Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প736 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩২. এলিয়ট ড্রিঙ্ক ওয়াটার বীট্‌ন

    এপ্রিল মাসের এক সকালে ভারতের মাটিতে পা দিলেন জন এলিয়ট ড্রিঙ্ক ওয়াটার বীট্‌ন। সাতচল্লিশ বছর বয়েস, স্বাস্থ্যবান উন্নত দেহ, মন বিবিধ উৎসাহে ভরপুর। তিনি সম্ভ্রান্ত শিক্ষিত পরিবারের মানুষ, নিজেও আইন ও অঙ্ক শাস্ত্ৰে সুপণ্ডিত, অক্সফোর্ডের র‍্যাংলার। কাব্য সাহিত্য সম্পর্কেও তাঁর যথেষ্ট আগ্ৰহ। কলকাতা বন্দরে তিনি নামলেন অনেক আশা নিয়ে। বসন্তকালীন বার্তাস ও রৌদ্র ধৌত এই সুন্দর শহরটি দেখে মুগ্ধ হলেন তিনি।

    ভারতবর্ষ সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ অনেক দিনের। যৌবনে লণ্ডন শহরে তিনি যখন আইনজীবী হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠছেন, সেই সময় একটি অতি কৌতূহলজনক মামলায় ওকালতী করার জন্য তাঁর কাছে একটি প্রস্তাব আসে। ব্যাপারটা স্ত্রীলোকদের পুড়িয়ে মারা বিষয়ে। একদল হিন্দু আবেদন করেছিল যে স্বামীর মৃত্যুর পর সেই একই চিতায় তার জীবন্ত স্ত্রীকেও পুড়িয়ে মারার যে প্রথা ভারতে আছে, তা। আইন করে বন্ধ করা হোক। আর একদল হিন্দু আবার এই রকম আইনে তাদের ধর্ম কলঙ্কিত হবে বলে এই আইন জারির বিরুদ্ধে প্ৰিভি কোন্সিলে আপীল করতে চায়। সেই বিরুদ্ধ পক্ষীয় হিন্দুরাই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। বিষয়টি জেনে প্রথমে বেশ বিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলেন বীট্‌ন। জীবন্ত নারীকে পুড়িয়ে মারা হবে কি না, তা নিয়েও মতভেদ? সুট্টির কথা তিনি নানান পুত্র-পত্রিকায় পড়েছেন বটে, কিন্তু তাঁর ধারণা ছিল এসব রূপকথা। ইওরোপেও ডাইনী ঘোষণা করে অনেক নারীকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, ইনকুইজিশনের বহু কদাচারের কথা তিনি জানেন, কিন্তু সে তো মধ্যযুগের কথা। এখন উনবিংশ শতাব্দী, মানব সভ্যতার এক নবজাগরণ হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্ৰযুক্তিবিদ্যার মধ্যে দেখা দিয়েছে অসীম সম্ভাবনা, চতুর্দিকে প্রবাহিত হচ্ছে মুক্ত চিন্তার বার্তাস। এর মধ্যে জ্ঞানীদের দেশ ভারতবর্ষে এতখানি কুসংস্কার আচ্ছন্ন অন্ধকার!

    সেই থেকে জন বীট্‌ন ভারতবর্ষীয় সমাজ নিয়ে পড়াশুনা শুরু করলেন। তাঁর স্বদেশে তখন নারী মুক্তির আন্দোলন চলছে, চতুর্দিকে স্থাপিত হচ্ছে নানা ধরনের লেডিজ অ্যাসোসিয়েশন, নারীরা প্রকাশ্যে সভাসমিতি করে পুরুষের সঙ্গে সমান অধিকার দাবি করছে। বীটন নিজেও মনে করেন যে ঈশ্বর পুরুষ ও নারী জাতিকে সমানভাবেই বুদ্ধি, হৃদয় ও সুখ-দুঃখের অনুভূতি দিয়েছেন। এতকাল পুরুষ যে স্ত্রী জাতিকে নিছক ভোগের সামগ্ৰী করে রেখেছিল এবং সমাজজীবনে নারীর কোনো ভূমিকাই স্বীকার করেনি, সেটা অন্যায়। ইওরোপে নারীরা একে একে অনেক অধিকার আদায় করছে, কিন্তু বীট্‌ন জেনে দুঃখিত হয়েছিলেন যে ভারতে রমণীরা এখনও পদাবনত। তাদের পুড়িয়ে মারা বন্ধ হয়েছে বটে, কিন্তু এখনও তারা সারাজীবন দগ্ধ হয়।

    বীট্‌ন হচ্ছেন সেই ধরনের মানুষ, যাঁরা কয়েকটি মহৎ ধারণার পরিপোষণ করেই জীবনটা কাটিয়ে দিতে সুখ পান। ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়েও পৃথিবীর মানুষের কিছু সুখ বৃদ্ধির চেষ্টা করেই তৃপ্তি পান এই ধরনের মানুষ। বীট্‌ন অকৃতদার এবং তাঁর কোনো গৃহ-বন্ধন নেই। বিলাতে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কর্তৃপক্ষ যখন তাঁকে ভারতে আইন সচিব করে পাঠাতে চাইলেন, তখন সে প্রস্তাবে সাগ্রহে সম্মতি দিয়েছিলেন বীট্‌ন। প্রত্যক্ষভাবে ভারতবর্ষকে জানার বাসনা তাঁর এতদিনে চরিতার্থ হবে।

    বীট্‌নের আগমনের অল্পকাল আগে লর্ড ডালহৌসি এসেছেন ভারতের বড়লাট হয়ে। ডালহৌসির আকাঙ্ক্ষা রাজ্য বিস্তারের। তা ছলে, বলে ও কৌশলে যে উপায়েই হোক। আর তাঁর আইন সচিব বীট্‌নের বাসনা এই যে, যে নবজাগরণের জোয়ার এসেছে ইওরোপে, তারই অনুরূপ কিছু এই প্রাচীন, সুমহান সভ্যতার দেশ ভারতবর্ষেও সঞ্চারিত হোক। এই দুই রাজপুরুষেরই অবস্থিতি হলো রাজধানী কলকাতায়।

    পদাধিকার বলে বীট্‌ন কাউন্সিল অব এড়ুকেশনেরও সভাপতি হলেন। অৰ্থাৎ এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তিনিই প্ৰধান। কলকাতায় উপস্থিত হয়েই তিনি জড়িয়ে পড়লেন নানান কাজে। তিনি দেখলেন, কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে, পৃথকভাবে হিন্দু ও মুসলমান ছাত্রদের শিক্ষার জন্য। আর যেটা সবচেয়ে উজ্জ্বল প্ৰতিষ্ঠান, যেখান থেকে ছাত্ররা পায় পাশ্চাত্ত্য জ্ঞানের আলোক, সেই হিন্দু কলেজে। শুধু হিন্দু ছাত্র ছাড়া আর কারুর প্রবেশ অধিকার নেই। শুধু হিন্দু হলেই হবে না, কিছুটা অন্তত বংশকৌলীন্য না থাকলে যেকোনো ছাত্রই হিন্দু কলেজে পড়তে আসতে পারে না। এই অদ্ভুত ব্যবস্থা দেখে তাঁর খটকা লাগলো। তাছাড়া তিনি দেখলেন, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটাই অস্বাভাবিক। সংস্কৃত কলেজে শেখানো হয় সংস্কৃত, মাদ্রাসায় আরবী ফারসী আর হিন্দু কলেজে ইংরেজী। বাংলাদেশে বাঙালী ছাত্ররা কেউ বাংলা ভাষার মাধ্যমে লেখাপড়া শেখে না। বীট্‌ন ভাবলেন, ইংলণ্ডের ইংরাজ যুবকরা শুধু গ্ৰীক ল্যাটিনের মাধ্যমে পড়াশুনা করছে, ইংরেজী শিখছে না, এ কি কল্পনা করা যায়?

    কিছু কিছু দেশীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি দেখলেন, তারা হিন্দু কলেজের ব্যাপারে খুব গর্বিত। ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ শহর এই কলকাতায় এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে নেটিভ বালকরা গড় গড় করে ইংরেজী বলতে শেখে, শেকসপীিয়ারের কাব্য মুখস্থ রাখে এবং গৃহদেবতার উপাসনার সময়ও হোমারের কাব্য থেকে পাঠ করে। এরা বাংলা ভাষা একেবারেই শেখে না এবং ইংরেজী কৃতিত্বের জন্য গর্ববোধ করে।

    বীট্‌নের মনে হলো, হিন্দু কলেজ যেন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, এ তো একটি ভৃত্য বানাবার কারখানা। সাম্রাজ্য বাড়ছে, সরকারী কাজকর্মও বাড়ছে, অল্প বেতনে ইংরেজ কর্মচারী পাওয়া দুষ্কর, তাই হিন্দু কলেজের পাশ করা ছাত্রদের মধ্য থেকেই এখন সরকারের নিম্ন বিভাগীয় কর্মচারী পাওয়া যাচ্ছে যথেষ্ট। কতকগুলি ভৃত্য উৎপাদনের জন্য শেকসপীিয়ার, হোমার পঠন-পাঠনের প্রয়োজন কী?

    এই সব ব্যাপার দেখে বীটন ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি শিক্ষা সমাজের সভাপতি, তাঁর কাজ শিক্ষা বিস্তার, ভৃত্য উৎপাদন তো নয়। শিক্ষা মানে তো আত্ম উপলব্ধি। যে ছাত্ররা মাতৃভাষা, নিজের সংস্কৃতি ও দেশীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে কিছুই জানলো না, তাদের আবার শিক্ষা হলো কী? বীট্‌ন জানেন, ইংলণ্ডে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল কথাই হলো ছাত্রদের মধ্যে নিজের জাতি ও নিজের সংস্কৃতি সম্পর্কে একটা অন্ধ ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা। আর ভারতবর্ষের ব্যবস্থা ঠিক বিপরীত, এখানকার ছাত্ররা শিখছে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ঘৃণা করতে এবং অন্ধভাবে অনুকরণ করছে বিদেশী সংস্কৃতি ও ভাষার। এরকম ব্যবস্থায় এদের মধ্যে থেকে দৈবাৎ দু-একজন চিন্তাশীল মানুষ বেরিয়ে আসতে পারে, কিন্তু বেশির ভাগই তো দাস মনোভাবসম্পন্নই থেকে যাবে।

    অন্যান্য রাজকর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে বীট্‌ন বুঝতে পারলেন, এই রকম শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্ৰভুভক্ত দাস সৃষ্টি করাই ব্রিটিশ নীতি। তারা এদেশ শাসন করতে এসেছে, এ দেশের মানুষের আত্মিক উন্নতি ঘটানোর দায়িত্ব তাদের নয়। হিন্দু কলেজে। শুধু হিন্দু ছাত্র ভর্তি করাই অভিপ্ৰেত, মুসলমানদের এখন ইংরেজী শিক্ষা দেওয়া উচিত হবে না। মুসলমানরা ঘুমন্ত সিংহ, ওদের এখন না জাগানোই ভালো।

    ইংলণ্ডে থেকে বীট্‌ন এসব কিছুই বুঝতে পারেননি। ইংলণ্ডের জনসাধারণের ধারণা, অধঃপতিত ভারতীয়দের উদ্ধার কার্যেই ব্রিটিশ জাতি সেখানে নিযুক্ত। ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী ভারতে এসেছিল বাণিজ্য করতে, তবু ভারতবর্ষ শাসন করার গুরু দায়িত্বও তাদের নিতে হয়েছে বাধ্য হয়ে, কারণ ভারতীয়রা রাজ্য শাসনের রীতিনীতি সব ভুলে গেছে, তারা শুধু পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব কলহ করে। কলকাতায় এসে বীট্‌ন বুঝলেন স্বদেশে এবং উপনিবেশে ব্রিটিশ নীতি দুরকম। ইংলণ্ডের পণ্য ভারতে আসে বিনা শুল্কে, আর ভারতীয় পণ্য ইংলণ্ডে গেলে তার ওপর চড়া হারে শুল্ক বসে। যাতে আস্তে আস্তে ভারতীয় পণ্যের বাজার ইংলেণ্ডে একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী ভারতের শাসনভার তো নিয়েছে এই উদ্দেশ্যেই। ভারতীয়রা আস্তে আস্তে শিল্প উৎপাদন একেবারেই ভুলে যাবে, জীবন ধারণের জন্য যা কিছু দ্রব্যের জন্য তারা হয়ে উঠবে পুরোপুরি ইংলণ্ডের শিল্প উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল।

    বীট্‌ন অবাক হয়ে ভাবলেন, দেশীয় ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা নিজেদের শিক্ষিত ভেবে আত্মাভিমান দেখান, তাঁরাও এই তিক্ত সত্যগুলি বুঝতে পারছেন না কেন? নিজেই এ প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলেন। এরা বুঝতে পারছেন না, তার কারণ এরাও যথার্থ শিক্ষিত নন, এদের কোনো আত্ম-উপলব্ধি হয়নি।

    বীট্‌ন বুঝলেন, তাঁর একার পক্ষে এই সব কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবু তিনি নিরুদ্যমী হয়ে বসে থাকবার মতন মানুষ নন। কয়েকটি মহান আদর্শকে অবলম্বন করেই যাঁরা জীবন কাটান, তাঁরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতা সম্পর্কে সম্যক অবহিত থাকেন না। আমরা যাকে বলি বাস্তবজ্ঞান, সেই জিনিস তাঁদের যথেষ্ট কম থাকে। বীট্‌ন তাঁর কার্যকলাপ শুরু করেই একসঙ্গে এ দেশীয় ব্যক্তিদের এবং তাঁর স্বদেশবাসী ইংরাজদের ক্রুদ্ধ করে দিলেন।

    কৈলাশচন্দ্ৰ বসু নামে হিন্দু কলেজের একজন শিক্ষক খৃষ্ট ধর্ম গ্ৰহণ করলেন। অমনি কলেজের অভিভাবক সভার হিন্দু সদস্যরা রুষ্ট হয়ে বললেন, কৈলাশচন্দ্ৰকে চাকরি থেকে অপসারিত করতে হবে। বীট্‌ন বিস্মিত হলেন। ধর্মান্তরিত হওয়াই কি একজন শিক্ষকের অযোগ্যতার পরিচায়ক? কলেজে তো অনেক ইওরোপীয় শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা ধর্মে খৃষ্টান, তাহলে একজন বাঙালী যদি খৃষ্টান হয়, তবে সে কেন শিক্ষকতা করতে পারবে না? হিন্দু সদস্যরা উত্তরে বললেন, এতে ছাত্রদের সামনে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। বীট্‌ন নতুন এসেছেন, সব কিছু ভালো করে বুঝে উঠবার আগেই কৈলাশচন্দ্র বসু, অপসারিত হয়ে গেলেন।

    কিছুদিন বাদে গুরুচরণ সিংহ নামে একটি ছাত্র খৃষ্টান হলো। দেশে খৃষ্টান হবার ধুম পড়ে গেছে, ইংরেজী শিক্ষায় আলোকপ্ৰাপ্ত যুবকদের ধারণা, খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করলেই তারা রাজার জাতে উন্নীত হবে।

    হিন্দু কলেজের নিয়ম অনুযায়ী গুরুচরণ সিংহ আর ছাত্র থাকতে পারবে না। সেখানে। হিন্দু ছাড়া কারুর পাঠের অধিকার নেই সেখানে। কয়েক বছর আগে রাজনারায়ণ দত্তের পুত্ৰ মধুসূদনও খৃষ্টান হবার পর এই কলেজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু এবার বীট্‌ন দৃঢ় কণ্ঠে প্রতিবাদ জানালেন।

    হিন্দু কলেজ পুরোপুরি সরকারের এক্তিয়ারে নয়। কয়েক বছর ধরে ইংরেজ সরকার এই কলেজকে কিছু আর্থিক সাহায্য করছেন। কিন্তু কলেজটি স্থাপিত হয়েছিল বেসরকারী উদ্যোগে এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দানে। সেই সব ব্যক্তিরা কিংবা তাঁদের পারিবারিক প্রতিনিধিরা এখনো রয়েছেন। কলেজ পরিচালনা সংস্থার সদস্য। তাঁদের নেতৃত্ব দেন রাজা রাধাকান্ত দেব, রক্ষণশীলতার প্রধান ও সুদৃঢ়তম দুর্গটি তিনিই রক্ষা করে চলেছেন।

    হিন্দু সদস্যরা ভাবলেন, পাদ্রীদের মতন বীট্‌নও বুঝি এদেশে খৃষ্ট ধর্মের বন্যা বইয়ে দিতে চান। সুতরাং রাধাকান্ত দেব প্রমুখ দৃঢ় প্রতিরোধে নামলেন। যদিও বীট্‌ন ধর্ম বিষয়ে খুব উৎসাহী নন, অখুষ্টান মাত্রই নরকে পতিত হবে, এমন বিশ্বাস তাঁর নেই, ধর্ম গ্রহণ বা বর্জনকে তিনি মানুষের ব্যক্তিগত রুচি হিসেবেই গ্রহণ করেন। শুধু হিন্দুরাই ছাত্র হবার অধিকারী, হিন্দু কলেজের এই মূল নিয়মটিকেই তিনি বর্জন করতে চান। তিনি প্রতিপক্ষের সামনে দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন। হুগলীর কলেজ কিংবা প্রিন্স গোলাম মহম্মদ প্রতিষ্ঠিত রসাপাগলা গ্রামের ইংরেজী স্কুলে তো খৃষ্টান, মুসলমান ও হিন্দু ছাত্ররা একসঙ্গে পাঠ নেয়। সে সব স্থলে তো কোনো বৈষম্য নেই। মুসলমান-খুষ্টানরা হিন্দুদের সঙ্গে একযোগে শিক্ষাভ্যাস করতে অনাগ্ৰহী নয়, শুধু হিন্দুরাই কেন দূরে সরে থাকবে?

    এ তর্ক মাঝপথে রইলো। গুরুচরণ সিংহ নামের ছাত্রটি নিজে থেকেই কলেজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় তখুনি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলো না। কিন্তু রাধাকান্ত দেবের দল বীট্‌নের ওপর চটে রইলেন।

    বীট্‌ন এরপর চটিয়ে দিলেন ছাত্রদের। ইংরেজী সাহিত্য ও ইতিহাসের অতি জনপ্রিয় অধ্যাপক ক্যাপ্টেন রিচার্ডসন অন্যান্য কয়েক জায়গা ঘুরে সম্প্রতি হিন্দু কলেজেরই অধ্যক্ষ হয়েছেন। ক্যাপ্টেন সাহেব শিক্ষক হিসেবে অতি সুযোগ্য তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর নারীঘটিত দুর্বলতার কথা নিয়ে কানাকানি চলছিল সর্বত্র। তাছাড়া যথাসময়ে কলেজে আসাও তাঁর ঠিক ধাতে পোষায় না। এক একদিন কলেজ শুরু হবার অনেক পরে তিনি ঈষৎ স্বলিতপদে কলেজে আসেন, তখনও তাঁর চক্ষুদ্বয় রক্তিমাভ। এই অসংযমী ও সময়জ্ঞানহীন অধ্যক্ষকে বীট্‌ন সুনজরে দেখলেন না। ছাত্রদের কাছে এরকম অধ্যক্ষ আদর্শস্থানীয় হওয়া উচিত নয়। তিনি রিচার্ডসনের কাছে কৈফিয়ত চাইলেন,অহংকারী রিচার্ডসন তৎক্ষণাৎ দিয়ে দিলেনপদত্যাগপত্র এবং বীট্‌ন তা গ্ৰহণ করতে দ্বিধা করলেন না একটুও। এর ফলে ছাত্র মহলে শোরগোল পড়ে গেল, অভিভাবকরাও সভা ডেকে বীট্‌নের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলেন। ছাত্ররা ঠিক করলো বিশাল আকারে সম্বর্ধনা দেবে তাঁদের প্রিয় অধ্যাপককে, বীট্‌ন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে জানালেন যে কোনো বিদায়ী সরকারী কর্মচারীকেও সম্বর্ধনা জানানো আইনবিরুদ্ধ। ছাত্ররা একযোগে সংবাদপত্রে লিখলো বীট্‌নের এই ধরনের কঠোর হস্তক্ষেপ বিষয়ে। সারা দেশে বীট্‌নের নিন্দা রটে গেল।

    বীট্‌নের এর পরের উদ্যোগটিতে হাঙ্গামা হলো অনেক বেশী। শিক্ষা বিষয়ের মতন, বীট্‌ন দেখলেন, এ দেশে আইন ব্যবস্থার মধ্যেও অনেক বৈষম্য রয়েছে। ইওরোপীয়রা কতকগুলি বিশেষ সুযোগসুবিধা পায় ও তার অপব্যবহার করে। মফস্বলে ইওরোপীয়রা ভারতীয়দের উপর যত অত্যাচারই করুক তার কোনো প্ৰতিবিধান নেই। মফস্বলের কোনো আদালতে ইওরোপীয়দের কোনো ফৌজদারী মামলার বিচার হয় না। বহু ইংরেজ ও অন্যান্য ইওরোপীয়রা ছড়িয়ে আছে গ্রামে-গঞ্জে, কয়েক রকমের ব্যবসা তারা একচেটিয়া করে নিচ্ছে, রেশম, চিনি এবং নীল উৎপাদনের জন্য তারা কুঠী স্থাপন করে সেখানে নিজস্ব রাজত্ব চালায়। সেখানে কোনো আইনের শাসন নেই, শ্বেতাঙ্গরা স্থানীয় লোকদের মারধোর করে, বাড়িতে আগুন লাগায় ও যুবতী স্ত্রীদের সবলে ধরে নিয়ে যায়। সরকারের দেশী কর্মচারীরা এদের কোনো কাজে বাধা দিতে গেলেও এদের কাছে অপমানিত হয়, অনেক সময় প্রহৃতও হয়।

    আইন সচিব হিসেবে বীট্‌ন এসব সহ্য করতে রাজি নন। তিনি যে আইন শিক্ষা করেছেন, তার মূল কথাই হলো, আইনের চক্ষে সবাই সমান। আমেরিকায় স্বাধীনতার যুদ্ধ ও ফরাসী বিপ্লবের পর সকল মানুষের সমান অধিকারের কথা ইওরোপের বিদগ্ধ মানুষের কাছে স্বীকৃত হয়েছে। বীট্‌ন সেরকমই একজন মানুষ, শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের জন্য দু রকম আইনের ব্যবস্থা তিনি মেনে নিতে প্ৰস্তুত নন। তিনি ইওরোপীয়দের বিশেষ অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধাগুলি বাতিল করে দিয়ে নতুন আইনের খসড়া প্ৰণয়ন করলেন।

    অমনি গর্জে উঠলো বেসরকারী ইংরেজ সমাজ। এইসব ইংরেজদের হাতে বেশ কয়েকটি পত্র-পত্রিকাও রয়েছে। সেই সব কাগজে উঠলো প্রতিবাদের ঝড়। তারা বীট্‌নের এই নতুন আইনের নাম দিল ব্ল্যাক অ্যাকট বা কালা কানুন। প্রায় এক যুগ আগে মেকলে সাহেবও এই রকম আইন প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন এবং সর্বাংশে সার্থক হতে পারেননি। বীট্‌ন একেবারে বদ্ধপরিকর। সংবাদপত্রে তাঁকে নিয়ে যতই গালাগালি কুৎসা চলুক, তিনি পশ্চাৎপদ হবেন না। তবে তিনি লক্ষ্য করলেন নেটিভদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর পক্ষ সমর্থন করতে এগিয়ে আসছেন। রামগোপাল ঘোষ নামে এক ব্যক্তি ইংরেজীতে একটি পুস্তিকা প্ৰকাশ করেছেন তাঁর স্বপক্ষে।

    তবু শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন বীট্‌ন। লর্ড ডালহৌসি দেশীয় রাজন্যবর্গের বিষয় সম্পত্তি কেড়ে নেবার পরিকল্পনাতেই তখন ব্যস্ত, তিনি তুচ্ছ আদর্শগত কারণে ইংরেজ সম্প্রদায়কে চটাতে চান না। মোটেই। সরকার বীট্‌নের নতুন আইনের খসড়া বাতিল করে দিল। উল্লাসের কলরোল পড়ে গেল ইংরেজ সমাজে, বীট্‌ন সেদিন একা বসে রইলেন নিজের কক্ষে। হিন্দু কলেজেও তিনি সব সম্প্রদায়ের ছাত্রদের প্রবেশ অধিকার দিতে পারেননি, আইনের বিচারের ক্ষেত্রেও তিনি শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের সমান সুযোগ দিতে পারলেন না চেষ্টা করেও।

    এরই মধ্যে একদিন সকালে তাঁর খানসামা এসে খবর দিল যে একজন দেশী বাবু তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। বীট্‌ন বাবুটিকে ভিতরে নিয়ে আসার অনুমতি দিলেন।

    কোট প্যাণ্টে সুসজ্জিত একজন সুপুরুষ বাঙালী এসে ঢুকলেন ঘরে, তাঁর হাতে একখানি বই। ইনি হিন্দু কলেজের ভূতপূর্ব ছাত্র গৌরদাস বসাক।

    বিশুদ্ধ ইংরেজীতে গৌরদাস বললেন, মিঃ বেথুন, আমি যে আপনার অমূল্য সময় ব্যয় করাইতে আসিলাম, সেজন্য মার্জনা করিবেন কী?

    বীট্‌ন একটু হাসলেন। তাঁর নামের বানান দেখে নেটিভরা প্ৰায় সকলেই তাঁকে বেথুন বলে সম্বোধন করে। তিনি প্ৰথম প্ৰথম সংশোধন করে দিতেন, এখন আর করেন না। বানানটি অন্য রকম, সকলকে বোঝানো সম্ভব নয়।

    তিনি একটি কেদারা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, ভদ্ৰ মহোদয়, আসন গ্ৰহণ করুন, তাহার পর আপনার বক্তবা শুনিব।

    গৌরদাস বললেন, মহাশয়, আমার বক্তব্য অতি সামান্য। আমার এক বন্ধু একটি কবিতা পুস্তক প্রণয়ন করিয়াছেন। আপনি স্বয়ং বিদ্বান ও সাহিত্য অনুরাগী, সেই বিবিচেনায় আপনাকে সেই পুস্তকের এক কপি উপহার দিতে আসিয়াছি, যদি অনুগ্রহ করিয়া তাহা গ্ৰহণ করেন।

    বীট্‌ন জিজ্ঞেস করলেন, কবিতা পুস্তকটি আপনার রচনা নহে?

    গৌরদাস বললেন, না মহাশয়, ইহা আমার এক আবাল্য সুহৃদের। তিনি মাদ্রাজে থাকেন। তিনি এক্ষণে কলিকাতায় উপস্থিত থাকিলে অবশ্যই স্বয়ং আসিয়া আপনার সমীপে কেতাবটি পেশ করিতেন। তাঁহার অনুরোধের আমি…

    —বাঙলা কবিতা পুস্তক? দুঃখের বিষয়, আমি বাঙলা পড়িতে জানি না।

    —না মহাশয়, ইহা ইংরেজীতে রচিত। ইহাতে অতিশয় উচ্চাঙ্গের সব কবিতা গ্রস্থিত হইয়াছে। বীট্‌ন হাত বাড়িয়ে বইখানি নিলেন। বইখানি সুন্দর করে বাঁধানো, ভিতরে তাঁর নামের নীচে কবির স্বাক্ষর। কবির নাম মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বইটির নাম ক্যাপটিভ লেভী।

    বীট্‌ন পৃষ্ঠা উল্টে উল্টে দেখতে লাগলেন রচনার নিদর্শন।

    গৌরদাস বিনীতভাবে বললেন, আমার এই সুহৃদটি অতি অল্প বয়স হইতেই ইংরাজীতে কাব্য রচনা করিয়া বহুজনকে চমৎকৃত করিয়াছে। ক্রমে সে মিলটন বায়রনের সমগোত্রীয় হইয়া উঠিবে, এই আমাদের বিশ্বাস।

    বীট্‌ন একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বইটি মুড়লেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, আপনার বান্ধবটি বাঙালাভাষী হইয়াও বাঙালাতে কাব্য রচনা না করিয়া ইংরাজীতে কাব্য রচিলেন কেন? কোনো কবি মাতৃভাষা ছাড়িয়া অপর ভাষা অবলম্বনে কাব্য রচনা করে, এমন তো কখনো শুনি নাই।

    গৌরদাস বললেন, মহাশয়, এই কবি মাইকেল এম এস ডট ইংরেজদের মতনই ইংরাজী ভাষায় দক্ষ। বহু ইংরাজই একথা স্বীকার পাইয়াছেন।

    —আমিও না হয় তাহা স্বীকার করিলাম। অনেক ইংরাজও অত্যুত্তম ফরাসীভাষা জানে, কিন্তু তাহারা ফরাসী ভাষাতে কবিতা রচনা করে না। বাঙালাবাসীদের পক্ষে বাঙালাতে কিছু রচনা করার বাধা কোথায়?

    —মহাশয়, বাঙালা ভাষা সাহিত্য রচনার উপযোগী নয়। ইহা অতি কদৰ্য ও ইতর লোকের ব্যবহার্য। এই ভাষার দ্বারা কোনো মহৎ ভাব প্রকাশ সম্ভব না। আমার সুহৃদটিকে আমি নিজেও কয়েকবার বাঙলায় কিছু রচিবার জন্য অনুরোধ করিয়াছি, কিন্তু সে বাঙলা সম্পর্কে এই রূপ মত প্ৰকাশ করে।

    বীট্‌ন ভ্রূকুঞ্চিত করলেন। তিনি আগেও লক্ষ করেছেন, বাঙালীরাই বেশী বাঙলা ভাষার নিন্দা করে। বাঙলা ভাষা যদি উচ্চাঙ্গের নাও হয়, তবু সেজন্য বাঙালীদের কোনো দুঃখবোধ নেই। এটা একটা আশ্চর্যের ব্যাপার নয়?

    তাঁর মনে পড়লো কিছুদিন আগে তিনি কৃষ্ণনগর কলেজে পুরস্কার বিতরণী সভায় সভাপতিত্ব করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি দেখেছিলেন কৃতী ছাত্ররা তাঁর মনোরঞ্জনের জন্য নানান ইংরেজী কবিতা পাঠ করে শোনালো। বীট্‌ন তখন মঞ্চে উপবিষ্ট কয়েকজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেছিলেন, ভদ্রমহোদয়গণ, ইহারা কি কেহ কোনো বাঙলা কবিতা জানে না? ইংলেণ্ডের কোনো সভায় একটিও ইংরাজী পদ্য পাঠ করা হইল না, ইহা অকল্পনীয়। আপনাদের বাঙালা দেশের সভায় ইহা কী করিয়া সম্ভব হয়?

    সেই ভদ্রমণ্ডলীও তখন একবাক্যে বলেছিলেন, মহাশয়, ইহারা বাঙলা শিখিবে কি? বাঙালাতে শিখিবার কোনো বস্তু নাই। বাঙালাতে যা রচিত হয়, তা সবই কুরুচিপূৰ্ণ।

    বীট্‌ন একটু রেগে গিয়ে বলেছিলেন, পাঁচশত বৎসর আগে আমাদের ইংলণ্ডেও ইংরাজী ভাষা খুবই অমার্জিত ও বর্বর ছিল। তাহা বলিয়া কি আমরা পর ভাষা গ্ৰহণ করিয়াছি? আপনাদের মতন ব্যক্তিরা উদ্যোগ করিলে তবেই না বাঙালা ভাষার উন্নতি বিধান ঘটিবে। বাঙালাতে যদি মহৎ ভাবের গ্রন্থ নাই, তবে বিভিন্ন ইওরোপীয় ভাষা হইতে উত্তম উত্তম রচনাদি বাঙালায় অনুবাদিত করাইতেছেন না কেন? বাঙালা ভাষায় সেই সব অনুবাদ পড়িয়া ছাত্রদের রুচি উন্নত হইবে, তৎপরে তাহারা উচ্চমানের রচনা বাঙালাতে লিখিতে শিখিবে।

    গৌরদাসের মুখের ওপর সরাসরি দৃষ্টি স্থাপন করে বীট্‌ন বললেন, মহাশয়, আমি যতটুকু বুঝি তাহাতে বলিতে পারি যে একজন উচ্চাভিলাষী প্রতিভাবান তরুণের পক্ষে এমন সুবৰ্ণ সুযোগ তো আর হয় না! বাঙালা ভাষা যদি এখনও অপরিণতই থাকে, তবে কাহার না লোভ হইবে সেই ভাষাকে পরিমার্জনা করিয়া দেশের মানুষের কাছে প্রথম মহৎ কোনো রচনা উপহার দেওয়ার? যে ভাষায় বহু সংখ্যক লেখক অনেক উত্তম গ্ৰন্থ রচনা করিয়াছেন, সে ভাষায় খ্যাতি অর্জন করা সুকঠিন। কিন্তু যে ভূমি আজও আকৰ্ষিত, সেখানে তো অতি সহজেই সোনার ফসল ফলানো যাইতে পারে।

    গৌরদাস বসাকের এসব কথাগুলি তেমন পছন্দ হলো না। তিনি ভেবেছিলেন, মিঃ বেথুনের মতন একজন মাননীয় ইংরাজের কাছ থেকে একটি প্রশংসাপত্ৰ আদায় করে মধুর কাছে পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু এ সাহেব যে উল্টো রকমের কথা বলে!

    গৌরদাস উঠে দাঁড়িয়ে বিনীতভাবে বললেন, মিঃ বেথুন, আপনার উপদেশ আমি নিশ্চিত আমার বন্ধুকে জানাইব।

    গৌরদাস চলে যাবার পর বীট্‌ন আবার দেখতে লাগলেন। বইখানি। কিছু অংশ পাঠ করলেন মনঃসংযোগ করে। তিনি হতাশ হলেন। কতখানি ইংরেজী ভাষার চাচা করেছে। এই কবি, তার প্রাণপণ প্ৰমাণ দেবার চেষ্টা আছে। এই বইখানির মধ্যে। কিন্তু এতে কাব্যের নামগন্ধও নেই। এই ব্যক্তির পক্ষে ইংরাজী ভাষার কবিদের মধ্যে স্থান গ্ৰহণ করা যেন প্ৰায় এক মুণ্ডহীন ধড়ের দিবাস্বপ্ন। এ দেশের ধারণা অনুযায়ী এ ব্যক্তি শিক্ষিত, কিন্তু বীট্‌নের মতে, যতই ইংরেজী শিক্ষা করুক, তবু এই রকম ব্যক্তি শিক্ষাহীন, কারণ এদের আত্ম-উপলব্ধি হয়নি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্রিস-ক্রস – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    Next Article একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Our Picks

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }