Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৮৩. ব্রহ্মপুত্র মহাভাগে শান্তনু কুলনন্দন

    এত বিশাল নদী, যেন অপার বারিধি। সত্যিই, এই নদীর প্রান্তে দাঁড়ালে যেন সমুদ্র দর্শন হয়। শুধু উত্তাল জলরাশি, পরপর দেখা যায় না। নদী নয় অবশ্য, নদ, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার মানসপুত্র, ব্রহ্মপুত্র। ব্রহ্মপুত্র মহাভাগে শান্তনু কুলনন্দন। তিব্বতের মানস সরোবরে এর উৎপত্তি, তিব্বতের আদি নাম শাংপো, সংস্কৃতে সেই শাংপো-ই হয়েছে শান্তনু। পাহাড় থেকে সমতলে নামার পর এই নদ ক্রমশ বিশাল আকার ধারণ করেছে। আসামের ব্রহ্মপুত্ৰ তেজী, দুর্দান্ত; উত্তরবঙ্গে কুড়িগ্রামের কাছে অপেক্ষাকৃত শান্ত কিন্তু সুবিস্তৃত।

    লোকে অবশ্য মুখে মুখে নদীই বলে। নদ-নদীগুলির কে নামকরণ করেছে কে জানে, কেন একটি জলধারা হবে নদ, অন্যটি হবে নদী, তাও জানার কোনও উপায় নেই, এখন লিঙ্গ নির্ধারিত থাকে কাগজে কলমে, সাধারণ মানুষ সব নদীকেই নারী মনে করে, তাই ব্ৰহ্মপুত্ৰও নদী।

    এই ব্ৰহ্মপুত্র বক্ষে একটি বড় আকারের বজরায় কয়েকদিন ধরে আস্তানা গেড়েছে দ্বারিকানাথ ও বসন্তমঞ্জরী। তাদের পুত্রসন্তানটির বয়েস এখন ছ’ বছর, ভারী সুশ্রী ও বুদ্ধিমান ছেলে, তার নাম সত্যানন্দ, ডাকনাম ছোটকু। পাহারাদার, দাস-দাসী-পাঁচক নিয়ে জলের ওপর রীতিমতন এক সংসার। ওই সব কর্মচারীদের জন্য বজরার সঙ্গে বাঁধা আছে আরও দুটি বোট।

    রাত পোহালে সর্বপ্রথম ঘুম ভাঙে বসন্তমঞ্জরীর। একেবারে ব্রাহ্ম মুহূর্তে। প্রতিদিন সূর্যোদয় দেখা তার নেশার মতন দাঁড়িয়ে গেছে। দ্বারিকা অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমোয়, সূর্য দেখার জন্য তাকে ডাকলেও সে জাগে না, বরং বিরক্তি প্রকাশ করে। আর কেউই জাগে না, বজরার ছাদে উঠে হাঁটু গেড়ে সূর্যমুখী হয়ে বসে থাকে বসন্তমঞ্জরী। নদীগর্ভ থেকে একটি লাল গোলকের মতন লাফিয়ে উঠে আসে সুর্য, তখন তাকে আকাশের বদলে জলের দেবতা বলে মনে হয়, সেই মুহূর্তটিতে হাত জোড় করে বসন্তমঞ্জরী প্রণাম জানায়, কোনও কোনও দিন খুব মৃদু স্বরে আপনমনে গান করে। সেই গান অনেকটা কান্নার মতন শোনায়। কবে যে বসন্তমঞ্জরীর মনে গান আসবে তার ঠিক নেই, কখনও মাসের পর মাস সে গান করে না, স্বামীর অনুরোধেও গলা খোলে না, আবার হঠাৎ এক এক দিন নিজে থেকে গেয়ে ওঠে। [ স্বামী-পুত্র নিয়ে সুখের সংসার, কোনও কিছুরই অভাব নেই, তবু বসন্তমঞ্জরী ঠিক সংসারী হতে পারল না। তার মধ্যে একটুও গৃহিণীপনা নেই। প্রতিদিন কী রান্না হবে তা নিয়ে সে মাথা ঘামায় না, কোনও খাদ্যদ্রব্যের প্রতিই তার নিজস্ব ঝোঁক নেই, টাকা-পয়সা, গয়নাগাঁটি বিষয়েও লোভ নেই, এমনকী নিজের ছেলের সম্পর্কেও যেন সে খানিকটা উদাসীন। প্রতিটি মা-ই সন্তানকে ভালবাসে, বসন্তমঞ্জরীই বা ভালবাসবে না কেন, কিন্তু সে ছেলেকে নিয়ে আদিখ্যেতা করে না, ছেলের জন্য একটি ভৃত্য নিযুক্ত আছে, তার ওপর ভার দিয়েই সে নিশ্চিন্ত। সে যেন সুরলোকের মানুষ, কখনও পুরোপুরি বাস্তবে নেমে আসে না, কখনও সখনও সে গাছপালার দিকে অনেকক্ষণ এমন ভাবে তাকিয়ে থাকে, যেন সে প্রকৃতির নিঃশব্দ সঙ্গীত শুনতে পাচ্ছে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে সে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার জন্য ছাদে বসে থাকে একা। পুকুরে স্নান করতে গেলে যেন জলের সঙ্গে কথা বলে। হঠাৎ হঠাৎ সে ঘরের সাদা দেওয়ালের দিকে এমন ভাবে মনোযোগী হয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যেন কোনও গ্রন্থ পাঠ করছে।

    অনেকে আড়ালে বসন্তমঞ্জরীকে পাগল বলে, দ্বারিকার বোন-ভগ্নীপতি ও অন্যান্য আত্মীয়রা মনে করে, বসন্তমঞ্জরীর হাব-ভাব মোটেই স্বাভাবিক নয়। তা তো মনে করবেই। অধিকাংশ সংসারী মানুষই একরকম ধরাবাঁধা নিয়মে চলে, যাদের সঙ্গে তাদের ব্যবহার মেলে না, তাদেরই তারা মনে করে অস্বাভাবিক। দ্বারিকা তার স্ত্রীর এই সব পাগলামি মোটামুটি পছন্দই করে, শুধু একটি ব্যাপার ছাড়া। মাঝে মাঝে বসন্তমঞ্জরীর মুখচোখের চেহারা বদলে যায়, তখন যেন তার শরীরে কিছু একটা ভর করে, সে ভবিষ্যদ্বাণী করতে থাকে, যে-ঘটনা তখনও ঘটেনি তা সে বলে দেয়, কিংবা অনেক দূরে যা ঘটছে, তা যেন দেখতে পায় সে। দ্বারিকা তখন খুব অস্বস্তি বোধ করে, নিজের স্ত্রীকে কেউ জাদুকরী হিসেবে দেখতে চায় না। এ জন্য দ্বারিকা কবিরাজ ডেকে চিকিৎসাও করিয়েছে বসন্তমঞ্জরীর। বসন্তমঞ্জরী নিজেও ওই ব্যাপারটার জন্য লজ্জা পায়, ঘোর কেটে গেলে সে কান্নাকাটি করে, স্বামীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বারবার বলতে থাকে, কেন, কেন আমার এমন হয়! আমি নিজেই যে কিছু বুঝি না।

    বসন্তমঞ্জরীর বিবাহ উপলক্ষে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল শহরে। নিজের প্রজারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে ক্রুদ্ধ দ্বারিকা বিক্রি করে দিয়েছিল জমিদারি। তারপর সে এটা-সেটা ব্যবসায়ের চেষ্টা করেছিল, কোনওটাতেই তেমন সফল হয়নি। তা ছাড়া বসন্তমঞ্জরী এক জায়গায় বেশিদিন থাকতে চায় না, কলকাতায় তার মন টেকে না, অনবরত ভ্রাম্যমাণ হলে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে কী করে? অনেক ভেবে-চিন্তে দ্বারিকা সঞ্চিত অর্থ দিয়ে আবার একটি জমিদারি কিনে ফেলেছে। জমিদারিই এখন সবচেয়ে লাভজনক, সর্বক্ষণ জমিদারের উপস্থিতির প্রয়োজন হয় না, নায়েব-গোমস্তা দিয়ে কাজ চালানো যায়, জমিদারের দর্শন যত দুর্লভ হয়, প্রজারা তত বেশি সমীহ করে। তার অসামাজিক বিবাহের কথা মানুষের মনে নেই।

    দ্বারিকার আগের জমিদারি ছিল খুলনায়, এখন কিনেছে জঙ্গিপুরে। যে ঋণগ্রস্ত জমিদারের কাছ থেকে দ্বারিকা এটি কিনেছে, তার আরও পাঁচটি তালুক ছড়িয়ে আছে বাংলার বিভিন্ন জেলায়। দ্বারিকা এক সঙ্গে সব কিছুরই মালিক হয়েছে, তবে দূর দূর স্থানের ছোটখাটো তালুকগুলির খবরদারি করা কষ্টকর, সে জন্য সেগুলি আস্তে আস্তে বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে সে। কুড়িগ্রামের কাছে সেরকম একটি তালুক আছে। কিন্তু এ জায়গাটিতে এসে এখানকার প্রকৃতির শোভা দেখে মুগ্ধ হয়েছে বসন্তমঞ্জরী, তাই অচিরে এই তালুক বিক্রি করার সংকল্প পরিত্যাগ করা হয়েছে। এখানে বেশ কিছু দিন থেকে যাবার আরও একটি কারণ আছে। বঙ্গভঙ্গের ফলে এই জেলা নবগঠিত প্রদেশ পূর্ববঙ্গ ও আসামের মধ্যে পড়েছে, এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে এখনও। সরকারি স্কুলের ছাত্ররা বন্দেমাতরম ধ্বনি দিতে দিতে প্রতিবাদ মিছিল করেছিল, সেই অপরাধে সেপাইরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্রদের লাঠিপেটা করেছে, রক্তপাতও হয়েছে যথেষ্ট, শুধু তাই নয়, গভর্নর সাহেবের নির্দেশে সেই স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনির্দিষ্ট কালের জন্য। এই ঘটনা শুনে দ্বারিকা দারুণ বিক্ষুব্ধ। সে ঘোষণা করে দিয়েছে, নিজ ব্যয়ে সে এখানে একটি স্কুল খুলে দেবে, যা সরকারি সাহায্যের তোয়াক্কা করবে না। সেই স্কুল ভবন দ্রুত নির্মিত হচ্ছে, শেষ হলে দ্বার উদঘাটন করে দিয়ে তবে সে কুড়িগ্রাম ছেড়ে যাবে বগুড়ার দিকে।

    কাল শেষ রাতে জোর একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে, আকাশ এখনও মেঘলা। আজ সূর্যোদয় দেখা যাবে কি না সন্দেহ। বজরার ছাদে বসে আছে বসন্তমঞ্জরী, পূর্ব দিকে মুখ করে। একটু একটু আলোয় ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে অন্ধকার। ফিনফিনে বাতাসে কাঁপছে ব্রহ্মপুত্রের জল।

    অনেক দিন পর আপনা আপনি বসন্তমঞ্জরীর কণ্ঠ থেকে সুর বেরিয়ে এল।

    আষাঢ় শ্রাবণ মাসে নব ঘন মেঘ ডাকে
    বিজুলি চমকে লাগে ডর, চল যাবো ঘর
    কদমতলায় নিশি হল ভোর।
    একটা কদমের তলে
    কৃষ্ণ ঘুমালো বলে
    বাঁশিটি তো নিয়ে গেল চোর….

    হঠাৎ গান থামিয়ে দিয়ে দ্রুত পদে নীচে নেমে এল বসন্তমঞ্জরী। স্বামীর কক্ষে এসে পালঙ্কের পাশে দাঁড়াল। নাসিকা-গর্জন করতে করতে হাত-পা ছড়িয়ে নিদ্রিত রয়েছে দ্বারিকা। তার চেহারাটি এখন বেশ স্থূল, সেই অনুযায়ী গোঁফটিও সুপক্ক হয়েছে, জমিদার হিসেবে তাকে বেশ মানায়। বসন্তমঞ্জরী আগেকার মতনই তন্বী।

    আস্তে আস্তে স্বামীর গায়ে কয়েকবার ঠেলা দিয়ে সে ডাকল, এই, এই, একটু উঠবে?

    অত সহজে জেগে ওঠার পাত্র নয় দ্বারিকা। গত রাতে একটু বেশি মদ্যপান হয়েছে। সেই সঙ্গে গুরুভোজন, বেলা দশটা-এগারোটার আগে তার ঘুম ভাঙার কথা নয়।

    বসন্তমঞ্জরী ব্যস্তভাবে জোরে জোরে ঠেলতে লাগল।

    নাসিকা-গর্জন থেমে গেল দ্বারিকার, একটু পরে চোখ না মেলে বিরক্তভাবে বলল, কে?

    বসন্তমঞ্জরী বলল, ওগো, বজরাটা চালাতে বলবে?

    দ্বারিকা বলল, কী?

    বসন্তমঞ্জরী খুব কোমল অনুনয়ের সুরে বলল, বজরাটা তিন দিন ধরে এই এক জায়গায় থেমে আছে, আমার ভাল লাগছে না। একটু চালাতে বলো না!

    পুরোপুরি চক্ষু মেলল দ্বারিকা, কথাটা বুঝতে কিঞ্চিৎ সময় নিল। তারপর বলল, এই আবার পাগলামি শুরু হল! এখনও সুয্যি ওঠেনি, কাকপক্ষী ডাকেনি এখন বজরা চালাবে কে? দাড়ি-মাঝিরা গ্যাঁজায় দম দিয়ে ঘুমোচ্ছে!

    বসন্তমঞ্জরী বলল, তুমি ডাকলে তারা উঠবে না?

    দ্বারিকা আবার পাশ ফিরে চক্ষু মুদে বলল, ঠিক আছে, তোর ইচ্ছে হয়েছে যখন, দুপুরবেলা চালাতে বলব!

    বসন্তমঞ্জরী বলল, না দুপুরে চাই না! এখন! এখানকার আকাশ মেঘলা, আজ সূর্যোদয় দেখা যাবে না, খানিক দূর গেলে দেখা যাবে।

    দ্বারিকা বলল, এমন উদ্ভুট্টে কথা কখনও শুনিনি! মেঘ কি এক চিলতে হয়। এখানে যে-মেঘ, দশ মাইল দূরে গেলেও সেই মেঘ। এখন উঠে সবাই মিলে তৈরি হতে হতেই অনেক বেলা হয়ে যাবে। সুয্যি কি বসে থাকবে তোর জন্য! আমাকে আর একটু ঘুমোতে দে!

    বসন্তমঞ্জরী ব্যাকুলভাবে বলল, বড় বজরা ছাড়তে যদি অসুবিধে হয়, একটা ছোট বোট নিয়ে তো যাওয়া যায়। চলল, আমার খুব ইচ্ছে করছে!

    অন্য কেউ এ রকম বেয়াদপি করলে সিংহগর্জনে ধমক দিত দ্বারিকা। সে শুধু কটমট করে তাকাল স্ত্রীর দিকে। এই ছোট্টখাট্ট তরুণীটির কাছে সে জব্দ। একে সে বকুনি দিতে পারে না। কারণ, সে জানে, সংসারে মন গাঁথেনি বসন্তমঞ্জরীর, জাগতিক কোনও বিষয়ের প্রতিই তার আসক্তি নেই, তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে সে হঠাৎ এ সংসার ছেড়ে চলে যেতে পারে। আত্মহননও বিচিত্র নয়। সেই জন্যেই এর অনেক অযৌক্তিক আবদার তাকে মেনে নিতে হয়।

    সে বলল, ঠিক আছে কাল সকালে যাব। আজ ব্যবস্থা করে রাখব।

    বসন্তমঞ্জরী তবু বলল, না, আজই। চলো, ছোট নৌকোয় দুজনে বেড়াতে যাই। এই ভোরের হাওয়া গায় মাখলে তোমারও ভাল লাগবে।

    শেষপর্যন্ত বসন্তমঞ্জরীর জেদই বজায় রইল। শয্যা ছেড়ে দ্রুত তৈরি হয়ে নিল দ্বারিকা। পাশের কামরায় ছোটকু গভীর ঘুমে মগ্ন, বসন্তমঞ্জরী তাকে ডাকল না, ঝুঁকে তার ললাটে আলতো একটা চুমো দিয়ে চলে এল।

    ছোট নৌকোটিতে একজন মাঝিই যথেষ্ট। জলিল নামে সেই মাঝিটি প্রতিদিন প্রত্যুষে উঠে নামাজ পড়ে। তাকে ডেকে তোেলার প্রয়োজন হল না। মেঘ আরও জমাট হয়েছে, এ বেলা সূর্য দর্শনের আশা নেই। আলো ফুটতে পারছে না ভাল করে, নদীর জল গভীর কৃষ্ণবর্ণ। তবে বাতাসের স্পর্শ সত্যি উপভোগ্য।

    তাকিয়ায় হেলান দিয়ে আধো-শোওয়া হয়ে রয়েছে দ্বারিকা, তার পায়ের কাছে বসে আছে। বসন্তমঞ্জরী। প্রতিদিন সূবন্দনা করে সে প্রীত হয়, আজ সূর্যহীন আকাশের দিকে চেয়েও সে আনন্দবোধ করছে।

    মাঝি জিজ্ঞেস করল, কোন দিকে যাব হুজুর?

    দ্বারিকা বলল, চল, যেদিকে তোর মন চায়। হ্যাঁ রে, ঝড়-টড় উঠবে না তো? দেখিস বাবা, ডোবাসনি। এই ধড়া চূড়ো পরে সাঁতরাতে পারব না।

    নৌকো চলল, দক্ষিণ দিকে। বসন্তমঞ্জরী একবার পেছন ফিরে দেখে নিল। তাদের বজরাটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। সে আস্তে আস্তে মাথা দুলিয়ে স্বামীকে জিজ্ঞেস করল, এখন বলো, ভাল লাগছে না? ঘুমোলে কত সময় নষ্ট হয়। আজকের দিনটা কেমন অন্যরকম। রাত শেষ হয়ে গেছে, অথচ সকাল হয়নি।

    দ্বারিকা বলল, মন্দ লাগছে না ঠিকই। কিন্তু এখন যদি ঝুপঝুপিয়ে বৃষ্টি নামে, একেবারে পাঁঠা-ভেজা ভিজব!

    বসন্তমঞ্জরী বলল, না হয় একদিন ভিজলাম!

    দ্বারিকা বলল, বেশি ভিজলে নির্ঘাত সান্নিপাতিক হবে, কোবরেজের তেতো ওষুধ গিলতে হবে, মনে থাকে যেন!

    বসন্তমঞ্জরী বলল, জ্বর হলে আমার ভাল লাগে, মাথার মধ্যে ঝাঁ ঝাঁ করে, চক্ষু বুজে আসে, যেন বয়েস কমে যায়, কত কী দেখি ছোটবেলায় আমার খুব জ্বর হত। নবদ্বীপের গঙ্গায় জ্বর গায়ে নাইতাম।

    কিছুদূর যাবার পর দেখা গেল, আর একটা ছোট নদী ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিশেছে। দ্বারিকা মাঝিকে জিজ্ঞেস করল, জলিল মিঞা, এটা কী নদী? এটাই সেই বাঙালি নদীটা নাকি?

    জলিল বলল, না, হুজুর, এইটা বাংগালি নদী না। সেইটা পাবেন কানাইপাড়ার কাছে। এর নাম ধরলা।

    দ্বারিকা বলল, বাঙালি নদী! কী অদ্ভুত নাম। বিষখালি, তেতুলিয়া, শারিগোয়াইন, পিয়াইন, ঘাঘাট, কতরকম নামই যে হয়! এটার নাম ধরলা, তা হলে ছাড়লা নামেও নদী আছে নাকি?

    জলিল বলল, কী জানি হুজুর, থাকলেও থাকতে পারে। এত বড় দ্যাশ, আমি আর কতটুকু জানি! বগুড়া জেলার ওই ধারে আর যাই নাই কখনও!

    দ্বারিকা বলল, পদ্মা দেখিসনি? গঙ্গা দেখিসনি? ঠিক আছে, তোকে একবার কলকাতায় নিয়ে যাব।

    জলিল নিজের বুকে এক হাত ছুঁইয়ে বলল, ইনসা আল্লা—

    দ্বারিকা এবার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলল, তা হলে এবার ফেরা যাক?

    বসন্তমঞ্জরী শাখা নদীটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। দেখার কিছুই নেই, কোনও নৌকো চলাচল করছে না সেখানে, কোনও মানুষ নেই, তবু সে দেখছে। মুখ না ফিরিয়েই বলল, একবার ওই নদীতে যাই না?

    দ্বারিকা বলল, ওখানে গিয়ে কী হবে? অনেক তো ঘোরা হল, এখন একটু চায়ের জন্য মনটা আনচান করছে।

    কিন্তু জলিল বলল, এই নদীটায় পানি বেশি নাই। বেশি দূর যাওয়া যাবে না।

    বসন্তমঞ্জরীর মাথায় ঘোমটা, মাঝির দিকে সে পেছন ফিরে বসে আছে। স্বামীকে বলল, ওকে বলল, যত দূর যাওয়া যায়। দু’দিকে জঙ্গল দেখা যাচ্ছে, নিশ্চয়ই অনেক পাখি আছে। একটা পাখি চোখ গেল চোখ গেল বলে ডাকতে ডাকতে গলা ফাটায়, সে পাখিটা কেমন দেখতে হয়, কখনও দেখিনি।

    দ্বারিকা বলল, আমরা যে পাখিটাকে বলি চোখ গেল, পশ্চিম মুল্লুকে সেটাকেই বলে পিউ কাঁহা। বেশি দূর আর যাব না কিন্তু, বড়জোর আর আধঘণ্টা।

    ধরলা নদীর দু’পাশে সত্যিই বেশ ঘন গাছপালা, কোনও জনবসতি দেখা যায় না। বসন্তমঞ্জরী কথা বন্ধ করে এক দৃষ্টিতে দেখছে তীরের দিকে, যেন সে উৎকর্ণ হয়ে রয়েছে কোনও বিশেষ পাখির ডাকের জন্য।

    খানিকটা যাবার পর নদী অগম্ভীর হয়ে এল। এখনও পুরোপুরি বর্ষা নামেনি, মাঝে মাঝে চর হয়ে আছে। জলিল জিজ্ঞেস করল, কত্তা, এবার নাওয়ের মুখ ঘুরাই?

    বসন্তমঞ্জরী বলল, ওকে নৌকোটা পাড়ে লাগাতে বলল, একটু ঘুরে দেখব!

    দ্বারিকা বলল, এখানে তো শুধু জঙ্গল। কী দেখার আছে?

    বসন্তমঞ্জরী বলল, জঙ্গলে গিয়ে জঙ্গলই দেখব। তোমার জঙ্গলে ঘুরতে ভাল লাগে না?

    দ্বারিকা হেসে বলল, শোনো মেয়ের কথা। খামোখা জঙ্গলে ঘুরতে যাব কেন? শিকারটিকার করতে যাওয়া যায়, এ জঙ্গল তো তেমনও নয়।

    বসন্তমঞ্জরী কাতরভাবে বলল, একবারটি নামবে না? আমার যে খুব ইচ্ছে করছে!

    দ্বারিকা বলল, সকলই তোমারই ইচ্ছা, ইচ্ছাময়ী তারা তুমি! এখন এই জলকাদার মধ্যে আমাকে হাঁটতে হবে!

    কোনওক্রমে কাদা বাঁচিয়ে নামা হল তীরে। এখানে বন বেশ ঘন। পাখির অভাব নেই। গাংশালিকই বেশি, আর একরকম পাখি ট-র-র ট-র-র করে ডাকছে, ওদের বলে জলতরঙ্গ। ছাতারে পাখির দল ঝগড়া করছে মাটিতে নেমে, চোখ গেল শোনা গেল না বটে, কিন্তু কোনও বড় গাছের নিবিড় পাতার আড়ালে একটা হলুদ পাখি ডেকে যাচ্ছে, গৃহস্থের থোকা হোক, গৃহস্থের থোকা হোক। ঘুঘু ডাকছে, ঠাকুর গোপাল ওঠো, ওঠো, ওঠো!

    বসন্তমঞ্জরী বিহ্বল হয়ে সেইসব পাখির ডাক শুনতে শুনতে হাঁটছে। হঠাৎ এক জায়গায় থমকে দাঁড়াল সে। যেন তার ঘোর লেগেছে, চক্ষু দুটি বিস্ফারিত, ভুরু দুটি অনেকখানি তোলা, শরীর একটু একটু দুলছে।

    দ্বারিকা একটি সোনালি গোসাপ দেখতে পেয়ে সেটাকে ধরার কথা চিন্তা করছিল, ইদানীং বিশেষ চোখে পড়ে না, এই গোসাপের চামড়ায় ভাল চটি জুতো হয়। বসন্তমঞ্জরীর পরিবর্তন সে লক্ষ করেনি।

    বসন্তমঞ্জরীর বলল, ও গো, আমার ভেতরটা যেন কেমন কেমন করছে!

    দ্বারিকা চমকে মুখ ফিরিয়ে বলল, আঁ, শরীর খারাপ লাগছে? বাসি, এই জন্য নৌকো থেকে নামতে বারণ করছিলুম! চল, শিগগির ফিরে চল। হাঁটতে পারবি, নইলে আমার হাত ধর। চিনি

    বসন্তমঞ্জরী বলল, না, সে রকম নয়। কীসে যেন আমায় টানছে। আমার কেন এই রকম হয়। বলো তো?

    দ্বারিকা বলল, পাগলামি করিস না। আমার হাত ধরে থাক।

    দিন বসন্তমঞ্জরী সে কথায় কান না দিয়ে এক দিকে দৌড় লাগাল। অগত্যা দ্বারিকাকেও ধুতির কোঁচা সামলে ছুটতে হল। হরিণীর মতন এস্ত পায়ে ছুটে যাচ্ছে বসন্তমঞ্জরী, বনের মধ্যে আর একটি ছোট নদী পড়ল, তাতে অতি সামান্য জল, ছপছপিয়ে সে নদী পার হয়ে গেল। তারপর দাঁড়াল একটা ভাঙা মন্দিরের সামনে। দু হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সে।

    হতবুদ্ধির মতন দ্বারিকা তার পাশে এসে বলল, কী হল, বাসি? কাঁদছিস কেন? কী হল, আমাকে বল!

    মুখ থেকে একটা হাত সরিয়ে বসন্তমঞ্জরী মন্দিরটার দিকে দেখিয়ে বলল, তুমি ওর ভেতরে যাও!

    দ্বারিকা বলল, কেন? দেখেই বোঝা যাচ্ছে এখানে পুজোটুজো হয় না। আমি এই মন্দিরের মধ্যে যেতে যাব কেন?

    বসন্তমঞ্জরী দ্বারিকার পায়ের কাছে বসে পড়ে অতি কাতর স্বরে বলল, লক্ষ্মীটি, তোমার পায়ে পড়ি, একবার ভেতরে গিয়ে দেখে এসো!

    এ তো বিশুদ্ধ পাগলামি। এর সঙ্গে তর্ক চলে না। বোঝাই যাচ্ছে, বসন্তমঞ্জরীর মাথায় বায়ু চড়ে গেছে। দ্বারিকা ঠিক করল, এ বার কলকাতায় ফিরে সাহেব ডাক্তার দিয়ে ওর চিকিৎসা করাতেই হবে!

    দ্বারিকা পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল মন্দিরের দিকে। দরজার একটা পাল্লা ভাঙা। ভেতরটা বেশ অন্ধকার। মাটির কালী মূর্তি উপুড় হয়ে পড়ে মেঝেতে, মাথাটা গড়িয়ে গেছে খানিক দূরে। প্রথমে দ্বারিকার মনে হল, কালীমূর্তির নীচেও আর একটা কোনও মূর্তি! হয়তো শিবের। কিন্তু মূর্তিটা এক কাত হয়ে পড়ে আছে, হাত দুটো মাথার কাছে। কোনও কুমোর বা ভাস্কর মাথায় হাত দেওয়া শিবের মূর্তি গড়ে কি?

    আরও কাছে এসে দ্বারিকা দেখল, মূর্তি নয়, একজন মানুষ, সদ্য মৃত।

    ছুটে মন্দির থেকে বেরিয়ে এল দ্বারিকা। রাগে তার সমস্ত শরীর জ্বলছে। এখন আর সে সংযম রাখতে পারল না, মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা বসন্তমঞ্জরীর চুলের মুঠি ধরে চিৎকার করে বলল, হারামজাদি, তুই কে? মায়াবিনী না পিশাচী, তোকে আজ বলতেই হবে!

    অশ্রু আপ্লুত কণ্ঠে বসন্তমঞ্জরী বলল, আমি জানি না। বিশ্বাস করো, আমি কে, তা জানি না। আমি প্রাণপণে তোমার দাসী হয়ে থাকতে চাই।

    দ্বারিকা বলল, মিথ্যে কথা, সব মিথ্যে কথা। তুই নৌকোয় বেড়াবার ছুতো করে আমাকে ঘুম থেকে তুললি, তারপর ভুলিয়ে-ভালিয়ে এখানে নিয়ে এসে আমার বন্ধুর মড়া মুখ দেখালি? কেন? তোকে বলতেই হবে!

    বসন্তকুমারী বলল, কেন এমন হয় আমি বুঝি না! মা কালীর নামে দিব্যি করে বলছি, আমার মনের মধ্যে কী হয়, আমি জানি না। তুমি ঠিকই বলো, আমি পাগল। দিন দিন আরও পাগল হয়ে যাচ্ছি।

    হঠাৎ কান্না থামিয়ে সে বলল, মরে গেছে?

    দ্বারিকা বলল, চতুর্দিক রক্তে মাখামাখি। হতভাগাটা এখানে কেন মরতে এল কে জানে! মনে হয়, কেউ খুন করেছে! তুই কী করে জানলি, ও এখানে পড়ে থাকবে? ভরত সম্বন্ধে তুই আগেও এমনধারা কথা বলেছিস। ভরত তোর কে? আমাকে চেনার আগে তুই ভরতকে চিনতি? সত্যি করে বল!

    নিঃস্ব মানুষের মতন মাথা দোলাতে দোলাতে ভাঙা ভাঙা গলায় বসন্তমঞ্জরী বলল, কেউ না। উনি আমার কেউ না। তুমিই প্রথম আমার ঘরে নিয়ে এসেছিলে। উনি তো কোনও কথাও বলেননি। উনি যে এখানে আসবেন, তা আমি কেমন করে জানব? তবু কেউ যেন আমাকে টেনে নিয়ে এল! তুমি আমাকে শাস্তি দাও!

    ওর চুল ছেড়ে দিল দ্বারিকা। মনের দিক থেকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত, অথচ রাগও দমন করতে পারছে। ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলতে লাগল।

    স্থানটি একটি পরিত্যক্ত শ্মশান। হয়ত কাছাকাছি কোনও গ্রাম ছিল একসময়। ওলাউঠা-বিসূচিকায় কিছু লোক মরে গেলে সেই গ্রাম ছেড়ে বাকি লোকরা পালিয়ে যায়, সেইরকমই কিছু ঘটেছে বোধহয়, শ্মশানটা আর ব্যবহৃত হয় না, এই মন্দিরেও কেউ আসে না অনেক দিন। কিছু কিছু হাড়গোড় ছড়িয়ে আছে এ-দিকে সেদিকে।।

    আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়িয়ে বসন্তমঞ্জরী নত মুখে জিজ্ঞেস করল, আমি একবার মন্দিরের মধ্যে যাব?

    দ্বারিকা ঠিক বুঝতে পারছে না, এখানে আর থাকা উচিত হবে কি না। ভরতের জন্য তার কষ্ট হচ্ছে ঠিকই। ছেলেটা বরাবরের হতভাগ্য। কিন্তু এখানে আর কেউ নেই, শেষ পর্যন্ত সে-ই খুনের মামলায় জড়িয়ে পড়বে না তো! নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার আগে পুলিশের খাঁই মেটাতে বহু টাকা খসাতে হবে। তা ছাড়া মানুষজনও এমন, একবার কথাটা রটলে অনেকে চক্ষু কুঞ্চিত করে বলবে, হুঁ হুঁ বাবা, ভেতরে ভেতরে কী ছিল কে জানে!

    বসন্তমঞ্জরী মন্দিরের দিকে এগিয়ে গেলে দ্বারিকা অবশ্য বাধা দিল না। সেও চলল সঙ্গে সঙ্গে। সিঁড়িতে এসে বসন্তমঞ্জরী মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করল। তারপর ঢুকল ভেতরে।

    সেই নিদারুণ দৃশ্যের সামনে দু’জনে কেউই কিছুক্ষণ কথা বলল না। বসন্তমঞ্জরীর চক্ষু দিয়ে নিঃশব্দে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। আঁচল দিয়ে চোখ মুছে সে একটু পরে বলল, আমি কি একবার ছুঁয়ে দেখব? তুমি অনুমতি দেবে?

    চোখের ইঙ্গিতে সম্মতি জানাল দ্বারিকা।

    বসন্তমঞ্জরী হাঁটু গেড়ে বসে প্রথমে কালীমূর্তির ভগ্নাংশ সরাতে লাগল। স্থানটি একেবারে পরিষ্কার করে ফেলার পর সযত্নে ভরতের দেহটাকে চিত করে শুইয়ে দিল। এবারে উভয়েরই চোখে পড়ল ভরতের পেটের ক্ষত। একটা বশীর ফলা বিধে আছে, এখনও চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে সেখান থেকে।

    বসন্তমঞ্জরী ভিতু ভিতু স্বরে জিজ্ঞেস করল, আমি ওঁর মাথাটা কোলে নিয়ে বসলে কি দোষ হবে? আমার পাপ হবে?

    বসমঞ্জরী আরও কী মায়ার খেলা দেখাবে, দ্বারিকা তা শেষ পর্যন্ত দেখতে চায়। উগ্র কৌতূহলে তার বুক ধকধক করছে। সে আবার চোখের ইঙ্গিত করল।

    জানু ভাঁজ করে বসে ভরতের মাথাটা কোলের ওপর তুলে নিল বসন্তমঞ্জরী। চোখের পাতা দুটো টেনে টেনে খুলতে লাগল। কী যেন বিড়বিড় করে সে বলছে আপন মনে।

    দ্বারিকা জিজ্ঞেস করল, এখন তুই মন্ত্র পড়বি?

    বসন্তমঞ্জরী বলল, না, আমি সে রকম কোনও মন্তর জানি না। কিন্তু মনে হচ্ছে, শরীরটা এখনও একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে যায়নি। তুমি একটু জল আনতে পারো?

    দ্বারিকা ঝটিতি বেরিয়ে গেল। কীসে করে জল আনবে? কয়েকটা ভাঙা মাটির হাঁড়ি মালসা বাইরে পড়ে থাকতে দেখেছে, তারই একটা কুড়িয়ে নিয়ে কাছের সেই ক্ষীণতোয়া নদী থেকে জল নিয়ে এল।

    মন্দিরে এসে দেখল, ততক্ষণে বসন্তমঞ্জরী নিজের আঁচল দিয়ে ভরতের মুখ থেকে ধুলোময়লা মুছে দিয়েছে, জোরে জোরে অনবরত ফুঁ দিচ্ছে ভরতের দৃষ্টিহীন খোলা চোখে।

    জল নিয়ে সেই চোখেই ঝাঁপটা মারতে লাগল বসন্তমঞ্জরী। মারছে তো মারছেই। দ্বারিকার মনে হল, যেন অনন্তকাল এ রকম চালাতে চায় তার স্ত্রী, সে এখান থেকে ভরতকে ছেড়ে উঠবে না। অথচ এ সবই পণ্ডশ্রম।

    একাগ্রভাবে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক সময় মনে হল, একবার কি কাঁপল ভরতের চোখের পলক? বারেক স্পন্দিত হল শরীর?

    আরও কিছুক্ষণ বাদে স্পষ্টতই নড়ে উঠল সেই মৃতবৎ দেহ, কাতর শব্দ করল, আঃ আঃ, মা, মা, মাগো–

    আশ্চর্য, যে মানুষ নিজের মাকে দেখেইনি প্রায়, মাতৃস্নেহের কণামাত্র পায়নি, এমন অন্তিম মুহূর্তে সেই মানুষও মাকেই স্মরণ করে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article পিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Ek Pata Golpo সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Our Picks

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }