Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প1423 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শুধু সমুদ্রের চিত্রনাট্য – অরূপরতন ঘোষ

    শুধু সমুদ্রের চিত্রনাট্য – অরূপরতন ঘোষ

    মূল শহরটা যেন এতক্ষণ দম বন্ধ করেছিল, এইমাত্র হাঁপ ছাড়ল। তাই হঠাৎ দেখা গেল বেশ কিছুটা সবুজ মাঠ। খোলা হাওয়া। যদিও তার চারপাশ ঘিরেই হুমকি দিচ্ছে। একটু ফাঁকা ফাঁকা হয়ে আসা কংক্রিটের অরণ্য বা সারি সারি মানুষ বাস করার মেশিন। কিন্তু এই সবুজ মাঠটায় মাঝেমাঝেই টের পাওয়া যাচ্ছে কিছুটা বাতাসের

    স্পর্শ আর সঙ্গে সঙ্গে নম্রতার শাড়ির আঁচলের কিছু ব্যর্থ ওড়াউড়ি। ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা কেউ কেউ দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে। কেউ কেউ বাড়ি যাচ্ছে বা অন্য কোথাও এদিক ওদিক চলাফেরা করছে। আর কেউ লক্ষ না করলেও অনেক ওপরে আকাশে কয়েকটি মেঘের টুকরো কোথায় যেন ছুটে যাচ্ছিল সেই সময়।

    —বল কি শুনবি বল?’ নম্রতা বলল।

    —তুই যা বলবি। এম. এ ইংরেজির ছাত্র তরুণ যেন শিশুর মত বলে উঠল।

    —”কিছু শুনেছিস আমার সম্পর্কে?

    —হ্যাঁ, তোকে তোর হাজব্যান্ড মারত।

    –হুঁ ঠিকই শুনেছিস।

    -কিন্তু কেন?

    –এমনি।

    -হ্যাঁ, রে। সব সময় যে মারত তা নয়। মাঝেমাঝে বেড়াতে নিয়ে যেত। সন্ধ্যেবেলা আমরা সি-বিচে যেতাম। কিন্তু মাঝেমাঝেই বাড়িতে ফিরে এসে, শোবার সময় ড্রিংক করত, তারপর মারত।

    একুশ বছরের তরুণ কিছু বুঝতে পারে না। এত সুন্দর ফুলের মতো মেয়েটাকে মারতে কেন একটা লোক? আসলে বিয়ে, বিয়ে ব্যাপারটা সম্পর্কেই বিশেষ ধারণা নেই ওর। এত অল্প বয়েস, পড়াশুনো নিয়ে থাকে—এ সব কিছু বোঝে না। বাড়িতে কোনও বোনও নেই যে তাকে কেন্দ্র করে কোনও বিয়ের পরিস্থিতি বা আবহাওয়া তৈরি হবে। একটু আধটু ব্যাপারটা বুঝতে পারবে তরুণ।

    —আবার কি জানিস তো, কখনও কখনও মারার পর পায়ে ধরে ক্ষমা চাইত।

    তরুণ তার চারপাশের একটু দেখা জীবন, ইংলিশ অনার্সের নাটক, উপন্যাস—এ সবের ভেতরের কাহিনীর সঙ্গে মনে মনে মেলানোর চেষ্টা করে নম্রতার এই ব্যাপারটাকে। কিন্তু কোথাও কোনও মিল নেই। না সেক্সপিয়রে, না ডিকেন্সে, না শেরিডনে। ইবসেনের সঙ্গে বোধহয় একটু মিল আছে। দি ডলস হাউস নাটকের নোরার সঙ্গে। সেই যে নোরা বেরিয়ে এল স্বামীকে ছেড়ে। বলল, কারুর স্ত্রী, কারুর মেয়ে, কারুর মা—এসবের চেয়েও আমার প্রথম এবং আসল পরিচয় আমি নারী। আমি বাবার ঘরেও একটা পুতুল ছিলাম আর তোমার কাছেও একটা পুতুল হয়েই আছি, তাই এই পুতুল-ঘর ভেঙে দিয়ে আমি চললাম। না, নম্রতা ঠিক নোরার মতো অতটা র‍্যাডিকাল নয়। ও বিয়ে করে সংসার করতেই চেয়েছিল। কিন্তু স্বামীর অত্যাচারে ওকে চলে আসতে হল। না ওর বিয়েটা আবার কাকিমা, পাড়ার মিনু বৌদি কারুর সঙ্গেই মিলছে না।

    কিন্তু নম্রতার এই ঘটনাটা লিখব কি করে রে বাবা! গল্প হতে চাইছে নম্রতা। নিদারুণ ঝড়ে বিপর্যস্ত ওর বাইশ বছরের জীবনটাকে নিয়ে ও কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। হাওয়ায় আঁচল উড়ে যাচ্ছে ওর। নম্রতা বলতে লাগল—

    কোথা থেকে যেন বিটোফেনের সেভেনথ সিম্ফনির সুর শোনা যেতে লাগল। নম্রতার কথার সঙ্গে সঙ্গে অর্কেস্ট্রার সুর কখনও উঁচুতে উঠছে কখনও নামছে। তরুণের বা আমার কানে ভেসে আসে এই সুন্দর সুর। অন্ধ সঙ্গীতকারের এই সুরবদ্ধ সিম্ফনিতে মনে হয় কখনও যেন পাপীরা সমুদ্রে স্নান করছে। আমিই তরুণ নাম দিয়ে শুরু করেছিলাম এই গল্প বা চিত্রনাট্যটা। নম্রতার সঙ্গে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের লনে সেই যে বসেছিলাম তা প্রায় কুড়ি বছর আগের কোনও একদিন। যেন চোখের সামন ভাসছে সেদিনটা। যেন থমকে আছে সেদিনের বাতাস, সবুজ মাঠ আর তার প্রান্ত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়ি ও অন্যান্য নগর-দৃশ্য। সেই আশির দশকে দৃশ্য-দূষণের সচেতনার যুগ তখনও আসেনি।

    সিম্ফনিটা বাজছে—পাপীদের জলস্নাত হয়ে পবিত্র হওয়া। নাবিক ও সমুদ্র রঙ্গের মাখামাখি।

    শুধু সমুদ্রের চিত্রনাট্যে অবধারিত ভাবেই এরকম ভাবে বিটোফেনের আসার কথা ছিল।

    নম্রতা আবারও বলল, এমনি মাঝে মাঝে বেশ ভালো ব্যবহার করত। সন্ধ্যেবেলা সি বিচে বেড়াতে নিয়ে যেত।

    সমুদ্র উত্তাল হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে ইন্ডিয়া গেট সংলগ্ন বাঁধান এলাকায়।

    আমি মনের চোখে সি বিচ কল্পনা করার চেষ্টা করলাম। আরব সাগরের বিস্তৃত জলরাশি আর বষের তীরভূমির মেলামেশা। সেই কুড়ি বছর বয়েসে আমি তখনও বম্বে দেখিনি। আরব সাগরও না। কোনও সমুদ্রই তখনও আমার দেখা হয়নি। এখন বম্বের সমুদ্র আমার দেখা। কুড়ি বছর আগের নম্রতার কথাগুলো যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল। মুম্বাইয়ের সমুদ্র। ইন্ডিয়া গেটসংলগ্ন বাঁধান তটে তার দুরন্ত উচ্ছ্বাসে আছড়ে পড়া কিংবা জুহু বিচের বালির বিস্তৃত বিছানায় নির্দ্বিধায় সমুদ্রের কিছুটা এগিয়ে এসে আবার ফিরে যাওয়া। অন্যদিকে পর্যটকদের নিয়ে উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে ঢুকে যাওয়া লঞ্চ। মুম্বাইয়ের সমুদ্র বলতে এসবই এখন একসঙ্গে মনে পড়ে।

    বহু দিন থেকেই চলচ্চিত্র পরিচালক বা ফিল্মমেকার হওয়ার ইচ্ছে ছিল। তাই চোখের সামনে স্ব কিছু সিনেমার মতো করে দেখার অভ্যাস হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লন-এ বসে নম্রতার সঙ্গে কথা বলছিলাম। তারপর কত সময় পার হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত। নম্রতা যখনই সি বিচে বেড়ানোর কথা বলে, তখনই যেন একটা আছড়ে পড়া সমুদ্রের দৃশ্য বসে গেল মনের মধ্যে। চিত্রনাট্য লিখলে বা চলচ্চিত্র পরিচালনা করলে এ রকমই একটা দৃশ্য বা সিকোয়েন্স আমি রাখতাম।

    সমুদ্রের নিটোল জীবন্ত ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে ইন্ডিয়া গেটের বাঁধান ঘাটে। প্রতিহত হয়ে ফিরে যেতে গিয়ে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ছে পরবর্তী ঢেউ। ভিজে যাচ্ছে কংক্রিট। মানুষের বাঁধ দেওয়ায় বিরক্ত সমুদ্র।খুশি মানুষ। ঘাটের একটু নিচে নামলে সমুদ্রের জল ছিটকে আসছে। ভয়ঙ্কর আকর্ষণ সমুদ্রের। নিরলস প্রকৃতির নিয়মে মাঝ সমুদ্র থেকে কিছুটা কালো ও ঘোলা জলের ঢেউয়ের প্রবাহ প্রবল শক্তিতে ছুটে আসছে তীরের দিকে। সমুদ্রের মতোই মানুষের মনও বিক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মাঝে মাঝে। বিক্ষুব্ধ মানুষকে দেখার জন্য অনেক সময় বেশি কেউ থাকে না ধারে কাছে। কিন্তু নম্রতাকে দেখতে হতো তার মারমুখী স্বামীকে।

    কিন্তু তোকে ও মারতো কেন?

    এমনিই হঠাৎ করে।

    এমনিই!

    হ্যাঁ। আবার কখনও পায়ে ধরে ক্ষমাও চাইতো। কাঁদতো। আমি আমার বউদিকে জানিয়েছিলাম ব্যাপারটা। বৌদি আমাকে কিছু ট্যাবলেট পাঠিয়েছিলেন। রোজ একটা করে খেতাম। ও এসব জানতো না। ওর ধারণা ছিল আমি ওর বাচ্চা ক্যারি করছি।

    আজ বুঝতে পারি নম্রতা সেদিন আমাকে অনেক কিছু বলেনি। আমিও জিগেস করিনি। আমার তখন একুশ বছর বয়স। নম্রতারও এই রকম। তার ওপর ওই রকম হেনস্থার পর নতুন জীবন শুরু করেছে ও। তাই তখন আর বিবাহিত জীবনের গোপন কথা জিগেস করার কথা মনে হয়নি। একটা নিষ্পাপ সুন্দরী শিক্ষিতা মেয়ে স্বামীর হাতে প্রায় প্রতিদিন মার খাচ্ছে এটা ভাবতেই আমার রক্ত জল হয়ে যাচ্ছিল তখন।

    আজ চিত্রনাট্য লিখতে বসে মুম্বাইয়ের সমুদ্র যেন ঢুকে পড়ছে নম্রতাদের ঘরে। বিছানার ওপর আছড়ে পড়ছে। উথাল-পাথাল ঢেউ উঠছে ঘরের হাল্কা অন্ধকারে।

    পালিয়ে এলি কি করে?

    এ ব্যাপারে আমাকে শাশুড়ি কিছুটা সাহায্য করেছিলেন। একদিন আমার দাদা এল কলকাতা থেকে। ও তো দাদার সামনেই চুলের মুঠি ধরে মারতে লাগল। দেখে তো দাদা রেগে আগুন। যাই হোক ও দোকানে বেরিয়ে গেল। দাদা সেই সময় আমায় নিয়ে চলে এল কলকাতায়। শাশুড়িও তাই চেয়েছিলেন। শাশুড়ি মানুষটা বেশ ভালো ছিলেন।

    দোকানে মানে—ও কি করত?

    ওর তো কাপড়ের দোকান ছিল। শোনা যায় ফিল্মস্টার অরুণা ইরানির সঙ্গে ওর একটু সম্পর্কও ছিল।

    কাপড়ের দোকানদার। কাপড়ের দোকানদারকে তুই বিয়ে করলি! নিজে ফিলসফিতে অনার্স পড়ছিস। তুই কি রে? ওর পড়াশোনা কতদূর ছিল?

    ক্লাস ফাইভ।

    ওঃ–ক্ষোভ, অবাক হওয়া আর অসহায় ভাবটা জমাট বেঁধে বেরিয়ে এল আমার মুখ থেকে।

    অনুরোধে মানুষ টেকি গেলে শুনেছিস? আমি অনুরোধে পেঁকি গিলেছিলাম? তবে আমার মনে হয়েছিল পড়াশোনা কম হলেই একজন মানুষ খারাপ হবে তার কোনও মানে নেই।

    সাদা শাড়ি পরে আছে নম্রতা। কি অদ্ভুত সরলতা ঘিরে আছে ওকে। আজও যখন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও কাজে যাই ওই লনটা দেখলে মনে পড়ে আজও যেন ওখানে আশির দশকের সময়কাল জমাট বেঁধে আছে। স্থির হয়ে আছে ওই দিনটা। নম্রতার সঙ্গে আমার কথা বলা মুহূর্তের সারিগুলি। বাতাসে উড়তে উড়তে স্থির হয়ে গেছে। নম্রতার সাদা শাড়ি আর সরলতা।

    চিত্রনাট্যে কি এখানে একটা ফ্রিজশট বসিয়ে দেব?

    নম্রতা বলতে লাগল, তারপর ডিভোর্সের জন্য চেষ্টা শুরু করলাম। ও-ও কলকাতায় চলে এল। আমাদের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে লাগল। ওকে লোক দিয়ে ভয় দেখান হল যে বাড়ির সামনে তোমাকে দেখলে একেবারে ধুনে দেব। ও ফুঁসে উঠে বলছিল, ওর বাচ্চা আমার পেটে আছে। কিন্তু ও তো জানতো না যে তা সত্যি নয়। আমি রোজ একটা করে ট্যাবলেট খেতাম। যাই হোক শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স হয়ে গেল। এখন কি করব জানি না।

    বাইশ বছরের নম্রতা দিগন্ত রেখার দিকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু দিগন্তরেখা তো নেই। রাস্তা বি.টি. রোড। কিছু বাড়ি আর ফ্ল্যাটের সারি। বিষ্ণুদের লেখা সে কবিতার লাইনটা কেন জানি না মনে হচ্ছে, দিগন্তে হায় মরীচিকাও যে নেই।

    কেন তুই তো পড়াশোনা শুরু করেছিস আবার। পড়।

    হ্যাঁ, কিন্তু আমায় কি কেউ আর বিয়ে করবে?

    নিশ্চয়ই ডিভভার্সের পরে কত বিয়ে হচ্ছে।

    তোর যে সব লেখা আছে ওগুলো আমাকে পড়তে দিবি?

    দেব।

    সেদিন তোর গল্পটা শুনে মনে হল। আমার কথা বললে হয়তো তুই লিখতে পারবি।

    হ্যাঁ, ভালোই করেছিস বলে। আমারও খুব কৌতূহল ছিল ব্যাপারটা জানার।

    তুই বেশ জেনে নিলি সব।

    হ্যাঁ, অপ্রতিভভাবে আমি বললাম।

    লোককে আমার ঘটনা বলতে বলতে আমি একেবারে জেরবার হয়ে গেলাম। বম্বে থেকে চলে আসার পর সকলে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে বল। আমার একদম আর ভালো লাগে না এইসব কথা বলতে।

    ছেড়ে দে। আর সব কিছু তো মিটে গেছে।

    গল্পটা লিখে দেখাস। তোর অন্য সব লেখাগুলো পড়তে দিস।

    হ্যাঁ।

    একটু থেমে বললাম।

    বম্বে তো আমি কখনও যাই নি। বম্বে শহরটা ঠিক কি রকম?

    অনেকটা কলকাতার মতোই। সমুদ্র আর সি বিচ আছে এই যা।

    পরে আমি মুম্বই গেছি। জুহু বিচে গেছি। মেরিন ড্রাইভে গেছি। ইন্ডিয়া গেটের বাঁধানো সমুদ্র তটে জলরাশির আছড়ে পড়া দেখেছি। বসেওছি সেখানে কিছুক্ষণ। নম্রতার কথা মনে হয়েছে। ওরা স্বামী-স্ত্রী সেখানে কখনও বসত। সমুদ্রে প্রবল বিস্তারে ও উন্মুক্ত আকাশের নিচে বসে বোঝাই যায় না এমনটা ঘটেছিল কখনও। তা ছাড়া ব্যাপক মানব জীবন চর্যার কাছে কি আর এমন এ ঘটনা। তুচ্ছ। আমাদের সারাজীবনটাই যেন তুচ্ছ মনে হয় এই সমুদ্র বিস্তারের সামনে ও উন্মুক্ত আকাশের নিচে দাঁড়ালে।

    তুচ্ছতার কথায় সেক্সপিয়ারের ‘কিং লিয়র’ নাটকের লাইনটার কথা মনে পড়ে। রাখাল বালকেরা যেমন মাছি মারে—ভগবানের কাছেও আমরা তেমনই।

    ‘অ্যাজ ফ্লাইজ অর টু দি ওয়ানটন বয়েজ।
    আর উই টু দা গডস’

    তবু সমুদ্রের দৃশ্য বা সিকোয়েন্স এখানে রাখি। চিত্রনাট্যে মাঝেমাঝেই দেখা যাচ্ছে তীরে সমুদ্রের আছড়ে পড়া। ঢেউ-এর প্রত্যাবর্তন ও মাঝ দরিয়া থেকে অনবরত ঢেউ-এর ছুটে আসা। মনে পড়ে কারুর করা ওথেলো সিনেমার শুরুই হয়েছিল বিক্ষুব্ধ সমুদ্রের দৃশ্য দিয়ে।

    সমুদ্রের তরঙ্গ জীবনের অনেক অবস্থার মধ্যে মিলে যায়, মানিয়ে যায়। তাই সমুদ্রের এত প্রভাব মানুষের জীবনে। ইয়োরোপের মানুষদের জীবনে তো ভীষণভাবেই। ওদের শিল্প-সাহিত্য যেন অনেকখানি দখল করে আছে সমুদ্র। যাই হোক জীবনসমুদ্র এই ধারণাটার সঙ্গে মিলিয়ে আরব সাগরের এই দৃশ্যটা আমি চিত্রনাট্যের এখানে রাখলাম। সুটিং তোলার পর এডিটিং টেবিলে গিয়ে দেখতে হবে কি রকম মানাচ্ছে।

    নম্রতাকে তখন বলেছিলাম, একজন নারীর দৃষ্টিতে জীবন ও পৃথিবী এভাবেই লিখব গল্পটা।

    ও বলেছিল, তোর যা খুশি।

    আসলে আমার উওম্যান কনসেপ্ট নিয়ে বেশ কয়েকটা গল্প লেখা আছে। নারীর নানা রূপ, মা, প্রেমিকা, মেয়ে ইত্যাদি নানাভাবে দেখানো হয়েছে সেখানে। কিন্তু একজন নারীর চোখে…সেভাবে তো কিছু লেখা হয়নি। নম্রতার দৃষ্টিতে এই গল্পটা লিখব। সবচেয়ে অসুবিধে হচ্ছে আমি বিবাহিত নই। সেই একুশ বছরেও নয় আর এখন এই বেয়াল্লিশ বছরেও নয়। নম্রতার তখনকার সমস্যা, মারধোরের বর্ণনা—এসব কিছুই ঠিক বুঝতে পারিনি। তখন। এখনও খুব পরিষ্কার নয়। কিছুটা ওপর থেকে জীবনের স্পন্দবিন্দু হিসেবে দেখতে হবে সমস্যাটাকে।

    সে গল্প কোনদিন লেখা হয়নি। তাই আজ এতদিন পরে চিত্রনাট্যে তা রূপ দেবার চেষ্টা করছি। পরে ফিল্ম করব। তখন নম্রতাকে খবর দেব। একদিন, তা-ও অনেকদিন আগে, নম্রতার সঙ্গে হঠাৎ নিউ কয়লাঘাটে বুকিং অফিসের সামনে দেখা। বলল, বিয়ে করে দিল্লিতে আছে। নিশ্চয়ই ছেলেমেয়ে নিয়ে ভালো আছে এখন। বহুদিন আমার সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ নেই।

    ও আমাকে ওর জীবনের এই ঘটনা নিয়ে লিখতে বলেছিল আমি তা লিখতে পারিনি। এর জন্য একটা গ্লানি বা অপরাধবোধে ভুগতাম। ইচ্ছে করে যে লিখিনি তা নয়। আসলে আমি ঠিক রিয়ালাইজ করতে পারিনি ওর পরিস্থিতিটাকে। ওর অভিজ্ঞতা, ওর অনুভূতি নিয়ে নিটোল গল্প লেখার ক্ষমতা ছিল না আমার। তাই লেখা হয়নি। তাই ওকে নিয়ে চিত্রনাট্য লিখতে বসে বোধহয় একটা কোলাজধর্মী গল্পই হয়ে গেল। টুকরো টুকরো কথা টুকরো টুকরো ছবি, তা থেকে কি ধরা পড়ল না গত শতাব্দীর শেষ দিকের মানুষের জীবন যাপনের এক রকম একটা অংশ। সেদিন ওর বলা টুকরো টুকরো কথা যেন আলাদা পৃথিবী তৈরি করেছিল। মানুষের আচরণে তা যেন ঘোরা বন্ধ করে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আমার কাছে নম্রতার সেই নারীর আলোকপাতে দেখা পৃথিবীটা বঙ্কাল থেমে আছে। প্রায় বিস্মৃত, পরিত্যক্ত স্কুলের গ্লোবের মতো আলমারির ওপরে এক ধারে পড়ে আছে। এর মধ্যে বাস্তব পৃথিবীতে নারীরা অনেক সচেতন হয়েছে। গায়ত্রী স্পিভাক তার একটা বইয়ের নাম দিলেন ‘ক্যান দি সাব অলটার্ন স্পিক?’ বললেন, এতকাল নারীমুক্তির প্রসঙ্গে সাদা চামড়ার বা ইয়োরোপ ও আমেরিকার নারীদেরই বিবেচনা করে হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের নারীরা কোথায় যাবে? তারা কি তাদের কথা বলতে পারবে নারী মুক্তির প্রসঙ্গে? সেই জন্যই কি শোভা দের লেখা সাহিত্যকর্ম বিদেশের ইউনিভার্সিটিতে পড়ান হয় বলে শোনা গেছে। সেখানে ভারতীয় মেয়েদের কথা আছে বলে? অরুন্ধতী রায়ের বিখ্যাত বই ‘গড অফ স্মল থিংস’এ ও তো কেরালার মহিলাদের জীবনকথা আঁকা হয়েছে। তাই কি পশ্চিম পৃথিবীতে ওই বইয়ের এত জয় জয়কার? ভারতীয় নারীদের কথা শুনতে কি বহিঃবিশ্ব খুবই আগ্রহী আজকাল? ঠিক বুঝতে পারি না। তসলিমা নাসরিনকে তো আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে পশ্চিম পৃথিবী। বিংশ শতাব্দীর শেষে এই উপমহাদেশে তসলিমাই নারী মুক্তির জোরাল প্রবক্তা। কিন্তু এই তসলিমাই মারাত্মক জীবন সংশয় হয়েছিল এক সময়। ১৯৯৪ সালের ১৪ই মের পর থেকে বেশ কয়েক মাস বাংলাদেশে আত্মগোপন করে থাকতে হয়েছিল তাকে। সেই সময়ের মধ্যে কোন এক সময় ফরাসি নারী সংগঠনের কাছে তসলিমার পাঠান ফরাসি ভাষায় পাঠান ফ্যাক্স বার্তাটি আমি খাতায় লিখে নিয়েছিলাম। ফরাসি ভাষা শেখার সূত্রে কলকাতার আলিয়স ফ্রঁসেজ লাইব্রেরিতে গিয়ে মাঝে মাঝে বসতাম। সেখানে পেয়েছিলাম বার্তাটা এবং অন্য আরও অনেক কথা। ফরাসি এল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। মেয়েদের পত্রিকা এল। তসলিমা সেখানে লিখেছিলেন, ‘সোভে মোয়া’ যার অর্থ——আমাকে বাঁচাও বা সেভ মি। সেই সময় ওই পত্রিকা তসলিমাকে নিয়ে অনেক কিছু লিখত। যেমন একবার ঘোষণা করল, আসুন আমরা সকলে তসলিমার মুক্তির দাবীতে রোজ প্যারিসের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে সন্ধ্যায় একঘন্টা করে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাই। এমনি আরও অনেক লেখা থাকত তসলিমাকে কেন্দ্র করে তসলিমার সমর্থনে। তখন আমাদের দেশেও তসলিমাকে নিয়ে কোন খবর প্রচারিত হলে তা শুনতে বিশেষ আগ্রহ দেখালে মহিলারা। হয়ত তারা ভাবতেন আমার যা বলতে পারিনি তসলিমা তা বলতে পেরেছেন।

    আজ থেকে কুড়ি বছর আগে যখন নম্রতার সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল তখন এ সব ঘটনা ছিল না বা আমাদের জানা ছিল না। সরলতা ঝরে পড়েছিল রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের লনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাতাসে, আর নম্রতার চাপা হাহাকারে এবং আমার অবাক হয়ে যাওয়ার পরম্পরায় বা সিকোয়েন্সে। সেই সিকোয়েন্সগুলিকে নিয়ে এখনকার সামাজিক-মানসিক পরিপ্রেক্ষিতে সাজিয়ে নিচ্ছি এই চিত্রনাট্য।

    মনের মধ্যে পড়ে থাকা নম্রতার ঘোরা বন্ধ হয়ে যাওয়া পৃথিবীটাকে টোকা দিয়ে ঘুরিয়ে দিলাম। ওর পৃথিবীটা ঘুরতে লাগল গ্লোরে মতো। যেন সেটি সৌরজগরে কোন নিয়মই মানে না। তবে কি আমার আঙুলেই তার ঘোরা ফেরা। পুরুষের আঙুলের ছোঁয়ায় বা নির্দেশে বা ইচ্ছেয় নারী-জগৎ আজও ঘুরে চলেছে। সর্বনাশ! সমালোচকরা ফিল্মটির এ রকম মানে করলেই তো গেল। যা নারীবাদী হাওয়া চারপাশে! এখনও কি পুরুষের অঙ্গুলি হেলনে নারীর জীবন ওঠা নামা করে। এখন তো ভারতীয় আইনের ৪৯৮ (ক) ধারা আছে। যেখানে বধূ তার স্বামী ও তার পরিবারের প্রতি অভিযোগ আনতে পারে শারীরিক বা মানসিক অত্যাচারের। গ্রেপ্তার হয়ে যাবে সকলে। জামিন পাওয়া যাবে না। বিচার হবে পরে। ততদিনে সমস্ত সামাজিক মান-সম্মান চুরমার।

    যাই হোক সেদিন পর্যন্ত নম্রতার এ সব কিছু ছিল না। সেদিন ও সাদা শাড়ি আর থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজ পরে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের লনে বসেছিল। যা বলছিল তাই নিয়েই এই চিত্রনাট্য লিখছি। চিত্রনাট্যের শুরুটা হচ্ছে এইরকম—

    বরানগরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের লনের মরকত কুঞ্জের সবুজ লন। একটু ফাঁকা ফাঁকা। আশির দশকে যেমন ছিল। সেখানে বসে আছে একুশ বছরের এক যুবক ও বাইশ বছরের এক যুবতী। ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রী। ছাত্রীটি সুন্দরী, তন্বী। একটু একটু হাওয়া দিচ্ছে। তার শাদা শাড়ির আঁচল একটু উড়ছে। ছেলেটি উদাস, ভাবুক, সম্ভবত গ্রামের ছেলে শহরে পড়তে এসেছে। কবি কবি ভাব।

    তরুণ।। আচ্ছা তুই সব সময় শাদা শাড়ি পরিস কেন?

    নম্রতা।। আমি রঙিন শাড়িও পরি। তবে ইউনিভার্সিটিতে কেবল সাদা পরি। কারণ বাবা মনে করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রঙিন পোশাক না পরে যাওয়াই ভালো।

    নম্রতার শাদা পোশাক সহ শরীরের ওপর ক্যামেরা প্যান করে এসে মুখের বিগ ক্লোজ আপে পরিণত হয়। পর্দা জুড়ে নম্রতার মুখ ফুটে ওঠে। আস্তে আস্তে জুম ইন করতে থাকে ক্যামেরা। নম্রতা ও তার পাশের ছেলেটি। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লনের আশপাশ ও অন্যান্য পরিকাঠামো ফুটে উঠাতে থাকে ফ্রেমের মধ্যে। ছোট ছোট হয়ে যাচ্ছে সব কিছু। অফ ভয়েসে শোনা যাচ্ছে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের শাশ্বতী কবিতার অংশ।

    সেদিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া…।

    কবিতার সঙ্গে সঙ্গে আবার জুম আউট হতে থাকে ও শেষ পর্যন্ত নম্রতার মুখ পর্দা জুড়ে ফুটে ওঠে।

    মিড শট।

    নম্রতা।। আমাকে যখন মারতো তখন আমি ইচ্ছে করে জোরে জোরে চীৎকার করতাম যাতে আশপাশের বাড়ির সকলে শুনতে পায়।

    ক্লোজ শট। তরুরে মুখ। বিস্ময়ে হতবাক ও সহানুভূতিতে থরো থরো।

    কাট্‌।

    মিড শট।

    নম্রতা ও তরুণ লনে বসে আছে।

    নম্রতা।। যাই বল ছেলেরা মেয়েদের সেক্স ছাড়া আর কোনও ভাবে ভাবতে পারে না।

    তরুণ।। এটা তুই ঠিক বললি না।

    নম্রতা।। না, এটা আমি ঠিকই বলছি। (হাসতে হাসতে)

    তরুণ।। (হাসতে হাসতে) তা হলে তুই মনে রাখিস এই সঙ্গে তুই তোর বাবাকে, দাদাকে এবং তোর সমস্ত পুরুষ আত্মীয়দেরও রাখছি।

    হেসে ফেলে নম্রতা।

    ফ্রাঁসোয়া ভুফোর ‘জুল এ জিম’ ছবির একটা ক্লিপিংস দেখানো হচ্ছে। সাদা কালো আগেকার ছবি। সম্ভবত জিম একটি পার্টিতে গেছে। সেখানে আর এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে তার দেখা হল। সঙ্গে এক অপরূপ সুন্দরী যুবতী। কিন্তু সে মূক ও বধির। জিম অবাক হলে তাকে সে এই বিয়ে করার কারণ বুঝিয়ে বলে, ওনলি ফর সেক্স।–

    ইংরেজি সাবটাইটেলে এই কথাটিই ফুটে ওঠে।

    কাট্‌।

    কলকাতার কফি হাউসের একটি দৃশ্য। তিনজন যুবক গল্প করছে। তাদের মধ্যে তরুণও আছে।

    এক বন্ধু।। বিয়ে ব্যাপারটা সেক্সেরই ব্যাপার।

    আর এক বন্ধ… ভুল ধারণা। তুমি সেক্স নিয়ে দিনে কত ঘন্টা চিন্তা করবে, চারঘন্টা? বাকি কুড়ি ঘন্টা তুমি কি নিয়ে ভাববে? বিয়ে ব্যাপারটা অত্যন্ত মাঙ্গলিক।

    কাট্‌।

    কাট অবাক হয়ে দেখলাম নম্রতা কি পোশাক পরেছে আজ। সাদা রঙেরই শাড়ি ব্লাউজ যেমন পরে তেমনই, কিন্তু… কেমন যেন একটু বেশি স্বচ্ছ তার ব্লাউজ। কিন্তু এ রকম কেন? বাবার ইচ্ছেয় সাদা পোশাক পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা। কিন্তু আদর্শের সেই কারণকে ছাড়িয়ে একটু বেশি গভীরে যেতে চাইছে তার পোশাক।

    জিগেস করলাম, কি রে।

    এই পরীক্ষার জন্য স্যারের কাছে কিছু ইমপর্টেন্ট কোনে জানতে এলাম।

    ধ্বক করে উঠল বুকের মধ্যে। বয়স্ক অধ্যাপক, ফিলসফির হেড অফ দি ডিপার্টমেন্ট। গয়ের রঙ কালো, সুপুরুষ চেহারা নয়। আর নম্রতা—ঠিক তার বিপরীত। যেন বিউটি অ্যান্ড দি…না থাক অতদূর যাব না। ওই অধ্যাপকের কথা ভেবে আতঙ্কিত হলাম। তার মনের মধ্যে কি রকম হবে? তিনি কতদূর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে দেবেন? তার ওপর তিনিও নিশ্চয়ই শুনেছেন নম্রতার বিবাহিত জীবনে হেনস্থা হওয়ার কথা। কামনা, সহানুভূতি কতদুর সমান্তরাল ভাবে যাবে না হঠাৎ মিলে যাবে কে জানে? ঘটনাক্রমে নম্রতাও সেই বছরে রবীন্দ্রভারতীতে ফিলসফি

    অনার্সের একমাত্র ছাত্রী। ছোট ইউনিভার্সিটিতে তখন ওরকম হতো। ফিলসফিতে একজন, সংস্কৃতে একজন, অর্থনীতিতে দুজন—এই রকম অল্প ছাত্র-ছাত্রী পড়ত।

    তবে নম্রতার এ রকম নারীমূর্তি আগে কখনও দেখি নি বা ভাবিনি সে আমার অজ্ঞতার জন্যই। আর জ্ঞান বৃক্ষের ফল খাওয়ার পর থেকেই তো ইভের অজ্ঞতা মোচন হয়েছিল। সবকিছু জেনে ফেলেছিল ইভ। কিন্তু একই সঙ্গে অ্যাডামও তো খেয়েছিল…মনের মধ্যে কে যেন প্রতিবাদ করে উঠল…।

    কাট্‌।

    অফ ভয়েসে ভেসে আসে সেই কবিতার লাইনগুলি। এবার নারী কণ্ঠে।

    সেদিনও এমনই ফসলবিলাসী হাওয়া…

    তারপর শুরু হয় সমুদ্রের তীরে আছড়ে পড়ার দানবীয় দৃশ্য, তাণ্ডব ও উন্মত্ততা। কিছুক্ষণ চলতে থাকবে এই জীবন্ত প্রাকৃতিক উচ্ছ্বাস। আর মাঝেমাঝেই সারা ছবিটি জুড়ে আরব সাগরের উথাল-পাথাল ঢেউ দেখা যাবে নানা রকম ফেরে। প্রয়োজনে ‘ওথেলো’ সিনেমাটির সমুদ্রের দৃশ্যকে দেখান যেতে পারে।

    ফিল্মটিতে মাঝেমাঝেই এত সমুদ্র কেন? সমালোচকরা কি বলবেন জানি না তবে আদিগন্ত দুরন্ত সমুদ্রের বিস্তার ও তার বুকের ওপর বিশাল স্ফীত আকাশের দৃশ্য প্রতিস্থাপিত করে সংযোগ রক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনও চলচ্চিত্রের ইমেজ—আমাদের এই জীবনের টুকরো ইমেজকেও বোঝানোর মতো শক্তিশালী উপাদান আমার আর মনে আসছে না। তাই আমার চিত্রনাট্য জুড়ে শুধু সমুদ্রের দৃশ্য আর জলের প্রচণ্ড শব্দ। সে শব্দে চাপা পড়ে যাচ্ছে নম্রতার সেই সব দিনের তীব্র চিৎকার—আর মানবজাতির হাহাকার, ব্যথা আর প্রতিবাদ যা ঘুরে ফিরে আসছে আমাদের জীবনে। তাই শুধু সমুদ্রের দৃশ্য চিত্রনাট্য ভরে বারবার এসছে। যেন ভাসিয়ে দেবার ভয় দেখাচ্ছে সবকিছুকে, সবাইকে।

    স্বামীর হাতে মার খাওয়ার সময় নম্রতা যে তাণ্ডব ও ক্ষোভ অনুভব করত সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে তার বোধ হয় কিছু মিল আছে। নম্রতার শিরায় শিরায় প্রবাহিত রক্তের সেই অনুভূতি–সব মিলিয়ে জীবনের অদ্ভুত স্পন্দন যাতে আপনাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে তাই এই চিত্রনাট্য বা চলচ্চিত্র ভরে শুধু সমুদ্রের দৃশ্য রাখা হয়েছে।

    কোথা থেকে যেন একটা সিম্ফনির সুর শোনা যাচ্ছে। বিটোফেনের সেভেনথ সিম্ফনি? থার্ড মুভমেন্ট— মার্চ অফ দি ওশেন? সেই কুড়ি বছর আগের মতো আবার। সমুদ্র নাবিকদের তরঙ্গচ্ছ্বাসে ওতপ্রোত হয়ে জড়িয়ে পড়া।

    চিত্রনাট্যটির একেবারে শেষে তাই লিখলাম—

    বিটোফেনের সেভেন সিম্ফনির সুর যেন শাশ্বত সময়ের গভীরে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে বাজতে লাগল। কোনওদিন চলচ্চিত্রে রূপায়িত না হওয়া শুধু সমুদ্রের এই চিত্রনাট্যে এই আবহসঙ্গীত বাজতে থাকল চিরকালের মতো। ইংরেজ রোম্যানটিক কবি কিটসের লেখা কবিতা ‘ওড অন ও গ্রিসিয়ান আর্ন’-এ যেমন বলা হয়েছে ঐতিহাসিক মৃৎপাত্রটির গায়ে খোদাই করা রাখাল বালকের বাঁশী যেন চিরকাল ধরে বেজেই চলেছে। কোনদিন থামবে না তার সুর। আর চুম্বনরত প্রেমিক

    প্রেমিকারাও যেন চিরকালের। শাশ্বত হয়ে আছে সেই কবেকার সুর এবং ভালোবাসা। হার্ড মেলডিজ আর সুইট বাট দোজ অফ আনহার্ড আর সুইটার।

    আসলে কোথাও বিটোফেনের সুর বাজছে না, সমুদ্র নেই, নম্রতা নেই, তরুণ। নেই। দীর্ঘ নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতে কাটাতে বহুদিন পরে ছাত্র জীবনের সেই রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের লনে এসে দাঁড়াতেই এসব মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন শব্দ সুর সব শোনা যাচ্ছে। বিশাল ঢেউ নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে সমুদ্রকে। আসলে সেদিনের সেই তরুণ ও নম্রতার মতো আজকের দিনের ইউনিভার্সিটির দুটি ছেলেমেয়েকে দেখা যাচ্ছে দূর থেকে মাঠের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে আসতে। আমার। সমুদ্র তাদের ওপর ভয়ঙ্কর ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    কেন জানি না মুহূর্তে থেমে গেল বিটোফেনের সিম্ফনির সুর।

    নাঃ মুহূর্ক্সে জন্য বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। ওই তো সিডি প্লেয়ারে আবার বাজছে বিটোফেনের মূচ্ছনা। এবার নাইনথ সিম্ফনি। ১৯৮৯-এ বার্লিন ওয়াল ভেঙে ফেলার পর পাঁচলক্ষ বার্লিনবাপ্রি খুশিতে উত্তাল তরঙ্গের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যে এটি বাজান হয়েছিল। তখন অর্কেস্ট্রা বাজিয়ে ছিলেন লিওনার্ড বার্নস্টাইন। হঠাৎ জলের নয় মনের চোখে দেখতে লাগলাম জনসমুদ্র। প্রবল ও স্বতঃস্ফূর্ত রঙ্গের উচ্ছ্বাস।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }