Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প1423 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মিসেস মেলনির গল্প – সুকুমার ভট্টাচার্য

    মিসেস মেলনির গল্প – সুকুমার ভট্টাচার্য

    বেশ সুন্দর সাজানো-গোছানো ঘর। জানলা দরজার সব পর্দাগুলোই নামানো। ঘরের মাঝ বরাবর ছোট দুটো টেবিল চেয়ার। দুটোর ওপরেই একটা করে টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে। তারই একটাতে বসে মিসেস মেলনি ঘন ঘন ঘড়ি দেখছেন। সময় হয়েছে, এবার তার স্বামী ফিরবেন অফিস থেকে।

    একটা স্মিত হাসি ছড়িয়ে আছে তার সারা মুখে। তিনি জানেন, ঘড়ির কাঁটা যত এগোবে, সে মানুষটির ফেরা ততই আসন্ন হবে। মাথা নিচু করে বোনার কাজটা করে যান তিনি। একটা ছোট মোজা বুনছেন। টেবিল ল্যাম্পের আলোয় চকচক করছে কপালটা, লাবণ্য উছলে পড়ছে মুখের ওপর। মা হতে চলেছেন তিনি, আর মাত্র মাস চারেক বাকি। আসন্ন মাতৃত্বের কমনীয়তায় সমস্ত মুখটি কোমল।

    ঘড়িতে তখনো পাঁচটা বাজতে দশ মিনিট বাকি, বাইরের বাগানে একটা গাড়ি এসে দাঁড়াল। তারপরেই গাড়িটার দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ শুনতে পেলেন মিসেস মেলনি। বুঝলেন, স্বামী তার ফিরেছেন। যত যাই হোক, বাড়ি ফিরতে এক মিনিটেরও হেরফের হয় না ভদ্রলোকের। আর একটু পরে বাইরের দিক থেকে দরজার চাবি ঘোরানো হলো, হাতের বোনাটা টেবিলের ওপর রেখে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। সমস্ত দিনের অদর্শনের পর একটু সোহাগ না পেলেই নয়। ভদ্রলোক ঘরের ভেতর পা দিতেই তিনি বললেন, ‘হ্যাল্লো ডার্লিং!’

    ভদ্রলোক ছোট করে জবাব দিলেন, ‘হ্যাল্লো!’

    মিসেস মেলনি এগিয়ে গিয়ে স্বামীর গা থেকে কোটটা নামিয়ে নিলেন। সেটাকে হ্যাঙারে ঝুলিয়ে দিয়ে, গিয়ে দাঁড়ালেন কাবার্ডটার সামনে। সেটা খুলে কিছুটা পানীয় ঢাললেন দুটো গ্লাসে। তারপর ফিরে এসে গ্লাস দুটো টেবিলের ওপর রেখে বসলেন মুখোমুখি।

    মিসেস মেলনি জানেন, স্বামী তার এ সময় মোটেই কথা বলেন না। পুরোপুরি একটা গ্লাস পেটে যাবার পর শুরু হবে যত কথা। অতএব তিনিও কথা না বলে শরীরটাকে এলিয়ে দেন চেয়ারে। আধবোনা মোজাটা তুলে নিয়ে বুনতে শুরু করেন।

    কিন্তু ভদ্রলোকের মেজাজ যে আজ অন্য রকম, সেটা আর খেয়াল করেননি তিনি। গ্লাসটা হাতে ধরে চুপ করে বসে থাকেন ভদ্রলোক। হঠাৎ তার ওপর চোখ পড়তেই মিসেস মেলনি জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার, এমন চুপচাপ বসে যে? খুবই কি ঝক্কি গেছে অফিসে, ক্লান্ত?

    বিরক্তির সঙ্গে মাথা নাড়লেন ভদ্রলোক, হ্যাঁ, খুবই ক্লান্ত!

    তারপর কখনো যা করেন না, হঠাৎ তা-ই করে বসলেন ভদ্রলোক। পায়ের। কাছে একটা নোংরা ফেলার বাক্স ছিল, পানীয়টা ধীরে ধীরে ফেলে দিলেন সেটার ভেতর। শশব্যস্তে উঠে দাঁড়ালেন মিসেস মেলনি, কি হলো, কিছু নোংরা পড়েছিল নাকি? ঠিক আছে, আমি আর এক গ্লাস এনে দিচ্ছি।

    তার দরকার নেই, তুমি বসো।

    ভদ্রলোক নিজেই গিয়ে হাজির হলেন কাবার্ডটার সামনে। যখন ফিরলেন, মিসেস মেলনি দেখলেন, গ্লাসটা আর শুন্য নয়। আগের থেকেও কড়া পানীয় সেটার ভেতর টলটল করছে। হঠাৎ চোখ পড়ল ভদ্রলোকের খালি পা দুটোর ওপর। বললেন, দাঁড়াও, তোমার চটিজোড়াটা এনে দিই!

    ন্‌-না, তার দরকার নেই। তুমি বসো।

    এরপর আর কিছু করার নেই মিসেস মেলনির। বসে পড়লেন চেয়ারে। কোনো কথাই বার হলো না মুখ দিয়ে। ভদ্রলোকও কোনো কথা না বলে একটার পর একটা চুমুক দিতে লাগলেন গ্লাসে। বিন্দু বিন্দু ঘাম ফুটে উঠল সারা মুখে। মিসেস মেলনি জানেন ওটা কড়া পানীয়র জের ছাড়া আর কিছুই নয়।

    যাই বলল, এতটা ক্লান্ত হওয়া উচিত নয় তোমার। পুলিশের সিনিয়র গোয়েন্দা হিসেবে ঝামেলা ঝঞ্জাট তো থাকবেই। দরকার পড়লে সারাদিন ছুটতে হতে পারে।

    এ কথারও কোনো জবাব দিলেন না ভদ্রলোক। বাধ্য হয়ে মিসেস মেলনি টেনে নিলেন হাতের বোনাটা। হঠাৎ এক সময় মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, কিছু খাবে,

    এনে দেব? যেহেতু আজ বৃহস্পতিবার তাই কিছু রাঁধিনি।

    ‘উঁহু, খিদে নেই।

    না কেন! সমস্ত দিনের পর ক্লান্তি তো স্বাভাবিক। বরং এক কাজ করা যাক, আজ আর হোটেলে গিয়ে কাজ নেই। বাড়িতে সবকিছুই আছে, রাতও এমন কিছু হয়নি—যদি বলো তো রান্নার ব্যবস্থা করি।

    মহিলা ভেবেছিলেন, এবার ভদ্রলোক বুঝি হাসবেন। কিংবা নড়েচড়ে বসবেন। কিন্তু তার কোনো লক্ষণই দেখা গেল না। রীতিমত অবাক হলেন মিসেস মেলনি। বলেন, কিন্তু খালি পেটে অমন কড়া জিনিস খাওয়া ঠিক নয়। যা পাই, তাই-ই এনে দিচ্ছি কিচেন থেকে।

    না না, তার দরকার নেই।

    এবার স্থিরচোখে ভদ্রলোকের দিকে তাকালেন মিসেস মেলনি। মনে হলো, একটু যেন অন্যমনস্ক। বললেন, ‘আজ তোমার কি হয়েছে জানিনা। তবে যাইই হোক, খিদে চেপে রাখার কোনো কারণ দেখি না। দু-তিন রকমের মাংস আছে ডিপ-ফ্রিজে।

    যেটা বলবে সেটাই বেঁধে দিতে পারি।

    বলেছি তো, ওসবের কোনো দরকার নেই।

    বাজে কথা বলো না। সমস্ত দিন খেটেখুটে এসে না খেয়ে থাকবে নাকি? যেমনি হোক, আমি ঠিকই রাঁধব, তারপর খাওয়া না খাওয়া তোমার ব্যাপার।

    হাতের বোনাটা টেবিলের ওপর রেখে উঠে দাঁড়ালেন ভদ্রমহিলা।

    ‘অত ব্যস্ত হবার কিছু নেই। অন্তত আরো মিনিট কয়েক বসো।‘

    মিসেস মেলনির মনে হলো, স্বামীর গলাটা কেমন যেন গম্ভীর। বুকটা দুরদুর করে উঠল তাঁর।

    ‘কি হলো, বসো।‘

    ভদ্রলোকের কথায় চেয়ারে বসে পড়লেন মিসেস মেলনি। চোখ দুটো বড় বড় হয়ে উঠল বিস্ময়ে। গ্লাসের পানীয়টা শেষ করে ভদ্রলোক বললেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে তোমার সঙ্গে।

    ‘কি এমন কথা, যার জন্যে—’

    বলছি।

    কিন্তু বুও কোনো কথা না বলে, মাথা নিচু করে বসে রইলেন ভদ্রলোক। বোধহয় বক্তব্যটা মনে মনে গুছিয়ে নেবার জন্যেই। টেবিল ল্যাম্পের আলোয় মাথার চুলগুলোকচক করছে। চোখ থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত অন্ধকার। বেশ কয়েক সেকেন্ড পর মেলনি দেখলেন, ওনার ঠোঁট দুটো যেন নড়ছে।

    আমার কথায় যে দুঃখ পাবে, তা আমি জানি। কিন্তু না বলে আমার উপায় নেই—আমায় বলতেই হবে। আশা করব, কোনোরকম ভুল বুঝবে না।

    এই সামান্য ভূমিকার পর তিনি মুখ খুললেন। একটানা অনেকক্ষণ যে কথা বললেন, এমন নয়। মাত্র চার-পাঁচ মিনিট। তাই শুনে মিসেস মেলরি শরীরটা কেঁপে উঠল বারবার। একদৃষ্টে স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মাথাটায় যেন আগুন জ্বলে উঠল। মানসচক্ষে দেখলেন, রেসের ঘোড়ার মতো স্বামী তার ক্রমশই দুরে সরে যাচ্ছেন।

    সবশেষে ভদ্রলোক বললেন, এই হলো ব্যাপার। যদিও আমি স্বীকার করি, এসব কথা এখন না বলে, আরো মাস চারেক পরে বললেই ভাল হতো। কিন্তু অতদিন সবুর করার ধৈর্য নেই আমার। যে চাকরি করি, তাতে ব্যক্তিগত মানসম্মানের একটা মস্ত ভূমিকা আছে। কোনো কারণেই সেটাকে বিসর্জন দেয়া যায় না। তবে হ্যাঁ, টাকাকড়ির ব্যাপারে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমি কথা দিচ্ছি, সেটা যুগিয়ে যাব। শুধু তাই নয়, পরে বাচ্চা নিয়ে যাতে অসুবিধেয় না পড়ে, সেদিকেও লক্ষ্য রাব্ব।

    কথাগুলো কানে গেলেও, সত্যি বলে মনেই হয়নি মিসেস মেলনির। ভেবেছিলেন, স্বামী বুঝি তার সঙ্গে রসিকতা করছেন, কিন্তু কথাগুলো শেষ হবার পর সে সন্দেহ আর রইল না। ভেতরে ভেতরে মনটা কঠোর হয়ে উঠল। বু, যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব দেখিয়ে বললেন, ‘আমি উঠছি, রান্না করতে হবে।‘

    এবার সত্যি সত্যিই উঠে দাঁড়ালেন তিনি। স্বামী ভদ্রলোকও আর তাকে বসতে বললেন না।

    ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি। হলে হবে কি, শরীরটা আর নিজের বশে নেই। চোখ-মুখ দিয়ে আগুন ছুটছে। পা দুটো যেন আর মাটিতে নেই। সামনের দালানটা পেরিয়ে ঝড়ের মতো কিচেনে গিয়ে ঢুকলেন। ঘরটা অন্ধকার। এক সেকেণ্ড দাঁড়িয়ে সুইচটা মেরে দিলেন। আলো ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। ডিপ ফ্রিজটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। একটানে ডালাটা খুলেই ভেতরে হাত বাড়ালেন। মুঠির ভেত্র যেটা পড়ল সেটাকেই টেনে বার করলেন বাইরে। দেখলেন, ব্রাউন পেপার জড়ানো লম্বা মন কি যেন একটা। ফরফর করে মোড়কটা ছিঁড়ে ফেলতেই, আলোয় কচক করে উঠল ভেতরের জিনিসটা। সেটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ দুটি ছোট হয়ে এল মিসেস মেলনির।

    জিনিসটা আর কিছুই নয়, একটা আস্ত ভেড়ার ঠ্যাং। কদিন আগে কিনে আনা হয়েছিল মিটশপ থেকে। ডিপ-ফ্রিজে পড়ে থাকার ফলে শুকিয়ে শক্ত লোহার মতো হয়ে গেছে।

    এতেই হবে। এটা দিয়েই সারতে হবে কাজটা। মনে মনে বললেন মহিলা। ঠ্যাংটার নিচের দিকটা বেশ সরু। সেই জায়গাটাই দু হাতে ধরে বসার ঘরে দরজায় এসে দাঁড়ালেন তিনি। দেখলেন, ভদ্রলোক আর চেয়ারে নেই। জানলার ধারে দাঁড়িয়ে আকাশের তারা গুনছেন।

    যতই পা টিপে টিপে ঢুকুন না কেন, তিনি যে ঘরে ঢুকেছেন ভদ্রলোক টের পেলেন। কিন্তু পিছু না ফিরে আগের মতোই তাকিয়ে রইলেন আকাশের দিকে। বললেন, ‘আর যাই করো, আমার জন্যে যেন রান্না করো না। ও কাজটা আমি বাইরেই সেরে আসব।’

    মিসেস মেলনি ততক্ষণে তার পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। দু হাতে চেপে ধরা জানোয়ারের ঠ্যাংটা ওপরে তুলেই সজোরে বসিয়ে দিলেন স্বামীর মাথায়। ঢপ করে একটা আওয়াজ হলো। পরে পরেই দু’পা পিছিয়ে গেলেন তিনি। অবস্থাটা কি হয় দেখার জন্যে। বেশি নয়, চার-পাঁচ সেকেন্ড দাঁড়াবার পর দেখলেন, ভদ্রলোক লুটিয়ে পড়লেন মেঝেতে। পাশে, একটা টেবিল ছিল, ধাক্কা খেয়ে সেটা ছিটকে গেল দূরে।

    এবার মেজাজটা একটু শান্ত হলো মিসেস মেলনির। মাটিতে পড়ে থাকা স্বামীর দিকে তাকিয়ে কাজটার গুরুত্ব টের পেলেন তিনি। ধীরপায়ে বার হয়ে গেলেন ঘর থেকে। বিড়বিড় করে বললেন, ব্যাপারটা কি দাঁড়াল? দাঁড়াল, আমি আমার স্বামীকে নিজের হাতে খুন করলাম।

    অসম্ভব হলেও, ঘটনাটা সত্যি। কিন্তু এ কাজের পরিণাম কি? রীতিমত চিন্তিত হয়ে পড়লেন মিসেস মেলনি। পুলিসের এক জাঁদরেল গোয়েন্দা অফিসারের স্ত্রী হিসেবে তিনি বেশ ভালই জানেন, এ অপরাধের শাস্তি কি। কিন্তু এ মুহূর্তে সে ভয়টাকে খুব বড় বলে মনে হয় না। প্যাট্রিককে ছেড়ে বেঁচে থাকার চাইতে, সে শাস্তি অনেক ভাল। ভানা হলো আর একজনকে নিয়ে। যে সন্তান আলোর অপেক্ষায় দিন। গুনছে, চিন্তাটা তাকে নিয়ে। আচ্ছা, আইন কি বলে? দুজনের প্রাণদণ্ড কি একসঙ্গেই দেবে? নাকি সামনের বাকি দিন ক’টা তাকে বাঁচিয়ে রাখা হবে?

    আইনকানুনের কিছুই জানেন না তিনি। অতএব কাল জোব্বার মালিকদের হাতে নিজের স্বকিছু ছেড়ে দিতে তিনি রাজি নন। যে ভাবেই হোক, অভিযোগ এড়িয়ে যেতে হবে, না হলে নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাবেন তিনি।

    ভেড়ার ঠ্যাংটা নিয়ে কিচেনে ফিরলেন মিসেস মেলনি। গ্যাস ওভেনের পাল্লাটা খুলে গোটা ঠ্যাংটাই সেটার ভেতর রেখে আগুনটা জ্বালিয়ে দিলেন। তারপর ভাল করে হাত-মুখ ধুয়ে নিজের ঘরে গেলেন। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে দেখলেন মিসেস মেলনি। মাথার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে। ঘামে মুখের প্রসাধন প্রায় ধুয়ে গেছে। দ্রুত হাতে পাউডার পাফ বুলিয়ে সেটুকু সামলে নিলেন। তিনি। লিপস্টিকটা ঠোঁটের ওপর বুলিয়ে নিয়ে হাসবার চেষ্টা করলেন তিনি। হাসি হলো, কিন্তু সে হাসি পছন্দ হলো না তার। বারবার একটানা চেষ্টা করার পর কিছুটা স্বাভাবিক হাসি হাসতে পারলেন। নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বললেন ‘হ্যাল্লো!

    পরমুহূর্তে মনে হলো গলার স্বরটা বড় বেসুরো। বারকয়েক গলা ঝেড়ে নিয়ে তাকালেন আয়নার দিকে। বললেন, ‘হ্যাল্লো স্যাম, আমায় কিছু ভাল আলু দিতে পারো? আর হ্যাঁ, কিছু মটর কড়াই?’

    তারপরই কেমন যেন মনে হলো তাঁর। বলার ধরনটা খুব একটা স্বাভাবিক হয়নি। অতএব আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বারবার মহড়া দিতে লাগলেন। অনেক পরে নিজেকে স্বাভাবিক মনে হতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন মিসেস মেলনি। সিঁড়ি দিয়ে একতলায় নেমে পিছনের দরজা দিয়ে একেবারে গ্যারেজে। নিজের গাড়িতে বসে স্টার্ট নিলেন সজোরে।

    দুটো বাজতে তখন কিছু বাকি। যে দোকান থেকে বারবার বাড়ির জিনিসপত্তর কেনা হয়, সেটার সামনে গিয়ে ব্রেক করলেন, ‘হ্যাল্লো স্যাম—’

    কাউন্টারের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা দোকানদারের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বললেন, ‘মিসেস মেলনি, আপনি! গুড ইভনিং, কেমন আছেন?’

    ‘ভাল ভাল, বেশ ভাল। তোমার খবর কি?’

    ‘ওই একরকম।‘

    ‘দেখো স্যাম, আমায় কিছু ভাল আলু দিতে পার?—আর হ্যাঁ, ভাল মটরদানা আছে? থাকে তো তা-ও এক প্যাকেট দাও।

    দোকানদার তাক থেকে একটা প্যাকেট নিয়ে কাউন্টারের ওপর রাখলেন।

    ‘বৃহস্পতিবার হলে আমরা সাধারণত হোটেলে খাই। ঘরে আর বাঁধি না। কিন্তু প্যাট্রিক আজ এত ক্লান্ত যে, বাইরে যেতে চাইল না। বলল, বাড়িতেই যা তোক কিছু রাঁধো। এদিকে সবজি কিছুই নেই বাড়িতে।‘

    ‘আলু মটরের সমস্যা না হয় মিটল, কিন্তু মাংসের কি করবেন?’

    ‘ওটা আছে। একটা আস্ত ভেঁড়ার ঠ্যাং ডিপ ফ্রিজ থেকে বার করেছি।‘

    ‘তাহলে আর কি?’

    ‘যদিও ফ্রিজের মাংস আমার তেমন ভাল লাগে না। কেমন যেন শুকনো মতন। তুমি কি মনে করো, খুব বাজে একটা কিছু হবে?’

    ‘তফাত তেমন কিছু হয় না। কিন্তু তারপর?’

    ‘তারপর বলতে?’

    ‘শেষ পাতে কি দেবেন তাঁকে?’

    ‘সেটা তো ভাবিনি। তুমি কি দিতে বলো?’

    ‘আমি বলি পুডিং। আমি জানি, ও জিনিসটা মিঃ প্যাট্রিকের খুব পছন্দ।‘

    ‘বলছ? তাহলে তাই-ই দাও।’

    গাড়িতে বসে আবার স্টার্ট নিলেন মিসেস মেলনি। ভাবলেন, এবার আরো সাবধান হতে হবে। চোখে-মুখে এমন ভাব বজায় রাখতে হবে যাতে কেউ কোনো সন্দেহ করতে না পারে। এমনভাবে বাড়ি ফিরতে হবে, যেন সেখানকার অবস্থা তিনি কিছুই জানেন না। কিন্তু বাড়ি ফিরে যখন সেই বাজে দৃশ্যটা দেখবেন, একমাত্র তখনি তিনি ভেঙে পড়তে পারেন। তাহলে উপস্থিত তার ভূমিকা কি? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করলেন মিসেস মেলনি। জবাবটাও নিজেই দিলেন। তিনি হলেন মিসেস প্যাট্রিক মেলনি। পুলিশের এক জাঁদরেল গোয়েন্দা অফিসারের স্ত্রী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দোকান থেকে ফিরছেন তিনি। উদ্দেশ্য, ক্লান্ত স্বামীকে যত শীগগির সম্ভব কিছু বেঁধে খেতে দেয়া। হ্যাঁ, মনের এই ভাবটাই নিখুতভাবে বজায় রাখতে হবে সব দিক থেকে। না হলেই বিপদ।

    তাই-ই করলেন মিসেস মেলনি। পিছনের দরজা দিয়ে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে বাড়ি ঢুকলেন তিনি। প্রথমেই গেলেনে কিচেনে। সেখান থেকে গলা চড়িয়ে বললেন, ‘প্যাট্রিক, আমি এই ফিরলাম। তোমার খবর কি? একা একা খুব খারাপ লাগছে তো?’

    স্বাভাবিকভাবেই কোনো জবাব এল না প্যাট্রিকের তরফ থেকে। আনা জিনিসগুলো টেবিলের ওপর রেখে বসার ঘরে ঢুকলেন মিসেস মেলনি। সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পেলেন প্যাট্রিককে। দু’পা মুড়ে একটা হাতের ওপর দেহের সব ভার দিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন। মিসেস মেলনির মনটা আপনা হতেই হুহু করে উঠল।

    অভিনয়ের আর প্রয়োজন হলো না। ব্রিাহিত জীবনের নানা স্মৃতি মনে ভিড় করে। আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। ঝরঝর করে জল ঝরে পড়ল চোখ দিয়ে। ছুটে গিয়ে বসে পড়লেন স্বামীর পাশে।

    অনেক পরে নিজেকে শক্ত করে উঠে দাঁড়ালেন। টেলিফোনটার কাছে গিয়ে রিসিভারটা তুলে নিলেন। প্যাট্রিকের দৌলতে পুলিশ স্টেশনের নম্বরটা তার জানা। ডায়াল করতেই সেদিককার সাড়া পাওয়া গেল, হ্যালো

    ‘এখখুনি আমার বাড়িতে আসুন, এখখুনি! আমার স্বামী,— মানে প্যাট্রিককে, কে বা কারা খুন করে গেছে।‘

    ‘কিন্তু তার আগে বলুন, আপনি কে? কোথা থেকে কথা বলছেন?’

    ‘আ-আমি, মানে মিসেস মেলনি।’

    ‘মিসেস প্যাট্রিক মেলনি?’

    ‘হ্যাঁ।‘

    ‘কি বলছেন আপনি! প্যাট্রিক খুন হয়েছে?’

    ‘আমার সেই রকম মনে হচ্ছে!’

    ‘সে কি! আচ্ছা ঠিক আছে—আমরা এখুনি যাচ্ছি।‘

    কিছু পরেই পুলিশের জিপ এসে দাঁড়াল বাগানে। পায়ের আওয়াজ শোনা গেল সিঁড়িতে। মিসেস মেলনি দরজার মুখে গিয়ে দাঁড়াতেই দু’জন পুলিশ অফিসারের সামনে পড়লেন। স্বামীর সহকর্মী হিসেবে দু’জনেই পরিচিত। হলে হবে কি, কোনোরকম সম্ভাষণ জানানোর আগেই মাথাট বোঁও করে ঘুরে গেল। কিন্তু মেঝেতে আছড়ে পড়ার আগেই জ্যাক নূন্নান তাকে ধরে পেললেন। সন্তর্পণে নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিলেন একটা চেয়ারে। দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন মিঃ ও ম্যালে। তিনি ততক্ষণে প্যাট্রিককে পরীক্ষা করতে শুরু করেছে। একটু সুস্থির হবার পর মিসেস মেলনি জিজ্ঞেস করেন, ‘ও কি সত্যিই আর নেই?’

    ‘সেই রকমই মনে হচ্ছে। কিন্তু ঘটনাটা কি?’

    উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠায় মিসেস মেলনির অবস্থা খুব কাহিল। গলা দিয়ে স্বর বার হয় না। তবু সংক্ষেপে সব কথাই বললেন তিনি। চোখের জল ঝরে পড়ল দু’গাল বেয়ে।

    সেই সময় আরো দু’চারজন ঘরের ভেতরে এসে দাঁড়ালেন। তাঁদের কেউ ডাক্তার, কেউ ফটোগ্রাফার, কেউ বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। প্যাট্রিককে কেন্দ্র করে যে যার কাজ শুরু করে দিলেন। গোয়েন্দাদের একজন আবার মিসেস মেলনির খুবই পরিচিত। নাম মিঃ ল্যাটের। ভদ্রলোক খুব নরম গলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। বাধ্য হয়ে আবার মুখ খুলতে হলো মিসেস মেলনিকে। কাহিনী শেষ করতেই মিঃ ল্যাটের জিজ্ঞেস করলেন, কোন দোকানে গেছিলেন?

    মিসেস মেলনি নাম বললেন দোকানটার।

    হাত কয়েক দূরে গোয়েন্দাদের ক’জন সহকারী দাঁড়িয়েছিলেন। দোকানের নামটা কানে যেতেই তারা নিচু গলায় কি বলাবলি করলেন নিজেদের মধ্যে।

    পরক্ষণেই একজনকে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে দেখলেন মিসেস মেলনি।

    মিনিট পনের পরে সে মানুষটিকে ফিরে আসতে দেখলেন মিসেস মেলনি। ঘরের সবকটি মানুষ তাঁকে ঘিরে দাঁড়ালেন। নিচু গলায় তিনি তাঁর রিপোর্ট পেশ করলেন। কান পাতলেন মহিলা।

    ‘ন্‌-না, দোকানদার ওনাকে বেশ হাসিখুশিই দেখেছেন…. রীতিমত স্বাভাবিক। …আলু আর মটর কড়াই নিয়েছেন।…. না, আন্তরিকতার কোনো অভাব চোখে পড়েনি। আমার মনে হয়, এ কাজ ওনার পক্ষে অসম্ভব।‘

    কিছু পরে ডাক্তার আর বিশেষজ্ঞর দল বার হয়ে গেলেন ঘর থেকে। স্ট্রেচার হাতে এসে হাজির হলো দু’জন,—প্যাট্রিকের দেহটা নিয়ে চলে গেল তারা। দু’জন সিপাহি আর দু’জন গোয়েন্দা শুধু রয়ে গেলেন ঘরের ভেতর। গোয়েন্দা দু’জন খুবই ভাল। মিসেস মেলনির মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে, তারা মহিলাকে তাঁর বড় বোনের বাড়ি পৌঁছে দেবার প্রস্তাব করলেন। সেখানে যাবার ইচ্ছা না হলে, তারা মহিলাকে নিজেদের বাড়ি নিয়ে গিয়ে রাখতে পারেন। সেখানে তাদের স্ত্রী আছেন, দেখাশোনার কোনো ত্রুটি হবে না।

    সব ব্যাপারেই নিজের অনিচ্ছা প্রকাশ করলেন মিসেস মেলনি। না, এই মুহূর্তে এ বাড়ি ছেড়ে তিনি কোথাও যেতে রাজি নন।

    তাহলে এক কাজ করুন, এভাবে বসে না থেকে একটু বরং শুয়ে পড়ুন।

    জ্যাক নুন্নানের প্রস্তাবে মাথা নাড়লেন মিসেস মেলনি, না, এই বেশ আছি। শরীরটা সামলে গেলে উঠে পড়ব।

    বাধ্য হয়ে গোয়েন্দারা তাকে একলা রেখেই নিজেদের কাজে লেগে পড়লেন। তাদের চলাফেরা বা কথাবার্তার ধরন দেখে মিসেস মেলনির মনে হলো, তারা কিছু একটা খুঁজছেন!

    কিছু না পেয়ে এক সময় দাঁড়িয়ে পড়লেন মিঃ ল্যাটের। জ্যাক মুন্নানের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার ধারণা, আততায়ী পিছন দিকে থেকে প্যাট্রিককে আঘাত করেছে। লোহার রড বা ওই রকমই কোনো ভেঁতা কিছু দিয়ে কাজটা সারা হয়েছে। কিন্তু ঘরের ভেত্র সেরকম কিছু যখন দেখছি না, তখন বুঝতে হবে খুনী সেটা সঙ্গে করেই নিয়ে গেছে। যদিও অমন একটা জিনিস হাতে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়া অসম্ভব। অতএব, খুনী যে সেটা বাড়িরই কোথাও না কোথাও ফেলে গেছে, তাতে আমি নিঃসন্দেহ।

    ‘আমিও তাই মনে করি।’ মিঃ নুন্নান বললেন, শুধু তাই নয়, খুব ঠাণ্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে যে কাজটা করা হয়েছে তা নয়। হঠাৎ ঝোকের বশে এ কাজটা হয়ে গেছে। যাই হোক, অস্ত্রটার সন্ধান পেলেই খুনীকে হাতেনাতে ধরে ফেলা সম্ভব হবে।

    মিসেস মেলনি আগের মতোই চেয়ারে বসে। একেবারে চুপচাপ। সহকারী গোয়েন্দারা যে বাড়ির বাকি ঘরগুলোয় তল্লাশি করছে, সেটা তিনি বুঝতেই পারছেন। অবিরাম খুটখাট চেয়ার টেবিল নাড়াচাড়া করার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। অনেক পরে মিঃ ল্যাটের ঘরে এসে মিসেস মেলনির চেয়ারের পাশে ধপ করে বসে পড়লেন।

    ‘নাঃ, কিছুই চোখে পড়ল না।’

    এ কথার কি জবাব দেবেন মিসেস মেলনি! চুপ। মিঃ ল্যাটের জিজ্ঞেস করলেন, ‘লোহার রড বা ওই ধরনের কিছু ছিল বাড়িতে? একটু ভেবে দেখুন তো!’

    মাথা নাড়লেন মিসেস মেলনি, ‘উঁহু, ঘরের ভেতর তেমন কিছু ছিল না। তবে—’

    ‘তবে?’

    ‘গ্যারেজে অমন অনেক কিছুই রাখা আছে। আপনারা সে জায়গাটা দেখেছেন?’

    সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়লেন মিঃ ল্যাটের। দ্রুত বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে।

    গ্যারেজঘর তন্নতন্ন করে দেখা হলো, বাগানটাও বাদ গেল না। মিসেস মেলনি চেয়ারটায় অনড় হয়ে বসে থাকলেও সবকিছু আন্দাজ করতে পারেন। অস্ত্রটা খুঁজে বার করতে ত্রুটি করছে না কেউ। বাগানটা চষে ফেলছে বলতে গেলে। জানলার পর্দার ওপাশে চমকে চমকে উঠছে টর্চের আলো।

    একসময় ঢং ঢং করে ন’টার ঘণ্টা বাজল ওয়াল-ক্লকটায়।

    আরো কিছু পরে মিঃ নুন্নান ঘরে ঢুকলেন, সঙ্গে জনা দুই অফিসার। সকলের মুখ চিন্তিত। সকলেই খুব গম্ভীর। মিসেস মেলনি বুঝলেন, সকলেই হতাশ হয়েছে। করুণা হলো মিসেস মেলনির। নরম গলায় বললেন, জ্যাক, একটা অনুরোধ করব, রাখবেন?

    ব্যস্ত হয়ে পড়লেন মিঃ নুন্নান। সপ্রতিভভাবে বলেলন, ‘নিশ্চয়! কি অনুরোধ বলুন?’

    আইনগত কোনো বাধা না থাকলে আমায় একটু পানীয় দিতে পারেন? গলাটা বড় শুকিয়ে গেছে।‘

    ‘এ আর এমন কি ব্যাপার, আমি এখনি দিচ্ছি।‘

    এ বাড়ির কোথায় কি থাকে, তা অজানা নয় মিঃ নূন্নানের। প্যাট্রিকের সঙ্গে এসে দিনের পর দিন ঘন্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে গেছেন এ বাড়িতে। বলেন, ‘কি দেব, হুইস্কি?’

    ‘তাই-ই দিন, তবে খুব সামান্য।‘

    মিঃ নুন্নান কাবার্ড খুলে গ্লাসে পানীয় ঢাললেন। পরে ফিরে এসে গ্লাসটা মিসেস মেলনির হাতে দিতেই, তিনি বললেন, আপনি নিলেন না? সেই সন্ধ্যে থেকে একটানা ধকল যাচ্ছে,–আপনিও তোত ক্লান্ত।

    ‘বেশ, বলছে যখন নিচ্ছি,–তবে সামান্য নেব। শুধুমাত্র নিজেকে খাড়া রাখার জন্যে যতটা দরকার, ততটুকুই।‘

    ‘তাই-ই নিন।‘

    এই সময় আরো অনেকেই এসে হাজির হলেন ঘরে। মিসেস মেলনির অনুরোধে তারাও একটা করে গ্লাস নিলেন। দৃশ্যের বদল হলো। দেখা গেল সকলের হাতেই গ্লাস। সকলেই ঘিরে আছে মিসেস মেলনিকে। নানাভাবে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করছেন সকলে।

    মিঃ নুন্নান কখন ঘর থেকে বেরিয়ে গেছিলেন, খেয়াল করেননি মহিলা। তিনি আবার ঘরে ঢুকলেন। বললেন, মিসেস মেলনি, কিচেনে ঢুকে দেখি, উনুনটা এখনো জ্বলছে বোধহয় মাংস বসিয়েছিলেন, তাই না? বেশ ভুরভুরে গন্ধ বেরিয়েছে।

    ‘হ্যাঁ, তাই তো। ইস্, ওটার কথা একেবারে খেয়াল নেই।‘

    ‘যদি বলেন তো, উনুনটা নিভিয়ে দিই?’

    ‘তাহলে তো ভালই হয়! সত্যি, কি বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দেব—’

    বেরিয়ে গেলেন মিঃ নুন্নান। কিছু পরে কিচেন থেকে ফিরে আসতেই মিসেস মেলনি বললেন, ‘জ্যাক, এতেই যখন করলেন, তখন আর একটা অনুরোধ করব? রাখবেন?’

    ‘যদি সম্ভব হয়, নিশ্চয় রাখব।‘

    ‘বেশ।’ বলে একটু থামলেন মিসেস মেলনি। সমবেত সকলের মুখের ওপর চোখ বুলিয়ে নিয়ে বললেন, ‘আপনারা সকলেই আমার স্বামীর বিশেষ বন্ধু। প্যাট্রিকের হত্যাকারীকে খুঁজে বার করতে সেই সন্ধে থেকে যা করছেন, তার জন্যে আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কথা হচ্ছে, সবকিছুই একটা সীমা আছে। আপনারা ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্ত। এই সময় আমার যা কর্তব্য তা যদি না করি, তো প্যাট্রিকের আত্মা শান্তি পাবে না। তাই বলি, উনুনে রোস্ট তো একরকম তৈরিই,—এখন সকলে মিলে যদি সেটার সদ্ব্যবহার করেন—’

    ‘কি বলছেন আপনি?’ বিস্মিত নুন্নান।

    ‘প্লিজ, একটু ভেবে দেখুন,—ও জিনিসটার কি হবে? ফেলা যাবে? আমার পক্ষে ও জিনিস মুখে ভোলা অসম্ভব। কিন্তু আপনারা তাঁর বন্ধু–তার জন্যে যে জিনিস তৈরি হয়েছে, সে জিনিস খেতে আপনাদের আপত্তি কিসের? দয়া করে খান, বিশ্রাম করুন, তারপর আবার কাজ শুরু করুন।‘

    সকলেরই খিদে পেয়েছিল। একটা দোটানার ভাব দেখা গেল সবার মধ্যে। মিসেস মেলনি বললেন, ‘এত সংকোচের কি আছে? এ বাড়িতে আপনারা কেউ নতুন নন। নিন শুরু করুন তো।‘

    এর ওপর আর কথা চলে না। জ্যাক মুন্নান সকলকে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসলেন। মিঃ ল্যাটের কিচেন থেকে রোস্টের খণ্ডটা নিয়ে এসে রাখলেন সবার সামনে। মিসেস মেলনি আর উঠলেন না। আগের মতোই চেয়ারে বসে স্বামীর সহকর্মীদের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারা তখন গোগ্রাসে খেতে শুরু করেছেন ভেটর ঠ্যাংটা।

    চার্লি, তোমায় আর একটু মাংস দিই?’ জ্যাকের অনুরোধ।

    ‘উঁহু, সবাই মিলে সবটা উড়িয়ে দেয়া ঠিক নয়।‘

    ‘এটা একটা কথা হলো? শুনলে তো,ভদ্রমহিলা সেটাই চান।‘

    ‘তাহলে দাও আর একটু।’

    তাদের দিকে অপলকে তাকিয়ে কান পেতে বসে থাকেন মিসেস মেলনি। একজন বললেন, ‘যাই বলো, আমার মনে হয়, অস্ত্রটা বেশ ভারি ছিল। ডাক্তার বলছিলেন, মাথার খুলিটা একেবারে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।‘

    অতএব অস্ত্রটা যে বেশ ভারি ছিল, তাতে কোনো সন্দেহই নেই। আর অমন ভারি জিনিস কি লুকিয়ে রাখা সম্ভব?

    ‘মোটেই নয়।‘

    আর একজন ঢেঁকুর তুলে বললেন, আমার ধারণা, জিনিসটা এ বাড়িরই কোথাও না কোথাও আছে।

    বিচিত্র কিছু নয়। হয়ত দেখবে, নাকের ডগাতেই পড়ে আছে। আর সেই কারণেই চোখে পড়ছে না। তুমি কি বলো? জ্যাক?

    তাঁদের কোনো কথাই অস্পষ্ট নয় মিসেস মেলনির কাছে। পাশের ঘরে বসে বসে শোনেন আর ফিকফিক করে হাসেন মহিলা।

    ——–

    রোয়াল্ড ডাল-এর ‘ল্যাম্ব টু দি স্লটার’ অবলম্বনে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }