সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – ১৭
সতেরো
কার্তিক এতক্ষণ ধরে মাঝে মাঝে সানাইয়ে ফুঁ ফাঁ করছিল। তারই এক ফাঁকে কখন যেন একটু ঘুমিয়ে নিয়ে চাঙ্গা হয়েছে। ছোমেদের কথায় সে ওঠে। বলে হ, তুমি বড় কেলান্ত। তুমি এট্টু জিরাও। মুই দেহি এনাগো খুশি করতে পারি কিনা।
কার্তিক এই উপাখ্যানের এক চরিত্র। কারণ তার ইস্তিরিই তো দৌলত সরস্বতীর ছেলে কানাইয়ের মা। এবং সে মা হলে, কার্তিক অবশ্য বাপ। সেই কার্তিকই এখন কথক। এ এক অদ্ভুত কাণ্ড। সে এই আসরে কিংবদন্তির মতো এই কাহিনী বলে যায়, যেন অন্য কারোর জীবনকথা বলছে। সে শুরু করে–
ভাইগণ, বন্ধুগণ, বন্দি আনি ছোডোবড়ো সগলার চরণ। এহানে য্যারা য্যারা আছেন, বেয়াকেই মোর গুরু। ওই যে গানে কয় না– তোর অতিথ গুরু পতিত গুরু, গুরু অগণন, গুরু বলে কারে পেরনাম করবি মন। ভাইগণ, বন্ধুগণ মুই গাজাল মাজাল মানু, ছোমেদ ভাইর ল্যাহান মোর কওন খ্যামতা নাই। হেয়া হোনতে হোনতে নিজেরাই হ্যানে বোজবেন। মোর গান পইদ্য অয় না। তয় ছোমেদ ভাই যহন আদেশ করছে, হ্যার মাইন্যতা দেতে অইবে, হে কারণ আসরে খাড়াইলাম। আর যে কতা হুনাইতে আছি হে কতা তো পরণকতা না। মোগো নিজেগো কতা। এই কতায় দৌলত, সরেস্বতী, মুই আর ছোমেদ ভাই ছাড়াও আরও দুই জোনের নাম কওয়া লাগে। হ্যারা অইলে ফণীদাস আর অষ্টচরণ। অষ্টচরণদাস। মোরা বেয়াকেই কইলম জালিকদাস জাউল্যা। মোগো ফণীদাস আছেলে পয়লা নম্বরের মাছউয়া। মোরা কইতাম ফণীর মাছ ধরতে জাল জোল লাগে না। হে জলে ডুব দেলে মাছ হ্যার গায়ে বাজইয়া উডইয়া আয়। কমু কী, ফণীর শরীলডা আছেলে অসুরডার ল্যাহান পাথরইয়া। গায় আছেলে সাইদ্যের জোর। কোকড়া কোকড়া একমাথা চুল, চক্ষু দুইডা রাঙ্গা টকটকইয়া কুখ্যার ল্যাহান। মানুষটার আছেলে ডাহাতইয়া সাহস, ডরাইতে না কোনো হালারেও। হেই ফণী মাছ মারতে যাইতে সাগরে।
কার্তিক এভাবে তার কথা শুরু করে। তার বর্ণনায় সে নিজস্ব অভিজ্ঞতার অনুপুঙ্খ তুলে ধরে। সাগরে যেতে পথে পেরোতে হয় বিষখালি নদী। কার্তিক বলে, বিষখালি নদীর তুফান আর ঢেউ য্যারা দ্যাখছে হ্যারা জানে যে হেই নদী উজাইয়া সাগরে মাছ মারতে যাওয়া ক্যারে কয়। মোগো অত সাহস আছেলে না। ফণী যাইতে সাইদারেগো টলারে, বছরে একবার। কইথে, মুই তোগো মতন হাত পাও কোলে লইয়া উপাস দেতে পারমু না। এহানের নদী খালের পুটকিতে কুবাসাত লাগছে। বাচতে অইলে সাগরে যাওন লাগে।
তার স্ত্রী উচৈচঃস্বরে কাঁদত আর বলত, তুমি সাগরে যাও, মুই হিন্দুর মুছি। প্রতিবারই দু-দশ জন যেত সাগরে, আর ফেরার সময় এক আধজনকে রেখে আসত সাগরগর্ভে। তারা আর ফিরত না।
কার্তিক বলে যায়– বোজজেন, মোর দাদু ভাইর বন্ধুর নাতি, মোর খুব ঘোনো আত্মীয়। ভাই অয়, হ্যার নামই অষ্টচরণ, অষ্টচরণ দাস। মোগো কলমীকান্দরেই বাড়ি। ফণীর ক্যামন য্যান ভাইস্তা অয়– লগালগি বাড়ি। এই অষ্টচরণের পেরানের বন্ধু আছেলে দৌলতইয়া। আসলে ছোমেদ ভাই যে কতাডা আরাম্ব করছে, হেডা অইলে সরেস্বতী, দৌলত, অষ্টচরণ আর মোর ইস্তিরির পরণকতা। দৌলত জাতে নিকিরি, আপনেরা হোনছেন আগেই, য্যামন মোরা জালউয়া – হেই রহম। তয় হে মোছলমান আর মোরা হিন্দু। হ্যার প্যাডে আবার দুঅক্ষর বিদ্যা আছেলে। আমাগো ল্যাহান আলেহা আভোদা না। মোগো কলমীকান্দরের অশ্বিনী মাস্টেরের ধারে হ্যার ল্যাংডা বয়স থিহা আওন-যাওন। মাস্টেরে হ্যারে খুব ভাল পাইতেন। তো আপনেরা তো জানেন, হেনায় আছেলেন এক আধপাগলা মানুষ। মাউগ নাই, ঝি নাই, থাহার মইদ্যে আছে কতগুলো গোরু আর বইপত্তর। গোরুগুলা দুধ দেতে এক ফোডা আর খাইতে দুন্ইয়ার খাওয়া। হেনায় য্যান দৌলতরে কী সব উল্ডা-পাল্ডা শেহাইছেলেন। আর দৌলত হেই সুবাদে জাইত জন্ম লইয়া যহন তহন উল্ডা ক্যাচাল পারতে। মোরা বেয়াকেই তহন গামর। শরীলের মইদ্যে সাইদ্যের গরম, হেয়া একছের ধরইয়া রাহন যায় না। আর দৌলত?
কার্তিক দৌলতের যে বর্ণনা দেয় তা তার ভাষায় উদ্ধৃত করলে দশে ধম্মে ছি-ছিক্কার করবে। সরল ভাষায় কই। দৌলতের সেই প্রকাণ্ড শরীর দেখলে মনে হতো, সে যেন এক উপোসী ষাঁড়। এই মস্ত কাঁধ, এই পেল্লায় দেহকাণ্ড, লম্বা লম্বা পুরুষ্ট হাত, পা। কী সিনা! কী বুক! আর চোখের দৃষ্টি? কার্তিক বলে– আরে ডাহাতি! ভাইগণ, বন্ধুগণ, আপনেরা নিচ্চয় দ্যাখছেন, আন্দুয়া পুহইরের টেপ্পোনা ছাফ করলে, হ্যার নীচের জলের বন্ন। হেই জলের বন্নের ল্যাহান ঘোর আন্দার হেই চোক্কু। কী গাড়াই হ্যার, আহা! আর হেই ষাঁড়ডা, বোজজেন, খালি দড়ি ছেড়তে চায় য্যান।
তো, মোর হেই ভাই অষ্ট আর দৌলত আছেলে পেরানের বন্ধু। এক জোন আরেক জোনেরে ছাড়া থাকতে না। হ্যারা দুই জোন ফণীর লগে, বচ্ছর বচ্ছর সাগরে যায়। যহন ফেরে, য্যান সোনার রাজপুত্তর। কী হ্যাগো ডেরেস, কী চুলের বাহার, আর কী বোলচাল। হ্যারা তহন মোগো বাল দিয়াও পোছে না। কয় চুৎমারানির পোয়রা, তোরা কিছু জানলিও না, দেখলিও না। পিরথিমিডা যে কত বড়, কী পেকাণ্ড পেল্লায়, তোরা হ্যার জানতে পারলি না কিছু।
এরকম নাকি তারা এসে বলত। তা বলারই কথা। কোননা, তারা যে সাগর দেখে এসেছে। সাগরের ঢেউয়ের ডগায় ট্রলারের দোল খেয়েছে জীবন-মরণ পাশাপাশি রেখে। যারা গাঁয়ের বাইরে যায়নি কোনোদিন, তারা কীই-বা দেখেছে। কীই বা জানে।
এরকমই এক সাগর-ফেরা মৌসুমে, দৌলতের যখন পকেটে মবলগ টাকা আর মেজাজ ফুরফুরে, তখন নাকি বন্ধুমহলে সে দুম করে বলেছিল– মুই সরেস্বতীরে বিয়া করমু।
কার্তিকের কথন ছোমেদের থেকে ভিন্ন। ছোমেদ মূলত কবি। সে কথায় কথায় পদ্যবন্ধ ব্যবহার করে। কার্তিকের সে গুণ নেই। তার কথনবিশ্ব নিতান্ত কাহিনীবিন্যাসের সরল রেখাশ্রয়ী। তবুও শ্রোতাসাধারণ তার কথনেও মগ্ন।
কার্তিক বলে, মোরা তো হ্যার কতা হুইনয়া আটাইশ! ওডায় কয় কী? ওডার কি মাতাডা খারাপ অইয়া গেছে? আটাইশ– বলতে অবাক। সত্যিই, অবাক হওয়ার মতো কথাই তো। দৌলত মোছলমান, সরস্বতী হিন্দু। ও কীভাবে তাকে বিয়ে করার কথা সব্বসমক্ষে এভাবে বলতে পারে?
কার্তিক বলে, এহন বোজেন আপনেরা। বন্ধুবান্ধব মানু। আচুককা কিছু কইতেও পারি না। আর কমুই বা কী? মোগো হেই যৈবন বয়সের সোমায় সরেস্বতী আছেলে মোগো ওহানে, পাঁচ গেরামের মইদ্যে সেরা মাইয়া। আবার হ্যার মাতার উফার আছেলে না কোনো মুরুব্বি। ওই য্যামন ছোমেদ ভাই গানে কইলে, “সরেস্বতী আছৈয়া নাও”, হে কতা পুরাই হাচা। হে থাকতে হ্যার এক বুড়ি পিসির লগে। বুড়ি আর হে ধান কোটতে, চিড়া কোটতে, হাস কৈতোর পাডা ছাগল পোষতে, আর এডা ওডা করইয়া প্যাট চালাইতে। মিত্যা কমুনা, হে বয়সে সরস্বতীরে দ্যাখলেই বুকটার মইদ্যে য্যান ঢেহির পাড় দেতে। দৌলতেরে, হে কারণ দোষ দেতে পারি না। গাও গেরামে, ওরহম মাইয়া এক আধটাই থাহে। আর উঠবয়সি ছ্যামরাগো রাতের ঘুম নষ্ট করে। মন লয়, একতা আপনেরা বেয়াকেই স্বীকার যাইবেন।
সরস্বতী যে শুধু দেখতে সুন্দর ছিল তাই নয়। তার চলনবলন, সাজগোজ আর দেহসৌষ্ঠবের তো কথাই নেই, তার সবটুকুই সুন্দর ছিল। কিন্তু পিসির ভয়ে কার্তিক বা তার বয়সী অন্যরা তাদের বাড়ির দিকে কমই যেত। রাস্তাঘাটে হঠাৎ দেখা হলেও মুখ তুলে তাকাবার সাহস তাদের হতো না। সরস্বতীর মধ্যে এমন একটি ব্যাপার ছিল যা সহজে অতিক্রম করা যেত না। একটি সহজ গরিমা বা আভিজাত্য, যা সুন্দরী এবং রুচিশীল নারী মাত্রেরই থাকে, তা যেন তার শরীরে একটি অদৃশ্য বর্মের মতো ঘিরে থাকত। যে জন্যে সে একা একা রাস্তা চললেও, তার সাথে চটুলতা করার সাহস কোনো যুবকের হতো না। তাদের মনে হতো, সে যেন এক মহারানি। তার দিকে তাকালেই যেন গর্দান যাবে। কার্তিক বলে, আরও এট্টা ভয় জব্বর, বোঝলেন নি আপনেরা। চোহাচুহি অইলে, যদি মোরগো মনের কুআচার হে ধরইয়া ফ্যালায়! যা চক্ষু সরেস্বতীর! একছের কইলজা তামাইত দ্যাহে। এডা এট্টা মস্ত সোমস্যা আছেলে মোগো।
তো একদিন হেই বুড়ি জুড়াইয়া ঠাণ্ডা। কার্তিকের কথকতায় জানা যায় যে তখন নাকি তাদের একবার সুযোগ হয়েছিল সরস্বতীর কাছাকাছি হবার। সুযোগ? সুযোগ ছাড়া কী? ধন্য, দয়া করে বুড়ি মরেছিল, তাই না এই সুযোগ! যেহেতু তখন সরস্বতীর বিপদকাল। এ সময়ে বান্ধবেরা কছে দাঁড়াবে না তো কে দাঁড়াবে। আর কার্তিকেরা যদি তার বান্ধব না হয়, তো বান্ধব কে? বুড়ি পিসি মরে পড়ে আছে, তার সৎকারাদি করে কে? শোক তাপে যতই কাতর হোক সরস্বতী, সৎকার তো বুড়ির করতে হবে। তাছাড়া মৃতের পরিজনদের দেখাশোনা, সেবাযত্ন। যতক্ষণ তারা ধাতস্থ না হয়। এক্ষেত্রে পরিজন বলতে সরস্বতী।
কার্তিক বলে যায়, তহন একবার মোগো সুযোগ অইছেলে সরেস্বতীর ধারে যাওনের। তহন হ্যার দুঃকের সোমায়। মুরুব্বিরা হেরে শান্ত করে, মোরা পিসির সৎকার করি। এই সোমায়ডায় এট্টু লাগর পাইছেলাম হ্যার। লাগর আর কী, ওই এট্টু আধটু কতা কওয়া, এডা ওডা ফাইফরমাইস এইসব। তয় সত্য কইতে কি, শোক তাপের সোমায় তো, মোগো মনেও কোনও ‘কু’ আছেলে না। হেয়া ছাড়া গেরাম গায় তো আর রাজপুত্তুর রাজকন্যার ল্যাহান মোহাব্বত অয় না। এহানে যেডা অয় হেয়ারে কয় ঢলাঢলি। তয় এমন কোনো চুৎমারানির পো তহনও মোগো ওহানে পয়দা অয়নায় যে সরেস্বতীর লগে ঢলাইবে।
কিন্তু দৌলতের কথা আলাদা। প্রথম কথাই হলো যেমন দৌলতের চেহারা, তেমন সরস্বতীর। দুজন যদি ভিন্ন সম্প্রদায়ের না হতো, তাহলে এর থেকে ভাল জুটি কীই বা হতে পারত! কার্তিক হুতাশ করে। বলে, বোজজেন নি ভাইগণ, দৌলত যদি অয় লম্বা চওড়া ছাতিম গাছটা, সরেস্বতী হেই গাছে বাইয়া ওডা থোপা থোপা ফুলওলা মাদোবীলতা। মোগো য্যাতোই ক্যান নজর থাউক হ্যার দিগে, এরহম সুন্দর জোড়া মোগো লগে হওনের কতাই না। কিন্তু ওই, ও হালায় যে মোছলমানের ছাও, এই অইলে পেরদান সোমস্যা। মোগো মনে সন্দ, দোস্তো হউক আর কইলজার আধগান হউক, হে যদি সরেস্বতীর উডাইয়া লইয়া যায়, বলাৎকার করে? তয় তো জাইত যাইবে, সোমাজে দুন্নাম।
তখন সবাই বলবে, জেলেদের আইবুড়ো মেয়েকে মুসলমানেরা বেইজ্জত করেছে, লুট করে নিয়ে গেছে। তাদের এমন ক্ষমতা নেই যে আটকায়। কার্তিক হিন্দু মুসলমানের সেই প্রায় নিয়তিনির্দিষ্ট দ্বন্দ্বের কথা বলে। বলে অন্যতর বিচারের কথাও। বলে, তহন বোজলেন নি ভাইয়েরা, মোগো কইলম এ বুজ অইলে না, আহা, অরা দুই জোনেই তো দুই জোনেরে চায়, আর কী সুন্দর মানাইবে হ্যারগো। না, মিত্যা কমু না, হেকতা তহন মোরগো মাতায় আয় নায়।
তখন এই সম্পর্কের কথা গাঁয়ে ছড়ালে, তা নিয়ে গুজগুজ ফুসফুস। একদিকে মুসলমানেরা জোট বাঁধে আরেক দিকে হিন্দু জেলেরা। জেলে, নিকিরিদের ক্রোধ অতি ভয়ানক। তা রক্তারক্তি, খুনোখুনিতে না গিয়ে শান্ত হয় না। কার্তিক বলে, ভাইগণ, বন্ধুগণ, আপনেরা জানেন কিনা জানি না, হে আইজ অনেককাল আগের ঘডনা। মোগো এই জালইয়ারাই দেছেলে এক জোনের কল্লাডা দু-ফাঁক করইয়া।
হে হালায় আছেলে এক ডাহাইত। কার্তিক এক অন্য কাহিনী শুরু করে। সে নাকি জেলেপাড়ার একজন স্ত্রীলোকের সাথে ‘গোপন সম্পক্কে’ লিপ্ত ছিল। তবে সেই রমণীর স্বামীও নাকি ছিল, কার্তিকের ভাষায় ‘এট্টা বলদা’ এবং এমন বলদা যে হালে বয়না হিংগাইয়া মারে, তাদের কোনো সন্তান ছিল না। লোকটার ধারণা ছিল যে তার বউ বাজা। এ কারণে সে বউকে যখন তখন প্রহার করত, এমন প্রহার যে তা চোখে দেখা যায় না। কার্তিক বলে যায়, তো হের লগে ডাহাইতইয়া করলে পীরিত। এক বইস্সাকালের রাইতে গেরামইয়ারা হ্যারগো ধরইয়া ফ্যালাইলে হাতে নাতে। হেদিন হে মাথারীর সোয়ামী গ্যাছেলে বড় গাঙ্গে মাছ ধরতে। তিন চাইর দিন বাদে ফেরবে। ইদিগে ডাহাইতয়া আর হেই মাথারী রোজ রাত্তিরে নৌকাবিলাস খেলায়। তো চোরের তিন দিন, আর গেরস্থের এক দিন। হেদিন হ্যারা রাত্তিরে খাইয়া লইয়া বিছানায়। গোরামইয়ারা আগেই সন্দ করেছেলে। তক্কে তক্কে থাইক্যা হেদিন হ্যারা ধরলে হ্যারগো। মাথারীরে রাখলে এট্টা ঘরের মধ্যে আটকাইয়া, আর ব্যাডারে লইয়া গেলে খালপাড়। হ্যার পর আর কী! কল্লাডা দুই ফাঁক, দুইডা বস্তায় কল্লাডা আর ধরডা আলাদা আলাদা ভরইয়া মাজখালে। হেয়া লইয়াতো হ্যাষে জালইয়াগো লগে মেয়াগো কাজইয়া লাগে লাগে। তিন দিন পর হেই বস্তা পাওন গেছিল গাবখানের নদীতে। তারপর, থানা পুলিশ মামলা, কত কী, তয় ফয়সালা কিছু অইলে না। ক্যান? না, হালায় তো ডাহাইত আছেলে। হ্যার পক্ষে বিশেষ কেউ খাড়ইলে না।
কিন্তু, কার্তিক বলে যে, এ ব্যাপারটি আদপেই আলাদা চরিত্রের। ডাকাত এবং স্বৈরিণী বা অতৃপ্তার ব্যাভিচার আর সুস্থ সবল যুবক-যুবতীর স্বাভাবিক প্রেম বা যৌনসম্পর্ক এক বস্তু অবশ্য নয়। দৌলত এবং সরস্বতীর প্রেম অত্যন্ত সুস্থ স্বাভাবিক মানবধর্ম। এ প্রেমে একমাত্র প্রতিকূলতা পরস্পরের সম্প্রদায়গত ভিন্নতা, কিন্তু এর মধ্যে বস্তুতপক্ষে কোনো ব্যাভিচার নেই।
কার্তিক পুনরায় তার কথকতার মূল কাহিনীতে ফেরে। বলে, দৌলতইয়ার এক কথা, মুইও জালইয়া, সরেস্বতীও জালইয়ার মাইয়া– তয় মুই সরেস্বতীরে পামু না ক্যান? মোর দাদার দাদায়, না হ্যার পরদাদার পরদাদায় কেডা কবে এছলামে শরিক অইছেলে, হেথে মোর কী? মোরে লইয়া বড় জাইতের মেঞারা খায়, না মোরগে লগে হ্যারগো মাইয়া বিয়া দে। পাল পরবে কহনও যদি বোলায় তো খাইতে দে বাইর বাড়ির উডানে। ভাইগণ, বন্ধুগণ, দৌলতের এই কতাগুলানও কইলম ভাবোন লাগে। মাইনসে কয় মেয়াগো মইদ্যে নাহি জাইত পাইত ভ্যাদ নাই, আছে খালি হিন্দুগো। হিন্দুগো যে আছে হেয়া মোগো থিহা ভাল কেডা জানে? কিন্তু শ্যাহেগোও যে ভালমনতই জাইত পাইতের সোমস্যা আছে– হেয়াও কিন্তু মিত্যা না। জোলা, নিকিরি, আনছারি, হাজাম এ্যারা কি বড় জাইতের মেঞাগো জলচল? এট্টুও না।
দৌলত, কার্তিক বলে, যে এসব শিক্ষা নাকি পেয়েছিল ‘অশ্বিনী মাস্টেরের’ কাছে। তিনি বলতেন, জেলেরাই নাকি এ অঞ্চলের আদি বসতকারী। তারাই নাকি একদিন এই নদী, যার নাম সুগন্ধা, তার বুক ধরে এইসব অঞ্চলে এসে বসত করেছিল।
তখন সুগন্ধা ছিল এক বিশাল বিস্তার নদী। জল তখন বেশি, মাটি কম। নদীর একধারে ছিল শিকারপুর আর পোনাবালিয়া। আদিমতম বসিন্দা চণ্ডভণ্ড মলঙ্গী দু-একঘর মানুষ, তখন এখানের বসতকারী। এ অঞ্চল তখন সুন্দরী, গরান, গেউয়া আর গোলপাতা, হোগলের ঝোপে ভরা এক দুর্ভেদ্য অরণ্য। এখনকার তুলনায় সমুদ্র অনেক সন্নিকট। চণ্ড মলঙ্গীরা সমুদ্রের জল জ্বাল দিয়ে লবণ বানায়, বন থেকে মধু ভাঙে, বাঘ, সাপ, কুমীরের সাথে লড়াই করে তারা জমি হাসিল করে। কার্তিক বলে যায়, তার বাপদাদার কাছ থেকে শোনা ইতিকথা। সেই চণ্ডমলঙ্গীরা মাধবপাশা, কচুয়া, লক্ষণকাঠি বা কোটালিপাড়ে গিয়া মাছ, মধু বাঘ-কুমিরের চামড়া বা লবণ বেচে।
কার্তিক বলে, বড় মেঞারা আর ভদ্দরলোকেরা এহানে আইছেন অনেক পরে। এসব কতা মোরা বাপদাদার ধারেও হুনছি। বেশি হুনছি অশ্বিনী মাস্টেরের ধারে।
কার্তিকের কথকতায় বা ইতিকথায় এক ছবি ভেসে ওঠে আমার চোখের সামনে। সে এক আদিম ছবি। যেন কোনো এক ঘোরবর্ণ পুরুষ সুগন্ধার জল চিরে সালতি বেয়ে আসে। তার সাথে তারই কোনো আত্মজ বা অন্য জনেরা বৈঠা হাতে। নদীর দু-পাড়ে ঘন জঙ্গল। সেই নদীর কোনো এক কিনার থেকে তারা আরও অভ্যন্তরে ঢোকে এক খালপথ ধরে, যে খাল উত্তরের দিকের কোনো বিল থেকে এসে নদীতে পড়েছে এবং তার কূলেও গহন অরণ্য। সেই খালই কি কলমীকান্তারের খাল, যাকে এখন এরা বলে কলমীকান্দর, যা খাল এবং গাঁয়ের উভয়েরই নাম।
তারা সেদিন এই খালের, যে খালের আর তার তীরের গ্রাম বসতির কথা কার্তিক এখন কথকতা করে, সেই খালের তীরে ওই ঘোরবর্ণ মানুষ আর তার সাথীরা কী দৃশ্য দেখেছিল? নিশ্চয়ই সেদিন এই খালের পারে ছিল বিস্তীর্ণ ছৈলা গাছ আর হিজলের ঘন বুনোট। গোল হোগলের ঝোপে ওত পেতে ছিল বুঝি ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গল। তীরে বিস্তীর্ণ উঁচু ঘাসের বন, যেখানে হরিণ, চিতল, সজারু আর শিয়ালের দঙ্গল। দু-একটা বাইসনও কি ছিল না তখন। থাকা অসম্ভব নয়। কারণ এই জঙ্গলই তো উত্তরে, পশ্চিমে, দক্ষিণ পশ্চিমের বনেদি অরণ্যানীতে মিশেছে।
সেই শুরু এখানের প্রথম বসতির। সেই বসতির লোকেরা একদিন কেউ কেউ ‘এছলামে শরিক’ হয়। এ কারণেই এদের সবাই একই জাত। অশ্বিনী মাস্টার বলতেন, হযরত শাহ জালাল এবং শাহ ফরিদেরা এদেশে আসার আগে তো সবাই একইসাথে পুজো পার্বণ ব্রত উৎসব করত। কিন্তু সে সব কি হিন্দুর ব্রত পার্বণ? না। তিনি নাকি বলতেন, উচা জাতের মাইনসেরা হেথে যোগ দেতে না। হ্যারা তো কেরমোশো উড়ইয়া আইয়া জুড়ইয়া বইলে। হ্যারগো কেউ রাজা নবাবেগো দয়ার জমি জাগা ইজারা নিয়া আইয়া বইলে এহানে। তোরগো পরদাদারা জমি হাসিল করইয়া মাছে ভাতে সুহে আছিল। কিন্তু এ্যারা আইয়া বইলে মাতব্বর অইয়া। হ্যারপর বাওন আর উচাজাতের মাইনসেগো বদমাইসিতে তোরা অইয়া গেলি ছোডো জাত। তহন নিজের হাসিল করা জমির ধান ওডে উচা জাইতের মাইনসেগো গোলায় আর তোরা কর উপাস।
কার্তিক তার শোনা ইতিহাস বিবৃত করে এভাবে। বলে, তারপর বন্ধুগণ, চললে অইত্যাচার। তহন নাকি আইলেন হযরত শাহ জালাল শাহ ফরিদ, এঁনারা সব। তেনাগো চেলা শাগরেদরা তহন আমাগো পরদাদাগো এছলামে শরিক করলেন। তদবদি মোরা ভেন্ন। তো দ্যাহেন, এছলামে শরিক অইয়াওনি উদ্ধার আছে? অইত্যাচার তো চলতেই আছে। ক্যান? না শ্যাহেগো মইদ্যেও বাওন আছে।
ওই যে ছোমেদ ভাই কইলে, যুইত্তোবোন্দে এহনও অরগো মাতারীরা মা মনসার পূজায়, কিংবা জাতকরণী, নীলপূজায় কৈতোর হাস দিয়া যায় বলি দেওনের লইগ্যা– হে কতা নিয্যস হত্য কতা। দক্ষিণে হুন্দইরবোনে যায়েন, দ্যাখফেন, ওলাবিবি, দক্ষিণ রায় আশনের পূজা এহনও বেয়াকেই করে।
তমো মোগো ভ্যাদভাব তো রইয়াই গেলে। এ সমস্যার কী যে সমাধান কে জানে। এমন এক আসরে বসেছি, যেখানে আমার যুক্তি সিদ্ধান্ত অচল। জারিসারি কথকতা আমার বাল্যাবধি আহ্লাদের আকর্ষণ। কিন্তু এই জারির আসরের চরিত্র আমূল ভিন্ন। এরকম এক বহুমুখী আসরে আমি কখনও বসিনি, আমার মতো অবস্থানের মানুষ কখনও কেউ বসেছে কিনা জানি না। এই গান, এই কথকতার মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ ভেসে উঠছে যে সব সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সমস্যা, তার সমাধান যে কী, তা তো এই উপমহাদেশে কেউ জানে না। কার্তিক বা ছোমেদ কেউ শিল্পী হিসেবে একটি নির্দিষ্ট ধারায় স্থায়ী থাকছে না। তাদের সব কথা কওয়ার মঞ্চ এই একটিই। তাই সেখানেই তারা সব কথা বলে নিতে চায়। সে বলা শিল্পসম্মত কিনা, তা নিয়ে তাদের কোনো ভাবনা নেই। দায়ও নেই বোধহয় কিছু। তাদের গোটা ব্যাপারটাই এরকম ছেঁড়াফাটা জোড়াতালি। তার মধ্যে কখনও চমৎকার আঙ্গিকে গভীর শিল্প সৃষ্টি হয়, কখনও-বা সমাজসমস্যার নানান অনুষঙ্গ নিতান্ত মেঠো বাস্তবতায় রূঢ় হয়। এইসব মিলিয়ে মিশিয়েই এদের উৎসব এবং সমস্যার জগৎ।
আগের পর্বে যখন ফকির আর মোকছেদের বৃত্তান্ত নিয়ে বলেছি, তখন তবু তার একটা ক্ষীণ ধরতাই-এর সন্ধান এক সময় পেয়েছিলাম। সেখানে মুক্তি আর অনুভব একটা স্থানে এসে যুগলবন্দি হয়েছিল। এ আসরে শেকড়ের টান যদ্যপি অনুভবে আছে, কিন্তু দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতায় এখন তা বোধে প্রকট নয়। অবশ্য বুঝতে পারছি জলের শব্দ ক্রমশ নিকটবর্তী হচ্ছে, অচিরেই নদীর দেখা পাব।
কার্তিক কেস্সা বলে।– ল্যাংডা বয়স থিহা অষ্ট, মুই, ফণী, দৌলত বেয়াকে একলগে মানু। কহনও খালে কুদি, কহনও ডুগ ডুগ খেলাই, আবার কহনও-ও এ্যার গাছের ডাব, হ্যার গাছের জম্বুরা, ফলনার গাছের খাজুর রস চুরি করি। মুই আর ফণী বয়সে, হ্যারগো থিয়া বড় অইলেও মোগো কোনো দিন ছাড়াছাড়ি হয় নায়। ফণী আর দৌলত আছেলে মোগোর সরদার।
তো এহন মোগো অইলে সোমস্যা। মুরব্বিরা কয় আর টালায়, হারামজাদা দৌলতইয়ারে যদি তোরা কিছু না কর তো তোগোও ছাড়মু না। বেয়াকটারে গেরামছাড়া করমু। তোগো দোস্তানির ফলনাতা করি মোরা। এইসব হোনতে হোনতে মোগোও, মিত্যা কমু না, গোসা অইছেলে ম্যালা। মাতায় ঢুকইয়া গ্যালে, হালার শ্যাখ, তুমি মোগো হিন্দু মাইয়া টানইয়া লইয়া যাবা।
এরকম ক্রোধের সমূহ কারণ ছিল, যা কার্তিকের আখ্যানে পাই। দৌলত নাকি অসম সাহসে সরস্বতীকে নিয়ে একদিন ঝালকাঠির বন্দরে যায়, আর ইসলামি মতে তাকে বিয়ে করে ড্যাং ড্যাং করে নিয়ে তোলে তার বাড়ি। ‘এমন আজরাইলের আজরাইল, চুৎমারানির পোয়ের, পেরানে ডড়ের ল্যাশ মাত্তর নাই’– একথা কার্তিকেরা সবাই ভেবেছিল। তখন তাদের সমাজে সবাই ‘কোদে’ আর ‘ফোসে’ কতক্ষুণে ওই আজরাইলের ছাওয়ের মুণ্ডুটা দু ফাঁক করে ফেলবে।
একদিন সন্ধ্যাবেলা ফণী আর অষ্ট আসে কার্তিকের বাড়ি। বলে, হোন কতা আছে। তো তিনজনে মিলে যুক্তি পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত করে দৌলত আর সরস্বতীর মরতেই হবে। কোনো উপায় নেই। ‘আইজ রাইতেই দুইডারে শ্যাষ করুম। এ ক্যাচাল আর ভাল লাগে না’। এটাই ফণীর সর্বশেষ রায়।
তো তিন জোনে তিনহান খাজুরগাছ কাডা দাও লইয়া বাইর অইয়া পড়লাম।– কার্তিক বলে। ক্যারোর মুহে কোনো রাও নাই, শব্দ নাই। রাইত তহন দুফইর। তিন জোনে যাইয়া দৌলতের বাড়ির ব্যাড়ার ছাইচে খাড়ইলাম। ঘরের মইধ্যে কুপি লেমের লম্প, ব্যাড়ার ফাক দিয়া দ্যাহা যায়। ফণী এট্টু আউগ্গাইয়া দ্যাখতে লাগলে হেই ফাক দিয়া। দ্যাখতে লাগলে তো দ্যাখতেই লাগলে। হ্যার য্যান কোনো হুস পইদ্য নাই। তহন অষ্ট যাইয়া হ্যার পিডে একখান হাত রাখলে। ব্যাফারডা কী বোজেনের লইগ্যা। কমু কী, হে এক কাণ্ড। অমন যে লোয়ার কইলজা ফণী, হ্যার হাতের থিয়া দাওহান পড়ইয়া গ্যালে, য্যান হ্যার গায় এট্টুসও জোর নাই। দুই হাত দিয়া হে তহন খালি চক্ষু কচলায় আর ফিসফিস করইয়া কয়, পারমু না, পারমু না। মোরা পেরথম বুজি নাই। তো, তহন ফণী কয়, ব্যাড়ার ফাহের দিয়া চাইয়া দ্যাখ। এয়া কী পারন যায়– আহারে! মোরা তো আউগ্যাইয়া এট্টু দ্যাখতে গেলাম। কমু কী? দৌলত আর সরেস্বতী ঘরের খাডালে হোগলার উফার বইয়া রইছে য্যান শিবদুগগা। আহাহাহা! হে যে কী চোমোৎকার যুগলমুত্তি, কী সুন্দর, হেয়া ক্যারে কমু। দেহি, এক জোন আরেক জোনরে হাতে করইয়া খাওয়াইয়া দেতে আছে। টেমির আলো পড়ছে দুই জোনের মুহে, দুই জোনেরই ক্যামন য্যান বেভোর ভাব।
মোগো মুহে আর কোনো কতা নাই। এ মোরা কী করতে যাইতে আছেলাম? মোরা কি মানুষ? আহা ওরা এহন দুইজোনে দুইজোনারে যে কত ভালবাসতে আছে, ওগো যুগলমুত্তি যে কত শোভা দেতে আছে– হেয়া দেইখ্যা ডাহাইতে নি অরগো গায় হাত দেবে! তো ফণী খালি কইতে আছে, পারমু না, পারমু না। আর অষ্ট? হেতো দৌলতের পেরাণের পেরাণ, কলিজার ধড়ফড়। হে হালায় হেসকি দিয়া কুত্তইল দেতে আরাম্ব করলে। হে কয়, ফণীদা, ওই একলগে মোরেও শ্যাষ করইয়া দাও। জ্বালা জুড়াউক। দৌলতরে ছাড়া মুই বাচমু ক্যামনে?
এইসব শব্দ, ফিসফিসানি ওরা টের পেয়ে যায়। দৌলত চেঁচিয়ে ওঠে, কেডা ওহানে? তখন নাকি কার্তিক চেঁচিয়ে বলে উঠেছিল, হেই দৌলতইয়া, বউয়াসোগা, হালারপোহালা, কাইল যদি মোগো মুরগির গোস্তো আর ভাত না খাওয়াও ডাইক্যা, তো তোগো কল্লা দুইডা হত্যই দু-ফাক করইয়া কলমীকান্দরের খালে ভাসাইয়া দিমু। বাত্তি নিবা, আর বউরে লইয়া হুইয়া পড়।
সে কী বুঝেছিল কে জানে। তারা তিনজনে দাও তিনখানা হাতে সোজা চলে গিয়েছিল খালপাড়। ফণী তিনখানা দা-ই এক এক করে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল খালের মধ্যে। তারপর তিন জনে চলে এসেছিল অশ্বিনী মাস্টারের বাড়ি। আর সেই বৃদ্ধকে ঘুম থেকে তুলে তার পায়ে মাথাকুটে বলেছিল, মুরব্বিগো হাত থিহা মোগো বাচায়েন। বাচলে মোরা বেয়াকে বাচুম, মরলে বেয়াকে একলগে। তয়, দৌলত সরেস্বতীর গায়ে যদি কেউ হাত দে, আপনের পাও ছুইয়া কিরা কাড্লাম–মা বিষহরির কিরা, নেতা ধোপানির কিরা, বাবা বুড়ানাথের কিরা, হ্যারগো ক্যাল্লা ফাক করুম। আপনেই মোগো বাপ।
হতভম্ব বৃদ্ধকে কিছু বোঝার অবকাশ না দিয়ে ফণী তাদের আদেশ করেছিল, ল বাড়ি যাই।
