Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

    ইমদাদুল হক মিলন এক পাতা গল্প1423 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাঁশফুল – শিবতোষ ঘোষ

    বাঁশফুল – শিবতোষ ঘোষ

    এ অঞ্চলে প্রথম বাঁশফুল ফুটল অতুলদের ভালকি-বাঁশে।

    অতুলের বাবা ছানিকাটা চশমা পরে সে-ই বাঁশতলায় বসে ছেঁড়া জাল সারাই করছিল আর ধানখেতে টিয়ে তাড়াচ্ছিল। আড়াই বিঘের পুরো বন্ধ পাকা সোনার রং ধারণ করেছে, বোরোধানের খেত, আই আর ছত্রিশ, পন্থনগরের বীজ, দারুণ ফলেছে। শুধু তারাই নয় পথ-চলতি যে-ই খেতের পাশ দিয়ে যায় সে মনে-মনে হিসেব করে, একেবারে স্বল্প পরিচিত পথিক, সেও কাছে এসে বলছে বাবু গো, খেতিটা তোমাদের বুঝি? এবার শুধু টিয়াগুলোকে তাড়ানোর ব্যবস্থা করো গো বাবু, বলে রাখলাম একশো পঁচিশ-তিরিশ মন ধান তোমার বেটা কাটবেই।

    টিয়ে তাড়াতে হয় সকাল ছ’টা থেকে সকাল ন’টা, আর বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে সাড়ে পাঁচটা, এখন সাড়ে ছ’টায় সূর্য ডোবে, যতক্ষণ না মুখ-আঁধারি হয়।

    বুড়ো জাল সেলাই করছিল, মাছ ধরার মতো অত নেশা আর কোনও-কিছুতে নেই, পাখি ধরা, বাড়গোল-ধরা…সে যে ধরা হোক মাছ ধরার কাছে কেউ না, মাছ ধরায় বা ধরার সরঞ্জাম নির্মাণে কখনও ক্লান্তি আসে না। অতুলের বউকে দুটি দূর্বা তুলতে বললে বলে—উঃ কী রোদ! ন্যাড়াদার রাজকুলের মেয়ে, তাদের ভেতর বাইরেই কখনও রোদ পড়েনি, দাসীগণ মাথায় বাতাস করে করে তাদের চুল শুকোত, রাজবাড়ির মেয়েদের, সেই চন্দ্রা, ডাকল—লক্ষ্মী, একমুঠা দূর্বা তুলে এনে দিবি গো? কিন্তু এই রাজকুলের মেয়েও ভাত খেয়ে-না-খেয়ে খিড়কি পুকুরে ছিপ হাতে বসে যায়, পুঁটির খুটান নয়, বড় খুটান, নিশ্চয় বড় ট্যাংরা, ট্যাংরা মাছের বীজের টক দারুণ প্রিয় অতুলের বউয়ের। চন্দ্রার মাথার ওপর দিয়ে দুর্বা তোলার চেয়েও কত যে কঠিন রোদ বয়ে যায়, চন্দ্রা চোল-চোল করে জল নেয় মাথায়।

    কৃপণ ছাড়া দুটো জিনিস কিছুতেই হয় না বাঁশ আর মাছ। জিনিসদুটোর ধর্মই হল কমালে দারুণ দ্রুত কমে, বাড়ালে দারুণ দ্রুত বাড়ে। অতুলের বাবা একটু কৃপণ, একটু নয়, অতুলও কৃপণ, কৃপণের বাড়িতে যেই জন্মাক সে যে কী করে কৃপণ হয়ে যায়, তাদের বাড়িটারই কৃপণ নামে একটু, একটু নয়…

    কিন্তু এর ফলে তাদের বাঁশবাগান হতিহষ্কা অঞ্চলে একটি দেখবার জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাদের একটা গোটা বাঁশ নিয়ে যেতে ছ-সাতজনের দরকার হয়। সাত ঝাড় বাঁশ অতুলদের, এর যে-কোনওটার তলায় এসে দাঁড়াল গর্বে বুক ফুলে সাত হাত হয়ে যেত তাদের সকলের।

    কিন্তু মুশকিল হল অতুল বউয়ের কাছে যেদিনই তাদের এই বাঁশ নিয়ে গর্ব করেছে সেদিনই চন্দ্রা তাকে একেবারে পথে বসিয়ে ছেড়েছে, ছড়া কাটে চা—ধনের ভেতর ধন, আড়াই মুঠি শন, সেই নিয়ে ঘুরে মরে এ-কোণ সে-কোণ। সে ন্যাড়াদার রাজকন্যা, যদিও তার বাবা পরেশ কোঙারকে তিরিশ হাজার টাকায় আমবাগান বন্ধক দিয়ে তার বিবাহ দিতে হয়েছিল, তবু সে রাজকন্যা, সে অমন বাঁশের মতো তুচ্ছ। দেমাক সহ্য করতে পারে না।

    অতুলের হয়েছে মহাবিপদ। বাঁশঝাড় ছাড়া গর্ব করার মতো তাদের যে আর কিছু নেই। এরই জন্য তাদের এত কৃপণ হতে হয়েছে। কৃপণের জন্য বাঁশ না বাঁশের জন্য কৃপণ…সে যাই হোক, তাদের বাঁশ আর কৃপণ-স্বভাব একসঙ্গে এমন মিশে গেছে যে একটাকে দেখলে আর-একটা দেখা হয়ে যায়। তাদের চন্দ্রাদের মতো ভাঙা হাতিশালও নেই, ভাঙা ঘোড়াশালও নেই, রাজা শচীনন্দনের সাত ভাই, সানো ভাইয়ের শাখার নৌকো হচ্ছে এই চন্দ্রার। যদিও সাত ভাই, যদিও সব ভাঙা, সব জরাজীর্ণ, ন্তু অহঙ্কারটা ঠিক বয়ে যাচ্ছে স্রেতের নৌকোর মতো। কত লোকের কত কী-বেচনবাবুর সাতশো গাছের বিশাল আমবাগান, শ্রীহরি ঘোষের যোলো সের দুধ দেওয়া জার্সি গাই, কার্তিক জানার বৈঠকখানাতেই পাঁচ হাজার টাকার বাঁধানো ফোটো দেওয়ালে পেরেক মেরে মেরে টাঙানো, কাউকে পেলে তাকে একটা-একটা করে দেখায়—এ হল গোপা বুদ্ধদেবরাহুল, এ হল—নিমাই-শচীমাতা-বিষ্ণুপ্রিয়া, এ হল রামকৃষ্ণ পরমহংস-সারদা-বিবেকনানন্দ… সত্যি ওই বাঁশ ছাড়া তাদের দেখানো মতো আর কিছু ছিল না। অথচ একটা-কিছু অহঙ্কার না নিয়ে জীবনযাপনটাও কীরকম মুহ্য-মুহ্য লাগে।

    অতুলের বাবা ভেবে রেখেছে বাঁশ বেচে মেয়ের বিয়ে দেবে, ওইটাই বাড়ির শেষ কাজ, জাঁকজমক করে করবে। কিন্তু অতুলের ঠাকুমা চাপ দেয় হরিমন্দিরের জন্য। টাকা কোথা? কেন রে, বাঁশ বেচে দে, বাঁশ তো তোরা কেউ লাগাসনি, তোর বাপ লাগিয়ে রেখে গেছে। অতুলের জ্যাঠা আবার গোটা বারান্দায় টিন দিতে চায়, একবার করে ফেলতে পারলে পঞ্চাশ বছর আর দেখতে হবে না। টিনের ওপর একটা নারকেল পড়লে বেড়ে যায়, এগুলো টিন! কিন্তু কে শোনে কার কথা, জ্যাঠা স্বপ্ন দেখে যায়।

    অতুলও বাঁশ বেচার স্বপ্ন দেখে, শ্বশুর সাড়ে সাত হাজার টাকা দিয়েছে, বাকি সাড়ে সাত হাজার টাকা দিয়ে…শ্বশুরের পুরোটাই দেওয়ার কথা ছিল, দিল না তো আর কী করবে, বাঁশ আছে বাঁশ বেচে দেবে, তার স্পষ্ট ছবি আয়না-টায়না দিয়ে সুসজ্জিত মোটর সাইকেলের পেছনে বসে আছে চন্দ্রা, সিনেমার মতো চন্দ্রা তার কোমর জড়িয়ে, তারা শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছে।

    আস্তে-আস্তে করে পরিবারের যার যা যাবতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার মূল উৎস বা ভিত্তিভূমি হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাঁশ, বাঁশ থেকে তার বাঁশরি বানাচ্ছিল।

    বুড়োর গায়ে তখন থেকে কী ঝরঝর করে পড়ছে, টিয়ে তাড়ানো মানে খেতের মাঝে টাঙানো টিনের দড়ি ধরে দু-চারবার একটু নেড়ে দিতে হয়, টিনের ভেতরে একটা কাঠি আছে ধাক্কা লেগে অদ্ভুত শব্দ বেরোয়, মানুষ ছাড়া আর কেউ শব্দদূষণ সহ্য করতে পারে না, টিয়া পালায়। বুড়োর এই পাখি তাড়ানো, জাল সেলাই, ভেতরে-ভেতরে মেয়ের জন্য পাত্র খোঁজা, একসঙ্গে এত সব হচ্ছিল বলে অতুলের বাবা মারিকবুড়ো বাঁশফুলের রেণুর দিকে তাকায়নি। ঠিক তার মাথার ওপরে বাঁশের ডগায় নাকে তেলেঙ্গি নাকছাবির মতো একথোকা বাঁশফুল ঝুলছিল। বুড়োর পিঠে পিপড়ে চলছিল, ফেলতে গিয়ে হঠাৎ দেখল বাঁশফুলের রেণু, অনেক মানুষের গন্ধ শোঁকার অভ্যাস আছে, গন্ধ শুকল…প্রায় চল্লিশ বছর আগের একটা ভয়ঙ্কর চেনা জিনিসকে স্মৃতির গহন অন্ধকার থেকে তুলে আনা..অতুলের মা’র মৃত্যু হল তেরো বছর, মাত্র তেরো বছর মুখটা দেখেনি বলে সবচেয়ে বেশি বা বিশেষ-দেখা মানুষটাও কেমন আবছা হয়ে গেছে, এখন বুড়িকে দেখতে চাইলে তাকে বুড়ির ফোটোর কাছে যেতে হয়।

    কিন্তু তবু বাঁশফুল চিনতে ভুল হল না মারিকবুড়োর, দশমাথা কার, রাবণ, এ কখনও কেউ ভুলবে, সীতা অযযাধ্যায় ফিরে এসে বিজনে রাজবালাদের সঙ্গে গল্প করতে করতেও অন্যমনস্কভাবে ধুলোয় দশটা মাথা এঁকে বসেছিল। মারিকবুড়োও বাঁশফুল ভোলেনি, সে জাল ফেলে আ-আ করে একটা অসম্ভব জোর ছাতি-বিদারক শব্দ করে দৌড়তে লাগল।

    .

    ২.

    মারিকবুড়ো লুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে এল বাঁশফুলের থোকা।

    বাড়ির সবাই তন্ন-তন্ন করে খুঁজতে বেরোল, আর কাদেরও ঝাড়ে…এই শালা। বাঁশফুল, শালা বাঁশফুল…তা হলে কি শুধু তাদের সংসারেই…বাঁশফুল ফুটলে ধ্বংস অনিবার্য, দুর্ভিক্ষ মড়ক…প্রচণ্ড লণ্ডভণ্ড হতে লাগল অতুলদের সংসারে।

    কে এমন কী পাপ করলে যে তার জন্য….

    অতুলদের বাড়িতে পাপের একটা লিস্টও হয়ে গেল।

    ঘোরতর পাপ ছাড়া তো এত বড় শাস্তি ধরণী দেয় না কাউকে!

    চন্দ্রার অহঙ্কার বা দেমাকও এই লিস্টের অন্তর্ভুক্ত হল।

    এবার যদি তার বসন্ত হয়, তার কী সুন্দর মুখ টোপাকুলের মতো গর্তে-গর্তে ভর্তি হয়ে যাবে, উঃ মা গো! আর শ্বশুরবাড়িতে যদি দুর্ভিক্ষ হয়, প্রখর রোদে তাকে যদি মাঠে ঘুঁটে-গোবড় কুড়োতে যেতে হয়।

    আগের চেয়ে যত মানুষ বাড়ছে তত দীর্ঘশ্বাস বাড়ছে, দীর্ঘশ্বাসে,দীর্ঘশ্বাসে যখন ছয়লাপ হয়ে যায়, যেমন জলকণা জমাট বাঁধলে মেঘ, মেঘ থেকে বৃষ্টি, মেঘ বৃষ্টির মতো দীর্ঘশ্বাস আর পাপ—এও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসের পেছনে কোনওনা-কোনও পাপী-হাতের আক্রমণ থাকে, এভাবে হয়তো আগামী শতাব্দীতে বাঁশফুল ফোঁটার সময় আরও কমে আসবে, দীর্ঘশ্বাস বাড়ছে, পাপ বাড়ছে, এদিকে বাঁশফুল ফোঁটার সময়ও তত কমে আসছে, চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ বছরের ব্যবধান ছিল সেটা কমে তিরিশ, হতে-হতে কুড়ি, পনেরো, দশ, তারপর হয়তো প্রতি বছরেই..না! অতুল চন্দ্রার দিকে এগোচ্ছিল মুখটা নিয়ে কিন্তু অসুস্থ লোকের গভীর কষ্টের আর্তনাদ করে বালিশে সেই জীর্ণ মুখটা গুঁজে দেয়।

    দেখতে-দেখতে যখন অতুলদের বাড়ির সকলেই বাঁশফুলের ভয়ে ভীষণ আধখানা, তা অবশ্য মাত্র চারদিন ছিল, তারপর একদিন সকালে দেখা গেল অঞ্চলের সমস্ত বাঁশবন ফুলসম্ভারে সজ্জিত হয়ে সকলের নাড়ী শুকিয়ে দিয়েছে।

    তেরোশো পাঁচ সালে বাঁশফুল ফুটেছিল, পাঁচ সালের ভয়ঙ্কর বন্যার ঠিক একটু আগে, তেরোশো উনপঞ্চাশে বাঁশফুল ফুটেছিল ঝড়বছর, আশ্বিনের প্রলয়ঙ্কর ঝড়ের তার-একটু আগে, এবার, ফুটল তেরোশো সাতানব্বই বা উনিশশো নব্বই সালে। আমাদের আগের শতকের বাঁশফুলের খবর জানার উপায় নেই কিন্তু এই শতকের বাঁশফুল দু-দুবার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সে অযথা-অযথা ফোটে না। বাঁশগাছই একমাত্র উদ্ভিদ যার ফুলের রহস্য এখনও কেউ ধরতে পারছে না, বাঁশগাছগুলো সব মরে যায়, ঝাড়তে ঝাড়, আর তাদের বিষাক্ত দীর্ঘশ্বাস সব শুষে নেয়—শস্যশ্যামল, নদী-জল,গোবৎসরা সব উলটে-উলটে পড়ে আছে নদীপাড়ে, চিল বসছে পুকুরের শুকনো পাঁকে, মরা পাকাল মাছ টেনে-টেনে বের করছে, শকুন উড়ছে আমবাগানের মাথায়, মারিকের পিসি দা দিয়ে বড় গেড়ি খুবলে বার করতে গেছল, সাপ বেরিয়ে পড়েছিল, তার পিসি সেই সাপের কামড়েই মারা যায়।

    মারিকবুড়োও ভাবছিল অতুলের মা’র ওপর তারও কিছু কিছু নির্যাতনের পাপ থেকে গেছে। একবার গর্ভাবস্থায় তাকে দুডাং বসিয়ে দিয়েছিল, তা সে যেমন রি রিক বেলার সময়…কিন্তু যত যুক্তি থাক, ওটা পাপ। আচ্ছা, আজ তেরো বছর পর সেই পাপের ফলন এল। হতেও পারে, তারও তো কিছু পুণ্য ছিল, এতদিন তারই জোরে হয়তো..যাকগে আজ নিশ্চিন্তি, আজ সারা অঞ্চলের প্রত্যেকের বাঁশে ফুল ফুটেছে।

    ফুল বললে একটা মায়াময়ী আকর্ষণ জাগে। কিন্তু বাঁশফুল বললে…যেন সেই ছবিটা-পার্বতীকাধে শিবের প্রলয়ঙ্কর নৃত্য, হাতিহষ্কা অঞ্চলের ছোট বড় একেবারে দুধের শিশুটি পর্যন্ত জেনে গেল একা মত্ত হাতি আসছে, পালা-পালা! যাগযজ্ঞ, খোলকীর্তন, শিব-শীতলার পুজোবলি তো হলই উপরন্তু ব্লকের মাধ্যমে নিউসেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং-এর কৃষিবিভাগে চিঠি লেখা হল :

    মহাত্মন,

    আমরা হাতিহষ্কা অঞ্চলের অন্তর্গত দাসপুর, জামালপুর, ঝরিয়া, ঋষা, জগন্নাথপুর, চাকতি ধানখণ্ডি প্রভৃতি আরও অসংখ্যা গ্রামের অধিবাসীবৃন্দ হইতেছি।

    মহাশয়, আমাদের অঞ্চলের সমস্ত বাঁশঝাড়গুলিতে ফুল ফুটিয়া সাদা হইয়া গিয়াছে, ঝাড়ের বাঁশগুলি দেখিতে-দেখিতে শুকাইয়া মরুভূমিপ্রাপ্ত হইতেছে। এই দুষ্ট ফুলগুলি কেবল গাছগুলিকেই মারিয়া ক্ষান্ত হইতেছে না, চারিদিকে এক ভয়ঙ্কর ভয় ও ত্রাসের সৃষ্টি করিয়াছে।

    মহাভারতের ভীষ্ম কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে বলেছিলেন বাঁশগাছে ফুল ফুটেছে কি না দেখো তো!

    — পিতামহ, ফুল ফুটেছে।

    –তা হলে আর কিছু করার নেই।

    অধীনগণের বিনীত প্রার্থনা, আমাদের দরিদ্র গ্রামজীবনের অন্যতম সাথী এই বাঁশগুলিকে ফুল ফোঁটার হাত হইতে রক্ষা করিয়া এবং আমাদের ভয়-সন্ত্রাস দূর করিয়া স্বাভাবিক জীবন-যাপনে সহায়তা করিয়া বাধিত করিবেন।

    নিবেদন ইতি
    কৃপাপ্রার্থী
    হাতিহল্কা অঞ্চলের অধিবাসীবৃন্দ।

    নূরপুরের বাসনাবুড়ি অর্থাৎ ছোঁচার মা, অঞ্চলে সেই একমাত্র যে নিটে বাঁশফুল ফুটতে দেখল।

    -তেরোশো পাঁচ সালে আমার তেখন কিশরি বয়স, মা’র সঙ্গে ধানরুয়া, তলাভাঙা শিখছি। হু, আমরা বাঁশচাল ভাজে খেয়েছিলুম গো, কী সোন্দর সরু সরু চাল, তবে বড্ড ভুয়া বেরায়, এক ঝড়া কুড়াই আনলে একপুয়া চাল। কিন্তু কী করব, তেখন যে আর কুথাও কিছু লাই।

    ফোকলা মুখে হাসে বুড়ি—তু ভাগ্য বাঁশফুল ফুটেছিল, বাঁশচাল খেয়েই টিকে গেলাম।

    —কিন্তু হ্যাঁ গো ছোঁচার মা, কদ্দিন পর আবার সব ঘুরে এল, বাঁশগাছ সব সেরে উঠল, আবার কচিপাত হল, মড়ক সরে গেল, দুর্ভিক্ষ সরে গেল, নদীর জল হল, কোকিলকবুত্র ডাকতে লাগল, তুলসীচারা রোল, পুকুরে মাছ হল, পদ্মফুল ফুটল…হ্যাঁ গো কদ্দিন পর আবার ঘ ঘুরাই পাইল পিখিবি, হা গো ছোঁচার মা!

    —ঠিক মনে লাই রে…এক বছর, দেড় বছর, আড়াই…সঠিক মনে হচ্ছেনি, তবে আকাল বড় খারাপ বাপ, বড় খারাপ।

    বুড়ির চোখ দিয়ে জল গড়ায়, বুড়ি হাঁপাতে থাকে।

    এখন সাতানব্বই-এর আষাঢ় মাস চলছে এখনও ধানবোনা কি বীজতলা ফেলার মতোও মাঝারি বৃষ্টিটুকুও মাটি পায়নি। গায়ে গামছার বাতাস খেতে-খেতে প্রতিদিন সন্ধেবেলা সত্যি-সত্যি আর বৃষ্টিটিস্টি হবে না, না কি গো?

    –আর বিস্টি!

    –বাঁশের খোদ্দার পেলে?

    —কে কিনবে, পাইকার এসেছিল সে বলছে, বাতা-জ্বালানির দামটুকু দিতে পারে, এ বাঁশ তো আর অন্য কোনও কাজে লাগবে না। ঝাড়পিছু দাম দিয়ে গেছে আড়াই শো টাকা।

    অতুলদের সাত দুগুণে চোদ্দ শো, সাত অর্ধেক সাড়ে তিন, সাড়ে সতেরো শো, ব্যস বাঁশঝাড় উধাও, এমনি একদিন নিজের বুদ্ধিমতো নাইট্রোজেন মিশিয়ে মেটাসিড ছিটিয়েছিল অতুল কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।

    —আরে শুনেছু অযবপুরে তিনজন মারা গেছে? একজন তো একেবারে জুয়ান, হঠাৎ…

    —সে তো নাকি দেওয়াল চাপা পড়ে মারা গেছে। —তা বল দিকি এতদিনের শক্ত দেওয়াল সে-ও আজ ধসে গেল।

    যাবতীয় অভাব, যাবতীয় মৃত্যু বই বাঁশফুলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশাল আকার ধারণ করে হাতিহায়।

    পুরনো রেকর্ড বলছে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের ব্যবধানে বাঁশফুল ফোটে, তেরো শো পাঁচ, উন পঞ্চাশ, সাতানব্বই। কিন্তু একটা জিনিস লক্ষ করেছ সময়টা আগের চেয়ে কমেছে। আগের শতাব্দীর হিবে পাওয়া যায়নি, গেলে দেখা যেত যে সেব্যবধানটা ছিল ষাট-সত্তর বা তারও বেশি, এভাবেই হয়তো কমতে কমতে…

    অঞ্চলের অন্দরমহলও এখন নানা রিহার্সেলে ব্যস্ত: ঘর সব ঝটিয়ে নিয়ে এলেও নাকি একমুঠো চাল থাকবেনি গো জেঠিমা, আটাও মিলবেনি একমুঠা, ছেপেনাকে কী করে বাঁচাব?

    —টিপে টিপে চালা, আরও টিপেটিপে, সেই তো অনাহারে থাকতে হবে, অনাহারের চাইতে অর্ধাহার ভাল।

    —হ্যাঁ গো ছোটপিসি, নাকি থইথই ব জল শুকিয়ে ঝামা ইটের মত শক্ত হয়ে যাবে? তা হলে আমাদের এই তালপুকুর?

    ঘটিও ববেনি, দেখছু না কী হারে জল কমছে, কাল কাপড় কাচতে এসে দেখে গেছি বুড়া আশুদ মুড়ার কাছে জল, আর আজ পাথরের নীচে নেমে গেছে। অ্যাই, জলে কেউ ঢাপাসি করবিনি, এই একটু জলের জন্য হাহাকার পড়ে যাবে।

    নদীতে জল থাকবে না, জলের জায়গায় শকুন মরা গোরু খাচ্ছে, নদীর বালি খুঁড়ে জল আনতে গিয়ে শকুন আর শকুনিদের ডানা ঝাঁপটানো, আনন্দ-বিলাস দেখে ভয়ে পালিয়ে আসছে পুরো হাতিহষ্কা অঞ্চলের কুলকামিনীরা!

    মাঠে ঘাস নেই, কিন্তু নিটে ছাগল একটা বুড়ি গাই এখনও রয়ে মরেছে তিষ্টার মার। তিষ্টার জন্মানোর সময় ভীষণ পিপাসা বা তিষ্টে পেয়েছিল গোষ্টর বউয়ের, সেজন্য ছেলের নাম হয়ে গেল তিষ্টা। এখন একলার জান নয় অনেকের তিষ্টা নিবারণ করতে হবে তিস্টার মাকে। কিন্তু মাগো, আকাল হলে তো চাল-আটার আকাল, জলের আকাল হবে কেন? না রে বেটা, এ অন্য, এ হল ভগবানের দিবা আকাল, মানুষের দিবা হলে একটা দুটা কম পড়ে, এ হল তেনার দিবা, সবদিকটাই নিঙড়াই দেয়। বুড়া মরে গিয়ে ভালই বেঁচেছে, তাকে আর বাঁশফুল দেখে যেতে হলনি, তা তুমি আমাকে লও না গো তোমার কোলে তুলে, আমি যে আর বাঁশফুলের ভয়ে টিকতে পারছিনি।

    বাশফুলের পায়েস বেঁধে খেতে হবে, তা হলে আর মড়ক-রোগ লাগবে না। কাগজে বেরোল। হয়তো কেউ আশ্বস্ত করার জন্য আন্দাজে বলেছে, তুব হাতিহষ্কার লোক শুনে বলল—কেন, বিজ্ঞানও হতে পারে, প্রকৃতির মধ্যেই থাকতে তার প্রতিষেধক। ফলে বাঁশতলা ঝাটিয়ে চাল কুড়নো প্রত্যেক সংসারের একটা নিয়মিত কাজ হয়ে গেল, যে যখন সময় পাচ্ছে ঝুড়ি আর ঝাটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ছে। বাঁশচালের ভালর দিক হল ওর খুব হালকা খোসা, সামান্য রোদে দিয়ে একটু ঘষে নিলেই ফরসা, বিজ্ঞানীরা নাকি বাঁশ চালের সঙ্গে ক্রশ করিয়ে সরাসরি চালগাছ তৈরির চেষ্টা করছ, এ-ও নাকি কাগজে বেরিয়েছিল। শুনে জায়ে-জায়ে টেপাটেপি হচ্ছে আর বলছে—সত্যি দিদি, চালগাছ হয়ে গেলে কী ভাল হয়, আমাদের আর তো রোদে গরমে ধানসেদ্ধ করতে হয় না, মাইরি দিদি, খেতে যাব আর ছুঁচে নিয়ে এসে সিদা হাঁড়িতে। কিন্তু নানা, বাঁশফুল কখনও ভাল স্বপ্ন দেয় না, সেই জন্মকাল থেকে আজ অবধি সে মানুষের কাছে ভয়ঙ্কর ও প্রলয়ঙ্কর হিসেবেই চিহ্নিত।

    বাঁশফুলের জাউ রাঁধা হল প্রথম অতুলদের বাড়িতে। তাদের গাছে প্রথম ফুল ফুটেছে প্রথম ফল তো তারাই খাবে একটু তেতোই লাগে বাঁশজাউ, চিনি বা গুড় দিলে পায়েস, নুন দিয়ে ঘাঁটলে জাউ, দুর্ভিক্ষের মরসুমে কেউ দামি জিনস খরচ করতে চায় না। কিন্তু হায় ছোটবউ, দুর্ভিক্ষর কাছে নুন-চিনি একদর।

    —তোমরা শান্ত হও, শান্ত হও।

    জেলা পরিষদ থেকে ফিরে এসে অতুল সকলকে বোঝাতে লাগল।

    –সরকার আর দুর্ভিক্ষ হতে দেবে না, পি এল চার শো আশির গম এনে তোমাদের খাইয়েছে আর আজ পারবে না। স্বয়ং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেছেন—তোমাদের কোনও ভয় নেই।

    লোকে কিন্তু শুনে এই বলে হাসাহাসি করল যে, সরকার কী দুনম্বর, এমনি হাসানোর দিনে যাদের কাঁদানো অভ্যাস তারা কাদানোর দিনে হাসি এনে দেবে, ওরে বাদ দে, মাঠে বুনে দে ও কথা।

    দেখতে-দেখতে বাঁশফুলের কাছে বিজ্ঞান, জেলা পরিষদ সব তুচ্ছ হয়ে যায়, অতুল নিজে বিশ্বাস করল না, কাঁচামাচা ধান কাটতে লাগিয়ে দিল পরেরদিন থেকে। উচ্চফলনশীল ধানের নিয়মই হচ্ছে একসঙ্গে সব পাকে না, কিন্তু কী আর করা, যদি

    শুকনো ডাঙায় বান ডাকে, যদি ঝড়-শিলাবষ্টি এসে সব লণ্ডভণ্ড করে দেয়, বলা যায় না, শোনা যাচ্ছে রাজস্থানে পঙ্গপাল ননেমে পড়েছে ঝকঝক।

    ধান সব তোলা হয়ে গেল, ঝাড়াই-মাড়াই হয়ে গেল দুদিনে, আচ্ছা তবু কেন এত ভয়, ভয় যে কিছুতেই সরছে না।

    চন্দ্রা জিজ্ঞেস করছে অতুলকে—হ্যাঁ গো, আমাদের এত ধান উঠল, খামার ভর্তি, তবু আমরা খেতে পাব না?

    –শনির দৃষ্টিতে গণেশের মাথা উড়ে গেছল, আর এ তো তুচ্ছ….

    —ঘুরে পাশ ফিরে শুল অতুল।

    –শুনছ!

    চন্দ্রা পিঠে খোঁচা দিচ্ছে।

    —পিঠ ঘুরে শুলে ভাল লাগে না, এই-এই! শোনো না।

    হঠাৎ অতুল বলল—এসময়ে আমাদের ওটা না হলেই ভাল হত।

    –কীটা?

    –বাচ্চাটা।

    পিঠের ওপাশে একটা বৃহৎ দীর্ঘশ্বাস পড়ল, ভীষণ গুমরানো হয়ে গেল চন্দ্রা। যেমন করে লোকে ঘাসের ওপর ভিজে সাদা ধুতি মেলে তেমনি করে চন্দ্রা নিজেকে একেবারে ফ্যাকাশে করে সে-ও পাশ ফেরে।

    এর ঠিক তিনদিনের দিন কী করে যেন অব্যর্থ ফলে গেল অতুলের চাওয়াটা। অতুল যেটা চাইল সেটাই পেয়ে গেল! ইস, অতুল, তুমি বড় ব্যথার জিনিসটা চাইলে হে!

    ও ঠিক মন্দারবুড়ির ওষুধ খেয়েছে। আর টিকবে কি না সন্দেহ, রাত পেরোবে কিনা…তিন মাসের পোয়াতি, এক হাতচেটো একটা ল্যাললেলে জ্যান্তো আঁথালের মতো মাংসপিণ্ড, লিচি-পাকানো আটায় বেশি জল পড়ে গেলে যেন হয়।

    চন্দ্রা আছাড় খেয়েও পেট নামিয়ে নিতে পারে, ও যা মেয়ে, ওকে বলাটা ঠিক হয়নি, বলে ফেলেই অতুল বুঝে গেছল একটা মহা ভুল করলাম।

    এত রক্তপাত ঘটেছে যে চন্দ্রা বিছানায় মিলিয়েই গেছে, সাতটা ডাকলে একবার চিচি করে সাড়া দেয়। ওদিকে যত বাঁশফুল ফুটছে, ফুলে-ফুলে ছেয়ে যাচ্ছে, এদিকে তত চন্দ্রার অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

    বাড়ির প্রত্যেকেই কিন্তু এক-যুক্ত-এক সমান দুই-এর মতো ধরেই নিয়েছিল চন্দ্রা মরছেই, ও যত চিকিৎসে করুক আর যাই করুক, বাঁশফুল ফুটেছে অথচ চন্দ্রা মরবে না এ হতেই পারে না।

    মারিকবুড়ো অতুলের বাবা, অতুলের ডাক্তার দেখানোর জেদ দেখে রেগে। বলল—হুঁ, এভাবেই তো দুর্ভিক্ষ আসে, ধান-চাল বেচে মানুষ এভাবেই সর্বস্বান্ত হতে হতে একদিন দেখবে সব ঘর ঝাটিয়ে এলে কোথাও এক দানা খুদ নেই।

    তার মা বলল—তা হলে তোর শশুরকে ডেকে পাঠা, তার কাছে তো এখনও সাড়ে সাত হাজার টাকা পাওনা আছে, মেয়ের অসুখের সময়ও যদি না দেয় তবে আর কবে দিবে!

    বাবা বলল—দ্যাখ এসময় যদি আদায় করতে পারিস, না হলে তো…

    না হলে মানে মেয়ে মারা যাওয়ার পরও কি আর কেউ পণের টাকা শোধ দেয়।

    চন্দ্রার বাবা দেখতে এল মেয়েকে, মেয়েকে দেখল, বাঁশফুল দেখল। বনবিহারীবাবুও অভিজ্ঞ সংসারী মানুষ সে-ও জানে বাঁশফুলের ইতিহাস এবং কার্যকারিতা। মেয়েরে বিয়েতে আমবাগান বাঁধা পড়েছে এখনও ছাড়াতে পারেনি, এখন বাকি সাড়ে সাত হাজার দিতে হলে তাকে তাদের একমাত্র আয়-উপায় পান বেরোজাটাও বাঁধা দিতে হবে। সে, চন্দ্রার বাবা, বুড়োমারিকের সঙ্গে সঙ্গে একমত হয়ে যায়না বেয়াই, আমিও কোনও আশার মুখ দেখছি না।

    শ্বশুরকে বাসে তুলে দিতে নিয়ে যাচ্ছে অতুল সাইকেলে চড়িয়ে। অতুল শ্বশুরকে বলল বাবা বলছিল আপনার কাছে যে টাকাটা আছে সেটা চাইতে, টাকাটা পেলে বি ডি রায়কে একবার দেখতাম।

    —তোমার বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আরও খানিক গিয়ে অতুল আবার জিজ্ঞেস করলনা, মানে..আর তো একদম দেরি করা উচিত নয়, তা হলে কালকেই…

    সাইকেলের পেছনে বসেছিল অতুলের শ্বশুর তার মুখটা ঠিক দেখা গেল না, কিন্তু সে অত্যন্ত নিরাসক্ত গলায় বলল—কোনও লাভ নেই, বুঝলে কোনও লাভ নেই, এ হল ভগবানের মার।

    অতুল শক্ত হ্যান্ডেল ধরেছিল এবার হাত দুটো নিজে নিজেই আলগা হয়ে যায়, আলরাস্তায় পেছনে ডবল নিয়ে সাইকেল চালাচ্ছে, যদি…বড্ড টাল খাচ্ছে শ্বশুরসমেত অতুল।

    .

    ৩.

    চন্দ্রা সেই রাতেই বাঁশের ধন্নাতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। এখন বাঁশফুল নির্মূল হয়েছে, কচি বাঁশও বেরিয়েছে, বাঁশঝাড় আগের মতোই ঘন সবুজ বাঁশঝাড়ে পরিণত হয়েছে, মারিকবুড়ো বাঁশতলায় বসে জাল বুনছে আর বারোশো ছত্রিশ বোরোধানের পাখি তাড়াচ্ছে। কিন্তু বাঁশফুলের কুফল সম্পর্কে এখন আর হাতিহষ্কার কারও কোনও সন্দেহ নেই। দেখলে তো চেখের সামনে এমন সুন্দর বউটা…

    আহা! এত ধান-চাল ঘরে ঠুস সু দেখলে তো একটা সময় খেতে পর্যন্ত পেলনি!

    চন্দ্রার মৃত্যুটা বাঁশফুলের মড়ক, ধান-চাল বেচে পুলিশকে টাকা দিয়ে সর্বান্ত হয়ে যাওয়াটাও বাঁশফুলের দুর্ভিক্ষ।

    চন্দ্রার বাবা পুলিশের সামনে সেদিন যা ঘটেছিল সবিস্তারে খুলে বলল—কী আর ঘটেছে দারোগাবাবু, যে গেছে সে গেছে, বাবাকে সাড়ে সাত হাজার টাকা ছাড় দিয়ে গেল মরার সময়, ওই হল, মেয়েই নেই তো তার পণ! শ্বশুর বলল—কারও কোন দোষ নেই, ওই বাঁশফুল ফোঁটার জন্য..ওই বাঁশফুল আমার মেয়েকে খেয়েছে।

    কিন্তু দারোগা বাঁশফুলের কথা শুনল না অতুল ও তার বাবাকে ধরে চালান দিল, কেস চালাতে এবং এদের মুক্ত করতে বড়িতে যা ছিল থালা-ঘটিবাটি পর্যন্ত বেচতে হল।

    মারিবুড়ো চমকে গিয়ে ওপর দিকে তাকায়, ঘন বাঁশ, বাঁশপাতা… না! কিন্তু গায়ে কী সরসর করছে? ও পিপড়ে। আশ্বস্ত হয়।

    অতুল আবার বিয়ে করেছে, তার বউ গর্ভবতী।

    এখন চন্দ্রা বাঁশফুলের গল্প হয়ে গেছে, হাতিহষ্কায় বাঁশফুলের কথা উঠলে চন্দ্রারও কথা ওঠে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন
    Next Article গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    Related Articles

    ইমদাদুল হক মিলন

    ইমদাদুল হক মিলনের বিবিধ রচনা

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    অন্তরে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    এসো – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    গোপনে – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    ইমদাদুল হক মিলন

    প্রিয় – ইমদাদুল হক মিলন

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }