Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1663 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৯. এখনও ভোর হতে দেরি আছে

    এখনও ভোর হতে দেরি আছে, গঙ্গার মোহনা দিয়ে প্রবেশ করে একটি জাহাজ ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে কলকাতা বন্দরের দিকে। গঙ্গাবক্ষে আরও প্রচুর স্টিমার, গাদা বোট, নৌকোর ছড়াছড়ি, ইংলন্ড থেকে আসা এই বড় যাত্রীবাহী জাহাজটি উজ্জ্বল সার্চ লাইট ফেলে পথ করে নিচ্ছে। যাত্রী-যাত্রিণীরা প্রায় সকলেই ঘুমন্ত, শুধু মার্গারেট নামে তরুণীটি একলা রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে ডেকে।

    চতুর্দিক কুয়াশায় ঢাকা, জাহাজের আলোতেও দু তীরের কিছুই দেখা যায় না, মার্গারেট তবু ব্যর্থ চোখে চেয়ে আছে। জানুয়ারির প্রায় শেষ, নদীর ওপর বইছে হিমেল বাতাস। যদিও এই সময়কার ইংল্যান্ডের দুর্দান্ত শীতের তুলনায় কিছুই নয়, তবু এখানকার হাওয়ায় একটা কনকনে ভাব আছে। মার্গারেট গায়ে জড়িয়ে আছে একটা শাল, শীত ছাড়াও এক অজানা আশঙ্কায় কাঁপছে তার বুক। এ দেশটা ঠিক কেমন? পশ্চাতের সমস্ত টান ছিন্ন করে সে চলে এসেছে, সে কি এখানকার মানুষ ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে?

    ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমল থেকেই ইংল্যান্ড থেকে জাহাজে চেপে দলে দলে ইংরেজ মেয়েরা এসেছে ভারতবর্ষে, নেমেছে রাজধানী কলকাতায়। তখন চতুর্দিকে রটে গিয়েছিল ভাগ্যান্বেষী ইংরেজরা ভারতে গিয়ে প্রভুত ধনসম্পদের অধিকারী হয়েছে, তাদের বিলাসিতার বিচিত্র সব কাহিনী শুনে তাক লেগে যায়। কারু কারু নিজস্ব দাস-দাসীর সংখ্যা চল্লিশ-পঞ্চাশের বেশি, কিন্তু গৃহে নেই গৃহিণী। কিছু কিছু ইংরেজ শরীরের জ্বালা মেটাবার জন্য দেশীয় রমণীদের রক্ষিতা করে নিত, সিপাহি বিদ্রোহের পর সেটাও কমে যায়, দেশীয় নারী-পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ হয়ে যায়। ঝাঁক ঝাঁক ইংরেজ মেয়ে তখন আসত স্বামী পাকড়াও করার আশায়।

    মার্গারেট অবশ্য সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম, যার ওরকম কোনও উদ্দেশ্য নেই, সে আসছে ভারতকে ভালবেসে, এ দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আকাঙক্ষায়।

    এ দেশের প্রতি সে আকৃষ্ট হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দকে দেখে। তিনিই একমাত্র যোগসূত্র। স্বামীজী লন্ডন ছেড়ে চলে এসেছেন বছর খানেক আগে, তখনও মার্গারেট ভারতে আসার কথা চিন্তা করেনি। স্বামীজি তার ওপর বেদান্ত প্রচার কেন্দ্রের ভার দিয়ে এসেছিলেন। ভারতপ্রেমিক মিস্টার স্টার্ডি এবং স্বামী অভেদানন্দ সহযোগিতা করবেন তার সঙ্গে। প্রথম কিছুদিন কাজ চলছিল ভালই, বেদান্ত সমিতির কাজে সে মনোনিবেশ করেছিল, মাঝে মাঝে স্বামী বিবেকানন্দর স্মৃতি তাকে উতলা করে তুলত। চিঠিপত্রে যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। কিন্তু বেদান্ত প্রচার সমিতি চালানো গেল না বেশি দিন। মিস্টাব স্টার্ডির স্বভাব খানিকটা উদ্ধত ধরনের, তাঁর সঙ্গে স্বামী অভেদানন্দের মতবিরোধ ঘটতে লাগল বারবার, একসময় স্বামী অভেদানন্দ ক্ষুণ্ন মনে ইংল্যান্ড ছেড়ে চলে গেলেন আমেরিকায়, মিস্টার স্টার্ডিও আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন। গ্রীষ্মের ছুটিতে বেদান্তচর্চা বন্ধ ছিল, পরে তা আর শুরুই হল না। মার্গারেট একা কী করবে?

    স্বামীজির চিঠিতে সে জানতে পারে যে ভারতে কিছু কিছু কাজ শুরু হয়ে গেছে। স্বামীজির গুরুদেব শ্ৰীরামকৃষ্ণের নামে মিশন গড়া হয়েছে, সেবা ও শিক্ষামূলক কাজে স্বামীজি অনেককে প্রবৃত্ত করছেন। মার্গারেট সেই কাজে যোগ দিতে পারে না? ইংল্যান্ডের সমাজের মধ্যে থেকেও নিঃসঙ্গ জীবন আর ভাল লাগে না তার।

    কিন্তু স্বামীজি প্রত্যেক চিঠিতে নিরুৎসাই করছেন তাকে। তার ভারতে আসার দরকার নেই। ইংল্যান্ডে থাকলেই তার দ্বারা বেশি কাজ হবে। পত্রপত্রিকায় প্রবন্ধ লিখে এবং বক্তৃতা দিয়ে সে বেদান্তের প্রচার করতে পারবে, কলকাতার মিশনের কাজের জন্য কিছু কিছু অর্থ সংগ্রহ করার কাজেও মন দিতে পারে সে। একা একা এ সব কিছুই করতে আর ইচ্ছে করে না মার্গারেটের। সে স্বামীজির কাছাকাছি থেকে যে কোনও কাজে নিযুক্ত হতে চায়। বিশেষত মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের ভার তো সে নিতেই পারে।

    স্বামীজি কেন বারবার নিষেধ করেছেন তাকে? স্বামীজির ধারণা হয়েছে, ইওরোপিয়ান বা আমেরিকানদের পক্ষে ভারতে এসে দীর্ঘস্থায়ী কোনও গঠনমূলক কাজে আবদ্ধ থাকা সম্ভব নয়। এ দেশে জলবায়ু তাদের সহ্য হবে না, দু তিন মাস বাদ দিলে প্রায় সারা বছরই তো গ্রীষ্ম। এখানকার জাত-পাত, ছোঁয়াছানির কত রকম সমস্যা, তারা বুঝবেই না। শ্বেতাঙ্গ মিশনারিরা অনেকে পাহাড়ে-জঙ্গলে ছড়িয়ে আছে বটে, কিন্তু তারা ভারতকে ভালবাসে না। তারা আসে স্বার্থের কারণে, খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিতদের সংখ্যা বৃদ্ধিই তাদের একমাত্র কাম্য। ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতি অনুরক্ত সেভিয়ার দম্পতি আলমোড়ায় একটি আশ্রম খুলেছেন বটে, সেটা ঠাণ্ডা, আরামপ্রদ স্থান, সে আশ্রমের সঙ্গে ভারতের নিপীড়িত মানুষদের কী সম্পর্ক!

    আমেরিকা থেকে ওলি বুল আর জো মাকলাউডও ভারতে আসার জন্য ব্যস্ত। তাঁদের কথা আলাদা। তাঁরা স্বামীজির সব রকম কাজে সাহায্য করার জন্য বদ্ধপরিকর, মিশনে ও নতুন মঠ গড়ার জন্য প্রচুর অর্থ দিয়েছেন, তাঁরা এই রহস্যময় দেশটি একবার স্বচক্ষে দেখে যেতে চান। কয়েক মাস থেকে ফিরে যাবেন। এ দেশে ঘোরাফেরার জন্য কত রকম অসুবিধে ভোগ করতে হবে, সে সম্পর্ক সাবধান করে দিলেও স্বামীজি তাঁদের আসতে বারণ করেননি। কিন্তু মার্গারেট যে লন্ডনের সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে চলে আসতে চায়!

    স্বামীজি যতই নিবৃত্ত করতে চেয়েছেন, ততই মার্গারেটের জেদ বেড়ে গেছে।

    মার্গারেটকে উৎসাহ জুগিয়েছেন মিসেস মুলার। মার্গারেটের যাওয়ার ভাড়া, ভারতে অবস্থানের জন্য টাকাপয়সা যা দরকার, সবই তিনি দেবেন। মিসেস মুলার এর মধ্যেই চলে এসেছেন ভারতে। তিনিও আপাতত রয়েছেন আলমোড়ায়।

    স্বামীজি তার আন্তরিকতা ও ঐকান্তিকতার কতখানি মূল্য দেন, সে সম্পর্কে মার্গারেট মাঝে মাঝে ধাঁধায় পড়েছে। ভারতবর্ষ একটি বিশাল দেশ, এই দেশের সামগ্রিক ছবি সম্পর্কে মার্গারেটের ধারণা নেই। এ দেশের ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার কিংবা ইংরেজ শাসনের অব্যবস্থা দূর করার ক্ষমতা তার নেই, সে স্বামী বিবেকানন্দকে দেখে মুগ্ধ হয়েছে, তাঁর কাছাকাছি থেকে, তার নির্দেশমতন নিজের সাধ্য অনুযায়ী কাজ করতে চায়। স্বামীজি যদি তাঁর ইচ্ছার গুরুত্ব না দেন, তা হলে আর ভারতে গিয়ে কী হবে? ইংলন্ডের শুষ্ক জীবনে পড়ে থাকারই বা কী মানে হয়? না, এখানকার চেয়ে তবু একবার সেই অনিশ্চিতের দিকে ঝাঁপ দেওয়াই ভাল।

    মিস্টার স্টার্ডি ও মিসেস মুলার স্বামীজিকে জানালেন, মার্গারেট ভারতে যাবার জন্য দৃঢ় সংক্ষল্প নিয়েছে। এঁরা দুজনে সব ব্যবস্থা করে ফেলেছেন। স্বামীজি এ বার মনোভাব বদলালেন। আসুক মেয়েটি। নারীসমাজের জন্য কাজ করতে পারবে। নারীদের মধ্যে কাজের জন্য একজন নারীরই প্রয়োজন, দুর্ভাগ্যের বিষয় ভারতবর্ষ এখনও সে রকম কোনও মহিয়সী মহিলার জন্ম দিতে পারছে না। তাই অগত্যা অন্য জাতি থেকে ধার করতে হবে। মার্গারেটের সিংহিনীর মতন তেজ এখানকার কাজে লাগাতে হবে।

    স্বামীজি তাকে লিখলেন, আসতে চাও, এসো, কিন্তু কয়েকটি ব্যাপার মনে রেখো। সারা বছরই গরম সহ্য করতে হবে, এখানকার শীতও তোমাদের গ্রীষ্মকালের মতন। বড় বড় শহরে দু চারটে হোটেল আছে বটে, শহরের বাইরে কোথাও ইওরোপীয় স্বাচ্ছন্দ্য পাবার উপায় নেই। সর্বত্র নোংরা আর আবর্জনা। এ দেশের মানুষের দুঃখ, দারিদ্র্য, কুসংস্কার ও দাসত্ব যে কী ধরনের, তা তুমি ধারণাও করতে পারবে না। যেখানেই যাবে অর্ধ উলঙ্গ অসংখ্য মানুষ তোমাকে ঘিরে ধরবে। এ দেশের ইংরেজরা এ দেশের মানুষের সঙ্গে মেশে না, ঘৃণা করে। এ দেশের মানুষও কিন্তু ঘৃণা করে ইংরেজদের। তারা ইংরেজদের ছুঁলে অশুচি বোধ করে, ইংরেজদের সঙ্গে বসে খায় না। আমিও হয়তো তোমার সঙ্গে বসে খাব না। তুমি ইচ্ছে করলে এ দেশের ইংরেজদের সঙ্গে মিশতে পারো, তাতে খানিকটা নিজের দেশের পরিবেশ পাবে, তা হলে অবশ্য এ দেশের মানুষদের চিনতেই পারবে না। আর যদি এ দেশের মানুষদের সঙ্গে মেশো, তা হলে ইংরেজরা তোমার গতিবিধি সন্দেহের চক্ষে দেখবে!

    এ সব পড়ে মার্গারেট একটুও নিরাশ বোধ করেনি। এ সব বাধা কিছুই নয়। সব বাধাই তার কাছে তুচ্ছ। শারীরিক সুখস্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপার সে গ্রাহ্যই করে না। প্রায় সমগ্র ভারত যে দারিদ্র্য ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে, তা তো সে জানেই। স্বামীজির চিঠির একটা অংশ পড়ে তার রক্ত উচ্ছলিত হয়ে উঠল। এ যে প্রত্যাশার অতিরিক্ত অনেক কিছু।

    স্বামীজি লিখেছেন, এ সব জেনে শুনেও তুমি যদি কর্মে প্রবৃত্ত হতে সাহস কর, তবে অবশ্যই তোমাকে শতবার স্বাগত জানাচ্ছি।…কাজে ঝাঁপ দেবার পরে যদি তুমি বিফল হও কিংবা কখনও কর্মে বিরক্তি আসে, তবুও আমার দিক থেকে নিশ্চিত জেনো যে, আমাকে আমরণ তোমার পাশেই পাবে-তা তুমি ভারতবর্ষের জন্য কাজ করো আর নাই করো, বেদান্ত ধর্ম ত্যাগই করো আর ধরে থাক। ‘মরদ কী বাত হাতি কা দাঁত’-একবার বেরুলে আর ভিতরে যায় না; খাঁটি লোকের কথারও তেমনি নড়চড় নেই—এই আমার প্রতিজ্ঞা!

    ‘আমাকে আমরণ তোমার পাশেই পাবে’, এর চেয়ে আর বেশি কি চাইবার থাকতে পারে। এই বাক্যটি ভরসা করেই মার্গারেট জাহাজে চেপেছে।

    জাহাজ এসে লাগছে জেটিতে, ভোঁ বাজছে জোরে জোরে। তীরে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়জনদের অভ্যর্থনা করবার জন্য। মার্গারেট উৎসুক নয়নে সেই ভিড়ের মুখগুলির ওপর চক্ষু বোলাতে লাগল। তার জন্য কি কেউ আসবে? স্বয়ং স্বামীজি আসবেন, এমন প্রত্যাশাই করা যায় না। তিনি কারুকে পাঠালেই বা মার্গারেট চিনবে কী করে?

    প্রথমে চেনা সত্যিই খুব শক্ত হল। আরও অনেক ইংরেজ মহিলা নামছে সিঁড়ি দিয়ে, তীরের লোকরা হাতছানি দিচ্ছে, হঠাৎ সে গম্ভীর গলায় ডাক শুনল, মার্গট!

    গেরুয়া বস্ত্র লুঙ্গির মতন পরা, গায়ে একটা মোটা চাদর, মুণ্ডিত মস্তক, মুখ ভর্তি কাঁচা পাকা দাড়ি। শুধু গভীর চক্ষু দুটি দেখে চেনা যায়। স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ, কিন্তু এ কী চেহারা হয়েছে তাঁর?

    মার্গারেট পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গেল, স্বামী বিবেকানন্দ দ্রুত পিছিয়ে গিয়ে বললেন, থাক থাক। তারপর বললেন, এসো, তোমার জন্য গাড়ি রয়েছে।

    এক বছর পর দেখা, কোনও উচ্ছ্বাস নেই, কোনও রকম হাস্য-পরিহাস করলেন না। শুধু জিজ্ঞেস করলেন, সমুদ্র পীড়ায় কষ্ট পাওনি তো?

    সঙ্গে আর একজন শিষ্য রয়েছে, মার্গারেটের মালপত্র বয়ে নিয়ে তিন জনে উঠলেন অপেক্ষমাণ একটি ঘোড়ার গাড়িতে। মার্গারেট কাতর নয়নে বারবার দেখছে তার আরাধ্য স্বামীজিকে। লন্ডনে স্বামীজির মাথায় প্রচুর চুল ছিল, তার ওপর পাগড়ি পরলে তাঁকে পুরুষ সিংহের মতন দেখাত। ন্যাড়া মাথায় চেহারাটাই যেন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তার ওপর দাড়ি, তাও কাঁচা-পাকা? কতই বা বয়েস ওঁর, বড় জোর চৌতিরিশ-পঁয়তিরিশ, মার্গারেটের চেয়ে মাত্র তিন চার বছরের বড়। মুখের চামড়াতেও শুষ্ক ভাব।

    গাড়ি কিছুক্ষণ চলার পর স্বামী বিবেকানন্দ সামান্য হেসে বললেন, বুড়ো হয়ে গেছি, তাই না? গত বছর দার্জিলিং-এ থাকার সময় দাড়ি রাখার শখ হয়েছিল। কেমন, মানিয়েছে না?

    মার্গারেট নিঃশব্দে দুদিকে মাথা নাড়ল। এ রকম দাড়ি তার পছন্দ নয়।

    স্বামীজি বললেন, বুড়ো সাজলে অনেক সুবিধে পাওয়া যায়। দাড়িতেও বেশ পাক ধরেছে।

    গত বছর দেশে ফেরার কিছুদিন পরেই স্বামীজি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সংবর্ধনার প্রাবল্য, অজস্র মানুষের সঙ্গে অবিরাম কথা বলা, মিশনের কাজ, এত ব্যস্ততার মধ্যে বিশ্রামের একটুও সময় ছিল না। হঠাৎ একদিন শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন। শরীরে অনেক দিনের ক্লান্তি জমেছিল তো বটেই, চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে বললেন, তাঁকে মারাত্মক বহুমূত্র রোগে ধরেছে। এই রোগের তেমন কোনও চিকিৎসা নেই, ভাত রুটি একেবারে বাদ দিয়ে শুধু মাংস খেতে হবে, জল খাওয়াও যতদূর সম্ভব কম, আর মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ বিশ্রাম।

    কলকাতার গরমও তাঁর একেবারে সহ্য হচ্ছিল না, তা ছাড়া কলকাতায় অবস্থান করলে লোকজনের সর্বক্ষণ আনাগোনা লেগেই থাকবে। শিষ্য-শুভার্থীদের অনুরোধে তিনি চলে গিয়েছিলেন দার্জিলিং। সেখানকার স্নিগ্ধ বাতাস ও অনুপম প্রাকৃতিক পরিবেশে খানিকটা সুস্থ বোধ করছিলেন, কিন্তু সেখানেও কি একটানা বেশি দিন থাকার উপায় আছে? খেতড়ির রাজা অজিত সিং এর মধ্যে কলকাতায় আসার অভিপ্রায় জানিয়েছেন। মহারানি ভিক্টোরিয়ার রাজত্বের ষাট বৎসর পূর্তি উপলক্ষে বিলেতে মহা সমারোহে এক দরবার হবে, সেখানে ভারতের দেশীয় রাজারা অনুগত ভৃত্যের মতন উপস্থিত হয়ে মহারানির পায়ে নজরানা দেবেন। অজিত সিংও যাচ্ছেন এবং তাঁর ইচ্ছে তাঁর গুরু স্বামী বিবেকানন্দকেও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার। বিলেত দেশটা অচেনা, সেখানে অনেক রকম আদরকায়দা মানতে হয়, গুরু সব জানেন, গুরু সঙ্গে থাকলে রাজা ভরসা পাবেন। অজিত সিং-এর কোনও অনুরোধ উপেক্ষা করা স্বামী বিবেকানন্দর পক্ষে সম্ভব নয়, প্রধানত এর সদিচ্ছায় এবং আনুকূল্যেই তিনি পাশ্চাত্য বিজয়ে গিয়েছিলেন। বিপদে আপদে অনেকবার ইনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। স্বামীজি ইচ্ছুক হলেও চিকিৎসকরা কিছুতেই রাজি হলেন না, শরীরের যা অবস্থা তাতে সুদীর্ঘ সমুদ্র ভ্রমণের ধকল তিনি সহ্য করতে পারবেন না। কিন্তু যাত্রার আগে অজিত সিংয়ের সঙ্গে দেখাও হবে না? স্বামীজি পাহাড় থেকে নেমে এলেন, অজিত সিংকে ভরসা ও আশীর্বাদ দিয়ে ফিরে গেলেন আবার। দার্জিলিং যাওয়া-আসা সহজসাধ্য নয়, যেটুকু বা শরীরের উন্নতি হয়েছিল, এই পরিশ্রমে তাও মিলিয়ে গিয়ে আবার অবসন্ন ভাব ফিরে এল।

    মাস দেড়েক দার্জিলিং-এ কাটিয়ে কলকাতায় ফিরে আসার পরও সুস্থ হলেন না। মে মাসের সাঙ্ঘাতিক গরমে কোনও রকম কর্মে উদ্যম থাকে না, আলমবাজার মঠে হৈ হট্টগোল লেগেই আছে, খুঁটিনাটি ব্যাপারেও সকলে এসে তাঁর মতামত চায়, বাধ্য হয়ে তিনি আবার চলে গেলেন আলমোড়ায়।

    এখন এই শীতকালে তিনি বেশ ভাল আছেন, অন্তত সকলকে তাই বলছেন। কাজ তো করতেই হবে। পাহাড়চূড়ায় বসে থাকলে চলবে কেন? নতুন মঠ গড়তে হবে। অনেক কাজ।

    ঘোড়ার গাড়িটি গড়ের মাঠ পেরিয়ে চলে এসেছে এসপ্লানেড অঞ্চলে। স্বামীজি মার্গারেটকে বললেন, সাহেবপাড়ায় তোমার জন্য একটা হোটেল ঠিক করা আছে। সেখানে কিছুদিন থাক। এই পরিবেশে নিজেকে খানিকটা সইয়ে নাও। ইতিমধ্যে বাংলা শেখার চেষ্টা করো। আমি তোমার জন্য একজন বাংলার মাস্টার পাঠিয়ে দেব।

    হোটেলের ভেতরেও গেলেন না, বাইরে থেকেই বিদায় নিলেন স্বামীজি।

    স্নান সেরে, সারা দিন ঘুমিয়ে ও বিশ্রাম নিয়ে বিকেলবেলা বাইরে বেরিয়ে এল মার্গারেট। প্রথমটায় সে বিস্মিতই বোধ করল। আবর্জনা ভরা, পূতিগন্ধময় শহর তো নয়! হোটেলের সামনের প্রশস্ত পথটি বেশ পরিচ্ছন্ন। সুদৃশ্য বড় বড় বাড়িগুলি দেখলে লল্ডন শহরের কথাই মনে পড়ে। ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ ও নগরের হর্মাসারির মাঝখানে যে বিশাল ময়দান, গাছপালায় ভরা, মাঝে মাঝে পুকুর ও সরু সরু পায়ে চলা রাস্তা, এটা যেন হাইড পার্কের মতন।

    অর্ধনগ্ন, কালো কালো মানুষেরা কোথায়? এই অঞ্চলে যারা চলাফেরা করে, তারা পরিচ্ছন্ন, সুদৃশ্য পোশাক পরা, অধিকাংশই শ্বেতাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গিনী, কিছু কিছু স্থানীয় মানুষও দেখা যায়, তাদের গাত্রবর্ণ বাদামি বা খয়েরি, পরিধেয় দেখলে মনে হয় বেশ অবস্থাপন্ন। একটু এগিয়ে মার্গারেট দেখতে পায় পথের দু ধারে কত সব মনোহারী দোকান, রকমারি জিনিসপত্রে ঠাসা, লন্ডনেও এ রকম দোকান খুব বেশি নেই।

    একটা ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে মার্গারেট কাছাকাছি দ্রষ্টব্য স্থানগুলি দেখতে যায়। কয়েকজন ইংরেজের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, তারা পথনির্দেশ দেয়, কেউ কেউ সঙ্গেও আসে, ইডেনের বাগান, মিউজিয়াম, এশিয়াটিক সোসাইটি, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল, বটানিক্যাল গার্ডেন। সবই ইংরেজদের বানানো।

    পরপর কয়েক দিন কাটল, স্বামী বিবেকানন্দর সঙ্গে তার আর দেখা হল না। এইভাবে হোটেলেই থাকতে হবে নাকি মার্গারেটকে? সে কি সাহেব পাড়ায় স্বজাতির লোকদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য ভারতে এসেছে?

    বাংলার একজন মাস্টার আসে প্রতিদিন সকালে, তার কাছে নিবিষ্টভাবে বাংলা ভাষা শিক্ষা করছে মার্গারেট, কিন্তু অন্য সময় তার মন বড় অস্থির হয়ে থাকে।

    স্বামী বিবেকানন্দ থাকেন এই চৌরঙ্গি অঞ্চল থেকে অনেক দূরে। গত বস্ত্র ভূমিকম্পে আলমবাজারের মঠ বাড়িটি ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন তিনি গঙ্গার অপর পার বেলুড়ে নীলাম্বর মুখুজ্যের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে আছেন, সেটাই সাময়িক মঠ। কাছেই অনেকখানি জমি কেনার জন্য বায়না দেওয়া হয়ে গেছে, সেখানে তৈরি হবে প্রস্তাবিত বিশাল মঠ ভবন।

    মাঝে মাঝে তিনি বাগবাজারে বলরাম বসুর বাড়িতে আসেন। সেখানেই একদিন ডেকে পাঠালেন মার্গারেটকে। সেই দিনই মার্গারেট প্রথম দেখল নেটিভ পাড়া। ঘিঞ্জি ঘিঞ্জি গলি। গা ঘেঁষাঘেঁষি শ্রীহীন বাড়ি, কোথাও পথের পাশে শুয়ে আছে ষাঁড়। আবর্জনার স্তুপের ওপর লড়াই করছে পারিয়া কুকুর। এই সব দেখে মার্গারেট একটু একটু আতঙ্কিত হলেও একটা ব্যাপারে সে আশ্বস্ত হল, সাধারণ মানুষের ব্যবহার বেশ সম্ভ্রমপূর্ণ।

    বলরাম বসুর বাড়ির বৈঠকখানায় একটি হুকো হাতে নিয়ে তামাক টানছেন স্বামী বিবেকানন্দ। অন্যদের সঙ্গে কথা বলায় ব্যস্ত ছিলেন। মার্গারেটকে প্রবেশ করতে দেখে চোখের ইঙ্গিতে বললেন, বসো।

    মার্গারেটের জন্য একটি চেয়ার দেওয়া হল। মার্গারেটের চোখের মণির রং নীল, চুলের রং বাদামি স্বর্ণাভ। সে দীর্ঘাঙ্গিনী, হাতির দাঁতের মতন গায়ের রং, সাদা সিল্কের স্কার্ট-ব্লাউজ পরা। উত্তর কলকাতার কোনও বাঙালি পরিবারে এ রকম একজন বিদেশিনী অতিথির আগমন একটা অভিনব ঘটনা।

    স্বামীজি কয়েকটি মামুলি কুশল প্রশ্ন করলেন তাকে। জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাংলা শিক্ষা কেমন চলছে? হোটেলে কোনও অসুবিধে হচ্ছে না তো?

    মার্গারেট বলল, মিসেস মুলার হোটেলে এসেছিলেন। তিনি এখানে একটা বাড়ি ভাড়া করেছেন। আমাকে কাল থেকে সেই বাড়িতে নিয়ে যেতে চান।

    স্বামীজি একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন। মিসেস মুলারকে তিনি আড়ালে বলেন ‘ক্ষাপতান মাগি’। ইনি বিলেতে থাকার সময় অশেষ উপকার করেছেন, এখানে এসেও টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করছেন অনেক, তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা সত্ত্বেও তাঁর ব্যবহার আর সহ্য করা যাচ্ছে না। এই বাতিকগ্রস্ত মহিলাটি সব ব্যাপারেই কর্তৃত্ব ফলাতে চান, যাকে তাকে হুকুম করেন, ধমক দেন, তাঁর ধারণা টাকা-পয়সা দিয়ে পৃথিবীর সব কিছু কেনা যায়। আর খুব বেশি দিন এর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা যাবে বলে মনে হয় না।

    স্বামীজি বললেন, ঠিক আছে, তুমি মিসেস মুলারের সঙ্গে গিয়েই থাকো। হোটেলে অনেক খরচ। তবে, মনে রেখো, এখানে কাজ করতে গেলে মিসেস মুলারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে চলবে না। তুমি কতকাল ওঁর ডানার আশ্রয়ে থাকবে? কারুর কারুর সঙ্গে দূর থেকে বন্ধুত্ব করাই ভাল।…যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, তার সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

    মার্গারেট জিজ্ঞেস কবল, আমি কবে থেকে স্কুল শুরু করব?

    স্বামীজি বললেন, হবে, হবে, ব্যস্ততার কিছু নেই।

    ফেরার পথে মার্গারেট বেশ ক্ষুন্ন বোধ করল। স্বামীজির ব্যবহার এত নিরুত্তাপ কেন? একবারের জন্যও অন্তরঙ্গ সুরে কথা বললেন না! এ দেশের সমাজে প্রকাশ্যে কোনও নারীর সঙ্গে সখ্য দেখানো চলে না? তিনি সন্ন্যাসী ও মার্গারেট বিদেশিনী, এটাও বড় বাধা। কিন্তু তিনি যে চিঠিতে লিখেছিলেন, আমাকে আমরণ তোমার পাশেই পাবে?

    কয়েক দিন পরই ওলি বুল ও জোসেফিন ম্যাকলাউড বম্বে থেকে ট্রেনে এসে পৌঁছলেন কলকাতায়। এঁদের অভ্যর্থনা করার জন্য স্বামীজি একদল শিষ্য নিয়ে হাজির হলেন স্টেশনে। এরা অবশ্য আগে থেকেই চিঠিপত্র লিখে নিজেদের সব ব্যবস্থা করে রেখেছেন। প্রখ্যাত অ্যাটর্নি মোহিনীমোহন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এঁদের পরিচয় আছে, তিনি যে ভগবদগীতার ইংরিজি অনুবাদ করেছেন, তাও এঁরা পড়েছেন। মোহিনী বাবুই তাঁদের নিয়ে গেলেন সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হোটেলে।

    দুই মহিলাই বিশেষ ধনবতী। জো ম্যাকলাউড প্রতি মাসে পঞ্চাশ ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বামীজিকে, একসঙ্গে অগ্রিম দিয়েছেন তিনশো ডলার। ওলি বুলও অর্থের ব্যাপারে উদার হস্ত। বেলুড় মঠের জমি কেনার জন্যও অনেক টাকা দিয়েছেন। এরা কিন্তু সাহেব পাড়ায় হোটেলে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভোগের তোয়াক্কা করলেন না। এরা এসেছেন স্বামী বিবেকানন্দর কর্মপ্রণালী দেখতে, পরদিনই চলে এলেন বেলুড়ে নীলাম্বর মুখুজ্যের বাড়িতে। বাড়িটি বেশ, দু একর জমির মধ্যে রয়েছে বাগান, একটি পুকুর, পাশেই কুলুকুলু প্রবাহিনী গঙ্গা।

    ফেব্রুয়ারি মাস, রোদ্দুরে এখনও তেমন উত্তাপ নেই, হু হু করে বইছে বাতাস। বাগানে ফুটে আছে অজস্র ফুল, সেই বাগানে বসে চা পান ও অনেক পুরনো গল্প হল। স্বামীজির শিষ্যরা এই দুই বিদেশিনীকে দুপুরে খিচুড়ি রেঁধে খাওয়ালেন। বিকেলে স্বামীজি বললেন, চল, এবার তোমাদের সেই জমিটা দেখাতে নিয়ে যাই, যেখানে আমরা মঠ বানাব ঠিক করেছি।

    জো বিস্মিত হয়ে বলল, আবার জমির দরকার কী? এই বাড়ির চার পাশে কত জায়গা, পরিবেশটাও সুন্দর, এখানেই মঠ বানালে হয় না?

    স্বামীজি বললেন, প্রথম থেকেই আমি ছোটখাটো কিছুতে বিশ্বাসী নই। আমি যে মঠের কথা কল্পনা করেছি, সেখানে আমার গুরুভাই ও অন্তরঙ্গ শিষ্যদের বসবাসের সংস্থান রাখতে হবে, ধ্যানের জন্য রাখতে হবে পৃথক স্থান, আমার গুরুর জন্মোৎসবে হাজার হাজার মানুষ যোগ দিতে আসবে, ভবিষ্যতে এটা একটা তীর্থস্থানের মতন হয়ে উঠবে, আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। চলো, আমার সঙ্গে গিয়ে দেখলেই বুঝবে।

    জোয়ারের সময় নৌকোতেই যাওয়া যায়, কিন্তু এখন ভাটা, কাদার মধ্য দিয়ে পাড়ে ওঠা যাবে না, সুতরাং এখন ওপর দিয়ে হেঁটে যেতেই হবে। প্রায় আধ মাইল দূরত্ব, পথ ঝোপজঙ্গলে ভরা, দুই রমণীর পোশাকে লেগে যাচ্ছে চোরকাঁটা, দু জনেরই প্রতিটি পদক্ষেপ পড়ছে ভয়ে ভয়ে, সাপ খোপ থাকা কিছুই বিচিত্র নয়। এক জায়গায় পার হতে হবে একটা নালা, তার ওপরে নড়বড়ে সাঁকো, সাঁকো মানে শুধু একটা তালগাছের গুড়ি ফেলে রাখা। স্বামীজি ঈষৎ বিব্রতভাবে বললেন, এই রে, এটা কি পার হতে পারবে।

    জো বলল, কেন পারব না?

    আগেই সে তরতর করে পেরিয়ে চলে গেল। ওলি বুলও ভয় না পেয়ে পার হলেন আস্তে আস্তে। স্বামীজি হাসতে হাসতে বললেন, তোমরা আমেরিকানরা সব বাপারে অদম্য।

    ওরা যে সত্যিই কত অদম্য, তা বুঝতে পারা গেল আরও পরে।

    বায়না করা জমিটার মাঝখানে একটা ভাঙাচোরা একতলা বাড়ি, তার জানলা-দরজা নেই বলতে গেলে, অনেক দিন সেখানে কেউ বাস করে না, আর চারপাশে ফাঁকা জমির মধ্যে দু চারটে বড় বড় গাছ। সব ঘুরে ফিরে দেখার পর জো বলল, স্বামী, এই বাড়িটা তো খালি, আমরা দুজনে এখানে এসে থাকতে পারি না? তা হলে তোমার কাছাকাছি এসে থাকা হবে।

    স্বামীজি বললেন, পাগল নাকি! এটা তো একটা পোড়ো বাড়ি, এখানে কেউ থাকতে পারে নাকি?

    জো বলল, কেন পারব না? সব সারিয়ে টারিয়ে ঠিকঠাক করে নেব। জো তাকাল ওলির দিকে, তিনি সম্মতিসূচক মাথা নাড়লেন। স্বামীজি প্রায় স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। এরা বলে কী? বোস্টন এবং নিউ ইয়র্কে তিনি এদের দুজনেরই বিলাসবহুল বাসস্থান দেখেছেন। কলকাতার হোটেলের নিশ্চিত আরাম ছেড়ে এরা এখানে থাকতে চায়!

    আমেরিকান জেদ কোনও বাধাই গ্রাহ্য করে না। পরদিনই মিস্ত্রি লেগে গেল, শুরু হল সেই বাড়ির মেরামতির কাজ। নালটার ওপরে বসে গেল মজবুত সাঁকো। দুই রমণী কলকাতার বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করলেন মেহগনি কাঠের আসবাবপত্র। দু জনেই প্রায় প্রত্যেক দিন এসে বাড়ির কাজকর্ম পরিদর্শন করেন, স্বামীজির সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়ে যান।

    এই সব সংবাদ টুকরো টুকরোভাবে মার্গারেটের কাছে পৌঁছয়। স্বামীজি দুই আমেরিকান নারীকে নিয়ে ব্যস্ত আছেন, তার খোঁজখবর নেবার সময় পান না। শ্রীমতী বুলকে মার্গারেট চেনে না, তবে শুনেছে যে মহিলার বয়েস হবে পঞ্চাশের কাছাকাছি। খুবই স্নেহশীলা, ধীরস্থিরভাবে কথা বলেন। আর জো ম্যাকলাউডকে সে দেখেছে দু-একবার লন্ডনের বক্তৃতা সভায়, চল্লিশের কাছাকাছি বয়েস, বেশ রূপসী এবং সাজগোজ পছন্দ করে খুব। তার সব পোশাক নাকি প্যারিস থেকে তৈরি হয়ে আসে। জো ম্যাকলাউড স্বামীজির কাজে সাহায্য করে বটে, কিন্তু নিজে সে ভক্ত বা শিষ্য হতে চায় না। নিজেকে সে মনে করে স্বামীজির বন্ধু।

    অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই বেলুড়ের সেই বাড়িটিতে গৃহপ্রবেশ হল। নতুন রং করায় ঝকঝকে দেখাচ্ছে বাড়িটিকে, ভিতরটা পশ্চিমি ও ভারতীয় রীতির সংমিশ্রণে সাজানো। দু খানা ঘর, বৈঠকখানা, পেছন দিকে রান্নার ব্যবস্থা আছে পর্যন্ত। বাড়ির সামনের ঘাট ধাপে ধাপে নেমে গেছে গঙ্গা পর্যন্ত।

    স্বামীজি বললেন, তোমরা বাংলাকে এত ভালবেসে ফেলেছ, তোমাদের আমি এবার বাংলা নাম দিতে চাই। জো মাকলাউড সব সময় প্রাণোচ্ছল, তাই তার নাম রাখা হল জয়া। আর ওলি বুলকে মনে হয় মাতৃসমা, তাঁর নতুন নাম হল ধীরামাতা।

    এরা দু’জনে বাড়িটিতে প্রতিষ্ঠিত হবার পর স্বামীজি বললেন, তোমাদের এখানে আর একটি মেয়েকে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে? মেয়েটির নাম মিস মার্গারেট নোবল, সে পিতৃপরিচয়ে আইরিশ, তোমাদের চেয়ে বয়সে অনেকটা ছোট, সে আমাদের কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য চলে এসেছে।

    দুজনেই সাগ্রহে সম্মতি জানাল।

    উগ্রচণ্ডী মিসেস মুলারের সংস্পর্শ থেকে মার্গারেটকে সরিয়ে আনতেই চাইছিলেন স্বামীজি। তিনি এ বার মার্গারেটকে ডেকে বললেন, তুমি বেলুড়ে ওদের সঙ্গে থাকবে? তোমার ভাল লাগবে। দেখো, মিসেস বুলের বাড়ি যেন আগাগোড়াই ভালবাসা, শুধু ভালবাসা।

    বেলুড়ে চলে এসে মার্গারেট সর্বপ্রথম স্বচ্ছন্দ বোধ করল। এমন খোলামেলা পরিবেশ, সামনে এত বড় একটা নদী। নৌকার মাঝিরা গান গাইতে গাইতে যায়, একটা মস্ত ঝাঁকড়া আমগাছে কত রকম পাখি এসে বসে, এ সব দেখলেই মন ভাল হয়ে যায়। আমেরিকান মহিলা দুটির ব্যবহারে কোনও খাদ নেই। ওরা মার্গারেটকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে।

    সবচেয়ে বড় কথা, এখানে প্রতিদিন অনেকক্ষণ স্বামীজির সঙ্গে দেখা হয়। ভোরবেলাতেই স্বামীজি অন্য বাড়িটি থেকে এখানে চা খেতে চলে আসেন। তিনিই ওদের ডেকে জাগান। আমগাছটির তলায় বসে চায়ের আসর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। স্বামীজি এক একদিন তাদের রামায়ণ-মহাভারত, এক একদিন ভারতের ইতিহাসের নানান কাহিনী শোনান।

    জয়া এবং ধীরামাতার মতন মার্গারেটেরও তো একটা বাংলা নাম দিতে হবে। স্বামীজি মার্গারেটের মুখে একদিন এই অনুরোধ শুনে বললেন, তুমি তো এ দেশের জন্য মন-প্রাণ নিবেদন করে বসে আছ, তোমার আর ফেরা হবে না। তাই তোমার নাম নিবেদিতা।

    ওলি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি সত্যিই আর ইংল্যান্ডে ফিরবে না?

    নিবেদিতা স্বামীজির দিকে তাকিয়ে বলল, উনি সঙ্গে নিয়ে গেলে যাব। ওকে ছেড়ে আমি আর কোথাও যাব না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article পিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }