Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প1423 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পৃথিবী শস্যশালিনী – শৈবাল মিত্র

    পৃথিবী শস্যশালিনী – শৈবাল মিত্র

    বিয়ের দুবছর পরেও তনিমার ছেলেপুলে না হতে বাড়ির মেয়েমহলে কানাকানি শুরু হল। আড়ালে আবডালে নানা কথা, আলোচনা চলতে থাকল। টুকরো কিছু কথা তনিমার কানেও এল। সন্তান না হবার জন্যে তনিমা জয়ন্তর মধ্যে কে দায়ী, এই হল আলোচনার বিষয়। বিরক্ত হলেও তনিমা মুখে কিছু বলল না। না শোনার ভান করে চুপ করে থাকল। কিন্তু চুপ থাকলেও যে রেহাই পাওয়া যায়, এমন কথা নেই। তনিমাও পেল না। প্রথমে, জয়ন্তর ঠাকুমা, সাতাত্তর বছরের ননীবালার প্রশ্নের মুখোমুখি হল তনিমা। ননীবালা প্রশ্ন করল, হারে দিদি, তোদের বাচ্চাকাচ্চা হচ্ছে না কেন? তোর পরে উমার বিয়ে হল, তার কোলে এখন দু-মাসের ছেলে।

    দীঘায় যাবার জন্যে তনিমা সুটকেস গোছাচ্ছিল। বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে খবরের কাগজ পড়ছে জয়ন্ত। একটু আগে সে অফিস থেকে ফিরেছে রাত প্রায় আটটা। কাল সকাল সাতটায় দীঘার বাস। হেমন্তকালের সকাল সাতটা, ভোররাতের প্রায় গা ঘেঁসে থাকে। যেমন ফুস করে আসে, সেভাবে চোখের নিমেষে মিলিয়ে যায়। সকালে করার জন্যে কোনও কাজ ফেলে রাখা যায় না। দ্রুত হাতে নিমা তাই গোছগাছ সেরে নিচ্ছে। ননীবালার সঙ্গে সম্পর্কটা অঙ্গ হলেও প্রশ্ন শুনে লাল হল তনিমার মুখ। হতেই পারে। তনিমার বয়স চব্বিশ। কোন্ প্রশ্নে লজ্জা পেতে হয়, সে জানে। তার ছোটো বোন উমা, পরে বিয়ে হলেও যে মা হয়ে গেছে, একথা মিথ্যে নয়। আড়চোখে জয়ন্তকে একবার দেখে, দিদিশাশুড়ির পিঠে ছোট এক কিল মেরে তনিমা বলল, তোমার নাতিকে জিজ্ঞেস করো।

    ননীবালা পুরনো আমলের মানুষ। তনিমার জবাবে খুশি হলো না। ননীবালা বলল, ওসব বললে তো চলবে না। সন্তানধারণ করবে তুমি। স্বামীকে দিয়ে কাজটা তোমাকেই হাসিল করে নিতে হবে। করতে না পারলে তোমারই দুর্নাম রটবে। পাঁচজনে ভাববে তুমি বাঁজা।

    ননীবালার মন্তব্যে ক্ষুণ্ণ হলেও মুচকি হেসে তনিমা বলল, বংশ বাঁচাতে নাত্রি জন্যে পাত্রী দেখা শুরু করো।

    তনিমার চিবুক ধরে ননীবালা ফিসফিস করে বলল, আমার নাতিটা বাঁজা হলে কি করবো?

    শব্দ করে তনিমা হেসে উঠতে খবরের কাগজ থেকে চোখ সরিয়ে জয়ন্ত বলল, হাসিঠাট্টার ভাগ কি আমি পেতে পারি?

    তনিমা কিছু বলার আগে মেঝে থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ননীবালা বলল, স্বামী-স্ত্রী বেড়াতে যাচ্ছো, খুব ভালো কথা। যাও। বিয়ের পর থেকে গত দুবছরে এই নিয়ে তিন, চার বার হনিমুন হল। সমুদ্রে, পাহাড়ে, ভালো ভালো জায়গায় তোমরা হনিমুন করেছ, অথচ কোনও ফল নেই। পরেরবার যেন তিনজনকে বেড়াতে যেতে দেখি। ছদ্ম রাগে ঘর ছেড়ে গটগট করে ননীবালা বেরিয়ে যেতে লজ্জায় লাল হল তনিমার মুখ। ছোটো ননদ পুতুল কখন পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তনিমা দেখেনি। চোখ তুলতে পুতুলকে নজর করল। মুখ টিপে পুতুল হাসছে। পুতুলের বয়স সতেরো, আঠারো। হাসার অধিকার তার আছে। এক লহমা তার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর মুখে তনিমা সুটকেস ভরতে থাকল।

    আমি কোনও সাহায্য করতে পারি?

    পুতুলের প্রশ্নে স্মিত হেসে তনিমা বলল, বসো। দরকার হলেই বলব।

    কারুকার্য করা মোজেকের মেঝেতে তনিমার পাশে পুতুল বসল।

    এসব তিনদিন আগের ঘটনা। ইতিমধ্যে তনিমা, জয়ন্তর দুরাত দীঘা কেটে গেছে। আরও দুরাত তারা দীঘায় থাকবে। বিয়ের পর জয়ন্তর সঙ্গে তনিমা দ্বিতীয়বার দীঘায় এল। প্রথমবার ছিল দু-দিন। এবারে থাকছে চারদিন। পরশু রাতের বাসে কলকাতায় ফিরবে। কলকাতায় বাস পোঁছোবে পরের দিন ভোরে। দীঘা বেড়াতে চার দিন কম নয়। কিন্তু যে কারণে দীঘা এসেছিল, সেটা ঘটেনি, কারণটা এত গোপন, কাউকে বলা যায় না। বললেও সেটা হাস্যকর শোনাবে। হয়তো খানিকটা অশ্লীলও মনে হতে পারে। বিষয়টা স্বামী, স্ত্রীর একান্ত নিজেদের। তনিমা, জয়ন্তও তা জানে। আসার কারণটা তারা তাই কাউকে বলেনি। অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে একমাত্র বৃদ্ধা ননীবালা কারণটা ছুঁয়েছিল। ননীবালার কথায় লজ্জায় আরক্তিম হলেও তনিমা চমকে উঠেছিল। সাতাত্তর বছরের দিদিশাশুড়িকে তার মনে হয়েছিল অন্তর্যামী। তার সঙ্গে জয়ন্তর গোপন চুক্তি কিভাবে ননীবালা জানল, হদিশ করতে পারেনি।

    ননীবালা আসলে আন্দাজেই কথাটা বলেছিল। জীবনের অন্তিম পর্বে নাতিপুতিতে অপুর সংসারটাকে নিজের চোখে দেখে যাবার আকাঙক্ষা সাতাত্তর বছরের বৃদ্ধার সম্ভবত প্রবল হয়েছিল। ননীবালার আকাঙক্ষার সঙ্গে গোপনে, অজ্ঞাতে তনিমার প্রত্যাশা কীভাবে মিশে গেল, কে বলতে পারে। ননীবালার কথা শুনে অবাক তনিমা স্মৃতিমগ্ন হয়েছিল।

    বিয়ের পর বছর ঘুরতেই জয়ন্তর কাছে তনিমা আভাসে মা হবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। জয়ন্ত প্রথমে বুঝতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যে তনিমার প্রত্যাশা হৃদয়ঙ্গম করে ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল তার মুখ। স্থির চোখে জয়জ্ঞ দিকে তনিমা তাকিয়েছিল। স্বামীর মুখের অভিব্যক্তি দেখে অবাক হয়েছিল। প্রাণবস্তু, স্বাস্থ্যবান মানুষটি হঠাৎ কেন উদাসীন হয়ে গেল, অনুমান করতে চেয়েছিল। জয়ন্ত কী অসুস্থ বোধ করছে? তাকে আহত করার মতো কোনও শব্দ কি সে উচ্চারণ করে ফেলেছে? কিছুটা বিহ্বল হয়ে তনিমা প্রশ্ন করল, কি হল তোমার?

    তনিমার প্রশ্নে জয়ন্ত বলেছিল, আরও বছরখানেক যেতে দাও।

    তনিমা রাজি হয়েছিল। এমন একটা সাধারণ অনুরোধে রাজি না হবার কারণ ছিল। আনকোরা দাম্পত্যের মৌতাত জয়ন্তর মতো সে-ও উপভোগ করছিল। তার। উপভোগের তীব্রতা, আবেশ স্বামীর চেয়ে বেশি ছিল। তার ধারণা হয়েছিল, তৃতীয় এক অস্তিত্বকে সে সন্তান হলেও, এই মুহূর্তে যুগলজীবনের মাঝখানে জয়ন্ত আনতে চায় না। সাতাশ বছরে স্বামীর অতৃপ্ত বানার ইঙ্গিত বুঝতে তনিমার অসুবিধে হয়নি। আরও এক বছর যুগলে ঝাড়া হাত-পা থাকার জন্যে যা যা করা দরকার তনিমা করেছিল। কিন্তু দ্বতীয় বছর ফুরোবার আগেই তনিমা টের পেল, জয়জ্ঞ নিঃসন্তান থাকার ইচ্ছেটা, সে যা ভেবেছিল, ঠিক তত সহজ নয়। জয়ন্তকে বুঝতে তার ভুল হয়েছে। শুধু দায়হীন দাম্পত্য খ উপভোগ করার জন্যে জয়ন্ত নিঃসন্তান থাকতে চায় না। তার সন্তান না চাওয়ার কারণ আরও গভীর, জটিল। মুখে সেকথা না বললেও টুকরো টুকরো মন্তব্য, মতামতে, জয়ন্ত যা জানিয়েছে। তা হল, ছেলেপুলের দরকার কী? দুজনেই দিব্যি থাকা যায়!

    হালকা চালে বলা জয়স্ত কথাগুলোকে তনিমা গোড়ায় গুরুত্ব দেয়নি। রসিকতা ভেবেছিল। স্বামীর কথায় সায় দিয়ে সে বলত, একদিক থেকে কথাটাই ঠিক। বাচ্চাকাচ্চার ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লে এখন আমরা যেমন মেজাজে আছি, প্রেম আর থাকা যাবে না।

    কথাটা সেই মুহূর্তের জন্য সত্যি হলেও অন্যসময়ে তনিমা অনুভব করত, সে যা বলেছে, সঠিক নয়। শব্দহীন, নির্জন কোনও দুপুরে, বর্ষার নিঃশব্দ সন্ধ্যায়, হঠাৎ ভীষণ একা, নিঃসম্বল মনে হত। নিজর অপরিপূর্ণতা টের পেত। খেলো লাগত নিজেকে। জয়জ্ঞ ওর অভিমানে ছটফট করতে। তার অস্থিরতা টের পেয়েও জয়ন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বরং সন্তানের প্রসঙ্গ উঠলেই ধামা চাপা দোর চেষ্টা করেছে। বিয়ের দ্বিতীয় বছর পেরোতেই ঠারেঠোরে না বলে ইচ্ছেটা তনিমা আবার সরাসরি জানিয়েছিল। মুহূর্তের জন্যে গম্ভীর হয়েছিল জয়ন্ত। থমথম করছিল তার মুখ। নিজেকে সামলে নিয়ে মুচকি হেসে বলছিল, চলো দীঘা যাই।

    কবে?

    সামনে মাসের মাঝামাঝি, বুদ্ধজয়ন্তীর সঙ্গে দুদিন ছুটি আছে। আরও দু-দিন ক্যাজুয়াল লিভ নিয়ে নেব।

    তারপর?

    পৃথিবী শস্যসালিনী হবে।

    আনন্দে ঝলমলিয়ে উঠেছিল তনিমার মুখ। এক মুহূর্ত একটা হিসেব করে, জয় গলা জড়িয়ে ফিসফিশ করে বলেছিল, খুব ভালো সময়ে আমরা দীঘা যাব।

    জয়ন্ত কথা বাড়ায়নি। এক বুক রোমাঞ্চ নিয়ে দীঘা ভ্রমণের দিন গুনেছে তনিমা। নিস্তব্ধ দুপুরে, জানালার বাইরে মেঘে ডাকা বর্ষার আকাশ, বৃষ্টি ভেজা কৃষ্ণচূড়া গাছের চিকন বুজ পাতার দিকে, খাটের ওপর বুকের নিচে বালিশ রেখে তাকিয়ে কতরকম পরিকল্পনা যে করেছে, তার হিসেব নেই। দীঘায় আসার পরে, গত দু-দিনে কিন্তু তার ব পরিকল্পনা ওলোটপালোট হয়ে গেছে। আজ তৃতীয় রাত। সমুদ্রমেখলা হোটেলের বারান্দায় তনিমা একা দাঁড়িয়ে আছে। যে আশা নিয়ে দীঘায় এসেছিল, তা প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছে। সারাদিন হাসি, আনন্দ,বেড়ানো, সমুদ্রমানে মেতে থাকলেও নিভৃত রাতে কলকাতার মতোই বিধিবদ্ধ দাম্পত্যজীবনে জয়ন্ত নিজেকে বেঁধে রেখেছে। প্রথমরাতে তনিমা বুঝতে পারেনি। জয়ন্ত যে প্রতিশ্রুতি ভাঙবে, কল্পনা করেনি। ঘটনাটা সে টের পেল শেষ মুহূর্তে। তখন তার কিছু করার ছিল না। ক্ষোভে, দুঃখে দু-চোখে জল এসে গিয়েছিল। অভিমানে সে মুখ ঘুরিয়ে শুতে জয়ন্ত বলেছিল, এত তাড়া কীসের? আরও তিন রাত তো থাকছি।

    জয়ন্তর আচরণে, কথায় কোনও ত্রুটি ছিল না। ক্লান্তিতে বুজে আসছিল তনিমার চোখ। জয়র কণ্ঠস্বরের আন্তরিকতায় খানিকটা স্বাভাবিক হল সে। দেওয়ালের দিকে ফিরেই ভেজা গলায় প্রশ্ন করল, কেন তুমি এরকম করছ?

    বাইরে সমুদ্রর অবিরাম গর্জন। খোলা জানলা দিয়ে হু হু করে ছুটে আসছে নোনা বাতাস। পরের দিন বুদ্ধ পূর্ণিমা প্রাকপূর্ণিমার রাতেও আকাশে প্রায় থালার মতো গোল চাদ। জ্যোৎস্নায় ফিনিক ফুটছে। মিহি হলুদ ধোঁয়ার মতো চাদের আলো বিছানার ওপর লুটিয়ে ছিল। অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল জয়ন্তকে। হলদেটে মোমের মূর্ত্তি মতো জয়র মুখ। কয়েক মুহূর্ত জয়জ্ঞ মুখের দিতে তনিমা তাকিয়ে থাকল। প্রশ্নের জবাব না পেয়ে দ্বিতীয় যে প্রশ্নটা করল, তা সাংঘাতিক।

    তোমার কী কোন রোগ আছে?

    প্রশ্ন শুনে আতশব্দ করে বিছানার প্রান্তে ছিটকে সরে গেল জয়ন্ত। তারপর ধীরে ধীরে উঠে বসল। বেঁকের মাথায় বোস প্রশ্নটা করেই তনিমা ভুল বুঝতে পেরেছিল। আফশোস হচ্ছিল তার। বিছানায় সে-ও উঠে বসল। জয়র কাঁধে হাত রেখে বলেছিল, ভুল হয়ে গেছে, রাগ করো না।

    চুপচাপ কয়েক মুহূর্ত বসে থেকে জয়ন্ত বলেছিল, খুব একটা ভুল তুমি বলোনি। বোধহয় সত্যিই আমার কোন কঠিন অসুখ করেছে।

    কথাটা শুনে ধড়াস করে উঠলো তনিমার বুক। অসুখটা কী?

    প্রশ্ন করে জয় দিকে সে তাকিয়ে থাকলো। জয়ন্ত নিস্তব্ধ। ঘরের ভেতরে চাঁদের আলো ঈষৎ ঘন হয়েছে মোমের ঢাকনা সরিয়ে স্পষ্ট হয়েছে জয়ন্দ্র তীক্ষ্ণ নাক, ছুঁচোলো চিবুক, মুখ। লম্বা, ঘন চুল এলোমেলো হয়ে মাথায় ছড়িয়ে আছে, মারাত্মক অসুখটার নাম, ভয়।

    কীসের ভয়?

    জন্ম দেওয়া, জন্মগ্রহণের ভয়।

    কথাটা বুঝতে না পারলেও জয়ন্ত ভঙ্গিতে তনিমার গা ছমছম করছিল। বিছানায় জয়স্তর সামনে সরে বসলো সে। তার কাঁধে হাত রেখে জয়ন্ত প্রশ্ন করল, তোমার মা কেমন আছেন?

    প্রশ্ন শুনে তনিমা চমকে গেল। মাঝরাতে সমুদ্রের গর্জন, বাতাসের নিবিড় আবেষ্টনের মধ্যে এমন অদ্ভুত প্রশ্ন সে আশা করেনি। তার মা কাবেরী বছর খানেক শয্যাশায়ী। কাবেরী পঞ্চাশ পেরোয়নি। কিছুদিন আগেও অসামান্য সুন্দরী ছিল। বস্ত্র দুই তিনের মধ্যে শরীরটা ভেঙে গেল। মেয়েলি রোগে কোমরের তলা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পক্ষাঘাত ধরল। কুকুচে কালো পিঠছাপানো ঘন, লম্বা চুল শরে নুড়ির মতো সাদা হয়ে গেল। পঞ্চাশ বছর বয়সেই তাকে দেখে সত্তরে বুড়ি মনে হয়। শয্যাশায়ী কাব্বেীর দিকে তাকাতে জয়ন্তর ভয় করে। পারতপক্ষে শাশুড়ির ঘরে সে ঢোকে না। কাবেরীর দিকে তাকালে তার মনে হয় ভবিষ্যরে তনিমাকে দেখছে। তার অজ্ঞাত্মা পর্যন্ত কুঁকড়ে যায়। তবু তনিমার চাপে অসুস্থ কাব্বেীর সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য হয়। তাছাড়া ভদ্রতাও আছে। কাস্ত্রেীর জন্যে তনিমার মনোকষ্ট জয়ন্ত জানে। মায়ের দিকে তাকালে কষ্টে টনটন করে তার বুক। চোখে জল এসে যায়। ফুলের মতো ফুটফুটে দুবেণী বাঁধা কাবেরীর কুমারী জীবনের কিছু ছবি অ্যালবামে আছে। কাবেরী তখন কলেজের ছাত্রী। কলেজে পড়া মেয়েটি ধীরে ধীরে যুবতী, নারী, স্ত্রী, মা হবার প্রতিটি পর্যায়ে অ্যালবামে আবদ্ধ। আছে। মাত্র ত্রিশ, পঁয়ত্রিশ বছরে শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেল প্রাণোচ্ছল, তাজা একটা জীবন। ভাবলে নৈরাশ্যে তনিমার মাথা ঝিমঝিম করে। জীবনটা অর্থহীন মনে হয়। তবে মনের এই অবস্থা বেশিক্ষণ থাকে না। বিষাদ, দুঃখ, হতাশার চেয়ে বাস্তব জীবনের দাবি বড়ো হয়ে ওঠে। সেখানে শোক, সুখ, হতাশা, উদ্দীপনা পাশপাশি থাকে। শোক, দুঃখ ছিন্ন করে জেগে ওঠে সখ, সাধ, তৃপ্তি। পঙ্গু, অসুস্থ মাকে ছেড়ে তাই স্বামীর সঙ্গ সুখ উপভোগ করতে তনিমার অস্বস্তি হয় না। অনায়াসে সমুদ্রের ধারে প্রমোদভ্রমণে যেতে পারে।

    জীবনের সুখী, অপ্রিয়, অন্ধকার দিকটা মাঝরাতে জয়ন্ত কেন স্মরণ করাচ্ছে তনিমা বুঝতে পারলো না, শব্দহীন তনিমার মুখের দিকে তাকিয়ে জয়ন্ত বলল, শুধু তোমার মা কেন, আমার বাবার দিকে তাকিয়েও ভয়ে আমার সারা শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। মনে মনে তার মৃত্য কামনা করলেও মুখে বলতে পারি না।

    কথাটা শুনে শিউরে উঠল তনিমা। অপ্রকৃতিস্থ জীবনলালের মুখটা মনে পড়ল। জয় বাবা জীবনলাল ছিল নামকরা মুষ্টিযোদ্ধা। বউবাজার ক্লাবের পক্ষ থেকে পর দুবছর রাজ্যসেরা মুষ্টিযোদ্ধা হয়েছিল। দশাসই স্বাস্থ্য ছিল। সেতার বাজাত চমৎকার। বছর পাঁচ আগে অফিসের মধ্যে মাথার রক্তক্ষরণে বেহুশ হয়ে গেল। জ্ঞান যখন ফিরল, তখন উন্মাদ। পাগলামি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মাঝে মাঝে জীবনলালকে ঘরে তালা দিয়ে রাখতে হয়। তখন সে পোশাক পর্যন্ত পরে না। সংসারের ওপর অবাঞ্ছিত, গুরুভার পাহাড়ের মতো চেপে থাকা জীবনলালের হাত থেকে বাড়ির প্রায় সবাই মুক্তি পেতে চায়। ননীবালা একমাত্র জীবনলালের মৃত্যু কামনা করে না। নিজে যতোদিন বেঁচে আছে, রুগ্ন, পাগল সন্তানকে আগলে রাখতে চায়। জয়ন্ত জানে, মা-বেঁচে থাকলে স্বামীকে আগলে রাখত। জীবনলাল অসুস্থ হবার বছরখানেক আগেই মারা গিয়েছিল দ্বাণী। জীবনলালের স্ত্রী, জয়ন্ত, পুতুলের মা, দ্বাণীর মরার বয়স হয়নি। মাত্র বাহান্ন বছর বয়সে তিদিনের জ্বরে পৃথিবী ছেড়ে বাণী চলে গেল। চাপা গলায় জয়ন্ত বলল, আমি জন্মাতে চাইনি। যারা আমাকে পৃথিবীতে এনেছে, তাদের দশা দেখে আমি ভয় পেয়ে গেছি। আমারও তাই দশা হবে। এত কষ্টের মধ্যে আরও একজনকে কেন টেনে আব্ব? আমার মতো আর একজন হতভাগ্যের জন্মের জন্যে দায়ী হতে চাই না।

    জয়ন্তর কথা শুনে তনিমা পাথর হয়ে গেছে। জয়ন্ত বলল, অনেক রাত হয়েছে শুয়ে পড়ো।

    তনিমার ঘুম ছুটে গিয়েছিল। বিছানায় শুয়ে জানলার বাইরে সে তাকাল। ফুটফুটে চাঁদের আলোয় পৃথিবী গলে গলে পড়ছে। সমুদ্র গর্জনের কামাই নেই। নোনা বাতাসে চটচটে, ভারী লাগছে শরীর। ক্লান্তি, অবসাদে তনিমা এক সময়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম ভাঙলো জজয়স্তর ডাকে। চোখ কচলে তাকিয়ে দেখল তখনও সকাল হয়নি। পৃথিবীকে জড়িয়ে আছে আবছা অন্ধকার। জয়ন্ত বলল, চলো, সূর্যোদয় দেখি। দু-চোখে ঘুম লেপ্টে থাকলেও তনিমা উঠে বসলো। পাষাক বদলে দুজনে যখন হোটেলের বাইরে এসে দাঁড়ালো, তখনও দীঘা ঘুমোচ্ছে। রাস্তায় সামান্য কিছু মানুষ। সূর্যোদয় দেখতে তারাও সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে। কাঁচা ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তাদের মুখ-চোখে ৱিক্তির ছাপ, সূর্যোদয়। দেখে তাদের বিরক্তি কেটে গেলে সূর্যের সম্মান বাঁচবে। রাস্তা ছেড়ে জয়ন্ত, তনিমা। ঝাউবনের দিকে এগিয়ে গেল। ঝাউবন টপকে সমুদ্রের নির্জন তীর ধরে দক্ষিণ দিকে তারা হেঁটে যাচ্ছে। বালির ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে কয়েকটা জেলে ডিঙি। দুটো ডিঙিতে আলকারা মাখানো হয়েছে। সমুদ্রের গর্জন বাতাসের বেগ ঈষৎ কমতে আঁশটে গন্ধ পেল তনিমা। বালিয়াড়ি ছেড়ে পিচের সরু পথ বাজারের দিকে চলে গেছে। পথের তলায়, সমুদ্র ঘেঁসে পাথরের বড়ো বড়ো বোল্ডার। কুচকুচে কালো রঙ। ঢেউয়ের ধাক্কায় কিছু পাথরের প্রান্ত যেমন ধারালো হয়েছে, তেমনি কিছু চৌকোনা পাথর মৃসণ, সমতল শয্যার মতো পড়ে আছে। মৃদু আলো ফুটলেও মেঘলা আকাশ। পুব আকাশ সামান্য লালচে হয়েছে। লালের আভার পাশেই দলা পাকিয়ে আছে ঘন কালো মেঘ। আকাশ এরকম থাকলে আজ হয়তো ভালো করে সূর্যোদয় দেখা হবে না। কয়েক পা এগোতে পাথরটার ওপরে প্রথমে জয়ন্তর চোখ পড়ল। সিঙ্গল বিছানার সাইজের একটা কালো পাথরের মাঝখানে উবুড় হয়ে আধশোয়া এক তরুণ। ভঁজ করা দু-হাতে মুখ গুঁজে আছে। কুণ্ডলী পাকানো শোয়ার ভঙ্গি। কালো পাথর ঘিরে ভেঙে পড়েছে ঢেউ। পাথরটার কোমর পর্যন্ত জলে, ফেনায় ভিজে যাচ্ছে। জল সরে যাবা পরও সাদা ফেনা জড়িয়ে থাকছে পাথরের কোমর। হালকা নীল প্যান্ট তিন রঙা চেক শার্ট পরা তরুণটির বয়স পঁচিশ, ছাব্বিশের বেশি নয়। দু-এক বছর বেশি হতে পারে। জয়জ্ঞ মনে হল ছেলেটা তার সমবয়সী। কিন্তু এই পাথরের ওর ছেলেটা কেন ঘুমোচ্ছে? এমন বিদঘুঁটে, বিপদজ্জনক খেয়াল কেন হল? ঘুমের মধ্যে পাথর থেকে পড়ে গেলে দিকচিহ্নহীন সমুদ্রে ভেসে যাবে। কাল রাতে এই পাথরের ওপর বসে পূর্ণ চাঁদ জ্যোৎস্নার মায়াতে ছেলেটা হয়তো বিহ্বল হয়ে পড়েছিল। তারপর কখন ঘুমে ডুবে গেছে, খেয়াল নেই। এখনও অসাড়ে ঘুমোচ্ছে। ছেলেটাকে জাগিয়ে দিতে পাথরটার দিকে এক পা এগিয়ে জয়ন্ত নিজেইপাথর হয়ে গেল। ছেলেটা স্থির, নিস্পন্দ। তারমাথার পাশে একটা কৌটো। কৌটটা ভোলা। কৌটোর ঢাকনা পাশে রয়েছে। ছেলেটা যে বিষ খেয়েছে, মুহূর্তে জয়ন্ত জেনে গেল। কালো পাথরটার দিকে ভয়ার্ত চোখে তাকিয়েছিল তনিমা। ব্যাপারটা সে-ও বুঝতে পেরে জয় হাত চেপে ধরেছিল।

    .

    সমুদ্র মেঘলা হোটেলের তিন তলায় যে ঘরে জয়ন্ত তনিমা দুরাত কাটিয়েছে, সেটা হোটেলের অন্যতম সেরা ঘর। সমুদ্রমুখী ঘর। সমুদ্রের দিকে সুন্দর ঝুলবারান্দা। আছে। বারান্দা ছোটো, কিন্তু চওড়া। তিনশো সাত নম্বর ঘরে এই বারান্দায় নোনা, গরম বাতাসের মওতায় ব্যতিব্যস্ত হতে হয় না। ঢেউয়ের গর্জনও ছন্দোময় জলস্রোতের মতো লাগে। আধ ঘন্টা হল বারান্দায় একা দাঁড়িয়ে আছে তনিমা। সিগারেট কিনতে বেরিয়েছে জয়ন্ত। হোটেলের কোনও কর্মীকে পাঠাতে পারত। তা না করে নিজে বেরিয়েছে। তনিমাকে সঙ্গে যাবার জন্যে ডেকেছিল। তনিমা যায়নি। কেন গেল না? কাল ভোরে সমুদ্রের ধারে পাথরের ওপর আত্মঘাতী সেই ছেলেটিকে দেখার পর থেকে জয়ন্ত গুম। হয়ে গেছে। সারাদিন বিশেষ কথা বলেনি। সমুদ্রে স্নান করতে ছেলেমানুষের মতো যার উৎসাহ, সে সমুদ্রে নামেনি। হোটেলের ঘরে দুপুর পর্যন্ত বোবার মতো বসেছিল। সন্ধের পর বেড়াতে বেরিয়েও সমুদ্রের দিকে যায়নি। সাইকেল রিকশা ভাড়া করে তনিমাকে নিয়ে কপালকুণ্ডলার মন্দিরে গিয়েছিল। ঈশ্বর, দেবদেবীতে জয়ন্তর বিশ্বাস নেই। স্ত্রীকে খুশি রাখতে, হয়তো বা সময় কাটাতে, সে মন্দিরে যাচ্ছে, তনিমার বুঝতে অসুবিধে হয়নি। অল্পবয়সী, সুশ্রী মৃত তরুণটিকে দেখে তনিমাও প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেয়েছিল। তারও কথা বলার ইচ্ছে মরে গিয়েছিল। রিকশায় বসে জয়ন্ত প্রশ্ন করেছিল, ছেলেটা আত্মহত্যা করল কেন? আমার মতো কোনও অসুখ বোধহয় ওর হয়েছিল।

    কী বলছো তুমি?

    জন্মগ্রহণ, জন্মদানের ভয়জনিত অসুখ। আবছা অন্ধকার, নির্জন রাস্তায় জয়ন্তর কাঁধে মুখ রেখে তনিমা ডুকরে উঠেছিল, চুপ করো, তুমি চুপ করো। তোমরা কোন অসুখ। নেই। ফাঁকা রাস্তায় তনিমার কান্নাভেজা গলা শুনে রিকশাচালক নিমেষের জন্যে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেছিল। জয়ন্ত আর কথা বলেনি। হোটেলে ফিরেও জয়দ্র আচ্ছন্নতা কাটেনি। হয়ত ইচ্ছে করেই আচ্ছন্নতার মধ্যে সে থাকতে চেয়েছিল। আরও একটা রাত নিষ্ফল হয়ে যাচ্ছে, অনুমান করেও তনিমা চুপ করে থেকেছে। আসলে ভেতর থেকে সে-ও কোনও তাগিদ বোধ করছিল না। অন্ধকার ঘরে ধবধবে সাদা চাদর পাতা নরম বিছনায়া পাশাপাশি পুতুলের মতো দু-জন শুয়েছিল। কিছুক্ষণ উসখুস করে তনিমা ঘুমিয়ে পড়েছিল। জয়ন্তর আগেই ঘুমে ডুবে গিয়েছিল সে। জ্যোৎস্নায় তখন অসাড় হয়েছিল বুদ্ধপূর্ণিমার রাত।

    জয় দেরিতে উতলা হলেও বারান্দা ছেড়ে তনিমা নড়ল না। গতকালের বিষণ্ণতা, অবসাদ আজ কেটে গেছে। পরমাত্মীয়র বিয়োগে যেখানে শোক সন্তাপের আয়ু সাত, দশদিনের বেশি হয় না, সেখানে অচেনা একাট ছেলের মৃত্যুতে বিশ, বাইশ ঘণ্টা শোকার্ত থাকা কম কথা নয়। তনিমাও কাল গোটা দিন শোকাচ্ছন্ন ছিল আজ সকাল থেকে সে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। অস্থির প্রত্যাশায় ছটফট করছে। দীঘার মাত্র দুরাত অবশিষ্ট আছে। হিসেব মতো এ দুটো রাত নিদারুণ ফলপ্রসু। এই দুরাতের মধ্যে ফয়সালা না করলে মাতৃত্বের জন্যে তার আকাঙক্ষা হয়তো এ জীবনের মতো খারিজ হয়ে যাবে। সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে সে তাই রাতের জন্যে প্রতীক্ষা করছে। সরাসরি, গোপনে বারবার জয়ন্তকে দেখে তার মনের হদিশ পেতে চেয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টায় জয়ন্তও অনেক স্বাভাবিক হয়েছে। বিবর্ণ মুখে শুরু হয়েছে রক্ত চলাচল। অল্পস্বল্প ঠাট্টাইয়ার্কিও করেছে। সবচেয়ে বড়োকথা দুপুরে দেড়, দু-ঘণ্টা সমুদ্রে থেকেছে। মাতামাতি করে স্নান করেছে।

    বারান্দায় রেলিং-এ ভর দিয়ে তনিমা আকাশের দিকে তাকালো। সন্ধের শুরুতেই প্রায় মাঝসমুদ্র থেকে ভেসে উঠেছিল বিশাল উঁদ। চাঁদ এখন আকাশের চুড়োয়। সমুদ্রের জলে, ছোটো বড়ো ঢেউয়ের মাথায় গুঁড়োগুড়ো হয়ে যাচ্ছে চাঁদের আলো। নির্জন বালিয়াড়ি। ঝাউবনে বাতাস বইছে। ঝাউবনের গা ঘেঁসে শহরের রাস্তা। রাস্তার ধারে অনেক নতুন বাড়ি হয়েছে একাধিক হোটেলও আছে। সিগারেটের দোকান দুরে নয়। এতক্ষণে জয়ন্ত্র ফিরে আসা উচিত ছিল। তনিমার অশান্তি হচ্ছে। আরও পাঁচ, সাত মিনিট পরে বাজারের দিক থেকে জয়ন্তকে আসতে দেখল তনিমা। সিগারেট টানতে টানতে দুলকি চালে হেঁটে আসছে। কোনও ব্যস্ততা নেই। হোটেলে আধ ঘণ্টার বেশি তনিমা একা রয়েছে, সে যেন ভুলে গেছে। তনিমা একটু ক্ষুণ্ণ হল। হোটেলে ঢোকার আগে। বারান্দার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে হাত নাড়ল জয়ন্ত। হাতছানি দিয়ে তাকে আসতে বলল তনিমা।

    ডাক্তার পরিতোষ গুপ্তের ছেলে সায়ন্তনের ডাক নাম সানু। বাইশ তেইশ বছর বয়স। সুঠাম শরীর, ফর্সা রঙ, কাটাকাটা তীক্ষ্ণ নাক, চোখ সত্যিকার রূপবান যুবক। পরিতোষ ডাক্তার তনিমাদের প্রতিবেশী। জয়ন্তদের গৃহ-চিকিৎসক। অসুস্থ জীবনলালের চিকিৎসা পরিতোষই করে। পরিতোষের একমাত্র ছেলে সানু। বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ পড়ে। তনিমাকে বৌদি বলে ডাকে। রাস্তায় দোকানে বাজারে দেখা হলে খাতির করে। দীঘার সমুদ্রতীরে হোটলের নিভৃত ঘরে এইরাতে হঠাৎ সানুর নাম জয়ন্ত কেন তুলল, তনিমা বুঝতে পারল না। জবাব শুনতে জয়ন্ত তাকিয়ে আছে দেখে তনিমা বলল, সানু খুব ভালো ছেলে। লেখাপড়ায় ভালো, বিনয়ী। সানুর প্রশংসা করার জন্যে যথাযথ শব্দের জন্যে তনিমাকে হাতড়াতে দেখে জয়ন্ত বলল, সানু স্মাগলার। বিদেশের সঙ্গে চোরাই লেনদেনের কারবারে সে আড়কাঠি। ব্যারাকপুর, চন্দননগর, ডায়মণ্ডহারবারে কয়েকদিনের জন্যে বেড়াতে যাবার কথা বাড়িতে বলে প্রায়ই সিঙ্গাপুর, হংকং যায়। দুর্ধর্ষ কিছু ক্রিমিনালের সঙ্গে তার যোগাযোগ।

    কী বলছো?

    দু-চোখে অবিশ্বাস নিয়ে তনিমা আঁতকে উঠতে জয়ন্ত বলল, গত বছরে, দর্জিপাড়ায়, অন্তঃসত্ত্বা, অবিবাহিতা এক তরুণীকে খুনের ঘটনায় সানু জড়িত। স্বভাবে সে অপরাধী হয়ে গেছে।

    জয়ন্তর কথা তনিমা অবিশ্বাস করতে পারছে না। অবিশ্বাসের কারণও নেই। জয়ন্ত আবার প্রশ্ন করল, মাধববাবুর মেয়ে কিঙ্কিণীকে চেন?

    চিনি।

    কতটা চেন?

    ঠাণ্ডা, শান্ত স্বভাবের মেয়ে। দারুণ সুন্দরী, মহামায়া কলেজে পড়ে। খুব ভালো মেয়ে।

    কীরকম?

    অসুস্থ মায়ের যে শুশ্রূষা কিঙ্গিণী করে, তার তুলনা নেই।

    কিঙ্গিণী যে দুপুরে ভাড়া খাটে, সে খবর কী জানো? মুখে অস্ফুট আওয়াজ করল তনিমা।

    আমার বন্ধু ডাক্তার প্রবীর বোস, দুবার তার পেট সাফাই করেছে।

    সমুদ্রের গর্জন, বাতাসের হাঁকডাক তনিমার মগজের কোষে কোষে ছড়িয়ে পড়ছে। গলা শুকিয়ে গেছে তার। জয়ন্ত বলল, চারপাশে যত তরুণ, তরুণী দেখছো, সবাই দাগি হয়ে গেছে। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও বিষে দগদগ করছে তাদের শরীর। আঁস্তাকুড়ে, নর্দমায় ঘেয়ো কুকুরের মতো তার চরে বেড়াচ্ছে। আমাদের প্রতিবেশী বিলাস্বাবুর ছেলে ছিনতাই করার সময় ধরা পডে গণধোলাই-এ আধমরা হয়ে গিয়েছিল। এখন জেল খাটছে। মোহনবাবুর উনিশ বছরের মেয়ে, ভোজপুরের শ্রীধর গোয়ালার সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেল। লজ্জায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন মোহনবাবুর স্ত্রী।

    মুহূর্তের জন্যে থেমে স্থির চোখে তনিমার দিকে জয়ন্ত তাকিয়ে থাকল। পিঠের ওপর জ্যোৎস্না পড়ে তাকে ফঁপিয়ে তুলেছে। চলচ্চিত্রে আঁকা দশাসই পটের মতো দেখাচ্ছে তাকে। জয়ন্ত প্রশ্ন করল, আমাদের ছেলে অথবা মেয়ে হলে, সে কী করবে? কোন্ অন্ধকার, চোরা পথে সে হেঁটে যাবে?

    প্রশ্ন শুনে গুড় গুড় করছে তনিমার বুক। কোনওমতে সে বলল, সুস্থ সুন্দর জীবনও সে যাপন করতে পারে।

    সম্ভব নয়। সে ভাবে বাঁচার একটা পথও খোলা নেই। জঘন্যতম অপরাধীরা এই মুহূর্তে পৃথিবীতে জন্ম নিচ্ছে। তাদের একজনকে কেন ঘরে আনতে চাও?

    আতঙ্কে, কষ্টে ফেটে যাচ্ছে তনিমার বুক। সে নিশ্চপ। জয়ন্ত আবার বলল, একদিকে তোমার মা, আমার বাবার মতো অসুস্থ, পঙ্গু, অপ্রকৃতিস্থ মানুষের মর্মন্তুদ দিনযাপন, অন্যদিকে বিষধর সাপের বাচ্চার মতো তরুণ প্রজন্ম। আমরা কোনদিকে যাব?

    নিস্তব্ধ হোটেল। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। তনিমা হঠাৎ ডুকরে উঠল, আমার ভয় করছে। ভীষণ ভয়!

    ভয় করারই কথা।

    তুমি আমার পাশে এস।

    তনিমার আর্ত ডাকে বিছানায় তার পাশে গিয়ে জয়ন্ত বসল। তনিমা ঠকঠক করে কাঁপছে। তার পিঠে জয়ন্ত হাত রাখলো। তনিমা প্রশ্ন করল, কেন আমাদের জন্ম, বেঁচে থাকা?

    পৃথিবীকে নোংরা, দূষিত, নরক, করার জন্যে আমরা জন্মাই। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ তাই করছে, পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত করে যাবে।

    দু-হাতে মুখ ঢেকে তনিমা ফুলে ফুলে কাঁদছে। পাথরে মূর্তির মতো জয়ন্ত বসে আছে। কয়েক মিনিট করে কান্নাভেজা গলায় তনিমা বলল, আমার আর বাঁচতে ইচ্ছে করছে না।

    আমারও।

    কথাটা বলে জয়ন্ত যোগ করল, অনেকদিন আগেই আমার বাঁচার ইচ্ছে শেষ হয়ে গেছে। একমুহূর্ত তনিমার দিকে তাকিয়ে পকেট থেকে জয়ন্ত একটা কৌটা বার করল। তনিমার নাকের কাছে কৌটোটা ধরে প্রশ্ন করল, চিনতে পার? আবছা আলোয় নিমেষহীন চোখে তিন, চার সেকেণ্ড কৌটাটা দেখে তনিমা শিউরে উঠল। কাল ভোরে সমুদ্রের ধারে, জলমগ্ন কালো পাথরের ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা ছেলেটার মাথার কাছে এই কৌটো সে দেখেছিল। ফিসফিস করে জয়ন্ত বলল, সিগারেট কিনতে গিয়ে পোকামারা বিষের এই কৌটোটাও কিনে ফেললাম। বিষ যা আছে, নির্ভেজাল হলে, আমাদের প্রয়োজন মিটে যাবে।

    সাদা চাদর পাতা শ্রম বিছানা ঘিরে ঘন হয়েছে চাঁদের আলা। পরস্পরকে অনেকটা স্পষ্ট তারা দেখতে পাচ্ছে।

    খাবে?

    জয়ন্তর প্রশ্নে চমকে উঠে তারই শরীর ঘেঁসে নিবিড় হয়ে তনিমা বসল। জয়ন্তর হাতে বিষের কৌটো। সে বলল, অর্ধেক খেয়ে বাকিটা তোমাকে দিচ্ছি।

    তার শরীরে সঙ্গে তনিমা লেপ্টে গেল। কৌটোর ঢাকা খুলে জয়ন্ত দেখল দ্বিতীয় একটা আবরণ রয়েছে। ছুরি দিয়ে সেটা কাটতে হবে। ট্রাউজার্সের পকেটে ছুরি আছে। ছুরিটা আনতে যাবার ইচ্ছে থাকলেও উঠতে পারল না। সে টের পেল তার সান্নিধ্যের তাপ তনিমার কোষে কোষে ছড়িয়ে পড়ছে। বিষ খেতে তনিমা রাজি হবে না। বাস্তবিক তাই। জয়ন্তকে আঁকড়ে ধরতেই তনিমার দুঃস্বপ্ন কেটে গেল। সমুদ্র গর্জনের ভেতরে সে শুনতে পেল, ছোটো বোন উমার দু-মাসের বাচ্চার হাসির আওয়াজ, সাতাত্তর বছরের ননীবালার স্নেহার কণ্ঠস্বর। জয়ন্তর হাত থেকে বিষের কৌটোটো নিয়ে সে বারান্দায় চলে গেল। শরীরের সব শক্তি জড়ো করে অন্ধকার ঝাউবনের দিকে কৌটোটা ছুঁড়ে ফেলে দিল। ঘরে ফিরে জয়জ্ঞ গলা দুহাতে জড়িয়ে ধরে বলল, দীঘায় মাত্র আর দুরাত থাকছি। শস্যশালিনী হবার জন্যে পৃথিবী আর কত প্রতীক্ষা করবে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }