Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৭২. প্রথম পঙক্তিটি আসে আকাশ থেকে

    দাঁড়াও আমার আঁখির আগে–

    প্রথম পঙক্তিটি আসে আকাশ থেকে সহসা অশনিপাতের মতন। কোনও পূর্বপ্রস্তুতি থাকে না, মনের গহন কোণেও যেন এই চিন্তার অস্তিত্ব ছিল না। পর পর ঠিক এই চারটি শব্দ আগে কেউ সাজায়নি, যদিও কোনও শব্দই নতুন নয়।

    বজরার জানলা দিয়ে প্রায় কিছুই দেখা যায় না। অন্ধকার তেমন গাঢ় নয়, চৈত্র মাসের রাত্রির আকাশ প্রায় পরিষ্কার, তবে এখনও চাঁদ ওঠেনি, কয়েকটি তারা ফুটেছে, অমাবস্যা গেছে ক’দিন আগে। এই তরল আঁধারে কিছুই স্পষ্ট দেখা যায় না, কিন্তু বোঝা যায় পৃথিবীর অস্তিত্ব। শোনা যায় জলের ছলছল শব্দ।

    অন্যমনস্কভাবে জানলার বাইরে তাকিয়ে বসে আছেন রবীন্দ্রনাথ। কদিন ধরেই রাত্তিরবেলা খাওয়াদাওয়ার পর তিনি কুঠিবাড়ি ছেড়ে চলে আসেন বজরায়, এখানে একা থাকেন। অন্যদের তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ার নির্দেশ দিলেও রাত্রি-জাগরণ তাঁর অভ্যেস। একা বসে থাকেন চুপ করে, হঠাৎ কেন যেন মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়।

    মানুষের মন কী? নিজের মন কি নিজের বশীভূত নয়? তা কি লাগামছাড়া হয়ে যেমন খুশি রূপ নিতে পারে? রবীন্দ্রনাথ নিজের মনকে সব সময় দমন করতে চান। স্বপ্নের কথা আলাদা, জাগ্রত সময়ে মন আর চেতনা এক পথে চালিত হবে। বিশেষত যে মন খারাপের কারণ বোঝা যায় না, তাকে প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক নয়। অল্প বয়সের সেই ভাবালুতা, সেই যখন তখন মন খারাপের উপভোগ, সে সব দিন কবে শেষ হয়ে গেছে। এখন কত দায়িত্ব, কত ব্যস্ততা, এর মধ্যে মন খারাপ যেন অবাঞ্ছিত বিলাসিতা।

    হ্যাঁ, দুশ্চিন্তার অনেক কারণ থাকতে পারে, আছে, কিন্তু দুশ্চিন্তা আর মন খারাপ তো এক নয়। শোকতাপের সঙ্গেও এ রকম মন খারাপের কোনও সম্পর্ক নেই। দুশ্চিন্তা বা শোকের কারণগুলি অতি প্রত্যক্ষ।

    মন খারাপের সঙ্গে শরীর খারাপের সম্পর্ক আছে? হা, কিছুদিন ধরেই শরীর বেশ খারাপ। প্রায় প্রতিদিনই জ্বর হচ্ছে। একটা গুরুতর রোগের আশঙ্কা জমছে আস্তে আস্তে। একজন স্পেশালিস্ট দেখানো দরকার, কিন্তু তার সময় কোথায়! জ্বরের জন্য শরীর দুর্বল লাগে, তা কারুকে জানানো হয়নি। পুরুষ মানুষের অসুখের কথা মা এবং স্ত্রীর কাছে লুকোনো যায় না। দু জনের কেউই নেই।

    না, ঠিক শরীর খারাপের জন্যও নয়। এর চেয়ে আরও বেশি শরীর খারাপ তুচ্ছ করে রবীন্দ্রনাথ অনেক কাজের মধ্যে ব্যাপৃত থেকেছেন, অথচ এবারে শিলাইদহে আসার পর থেকেই মনটা কেমন যেন অসাড় হয়ে আছে। বিশেষত সন্ধের পর আর কিছুই ভাল লাগে না। মনে হয়, এই যে এত কমোদ্যোগ, এত দায়িত্ব, এ সবই যেন তুচ্ছ। কী হবে এত কিছুর মধ্যে জড়িয়ে থেকে? যদিও কেউ তাঁর ওপর জোর করে এই সব দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়নি, সবই তাঁর স্বকৃত, এসব তাঁর ভাল লাগে। ভাল লাগে, তবু এক একসময় মনে হয় সব ছেড়ে ছুঁড়ে দিতে, এই বৈপরীত্বের জন্য দায়ি ওই মন খারাপ!

    মাত্র গতকালই যেন এর কারণটা তাঁর কাছে কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে। অল্প বয়েসে কোনও বিশেষ নারীর প্রতি আকুলতায় মন খারাপ হত। প্রেম নামে একটা বায়বীয় ধারণায় মত্ত হয়ে থাকা যেত সারাক্ষণ। এখন সে সব কোথায়! ইদানীং তাঁর জীবন নারী বর্জিত। এমনকী কৌতুক-হাস্য পরিহাস করার মতনও কেউ নেই। সেই জন্যই কি দিনের পর দিন কেটে যাচ্ছে, একটাও কবিতা লেখা হচ্ছে না। একটা নতুন গানের লাইন গুনগুন করে না মাথার মধ্যে। কবিতা আর গান জীবন থেকে বাদ হয়ে গেলে তিনি যেন আর আসল মানুষ থাকেন না। একটা নকল মানুষের মতন কাজ করে যান।

    গতকাল খাতা-কলম নিয়ে লিখতে বসেছিলেন। আশ্চর্য ব্যাপার, কলম হাতে ধরা রইল। মাথা জুড়ে রইল রাজ্যের চিন্তা। যে-মানুষের কলম হাতে এলেই অনর্গল লেখা হয়ে যায়, একই দিনে পাঁচ ছ’টি কবিতা-গানও লিখে ফেলেছেন অনেকবার, সেই মানুষটি একটি লাইনও লিখতে পারলেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেল, এক সময় বাতি নিবিয়ে শুয়ে পড়লেন, তারপর অনেকক্ষণ ঘুম এল না।

    আজ আর লেখার সরঞ্জাম নিয়েই বসেননি। মন প্রস্তুত না হলে মিছে এই বিড়ম্বনা। আর কোনওদিনও কি কবিতা লিখতে পারবেন? যদি বাগদেবী বিমুখ হন, তার পরেও কি বেঁচে থাকতে হবে? এক একজন মানুষের জীবনের এক এক রকম আনন্দ ও পূর্ণতা বোধ থাকে। এক দিকে জমিদারি পরিচালনা, আর এক দিকে ব্রহ্মচর্য বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও আচার্য হয়ে থাকাই কি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের পূর্ণতা! যখনই একা হয়ে থাকেন, তখনই কি তাঁর মনে হয় না, কবিতা রচনাতেই তার প্রধানতম আনন্দ? ‘ভাল যদি বাসো সখি, কী দিব গো আর–কবির হৃদয় এই দিব উপহার’, এ গান কে রচনা করেছিল?

    জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি কিছু দেখতে পাচ্ছেন না, কিন্তু এই ধরণী যেন তাঁর দিকেই চেয়ে রয়েছে।

    এক সময় এসে গেল সেই পঙক্তি : ‘দাঁড়াও আমার আঁখির আগে’!

    মন খারাপের যেমন কারণ থাকে না, স্বপ্নের যেমন যুক্তি নেই, তেমনি শিল্প সৃষ্টিরও উৎস বোঝ যায় না। কেউ কোথাও নেই, তবু মনে এল, দাঁড়াও আমার আঁখির আগে। এখানে প্রতিটি শব্দ অমোঘ। ‘আঁখির আগে’র বদলে নয়ন সমুখে হতে পারে না।

    এর পরের পঙক্তিটি কী? ভাবতে হল না, সঙ্গে সঙ্গেই এসে গেল, ‘তোমার দৃষ্টি হৃদয়ে লাগে’। এর আগে কি একটা যেন দিলে ভাল হত? না, দরকার নেই। ‘দৃষ্টি’ শব্দটা আছে বলেই তার পরে ‘হৃদয়ে দিতে হয়েছে। এখানে ‘হৃদয়ে’র বদলে ‘মরমে’ চলে না।

    রবীন্দ্রনাথ আকাশের দিকে তাকালেন। এর মধ্যে চাঁদ উঠেছে, অন্ধকারকে অনেকখানি ধবল করে ফেলেছে জ্যোৎস্না।

    তৃতীয় পঙক্তিটি চিন্তা করার আগেই একটা নিছক বাস্তব চিন্তা তাঁকে আঘাত করল। আজ একটি ছাত্রের জ্বর এসেছে, তার আবার বসন্ত রোগ দেখা দিল না তো! রবীন্দ্রনাথ নিজের জ্বরের চেয়েও ছাত্রদের জন্য বেশি উদ্বিগ্ন।

    শান্তিনিকেতন থেকে বিদ্যালয়টি তুলে আনা হয়েছে শিলাইদহে। এখানেও নানা রকম আশঙ্কার অবধি নেই।

    মৃণালিনীর মৃত্যু নিয়ে বিশেষ শোক করার অবকাশই পাননি রবীন্দ্রনাথ। তখন রেণুকাকে বাঁচিয়ে রাখাই ছিল প্রধান কাজ। মৃতদের থেকে জীবিতের দাবি বেশি। বরাবরই শীর্ণ আর দুর্বল রেণুকা, কিন্তু মনটি সূক্ষ্ম, অনুভূতিপ্রবণ, তার দিকে তাকালেই মায়ায় বুক টনটন করে ওঠে। যতই অর্থসংকট থাক, তবু রেণুকার চিকিৎসার জন্য কার্পণ্য করেননি রবীন্দ্রনাথ। চিকিৎসকরা হাওয়া বদলের পরামর্শ দিয়েছিলেন, তাই সদলবলে রবীন্দ্রনাথ চলে গিয়েছিলেন আলমোড়ায়। জামাতাটি অপদার্থ, তাকে দিয়ে তো কোনও সাহায্যই হয় না, বরং তার জন্যও অর্থ ব্যয় করতে হয়। পাহাড়ে গিয়েও রেণুকার জ্বর কমেনি, কাশি কমেনি। এক সময় সে নিজেই ফিরে যেতে চাইল।

    এমনই ব্যাধি, যার কোনও ওষুধ নেই। শরীরটা একটু একটু করে ক্ষয় হয়ে যায়। গায়ে বোদ লাগলে উপকার হতে পারে শুনে রবীন্দ্রনাথ বাড়ির ছাদে মেয়ের জন্য একটা কাঁচের ঘর বানিয়ে দিলেন। সেখানে তিনি মেয়ের পাশে বসে থাকতে চান, রেণুকাই তাতে আপত্তি করে, সে বারবার তাড়া দিয়ে বলে, বাবা, তোমার কত কাজ, তুমি যাও, তুমি আমার জন্য সময় নষ্ট কোরো না।

    রেণুকা টের পেয়ে গিয়েছিল, তার সময় আর বাকি নেই। একদিন সে বাবার হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বলেছিল, বাবা, ওঁ পিতা নোহসি বলো। আমার কানে কানে শোনাও।

    সেই দিনই সে চলে গেল। শেষের দিকে তোবোঝাই গিয়েছিল যে তাকে আর ধরে রাখা যাবে, বরং সে কষ্ট পাচ্ছে দেখে কারুর কারুর মনে হয়েছিল, তার চলে যাওয়াই ভাল। ক্ষয় রোগ ছোঁয়াচে, অন্য ছেলে মেয়েদের রক্ষা করার জন্য পরিশুদ্ধ করা হল সারা বাড়ি।

    সন্তান বিয়োগের ব্যথা কারুকে বোঝানো যায় না। অনেকেই অবাক হয়েছিল, রেণুকার মৃত্যু তার পিতা এমন শান্তভাবে মেনে নিলেন কী করে? এ যেন বিধাতার অভিপ্রায় জেনে তার জন্য শোক করতে নেই। বরং এর পরেই সতীশের মৃত্যুতে রবীন্দ্রনাথ বেশি উতলা হয়ে পড়লেন।

     সতীশচন্দ্র রায়ের মতন এমন প্রাণবন্ত যুবা, সর্বক্ষণ কত রসে মাতোয়ারা, রবীন্দ্রনাথের এত বড় ভক্ত কমই আছে। শুধু রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য পাবার জন্য সে স্বল্প বেতনে শিক্ষক হয়ে যোগ দেয় শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয়ে। শিক্ষক হিসেবেও সে একটি অমূল্য রত্ন, ছাত্রদের সঙ্গে তার বন্ধুর মতন সম্পর্ক, ক্লাসের বাইরেও সে ছাত্রদের কত বই পড়ে শোনায়। রবীন্দ্রনাথ ঠিক এই রকম শিক্ষকই চান। সতীশ রবীন্দ্রনাথের প্রতিটি রচনা নিয়ে উৎসাহে লাফালাফি করে, নিজেও সে ভাল কবিতা লেখে, সেই সতীশ কোথা থেকে বসন্ত রোগ বাধিয়ে এল। রবীন্দ্রনাথ তখন কলকাতায়। সতীশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অজিতকুমার চক্রবর্তী সতীশের সেবা করার জন্য শান্তিনিকেতনে যাবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল। রবীন্দ্রনাথ ঠিক করলেন অজিতকে তিনিই সঙ্গে নিয়ে যাবেন। যাবার আগে দু একটা কাজ সেরে নিতে হবে।

    দেরি হয়ে গেল, তাতেই খুব দেরি হয়ে গেল। বসন্ত রোগের প্রকোপ যে কী সাংঘাতিক হতে পারে রবীন্দ্রনাথ বুঝতে পারেননি। শেষ দেখাও হল না, ওঁরা পৌঁছবার আগেই সতীশ শেষ বারের মতন অজিত অজিত বলে আর্ত চিৎকার করে ঢলে পড়ল। রেণুকা চলে গিয়েছিল ভাদ্র মাসে, সতীশ গেল মাঘ মাসে।

    অজিত বন্ধুর ওই আকুল আহ্বানের কথা শুনে মূৰ্ছিত হয়ে পড়েছিল, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের শোক করার সময় নেই। তাঁর বুক ফেটে যাচ্ছে, তবু এরই মধ্যে এখান থেকে সব কটি ছাত্রকে সরাবার ব্যবস্থা করতে লাগলেন। পরের বাড়ির ছেলে সব, বাপ-মা ভরসা করে পাঠিয়েছে, একবার যেখানে বসন্ত রোগ ঢোকে সেখানে সংক্রমণের পুরোপুরি সম্ভাবনা থাকে।

    স্কুল বন্ধ করে দেওয়া যায় না। তাই ছাত্র ও শিক্ষকদের আনা হয়েছে শিলাইদহে। বীরভূমের রুক্ষ মাটির বদলে পদ্মা পারের এই বৃক্ষময় দেশে এসে ছাত্ররা খুব ফুর্তিতে আছে। এত বড় নদীও তারা দেখেনি। রবীন্দ্রনাথ কিছুদিন ধরেই ভাবছিলেন, আশ্রম-বিদ্যালয়টিকে শান্তিনিকেতন থেকে পাকাঁপাকিভাবেই সরিয়ে নেওয়া যায় কি না। শান্তিনিকেতনের জমি তাঁর নিজস্ব নয়, দেবেন্দ্রনাথের সম্পত্তি। তাঁর অন্য ভাই ও ভ্রাতুস্পুত্ররা কেউ কেউ সেই সম্পত্তির দাবিদার মনে করে, সেই হেতু বিদ্যালয়টির ওপর অযাচিত খবরদারি করারও যেন তাদের অধিকার আছে। দু-একটা অপ্রীতিকর ব্যাপার এর মধ্যে ঘটে গেছে।

    এর মধ্যে শিলাইদহের কাছাকাছি গ্রামেও বসন্ত রোগ শুরু হয়ে গেছে। যে-কোনও সময় এই রোগ মহামারীর রূপ ধারণ করতে পারে।

    জ্বরাক্রান্ত ছেলেটির কথা চিন্তা করতে করতে রবীন্দ্রনাথ আবার মন ফেরালেন। এতদিন পর আবার মাথায় কবিতা আসছিল, এখন অন্য চিন্তা থাক না। ছেলেটির শুধু জ্বর হয়েছে। আর কিছু না। বাচ্চাদের তো জ্বরজারি হয়ই মাঝে মাঝে।

    আকাশের দিকে একটুক্ষণ তাকিয়ে থাকতেই এসে গেল পরের কয়েকটি পঙক্তি :

    সমুখ-আকাশে চরাচরলোকে
    এই অপরূপ আকুল আলোকে
    দাঁড়াও হে…

    ‘আকুল আলোকে’ কি ঠিক হল? অপরূপ-এর পর আবার দুটি অ দিয়ে শব্দ। কয়েকবার পঙক্তি দুটি উচ্চারণ করলেন রবীন্দ্রনাথ। ঠিকই শোনাচ্ছে, আকুল শব্দটি এখানে দরকার। কুল কিনারাহীন এই আলোর ব্যপ্তি।

    এটা কবিতা, না গান? মনের মধ্যে একটু একটু বেহাগের সুর এসে যাচ্ছে। যেন গান হওয়াই এর দাবি। দাঁড়াও, আমার আঁখির আগে…না, কমা দেবার দরকার নেই। সে এসে দাঁড়িয়েছে, আমি তাকে দেখতে পাচ্ছি!

    আবার বাধা পড়ল, কে যেন ডাকল, গুরুদেব, ঘুমিয়ে পড়েছেন নাকি?

    সেরেস্তার কর্মচারীরা সবাই জানে, রাত্রে জমিদারমশাই লেখালিখি করেন, সে জন্য কেউ কোনও কাজের কথা নিয়েও বিরক্ত করতে আসে না। কিন্তু শান্তিনিকেতন থেকে যে শিক্ষকরা এসেছেন, তাঁরা জানেন না।

    কোনও দুঃসংবাদ এসেছে ভেবে রবীন্দ্রনাথ তড়িঘড়ি বাইরে চলে এলেন।

    ভূপেন্দ্রনাথ সান্যাল নামে শিক্ষকটি বললেন, গুরুদেব একটা খবর দিতে এলাম—

    ব্রহ্মচর্য বিদ্যালয় স্থাপনের সময় ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথকে বলেছিলেন, আপনি এই আশ্রমের গুরুদেব। সবাই আপনাকে গুরুদেব বলেই সম্বোধন করবে। কিন্তু তখন তা বিশেষ চলেনি। সতীশ এসে গুরুদেব বলা শুরু করেছিল। ছাত্রদেরও সে বলত, তোমরা ওঁকে কী বলে ডাকবে? রবীন্দ্রবাবু তোমাদের মুখে মানায় না, তোমাদের রবীন্দ্রদাদাও হতে পারেন না। আর রবীন্দ্ৰকাকা কিংবা রবীন্দ্রজ্যাঠাও বিদঘুঁটে শোনাবে। তোমরা সবাই বলবে গুরুদেব! এখন সেই ডাকটিই চালু হয়ে গেছে। তাই শুনে বন্ধু প্রিয়নাথ সেন রবীন্দ্রনাথকে ঠাট্টা করে বলেছিলেন, সে কী, ছিলে কবি, হয়ে গেলে গুরুদেব? কবিকে কি গুরুর ভূমিকায় মানায়? এর পরে প্রণয় কাব্য লিখবে কী করে? মেয়র

    রবীন্দ্রনাথ ব্যস্ত হয়ে বললেন, কী হয়েছে? কী হয়েছে? ছেলেদের কারুর–

    ভূপেন্দ্র বললেন, আজ্ঞে না। ছেলেরা সব ঠিকই আছে। তবে মোহিতবাবু নদীর ঘাটে পা ধুতে গিয়ে আছাড় খেয়ে পড়েছেন। খুব কাতরাচ্ছেন। বোধহয় পা ভেঙেছে।

    রবীন্দ্রনাথ শুধু স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন না, হাসলেন পর্যন্ত। এই নিয়ে তিনজন হল। ছাত্রদের নিয়ে উদ্বেগ থাকার কথা, তার বদলে শিক্ষকরাই নানান কাণ্ড ঘটাচ্ছেন। নদী-নালার দেশে ঘোরাফেরার অভ্যেস নেই, এর আগে আরও দু জন শিক্ষকের পা মচকেছে। পদমর্যাদার প্রতি শিক্ষকদের এই অবহেলা মোটেই স্বাভাবিক নয়।

    মোহিতবাবুর পা ভেঙেছে না মচকেছে তা দেখার জন্য এই রাত্রে রবীন্দ্রনাথের ছুটে যাবার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। আপাতত তিনি নিজেই নিজের পদদেবা করুন। এই কথাটা বুঝিয়ে দেবার পরও ভূপেন্দ্র নড়লেন না। তাঁর বোধহয় ব্যাঙ ও ঝিঁঝির ডাকে ঘুম আসছে না। তিনি একটু গল্পগুজব করতে চান। শুরু করলেন, এ কথা সে কথা।

    রবীন্দ্রনাথ কিছুতেই কারুকে চলে যেতে বলতে পারেন না। কারুকেই বলতে পারেন না, এখন আমি ব্যস্ত আছি, আপনি পরে আসবেন। এমনই তাঁর সৌজন্যবোধ যে অতি তুচ্ছ, অকিঞ্চিকর কথাবার্তা শোনার সময়েও সামান্য বিরক্তির রেখা ফুটে ওঠে না তাঁর মুখে। এখন তার মনের মধ্যে যে একটি অসমাপ্ত কবিতা পাখির মতন ছটফট করছে, সে কথা কী করে এই ব্যক্তিকে বোঝাবেন!

    ভূপেন্দ্র বাজারদর থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যন্ত নানা কথা বলে যেতে লাগলেন, রবীন্দ্রনাথ, তাই তো, সে তো বটেই বলে দায় সারছেন। এক সময় ভূপেন্দ্র বললেন, আচ্ছা গুরুদেব, ইংরেজরা যে এই বাংলাকে ভাগ করতে চলেছে, এতে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে না! আপনি কী মনে করেন?

    রবীন্দ্রনাথ বললেন, সে বিষয়ে তো আর উচ্চবাচ্য শোনা যায় না। মনে হয়, ইংরেজ সরকার ভুল বুঝতে পেরেছেন। লর্ড কার্জন ইংল্যান্ডে রয়েছেন, আর তো বঙ্গভঙ্গের সম্ভাবনা দেখি না। ও বিষয়ে উত্তেজিত না হয়ে এখন আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি বোধহয়।

    শেষ ইঙ্গিতটি বুঝতে পেরে ভূপেন্দ্র নমস্কার জানিয়ে বিদায় নিলেন।

    নিজের কক্ষে ফিরে এলেন রবীন্দ্রনাথ, কিন্তু কবিতাটি এর মধ্যে অন্তর্হিত হয়ে গেছে। লাইনগুলি মনেই পড়ছে না। কাগজে লেখেননি, মনে মনে রচনা করছিলেন, তবে কি চিরতরে হারিয়েই গেল? না, অনেক সময় আবার ফিরে আসে। দাঁড়াও আমার আঁখির আগে, এই প্রথম লাইনটি মনে গেঁথে গেছে, পরে কবিতাটা আবার লিখতে হবে।

    এবার তিনি একতাড়া কাগজ ও কলম নিয়ে বসলেন। কবিতা অতি সূক্ষ্ম শিল্প, জোর করে লেখা যায় না। গদ্য তবু সম্ভব। বঙ্গদর্শনের জন্য নৌকাডুবি উপন্যাসের কিস্তি লেখা যে বাকি পড়ে যাচ্ছে।

    লিখতে লিখতে লেখার টেবিলেই মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন এক সময়। হ্যাঁজাক বাতিটা জ্বলতেই লাগল এক পাশে।

    পরদিন সকালেই খবর পাওয়া গেল, সেই ছাত্রটির জ্বর কমেনি, মুখে বসন্তের গুটি উঠেছে। তা হলে আর এখানে থাকা সম্ভব নয়। অচিরেই পাততাড়ি গুটিয়ে দলবল নিয়ে ফিরতে হবে কলকাতা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article পিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }