Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৭৫. অস্থায়ী মন্দির বানিয়েছেন অরবিন্দ

    বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই একটি অস্থায়ী মন্দির বানিয়েছেন অরবিন্দ। দেখতে সাধারণ কুটিরের মতন। তার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বগলা মূর্তি। সোনায় মোড়া এই মূর্তিটি অরবিন্দ নিজ ব্যয়ে প্রস্তুত করিয়েছেন। সিংহাসনে উপবিষ্টা এই দেবী পীতবর্ণা, পীত আভরণ ও পীতবর্ণ মালা পরে আছেন গলায়। গম্ভীর আকৃতি, যেন সব সময় মদোন্মত্তা, স্তনযুগল দৃঢ় ও স্কুল, দেবীর ডান হাতে মুগুর, অন্য হাতে এক প্রতিস্পর্ধীর জিভ টেনে ধরে আছেন। মুগুরের আঘাতে তিনি শত্রুকে দমন করার জন্য উদ্যত।

    একজন ব্রাহ্মণ পূজারী নিযুক্ত হয়েছে, তা ছাড়া অরবিন্দ নিজে প্রতিদিন অতি ভোরে উঠে স্নান সেরে নিয়ে সেই দেবীমূর্তির সামনে ধ্যানে বসেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, তখন যেন তাঁর বাহ্যজ্ঞান থাকে না। দুপুরবেলা কলেজে পড়াতে যান বটে, কিন্তু সন্ধের পরই আবার সেই কুটিরে বসে পূজারীটির নির্দেশে তন্ত্রমতে সাধনা শুরু করেন।

    ব্রাহ্ম পরিবারের সন্তান, প্রায় আবাল্য ইংলন্ডে লালিত পালিত অরবিন্দ এখন ঘোরতর হিন্দু। শরীর-মন থেকে বিলিতি গন্ধ পুরোপুরি মুছে ফেলতে চান। মাঝে মাঝেই শরীরে ছাই মাখা জটাজুটধারী যোগীরা আসেন তাঁর কাছে, তিনি নিভৃতে শাস্ত্র আলোচনা করেন তাঁদের সঙ্গে।

    বরোদায় অরবিন্দর পরিচিত দু-চারজন ব্যক্তি আগে মাঝে মাঝেই গল্পগুজব করতে আসতেন এ বাড়িতে। কাব্যশাস্ত্র নিয়ে তর্কবিতর্ক হত, পেয়ালার পর পেয়ালা চা ও প্রচুর সিগারেটের ধোঁয়া উড়ত, এখন তাঁরা এসে অরবিন্দকে প্রায় সব সময় পূজার ঘরে দেখে নিরাশ হয়ে ফিরে যান।

    হিন্দুর ছেলে আবার স্বধর্মে ফিরে এসেছে, এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। তবু কয়েকজন বলাবলি করেন যে হিন্দু ধর্মে এত দেব-দেবী থাকতে অরবিন্দ হঠাৎ ভয়ংকরী বগলা মূর্তি পূজায় মেতে উঠলেন কেন? দশ মহাবিদ্যার অন্তর্গত এই বগলামুখী দেবীর আরাধনা সাধারণত গৃহস্থবাড়িতে হয় না। তান্ত্রিকেরা এই মূর্তির সামনে সাধনা করেন শত্রু বধের জন্য। অরবিন্দ ঘোষের তেমন শত্রু কে? এই নিরীহ, শান্ত, লাজুক, মৃদুভাষী অধ্যাপকটির কোনও শত্রু থাকতে পারে বলে বিশ্বাসই হয় না।

    ব্যক্তিগতভাবে অরবিন্দর কোনও শত্রু নেই। মাতৃস্নেহবঞ্চিত অরবিন্দ এই দেশকেই মা বলে মেনেছেন। দেশের শত্রুই তাঁর চিরশত্রু। যতদিন না এই শত্রুকে বিতাড়িত করা যায়, ততদিন তাঁর মনে এক ফোঁটা শান্তি নেই। অরবিন্দর এই যে ধর্মাচরণ, তা নিছক নিজের আত্মিক উন্নতির জন্য নয়, দেশজননীকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করাই তাঁর পরম উদ্দেশ্য। কয়েকবছর আগে বারীন ও যতীনের মাধ্যমে সশস্ত্র বিপ্লবের প্রয়াস ব্যর্থ হয়ে গেছে। অরবিন্দ তবু হাল ছেড়ে দেননি। অনেক ভেবেচিন্তে তিনি বুঝেছেন, এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ বা ধর্মভীরু, সাধারণভাবে ডাক দিলে অনেকে সমবেত হবে না, দু-চারজন এলেও দলাদলি, ঝগড়া শুরু করবে। কিন্তু ধর্মের নামে অনেককে একত্র করা যায়, ধর্মের নামে অনেক মানুষ যে-কোনও শপথ নিতেও প্রস্তুত।

    অরবিন্দ অনেকদিন থেকেই বঙ্কিমচন্দ্রের ভক্ত। আনন্দমঠ উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র দশপ্রহরণধারিণী দুগাঁর মূর্তি বর্ণনা করেছেন, সেই মূর্তির পদতলে বসে সংগঠিত হয়েছিল সন্তান সৈন্যদল। অরবিন্দ দুগার বদলে বগলামুখী দেবীকে বেছে নিয়েছেন, তার কারণ এই দেবী আরও হিংস্র, আরও ক্ষিপ্র! আনন্দমঠ প্রায় একটি কল্পিত কাহিনী, অরবিন্দ চান কোনও গোপন স্থলে সত্যি সত্যি একটি ভবানী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হোক, সেখানে সাধনা-আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে শত শত যুবককে দেওয়া হবে অস্ত্রশিক্ষা। দেবীমূর্তির সামনে দেশের জন্য জীবন দান করতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবে, তারপর ছড়িয়ে পড়বে বিপ্লবের আগুন। এই পরিকল্পনা নিয়ে অরবিন্দ ‘ভবানী মন্দির নামে একটি পুস্তিকা লিখতেও শুরু করেছেন।

    বারীন এখন এখানেই থাকে। মাঝে মাঝে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায়, আবার ফিরে আসে। কাজকর্ম কিছু করে না, তবে বারীনের লঘু স্বভাবের কিছুটা বদল হয়েছে। সে অনেক বইপত্র পড়ে, কিছু লেখালিখিও করে।

    বাড়িতে কোনও নারী না থাকলে সংসারের শ্রী থাকে না। বিবাহ করলেন বটে, তবু অরবিন্দর বিবাহিত জীবন ঠিক পরিপূর্ণতা পেল না, মৃণালিনী থাকতে চান না বরোদায়। বাপের বাড়িতেও মৃণালিনীর স্বস্তি নেই। কেউ কেউ তাঁর স্বামীর নামে আভাসে-ইঙ্গিতে খোঁটা দেয়। সবাই বলে, মৃণালিনীর স্বামী প্রকাণ্ড বিদ্বান ও অসাধারণ পুরুষ, কিন্তু তিনি সারাজীবন বরোদার মতন একটি ছোট জায়গায় অধ্যাপকগিরি করে যাবেন? এতে অসাধারণত্ব কোথায়? কলকাতায় এলে অন্য চাকুরিতে কত উন্নতি হতে পারত, অরবিন্দর উন্নতির কোনও চেষ্টাই নেই। অধ্যাপকগিরিতে কতই বা উপার্জন হবে!

    মৃণালিনী অভিযোগ জানিয়ে চিঠি লেখেন। সে চিঠি পড়ে হাসতে হাসতে মাথা নাড়েন অরবিন্দ। উন্নতি? না, কোনও দিন হবে না। তাঁর মাথায় যে একটা পোকা ঢুকে আছে, চাকরির উন্নতির চেষ্টা করার জন্য তিনি জন্মাননি।

    স্ত্রীকে বোঝাবার জন্য অরবিন্দ এক দিন একটা লম্বা চিঠি লিখলেন : প্রিয়তমে মৃণালিনী, তুমি যে রকম উন্নতি চাও, তা আমার হবে কী করে? আমার মাথায় যে তিনটে পাগলামি আছে!

    প্রথম পাগলামি হচ্ছে, নিতান্ত সাধারণ মানুষের মতন খেয়ে পরে থেকে আমার উপার্জনের বাকি টাকা আমি দেশের অভাবগ্রস্ত লোকদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে চাই। এ দেশে আমার তিরিশ কোটি ভাইবোন আছে, তাদের মধ্যে অনেকে অনাহারে মরছে। অধিকাংশই দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে কোনও রকমে টিকে থাকে। তাদের হিত করব না!

    দ্বিতীয় পাগলামিটা সম্প্রতি আমার ঘাড়ে চেপেছে। যে-কোনও উপায়ে ভগবানের সাক্ষাৎ দর্শন লাভ করতে হবে। …ঈশ্বর যদি থাকেন, তবে তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করবার, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার কোনও না কোনও পথ অবশ্যই থাকবে। সে পথ যতই দুর্গম হোক, আমি সে পথে যাবার জন্য দৃঢ় সংকল্প করে বসেছি।

    আর তৃতীয় পাগলামিটা কী জানো? অনেক লোকই স্বদেশকে একটা জড় পদার্থ, কতগুলো মাঠ, খেত, বন, পর্বত, নদী বলে জানে। আমি স্বদেশকে মা বলে জানি, ভক্তি করি, পূজা করি। মায়ের বুকের ওপর বসে যদি একটা রাক্ষস রক্তপানে উদ্যত হয়, তা হলে ছেলে কী করে? নিশ্চিন্তভাবে খাওয়া দাওয়া করতে বসে, স্ত্রী-পুত্রের সঙ্গে আমোদ প্রমোদ করতে বসে, না মাকে উদ্ধার করার জন্য দৌড়ে যায়? আমি জানি, এই পতিত জাতিকে উদ্ধার করার বল আমার আছে, শারীরিক বল নয়, তলোয়ার-বন্দুক নিয়ে আমি যুদ্ধ করতে যাচ্ছি না। জ্ঞানের বল। ক্ষাত্র তেজ একমাত্র তেজ নয়, ব্ৰহ্মতেজও আছে। সেই তেজ জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

    শেষ দিকটা একটু ধোঁয়াটে করে রাখলেন অরবিন্দ। শুধু জ্ঞান নয়, তিনি যে তলোয়ার বন্দুক নিয়েও যুদ্ধ শুরু করার পক্ষপাতী, সে কথা আর জানালেন না। মৃণালিনীর পিতা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মচারী, কোনওক্রমে এই চিঠি তাঁর হাতে পড়লে বিপর্যয় হতে পারে।

    বারীনের তেমন পূজো-আচ্চায় মতি নেই। দাদার ধর্মাচরণ সে খানিকটা কৌতূহলের চোখে দেখে। দাদার সঙ্গে ইদানীং কথাবার্তারও সুযোগ ঘটে না। একদিন সে অরবিন্দকে বলল, সেজদা, তুমি ‘পাইয়োনিয়ার’ পত্রিকাটি পড়েছ? সত্যি সত্যি বাংলা দু ভাগ হয়ে যাচ্ছে, তাই নিয়ে কলকাতায় ধুন্ধুমার কাণ্ড শুরু হয়েছে। আমি

    অরবিন্দ কাগজ পড়েননি, কিন্তু কলেজ লাইব্রেরিতে এই আলোচনা শুনে এসেছেন। অন্য অধ্যাপকরা বলাবলি করছে যে বাঙালিরা সরাসরি ইংরেজ বিরোধিতায় নেমে পড়েছে, সমস্ত বিদেশি দ্রব্য বর্জন শুরু হয়ে গেছে। ইংরেজদের দোকানপাটে কেউ যায় না, বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। কেউ বিদেশি পোশাক পরে রাস্তায় বেরুলেও অন্য লোকেরা তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে। এমনকী ছাত্ররাও বলে দিয়েছে, তারা সরকারি স্কুল কলেজে আর পড়তে যাবে না। এমন. কাণ্ড ভূ-ভারতে কখনও হয়নি। বাঙালিরা এত সাহস পেল কী করে?

    অরবিন্দ জিজ্ঞেস করলেন, এই আন্দোলন কারা চালাচ্ছে? পেছনে কোন দল আছে?

    বারীন বলল, সব কাগজেই এই আন্দোলনের খবর ছাপছে। কোনও দলের তো উল্লেখ দেখি। কংগ্রেস থেকে কোনও প্রস্তাব নেওয়া হয়নি। কোনও কোনও নেতা অবশ্য প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছেন, কেউ কেউ আড়ালে আছেন। সুরেন বাঁড়জ্যেকে তো জানোই, যতটা নরম, ততটা গরম হতে পারেন না। স্বদেশি আন্দোলন চালিয়ে যাবার পক্ষপাতী, কিন্তু ছেলেরা সরকারি স্কুল কলেজ বর্জন করুক তা তিনি চান না।

    অরবিন্দ বললেন, অবশ্যই বর্জন করা উচিত। ও সব জায়গায় তো গোলামির শিক্ষা দেওয়া হয়। ওরকম শিক্ষা না পেলেও ক্ষতি নেই!

    বারীন বলল, একটা কাগজে একটা অদ্ভুত ঘটনা লিখেছে। বাগবাজারের একটা বাড়িতে একটা ছ’ বছরের ছেলের খুব অসুখ। তার বাবা ডাক্তার ডেকে এনে দেখাবার পর তাকে যেই ওষুধ খাওয়াতে গেছেন, অমনি ছেলেটা চিৎকার করে উঠল, না, বিদেশি ওষুধ খাব না, কিছুতেই খাব না, কবিরাজি ওষুধ খাব। …ওইটুকু ছেলেও যদি এরকম কথা বলে, তা হলে ব্যাপারটা কতখানি ছড়িয়েছে ভেবে দ্যাখো!

    অরবিন্দ খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইলেন। ইদানীং তিনি সিগারেট কম খান, ব্র্যান্ডি পানও কমিয়ে দিয়েছেন। চক্ষু মুদে যেন ধ্যানমগ্ন অবস্থা। তারপর চোখ খুলে বললেন, কলকাতায় এ রকম কাণ্ড ঘটছে, তুই এখানে বসে থেকে কী করবি? তুই কলকাতায় চলে যা।

    বারীন বলল, আমিও সেই কথা ভাবছিলাম। মনটা উতলা হয়ে আছে। বয়কট আন্দোলন স্বচক্ষে দেখতে চাই।

    অরবিন্দ বললেন, শুধু দেখলে চলবে না। পুরনো সঙ্গী-সাথিদের আবার জোগাড় কর। আন্দোলন যেন ঝিমিয়ে না পড়ে, সব সময় তাতিয়ে রাখতে হবে!

    বারীন জিজ্ঞেস করল, সেজদা, তুমি যাবে না? তোমার যেতে ইচ্ছে করছে না?

    অরবিন্দ বললেন, ইচ্ছে তো করছে অবশ্যই। মনের মধ্যে একটা নির্দেশ পেয়েছি, বরোদা ছেড়ে আরও বৃহত্তর কেন্দ্রে আমাকে যেতে হবে। এখানকার সব কিছু গুটিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করি, কলকাতার আন্দোলন আরও জোরদার হলে আমি অবশ্যই গিয়ে উপস্থিত হব। তুই কাল-পরশুই রওনা হ।

    বারীন বলল, কলকাতায় গিয়ে থাকব কোথায়?

    অরবিন্দ বললেন, প্রথমে গিয়ে আমার শ্বশুরবাড়িতেই উঠতে পারিস। তারপর অন্য আস্তানা খুঁজে নিবি।

    বারীন বলল, সেজদা, আমি আর একটা কথা ভাবছিলাম। নিজেদের একটা কাগজ বার করলে কেমন হয়? এখন প্রকাশ্যেই অনেক কথা ঘোষণা করা দরকার।

    অরবিন্দ বললেন, সেও খুব ভাল কথা। দেখ যদি পারিস। একা তো কাগজ চালানো যায়, দলবল জোগাড় করতে হবে। দুটো কাগজ বার করা দরকার, একটা ইংরেজি, একটা বাংলা।

    বারীন কলকাতায় পৌঁছল বেলা এগারোটায়। হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে তাকে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হল। জাহাজ চলাচলের জন্য হাওড়া ব্রিজ খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন ওপারে যাওয়া যাবে না। যাত্রীরা গঙ্গার ধারে ভিড় করে আছে, ফেরিওয়ালারা চিনেবাদাম, ফুটকড়াই, গোলাবি রেউড়ি বিক্রি করছে ঘুরে ঘুরে। এক জায়গায় গোটা চারেক যুবক, মনে হয় কলেজের ছাত্র, গান জুড়েছে সমস্বরে। তাদের খালি পা, পরনে ধুতি, উধ্বাঙ্গে জামা নেই, শুধু একটা চাদর জড়ানো।

    বারীন কৌতূহলী হয়ে সেখানে গিয়ে উঁকি দিল। ভদ্র বংশের ছেলেদের এমন ভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গান গাইতে আগে সে কখনও দেখেনি। গানটিও নতুন, অশ্রুতপূর্ব।

    আমার সোনার বাংলা, আমি
    তোমায় ভালবাসি
    চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস
    তার আমার প্রাণে, ও মা আমার প্রাণে
    বাজায় বাঁশি…

    গানটির সরল আবেগ সোজাসুজি বুকে এসে ধাক্কা দেয়। এ গানের সুরেও যেন বাংলার বাতাস হিল্লোলিত হচ্ছে। বারীন পাশের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করল, হ্যাঁ মশাই, এ গানটি কার রচনা?

    লোকটি বলল, জানেন না! কবিবর রবীন্দ্রবাবু বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে এই গানটি লিখে দিয়েছেন।

    বারীন বিস্মিত হল। রবীন্দ্রবাবুর কিছু কিছু গান সে আগে শুনেছে, সেগুলি ভক্তিগীতি কিংবা প্রেমগীতি। প্রধানত ব্রাহ্মরাই তাঁর গান গায়, এখন তাঁর গান রাস্তায় ছড়িয়ে গেছে?

    একটু পরে বারীন নিজেই অস্ফুট স্বরে গাইতে লাগল, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি…

    ব্রিজ যুক্ত হওয়ায় বারীন চলে এল এপারে। সঙ্গে মালপত্র বিশেষ নেই, সে হেঁটেই যাবে। কিছুদূর যাবার পর বড়বাজারে সে দেখল আর এক দৃশ্য! একটা মস্ত বড় দোকানের সামনে ভিড় জমে আছে। একদল তরুণ হাতে হাত ধরে শৃঙ্খল রচনা করে ঘিরে আছে সেই দোকান, কোনও খরিদ্দারকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেবে না। দোকানের কর্মচারীরা পাংশু মুখে দাঁড়িয়ে আছে দরজার কাছে, লাঠি হাতে দু’জন সেপাইও রয়েছে ভিড়ের পেছনে।

    এখানেও মাথায় গেরুয়া পাগড়ি বাঁধা একজন লোক নেচেনেচে গান জুড়েছে :

    মায়ের দেওয়া মোটা কাপড়
    মাথায় তুলে নে রে ভাই
    দীন দুখিনী মা যে তোদর
    তার বেশি আর সাধ্য নাই।
    ঐ মোটা সতোর সঙ্গে মায়ের
    অপার স্নেহ দেখতে পাই
    আমরা এমনি পাষাণ
    তা ফেলে ঐ
    পরের দোরে ভিক্ষে চাই…

    গানের মাঝখানেই ছুটতে ছুটতে চলে এল আরও কয়েকজন সেপাই, সঙ্গে একজন গোরা পুলিশ। হঠো হঠো হঠো বলে ভিড় সরিয়ে ভেঙে দিল সেই মানব-শৃঙ্খল। জনতা কোনও প্রতিবাদ করল না। সরে গেল একটু দূরে।

    গায়কটি সেখান থেকেই আবার গান ধরল :

    ঐ দুঃখী মায়ের ঘরে তোদের
    সবার প্রচুর অন্ন নাই
    গত তব, তাই বেচে কাঁচ-সাবান-মোজা
    কিনে কল্লি ঘর বোঝাই।

    আয় রে আমরা মায়ের নামে
    এই প্রতিজ্ঞা করবো
    ভাই পরের জিনিস কিনবো না যদি
    মায়ের ঘরের জিনিস পাই…

    অনেক বক্তৃতার চেয়েও একটি গানের আবেদন বেশি তীব্র। লোকেরা ঘন ঘন হাততালি দিচ্ছে, কেউ কেউ সুর মেলাচ্ছে নিজেদের গলায়। একটা গান শেষ হলেই অনুরোধ আসছে আর একটা, আর একটা।

    দোকানের সামনেটা পরিষ্কার হয়ে যাবার পর একজন মাত্র খরিদ্দার এগিয়ে গেল সেদিকে। লোকটির পরনে ঠেঙো ধুতি, গায়ে চায়না কোট। সে দোকানের সিঁড়িতে পা দেওয়া মাত্র এদিকের জনতা চেঁচিয়ে উঠল, দুয়ো, দুয়ো, দুয়ো!

    লোকটি ঘুরে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে কম্পিত গলায় বলল, বাবাসকল, আমাকে মাপ করে দাও! আমার কন্যাদায়। আজ বাদে কাল মেয়ের বিয়ে। জামাইয়ের একখানাও ধুতি কেনা হয়নি।

    কয়েকজন বলে উঠল, জামাইকে বিলিতি ধুতি দিতে হবে? কন্যা বুঝি মেমসাহেব? a লোকটি বলল, বিবাহের বস্ত্র কি আজেবাজে দেওয়া যায়? ইয়ে, মানে, দিশি ধুতি বা পাই কই? কোনও দোকানে মেলে না।

    একজন জানাল, পটলডাঙার স্বদেশি ভাণ্ডারে চলে যান, সেখানে অনেক গুজরাটি ধুতি মজুদ আছে।

    লোকটি তবু অনুনয় করে বলল, এবারের মতন একখানা ভাল ধুতি কিনতে দাও বাবাসকল। মেয়ের মাকে কথা দিয়ে এসেছি!

    একজন বলল, ম্যাঞ্চেস্টারের ধুতিটি ভাল ধুতি কে বলেছে?

    আর একজন বলল, বরকে বিলিতি ধুতি পরালে পুরুত মন্ত্র পড়াতে রাজি হবে না। আপনার বাড়িতে ধোপা-নাপিত যাবে না!

    আর একজন বলল, শালিরা বরের কাছা খুলে দেবে!

    সবাই হো হো করে হেসে উঠল।

    লোকটি করুণভাবে একবার দোকানের দিকে তাকিয়ে নেমে এল গুটিগুটি। অমনি মুহুর্মুহু করতালি। একদল লোক ছুটে গিয়ে লোকটিকে কাঁধে তুলে নাচতে লাগল।

    রাস্তায় কয়েক পা যেতে যেতে এই রকমই দৃশ্য। সারা শহরে যেন একটা উৎসব লেগে গেছে। কলকাতার এই রূপ বারীন আগে কখনও দেখেনি। কোথাও কোথাও কৌতুকরস বেশি গাঢ়। বিলিতি পাম্প শু পরে সেজেগুঁজে যাচ্ছেন এক ভদ্রলোক, একদল ছেলে তাকে ঘিরে ধরে নেচে নেচে হাততালি দিতে লাগল। অন্য পথচারীরা থমকে গিয়ে হাসছে। শেষ পর্যন্ত ব্যতিব্যস্ত হয়ে ভদ্রলোক পা থেকে জুতো জোড়া খুলে ফেললেন। তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে ছেলেরা বলতে লাগল, জামাটা, জামাটাও তো বিলেতি? আর ওই রিস্ট ওয়াচ?

    এই বয়কটের সময়ই ঠিক মতন অনুভব করা গেল ইংরেজদের শোষণের স্বরূপ। পায়ের জুতো থেকে মাথার চিরুনি পর্যন্ত বিলেত থেকে আমদানি করতে হয়। দেশে কিছু কিছু যাও বা তৈরি হয়, তা প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য। এ দেশে কলকারখানা শিল্প স্থাপনে ইংরেজ আগ্রহী নয়, তাতে তাদের মুনাফায় টান পড়বে। গায়ে মাখা সাবান, দেশলাই সব বিলিতি। ট্রেনে চাপো, ট্রামে ওঠো, ইংরেজকে পয়সা দাও!

    একটা দোকানের পিকেটিং থেকে বেরিয়ে এসে একদল যুবক বলল, চল, জোড়াসাঁকো ঘুরে আসি। রবিবাবু যদি নতুন গান বাঁধেন, সেটা শিখতে হবে!

    জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির সামনে প্রতিদিনই দলে দলে লোক আসে। তারা রবীন্দ্রনাথের গান চায়। তাঁর গান গেয়ে ও শুনিয়ে জোরদার হয় আন্দোলন। পাড়ায় পাড়ায় গানের স্কুল খোলা হয়েছে, সেখানে শেখানো হচ্ছে এই সব গান।

    বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব যখন ওঠে, তখন রবীন্দ্রনাথ বিশেষ সাড়া দেননি। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, প্রতিবাদসভা ও মিছিল শুরু হয়ে গেল, তার কোনওটিতেই যোগ দেননি রবীন্দ্রনাথ। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কলমও ধরেননি। তাঁর এই অমনোযোগ অনেককে বিস্মিত করেছিল।

    এই সময় অন্য ব্যাপারেও ব্যস্ত থাকতে হয়েছে রবীন্দ্রনাথকে। বছরের গোড়ার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন পিতা দেবেন্দ্রনাথ। সাতাশি বছর বয়েস হলেও দেবেন্দ্রনাথের মৃত্যু শুধু তিনটি ব্রাহ্মসমাজেই নয়, সারা বাংলাতেই মহাগুরু নিপাতের মতন। দেবেন্দ্রনাথ তাঁর শেষ উইলে এক্সিকিউটর হিসেবে অন্য জীবিত পুত্রদের বাদ দিয়ে শুধু রবীন্দ্রনাথকেই নিযুক্ত করেছেন, সঙ্গে আর দুজন নাতি দ্বিপেন্দ্রনাথ ও সুরেন্দ্রনাথ। কনিষ্ঠ পুত্র ছাড়া অন্য পুত্রদের ওপর ভরসা রাখতে পারেননি পিতা। এ জন্য সম্পত্তির হিসেবনিকেশ, জোড়াসাঁকোর অত বড় বাড়ির ব্যবস্থাপনা, এ সব নিয়ে রবীন্দ্রনাথকে মাথা ঘামাতে হয়েছে। ত্রিপুরার রাজপরিবারে একটা সঙ্কট ঘনিয়ে এসেছিল, তা থেকেও বিযুক্ত থাকতে পারেননি রবীন্দ্রনাথ। মহারাজ রাধাকিশোর তাঁর বিশেষ স্নেহের পাত্র, মহারাজও রবীন্দ্রনাথের পরামর্শের ওপর নির্ভর করেন। এর মধ্যে শরীরও বিশেষ ভাল নয়, অর্শের ব্যথা শুরু হয়েছে, তাই নিয়েও শান্তিনিকেতনে যাতায়াত তো আছেই। মাঝে মাঝে গিরিডিতে গিয়ে থাকলে স্বাস্থ্য ভাল বোধ করেন, গিরিডির জল-বাতাস সুস্থতা এনে দেয়।

    বঙ্গভঙ্গ সত্যি সত্যি কার্যকর হতে যাচ্ছে দেখে রবীন্দ্রনাথ হঠাৎ যেন গা-ঝাড়া দিয়ে উঠলেন। বাংলা সত্যি খণ্ড বিখণ্ড হবে, এ কি সত্যি সম্ভব! বাঙালি তা মেনে নেবে! বাঙালির মধ্যে যে একটা জাতীয়তাবোধ জেগে উঠছে সেটা ভেঙে দেওয়াই ইংরেজদের উদ্দেশ্য। শাসনকার্যের সুবিধের জন্য বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির মতন এত বড় রাজ্যকে ভাগ করতে হলে বিহার ও ওড়িশাকে পৃথক করে দেবার যুক্তি বোঝা যায়। কিন্তু বাংলা ভাষাভাষী জেলাগুলিকে কেন জুড়ে দেওয়া হবে আসামের সঙ্গে? স্যার হেনরি কটন ইংরেজ সরকারেরই দক্ষ প্রশাসক ছিলেন, তিনিও বলেছেন, এই বঙ্গভঙ্গ অন্যায়।

    এ যেন বাঙালির ঐক্যের মূলে কুঠারাঘাত। বাংলা ভাষার প্রসারের বিরুদ্ধতা। রবীন্দ্রনাথের মনে প্রবল প্রতিবাদ গুমরে উঠল। সেই প্রতিবাদ প্রথম ধ্বনিত হল গানে। এর আগে তিনি রচনা করছিলেন ‘তবু পারি না সঁপিতে প্রাণ’ কিংবা ‘ভয় হতে তব অভয় মাঝে’র মতন গান। শান্তিনিকেতনে এক নির্জন রাত্রে তাঁর বুক থেকে উৎসারিত হল অন্য রকম গানের কলি, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। শিলাইদহের গগন হরকরা নামের ডাকপিওনটি প্রায়ই তাঁকে গান শোনাত, তার একটি গান ‘আমি কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’, এর সুরটি রবীন্দ্রনাথের খুব পছন্দ হয়েছিল। সেই সুর লাগিয়ে দিলেন সোনার বাংলা গানটিতে। দু-একজনকে শোনাবার পরই গানটি মুখে মুখে ছড়িয়ে গেল। তাঁর আর কোনও গান এত দ্রুত জনপ্রিয় হয়নি, মিছিলে মিছিলে শোনা যায় এই গান।

    এর পর গিরিডিতে গিয়ে রচনা করতে লাগলেন একটার পর একটা দেশাত্মবোধক গান : ‘ও আমার দেশের মাটি, তোমার পায়ে ঠেকাই মাথা’, ‘এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে জয় মা বলে ভাসা তরী’, ‘যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ক, আমি তোমায় ছাড়বো না মা’, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’, ‘তোর আপনজনে ছাড়বে তোরে, তা বলে ভাবনা করা চলবে না, ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে, সার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে’, ‘আমি ভয় করবো না ভয় করবো না, দুবেলা মরার আগে মরবো না ভাই মরবো না’, ‘ছি ছি চোখের জলে ভেজাস নে আর মাটি’, ‘বুক বেঁধে তুই দাঁড়া দেখি, বারে বারে হেলিস নে ভাই’, ‘নিশিদিন ভরসা রাখিস হবেই হবে’, ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি, তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী, ‘আপনি অবশ হলি, তবে বল দিবি তুই কারে?’, ‘আমাদের যাত্রা হল শুরু এবার ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার’, ‘বিধির বাঁধন কাটবে তুমি এমন শক্তিমান! এ রকম আরও অনেক গান।

    প্রতিবাদ আন্দোলন বা বিপ্লবের সময় যে-যার নিজস্ব অস্ত্র হাতে তুলে নেবে। কবির অস্ত্র তাঁর কবিতা। কলমের বদলে তাঁর অপটু হাতে বন্দুক মানায় না। তবু কবিকেও কখনও কখনও রণক্ষেত্রে যেতে হয়, যেতে হয় সভা-সমিতিতে, মিছিলে। এখন আর সভা-সমিতির ডাক উপেক্ষা করতে পারছেন না রবীন্দ্রনাথ, গিরিডি থেকে মাঝে মাঝেই কলকাতায় এসে মিটিং-এ যোগ দেন, প্রবন্ধ পাঠ করেন, গান শোনাতে হয়। তিনি বয়কটেরও সমর্থক। তিনি মনে করেন, ইংরেজের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক বর্জন করে এই জাতি আত্মশক্তিতে শক্তিমান হয়ে উঠুক। এমনকী সংবাদপত্রে কালো বর্ডার দিয়ে বঙ্গভঙ্গের খবর ছাপা কিংবা সভায় দর্শকদের করতালিও তিনি পছন্দ করেন না, এগুলোও বিদেশের অনুকরণ।

    সরকার থেকে ঘোষণা করা হয়েছে ১৬ অক্টোবর থেকে বঙ্গভঙ্গ আইন অনুযায়ী বলবৎ হবে। দেশের মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কোনও মূল্যই দিল না ইংরেজ প্রভুরা। দেশের মানুষও বুঝিয়ে দেবে তাদের ক্রোধ। ওই দিন রাজধানী কলকাতায় হরতাল ডাকা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ আর গিরিডিতে থাকতে পারলেন না, ওই দিন তাঁকে কলকাতায় উপস্থিত থাকতেই হবে।

    রাত্রিবেলা ট্রেন ছুটে চলেছে, রবীন্দ্রনাথের ঘুম আসছে না। আর মাত্র সাত দিন পরে দ্বিধাবিভক্ত হবে বাঙালি জাতি? কিছুতেই যেন এটা সহ্য করা যায় না। খাতা খুলে রচনা করতে লাগলেন আর একটি নতুন গান :

    ওদের বাঁধন যতই শক্ত হবে ততই বাঁধন টুটবে
    মোদের ততই বাঁধন টুটবে
    ওরে হতহ আখি রক্ত হবে মোদের আখ ফুটবে
    ততই মোদের আঁখি ফুটবে…

    ১৬ অক্টোবর কলকাতায় হরতাল ডাকা হয়েছে। বিভিন্ন সভায় নেতারা ঘোষণা করেছেন, সেদিন কোনও বাড়িতে উনুনও জ্বলবে না, বাঙালিরা অরন্ধন পালন করবে। শাসনের ছুরি দিয়ে মানচিত্র বদলালেও বাঙালির ঐক্য বজায় রাখার জন্য দেশজুড়ে হবে রাখিবন্ধন। উচ্চ-নীচ, হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান নির্বিশেষে সারা দেশের মানুষ পরস্পরের হাতে হলুদ রঙের তিন সুতোর রাখি বেঁধে দেবে, তার মন্ত্র হবে : ভাই ভাই এক ঠাঁই, ভেদ নাই, ভেদ নাই!

    ঘোষণা তো করা হয়েছে, কিন্তু সব মানুষ মানবে তো? সর্বস্তরে এমন হরতালের কথা আগে কেউ কখনও শোনেনি। একটা দিন ভাত না খেয়ে থাকতে রাজি হবে সবাই? রাখিবন্ধন উপলক্ষে যদি ধর্মীয় বিশ্বাসের সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়!

    ওই দিনটি পালনের জন্য ঠাকুরবাড়িতে দারুণ সাড়া পড়ে গেছে, মেতে উঠেছে পরিবারের সবাই। রাশি রাশি রাখি জড়ো করা হয়েছে, কলকাতার বাইরে যে-সব পরিচিত মানুষরা থাকে, তাদের জন্য খামে ভরে ডাকে পাঠানো হচ্ছে একটি করে রাখি। এমনকী বাড়ির মেয়েরাও রাখি বানাচ্ছে, খামে ঠিকানা লিখতে লেগে গেছে। মস্ত বড় পশ্চিমের বারান্দা জুড়ে চলেছে এই যজ্ঞ। সেই সঙ্গে চলেছে গান।

    সেদিনের জন্য নতুন গান রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ, কিন্তু তিনি একলা গাইলে তো চলবে না, মিছিলের সকলকে গাইতে হবে। তাই রবীন্দ্রনাথ বাড়ির বাইরে সমবেত যুবকদের সে গানটি শিখিয়ে যাচ্ছেন এক-একবার এসে, তারা আবার অন্যদের শেখাবে। গানটির ছাপা কপি বিলি হচ্ছে হাজার, হাজার।

    ঠাকুর পরিবারের শুধু একজন মানুষের এই কর্মযজ্ঞে কোনও উৎসাহ নেই। তিনি জোড়াসাঁকোর বাড়িতে আর ভুলেও কখনও পা দেন না। তিনি থাকেন বালিগঞ্জে জ্ঞানদানন্দিনীর আশ্রয়ে। নিজের ঘরে বিছানায় শুয়ে শুধু বই পড়ে যান জ্যোতিরিন্দ্রনাথ। দুপুর থেকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হয়ে যায়, আলো জ্বালবার উৎসাহ পান না, বিছানা ছেড়ে উঠে এসে চুপ করে বসে থাকেন জানালার ধারে। বিদেশি দ্রব্য বর্জন ও বয়কটের কথা তাঁর কানে এসেছে ঠিকই। কত দিন আগে তিনি ইংরেজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে স্টিমার সার্ভিস চালিয়েছিলেন, সেদিন যদি দেশের মানুষ ইংরেজদের স্টিমার পুরোপুরি বয়কট করত, তা হলে তাঁকে সর্বস্বান্ত হতে হত না। টিকিটের দাম কমিয়ে দিলেন, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কোনও ত্রুটি করেননি, তবু সেই দেশি কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করল না দেশের মানুষ। আজ বিলিতি কাপড় বর্জন করার জন্য স্থাপিত হচ্ছে দেশি কাপড়ের কল, ইংরেজদের বাণিজ্যে ধাক্কা দেওয়াই যে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র তা অনেকে বুঝেছে, কিন্তু জ্যোতিরিন্দ্রনাথের আর একটুও উদ্যম অবশিষ্ট নেই। কিছুই ভাল লাগে না। শুধু সময় কাটাবার জন্য মাঝে মাঝে গান-বাজনা নিয়ে ভুলে থাকেন, কিছু কিছু লেখা অনুবাদ করেন, এই পর্যন্ত।

    জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে আহ্বান জানানো হয়েছিল, তিনি এলেন না। সেদিন ভোর হতে না হতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিবারের সমস্ত পুরুষদের ডেকে তুললেন। সুরেন সারারাত প্রায় ঘুমোয়নি, তার উৎসাহ সব চেয়ে বেশি। একটু একটু শীত পড়েছে, ভোরের দিকে ঘুমটা ভাল জমে, সুরেন ঘরে ঘরে গিয়ে সবার গা থেকে চাদর সরিয়ে নিয়ে নিতে লাগল।

    প্রথমে সবাই মিলে যাবে গঙ্গার ঘাটে। সেখানে স্নান সেরে শুদ্ধ হয়ে নিয়ে তারপর শুরু হবে রাখি বন্ধন উৎসব।

    তৈরি হতে হতে খানিকটা বেলা হয়ে গেল। রবীন্দ্রনাথ একটা ধুতি পরে গায়ে একটা মুগার চাদর জড়িয়ে নিলেন। খালি পা। সবাইকে নিয়ে বেরুতে যাবেন, হঠাৎ অবনীন্দ্রনাথের দিকে তাকিয়ে বললেন, এ কী অবন, তুই জুতো পরেছিস যে! খোল, খোল!

    অবনীন্দ্র শৌখিন ধরনের মানুষ, অনিচ্ছা সত্ত্বেও জুতো খুলে ফেলে বলল, গাড়ি জুততে বলেছি। তুমি কি আমার গাড়িতে যাবে?

    রবীন্দ্রনাথ বললেন, গাড়ি! গাড়ি কী হবে? আজ সকলে মিলে একসঙ্গে হেঁটে যাব!

    এবার অবনীন্দ্রনাথ সবিস্ময়ে ভুরু তুলে বলল, খালি পায়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাব? তুমি বলো কী রবিকা? কত কাঁটাকুটো, পেরেক, কাঁচ।

    অবনীন্দ্রর বিস্ময়ের কারণ আছে। ঠাকুরবাড়ির পুরুষদের মোজা ছাড়া বাড়ির বার হওয়াই অমর্যাদাকর, জুতো ছাড়া রাস্তা দিয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। শুধু তাই নয়, রাস্তায় সাধারণ পাঁচপেঁচি লোকের পাশাপাশি তারা হাঁটবে!

    বাড়ির সামনে এর মধ্যেই কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ নিজের বাড়ির লোকজনদের নিয়ে তাদের সঙ্গে মিশে গেলেন। চতুর্দিক থেকে আরও মিছিল আসছে, সারা শহর উত্তাল। একটাও দোকান খোলেনি। কেরাঞ্চি গাড়ি, ঠেলা গাড়ি নেই রাস্তায়। মুটেমজুররাও কাজ বন্ধ করেছে। বাজার বন্ধ। কোনও বাড়ি থেকেই দেখা যাচ্ছে না উনুনের ধোঁয়া। ট্রাম কোম্পানি এবারকা ট্রাম চালাচ্ছে বটে, তাতে একজনও যাত্রী নেই।

    জোর জবরদস্তি নেই, এ হরতাল স্বতঃস্ফূর্ত। বাড়ি ছেড়ে সব মানুষ বেরিয়ে আসছে পথে।

    রবীন্দ্রনাথ দু হাত তুলে গান ধরেছেন, তাঁর সঙ্গে সঙ্গে গাইছে সহস্র কণ্ঠ :

    বাংলার মাটি, বাংলার জল,
    বাংলার বায়ু, বাংলার ফল–
    পুণ্য হউক, পুণ্য হউক
    পুণ্য হউক, হে ভগবান।
    বাংলার ঘর, বাংলার হাট
    বাংলার বন, বাংলার মাঠ—
    পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক
    পূর্ণ হউক, হে ভগবান!
    বাঙালির পণ, বাঙালির আশা,
    বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা–
    সত্য হউক, সত্য হউক
    সত্য হউক, হে ভগবান।
    বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন
    বাঙালির ঘরে যত ভাইবোন–
    এক হউক, এক হউক
    এক হউক হে ভগবান।

    কবি আজ চারণ হয়েছেন। তাঁর উজ্জ্বল নয়ন, প্রদীপ্ত মুখমণ্ডলের দিকে তাকিয়ে অনেকে বেশি বেশি প্রেরণা পাচ্ছে। কিছু লোক ঠেলাঠেলি করে সামনে আসছে তাঁকে দেখবার জন্য। রবীন্দ্রনাথ গান থামাতে পারছেন না, একবার শেষ হলেই জনতার দাবি উঠছে, আবার, আবার!

    গঙ্গার কুলে গিসগিস করছে মানুষ। সারা শহর যেন আজ এখানে ভেঙে পড়েছে। সেই ভিড়ের মধ্যেই নেমে জলে কয়েকটা ডুব দিলেন রবীন্দ্রনাথ, তারপর ভিজে ধুতি বদলে নিলেন। একটি যুবক ছুটে এসে বলল, প্রথমে আপনাকে আমি রাখি ব!

    শুরু হয়ে গেল উৎসব। এ ওকে রাখি বেঁধে দিচ্ছে আর মাঝে মাঝে গগনভেদী শ্লোগান উঠছে, ভাই ভাই এক ঠাই, ভেদ নাই ভেদ নাই!

    অবনীন্দ্র তার রবিকার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। এ কী অদ্ভুত পরিবর্তন! রবীন্দ্রনাথ চেনাশুননা মহলে হাসিঠাট্টা করেন, কিন্তু বাড়ির বাইরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন না। কথা বলেন মেপে মেপে, এত বেশি ভদ্রতা দেখান যে তা কৃত্রিমতার পর্যায়ে চলে যায়। কখনও অন্যের সামনে তাঁর আবেগের প্রকাশ ঘটে না। আজ তাঁর এ কী হল! সামনে যাকে পাচ্ছেন তাকেই জড়িয়ে ধরছেন। রাখি পরাবার সময় সে মেথর-মুদ্দোফরাস না অভিজাত, তা বিন্দুমাত্র বিবেচনা করছেন না। মহা উৎসাহে রাখি পরিয়ে চলেছেন। এমনকী পুলিশদেরও বাদ দিচ্ছেন না। পুলিশদের ডেকে ডেকে বলছেন, এসো ভাই, এসো, তুমিও তো বাঙালি! বাঙালি না হও, আমারই দেশের মানুষ!

    এক জায়গায় প্রথম বাধা পড়ল। একজন সেপাইকে রবীন্দ্রনাথ যে-ই রাখি পরাতে গেলেন, সে কাচুমাচু মুখে বলল, হুজুর মাপ করবেন, আমি মুসলমান!

    রবীন্দ্রনাথ থমকে গেলেন। মুহূর্তের জন্য তাঁর মুখোনা ফ্যাকাসে হয়ে গেল, তিনি মৃদু স্বরে বললেন, আচ্ছা থাক!

    পূর্ববঙ্গ থেকে অনেক পরস্পরবিরোধী খবর আসছে। সেখানেও বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন যেমন চলছে, তেমনি এক শ্রেণীর মুসলমান বঙ্গভঙ্গের প্রবল সমর্থক। কোথাও কোথাও হিন্দুদের সঙ্গে মুসলমানদের মারামারিও হয়েছে।

    সেপাইটির প্রত্যাখ্যানের পরই একটি দাড়িওয়ালা লোক ছুটে এসে রবীন্দ্রনাথকে বলল, আমিও মুসলমান, আমার আপত্তি নেই, আপনি আমাকে রাখি পরিয়ে দিন।

    অমনি জয়ধ্বনি উঠল : ভাই ভাই এক ঠাঁই, ভেদ নাই, ভেদ নাই!

    গঙ্গার ঘাট থেকে ফেরার পথে রাস্তার দু’পাশের লোকদের রাখি পরাতে লাগলেন রবীন্দ্রনাথ। ঘোড়ার গাড়ির সহিস, ভিস্তিওয়ালা, ফিরিঙ্গি, পাদ্রি সবাই হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, অনেকে রবীন্দ্রনাথকেও রাখি পরাচ্ছে।

    জোড়াসাঁকোয় নিজেদের বাড়ির মোড়ের কাছে এসে রবীন্দ্রনাথকে অবনীন্দ্র বলল, রবিকা, কী অবস্থা হয়েছে তোমার, শরীরে ওজন বেড়ে গেছে?

    সত্যিই তাই, রবীন্দ্রনাথের দু’হাতে প্রায় পঞ্চাশ ষাটটা করে রাখি বাঁধা। কক্তি ছাড়িয়ে উঠে গেছে কনুইয়ের ওপর পর্যন্ত।

    হাসতে হাসতে তিনি রাখি খুলতে লাগলেন। হঠাৎ তাঁর চোখে যেন দুষ্টবুদ্ধি ঝলসে উঠল। বললেন, অবন, একটা কাজ করলে হয় না? কাছেই তো নাখোদা মসজিদ, চল না, সেখানকার মোল্লা সাহেবদের রাখি পরিয়ে আসি।

    অবনীন্দ্র চোখ কপালে তুলে বলল, তোমার মাথা খারাপ হয়েছে নাকি রবিকা! ওখানে গেলে দাঙ্গা বেঁধে যাবে।

    রবীন্দ্রনাথ বললেন, কেন, অনেক তো মাথায় ফেজ টুপি পরা মুসলমান রাখি বাঁধতে আপত্তি করল না। একবার গিয়েই দেখা যাক না।

    অবনীন্দ্র বললেন, খবরদার ও কর্ম কোরো না। চলো বাড়ি চলে! রবীন্দ্রনাথ তবু যেতে চান। জোর জারির তত কিছু নেই, মোল্লারা রাজি না হলে ফিরে আসবেন।

    অবনীন্দ্রর তবু সাহসে কুলেল না। সে সরে পড়ল। সুরেন ও আরও কয়েকজন রয়ে গেল রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে।

    মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। দুপুর সাড়ে তিনটের সময় সার্কুলার রোডে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছে, সেখানে ফেডারেশন হলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হবে। অল্প কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ হেঁটে চললেন নাখোদা মসজিদের দিকে।

    বিশাল মসজিদটি অনেক দূর থেকেই দেখা যায়। কাছাকাছি এসে সুরেন বলল, আমার মনে হয়, আগেই ওখানকার লোকদের রাখি পরাতে শুরু না করে ইমামের অনুমতি নেওয়া দরকার।

    রবীন্দ্রনাথ বললেন, ঠিক বলেছিস!

    দ্বাররক্ষীকে দিয়ে ইমামের কাছে খবর পাঠানো হল।

    ভেতরের একটি ছোট কক্ষে চার পাঁচজন মোল্লা সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলেন বৃদ্ধ ইমাম। তাঁর সাদা ধপধপে চুল, সেই রকমই সাদা দাড়ি, গৌরবর্ণ, বয়েসের তুলনায় চক্ষু দুটি বেশ উজ্জ্বল, অঙ্গে মখমলের পোশাক। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির কয়েকজন তাঁর সাক্ষাৎপ্রার্থী শুনে তিনি অনুমতি দিয়ে বললেন, ভেতরে নিয়ে এসো।

    একটু পরে সে ঘরের দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর দিকে যে-কেউ এক পলক তাকালেই বুঝতে পারে, ইনি সাধারণ মানুষ নন।

    রবীন্দ্রনাথ আদাব জানিয়ে বললেন, ইংরেজ সরকার বাংলা ভাগ করেছে বলে অনেকে তার প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তা আপনারা নিশ্চয়ই জানেন। দেশ ভাগ হোক বা না হোক, বাঙালির একতা কিছুতেই নষ্ট হবে না। হিন্দু-মুসলমান পরস্পরের ভাই। ঈদের দিনে মুসলমান হিন্দুর সঙ্গে কোলাকুলি করে। বিজয়া দশমীর দিনে হিন্দু মুসলমানকে আলিঙ্গনে জড়ায়। আজকের দিনটিতে সেই ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন হিসেবে আমরা পরস্পরের হাতে রাখি বেঁধে দিতে চাই।

    ইমাম সাহেব তাঁর সঙ্গীদের মুখের দিকে তাকালেন। কেউ কোনও কথা বলল না। কয়েক মুহূর্তের জন্য অস্বস্তিকর নীরবতা। তারপর বৃদ্ধ ইমাম প্রশান্ত মুখে হাসি ছড়িয়ে বললেন, আইয়ে। তিনি একটি হাত বাড়িয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথের দিকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article পিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }