Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প736 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৭. বাবু রামগোপাল ঘোষের গৃহে

    বাবু রামগোপাল ঘোষের গৃহে সন্ধ্যাকালে তাঁর বন্ধুরা এসেছেন। প্রায় প্রতি সায়াহ্নেই দু-একজন বন্ধু রামগোপাল ঘোষকে সান্নিধ্য দিতে আসেন, কিন্তু আজ অনেকদিন বাদে একসঙ্গে অনেক বন্ধুর পুনর্মিলন হলো।

    এক সময় এঁরা ইয়ং বেঙ্গল নামে চিহ্নিত হয়ে প্রভূত অখ্যাতি ও কিছু খ্যাতির অধিকারী হয়েছিলেন, এঁরা ছিলেন রক্ষণশীল সমাজের চক্ষুশূল, আবার কিছু কিছু যুবক এদের অনুকরণ করতেও শুরু করেছিল। ডিরোজিও শিষ্য এই ইয়ং বেঙ্গল দল প্ৰথম প্ৰথম উন্মাদনা বশে নানা রকম উৎকট কাণ্ড করতেন। রাস্তায় কোনো টিকিধারী ব্ৰাহ্মণ দেখলে তাকে তাড়া করতে করতে বলতেন, আমরা গোরু খাই গো, গোরু খাই! সেই যুবকদের ছোঁয়ায় জাত চলে যাবার ভয়ে ব্ৰাহ্মণরা মুক্তকচ্ছ হয়ে দৌড়োতো। এই যুবকরা কখনো নিজেদের বাড়ির ছাদে উঠে। চিৎকার করে প্রতিবাসীদের জানাতো, এই দ্যাখো আমরা মুসলমানের ছোঁয়া জল খাচ্ছি। এই দ্যাখো গো-মাংস! প্রমাণস্বরূপ তারা মাংসের হাড় ছুঁড়ে ছুঁড়ে দিত চতুর্দিকে।

    সে সব অনেকদিন আগেকার কথা। ইয়ং বেঙ্গল দলের কেউই আর এখন যুবক নন, তাঁরা এখন মধ্যবয়স্ক, সুস্থির দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন নাগরিক। সকলেই জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত, কেউ কেউ সরকারী উচ্চকৰ্মে নিযুক্ত, কেউ বা ব্যবসায়ে ভাগ্য ফিরিয়েছেন। তবে প্রথম যৌবনের সেই বিদ্রোহের অগ্নি এখনো একেবারে নিবপিত হয়নি, তা যেন এখন অনেকটা প্ৰদীপের স্নিগ্ধ শিখা হয়ে এদের বক্ষে দেদীপ্যমান। প্রতিটি সামাজিক আন্দোলনেই এখনো এদের অনেককে এগিয়ে আসতে দেখা যায়।

    এই গোষ্ঠীর মধ্যে বাবু রামগোপাল ঘোষ যেন মুকুটহীন রাজা হিসেবে স্বীকৃত। ইংরেজি শিক্ষিতদের মধ্যে তাঁকে প্রধান পুরুষ হিসেবে গণ্য করে লোকে মুখে মুখে তাঁর নাম দিয়েছে এজু-রাজ। সাহেবদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইংরেজি বক্তৃতার সময় তাঁর মুখ দিয়ে যেন আগুনের ফুলঝুরি ছোটে। ইংরেজরাও তাঁর সম্পর্কে বলে, এক নতুন ডেমস্থেনিস।

    রামগোপাল ঘোষ অতিশয় বন্ধুবৎসল মানুষ। এক সময় তিনি ছিলেন দরিদ্রের সন্তান, এখন বেসরকারী ইংরাজদের সঙ্গে যুগ্মভাবে বাণিজ্য করে তিনি প্রভূত ঐশ্বর্যশালী হয়েছেন। কিন্তু বন্ধুদের আপদে কিংবা মনস্তুষ্টির জন্য তিনি অর্থব্যয় করতে কাপণ্য করেন না। তাঁর বাড়ির সান্ধ্য আসরে শেরি ও শ্যামপেন থাকে অপব্যাপ্ত, কিন্তু এখানে কেউ নেশাগ্ৰস্ত হয়ে কুৎসিত আচরণ করে না, প্রত্যেকের নিজস্ব পরিমাপ আছে। সুরাপান এই আসরের মুখ্য ব্যাপার নয়, পারস্পরিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে আত্মোন্নতি ও জ্ঞান উপার্জনই এঁদের লক্ষ্য।

    কার্য উপলক্ষে বন্ধুরা অনেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন, নিয়মিত দেখা হবার আর উপায় নেই, আজ অনেকদিন পর কয়েকজন প্রবাসী বন্ধুকে পাওয়া গেছে। রসিককৃষ্ণ মল্লিক এখন বর্ধমানের ডেপুটি কালেকটর, রামতনু লাহিড়ী কৃষ্ণনগর কলেজের শিক্ষক। সবচেয়ে বেশী দূরে থাকেন রাধানাথ সিকদার, তিনি দেরাদুনে সরকারের জরিপ বিভাগে একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী। পিতার গুরুতর ব্যাধির খবর পেয়ে রাধানাথ চলে এসেছিলেন কলকাতায়। তাঁর পিতা এখন একটু সুস্থ তাই তাঁর অতি ঘনিষ্ঠ সুহৃদ প্যারীচাঁদ মিত্রের সঙ্গে এসেছেন রামগোপাল ঘোষের বাড়ির সান্ধ্য আসরে।

    বহুদিন পর বন্ধুদের কাছে এসে রাধানাথ খুশী হয়েছেন। যতখানি, বিস্মিত হয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশী। এতখানি পরিবর্তন তিনি কল্পনাই করতে পারেননি। তিনি সবচেয়ে বেশী অবাক হয়েছেন এদের মুখের ভাষা শুনে। তাঁদের ছাত্রবয়েসে তাঁরা নিজেদের মধ্যে সব সময় ইংরাজিতে কথা বলতেন। বাংলা ভাষার কোনো স্থানই ছিল না প্ৰায়। নেহাৎ বাড়িতে বাবা মায়ের সঙ্গে বাংলায় কথা বলতে হতো, কিন্তু জ্ঞান, চিত্তশুদ্ধি বা রসাস্বাদনের জন্য বাংলা ছিল অপাংক্তেয়। প্রবাসে থাকার সময় রাধানাথ বাংলা ভাষাকে জীবন থেকে বাদই দিয়ে ফেলেছিলেন, এবার বাড়িতে এসে বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর মুখ দিয়ে ভাঙা হিন্দী ও ইংরেজি বেরিয়ে আসছে বারবার। চেষ্টা করে বাংলা বলতে গেলেও সব কথা মনে আসে না। প্যারীচাঁদ এই নিয়ে তাঁকে ঠাট্টা করছিলেন! প্যারী, রামগোপাল, রসিক এরা ইংরেজিতে বিখ্যাত কৃতবিদ্য, অথচ আজ তাঁদের মুখেই বাংলা ভাষা? হঠাৎ এ দেশটার হলো কী, আবার কী লোকে ইংরাজি ভুলে গিয়ে অশিক্ষার অন্ধকারে ড়ুবে যাবে?

     

    একটি গোল টেবল ঘিরে বসেছে বন্ধুরা। প্রত্যেকের কেদারার পাশে রয়েছে ধূমায়িত আলবোলা। ভূত্যেরা টেবিলের ওপর সাজিয়ে দিয়ে গেছে গেলাস ও বিভিন্ন প্রকার সুরার বোতল, যার যেমন রুচি, সে নিজে ঢেলে নেবে। শুধু রামগোপালের সামনে একটি বিচিত্র আকৃতির পোর্সিলিনের পাত্ৰ। পত্রটি গোল, তার একদিক দিয়ে হাতির শুড়ের মতন একটি ছোট্ট নল বেরিয়ে আছে। সেখান থেকে অল্প অল্প ধোঁয়া বেরুচ্ছে। সকলেই কৌতূহলী হয়ে সেদিকে তাকিয়ে।

    রামগোপাল মৃদু হেসে বললেন, ইউ পোর ইয়োর ড্রিঙ্কস, মাই ডিয়ার ফেলোজ, আমি আগে একটু উষ্ণ পানীয় পান করবো। ইদানীং এইটি পান করা আমার অভ্যাস হয়ে গেচে।

    একটি হাতলযুক্ত গোল পোর্সিলিনের বাটিতে রামগোপাল খানিকটা কালো রঙের উষ্ণ তরল পদার্থ ঢাললেন, তারপর তার সঙ্গে তিন চামচ দুধ ও তিন চামচ চিনি মিশিয়ে গুলতে লাগলেন। মিশ্রণ কার্যটি সমাপ্ত হলে রামগোপাল বাটিটি সাবধানে ওষ্ঠের কাছে এনে সুরুৎ করে ছোট্ট একটি চুমুক দিয়ে তৃপ্তির সঙ্গে বললেন, আহ!

    রাধানাথ সিকদার আর কৌতূহল চাপতে না পেরে বলে উঠলেন, হোয়াট ইজ দ্যাট স্ট্রেঞ্জ কনককশান?

    রামগোপাল পরিহাসের সঙ্গে বললেন, দিস ইজ মাই ফেভারিট পয়জন। একটু স্বাদ নিয়ে দেখবে নাকি?

    রসিককৃষ্ণ বললেন, দিস ইজ টি। রাধানাথ, তুমি চায়ের কথা শোনো নাই? আগে চীন দেশ থেকে এ বস্তু আসতো, এখন আমাদের আসামেই যথেষ্ট হচ্চে!

    রাধানাথ অনেকদিন দেশ ছাড়া বলে চা কথাটা জানেন না, তবে টি-এর কথা কাগজে-পত্রে পড়েছেন, কোনোদিন চর্মচক্ষে দেখেননি। তাঁদের দেরাদুনে নানা রকম মদ্যের ছড়াছড়ি, সেখানে উষ্ণ পানীয় বলতে চলে শুধু ভেড়ার দুধ।

    প্যারীচাঁদ মদ্যপান করেন না, তাঁর আসক্তি ধূমপানের দিকে। তিনি বললেন, আমি একটু চেখে দেখতে রাজি আছি। ইংরেজ মহলে আজকাল চা পান খুব চলচে শুনিচি।

    রামতনু বললেন, আমি হেয়ার সাহেবকেও ঐ জিনিস পান করতে দেকতুম। তবে ওতে মাদকদ্রব্য বোধহয় কিছু নেই। কারণ, হেয়ার সাহেব নেশা ভাঙ করার বিরোধী ছিলেন।

    শিবচন্দ্র বললেন, নেশা না হলে আর ও জিনিস পান করা কেন?

    রামগোপাল দ্বিতীয় একটি বাটিতে প্যারীচাঁদের জন্য চা ঢালতে ঢালতে বললেন, নেশা হয় বৈকি। এর এক চুমুকেই পঞ্চেন্দ্ৰিয়ে একটা অ্যালাটিনেস এসে যায়। লাইক কিসিং এ ড্যামজেল…অ্যাণ্ড ইউ ওয়ান্ট টু কিস এগেইন…এই নাও প্যারী, আজ আমি তোমায় এই নতুন সুধারসে দীক্ষা দিলুম।

    প্যারীচাঁদ প্রথমে খানিকটা ইতস্তত করলেন। বাটিটি হাতে নিয়ে তাকালেন একবার বন্ধুদের দিকে। ঠোঁট পুড়ে যাবার ভয়ে ফু দিলেন কয়েকবার। তারপর কোনোক্রমে একটি চুমুক দিয়েই মুখ বিকৃত করে ফেললেন। পানীয়টি তাঁর পছন্দ হয়নি। রামগোপাল কোন সুখে এ জিনিস খাচ্ছেন? রামগোপাল তাঁর সঙ্গে কৌতুক করার জন্য সত্যিই বিষাক্ত কিছু দেননি তো? রামগোপালের কথাই আলাদা, তিনি বেপরোয়া ধরনের মানুষ, কোনো কিছুতেই ভয় পান না। প্রায়ই তিনি কথায় কথায় বলেন, আই বেয়ার এ চার্মড্‌ লাইফ।

    রামগোপাল জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্রাদার, কেমন লাগলো?

    প্যারীচাঁদ বললেন, একটু তিক্ত, একটু কষায়।

    বন্ধুরা সবাই হো হো করে হেসে উঠলেন।

    রামগোপাল প্যারীচাঁদের বাটিতে আরও খানিকটা চিনি মিশিয়ে দিয়ে বললেন, এবার দ্যাখো তো!

    প্যারীচাঁদ সভয়ে আবার চুমুক দিলেন। এবার তাঁর মুখ হাসিতে ভরে গেল, তিনি বললেন, বাঃ, দিব্য অপূর্ব, স্বাদটা যেন একেবারে বদলে গেল!

    রামগোপাল জিজ্ঞেস করলেন, কেমন, শরীরে বেশ একটা চনমনে ভাব হয়নি?

    প্যারীচাঁদ বললেন, বিলক্ষণ!

    রামগোপাল আবার জিজ্ঞেস করলেন, মনে হয় না। আবার চুম্বন করি, আবার, আবার?

    প্যারীচাঁদ বললেন, নিশ্চয়! ভাই আমি বলি কি, এবার থেকে আমরা এই বস্তুই পান করবো। শুধু শুধু সুরা পান করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা কেন? সর্বনাশিনী সুরা যে এ দেশটাকে ছারখার করে দিচ্চে।

    বন্ধুদের মধ্যে দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় এতক্ষণ নীরব ছিলেন। সম্প্রতি বর্ধমান রাজ পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা হয়েছে, আইন বিষয়ক পরামর্শের উপলক্ষে সেখানকার বিধবা রাণী তাঁকে ঘন ঘন ডাক পাঠাচ্ছেন। মাঝে মাঝে সেই অপরূপ সুন্দরী রাণী এমন বিহুলভাবে চেয়ে থাকেন তাঁর দিকে যাতে মনে হয় শুষ্ক আইনের চেয়েও আইন উপদেষ্টা মানুষটির প্রতিই তাঁর আকর্ষণ বেশী। সেই অপ্সরাতুল্য রমণীর দিকে দৃষ্টিপাত করে দক্ষিণারঞ্জনেরও মস্তক ঘূর্ণিত হয়। দূরে থাকলেও সর্বক্ষণ মনে পড়ে সেই মুখ। একথা আর কারুকে বলা যায় না।

    দক্ষিণারঞ্জন ফটাস শব্দে শ্যাম্পেনের কর্ক খুলে নিজ পাত্রে খানিকটা ঢেলে বললেন, তোমরা চা পান করতে চাও করো, আমি এ জিনিসে মাজেচি, আমি ছাড়াচি না। সুরা পানে সর্বনাশ হয় মুখদের। বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা সুরা পান করলে তাদের চিন্তাশক্তির আরও বিকাশ হয়।

    রাধানাথ বললেন, আই এগ্রি উইথ ইউ, দক্ষিণা! এই ফিলদি লুকিং লিকুইড নিয়ে তুমলোগ কিউ ইতনা শোর মচাতা, দ্যাট আই ক্যান নট আন্ডারস্ট্যান্ড!

    শিবচন্দ্র জিজ্ঞেস করলেন, শোর মচাতা? তার মানে কী ভাই?

    প্যারীচাঁদ বললেন, আমাদের রাধানাথ বাংলা একেবারে ভুলে গ্যাচে। বাবাকে বলে পিতাজী আর জলকে বলে পানি।

    রাধানাথ রাগতভাবে বললেন, অ্যাণ্ড ইউ-তোমরা-তোমরা, তোমরা যে আচানক বাংলা-লাভার হয়ে যাবে, হাউ কুড আই নো দ্যাট? ইন আওয়ার কলেজ ডেইজ ইউ অল ইউজড টু হেট দিস ল্যাঙ্গোয়েজ।

    প্যারীচাঁদ বললেন, ভাই, তারপর-এই সময়ের মধ্যে যে বাংলা ভাষা অনেক বদলে গ্যাচে-আমরা তখন ভাবতুম বাংলা ভাষায় কোনো মহৎ ভাব প্রকাশ করা যায় না-কিন্তু এখন এই ভাষায় এমন অনেক ভালো ভালো লেখক এয়েচেন।

    রামগোপাল বললেন, তুমি তত্ত্ববোধিনী কাগচ দেখোচো? আমি আগে কক্ষণো বাংলা পড়তুম না, আমার ঘৃণা হতো, কিন্তু একদিন একখানা তত্ত্ববোধিনী কাগচ আসবার পর আমি চমকিত হয়ে গেচি। তুমি দেখবে, দেখবে সেই কাগচ?

    রসিককৃষ্ণ বললেন, দেবেন্দ্র ঠাকুর, অক্ষয় দত্ত এঁরা উচ্চ চিন্তার কথা লিকচেন বাংলা ভাষায় সে প্রোজ কালাইল বা মিলের চেয়ে কোনো অংশে হীন নয়।

    প্যারীচাঁদ বললেন, কেন, ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর নামে এক বামুন পণ্ডিত একখানা বই লিকেচোন, সে তো। রীতিমতন সাহিত্য হে। রামগোপাল তোমার কাচে নেই। সে বইখানা? একবার রাধানাথকে দেখাও না।

    রামগোপাল তখুনি উঠে গিয়ে নিয়ে এলেন সেই বই। বেতাল পঞ্চ বিংশতি, ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর প্ৰণীত। বইখানা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখলেন রাধানাথ ও অন্যান্য বন্ধুরা। প্যারীচাঁদ বললেন, আমি এখানা থেকে একটু পড়ে শোনাবো? শুনবে?

     

    প্যারীচাঁদ পড়তে লাগলেন, ধৰ্মপুরে গোবিন্দ নামে ব্ৰাহ্মণ ছিলেন তাঁহার দুই পুত্র তন্মধ্যে একজন ভোজন বিলাসী অথাৎ অন্নে ও ব্যঞ্জনে যদি কোনও দোষ থাকিত তাহা দুর্জেয় হইলেও ঐ অন্নের ও ঐ ব্যঞ্জনের ভক্ষণে তাহার প্রবৃত্তি হইত না দ্বিতীয় শয্যা বিলাসী অথাৎ শয্যায় কোনও দুর্লক্ষ্য বিঘ্ন ঘটিলেও সে তাহাতে শয়ন করিতে পারিত না এই এক এক বিষয়ে তাহাদের অসাধারণ ক্ষমতা ছিল ঈদৃশ বিস্ময়জনক ক্ষমতার বিষয় তত্ৰত্য নরপতির কর্ণগোচর হইলে তিনি তাহাদের ঐ ক্ষমতার পরীক্ষার্থে সাতিশয় কৌতূহলাবিষ্ট হইলেন এবং উভয়কে রাজধানীতে আনাইয়া জিজ্ঞাসিলেন তোমরা কে কোন বিষয়ে বিলাসী…

    পড়া থামিয়ে প্যারীচাঁদ জিজ্ঞেস করলেন, কেমন, এমন সুললিত অথচ সুগভীর বাংলা ভাষা তোমরা আগে শুনোচো কি? এই ভাষা কি অবজ্ঞার বস্তু?

    একমাত্র রাধানাথ ব্যতীত আর সকলেই উচ্চ প্রশংসা করলেন। দক্ষিণারঞ্জন বললেন, রচনাটি তো সুন্দর বটে। কিন্তু এমন বই কিনবে কে? বাংলা ভাষার গ্ৰন্থ ভদ্ৰশ্রেণীর লোকেরা কিনতে চাইবে কি?

    প্যারীচাঁদ বললেন, আমি শুনিচি, বইটি প্রকাশ হওয়া মাত্র বেশ একটি শোরগোল পড়ে গ্যাচে। মার্সাল সাহেব ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের জন্য এই বই একশো কপি কিনে নিয়োচেন, পাঠকরাও এ বই কেনার জন্য হুড়োহুড়ি কচ্চে। লোকের মুখে মুখে রটে গ্যাচে যে এখানেই বাংলায় প্রথম সাহিত্য পদবাচ্য গ্ৰন্থ। এর লেখক ঈশ্বরচন্দ্র সম্পর্কেও লোকের দারুণ কৌতূহল।

    রাধানাথ বেশ বিমূঢ় বোধ করলেন। দেবেন্দ্র ঠাকুর, অক্ষয় দত্ত, ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর—এইসব ব্যক্তিদের তিনি নামও শোনেননি। আগে। তবু দেবেন্দ্র ঠাকুব না হয় বোঝা গেল বিখ্যাত দ্বারকানাথের জ্যেষ্ঠ সন্তান, কিন্তু অক্ষয় দত্ত, ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর—এই সব অজ্ঞাতকুলশীলরা কারা?

    রাধানাথ প্যারীচাঁদকে জিজ্ঞেস করলেন যে, তিনি এদের চেনেন কি না।

    প্যারীচাঁদ কলকাতার পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান, নবীন লেখকদের সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ থাকবেই। তিনি বললেন, এই ঈশ্বরচন্দ্ৰ কিছুদিন সংস্কৃত কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ছিলেন, সেই সময় ওঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। রাগ করে এখন চাকরি ছেড়ে দিয়ে বই লিকচেন। আমি কিন্তু ওঁকে দেখেই বুঝিছিলুম, ঐ মানুষটির ভেতরে আগুন আচে। দেবেন্দ্ৰ, অক্ষয়কুমার, ঈশ্বরচন্দ্র এরা সবাই আমাদিগের চেয়ে বয়েসে ছোট, তবু আমি বলবো, এরা দেশের জন্য বড় কাজ কচ্চেন।

    রামগোপাল বললেন, সে-কথা ঠিক। দেবেন্দ্ৰবাবু ব্ৰাহ্মধর্ম প্রচার করে দেশের মহাদুপকার কচ্চেন। ইয়াং ম্যানরা যে দলে দলে ক্রিশচন হচ্ছিল, তা অনেকটা বন্ধ হয়েচে।

    রাধানাথ জিজ্ঞেস করলে, এই ব্ৰাহ্মধর্ম ব্যাপারটা-ক্যান ইউ এক্সপ্লেইন টু মী থরোলি? খুব শুনচি।

    প্যারীচাঁদ বললেন, সে আমি তোমায় পরে বুঝিয়ে বলবো। এঁরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দুধর্মের ওপর একটা আঘাত হেনেচেন।

    দক্ষিণারঞ্জন বললেন, সে আঘাত আমরাই কি আগে হানিনি? সব কৃতিত্ব এঁদের দিচ্চো কেন? হিন্দু গোঁড়ামির বিরুদ্ধে আমাদের রসিককৃষ্ণের চেয়ে বড় কথা এ পর্যন্ত কে বলেচে?

    ছাত্রাবস্থায় রসিককৃষ্ণ মল্লিক একটি কাণ্ড বাধিয়ে কলকাতা শহরে তথা হিন্দু সমাজে দারুণ আলোড়ন তুলেছিলেন। কোনো এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তাঁকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হয়েছিল। প্ৰত্যেক সাক্ষীকে আগে শপথ গ্রহণ করতে হয়, একজন ওড়িশা দেশীয় ব্ৰাহ্মণ একখানি তাম্রকুণ্ডে তুলসী ও গঙ্গাজল নিয়ে সাক্ষীর সামনে এনে ধরে, সাক্ষী সেটা স্পর্শ করে বলে আমি সত্য বই মিথ্যা বলিব না। রসিককৃষ্ণের সামনে সে রকম তাম্রকুণ্ড এনে ধরা হলে তিনি সেটি স্পর্শ না করে চুপ করে দাঁড়িয়েছিলেন। বিচারপতি যখন জিজ্ঞেস করলেন, আপনি শপথ লইতেছেন না কেন? তখন রসিককৃষ্ণ গম্ভীর কণ্ঠে বলেছিলেন, আমি গঙ্গা জলের পবিত্রতা মানি না। ইন্টারপ্রেটার অমনি চেঁচিয়ে অনুবাদ করে জানালো, সাক্ষী বলছে, আই ড়ু নট বিলিভ ইন দি সেক্রেডনেস অব দি গ্যাঞ্জেস। অমনি আদালতে উপস্থিত হিন্দুরা কানে আঙুল দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল। হুলস্থূল পড়ে গেল শহরে, অনেকেই মনে করলো, এই বুঝি ঘোর কলি উপস্থিত, হিন্দুর ছেলে প্রকাশ্যে বলছে গঙ্গা মানে না! তাই নিয়ে সংবাদপত্ৰে কত লেখালেখি।

    দক্ষিণারঞ্জনের কথা শুনে রসিককৃষ্ণ বিনীত লাজুকভাবে বললেন, সে পুরোনো কথা ছাড়ো। আমরা তো সংঘবদ্ধভাবে হিন্দু ধর্মের সংস্কারের জন্য কিছু করিনি, এনারা কচ্চেন।

    অতি স্বল্পভাষী রামতনু লাহিড়ী এবার বললেন, তা ঠিক বটে, কিন্তু ব্ৰাহ্মদের একটা জিনিস আমার পছন্দ হচ্চে না। এঁরা খৃষ্টানদের খুব গালাগাল কচ্চেন। সেটি উচিত হয় না। আমরা সত্যের উপাসক। যে-ধর্মের মধ্যে যে-টুকু সত্য রয়েচে, তা গ্ৰহণ করাই ধৰ্মসম্মত। সত্যের অনুসন্ধানের জন্য সবার মন মুক্ত থাকা দরকার।

    দক্ষিণারঞ্জন বললেন, খৃষ্টানরাও আমাদের কম গাল দেয় না। ওদের মতে তো হিন্দুধর্ম ধর্মই নয়।

    প্যারীচাঁদ বললেন, খৃষ্টানদের মধ্যেও কুসংস্কারগ্রস্ত অনেকে রয়েচে। তাদের জবাব দিতে গিয়ে আমরাই বা কেন কুসংস্কারের আশ্রয় লবো?

    রামগোপাল বললেন, ব্ৰাহ্মদের অনেক কিছুই ঠিক, কিন্তু ওনারাও তো জাতির পতি ছাড়েননি। সবাই এক ধর্মের উপাসক, অথচ কেউ পৈতেধারী, কেউ বেদ পাঠে অনধিকারী, এ আবার কেমন কথা?

    রামতনু বললেন, ওনারা তত্ত্ববোধিনী কাগচে লিকচেন যে বেদ অভ্রান্ত ঈশ্বর বাণী, অথচ অনেকেই তা মনে মনে বিশ্বাস করেন না। এ তো কপটতা। এই জন্য আমি আর তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার গ্রাহক রবো না ঠিক করিচি।

    রামগোপাল বললেন, তনু, তনু, তুমি এত উত্তেজিত হচ্ছে কেন? তত্ত্ববোধিনীতে পাঠ্য বিষয় আরও অনেক কিছু থাকে।

    রসিককৃষ্ণ বলেন, এসব আলোচনা থাক। এবার ডেভিড হেয়ারের স্মৃতিসভায় কে কে বক্তৃতা দেবেন, তা ঠিক করে ফেলো। ১লা জুন তো এসে গেল। রাধানাথ, তুমি যখন এখানে আচে, তুমিই এবার কিছু বলো না!

    রাধানাথ বললেন, স্পীচ কি বাংলায় ডেলিভার কত্তে হবে নাকি?

    প্যারীচাঁদ হেসে বললেন, না, না, তুমি ইংরেজিতেই বলে। কিন্তু বাংলাটা এবার শিখে নাও। ইংরেজি শিক্ষিত ব্যক্তিরা এখন আর বাংলাকে অবজ্ঞার চোখে দেখে না। এ দেশের শিক্ষা বিস্তারের জন্য বাংলা ভাষাকেই অবলম্বন কত্তে হবে। বিশেষত যদি স্ত্রীলোকদের শিক্ষা দিতে হয়।

    রাধানাথ চমকে উঠে। জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি ফিমেল এড়ুকেশানের কথা থিংক কচ্চো? এ দেশে তা পসিবল?

    দক্ষিণারঞ্জন বললেন, কেন সম্ভব নয়? নারীদের আমরা কতকাল অন্ধকারে রাখবো?

     

    এমন সময় গৃহের বাইরে পথে একটা বিষম হট্টগোল শোনা গেল। নানান কণ্ঠের উত্তেজিত আওয়াজ ছাড়িয়েও শোনা যাচ্ছে কয়েকটি কণ্ঠের কান্না। কৌতূহলী হয়ে সকলে এসে দাঁড়ালেন দ্বিতলের নিকটস্থ অলিন্দে।

    ব্যাপারটা অবশ্য এমন কিছু অভিনব নয়। একটি মৃতদেহকে বহন করে নিয়ে চলেছে। শ্মশানযাত্রীরা। সঙ্গে অনেক লোকজন। গ্ৰীষ্মের এই মাঝামাঝি সময়ে শহরে মৃত্যুর সংখ্যা খুবই বেড়ে যায়, ওলাউঠোর প্রকোপ এই সময়ই বেশী হয়। দিনরাতই পথে শোনা যায় হরিধ্বনি, তবে সন্ধ্যার পর শ্মশানযাত্রীদের কণ্ঠে এই হরিধ্বনি পরিণত হয় গর্জনে। মাতাল ও গেজেলার নেশার দ্রব্য সংগ্রহের আশায় এ-গলি ও-গলিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করে, হ্যাঁ গা, আজ কেউ মলো? আজি কেউ মলো? আমরা শ্মশানবন্ধুরা যে বৃথা বয়ে যাচ্চি গো।

    মৃতদেহের পিছনে পিছনে একটি দশ-এগারো বছরের বালিকা এক একবার মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, কিছু লোকজন তাকে ধরে তোলবার চেষ্টা করতেই সে মৃগীরোগীর মতন ছটফটিয়ে আবার ছিটকে পড়ছে মাটিতে। বালিকাটির মুখখানি সিঁদুরে মাখামাখি। খোলা চুল ধূলোয় ধূসর। মেয়েটি আর একবার মাটিতে গড়াতেই দুজন বলশালী লোক তাকে দুদিক থেকে শূন্যে তুলে বহন করে নিয়ে চললো।

    রামগোপাল এবং তাঁর বন্ধুদের ধারণা হলো যে ঐ লোকগুলি ঐ বালিকাটিকে বলপ্রয়োগ করে নিয়ে যাচ্ছে। শ্মশানের স্ত্রীলোকদের নিয়ে যাবার প্রথা তো ইদানীং আর নেই। অন্য কোনো আশঙ্কার কথা মনে পড়ে।

    ওঁরা সকলে তরতর করে নীচে নেমে এলেন। বালিকাটিকে যদি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়, তা হলে ওঁরা প্রতিরোধ করবেন। আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও এখনো গ্রাম থেকে মাঝে মাঝেই সতীদাহের কথা কানে আসে। কলকাতাতেও সেরকম ঘটনা বিচিত্র কিছু নয়।

    রামগোপাল সেই বালিকা-বহনকারী দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের গতি রোধ করে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, একে আপনারা কোথায় নিয়ে যাচ্চেন?

    সেই ব্যক্তি রুক্ষ স্বরে বললো, জাহান্নামে।

    তখন রামগোপালের সব বন্ধুরাও তাকে ঘিরে দাঁড়ালেন এবং ক্রুদ্ধ রাধানাথ লোকটিকে মারবার জন্য উদ্যত হলেন। তখন লোকটি বললো মশায়, করেন কী, করেন কী? এ মেয়েটি পাগল হয়ে গ্যাচে।

    রামগোপাল বললেন, তোমরা আগে ওকে ছেড়ে দাও, তারপর আমি দেকচি ও কেমন পাগল।

    প্যারীচাঁদ বললেন, এখুনি কোতোয়ালিতে সংবাদ দেবো!

    দ্বিতীয় লোকটি বললো, আরে খেলে যা! আপনারা কী ভাবচেন আমরা ওকে জোর করে নিয়ে যাচ্চি? এ পাগলি কিছুতেই বাড়িতে রইবে না। আমরা কতবার ঠেলে ঠেলে দিয়ে এলুম—ওর স্বোয়ামী মারা গ্যাচে, বাড়িতে আর মেয়েমানুষ কেউ নেই, আমরা ওকে কী করে আটকাই বলুন!

    রামগোপাল বালিকাটিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন শ্মশানে যাচ্চো?

    বালিকাটির চোখ সত্যিই উন্মাদের মতন। সে তীব্ৰস্বরে বললো, মর্তে যাচ্চি! মর্তে! তুমি কে গা!

    রামগোপাল বললেন, তুমি কেন মরবে?

    মেয়েটি বললো, বেশ করবো!

    শ্মশানযাত্রীর দল থেমে গেছে, আরও কিছু পথ চলতি উটকো লোক ভিড় জমিয়েছে সেখানে। আর মেয়েটি ক্ষ্যাপাটে গলায় চিৎকার করছে, আমায় ছেড়ে দাও, আমায় ছেড়ে দাও, আমি মর্বো! মর্বো!

    প্যারীচাঁদ বললেন, কোতোয়ালিতে খবর দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আমি যাচ্চি।

    শ্মশানযাত্রীরা ভয় পেয়ে গেছে। তারা বললো, ও মশাই, আমাদের কী দোষ দোকলেন! এ মেয়ে যে নিজেই যেতে চায়। এক কাজ করুন না, আপনারা ভদ্দরলোক, এ মেয়েটিকে আপনাদেরই বাড়িতে আটকে রাখুন না হয়।

    রামগোপাল বললেন, সেই ভালো। এই মেয়েটিকে আমার বাড়ির মধ্যে আনো, স্ত্রীলোকদের কাছে ওকে পাঠিয়ে দিচ্চি।

    মেয়েটি কিছুতেই আসবে না। সুতরাং জোর করেই তাকে আনতে হলো ভেতরে। সে তারস্বরে চিৎকার করতে লাগলো, ওগো আমার কেউ নেই, আমায় মর্তে দাও, আমায় শেয়াল কুকুরে ছিঁড়ে খাবে, ওগো, আমায় ছেড়ে দাও।

    অন্দরমহলে রেখে আসা হলো মেয়েটিকে। শ্মশানযাত্রীরা আবার নতুন উৎসাহে হরিধ্বনি তুলতে তুলতে চলে গেল।

    রামগোপাল এবং তাঁর বন্ধুরা কিছুক্ষণ নীরব হয়ে রইলেন। তারপর আস্তে আস্তে দ্বিতলে উঠে এসে বসলেন টেবিলে। প্যারীচাঁদ ব্যতীত প্ৰত্যেকেই নিজের নিজের পাত্রে ঢেলে নিলেন সূরা।

    প্যারীচাঁদ বললেন, রামমোহনের আনুকূল্যে সতীদাহ রদ হয়েচে বটে কিন্তু তার সুফল পাওয়া গেল কতটুকু? এই সব বালবিধবাদের ভবিষ্যৎ কী? নয় দশ বছরের বালিকারা বিধবা হয়ে সারা জীবন গলগ্রহ হয়ে থাকবে।–সেইজন্যই বলচিালুম। এদের শিক্ষার ব্যবস্থা না করলে…

    রামগোপাল মুখ তুলে গম্ভীরভাবে বললেন, শুধু শিক্ষার ব্যবস্থা করলেই হবে না, এই সব বিধবাদের বিবাহেরও ব্যবস্থা করতে হবে।

    দক্ষিণারঞ্জন বললেন, ঠিক কথা।

    শিবচরণ বললেন, তা হলে, কি এই সব বিধবাদের ক্রিশ্চিয়ান হতে বলছো?

    রসিককৃষ্ণ বললেন, ক্রিশ্চিয়ান হোক, মুসলমান হোক, এদের যে-কোনো প্রকারে বিবাহের ব্যবস্থা করা দরকার।

    রামগোপাল বললেন, না, তা কেন?

    শিবচরণ বললেন, হিন্দু বিধবাদের বিবাহ? সে যে অসম্ভব কথা। ব্ৰাহ্মরাও এমন সাহস করেছেন বলে তো শুনিনি। এমন কথা সমাজে কে উত্থাপন করবে? আমরা এ বিষয়ে অগ্রসর হতে পেরেচি কতটুকু?

    রামগোপাল বললেন, তা জানি না। তোমরা আজ স্বচক্ষে দেখলে তো এই মেয়েটির অবস্থা। এই সব দুঃখিনী মেয়েদের দুঃখ দূর করার জন্য কেউ যদি এদের বিবাহ আইন-সিদ্ধ করতে পারে, তবে আমি সর্বতোভাবে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াবো।

    রাধানাথ ইংরেজিতে বললো, তোমরা এসব কী বলিতেছ। হে! তা হলে তো আমাকেও শীঘ্রই কলকাতায় বদলি হইয়া আসিতে হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্রিস-ক্রস – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    Next Article একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Our Picks

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }