Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. গ্রিনরুম থেকে বেরিয়ে ধীর পায়ে

    গ্রিনরুম থেকে বেরিয়ে ধীর পায়ে মঞ্চের পেছনে হলুদ রঙের দেওয়ান্সের সামনে এসে দাঁড়ালেন গিরিশচন্দ্র। সেই দেওয়ালে ঝুলছে গিরিশচন্দ্রের গুরু রামকৃষ্ণদেবের একটি আবক্ষ প্রতিকৃতি। ফটোগ্রাফ দেখিয়ে এক ইংরেজ চিত্রকরকে দিয়ে সেই ছবি আঁকানো হয়েছে, চক্ষু দুটি যেন একেবারে জীবন্ত। ছবির রামকৃষ্ণদেব চেয়ে আছেন তাঁর এই প্রিয় শিষের দিকে। গিরিশ হাত জোড় করে, চক্ষু বুজে বেশ কিছুক্ষণ ধ্যানমগ্ন হয়ে রইলেন সেই ছবির সামনে।

    গিরিশচন্দ্রের পায়ে ফিতে বাঁধা জুতো, ভেলভেটের ট্রাউজার্স, পুরো হাতা সাদা জামা, তার দুই কবজির কাছে কুচি দেওয়া, বুকের কাছে লেস বসানো, টাক মাথা ঢাকা পরচুলায়, কুঞ্চিত কেশ ঘাড় পর্যন্ত নেমে এসেছে। কাঁচা-পাকা গোঁফ রং মাখিয়ে কুচকুচে কালো করা হয়েছে, মুখে গোলাপি আভা, একেবারে পাক্কা সাহেব। কোমরবন্ধে তলোয়ার। প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়েসে পৌঁছে গিরিশচন্দ্রকে আবার এক অগ্নি পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

    গিরিশচন্দ্র মঞ্চে অভিনয় বন্ধ করে দিয়েছিলেন অনেক দিন। নতুন দর্শকরা অভিনেতা হিসেবে তাঁকে চেনেই না। তিনি নাট্যকার, অভিনয় শিক্ষক ও ম্যানেজার। এইজন্যই বিভিন্ন থিয়েটার কোম্পানি তাঁকে টানাটানি করে। কিন্তু এতদিন পর তিনি বাধ্য হয়ে আবার মঞ্চে অবতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এক কঠিন ভূমিকায়। এ নাটক দর্শকরা কেমনভাবে গ্রহণ করবে তার ঠিক নেই। হঠাৎ দুযোগের মতন, এ নাটকের নায়িকা হিসেবে বেশ কয়েক মাস ধরে গিরিশচন্দ্র যাকে পাখি-পড়ার মতন সব কিছু শিখিয়েছেন, সে দু’দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এমনই ভেদ বমি যে শয্যা থেকে ওঠারই ক্ষমতা নেই তার। বিশিষ্ট জ্ঞানী-গুণী নাগরিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এখন অভিনয় বন্ধ করে দেওয়াও যায় না, তাই শেষ মুহূর্তে নায়িকা বদল করতে হয়েছে। তিনকড়ি পাসী নামের মেয়েটির অল্প বয়েস, শরীরে রোগব্যাধির চিহ্ন নেই, সে যে অকস্মাৎ পীড়িত হয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাই মনে জাগেনি, তাই দ্বিতীয় কারুকে নায়িকা হিসেবে তৈরি করা হয়নি। এখন এই দুদিনের মধ্যে অন্য ভূমিকার একটি মেয়েকে দেওয়া হয়েছে প্রধানা নারীচরিত্র। আজ সত্যিই এক অগ্নিপরীক্ষা।

    তিনকডিকে যখন আর শয্যা থেকে তোলা যাবে না নিশ্চিত জানা গেল, তখন দু-একজন বলেছিল, এত অল্প সময়ে লেডি ম্যাকবেথের ভূমিকা মুখস্থ করে মঞ্চে উতরে দেবার ক্ষমতা বঙ্গের একমাত্র একজন অভিনেত্রীরই আছে, সেই বিনোদিনীকেই ডাকা হোক না। নতুন রঙ্গমঞ্চ, নতুন মালিক, অর্থব্যয় হচ্ছে অকাতরে, সুতরাং বিনোদিনীর কাছে একবার প্রস্তাব পাঠানো যেতে পারে। মালিকও রাজি, কিন্তু বেঁকে বসেছিলেন গিরিশচন্দ্র। না, বিনোদিনীকে তিনি আর ডাক পাঠাবেন না। বিনোদিনী মঞ্চের মর্যাদা রাখেনি, নাট্য শিল্পকলার চেয়ে তার আত্মাভিমান বেশি হয়ে গেছে। এখন বাধ্য হয়ে, কৃপাপ্রার্থীর মতন আবার বিনোদিনীর দ্বারস্থ হতে হবে? গিরিশচন্দ্র নিজেই তা হলে থিয়েটার ছেড়ে চলে যাবেন।

    গত সাত বছর ধরে বিনোদিনীর কোনও সংশ্রব নেই থিয়েটারের সঙ্গে। ‘বেল্লিক বাজার’-এর পর “রূপ-সনাতন”-এর মহড়া যখন চলছিল স্টার থিয়েটারে, তখনই একদিন বিনোদিনী অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে কলহ শুরু করায় তাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর ডাকা হয়নি তাকে। যে স্টার থিয়েটারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে সার্থকতার মূলে বিনোদিনীর অনেকখানি স্বার্থত্যাগ ও অভিনয়প্রতিভা, সেই স্টার থেকেই কার্যত বিতাড়িত হলেন বিনোদিনী। এমনই হয় বুঝি রঙ্গজগতের মানুষদের নিয়তি! কে কাকে দোষ দেবে, স্টার থিয়েটারের পরিচালকবর্গের নির্দয়তা না বিনোদিনীর অহমিকা? নারীচরিত্রও কী বিষম দুর্বোধ্য। থিয়েটারকে ভালবেসে, থিয়েটারের মানুষজনকেই পরম আপনজন জ্ঞান করে যে-বিনদিনী একসময় এক দুশ্চরিত্র যুবকের খেয়াল চরিতার্থ করার জন্য তার শয্যাসঙ্গিনী হতে বাধ্য হয়েছিল, সেই বিনোদিনীই যখন সার্থকতার শীর্ষে, দর্শকরা যখন তাকে ধন্য ধন্য করে, যখন সে স্বয়ং রামকৃষ্ণদেবের আশীর্বাদ পেয়েছিল, যখন তার অর্থের অভাব ছিল না, তখনই সে থিয়েটারের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে আবার এক ধনীর রক্ষিতা হয়েছিল স্বেচ্ছায়। এতে দারুণ আঘাত পেয়েছিলেন গিরিশচন্দ্র। অভিমানভরে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, যে-মঞ্চের সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকবেন, সে মঞ্চে আর বিনোদিনীর স্থান নেই।

    মাত্র চব্বিশ বছর বয়েসে, যখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, তখনই বিনোদিনীকে বিদায় নিতে হয় থিয়েটারের জগৎ থেকে। সে অবশ্য বলে যে সে নিজেই সরে এসেছে, কিন্তু কোনও মঞ্চ থেকেই তাকে আর কেউ সাধতে যায় না। এখন তার একত্রিশ বছর বয়েস, রূপ-যৌবন কিছুই স্নান হয়নি, তবু তাকে ফিরিয়ে আনতে গিরিশচন্দ্র কিছুতেই রাজি নন।

    বিনোদিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ হবার পর গিরিশচন্দ্রের জীবনে এবং থিয়েটার জগতেও অনেক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটে গেছে। আলোর টানে যেমন পতঙ্গ ছুটে আসে, সেখানেই মৃত্যুবরণ করে, তেমনি রঙ্গমঞ্চের পাদপ্রদীপের আলোও অনেককে টেনে এনে ভূপাতিত করে দেয়। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বন্ধুত্বের সম্পর্ক, ফুৎকারে উড়ে যায় ভালবাসা, লকলক করে ওঠে ঈর্ষা ও স্বার্থ। আজ যার সঙ্গে গলাগলি ভাব, কাল হঠাৎ সে গলা টিপে ধরতে চায়। একের পর এক আকস্মিক আঘাতে গিরিশ একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন।

    ‘চৈতন্যলীলা’, ‘বিল্বমঙ্গল’, ‘বেল্লিক বাজার’-এ যখন স্টার থিয়েটারের রমরমা অবস্থা, অন্য থিয়েটারগুলি যখন একেবারে কহিল, ঠিক সেই সময় একদিন বিনা মেঘে বজ্রপাত হল। একদিন এক উকিল এসে গিরিশচন্দ্রকে বলল, ওহে ঘোষজা, তোমাদের তোে এবার এখান থেকে পাট ওঠাতে হয়। আমার মক্কেল এ ভূমি কিনে নিয়েছেন!

    গিরিশ ও তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রথমে একথা বিশ্বাসই করতে পারেনি, হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু অল্পকালের মধ্যেই সি মিলিয়ে গেল। স্টার রঙ্গমঞ্চটি তাদের নিজস্ব হলেও জমিটি লিজ নেওয়া। প্রখ্যাত ধনকুবের মতিলাল শীলের পৌত্র গোপালগাল শীল সেই জমি কিনে নিয়েছেন গোপনে। গোপাললালের কানে তার মোসাহেবেরা কুমন্ত্রণা দিয়েছে, মশাই, থিয়েটারের ব্যবসা এখন খুব ভাল চলছে, আপনি নিজে একটা থিয়েটার খুলুন না। তাতে বেশ দু পয়সা আসবে, আবার ফুর্তিফার্তাও হবে।

    গোপাললাল রাজি হয়ে গেলেন তো বটেই, তাঁর বাবসাবুদ্ধি থেকে বুঝলেন, নতুন থিয়েটার খোলার আগে স্টার থিয়েটারকে কুপোকাত করা দরকার। তাই নতুন জমি কিনে রঙ্গমঞ্চ বানাবার বদলে ওই স্টারের জমিটাই তাঁর চাই।

    বাস্তব সত্যটা উপলব্ধি করার পর গিরিশ ও অমৃতলালরা মাথায় হাত দিয়ে বসলেন। জমি একজনের, তার ওপরের বাড়ির মালিক অন্যজন। অন্য কেউ জমিটা কিনে নিলেও কি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবে স্টারের দল? এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করা যায়। কিন্তু গোপাঙ্গলাল বিপুল ধনী, তার সঙ্গে মামলায় কি টক্কর দেওয়া যাবে? যার বেশি টাকা, আইন তার পক্ষেই যায়। তা ছাড়া, ধনীদের পক্ষেই থাকে তার দল। এটাই চিরকালের নিয়ম। গোপাললালের দলবঙ্গ হমলা শুরু করলে এখানে থিয়েটার চালানো সম্ভব হবে না।

    শেষ পর্যন্ত আদালতের বাইরেই একটা রফা হল। গোপাললাল তিরিশ হাজার টাকায় রঙ্গমঞ্চটাও কিনে নিলেন, কিন্তু স্টার’ নামটা তিনি পাবেন না। স্টারের দল হাতিবাগানে জমি কিনে নতুন রঙ্গমঞ্চ প্রস্তুত করতে লাগল, আরও টাকা তোলার জন্য তারা ঢাকা শহরে চলে গেল অভিনয় করতে।

    বিডন স্ট্রিটের সেই প্রাক্তন স্টার রঙ্গমঞ্চের নতুন নাম হল এমারাভ। নতুনভাবে সব কিছু সাজিয়ে গোপালান্স পাণ্ডব নির্বাসন’ পালা নামালেন। প্রচুর অর্থ ব্যয়, প্রচুর আলো, অর্ধেন্দুশেখর, মহেন্দ্রলাল বসু, বনবিহারিণী, কুসুমকুমারীর মতন নট-নটী, তবু নাটক জমে না। চাকচিক্যের অভাব নেই, কিন্তু কেমন যেন প্রাণহীন! এ যেন শশধর বিহীন রাত্রির আকাশ। চাঁদ না উঠলে কি আর অন্য তারকাদের ঔজ্জ্বল্য প্রকাশ পায়? এ যেন শিবহীন যজ্ঞ।

    মোসাহেবরা গোপাললালকে আবার বোঝাল, থিয়েটার মানেই এখন গিরিশচাঁদ। ও ব্যাটাকে ধরে আনন। গিরিশের হাতের সুতোর টান না পড়লে মঞ্চের এই পুতুলগুলো ঠিকমতন নাচবে না।

    গোপালগাল গিরিশের কাছে দূত পাঠালেন। দশ হাজার টাকা নগদ বোনাস, আড়াইশো টাকা মাসিক ভাতা, নাট্যকার ও ম্যানেক্সার হিসেবে গিরিশকে তাঁর চাই। গিরিশচন্দ্র সঙ্গে সঙ্গে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। স্টার থিয়েটার তাঁর প্রাণ। এখানে কোনও ব্যক্তিগত মালিকানা নেই, মালিকের ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি অনুযায়ী কিছু চলে না। থিয়েটারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত কয়েকজনের এক কমিটি স্টার চালায়। এখানকার ড্রেসার-প্রমটার থেকে শুরু করে নায়ক-নায়িকা পর্যন্ত সবাই তাঁর হাতে গড়া।

    পরদিন আবার দৃত এল, নগদ বোনাস পনেরো হাজার, মাসিক ভাতা তিন শো। এবারেও গিরিশ হাত জোড় করে বললেন, শীলমশাইকে আমার নমস্কার ও ধন্যবাদ জানাবেন, আমি স্টার থিয়েটার ছেড়ে কোথাও যাব না।

    আবার প্রদিন এল দূত। উকিলবাবুটি শুধু একা নন, সঙ্গে দুজন বন্দুকধারী পেয়াদা। উকিলবাবুটি কথা বলতে লাগলেন, গোঁফে তা দিতে লাগল পেয়াদ দুটি।

    উকিলবাবু বললেন, নগদ বোনাস কুড়ি হাজার আর মাসিক ভাতা সাড়ে তিন শো। মশাই, লাটসাহেবের পর আর এত টাকা কে রোজগার করে বলুন দেখি। জলে বাস করে কি কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করতে চান? গোপাললাল শীলের মাথায় খেয়াল চেপেছে আপনাকে মাইনে দিয়ে চাকর করে রাখবে, তা মান্য না করলে আপনি এই কলকাতা শহরে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেন। টাকা ছাড়িয়ে তিনি আপনার দলের সবকটাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে যাবেন, আপনাদের এই স্টার-এর বাড়িও কোনওদিন শেষ হবে না।

    এই স্টার-এর জন্য একদিন বিনোদিনীকে দেহ বিক্রয় করতে হয়েছিল, আজ গিরিশচন্দ্রকে মস্তিষ্ক বিক্রয় করতে হবে।

    সহকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে গিরিশচন্দ্র বুঝলেন, এ ছাড়া আর পথ নেই। এখন সবচেয়ে বড় কথা, হাতিবাগানে এই নতুন স্টার মঞ্চটি গড়ে তোলা। তার জন্য টাকা ধার করতে হচ্ছে। কুড়ি হাজার টাকা থেকে যোলো হাজার টাকাই তিনি এই মঞ্চ নির্মাণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে দান করে দিলেন। অমৃতলালের হাত ধরে বলেন, আমার একটাই শর্ত রইল, এই থিয়েটারে যারা যোগ দেবে, সবাইকে ভদ্র সন্তান বলে গণ্য করবে। আর দেখো, এখানে যেন কারুর কোনও অপমান না হয়।

    এমারাল্ডে এসে যোগ দিলেন গিরিশ, নতুন নাটক লিখলেন ‘পূর্ণচন্দ্র’, খুব ধুমধাম করে তার উদ্বোধন হল। কিন্তু গিরিশের মন পড়ে থাকে স্টারে। একজন শিল্পীর মনটাই যে আসল, তা ক’জন বোঝে? গোপাললাল নানান চুক্তিতে বেঁধে ফেলেছেন গিরিশকে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে তিনি মঞ্চে অজিরা দেন, যথাসাধ্য পরিশ্রম করে তিনি নাটকের সুষ্ঠু উপস্থাপনার ব্যবস্থা করেন, তবু যে ভেতরে ভেতরে তিনি উদাসীন, গোপাললাল তা জানেন না।

    স্টারের বন্ধুরা গোপনে গোপনে দেখা করতে আসে। হাতিবাগানে মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে গেছে, কিন্তু একখানা নতুন নাটক দিয়ে শুরু না করলে দর্শকরা আকৃষ্ট হবে কেন? পর্ণচন্দ্র নাটকটাই কি স্টার-এর প্রাপ্য ছিল না? স্টার-এর জন্য নতুন নাটক কে লিখে দেবে?

    গোপাললালের সঙ্গে চুক্তি আছে যে গিরিশচন্দ্র অন্য কোনও থিয়েটারের জন্য নাটক লিখে দিতে পারবেন না, স্টারকে সাহায্য করার তো প্রশ্নই ওঠে না। অথচ স্টার-এর প্রতি গিরিশের প্রাণের টান। তাঁর লেখা নতুন নাটক দিয়েই শুরু করতে হবে স্টার-এর জয়যাত্রা।

    একটু-আধটু সুরা পান না করলে গিরিশের হাত খোলে না, ভাল ভাল সংলাপ মনে আসে না। গান রচনার সময় আরও দু’ পান্তুর চড়াতে হয়। ইদানীং তিনি নিজের হাতে কিছু লিখতে পারেন না, নেশার সময় তাঁর হাত কাঁপে, তিনি নাটক রচনা করেন অবিনাশ নামে একটি ছেলেকে ভিকটেশান দিয়ে। বাড়িতে বসে সে রকমভাবে লেখা সম্ভব নয়, অহরহ এমারাল্ড-এর দৃত আসে, তাঁর গতিবিধির ওপরেও নজর রাখা হয়।

    একদিন গিরিশচন্দ্র শাড়ি পরে রমণী সেজে বাড়ি থেকে বেরুলেন। পথের কোনও লোক তাঁকে পুরুষ বলে সন্দেহ করল না। তিনি পাকা অভিনেতা, নারীর ভূমিকাই বা পারবেন না কেন, শুধু গোঁফটা লুকোবার জন্য ঘোমটায় মুখের অনেকখানি ঢেকে রাখতে হয়। গিরিশ বেশ মজা পেয়ে গেলেন। স্ত্রীলোক সেজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এক বন্ধুর গৃহে গিয়ে নাটক ডিকটেশন দিতে লাগলেন। রচিত হল ‘নসীরাম’, সেটা স্টারে যখন মঞ্চস্থ হল, তখন নাট্যকারের নাম কেউ জানল না, বিজ্ঞাপনে দেওয়া হল রচয়িতার নাম ‘সেবক’। নাটক শুরু হবার আগে প্রস্তাবনা হিসেবে পাঠ করা হয় আত্মগোপনকারী নাট্যকারের এক কবিতা।

    হে সজ্জন, পদে নিবেদন
    নির্বাসিত মনোদুঃখে বঞ্চিলাম অধোমুখে
    বঞ্চিত বাঞ্ছিত তব চরণ বন্দন…

    দুটি মঞ্চেই অভিনীত হতে লাগল গিরিশচন্দ্রের নাটক। দুই দলে তীব্র প্রতিযোগিতা, এক দিকে গিরিশ, অন্য দিকে তাঁরই শিষ্য সম্প্রদায়। এমারাল্ড-এর চেয়ে স্টার-এর টিকিট যেদিন বেশি বিক্রি হয়, সে সংবাদ পেয়ে গিরিশ বেশি পুলকিত হন। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে গিরিশ একদিন শুনতে পেলেন একজন পথিক আর একজনকে বলছে, ওরে ভাই, স্টারের নতুন পালাটা দেখেছিস? কে একটা নতুন লোক নাটক লিখেছে, খোদ গিরিশবাবুকেও দুয়ো দিয়ে দিয়েছে।

    বছর দু-এক এইভাবে কাটল, তারপর গোপাললাল শীল একদিন ম্যানেজারের ঘরে এসে মুখ ভেটকে বললেন, দুর দুর, থিয়েটার চালানো কি মানী বংশের কাজ? আট আনা এক টাকার টিকিট কেটে আসে পাঁচপেঁচি লোকেরা, তাদের মন জুগিয়ে চলতে হবে আমাকে। কাল থেকে সব বন্ধ করে দাও।

    বড়লোকের খেয়াল, বেশি দিন তারা এক ব্যাপারে স্থির থাকতে পারে না। গোপাঙ্গলালের শখ মিটে গেছে, তিনি রঙ্গমঞ্চ ভাড়া দিয়ে দিলেন অন্য লোকদের। তারাও থিয়েটারই চালাবে, কিন্তু তাদের সঙ্গে গিরিশের কোনও চুক্তি নেই। তিনি খুশিতে ডগোমগো হয়ে ফিরে এলেন স্টারে, তাঁর স্বভূমিতে।

    কয়েক বছরের মধ্যেই গিরিশচন্দ্র তাঁর জীবনের কঠিনতম আঘাতটি পেলেন এই স্টারেই বন্ধু, সহকর্মী ও শিষ্যদের কাছ থেকে।

    ‘নসীরাম’ ছাড়া আর কোনও নাটক এই দু বছরে স্টারের জন্য লিখে দিতে পারেননি গিরিশচন্দ্র। তখন ম্যানেজার অমৃতলাল বসু সরলা’ নামে একখানি নাটক নামিয়ে দিল। তারক গঙ্গোপাধ্যায়ের স্বর্ণলতা উপন্যাসটির নাট্যরূপ, সাদামাঠা সামাজিক কাহিনী, তাও কিন্তু খুবই বাহবা পেল দর্শকদের কাছ থেকে। তারপর অমৃতলাল নিজেই লিখলেন ‘তাজ্জব ব্যাপার, তাও বেশ জমজমাট।

    গিরিশচন্দ্র ফিরে এলে অমৃতলালের বদলে তাঁকেই আবার ম্যানেজার করা হল। অমৃতসালের পক্ষে সেটা খুশি মনে মেনে নেওয়া সম্ভব কী? অমৃতলাঙ্গ ইতিমধ্যে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। অমৃতলাল গিরিশের শিষ্য বটে, কিন্তু শিষ্য কি চিরকাল পায়ের তলায় পড়ে থাকবে, তারও কি বড় হওয়ার সাধ জাগে না? গিরিশেরও ভুল হল, তিনি নজর করলেন না শিষ্যের ক্ষোভ।

    স্টার-এর জন্য গিরিশ লিখতে লাগলেন একের পর এক মঞ্চ-সফল নাটক। প্রফুল্ল’, ‘হানিধি, ‘চণ্ড’। স্টারের জনপ্রিয়তার তুলনায় অন্য সব থিয়েটার স্নান। নতুন নাটক লেখার পর গিরিশ প্রথম দু-চারদিন মহড়ার সময় সবাইকে দেখিয়ে শুনিয়ে দেন, তারপর শিষ্য অমৃতলালকে বলে দেন, ওরে, এর পর তুই গড়েপিটে নিস!

    এখন আর গিরিশ নিয়মিত মহড়ায় আসার প্রয়োজন বোধ করেন না, শিষ্যের ওপর তাঁর যথেষ্ট ভরসা আছে। অমৃতলালকে খাটতে হয় প্রচুর, সমস্ত খুঁটিনাটির দিকে তাঁকে নজর দিতে হয়। তারপর নাটক যখন জমজমাট হয়, পত্রপত্রিকার বিজ্ঞ সমালোচকরা লেখেন, “গিরিশচন্দ্র ঘোষ মহোদয় বর্তমান সমাজের বাস্তব চিত্র অঙ্কিত করিয়া একটি উচ্চাঙ্গের নতুন নাটক উপহার দিয়াছেন তো বটেই, তাঁহার নিপুণ পরিচালনা ও শিক্ষাগুণে অভিনয়ও অতি উচ্চমানের হইয়াছে।’ গিরিশ ম্যানেজার, পরিচালনার সব কৃতিত্ব তাঁরই, অমৃতলালের নাম উল্লেখ থাকে না। গিরিশ মনে করেন, গুরুর গৌরবেই শিষ্যের গৌরব।

    এই সময় গিরিশ পারিবারিকভাবেও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাঁর দ্বিতীয় পত্রী দীর্ঘদিন রোগভোগের পর দেহরক্ষা করেছেন। এই পক্ষে তাঁর দুটি কন্যা ও একটি পুত্র জন্মেছি। কন্যা দুটিরই অকালমৃত্যু ঘটেছে, মাতৃহারা শিশুপুত্রটি গিরিশের চক্ষের মণি। মাতাল অবস্থায় গিরিশ প্রায়ই তাঁর গুরু রামকৃষ্ণদেবকে বলতেন, তুমি আমার ছেলে হও! এখন গিরিশের ধারণা হল, সত্যিই রামকৃষ্ণদেব তাঁর এই পুত্ররূপ ধরে এসেছেন। ছেলেটির মধ্যে অনেক অলৌকিক ব্যাপার-স্যাপার তিনি দেখতে পান।

    এই ছেলেটি জন্ম থেকেই রুগণ। এর চিকিৎসার জন্য গিরিশ সবরকম চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হয়েছেন, নিমেষের জন্যও ছেলেকে কাছছাড়া করেন না। স্টার-এর জন্য নতুন নাটক দরকার হলে অবিনাশকে ডেকে ডিকটেশন দিয়ে একটা কিছু লিখে পাঠিয়ে দেন। রঙ্গমঞ্চের ধারেকাছে যাওয়া একেবারে বন্ধ। মলিনা বিকাশ’ আর ‘মহাপূজা’ নাটক দুটি হল দায়সারা গোছের।

    এদিকে অমৃতলাল ও অন্য কয়েকজনের মধ্যে অসন্তোষ ধূমায়িত হচ্ছে। গিরিশচন্দ্র স্টারের কর্তৃত্বভার কখনও নেননি, তিনি বেতনভুক মানেজার হিসেবে থাকাটাই পছন্দ করতেন। ব্যবসায়িক কাজকর্ম দেখা তাঁর ধাতে পোষায় না। বাইরের সকলে জানে গিরিশবাবুই স্টারের সর্বেসবা, আসলে কিন্তু তিনি লাভ-লোকসান নিয়ে মাথা ঘামান না।

    অমৃতলাল ও আরও কয়েকজন বলাবলি করতে লাগল, গিরিশচন্দ্র মাসের পর মাস মানেজারের মাইনে নিয়ে যান, কিন্তু নাটক লেখা ছাড়া তো আর কিছুই করেন না। নাটক তো অন্য কেউও লিখতে পারে। অমৃতোল নিজেই এখন নাট্যকার হয়েছে, তার ‘সরলা’ গিরিশের ‘নসীরাম’-এর চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়নি? নাট্যশিক্ষক হিসেবেও তার কৃতিত্ব সবাই স্বীকার করে।

    গিরিশের সঙ্গে এদের খিটিমিটি শুরু হয়ে গেল। তিনি থিয়েটার ভবনে যান না, থিয়েটারের লোকেরা তাঁর বাড়িতে ডাকতে এলেও গিরিশ তাদের পাত্তা দেন না বিশেষ। তার নামেই স্টার থিয়েটারে দর্শক আসবে, সেটাই কি যথেষ্ট নয়?

    একদিন তর্কাতর্কির সময় উত্তেজনা বেশ বৃদ্ধি পেলে গর্বিত গিরিশচন্দ্র বললেন, আমি মাইনে নিই বলে তোমাদের গাত্রদাহ? ঠিক আছে আমি বেতন চাই না, নাটকও আর লিখে দেব না, তোমরা যা খুশি করো।

    গিরিশচন্দ্র নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন, দু-একদিনের মধ্যেই অমৃতলালরা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে আসবে, পায়ে ধরে তাঁকে স্টারে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু কেউ এল না। তাঁকে বাদ দিয়েই স্টার দিব্যি চলতে লাগল।

    পুত্রের অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে, গিরিশ এখন থিয়েটার নিয়ে মাথা ঘামাতেও পারছেন। ডাক্তারের পরামর্শে ছেলেকে নিয়ে হাওয়া পরিবর্তনের জন্য মধুপুর যাবেন ঠিক করেছেন। হাতে বিশেষ টাকা নেই। এই সময় নীলমাধব চক্রবর্তী নামে একজন বীণা থিয়েটার ভাড়া নিয়ে সেখানে সিটি থিয়েটার নামে নতুন থিয়েটার খুলে গিরিশচন্ত্রের বিল্বমঙ্গল, বুদ্ধদেরচরিত, বেল্লিক বাজার—এই সব পুরনো নাটক নামাতে চাইছে, গিরিশকে তারা কিছু টাকাও দিয়ে গেল।

    মধুপুরে একটি বাড়ি ভাড়া করে গিরিশ ছেলেকে প্রায় বুকে করে রইলেন। মধুপুরে তরিতরকারি খুব টাটকা, বাস নির্মল, ডিম-মাংস ইত্যাদি অবিশ্বাস্য রকমের সন্তা। পুত্র একটু একটু আরাগ্যের পথে এগোচ্ছে, গিরিশেরও স্বাস্থ্যের বেশ উন্নতি হচ্ছে। মদ্যপান খুব কমিয়ে দিয়েছেন; এই সময় আচম্বিতে এক দুঃসংবাদ এল। স্টার থিয়েটার তাঁকে ম্যানেজার হিসেবে বরখাস্ত করেছে, এবং তারা নীলমাধবের নামে একটি মামলাও দায়ের করেছে। স্টার থিয়েটারের জন্য তিনি যে সব নাটক লিখেছেন, বেতনভোগী ম্যানেজার হিসেবেই লিখেছেন, ওই সব পুরনো নাটক স্টারেরই সম্পত্তি, অন্য নাট্যদলকে তিনি অনুমতি দিতে পারেন না।

    গিরিশ প্রথমে সংবাদটি বিশ্বাসই করতে পারলেন না। স্টার-এর কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে এমন ব্যবহার করতে পারে? স্টার তো তাঁরই সন্তান। স্টারের জন্য তিনি কী না করেছেন? শুধু মেধা ও পরিশ্রম নয়, অনেকবার অনেক টাকা তিনি বিনা শর্তে ব্যয় করেননি এই থিয়েটারের জন্য? হাতিবাগানের রঙ্গমঞ্চ গড়ার জন্য ভুক্ষেপ মাত্র না করে দিয়ে দেননি যোলো হাজার টাকা? এই তো সেদিনও কংগ্রেসের অধিবেশন উপলক্ষে লেখা ‘মহাপূজা’ নাটকের অভিনয় দেখে মহারাজ কালীকৃষ্ণ ঠাকুর তাঁকে এক হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছিলেন, সেই টাকা গিরিশ নিজে না নিয়ে বিলিয়ে দিয়েছেন সব অভিনেতা-অভিনেন্ত্রীদের মধ্যে।

    সেই স্টার একজন সামান্য কর্মচারীর মতন তাঁকে বরখাস্ত করে? মামলা আনে তার নামে? এ জগতে কি কৃতজ্ঞতা বলে কিছু নেই?

    কিন্তু মানুষ অতীত নিয়ে বাঁচে না, বর্তমানই রূঢ় সত্য। কৃতজ্ঞতার বোঝাও বেশি দিন বইতে চায় না কেউ। হ্যাঁ, আগে স্টারের জন্য অনেক কিছু করেছেন তিনি, কিন্তু এখন যে মাসের পর মাস গর্বিত বচন ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না তাঁর কাছ থেকে। বিনোদিনীও তো স্টারের জন্য শরীর বিক্রয় করেছেন পর্যন্ত। সেই বিনোদিনীকেও সরে যেতে হয়নি স্টার থেকে?

    গিরিশ ব্যস্ত হয়ে ফিরে এলেন কলকাতায়।

    ফিরে এসে দেখলেন, স্টারের কর্মকর্তাদের মনোভাব বেশ কঠোর। নট-নটীদের মধ্যেও তাঁর সমর্থক বিশেষ কেউ নেই। মামলা ওরা চালাবেই। দলচ্যুত নীলমাধবের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাকে অন্য নাট্যদল খোলায় সাহায্য করেছেন, এজন্য লোকচক্ষে গিরিশকে হেয় করা হবে। মামলা মোকদ্দমা গিরিশ চিরকাল এড়িয়ে যেতে চান, আজ তাঁর কপালেই সেই বিড়ম্বনা!

    অমৃতলাল আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়লেও প্রকাশ্যে কখনও প্রাক্তন গুরুর মুখের ওপর কটু বাক্য বলে না। একদিন সে নিরিবিলিতে এসে গিরিশের সঙ্গে দেখা করল।

    খানিকক্ষণ চুপচাপ বসে রইল দুজনেই। গিরিশের বুকে উত্তাল অভিমান। এই অমৃতলালকে তিনি কত অল্প বয়েস থেকে দেখেছেন, কত সুখদুঃখের সে সঙ্গী ছিল, গুরুকে প্রণাম না জানিয়ে সে কখনও গুরুর সামনে মদের গেলাসে হাত দেয়নি, কতবার গিরিশ একেবারে বেসামাল হয়ে পড়লে সে তাঁকে প্রায় কাঁধে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে, সেই অমৃতলাল আজ শত্রুপক্ষের প্রতিনিধি : মানুষের জীবনের কী বিচিত্র লীলা!

    একটু ইতস্তত করে অমৃতলাল বলল, গুরুদেব, যদি কিছু মনে না করেন, গুটিকতক কথা বলব? যদি রাগ কবেন, আমাকে শাস্তি দিতে চান, দেবেন। আগে কথাগুলি শুনুন। অনেক বন্ধুর হল, আপনি আর ধড়াচূড়ো পরে রং মেখে মঞ্চে নামেন না। আপনি নিজেই বারবার আমাদের বলেছেন, অভিনয় করতে আপনার আর ভাল লাগে না। নতুন ছেলেমেয়েগুলোকে শেখানো-পড়ানোতেও আপনার মন নেই। শেখাতে চাইলে আপনিই যে সর্বশ্রেষ্ঠ তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু মহড়ার সময় বেশিক্ষণ আপনি বসতেই চান না, আমাদের মতন কারুর ওপর ভার দিয়ে দেন। কিছুদিন ধরেই তাই আমাদের মনে হচ্ছিল, থিয়েটারের ওপর থেকে আপনার টান চলে গেছে, আপনার মনপ্রাণ আর এ জগতে নেই।

    গিরিশ শ্লেষের সঙ্গে বললেন, থিয়েটারের ওপর আমার টান নেই? কোন দিন বলবে, জলের মাছের জলের প্রতি টান নেই! আকাশের পাখির আকাশের ওপর টান নেই! আমার আর কীসের ওপর টান আছে?

    অমৃতলাল বলল, আপনার টান গেছে পরমেশ্বরের দিকে। যেদিন থেকে রামকৃষ্ণ ঠাকুর আপনাকে কাছে টেনে নিলেন, সেইদিন থেকেই কি আপনার মনে এক বিরাট পরিবর্তন আসেনি? মনে করে দেখুন, গুরুদেব, আগে যখন আপনার স্ত্রীর রোগ হত, আপনার পত্র দানি একবার খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, আপনি নিজে যখন পেটের ব্যামোয় কষ্ট পেতেন, তখনও কি আপনি একদিনের জন্যও থিয়েটারে অনুপস্থিত থাকতেন কিন্তু রামকৃষ্ণ ঠাকুর যখন ব্যাধিগ্রস্ত হলেন তখন আপনি থিয়েটার উপেক্ষা করে বারবার কাশীপুরের বাগানবাড়িতে ছুটে যেতেন না?

    গিরিশ সহসা উত্তর না দিতে পেরে চুপ করে রইলেন।

    অমৃতলাল বলল, আমাদের থিয়েটারই ধ্যানজ্ঞান। আমরা নাটকে ভক্তিপ্রেমের বন্যা দুটিয়ে দিই, কিন্তু অন্তরে তেমন ভক্তি নেই। পরমেশ্বর আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমার নাট্যগুরু আপনি। আর কোনও গুরু ধরিনি। টিকিট বিক্রি, মঞ্চ সাজানো, চকরি, এতগুলি লোকের প্রতি মাসের বেতন, এইসব তুচ্ছ জিনিস নিয়ে আমাদের মাথা ঘামাতে হয়। আপনি এ সবের উর্ধ্বে উঠে গেছেন। আপনি মুক্ত পুরুষ। এখন আর থিয়েটারের খুঁটিনাটির সঙ্গে আপনার নাম জড়িয়ে রাখার কোনও মানে হয় না। গিরিশ বললেন, থিয়েটারের সঙ্গে আমি আর কোনও সম্পর্ক রাখব না বলতে চাও?

    অমৃতলাল বলল, আপনি নিজেই তো আর সম্পর্ক রাখছেন না। শুধু নাটক লিখছেন। তাই লিখবেন, শুধু একটা যদি দয়া করেন, নতুন নাটক যা লিখবেন, তা শুধু স্টারকেই দেবেন, অন্য কোনও দলকে দেবেন না। শুধু এটুকু হলেই আমি অন্য অংশীদারদের বলে আপনার নামে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য রাজি করাতে পারি।

    গিরিশচন্দ্র শুকনো হাস্য করে বললেন, অমৃত্তির, তুই কী বলতে চাস তা কি আমি বুঝিনি? তোর এখন ডানা গজিয়েছে। নাটক লিখছিস, নাট্যাচার্য হয়েছি। আমাকে সরিয়ে দিয়ে তুই এখন স্টারের সর্বেসর্বা হতে চাস? তাই-ই হ তবে! গুরু মারা বিদ্যেতে তুই যশস্বী হ, আমি আশীবাদ করছি!

    এর পর স্টারের পরিচালকরা একটা চুক্তিপত্র নিয়ে এল। গিরিশচন্দ্রর নামে তারা মোকদ্দমা তুলে নেবে। কিন্তু স্টার রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে তাঁর আর কোনও সম্পর্ক থাকবে না। অন্য কোনও থিয়েটার দলকেও তিনি প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যভাবে সাহায্য করতে পারবেন না। এমনকী স্ত্রীলোকের ছদ্মবেশেও অন্য দলের হয়ে নাটক লিখে দিয়ে আসতে পারবেন না। নাটক লিখলে স্টারকেই দিতে হবে, স্টার তা ন্যায্য মূল্য দিয়ে কিনে নেবে। যদি গিরিশের কোনও নাটক স্টারের অপছন্দ হয়, তা হলে সে নাটক তিনি অন্য দলকে দিতে পারেন, কিন্তু অভিনয় শেখাতে পারবেন না। মোট কথা, দর্শকের আসন ছাড়া আর কোনও মঞ্চে তাঁর প্রবেশ নিষেধ হয়ে গেল।

    স্টার থিয়েটারের প্রতি তাঁর যত দান ও সাহায্য ছিল এককালে, তার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যতদিন বাঁচবেন, তাঁকে মাসিক এক শো টাকা করে পেনশন দেওয়া হবে।

    সেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে করতে গিরিশচন্দ্র তাচ্ছিন্সের সঙ্গে বললেন, যা আমি আর নাটকও লিখব না! থিয়েটারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঘুচে গেল। আমি আর কোনওদিন ওদিকের পথও মাড়াব না। তাতে তোরা খুশি তো?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article পিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }