Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. দুপুরগুলোই সরলার কাছে মনে হয় সবচেয়ে দীর্ঘ

    সারা দিনের মধ্যে দুপুরগুলোই সরলার কাছে মনে হয় সবচেয়ে দীর্ঘ, সময় আর কাটতেই চায়। এত বড় বাড়ি একেবারে শুনশান। পড়াশুনো করতেই বা কতক্ষণ ভাল লাগে? যখন সময়ের টানাটানি থাকে কিংবা কিছু বিঘ্ন ঘটে, তখন পড়াশুনোয় মন বসে বেশি। আর সময় যখন অফুরন্তু, তখন মনে হয় পরে পড়লেই তো হয়।

    দুপুরে ঘুমোত পারে না সরলা, দোতলায় তার নিজস্ব ঘরে মাদুর পেতে গুচ্ছের বই খুলে বসে। ওপর মহলে কোনও পুরুষ মানুষ নেই, জানকীনাথ গেছেন মফস্বলে, দাদা বিলেতে, জামাইবাবু কিছুদিন দিদির সঙ্গে এখানে ছিলেন, এখন তিনিও বদলি হয়ে গেছেন রাজশাহিতে। এই গরমে বাড়িতে কোনও অন্তর্বাস পরে না মেয়েরা, সরলার অঙ্গে শুধু একটা আটপৌরে শাড়ি জড়ানো, চুল খোলা, দু চোখে গাঢ়ভাবে কাজল টানা। স্নান করার পর প্রত্যেক দিন সুমা কাজল লাগানো তার শখ। সংস্কৃত বই পড়তে পড়তে এক সময় সে কোনও ইংরিজি কাব্যের বই টেনে আনে, খাতা খুলে দু-এক লাইন বাংলা কবিতা লেখে, হঠাৎ উঠে চলে যায় পাশের ঘরে। ঘরের তো অভাব নেই, সাত-আটখানা ঘর ফাঁকা পড়ে আছে। যে ঘরে দিদি-জামাইবাবু থাকতেন, সেই ঘরের পালঙ্কের ওপর শুয়ে ছটফট করে সরলা। দিদি তার বন্ধু, মন কেমন করে দিদির জন্য। বিবিও তার বন্ধু, কিন্তু বিবি এখন আর এ বাড়িতে বিশেষ আসে না।

    এ ঘরে দেয়াল জোড়া একটা আয়না। দিদির খুব আয়নার শখ, দিদি এই বেলজিয়াম গ্লাসের দমি আয়নাটা লাগিয়েছিল, কী পরিষ্কার সব কিছু দেখা যায়। ঠিক যেন পালঙ্কের ওপর শুয়ে থাকা আর একটি সরলাকে এই সরলা দেখছে।

    সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সরলা ভাবে, সত্যি সত্যি কেমন দেখতে আমাকে? বিকেলে যে ছেলেগুলো আসে, তারা সুন্দরী সুন্দরী বলে বলে সরলার কান ঝালাপালা করে দেয়। কেউ বলে অপ্সরী, কেউ বলে সরস্বতী, কেউ বলে রাজকন্যার মতন। সরলা ফিক করে হেসে ফেলে। রাজকনাই বটে, বন্দিনী রাজকন্যা। সরলা দু হাত ছড়িয়ে মুখে করুণ ভাব এনে রাজকন্যা সাজে, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, প্রাণেশ্বর? কে তুমি অদৃশ্য প্রাণেশ্বর, উদ্ধারিলে মোরে?

    বলতে বলতেই আবার তার হাসি পায়। এখনও পর্যন্ত কেউ তো তার প্রাণেশ্বর ময়! যেসব দিন কোনও আনুষ্ঠানিক চায়ের আসর থাকে না, সেইসব বিকেলেও কয়েকজন যুবক আসে। জানকীনাথের ভাষায়, তারা সব সরলার সিউটার। সত্যিই তারা আসে সরলার সাহচর্য পাবার জন্য, তার মনোরঞ্জনের জন্য তারা উপহার আনে কতরকম, ফুল ছাড়া সরলা অন্য কিছুই গ্রহণ করে না। তাদের মিষ্টি মিষ্টি স্তুতিবাক্যও বিশ্বাস করে না, সে জানে, ওরা তাকে অত সুন্দরী সুন্দরী বলে, বিবিকে দেখলেও গদগদভাবে ওই একই কথা বলবে। সরলা নিজে তো জানে, বিবি তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর।

    কেউ কেউ যখন একটু নিভৃতি পেয়ে সরলার কাছে উচ্ছ্বাস দেখাতে আসে, তখনও সরলা হেসে ফেললে তারা হকচকিয়ে যায়। সরলাও বোঝে যে এমনভাবে হেসে ফেলা উচিত নয়। কিন্তু সে যে হাসি সামলাতে পারে না।

    একদিন ওদের একজন এমন নিরালা দুপুরে উঠে এসেছিল দোতলায়। বিশেষ পরিচিতদের মধ্যে কারুর যে ওপরে আসার নিষেধ আছে তা নয়, তবু দুপুরবেলা মেয়েরা যখন অন্দরমহলে কিছুটা অসংবৃত অবস্থায় থাকে, তখন কোনওভাবে জানান দিয়ে আসাটাই প্রথা। কিন্তু যোগিনী চাটুজ্যে যে হয় অতি সরল অথবা পাগল!

    বড় মামা দ্বিজেন্দ্রনাথের বড় মেয়ে সরোজার বিবাহ হয়েছে মোহিনী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি সম্মানিত ব্যক্তি, সূরোজার খুড়তুতো, মাসতুতো মিলিয়ে আঠেরো কুড়িজন ভাই বোনের সকলেরই তিনি জামাইবাবু। এই মোহিনী জামাইবাবুর চারটি ভাই আছে, তাদের সর্বত্র অবাধ গতি। এদের মধ্যে সজনী আর যোগিনী দুজনেরই পছন্দ সরলাকে, দুজনেরই কেমন যেন পাগলাটে স্বভাব। সরলাকে তুষ্ট করার জন্য সজনী যখন-তখন বেসুরো গলায় গান গেয়ে ওঠে, সবাই হেসে গড়াগড়ি দিলেও সে থামতে চায় না। যোগিনী আবার উল্টো রকমের, সে প্রায় কথাই বলতে চায় না, চুপ করে মুগ্ধ নয়নে সরলার দিকে চেয়ে বসে থাকে। অন্য কেউ কথা বলতে গেলেও সে উত্তর দেয় না। তাই নিয়ে বারবার হাসি-ঠাট্টা করলে সে হঠাৎ অতি উৎসাহী হয়ে বলে ওঠে, তাস খেলবে? তাস খেলবে? এক প্যাকেট তাস নিয়ে সে সশব্দে ফ্যাটাতে থাকে, তাস খেলায় সে খুবই তুখোড়, এই খেলা দিয়ে সে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে চায়।

    যোগিনী চাটুজ্যেকে অকস্মাৎ দোতলার ঘরে দেখে খুবই অবাক হয়ে গিয়েছিল সরলা। সেদিনও সে দিদির ঘরের এই পালঙ্কেই শুয়ে ছিল। যোগিনী চাটুজ্যে বেশ সুপুরুষ, সচরাচর সে সাহেবি পোশাক পরে, কিন্তু ধুতি ও আচকানে তাকে আরও ভাল মানায়, সেদিন তার দেশি বেশ, হাতে একটি মখমলের কৌটো, মুখখানা বিহু ধরনের।

    সরলা প্রথমে ভেবেছিল, ওই মখমলের কৌটোর মধ্যে বুঝি তাস আছে, যোগিনী তাস খেলতে এসেছে। কিন্তু দরজার কাছে যোগিনী কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল চুপ করে। তার কৌটোটি খুলে বার করল একটি আতরের শিশি। দ্রুত এগিয়ে এসে সেই শিশিটা সরলার এক হাতের মুঠোয় দিয়ে বলল, সরলা, সরলা, যে কথা আমি এতদিনেও তোমায় বলতে পারিনি, আজ তা বলতে এসেছি, এই যে আতরটুকু, গাজিয়াবাদ থেকে আনিয়েছি, বড় সাধ হল তোমাকে দিই, এ যেন আমারই বুকের নির্যাস, তুমি অঙ্গে মাখরে…

    মিতবাক যোগিনী চাটুজ্যের যেন সব সঙ্কোচের বাঁধ ভেঙে গেছে, অনর্গল কথা বেরিয়ে আসছে।

    একজন রূপবান প্রেমিক উপহার এনেছে আতরের শিশি, সরলা উদ্ভিযৌবনা কুমারী, নিলা দুপুর, তৃতীয় কোনও ব্যক্তি এসে পড়ার সম্ভাবনা নেই। প্রেমের এমন উপযুক্ত পরিবেশ, তবু সরলা হঠাৎ উত্থিত একটা ফোয়ারার মতন হেসে লুটোপুটি খেতে খেতে বলতে লাগল, ওকী, ওকী, তুমি অমন শুদ্ধ ভাষায় কথা বলছ কেন?

    সেই হাসিতে চুপসে গিয়ে পিছু হটতে লাগল যোগিনী। আবার দরজার কাছে গিয়ে এমন বিস্ফারিত নয়নে তাকিয়ে রইল, যেন সে গ্রহান্তরের কোনও প্রাণীকে দেখছে। সরলার হাসি আর থামেই না।

    সেদিনের পর যোগিনী আবার দিন সাতেক গুম মেরে গিয়েছিল, যদিও এ বাড়িতে আসা বন্ধ করেনি। সেদিন যোগিনী মনে খুব আঘাত পেয়েছিল, সরলা বুঝতে পারে, কিন্তু সরলার যে ওই ধরনের কথা শুনলেই ন্যাকামি মনে হয়। আজও সে কথা মনে পড়ায় তার হাসি পেয়ে যাচ্ছে।

    ওদের আর এক বন্ধু অবিনাশ চক্রবর্তীও নিয়মিত আসে। এর মাথায় বাবরি চুল, কাঁধে সব সময় থাকে মিল্পের চাদর, ঢুলু ঢুলু চক্ষুটি দেখলেই মনে হয় কবি কবি। অবিনাশ নিজে অবশ্য কবি নয়, তার বাবা ছিলেন নামজ়াদা কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী। অবিনাশ যখন ছোট ছিল, তখন তার বাবা তাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখেছিলেন, তার মধ্যে একাধিকবার সম্বোধন ছিল, ‘বাছনি আমার। এখন অবিনাশকে অনেকেই আড়ালে ‘বাছনি আমার’ বলে ডাকে। সরলার দাদা যখন এখানে ছিল, তখন এক একদিন ওপরে এসে দুষ্টুমি করে বলত, ও সল্লি, সক্সি, নীচে যা, ‘বাছনি আমার বাবু তোর জন এসে বসে আছেন।

    অবিনাশের সঙ্গে যোগিনীর প্রতিযোগিতা হয়, কে কত দেরিতে উঠতে পারে। রাত্রি আটটা, নটা বেজে যায়, তবু ওবা বাড়ি যেতেই চায় না। সরলা হাই তোলে, অস্থিরতা দেখায়, সেসব বোঝার পাত্র ও নয়। যোগিনী যদি যাবার জন্য উঠে দাঁড়ায়, অবিনাশ বলে, তুমি এগোও, আমি আর একটু বসি। অমনি যোগিনীও বসে পড়ে। আবার যোগিনী যদি বলে, আজ খুব মেঘ কবেছে, শীঘ্র বাড়ি ফিলতে হবে, অবিনাশ তখন বলে, তা হলে আর দেরি কোরো না। যোগিনী বলে, তুমি আমার সঙ্গে চলো, তোমাকে পৌঁছে দিয়ে যাব! অবিনাশ বলে, আমার জন্য এক ঘণ্টা পরে গাড়ি আসবে।

    পৈত্রিক সম্পত্তি পাবার মতন অবিনাশ নিজেকে কবিত্বশক্তিরও অধিকারী মনে করে এবং লেখারও চেষ্টা কবে। সে কথাও বলে কবিতার ভাষায়। একদিন সরলা আপন মনে নিবিষ্ট হয়ে পিয়ানোতে বিথোফোনের মুনলাইট সোনাটা বাজাচ্ছে, সেদিন আর কেউ তখনও আসেনি, অবিনাশ আগে আগে উপস্থিত হয়ে কিছুক্ষণ নিঃশব্দে সেই বাজনা শুনল। তারপর হঠাৎ ছুটে এসে সরলার একখানি হাত চেপে ধরে বলল, মরি মবি! কী সুন্দর, কী অপুর্ব! এ যেন স্বর্গের সুধাস্রোত নেমে এল মতে, এ সুরের লহরী গুঞ্জরিত হচ্ছে কাননে কাননে, পুষ্পে পুষ্পে সরলা, থেমো না, আরও বাজাণ্ড, আরও বাজাও…

    সরলা বলল, হ্যাঁ বাত্তাব, কিন্তু আমার হাতখানা না ছাড়লে বাজাই কী করে?

    হাতখানা ছেড়ে দিল বটে, কিন্তু সরলার বাজনার সঙ্গে চলতে লাগল তার অবিরাম কথার স্রোত, অহো, অহো, কী মধুক্ষরা সুর, তুমি মানবী নও, তুমি দেবী, তোমার ওই চম্পক বর্ণ অঙ্গুলি, ডালিম নিন্দিত গাল, বেদানার কোয়ার মতো ওষ্ঠ, বসে আছ অরার রূপ ধরি সরলা সুন্দরী…

    মুনলাইট সোনাটা ভুলে গিয়ে সরলা মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে হাসতে লাগল।

    এই সময় এসে উপস্থিত সজনী। ওদের এই অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখে সে স্থির থাকতে পারল না, নিজের ভাইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সে মেনে নিয়েছে, কিন্তু অবিনাশকে সে সরলার কাছ ঘেঁষতে দেবে না। সে প্রায় ছুটে এসে বলল, ও সরলা, তুমি বাজাচ্ছ, আমি একটা গান গাই? আমার গানের সঙ্গে তুমি বাজাও!

    সজনীর গানের সম্ভাবনাতে সবাই শঙ্কিত হয়ে ওঠে। অবিনাশ বলল, ভ্রাতঃ সজনী, তুমি বাগানে গিয়ে গান কর না কেন? সরলা আমাকে বড় অপূর্ব সুর শোনাচ্ছিলেন।

    সজনী বলল, দ্যাখো অবিনাশ, প্রথমত আমি তোমার ভাই-টাই হই না। দ্বিতীয়ত, তুমি বললেই বা আমি বাগানে যাব কেন হে? আমি এখানেই গাইব। আমার ইচ্ছে!

    অবিনাশ বলল, তোমার ইচ্ছে হলে তুমি গাইতেই পার। অবশাই পার! তবে কি জান, সরলা তো ক্লাসিকাল সুর বাজাচ্ছিলেন, তার সঙ্গে তোমার গান যে মিলবে না ভাই।

    সজনী বলল, কেন মিলবে না? ক্লাসিকাল মানে ওস্তাদি তো, আমি ওস্তাদি গানও জানি!

    অবিনাশ বলল, ওই ক্লাসিকাল আর এই ক্লাসিকাল এক নয়! দা ইস্ট ইজ ইস্ট অ্যান্ড দা ওয়েস্ট ইজ ওয়েস্ট, দা টোয়েন শ্যাল নেভার মিট! এ মিলতে পারে না।

    সজনী বলল, আলবাত মিলবে!

    অবিনাশ বলল, আমি ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকাল শিস দিয়ে শোনাচ্ছি, তুমি মেলাও তো দেখি ভাই।

    অবিনাশ শিস দিতে শুরু করল আর হাঁ করে রইল সজনী।

    সরলা মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসি থামিয়ে বলল, আপনারা বরং এক কাজ করুন না। দুজনেই আগে বাগানে গিয়ে দুই ক্লাসিকালে মেলামেলি হয় কিনা আগে দেখুন। তারপর না হয় এখানে–

    দুজনেই তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে বলল, সেই ভাল, সেই ভাল! দুজনে কাঁধ ধরাধরি করে চলে গেল বাগানে।

    সরলা এক এক সময় ভাবে, সজনী, যোগিনী কিংবা অবিনাশের অন্য অনেক গুণ আছে, তিনজনই মোটামুটি সুপুরুষ, কৃতবিদ্য, ভাল বংশে জন্ম। কিন্তু এখানে এসে সব সময় প্রেম প্রেম ভাব করে কেন? পুরুষরা কি ভাবে, শুধু প্রেমের কথা বলে মেয়েদের মন জয় করা যায়? মেয়েরা যে পুরুষ মানুষদের পৌরুষ ও ব্যক্তিত্বের প্রতিই বেশি আকৃষ্ট হয়। এরা এ দেশের মানুষের কথা, পরাধীন দেশের গ্লানি, ইংরেজ শাসনের ঔদ্ধত্য, এসব বিষয়ে কখনও কোনও কথা বলে না। আলোচনায় এসব প্রসঙ্গ উঠলেও চুপ করে থাকে, যেন ওদের নিজস্ব কোনও মতামতই নেই!

    এদের চেয়ে অনেক চৌকস ছিল আর একজন। তার কয়েকটা কথা সরলার মনে দাগ কেটে আছে।

    জামাইবাবু ফণিভূষণ মুখোপাধ্যায় রাজশাহি কলেজে অধ্যাপনা করেন, একবার সরলা তার মায়ের সঙ্গে গিয়েছিল দিদি-জামাইবাবুর কাছে। সেই প্রথম সরলার পূর্ববঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিল, কী ভাল কেটেছিল কয়েকটা দিন। কী সুন্দর, পরিষ্কার, ছিমছাম শহর রাজশাহি। এই রাজশাহিই তো এককালের পৌণ্ড্রবর্ধন বা বরেন্দ্রভূমি ছিল। কতরকম আদিবাসী আছে সেখানে।

    স্যার তারকনাথ পালিতের ছেলে লোকেন পালিত বিলেত থেকে আই সি এস হয়ে এসে রাজশাহিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যাজিস্ট্রেট। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ঝকঝকে চেহারার তরুণ, দেশ-বিদেশের সাহিত্য সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান। সরলা রবিমামার কাছে এই লোকেন পালিতের অনেক গল্প শুনেছে। রাজশাহিতে এসে ভাল করে পরিচয় হল। কোর্টে কয়েক ঘণ্টার জন্য সে সরকারি কাজ করে এসে সারা দিনের অধিকাংশ সময়ই এ বাড়িতে কাটায়। তার সঙ্গে কথা বলতে বসলে গল্পের আর শেষ হয় না।

    সরলা একদিন জিজ্ঞেস করেছিল, আপনি তো ম্যাজিষ্ট্রেট। শুনেছি, ম্যাজিস্ট্রেটদের ইংরেজ সমাজের সঙ্গে মিশতে হয়। তাদের পার্টিতে গিয়ে খানা খেতে হয়, নাচতে হয়। আপনি তো যান না দেখি? ইংরেজদের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব হয়নি?

    লোকেন বলেছিল, ইংরেজদের সঙ্গে আমাদের সমান সমান বন্ধুত্ব হওয়া কি কিছুতে সম্ভব? পার্টিতে বাধ্য হয়ে যাই মাঝে মাঝে। যেতে ভাল লাগে না। ইংলন্ডে যখন ছাত্র ছিলাম, বেশ কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল, তারা খাঁটি ইংরেজ, স্কুটুসমান, ঘণ্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতাম, গান গাওয়া হত। একদিন তারা সবাই মিলে একটা গান গাইল :

    Rule Britannia! Britannia rules the waves!
    Britons never shall be slaves

    সেদিন বুকের মধ্যে ধক করে উঠেছিল। সেদিনই মনে হয়েছিল, ওরা রাজার জাত, আমরা শ্লেভস, ওদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব হওয়া অসম্ভব।

    ফণিভূষণ ছাত্রদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, স্বর্ণকুমারী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে থাকেন না, আজ্ঞা হয় হিরন্ময়ী আর সরলার সঙ্গে লোকেনের। কত রকম খেলা, কত জায়গায় তিনজনে বেড়াতে যাওয়া।

    একদিন লোকেন ওদের দুই বোনকে জিজ্ঞেস করল, আচ্ছা, প্রেম আর বন্ধুত্বের মধ্যে কী তফাত বলতে পার?

    হিরন্ময়ীর কর্ণমূল রাঙা হয়ে গেল। প্রেম যেন বইয়ের পৃষ্ঠার একটা জিনিস। সে বলল, যাঃ, তা আবার মুখে বলা যায় নাকি?

    সরলা বলল, কেন বলা যাবে না?

    হিরন্ময়ী বলল, তুই বাপু পারিস তো বল, আমি ওসব মুখে উচ্চারণ করতে পারব না।

    সরলা বলল, বন্ধুত্ব আর প্রেম প্রায় কাছাকাছি। তফাত হচ্ছে, প্রেমের দুটি ডানা থাকে, বন্ধুত্বের তা থাকে না। ‘ফ্রেন্ডশীপ ইজ লাভ উইদাউট ইটস উইংস’!

    লোকেন বলল, বাঃ, চমৎকার বলেছ তো?

    হিরন্ময়ী জিজ্ঞেস করল, তোমার হাতে ওটা কী? বইয়ের মতন?

    লোকেন বলল, এটাকে বলে স্পেকট্রোস্কোপ। এর মধ্যে একশো খানা বিলিতি ছাপা ছবি আছে। পরপর দুখানা একই ছবি। একটার ওপর আর একটা রাখলে অমনি সেই ছবিখানা একেবারে জ্বলজ্বলে হয়ে ওঠে। আচ্ছা এক কাজ করা যাক, হিরন্ময়ী তো বলছে, প্রেম আর ভালবাসার তফাতের কথা মুখে বলতে পারবে না। লিখে বোঝাতে পারবে? চটপট তোমরা দুজনেই দশ বারো লাইন লিখে ফেল, যারটা ভাল হবে, তাকে আমি এই দুর্লভ জিনিসটা উপহার দেব।

    দুই বোন দুদিকে মুখ ফিরিয়ে লিখতে বসে গেল। সরলা তখন সবে এস্ট্রান্স পাস করেছে, তার তাড়াতাড়ি লেখা হয়ে গেলেও সে দিদিকে সময় দিল। দুজনের কাগজ একসঙ্গে গম্ভীর মুখে পড়ে গেল লোকেন। তারপর বলল, আমি মাজিস্ট্রেট হিসেবে রায় দিচ্ছি, সরলারটিই বেশি ভাল হয়েছে। পুরস্কারটি তারই প্রাপ্য। এই নাও।

    সরলা বলল, তুমি যে দিচ্ছ, সেটা লিখে দাও!

    লোকেন বলল, দ্যাখো, ভেতরে লেখা আছে।

    সরলা পাতা উল্টে দেখল, টু সরলা, ফ্রম আ ডিয়ার ফ্রেন্ড!

    সে তাকাল দিদির দিকে। হিরন্ময়ী বলল, কী লেখা রয়েছে, দেখি, দেখি!

    তার পরই রেগে গিয়ে বলল, একী, একী, ভারী অন্যায়, আমি খেলব না। তুমি আগে থেকেই সরলার নাম লিখে রেখেছ, ওকেই দেবে ঠিক করেছিলে–

    লোকেন হাসতে হাসতে বলল, আমি যে জানতাম।

    সরলা বলল, তবু এটা অন্যায়। এটা দিদিকেই দাও।

    হিরন্ময়ী অবশ্য বোনের ওপর রাগ করেনি। ছোট বোনকে সে প্রাণের অধিক ভালবাসে। এখনও ছেলেপুলে হয়নি হিরন্ময়ীর, স্বভাবটা ছেলেমানুষের মতন রয়ে গেছে।

    এক একদিন বিকেলে তিনজনে বেড়াতে যায়। শহর ছাড়িয়ে চলে যায় দূরে। গাড়িতে নয়, হটিতেই ভাল লাগে। এখানে এখনও প্রচুর বনজঙ্গল আছে। জঙ্গলের ধার ঘেঁষে হাঁটতে হাঁটতে এক এক সময় হিরন্ময়ী পিছিয়ে পড়ে। সরলা আর লোকেন গল্পে একেবারে মশগুল, হিরন্ময়ীর দিকে নজরই নেই।

    হিরন্ময়ী এক সময় থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে বলল, আমি আর যাব না, তোমরা যাও, আমি বাড়ি ফিরছি…

    লোকেন বলল, কেন, এর মধ্যে ক্লান্ত হয়ে গেলে?

    হিরন্ময়ী বলল, না, ভাই, ক্লান্ত আমি হইনি। তোমরা দুটিতে গল্প করছ, তোমরাই বেড়াও, আমার থাকার দরকার কী?

    লোকেন বলল, আপনার থাকার অবশ্যই দরকার আছে বইকী! আমরা তিনজনে এক সঙ্গে আছি, এখন আমরা বন্ধু। শুধু দুজনে বেড়ালে যদি সেটা প্রেম বলে মনে হয়?

    হিরন্ময়ী বলল, মনে হয় তো হলই বা! কী রে সলি, তোর ডানা দুটো বার করবি নাকি?

    সরলা এসে হিরন্ময়ীর হাত ধরে বলল, না, দিদি, তুমি যেতে পারবে না, আমরা এক সঙ্গে গান

    লোকেন বলল, না, না, গান গেয়ো না। বেশি আওয়াজ শুনলে এই জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়ে আসতে পারে!

    সরলা বলল, বাঘ না ছাই? চিড়িয়াখানার বাইরে আবার বাঘ আছে নাকি?

    লোকেন বলল, বিশ্বাস করছ না, সত্যি এখান থেকে মাঝে মাঝে বাঘ বোরোয়।

    সরলা বলল, আসুক তো বাঘ! সত্যিকারের বাঘ দেখলে আমার হাসি পেয়ে যাবে।

    লোকেন বলল, ইস, ‘ভারী সাহস তো তোমার। বাঘ দেখলে শুকিয়ে যাবে সব হাসি।

    বাঘ বেরুল না, কিন্তু একটু পরেই পেছন থেকে সরলা, সরলা বলে একটা ডাক শোনা গেল। ওরা পেছন ফিরে দেখল, প্যান্ট-কোট পরা এক ব্যক্তি ছুটতে ছুটতে আসছে।

    হিরন্ময়ী বলল, ওমা, এ যে যোগিনী!

    লোকেন বলল, দেখতে পাচ্ছি জলজ্যান্ত এক পুরুষ মানুষ, তুমি বলছ যোগিনী।

    হিরন্ময়ী বলল, ওর নাম যোগিনী, তা আমি কী করব? মোহিনী জামাইবাবুর ভাই—

    সরলা হাসতে শুরু করে দিয়েছে।

    যোগিনী কাছে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, তোমাদের ঠিক পেয়ে গেছি। কলকাতায় মন ভাল লাগছিল না, আজই এসে পৌঁছেছি কিছুক্ষণ আগে..ফণীদাদা বললেন, তোমরা এই দিকে বেড়াতে এসেছ…কেমন আছ, সরলা?

    যোগনী চাটুজ্যে পৌঁছবার পর কেমন যেন সুর কেটে গিয়েছিল, আর জমেনি। লোকেনও এ বাড়িতে আসা কমিয়ে দিয়েছিল। লোকেন সরলার ডানা দুটি দেখতে পেল না, বন্ধু হয়েই রইল।

    নির্জন দুপুরে যখন কোনও কিছুই ভাল লাগে না, তখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে সরলার। দুখানা জুড়ি গাড়ি আছে বাড়িতে, ইচ্ছে করলেই সে বেরুতে পারে, কিন্তু মায়ের অনুমতি নেবার প্রয়োজন। স্বর্ণকুমারীর মহল তিনতলায়। তিনিও দুপুরে ঘুমোন না, নিজস্ব লেখালেখি পত্রিকা সম্পাদনার কাজ করেন। সংসার পরিচালনায় বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই তাঁর, দাস-দাসীরা কেউ ওপরে ওঠে না। অপরাহুে পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ির লোকদের সঙ্গে কথা বলার নির্ধারিত সময়, তখন তিনি নীচে নেমে আসেন।

    সরলা মায়ের মহলে এসে দেখল, স্বর্ণকুমারী মস্ত বড় টেবিলে অনেক কাগজপত্র ছড়িয়ে, খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু লিখছেন। সরলা দুবার ডাকল, মা মা।

    স্বর্ণকুমারী মুখ তুললেন না।

    সরলা বলল, মা, আমি একবার জোড়াসাঁকো যাব? একটা গাড়ি নিতে পারি?

    স্বর্ণকুমারী এবারে লেখা বন্ধ করে মেয়ের মুখের দিকে ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন।

    সরলা বলল, মা, বাড়িতে ভাল লাগছে না। একবার ও বাড়িতে যেতে চাই।

    স্বর্ণকুমারী বললেন, সরলা, তুমি দেখলে আমি লিখছি। এ সময় কি এরকম একটা সাধারণ কথা আমাকে না বললে চলত না? বিকেলবেলা বলতে পারতে!

    সরলা বলল, আমার যে এখন যেতে ইচ্ছে করছে?

    স্বর্ণকুমারী বললেন, ইচ্ছে করলে যাবে। তার জন্য কি আমার লেখা নষ্ট করাটা ঠিক?

    সেমিজ, সায়া পরে নিয়ে, শাড়ি বদল করে বেরিয়ে পড়ল সরলা। তার বুকখানি অভিমানে ভরা। মাকে সে কোনওদিনই নিজের করে পেল না। জানল না, কাকে বলে মাতৃস্নেহ। সরলা দেখেছে, জ্যোতিমামা কিংবা রবিমামা লিখতে বসেন, তখন বিবি কিংবা সে কাছে গিয়ে ডাকলে ওরা একটুও বিরক্ত হন না। লেখা থামিয়ে গল্প জুড়ে দেন। ওদের চেয়েও কি মায়ের সাহিত্যসাধনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

    সরলা হঠাৎ ঠিক করল, সে ও বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। প্রতিটি দিন একঘেয়ে হয়ে আসছে। মায়ের কাছ থেকে সে দূরে সরে যেতে চায়। দেখা যাক, মা তার অভাব কোনওদিন বোধ করেন কিনা। ইচ্ছে করলেই সে জোড়াসাঁকোর বাড়িতে থাকতে পারে, কিংবা বিরক্তিতলায় বিবিদের সছে। কিন্তু সে-ই বা কতদিন। আরও দূরে যেতে হবে। সে চাকরি নিয়ে বিদেশে চলে যাবে। ছেলেরা বিদেশে যায়, সে কেন পারবে না?

    সরলার মন নেচে উঠল। হ্যাঁ, সে বিদেশেই চলে যাবে। মা বাবার মত পাওয়া যাবে কি? না পাওয়া গেলেও সে জোর করে…হ্যাঁ, জোর করেই কিছু কিছু প্রথা ভাঙতে হয়। তবে, একজনের মত নিতেই হবে, এই বংশের যিনি পেট্রিয়ার্ক, গোষ্ঠীপতি, তাঁর মতামত অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা সরলার এখনও নেই।

    সৌভাগ্যবশত আজই চুচড়া থেকে হঠাৎ কোনও প্রয়োজনে এসেছেন দেবেন্দ্রনাথ। সরলা গিয়ে তাঁকে প্রণাম করে নিজের অভিপ্রায় জানাল।

    দেবেন্দ্রনাথ কিছুটা বিস্মিত হলেও ক্রুদ্ধ হলেন না। ধীর স্বরে বললেন, সময় প্রবাহে কত রকম পরিবর্তনই তো দেখছি। এর প্রতিরোধ করতে যাওয়া বিড়ম্বনা মাত্র। তোমার যদি এরকম অভিপ্রায় হয়ে থাকে, আমার আশীর্বাদ পাবে। কোথায় যাবে?

    সরলা বলল, এখনও কিছু ঠিক হয়নি।

    দেবেন্দ্রনাথ বললেন, ঠিক হলে আমাকে জানিও। যাবার আগে দেখা করে যেয়ো। সরলা, তুমি নাকি বিবাহ করতে চাও না? বিবাহের বয়েস পার হতে চলল যে।

    সরলা বলল, সবাই শুধু আমাকেই এই কথা বলে কেন? বিবিরও তো এখনও বিয়ে হয়নি।

    দেবেন্দ্রনাথ বললেন, সে তো মেমসাহেব! তাঁদের কি বিবাহের বয়েস থাকে। বিবি আমার কাছে তোমার মতন দেখা করতেও আসে না। শোনো সরলা, কুমারী থাকা ঠিক নয়। তুমি যদি কোনও পুরুষকে বিবাহ করতে না চাও, তবে আমি একখানা তলোয়ারের সঙ্গে তোমার বিয়ে দেব।

    সরলা বাড়ি ফিরল যেন একটা পাখির মতন উড়তে উড়তে। হঠাৎ সব কিছু কী রকম বদলে গেল! দেবেন্দ্রনাথের সম্মতি যে এত সহজে পাওয়া যাবে সে কল্পনাই করেনি। এর পর অন্য কারুর আপত্তি টিকবে না। তলোয়ারের সঙ্গে বিয়ে? সে তো দারুণ ব্যাপার! আগেকার কালে নাকি অরক্ষণীয়া কন্যাদের কোনও ঘাটের মড়ার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হত, কিংবা কোনও গাছের সঙ্গে। তার চেয়ে উত্তর ভারতের এই রীতি অনেক ভাল। তলোয়ারের সঙ্গে বিয়ে হবে, সারা জীবন তার বিছানার পাশে সেই তলোয়ার থাকবে। আর কোনও পুরুষ হাত বাড়াতে সাহস করবে না।

    ফিরে এসেই সরল সোজা চলে এল বাবার নিজস্ব কাজের ঘরে। এ ঘরের দেওয়ালে একটি ঢাল ও দুটি তলোয়াব ঝোলানো আছে। একটি তলোয়ার সে নামিয়ে নিল, কোষমুক্ত করে তলোয়ার ডান হাতটা উঁচু করতেই শরীরে যেন সে একটা তরঙ্গ অনুভব করল। ফিসফিস করে বলল, কে বলে অবলা তুমি নারী?

    দুটো দিন কেটে গেল ঘোরের মধ্যে। কারুকে কিছু জানাল না সরলা, শুধু মনে মনে কল্পনা করতে লাগল, দূর বিদেশে কোনও গৃহে সে একলা, সারা দিন কাজকর্ম করবে, বিকেল সন্ধেগুলো ন্যাকা পুরুষদের সঙ্গে কাটাতে হবে না। সে গানবাজনা নিয়ে থাকবে। শয্যায় থাকবে এই তুলোয়ার।

    তৃতীয় দিনে সরলার মনটা আবার নরম হল। এ বাড়ি ছেড়ে যাবার জন্য সে বদ্ধপরিকর, কিন্তু সারা জীবন তলোয়ারের মতন একটি বোব পদার্থের সঙ্গে কাটাতে হবে? যদি কখনও পুরুষকে মনে হয় পুরুষশ্রেষ্ঠ, যদি সে রকম কেউ তার সঙ্গ চায়, তাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হবে সে? জীবন শুধু শুষ্কই থাকবে? তা হলে কি গান, কবিতাও একদিন শুকিয়ে যাবে না হৃদয় থেকে? এ যেন রে অভিশপ্ত প্রেতের পিপাসা— সলিল রয়েছে পড়ে, শুধু দেহ নাই–

    না, না, অবিবাহের শপথ নিতে পারবে না সরলা। ভবিতব্যের দ্বার উন্মুক্ত থাক। একদিন সেই দ্বারে এসে যদি দাঁড়ায় তার হৃদয়বল্লভ, তাকে সে ফেরাবে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article পিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }