Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প736 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪১. হিন্দু কলেজ

    এতকালের সুনামসম্পন্ন হিন্দু কলেজ বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হলো। ছাত্র সংখ্যা কমতে কমতে এমন হলো যে কোনো কোনো শ্রেণীতে তিন-চারজনের বেশী ছাত্র থাকে না। তৃতীয় শ্রেণীতে শুধু চন্দ্রনাথ একা। সে প্রতিদিন বই খাতা নিয়ে যথাসময়ে এসে ক্লাস ঘরে চুপ করে বসে থাকে, হিন্দু শিক্ষকরা কেউ তাকে পড়াতে রাজি নন, ইংরেজ শিক্ষকরা এসে তার মেধাশক্তি দেখে চমৎকৃত হয়ে যান। এরকম সুদৰ্শন, সুশীল ও মেধাবী ছাত্র এ কলেজে খুব কমই এসেছে।

    কিন্তু এভাবে আর কলেজ চালানো সম্ভব নয়। সরকারের শিক্ষাবিভাগ এ কলেজের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন। কিন্তু একজন বারবনিতার পুত্ৰকে কলেজে গ্রহণ করার পর থেকে শহরের উচ্চবংশীয় এবং ধনী হিন্দু সমাজ এ কলেজকে সম্পূর্ণ বর্জন করতে চাইছে। ওদিকে প্রতিযোগী মেট্রোপলিটান কলেজ। কয়েক মাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেল, ছাত্র সংখ্যা হলো এক হাজারের বেশী। হিন্দু কলেজ থেকে বিতাড়িত ক্যাপ্টেন রিচার্ডসন প্রতিশোধ স্পহায় নবপ্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটান কলেজের জন্য খাটতে লাগলেন প্ৰাণপণে, শহরের মাথা মাথা ব্যক্তিরা সাহায্য করতে লাগলেন এই নতুন কলেজটিকে, দানশীল রানী রাসমণি একাই দিলেন দশ হাজার টাকা।

    হিন্দু কলেজের কর্তৃপক্ষ ছাত্র-বেতন কমিয়ে দিলেন, তবু ছাত্রদের আকৃষ্ট করা গেল না। কোনো ভদ্র বংশের ছেলেই। আর ঐ বেশ্যাপুত্ৰ চন্দ্রনাথের ছায়াও মাড়াবে না।

    এ অবস্থায় আর বেশী দিন আদর্শ বজায় রাখা যায় না। চন্দ্রনাথকে কলেজে। গ্ৰহণ করার দিনটিতে যে বিপুল হুলস্থূল হয়েছিল, সে তুলনায় চন্দ্রনাথের বিতাড়ন পর্বটি হলো খুবই সংক্ষিপ্ত এবং আড়ম্বরহীন। হিন্দু কলেজের অধ্যক্ষ একদিন হঠাৎ তৃতীয় শ্রেণীর কক্ষের দরজার সম্মুখে এসে দাঁড়ালেন। তারপর চন্দ্রনাথকে ডেকে বললেন, বালক, এদিকে আইস।

    একজন তরুণ ইংরেজ শিক্ষক তখন পড়াচ্ছিলেন চন্দ্রনাথকে। শিক্ষক ও ছাত্ৰ দুজনেই অধ্যক্ষের কণ্ঠস্বর শুনে বিস্মিত। চন্দ্ৰনাথ ভয়ে ভয়ে উঠে এলো।

    অধ্যক্ষ তর্জনী উঁচিয়ে চন্দ্রনাথকে বললেন, তুমি দূর হইয়া যাও! আর কোনোদিন এ বিদ্যালয়ে আসিবে না। কোনোদিন ইহার দ্বারা দিয়া প্রবেশের চেষ্টা করিবে না।

    চন্দ্রনাথ বিমূঢ়ভাবে বললো, মহাশয়, আমি আর আসিব না?

    –নাঃ!

    চন্দ্রনাথ নির্বোধ নয়। সে বুঝেছিল যে তার জন্যই হিন্দু কলেজের ছাত্র সংখ্যা এত কমে যাচ্ছে। এর প্রতিকারের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ একটা কিছু ব্যবস্থা গ্ৰহণ করবেনই। তার নিজের পাঠতৃষ্ণা এত প্রবল যে সে কলেজ ছাড়ার কথা চিন্তাই করেনি। সে আশা করেছিল, তার জন্য পৃথক কোনো বন্দোবস্ত হবে। অধ্যক্ষ হঠাৎ এমন ত্রুদ্ধভাবে তাকে চলে যেতে বলবেন, এমন সে আশঙ্কা করেনি একবারও। আর এক সপ্তাহ পরেই তার পরীক্ষা শুরু হবার কথা।

    সে কাতরভাবে জিজ্ঞেস করলো, মহাশয়, তাহা হইলে ইহার পর আমি কোথায় পাঠ লইতে যাইব?

    অধ্যক্ষ হুঙ্কার দিয়ে বললেন, তোমার ইচ্ছা হয় তুমি জাহান্নামে যাইতে পারো। এ কলেজের সহিত তোমার আর কোনো সংশ্ৰব নাই!

    তরুণ শিক্ষকটি উঠে এসে মৃদু প্রতিবাদ করতে গেলে অধ্যক্ষ তাকে থামিয়ে দিলেন। এবং চন্দ্রনাথ তখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে দেখে অধ্যক্ষ দ্বারবানদের ডাকলেন।

    বেশ্যা-পুত্রকে দ্বারবানরাও ঘৃণা করে। ইতিমধ্যে একদিন চন্দ্রনাথ জল খাবার ঘরের কলসী থেকে জল গড়িয়ে খেতে যাওয়ায় দ্বারবানরা তাকে আরে আরো জাত মারলে রে, ঘড়া মাৎ ছোঁও বলে ধমকে উঠেছিল। এখন দ্বারবানরা খুব উপভোগ্য ভঙ্গিতে চন্দ্রনাথের ঘাড় ধরে কলেজ দ্বারের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিলে।

    প্রথম প্রথম কিছুদিন রাইমোহন নিজে রোজ কলেজ ছুটির পর চন্দ্রনাথকে নিয়ে যাবার জন্য কলেজের বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে থাকতো। ইদানীং আর নিয়মিত আসে না। তা ছাড়া এখন কলেজ ছুটির সময়ও নয়। বেলা দ্বিপ্রহর। চন্দ্রনাথের ভয় হলো, পথে হয়তো আজও ভাড়াটে গুণ্ডারা তাকে মারবে। সে একা একা বাড়ি ফিরবে। কী করে? তারপর সে ভাবলো, মারে মারুক।

    সে ধীর পায়ে হেঁটে প্রবেশ করলো গোলদীঘিতে, বসলো গিয়ে জলের ধারে। একটু পরেই সে আর নিজেকে সামলাতে পারলো না, দুই হাঁটুতে মুখ ওঁজে সে কাঁদতে লাগলো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে। তার সবঙ্গে মুচড়ে মুচড়ে উঠছে। ঠিক কার বিরুদ্ধে যে তার রাগ বা দুঃখ তা সে ঠিক জানে না, কিন্তু তার কিশোর-হৃদয় যেন ভেঙে খান খান হয়ে যাচ্ছে!

    গোলদীঘিতে নিষ্কম লোক ও বয়াটে ছোঁকরাদের কখনো অভাব হয় না। বিপরীত দিকের বাজার ফেরত ফড়ে আর ব্যাপারীরাও এখানে গাছতলায় ঘুমোতে আসে। কিন্তু দুপুর রৌদ্রে জলের ধারে বসে থাকা এক কিশোরের কান্নার দৃশ্য কারুকে আকৃষ্ট করে না। কেউ তার পাশে এসে প্রশ্ন করে না, তোমার কী হয়েছে ভাই?

    চন্দ্ৰনাথ অনেকক্ষণ ধরে কাঁদলো। কান্নারও ক্লান্তি আছে। এক সময় থামতেই হয়। এক সময় চন্দ্রনাথ মুখ তুলে জলের দিকে চেয়ে রইলো। জলে তার মুখের প্রতিবিম্ব। অনেকেই তাকে রূপবান বলে, কিন্তু চন্দ্রনাথের মনে হলো তার মুখখানি যেন কোনো বীভৎস প্রেতের মতন। মানুষের সমাজে তার স্থান নেই। সে রামায়ণ, মহাভারত পড়েছে, মিলটন, বায়রন, শেক্সপীয়ারও পড়েছে কিছু কিছু, এসব কাব্যের জগতের সঙ্গে সে একাত্মতা বোধ করে, কাব্যের নারী-পুরুষদের সে মনে করে অতি আপনজন, কিন্তু তাকে কেউ আপনজন মনে করবে না। এই পৃথিবীতে সে কেন জন্মালো? সে তো স্বেচ্ছায় এ পৃথিবীতে আসেনি। এ পৃথিবীতে কেউই নিজের ইচ্ছেয় আসে না, তবু সে কেন একা অস্পৃশ্য!

    প্ৰথমে সে একটা বই থেকে একটা একটা করে পাতা ছিঁড়ে ভাসাতে লাগলো জলে। তারপর এক সময় সমস্ত বই খাতপত্র কুটি কুটি করে ছিঁড়ে নিক্ষেপ করলো দীঘিতে। এরপর তার কলেজে আসবার জন্য যে বিশেষ পিরানটি প্রস্তুত করানো হয়েছিল, সেটিও সে খুলে ফেললো গা থেকে। সেটিকেও ছেড়ার চেষ্টা করলো। শক্ত বনাতের কাপড়, সহজে ছেড়া যায় না, তবু ক্রোধের চোটে দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে সে দু-হাতে টানতে লাগলো প্ৰাণপণে, শেষ পর্যন্ত কুতটিকে ফালাফালা করে ফেলে সে তাতে এক তাল মাটি জড়িয়ে ড়ুবিয়ে দিল জলের মধ্যে। তারপর সে উঠে দাঁড়ালো। ধুতির কোচা খুলে কোমর বেড়া দিয়ে বাঁধলো শক্ত করে।

    বাড়ির দিকে না গিয়ে চন্দ্রনাথ আচ্ছন্নের মতন ঘুরতে লাগলো পথে পথে। কোনোদিন সে একা এমনভাবে হাঁটেনি, সে এ শহরের রাস্তাঘাটও সব চেনে না। তবু যেদিকে দুচোখ যায় সে যাবে।

    এক জায়গায় দেখলো, একজন সাহেবের তদারকিতে এক দঙ্গল মজুর গাছপালা কেটে সাফ করছে আর আরেক দঙ্গল মজুর একটা পুকুর ভরাট করছে। এ শহরের পথের দুপাশে দু পা অন্তর একটা করে পুকুর বা ডাবা। তার পাশে ঝোঁপঝাড়। সম্প্রতি সরকার বাহাদুর উদ্যোগ নিয়েছে ডোবাগুলি ভরাট করবে। আর ঝোঁপঝাড় আগাছার নিকেশ করবে। সন্ধে হতে না হতেই মশার উৎপাতে টেকা যায় না, ওলাউঠোয় প্রতি বছরই বাড়িকে বাড়ি ছারখার করে দিচ্ছে। এইসব আগাছার জঙ্গল আর পচা জলের জন্যই নাকি রোগ ছড়ায়।

    চন্দ্রনাথ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলে সেই কর্মকাণ্ড। কিন্তু একটু পরেই সে অন্যমনস্ক হয়ে যায়, আবার তার চোখে জল আসে। ধুতির খুঁট তুলে চোখ মুছে সে আবার হাঁটতে শুরু করে।

    একটু পরে একটি বিরাট ধুমধামের শোভাযাত্রার মধ্যে পড়ে গেল সে। কিসের শোভাযাত্রা তা প্রথমটায় বোঝাই যায় না। একদল লোক খোল-করতাল বাজিয়ে ধেই ধেই করে নাচছে আর চিল্লাচিল্লি করে একটা গান গাইছে। শোভাযাত্রার অগ্রভাগে একটা রথের মতন জিনিস বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কিছু লোক, দূর থেকে সেটিকে ভালো করে দেখতে পেল না চন্দ্রনাথ। লোকগুলি সকলেই যেন একেবারে ভাবে বিভোর। চন্দ্রনাথের একবার মনে হলো এ বুঝি কোনো খানদানি মানী লোকের মড়া নিয়ে শ্মশানযাত্রা হচ্ছে।

    একটু মনোযোগ দিয়ে সে গানটা শুনলো।

    যিনি গুরু তিনি কৃষ্ণ না ভাবিও আন
    গুরু তুষ্টে কৃষ্ণ তুষ্ট জানিবা প্ৰমাণ।
    প্ৰেমারাধ্যা রাধাসমা তুমি লো যুবতী
    রাখ লো গুরুর মান যা হয় যুকতি।

    শ্মশানযাত্রায় কি এ গান হয়? তাছাড়া খোল করতালধারীরা গাইতে গাইতে এমন লাফাচ্ছে যে দেখলে হাসি পায়। এদের দেখবার জন্য ভিড় জমে গেছে পথের দুপাশে। বারান্দা থেকে উঁকি মারছে স্ত্রীলোকেরা। চৌমাথার বেনের দোকানের সামনে ভর্তি লোক, তাদের নানারকম বেশ, কারুর কফ ও কলারওয়ালা কামিজ, রূপের বগলস অ্যাটা শাইনিং লেদার বা ইণ্ডিয়া রাবারের জুতো, কেউ পরেছে। চায়না কোট, কাঁধে ক্রেপের চাদর, হাতে স্টিক। কেউবা খ্যাংরাওঁপো, গামছা-কাঁধে। কেউ ছোট আদালতের উকিল। কেউ সেকশন রাইটার, টাকাওয়ালা গন্ধবোনে, কেউ তেলী বা কেউ কামার অথবা ফলারে যজমেনে বামুন, কোথাও বা চার-পাঁচজনের দল বাঁধা নারী, তাদের কোলে কাঁখে বাচ্চা।

    যে-কোনো হুজুগেই শহরের পথে এমন ভিড় জমে যায়। কেউ ভক্তিভরে কীর্তনিয়াদের উদ্দেশে প্ৰণাম করলো, কেউ বা নানান টিটকিরির মন্তব্য ছুঁড়তে লাগলোকেউ বললে, চোখে তেমন জল নেই ক্যান, বাপ? বেহ্মরা আরও বেশী কেঁদে ভাসায়। কেউ বললে, আহা-হা, জয় গুরু গুরু, এবার হলো কলির শুরু! কেউ বললো, হরি হে মাধব, চান করবো না গা ধোবো! কেউ আরও উচ্চস্বরে বৈষ্ণবদের চেয়ে শাক্তদের গলার জোর বেশী প্রমাণ করবার জন্য বললো, ব্যোম কালী কোলকেতাওয়ালি!

    কীর্তিনিয়ারা তাতে একটুও দমে না। একজন খোলাধারী মিছিল থেকে বেরিয়ে এসে দর্শকদের উদ্দেশ্য করে চটচটাং চটচটাং করে খোল বাজিয়ে নাচতে নাচতে ঝুঁকে পড়ে গান ধরলো : তাৰ্থইয়া তথইয়া নাচত ফিরত গোপাল ননী চুরি করি খাঞিছে,/আরে আরে ননী চুরি করি খাঞিছে তার্থইয়া তথইয়া…। অমনি দর্শকরা হরিবোল হরিবোল দিয়ে উঠলো।

    চন্দ্রনাথ ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেল সামনের দিকে। রথটি দেখবার জন্য তার কৌতূহল।

    রথটি নানারকম ফুল ও রাংতার ঝালর দিয়ে সাজানো। তার ওপর কোনো বিগ্রহ নেই, বসে আছেন এক জ্যান্ত গোঁসাই। আজ পর্যন্ত এ শহরে কেউ রোগা চেহারার গোঁসাই দেখেনি, ইনি আবার একই তিনজনের সমান। জনা ছয়েক লোক রথটি ঠেলতে ঠেলতে একেবারে গলদঘর্ম। গোঁসাইজীর শরীরটা প্ৰকাণ্ড, মুণ্ডিত মস্তক, মধ্যে তরমুজের বৌটার মতন চৈতন্য ফক্কা। সবঙ্গে হরিনামের ছাপ। নাকে তিলক ও অদৃষ্ট (কপালে) এক ধ্যাবড়া চন্দন, ঠিক যেন মনে হয় কাকের অপকর্ম। পাছে পাপীতাপী এবং অবিদ্যাদের ওপর চোখ পড়ে সেইজন্য গোঁসাইজী চক্ষু বুজে নাম জপ করছেন।

    ইনি মল্লিকবাড়ির কুলগুরু নদেরচাঁদ গোস্বামী জিউ বাবা। যত বড় ধনীর বাড়ির গুরু, তত বেশী জাঁকজমক, নইলে যজমানের ইজ্জৎ থাকে না। ভক্ত শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে সারা শহর কাঁপিয়ে আগমন ঘটালে লোকে বলে, হ্যাঁ, অমুক বাড়ির গুরুদেব এলেন বটে!

    এত হই-চইয়ের মধ্যে মিশে গিয়ে খানিকক্ষণ হাঁটতে চন্দ্রনাথের মন্দ লাগলো না। কিন্তু কিছুতেই তার মনের ভার কাটে না। ঢেউয়ের মতন হঠাৎ হঠাৎ অভিমান এসে আছড়ে পড়ে বুকে। এত লোক আনন্দ ফুর্তি করে নাচতে নাচতে যাচ্ছে, ওরা তো কেউ জানে না। ওদের মধ্যে বুক ভরা দুঃখ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এক কিশোর। নিজের অজ্ঞাতসারেই চন্দ্রনাথ আবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।

    চন্দ্রনাথকে কাঁদতে দেখে এক ভক্ত তাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে বসিয়ে দিল রথের ওপরে, তারপর গদগদ স্বরে বলতে লাগলো, অহো, অহো, অহো! গুরো, তুমিই সত্য! ধন্য তোমার মহিমা! বালককেও তুমি তরালে। বল বাবা, বল, জয় গুরু, জয় গুরু!

    চন্দ্রনাথ হাত পা মুচড়ে নেমে পড়লো। সে কুণ্ঠরোগীর মতন অস্পৃশ্য, যদি এরা সে কথা জেনে যায়? সে মিছিল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল, সেই ভক্তপ্রবর তার হাত ধরে বললো, যাস কই, ওরে যাস কই? চল, আমাদের সঙ্গে চল, গুরুর প্রসাদ পাবি, তেমন জিনিস তোর বাপের জন্মে খাসনি।

    হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে পালালো চন্দ্রনাথ। তার এখন বুক হালকা করা দরকার। সে একটি মসজিদের সিঁড়িতে বসে আবার কাঁদলো অনেকক্ষণ। তারপর সেখানেই কত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।

    তার যখন ঘুম ভাঙলো, তখন বিকেল গড়িয়ে গেছে, সন্ধ্যা সমাগত। সে দেখলো তার পাশে কয়েকটা পাই পয়সা ও আধলা পড়ে আছে। রমজানের মাস, ভক্ত মুসলমানরা নামাজ সেরে বেরুবার সময় ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে দেখে মনে করেছে। কোনো অনাথ আতুর, তাই কেউ কেউ কিছু দান করে গেছে।

    চন্দ্রনাথ সে পয়সা ছুঁলো না। ঘুম ভাঙার পর প্রথমে সে দিশাই করতে পারলো না, এখন ভোর না সন্ধ্যা। তারপর একটু ধাতস্থ হবার পর সে আবার এক বিড়ম্বনায় পড়লো। এটা কোন জায়গা? সন্ধ্যার ক্ষীণ আলোয় সব কিছুই অচেনা মনে হয়। সে এখান থেকে বাড়ি ফিরবে। কী উপায়ে? একবার তার মায়ের কথা মনে পড়লো। এই সময় তার মা বেশভূষা পরিবর্তন করে চোখে সুমা আঁকে, সারা অঙ্গে আতর ছিটিয়ে রাত্রের বাবুদের মনোরঞ্জনের জন্য তৈরি হয়। মায়ের প্রতি চন্দ্রনাথের কোনো রাগ হলো না, কিন্তু সে আর বাড়ি ফিরে যাবে না।

     

    মসজিদের কাছে একটা কাবাবের দোকান। সেখানে কিছু লোক দাঁড়িয়ে জটিল করছে। কোনো একটা ব্যাপারে তাদের বেশ উত্তেজিত মনে হয়। চন্দ্ৰনাথ সেদিকে এগিয়ে গিয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলো, এ জাগাটার নাম কী?

    লোকগুলো নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, কেউ উত্তর দিল না। দোকানটিতে মস্ত বড় চুল্লিতে ঝলসানো হচ্ছে মাংস, সেই গন্ধে চনচনিয়ে উঠলো ক্ষিদে। কলেজ থেকে ফিরে এই সময় চন্দ্রনাথ রোজ তার খাবার খায়। আর কোনোদিন সে কলেজে যাবে না। সে বাড়ি ফিরে গিয়ে সব কথা বললেই রাইমোহনদাদা আবার তাকে নিয়ে উঠে পড়ে লাগবে। রাইমোহনদাদা অতি ধুরন্ধর, হয়তো নাম ভাঁড়িয়ে চন্দ্রনাথকে আবার অন্য কোনো জায়গায় ভর্তির ব্যবস্থা করবে। সেখানেও কিছুদিন পর চন্দ্ৰনাথ ধরা পড়ে যাবে নিশ্চিত, আবার সেখান থেকে তাকে বিতাড়িত করা হবে। না, চন্দ্ৰনাথ আর এই অপমান সহ্য করতে রাজি নয়। সে আর জীবনে কোনো বই ছোবে না।

    সে এবার দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলো। এই জায়গাটির নাম। এবং জানলো যে এটা গরানহাটা। আর ঠিক তখনই দূর থেকে তিন চারজন লোক ছুটে এলো এদিকে।

    তাদের মধ্যে একজন ভয়ংকর চেহারার লোক হুংকার দিয়ে বললো, আরো কালু! তারপরই তার হাতে ঝলসে উঠলো একটা ছুরি, সে ঝাঁপিয়ে পড়লো আগের জটলোটার মধ্যে।

    চন্দ্রনাথ এমনই ভ্যাবাচ্যাক খেয়ে গিয়েছিল যে কী করবে তা বুঝতে পারার আগেই কিছু লোক তাকে ধাক্কা দিয়ে ছিটকে ফেলে দিল। আচমকা পড়ে গিয়ে তার মাথায় বেশ চোট লাগলেও সে সামলে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে দেখলো, এরই মধ্যে জায়গাটা একদম ফাঁকা হয়ে গেছে। সবাই পালিয়েছে, দোকানদারও ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে, শুধু রাস্তার ওপর চিৎ হয়ে পড়ে আছে একটা লোক, তার বুকে একটা আমূল ছুরি বেঁধা। লোকটার বুক ভেসে যাচ্ছে রক্তে, তখনও সদ্য মুণ্ডকাটা ছাগলের মতন কেঁপে কেঁপে উঠছে তার দেহ। একটুবাদেই একেবারে নিথর হয়ে গেল।

    এরকম ভয়ংকর দৃশ্য চন্দ্রনাথ কখনো দেখেনি। তার চক্ষু দুটি যেন স্থানচ্যুত হতে চাইছে, তার সর্বাঙ্গ কাঁপছে। লোকটি কি সত্যিই মরে গেল? একটু আগে এই লোকটিই চাঁচাচ্ছিল তারস্বরে, এর মধ্যেই সব শেষ? একবার সে ভাবলো, কাছে গিয়ে দেখবে লোকটির নাক দিয়ে এখনো নিশ্বাস পড়ছে কি না। কিন্তু পর মুহূর্তেই তার ভেতরকার সহজাত আত্মরক্ষার প্রবৃত্তি তাকে বলে দিল পলায়ন করতে। সে পিছন ফিরে অন্ধের মতন দৌড় লাগালো।

    দৌড়োতে দৌড়োতে কত পথঘাট পেরিয়ে গেল চন্দ্রনাথ, তার কোনো হিসেব নেই। অনেক অন্ধকার পথ পেরিয়ে সে চলে এলো একটি আলো-উজ্জ্বল পল্লীতে। এলাকার অনেক বাড়ির দরজায় জাহাজীল্যাম্প হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাজগোজ করা স্ত্রীলোকেরা। পথে মাতালের হল্লা ও জুড়িগাড়ির ভিড়। এইসব স্ত্রীলোকরা কোন উদ্দেশ্যে রাত্ৰিবেলা এত বেশী প্রসাধন করেছে, তা বুঝতে চন্দ্রনাথের কোনো ভুল হলো না। এ পল্লীর নাম যদিও সোনাগাহী। কিন্তু চন্দ্রনাথের ভ্রম হলো সে বুঝি নিজের বাড়ির কাছে এসে পড়েছে। সে আবার প্রাণপণে ছুটলো।

    বেশ কিছুক্ষণ পর একটা অন্ধকার অঞ্চল দেখে চন্দ্রনাথ একটা অশ্বত্থ গাছের নীচে বসে জিরোতে লাগলো। চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই ছুরি বেঁধা লোকটির শরীর। লোকটার শরীর যেমনভাবে ছটফট করছিল, ঠিক সেইভাবেই যেন চন্দ্রনাথের শরীরও কাঁপছে। মৃত্যু এত সহজ? লোকটার নাম কাল্প, ওর বাড়ির লোক নিশ্চয়ই এখনো কিছু জানে না। ওর মা হয়তো ওর জন্য রাত্তিরবেলা ভাত বেড়ে অপেক্ষা করে থাকবে। ওরা ভাত খায় না, রুটি খায়। রুটি আর কাবাব। কালু আর কোনোদিন রুটি আর কাবাব খাবে না।

    আজ চন্দ্রনাথ বাড়িতে না ফিরলেও তার মা হীরেমণি কোনো বাবুর বাড়িতে মুজরো গাইতে যাবে? রাইমোহনদাদা আজও একতলার সিঁড়ির নীচের ঘরে মদের আসর বসাবে? হীরেমণি নিজে হাতে রোজ বিকেলে ছেলেকে খাবার দেয়। আজ তো বিকেল কখন পেরিয়ে গেছে, মা এখন কী করছে? মা কি এতক্ষণে জড়ির চুমকি বসানো ঘাঘরাটা খুলে আবার আটপৌরে শাড়ি পরে এখন কাঁদতে বসেছে? কিংবা কতা দেওয়া আচে, যেতেই হবে গা, চাঁদু ফিরলে একটা খপর পাঠিয়ো বলে মা উঠে বসেছে কোনো বাবুর জুড়িগড়িতে? রাইমোহনদাদা খুঁজতে বেরিয়েছে তাকে?

    চন্দ্রনাথ ভাবলো, সে যদি আজই মরে যায়, তা হলে তারপরও কি তার মা বাবুদের কাছে যাবে? চন্দ্রনাথের ধারণা হলো, সে মরে গেলে তার মা খুব কাঁদবে, শুধু কাঁদবে, আর কোনোদিন ঐ পাপের জীবনে যাবে না। তা হলে তো তার মরে যাওয়াই ভালো। কত সহজে মরে যাওয়া, কেউ তার বুকে একটা ছুরি বসিয়ে দিলেই হলো। কিংবা, সে নিজেই নিজের বুকে একটা ছুরি বসিয়ে দিতে পারে।

    হঠাৎ অন্ধকারের মধ্যে চন্দ্রনাথের পেছনে কেউ একটা লাথি কষিয়ে বলে উঠলো, এই শাল্লো! ভাগ!

    চন্দ্রনাথ ধড়ফড় করে উঠে দেখলো মুখ ভর্তি দাড়িওয়ালা একজন লোক, খালি গা, পরনে একটা শতাচ্ছিন্ন ধুতি, হাতে একটা বাঁশের লাঠি। মনে হয় কোনো পাগল!

    লোকটি বললো, আমার জায়গায় শুইচিস শাল্লো! কাঁচা খেয়ে ফেলবো! আমার সাত পুরুষের ভিটে, এখেনে যে আয়গা, ও মরে গা!

    চন্দ্রনাথ এবার তাকিয়ে দেখলো, গাছের গোড়ায় একটা মাটির হাঁড়ি আর একটা পুঁটলি পাকানো কম্বল রয়েছে। এই লোকটি এখানে শোয়, চন্দ্ৰনাথ ভুল করে সে জায়গা দখল করেছিল।

    লোকটা চন্দ্রনাথকে মারবার জন্য লাঠিটা তুলেছে, অমনি চন্দ্রনাথ হাতজোড় করে অনুনয় করে বললো, মেরো না মেরো না, আমি এক্ষুনি চলে যাচ্ছি।

    লোকটা বললো, যাবি না তো, তোর খাল খিচে দেবো, শাল্লো!

    চন্দ্রনাথ সুরুত করে পালিয়ে গেল সেখান থেকে। ভয়ে তার বুকের মধ্যে দুমদাম শব্দ হচ্ছে। কালুকে ছুরি-বেঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চন্দ্রনাথ ভয় পেয়েছিল, কিন্তু এই লোকটি লাঠি তুলে দাঁড়ানোতে চন্দ্রনাথ যে ভয় পেল, তা একেবারে অন্যরকম। এ তার নিজের মৃত্যুভয়। অথচ একটু আগেই তো চন্দ্ৰনাথ মরে যেতে চাইছিল।

    না। এভাবে মরা চলবে না। চন্দ্ৰনাথ মরবোই, তবে, অন্যের হাতে নয়, নিজের ইচ্ছায়। সবচেয়ে ভালো জলে ড়ুবে মরা। তাদের পাশের বাড়ির চপল নামে এক বালিকা গঙ্গায় স্নান করতে গিয়ে ড়ুবে মরেছিল। চন্দ্রনাথও গঙ্গায় ঝাঁপ দেবে। সে সাঁতার জানে না। গঙ্গায় মরলে সব পাপী-তাপীই উদ্ধার পেয়ে যায়। মা গঙ্গা সবাইকে বুকে আশ্রয় দেন। তিনি সকলের মা, তিনি জাতি বিচার করেন না, দীন দুঃখীদেরও তিনি বুকে টেনে নেন। এখন চন্দ্রনাথকে খুঁজে বার করতে হবে, কোথায় গঙ্গা।

     

    কিছুটা দৌড়ে, কিছুটা হেঁটে চন্দ্রনাথ আবার পৌঁছে গেল লোকালয়ে। এ পল্লীটির নাম বাগবাজার। এখানে অনেক ধনী মানুষদের অট্টালিকা রয়েছে। একটি বাড়ির সামনে অনেক মানুষের ভিড়। এই সব ধনীদের বাড়িতে বারো মাসে তের পার্বণ লেগেই থাকে। এই বাড়ির অন্দরে খুব খাওয়াদাওয়া চলছে বোঝা যায়। বড় বড় ঝুড়িতে করে এঁটো কলাপাতা আর মাটির গেলাস ফেলা হচ্ছে রাস্তায়। সিংহদ্বারের কাছে ভিড় জমিয়েছে কাঙালীর দল। চন্দ্রনাথও তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। তার পাকস্থলী যেন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে ক্ষিধের আগুনে, গলা একেবারে ফেটে যাচ্ছে তৃষ্ণায়। মৃত্যু চিন্তার চেয়েও তার খাদ্য চিন্তা অনেক বেশি প্রবল হয়ে উঠলো।

    সে দেখলো একজন লোক বাড়ির ভেতর থেকে এক বৃহৎ চাঙ্গারি ভর্তি লুচি এনে কাঙালীদের উদ্দেশে হেঁকে বললো, সব সার দিয়ে বসে যা, গোলমাল করবিনি, সবাই পাবি, অনেক খাবার রয়েচে, মাংস মেঠাই সব পাবি, বসে যা–

    কাঙালীরা হুড়মুড় করে বসে গেল রাস্তার ওপর সার বেঁধে। একজন পাণ্ডা গোছের কাঙালী হেঁকে বললো, জয় হোক, বোসবাবুদের খাওয়া যেন অমের্ত! আর কোনো বাবুদের এমন দরাজ দিল নেই!

    চন্দ্রনাথও বসে পড়েছে তাদের মধ্যে। তার গৌর বর্ণ, সুঠাম শরীর। কাঙালীদের মধ্যে তাকে একেবারেই বেমানান লাগে। তার কখনো খাবার কষ্ট হয়নি, সে যখন যা ইচ্ছে হয়েছে পেয়েছে, কিন্তু আজ কাঙালীদের সঙ্গে বসতে তার একটু দ্বিধা হলো না। তার দু-পাশে যারা বসেছে, তারা একটু অবাক হয়ে দেখলো তাকে।

    চারখানা লুচি ও কুমড়োর ছক্কা খাওয়া হয়ে গেছে, এর পরেই আসছে মাংস। এইটুকু খেয়ে চন্দ্রনাথের ক্ষিধে যেন আরও বেড়ে গেছে, সে অধীর প্রতীক্ষ্ণয় আঙুল চাটছে। এমন সময় নিয়তি দেবী তার সঙ্গে আর একবার পরিহাস করলেন।

    পরিবেশনকারী ব্যক্তিটি চন্দ্ৰনাথের সামনে এসে থমকে গেল। কালো কালো নোংরা চেহারার কাঙালীদের মধ্যে চন্দ্রনাথকে মনে হয় যেন কোনো দেবদূত। পরিবেশনকারীটি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো, তুমি কে গা? এখেনে বসোচো? তুমি কাঁদের বাড়ির ছেলে?

    আর তখনই চন্দ্রনাথেরই বয়েসী এক কিশোর, ঐ বাবুদের বাড়িরই ছেলে, এগিয়ে এসে চন্দ্রনাথকে দেখে ভূত দেখার মতন চমকে উঠলো। সে বললো, ওমা, এই তো সেই ছোঁড়া! ও ছোটকাকা, দোকবে এসো, দোকবে এসো!

    পরিবেশন বন্ধ হয়ে গেছে। দেউড়ির ওপাশে এক প্ৰবীণ ব্যক্তি বিশিষ্ট অভ্যাগতদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তিনি এগিয়ে এসে বললো, কী হয়েচে? গোলমাল কিসের?

    কিশোরটি বললো, ছোটকাকা, এই দ্যাকো, এই সেই ছোঁড়া। এর জন্যই তো আমার হিন্দু কলেজে যাওয়া তোমরা বন্ধ করে দিয়েচো! এই সেই বেশ্যার ছেলেটা।

    বেশ্যার ছেলে যেন একটা দারুণ দর্শনীয় বস্তু। এই হিসেবে অনেকেই ভিড় করে দেখতে এলো চন্দ্রনাথকে। এমন কি কাঙালীরাও এমন একজনের সঙ্গে পঙক্তি ভোজনে বসাটা অসম্মানজনক মনে করে হই। হই করে উঠলো। যেন তাদেরও জাত চলে যাবে।

    বাবুদের বাড়ির কিশোরটি বললো, এ ছোঁড়া এসে আমাদের কেলাসে ভর্তি হলো, ওর মা-মাগীটা নিজে নিয়ে এয়েছেল ওকে, সবাই দেকেচে—!

    তারপরই সে, হারামীর বাচ্চা, আমাদের সৰ্ব্বেবানাশ করে আবার আমাদের বাড়িতেই খেতে এয়েচে! এই বলে এক লাথিতে উলটে দিল চন্দ্রনাথের খাবারের পাতা। তার ছোটকাকা চন্দ্রনাথের কান ধরে বললো, দূর হ! বেজন্ম কাঁহিকা?

    চন্দ্রনাথ একটা কথাও বললো না। দু-তিনজন মিলে তাকে তুলে টেনে হিচড়ে নিয়ে গেল খানিকটা। তারপর দ্বিপ্রহরে কলেজের দ্বারবানরা মিলে যেভাবে তাকে ছুঁড়ে দিয়েছিল এখন এরাও যেন তার চেয়েও বেশী প্ৰতিহিংসায় আরও জোরে ছুঁড়ে দিল তাকে।

    তবু এবার শরীরে কোনো রকম ব্যথা বোধ করলো না চন্দ্রনাথ। পড়ে গিয়েই সে তাকালো এদিক ওদিক। কাছেই একটা পাথরের চাঙ্গার দেখতে পেয়ে সেটা হাতে নিয়ে সে উঠে দাঁড়ালো। যারা তাকে ছুঁড়ে দিয়েছিল, তাদের মধ্যে পরিবেশনকারী ব্যক্তিটিকে দেখে সে উন্মাদের মতন ছুটে এসে সেই পাথরের চাঙ্গড় দিয়ে মারলো তার মাথায়। লোকটি বাপ রে, মলাম রে, বলে পড়ে গেল ধপাস করে। চন্দ্রনাথ পাথরটি জোরে ছুঁড়ে মারলো অন্যদের দিকে, তারপর প্রাণপণে ছুটলো।

    পাইক বরকন্দাজ সমেত অনেকেই অনেক দূর পর্যন্ত তাড়া করে এসেছিল, কিন্তু কিছুতেই তার নাগাল পেল না।

    চন্দ্রনাথ ক্রমে এক সময় পৌঁছেলো গঙ্গার ধারে। কিন্তু জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার কথা তখন আর তার মনে এলো না। তার হাত চটচট করছিল। প্ৰথমে সে ভেবেছিল এটো লেগে আছে, কিন্তু নদীতীরে জ্যোৎস্নায় সে ডান হাতের পাঞ্জাবি তুলে দেখলো, সেখানে লেগে আছে রক্ত। মানুষের রক্ত।

    জলের কাছে নেমে গিয়ে সযত্নে হাত ধুতে লাগলো চন্দ্ৰনাথ। এক হিসেবে আজ তার আর একবার হাতেখড়ি হলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্রিস-ক্রস – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    Next Article একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Our Picks

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }