Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬২. ভারতবর্ষ থেকে কিছুদিন দূরে থেকে

    ভারতবর্ষ থেকে কিছুদিন দূরে থেকে নিবেদিতা ভারতবর্ষকে ভালভাবে চিনতে পারলেন। স্বামী বিবেকানন্দর কাছ থেকেও কিছুদিন তাঁর দূরে থাকার প্রয়োজন ছিল। স্বামীজির প্রবল ব্যক্তিত্ব হিমালয় পর্বতকেও আড়াল করে দিতে পারে।

    প্রথমবার নিবেদিতা ভারতে এসেছিলেন ধর্মীয় তৃষ্ণায়। ব্যর্থ প্রেমে বিদীর্ণ হৃদয়ে সহসা স্বামী বিবেকানন্দর মতন এক অসাধারণ পুরুষের সান্নিধ্যে এসে ভেবেছিলেন, ইনিই তাকে সারা জীবনের পথ নির্দেশ করবেন। ভারতে অবস্থানের সময় দেখেছিলেন, এ দেশের মানুষের অশিক্ষা, দারিদ্র্য, অসহায়তার মধ্যেও কত সরলতা, কত সহৃদয়তা। তিনি ঠিক করেছিলেন, স্বামীজির দূতী হিসেবে এইসব মানুষদের সেবা, এখানে শিক্ষাবিস্তারই হবে তাঁর জীবনের ব্রত। তারপর আরও কিছু মানুষের সংস্পর্শে এসে, ভারত ভ্রমণের সময় নিজেরও কিছু কিছু অভিজ্ঞতার পর্যালোচনা করে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, ভারতের কোটি কোটি মানুষের মুখে লেখা রয়েছে পরাধীনতার জ্বালা, বেদনা, অপমান। এ দেশের দারিদ্র্য, অশিক্ষা ইত্যাদি সব কিছুর মূলে আছে পরাধীনতা। একটা ইস্কুল খুলে পনেরো, কুড়িটা মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে কিংবা রোগ-মহামারীর সময় দুচারটে বস্তিতে সেবাকর্ম চালিয়ে সেই মূল সমস্যার গায়ে একটি আঁচড়ও কাটা যাবে না। বিদেশি শাসকদের দূর করে দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনই এখন প্রথম ও প্রধান কাজ।

    কিন্তু বেদান্তের চর্চায় কিংবা হিন্দু ধর্মের পুনরুত্থান প্রচেষ্টায় কি স্বাধীনতার পুনরুদ্ধার সম্ভব? সে কি ঝড়ের সময় উটপাখির বালিতে মুখ গুঁজে থাকার মতন নয়? তলোয়ারবন্দুক কামানে সশস্ত্র শাসকশ্রেণী এই মূর্তিপূজকদের ধর্মের উত্থান-পতনের তোয়াক্কা করে না। বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে। হিন্দুদের যুদ্ধ ক্ষমতার কোনও ইতিহাস নেই, তারা অস্ত্র ধরতেই ভুলে গেছে। মুসলমানরা যোদ্ধৃজাতি হলেও তারা এখন নিরস্ত্র ও অবদমিত, যেন অনেকটা নেশার ঘুমে আচ্ছন্ন, তাই শ্বেতাঙ্গ প্রভুরা নিশ্চিন্তে এই সাম্রাজ্য শোষণ করে চলেছে।

    নিবেদিতা একসময় দেবী কালীর মাহাত্ম বিষয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন। কালী দা মাদার নামে পুস্তিকা প্রকাশ করেছেন। এবারে বিলেতে অবস্থানের সময় তার উপলব্ধি হল, ওসবের এখন প্রয়োজন নেই, এখন তার একটা নতুন বই লেখা উচিত, সেই বইয়ের নাম হবে স্বাধীনতা।

    স্বাধীনতা! স্বাধীনতার রূপ যে কী রকম তাই-ই যে অধিকাংশ ভারতবাসী জানে না। বহু বছর ধরে পরাধীনতার অপমান সইতে সইতে তারা স্বাধীনতার স্বাদই ভুলে গেছে। শিক্ষিত লোকেরাও মনে করে, ইংরেজরা যেন দেবতাদের মতন অপরাজেয়, তাদের বিতাড়ন করার কোনও প্রশ্নই ওঠে। না। বরং ইংরেজি ভাষায় তাদের কাছে আবেদন-নিবেদন-ভিক্ষা চেয়ে কিছু সুযোগ-সুবিধে আদায়ের চেষ্টা করাই শ্রেয়।

    স্বাধীনতা বিষয়ে ভারতীয়দের এই নিস্পৃহ ভাবটা নিবেদিতাকে ব্যথিত করে। আত্মমর্যাদা জ্ঞান না থাকলে কোনও জাতি কি বড় হতে পারে? একটা ঘটনা মনে পড়লে নিবেদিতার শুধু দুঃখ বেশি নয়, রাগও হয়।

    ইংল্যান্ডে এখন বেশ কিছু ভারতীয় আছে, তাদের কয়েকটি সমিতিও আছে। কয়েক বছর আগে কেমব্রিজের ইন্ডিয়ান মজলিস নামে একটি সমিতি সভা ডেকে দুজন ভারতীয়কে সংবর্ধনা জানিয়েছিল সাড়ম্বরে। সেই দুজন ভারতীয় কে কে? অতুল চ্যাটার্জি ও রণজিৎ সিংজি! অতুল চ্যাটার্জি আই সি এস পরীক্ষায় সমস্ত ইংরেজ পরীক্ষার্থীদের ডিঙিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে, আর ভারতের এক দেশীয় রাজ্যের রাজকুমার, বিলেতেই প্রতিপালিত রণজিৎ সিংজি ক্রিকেট খেলায় শত রান করেছে। এই এঁদের কৃতিত্ব! ভারতীয় আই সি এস-রা ইংরেজদের উচ্চ বেতনের ভৃত্য, আর রণজিৎ সিং ক্রিকেট খেলায় নিজের দেশের কিছুমাত্র গৌরব বৃদ্ধি করেননি, তিনি ইংলন্ডের দলের একজন ভাড়াটে খেলোয়াড়মাত্র। সে যাই হোক, ওই দুজনের গলায় মালা পরানো হয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু সেই সময় লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দ ও জগদীশচন্দ্র বসু এসে রয়েছেন, দেশের মুখোজ্জ্বলকারী এই দুই সন্তানকে সংবর্ধনা জানাবার কথা ওই ইন্ডিয়ান মজলিসের একবারও মনে পড়েনি! এমনকী স্বামী বিবেকানন্দ সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন, তবু কেউ তার কণ্ঠে মালা দেয়নি। সংবর্ধনার ভাষণে ইংরেজ তোষণের সুর ঝরে পড়ছিল।

    পরাধীন দেশ বলে ভারতকে পৃথিবীর অন্য দেশগুলি যে কত অবজ্ঞা করে, তা কি ভারতীয়রা বোঝে না?

    নিউ ইয়র্কে বিপিনচন্দ্র পাল নামে এক ব্রাহ্ম নেতার সঙ্গে নিবেদিতার দেখা হয়েছিল। তিনি একেশ্বরবাদ প্রচার করতে গিয়েছিলেন সেখানে। লোকটি বড় তার্কিক। নিবেদিতার সঙ্গে এক একদিন তার প্রায় ঝগড়া লেগে যেত। শ্রীরামকৃষ্ণের অনুগামী কালীপূজকদের ব্রাহ্মরা কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। ঝগড়া হলেও প্রত্যেকবারই শেষের দিকে হাসি মুখেই বিদায় নিতেন বিপিন পাল, তার ভদ্রতা বোধ আছে।

    এই বিপিন পালের একটি অভিজ্ঞতার কথা শুনে মনে বেশ দাগ কেটেছিল নিবেদিতার। কোনও এক স্থানে বিপিনচন্দ্র বেশ উদ্দীপনার সঙ্গে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন, শেষ হবার পর এক সৌম্যদর্শন আমেরিকান তার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, ভদ্রমহোদয়, আপনি পরাধীন দেশের মানুষ, ইংরেজের দাস, আপনি এখানে ধর্মের কথা শোনাতে এসেছেন, তাতে কে গুরুত্ব দেবে? আমেরিকানরা ইংরেজের সঙ্গে লড়াই করে স্বাধীন হয়েছে, তারা মনে করে, আপনাদের যেটা আসল কাজ সেটাই করছেন না। আগে আপনার দেশ স্বাধীন হোক, তারপর তত্ত্বকথা শোনাতে আসবেন।

    কথাটা শুনে বিপিনচন্দ্রের মুখোনা বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। আমেরিকান ভদ্রলোকটির বাক্যে উগ্রতা ছিল না, বন্ধুত্বের ভাব ছিল, তার বক্তব্যের স্পষ্ট সত্যতা ধাক্কা মেরেছিল বিপিনচন্দ্রের বুকে। পরাধীন মানুষের মুখে বড় বড় কথা মানায় না। এখানকার লোক আড়ালে হাসে? স্বামী বিবেকানন্দ যে এত বক্তৃতা দিয়ে গেলেন, তার ফল শেষ পর্যন্ত কী হবে বক্তৃতা সভায় কিছু কৌতূহলী ও হুজুগপ্রিয় লোকেরা এসে ভিড় জমায়। সংবাদপত্রে তাঁর বাগ্মিতা ও চেহারার প্রশংসা ছাপা হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কত জন তাঁর অনুগামী হয়েছে? দশ বারো জনের বেশি নয়। তাঁর প্রধান ভক্ত তো গুটিকতক বিধবা ও কুমারী মহিলা। বিপিনচন্দ্র ঠিক করলেন, ধর্মের তত্ত্বকথা প্রচার আপাতত মুলতুবি থাক। দেশে ফিরে গিয়ে তিনি রাজনীতিতে অংশ নেবেন। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে প্রকাশ করবেন নিজস্ব পত্রিকা। এ পরাধীনতার জ্বালা এবং শোষিত নিষ্পেষিত ভারতীয় জনগণের অবস্থা সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ সম্পূর্ণ সচেতন। প্রথম প্রথম ভারতে গিয়ে নিবেদিতা সব কিছু দেখেই মুগ্ধ হতেন, ভারতে চুরি-ডাকাতি-নরহত্যার সংখ্যা খুব কম দেখে নিবেদিতা একদিন উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলেন, ভারতীয়রা কী শান্তিপূর্ণ জাতি! তা শুনে স্বামীজি শ্লেষ ও বিষাদ মিশ্রিত কণ্ঠে বলেছিলেন, মৃতের সাত্ত্বিকতা! এ জাতটা এমনই নির্জীব হৃয়ে গেছে যে ভাল করে গুণ্ডামি-ডাকাতিও করতে পারে না!

    আর একদিন তিনি কথায় কথায় বলেছিলেন, আমি ফুটবল খেলা পছন্দ করি। তার কারণ তাতে লাথির বদলে লাথি দেওয়া যায়। এ কথায় কি একটা সুক্ষ্ম ইঙ্গিত ছিল না? তিনি আঘাতের বদলে প্রত্যাঘাতে বিশ্বাসী।

    স্বামীজি আরও বলেছেন, ভারতবর্ষ জয় করা ইংরেজদের পক্ষে এত সহজ হয়েছিল কেন? যেহেতু তারা একটা সঙ্ঘবদ্ধ জাতি ছিল, আর আমরা তা ছিলাম না।…এখন জনসাধারণকে শিক্ষিত করা এবং তাদের উন্নত করাই জাতীয় জীবন-গঠনের পন্থা। এরকম কথা স্বামীজি বারবার বলেছেন, ভারতের জনসাধারণকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে হবে।

    কিন্তু সে দায়িত্ব কে নেবে? নেতৃত্ব দেবার যোগ্যতা স্বামী বিবেকানন্দর চেয়ে আর কার বেশি? তিনি ভাষায় আগুন ছোটাতে পারেন, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার অসীম ক্ষমতা রয়েছে তার। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত তার পরিচিতি, অনেক দেশীয় রাজা তার ভক্ত। তিনি যদি দেশের মানুষকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান, তবে হাজার হাজার মানুষ তাঁর পাশে এসে দাঁড়াবে। তার নির্দেশে ইংরেজকে তাড়াবার জন্য তারা হাতে অস্ত্র তুলে নেবে। নিবেদিতা যেন কল্পনায় এ-দৃশ্য দেখতে পান, বিশাল জনতার মাঝখানে অগ্নিশিখার মতন স্বামী বিবেকানন্দ দণ্ডায়মান, তিনি স্বাধীনতার আহ্বান জানাচ্ছেন, আর সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের মতন জনসমষ্টি গিয়ে ধাক্কা মারছে ইংরেজ রাজশক্তিকে।

    কিন্তু এ কল্পনা দিবাস্বপ্নের মতন অলীক। নিবেদিতার গুরু এ দায়িত্ব নেবেন না। তিনি যে সন্ন্যাসী। তার মতে, জগতের সেবা ও ঈশ্বরপ্রাপ্তিই হচ্ছে সন্ন্যাসীর শ্রেষ্ঠ আদর্শ। বেলুড় মঠ স্থাপনের প্রধান উদ্দেশ্য অন্নদান, বিদ্যাদান, জ্ঞানদান। এইসব দান সারা দেশে পৌঁছতে কত যুগ, কত শতাব্দী লেগে যাবে? নেতা-স্থানীয় অনেকেই বলেন, আগে দেশের মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে, তারপর স্বাধীনতার কথা চিন্তা করা যাবে। এটা একপ্রকার পলায়নী মনোবৃত্তি নয়? পরাধীন অবস্থায় প্রকৃত শিক্ষাবিস্তার সম্ভব? শাসকশ্রেণী তা দেবে কেন? এখন ভারতে শিক্ষিতের সংখ্যা যৎসামান্য, তাতেই বড়লাট লর্ড কার্জন উচ্চ শিক্ষা সংকোচের উদ্যম নিয়েছেন। আগে দেশ স্বাধীন হলে তবেই নিজস্ব শিক্ষানীতি প্রবর্তন করা সম্ভব। স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে করতেই মানুষের মনে আত্মমর্যাদাবোধ জাগবে।

    ধর্মসাধনা না স্বাধীনতার জন্য সাধনা, এখন দেশের পক্ষে কোনটা বেশি জরুরি? নিবেদিতা দ্বিতীয়টির পক্ষে মনস্থির করে ফেলেছেন। এবং বুঝে গেছেন, এ ব্যাপারে তিনি তার গুরুর সাহায্য পাবেন না। জাতীয় নেতা হিসেবে যাঁকে সবচেয়ে বেশি মানায়, তিনি এখন, এমনকী মঠের নেতৃত্ব থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। কেমন যেন নির্বেদ এসে গেছে তার। মৃত্যু সম্পর্কে প্রাচ্য ধারণা ও পাশ্চাত্য ধারণায় অনেক তফাত আছে, নিবেদিতা এর ঠিক সামঞ্জস্য করতে পারেন না। হিন্দু-বৌদ্ধরা পরজন্মে বিশ্বাসী, তাই মৃত্যুকে তারা সহজভাবে নেয়, প্রকৃত মৃত্যুর অনেক আগে থেকেই নিজেকে তৈরি করে নেয়, অনেকে স্বেচ্ছায় মৃত্যু কামনা করে। পাশ্চাত্যের মানুষ মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত জীবনকে আঁকড়ে ধরে থাকে, মৃত্যুর কোনও মহত্ত্ব নেই তাদের কাছে। মানুষের লোগ-ভোগ থাকেই, চিকিৎসায় তার উপশমও হয়। স্বামীজি আরও পাঁচ কি দশ বছর যে বাঁচবেন না, তা কে বলতে পারে? কিন্তু এর মধ্যেই তিনি কেমন যেন নিরুদ্যম হয়ে পড়েছেন।

    ভারতে ইংরেজরা যে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য নিবেদিতা ব্যক্তিগতভাবে অপরাধ বোধ করেন। তিনি জাতে আইরিশ, আইরিশদের সঙ্গে ইংরেজদের বিরোধ চলছেই কিন্তু ভারতীয়দের কাছে তিনি ব্রিটিশ। তিনি শাসক সমাজেরই একজন। ব্রিটিশ পতাকার প্রতি একসময় তার আনুগত্য ছিল, এখন সেই পতাকা তার দুচক্ষের বিষ। মাঝে মাঝেই তিনি আপন মনে কাতরভাবে বলে ওঠেন, হে ভারত। ভারত! আমার জাতি তোমার যে ভয়ানক ক্ষতি করেছে, কে তার অপনোদন করবে? হে ভারত! তোমার সন্তানদের মধ্যে যারা অতীব সাহসী, যারা তীক্ষ্ণ অনুভূতিসম্পন্ন, যারা শ্রেষ্ঠ, তাদের ওপর এই যে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ অপমান বর্ষিত হচ্ছে-কে তার একটিরও প্রায়শ্চিত্ত করবে, বলো?

    নিবেদিতাই সে প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য বদ্ধপরিকর। ভারতে জ্ঞানী, গুণী, চিন্তাশীল মানুষের অভাব নেই, ইংরেজদের চেয়ে তারা কোনও অংশে কম নন, তবু প্রতিনিয়ত তাদের কত অপমান সইতে হয়! এবারে ইংল্যান্ডে এসে জগদীশচন্দ্র বসুর ব্যাপারেই নিবেদিতা তার জাজ্বল্যমান উদাহরণ দেখলেন।

    জগদীশচন্দ্র যে পৃথিবীর একজন প্রথম সারির বৈজ্ঞানিক, তাতে কোনও সন্দেহই নেই। তিনি মলত পদার্থবিদ, সম্প্রতি প্রবেশ করেছেন শরীরতত্ত্বে। জীবজগৎ ও জড়ের মাঝখানের সীমারেখা লপ্ত হয়ে যাচ্ছে তাঁর গবেষণায়। এরকম একজন বৈজ্ঞানিককে ভারত সরকারের উচিত ছিল সর্ববিষয়ে সাহায্য করা, তার বদলে তিনি পেয়েছেন ঔদাসীন্য, অবজ্ঞা ও প্রতিরোধ। বিদেশের বিজ্ঞান সভাগুলিতে অংশগ্রহণ ও উন্নত গবেষণার সুযোগ নেবার জন্য তাকে দেশের কয়েকজন ব্যক্তির অর্থ সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।

    প্যারিস কংগ্রেসে প্রভূত প্রশংসা পাবার পর জগদীশচন্দ্র চলে এসেছিলেন লন্ডনে। এখানেও তিনি রয়াল সোসাইটিতে তার গবেষণা পাঠের আমন্ত্রণ পান। তারপরই শুরু হয়ে যায় একশ্রেণীর ইংরেজ বৈজ্ঞানিকদের ঈর্ষা, স্বার্থপরতা ও ষড়যন্ত্র। রয়াল সোসাইটি সেই গবেষণাপত্রটি ছাপিয়েও কিছু বৈজ্ঞানিকদের প্রতিরোধে তার প্রচার বন্ধ করে দিল। ভারত সরকার জগদীশচন্দ্রের ডেপুটেশন বৃদ্ধি করতে না চেয়ে তাকে চাপ দিল ভারতে ফিরে আসার জন্য। এইরকম সংকটের সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন জগদীশচন্দ্র।

    নিবেদিতা এই বসু দম্পতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন অনেক আগেই। তিনি লন্ডনে তাদের এই অসহায় অবস্থার মধ্যে দেখে শুধু যে সেবার জন্য এগিয়ে এলেন তাই-ই নয়, কিছুদিনের জন্য ওই দুজনকে এনে রাখলেন তার মায়ের বাড়িতে।

    শুধু বৈজ্ঞানিক হিসেবেই নয়, জগদীশচন্দ্রের চরিত্রের একটি দৃঢ়তার দিকের পরিচয় পেয়ে মুগ্ধ হলেন নিবেদিতা। জগদীশচন্দ্র মনে-প্রাণে ভারতীয় এবং স্বদেশপ্রেমী। তিনি যা-কিছু করছেন, সবই ভারতের গৌরব বৃদ্ধির জন্য। বিদেশে তিনি একাধিক লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন, তাতে তার আর্থিক অসচ্ছলতা তো ঘুচে যাবেই, তিনি অত্যাধুনিক লেবরেটরিতে গবেষণারও সুযোগ পাবেন। কিন্তু জগদীশচন্দ্র একটাও গ্রহণ করতে সম্মত হননি। অন্য দেশে চাকরি নিলে তার গবেষণালব্ধ আবিষ্কার তো সে দেশেরই হবে। প্রতিরোধ, বিড়ম্বনা, দারিদ্র্য সহ্য করেও তিনি ভারত মায়ের সন্তানই থাকতে চান। এমনকী জগদীশচন্দ্রের কয়েকটি আবিষ্কারের পেটেন্ট নেবারও প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ফল তো সর্বসাধারণের জন্য, তিনি নিজে তার থেকে লাভবান হতে চান না। নিবেদিতার মনে হয়, এরকম ত্যাগ শুধু কোনও ভারতীয়ের পক্ষেই সম্ভব।

    ভারত স্বাধীন না হলে তার এইসব সুসন্তান পৃথিবীতে যথাযযাগ্য মর্যাদা পাবে কী করে?

    বিলেতে আর একজন ভারতীয়ও নিবেদিতার মনে স্বাধীনতা অর্জনের স্পৃহা উস্কে দিল। রমেশচন্দ্র দত্ত উগ্র জাতীয়তাবাদী নন, রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন না, কিন্তু তিনি ভারতের অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিশ্লেষণ করে ইংরেজদের শোষণের রূপটি প্রকট করে দেন। ইংরেজরা ভারতে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনের বড়াই করে, কিন্তু তাদের শাসনেই যে ভারতে বারবার ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে, সে সম্পর্কে তাদের বিবেকে কোনও আঁচড় কাটে না?

    ধর্ম বিপ্লবের বদলে রাজনৈতিক বিপ্লবের চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেছিলেন নিবেদিতা। বিলেতে বসে থেকে কোনও কাজ হবে না, ভারতে গিয়ে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এই সময় জো ম্যাকলাউডের কাছ থেকে তিনি জাপানের দৃত ওকাকুরার সংবাদ পেলেন। দুজনের পত্র বিনিময়ে অনেক তথ্য উন্মোচিত হল। ওকাকুরা শুধু শিল্প পণ্ডিত নন, ধর্মসভার প্রতিনিধি নন, তিনি স্বাধীনতার প্রবক্তা। একটি অশ্রুতপূর্ব তত্ত্ব এনেছেন তিনি, এশিয়া মহাদেশের ঐক্য। এশিয়ার সব দেশগুলি একযোগে ইওরোপীয় শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। জাপান, কোরিয়া প্রভৃতি দেশগুলি প্রস্তুত, ভারতকে সহযোগী হিসেবে পাওয়া বিশেষ দরকার। ভারত স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করলেই ওই সব দেশ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে। ওকাকুরা সেই বার্তা নিয়েই ভারতে এসেছেন। প্রয়োজনে অন্য দেশ থেকে অস্ত্র আসবে, টাকাকড়ি আসবে।

    এরকম স্বর্ণ সুযোগ আর কবে পাওয়া যাবে? ওকাকুরার সঙ্গে দেখা করার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠলেন নিবেদিতা। কলকাতায় ফিরে আসার পর নিবেদিতার সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ পরিচয় হল স্বল্পভাষী ওকাকুরার সহযোগী হয়ে গেলেন নিবেদিতা প্রথম দর্শন থেকেই।

    ওলি বুলের পার্টিতে আহ্বান জানানো হল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের, আশুতোষ চৌধুরী, প্রমথ মিত্র, বিপিন পাল, চিত্তরঞ্জন দাশ, সখারাম গণেশ দেউস্কর, সুবোধ মল্লিক প্রমুখ অনেকেই এলেন। ঠাকুরবাড়ি থেকে এসেছেন রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, সুরেন ও আরও অনেকে। মস্ত বড় একটি হলঘরে সমবেত হয়েছেন আমন্ত্রিত ব্যক্তিগণ, ঠিক মাঝখানে একটি চেয়ারে বসে আছেন ওকাকুরা, তাঁর দু’পাশে ওলি বুল ও নিবেদিতা। ওকাকুরা মাঝারি উচ্চতায় বলিষ্ঠকায় এক পুরুষ, কালো সিল্কের কিমোনো পরিহিত, তার ওপরে পারিবারিক প্রতীক চিহ্ন হিসেবে পাঁচ পাপড়ির একটি ফুল কাজ করা। গরমের জন্য তিনি একটি সুদৃশ্য পাখায় হাওয়া খাচ্ছেন, সেই পাখাতেও রক্তপিঙ্গল রঙের পল্লবগুচ্ছের অলঙ্করণ, জাপানি কাপড়ের মোজায় পা ঢাকা, পরে আছেন ঘাসের চটি। চোখের পাতা ভারী, যৎসামান্য গোঁফ, গায়ের রং লালচে, স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে আসীন। তিনি নীরবে ইজিপশিয়ান সিগারেট টেনে যাচ্ছেন, একটার পর একটা, সব কথাই বলে যাচ্ছেন নিবেদিতা। এদেশের প্রধান ব্যক্তিদের সঙ্গে ওকাকুরার পরিচয় করাবার ভার তিনি স্বেচ্ছায় নিয়েছেন। ওকাকুরা একটি বই লিখছেন ‘আইডিয়ালস অব দা ইস্ট’ নামে। তাতে তিনি দেখাচ্ছেন এশিয়ার দেশগুলির মানুষদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির কতখানি মিল, সে বিষয়ে বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করলেন নিবেদিতা। এই বইয়ের তিনি পাণ্ডুলিপি সংশোধন করছেন, ইংরিজি ভাষায় সুষ্ঠু রূপ দিচ্ছেন, এই বই সম্পর্কেও তাঁর দারুণ উৎসাহ।

    নিবেদিতা পরে আছেন দুগ্ধধবল সিল্কের লম্বা পোশাক, মাথার চুলগুলি চুড়ো করে বাঁধা, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। তার রূপ দেখলে মনে হয় যেন পাহাড়ের ওপর জ্যোৎস্না পড়েছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের সঙ্গে আগে তার পরিচয় হয়নি, তারা নিবেদিতাকে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত এক সন্ন্যাসিনী হিসেবেই জানত। তারা খানিকটা বিস্ময়ের সঙ্গেই অনুভব করল যে নিবেদিতা তাঁর গুরু কিংবা অধ্যাত্ম বিষয়ে কিছুই বলছেন না, এই জাপানি ভদ্রলোকটির গুণপনা সম্পর্কেই উচ্ছ্বসিত।

    সভাভঙ্গের পর খাদ্য পানীয় এসে গেল। রবীন্দ্র-অবনীন্দ্ররা উঠে পড়লেন, নিবেদিতা তাদের পাশে এসে কুশল বিনিময়ের পর সুরেন্দ্রকে বললেন, তুমি আর একটু থেকে যাবে? জাপান ভদ্রলোকটি তোমার সঙ্গে কথা বলতে চান।

    এত সব গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে শুধু সুরেন্দ্রর সঙ্গেই কেন তিনি আলাদা কথা বলতে চান তা বোঝা গেল না। সমাগত অতিথিদের মধ্যে সুরেন্দ্রের বয়েসই সবচেয়ে কম। নিবেদিতাও তাকে খুবই স্নেহ করেন। সুরেন্দ্র রয়ে গেল।

    ওকাকুরা বড় হলঘরটা ছেড়ে উঠে গিয়ে বসেছেন পাশের একটি কাঁচ বসানো ছোট বারান্দায়। সেখানে একটি মাত্র টেবিল ও দুটি চেয়ার। একটি চেয়ারে বসে তিনি ধুমপান করে যাচ্ছেন, আগেকার মতনই অটল গাম্ভীর্যে পূর্ণ। নিবেদিতা সুরেন্দ্রর পরিচয় দিতেই ওকাকুরা বয়ঃকনিষ্ঠ সুরেন্দ্রকে সমমর্যাদায় অভিবাদন জানালেন এবং পাশের চেয়ারটিতে বসবার ইঙ্গিত করলেন। কিমোনোর ঢোলা হাতার ভেতর থেকে জাদুকরদের মতন বার করলেন এক টিন সিগারেট, তার থেকে একটি দিলেন সুরেন্দ্রর দিকে।

    বয়স্ক ব্যক্তিদের সামনে ধূমপান করার কোনও প্রশ্নই নেই, তাই সুরেন্দ্র তা প্রত্যাখ্যান করল। সবিনয়ে।

    ওকাকুরা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন সুরেন্দ্রর মুখের দিকে। যেন তিনি কিছু বলতে চান, কিন্তু কথা খুঁজে পাচ্ছেন না। সুরেন্দ্র নিবেদিতার দিকে মুখ ফেরাল। তখনই ওকাকুরা স্পষ্ট অথচ ধীর স্বরে ইংরেজিতে প্রশ্ন করলেন, নব্য যুবক, আপনার দেশের জন্য আপনি কী করতে চান বলুন?

    প্রথমেই এমন একটি প্রশ্নে হকচকিয়ে গেল সুরেন্দ্র। দেশের জন্য কে আবার আলাদা ভাবে কী করে? সবাই নিজের নিজের কাজ করে যায়।

    প্রশ্নটির প্রকৃত অর্থ বোঝায় সাহায্যের জন্য সুরেন্দ্র তাকাল নিবেদিতার দিকে। নিবেদিতা মিটি মিটি হাসছেন।

    ওকাকুরা আবার বললেন, আপনার এই দেশটির নাম ভারতবর্ষ। কী মহান ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিসম্পন্ন এই দেশ। এখান থেকেই বৌদ্ধধর্ম ছড়িয়েছে সারা পৃথিবীতে, এককালে হিন্দুরা শিল্পে-ভাস্কর্যে কত সমুন্নত ছিল। সেই দেশ আজ শৃঙ্খলিত, পরাধীন। এই ভারতবর্ষকে শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য সমস্ত যুবসমাজকে সঙঘবদ্ধ হতে হবে। সে জন্য আপনি কি কিছু চেষ্টা করেছেন?

    সুরেন্দ্র ধনী বংশের সন্তান। তাদের পরিবারে সে আবাল্য স্বদেশি আবহাওয়া দেখে এসেছে। দেশের গান, দেশের সাহিত্য, শিল্পকলার উন্নতির জন্য এই পরিবার অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। এ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ইংরেজদের কুক্ষিগত, তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কিছু কিছু ব্যবসা বাণিজ্যের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যুবসমাজকে সঙঘবদ্ধ করার দায়িত্ব কে নেবে। সে রকমভাবে তো বাইরের লোকদের সঙ্গে মেলামেশাই হয় না।

    সে দ্বিধান্বিত স্বরে বলল, দেশের যুবকদের সঙঘবদ্ধ করার কাজ, মানে, কী করে তা হবে, ইংরেজ সরকার তা দেবে কেন? কিছু করতে গেলে নিশ্চিত বাধা আসবে। আমরা সাধ্যমতন নিজেদের কাজ করে যাচ্ছি…ভবিষ্যতে যদি কখনও, মানে, যখন সময় আসবে…

    ওকাকুরা মৃদু ভর্ৎসনার সুরে বললেন, বাধা আসবে? কাজ শুরুর আগেই বাধার চিন্তা। এ দেশের তরুণদের মধ্যে নৈরাশ্যের সুর দেখে আমি বড় দুঃখ পাচ্ছি। বাধা এলে প্রাণ তুচ্ছ করে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। একটা দেশের হাজার হাজার যুবক যখন নিজেদের প্রাণ বলি দেবার জন্য তৈরি হয়, তখনই স্বাধীনতা আসে।

    কথা থামিয়ে সিগারেটে কয়েকটা টান দিলেন ওকাকুরা। ভেতর থেকে একজন পরিচারক তাঁর জন্য একটি পানপাত্রে সূরা এনে দিল, তাতে একটি চুমুক দিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রশ্ন করলেন, আপনি কখনও আপনার চোখের সামনে একজন লোক আর একজন লোকের বুকে ছুরি বসাচ্ছে, এ দৃশ্য দেখেছেন?

    সাঙ্ঘাতিক চমকে উঠে সুরেন্দ্র বলল, না। না দেখিনি!

    ওকাকুরা আবার বললেন, চোখের সামনে কেউ মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে দেখেননি?

    সুরেন্দ্র আবার প্রবলভাবে দুদিকে ঘাড় নাড়ল। হিন্দুরা দূগাপূজা কালীপূজার সময় পাঁঠা বলি দেয় বলে ব্রাহ্মরা ঘৃণায় সেদিকে তাকায় না। তারা দেখবে মানুষ মারার দৃশ্য!

    এবারে চেয়ারে হেলান দিয়ে সহাস্যে ওকাকুরা বললেন, আপনারা ঘেরাটোপে মানুষ হয়েছেন। কঠোর বাস্তবতা দেখতে চান না। সেই জন্য আপনাদের মন নরম, দুর্বল। আমাদের জাপানে কোনও ব্যক্তি খুব অপমানিত হলে কিংবা নিজের কোনও অপরাধ বোধ করলে সর্বসমক্ষে নিজে ছুরি দিয়ে নিজের পেট ছিন্নভিন্ন করে দেয়। আবার কেউ যদি তার পরিবারের অসম্মান করে, তা হলে তাকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করতেও দ্বিধা করে না। আমার ছেলেবেলায় কী একটি দৃশ্য দেখেছিলাম শুনুন। তখন আমি বেশ ছোট। আমাদের একান্নবর্তী পরিবার, বাড়ি ভর্তি অনেক লোকজন। একদিন বাইরের দিকের একটি ঘরে কী নিয়ে যেন কয়েকজনের মধ্যে প্রবল বাগবিতণ্ডা শুরু হয়েছিল। জাপানিরা জানেন তো, এমনিতে কম কথা বলে, অনেক সময় উত্তেজিত বা ক্রুদ্ধ হলে খুব জোরে চেঁচায়। সেই রকম চেঁচামেচি শুনে আমি কৌতূহলী হয়ে সেই ঘরের জানলা দিয়ে উঁকি মারলাম। দেখি কী, একটা চেয়ারে বসে আছে আমার কাকার মুণ্ডহীন ধড়, মুণ্ডুটা গড়াচ্ছে মেঝেতে, আর গলা দিয়ে ফিনকি দিয়ে উঠছে রক্তের ফোয়ারা!

    সুরেন্দ্র শিউরে উঠে হতবাক হয়ে গেল।

    নিবেদিতা বললেন, জাপানিরা খুব কোমল প্রাণ, সামান্য ছোটখাটো ব্যাপারেও তাদের শিল্পরুচির পিরচয় পাওয়া যায়, কিন্তু প্রয়োজনে তারা কঠোরস্য কঠোর হতে পারে।

    ওকাকুবা বললেন আপনি ভারতীয়, আমি জাপানি। কোথাও একটা মিল আছে আমাদের মধ্যে। হিমালয় পর্বত দুটি শক্তিশালী সভ্যতাকে পৃথক করে রেখেছে, এক দিকে চিনের কনফুসিয়াস-পন্থী সাম্যবাদ, আর ভারতের বৈদিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ। কিন্তু সেই তুষারমণ্ডিত পর্বতও কখনও এই দুই সভ্যতার মধ্যে মৌল বিভেদ ঘটাতে পারেনি। এশিয়ার সব জাতির মধ্যেই আছে। ভালবাসার ঐক্য। আপনাকে কয়েকটা ঘটনা বলি শুনুন। জাপানের সম্রাট তাকাকুরা এক দারুণ শীতে রাতে তাঁর গা থেকে লেপ কম্বল ফেলে দিয়েছিলেন, কারণ তিনি অনুভব করেছিলেন অনেক গরিব প্রজার বাড়িতে সে রাতে তুষারপাত হচ্ছে, তারা শীতে কাঁপছে। কিংবা আর একজন, তাইসো, তিনি খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন, কারণ দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ায় গরিব লোকদের খাবার জুটছিল না। এই যে ত্যাগের আদর্শ, যেখানে রাজা-প্রজা এক জায়গায় মিলে যায়, তা কি আমরা বোধিসত্ত্বের কাছ থেকে পাইনি? ভারতের সঙ্গে আমাদের সমভ্রাতৃত্বের বন্ধন, ভারতের পরাধীন অবস্থার দুর্দশা দেখলে আমাদের বুকে ব্যথা বাজবে!

    নিবেদিতা বললেন, সুরেন, আমরা একটা পরিকল্পনা নিয়েছি, তাতে তোমাকে অংশ নিতে হবে।

    ওকাকুরা বললেন, আপনার মতন যুবকদের সাহায্য চাই। অস্ত্রবিদ্যা শিখতে হবে, প্রয়োজনে চরম আত্মোৎসর্গের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

    সুরেন এবার তাড়াতাড়ি বলে উঠল, আমার এক পিসতুতো বোন সরলা, শ্ৰীমতী সরলা ঘোষাল ছেলেদের নিয়ে একটা সমিতি গড়েছেন। সেখানে অনেকে লাঠি, তলোয়ার খেলা শেখে।

    নিবেদিতা বললেন, সে কথা জানি। সরলার সঙ্গে আপনার পরিচয় করিয়ে দেব। এ রকম আরও কয়েকটি ছোটখাটো দলের সন্ধান পেয়েছি। বৃদ্ধ ব্যারিস্টার প্রমথনাথ মিত্রও একটি সমিতি পরিচালনা করেন। এ দেশের বেশির ভাগ ব্যারিস্টারই কংগ্রেসের মিটিং-এ গিয়ে বক্তৃতার তোড়ে গগন ফাটায়, নিজেদের জাহির করে। মিস্টার মিত্র ওসব বক্তৃতায় বিশ্বাস করেন না, নিজেকে আড়ালে রাখেন। তিনি সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী। একজনের কাছে শুনলাম, অনেক দিন আগে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আদালত অবমাননার দায়ে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন, তখনই ওই ব্যারিস্টার মিত্র পরিকল্পনা করেছিলেন, জেল ভেঙে সুরেন্দ্রনাথকে ছাড়িয়ে আনবেন। সেটা তখন সম্ভব হয়নি, কিন্তু মানুষটির সাহস আছে বলতেই হবে! এখন তিনি একটি যুবক দল তৈরি করছেন। নানান জায়গায় ছড়িয়ে থাকা এইসব গুপ্ত সমিতিগুলিকে বাঁধতে হবে একতা সূত্রে।

    ওকাকুরা বললেন, শুধু বাংলায় নয়, সারা ভারতেই এই যোগাযোগ স্থাপন করার প্রয়োজন আছে। তার আগে, আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা সম্পূর্ণ গোপন রাখতে হবে। কাক-পক্ষীতেও যেন কিছু টের না পায়। মিঃ টেগোর, আপনি এই গোপনীয়তা রক্ষার শপথ নিতে পারবেন তো?

    নিবেদিতা সুরেন্দ্রর দিকে ব্যগ্রভাবে তাকিয়ে রইলেন।

    সুরেন্দ্র মাথা নুইয়ে বলল, অবশ্যই পারব!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article পিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }