেকে। পাঁচ মাসের শিশু হামাগুড়ি দেয় এবং কপাল কেটে রক্ত বেরুলেও না কেঁদে হাসে। এ দৃশ্য প্রায় অলৌকিকেরই মতন।

    আট মাস বয়েসে নবীনকুমার একদিন আপনি আপনিই উঠে দাঁড়ায়। এবং দিব্যি গুড়গুড়িয়ে হেঁটে একলা একলা ঘর থেকে বারান্দায় বেরিয়ে এসে আবার চমকে দেয় সকলকে।

    নবীনকুমারের পরবর্তী কীর্তিটি আরও চমকপ্ৰদ।

    বিম্ববতীর পাখি পোষার শখ। বাড়িতে অনেকগুলি ময়না, চন্দনা, হিরামন ও কোকিল আছে। তিন দিকের বারান্দায় সার দিয়ে সেই সব পাখির দাঁড়গুলি সাজানো। অন্দর মহলের মধ্যখানে উঠোন। তিন মহলা বাড়ি। একতলার ঘরগুলি আশ্রিত-পোষ্য ও কর্মচারীদের জন্য বরাদ। এছাড়া বাড়ির সংলগ্ন কয়েকটি গোলপাতার ঘরও আছে, সেখানে থাকে দাস-দাসীরা। দোতলার বারান্দাটির নীচের অর্ধেক রেলিং-এ ঘেরা, বাকি অর্ধেক অংশে গ্ৰীষ্মকালে খসখসের পদ ফেলা থাকে। বিম্ববতী এই বারান্দায় দাঁড়িয়েই দাস-দাসীদের প্রয়োজন মতন নির্দেশ দেন। সব দাস-দাসীর ওপরে আসার হুকুম নেই।

    পাখিগুলির দাঁড়ে বসানো বাটিতে রোজ সকালে ছোলা আর জল দেন বিম্ববতী নিজে। পাখিগুলি নানা রকম সুরে ডাকে। কিন্তু কোনো পাখির মুখে বোল ফোটেনি, বিম্ববতীর শুধু এই একটা দুঃখ। তিনি প্রতিদিন তাঁর ঘরের সামনের ময়নাটির কাছে দাঁড়িয়ে পাখি পড়ান : ময়না, বল র্যাধেকৃষ্ণ! বল রাধেকৃষ্ণ! রাধেকৃষ্ণ!

    বিম্ববতীর কণ্ঠস্বর অতি সুমিষ্ট। তাঁর মুখনিঃসৃত রাধাকৃষ্ণ নামে যেন এ বাড়ি পবিত্র হয়ে যায়। কিন্তু বোকা ময়নাটা কিছু বোঝে না। ঘাড় ঘুরিয়ে লাল লাল চোখ মেলে সে শুধু দেখে বিম্ববতীকে।

    শিশু নবীনকুমারও মায়ের আচল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে সেই সময়। পাছে দুরন্তাপনা করে সে কোনো পাখিকে ধরতে যায় কিংবা কোনো পাখি হঠাৎঠকরে দেয় তাকে, তাই বিম্ববতী এক হাত দিয়ে ছেলের মাথা ঢেকে রাখেন।

    ময়না বুলি শিখলো না। তার আগেই নবীনকুমার একদিন বলে উঠলো, রাধেকৃষ্ণ!

    প্রায় পরিষ্কার উচ্চারণ। মায়ের দিকে সকৌতুকে তাকিয়ে সে বারবার বলতে লাগলো। ঐ কথা। মা বললো না, দুধ বললো না, যাই বললো না, শিশুর মুখের প্রথম কথাই হলো রাধেকৃষ্ণ। তখন ঠিক আট মাস সতেরো দিন বয়েস। বিম্ববতীর সবঙ্গে এক দারুণ শিহরন হলো। চিন্তামণির কথা শুনে তাঁরও মনে মনে একটু আশঙ্কা ছিল যে ছেলের ওপর অপদেবতার নজর পড়েছে হয়তো। অকালে ভূমিষ্ঠ সন্তানকে নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তা থাকেই। কিন্তু সেদিন তিনি আনন্দে কাঁপতে লাগলেন। রাধাকৃষ্ণ নাম উচ্চারণ করেছে যে শিশু, কোন অপদেবতার সাধ্য তার ধার ঘেঁষে।

    ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে বিম্ববতী দৌড়োলেন তাঁর স্বামীর ঘরের দিকে।

    রামকমল সিংহের ঘুম ভাঙে বেশ বেলায়। চোখ মেলে তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন। বিম্ববতীর প্রায় পাগলিনীর মতন অবস্থা। হেসে কেঁদে তিনি একেবারে অস্থির। চুমোয় চুমোয় বালকের গাল সম্পূর্ণ ভিজিয়ে দিয়েছেন। বিম্ববতী যে স্বামীকে কী বলতে ছুটে এসেছেন, তা প্রথমে বুঝতেই পারলেন না রামকমল।

    ছেলেই বুঝিয়ে দিল বাবাকে। সে আবার বললো, রাদে কিসস-ও! ঠিক যেন যন্ত্র পুতুলের মতন আওয়াজ।

    ক্ৰমে ক্ৰমে বহু জায়গায় রটে গেল যে, যোড়াসাঁকোর সিংহ বাড়িতে এক ক্ষণজন্ম শিশুর আবির্ভাব হয়েছে। এক বছর বয়েসেই সে নাচে, গায়, ছড়া বলে। বাড়িতে অতিথিরা এলে তাঁরা গোল হয়ে ঘিরে বসেন মজলিশ কক্ষে। মাঝখানে দাঁড়িয়ে নবীনকুমার হাত পা নেড়ে, চোখ উল্টে নানা রকম কৌতুক দেখায়। সকলেই যে এ দৃশ্য উপভোগ করে, তা নয়। কেউ কেউ অস্বস্তিতে মুখ ফিরিয়ে রাখে। এ শিশুর কিছুই যেন স্বাভাবিক নয়। হাত-পায়ের গড়ন যেন কাঠ কাঠ, ঠোঁটে নাকে তীক্ষ্ণতা আছে কিন্তু লালিত্যের বেশ অভাব। তার চোখ দুটি বেশী উজ্জ্বল। তার ব্যবহারে এতখানি অকালপক্কতা দেখলে গা ছমছম করে। মনে হয়, এ শিশু বেশীদিন বাঁচবে না। প্রকৃতির খেয়ালে এ রকম একটি দুটি শিশু জন্মায় আবার হঠাৎ চলে যায়।

    শ্রীরামপুরের মার্শম্যান সাহেবের সাপ্তাহিক পত্রিকা সমাচার দর্পণে ছাপাও হয়েছিল। এই শিশুর খবর।। যুগল সেতু নিবাসী প্রসিদ্ধ বাবু রামকমল সিংহের বহু সুকৃতির ফলে পরিপক্ক বয়সে এক পুত্রসস্তান লাভ হইয়াছে। ঐ পুত্রের নাম নবীনকুমার। সে তাহারদের গৃহ উজ্জ্বল করতঃ মাতা পিতাকে সুখসাগরে নিমজ্জিত রাখিয়াছে। বিশেষ কথা এই যে ঐ পুত্র অতি ভক্তিমান। দেব-দেবীর মূর্তি দেখিলেই সে দর ২ ধারে অশ্রুবর্ষণ করে ও গীত গাহে। বালকের বয়ঃক্রম এক বৎসর দুই মাস মাত্র।

     

    এদিকে গঙ্গানারায়ণ দিন দিন আরও নিভৃতচারী হয়ে উঠছে। এমনিতেই সে লাজুক, বাড়িতে আত্মীয় সমাগম হলে সে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায়, হাঁটাচলা করে নিঃশব্দে। এখন তাকে আরও দেখতে পাওয়া যায় না। নিজেকে প্ৰায় সব সময় আবদ্ধ করে রাখে নিজের কক্ষে। বছরখানেক আগে সে ফিরিঙ্গি পাঠশালা ছেড়ে ভর্তি হয়েছে হিন্দু কলেজে। তার মনে এসেছে নতুন জোয়ার। চোখের সামনে খুলে গেছে কল্পনার এক অপরাপ জগৎ।

    একা ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে করতে সে আবৃত্তি করে :

    নট ম্যাড, বাট বাউণ্ড মোর দ্যান আ ম্যাডম্যান ইজ;
    শাট আপ ইন প্রিজন, কেপ্ট উইদাউট মাই ফুড
    হুইপড অ্যাণ্ড টরমেন্টেড…

    রোমিওর সংলাপ উচ্চারণ করতে করতেও সে শুনতে পায় ক্যাপটেন রিচার্ডসনের কণ্ঠস্বর। ক্যাপটেন সাহেব কাব্যকে একেবারে জীবন্ত করে তোলেন। ক্লাসে পড়াতে পড়াতে কখনো তিনি সিংহের মতন গজািন আবার কখনো বাঁশীর মতন মধুর সুরেলা স্বর বার করেন। রোমিওর কথা বলতে বলতে তিনি নিজেই রোমিওভাবে ভাবিত হয়ে যান। আবার তিনিই ক্যাপিউলেট, তিনিই মারকুশিও, এমনকি জুলিয়েট পর্যন্ত। জুলিয়েটের কথা চোখ বুজে শুনলে মনে হবে, ক্লাসের মধ্যে সত্যিই বুঝি কোনো নারী এসে উপস্থিত হয়েছে।

    রিচার্ডসনের ক্লাসে একটি পিনের শব্দ পড়লেও শোনা যায়। এমনকি মধুর মতন অত দুরন্ত ছেলেও সে সময় তন্ময় হয়ে থাকে।

    গঙ্গানারায়ণের বিবাহের কথাবাত চলছে। রামকমল চান খুব শীঘ্রই গঙ্গাকে বিষয়-কর্মে লাগিয়ে। দিতে। অনেক পাত্রী দেখার পর বাগবাজারের গোকুল বসুর কন্যা লীলাবতীকে মোটামুটি পছন্দ করা হয়েছে। লীলাবতীর বয়েস সাত। গঙ্গানারায়ণের এখন বিবাহের এতটুকুও ইচ্ছে নেই। কিন্তু সে কথাও সে মুখ ফুটে বলতে পারে না। কারুকে। অতটুকু একটা মেয়ের সঙ্গে সে কী কথা বলবে? তা ছাড়া, বিবাহের চিন্তাতেই গঙ্গানারায়ণের কৰ্ণমূল আরক্ত হয়। ঐ ব্যাপারটির মধ্যে কী যেন একটা রহস্য আছে, তা সে এখনো ঠিক বোঝে না। ইদানীং ঐ কথা তুলে বিন্দুবাসিনী প্রায়ই খুব রঙ্গ করে।

    বিন্দুবাসিনী বিধুশেখরের তৃতীয়া মেয়ে। গঙ্গানারায়ণ বিকেলের দিকে মাঝে মাঝে যায় ঐ বাড়িতে। আগে প্ৰায় প্রত্যহই যেত, এখন বিশেষ করে শনিবার ও রবিবার সে যেতে ভোলে না।

    বিধুশেখরের বাড়ির আশ্রিতদের মধ্যে একজন হচ্ছেন শিবরাম আচাৰ্য, তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত সংস্কৃত ও বাংলার পাঠ নিতে যেত গঙ্গানারায়ণ। কিছুদিন হলো আচাৰ্যৰ্মশাই মার্শম্যান সাহেবের কাগজে পণ্ডিতের চাকুরি নিয়েছেন। সারা সপ্তাহ শ্ৰীরামপুরে থেকে শনিবার কলকাতায় আসেন।

    বিন্দুবাসিনীও পাঠ নেয়। ঐ আচার্যের কাছে। বিন্দুবাসিনীর পড়াশুনায় বড় আগ্রহ, সেখানেই তার রোনারায়ণের মিল। বিধবা হয়ে পিয়ালয়ে ফিরে এসে বিন্দুবাসিনী পড়াশুনায় বেশী করে মন

    বিধুশেখরের কন্যার সংখ্যা পাঁচ, তিনি অপুত্ৰক। পুত্রসন্তান নেই বলেই বিধুশেখরের বাড়িতে গঙ্গানারায়ণের বেশী আদর। বিধুশেখরের পঞ্চম কন্যাটির বয়েস আট, তারও বিবাহ এই সামনের অগ্রহায়ণে। সেই কন্যার সঙ্গে গঙ্গানারায়ণের বিবাহ হলে ব্যাপারটি সবঙ্গিসুন্দর হতে পারতো, কিন্তু তা হবার নয়। বিধুশেখররা ব্ৰাহ্মণ।

    বৈদিক কুলীন বলে ঐ পরিবারের মেয়েদের বিবাহ হয় কুল সম্বন্ধ করে। কন্যাসন্তান জন্মাবার দু-এক মাসের মধ্যেই স্বজাতের মধ্যে কোনো পাত্র নিবাচন করে তার সঙ্গে সম্বন্ধ ঠিক করে রাখতে হয়। তারপর যথাসময়ে সেই নির্দিষ্ট পাত্রের সঙ্গেই বিবাহ।

    বাল্য থেকেই বিন্দুবাসিনীর কপাল পোড়া। কৃষ্ণনগরের যে ছেলেটির সঙ্গে তার কুলসম্বন্ধ করা ছিল, বিন্দুবাসিনীর বয়েস সাত না পুরতেই মরে গেল সেই ছেলেটি। ফলে বিন্দুবাসিনী অন্যপূর্ব হয়ে গেল, তার আর কুলীন ঘরে বিবাহ সম্ভব নয়। এক মৌলিক ঘরের পাত্র ঠিক করা হলো তার জন্য। বিন্দুবাসিনী প্ৰায় গঙ্গানারায়ণের সমবয়সী। গঙ্গানারায়ণের মনে আছে বিন্দুবাসিনীর বিবাহের দিনটির কথা। সেদিন আকাশের রঙ ছিল রক্তবর্ণ। পাথুরিয়াঘাটায় সাংঘাতিক আগুন লেগেছিল, পুরো দুদিন ধরে জ্বলেছিল সেই আগুন। সেই লাল আকাশের নীচ দিয়ে খেলাঘর ও পুতুলের সংসার ছেড়ে আট বছরের বালিকা বিন্দুবাসিনী চলে গেল শ্বশুরালয়ে। সেদিন সে গিয়েছিল কাঁদতে কাঁদতে, আবার সেই রকমই কাঁদতে কাঁদতে ঠিক দেড় বছরের মাথায় সে ফিরে এলো সিঁথির সিঁদুর মুছে।

    পুত্রসন্তান না থাকলেও বন্ধুর মতন দত্তক নেননি বিধুশেখর। পঞ্চম কন্যা সুহাসিনীর সঙ্গে যার বিবাহ ঠিক করেছেন, তাকে তিনি ঘরজামাই করে রাখবেন। সদর দেওয়ানি আদালতে ওকালতি করে প্রচুর অর্থ উপাৰ্জন করেছেন বিধুশেখর, উকিল হিসেবে তাঁর প্রতিপত্তি প্ৰায় রাজনারায়ণ দত্তের সমান সমান। সুহাসিনীর কুলসম্বন্ধ ছিল যার সঙ্গে, সে ইতিমধ্যেই আরও দুটি বিবাহ করায় ক্রুদ্ধ বিধুশেখর সেই পাত্রের সঙ্গে নিজ কন্যার সম্বন্ধ ছিন্ন করেছেন। এর ফলে সমাজে কিছু গুঞ্জন উঠেছিল, কিন্তু বিধুশেখর অর্থের জোরে সমাজের মুখ চাপা দেবেন। সংস্কৃত কলেজ থেকে একটি দরিদ্র মেধাবী মুক্ত তিনি সুহাসিনীর বর হিসেবে ঠিক করেছেন, এই ছেলেটিও খাটি দক্ষিণাত্য বৈদিক কুলীন বংশায়।

    বিধবা হয়ে ফিরে আসার পর বিন্দুবাসিনী আর পুতুল খেলায় মন দেয়নি। যথা নিয়মে অবশ্য তাকে প্রথমে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল আরও বৃহৎ একটি পুতুল খেলার ঘরে। আবেগকম্পিত গলায় বিধুশেখর বলেছিলেন, মা, আর কাঁদিস নে, আজ থেকে গৃহদেবতার সেবার সব ভারতের ওপরেই দিলাম। মনে করিস, স্বয়ং জনাৰ্দনই তোর স্বামী। আমরা সকলে তোর সন্তান।

    কিন্তু সাড়ে ন বছরের একটি বালিকার সর্বক্ষণ ঠাকুরঘরে মন বসবে কেন? গোড়ায় কিছুদিন সে একটা সাদা থান আলুথালুভাবে শরীরে জড়িয়ে ঠাকুরঘরে গিয়ে গভীরভাবে চোখ বুজে বসে থাকতো। কখনো কখনো তার মা গিয়ে দেখেছেন যে মেয়ে কুশের আসনের ওপরই কাৎ হয়ে ঘুমিয়ে আছে।

    এখন বিন্দুবাসিনী দুবেলা নমো নমো করে কোনোক্রমে পুজো সেরে আসে, আর বাকি সময় পড়ে। সংস্কৃত ও বাংলায় তার যথেষ্ট বুৎপত্তি জন্মেছে। কূট প্রশ্নে সে গঙ্গানারায়ণকেও হারিয়ে দেয়। বিন্দুবাসিনী প্রশ্ন করে, বল তো গঙ্গা, বিজ্ঞানাৰ্থং মনুষ্যানাং মনঃ পূর্বং প্রবর্ততে-এর মানে কী?

    গঙ্গানারায়ণ কোনক্রমে উত্তর দেয়, মানুষের মন সব কিছু জানিবার জন্য ব্যস্ত।

    বিন্দুবাসিনী মাথা দুলিয়ে হাসে আর বলে, হলো না, হলো না! অত কী সহজ। মানুষের মন প্রথমে বস্তুর স্বরূপ জানবার জন্য প্রবৃত্ত হয়। তারপর মানুষের মন এর ওপরে উঠে যায়, আর সেই বস্তুকে অনুভব করার সংকল্প করে—আর তাতে বাধা পেলে চটে যায় ৷-তৎ প্ৰাপ্য কামং ভজতে রোষঞ্চ দ্বিজসত্তম!

    বিন্দুবাসিনীর মুখে এত বড় বড় কথা শুনে গঙ্গানারায়ণেরও হাসি পায়। সে বলে, এ তো কাব্য নয়। এ সব শুকনো দর্শন আর আমার ভালো লাগে না।

    বিন্দুবাসিনী ফোঁস করে ওঠে।

    —এ সব শুকনো দর্শন? তুই বুজিস ছাই! দুপাতা ইংরেজি পড়েই তুই সব বুজে গিয়েচিস। তাই না?

    সংস্কৃত সম্পর্কে গঙ্গানারায়ণের আগ্রহ সত্যিই অনেক কমে গেছে। আর বাংলায় তো পড়বার মতন একখানাও বই নেই।

    —তুই তো ইংরাজি পড়লি না বিন্দু! তুই বুঝবি কী করে যে কত সুন্দর রসের কাব্য ওরা লিকেচে। মেকলে সাহেব কী বলেচেন, জানিস? আমাদের দেশের যে কটা ভালো বই, তা আঙুলে গোনা যায়। ইওরোপীয় লাইব্রেরির একখানা তাকও ভরবে না। আর ওদের সাহিত্যের কী বিরাট ভাণ্ডার!

    —তোর সেই মাকালু সাহেবকে জিজ্ঞেস করিস তো, শুধু গোটা মহাভারতখানা রাখতেই কটা তাক লাগে।

    —তুই যে এত সংস্কৃত পড়াশুনো করিস, এতে তোর কী লাভ, বিন্দু? তুই তো আর টোল খুলবি না।

    —আমি পড়ি আমার নিজের আনন্দের জন্য।

    শিবরাম আচার্য অত্যন্ত শীর্ণকায়, কথা বলার সময় সব সময় হাঁটু দুটো নাড়তে থাকেন আর তাঁর হাতের ইকোয় মটমট শব্দ হয়। একতলায় তাঁর ঘরখানি দিনের বেলাতেও বেশ অন্ধকার, চতুদিকে ডাই করা পুঁথিপত্র। ঐ রকম রোগা চেহারা হলেও তাঁর গলাখানা বাজখাই। একখানা পুঁথি খুলে তার ওপর প্রায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে পাঠ উদ্ধার করেন। পড়াতে ভালোবাসেন তিনি, গঙ্গানারায়ণ ও বিন্দুবাসিনীর মতন দুটি মনোযোগী ছাত্ৰ-ছাত্রী পেয়ে তিনি বেশ উৎসাহের সঙ্গেই পড়ান। বিন্দুবাসিনীর অন্য বোনেদের কখনো পড়াশুনোয় এমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তবে সকলেই বাংলা লিখতে ও পড়তে জানে। গঙ্গানারায়ণ লক্ষ্য করেছে যে ব্ৰাহ্মণবাড়ির মেয়েরা মোটামুটি লিখতে পড়তে সবাই শিখে যায়। তার মা বিম্ববতীর অক্ষর জ্ঞান নেই। ছোটভাইটি জন্মাবার আগে পর্যন্ত সে প্রত্যেকদিন মাকে বই পড়ে শুনিয়েছে।

    শনিবার শ্ৰীরামপুর থেকে একটু আগে ফিরেছেন শিবরাম আচার্য। হাত-পা ধুয়ে জপ সেরে নিলেন। চোখ খুলেই দেখেন দুই ছাত্ৰ-ছাত্রী উপস্থিত। প্রথমেই তিনি গঙ্গানারায়ণের কাছ থেকে তার বাড়ির কুশল সংবাদ জানলেন। বিশেষত গঙ্গার কনিষ্ঠ ভাইটি সম্পর্কে তাঁর বেশী আগ্রহ।

    তারপর তিনি ইকো ধরিয়ে টানতে লাগলেন আরাম করে, পুঁথি খুললেন না।

    বললো, পণ্ডিতমশাই, আপনি আজ আমাদের কালিদাস পড়াবেন বলেচিলেন,

    শিবরাম আচাৰ্য বললেন, মেঘদূতম্‌…হুঁ।

    চিন্তিতভাবে জোরে জোরে খানিকক্ষণ হাঁটু নাচালেন তিনি। তারপর বললেন, মা বিন্দু, কিছুদিন ধরিয়াই তোমাকে একটি কথা বলিব বলিব করিয়াছি, কিন্তু বলা হইয়া উঠে না। আমার নিকট তুমি যথেষ্ট শিখিয়াছ, আর কিছু তোমার শিখিবার প্রয়োজন দেখি না।

    বিন্দু অবাক হয়ে বললো, আর কিছু শোকার নেই? আপনিই তো বলেচেন, মানুষের শিক্ষার কখনো শেষ হয় না। তাছাড়া, আমি তো এখনো কিছুই শিকিনি।

    শিবরাম বললেন, যাহা শিখিয়াছ, তাহাই যথেষ্ট। আর প্রয়োজন নাই। স্ত্রীলোকের পক্ষে যতখানি শিক্ষা করা উচিত, তুমি তাহা অপেক্ষা বেশীই পড়িয়াছ।

    —না পণ্ডিতমশাই। ও কথা আমি শুনবো না। পড়াশুনো না করলে আমি সময় কাটাবো কেমন করে?

    —বেশ তো, যদি পাঠাভ্যাস রাখিতে চাও, নিজে নিজেই তাহা পরিবে। আমার সাহায্য লাগিবে না।

    —নিজে নিজে পড়বো? আপনি তো মুগ্ধবোধ শেষ করেননি। সংস্কৃত ব্যাকরণ আমি এখনো সব বুজতে পারি না। গঙ্গা বলচিল, ওর দর্শন ভালো লাগে না, কাব্য ভালো লাগে। ইংরেজিতে নাকি ভালো কাব্য আচে। মেঘদূতের চেয়েও কি ভালো কাব্য ইংরেজিতে আচে? আপনি আমাদের মেঘদূত পডান।

    —শুন, মা বিন্দু, মেঘদূতম স্ত্রীলোকের পাঠ করা উচিত হয় না।

    কথাটা বলে ফেলে শিবরাম আচার্য নিজেই যেন লজ্জা পেলেন, মুখটা নীচু করলেন মাটির দিকে। বিন্দুবাসিনীর মুখখানা এবার বিবৰ্ণ হয়ে গেল। সে অস্পষ্টভাবে জানে যে কোথাও কোথাও একটা কিছু সীমারেখা আছে, যা সে লঙঘন করতে পারবে না।

    গঙ্গানারায়ণ চুপ করে বসে ছিল। শিক্ষাদানের ব্যাপারে অত্যুৎসাহী পণ্ডিতের হঠাৎ এই মন পরিবর্তনের কারণটা সে ঠিক বুঝতে পারলো না। বিন্দু কেন আর পড়বে না?

    সে জিজ্ঞেস করলো, পণ্ডিতমশাই, আপনি আমাকেও আর পড়াবেন না?

    পণ্ডিত বললো, তোমাকে কেন না পড়াইব? তোমার যখন ইচ্ছা আসিও।

    —তা হলে বিন্দু কী দোষ করলো?

    —স্ত্রীলোকদিগের শিক্ষা দিবার অধিকার আমাদের নাই। ইহা লোকচারসম্মত নহে। বিন্দু যাহা শিখিয়াছে তাহাতেই সে নিজে ধর্মগ্রন্থাদি যথেষ্ট পড়িতে পরিবে। বিশেষত মেঘদূতম, পাঠ স্ত্রীগণের পক্ষে অতি গহিত।

    —ঠিক আছে, মেঘদূত না হয় থাক। আপনি মহাভারত পড়াচ্চিলেন, সেটিও তো এখনো শেষ হয়নি।

    —শুন, তাহা হইলে সত্য কথাটি বলি। শুন, বিন্দু। তোমার পিতা মহাশয় আমাকে বলিয়াছেন যে, কন্যার পাঠ্য যথেষ্ট হইল। আর অধিক কী! সে এখন পঞ্চদশবর্ষীয়া হইয়াছে।

    বিন্দু রাগ করে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, আপনি তাহলে আমাকে আর পড়াবেন না?

    —তোমার পিতার অনিচ্ছা, আমি কী করি বলো!

    সমস্ত মুখখানা কুঁকড়ে গেছে বিন্দুর। ঠোঁট চেপে সে কান্না সামলাচ্ছে। এই আকস্মিক আঘাতে তার সরল অন্তঃকরণখনি যেন তছনছ হয়ে গেছে। বিনা দোষে শাস্তি পেলেই মানুষের মনে বেশী আঘাত লাগে। বিন্দু আর একটি কথাও বললো না। হঠাৎ দৌড়ে বেরিয়ে চলে গেল ঘর থেকে।

    অপরাধীর মতন চুপ করে বসে রইলো গঙ্গানারায়ণ।

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে শিবরাম আচার্য বললেন, এ গৃহ হইতে আমার এবার বুঝি পাট উঠিল। আমারও আর এত দূর যাতায়াত পোষায় না। শ্ৰীরামপুরেই বাসা ভাড়া লইব মনস্থ করিয়াছি।

    গঙ্গানারায়ণের মন খারাপ লাগলো। বিধুশেখর হঠাৎ এ রকম নির্দেশ দিলেন কেন? বিন্দু বলেছিল, সে পড়াশুনো করে নিজের আনন্দের জন্য, তার বাবা কেন সে আনন্দন্টুকু কেড়ে নিতে চান? সারল্যে ভরা হাসিখুশী স্বভাবের মেয়ে বিন্দু, তাকে দুঃখ দিয়ে কী লাভ! শিবরাম আচার্যের জন্যও একটু কষ্ট হলো তার। উনি চলে গেলে গঙ্গানারায়ণের খারাপ লাগবে। মানুষটি মৃতদার এবং ছন্নছাড়া স্বভাবের, সংসারে নাকি ওঁর কেউ নেই। তিনবার বিবাহ করেছিলেন, তিন স্ত্রীই অকাল মৃতা, তাই নিজেকে অপয়া মনে করে উনি আর বিবাহ করবেন না ঠিক করেছেন। নিজেই উনি ওঁর বিবাহের গল্প করেছেন বিন্দু আর গঙ্গানারায়ণের কাছে। মানুষটির মনটি খুব ফর্সা।

    —তোমার কি আজ পাঠের মন আছে?

    গঙ্গানারায়ণ বললো, আপনি চলে যাবেন, আমারও তো আর পড়া হবে না।

    —তুমি কলেজে পড়িতেছ, তোমার চিন্তা কী! সংস্কৃতের যুগ ফুরাইয়াছে। আমি আর কিছুদিন থাকিলে তোমার নিকট হইতে গোটা দুই-চারি ইংরাজি শব্দ শিক্ষা করিতাম। ম্লেচ্ছভাষার এখন জয়জয়কার। ইংরাজি না শিখিলে আর কোনোদিকেই কোনো সুবিধা নাই। আচ্ছ বলো তো, নর শব্দের প্রথমার একবচনের ইংরাজি কী হইবে?

    একটু পরে গঙ্গানারায়ণ পণ্ডিতমশাইয়ের পায়ের ধুলো নিয়ে উঠে পড়লো।

    সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, এখন তার বাড়ি ফিরে যাবার কথা। সন্ধ্যের পর পথঘাট দিয়ে এক একা চলা নিরাপদ নয়। অবশ্য বাড়ি কাছেই, গঙ্গানারায়ণ এক ছুটে চলে যেতে পারে।

    কিন্তু যাবার আগে একবার বিন্দুর সঙ্গে দেখা করে যেতে ইচ্ছে হলো তার। বিন্দুর অভিমান বড় তীব্র। তাকে পড়তে নিষেধ করা হয়েছে, এই অভিমানে সে হয়তো বই-খাতাপত্ৰ সব ছিঁড়ে ফেলে দেবে। আর কোনোদিন কোনো বই স্পর্শ করবে না। তাহলে বিন্দু কী নিয়ে থাকবে? গঙ্গানারায়ণ এইটুকু বোঝে যে বিন্দুর সামনে এক সুদীর্ঘ নিঃসঙ্গ জীবন পড়ে আছে। স্ত্রীলোকের মেঘদূত পড়া নিষেধ। কী আছে মেঘদূতে? গঙ্গানারায়ণকে পড়ে দেখতেই হবে।

    সুহাসিনী দোতলার বারান্দায় দাসীর কোলে বসে দুখভাত খাচ্ছে। সুহাসিনী নিজে কিছুই খেতে চায় না, তাকে জোর করে খাইয়ে দিতে হয়। সেইজন্য বিধুশেখর সুহাসিনীর জন্য একটি আলাদা ব্ৰাহ্মণী দাসী রেখেছেন।

    —এই, বিন্দু কোথায় রে?

    সুহাসিনী বললো, কী জানি! দেখিনি তো!

    দাসীটি বললো, ঠাকুরঘরের দিকে যেতে দেকলুম তো একবার।

    গঙ্গানারায়ণ সেদিকে এগোলো। সুহাসিনী তার সরু রিনারিনে গলায় জিজ্ঞেস করলো, গঙ্গাদাদা, তোমার আগে বিয়ে হবে, না আমার আগে বিয়ে হবে?

    দাসীটি বললো, মেয়ে একেবারে বিয়ের জন্য পাগল!

    গঙ্গানারায়ণ ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো, দাঁড়া, তোর বরকে আমি বলে দেবো, তুই দুধভাত খেতে দেরি করিস। তাহলে সে গুম গুম করে তোর পিঠে কিল মারবে।

    সুহাসিনী তার ছোট্ট মুঠি তুলে বললো, আমিও তাকে মারবো।

    ঠাকুরঘরের ভেতরে ঢুকবে না। গঙ্গানারায়ণ। দরজার কাছে গড় হয়ে আগে প্ৰণাম করলো, তারপর ডাকিলো, বিন্দু, বিন্দু!

    কোনো সাড়া নেই। গঙ্গানারায়ণ একটু মুখ কুঁকিয়ে উঁকি মেরে দেখলো বিন্দু নেই। এখানে। বিন্দু তার নিজের ঘরেও নেই। হয়তো মায়ের কাছে গিয়ে বসে থাকতে পারে। কিন্তু কান্নার সময় বিন্দু একা থাকতে চায়, গঙ্গানারায়ণ আগে দেখেছে। গঙ্গানারায়ণ ছাদে খুঁজতে গেল।

    পশ্চিম দিকের আলসের কাছে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে বিন্দু। আকাশে তখনও বর্ণ পরিবর্তনের পর্ব শেষ হয়নি। একদিকের আকাশ তখন প্ৰায় অন্ধকার, মাঝে মাঝে রয়ে গেছে কয়েকটি রূপালি রেখা। অন্যদিকের আকাশে ঝালকাচ্ছে সোনার রঙ, কোথাও কোথাও তা সিঁদুরের মতন লাল। বিন্দু তাকিয়ে আছে সেই সূৰ্য্যস্তের সমারোহের দিকে। শুভ্ৰবসনা বিন্দুকে সেই লাল রঙের পটভূমিকায় দেখে গঙ্গানারায়ণের মনে হলো, এ রকম রক্তিম আকাশের সঙ্গে বিন্দুর জীবনের যেন কোনো যোগ আছে।

    গঙ্গানারায়ণ ভাবলো, পিছন থেকে চুপি চুপি গিয়ে ৰিন্দুর পিঠে হাত রেখে চমকে দেবে। বিন্দুর চোখে যদি এখনো জল থাকে, তাহলে সে তাকে বলবে, তুই কাঁদিস নি, বিন্দু। এখন থেকে আমি তোকে পড়াবো। আমি কলেজ থেকে যা শিখে আসবো, সে সব আবার শোনাবো তোকে। খুব কাছে গিয়ে হাত তুলেও থেমে গেল গঙ্গানারায়ণ। তার মনে হলো, সব কিছু আর আগেকার মতন নেই। এক একটা কথায় অনেক কিছু ভেঙে যায়। পণ্ডিতমশাই আজ বারবার বিন্দুকে বলছিলেন স্ত্রীলোক। বিন্দু ঠিক কবে থেকে স্ত্রীলোক হয়ে গেল? এই তো কাল পর্যন্তও সে ছিল একটি কিশোরী, গঙ্গানারায়ণের সঙ্গে কত কৌতুক করেছে। আজ যদি সে স্ত্রীলোক হয়ে যায়, তাহলে তার পিঠে হাত রাখা কি ঠিক হবে?

    গঙ্গানারায়ণ উদ্যত হাতটা ফিরিয়ে নিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্রিস-ক্রস – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    Next Article একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Our Picks

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }