Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প438 Mins Read0
    ⤷

    কলিকাতায় নবকুমার – ১

    এক

     বাবা বলেছিল, ‘যেতে চাইলে বাধা দেব না। নিজের পায়ে দাঁড়াবি, গোটা জীবন তোর সামনে পড়ে আছে, সেটা যাতে ভালোভাবে কেটে যায়, তার জন্য চেষ্টা করবি বইকি।’

    ওপাশে তখন মায়ের আঁচলচাপা কান্না বাজছে। সেই কান্না যখন থামে, কথা বের হয়। আর প্রতিটি কথায় দু:খ মাখামাখি, ‘বাপ ঠাকুরদা তো এখানেই জীবন কাটাল। জমিতে খাটলে কি ফসল পাওয়া যায় না? জঙ্গলে ঢুকলে কাঠ, ফল তো পাওয়াই যায়। নদীতে কমতে-কমতেও মাছ মেলে জাল ফেললে। তাহলে এই জায়গা ছেড়ে দূরে যাওয়ার কী দরকার? বাপ হয়ে যদি ছেলের সর্বনাশ করে তাহলে আর কে ঠেকাবে? আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে।’ কথা কমলো, কান্না শুরু হল, আবার। ওই এককথা।

    বাপ গলা চড়াল, ‘ও কী গরু না ছাগল যে উঠোনে দড়ি বেঁধে রাখবে! আমাদের সময়ে কিছু ছিল? তিনমাইল দূরে ইস্কুল, দশমাইল দূরে কলেজ। বেশ করেছি ওকে পড়িয়েছি। নিজে সাধ মেটাতে পারিনি, ওকে দিয়ে মিটিয়েছি।’

    ‘পড়িয়ে মাথা কিনে নিয়েছ। ঘরে আগ দিয়ে হাওয়া করেছ!’

    বাবা মাথা নাড়ল, ‘শোনো, যেতে চাইছ যখন যাও। আমাদের জন্যে চিন্তা কোরো না।’

    ‘এ কী বলছেন!’ সে তখন মাথা তুলল।

    ‘যা সত্যি তাই বলছি। শুঁয়ো যখন প্রজাপতি হয় তখন সে উড়তে ভালোবাসে। হ্যাঁ, যেতে চাইছ যখন তখন কামাখ্যা অবধি যেতে পারো। শুনেছি সেখানে কাঁচা বয়সের ছেলে গেলে মন্ত্র পড়ে ছাগল বানিয়ে রাখে। শোনা কথা। কিন্তু সেই ছাগল বলি দেওয়া হয় না। তুমি কামাখ্যায় গেলে ছাগল হয়েও বেঁচে থাকতে পারো, কিন্তু দোহাই, ওই কলিকাতায় যেও না। কলিকাতা তোমাকে আস্ত গিলে ফেলবে। মরে ভূতও হতে পারবে না তাহলে। হ্যাঁ।’

    বাবা বলল।

    ‘কলিকাতা তো একটা নগরের নাম। আমাদের পশ্চিমবাংলার রাজধানী। মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রীরা সবাই সেখানে থাকেন।’ একটু প্রতিবাদ জানিয়েছিল সে।

    ‘তাঁরা কি পথঘাটে ঘুরে বেড়ান? স্বর্গে যেমন দেবতারা থাকেন তাঁরাও সেখানে আলাদা থাকেন। দেবতারা থাকেন বলে রাক্ষস দৈত্য কি নেই? তাহলে প্রতি বছর দুগ্গা পুজো হত না। কাঁচা বয়সের ছেলে পেলে কলিকাতায় মেয়েমানুষরা হাড্ডি থেকে মাস বের করে গিলে ফেলে। এ গল্প আমি অনেক শুনেছি।’ বাবা মাথা নাড়ল।

    সঙ্গে-সঙ্গে মায়ের কান্না আরও জোরালো হল।

    এতক্ষণে তাদের উঠোনে বেশ ভিড় জমে গিয়েছে। আশপাশের বাড়ির লোকজন গম্ভীর মুখে ওদের দেখছে। হঠাৎ হর্ষবর্ধনকাকাকে ভিড়ের মধ্যে এসে দাঁড়াতে দেখে ঈষৎ বল পেল সে। এগিয়ে গিয়ে বলল, ‘কাকা, আপনি তো গ্রামপ্রধান। স্কুলের পড়া শেষ করেছিলেন, অনেক খবর রাখেন, বাবাকে একটু বুঝিয়ে বলুন।’

    হর্ষবর্ধন এগিয়ে এল, ‘বোঝাবার কিছু নেই। তোমার বাবা তাঁর মতো ঠিক কথা বলেছেন।’

    ‘কথাটা সত্যি বলে মনে হচ্ছে আপনারাও?’ অবাক হয় নবকুমার।

    ‘কোনটে সত্যি কোনটে মিথ্যে তা কি এক কথায় বলা যায়? এই যেমন, একজন জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা, গাছ চিনব কী দিয়ে? একজন জবাব দিল, ফল দিয়ে। আমফল, জামফল, কাঁঠালফল মানে সেইসব গাছ। তাই শুনে আর-একজন বলল, যে গাছে ফল ফলে না তার পরিচয় পাতা দিয়ে। আবার ফল ফলে না কিন্তু ফুল ফোটে সেই গাছের পরিচয় ফুল দিয়ে। বুঝলে হে, কতগুলো সত্যি বেরিয়ে এল! কোনওটাকে অস্বীকার করতে পারবে?’ হর্ষবর্ধন মাথা নাড়ল, ‘তার পরেও আছে। ফল, পাতা, ফুলের পরেও আছে। সেটা হল শেকড়। মাটি খুঁড়ে আমরা দেখি এটা ওল, কিংবা কচু। কচুর আবার কত রকম, সোনাকচু, মানকচু, মুথিকচু। তাই বলছিলাম, তোমরা বাবা তাঁর মতো ঠিক কথা বলেছেন।’

    বাবা বলল, ‘এখন যদি মাথায় ঢোকে!’

    ‘এই দ্যাখো, এত বছর বয়স হয়ে গেল, আমি কখনও কলিকাতায় যাইনি। কেন যাইনি? না, প্রয়োজন পড়েনি তাই যাইনি। এই গ্রামের মানুষের সেবা করতেই সময় চলে যাচ্ছে। কিন্তু যারা গিয়েছে তারাই বলেছে, কলিকাতায় পা দিলে মনে নেশা ধরে। যারা নেশা করে তাদের বেশিরভাগ মাটিতে গড়াগড়ি খায়, আমরা বলি মাতাল হয়ে গিয়েছে গো! আবার কেউ-কেউ দেখবে নেশা করে দিব্যি মাথা উঁচু করে ভাটিখানা থেকে বাড়িতে ফিরে যায়, একটুও পা টলে না। এই দ্বিতীয় লোকটির মতো যদি চলতে পারো তাহলে কলিকাতায় গেলে তোমার কোনও ক্ষতি হবে না।’ হর্ষবর্ধন হাত নাড়ল, ‘এবার আপনারা যে যার কাজে চলে যান, এদের কথা বলতে দিন।’

    নবকুমার হর্ষবর্ধনকে বলল, ‘আপনি মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলুন কাকা!’

    হর্ষবর্ধন ততক্ষণে পড়শিদের হাত নেড়ে বিদায় করেছে। কাছে এসে বলল, ‘বলছ যখন তখন তো নাক গলাতেই হয়। কী বলো দাদা?’

    বাবা বলল, ‘দ্যাখো, ওটা আবার ভোঁতা না হয়ে যায়।’

    ‘তুমি দেখছি বিপুল খেপে আছ। তা নব, তুমি কলিকাতায় কেন যেতে চাও?’ গুছিয়ে বলল হর্ষবর্ধন।

    ‘আজ্ঞে, রোজগার করতে। এখানে যা পাওয়া যায় তা বাবাই ঘরে আনতে পারেন। তাতে তো কিছুই হয় না। আমি তো একটু-আধটু পড়াশোনা করেছি। কলিকাতায় গেলে কিছু-না-কিছু কাজ পেয়ে যাব।’ নবকুমার বলল।

    ‘অ। ভালো। কিন্তু কলিকাতায় যাবে তো ট্রেনে। তার ভাড়া কত জানা আছে?’

    ‘হ্যাঁ। বন্ধুরা বলেছে চাঁদা তুলে টিকিট কেটে দেবে।’

    ‘বন্ধুরা? মানে তোমার সঙ্গে যাদের দেখি? তারা তো কোনও ভালো কাজে এক পয়সা চাঁদা তোলে না! বেশ, কলিকাতায় থাকবে কোথায়? খাওয়াবে কে?’ হর্ষবর্ধন হাসল।

    ‘প্রথম-প্রথম কষ্ট হবে। কিন্তু তারপর ঠিক ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’

    ‘এবার বলো তো বাবা, তোমার মাথায় এসব ঢোকাল কে?’

    ‘নানান মানুষের কথা শুনে আমার মনে হয়েছে। স্কুলে পড়েছি, বিদ্যাসাগরমশাই বীরসিংহ গ্রাম থেকে হাঁটতে-হাঁটতে কলিকাতায় গিয়েছিলেন। না গেলে তিনি বিদ্যাসাগর হতেন না।’ মুখে আলো ফুটল নবকুমারের।

    হর্ষবর্ধন মুখ ফেরাল, ‘দাদা। যেতে দাও। ঠোকর খাবে। তারপর একসময় সুড়সুড় করে ফিরে আসবে।’

    মা এতক্ষণ চুপ করে শুনছিল। এবার আচমকা তার গলা থেকে কান্না ছিটকে বেরোল। অবশ্য সেটাকে চিৎকার বললেও কম বলা হয়।

    হর্ষবর্ধন বলল, ‘ও বউদি, থামুন! এরকম মরাকান্না কাঁদবেন না।’

    ‘আমার এক ছেলে, কলিকাতার রাক্ষুসিরা আস্ত গিলে খাবে, আমি কাঁদব না ঠাকুরপো? বুক আমার শুকিয়ে যাচ্ছে। বেশ, যাবে যখন তখন যাক, কিন্তু যাওয়ার আগে ওকে বিয়ে করে বউ রেখে যেতে হবে। এই বলে দিলাম।’ মা বলল।

    বাবার চোখ বড় হয়ে গেল, ‘মাথাটা গেছে, একদম গেছে। ও হর্ষ, এবার আমিই যে পাগল হয়ে যাব।’

    ‘তাতো বলবেই। ঠাকুরপো, পিছুটান থাকলে ও ঘরে ফিরবেই।’ মা বলল।

    বাবা বলল, ‘দ্যাখো হর্ষবর্ধন, কাদের সঙ্গে ঘর করছি। রোজগার নেই যার, বাপের ঘাড়ে বসে খাচ্ছে তার বিয়ে দিয়ে বউ আনতে হবে ঘরে। আজকালকার কোনও মেয়ে এমন ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি হবে? আর যদি হয় তাহলে তাকে আমি খাওয়াব কেন? অসম্ভব।’

    আলোচনাটা সেখানেই থেমে থাকবে না তা নবকুমার জানে। সে কলিকাতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই এটা শুরু হয়েছে। আর কথা না বাড়িয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এল নবকুমার।

    .

    স্টেশনের সামনে একটাই চায়ের দোকান। সারাদিনে ট্রেন থামে ছয়বার। তখন চা-বিস্কুট বিক্রি হয়। দোকানটা ছিল হরিজ্যেঠুর। সন্ন্যাস রোগে মারা যাওয়ার পর ওর ছেলে রতন দোকান চালাচ্ছে। ছেলেবেলায় তার সঙ্গে রতন কিছুদিন স্কুলে গিয়েছিল, সেই সুবাদে বন্ধুত্ব।

    কাঁচা পয়সা হাতে আসার পর থেকে রতনের চালচলন বদলেছে। এই বয়সেই প্রকাশ্যে চারমিনার খায় সে। তাকে দেখে রতন সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ল, ‘আয়। শুনলাম তোকে তোর মা যেতে দেবে না!’

    ‘হুঁ।’ বেদিতে বসল নবকুমার।

    ‘চা খাবি।’

    ‘না।’

    ‘শালা লোকে বিনি পয়সায় বিষ পেলেও খেয়ে নেয়, তোর কী হল?’

    ‘ভালো লাগছে না। মাস্টারদা এসেছিল?’ জিজ্ঞাসা করল নবকুমার।

    ‘আজ ট্রেনের চাকা খোঁড়া হয়ে গেছে। এসে পড়ল বলে।’ রতন তার সহকারীকে ইশারায় চা বানাতে বলল।

    তারপর সিগারেটের শেষটা ছুড়ে ফেলে জিজ্ঞাসা করল, ‘কলিকাতায় গিয়ে কী করবি?’

    ‘জানি না।’

    ‘জানিস না যখন তখন যাচ্ছিস কেন?’

    ‘ওখানে গেলে ঠিক কাজ পেয়ে যাব। চেষ্টা করলে টাকা রোজগার করা যায়। এখানে থেকে কী হবে? হাজার চেষ্টা করলেও কোনও রোজগার হবে না। বাপ ঠাকুরদার মতো জমি চাষ করে কোনও মতে বেঁচে থাকতে হবে।’ ওর কথার মধ্যেই দূরে ট্রেনের হুইসল বেজে উঠল। রতন এবার ব্যস্ত হল। তার সহকারীকে ধমকে চা রেডি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

    ট্রেনটা ঢোঁড়া সাপের মতো হেলেদুলে এসে দাঁড়াল স্টেশনে। কিছু লোক নামছে। ভ্যান রিকশাওয়ালা চেঁচিয়ে এক-একটা জায়গার নাম বলছে। একজন-একজন করে খদ্দের জুটে গেল রতনের। হাতে-হাতে চায়ের গ্লাস আর লেড়ো বিস্কুট ধরিয়ে দিল রতন।

    এইসময় একটা সিড়িঙ্গে লোক এসে রতনকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ভাইটি, দক্ষিণপাড়া চেনো?’

    ‘জন্মেছি এখানে, না চিনে পারি? চা?’

    ‘না-না। অ্যাসিড হয়। কীভাবে যাব?’

    ‘ডানদিক দিয়ে চলে যান। কার বাড়িতে যাবেন?’

    ‘হলধর রায়।’

    নবকুমারের দিকে একবার তাকাল রতন। তারপর বিনীতভাবে বলল, ‘উদ্দেশ্যটা কী যদি বলেন তাহলে আপনাকে সাহায্য করতে পারি।’

    ‘আর বলো না। আমার এক শ্যালিকাকে কেউ বলেছে হলধরবাবুর একটি বিবাহযোগ্য পুত্র আছে। হলধরবাবুর স্ত্রী তার বিয়ে দিয়ে ঘরে গৌরী আনতে চান। শ্যালিকার চাপে বাধ্য হয়ে খবর নিতে আসতে হল। আচ্ছা, চলি।’ লোকটা ঘুরে দাঁড়াল।

    সঙ্গে-সঙ্গে রতন বলল, ‘দাঁড়ান, দাঁড়ান। আপনার শ্যালিকার মেয়ে কি কানা বোবা অথবা খোঁড়া? মানে, বিয়ে দিতে পারছেন না?’

    ‘অ্যাঁ! তার তো বয়স মাত্র চৌদ্দ। কোনও খুঁত নেই।’ লোকটার চোখ ছোট হল।

    ‘তাহলে না যাওয়াই ভালো।’ রতন আর-একবার নবকুমারের দিকে তাকাল।

    ‘কেন?’

    ‘রক্তের দোষ আছে ছেলেটার। দু-বছর আগে মনসামেলার সময় যে খারাপ মেয়েরা এসে হোগলার ছাউনিতে ব্যাবসা করতে আসে তাদের কাছে গিয়েছিল তো! গঞ্জের ডাক্তারের ওষুধে রোগ কমেছে। ওর মায়ের ধারণা, ছেলের বিয়ে দিলে সেটা একদম সেরে যাবে।’ মাথা দুলিয়ে-দুলিয়ে বলল রতন। তারপর অন্য খদ্দেরদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

    লোকটা হতভম্বের মতো কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে থেকে হনহন করে স্টেশনে ফিরে গেল। উলটোদিক থেকে আর-একটা ট্রেন আসছে। এই স্টেশনে সান্টিং হবে। দুটো ট্রেন দু-দিকে চলে যাবে। এত তাড়াতাড়ি ফেরার ট্রেন পেয়ে লোকটা যেন বেঁচে গেল।

    দোকানের ভিড় কমে গেলে রতন চিৎকার করল, ‘তোকে বাঁচিয়ে দিলাম।’

    ‘কিন্তু তাই বলে ওই দুর্নাম দিলি তুই। এই লোকটা তিন ভুবনের মানুষকে বলে বেড়াবে কথাটা। আমি কি কোনওদিন ওইসব মেয়েমানুষের কাছে গিয়েছি?’ সোজা হয়ে দাঁড়াল নবকুমার। অনেকক্ষণ নিজেকে সামলে রেখেছে তা বোঝা যাচ্ছিল।

    ‘আহা, চটছিস কেন? এছাড়া লোকটাকে আটকানো যেত না। ব্যাটা চৌদ্দ বছরের শালির মেয়েকে তোর কাঁধে চাপিয়ে দিত। এই জন্যে বলে যেচে তোদের উপকার করতে নেই।’ দ্বিতীয় ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছে যেতে রতন কথা বন্ধ করল। এখন তার বিক্রির সময়। সে হাঁকতে লাগল, ‘চা, চা, গরম চা। চাগ্রম!’

    দ্বিতীয় ট্রেন থেকে নেমে যে লোকটা এগিয়ে এল বয়স বছর তিরিশেক। পরনে পাজামা শার্ট। চুল খুলির সঙ্গে সাঁটা। একটু বাবরি রেখেছে। হাঁটাচলা কথা বলা, এমনকি হাসিতেও মেয়েলি ছাপ স্পষ্ট।

    ‘এই যে কলির কেষ্ট, মুখে মেঘ কেন?’ লোকটা বেঞ্চিতে বসল।

    ‘আর বলবেন না মাস্টারদা। বাড়ির সবাই আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।’

    ‘ওমা। কেন গো?’

    ‘আমি কলিকাতায় রোজগারের জন্যে যাব বলতেই—!’ কথা শেষ করল না নবকুমার।

    ‘অ। এই কথা। বড়-বড় সাধুদের সাধনা নষ্ট করতে দেবতারাই কত বাধা তৈরি করত। তুমি তো মানুষ। অর্জুনের মতো হও। সামনে মাছের চোখ ছাড়া আর কিছু নেই। আমি বলি কী, আজ বিকেলেই চলো।’ মাস্টারদা হাত নেড়ে বলল।

    ‘আজ বিকেলেই? মানে, এত তাড়াতাড়ি?’

    ‘ওই তো মুশকিল। মনটাকে পাখির মতো করে নাও হে। যেই ইচ্ছে হল অমনি ডানা মেলে আকাশ ধরলে। এ কি বিয়ে করতে যাচ্ছ? দিন ঠিক করে লগ্ন কখন জেনে তবে বেরুবে!’ মাস্টারদা হাঁকল, ‘ও রতনা, চা খাওয়াবে না?’

    ‘একটু দাঁড়াও!’ রতন ভিড়ের ভেতর থেকে উত্তর দিল।

    মাস্টারদা বলল, ‘উটের মতো দাঁড়িয়ে কেন বন্ধু? বসো। হ্যাঁ, আজ সকালেই খবর পাঠিয়েছেন ম্যানেজারমশাই। নতুন পালার রিহার্সাল শুরু হচ্ছে। আমার কথা ভেবে একটা ফাটাফাটি পার্ট লেখা হয়েছে। খবর পাওয়ামাত্র যেন চলে আসি। শোনামাত্রই বুকের ভেতর কাতলা মাছ ঘাই মারতে শুরু করল। তা তুমি যখন মনস্থ করেছ তখন চলো আমার সঙ্গে আজই। দুই বন্ধুতে যাই রাজধানীতে।’

    ‘বেশ। তাই যাব। কিন্তু এখনও বেশি টাকা জোগাড় করতে পারিনি।’

    ‘কত পেরেছ?’

    ‘দুশো।’

    খিলখিলিয়ে হাসল মাস্টারদা, ‘আমার পকেটে তো শুধু টিকিটের দাম। ওটা না থাকলে শ্রীঘরে পচতে হবে।’

    ‘খাওয়া থাকা—।’

    ‘ঠিক হয়ে যাবে। নিজেকে স্রোতে ভাসা কুটো ভেবে নাও। ঠেকবে, আবার এগোবেও। মাথার ওপরে চিন্তামণি থাকতে তুমি চিন্তা করবে কেন? দেখবে, তিনিই ঠিক চিনি জুগিয়ে যাবেন। কাউকে বলার দরকার নেই যে তুমি আজই যাচ্ছ!’ রতনের সহকারীর হাত থেকে চায়ের গ্লাস নিয়ে লম্বা চুমুক দিয়ে মাস্টারদা বলল, ‘তাহলে গোপন কথাটি রবে না গোপনে।’

    মাস্টারদার কথা বলার ধরন খুব ভালো লাগে নবকুমারের। বেশ নতুন-নতুন কথা শোনা যায়। কী মিষ্টি।

    ভিড় চলে গেলে রতন এসে বসল ওদের পাশে। ‘বুঝলে মাস্টারদা, তুমি যখন ওকে কলিকাতায় নিয়ে যাচ্ছ তখন যাত্রাপার্টিতে লাগিয়ে দাও।’

    গ্লাস সহকারীর দিকে এগিয়ে মাস্টারদা বলল, ‘ছাগলকে দিয়ে লাঙল টানাতে পারবে? পারলে জমিতে লাঙলের ফলা বসবে?’

    ‘তুমি ওকে ছাগল বলছ?’ হেসে ফেলল রতন।

    ‘নিজেকে বলদ বললে ওকে ছাগল বলতেই পারি। যে সাঁতার জানে না তাকে জলে ফেলে যদি বলি কাটো সাঁতার, পারবে? অভিনয়, গান হল সাধনার বস্তু। অনেক অনুশীলন, অনেক পরিশ্রম করতে এক কণা পাওয়া যায়।’

    ‘এক কণা? বাকিটা?’

    ‘জন্মাবার সময় তিনি দিয়ে দেন। যাও হে বাবু, তৈরি হয়ে এসো। বিকেল-বিকেল ট্রেন ধরতে হবে।’ মাস্টারদা বলল।

    হঠাৎ রতন খিকখিক করে হাসল।

    ‘কী হল চা-বাবু?’ মাস্টারদা জিজ্ঞাসা করল।

    ‘জ্ঞান হওয়ার পর গ্রামের কেউ কলিকাতায় গিয়েছে বলে শুনিনি। নব যাচ্ছে, কিন্তু ওর কপাল খুব খারাপ।’

    ‘কী করে বুঝলে চাঁদ যে ওর কপাল খারাপ?’

    ‘কিছুক্ষণ আগে একজন এসেছিল দোকানে। ওর বাবার সঙ্গে দেখা করতে চায়। তার শালির চৌদ্দবছরের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে চায়।’

    ‘তো?’

    ‘আমি কাটিয়ে দিলাম। বললাম, ওর রক্তে দোষ হয়েছে। মনসামেলায় গিয়ে হোগলার ছাউনির মেয়েদের কাছে গিয়েছিল। ব্যস, সঙ্গে-সঙ্গে লোকটা ফিরতি ট্রেন ধরল। হি-হি-হি।’ রতন মন খুলে হাসল।

    মাস্টারদা মাথা নাড়ল, ‘চা-বিক্রি করে তোর বুদ্ধিতে আর কত ধার হবে। অন্য কিছু বলে কাটাতে পারলি না। আর কাটাবার দরকারই বা কী ছিল। যেত ওর বাড়িতে। বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে খুশি হয়ে ফিরে যেত। আজই তো বরযাত্রী নিয়ে ওকে বিয়ে করতে যেতে হত না। এখন লোকটা কথা ছড়াবে। পাঁচটা মানুষ…পচা খবর শুনতে ভালোবাসে। হয়তো কথাটা ভাসতে-ভাসতে ওর মা-বাবার কানে চলে আসবে। তখন মানুষ দুটোর কী হাল হবে, বল?’

    রতন শরীরটাকে ত্রিভঙ্গ মুরারী করে দাঁড়িয়ে রইল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }