Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৯. বক্তৃতার চুক্তি থেকে মুক্তি

    মাস চারেক পর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে বক্তৃতার চুক্তি থেকে কোনওক্রমে মুক্তি পেলেন বিবেকানন্দ, তাঁর কয়েকজন বিশেষ বন্ধুর সহায়তায়। তাঁর শরীর ও মন কিছুতেই আর মানতে পারছিল না। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এই চুক্তি বাতিল করার ব্যাপারে মধ্যস্থতা করলেন বটে, কিন্তু বিবেকানন্দকে এ জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হল, যা কিছু অর্থ সঞ্চিত হয়েছিল, তা প্রায় সবই গেল।

    তাঁর আহার বাসস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয় অবস্থাটা অবশ্য অনেকটাই ঘুচে গেছে। কিছু কিছু শুভার্থী এখন বিবেকানন্দকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিতে চান। কোনও বিখ্যাত ব্যক্তিকে নিজের বাড়িতে আতিথ্য দিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে গর্ব করার বাপার এটা নয়। বরং তার বিপরীত। এ এমনই এক সমাজ, যেখানে বিধর্মী বা আশ্বেতকায়দের কোনও বাড়িতে স্থান দিলে প্রতিবেশীরা ঠোঁট বেঁকায়, সে বাড়ির বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের স্কুলের বন্ধুরা যা-তা বলে ক্ষেপায়, ভেংচি কাটে। অবশ্য আমেরিকান সমাজেরই শুধু দোষ দেওয়া যায় না, ভারতীয় হিন্দুরাই কি স্বগৃহে কোনও বিধর্মীকে স্থান দেয়? এ ব্যাপারে তারা আরও গোঁড়া। কোনও আত্মীয়ও যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করে, তাকে গৃহ থেকে বিতাড়িত হতে হয়। আমেরিকায় কিছু কিছু লোক এই ধরনের গোঁড়ামির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উল্লাস বোধ করে। মিঃ পামার সেই ধরনের এক ব্যক্তি।

    বিবেকানন্দ অশ্বেতকায় তো বটেই, এ দেশের রাস্তাঘাটের বহু মানুষ কালো ও বাদামি রঙের পার্থক্যও বোঝে না। তারা তাঁকে নিগ্রো বলে ভুল করে। ভারতীয়দের সম্পর্কে এদের কোনও ধারণাই নেই এবং নিগ্রোরা এদের চোখে অতি নিম্নস্তরের মানুষ। নিগ্রোরাও বিবেকানন্দকে স্বগোত্রীয় মনে করে। বক্তৃতামঞ্চে আসা-যাওয়ার পথে একদল শ্বেতাঙ্গ যখন বিবেকানন্দকে খাতির করে নিয়ে যায়, নিগ্রোরা তা দেখে কৌতূহল বোধ করে।

    একবার বিবেকানন্দ দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহরে বক্তৃতা দিতে গেছেন, রেল স্টেশনে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্য উদ্যোক্তাদের অনেকে উপস্থিত। একটি নিগ্রো কুন্সি দুর থেকে অবাক হয়ে দেখছিল, এক সময় সে সাহস করে কাছে এসে বলল, মিস্টার, আপনার সম্মানে নিগ্রো সমাজ গর্বিত, আমি একবার আপনার করমর্দন করে ধনী হতে চাই।

    বিবেকানন্দ তার হাত চেপে ধরে বললেন, নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই। আপনি আমার সঙ্গে আলাপ করতে এসেছেন, এ জন্য আপনাকেই ধন্যবাদ।

    অন্যদের কাছ থেকে সরে এসে বিবেকানন্দ সেই কুলিটির সঙ্গে কথাবার্তা বলতে লাগলেন।

    সেবারে সেই শহরে থাকার জায়গা নিয়ে বিবেকানন্দকে অনেক ঝঞ্জাট পোহাতে হয়েছিল। দক্ষিণের শ্বেতাঙ্গরা নিগ্রোদের মনুষ্যেতর প্রাণী মনে করে। শুধু গায়ের রঙের জন্য নয়, এরা যে ক্রীতদাস। কোনও ভাল হোটেল-রেস্তোরাঁ বা স্কুল-কলেজে তাদের প্রবেশাধিকার নেই। নিগ্রোরা খ্রিস্টান হলেও তাদের গিজা আলাদা। বিবেকানন্দকেও নিগ্রো মনে করে অনেক হোটেলওয়ালা তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আবার এমনও হয়েছে, কোথাও বক্তৃতার পর সংবাদপত্রে তাঁর ছবি ও প্রশংসা ছাপা হবার পর সেই হোটেলওয়ালা এসে ক্ষমা চেয়েছে তাঁর কাছে।

    এক শ্বেতাঙ্গ বন্ধু বলেছিলেন, স্বামীজি, হোটেলে গিয়ে আপনি বলেন না কেন যে আপনি হিন্দু এবং ভারতবাসী, তা হলে ওরা আপনাকে নিগ্রো বলে ভুল করত না!

    বিবেকানন্দ আহত বিস্ময়ে বলেছেন, কী, অপরকে ছোট করে আমি বড় হব? আমি তো পৃথিবীতে সে জন্য আসিনি! যার ইচ্ছে আমাকে নিগ্রো মনে করুক, আমার কিছু আসে যায় না।

    বিবেকানন্দের বক্তৃতা সভাগুলিতে অবশ্য নিগ্রো শ্রোতাদের দেখা পাওয়া যেত না। ওদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশার সুযোগও তিনি পাননি।

    ডেট্রয়েট বিবেকানন্দ বারবার প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হয়েছেন, অনেকভাবে তাঁকে নাজেহাল করার চেষ্টা হয়েছে। সেই সব দেখেই প্রাক্তন সেনেটর মিস্টার পামার বিবেকানন্দকে খাতির করে নিয়ে গেছেন নিজের গৃহে। তাঁর ভাবখানা এই, আমার বাড়িতে এই হিন্দু সন্ন্যাসী যতদিন ইচ্ছে অতিথি হয়ে থাকবে, দেখি তো কে কী বলে!

    পামার মানুষটি বেশ মজার। বয়েস হয়ে গেছে ষাটের ওপর, অঢেল টাকা পয়সার মালিক। তাঁর ব্ল্যাঞ্চ এ অঞ্চলে বিখ্যাত। পারবেন জাতীয় বহু তেজী অশ্ব এবং স্বাস্থ্যবতী জার্সি গাভীগুলি দেখবার মতন। পামার দিলখোলা, মজলিশি মানুষ, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে মদ্যপানে খুব উৎসাহ, অধ্যাত্ম ব্যাপারে তেমন কিছু আকর্ষণ নেই।

    একটা গিজার বক্তৃতায় বিবেকানন্দকে দেখে অনেকটা অভিনবত্বের কারণেই এই বিদেশিটিকে তাঁর বেশ পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। বিশাল বাড়ি, সংলগ্ন উদ্যান, অনেক পরিচারক-পরিচারিকা, বিবেকানন্দর কোনওই অসুবিধে হবার কথা নয়, অসুবিধে শুধু একটাই, প্রায় কখনও নির্জনে থাকার উপায় নেই। পামার নিজে গল্প করতে ভালবাসেন, তা ছাড়া রোজই তাঁর বাড়িতে পার্টি লেগে থাকে। সেই সব খাটিতে খাদ্য ও মদ্য অফুরান। পামার তাঁর যত চেনাগুনো বন্ধুদের ডেকে ডেকে এই তরুণ সন্ন্যাসীর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিতে চান।

    একদিন সেরকম এক পার্টিতে এক সাংবাদিক উপস্থিত। সে পামারকে জিজ্ঞেস করল, আপনি নাকি হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করছেন?

    পামার বললেন, যদি হিন্দু হই, তাতে তোমার আপত্তি আছে নাকি?

    সাংবাদিকটি বলল, না, না, আমি আপত্তি করতে যাব কেন? হিন্দু হলে আপনি কি ভারতবর্ষে চলে যাবেন?

    পামার বললেন, তাও যেতে পারি।

    সাংবাদিকটি বলল, কিন্তু আপনার যে এই এতগুলো ঘোড়া আর গরু, ওদের একদিনও না দেখে আপনি থাকতে পারেন না, ওদের কী হবে?

    পামার বললেন, ওগুলোও সব ভারতে নিয়ে যাব, তাতে কে আটকাবে আমাকে?

    এসব যদিও কথার কথা, কিন্তু পরের দিন একটি পত্রিকায় ছাপা হয়ে গেল যে, মিঃ পামার হিন্দুত্ব গ্রহণ করে ভারতে চলে যাচ্ছেন খুব শিগগিরই। তবে তাঁর দুটি শর্ত আছে, তার পারবেন ঘোড়াগুলো জগন্নাথদেবের রথ টানবে, আর তাঁর জার্সি গাভীগুলোকে হিন্দুর গো-মাতা হিসেবে গণ্য। করতে হবে।

    এই পামারের বাড়িতে থাকার সময়েই বিবেকানন্দর খাদ্য-পানীয় গ্রহণ সম্পর্কে আরও বদনাম রটে। পামারের বাড়িতে যে-ধরনের খাদ্য পরিবেশিত হয়, তা কোনও সন্ন্যাসীর উপযুক্ত বলে অনেকেই মনে করে না। মদ্যপায়ীরা মাংসের ভক্ত হয়, এবং মাংসও অনেক রকম। বিবেকানন্দ মাছ-মাংস আহার ও ঝাল-মশলা ছাড়েননি। আইসক্রিম ভালবাসেন ছেলেমানুষের মতন।

    এসব বদনাম বিবেকানন্দ গ্রাহ্য করেন না, কিন্তু তাঁর অন্য শুভার্থীরা অস্বস্তি বোধ করতে লাগলেন। শুধু শুধু বিৰুদ্ধপক্ষীয়দের হাতে এই ধরনের অস্ত্র তুলে দেওয়ার কী দরকার? প্রাক্তন এক গভর্নরের স্ত্রী মিসেস ব্যাগলি বিবেকানন্দকে খুব পছন্দ করেন। এই মহিলারও বয়েস ষাট পেরিয়ে গেছে, নানারকম সামাজিক সেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত, ধর্ম সম্পর্কে উদার মনোভাবসম্পন্ন। মিসেস ব্যাগলি বিবেকানন্দকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইলেন। পামারের তাতে ঘোর আপত্তি।

    বিবেকানন্দ পড়লেন মুশকিলে। পামারের আন্তরিকতার কোনও ত্রুটি নেই, বক্তৃতা ব্যবসায়ীর হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবার ব্যাপারে পামার অনেকটা প্রভাব খাটিয়েছিলেন, কী করে এখন হুট করে চলে যাবেন। দু’পক্ষের টানাহ্যাঁচড়ার মধ্যে কয়েকদিন কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি পামারকেই দুঃখ দিতে বাধ্য হলেন। কোনও মহিলার দাবি তাঁর পক্ষে অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়।

    এ দেশের নারীদের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বিবেকানন্দ। গোড়া থেকে নারীরাই তাঁকে সাহায্য করেছেন অনেকভাবে। এখনও তাঁর শুভার্থীদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। এঁদের অনেকের সঙ্গে তাঁর মা কিংবা বোনের মতন সম্পর্ক।

    শিকাগোয় প্রথম তিনি আশ্রয় পেয়েছিলেন লায়ন পরিবারে। লায়নরা চিনি কলের মালিক ও বিশেষ ধনী। লায়ন-গৃহিণী এবং তাঁর কন্যা, এঁরা দুজনেই বিবেকানন্দর চিন্তায় প্রভাবিত হয়েছিলেন। ধর্ম মহাসভার দিনগুলিতে বিবেকানন্দের দারুণ জনপ্রিয়তার সময়ে অনেক সুন্দরী তরুণী তাঁকে সব সময় ঘিরে থাকত, তা দেখে শ্রীযুক্তা লায়ন উদ্বিগ্ন বোধ করতেন। সন্ন্যাসী হলেও বয়েসটা তত কম, এত যুবতীদের সংস্পর্শে মাথা ঘুরে যাওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়। একদিন তিনি আড়ালে ডেকে সাবধান করে দিলেন বিবেকানন্দকে।

    বিবেকানন্দ হেসে বললেন, আপনি আমার মায়ের মতন, তাই আমার জন্য ভয় পাচ্ছেন। আমি এক সময় গাছতলায় শুয়ে থেকেছি, কোনও চাষার দেওয়া অম্নে জীবনধারণ করেছি। আবার এ কথাও সত্যি যে, আমিও কখনও কখনও কোনও মহারাজের বাড়িতে অতিথি হয়েছি এবং যুবতী দাসীরা ময়ুর পুচ্ছের ঝালর দেওয়া পাখায় সারারাত আমাকে বাতাস করেছে। সুতরাং প্রলোভনও আমি ঢের দেখেছি, আমাকে নিয়ে ভাবনার কিছু নেই।

    এই শিকাগোতেই তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা হয়েছিল হেল পরিবারের সঙ্গে। শ্ৰীযুক্তা হেল প্রকৃতই বিবেকানন্দের মাতৃসমা। এঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে, ছেলেটি কাজের সুত্রে অন্যত্র থাকে। এই পরিবারেই রয়েছে শ্রীযুক্তা হেলের বোনের দুই মেয়ে, এই চারটি যুবতীই বিক্বোনন্দকে খুব ভালবাসে, তিনিও এদের বোন বলে সম্বোধন করেন।

    মিশনারিরা এ বাড়িতেও বেনামি চিঠি পাঠিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন, এতগুলি যুবতী মেয়ের সঙ্গে ওই লোকটাকে বাড়িতে ঠাই দেওয়া একেবারেই উচিত নয়, কিছু একটা কেলেঙ্কারি ঘটে যেতে পারে।

    শ্রীযুক্তা হেল চিঠিখানা অগ্রাহ্য করে কুটিকুটি করে ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। এই বাড়িই বিবেকানন্দর স্থায়ী ঠিকানা, এখানে তাঁর কিছু কিছু জিনিসপত্র রাখা থাকে, তিনি অন্য যেখানেই যান, আবার ফিরে এসে এ বাড়িতে ওঠেন। এমনই সহজ ও সাবলীল সম্পর্ক যে, বিবেকানন্দর মাঝে মাঝে মনে হয়, তিনি বোধহয় পূর্ব জন্মে এই পরিবারেরই কেউ ছিলেন।

    বস্টনের কাছে কেমব্রিজে থাকেন শ্রীমতী ওলি বুল। ইনি একজন ধনী বিধবা, এঁর স্বামী ছিলেন নরওয়েতে প্রসিদ্ধ বেহালাবাদক। কেমব্রিজের জ্ঞানী-গুণী বুদ্ধিজীবীদের সমাজে প্রৌঢ়া শ্ৰীমতী ওলি বুলের বিশেষ একটি স্থান আছে, প্রায়ই তাঁর বাড়িতে নানা বিদ্বজ্জনের সমাবেশ ঘটে, খানাপিনার সঙ্গে সঙ্গে নানারকম উচ্চাঙ্গের আলোচনা হয়। শ্রীমতী ওলি বুল এখানে ইউরোপীয় প্রথার প্রবর্তন করেছিলেন। ইউরোপে অভিজাত সমাজের নারীরা শুধু সংসার বা তুচ্ছ আমোদ-প্রমোদে মণ্ড থাকেন না, তাঁরা কবি-শিল্পী-বিজ্ঞানীদের পৃষ্ঠপোষক হন, স্বগৃহের আসরে গুণীজনদের মাঝখানে এইসব মহিলারা মধ্যমণি হয়ে থাকেন।

    শ্রীমতী ওলি বুলের বৈঠকখানায় বিবেকানন্দ কয়েকবার বক্তৃতা দিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও জীবন দর্শনে শ্রীমতী ওলি বুল মুগ্ধ হয়ে যান, এবং বিবেকানন্দকে জানিয়ে দেন, তাঁর বাড়ির দরজা এই হিন্দু সন্ন্যাসীর জন্য সর্বদা উন্মুক্ত, বিবেকানন্দ যখন ইচ্ছে এখানে এসে থাকতে পারেন।

    বেসী স্টার্জেস ও জোসেফিন ম্যাকলাউড দুই বোন। এরাও ধনী পরিবারের কন্যা, এদের বাবা-মা তাঁদের সব ছেলে-মেয়েদের নাম রেখেছিলেন বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে। ইংল্যান্ডের রানির নামে বেসী, আর জোসেফিন ছিল নেপোলিয়ানের স্ত্রীর নাম। বেসীর স্বামী মারা গেছে কিছুদিন আগে, সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের ধনী শসা ব্যবসায়ী ফ্রান্সিস লেগেটের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়েছে, লেগেটও বিপত্নীক, সুতরাং দু’জনের বিবাহে বাধা নেই।

    বেসীর ছোট বোন জোসেফিন ম্যাকলাউড কাকে বিয়ে করবেন, সে বিষয়ে এখনও মনস্থির করতে পারেনি। সুস্বাস্থ্যের অধিকারিণী ও দারুণ প্রাণোচ্ছল এই রমণীটির পাণিপ্রার্থীর অভাব নেই, জোসেফিন কারুকেই তনু মন সঁপে দিতে পারে না। দু’একজনের সঙ্গে এনগেজমেন্ট হবার পরেও ভেঙে দিয়েছে। সব সময় তার মনে হয়, সংসার, স্বামী, পুত্র কন্যা, সুখ-সম্ভোগ, এসবই কেমন যেন ধরাবাঁধা জীবন, এ ছাড়া কি আর কিছু নেই? যেন আড়ালে রয়েছে অন্য এক জীবন।

    বেসীর ডাকনাম বেটি আর জোসেফিনের ডাকনাম জো, এই নামেই তারা বন্ধুমহলে পরিচিত। সমাজের ওপর মহলে এই দুই বোনেরই খুব সমাদর। এরা দুজনেই কিছুদিন ফ্রান্সে কাটিয়ে এসেছে, প্যারিসের শিল্পী, লেখক, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সংস্পর্শে এসে সাংস্কৃতিক রুচি উন্নত হয়েছে। আমেরিকানরা ফরাসি সংস্কৃতি ও আদরকায়দাকে সমীহ করে, সুতরাং তাদের চোখে এই দুই বোন অন্যদের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়া।

    বেটি আর জো নিয়মিত ছবির প্রদর্শনী দেখতে যায়, কোনও কনসার্ট বা থিয়েটার বাদ দেয় না, বিখ্যাত ব্যক্তিদের বক্তৃতাও শুনতে যায় আগ্রহের সঙ্গে। একদিন ডােরা নামে ওদের বান্ধবী স্বামী বিবেকানন্দ নামে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীর বক্তৃতার আসরে নিয়ে গেল। বেটি কিংবা জো আগে এই সন্ন্যাসীর নাম শোনেনি, ছবি দেখেনি, হিন্দু ধর্মটা কী ব্যাপার তাও জানে না। নিউইয়র্কের একটি অনভিজাত পল্লীতে নিতান্তই ঘরোয়া ব্যবস্থাপনা, একটা ভাড়া করা ঘরে কয়েকখানি মাত্তর চেয়ার পাতা, মোট পনেরো কুড়িজনেরও বসার ব্যবস্থা নেই, শ্রোতাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। দু-তিনজন মাত্র পুরুষ। মনে হয়, কোনও মহিলা সমিতিই উদ্যোগ নিয়েছে। কয়েকজন মেঝেতেই বসে পড়েছে, বাইরের সিঁড়িতে কয়েকজন, দুই বোন কোনওক্রমে ঘরের মধ্যে গিয়ে মাটিতেই বসল।

    একটু পরে স্বামী বিবেকানন্দ সে ঘরে ঢুকে দাঁড়ালেন এক কোণে। উজ্জ্বল কমলালেবু রঙের এক আলখাল্লা পরা, মাথায় পাগড়ি, হাত দুটি বুকের ওপর আড়াআড়ি, তাঁর চোখের দৃষ্টিতে কোনও আড়ষ্টতা নেই। জো’র বুকটা ধক করে উঠল। বিদ্যুৎ ঝলকের মতন তার মনে হল, এই লোকটিই তার জীবনে এ পর্যন্ত দেখা শ্রেষ্ঠ মানুষ। জো-র বয়েস সাঁইত্রিশ, এই সন্নাসীর বয়েস বত্রিশ।

    বিবেকানন্দ যখন বক্তৃতা শুরু করলেন, জো’র মনে হল এঁর প্রথম বাক্যটি সত্য, দ্বিতীয় বাক্যও সত্য, তৃতীয় বাক্যও সত্য। ইনি সত্যপথভ্রষ্টা।

    একটাও বাক্য বিনিময় হল না, তবু জো যেন এক ঘোরের মধ্যে রইল। বাড়িতে ফিরেও সে ঘোর কাটে না। এর পর আবার কোথায় বিবেকানন্দর বক্তৃতা আছে, সে খবর নিয়ে জো দিদিকে বলল, আমি আবার শুনতে যাব।

    এরপর পরপর ছ-সাত জায়গায় বক্তৃতা শুনতে গেল ওরা। বেটি বারবার যেতে চায় না। তার অন্য ব্যস্ততাও আছে, কিন্তু জো নাছোড়বান্দা, সে যাবেই। ছোট বোনকে একা ছেড়ে দিতে পারে না, বেটিও সঙ্গে যায়। কোনওবারই এরা বক্তাকে কোনও প্রশ্নও জিজ্ঞেস করে না, আলাপও করতে চায় না। বিবেকানন্দ কয়েকটি জায়গায় এদের দেখার পর মুখ-চেনা হয়ে গেছে, নিজেই একদিন ভদ্রতাবশত এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা বুঝি দুই বোন?

    জো মুখ নিচু করে রইল, বেটি বলল, হ্যাঁ।

    বিবেকানন্দ আবার জিজ্ঞেস করলেন, অনেক দূর থেকে আসেন বুঝি?

    বেটি বলল, খুব বেশি দূর নয়, আমরা থাকি হাডসন নদীর উজানে ডব্‌স ফেরি নামে একটা জায়গায়, এখান থেকে মাইল তিরিশেক হবে!

    বিবেকানন্দ বললেন, সে তো অনেক দূর! বাঃ চমৎকার।

    ব্যস, এই পর্যন্ত, আর কিছু না।

    জো বিবেকানন্দর সঙ্গে কথা বলে না বটে, কিন্তু বিবেকানন্দর ভাষণের প্রতিটি শব্দ সে মনে গেঁথে নিতে চায়। সব মনে রাখা সম্ভব নয়, বেদান্ত বা ভগবৎ গীতা সম্পর্কে অনেক শব্দই অপরিচিত। জো নিজের পয়সা খরচ করে একজন স্টেনোগ্রাফার নিয়োগ করল, সে ওদের সঙ্গে এসে সব কিছু লিখে নেবে।

    মিঃ গুডউইন অতি দক্ষ স্টেনোগ্রাফার, প্রতি মিনিটে দু’শো শব্দ লিখে নিতে পারে, সে আদালতে কাজ কবে, অন্য সময় কারও ব্যক্তিগত কাজে নিযুক্ত হলে অনেক পয়সা নেয়। এক সপ্তাহ কাজ করার পরই গুডউইন বলল, সে এই কাজের জন্য কোনও পয়সা নেবে না। জো জিজ্ঞেস করল, সে কী! কেন? গুডউইন বলল, যদি বিবেকানন্দ নিজের জীবনটাই দান করে দিতে পারেন, তা হলে আমি কি অন্তত এইটুকুও ছাড়তে পারব না?

    ফ্রাঙ্ক লেগেট একদিন তাঁর ভাবী স্ত্রী ও হবু শ্যালিকাকে ডিনার খেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ওয়ালডর্ফ হোটেলে। টেবিলে বসে লেগেট লক্ষ করলেন, দুই বোনই কেমন যেন ছটফট করছে আর মাঝে মাঝে পরস্পরের চোখের দিকে তাকাচ্ছে। ঠিক আটটা বাজতেই দু’জনে উঠে দাঁড়াল, বেটি বলল, দুঃখিত, আমরা আর থাকতে পারছি না, আমাদের আর এক জায়গায় যাবার কথা আছে।

    ডিনার টেবিল ছেড়ে এইভাবে হঠাৎ উঠে যাওয়াটা অসভ্যতা বলে গণ্য হতে পারে। ফরাসি সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত এই দুই বোনের কাছ থেকে এ রকম ব্যবহার আশা করাই যায় না। লেগেট ভু কুঞ্চিত করে জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাবে, জানতে পারি কি?

    বেটি বলল, একজনের বক্তৃতা শুনতে।

    লেগেট আরও কৌতূহলী হয়ে বললেন, সেখানে কি আমার পক্ষেও যাওয়া সম্ভব?

    বেটি আর জো-র ভয় ছিল, লেগেটের মতন একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী বোধহয় এক হিন্দু সন্ন্যাসীর মুখে ধর্মকথা শুনতে যাবার মতন ব্যাপার পছন্দ করবেন না। সেই জন্যই আগে যে তারা অনেকবার গিয়েছে, তা বিন্দুবিসর্গ জানায়নি লেগেটকে। সেদিনকার বক্তৃতার স্থানটি ছিল ওয়ালড় হোটেলের প্রায় উল্টোদিকের এক বাড়িতে। বসার জায়গা নেই, দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে লেগেট শুনলেন সম্পূর্ণ বক্তৃতা। দুই বোন বারবার তাকিয়ে দেখছে, লেগেটের মুখে কোনও বিরক্তির রেখা ফুটছে কি না!

    অনুষ্ঠান শেষ হবার পর লেগেট এগিয়ে গিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে বিনীতভাবে বিবেকানন্দকে বললেন, আপনি যদি এক সন্ধ্যায় আমার বাড়িতে ডিনার খেতে আসেন, তা হলে আমি ধন্য হব। আমার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে আপনার পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

    লেগেটের বাড়িতে ডিনার পার্টিতে তাঁর বন্ধু বলতে মাত্র দু’জন আমন্ত্রিত, তাঁর ভাবী স্ত্রী ও শ্যালিকা। সেখানেই বেটি আর জো-র সঙ্গে প্রকৃত পরিচয় হল বিবেকানন্দর। একবার জড়তা কেটে যাবার পর দুই বোন কথার বন্যা বইয়ে দেয়। বিবেকানন্দও হাসি-ঠাট্টা-গল্প-তত্ত্বকথায় অত্যল্প কালের মধ্যেই ওদের অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। জো’র ধারণা, বিবেকানন্দকে সে প্রথম যেদিন দেখেছে, সেইদিনই তার নবজন্ম হয়েছে। সে বিবেকানন্দকে আর ছাড়তেই চায় না। এ বাড়িতে ঘন ঘন বিবেকানন্দর ডাক পড়তে লাগল।

    এই রকম আরও অনেক রমণীই বিবেকানন্দর ভক্ত হয়ে তাঁকে সাহায্য করতে লাগল নানাভাবে। তাঁর আহার বাসস্থানের চিন্তা আর রইল না।

    ব্যবসায়ী কম্পানির সঙ্গে বক্তৃতার চুক্তি ছিন্ন করার পরও বক্তৃতা দেওয়া থেকে নিষ্কৃতি পেলেন না বিবেকানন্দ। অনেকেই তাঁর কথা শুনতে চায়, বন্ধুদেরও ইচ্ছে যত বেশি মানুষের কাছে সম্ভব, তিনি ভারতের আত্মিক সম্পদের কথা প্রচার করুন। তবে এখন আর টিকিট কাটার ব্যবস্থা নেই, শুভার্থীরাই কেউ হল ভাড়া ও অন্যান্য ব্যবস্থা করে। দরজার কাছে একটা বাক্স রাখা থাকে, শ্রোতাদের যার যা ইচ্ছে ওর মধ্যে দিয়ে যায়। তাতেই চলে যায় দৈনন্দিন খরচ।

    বিরুদ্ধপক্ষীয়রা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে সমানে, বিবেকানন্দ তা নিয়ে বিচলিত না হলেও, একটা ব্যাপার তাঁর মনকে পীড়া দেয়। প্রথম থেকেই একটা অভিযোগ উঠেছে, বিবেকানন্দ লোকটি প্রকৃতপক্ষে কে? ভারতে ক’জন তাঁকে চেনে? হিন্দু ধর্মের পক্ষ নিয়ে কথা বলার তিনি কতটা অধিকারী? ভারতের কোনও পত্র-পত্রিকাতেও তো তাঁর সম্পর্কে বিশেষ উল্লেখ দেখা যায় না। বিবেকানন্দর যারা ঘনিষ্ঠ, যারা ভক্ত, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ এই ব্যাপারটা নিয়ে কখনও কখনও সন্দেহ প্রকাশ করে।

    বিবেকানন্দ মাদ্রাজে আলাসিঙ্গাকে বারবার চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তোমরা ওখানে একটা সভা ডেকে আমার কার্যাবলি সম্পর্কে কিছু প্রস্তাব গ্রহণ করে এখানে কিছু সংবাদপত্রে ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তার অনুলিপি পাঠাও। কলকাতার গুরুভাইদের কাছেও সেই সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভারতে যে আঠারো মাসে বছর! বিবেকানন্দ চিঠির পর চিঠি লিখছেন, তবু কোনও সাড়াশব্দ নেই। অবশ্য বিবেকানন্দর প্রতি আলাসিঙ্গার আনুগত্য তুলনাহীন। ব্যবস্থাপনায় দেরি হলেও মাদ্রাজে একটি জনসমাবেশে বিবেকানন্দকে সমর্থন জানানো হল। তারপর আরও দুটি সভা হল কুম্ভকোনম ও বাঙ্গালোরে। রামনাদের রাজা এই তরুণ সন্ন্যাসীর কীর্তিকে প্রশংসা করে একটি ব্যক্তিগত চিঠি লিখলেন। খেতড়ির রাজা অজিত সিং স্বামীজির ভক্ত ও বন্ধু, তিনি দরবার ডেকে স্বামীজির আমেরিকা-বিজয়ের কাহিনী ঘোষণা করলেন এবং সকলের সহর্ষ অনুমোদনের কথা জানিয়ে দিলেন বিবেকানন্দকে।

    কলকাতাতেও টাউন হলে অনুষ্ঠিত হল বিবেকানন্দর সংবর্ধনা সভা। সভাটি এক হিসেবে অভূতপূর্ব, কারণ এর আগে রাজা-মহারাজা কিংবা ইংরেজ রাজপুরুষদেরই সভা ডেকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে, এক তরুণ সন্ন্যাসীকে এভাবে নাগরিক সংবর্ধনা আগে কখনও জানানো হয়নি। সভাপতিত্ব করলেন রাজা প্যারীমোহন মুখোপাধ্যায়। আরও অনেক রাজা-মহারাজা, জব্যরিস্টার, তর্কবাগীশ-ন্যায়রত্ন, সমাজের মাথা মাথা ব্যক্তিরা উপস্থিত। এদের মধ্যে প্রায় কেউই আগে কখনও বিবেকানন্দ তথা নরেন্দ্রনাথ দত্তের পরিচয় জানতেন না, কিন্তু এ দেশেরই একটি ছেলে সুদূর আমেরিকায় গিয়ে ভারতীয় ধর্ম-সংস্কৃতির ধ্বজা উড়িয়েছেন প্রবল বিক্রমে, এই সংবাদ জেনে তাঁরা অভিভূত। খ্রিস্টান বা মুসলমানদের মতন হিন্দুদের কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা নেই, একক অভিযানে গিয়েছেন বিবেকানন্দ।

    যথা সময়ে এই সব সভা-সমিতির সংবাদ আমেরিকায় পৌঁছল। ভারতের সংবাদপত্রে এই সভাগুলির বিবরণ ছাপা হলে জনসাধারণের মধ্যে বিবেকানন্দের কৃতিত্বের কথা প্রচারিত হল। আমেরিকাতেও অনেকে বুঝে গেল, এই মানুষটি ভারতের প্রতিনিধি হবার যোগ্য, সমালোচকদেরও মুখ বন্ধ হল খানিকটা।

    ফ্র্যাঙ্ক লেগেটের একটি বাগানবাড়ি আছে নিউ হ্যামপশায়ারে, সেখানে তিনি বেটি আর জো-কে সঙ্গে নিয়ে ছুটি কাটাতে যাবেন কয়েকদিনের জন্য, দুই বোনের ইচ্ছে, স্বামীজিকেও আমন্ত্রণ জানানো হোক।

    একটা হ্রদ, তার চতুর্দিকে ঘন সবুজ অরণ্য, পটভূমিকায় পাহাড়ের সারি। সেই স্থানের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে মোহিত হয়ে গেলেন বিবেকানন্দ। কাছাকাছি আর কোনও বাড়ি নেই, আর কোনও মানুষজনের দেখা পাওয়া যায় না। এই স্নিগ্ধ নির্জনতায় বিবেকানন্দর ক্লান্ত শরীর ও মস্তিষ্ক বহুদিন পর জুড়িয়ে গেল।

    সুদৃশ্য একটি কাঠের দোতলা বাড়ি সমেত এত বড় সম্পত্তি, তবু লেগেট বিনয় করে এর নাম। দিয়েছেন, মাছ ধরার তাঁবু। এখানে এসে লেগেট ব্যবসা ও টাকা পয়সার চিন্তা ভূলে একটা ছিপ নিয়ে হ্রদের ধারে বসে সারাদিন মাছ ধরার চেষ্টায় কাটিয়ে দেন। বিবেকানন্দ দৃই বোনাকে নিয়ে অরণ্যে ঘুরে বেড়ান, কখনও একটা ক্ষুদ্র নৌকো নিয়ে ভেসে পড়েন হ্রদের জলে, তিনি নিজেই দাঁড় বাইতে পারেন, কলকাতায় হেদোর পুকুরে তাঁর নৌকো চালানোর অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লেগে যায়। কখনও ওদের তিনি সংস্কৃত গ্রন্থ পাঠ করে শোনান। কিছু না বুঝলেও জো সংস্কৃত মন্ত্র উচ্চারণ শুনতে ভালবাসে, সেই শব্দ ঝংকার তার

    দুই বোন নানা রকম নতুন নতুন বান্না করে বিবেকানন্দকে খাওয়ায়। নারীদের যতের আধিক্যে ইদানীং তিনি বেশ মোটা হয়ে গেছেন, তাঁর ওজন প্রায় দু’মণ। তাঁর উচ্চতা পাঁচ ফুট সাড়ে আট ইঞ্চি, তাই মেদস্ফীতি তেমন বোঝা যায় না।

    একদিন সকালবেলা বিবেকানন্দ একখানা বই হাতে নিয়ে নিজের ঘর ছেড়ে বাগানের দিকে যাচ্ছেন, জো জিজ্ঞেস করল, স্বামীজি, কোথায় চললেন? একটু পরেই যে ব্রেকফাস্ট দেবে।

    বিবেকানন্দ আঙুল তুলে বললেন, জো, আমি ওই পাইন গাছটার তলায় বসে কিছুক্ষণ গীতা পাঠ করব। ব্রেকফাস্ট তৈরি হলে আমায় ডেকো। আজ অনেক কিছু খাওয়াবে তো?

    বিবেকানন্দ গিয়ে বসলেন পাইন গাছটার নীচে, জো চলে গেল রান্নাঘরে তদারকি করতে। একটুক্ষণ গীতা পাঠ করলেন তিনি, তারপর এক সময় মনে হল, এ দেশে কী করছি আমি? কোথা থেকে কোথায় চলে এলাম। সমুদ্র পাড়ি দেবার সময় কত রকম অনিশ্চয়তা ছিল, তারপর এ দেশে এসে যেমন প্রচুর সম্মান, ভালবাসা, স্নেহ, যত্ন পেয়েছি, তেমনি কত বাধা, কত অপমান, কত গ্লানি সইতে হয়েছে। নাপিতের দোকানে পয়সা দিয়ে চুল কাটতে গেছি, তারা ঢুকতে দেয়নি, আবার কত মানুষ অযাচিতভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে সাহায্যের হাত, ঘূর্ণিবায়ুর মতন পার হয়ে এলাম কত শহর-জনপদ। এ দেশের মানুষ বেদান্তের বাণী আগে শোনেইনি, এখন কিছু কিছু নারী-পুরুষ বুঝতে শুরু করেছে, তবু আমি এই যে পাগলের মতন বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছি, এতে সত্যিই কি পরমার্থ সাধিত হবে?

    তিনি আরও ভাবতে লাগলেন, এই জীবনের পরিণতি কোথায়! সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসব্রত নিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম পরিব্রাজক হয়েই কাটিয়ে দেব সারাজীবন, কিন্তু এ দেশে এসে বিভিন্ন পরিবারে আশ্রয় গ্রহণ করতে হচ্ছে। মানুষের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে ইচ্ছে করে, কিন্তু কোন পথে সেই মুক্তি? এ দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থা দেখে বারবার মনে পড়ে ভারতের কোটি কোটি নিরন্ন, হতভাগা মানুষের কথা। মনে পড়ে কোন পথে তাদের মুক্তি? ক্ষুধার্ত মানুষের অন্নের ব্যবস্থা না করে তাকে ধর্মকথা শোনানোও পাপ। আমার স্থান এখানে নয়, স্বদেশে। দুঃখী, বঞ্চিত মানুষদের সেবা করাই পরম ধর্ম। শুধু সেবা নয়, সেই মানুষগুলোকে জাগাতে হবে, তারা মানুষ হিসেবে নিজেদের বেঁচে থাকার অধিকার দাবি করবে…

    কিছুক্ষণ পর জো বিবেকানন্দকে ডাকতে এসে আতকে উঠল। পাইন গাছে ঠেস দিয়ে একেবারে নিস্পৃন্দের মতন বসে আছেন স্বামীজি। বইখানা পড়ে গেছে হাত থেকে, আলখাল্লার বুকের কাছটা ভিজে গেছে তাঁর চোখের জলে। আরও কাছে গিয়ে জোর মনে হল, স্বামীজির নিশ্বাস পড়ছে না, বুকে কোনও স্পন্দন নেই।

    দৌড়ে গিয়ে সে লেগেটকে বলল, স্বামীজি আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বেটি তাই শুনে শুরু করে দিল কান্না। তিনজনে পাইন গাছের কাছে এসে বিবেকানন্দকে একই অবস্থায় দেখতে পেল। সত্যিই মনে হয়, ওই শরীরে প্রাণ নেই। দু হাতে মুখ ঢেকে জো আর বেটি বসে পড়ল মাটিতে। লেগেট বললেন, উনি আমাদের ভাব-সমাধির কথা বলেছিলেন, এটা সে রকম কিছু নয় তো? একবার শরীরটা ঝাঁকুনি দিয়ে দেখব?

    জো আর্ত চিৎকার করে বলল, না, না!

    সে একবার স্বামীজির মুখে শুনেছিল, কারুর ভাব-সমাধি হলে তখন তাকে স্পর্শ করতে নেই!

    একটু পরে সেই নিস্পন্দ শরীরে যেন সামান্য প্রাণের লক্ষণ দেখা গেল। নিশ্বাস পড়তে লাগল আস্তে আস্তে। অর্ধ নিমীলিত চক্ষু আর একটু উন্মুক্ত হল। মৃদু, খুবই মৃদু স্বরে তিনি যেন নিজেকেই প্রশ্ন করলেন, আমি কে? আমি কোথায়?

    তিনবার এই বকম বলে তিনি আচ্ছন্নের মতন উঠে দাঁড়ালেন। তারপর পূর্ণ দৃষ্টি মেলে তিনি দেখতে পেলেন সামনে তিনটি পাংশু মুখ।

    তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা অমন করে চেয়ে আছ কেন? কী হয়েছে?

    জো কেঁদে উঠে আপ্লুত স্বরে বলল, স্বামীজি। স্বামীজি। আমরা এত ভয় পেয়েছিলাম।

    বিবেকানন্দ বললেন, ইস, আমি দুঃখিত। তোমাদের ভয় দেখাতে চাইনি, কিন্তু কী করব, আমার চেতনা মাঝে মাঝেই সীমা ডিঙিয়ে যাচ্ছে। তবে একটা কথা জেনে রাখো, আমি আমার দেহটা এ দেশে ফেলে বেখে যাব না।

    একটু থেমে তিনি আবার হেসে বললেন, কই গ্যে, ব্রেকফাস্ট তৈরি হয়েছে? বড় ক্ষিদে পেয়ে গেছে। চলো, চলো, খাবার টেবিলে চলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article পিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }