সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – ২১
একুশ
দুপুরে খাওয়া বিশ্রামের পর ছোমেদের সাথে খালপাড়ে একটা পুরোনো রেইনট্রির তলায় বসেছি। খালটা এখানে মাজাবেঁকি। শেষ শরতের এই সময়টায় এ অঞ্চলের নদী খালগুলো বড় কর্মব্যস্ত হয়ে পড়ে যেন। সারা বর্ষা ধরে এই নাবাল বঙ্গের মাঠঘাট, বিশেষ করে উত্তরের বিলগুলোতে যে বিপুল জলরাশি জমা হয়, শরতের শুরুতে তাতে টান ধরে। সেই টান দিনের পর দিন বাড়তে বাড়তে, যখন শীত আসে, তখন এই অঞ্চলগুলোকে জলরিক্ত করে। তারপর ক্রমশ বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্মে এই মাটি তার যাবতীয় রসময়তা হারিয়ে ফেলে। কঠিন খরাদাহে শবরীর তপোক্লিষ্টা ধূলিধূসর রুক্ষ দেহের মতো ফুটিফাটা এই মাটি আকশের দিকে তার হা-মুখ ব্যাদান করে অপেক্ষা করে– কখন আকাশ আবার সাগরসম্ভব দক্ষিণাবর্ত্ম মেঘেদের দ্বারা রসসম্পৃক্ত করে তাকে ঋতুমতী করবে। কারণ তখনই তো আবার সেই আকাঙিক্ষত হলশীর্ষে রমিতা হয়ে সে শস্য শাবকের ভ্রূণ জঠরে নিয়ে গর্ভিণী হবে।
সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি এখন সেই অবশ্যকৃত্য করছে। উত্তরের সমস্ত বিল, নালা, খানাখন্দের জল প্রবল ভাঁটিতে সাগরের দিকে নিয়ে চলেছে সে দক্ষিণে। বর্ষায় এই সব খাল নদীর দেহ থাকে ভারী। তখন গতি ধীর, সমতলে এরকমই হয়। পাহাড়ে আলাদা কৃত্য। সাগর থেকে যা নেওয়া হয়েছিল, কালচক্রের বাৎসরিক খাজনা বাবদ সাগরকেই তা ফিরিয়ে দেওয়া। বিলগুলো যেন এখানকার খাজাঞ্চিখানা। সাগর তার মালিক। প্রকৃতিপুঞ্জের কল্যাণের জন্য সাগর সম্রাট একসময় তা পূর্ণ করে প্রকৃতিপুঞ্জকে আহার যোগান। আবার তাঁর মূলধন ফিরিয়েও নেন। প্রকৃতিপুঞ্জ শুধু উদ্বৃত্ত সম্পদের ভোক্তা হয়। সমতটের এই প্রত্যন্তে সাগর সম্রাটের এই সৃজন-পালন বড় বর্ণাঢ্যতা প্রাচুর্যে প্রকাশ পায়।
ছোমেদ বলে, ভাইডি, এবার খন্দ বালোই অইছে। এই তো লক্ষ্মীপূজা, কালীপূজা এই দুইডা শ্যাষ অইলেই মোগো নবান্ন আইয়া পড়বে। তহন কার্তিকদল আর আগুনি কাডা অইয়া যাইবে হ্যানে, তয় ধানঘরে পাব্বনডা তো আইজকাইল আর কেউ করে না হে রহম, য্যারা করে, হ্যারগো কইলম শাস্তর মতো আগুনি দিয়াই করণ উচিত। কার্তিক দলের বন্নডা কালা তো, হ্যার লইগ্যা ধানঘরে পাব্বনে ওডা মোরা এহানে ব্যবহার করি না। আগুনির বন্ন সোনা। সোনার বন্ন ধান না অইলে, ধানঘরে পাব্বনে হেয়া লাগে ক্যামনে? তয় আইজ কাইলগো, মাইনসেরা তো আর শাস্তর মানে না। এহন তো হারা বচ্ছরই নতুন চাউল, নবান্ন, ধানঘরে আর করবে কহন কও। কত কেসেমের যে ধান বাইরে অইছে, বচ্ছরের বেয়াক সোমায়ই তো দেহি এহানে ওহানে কোলায় ধান। আউশ, আমন এসব আর থাকপে না।
বোরো, আউশ আর আমন এই তিন রকমের ধানই এখানে আগে হতো। এখনও প্রধান ফসল হিসেবে এরাই আছে। তবে চাষের উন্নতি বলতে যা বোঝায়, তা করতে গেলে, যেমন এখন হচ্ছে সর্বত্র, তখন তো আর কার্তিকদল, আগুনি বা অনুরূপ আমনের চল থাকবে না। তখন সব হাই-ইল্ডিং। তাই নবান্ন, ধানঘরে, পৌষপার্বণ এইসব উৎসবের যেটুকু এখনও অবশিষ্ট আছে তা থাকবে না। বছরের সব সময়েই যদি ধান ফলে, তবে ক-বারই বা তাকে ঘরে তোলার জন্য, বা নতুন চাল ব্যবহার করার উপলক্ষে মানুষ এ ধরনের উৎসব করবে? ছোমেদের কথায় তার আভাস পাওয়া যায়।
নবান্ন নিয়ে কথা বলতে ছোমেদের মুখ বিষণ্ণ। বলে, দু-এক ঘর হিন্দু আছে যারা, হ্যারা করে। আগে তো মোগো শ্যাহেগো মইদ্যেও অইতে। এহন ওই দু-এক ঘর, য্যারা মোর ল্যাহান বুড়া ধুরা আছে, হ্যারা করে। তয় জলুস নাই। ছোমেদের মতো ভূমিপুত্ররা এখানে যেন এক দীর্ঘায়ত, দুরারোগ্য নস্টালজিয়ায় ভোগে। এই নস্টালজিয়া অবশ্যই একদার হিন্দু জনেদের বারো মাসের তোরো পার্বণের নস্টালজিয়া, যেখানে ছোমেদরা সেইসব উৎসব পার্বণের সক্রিয় অংশীদার ছিল। ধর্মীয় এবং সামাজিক রক্তচক্ষু, তা কী হিন্দু ছুৎমার্গের, কিংবা শরিয়তি একবগ্গা গোঁয়ার্তুমির, ধার ধারেনি তারা।
ছোমেদের মতো সামাজিক অবস্থানের মানুষেরা হিন্দু বা মুসলমান কোনো সমাজেই তো প্রতিষ্ঠা পায়নি। তবে নিম্নবর্গী বা অপবর্গী সমাজে, যেখানে ছোমেদ নিকিরি এবং ফণী, অষ্ট–এরা জিওলি বা জাইল্যা, সেখানে তাদের একটা পরম্পরা, পেশাগত আত্মীয়তা তো থাকতেই পারে। বর্গভেদে এখানে সাংস্কৃতিক ভিন্নতা কোনোদিনই দেখা যায়নি। বর্ণ বা জাতিগত ভিন্নতায়ও না। তাই ছোমেদের তেরো পার্বণের জন্য স্মৃতিমেদুরতা কিছু অন্যায় বা অসম্ভব নয়। অবশ্য অন্যায় কিনা সে বিচার আবার পুরুত মোল্লাদের।
ছোমেদ ভেসে যায় তার স্মৃতিচারণে। বলে, ভাইডি, তোমার নি মনে আছে, তোমাগো গেরামের বুড়ি পিসিমায় আশন যে কাখড়ার বত্ত করতে? দ্যাহ মোগো কত কী যে আছেলে! চাষবাস গেরস্থালি য্যারা করে, হ্যারগো বেয়াক দিক দ্যাহন লাগে, লাগে কিনা কও? জমি চওয়া থিহা, ধান পান কাডইয়া ঘরে উডান আর মুহে দেওয়া তামাইত যে কত কাণ্ড মোগো করতে অইতে, হেয়ার আর কীইবা আছে। দ্যাহ, খাওনের কতা না। খায় তো গরু ছাগলেও। খায় না? কিন্তু মাইন্সেগো নতুন খাওন এট্টা উচ্ছব। না কি কও?
সত্যি আমাদের সেই বুড়ি পিসিমা এই কৃষি বিষয়ে যে কত উৎসব পার্বণ করতেন, তার কোনো সীমা সংখ্যা ছিল না। কাঁকড়ার ব্রত, ধানঘরে, বারবাঘের পুজো বা কুমির বলি, নবান্ন, পৌষ পার্বণে তার শেষ। মাঘে বড়দের কোনো উৎসব নেই। তখন ছোটোদের উৎসব। মাঘমণ্ডল, তিলকুচারী, পুণ্যিপুকুর এইসব নিয়ে তখন ব্যস্ততা। এর মধ্যে পুরুষদের কোনো ভূমিকা নেই।
ছোমেদ বলে, মাঘে যহন বেয়াক ফসল ঘরে, তহন হাইল্যা চাষা, গেরস্ত, রাখাল, বাগাল মাহিন্দরেরা হ্যারগো মাইয়া মাইনসের দিগে মনোযোগ দেওনের এট্টু সোমায় পায়। আর এ সোমায় মনোযোগ না দিয়াও কি উপায় আছে। চত্তিরের শ্যষে, বৈশাখের পেরথম, যহন কোলায় কোনো কাম নাই, তহন একবার মাগিগো খোজ পড়ে। হেই সোমায় য্যারা প্যাডে আয়, হ্যারা এই মাগে খালাস অয়। এয়া নিয়ম। এ রহমই মোগো চলে। এহন, এই মাগ মাসেইনা হ্যারগো আতুরঘর বানাইতে অয়। আর মাইয়ারা নানান কেসেমের বত্ত করে। ওই চত্তির মাসের ফসল এহন মাগ মাসে আতুর ঘরে ওঙ্গা ওঙ্গা করে। এয়া নিয়ম।
ছোমেদ পুরোনো দিনের ঝাঁপি খুলে দিয়েছে যেন। এই মাটিতে নাড়ি পোঁতা আছে আমার। ছোমেদ যা বলছে– সেইসব ছেনে ঘেঁটেই তো মানুষ। আজ না হয় নাগরিক এ্যামিবার এক অখণ্ড শরীরের অজানা কোষবিশেষে পরিণত পেয়েছি। একদা তো একটা নির্দিষ্ট সত্তায় অস্তিত্ববান ছিলাম। সেই সত্তারই কঙ্কাল বহন করছে ছোমেদের এই স্থবির শরীর। ছোমেদের সাথে তাই শারীর মানস এক অভিন্নতা বোধ হয়। যে কথা-কাহিনী এখন ছোমেদ শোনায়, তা তো আমারও ইতিহাস। ছোমেদের মুখে, আমাদের ‘সকায় নিরুক্তিয়া’র মাধ্যমে পুরোনো দিনের সেই সব কথা শুনতে, আমার এখন প্রতি অণুপরমাণু উন্মুক্ত হয়ে অপেক্ষমান। ছোমেদের মতো করে তো স্বকীয় নিরুক্তির বিন্যাস বা প্রকাশ করতে পারব না। তাই তাকেই পুনর্বার আসর ছাড়ি। এ তো ছোমেদদেরই আসর, অনন্ত আসর এক।
ছোমেদ বলে, ছোডোগো বত্তের কতা যদি হোনতে চাও, পেরথমেই কইতে অয় মাগুণ্ডলের বত্তের কতা। ভাইডি, তোমার মনডা টাডায় না, হেসব দিনের কতা ভাবইয়া? ওই যে যহন মোরা বেয়াক গুড়াগাড়ারা, আন্দারইয়া সোমায় যাইয়া বসন্ত ডাক্তারের বাড়ির উডানে ভিড় করতাম। মোগো যাওনের কত আগেই তো, হেই ছেমরিরা চিক্কৈর পাড়তে–
যে জল ছোয় না লো
কাগে আর বগে
হেই জল ছুইলাম মোরা
দুব্বার আগে।
আহা, হেয়া কী সুন্দার করইয়া গাইথে হেরা। কী সুন্দার গান –।
ধুপো ধুপো সরেস্বতী
লড়ে আর চড়ে
সাতও সতীনের পায়ও পড়ে।
সাতও সতীন নালো
সাতও গাছোন ঝুটা
তাহা দিয়া গড়ব মোরা
গৌরীর মাথার কুটা।
হ্যার পরেই মোরা পৌছাইয়া গেছি। আর হ্যারা, সেই মাইয়াগুলান, আরও জোর দিয়া, তহন গাইথে আরাম্ব করতে–
আন গৌরীরে ডাক দিয়া
বাওনের ঘরের কোণ ছুইয়া
বাওনের মাইয়ায় বড় সেয়ান
পৈতা জোগায় বেয়ান বেয়ান।
তহন মোরাও তো হ্যারগো লগে গাইতাম, মনে নাই? এই যে মুই শ্যাহের পো ছোমেদ আলি, তুমি ভাইডি কও, মোরে হ্যারা কইতে না যে, এই মোগো লগে গা? অ্যাঁ? তো, দ্যাহ, তহন, গৌরী য্যান আইয়া পড়ছে, এরহম এট্টা বুজ অইতে হ্যারগো। তহন মোরা গাইতাম–
সুইয্য ওডে কোন কোন দিক দিয়া
সুইয্য ওডে পুব দিক দিয়া,
কিন্তু হত্য হত্য কও, তমোও কি সুইয্য হালায় ওঠতে? ওডবে ক্যামনে? মোরা যে ব্যান্ইয়া রাত্তির থিহা হ্যারে উডানের লইগ্যা চেচাইতে আছি, হেয়া হে মাইন্যতা করলে তো। হ্যার য্যান ওডার সোমায়ই অইতে না। তহন মাইয়াগুলান আবার গীত ধরতে–
ওঠো সুইয্য উদয় দিয়া
মালীর ঘরের কোণ ছুইয়া
মালীর মাইয়ায় বড় সেয়ান
ফুল দুব্বা যোগায় বেয়ান বেয়ান।
তহন দ্যাহা যাইতে পুবদিকে এট্টু এট্টু ফসসা অইতে আছে। কিন্তু ভাইডি মোর য্যান মনে অইতে, ওই মাইয়ারা ওই রহম করইয়া না ডাকলে সুইয্য ওঠতেই না। হ্যারপর, অরা য্যামন য্যামন সুইয্যেরে মালির ঘর, বাওনের ঘর, কামার, কুমার, তেলি নাপিত, ভুইমালিগো ঘরের কোণ ছুইয়া ওঠতে কইতে, সুইয্য হালায়ও য্যান, হেইরহম হেইরহম ওঠতে। আবার হে যহন এরহম এট্টু এট্টু করইয়া ওঠলে, তহন মাইয়াগো গানের লগে লগে মোরা হ্যার সাতরহম বন্ন দ্যাখতাম–
সুইয্য ওডে কোন কোন বন্ন
সুইয্য ওডে রক্ত বন্ন
সুইয্য ওডে কোন কোন বন্ন
সুইয্য ওডে ধবল বন্ন–
এই রহম সাত বন্নে, সাত বার করইয়া যহন তিনি ওডলেন, তহন তেনার পূজার লইগ্যা, ফুল তোলতে যাওয়ার গীত গাইতে মাইয়ারা–
নাগেশ্বর দোয়েশ্বর ফুলে
দিলাম বারি
ফুল পইরাছে সারি সারি
ডাল পইরাছে নুইয়া–
কোথায় যাও মালির ছাওয়াল
ফুলের সাজি লইয়া–।
ডাল ভেইঙ্গো না ডাল ভেইঙ্গো না।
ডালে চইরে যাব
সোনার ডালি হাতে কইরে
ফুল তুলিতে যাব।–
হ্যারপর, ভাইডি, তোমার মনে আছে, হ্যারা কী করতে? মনে থাকপে ক্যামনে, হে কি আইজগার কতা? কোতায়-বা হেই ডাক্তারবাড়ি, কোতায়-বা হেই মাইয়ারা আর কোতায়-বা আমরা। তো হেয়ার পর, মাইয়ারা কাডালের কুসির নৌকা ভাসাইতে উডানে কাডা গত্তের পানিতে। হেই গত্ত অইলেন গঙ্গা। আর গাইতে–
আমকাডালের পিড়িখানি গঙ্গাজলে ভাসে
আমার ভাইধনেরা হেই পিড়িতে বসে।
ভাইধনেগো এক এক করইয়া নাম কইতে, আর এহেকখান কুসি ভাসাইতে। মোগো বেয়াকের নাম না কইলে, মোরা যে কী গোসা করতাম! হারা মাগ মাস ধরইয়া অইতে এই মাগুণ্ডলের বত্ত।
পঞ্চাশের শেষ, এমনকী ষাটের দশকের গোড়ায়ও এই মাঘমণ্ডলের ব্রত পালন করত কুমারী মেয়েরা। মাঘের প্রথম দিন থেকে শেষদিন তক, একমাসকাল, তারা এই ব্রত উদযাপন করত। কোথাও এর নাম মাগুণ্ডল অর্থাৎ মাঘমণ্ডল, কোথাও সূর্যি ব্রত, কোথাও লাল ঠাকুরের ব্রত, কোথাও বা সিঁড়িপূজা– এইসব নামে এই ব্রতটির পরিচিতি পুব বাংলায়। সারা বাংলাদেশেই এক সময় এর ব্যাপ্তি ছিল। গোবর মাটি প্রলেপে পরিচ্ছন্ন উঠোনে, পিটুলি গোলা দিয়ে আঁকা হতো একটি মাঘমণ্ডল চিত্র, মাঘের পয়লা তারিখে। চিত্রে থাকত সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ নিয়ে একটি মণ্ডল– এই-ই মাঘমণ্ডল। তিরিশ দিনে তিরিশটি আঁকা হতো। কোথাও পৃথিবী তিনকোণা, তাকে ঘিরে মাঘনিশীথের আকাশ, পুষ্করিণীটি গঙ্গার প্রতীক। এর সাথে থাকত বারুল নামে গৌরা গৌরীর পুতুল, দস্যাল পাতা, নানান ফুল, দূর্বা আর দ্রব্যের থোকা।
ছোমেদের স্মৃতিচারণায় চিত্রময় হয়ে ওঠে সেইসব দিনের নানান পালপরবের খুঁটিনাটি। মনটা যেন কেমন বিষণ্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীকে একই সাথে সুন্দর, আকর্ষণীয় আবার উদাসীন মনে হয়। এইসব পাবার আকাঙক্ষা এবং হারানোর হতাশা একই সাথে হর্ষ ও বিষাদের জন্ম দেয়।
খালের মধ্য দিয়ে ভেসে যাচ্ছে সুপুরি গাছের ডিঙি চড়ে বিল অঞ্চলের মানুষেরা তরতর করে। সাগর সম্রাটের খাজনা দিতে চলেছে খাল। সে গিয়ে পড়বে নদীতে, নদী তাকে সাগর মহারাজের কাছে নিয়ে যাবে। এই প্রবাহে মানুষ এখানে ভাসায় তার জীবনতরীও। এইসব অপবর্গীর জীবনতরী আবার সুপুরি কাঠের পাতলা ডিঙি, তার গতি আয়ুষ্কালের হিসেবে বড় দ্রুত। এখানের মানুষেরা ষোলোয় যুবা, চল্লিশে বৃদ্ধ, পঞ্চাশে অথর্ব। এই শেষ শারদী খালের স্রোতের মতোই যেন এরই মধ্যে তার তাবৎ ক্রিয়াকর্ম।
