Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প1423 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পথ, হে পথ – নাসরীন জাহান

    পথ, হে পথ – নাসরীন জাহান

    আমার যদি আলাদা একটি গোপন ঘর থাকতো এই স্বপ্নটি আমি প্রায়ই দেখি। বিছানায় ল্যাপটে থাকা সবুজ চাদর পাল্টানোর সময়, অথবা ছাতলা পড়া ঘটর ঘটর ফ্যানের দিকে চেয়ে যখন শুয়ে থাকি, সেই ঘরটির কথা গম্ভীরভাবে মনে হয়। আমি যে ঘরটিতে থাকি, সেই ঘরটিও খুব ছিমছাম, গোছানো। যদিও মাঝে মাঝে একসেট ভালো সোফা, একটি ফ্রিজ, রঙিন টি.ভি. বিশেষ করে একটি টেলিফোন এসবের অভাব অনুভব করি। মনে হয় ফোন থাকলে মহেন্দ্র, ইরফান অথবা আবদুল্লাহর সাথে গল্প করে অনেক একঘেয়ে সময়কে মুখ করে তোলা যেতো। বুও এসবের অভাব সত্ত্বেও আমি আমার ছোেট রুম দুটোকে যথেষ্ট ভালোবাসি। বারান্দাটিকে ভালোবাসি, যেখানে দাঁড়িয়ে আমার অনেক নিঃসঙ্গ সময় অতিবাহিত হয়। আমার একটাই অসুবিধে একটি জিনিস একভাবে দেখতে খুব হাঁপিয়ে উঠি। তাই আমি আমার ঘরে যা-ই আসবাব আছে তাকেই অদলবদল করে মাঝে মাঝে অন্যরকম করার চেষ্টায় নানাভাবে সাজাই। খাট, ড্রেসিং টেবিল আয়না….এই যথাস্থান থেকে সরিয়ে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় রাখলে ভেতরে এক আশ্চর্য অনাবিলতা অনু করি। তো কথা হচ্ছিলো ঘর নিয়ে। এতো যে মাঝে মাঝে টানা হ্যাচড়া তাতেও কিন্তু আমি কম হাঁপিয়ে উঠি না। কিন্তু জিনিসগুলো এক জায়গায় বেশিদিন স্থির থাকলে আমার যতটুকু শাস কষ্ট হয়, তার চেয়ে ওগুলোকে স্থানাস্ত্র করার কষ্ট যথেষ্ট কম। মনে হয় মাঝে মাঝেই আমি এক নতুন স্থানে সময় কাটাচ্ছি।

    ২.

    এখন গভীর রাত।

    দেড় বছরের শিশুর মতো টলমল হাঁটছে মইন। অনেক জরুরি ব্যাপার মনে থাকার কথা ছিলো আজ। মনে থাকেনি। সারাদিন শুধু একটি কথাই মনে থেকেছে তার অনেকগুলো জরুরি কাজ সারতে হবে। আর কিছু মনে থাকেনি। যা তোক পাঁচ পেগ গেলার পর যে কোন জরুরি ব্যাপারকেই ফানুস বানিয়ে উড়িয়ে দেয়া যায়, এমন একটা ভাবনা ওকে ফুরফুরে করে দেয়। যেন, যে পাঁচ পেগ, কিংবা দুই পেগ, কিংবা এক পেগ-যা-ই পান করে, যে পান করে তাকে কোন জরুরি অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়াটাই অন্যায়। তার কাছে যে কোন কৈফিয়ত চাওয়া অন্যায়। সে ঘরে। ফিরলে ঘরের মানুষের কুঞ্চিত হওয়া অন্যায়…..। অন্তত বিয়ের আগে মইন যখন দিনরাত বাংলা মদ, আর মেথরপট্টির মধ্যে থাকতো, তাই মনে হতো তার। আজও মনে হচ্ছে। অন্তত মইন তেমন অন্যায় বরদাস্ত করবে না। তাই সে বেশ দূরে মেইন রোডে রিকশা ছেড়ে দিয়ে রাজার মতো হাঁটতে শুরু করেছে।

    ঝাঁ ঝাঁ দুপুরে রাক্ষুসী সূর্য মাথায় নিয়ে, অফিস থেকে রুটিন মতোই বাড়ি  ফিরছিলো। সূর্যের গনগনে আঁচে ঝিমঝিম করছিলো মাথা। শহরের ওপর আছড়ে পড়া উজ্জ্বল আলো যখন কখনো নীল, কখনো সবুজ কখনো বেগুনি, হলুদ, বেগুনি নীল, কমলা….বিভিন্ন আকৃতি নিয়ে ঘোর লাগিয়ে দিচ্ছিলো চোখে, তখনই সেই ভিবজিওরের মাঝখান থেকে চিৎকার করে উঠেছিলো একটি মার্সিডিজ গাড়ি-হেই মইন-হেই

    নিজের নামটা টং করে মস্তিষ্কের মধ্যে ধাক্কা খায়। ঘোর লাগা চোখে মইন উত্তপ্ত শহরের চলমান যন্ত্রগুলোর ওপর দৃষ্টি বোলায়। সাত রঙের মাঝখানে একটি মার্সিডিজ। হাত নাড়ছে পুতুল। এক গাদা রিকশা, গাড়ি, রাস্তার পাশে স্তুপাকার দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা, কাঁচা মাংসের গাড়িসহ কসাইয়ের গাড়ি, একঝাক কুঁজো বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকের মাঝখানে পুতুল স্বপ্নের মতো হাত নাড়ছে। রিকশা থেকে লাফিয়ে নামে মইন।

    ক্লাসমেট ছিলো, মইন একতরফা দুর্বল ছিলো, বহুদিন পর দেখা। ওর শীতল গাড়িতে বসে, সেন্টের ভুর ভুর গন্ধে মইন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এরপর লে হালুয়া! দুপুরে হোটেলে রুটি-মাংস, বিকেলটা অনেকদিন পর ক্রিসেন্ট লেকে, সন্ধ্যার পর ওর নির্জন ফ্ল্যাটে, এক পেগ, দুই পেগ, তিন পেগ-। মইনের পা গর্তের মধ্যে হড়কে পড়ে।

    ৩.

    আমি ঘর নিয়ে ভাবছিলাম। গলির মোড়ে একটি লোক রিকশা থেকে নামছে। আমি গলা বাড়িয়ে দেই, মইন এসে গেছে তাহলে। অন্ধকার পথ দিয়ে হেঁটে আসছে মানুষটি। নিমগাছ আর ঘিঞ্জি বাড়িগুলি রাস্তাটিকে আড়াল করে রেখেছে। ফাঁকে দেখা যাচ্ছে ছায়া মন মানুষটিকে। জানালা থেকে সরে আসি, না, মইন অত লম্বা নয়। নিজেকে শিথিল বিছানায় শুয়ে আমি পুনরায় ভাবনার ভেতর নিমজ্জিত হই। আমার ভাবনা আবারও ঘরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতে থাকে। আমার এই ঘরকেই আমি ভালোবাসা সত্ত্বেও আমি আরেকটি নির্জন ঘরের স্বপ্ন দেখি।

    যে ঘরে কোন আসবাবই নেই। সেই শূণ্য নির্জন ঘরে থাকবে শুধু থোকা থোকা বাতাস। আমি ভীষণ বিচিত্র মনের মেয়ে। বেশিক্ষণ এক বিষয় আমাকে ক্লান্ত করে তোলে। মুশকিল হয় মইনকে নিয়ে। সেতো আর আসবাব নয়, যখন তখন নিজের মতো করে সাজিয়ে নিলাম। রীতিমতো শিক্ষিত একজন রক্ত মাংসে গড়া মানুষ, যে দিব্যি আমাকে বাঁ ঠ্যাং দেখিয়ে খুঁটিনাটি আমার অনেক অপছন্দের কাজ নাকের ডগায় সেরে ফেলে। বিয়ের পর এতটা বছর কেটে যাওয়ার পরও প্রথম দিন তাকে যেমন দেখেছিলাম এ থেকে ওর খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। মাঝে মাঝে দাঁড়ি রাখতে বলে, মিলিটারী ছাঁটের চুল ঝাকড়া করে রেখে অথবা এক দুটো লাল শার্ট, ঠোঙ্গা প্যান্ট বানাতে বলে…. ওর একটু পরিবর্তিত রূপ দেখার তীব্র ইচ্ছে হয়েছে আমার। কিন্তু ওই যে রক্ত মাংসে গড়া মানুষ, হাত আছে, পা আছে, মুখ আছে অনুভূতি আছে। বাধা দিতে জানে, পাশ কাটিয়ে চলে যেতে জানে, মোট কথা সে নিজের অনুভত্বকেই সর্বাগ্রে মূল্য দিতে জানে।

    মইনের কারণেই আসলে ধীরে ধীরে আমার ভেল্প আলাদা ঘরের স্বপ্ন আসন গেড়ে বসেছে। দুটোর সময় অফিস থেকে ফিরে সে ঘরের মধ্যে শেকড় ছড়ানো গাছ হয়ে। যায়। পই পই করে বলে দেখেছি, বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসো, ফ্রেশ লাগবে, যাবে না।

    যাবে না, ভালো কথা, কিন্তু সময় কাটানোর জন্য অথবা ড্রেসিং টেবিল হাতড়ে পুরোনো টাই ক্লিপ খোঁজাখুঁজি করা কেন? নির্দিষ্ট ম্যাগাজিনের খোঁজে তোষক উল্টে পাল্টে একাকার করা কেন? ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার ছাড়া, তোষকের নিচ ছাড়া আমি আমার এই ছোট্ট দুই রুমের কোথায় আমার গোপন জিনিসগুলো রাখি? ওগুলোর একটি কণাও যদি মইনের চোখে পড়ে আমি কি ওর ক্রোধকে কম চিনি? প্রথমেই তার বিশ্রী ভয়াবহরূপ প্রদর্শন করার পর খুব ঠাণ্ডা অথচ স্পষ্ট গলায় বলে উঠবে না—এর পরে আর আমাদের এক সাথে থাকা চলে না!

    যাতে ও এই ঘরের সমস্ত আসবাব পত্রের মতোই নিরাপদ শান্তটি হয়ে থাকে, সেই জন্যেই আমার একটি আলাদা ঘর দরকার। সেই শূণ্য ঘরে থাকবে একটিই মাত্র চেষ্টঅবড্রয়ার, যেখানে আমি আমার পুরোনো প্রেমিকদের দেয়া চিঠি, ডাইরী, চমৎকার ভাষায় প্রেজেন্ট করা বই, ওদের সাথে ভোলা আমার কিছু ছবি, এখনকার লেখা প্রাণপনে লুকিয়ে রাখা ডাইরীটি সব সযত্নে রাখতে পারি। এই জিনিসগুলিই আমি আমার এক ব্যাচেলার বান্ধবীর কাছে রেখেছি, যদিও সে বলেছিলো, এগুলো পুড়িয়ে ফেলতে, সংসারের জন্য এইসব বিষয় অত্যন্ত বিপদজনক! কিন্তু আশ্চর্য স্মৃতিকাতর মেয়ে আমি কিছুতেই এসব বিষয় ধ্বংস করার কথা ভাবতে পারি না। সেদিন মইনের ছেলেবেলার বন্ধু মহেন্দ্র একটি বড় এ্যালবাম প্রেজেন্ট করেছে। আমাকে। এত চমৎকার সেটা, দেখেই ভালোলাগায় উছলে উঠেছিলাম। কিন্তু খুলেই কি বিব্রতকর অবস্থা! একদম কোণায় লেখা পরকীয়া প্রেমে পাপ নেই। কৈশোর। পেরোবার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমি আমার প্রেমিকদের প্রতি খুব শ্রদ্ধাশীল, সে যদি রাস্তার পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা উদাস ভিখিরিটিও হয় আমার কাছে তার প্রেমই বড়। কেননা সেই প্রেম আমাকে কেন্দ্র করে। আমি সবচাইতে আমাকেই যে ভালোবাসি।

    আমি কলেজে পড়বার সময় থেকেই হেমিংওয়ে, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় এসব লেখকের পাঠক হিসেবে ক্লাসমেটদের অমিতাভ, মিঠুন চক্রবর্তীর আড্ডা থেকে নিজেকে আলাদা ভাবতাম। যখন কোন স্ত্রী অন্যের হাত ধরে পালিয়ে গেছে শুনে সমস্ত পাড়ায় ছিঃ ছিঃ চলছে তখন আমি এ থেকে খুঁজে খুঁজে বের করতাম এর পক্ষের কোন যুক্তি। এক সময় স্থির হতাম এই ভেবে—যদি হাসব্যান্ডের সাথে আন্ডারস্ট্যান্ডিং না-ই হবে, তবে আর সমস্ত জীবন ধরে তার সংসার টেনে লাভ কী? গেছে, ভালোই করেছে। যাহোক, কথা হচ্ছিলো এ্যালবাম নিয়ে। এ্যালবামের কোণার লেখাঁটি বিব্রতকর হলেও মইনের ভয়ে কেটে ফেলতে এক কষ্ট হলো আমার, মনে হলো, আমার কোন ব্যক্তিস্বত্ত্বা নেই। আমার নিজস্ব কোন জিনিস থাকতে নেই। এইসব বিষয় থেকেই সেই হাওয়া ঘর আমাকে আঁকড়ে ধরেছে। সেই ঘরে শুধু একটিই চেস্টঅবড্রয়ার থাকবে এবং তার শুধু একটিই চাবি থাকবে…..।

    ৪.

    ফোমের শয্যায় গোলাপি শাড়ির পুতুল আলতো ভঙ্গিতে শুয়েছিলো। পুতুলকে ওই অবস্থায় দেখে মুহূর্তেই নিজের ঘরের মলিন, দরিদ্র ছাতলা পড়া ঘরে কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো মইনের। নিজের ঘরে এতদিন কড়কড়ে সুতির শাড়ি পরিহিতা খুকিকে বেশ টিপটপ লাগতো। গোলাপি শয্যার গোলাপি পুতুলকে দেখে মনে হয় কী শিশু ছিলাম এতদিন! এতদিন কি সে শুধু খুকীর রক্তমাংস স্পর্শ করার বদলে একদলা ফোম ঘেটেছে? তার সহপাঠিনী পুতুল দশ বছর আগের চেয়েও স্বপ্নময়। বিছানায় গা এলিয়ে ঝকঝকে গ্লাসে রঙিন তরল ঢেলে একটু একটু খাচ্ছে আর অদ্ভুত চোখে মইনকে দেখছে তোমাকে দেখে বেশ হেপী মনে হয় মইন, আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছে তুমি—গুল মারতেও শিখে গেছে দেখছি, প্রিন্টের সোফায় মইনের শরীর এলিয়ে পড়ে, ভূঁড়িটা বেড়ে গেছে চোখে পড়ছে না?

    আগে তো টিং টিঙে কলাগাছটি ছিলে, ওই ভূড়িটায় তোমাকে মানাচ্ছে বেশ।

    ভূঁড়িতে মানাচ্ছে। মইন কি হাসবে? কি আজব পুতুল! ওর শরীর থেকে কামিনী ফুলের গন্ধ আসছে। মইনের ঘোর লাগতে থাকে ওর সমস্ত শরীর কি নূপুর দিয়ে মোড়ানো? একটু নড়লেই অমন ঝুনঝুন শব্দ হচ্ছে যে! ঘাড়ের কাছে পড়ে থাকা ছোট্ট চুল ঝাঁকায় সে, মনে আছে, আমি যখন প্রথম গাড়ি থেকে নেমেছিলাম তুমি হ্যাংলার মতো বার্সিটির গেটে?

    মনে আছে, সব….সব। একদিন কাতুকুতু দেয়ার ছলে তোমার বুকে….।

    স্টপ! স্টপ! জোর প্রতিবাদে থামিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু হাসির দমকে পুতুলের গোলাপি শাড়ি, গোলাপি ঠোঁট, গোলাপি ব্লাউজ, গোলাপি মাংস…সমস্ত গোলাপি থর থর করে কেঁপে ওঠে।

    ছাদের দিকে তাকায় মইন, ঝাড়বাতি নয়, মহানাগরিক সূর্যকিরণ পুতুলের ঝলমলে গোলাপিতে আছড়ে পড়েছে। অনেকদিন প্র জিপেগ গিলেই এক মহাচত্রের মধ্যে পড়ে যায় সে। পুতুল হঠাৎ দাঁড়ায়, জানো, অনেক বড় হয়েও আমি বাবার সাথে লুকোচুরি খেলেছি, বাবা লুকিয়ে থাকতো আমি খুঁজে বের করতাম, অথবা আমি লুকিয়ে….। দাঁড়াতে গিয়ে পুতুল টাল সামলে পড়ে যেতে নেয়। সোফা থেকে মইনও দাঁড়ায়—আজ খেলবে? আচ্ছা তুমি লুকোও, আমি খুঁজে ব্বে করি।

    বিচিত্র ভঙ্গিতে ভূমণ্ডলের চারপাশে তর্জনী ঘুরিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে পুতুল। তুমি খেলবে! ওহ গড! ফেনটাসটিক! কি যে একটা হোপলেসকে বিয়ে করেছিলাম। যাক শালা! চুকিয়ে বুকিয়ে ফেলেছি…..এই এই আমি লুকোচ্ছি, তুমি চোখ বোঁজো।

    মইন চোখ বুজতেই রংচঙে আলোর শাঁসালো অন্ধকার ওর চোখ বিদ্ধ করে।

    কুউউ…. কোকিলের মোন ডেকে ওঠে পুতুল।

    সন্তর্পণে চোখ মেলে সমস্ত ঘরে দপদপ পা ফেলে মইন হাঁটে। খাটের পেছনে পুতুলের গোলাপি শাড়ি দেখা যাচ্ছে! কি শিশু মেয়েটা! ভাবতে ভাবতে খপ করে সে ওকে ধরতে যায়। হি হি করে দৌড় দিয়ে গিয়ে পুতুল হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

    মইন দেখে লাল আলো, নীল আলো, হলুদ আলো…ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর ওপর, পেয়েছি, পেয়েছি বলে। কি আশ্চর্য ভিবজিওর। পুতুল ক্রমশ অপ্সরা, ক্রমশ পৃথিবীর প্রথম নারী, যে পোশাককে অশ্লীল করে তোলে…..।

    একটা গর্তের মধ্যে পা হড়কে পড়ে যায় মইন। চারপাশে তাকিয়ে কাপড় ঝেড়ে দাঁড়ায়। কিছুটা চোট লেগেছে পায়ে। মুশকিল হলো! দরজা খুলে খুকি হা হা। করে উঠবে না তো! একেবারে বিনা নোটিশে দুপুর থেকে হাওয়া সে।

    হায় মইন! তুমি গিলে এসেছে! কোথায়….কার সাথে? নাহ এই মুহূর্তে খুকীকে ভাবতে ভালো লাগছে না।

    ৫.

    চারপাসে শুধু চোখ দেখি। কি যে বিচিত্র সেসব চোখের আকৃতি। যেমন,

    (ক) কাঙাল চোখ বাথরুমে, শাওয়ারের নিচে ডুবে যখন উদোম স্নানে ব্যস্ত থাকি, তখন চারপাশের দেয়ালে অনেকগুলো চোখকে কাঙালের মতো চেয়ে থাকতে দেখি। যাদের অনেকেই আমার পুরনো প্রেমিক অথবা একতরফা ভালোবেসেছে। আমাকে। তাদের প্রতি আমার সহানুভূতি ছিলো কিন্তু প্রশ্রয় ছিলো না।

    (খ) কঠিন চোখ— মহেন্দ্র অথবা ইরফান অথবা আবদুল্লাহ ওদের একজন, ধরলাম মহেন্দ্ৰই, সোফায় বসে আমার সাথে বিভিন্ন আলাপে ব্যস্ত নানা এটা ঠিক না খুকি, রিকশা ভাড়ার ভয়ে তোমরা হলিডেগুলোতেও অন্তত কোথাও তেমন বেড়াতে যাওনা, এরকম একঘেয়ে জীবনে কেউ বাঁচতে পারে? তুমি রীতিমতো অনার্স গ্র্যাজুয়েট মেয়ে, শশুর শাশুড়ী চায় না বলেই চাকুরি করবে না, মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে, মইন এটা খুব অন্যায় করছে….তারপর ক্রমে ক্রমে নিজের হতাশার অতলান্তে তলিয়ে যেতে যেতে, তোমাকেই বা কী বলবো খুকি, জীবনের এতগুলো বছর চলে গেলো, কোন চাকুরিতে স্থির হতে পারলাম না, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমিই পলিটিক্সের শিরা হয়ে যাই। ভেরেন্ডা বাজানো ছাড়া আমার দ্বারা আর কিছুই হবে ….কিছুই হবে না….এরকম একটা হতাশ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আমার হাতটিকে টেনে নেয় নিজের কম্পিত হাতের মুঠোয়, একমাত্র তোমরা এখানে এলে তোমার এখানে এলে…বলতে বলতে মহেন্দ্র যখন আমার নির্জন বাড়িটিতে আরও কিছুটা এগোতে চায়, তখনই মইনের দুটি কঠিন চোখ দরজা ফাঁক করে আমার দিকে চেয়ে থাকে। আমি এত্ত ভঙ্গিতে সরে যাইছি, ছি, ও আমাকে একদিনের জন্যও ফাঁকি দেয় না, অথচ আমি…।

    (গ) নিষ্পাপ চোখ-—এই চোখ দুটোই আমাকে বেশি বিপন্ন করে তোলে। সেই চোখ আমার পরম আকাঙ্খিত শিশুটির। কি অদ্ভুত মায়াময় চাউনি। স্তন মুখে নিয়ে, ক্রন্দনরত অবস্থায়..কত বিচিত্র ভাবেইনা সেই চোখ আমাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। জানালা গলিয়ে যখন ইউক্যালিপ্টাস গাছে বাতাস শরীরে আছড়ে পড়ে, তখনই বুকের কাছে সেই চোখ নড়ে চড়ে ওঠে। ড্রয়িং রুমে হয়তো মইন পত্রিকার প্রতিটি অক্ষর খুঁটে খুঁটে পড়ছে। আমি উনুনে হালুয়া চড়িয়েছি: তিন নম্বর ছোট প্লেটটি শূন্য চোখে আমার দিকে তাকাতেই জল আসে আমার চোখে। এরকম ছোট ছোট অনেক জিনিস কিনেছি আশ্চর্য এক শূন্য অনুভব থেকে।

    ৬.

    সকাল বেলা অফিসে যাওয়ার সময় মইনকে বগুলো জরুরি কাজের কথাই জরুরি ভাবে মনে করিয়ে দিয়েছিলো খুকি। সারা রাস্তা দাদখানি চাল, মুশুরের ডাল, চিনিপাতা দই….করতে করতে অফিসে যেতেই তালগোল পাকিয়ে গেলো। গতকালই মাত্র অতসীকে সে বলেছে ‘নীল শাড়ি আমার খুব ফেভারিট’, ধবধবে অতসী আজই নীলাম্বরী হয়ে ফর্শা আঙ্গুলের ফাঁকে কলমটিকে চেপে ধরে উবু হয়ে কি সব লিখছে। শুধু অতসী দেখবে বলেই বাসায় গেঁয়ো ভূত হয়ে থাকা মইন ফিটফাট হয়ে অফিসে আসে। নীল শাড়ির অতসীর, ফর্শা আঙ্গুলের চাপের কলমটি যদি আমিই হতাম, যদি…..তখনই দাদখানি চাল, ডাল হয়ে গেলো, চিনিপাতা দই, কই হয়ে গেলো, মুশুরের ডাল, চাল হয়ে গেলো।

    তারপর ঝা ঝা রোদে বহুদিন পর সবুজাভ, হলুদাভ, নীল, গোলাপি মার্সিডিজের আহ্বান। খুকির সাথে বিয়ের পর আজকের দিনটাই একটু বেশি বেহিসাবী খরচ হয়ে গেলো। এতটা পাতালে, অতলান্তে, গভীরতায়—মইন ঘুমের মধ্যে কখনও অমন স্বপ্ন দেখেনি। যে খুকির শরীরে হাত রাখলে প্রতিদিনই তার মনে হয়েছে-সৃষ্টিকর্তা এ-কি আজব বিষয় সৃষ্টি করলেন, হাজার ব্যবহারেও যার ক্ষয় হয় না, সেই খুকির মাংসও আজ ফোমে পরিণত হয়েছে। মইন স্বপ্নের এক একটি স্তর অতিক্রম করেছে আর উপলব্ধি করেছে, জীবনে আজই প্রথম সে সত্যিকার পুরুষ হয়েছে। আজই প্রথম সে কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেছে।

    নিদিন যাবত ওদের ফ্ল্যাটে পানি নেই। দুটোর সময় ঘরে ফিরলে খুকির-অসহ্য হয়ে উঠেছে জীন, আচ্ছা রান্না, থালাবাসন ধোয়া না হয় এক চিমটি জলে সারলাম। কিন্তু স্নান? একটু যাও নাগো, নিচের কলে—এই সবের পরে সন্ধ্যায় মইন মাসুদ রানা থেকে মুখ তুলতো। তারপর লুঙ্গিটাকে হাঁটুর ওপর উঠিয়ে থলথলে উঁড়ি নাড়তে নাড়তে দু’বালতি জল নিয়ে সিঁড়িতে উঠতে উঠতে আচমকা ভাবতো— অতসী যদি এই অবস্থায় আমাকে দেখে?

    উফ কি সোভার লাগে আপনাকে বলতে বলতে কি মাথা নোয়াতে পারতো?

    ঘরে ঢোকার পর হাঁটুর ওপর লুঙ্গি-পরে শার্টটাও ছুঁড়ে ফেলে সোফায় গা এলাতে এলাতে খুকির বিরক্তিকর চেহারার দিকে চেয়ে কখনও কি তার মনে হয়েছে খুকি ওর প্রেমিকা, স্ত্রী? ওর সামনেও অতটা অকৃত্রিম হওয়া ঠিক না, যতটুকু সে নিজের সামনে একা হতে পারে? কখনই মনে হয়নি। কেননা খুকিকে সব সময়ই ওর মা অথবা বড় আপা গোত্নে গার্জিয়ান মনে হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে শিশু। গার্জিয়ান বা শিশুর সামনে অত ফর্মাল থাকার দরকারটা কী?

    হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ অত্যন্ত জরুরিভাবে সকালে পড়া নিউজটা মনে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার চন্দ্রগ্রহণ। সন্ধ্যা ৭টা ৪৩ মিনিটের কয়েক মুহূর্ত পর ৫ ঘণ্টা স্থায়ী চন্দ্রগ্রহণ শুরু হইবে। চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় আহার হইতে বিরত থাকার রেওয়াজ আবহমানকাল ধরিয়া চলিয়া আসিতেছে।

    আবহমানকালকে অস্বীকার করার মতো অত শক্তি ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মইন সঞ্চয় করতে পারেনি। সূর্যকে যেমন কপালে হারে ছাউনী দিয়ে দেখতে হয়, চাঁদকে দেখার জন্যও তেমনই মইনের অবচেতন হাত কপালে উঠে যায়। আকাশের মাঝখানে থ্যা, উচ্ছিষ্ট, ধর্ষিতা চাদ। কতক্ষণ আগে কি ধকলটাই না গেছে বেচারির ওপর দিয়ে। ভীষণ নির্জন চারপাশ। চাঁদ আজ ছুটি নিয়েছে, পড়ন্ত রাত্রে রাস্তার বা বড় অসহায় করে তুলেছে রাতকে। হাঁটতে হাঁটতে বাঁয়ের গলিতে ঢুকতেই আবার চন্দ্রগ্রহণের কথা মনে পড়ে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার ডেট থেকে আরও পনেরো দিন পেরিয়ে গেছে খুকির। মাঝে মাঝেই এমন যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছুটা বিরতির পর পিরিয়ড শুরু হলে অঝোর হয়ে কেঁদেছে খুকি। কিন্তু এবারের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। ইলিশ মাছ খুব প্রিয় খুকির। সেটা খেতে গিয়ে গতকাল দুপুরে উগড়ে দিয়েছিলো সে। ফলে পাটিতে বসে দুজন দুজনের দিকে প্রশ্নবোধক চোখে তাকিয়েছিলো। নিরুত্তাপ গলায় খুকি ঘরের দেয়ালকেই বকেছিলো, মইনের দিক থেকে চোখ ঘুরিয়ে, আমি অত তাড়াতাড়ি আর খুশি হচ্ছি না। তরল গলায় মইন বলেছিলো, এবার মিস গেলে পিটিয়ে তক্তা বানিয়ে ফেলবো না! খুকি বিস্মিত চোখে ওর দিকে তাকাতেই সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠেছিলো–আরে তোমাকে না, তোমাকে না, ঋতুস্রাবকে।

    চন্দ্রগ্রহণের সময় খুকি যদি আহার গ্রহণ করে থাকে? কিছুটা বিচলিত মইন রাস্তার ওপর ছড়িয়ে থাকা গন্ধযুক্ত উচ্ছিষ্টের ওপর দিয়ে দপ দপ পা ফেলে হাঁটে। ঢেকুর তুলে ভ্রু কুঁচকায়, খুকিটার তো জীবনেও ও চন্দ্রগ্রহণ টহন মনে থাকার কথা না। সারাদিন সে ফার্ণিচার এদিক সেদিন করবে, না ওসব দিকে খেয়াল দেবে। আশ্চর্য মেয়ে ও। গম্ভীরভাবে চিন্ত করে দেখে মইন, স্ব উপকরণ থাকা সত্ত্বেও শুধু ওর স্ত্রী হওয়ার কারণে রহস্যময়ী হয়ে উঠতে পারলো না। আচ্ছা চিজ বটে একখানা!

    ৭.

    আমার নাম ভাবনা হলে বেশ হতো। আমি সারাদিন ভাবি। ঘুম থেকে ওঠে প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকায় মৃত্যু সংবাদ খুঁটে খুঁটে পড়ি। যে বাসার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আমার সারাদিনের ভাবনায় তারা প্রত্যেকেই জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাদের জায়গায় আমি নিজেকে স্থাপন করি। ভাবি, মইন ঘর থেকে বেরিয়ে যদি আর না ফেরে? এক সময় এই ভাবনাও আমাকে রোমাঞ্চিত করে। তাহলে সারাজীবন একজনের সাথে একঘেয়ে জীবন যাপনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি! কেউ কোন দোষ দেবে না, উল্টো সহানুভূতি! কিছুক্ষণ পরই অস্তিত্ব সংকটে শিউরে উঠি, এসব কি ভাবছি আমি? কারও সাথে কোন সাধারণ কথা হলে অতি ব্যস্ততায়ও সেই কথোপকথন আমার কানে বারবার বাজতে থাকে। এইতো সেদিন কে যেন বললো— চাকরিটা ছেড়েই দেবো ভাবছি। চাকরি ছিলো না, সে এক ভালো ছিলাম। কিন্তু চার বছর স্যান্ডেলের তলা খুইয়ে যা-ও একটা গতি হলো, মা বাবা, ভাইবোন সারাদিন এটা চাই, ওটা চাই। তিন পয়সার একটা চাকরি আমাকে রাজহাঁস বানিয়ে ফেলেছে, সংসারে একশোটা ফুটো রাজহাঁস ডিম দাও….. ডিম দাও…..

    কে যে কথাগুলো বলেছে, কোথায় বলেছে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত তন্ন তন্ন করে ভেবেও হদিস পাইনি। চাকরি যারা করে, সম্ভাব্য সবার কথাই ভেবেছি। খুঁজে পাইনি। প্রতিবেশীর সাথে, টিভি প্রোগ্রাম, শাড়ি কেনা, কাজের মানুষ রাখার ঝকমারি, ইত্যাদি আড্ডা দেয়ার সময় কাপড়ে সুই ঢোকানোর সময়, বাথরুম ঝাট দিতে দিতে, চা পাতার খালি কৌটো বাড়তে বাড়তে বারবার সেই কথাগুলো কানের কাছে চক্কর খেয়েছে। আমার এই এক মহাজ্বালা! সেদিন এক বিয়ের আসরে ঘর্মাক্ত মইন বললো— কি বিশ্রী রোদ উঠেছে। বাসায় আসার প্র এই কথাটিই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হাজারবার ভেবেছিল কি বিশ্রী রোদ উঠেছে।

    সেই ভানায় বিশ্রী শব্দটা আমার ভেত্র এমনভাবে গেঁথে যায়, আগে যেটা নিয়ে শুধু ভাবতামই, বলতাম না। তাই মাঝে মাঝে বিশ্রী শব্দকে মাঝে রেখে বলতে শুরু করলাম। যেমন, মইন যখন এক ঠ্যাং সোফায় তুলে আঙ্গুল ঢুকিয়ে একমনে নাক পরিষ্কার করতে থাকে। টেলিভিশনে হয়তো তখন একটা সুন্দর শাদাকালো অনুষ্ঠান চলছে। আমি হকচকিয়ে বলে উঠি কি বিশ্রী অবস্থা! বিয়ের আগেই আসলে ভালো ছিলো। মইনের ওপর সমস্ত খারাপ লাগা ঝেড়ে দিই। মইনের নাকে আঙ্গুল বহাল থাকে, আধবোজা চোখ মেলে জিজ্ঞেস করে টিভি প্রোগ্রামের সাতে বিয়ের আগের অবস্থার সম্পর্ক কি? অথবা ওর খুঁড়ি প্রশ্রয় পেয়ে পেয়ে ক্রমেই বিশাল হচ্ছে, কারেন্ট চলে গেলে যখন হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে আমি ভৎর্সনা করি, পই পই করে বলি খাওয়াটা কমাও, নয়তো এক্সারসাইজ করো। তা করবে না। দিনদিন ডোম্বলদাস হয়ে দেখি কারও জ্ঞান হচ্ছে না।

    যা হোক, কথা হচ্ছিলো ভাবনা নিয়ে। কত কিছু যে ভাবি আমি! রাতের স্বপ্নকে নিয়ে ভাবি, জানালায় নির্জন চোখ রেখে ঘুমন্ত শহরকে নিয়ে আমি ভাবি, কোনদিনই এক টুকরো জমি কেনা হবে না, ভাবি। একঘেয়ে একটি জীবনকে আজীবন টেনে নিয়ে যেতে হবে, ভাবি। ইরফান, মহেন্দ্র অথবা আবদুন্নাহ তিনজনের একজন আমার কর হলে কেমন হতো, ভাবি।

    ভাবনার সবচেয়ে দুঃসহ, জঘন্য, আনন্দদায়ক, মৌলিক প্রয়োগ আমি আমার শরীরে ঘটাচ্ছি। খুব আশ্চর্যজনক ভাবে বিয়ের একমাস পর থেকেই আমি একটি নিরুত্তাপ শীতল মানুষ। তখন মইন ছিলো ঝড়ের মতো। অত শীতলতার পাশাপাশি সে-ই বা কেন স্বাভাবিক ভালো মানুষটি থাকবে? প্রথম কদিন ভালোমানুষী করলেও শেষে খেপে উঠতে থাকলো। তখন আমার দাদিকে ব্যাপারটা খুলে বললাম। পুরুষদের সম্পর্কে ওয়াকিবহাল দাদি এক ভীতিকর সংবাদ দিলেন আমাকে। বেশিদিন যদি আমি মইনকে এমন শীতলতা দেখাই তবে মইন অন্য নারীতে আসক্ত হবে। ঈর্ষাষিত হয়ে উঠি এবং চিন্তিত হয়ে পড়ি আমি। আমার সেই নাজুক মুহূর্তে ভানা আমাকে বিচিত্রভাবে সহায়তা করে।

    আমি উপলব্ধি করি, যখন থেকে মইন আমার কাছে নিতাই শাদামাটা একজন মানুষ হয়ে গেছে, তখন থেকেই তাকে কেন্দ্র করে আমার শরীরের রঙ্গগুলি উবে যাচ্ছে। এই চিজ একবার গেলে আর কি ফেরে? তো অসুখের কারণ তো সনাক্ত করা গেলো। চিকিৎসা? প্রথমেই ভাবি, বাতি নিভিয়ে আমি মইনকে অন্য একটি পুরুষ হিসেবে গ্রহণ করবো। কিন্তু ওই যে বিবেক সংস্কার যেটা আমাকে কিছুদূর সামনে এগোতে দিয়ে টান দিয়ে পেছনে নিয়ে যায়। তার তাড়নাই আমাকে বলে দিলো, এতে করে মইনের সাথে প্রতারণা করা হবে। অন্তত যতদিন দুজন একসাথে আছি, কিছু দায়বদ্ধতা তো আছে। এছাড়াও ধর্ম? আমার পাপ হবে না?

    কি করা যায়! ভাবতে ভাবতে একসময় আমি এক নতুন খেলা আবিষ্কার করে ফেলি। সেদিন রাতেই মইনকে বলি, এখন থেকে দুজন অন্ধকারে ঘুমোবো। কোন আলো থাকবে না, একদম কুচকুচে অন্ধকারে। আলো থাকা না থাকায় মইনের কিছু যায় আসে না। আমার প্রতিটি ভজ, রহস্য বই তার চেনা। আমি কি টের পাই না কি অবলীলায় সে আমার সব কিছু ছোঁয়?

    শুরু হলো প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন। একরাতে সমস্ত ঘরে ঘোর অন্ধকার। জানলা গলিয়ে এক চিলতে আলো আসছে কি আসছে না। আমি মইনকে বলি—আজ একটু সময়ে নেবো।

    নাও রাজকন্যে নাও। আমি চোখ বুজে ভাবতে শুরু করি, আমি খুকি নই, অন্য একটি সুন্দরী রমণী। খুকি ওর বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেছে। তখন খুকিরই এক আত্মীয়া বেড়াতে এসেছে খুকির বাসায় তখন মইন একা। সুন্দরী আত্মীয়া রাত কাটাতে চাইলো। মইন তাকে সানন্দে থাকতে বললো। শেষ রাত। সুন্দরী তখন ঘুমোচ্ছে। মইন ওর রুম ছেড়ে সুন্দরীর রুমে চলে এলো। মইনের বিল সুন্দরী তখন কেবলই অস্ফুট কণ্ঠে নানা করছে।

    তো এই ভাবনার পর মুহূর্তেই আমি খুকির খোলস ছেড়ে সেই সুন্দরীটির ভেতরে চলে যাই। বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে অনুভব করি, আমি জেগে উঠছি। থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে আমার সমস্ত শীতলতা রূপ নিচ্ছে এক গনগনে আগুনে, যা আমি হারাতে বসেছিলাম।

    মইনের তারপর কি আনন্দ। উফ, কি ফ্রাস্টেটেড হয়ে পড়েছিলাম তোমাকে নিয়ে। এদ্দিন কি তবে ইচ্ছে করেই অমন শীতল থেকেছো? হেই খুকি! অন্ধকারে তখন অমন না না করছিলে কেন?

    এভাবেই শুরু? সারাদিনের অন্য ভাবনার মধ্যে দিয়েও আমি স্থির করে রাখতাম, আজ আমি কোন রমণী হবো। আমার ঘরটি কোন ঘর হবে।

    অন্যদিন তেমনই ঘর অন্ধকার। শরীরে পাউডার ছড়িয়ে ভাবি, আমি একটি বিদেশী রমণী। অফিসের সোর্সে মইন লজ্ঞ এসেছে। তো বিদেশিনী তাকে তার রুমে রাত কাটানোর জন্য সাদর আহ্বান জানাচ্ছে। খুকির কথা ভেবে ইতস্তত করছে মইন। কিন্তু বিদেশিনীর আকর্ষণীয় শরীর, ভঙ্গির কাছে এক সময় মইনের দ্বিধা টেকে না। খুকী জানলে কি যে কষ্ট পাবে, আমার নিচে ফোমের শয্যা। অন্ধকার ঘরে দামি আসবাব। খুকি জানলে কি যে কষ্ট পাবে, ভাবতে ভাবতে দোদুল্যমান মইন সেই আকর্ষণীয় গন্ধের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। সবুজ আলো নেই, একবিন্দু আলো নেই, গভীর গভীর অন্ধকারে খুকির খোলস ছেড়ে বিদেশিনীটি হয়ে আমি জেগে উঠি….জেগে উঠি। আমাকে কেন্দ্র করে মইনের ক্রোধ, দুশ্চিন্তার, অপূর্ণতার অবসান হয়।

    কিন্তু কখনো বিদেশিনী, কখনো বারবণিতা, কখনো প্রতিবেশিনী, সুন্দরী আত্মীয়া, সমুদ্রের কাছের ডাক বাংলাতে পরিচয় হওয়া পরিচিত-আট বছর যাবত অতসব ভূমিকায় অভিনয় করতে করতে আমার একঘেয়ে শরীর, একঘেয়ে মন, কষ্টার্জিত ভাবনা, ক্রমেই নেতিয়ে পড়ছে, ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, শীতল হয়ে পড়ছে।

    কিন্তু বাঁচতে হবে বলেই একসময় সেই গভীর অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আমি সূর্যালোকে মাথা সোজা রেখে দাঁড়াই। ভাবনার আরেকটি সুন্দর এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায় আমাকে টেনে বাইরে আনে। সেই অধ্যায়টি আমার একজন স্বপ্নের পুরুষকে কেন্দ্র করে। যার পূর্ণাঙ্গ একটা রূপ সম্পর্কে আমি বর্ণনা দিতে পারি, কিন্তু যাকে আমি এই জীবনে দেখিনি। এই একটি মানুষকেই যতটুকু সম্ভব দ্বিধাহীন ভালোবাসি আমি। জল স্থল অন্তরীক্ষে আমার স্বপ্নের টেলিফোন বেজে ওঠে ক্রিং ক্রিং। সে ভরাট কণ্ঠে আমাকে ডাকতে থাকে…খুকি….খুকি।

    অবিন্যস্ত কাপড়ে দৌড়ে যাই। রিসিভারে পৌরুষদীপ্ত আবেগঘন কণ্ঠ আছড়ে পড়ে—কোথায় ছিলিরে খুকি? ফোন ধরতে দেরি হলো? আমি চুপ।

    এত ব্যস্ত থাকি! কাজ শেষে আচমকা মনে হয় তোকে। আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি তখন।–আমি চুপ।

    তোকে শিশু মনে হয় আমার, কখনো কুমারী, মাঝে মাঝে থুথুড়ে বুড়ি। বিশ্বাস কর, তুই বুড়ি হয়ে গেলে তোর সমস্ত চামড়া যখন ঝুলে পড়বে, কুটি কুটি হাঁটবি তুই, তখনো, তখনো, তোকে ভালোবাসবো, এর চেয়ে বেশি বাসবো। আমি চুপ।

    আমাকে কবে ডাকবি? তুই-তো জানিস তুই না ডাকলেও আমি যাবো, ছিঁড়ে কুঁড়ে একাকার করবে তোকে। মইন এসে দেখবে তোর সমস্ত চামড়ায়, ভঁজে ভাঁজে হিংস্র আক্রমণ, পাগলের মতো হাতড়ে দেখবে ভেতর থেকে মনটাকে কে যেন খুলে নিয়ে গেছে। আমি চুপ। আমি চুপ! সেই অদৃশ্য পুরুষ আমার সমস্ত অস্তিত্বে তার দীর্ঘ ছায়া ফেলে গভীর কণ্ঠে বলে—আকাশে যাবি? সমুদ্রে যাবি খুকি?

    যাবো। যাবো। রিসিভার রেখে দিই। অদ্ভুত ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি।

    ৮.

    হাঁটতে হাঁটতে মইনের খেয়াল হয়, সে কেবলই হাঁটছে। এত হেঁটেছে এতক্ষণ, অনেকক্ষণ আগেই তো তার বাড়ি পৌঁছে যাওয়ার কথা, কিন্তু আবছা অন্ধকার গলি, রাস্তার ময়লা, দুপাশের ছোট বড় ঘর বাড়ির চারপাশ দিয়ে কেবলই সে চক্কর খাচ্ছে। তবে কি সে রাজপথ থেকে সোজা গলিতে না ঢুকে পেছন দিয়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে আসা জটিল গলিটায় ঢুকে গিয়েছিলো?

    যাক বাবা! ভালোই হয়েছে সোজা গলিতে তো রোজই ঢুকি। আজ না হয় জটিল পথেই ঘুরলাম–ভাবতে ভাবতে শিস দিয়ে ওঠে মইন।

    গতকাল রাতে অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছিলো সে। সারাদিন পর এখনই স্বপ্নটির কথা মনে পড়ে তার। ভোরেও একবার হয়েছিলো। স্বপ্নটি ছিলো এমন–দরজায় টুকটুক শব্দ হচ্ছে। দরজা খুলেই বিস্ময়ে মুখ হাঁ হয়ে উঠলো। এলোমেলো ক্লান্ত পায়ে যে পুরুষটি তার ঘরে এসে ঢুকলেন, তিনি তার বাবা। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। সমস্ত কপালে ঘিনঘিনে ঘাম। শরীরে আঁশটে গন্ধ। তিনি থলেটা মাটিতে নামিয়ে রেখে কষ্ট করে শ্বাস টানতে থাকেন। লোকটিকে গতকালই সে বিছানায় লেপটে থাকা অবস্থায় দেখে এসেছিলো। মইনের কাঁধে সারা শরীর ভর করে দাঁড়াতে পারছিলেন না। থরথর কম্পনের সাথে বিছানায় পতিত হয়েছিলেন। অনড় ডান পা, ডান হাতকে সজোরে নিজের আয়ত্ত্বে আনার আপ্রাণ চেষ্টার পর হতাশায় শক্ত সামর্থ মানুষটির চোখে জল এসে গিয়েছিলো।

    এখন তাকে শিশুর মতো টলমনে ভঙ্গিতে ঘরে ঢুকতে দেখে বোবা হয়ে গেলো সে।

    গতকাল কুমিল্লায় বাবাকে দেখতে গিয়ে তার মিনমিনে কণ্ঠস্বর মার উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়েছিলো সে, একবার ফিজিওথেরাপী করে দেখলে হতো।

    বাবার শরীর বিছানায় আড়াআড়ি শোয়ানো। তার একটি পা-কে সজোরে নেড়ে চেড়ে এক্সারসাইজ করাতে করাতে ভগ্ন কণ্ঠে মা বলেছিলো, ওরা তো দিনে ষাট টাকা করে নেয়।

    পালিয়ে এসেছিলো মইন।

    স্বপ্নেও বাবাকে হেঁটে আসতে দেখে তার আগের দিন কুমিল্লায় যাওয়া, ফিজিওথেরাপী, পালিয়ে আসা সব মনে পড়ে গিয়েছিলো।

    ঘুম থেকে উঠে দেখেছিলো অর্ধ বিবস্ত্র খুকি ঘুমিয়ে আছে। উত্তপ্ত দেয়াল ধরে অতি সন্তর্পণে অগ্রসরমান টিকটিকি বার বার তার অসহায় লেজ ওপর দিকে উঠাচ্ছে। জানালা দিয়ে থুথু ফেলতে গিয়ে নিচে পুড়ে যেতে থাকা ফলশা গাছের দিকে চেয়ে একবারই মাত্র স্বপ্নের কথা মনে হয়েছিলো। সারাদিনের ঘোরের পর এখন আরেকবার।

    আমি কি? নিজেকে মইন প্রশ্ন করে হা হা করে হেসে ওঠে, আমি হলাম বুদ বুদ…রঙ ধনু…আর কি? আর কি?

    ৯.

    আবদুল্লাহর সাথে খুব মজার সম্পর্ক আমার। পত্রিকা অফিসের রিপোর্টার সে। যদি জিজ্ঞেস করি, কেমন আছো হে? আস্তিন গুটিয়ে মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলবে—স্বামীর ব্যাভিচারের দরুণ স্ত্রী তাহাকে ক্ষুব্ধ হইয়া এসিড ছুঁড়িলে সে যেমন থাকে—তেমন।

    আমার ভাবনার খবর সে জানে। পত্রিকার খবর নিয়ে বেশি ভাবি, সেটাও জানে। ফলে প্রায়ই তার সাথে আমার কথা হয় এমন—

    আমি জানো, আজকের পেপারে পড়লাম, নয় মাসের গর্ভবতী এক পাগলিনীকে একদল ছেলে জোরপূর্বক….।

    আবদুল্লাহ্ আহা! তুমি যদি সেই পাগলিনীটি হইতে?

    আমি না ঠাট্টা নয়, কি যে হচ্ছে চারপাশে। আরেকটা নিউজ পড়ে তো সেদিন স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম! অভাব সহ্য করতে না পেরে এক বাবা তার চার সন্তানকে বিষ খাইয়ে।

    আবদুল্লাহ–আহা থামো! থামো। আমি যাহা জানি তাহা ইহার চাইতেও অধিক পৈশাচিক। এক বৃদ্ধ পিতাকে খুঁটির সাথে বাঁধিয়া তাহার সামনে রোজ রাতে একদল ছেলে তার বাবা মেয়েকে।

    আমি–থাক্ থাক্। ভাল লাগে না।

    আশ্চর্য! কি করে এই সব প্রসঙ্গের পর আবদুল্লাহ্ ঘোর লাগা চোখে তাকায়? বলে খুকি, তোমার অনুভব, সচেতনতা খুব সুন্দর, এই জন্যই, এই জন্যই আমি…?

    ছিটকে ঘরে আসি আমি। পৃথিবীটা আমার কাছে বীভৎস হয়ে ওঠে।

    আজ চন্দ্রগ্রহণ গেলো। জানালা দিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখেছি একটি ছায়া একটি চাঁদকে গ্রাস করছে। গ্রাস করছে মনে হতেই আমার শরীরের রোম দাঁড়িয়ে যায়। আজ রাতে যখন অন্ধকারে মইন আমাকে খুঁজতে থাকবে, বিয়ের প্রথম দিকের সংস্কার, বিবেকবোধের পাছায় লাথি দিয়ে কি মহেন্দ্রকে আমন্ত্রণ জানাবো? তুমি আমাকে গ্রাস করো। গ্রাস করো! আট বছর ধরে মইনকে অনেক বিচিত্র স্বাদের নারী উপহার দিয়েছি। বড় ক্লান্তি লাগে। বিচ্ছিরি লাগে। অবসন্ন লাগে। আমার ফের শীতল হয়ে উঠতে থাকা শরীরে মইন যদি আবার ক্রুদ্ধ হয়? বিরক্তি প্রদর্শন করে?

    এক সময় অন্য নারীর কাছে….?

    কোনই প্রয়োজন নেই জটিলতার। তারচেয়ে এই ভালো, এবার আমি নেবো। আমার কল্পনার সার্বিক সুন্দর পুরুষকে, কখনো মহেন্দ্রকে, কখনো ইরফানকে, বিদেশী পুরুষকে, টেলিভিশন ঠিক করতে আসা মেকানিককে, রাস্তায় একবার দেখা কোন লোককে। এভাবে আরও আটটি বছর কাটিয়ে দেবো। তারপর? আরও আট বছর পর? আমার ঘুম পাচ্ছে। মইন কোথায় গেলো?

    কি সব ভাবছি আমি! উঠে দাঁড়াই। ঘড়ি দেখি। চোখ গোল হয়ে আসে। ঘটর ঘটর ফ্যান অফ করে উদগ্রীব চোখ রাস্তার দিকে পাঠিয়ে দেই। সম্ভবত আমার গর্ভে জ্বণ এসেছে। গতকাল বাথরুমে উগড়ে গিয়েছিলাম। মইন তুমি ফিরে এসো…..আরও আট বছর তুমি না চাওয়া সত্ত্বেও তোমাকে বিচিত্র স্বাদের নারী দেবো, তুমি ফিরে এসো। আমি নিজেকে তোমার হাতে খুলে দেবো না, তোমাকেও নেবো না, ফিরে এসো। তুমি শুধু আর্থিক কষ্টে ভুগো, সে জন্য আমিও। কি করার আছে তোমার? সবাই কী কল্পনার মানুষের মতো সার্বিকভাবে সম্পন্ন হয়? আমি একশোবার জানি, নিশ্চিত জানি, অনন্তকাল নারী বলতে তুমি আমাকেই বুঝে। বিট্রে করলে আমিই করি, গোপনে। প্রকাশ্যে কি সম্ভব? মইন, আমরা দুজনেই দ্বিধা এবং বিবেকের কাছে অসহায়। আমি জানি আমাকে স্পর্শ করলেই তুমি জেগে উঠো না। তোমার স্পর্শে আমিও না। তবুও অন্য কোন স্পর্শে আমি জেগে উঠি, প্রকাশ্যে আমরা কেউই তা মেনে নিতে পারি না। সহ্য করতে পারি না। এ জন্য আমরা দুজনই সমান অসহায়।

    ঘুম আসে আমার দু’চোখ জুড়ে। আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না।

    ১০.

    বেশ কিছুক্ষণ পর মইন বুঝতে পারে, তাকে কানাওয়ালায় ধরেছে। ছেঁড়া ধনুকের মতো লাফিয়ে ওঠে সে। কানাওয়ালার ভাবনাটা মাথায় আসতেই স্পষ্ট করে তাকায় চারপাশে। এতক্ষণ কি সে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পথ চলেছে? খালি পেটে পাঁচ পেগ পড়ায় নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে? প্রশ্নই আসে না। বিয়ের আগে বহ্বার মেথর পট্টিতে, পিকনিকে গিয়ে খাঁটি বাংলা গিলেছে। দু’বস্ত্র বিভিন্ন কারণে ভালো মানুষটি হয়ে গেছে বলেই পাঁচপেগে দিশেহারা হবে মইন। ছোঃ।

    আরে এ কি! মাথা উঠায় মইন, দু’দুটো কাক এক সাথে মরে তারের সাথে ঝুলছে। কি রোমান্টিক মৃত্যু কিন্তু বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথে, কখনো তো এই রাস্তায় কাক ঝুলতে দেখেনি। এটা তবে কোন পথ? কোন কোন দিন সন্ধ্যায় বাবা দেরি করে ফিরলে মার ক্রুদ্ধ অথবা চিন্তিত মুখের দিকে তাকিয়ে বলতেন, উফ বাবা! কি বিপদেই না পড়েছিলাম। আমাকে কানাওয়ালায় ধরেছিলো। তখন মনে হতো এটা বাবার নিছক একটা অজুহাত। দেরি করে ঘরে ফেরার চতুর একটা অজুহাত।

    দুহাতে চোখের পিচুটি ঘষে, সোজা মাথা উঁদ বরাবর খাড়া করে রাজহাঁসের মতো গলা বাড়িয়ে পুনরায় চারপাশে তাকায়। আরে এ কি! রাস্তার পাশেই ছোট্ট একটি মাঠের মতো! মাঠের ওপর সুরকীর স্তূপ, সুরকীর ওপর একটি বিড়াল শুয়ে আছে, অথবা ঘুমোচ্ছ। বাসায় যাওয়ার পথে কখনও তো এক চিলতে খালি জমিনও চোখে পড়েনি তার।

    ঘামতে থাকে মইন। মনে পড়ে, একদিন তুমুল বৃষ্টি। কি কড়কড়ে বাজ! এরমধ্যে নিস্তব্ধ রাস্তায় নেমে দেখেছিলো—ক্ষীণ শরীরে, ভিজে জবজবে কাপড় পরা একটি মানুষ রাস্তায় পড়ে আছে। অফিসের সামনেই। মইন ছিলো সেদিন অফিসের শেষ ব্যক্তি। লোকটির চারপাশে কিছু পয়সা ছড়ানো ছিটানো। কাছে ঝুঁকে মইন দেখেছিলো লোকটির পকেটে একটি ভেজা খাম। আলতো হাতে খুলে ভেজা অস্পষ্ট লেখায় চোখ বুলিয়েছিলো, বাবা, অনেকদিন হয় দেশের বাড়ি আসো না। অফিসের কি অতই ব্যস্ততা যার জন্য….।

    মইন লোকটি ভিক্ষুক নয় জেনেই পালিয়ে এসেছিলো। নিচ্ছিদ্র ঘুমে অচেতন হয়তো খুকি। ঘুমিয়ে গেলে খুকি মৃতা নারী। রাতের পথে আর কতক্ষণ ঘুরবে সে? ওইতো ডানের রাস্তা, ওটাই তো…… ভাবতে ভাবতে মাথাটা ঈষৎ ঝুঁকিয়ে সামনের দিকে ঝাঁপ দেয় সে। চাঁদের নিজের কাহিল অবস্থা। সে কি পথ দেখাবে? রাস্তার টিমটিমে আলোর ওপর ভরসা করে ডানে ঘুরতেই পায়ের নিচে বিদ্যুৎ খেলে যায়। একটি বিশাল পাথর ছাতলা পড়া দেয়ালের পাশে। বাসা থেকে বেরোনোর সময় অমন বিশালতা চোখে পড়েনি তার। অর্ধেক পোস্টারে ঢাকা ছাতলা পড়া দেয়ালও। তবে কি বামের রাস্তা? কি সব আজব গলি। কালীর মতো লকলকে শুকনো জিভ বের করে রেখেছে। বিপন্ন পা রাস্তার মাঝখানে ছেড়ে দিয়ে ছেলেবেলার রাজকুমারের মতো মইন বলে ওঠে, পথ, পথ, আমায় বাড়ি নিয়ে চলো।

    পথ তাকে নিয়ে চলে। শীরে বাষ্প বেরোনো শরীরকে উত্তুঙ্গ হাওয়ায় সমর্পণ করে ভাবে, কি লাভ বাড়ির খোঁজ করে–খুকি তাকে কতবার ঠেলেছে ঘর থেকে বেরোনোর জন্য। ঘরে থেকে থেকে সে হাঁপিয়ে তুলেছিলো খুকিকে। আজ সেই সে বোলো। অনেকদিন পর বেরোলো। অন্য রকম বেরোলো। আর কি সে কখনো ঘরে ফিরতে পারবে? পুতুলের লাল নীলের পরে খুকি কি আর কখনো তার সামনে সেই আগের আকর্ষণ নিয়ে দাঁড়াতে পারবে? খুকি ঠেলার আগে সেই কি এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বে না? পথের আনন্দ তো মইনের জানা হয়ে গেছে আজ।

    মইনের বুক ঠেলে দীর্ঘশ্বাস ওঠে। ঝিমঝিম করছে মাথা। রাস্তার মাঝখানে একটি মুরগি মরে পড়ে আছে। আহ্! আজ শুধু মড়া দেখছি। কি দরকার এমন অভাবের দিনে মুরগিগুলোর মরে যাওয়ার—ভেবে দক্ষিণ গলিতে পা রাখতেই—না, অড় প্রাসাদ আমাদের গলিতে নেই।

    আবার হাঁটে। ক্ষিধেয় পা টলছে। এ কোন মহাজীবন তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে? কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? একটি খালি জায়গার ওপর দীর্ঘ বাড়ি হচ্ছে। কোমর অব্দি তৈরি হওয়া অর্ধনির্মিত বাড়িটির দিকে তাকিয়ে ঘাবড়ে যায় মইন। না, তাদের এলাকায় এমন কোন বাড়িও চোখে পড়েনি তার কিশোরবেলা থেকেই সব রাস্তা ঘাট, সিনেমা হল, অলিগলি, হাসপাতাল চেনে ফেলার পর থেকে খুব হারিয়ে যাওয়ার শখ ছিলো মইনের। কখনই কোন অবস্থাতেই সে ইচ্ছে থাকলেও হারিয়ে যেতে পারবে না—এই ভাবনাটাই চিরকাল তাকে ক্লান্ত করে তুলেছে। অনেকটা ক্ষিধে, কিছুটা ভয়, হতাশা ক্লান্তির পাশাপাশি তাই আজ অনেক আনন্দও হচ্ছে তার।

    পত্রিকায় খুকি যদি বিজ্ঞাপন দিতে। মইন তুমি যেখানেই যে অবস্থায় আছে, শীগগির ….। ওইতো সোজা রাস্তা। বেশ চেনা লাগছে। তবে কি হনহন হাঁটে মইন। দ্রুত হাঁটলে পথটা শীঘ্রই হরিয়ে যাওয়ার তীব্র সম্ভাবনা আছে এদিকে আবার এবড় নারকেল গাছ কি করে এলোয় কি আজব পরিস্থিতি! কোন প্রেন্সিী তাকে অদৃশ্য দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে না তো? কিছুটা ভীত মইন দ্রুত পকেটে হাত দেয়, সিগ্রেটের খোঁজে। সিগ্রেটের কোন নেশা নেই তার। অতসী সিগ্রেট পছন্দ করে। ওর সামনে, অনেকের সামনে শো করে টানে। নেশা যেহেতু নেই, সেহেতু পকেট শূন্য। কে যেন বলেছিলোসকালে খালি পেটে সিগারেট ধরাইলেই বউয়ের খ্যাচ খ্যাচানী শুরু হয়ে যায়। আরে মাতারী তুই কি বুঝবি। খালি পেটে সিগারেট না খাইলে আমার পায়খানাই হয় না।

    মনে পড়ে, অফিসের কলিগ রবীন্দ্র বাবু বলেছিলো। ধুৎ! এই প্যাঁচপ্যাঁচ অসহ্য লাগছে। শরীরটা এমন ভারি হয়ে উঠলে কেন? মইন পরখ করে দেখতে চায়, প্রেতলোক থেকে সে বেরিয়ে আসতে পেরেছে কীনা। তবে কী স্বপ্ন বই? অতসীর নীল শাড়ি, গোলাপির জ্বলন্ত চিতা, অপ্সরীর কোল থেকে লাফিয়ে পড়েই এই অন্ধ গলির প্যাচের মধ্যে চক্কর খাওয়া?

    মনে পড়ে, বৃষ্টিতে লোকটাকে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখেও মইন পালিয়ে এসেছে—এই গল্প শুনে দয়াবতী খুকি বিস্মিত চোখে তাকিয়ে ছিলো ওর দিকে। সেই চোখে কিঞ্চিৎ ঘৃণাও ছিলো। কুঁসে ওঠে মইন, ঘরে বসে বসে এক একটা পুরুষকে রূপকথার বীর রাজকুমার ভাবতে তো কষ্ট হয় না। আরে গৃহনারী, তুমি কি করে বুঝবে বিংশ শতাব্দীতে একটি অর্ধমৃত লোককে টানাটানি করা কি ঝক্কির? থানায় গিয়ে ইচ্ছে করেই নিজের হাত দুটো বাড়িয়ে দেয়া নয়? জীবনকে তুমি কতটুকু দেখেছো?

    ভাবতে ভাবতে মইন ডবল মার্চের ভঙ্গিতে পুনরায় বায়ে ঘুরতেই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মুখ। হ্যাঁ এটাইতো সেই চারতলা বিল্ডিং। যার একটি ঘরে খুকিকে নিয়ে সে বাস করে। ক্লান্ত ভাব কেটে গিয়ে ভেতরটা ফুরফুরে হয়ে উঠতেই লে শালা! এটা তো দেখছি অতসীদের বাসা। অতসী আর তার বাসার চেহারার বেশ মিল আছে। একদিন অতসীকে বলেছিলো কথাটা। আমার বাসার সামনে তো ‘আশ্রয়’ নামের কোন নেমপ্লেট ছিলো না? অতসীদের বাসায়ও ছিলো কি? অবিকল স্টাচু মইন মহা ফাপড়ে পড়ে রাজহাঁসের মতো গলা বাড়িয়ে বাড়িটিকে খুঁটে খুঁটে দেখে। না, এটা

    তো তার নিজের বাড়িই। চারতলার দড়িতে ওইতো খুকির শায়া ঝুলছে।

    শায়াটাতো অতসীরও হতে পারে। ওইতো অসীদের বিল্ডিংয়ের সামনের পদ্ম ফুলের কারুকাজ।

    কিন্তু, ‘আশ্রয়’ নেমপ্লেট? তুমি কে হে বাপু? তুমি তো দু’বাড়ির কোথাও ছিলে, কোত্থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে, নামটাতো খাসা হে। আমি তো এখন তোমাকেই চাইছি।

    কিন্তু, কোত্থেকে এসেছো তুমি? মহা মুশকিল তো! সদ্য আমদানি হয়েছে? তাই হবে। হে হে ঠিক ধরেছি। আমাকে ঘোরে ফেলার মতলব?

    ঘুম আসছে। পা দুটো মটমট শব্দে পড়তে চাইছে। এত রাতে যা-ও বাড়িটা খুঁজে পাওয়া গেলো, …ওইতো তিনতলার টবসহ ফুলের ঝাড়! মকবুল গিন্নির ছোট বেলার শখ! কিন্তু সামনের লম্বা ন্যাড়া নারকেল গাছটা দেখিয়েই তো অতসী বলেছিলো, আমাদের পাড়ায় এসে ন্যাড়া নারকেল গাছ বাড়ি কোনটি জিজ্ঞেস করলেই লোকে দেখিয়ে দেয়।

    কি মুশকিল! কি মুশকিল!

    পেটের ক্ষুধা এমন লেলিহান হয়ে উঠছে! বৈচিত্রপ্রিয় খুকি তত আট বছরের মধ্যে আমি এই একবারই এত রাত করায় শাসন করার বদলে উল্লসিত হবে, উল্লাসে যাবো?

    অতসী কী জেগে আছে? নীল শাড়ি পড়া আর মধ্য রাতে প্রতীক্ষায় জেগে থাকা এক কথা?

    তবে?

    শরীরের ভুস ভুস গন্ধ নিজের নাকেই প্রকট লাগছে। ক্লান্তি, জ্বালা জ্বালা চোখ, থুবড়ে পড়তে চাওয়া পা দুটোকে সজোরে টান করে।

    মইন ঘোরে পড়া মানুষের মতো তর্জনী নাড়ায়….তুমি যেই হও বাড়ি, খুকিই হও আর অতসীই হও, কি বলতে চাইছে তা আর বাড়ির কাছে মইনের খোলাখুলি বিশ্লেষণ করা হয়ে ওঠে না, নির্জন রাতে চাপা অথচ তীব্র স্বরে যে-ই হও, যে-ই হও। বলতে বলতে কম্পিত গলা বাড়িয়ে বাড়িটিকে খুঁটে খুঁটে দেখে। ভাবে, এখন সিদ্ধান্ত নেবো আমি।

    আমি কোথায় যাবো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }