Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প736 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৯. চন্দ্রনাথ

    রাইমোহন ও তার দলবল চন্দ্রনাথকে উদ্ধার করলো নিমতলার শ্মশানঘাট থেকে। তিনদিন ধরে ওরা সারা কলকাতা শহর চষে ফেলেছিল। হীরা বুলবুলের প্রায় অধোম্মাদিনীর দশা। হিন্দু কলেজ থেকে চন্দ্রনাথ বিতাড়নের সংবাদ ছাপা হয়েছিল সংবাদপত্রে, এমনকি বাগবাজারের বোসেন্দের বাড়িতে চন্দ্রনাথই যে বাবুদের এক শ্যালককে পাথরের চাঙ্গাড় ছুঁড়ে মেরে মাথা ফাটিয়েছে, সে খবরও গোপন থাকেনি।

    রাইমোহন বুঝেছিল, বাবুদের পাইক বরকন্দাজরা চন্দ্রনাথকে একবার ধরতে পারলে হাতে নাতে মেরেই ফেলবে। কোতোয়ালির সাহায্য নিয়েও তারা ওকে ধরবার চেষ্টা করবে। তার আগেই চন্দ্রনাথকে কোথাও সরিয়ে ফেলা দরকার।

    চন্দ্রনাথকে প্ৰথমে চিনতেই পারেনি রাইমোহন। শ্মশানে ডোমেদের পাশে সেও ডোম সেজে ছিল। পরনে শুধু মালকোচা মারা ধুতি, সারা গায়ে কালি-বুলি মাখা, মুখখানাতেও ছাই মেখেছে, চুলগুলো আঠার মতন। নিজের চেহারার চেয়েও বড় একটা বাঁশ নিয়ে সে চুল্লি খোঁচায়, আর শ্মশানযাত্রীরা যে ভিজে আতপ চাল ও কলা বারাসা ফেলে যায়, সেইগুলি খেয়ে সে ক্ষুণ্ণিবৃত্তি করে।

    রাইমোহন চেনার আগেই চন্দ্ৰনাথ তাদের চিনতে পেরে হাতের বাঁশটি ফেলে মেরেছিল এক দৌড়। তখন হারাণচন্দ্ৰ চেঁচিয়ে উঠেছিল, ঐ তো চাঁদু।

    রাইমোহনের বয়েস হয়েছে, এক তাজা বয়েসী কিশোরের সঙ্গে সে দৌড়ে পারবে কী করে। তার সঙ্গীরাও মাতাল দাঁতাল মানুষ, দৌড় ঝাঁপে বিশেষ দড় নয়। তবু সবাই মিলে ধর ধর, ছোঁড়াটাকে ধর, বলে ছুটেছিল। কলকাতার মানুষ বড় হুজুগে, একটা কোনো উপলক্ষ পেলেই হলো। শ্মশান-মশানে অনেক পরগাছা ধরনের মানুষ থাকে, মড়াদের ওপর নির্ভর করেই তারা জীবন কাটায়। তারা অধিকাংশ সময়ই শুয়ে থাকে অথবা ইটের টুকরো দিয়ে বাঘবন্দী খেলে, হরিধ্বনি দিয়ে কোনো মড়া দাহের দল এলে তারা গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। এখন একটি জ্যান্ত ছেলেকে তাড়া করার দৃশ্য দেখে তারাও মজা পেল এবং অনুসরণকারীদের দলে যোগ দিল। নিশ্চয়ই কোনো চোর ধরার ব্যাপার, আর চোর ধরতে সকলেরই, এমনকি অন্য চোরেদেরও বিশেষ উৎসাহ থাকে।

    এক সঙ্গে অনেকের তাড়া খেয়ে চন্দ্রনাথ প্রথমে কিছুক্ষণ ভীত ইঁদুরের মতন এদিক ওদিক করলো, তারপর দিশাহারা হয়ে সে বাঁপিয়ে পড়লো গঙ্গায়।

    সে সাঁতার জানে না, কিন্তু ড়ুবে যাবার সুযোগ ঘটার আগেই শ্মশানের পরগাছারা কয়েকজন একসঙ্গে নেমে জল দাপিয়ে তুলে আনলো তাকে। এরা গঙ্গার জলের তলা থেকে শ্মশানবন্ধুদের ছুঁড়ে দেওয়া তামার পয়সা পর্যন্ত তুলে আনে, আর একজন মানুষকে তোলা তো এদের কাছে বাঁ হাতের কড়ে আঙুলের যোগ্য কাজ।

    ভিড় ঠেলে কাছে এগিয়ে এলো রাইমোহন, সে দারুণ ভাবে হাঁপাচ্ছে। চন্দ্রনাথকে বুকে জড়িয়ে ধরে সে আকুলভাবে বললো, চাঁদু চাঁদু, বাপ আমার, একি কল্লি তুই! তোর মা যে কেঁদে অন্ধ হয়ে যাচে রে!

    নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার জন্য ছটফট করছে চন্দ্রনাথ। তার চোখ বৌজা, মুখখানা কুঁকড়ে আছে।

    রাইমোহন বললো, ডোম চাঁড়ালদের সঙ্গে ছিলি তুই, ওরে তোর কি একটু ঘেন্নাও নেই! সোনার বন্ন একেবারে কালি হয়ে গেচে! বাপ আমার চল, ঘরে চল।

    এক ঝটিকা মেরে রুক্ষ কণ্ঠে চন্দ্রনাথ বললো, ছাড়ো আমাকে। আমি যাবো না, বাড়ি যাবো না! আমি তোমাদের চিনি না!

    তখন তিন চারজনে মিলে জোর করে চ্যাংদোলা করে তুলে ওকে চাপানো হলো একটি কেরাঞ্চি গাড়িতে। গাড়োয়ানকে রাইমোহন বললো, একটু শিগগির শিগগির চল বাবা! বখশিস পাবি! গাড়ির মধ্যে তারা চন্দ্রনাথকে চেপে ধরে রইলো। রাইমোহন পেছন ফিরে আড়াল করে রাখলো গাড়ির দরজাটি, যাতে পথের লোক কেউ দেখতে না পায়।

     

    একখানা সাদা থান পরে দোতলার ঘরের মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে ছিল হীরা বুলবুল। এই তিনদিন সে এক কণা অন্ন মুখে তোলেনি। কেঁদে কেঁদে তার সুন্দর ডিমছাঁদের মুখটি এখন ফুলে যেন বার্তাপি লেবুর মতন হয়ে গেছে।

    রাইমোহন ঘরে ঢুকে বললো, ও হীরে, ওঠ, চোখ মেলে দ্যাক কাকে এনিচি!

    হীরা বুলবুল মুখ ফিরিয়েই চন্দ্রনাথকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে উঠে। পক্ষিমতার মতন ঝাঁপিয়ে পড়লো চন্দ্ৰনাথের ওপর।

    কিন্তু চন্দ্রনাথের কাছে মাতৃস্নেহের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। সে মায়ের আলিঙ্গনে ধরা দিল না, তার আগেই এমন এক ধাক্কা দিল যে হীরা বুলবুল ঘুরে গিয়ে পড়লো দেয়ালে, ঠিক করে তার মাথা ঠুকে গেল।

    তারপর চন্দ্রনাথ তীব্র গলায় বললো, তুই আমার মা না রাক্ষসী? আমায় কেন গর্ভে ধারণ করিছিলি? আর যদি ধারণ করেইছিলি, আতুর ঘরে আমার গলা টিপে মেরে ফেলিসনি কেন?

    মাত্র এই তিনদিনেই চন্দ্রনাথের শুধু যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে তাই-ই নয়, তার কণ্ঠস্বর পর্যন্ত বদলে গেছে। সে এখন বয়স্কদের ভঙ্গিতে বয়স্কদের ভাষায় কথা বলে।

    হীরেমণি ভেউ ভেউ করে কান্না জুড়ে দিল।

    রাইমোহন তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললো, কাঁদিসনি। হীরে, এই কি কাঁদবার সময়! ছেলে ফিরে পেয়েচিস, ভগবানকে পোন্নাম জানা। মায়ে-ছেলেতে এমন আথান্তর হয়ই, ছেলের কতা গায়ে মাকতে নেই।

    তারপর সে চন্দ্রনাথের দিকে ফিরে বললো, চাঁদু সোনা, বাপ আমার, অমন কটু কতা বলিসনি! তোর অপমানে কি আমাদেরও কম অপমান হয়েচে? তোর মা একেবারে মরম মরে আচে। কাটা ঘায়ে এখুন। আর নুনেস ছিটে দিসনি!

    চন্দ্রনাথ বললো, তুমি আমায় বাপ বলবে না! তুমি কে? তুমি আমার কিসের বাপ? কদিনের বাপ? তুমি আমায় কেন জোর করে ধরে এনোচো?

    রাইমোহন বললো, সব কতার উত্তর দেবো। এখুন একটু ঠাণ্ডা হ! হাত মুক ধুয়ে কিচু পেটে দে।

    চন্দ্ৰনাথ বললো, না!

    হীরা বুলবুল বললো, ওরে চাঁদু রে, আমায় তোর যত ইচ্ছে বকিস। আমি আর পাপ কবো না কক্ষণো। আমি প্ৰচিত্তির কাবোঁ। তোকে নিয়ে আমি তীখে যাবো! পুরীর জগন্নাথের সোনার মুকুট গড়িয়ে দেবো। ব্রেন্দাবনে কৃষ্ণের হাতে সোনার বাঁশী তুলে দোবো। তাতেও আমার পাপ ধুয়ে যাবে না?

    চন্দ্রনাথ বললো, তুই মাির। তুই যা খুশী কর। আমি তোদের কেউ না।

    চন্দ্রনাথকে জোরজার করে পাঠিয়ে দেওয়া হলো তার ঘরে। সেখানেও চন্দ্রনাথ ক্রুদ্ধ সজারুর মতন রইলো রৌয়া ফুলিয়ে। ঘরে তার বইপত্র যা ছিল সব ছিঁড়ে একেবারে ধ্বংস করে ফেললো। খাবারের থালা সে ছুঁড়ে মারলো দেয়ালে। তার উগ্র উন্মাদের মতন মূর্তি দেখে কেউ ঘরে ঢুকতে সাহস পেল না।

    সেই ভোর রাতেই চন্দ্ৰনাথ আবার পলায়ন করলো বাড়ি থেকে।

    অনুসন্ধান পার্টি নিয়ে রাইমোহন আবার ঘুরতে লাগলো কলকাতার পথে পথে। সবকটি শ্মশান ঘুরে দেখা হলো, চন্দ্রনাথ এবার ওসব দিকে যায়নি। কালীঘাটের মন্দিরের কাছে। শয়ে শয়ে কাঙালী ঘুরে বেড়ায়। চন্দ্রনাথ সেখানে ওদের মধ্যে মিশে থাকতে পারে ভেবে রাইমোহন সারাদিন ওঁৎ পেতে রইলো, কিন্তু চন্দ্রনাথের সন্ধান মিললো না। বার সিমলেতে অষ্টপ্রহর হরি সংকীর্তন উপলক্ষে ভিখারীদের ফুটকড়াই ও আধলা বিলোনো হচ্ছে কিংবা পাথুরেঘাটার ঠাকুরদের বাড়িতে এক শ্ৰাদ্ধ উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী দরিদ্রনারায়ণ সেবা হচ্ছে, সেসব জায়গাতেও খোঁজ করে দেখলে রাইমোহন। চন্দ্ৰনাথ নেই।

     

    পাঁচ দিনের মাথায় তাকে পাওয়া গেল মেটেবুরুজে। সেখানে পর পর কয়েকটি পুকুর ভরাট করে রাস্তা তৈরি হবে, জনা পঞ্চাশেক মজুর খাটছে, তাদের মধ্যে চন্দ্রনাথ একজন।

    এবার রাইমোহনকে দেখে চন্দ্ৰনাথ পালাবার চেষ্টা করলো না; একখানা লোহার শাবল তুলে সে তাকে মারতে তেড়ে এলো। আঘাতটা ঠিক মতন লাগলে রাইমোহনের মাথাটা চৌচির হয়ে যেত। ঠিক সময় রাইমোহন শরীরটা বাঁকিয়ে নিয়েছিল। শাবলের ঘা লাগলো তার কাঁধে, তাতে ভ্রূক্ষেপ না করে সে দুহাতে চন্দ্রনাথকে জড়িয়ে ধরে বললো, আর তোকে ছাড়চিনি, বাপ আমার! এবার সর্বক্ষণ তোকে বুকে আগলে রাকবো।

    এক ফিরিঙ্গি ঠিকাদার সেখানকার কুলিদের কাজ দেখাশোনা করছিল, সে এই বিচিত্র ঘটনায় আকৃষ্ট হয়ে কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো, এসব কী হইতেছে?

    রাইমোহন বললো, মাই চাইল্ড, স্যার! ভেরি ম্যাড, স্যার। পাগলা কুকুরে বাইট করেছেল স্যার। সেই থেকে মাথা ট্রাবলসাম, স্যার।

    ফিরিঙ্গিটি আর কোনো বাক্য ব্যয় না করে ডান হাতের পাঞ্জাটি দুবার এমনভাবে নাড়ালো, যার অর্থ, নিয়ে যাও। শীঘ্ৰ বিদায় হও।

    আবার জোর করে চন্দ্রনাথকে তোলা হলো গাড়িতে। এবার বাড়িতে এনে তাকে একটি ঘরে বন্ধ করে শিকলি তুলে দেওয়া হলো।

     

    হীরা বুলবুলকে রাইমোহন বললো, আমি বলি কী হীরে, এ পাড়া থেকে এবার বাস তুলে দে। তুই তো বাবু-বসানো ছেড়েই দিতে চাইচিস, তবে আর এ পাড়ায় থেকে লাভ কী। শহর ছেড়ে চল খিদিরপুরের দিকে চলে যাই। কিংবা রসাপাগলায় বন কেটে অনেক বসত বাড়ি হচ্চে, সেখেনে একটা বাড়ি কিনে তোতে আমাতে স্বোয়ামী স্ত্রী সেজে থাকবো। ছেলের মাতা গরম হয়েচে, ওকে নিয়মিত কদিন মকরধ্বজের সঙ্গে মধু-তুলসীপাতা মেড়ে খাওয়ালেই আবার ঠিক হয়ে যাবে।

    হীরা বুলবুল বললো, আমার ওতে কাজ নেই। তুমি ব্যবস্থা দ্যাকো, আমি তিথ্যি যাত্রায় বেরুবো। আমার পাপের প্রচিত্তির করতে হবে।

    রাইমোহন বললো, পাপ আবার কী? তুই কোন পাপ করিচিস? মেয়ে মানুষে কখুনো একলা একলা পাপ করতে পারে না। তোর সঙ্গে যে-সব বড় মানুষরা পাপ করেচে, তারা কী তীর্থযাত্রা করে পাপ ধুতে যাচ্চে? প্ৰতিশোধ নিতে হবে, বুঝলি? যে বড়মানুষগুলোনের জন্য চাঁদুকে হিন্দু কলেজ থেকে তাড়ানো হয়েচে, সেই সব ব্যাটাদের দেকে নোবো। এর শোধ যদি না তুলি তাহলে আমার নাম রাইমোহন ঘোষাল নয়। না পারলে রূপী বাঁদরটার নামে আমার নাম রাকিস।

    হীরা বুলবুল বললো, অত বড় বড় কতায় আমার কাজ নেই। ঐ ছেলে বৈ আমার আর কেউ নেই এ সংসারে।

    রাইমোহন বললো, আর কেউ নেই? আমি তোর কেউ নাই? এতদিন লাথি ব্যাটা খেয়ে তোর পায়ের কাচে রইলুম, এখুন বলচিস, আমি তোর কেউ নই!

    —ওমা, সে কতা কখুন বল্লম! আমি তিথ্যি কত্তে গেলে তুমিও তো আমার সঙ্গে যাবে। তবে আর এখেনে কখুনো ফিরচিনি। সে কতা আমি আগেই বলে দিলুম। ঘেন্না ধরে গ্যাচে এই কালকেতা শহরের ওপর।

    —সে যে পালানো হবে রে। আমরা ভয় পেয়ে পালাবো কেন?

    —তা হলে তুমি থাকে। আমরা মায়ে পোয়ে বেরিয়ে পড়বো।

    —কোতায় যাবি?

    —যেদিকে দুচোক যায়।

    —এই জন্যেই না বলে মেয়েমানুষের বুদ্ধি। বেরিয়ে পড়বো বললেই হলো। বেরুতে গ্যালে অনেক বন্দোবস্ত লাগে।

    —আমার কিচু লাগবে না। ছেলের হাত ধরে আমি চলে যাবো, কে আমার কী কর্বে!

    —অমনি বললেই হলো। ওরে তোর এখুনো গতর আচে, চাঁদপানা মুখ আচে, ঢলো ঢলো যৌবন আচে, তোকে কেউ নির্ঝঞ্ঝাটে যেতে দেবে? পথের বাঁকে বাঁকে বাঘ নেকড়েরা ওঁৎ পেতে রয়েচে, তোকে ছিঁড়ে খাবে।

    —সেইজন্যিই তো বলচি, তুমি চলো। তুমি আমাদের চোকে চোকে রাকবে। তোমায় ছেড়ে কি কোতাও যেতে পারি।

    রাইমোহন নিজের প্রৌঢ় শরীরখানির দিকে তাকিয়ে ছোট দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, আমার কি আর সে তাগাদ আচে রে। কোনোদিন লাঠি বন্দুকও ধরতে শিকিনি!

    তারপর নিজের ললাটে দুটি টোকা দিয়ে বললো, আমার জোর এখেনে। এই বুদ্ধির জোরে কলকেতার বাবুদের সঙ্গে টক্কর দিতে পারি, কিন্তু ঠ্যাঙাড়ে-বোম্বোটেদের কাচে সুবিধে করতে পারবো না। তাই তো বলচি, পালাবি কেন? আমরা এইখেনে থেকেই লড়বো।

    এই সময় বাড়ির সম্মুখস্থ পথে কয়েকটি ভারি পায়ের লোহা বাঁধানো জুতোর শব্দ হল। জানলার খড়খড়ি সামান্য ফাঁক করে উঁকি মেরে রাইমোহন দেখলো, কয়েকজন সেপাই এদিকেই আসছে। রাইমোহনের মুখ শুকিয়ে গেল।

    সেপাইরা অবশ্য এ গৃহে প্রবেশ করলো না, তারা এগিয়ে গেল সামনের দিকে। খড়খড়ি বন্ধ করে হাঁপ ছেড়ে ফিরে এসে রাইমোহন বললো, বাপরে বাপ! পিলে চমকে গিয়েছেল একেবারে! আমি ভাবলুম বুঝি সেপাইরা চাঁদুকেই ধরতে আসচে!

    হীরা বুলবুল বললো, ওমা, চাঁদুকে ধরবে কেন? চাঁদু তো কারুর পাকা ধানে মই দেয়নি!

    —বাগবাজারের বোসীবাবুদের এক শালার মাতা ফাটিয়ে দিয়েচে না চাঁদু? তারা সহজে ছাড়বে ভাবিস। পুলিশ ঠিক এ বাড়ি খুঁজে বার করবে একদিন না একদিন।

    হীরা বুলবুল অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে বললো, ওগো আর এ বাড়িতে থেকে তবে কাজ নেই। তুমি আজই তীর্থযাত্রার ব্যবস্থা করে। ওগো বজরায় গেলে হয় না? যদি কয়েকজন পাইক ভাড়া করা যায়?

    —তারপর রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়? পাইকরাই যদি মাঝপথে মেরেকুটে সব কিছু নিয়ে চম্পট দেয়? ডাঁড়া, একটু চিন্তা করতে দে!

    —তুমি যাই বলো, আমি তীখে যাবোই। —কালীঘাটও তো তীর্থ, সেখেনে গিয়ে থাক তবে। একটা বাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে, দুএকদিনে হবে না।

    —না, কালীঘাটে না, এমন জায়গায় যাবো, যেখোনে কেউ আমাদের চেনে না।

    —আঃ ডাঁড়া না, একটু ভাবতে দে। ও, এক কাজ করলে হয়। আজই এ বাড়ি থেকে সরে পড়া দরকার। এই তো কাচেই কমলা থাকে, ওর সঙ্গে আমার বেশ চেনা আচে। আমি বললে সে কয়েক রাত খুব আহ্লাদের সঙ্গে তোদের থাকতে দেবে। তারপর কাঁটা দিন কাটলে অন্য একটা ব্যবস্থা।

    —কার বাড়ি?

    -জানবাজারের কমলার।

    আহত দলিত ফণিনীর মতন ফোঁস করে উঠলো হীরা বুলবুল। সে এবং কমলাসুন্দরী দুজনেই এই শহরের দুই ডাকসাঁইটে বারাঙ্গনা। হীরা বুলবুলের খ্যাতি যেমন সঙ্গীতে কমলাসুন্দরীর তেমনি নৃত্যে। এরা পরস্পরের প্রতিপক্ষ। তার বাড়িতে আশ্রয়ের প্রস্তাব এনে রাইমোহন হীরা বুলবুলের আঁতে ঘা দিয়েছে।

    হীরা বুলবুল বললো, কী, আমি কমলির বাড়িতে গিয়ে নুকোবো? তার আগে তুই আমায়। থুতু ফেলে ড়ুবে মত্তে বললি না কেন? ড্যাকরা, খালভরা! এই তোর মনে ছেল! হাতি পাঁকে পড়লে ব্যাঙেও নাতি মারে। আজ আমার এমন বিপদ বলেই তুই এমনধারা কতা বলতে পারলি। কমলি যদি তোর এত পেয়ারের নাভী হয় তবে তুই যা না সেখেনে। এখুনি যা। বিদেয় হ। দূর হ। ডরপুক কাঁহিকা। এইজন্যই আমার সঙ্গে তিথ্যি কত্তে যেতে তোর এত ভয়। কমলি মাগীটা পাঁচজনের সামনে উলঙ্গ হয়, ছোট জাতের মেয়ে,তাকেই তোর মনে ধরেচে। নিমকহারাম, এতকাল আমি দুধ কলা দিয়ে সাপ পুষচি…

    হীরা বুলবুল একবার গালাগালির স্রোত বহাতে শুরু করলে তাকে থামায় কার সাধ্যি। রাইমোহন দুহাত তুলে অসহায়ের মতন তাকে নিরস্ত করার চেষ্টা করলো, তারপর হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলো, শেষ পর্যন্ত তার পায়ে পড়লো। তবু হীরা বুলবুল থামে না।

    রাইমোহন সবলে হীরা বুলবুলের মুখ চেপে ধরে বললো, ওরে কমলি তোর অত শতুর বলেই তো তার কথাটা মনে এলো। সেখেনে তুই বা চাঁদু লুকোলে পুলিশ কেন, পুলিশের বাপের সাধ্যি নেই সন্দেহ করে। সবাই জানে, হীরে বুলবুল আর যে-জায়গাতেই লুকোক, মরে গেলেও সে কমলির কাচে আশ্রয় চাইবে নাকে। আমি বলি কি, ডাঁড়া, বলতে দে আগে আমাকে, তোর যাবার দরকার নেই, তুই কেন যাবি, পুলিশ তো তোকে ধরতে আসবে না। চাঁদু বরং দুচারদিন ওখেনে থাক। পুলিশও ওর খোঁজ পাবে না। চাঁদুও ওখেন থেকে সহজে পালাতে পারবে না।

    মুখখানা একটু ছাড়া পেতেই হীরা বুলবুল বললো, সে মাগী আমার ছেলেকে নুকিয়ে রাকবে? তোর মাতায় কি শোয়া পোঁকা ঢুকেচে! সে রাকুসী। আরও সেপাই ডেকে চাঁদুকে ধরিয়ে দেবে।

    রাইমোহন বললো, কক্ষণো না। তুই নিজের কতাই একবার ভেবে দ্যাক। কমলির যদি কোনো ছেলে থাকতো, আর সে যদি তোর কাচে আশ্রয় চাইতো, তুই থাকতে দিতিসনি? বিপদের দিনে নিজের জাতের লোকদের কি কেউ পায়ে ঠেলে দেয়?

    —নিজের জাত? সে মাগীর জাতের কোনো ঠিক আচে? দ্যাগ গিয়ে, সে কোন মুদ্দোফরাসের মেয়ে। রঙের কী চেকনাই, কাঠ কয়লা বলে মারি মরি।

    —আহা-হা, তোর থেকে তো সে নীচু জাতের বটেই। তবু বলচি, সেও তোর মতন পাঁচজন বড় মানুষের সঙ্গে ওঠা বসা করেচে, মনটা একটু খোলামেলা হয়েচে।

     

    অনেক বোঝাবার পর এবং চন্দ্রনাথের আশু বিপদের সম্ভাবনায় শেষ পর্যন্ত রাজি হলো হীরা বুলবুল।

    কিন্তু চন্দ্রনাথকে নিয়ে যাওয়া সহজ কাজ নয়। সে কারুকে কাছেই ঘেঁষতে দেয় না। কেউ তাকে ধরতে গেলেই ক্ষিপ্ত পশুর মতন দুহাত চালায়। শেষ পর্যন্ত তিন চারজনে মিলে চন্দ্রনাথের হাত, পা ও মুখ বেঁধে মধ্যরাত্রে একটি গাড়িতে তোলা হলো।

    নিশুতি রাত, পথে লোক নেই, যাবার পথে গাড়িতে চন্দ্রনাথকে অনবরত বোঝাতে লাগলো রাইমোহন। চন্দ্ৰনাথ যদি বাড়ির সঙ্গে কোনো সংশ্ৰব না রাখতে চায়, বেশ তো, কয়েকদিন পর তার যেখানে খুশী চলে যাবে। আগে হাঙ্গামাটা মিটুক। সবাই এসব কথা ভুলে যাক। এখন বোসীবাবুদের লোকদের হাতে ধরা পড়লে চন্দ্রনাথ যে আরও বিপদে পড়বে। তাছাড়া, হিন্দু কলেজ ছাড়া কি পড়াশুনো করা যায় না? রাইমোহন তার জন্য সাহেব শিক্ষক রেখে দেবে বাড়িতে। কিংবা এমনিতেই চন্দ্রনাথ ঢের লেখাপড়া শিখেছে, এখনি সে কোনো হীসে চাকরি জুটিয়ে বাবু শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে পারে। চন্দ্ৰনাথ যদি রাইমোহনকে পিতা বলে মেনে নেয় তাহলে সে ঘোষাল পদবী নিতে পারে, তারপর এই সমাজে তাকে অবজ্ঞা করে কার সাধ্যি?

    সেই রাত্রেও কমলাসুন্দরীর বাড়িতে একটি মজলিস বসেছিল। সুরার নেশায় কমলার নয়ন দুটি ঢুলু ঢুলু। ঘাঘড় ও কচুলি পরা। বয়েসের ফলে কমলাসুন্দরী এখন অনেকটা পৃথুলা হয়েছে, কোমরে মেদের স্তর, তবু সে এখনো নাচের ঠমকে শহরের অনেক বাবুরই হৃদয় আন্দোলিত করতে পারে।

    রাইমোহন মজলিস ঘর থেকে বাইরে ডেকে কমলাসুন্দরীকে সব বৃত্তান্তটি জানালো। কমলাসুন্দরী প্রথমে ব্যাপারটা বুঝতেই পারে না। নেশায় মগজ আচ্ছন্ন, সে বারবার বলতে লাগলো, কার ছেলে? বাপের নাম কী? শুধু হীরের ছেলে হি-হি-হি-হি! হি-হি-হি-হি! হীরের ছেলে! কী করেচে। সে, ডাকাতি? ফেরেববাজি? তা থাকো না বাবা, থাকো! যতদিন ইচ্ছে থাকো! তুমি যখন বলচো, তাতে আর আপত্যি কি! তা এতদিন কেন আসেনি, নাগর? কতদিন তোমার চাঁদ মুখ দেকিনি।

     

    এ বাড়ির ছাদে একটি চিলে-কোঠা আছে, অনেকদিন ব্যবহৃত হয়নি। কোনোরকমে সেটিই সাফ সুতরো করে সেখানে এনে শোয়ানো হলো চন্দ্রনাথকে। তার মুখ ও হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিয়ে রাইমোহন বললো, তুই আমায় মারতে চাস, মার, যত খুশী। এই আমি দোরগোড়ায় বসে রইলুম। আমাকে একেবারে মেরে না ফেলে তুই যেতে পারবিনি।

    কোণঠাসা বিড়ালের মতন দেয়ালে পিঠ দিয়ে বসে চন্দ্রনাথ জিজ্ঞেস করলো, তুমি কতক্ষণ, কতদিন আমায় পাহারা দেবে?

    হাই তুলে রাইমোহন বললো, এই ধর, আট দিন, কি দশ দিন, তারপর সবাই তোর কথা ভুলে যাবে। তখন তুই যা খুশী করিস!

    চন্দ্ৰনাথ বললো, আমি আর এক দণ্ডও তোমাদের কাচে থাকতে চাই না! তোমাদের দেকলেই আমার গা জ্বালা করে!

    —আমি পিঠ ফিরিয়ে বসি, আমায় দেকিসনি!

    —তুমি দূর হয়ে যাও।

    —কেন মিছে এত রাগ করাচিস, চাঁদু? মহাভারত পড়িসনি? কৰ্ণ কি বলেছেল? দৈবায়ত্তং কুলে জন্ম, মদায়িত্তং হি পৌরুষম! মানুষ কোন কুলে, কোতায় জন্মায়, সেটা দৈব ঘটনা, তার ওপর তো কারুর নিজের হাত নেই। দ্যাক, সমাজের পাঁচজনের মধ্যে তুই যাতে মাতা তুলে দাঁড়াতে পারিস, তার জন্য আমরা কম চেষ্টা করিনি। একবার হারবি, পাঁচবার হারবি, তা বলে তো ভেঙে পড়লে চলবে না! আত্মোন্নতির চেষ্টা কক্ষণো ছাড়তে নেই।

    —আঃ, চুপ করো, আমার বকবকানি ভালো লাগে না।

    —শোন চাঁদু, তুই আমার ওপর রাগ করতে পারিস, তোর মায়ের ওপর রাগ করতে পারিস, কিন্তু আমরা কখনো তোর গায়ে কোনো ময়লা লাগতে দিইনিকো।

    চন্দ্ৰনাথ একদলা থুতু থুঃ করে ছিটিয়ে দিল রাইমোহনের দিকে। সেই থুতু রাইমোহনের গালে লেগে গড়িয়ে পড়লো ঘাড়ে, রাইমোহন মুছলো না, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো চন্দ্রনাথের দিকে। সে দৃষ্টিতে রাগ নেই, বরং একটু পরে তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো অশ্র। কতদিন পর, বোধহয় পঁচিশ, তিরিশ, চল্লিশ বছরের মধ্যেও রাইমোহন কখনো কাঁদেনি। এ বোধহয় বার্ধক্যের ফল!

    চন্দ্রনাথ খর চোখে চেয়ে রইলো, কারুর কান্না দেখে তার মন আর দুর্বল হবার নয়।

    দোতলায় নাচ-গানের জড়িত হল্লা তখনো চলেছে, ওপরে দুজন সম্পূৰ্ণ নীরব। এরকমভাবে আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়। এক সময় চন্দ্রনাথ ঘুমে হেলে পড়লো। তারও পর অনেকক্ষণ জেগে বসে থেকে ভোর রাতের দিকে ঘুমিয়ে পড়লো রাইমোহন। দরজার চৌকাঠের কাছে আড়াআড়িভাবে শুয়ে।

    রাইমোহনের ঘুম ভাঙলো বেশ বেলায়। ধড়ফড় করে উঠে বসেই সে দেখলো ঘর শূন্য। রাইমোহন একটা সশব্দ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। চন্দ্রনাথকে আর খুঁজে লাভ নেই। তাকে আটকে রাখতে গেলে হাত পা বেঁধে রাখাই উচিত ছিল। মানুষকে মানুষ ডিঙ্গিয়ে যায় না, চন্দ্রনাথ সেই সৌজন্যটুকুও মানেনি, সে নিশ্চয়ই রাইমোহনকে ডিঙ্গিয়ে লাফিয়ে চলে গেছে। চন্দ্ৰনাথ সাবালক হয়েছে, বুদ্ধিবৃত্তি আছে, তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কী ভাবে আর আটকে রাখা যায়। চন্দ্ৰনাথের মধ্যে স্নেহ-ভালোবাসার চিহ্ন কখনোই তেমন দেখা যায়নি, এখন সে সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করেছে। হীরেমণিকে এই বাস্তব সত্য মেনে নিতেই হবে। এখন ছেলেটা বেঘোরে মারা না যায়! রাইমোহন নিজে অনেক গলাধাক্কা, অপমান সহ্য করেছে, কিন্তু চন্দ্রনাথের মনের কোন তন্ত্রীতে ধাক্কা লাগায় সে এমন বিগড়ে গেল, তা সে বুঝতে পারলো না!

    সারা বাড়ি এখনো প্ৰায় ঘুমন্ত। হীরা বুলবুল এবং কমলাসুন্দরী দুজনেরই প্রতিপত্তি এখন পড়ন্ত। এর মধ্যে কমলাসুন্দরী আরও কয়েকটি যুবতীকে নিজের কাছে রেখে তালিম দিচ্ছে, যাতে তার পসার বজায় থাকে। সেই দু-তিনটি মেয়ে স্নান সেরে ঘোরাঘুরি করছে অলিন্দে। রাইমোহন। এদের চেনে না, এরাও চেনে না। রাইমোহনকে। সে একবার ভাবলো ওদের কাছে চাঁদুর কথা জিজ্ঞেস করবে কি না। পরীক্ষণেই মনে হলো, কোনো লাভ নেই। দ্বারবানদের প্রশ্ন করেও কোনো সুসার হবে না।

    ভারাক্রান্ত মনে সে চলে এলো গৃহের পশ্চাদ্বতী বাগানে। এখন একটি কঠিন কাজ বাকি আছে, হীরা বুলবুলের কাছে সংবাদটি প্রকাশ করতে হবে। অবুঝ হীরা বুলবুলকে সামলানো যে কী প্রাণান্তকর ব্যাপার হবে, তা ভেবেই শিউড়ে উঠলো রাইমোহন। এক্ষুনি সে হীরার সম্মুখীন হতে চায় না। কোনো সন্দেহ নেই যে হীরা রাইমোহনকেই সম্পূর্ণ দায়ী করবে। এখানে চন্দ্রনাথকে নিয়ে এসে কি ভুল করলো সে? জীবনে এতবড় ভুল আর তার হয়নি। ঘরে শিকলি তুলে দিয়েই বা একটি সোমত্থ ছেলেকে কদিন আটকে রাখা যায়। তা ছাড়া পুলিশের হাতে পড়ার ভয়টি তো মিথ্যে নয়।

     

    রাইমোহন আপনমনে বাগানে ঘুরছিল, এমন সময় কেউ একজন তাকে ডাকলো, ওহে এদিকে একবার শোনো তো!

    রাইমোহন চমকিত হয়ে তাকিয়ে দেখলো, পার্শ্ববর্তী উদ্যানে ফেজ পরা খানদানী চেহারার একজন মুসলমানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ধুতি চাদর পরা এক বৃদ্ধ। সেই বৃদ্ধকে চিনতে পেরে রাইমোহন দ্বিতীয়বার চমকিত হলো। বিধুশেখর মুখুজ্যের এই চেহারা হয়েছে! বা চোখের ওপরে একটা কালো ঢাকনা দেওয়া, শরীরটা শুকিয়ে গেছে, হাতের ছড়ির ওপর ভর দিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে।

    রাইমোহন কাছে আসতেই বিধুশেখর বললেন, তুমি রাইমোহন না?

    রাইমোহন বিনয়ে গলে গিয়ে বিগলিত হাস্যে বললো, প্ৰণাম মুখুজ্যে মশাই। এতদিন পরেও ঠিক চিনেচেন। তা আপনি সর্বজ্ঞ ব্যক্তি, আপনার কখনো ভুল হতে পারে! আপনি এখেনে?

    বিধুশেখর বললেন, তার আগে বলো, তুমি এখেনে কী করচো?

    রাইমোহন শ্রদ্ধায় ভক্তিতে একেবারে নুয়ে গিয়ে বললো, আজ্ঞে, আমরা শখের পায়রা, যখন যেখানে দানা ছড়ানো থাকে। সেখানে খুঁটে খেতে যাই।

    —তা। আপাতত কার দানা খাচ্চো?

    —দোনা পাচ্চি, খাচ্চি, মালিকের খোঁজ রাখি না। আর সেরকম মালিকই বা কোতায়? রামকমল সিংগী মশাই মারা গিয়ে আমাদের একেবারে অনাথ করে দিয়ে গ্যালেন। বড় বৃক্ষের ছায়ায় থাকা আমাদের অভ্যোস।

    -শোনো, ঝড় উঠবার উপক্রম হলে পিপড়েরা নড়বড়ে বাড়ি ছেড়ে সার বেঁধে চলে যায়, দেকোচো? তুমিও ও বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও সর্টকাও।। ও বাড়ির মাগীটার ভিটে মাটি চাঁটি করবো এবার। মামলা দায়ের হয়েচে!

    মুনসী আমীর আলী বিধুশেখরকে ফাসীতে প্রশ্ন করলেন, এই চিড়িয়াটি কে?

    বিধুশেখর বললেন, আপনি ঠিক চিনতে পারবেন না। আমাদের শাস্ত্রে এই পাখির উল্লেখ আছে, তার নাম গরুড়। দেখছেন না। সব সময় হাত জোড় করে আছে।

    রাইমোহন সেই মুহূর্তে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো। হীরা বুলবুল তার পেশা ছেড়ে দিতে চাইছে, কিন্তু রাইমোহন তার পুরোনো পেশাটিকে আবার চালু করবে। তবে, এই বুড়োকে দিয়ে কোনো কাজ হবে না, এ একেবারে ছিবড়ে হয়ে গেছে, নওজোয়ান ছোঁকরা চাই। চন্দ্রনাথের ওপর অবিচারের শোধ নিতে হবে তো!

    বেড়া টপকে এদিকে এসে সে বললো, হুজুর, আপনি কমলিকে তাড়াবেন, সে তো বেশ ভালো কতা। আপনি ইচ্ছে করলে কী না পারেন! আমরা একটু আশ্রয় পেলেই হলো।

    তারপর হেঁট হয়ে বিধুশেখরের পায়ের ধুলো নিয়ে সে আবার বললো, হুজুর, আশীর্বাদ করুন, কোনোরকমে যেন বেঁচে বর্তে থাকি। এই অধম আপনার সেবক, যখন যা হুকুম করবেন তা তামিল করবার জন্য আমি সব সময় তৈরি। যদি বলেন তো ঐ কমলী মাগীটার পেছুনে বিছুটে লাগিয়ে একেবারে দেশছাড়া করে দিই!

    আশীর্বাদের ভঙ্গিতে ডান হাত তুলে বিধুশেখর বললেন, বেশ, বেশ!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্রিস-ক্রস – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    Next Article একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বাড়ির খবর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ফুলমণি-উপাখ্যান – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Our Picks

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }