Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    মিহির সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প368 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – ৯

    নয়

    ঘাটে পা দেবার সঙ্গে সঙ্গে পুজোবাড়িতে হইচই। রাজাবাড়ির নসু, নাসির যার নাম, সে তার দলবল নিয়ে হাজির। সৈয়দ আলি চাচা, ‘বাজান আছো তো ভালো বেয়াকে’, বলার সাথে সাথেই সে তার উলঝ্‌ন প্রকাশ করে। আরে ধুরও, বুড়াধুরাগো এহানে ডাকছে কেডা? অ্যাঁ? সরো দেহি। আয়েন দুলাভাই আয়েন। আমি এদের দুলাভাই, অর্থাৎ জামাইবাবু। কম কথা নয়। সে বলে, আগে ঘরে ঢোকোন নাই। পিরতিমাহান দেহন লাগে বুড়া শিবরে শ্যাবা দেওন লাগে। এডা নিয়ম। পূজা গোন্ডার বাড়ি। এবার মোরা এক নম্বর গুণরাজ দিয়া পিরতিমা গড়াইছি। আগে হেহানে হেবা দেন, পরে বাকিসব। গুণরাজ অর্থে মৃৎশিল্পী, যিনি প্রতিমা গড়েছেন।

    সুতরাং আগের কাজ আগে। পিরতিমা দর্শন করতে গিয়ে দেখি, সপরিবারে দুর্গা তো আছেনই, আরও দুজন কারা যেন কাঠামোর নীচে দাঁড়িয়ে। তার একজন এক মিনসে পুরুষ, অপরজন এক মহিলা মাগি। মিনসেটি চুনোট করা ধুতি, পিরান এবং কাঁধের ওপর থেকে ঝোলানো উত্তরীয় ইত্যাদি বেশে সজ্জিত। মাথায় ঘনকৃষ্ণ কোঁকড়ানো চুলের বাবরি, পাকানো কার্তিকী গোঁফ, চোখে বেশ একটি তেরছা পরকিয়া ভাবের চাউনি নিয়ে বিপরীতে দাঁড়ানো মহিলা মাগির দিকে তাকিয়ে। মাগি মহিলার মাথায় দিঘল ঘোমটা, পরণে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। ঘোমটার আড়াল থেকে তার ঢলঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি, অবনী বহিয়া যায়। সব মিলিয়ে একটি জমাট রহস্য। দুটি অবয়বকেই যেন পরিচিত লাগল।

    কিন্তু সে গল্প বলার আগে নসুর পরিচয়টা একটু সবিস্তারে দেওয়া দরকার। নসু বা নাসির রাজাবাড়ির পোলা। তার থেকেও তার বড় পরিচয় হলো সে ভাবীর দেওর। ভাবী, আমাদের নুরুদার স্ত্রী। নুরুদা, রাজাবাড়ির জ্যৈষ্ঠ পুত্র। এরা মুসলমান, কিন্তু রাজা উপাধি কেন, একথা বাল্যে কৌতূহলবশত জানার ইচ্ছে হয়েছিল। তখন এখানের বাজারে ছিলেন আমাদের সব পুরাণকথার কথাকার বিহারী কর্মকার। তিনি তাঁর কামারশালার হাপরটি টানতে টানতে পুরাকথা বলতেন। তাঁর কাছে গেলে তিনি জানিয়েছিলেন যে, অরা আসলেই রাজা। এর আগে অরা মোছলমান আছেলে না। পরে অইছে। রাজা উপাধিটি তদবধি রয়েই গেছে। তোমার বড় অইলে পড়বা হ্যানে, বইথে ল্যাহা আছে না–

    যশোর নগর ধাম প্রতাপাদিত্য নাম
    মহারাজা বঙ্গজকায়স্থ।

    হেই পেরতাপাদিত্যের, কী রহম যেন লতায় পাতায় বংশধর এ্যারা। খুব উচা বংশ। নুরুর বাপ শুক্কুর রাজারবাপের ঠার্হুদা এছলাম ধম্ম নেলে– তদবধি এ্যারা মোছলমান।

    ভাবী অর্থাৎ নুরুদার, স্ত্রী, এ দিগরে আমাদের ছোটোবেলার প্রথম নতুন বউ। অতএব বাল্যাবধি ভাব-ভালোবাসা। ভাবীর মতো সুন্দরী বউ দেশগাঁয়ে দশটা মেলে না। তদুপরি সাতিশয় সুরসিকা। সে একবারের কথা মনে আছে। ভাবী থাকেন গঞ্জের বাড়িতে। সেখানে তার গেরস্থালি রাজ্যপাট। রাজ্যপাট বলতে দু-তিনখানা টিনের চালার বাড়ি ভাড়া দেওয়া। তার একখানায় এক বাল্যসখীর সংসার। গ্রাম সুবাদে ননদ-ভাজ, গঞ্জে বাড়িউলি ভাড়াটে। সেবারে বাল্যসখীর গেরস্থালিতে উঠেছিলাম সপরিবার। সখী আবার বিবাহসূত্রে বড় কুটুমও, দ্যাশের ভাষায় কয় জেঠ্‌ইয়নি। তাঁরা স্বামী স্ত্রী দুজনেই পেশায় শিক্ষক। একটি কন্যা। ভারী ছটফটে মেয়ে। এতগুলো পরদেশি মানুষ দেখে তার ভারী আহ্লাদ। ভাষার উচ্চারণগত ভিন্নতার জন্য পরদেশি কন্যাদের কিঞ্চিৎ অসুবিধে। ফলে একটি সুন্দর রগড় জমে ওঠে। কিন্তু সখীকন্যা চটজলদি পশ্চিমবঙ্গীয় উচ্চারণরীতি আয়ত্ত করে নেয়। অপিনিহিতি অভিশ্রুতির গোলকধাঁধা পেরিয়ে গেলেও শব্দ চয়নে তার কিছু স্বাধিকার মেনে নিতেই হয়। সে খোঁজ করাকে ‘বিচরিয়ে’ টোকামারাকে ‘টোক্কামারা’ বলে। যখন তার পিঠ চুলকোনোর দরকার হয়, সে পরদেশি ছোদ্দিভাইকে বলে– ছোদ্দিভাই, আমার পিঠ্‌টা এটু খাউজিয়ে দেও তো। এ নিয়ে হাসাহাসি হলে, সে আদৌ অপ্রতিভ হয় না। বলে, হাসার কী হয়েছে? আমরা ওরহমই বলি। ভাষার ব্যাপারে তার পিতার কালাপাহাড়ি অসামান্য। তিনি সর্বদাই চান্দ্রদ্বীপী প্রাকৃতের অত্যন্ত বিকৃত উচ্চারণে তার যাবতীয় বার্তালাপ করেন। যেমন আমরা তার বাসায় গেলে তার আপ্যায়নটি ছিল এ-রকম।– আইছ? আয়ো। মোরা তো ভাবলাম আইলা না বোধায়। চিডি অবইশ্য পাইতেছিলাম। তয় কইলকাতার মাইনসেগো তো কতার হোগামুড়া নাই। যদি কয় যামু পশ্চিমে, যায় দক্ষিণে। হে কারণ ভাবলাম, যাউক শত্তুরে পরে পরে। না আইলেই ভালো। খরচ খরচাডা বাচইয়া যাইবে হ্যানে। তয় আইছ যহন ভালোই অইছে। নাইলে বাড়ির জোনে হ্যানে গাইল খামার দেতে।

    কথা বলেন এক নিঃশ্বাসে। পরদেশি কন্যারা বলে, মেসোবাবা তুমি একটু ভালো করে কথা বলো না? আমার বুঝি না কিছু। তারা মেসোকে মেসোবাবা বলে ডাকে। রগুড়ে মানুষ। বলেন, আর মেসোডুক রাহু ক্যান মাগো? ওই ডুক বাদ দিলেই তো অয়। পরদেশি ললনা ঝাম্‌টা মারেন, ইঃ সখ কত। আহ্লাদ। তখন মেসো বাবার কপট বিস্ময়। ক্যান, হেথে দোষ কী? অরা তো বড়মা, ছোডোমা, মণিমা, সোনামা কইয়া তোমাগো বেয়াক্‌রে বোলায়। মোগো বেলায় খালি বাবা, জেডা, কাকা, মাউসা ক্যান? বড়বাবা ছোডোবাবা, সোনাবাবা এইসব ডাকতে পারে না? আর, তুমি আর তোমার ছোড়দি তো মোগো একোই হৌরের মাইয়া। ফারাক্‌ডা কী?

    এইসব হই-হট্টগোলের মধ্যে ভাবী এসে পড়েছিলেন। স্কুলজীবন ছাড়ার পর এই প্রথম দেখা। ভাবী গ্রাম সুবাদে আমার শালাবউ। অসাধারণ সুন্দরী, রগুড়ে আর স্বজনবৎসলা। বয়সের দাগ পড়েনি। একটু স্থূলতা এসেছে শরীরে, তবে তা মানানসই।

    ভাবী এসেই আবহাওয়া পালটে দিয়েছিলেন সেবার। বেশ মনে আছে। মাস্টারনি দিদির উপর আদেশ জারি, ছোড়দি, তোমার আইজ ছুট্টি। খাওন লওন মোর ঘরে। তুমি বইয়া তোমার বুইন-বোনাইর লগে গপ্পো কর। মুই পাহে যামু। নিবারণকাকারে খবর দেও, আইয়া এট্টু গান-বাজনা হাসমশকরা করুক। এহন এ্যারগো এট্টু চা খাওয়ান লাগে। আরে, ওওও সালিমা, ছেমড়ি, গেলি কই? চায়ের জল চড়া, মুই আইতে আছি। ভাবী তড়বড় করে সব নির্দেশ দেয়। এক কোণে বসেছিলাম। ভাবীর চোখ আমার উপর পড়তে একটু জড়সড় হয়ে বললাম, ভাবী কেমন আছ? বহুকাল পর দেখা। বলতে না বলতে ভাবী খল্‌বল, পেরোজন নাই, পেরোজন নাই। কেবা ভাবী, কেবা বইন, কেবা আছে আপন জইন, মুই তো পাইছি মোর কলিজার ধন। কেবা আছ কেবা নাই। হেথে মোর কাফাড়াই, মুই আছি বুকে লইয়া অমূল্য রতন। মোরা এহন কেডা? বাইর বাড়ির বাথ্‌উয়াডা। কও ছোড়দি? আমি বলি, ভাবী, এই তো গেলবারও এসেছি। তা তুমি বাপের বাড়ি না কোথায় যেন গিয়েছিলে, তাই দেখা হয়নি। ভাবীর ধমকে কথা বলার উপায় থাকে না। খরখর করে ওঠে তার শাণিত জিভ, ও সাতজন্মে একবার বাপের বাড়ি গেছি, হ্যার খোডা কত? ক্যান দুইদিন অপেক্ষা করতে পারলা না? মুই কি জন্মের শোধ গেছেলাম না, তোমাগো ভাইজানে মোরে তালাক দেছেলে? বলি, আহা ষাট ষাট, তালাক দেবে কেন? তা হলে তো এ বয়সে আর নিকাও হবে না, বা নুরুভাইয়ের একজন নতুনও জুটবে না। সে ভারী ঝকমারি হবে। তুমি আমাদের লক্ষ্মীবউ, আমরা তোমার কত সুখ্যাত করি। ভাবীর পুনঃধমক, চোপ, নিমকহারাম, বেইমান, মোগো আহ্লাদইয়া বুইনডারে লইয়া হেই যে গেলে, আর কোনো তত্ত্বালাস নি রাহে।

    অভিযোগ মিথ্যে না। কিন্তু উপায়-বা কী। এ বদনাম আমদের পুরুষদের ক্ষেত্রে চিরন্তনী। আর এ তো এ-দেশ ও-দেশের ব্যাপার। ব্যবধান দুস্তর। যাতায়াতের সুযোগ আরও দুস্তর। ভাবীকে সে কথা বুঝিয়ে বলতে ভাবী গলে জল। বলে, বুঝি তো বেয়াক, তমো মনডা পোড়ে। কী যে আছেলে আর কী যে অইলে, হেয়া যহন ভাবি তহন আর কিছু ভালো লাগে না ভাই। তো, ছ্যাক্‌ দেও এ আপ্যাচ্‌লা। খাওন দাওন কইলম আইজ ও ঘরে, একথাডা কইয়া দেলাম। এহানে খালি গপ্পোগুজব। ছোড়দি যদি বেতাল করে, অশান্তি হইবে কইলম। জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী খাওয়াবে ঠিক করলে, ভাবী? ‘খাওয়ামু? খাওয়ামু– থোড় ছেচ্‌কি থোরের বড়া, চাইলতার অম্বল’– ছোড়দি– বউ বউ, তুই থামবি? ভাবী বলে, থামলাম। ভাবীর মুখ বড় পাতলা। চন্দ্রদ্বীপললনা। কোনো ভাষা বা শব্দকে অশ্লীল বোধে ত্যাগ করেন না। সুরসিকা যারা, তারা শ্লীলাশ্লীল বিষয়ে ছুঁৎমার্গী হলে রসবর্ষণে হানি ঘটে। গাছকোমর বেঁধে ভাবী যান রান্নাঘরে। যাওয়ার আগে একবার বলে যান, কই বোলে যে এই নেমকহারাম, একবার য্যান যুইতোবোন্দে (চুপিচুপি) পাকঘরে যাইও। বউ যদি কোদে, মুই সামলামু হ্যানে। কতা আছে ম্যালা। বলে সবেগে প্রস্থান।

    তখন রঙ্গস্থলে প্রবেশ নিবারণকাকার। নিবারণকাকা, কর্মকার সম্প্রদায়ের মানুষ। আমাদের বাল্য-কৈশোরের এক অসম্ভব আকর্ষণ। ছড়াকাটা, হাসিঠাট্টা আর রগুড়ে গান বাঁধতে তাঁর জুড়ি ছিল না সে-সব দিনে। ঘরে ঢুকেই প্রশ্ন, কই, ক্যারা বলে আইছে? কতায় কয়–

    উব্বুত অইয়া জলে ভাসে হেডা বাসিমড়া
    আর দ্যাশ ছাড়ইয়া বিদ্যাশে থাহে য্যারা লক্ষ্মীছাড়া।

    এহন য্যারা একবার এ-দ্যাশ ছাড়ইয়া ও-দ্যাশে যাইয়া উড়াইয়া বইছে, হ্যাগো মোরা বাসিমড়া, লক্ষ্মীছাড়াই কমু। হ্যারা আর এহানে আয় কিয়া? পাকঘর থেকে ভাবী টের পায়। খলবল করে ওঠে, ক্যান? দ্যাশটা ক্যারো বাফের? নিবারণকাকা মুখে ভয়ের ভঙ্গি করে বলে ওঠেন, ও, বোজতে পারি নায়। ওহানে আবার বিশল্যাকরণী আছে। তয় এয়াও কই, ও রাজাবাড়ির বউ, হলুদইয়া গাছের টলুদইয়া পক্ষী, হৌরেগো লগে এট্টু ভইব্য সইব্য অইয়া কতা ক। নাইলে দিমু খ্যাদাইয়া বাড়ির থিহা।

    ভাবী আর নিবারণকাকার সম্পর্কটা বেশ মজার। দুজনেরই মুখ পাতলা। ভাবীর বাপ নেই। নিবারণকাকার মেয়ে নেই। দুজনে তাই দিব্য এক বাপ-মেয়ের সম্পর্ক পাতিয়ে বসেছেন। কাকা ভোজনরসিক। ভাবী রাঁধেন অমৃত। মাঝে মধ্যে পাকঘরে ডেকে ভালোটা মন্দটা খেতে দেয় ভাবী। বুড়া তখন ভারী বাধ্য। নিবারণকাকার হুমকিকে আদৌ গ্রাহ্য করে না ভাবী। পাকঘর থেকে তাই আওয়াজ দেয়, ইঃ খায় কত। খেদাইয়া দেবে। হেলে কইলম অসবিদা অইবে আপনেরই বেশি, হে কতা কইয়া দেলাম হ। নিবারণকাকা বলেন, এঃ ছেমড়ি খ্যাপছে। হে খ্যাপলে আবার মোর ঢালা লোস্‌কান। যাই দেহি– বলে পাকঘরে ঢোকেন। পাশপাশি ঘর রান্নাঘর। আওয়াজ শোনা যায়। নিবারণকাকার গলায় তোয়াজি রেওয়াজ, কই, ভালো মন্দ কিছু অইতে আছে নাহি? আইজ আবার মোর প্যাটটা এট্টু নরম অইছে।

    নরম অইছে তো খাওন বন্দো।

    আহা তুই কও কী? অতিথ অইভ্যাগত আইছে, সাত পাচ পদ রানবি, আর মুই খামু না?

    ক্যান্‌, খেদাইয়া দেবেন বোলে?

    আরে ধুরও ছেমড়ি, ওয়া তো কতার কথা। দে, চা দে।

    আগে ওহানে দিই। ওহানেই লয়েন। একলগে হ্যানে বেয়াকে খামু। ভাবী চা নিয়ে আসেন পেছনে পেছনে নিবারণকাকা কাপ পিরিচ নিয়ে তাকে মদত দেন। বলতে বলতে আসেন, হেয়া তোমরা যাই কও, মাইয়াডা মোর সোনার টুকরা। পড়ছে অবইশ্য এট্টা আভোদার হাতে। আর এডার মাডাও অইছে এট্টা নিমূহা ছান্দি। বোদ ভাইষ্য কিছুনাই। ভাবী ধমক দেয়। চুপ করলেন নাকি। খালি পরনিন্দা। নিবারণ কাকা বিস্ময়ে হতবাক– পরনিন্দা? পর কেডা, অ্যাঁ? তোর মায় মোর পর?

    পর না তো কী?

    ঠিক আছে, এডা আশ্বিন মাস, কার্তিকেও শুভকাজ নাই, অগগেরানে নিহাডা সারইয়া ফ্যালাই, তহন দেহিস কেডা পর আর কেডা আফন।

    কাকিরে কইছেন?

    আরে যুর, বেয়াক কতা, বেয়াকরে নি কওন যায়? আর হে মাতারির ধার ধারে কেডা?

    ধারতে তো অইবেই। এই বয়সে রাধিকা আর চন্দ্রাবলী, এই দুইহান গোছ এক লগে হোগায় লওয়া কি সামাইন্য কতা?

    ধুর ছেমরি, হৌরের লগে অসৌইব্য কতা কয়– যা– পাকঘরে যা।

    এইসব হাসি-মশকরায় সকালটি দিব্য জমে উঠেছিল। এমন সময় মুঈনুদ্দিন চাচা ঘরে ঢোকেন। নিবারণকাকাকে দেখে তাঁর ভ্রূকুঞ্চিত হয়। তাঁকে না শুনিয়ে নিবারণ কাকা ফিসফিস করে বলেন, অইছে কাম, ও বউ ঘোমডা দে। পিরছায়েব আইয়া পড়ছেন। এহন বেয়াক রঙ্গ মশকরার সোগায় শিবডি,অর্থাৎ ছিপি। ক্যারো য্যানো এহন কোনো হান দিয়া শোয়াস বা উল্ডা শোয়াস না বাইর অয়। এহন বেয়াকে, আল্লা আল্লা ঠাহুর ঠাহুর হরো। এহন আর হাস্যকাব্য পরিহাসকাব্য চলবে না। বেয়াকে এহন গম্ভীর অও। গম্ভীর।

    মুঈনুদ্দিন চাচাও ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করেন, ও হারামজাদা মালাউন এহানে চায় কী, ওডা এখান আইছে ক্যান? তয় বোধায়, মোর নামে কিছু আচাইল কুচাইল কয়। ভাবী বলে, চাচা, কাকায় আফনের খুব সুখ্যাত করতে আছেলেন। কইতে আছেলেন, এমন ঈমানদার মানুষ, এ দিগরে আর নাই। হে মরলে, এদিক পুরা কানা। মুঈনুদ্দিন চাচা বলেন, কি, মুই ওর আগে মরমু? ওই কামারইয়ারে চিতায় না উডাইয়া যদি মুই কব্বরে যাই, তো হে কব্বর মোর না-পাক। হালার মালাউন। নিবারণ কাকা কথাটা শুনে ফেলেছেন। বলেন, হুঃ চিতায় উডাইবে মোরে এই মেলেচ্ছ। মোর য্যান্‌ জাত জন্ম নাই। তোর কব্বরে মাডি দিমু আমি। শ্যাহের আগুন মুহে লইয়া যে মরে, হে বলদা। ততক্ষণে ঝগড়া প্রকাশ্য। মুঈনুদ্দিন চাচা বলেন, তোরে আগুন দেতে আইবে কেডা, অ্যাঁ? তোর মুই ছাড়া আছেডা কেডা? ভাবী বলে, লাগ্‌ লাগ, লাগ্‌ ভেলকি লাগ্‌। এ সময় মুঈনুদ্দিন চাচার বিবি, জয়নাব চাচি এসে নিবারণ কাকাকে ইশারায় ডেকে বলেন, দেওরে এট্টু এদিকে আয়েন, কতা আছে। নিবারণ কাকা সসম্ভ্রমে তাঁর অনুগমনকরেন। মঈনুদ্দিন চাচা ফোকলা হেসে বলেন, অইচে, বেয়াক বেক্রম শ্যাষ। য্যামন কুত্তা, হ্যার তেমনি মুগইর। যা, এহন যাইয়া মাগিগো ফাইফরমাইস খাট। হালা মালাউন! সম্পর্কটা এমনই। ভারী সুখবোধ করি।

    দুপুরে খাওয়াদাওয়া বড় রগড় আর জমজমাটে হয়। অসাধারণ সব পদাবলী, আর ভালোবাসা, আর নস্টালজিয়ার মিশ্রণে স্বাদ, গন্ধ, অনুভূতি এবং গোষ্ঠীসুখের সম্ভোগ। সর্বোপরি, ভাবীর খাদ্যোৎসর্গ এককথায় অমের্ত। খাওয়াদাওয়া শেষ হতে জয়নাব চাচি এসেছিলেন এক আর্জি নিয়ে। এসে বললেন, জামাই, তুমি আর মাইয়ায় এট্টু চল দেহি। দুইডা পেরাণের কতা কই। এতক্ষুণ তো এ্যারগো হাউস রসের সোমায় দিলাম। মোরও তো কিছু আছে। চাচির সাথে তাঁর অন্দরমহলে ঢুকি। সেখানে অন্য ব্যবস্থা। চাচি নাকি শিশুবয়সে আমার সহধর্মিনীকে কোলেপিঠে মানুষ করেছিলেন। তাঁর নিজের কোনো সন্তানাদি নেই। নিবারণ কাকার অসুমার সন্তান মানুষ করার দায়িত্ব নিয়েছেন চাচি। বলেন, এ মাইয়া ক্যার? বাপে ট্যাহে করইয়া আন্‌ইয়া রাইত দুফইরে ডাইক্যা কইতে, মঈনু বউরে ক, মাইয়ায় হ্যার লগে ছাড়া ঘুমাইতে চায় না। তো হেই উডইয়া, মাইয়ারে লইয়া ঘুম পাড়াই। এখন দেখি মেয়েও জয়নাব চাচির কাছে সোনাসোনা হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। চাচি বলেন, জামাই, তোমার চাচার আর নিবারণ কাকার কাজইয়া, ধর্তব্য করইও না। ওয়া হ্যারগো নিত্যতিরিশ দিনের ব্যাফার। আবার হ্যারগো, ভাব-ভালোবাসাও আছে ম্যালা। একজনে কইলম, আরেক জোনেরে ছাড়া থাকতে পারে না। এই যে ঝগড়া, কাইল বেন্‌ইয়া কালেই দ্যাখফা হ্যানে, দুইজোনে, দুই হাতনায় বইয়া কাউয়ারে খুদ খাওয়ায়। এ্যার কাউয়া মোছলমান, হ্যার কাউয়া হিন্দু। আবার হেইয়া লইয়াও ঝগড়া। হ্যারপর দ্যাখফানে, এইসব ঝগড়া কাজইয়ার পর দুইজোনে এক লগে বাজারে। মাছের বাজারে যাইয়া দুইজোনা একপাট্টি। তহন ঝগড়া মাছউয়াগো লগে। কী? না, মাছের দাম এ্যাতো ক্যা, অ্যাঁ? এ্যারগো কইলম যত ভাব, তত ঝগড়া।

    জিজ্ঞেস করেছিলাম, চাচি, ঝগড়াটা কীসের? দুজনেই বেশ মানুষ। চাচি বলেছিলেন, ঝগড়ার কারণ আছে। দেওরে খালি কইলকাতা, কইলকাতা হরে। কয় মুই তোগো লগে থাহুম ক্যান? মোর ভাইস্তারা আছে কইলকাতায়। হ্যারা মোরে রাজার ল্যাহান রাখফে। মুই যামু গিয়া। তো তোমার চাচায় কয়, যাবি তো যা। তয় তুই একলা যাবি। পোলা মাইয়াগো যাইতে দিমু না। তো জামাই, মুই কই, মোরে তো আল্লায় ছাচে কড়া দেনায়। দেওরের গুড়াগাড়াগুলা মোরে বোলায় বড় আম্মা। হ্যার তো ছয়ছউগ্যা গুড়াগাড়া। হ্যারগো মানুষ করছে কেডা? মুই না থাকলে তো বেয়াক গুলান মরতে। তোমাগো কাকি তো বিয়াইয়া খালাস। নিত্যভোগা অতসী। তো হ্যারগো মানুষ করছি তো মুই। তোমাগো চাচায় হেয়া বোঝে। মানুষটার বুঝ ভালো। বোঝে দেওরেও– মিত্যা কমু না। কিন্তু ওই যে একজন মরে হিন্দুয়ানি লইয়া, আরেক জোন কোদে শরিয়তি লইয়া। আবার একজোন আরেক জোনেরে ছাড়া থাকতেও পারে না। বয়স তো অইছে। আর হেয়া ছাড়া, একোই গুষ্ঠিরই তো মানুষ, রক্তের টান যাইবে কই? পারবে ক্যামনে?

    একই গোষ্ঠীর মানুষ, রক্তের টান! এ সব কথায় একটু নড়ে চড়ে বসি। সে আবার কী? নিবারণ কাকা আর মুঈনুদ্দিন চাচা কি একই গুষ্টির মানুষ নাকি। ছোটোবেলা থেকে জানি এঁদের, কিন্তু একথা তো কখনও শুনিনি। চাচি বলেন, ও হেয়া বুজি তোমরা জানো না? তোমাগো বাবায় আশন জানতে। এই তো মাত্তর চাইর পুরুষ অগে হ্যারা আছেলে একোই বাড়ির মানুষ। এ্যারা এছলামে শরিক অইলে, তোমাগো নিবারণকাকার পরদাদায় অইলে না। হেই তো বিসম্বাদ। জমি জাগার পরচা দ্যাহ, সব ট্যার পাবা হ্যানে।

    চাচি বলেন, কিন্তু বাজান, মুই কই, দেওরে যদি হিন্দুস্থান যায়েন, তো দুইদিনও বাচপেন না। মুইতো এ্যারগো রগ চিনি। কেউ কেউরে ছাড়া থাকতে পারবে না। এই তো গেছেলে, কাফুরইয়া পট্টির ননী দত্তর বাফে। ছয় মাস কাডে নায়, খবর আইলে– হে মরছে। এহন দেওররে যুদি মুই ছাড়ি, হে বাচপে, কও?

    এ এক অসম্ভব অভিজ্ঞতা। দেশভাগ, দেশত্যাগ, অগণিত মানুষের উঞ্ছজীবন, নানান কথা মনে আসে। শৈশবে যখন দেশ ছাড়িনি, যতদিন ছিলাম, দেখেছি, আমাদের খালের ঘাটে কত নৌকা এসে লাগত। একে দুইয়ে গ্রামের বর্ধিষ্ণু পরিবারগুলো সবাই হিন্দুস্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করত। যাবার সময় চোখের জলে বুক ভিজিয়ে নৌকোয় উঠত সবাই। ঘাটের পাশে একটা বিশাল রেইনট্রি ছিল। সে যেন সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। সেই বৃক্ষের এমন মহিমান্যতা ছিল যে, যারা জন্মের মতো দেশ ছেড়ে চলে যেত, তারা আভূমি নত হয়ে প্রণাম করত তাকে। কেন করত জানি না। হয়তো বলত– আমরা চলে যাচ্ছি, ক্ষমা করো আমাদের। এই বৃক্ষ যেন ওখানকার তাবৎ মনুষ্যকুলের আদিম বীজপুরুষের প্রতিভূ।

    জয়নাব চাচি তার মেয়ের মাথায় হাত বোলান। বলেন, তুমি বাজান দেওররে এট্টু বুজাইয়া যাও। মোরে তো আম্মা ডাকতে কেউ নাই। এতগুলান পোলাপান মানুষ করলাম, মোর কবরে মাডি দেওনের লইগ্যা কেউ থাকপে না। দেওরে যদি যায়েন, হেলেতো যে যা কউক পোলাপান গুলারেও লইয়া যাইবে। তই মুই কী লইয়া থাহুম। হেঁচকি তুলে কাঁদেন চাচি। তাঁর কোলের মধ্যে মাথা রেখে তাঁর মাইয়ায় তখন ‘দেউলা’ করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিদ্বান বনাম বিদুষী – প্রীতম বসু
    Next Article বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    Related Articles

    মিহির সেনগুপ্ত

    বিদুর – মিহির সেনগুপ্ত

    January 20, 2026
    মিহির সেনগুপ্ত

    বিষাদবৃক্ষ – মিহির সেনগুপ্ত

    November 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }