Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প736 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৯. সাহেবের কুঠি থেকে বেরিয়ে

    সাহেবের কুঠি থেকে বেরিয়ে পালকি পর্যন্ত সঠিকভাবে হেঁটে এলো গঙ্গানারায়ণ। তারপরই সে সংজ্ঞা হারালো, পালকির মধ্যে এক পা বাড়িয়েই পড়ে গেল হুমড়ি খেয়ে। তার সঙ্গীরা উৎকণ্ঠিত হয়ে ডাকাডাকি করতে লাগলো তাকে, কিন্তু কোনো উত্তর পেল না। তখন বেহারিরা পালকি তুলে নিয়ে ছুটলো জোর কদমে।

    এ স্থল থেকে নদীর ঘাট প্রায় অর্ধ ক্রোশ দূর, এই পথটুকু অচৈতন্য হয়েই রইলো গঙ্গানারায়ণ। বজরার সন্নিকটে নদীতীরে বহু প্ৰজা তখনো বসেছিল জামালুদিন শেখের সংবাদ জানার প্রত্যাশায়, গঙ্গানারায়ণকে পালকি থেকে ধরাধরি করে নামাতে দেখে সকলে উঠে দাঁড়িয়ে হৈ হৈ রৈরৈ শুরু করলো। তাদের সকলেরই ধারণা হলো যে সাহেব কুঠিতে গিয়ে গঙ্গানারায়ণ প্রহৃত হয়েছে। দুশমন সাহেবরা কারুকেই রেয়াৎ করে না। বহুকালাবধি সংস্কারের জন্য সাধারণ প্ৰজারা জমিদারকে পিতৃতুল্য মনে করে, কিংবা তার চেয়েও অনেকখানি বেশী, সেই জমিদারের সম্মানহানি তাদের কাছে অকল্পনীয়। তাদের রক্ত উষ্ণ হয়ে উঠলো, চিৎকার উঠতে লাগলো। উচ্চগ্রামে, কয়েকজন মাটিতে লাঠি ঠুকতে লাগলো। সক্রোধে।

    গঙ্গানারায়ণকে এনে শোওয়ানো হলো বজরার মধ্যে তার খাস কামরায়। অতি ব্যস্ত হয়ে তার সঙ্গী কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক কর্তব্য বিষয়ে শুরু করে দিল বিতণ্ডা। কেউ বললো, গঙ্গানারায়ণকে এখনই বজরা থেকে সরিয়ে ওপরের জমিদারি কুঠিতে নিয়ে যাওয়া হোক। সেখানে একজন কবিরাজ থাকেন, যিনি এক সময় গঙ্গানারায়ণের পিতার চিকিৎসা করেছেন। কেউ বললো, গঙ্গানারায়ণকে সরাবার দরকার নেই, কুঠিতে যেতে অনেক সময় লেগে যাবে। সেই কবিরাজকেই আনানো হোক। আবার কেউ বললো, এই বিদেশ বিভূয়ে উত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্ভব হবে না। সুতরাং কালবিলম্ব না করে এখনই বজরার মুখ ঘুরিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়া উচিত।

    খাজাঞ্চি অক্ষয় সেন বৈদ্যবংশ সস্তুত বলে কিছু কিছু চিকিৎসা বিদ্যা জানেন, তিনি গঙ্গানারায়ণের নাড়ি ধরে বসে রইলেন। তাঁরও মত, এখানে অপেক্ষা না করে। বরং কলকাতার উদ্দেশেই যাত্রা করা ভালো, অন্তত কৃষ্ণনগর পর্যন্ত পৌঁছালেও সেখানে অ্যালোপাথিক ডাক্তার পাওয়া যাবে।

    একটু পরেই গঙ্গানারায়ণ চোখ মেললো এবং উঠে বসলো। তাকে ঘিরে রয়েছে কর্মচারীদের ভীত চকিত মুখ, আর বাইরে প্রজাদের তুমুল কলরব। সে বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলোকী ব্যাপার, আমি কী করে এখানে এলুম? অতি চ্যাঁচামেচি কিসের?

    বৃদ্ধ খাজাঞ্চি বললেন, হুজুর, আপনি কতা বলবেন না। বিশ্রাম নিন।

    গঙ্গানারায়ণ পালঙ্ক থেকে নেমে শরীরের আড়মোড়া ভেঙে বললো, কই, আমি তো অসুস্থ বোধ কচ্চি নাকো? আমি নীলকুঠিতে গেসলুম, তারপর কী হলো?

    একজন কর্মচারী বললো, হুজুর, আপনি সাহেবের সঙ্গে কতা কইতে গেসলেন।

    গঙ্গানারায়ণ বললো, হ্যাঁ। কিন্তু সে সাহেব আমার সঙ্গে কতা কইলে না, একেবারে বর্বর, নেশাখোর…কিন্তু তারপর…তারপর তো আর কিচু মনে পড়ে না।

    —আপনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন–এখুন শুয়ে থাকুন। বরং-একটু পরে জোয়ার এলেই আমরা নৌকো ছেড়ে দেবো।

    —জ্ঞান হারিয়ে ফেলিচিলুম? কেন! আমার তো কখনো এমন হয় না।

    —হুজুর, সাহেব আপনার মান রাখেননি।

    —হাঁ, সে কত মনে আচে, আমার খুব রাগ হয়েছেল, তা বলে জ্ঞান হারাবো? এ যে বড় আশ্চর্যের কতা!

    দুদ্দাড় করে কয়েকজন লাঠিয়াল প্ৰজা বজরার ওপর উঠে এসে কামরার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে বলে উঠলো, হুজুরের জইন্যে আমরা জান দিমু। পাঁচখানা গাঁয়ে লাইঠ্যালরা হুজুরের থনে আইস্যা খাড়াবে-হুজুর, একবার কন, আমরা সাহেবগুলার ঘেটি ভাইঙ্গা দিমু।

    খাজাঞ্চিবাবু ওদের দেখে খিঁচিয়ে উঠে বললেন, আ মোলো, এই হারামজাদাগুলো একেবারে ওপরে ভুঞ্জয়। যা, যা, নীচে যা। আম্পৰ্থ দেকা, ছোটলোকগুলো আজকাল যেন একেবারে মাতায় উঠতে চায়।

    সে তিরস্কার অগ্রাহ্য করেও প্রজারা বলতে লাগলো, আমাগো হুজুরের শরীলে হাত দিছে, হ্যার বদলা আমরা নিমু। হুজুরের লাইগ্যা আমরা হকলডি এককাট্টা হইয়া নীলকুঠি লাল কইরা দিতাম পারি।

    গঙ্গানারায়ণ হাত তুলে বললো, তোমরা শান্ত হও। আমায় মেরেচে? কে বললে আমায় মেরেচে? আমার মনে নেই তো? হ্যাঁরে ভুজঙ্গ, তুই তো গেসলি আমার সঙ্গে। আমায় সত্যিই কেউ মেরেচে?

    ভুজঙ্গ বললো, আজ্ঞে না হুজুর, আমি সব সময় আপনার পাশে ডাঁড়িয়ে চিলুম।

    খাজাঞ্চি বললেন, হুজুরের গায়ে হাত দেবে, এমন সাধ্য কার আচে! এই ছোটলোকগুলোর ঘটে এক রাত্তি বুদ্ধি নেই–

    গঙ্গানারায়ণ বললো, তবে, জামালুদ্দীন শেখের কোনো খবর আমি পাইনি-ওরা স্বীকার পেলে না-বললে জামালুদ্দীন শেখকে ওরা চেনে না।

    প্ৰজারা আবার বললো যে, জামালুদ্দীন শেখ নিজে তার বিবি হানিফার খোঁজ নেবার জন্য নীলকুঠিতে গিয়েছিল, সেখান থেকে সে ফেরেনি! হানিফা বিবিকে রাতের বেলা জোর করে ধরে নিয়ে গেছে গোলক দাস—এদের দুজনকেই ওরা কেউ বেরুতে দেখেনি কুঠি থেকে। নদীর পানিতে ওদের লাশও ভেসে ওঠেনি। সুতরাং কুঠির মধ্যেই মাটির নীচের গারদে নিশ্চয়ই আটক করে রাখা হয়েছে ওদের। জামালুদ্দীন আর হানিফা বিবিকে ওরা জোর করে ছাড়িয়ে আনবেই এবং সেই সঙ্গে হুজুরের প্রতি অপমানের প্রতিশোধ নেবে। তাদের কথা শুনে দয়া হয়েছিল বলেই তো হুজুর ঐ বাঘের গুহায় গিয়ে পা দিয়েছিলেন।

    প্ৰজারা সমস্বরে আরও সব উত্তেজক কথা বলতে যাচ্ছিল, খাজাঞ্চি প্ৰচণ্ড ধমক দিয়ে তাদের থামিয়ে দিলেন। মুখ্য আর গোয়ার লোকগুলো কোমল, উদারহৃদয় জমিদার গঙ্গানারায়ণকে বিপদে ফেলতে চায়। সাহেবদের সঙ্গে লড়বে! ছিঃ! পিপড়ের পাখা ওঠে। মরণের তরে। কান টানলে যেমন মাথা আসে, তেমনি মফস্বলে একটি ইংরেজের গায়ে হাত দিলে অমনি কলকেতা থেকে কামান বন্দুক নিয়ে রাশি রাশি ইংরেজ সৈন্য ছুটে আসবে, গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে দেবে। জমিদারের বজরায় বসে সাহেবদের বিরুদ্ধে কোনো কথা উচ্চারণ করাও অতি গৰ্হিত। হুজুর, কানে আঙুল দিন, এসব কিছু শুনবেন না।

     

    খাজাঞ্চি সেই প্রজার দলকে কুকুর-ছাগলের মতন তাড়াবার ভঙ্গি করে বললো, দূর হ! বেরো! আভি নিকাল! হুজুর অসুস্থ, তেনার সামনে এসে হল্লা করিস, তোদের এত সাহস! নাম আগে, নাম বজরা থেকে, তারপর তোরা যা খুশী করগে যা। হুজুর তোদের হয়ে কতা কইতে গোসলেন, এই তোদের সাত পুরুষের ভাগ্যি! আজ রাতেই বজরা ঘোরাবো।

    গঙ্গানারায়ণ এবার খাজাঞ্চিকে বাধা দিয়ে বললো, সেনমশাই, ওরা আমার প্রজা, বিপদে পড়ে আমার কাচে এয়েচে, এখন ওদের তাড়িয়ে দেওয়া কি উচিত কর্ম হয়? আশ্রিতকে রক্ষণ করাই তো আমাদের ধর্ম!

    খাজাঞ্চি বললেন, হুজুর, ওরা আপনার প্রজার যোগ্য কী ব্যবহার করেচে? জমিদারের কাচে এয়েচে, কোনো এক ব্যাটাও কি নজরানা এনেচে? জমিদারের সামনে নজরানা না রেখে মুখ খোলার সাহস দেখায়! ছোটলোকগুলোর আজকাল বড় বেশী বাড়ি বেড়েচে।

    তখন প্ৰজারা লজ্জিতভাবে বলে উঠলো যে, এখন তাদের পেটে অন্ন নেই, অনেকের বাড়ি ঘর পুড়ে গেছে, তাই কোনো নজরানা আনতে পারেনি। আবার, সুদিন যদি আসে, তখন তারা নিশ্চয়ই জমিদারকে নজরানা দিয়ে সম্মান দেখাবে।

    একজন একটু বেশী ভাব দিয়ে বললো যে, হুজুর, এ বছর আমাদের চোখের পানিই আপনার নজরানা, আমাদের ফেলে যাবেন না।

    খাজাঞ্চি বললেন, হুজুর, এখেনে বসে থেকেই বা আপনার লাভ কী? আপনি তো একবার চেষ্টা করে দেকালেন। নীলকুঠির সাহেব যদি আপনার কতায় কান না দেয়, তাহলেও সে সাহেবকে বিশেষ দোষ দেওয়া যায় না। নীলচাষের আইন তো আপনাকে বুঝিয়ে বলিচি! নীলকররা পত্তনী জমি নিয়ে যে চাষ করে, তার নাম এলাকা চাষী, সেখানে জমিদারের কোনোরকম কতা কওয়ার এক্তিয়ার নেই। এখেনকের প্রজারা এখন নীলকরদের ভূমিদাস, নীলকরদের ইচ্ছে অনুযায়ী ওদের মরণ বাঁচন! আপনি এর মধ্যে থেকে কী করবেন?

    গঙ্গানারায়ণ উষ্ণ হয়ে বললো, সেনমশাই, আপনি বলতে চান যে এর কোনোরকম প্ৰতিকার নেই? এই নিরীহ মানুষগুলান শুধু শুধু মরবো?

    খাজাঞ্চি এতক্ষণে একটু হাসলেন। এই বৃদ্ধ তাঁর জীবনে দেখেছেন অনেক উত্থান পতন। জমিদারের ছেলে প্ৰজার দুঃখ দেখে বিচলিত হয়, এটা তাঁর কাছেও একটা নতুন অভিজ্ঞতা। গঙ্গানারায়ণের রক্ত এখনো চঞ্চল, তাই নিজের ভালোমন্দ বোঝার সময় এখনো আসেনি।

    খাজাঞ্চি বললেন, হুজুর, যুদ্ধে যে জেতে সে কি অমনি অমনি কিচু ছাড়ে? আমরা পরাধীন জাতি, আমরা কি আর বড়মুখ করে অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে পারি? সাহেবদের দয়ার ছিটে ফোঁটা পেয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। আপনি শুনেচেন নিশ্চয় যে বাংলার জন্য একজন ছোটলাট নিযুক্ত হয়েচেন এ বচর। বড়লাট তো সিমলেতেই বসে থাকেন, রাজধানী কলকাতায় কদিনই বা আর আসেন। এখন ছোটলাট হলদি সাহেব যদি দয়া করেন।

    গঙ্গানারায়ণ বললো, লেফটেনাণ্ট গভর্নর হ্যালিডে। তিনি কী করবেন?

    খাজাঞ্চি বললেন, শুনিচি ছোটলাট দেশের অবস্থা স্বচক্ষে দেখবার জন্য সফরে বেরিয়েচেন। একদিন না একদিন এদিকপানেও আসবেন। প্ৰজারা তখন দলবেঁধে গিয়ে তেনার পায়ে গিয়ে আছড়ে পড়াক। তিনি যদি কিছু সুরাহা করেন তবেই এদের বাঁচোয়া। আপনি কী করবেন? দেশের দণ্ডমুণ্ডের মালিক তো জমিদাররা নয় এখন, সাহেবরা হলো গে মালিক। আমার পরামর্শ যদি শোনেন হুজুর, ইদিকে আপনার যে বাকি জমি এখুনো পত্তনি দেওয়া হয়নি, তাও নীলকরদের হাতে তুলে দিন। তাহলে শাস্তিতে থাকবেন। আখের চাষ এখুন মাতায় থাকুক।

    গঙ্গানারায়ণ বললো, হ্যালিডে সাহেব ইন্দিকে কখন আসবেন, তার ঠিক কী! জামালুদ্দীন শেখ আর হানিফা বিবিকে যে গুম করে রেকেচে, তার একটা ব্যবস্থা কত্তে হবে না? তাদের যদি এর মধ্যে মেরে ফেলে?

    —মেরে ফেললে আর আপনি কী উপায়ে আটকাবেন? কতায় বলে, মুখ্যার মরণ গাছের আগায়। ঐ জামালুদ্দীন শেখটাকে আমি চিনি তো, ব্যাটা কাঠগোঁয়ার, ওর মরণ তো এমন আঘটাতেই বাঁধা ছেল! বিবিকে ধরে নিয়ে গ্যাচে, সেজন্য। ওর এত টনক নড়াবার কী দরকার ছেলে? সাধ করে কেউ বাঘের গুহায় পা দেয়? জোয়ান মদ, বেঁচে থাকলে একটার বদলে ও আমন আরও দশটা বিবি শাদী কত্তে পাত্তো না? বলুন?

    —আপনি বলেন কী, সেনমশাই? ওর বউকে ধরে নিয়ে গেলে ও তার সন্ধান করতে যাবে না? চুপ করে ঘরে বসে থাকবে জোয়ান মন্দ হয়ে?

    —তাই যদি কত্তো তো ও হতভাগা বেঁচে যেতে পাত্তো। বরং উচিত ছেল আর একটা খাপসুরৎ মেয়েকে শাদী করে কিছুদিন পর তাকেও নীলকুঠিতে পাটিয়ে দেওয়া।

    —ঘরের বউকে জোর করে টেনে নিয়ে যায়—এত বড় অন্যায় নিয়ে আপনার মাস্করা আমার ভালো লাগচে না, সেনমশাই!

    —যদি আমার কতাকে মাস্করা বলে মনে হয়, তবে ক্ষমা করবেন হুজুর। কিন্তু এর মধ্যে অন্যায়টা আপনি দেকালেন কোতায়? আমাদের এই এতবড় দেশটাকে পছন্দ হয়েচে বলেই তো সাহেবরা কেড়ে নিয়েচে। আর একটা সুন্দরী মাগীকে পছন্দ হলে তাকে ওরা কেড়ে নিতে পারবে না? বীরভোগ্য বসুন্ধরা আর স্ত্রীলোকরা হলোগে বীর্যশুল্কা। আমাদের শাস্ত্রকাররা এই কতা বলে গ্যাচেন। খুঁজে দেখুন, ওদের মুসলমানী শাস্ত্রেও নিশ্চয় এমন কতা আচে, খৃষ্টানী শাস্ত্ৰেও আচে।

    —শাস্ত্ৰ আলোচনা এখন থাক। প্রজাদের বলুন, কালই আমি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাছে ওদের বিষয় নিয়ে দরবার কত্তে যাবো।

    প্ৰজারা জয়ধ্বনি করে উঠলো।

    খাজাঞ্চি বিরস মুখে বললেন, আপনি আজ অসুস্থ হয়ে পড়েচিলেন। এরপর যদি আপনাকে কঠিন ব্যামোয় ধরে তবে কলকাতায় গিয়ে কত্তামার কাচে আমরা কী করে মুখ দ্যাকাবো? ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাচে গিয়ে আপনি কী করবেন? প্রজাদের মুখেই তো শুনেচেন যে এই নীলকুঠির কুঠিয়াল সাহেব। আর ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব একেবারে প্রাণের দোসর। সেই সাহেব এ সাহেবের কুঠিতে এসে নিত্য খানা খান। তিনি কি এনার নামে কোনো নালিশ শুনবেন? শুধু শুধু আপনার মুখ নষ্ট হবে।

    গঙ্গানারায়ণ গম্ভীরভাবে বললো, নীলকররা রায়তদের দিয়ে জোর করে নীলচাষে বাধ্য করতে পারে বটে, আইনের সে রকম ফাঁক রয়ে গ্যাচে, কিন্তু প্ৰজাদের ঘর থেকে বউ কেড়ে নিয়ে যাওয়া কিংবা গুম খুন করার কোনো অধিকার তাদের নেই। ইংরেজ সরকারের যত দোষই থাকুক, তারা যেসব আইন করে, তার সুযোগ নিতে পারে সকলেই। গরীব নিরীহ লোকগুলো সেইসব আইনের খবর রাকে না। বলে কি যে যা খুশী পার পেয়ে যাবে? এই ম্যাকগ্রেগরকে আমি শাস্তি দেওয়াবোই।

    —আইনের কতাই যখন তুললেন, হুজুর, তখুন। আমি বলি যে আপনি সব দিক ভেবে দ্যাকেননি। আপনি ভালোমতনই জানেন যে, গুম, আটক, খুন বা ঘর বাড়ি পোড়ানো—এসব হোলো গে ফৌজদারি মামলা—মফস্বলে কোনো সাদা চামড়ার মানুষের নামেই ফৌজদারি মামলা আনা যায় না। কোনো আদালতে সে মামলা নেয় না। ম্যাজিস্ট্রেটও আপনার কতা শুনে হাঁকিয়ে দেবে। এর সুরাহা কত্তে হলে আপনাকে মামলা দায়ের কত্তে হবে কলকেতার সুপ্রিম কোটে। ঐ জামালুদ্দীনের বুড়ো বাপকে আপনি সঙ্গে নিয়ে চলুন, তারপর কলকেতায় ওকে দিয়ে মামলা ঠোকাবেন। আপনার যদি ইচ্ছে হয়, খরচ পত্তির আপনি দেবেন।

    —আর ততদিনে যদি জামালুদ্দীন শেখ আর হানিফা বিবি বেঁচে না থাকে? প্রমাণ লোপ করার জন্য যদি ওরা ওদের দুজনকে খুন করে জলে ভাসিয়ে দ্যায়?

    —তা হলে আর কী হবে? এমন হাজার হাজার মাচে, তার সঙ্গে আরও দুটি প্রাণী যোগ হবে। একটু থেমে, একটু কেশে এবার বৃদ্ধ সেনমশাই কুণ্ঠিতভাবে বললেন, আমার কতা আপনার কাছে তিক্ত বোধ হতে পারে হুজুর, কিন্তু আমি বলচি আপনাকে যুক্তির কতা। মিচিমিচি দুটো ভাবের কতা আপনাকে শুনিয়ে তো কোনো লাভ নেই। ঐ হানিফা বিবিকে সাহেব ছুয়েচে, এরপর তাকে ঐ মোছলমানরা কেউ কি আর ঘরে ঠাঁই দেবে? ওদের জিজ্ঞেস করে দেকুন না? এমন কি ঐ জামালুদ্দীন শেখও দিত না। হানিফা বিবিকে ছাড়িয়ে আনা হলো গে ভাবের কতা। ঐ একটি মেয়েমানুষের জন্য হাজার হাজার মানুষের ওপর আবার অত্যাচার হবে।

    গঙ্গানারায়ণ বললো, আপনার যুক্তি এখন আপনার কাচেই থাক। কাল সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের কাচে আমায় যেতেই হবে। এটা আমার দায়।

    —আপনার কিসের দায়?

    —কিসের তা জানি না। তবু আমার বুকে একটা ভার চেপে আচে।

    —শরীর এখন ভালো আচে আমার। কেন তখন অমন মাতা ঘুরে গেল বুঝচি না।

    —হুজুর, আপনি শুনেচেন বোধহয়, নদীয়ার কমিশনার সাহেব সুখচরের জমিদার নীলকণ্ঠ রায়কে আটক করে রেখেছেল এই চোতমাসে। লোকে বলে, নীলকণ্ঠ রায়কে জোর করে ঘোড়ার দানা খাওয়ানো হয়েছেল সাহেবের হুকুমে!

    —ও সব কথা আর থাক। আপনাকে বললাম যে, এটা আমার দায়।

    প্ৰজাদের উদ্দেশ্য করে গঙ্গানারায়ণ বললো, তোমরা সব এখন যাও। রাত হয়েচে। এইসব কথা আর এখুন। পাঁচ কান করো না। এইসব কতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঘোঁট পাকিয়েও এখুন কোনো সুফল হবে না। কাল সকালে আমি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাচে যাবো, যদি আমার সঙ্গে তোমার কেউ কেউ যেতে চাও, তা হলে যাবে।

    প্ৰজারা আবার আনন্দে সরব হয়ে উঠলো। এত দুঃখের মধ্যেও তাদের এইটুকুই সান্ত্বনা যে তাদের জমিদার তাদের সমব্যাথী হয়েছেন। নায়েব-গোমস্তা-খাজাঞ্চীর কথায় কান না দিয়ে তাদের কথায় গুরুত্ব দিয়েছেন।

    প্রজারা তখনও যেতে চায় না, গঙ্গানারায়ণ বারবার বুঝিয়ে বললো তাদের। তারপর এক সময় সে খাবার ঘরে চলে এলো।

    মেঝেতে মখমলের আসন পাতা, সামনে রূপোর থালায় যুঁই ফুল রঙের আতপ চালের ভাত ও দশ বারো রকমের ব্যঞ্জন সাজানো। জননী বিম্ববতীর নির্দেশে সফরে বেরুবার সময় পাঁচক ভূত্যের একটি ছোটখাটো দল গঙ্গানারায়ণকে সঙ্গে আনতে হয়। গঙ্গানারায়ণ স্বল্পাহারী, তবু প্ৰধান রসুইকর দুযোধন প্রতিদিন দুবেলা নানা প্রকারের ব্যঞ্জন পাক করবেই। হস্ত মুখ প্ৰক্ষালনের সময় গঙ্গানারায়ণ তার ডান হাতের তিনটি অঙ্গুরীয় খুলে বাম হাতের আঙুলে পরলো। ডান হাতে অঙ্গুরীয় পরে থাকা অবস্থায় খাদ্য গ্ৰহণ করা গঙ্গানারায়ণদের পরিবারে নিষিদ্ধ। কয়েক পুরুষ আগে এই পরিবারের একজন কতা নাকি অন্ন গ্রহণের সময় হঠাৎ একটি আলগা অঙ্গুরীও উন্দরসাৎ করে ফেলেছিলেন এবং আসনে বসে থাকা অবস্থাতেই তিনি মারা যান।

     

    প্রথম গ্রাস অন্ন মুখে তুলেই গঙ্গানারায়ণ বুঝতে পারলো যে আজ তার আহারে একেবারেই রুচি নেই। অথচ একটু আগেই প্রজাদের সঙ্গে কথা বলবার সময় সে বেশ ক্ষুধা বোধ করছিল। এখনো তার ক্ষুধা আছে এবং স্বাভাবিক নিয়মেই এ সময়ে তার ক্ষুধার উদ্রেক হওয়া উচিত, তবু কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না কেন? বিভিন্ন ব্যঞ্জন সে চেখে দেখলো, সবগুলিই যেন বিস্বাদ। নদী থেকে ধরা টাটকা কালবোস মাছের সৃপ, বৃহদাকার গলদা চিংড়ি ভাজা, ঐচোড়ের তরকারি যা দুযোধনের রন্ধনগুণে পাঠার মাংসের মতন মনে হয়, এর কিছুই একটুকরোর বেশী মুখে দিতে পারলো না গঙ্গানারায়ণ। এমনকি এক পাথরবাটি ভরা উষ্ণ দুধ, যা প্রতিদিন খাদ্যের শেষে পান করে সে, তাতেও ওষ্ঠ ছোঁয়ানো মাত্র সে যেন পুরোনো ঘূতের গন্ধ পেল, তার প্রায় বমি এসে গেল। গঙ্গানারায়ণ বুঝলো, রন্ধনের কোনো দোষ নয়, তার জিহ্বাই কোনো খাদ্য গ্ৰহণ করতে চাইছে না, এরকম ব্যাপার গঙ্গানারায়ণের অভিজ্ঞতায় আগে কখনো হয়নি। সে বিমূঢ় বোধ করলো।

    গঙ্গানারায়ণকে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে দেখে খাজাঞ্চিমশাই বললেন, কিচুই খেলেন না তো হুজুর। আমি তখুনি দেকেই বুঝিচি, আপনার শরীর গতিক ভালো নয়। আপনার বিশ্রাম প্রয়োজন। আজই কলকাতার দিকে রওনা দিলে ভালো হয়।

    গঙ্গানারায়ণ মুখ তুলে বললো, আমার শরীরে আর কোনো রকম অসুবিধা বোধ কচ্চি না খাজাঞ্চিমশাই, শুধু খেতেই যেন ইচ্ছে কচ্চে না।

    খাজাঞ্চি বললেন, পিত্ত, কফ, বায়ু কুপিত হলে অনেক সময় বুজতে পারা যায় না। আমার কাচে মকরধ্বজ রয়েচে, একটু তুলসীপাতার রস আর মধুর সহিত মেড়ে যদি খেয়ে নেন—

    পাত্র ত্যাগ করে উঠে পড়লো গঙ্গানারায়ণ। খাজাঞ্চির দেওয়া ওষুধ খেয়ে নিল বিনা আপত্তিতে। তারপর নিজের কক্ষে গিয়ে গবাক্ষের পাশে বসে চেয়ে রইলো নদীর দিকে। আজ কোন তিথি কে জানে, সন্ধ্যার দিকে আকাশ অন্ধকার ছিল, এখন বেশ জ্যোমা ফুটেছে। নদীর তরঙ্গে লুটোপুটি খেয়ে খেলা করছে শিশু চাঁদ। গঙ্গানারায়ণ অনেকক্ষণ চেয়ে রইলো সেদিকে, তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শয্যায় আশ্রয় নিল।

    অনেকক্ষণ পর্যন্ত তার নিদ্রা এলো না। অপরাহ্নে ম্যাকগ্রেগরের রাঢ় ব্যবহার আর অসহায় প্রজাদের দুঃখের কথা অনবরত ঘুরতে লাগলো তার মাথায়। সকলের কথা শুনে যা বোধ হচ্ছে, এ জেলার ম্যাজিস্ট্রেটও এক অমার্জিত ইংরেজ। সে কী রকম ব্যবহার করবে তার ঠিক নেই, তবু প্রজাদের কাছে কথা দিয়েছে, গঙ্গানারায়ণকে একবার যেতেই হবে তার কাছে। ইরেজের হাত থেকে জামালুদ্দীন শেখ আর হানিফা বিবিকে ছাড়িয়ে আনার সাধ্য তার নেই, কিন্তু সর্বপ্রকার চেষ্টা তাকে করতেই হবে। চেষ্টার নামই পুরুষকার।

    একসময় গঙ্গানারায়ণ টের পেল যে তার সর্বশরীর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, মস্তিষ্কের মধ্যে যেন বয়ে যাচ্ছে একটা প্রবল ঝঞ্ছা। অথচ এ ঠিক জ্বর আসার অনুভূতি নয়, শরীরে কোনো অবশ ভাব নেই, শরীর যেন আর শয্যায় থাকতে চাইছে না।

    এ অবস্থায় নিদ্রা আসা অসম্ভব, গঙ্গানারায়ণ উঠে বসলো। এ কী হলো তার? নীলকুঠিতেও কিছুক্ষণের জন্য তার বোধশক্তি সম্পূর্ণ লোপ পেয়েছিল, সে দাঁড়িয়েই ছিল, অথচ সেই সময়টুকুর কথা তার কিছুই মনে নেই। তারপর পালকিতে ওঠার সময় সে সম্পূর্ণই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লো, এ রকম তো তার কখনো হয়নি আগে!

    ঘাড়ে মাথায় জল ছেটালে উপকার হতে পারে ভেবে সে তাই করলো,তারপর মুক্ত বায়ু সেবনের উদ্দেশ্যে সে উঠে এলো বজরার ছাদে।

    রাত্ৰি কত প্রহর এখন কে জানে। বজরার সকলেই এখন ঘুমন্ত। বজরার সঙ্গে বাঁধা ছোট পিনিসটির ছাদে জ্বলছে একটা মশাল, তার কাছেই দুজন লোক পরস্পরের কাঁধে কাঁধ ঠেকিয়ে বসে আছে। পাশে রাখা দুটি ধারালো বশ। কোনো সন্দেহ নেই যে প্রহরী দুজনও নিদ্ৰাপ্লুত।

    নরম, শীতল বার্তাসে বেশ খানিকটা আরাম পেয়ে ছাদের ওপর পায়চারি করতে লাগলো গঙ্গানারায়ণ। একটু পরেই সে স্থান কাল সম্পূর্ণ বিস্মৃত হলো।

    যেন এখানে কোনো নদী নেই, বজরা নেই, কোনো মানুষ নেই। গঙ্গানারায়ণ সম্পূর্ণ একা, সে কোনো সীমাহীন স্থলে ঘুরছে। হঠাৎ হঠাৎ তার মস্তিষ্কে বিদ্যুৎচমকের মতো এসে যাচ্ছে এক একটি স্মৃতির টুকরো, সেগুলিও তার অচেনা। সে যেন শিশু হয়ে শুয়ে আছে কোনো জননীর কোলে, কিন্তু সেই জননীকে সে চেনে না-সোঁ ফুলের মালা টেনে টেনে ছিঁড়ে ফেলছে।–তার অঙ্গে রাজবেশ-সে ড়ুবে যাচ্ছে কোন কাল সমুদ্রে, শুধু হাত দুটি উচ্চে তোলা-পরমুহূর্তেই যেন সে আবার শুয়ে আছে নগ্নগাত্রে কোনো মন্দিরের চাতালে।

    সে মুখ তুলে তাকালো আকাশের দিকে। লঘু মেঘ ও কিছুটা নীল রং মেশা জ্যোৎস্নাভিরা অনন্ত গগনের দিকে চেয়ে সে যেন সত্যিই সন্ধান পেয়ে গেল অসীমের, তার নিশ্বাস পড়তে লাগলো ঘন ঘন, তার মুখের চেহারা এখন অন্যরকম।

    একটা শব্দ পেয়ে গঙ্গানারায়ণ তাকালো নদীর ঘাটের দিকে। সেখানে কয়েকটি মানুষ জলে নেমে মুখ প্ৰক্ষালন করছে আর নিজেদের মধ্যে কথা বলছে গুন গুন করে। গঙ্গানারায়ণ ওদের দিকে তাকালো বটে কিন্তু কিছু যেন দেখলো না, কিছু গ্রাহ্য করলো না, সে আবার মুখ ফেরালো আকাশের দিকে তৃষ্ণার্তের মতন।

    একটু পরেই আবার ঠিক স্বপ্নচালিতের মতন গঙ্গানারায়ণ নেমে এলো ছাদ থেকে, কিন্তু নিজের কক্ষের দিকে গেল না। বজরার সিঁড়ি তুলে রাখা হয়েছে, তীরের বেশ সন্নিকটেই নোঙর করা বজরা, গঙ্গানারায়ণ গলুইয়ের কাছে এসে এক লফে চলে এলো তীরে। নদীর ঘাটের কাছে যেখানে লোকগুলি ছিল, সে সেদিকে এগিয়ে গেল দ্রুত পদে।

    লোকগুলি তখন গোল হয়ে বসেছে। একজন বয়স্ক ব্যক্তি একটা বড় পাত্ৰ ভর্তি ভেজানো চিঁড়ে ও আখের গুড় মাখছে, তার থেকে এক একটা মণ্ড তুলে তুলে দিচ্ছে অন্যদের হাতে। গঙ্গানারায়ণ সেখানে বসে পড়ে হাত বাড়ালো। বয়স্ক লোকটি কোনো প্রশ্ন না করে গঙ্গানারায়ণের হাতেও তুলে দিল একটা মণ্ড। গঙ্গানারায়ণ সাগ্রহে সেটা সবখানি এক সঙ্গে ভরে দিল মুখের মধ্যে। ঠিক যেন অমৃতের স্বাদ পেল। লোভীর মতন সে হাত বাড়িয়ে দিল আবার।

    বয়স্ক লোকটি এবার জিজ্ঞেস করলো, তুমি কে বাপু?

    গঙ্গানারায়ণ কোনো উত্তর দিল না। সে হাত বাড়িয়েই রইলো। সেই লোকটি বললো, অতিথি নারায়ণ, তুমি যদি তৃপ্ত হও তো যত খুশী লাও। আমরা অতি দরিদ্র, আমাদের কাছে লুণ্ঠনযোগ্য ধনসম্পদ কিছুই নেই।

    দলটিতে বয়স্ক নারী পুরুষই বেশী, তিনজন যুবক ও একটি শিশুও রয়েছে, এরা তীর্থযাত্রী। আহার শেষ করার পর ওরা যখন আবার যাত্রা শুরু করলো, তখন গঙ্গানারায়ণ নিঃশব্দে অনুসরণ করতে লাগলো ওদের। সাধারণত রাত্রে পথ চলার রীতি নেই। কিন্তু বিদেশী তীর্থযাত্রীরা এ অঞ্চলে এসে শুনেছে যে নীলকরদের অত্যাচারে এখানে ত্রাসের রাজত্ব চলছে। অধিকাংশ প্রজাই গৃহছাড়া। সেইজন্য তীর্থযাত্রীরাও যত দ্রুত সম্ভব এ এলাকা পার হয়ে যেতে চায়।

    গঙ্গানারায়ণ মিশে গেল ওদের দলে। ক্রমশ সে চলে যেতে লাগলো তার বজরা থেকে অনেক দূরে। তীর্থযাত্রীরা প্ৰথমে তাকে কোনো দস্যদলের প্রতিনিধি মনে করেছিল, তার সঙ্গে কোনো অস্ত্ৰ না থাকলেও তাকে ওরা ঘটাতে সাহস করেনি। ভোরের আলোয় গঙ্গানারায়ণকে দেখে ওরা আরও অবাক হলো। গঙ্গানারায়ণের সবঙ্গে তার পারিবারিক আভিজাত্যের ছাপ পরিস্ফুট। তার পরিধানে চিকন সিল্কের ঢিলে কুর্তা ও শেরওয়ানি, কণ্ঠে স্বর্ণের মফচেন, বাঁ হাতের আঙুলে পাঁচটি বিভিন্ন মূল্যবান রত্ন সমন্বিত অঙ্গুরীয়। তার মুখে অদ্ভুত বিষাদ ও ঔদাসীন্য মাখানো। তীর্থযাত্রীদের নেতা সকালবেলা তাকে জিজ্ঞেস করলো, মহাশয় আপনি কোথায় চলেছেন? কোথায় আপনার নিবাস? আমরা অতি সাধারণ মানুষ, আপনি আমাদের সঙ্গী হলেন কেন?

    গঙ্গানারায়ণ বললো, আমাকে আপনাদের দলে স্থান দিন। আমি পথ চিনি না।

    গঙ্গানারায়ণ কি কাপুরুষ? সে কি পলাতক হতে চাইছে? প্রজাদের মুখপাত্র হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যাবার কথা ছিল তার, সে কি ভীরুর মতন রাত্রির অন্ধকারে দেশান্তরে চলে যাচ্ছে? এসব কিছুই মনে নেই গঙ্গানারায়ণের। তার সমস্ত বন্ধন টুটে গেছে, কোনো কিছু সম্বন্ধেই সে আর কোনো দায় বোধ করে না।

    একটানা বহুদিন বহু রাত ঐ তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে কাটিয়ে বহু পথ পরিক্রমা করে সে এসে পৌঁছোলো প্ৰয়াগের ত্ৰিবেণী সঙ্গমে। যাত্রীদলের গন্তব্য এই প্ৰয়াগই, এখানে তারা পুণ্য স্নান করতে এসেছে। অতি প্ৰত্যুষে গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতী এই তিন নদীর পবিত্র সঙ্গমে অনেকবার ড়ুব দেবার পর গঙ্গানারায়ণ যেন পুনজীবন প্রাপ্ত হলো। তার মস্তিষ্কের শূন্যতাবোধ কেটে গেছে। তার সারা শরীর কাঁপছে, এ কম্পন শীত বোধের জন্য নয়, অন্য এক উপলব্ধির উত্তেজনায়। সিক্ত বসনে পাড়ে উঠে এসে ভোরের আকাশের দিকে তাকিয়ে তার মনে পড়লো, প্ৰয়াগের থেকে কাশী খুব বেশী দূর নয়, এবার তাকে যেতে হবে সেখানে। তার নিয়তিই তাকে এখানে টেনে এনেছে।

    তীর্থযাত্রী দলের সংশ্রব ত্যাগ করে সে একই রওনা দিল বারানসীর দিকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্রিস-ক্রস – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    Next Article একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Our Picks

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }