Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প327 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছায়াচরাচর – ১১

    এগারো

    নবদ্বীপে বিষ্ণু দামোদরের মন্দিরে সন্ধ্যারতি হইতেছিল। শঙ্খ, ঘণ্টা ও অন্যান্য তালবাদ্য সহকারে দীর্ঘক্ষণ ধরিয়া অগণিত জনতা ঠাকুরের নিকট তাহাদের প্রাণের আর্তি নিবেদন করিতেছিল। খুব ভিড় হইয়াছে। সেই ভিড়ের ভিতর একপার্শ্বে দাঁড়াইয়া কমলনয়ন আরতি দেখিতেছিল। আরতির পর সংকীর্তন আরম্ভ হইল। খোল, খঞ্জনী, কাঁসরের মধুর ধ্বনির ভিতর সকলে আনন্দিত চিত্তে গীত, নৃত্য করিতে লাগিল। সে-আনন্দের প্রবাহ কমলনয়নের হৃদয়কেও প্লাবিত করিল। দুই চক্ষু দিয়া ধারাশ্রাবণ নামিল।

    কমলনয়নের প্রকৃতিটি বড়ো অদ্ভুত। তাহার মস্তিষ্ককে কর্কশ ন্যায়শাস্ত্র অধিকার করিয়া রাখিয়াছে, তথাপি তাহার হৃদয় প্রেমাভক্তির আলয়। বিশেষত, কীর্তনের এই করুণ সুর তাহার অন্তরে প্রবল যন্ত্রণার জন্ম দেয়। সে-যন্ত্রণা যত তীব্র, ততই মধুর। জীবনে তাহার যাঁহাকে পাওয়া হইল না, সেই নরদেবতার চরণে প্রাণ যেন নিজেকে বিকাইতে চাহিতেছে। কী করিয়া পাইবে, কোনো উপায় নাই। তিনি কোন্ পথে যে গেলেন, এক্ষণে কোথায় যে আছেন, তাহার আর কোনো হদিশ নাই। কমলনয়ন চিরবিরহের সেই মধুর যন্ত্রণায় আবিষ্ট হইয়া কাঁদিতেছিল।

    তাহার মনে হইতেছিল, আহা, আজিকার দিনে দাদা এমন সংকীর্তন দেখিল না; সন্ধ্যায় বিষ্ণু দামোদরের মন্দিরে আসিবার পূর্বে সে যাদবকে সঙ্গে আসিতে বলিয়াছিল। যাদব আসে নাই। তাহার ভীষণ অভিমান হইয়াছে। দিন দুয়েক আগে কমলনয়ন দাদাকে জানাইয়াছে যে, সে কাশী যাইবে। যাদব সব শুনিয়া ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হইয়া পড়িয়াছে। যাদব কহিল, “তোর এই নবদ্বীপে বিদ্যাবাসনা মিটিতেছে না? আবার কাশী যাইতে হইবে?” এই পর্যন্ত বলিয়াই যাদব অভিমানভরে কমলনয়নের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করিয়াছে। অজিকেও কমলনয়ন যখন দাদাকে মন্দিরে সন্ধ্যারতি দর্শন করিবার জন্য ডাকিল, সে কোনো উত্তর দেয় নাই।

    কীর্তন চলিতেছে, তাহারই মধ্যে হরির লুট আরম্ভ হইল। জনৈক পূজারী শালপত্রের দোন্নায় করিয়া বাতাসা আনিয়া নৃত্যরত জনতার মাথার উপর নানাদিকে নিক্ষেপ করিতেছে। আর তখনই ‘হরিবোল, হরিবোল’ ধ্বনি দিয়া লোকজন হুড়াহুড়ি করিয়া সেই নিক্ষিপ্ত প্রসাদের দিকে ধাবিত হইতেছে। কমলয়নেরও ইচ্ছা হইল, এই মাতনে মাতিবে। নিকটেই প্রসাদ আসিয়া পড়িল, বালকের উৎসাহে কমলনয়ন সেই নিক্ষিপ্ত বাতাসার দিকে ছুটিয়া গেল। কিন্তু ভিড়ের ধাক্কায় যথাস্থানে পৌঁছাইতে পরিল না। কাহার দেহের সহিত ধাক্কা খাইয়া একদিকে পড়িয়া তাহার মস্তক মন্দিরের একটা প্রকাণ্ড স্তম্ভে ঠুকিয়া গেল।

    কমলনয়ন প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাঁদিয়া উঠিল। সে কোনোরকমে উঠিয়া দাঁড়াইল। মন্দিরের এই স্থান সামান্য অন্ধকার, সে ভালো দেখিতে পাইল না। কপালের যে- স্থানে আঘাত লাগিয়াছে, সেখানে সে হাত বুলাইতেছিল। কপাল ফুলিয়া উঠিয়াছে।

    এমন সময়ে কে এক ব্যক্তি অন্ধকারের ভিতর তাহাকে আসিয়া ধরিল। কমলনয়ন তাহার মুখ দেখিতে পাইল না। অপরিচিত ব্যক্তি তাহার শিরোদেশে হাত বুলাইয়া কহিল, “আহা, ফুলিয়া উঠিয়াছে যে! এখনই জল দিতে হইবে। চলুন, গঙ্গার ঘাট নিকটেই, সেখানে যাই।”

    কমলনয়ন তাহার সঙ্গে চলিল। গঙ্গার ঘাটে কপালে জল দিয়া কথঞ্চিৎ শান্ত হইল। তাহার পর অপরিচিত সেই ব্যক্তি তাহাকে ঘাটের রানার উপর আনিয়া বসাইল। এতক্ষণে কমলনয়ন কিঞ্চিৎ সুস্থ হইয়া চাহিয়া দেখিতে পারিতেছে। নিকটস্থ এক রাজকীয় ভবনের দেউড়ির উপর স্থাপিত উজ্জ্বল প্রদীপমালার আলো ঘাটের উপর আসিয়া পড়িয়াছে। কমলনয়ন সাহায্যকারী ব্যক্তিটির মুখপানে চোখ তুলিয়া দেখিবামাত্রই নিতান্ত বিস্ময়ে স্তম্ভিত হইয়া গেল।

    এ ব্যক্তি কে? কমলনয়নের মনে হইল, সে যেন দর্পণে নিজেকে দেখিতেছে। অবিকল তাহারই মতন আর-একজন মানুষ! অবিকল তাহারই প্রতিকৃতি! পার্থক্য যদি কিছু থাকে, তবে তাহা বেশবাসে এবং কেশপারিপাট্যে। কমলনয়নের বেশ অতি সাধারণ; সামান্য ধুতি ও উড়ানি গায়ে। এ ব্যক্তির পরনে সম্ভ্রান্ত বেশবাস; পট্টবস্ত্রের উপর গরদের উত্তরীয়, ঊর্ধ্বাঙ্গে একটি বাসন্তী রঙের অঙ্গরাখা। কমলনয়নের কেশ টোলের বিদ্যার্থীর ন্যায় সম্মুখে সামান্য কামানো এবং শিরোদেশে একটি শিখাও রহিয়াছে। আর আগন্তুক ব্যক্তির কাঁধ অবধি নামিয়া আসা কেশদাম বক্ষের উপর বেণীর ন্যায় প্রলম্বিত, কপালের উপর চূর্ণ কুন্তল আসিয়া পড়িয়াছে। এইগুলি ছাড়া দুইজনের ভিতর কোনো প্রভেদ নেই। সেই এক গৌরবর্ণ, সেই আয়ত লোচন, সেই প্রশস্ত স্কন্ধ, উদার বাহু— সব, সব এক! মুগ্ধ বিস্ময়ে আগন্তুক ব্যক্তিকে দেখিতে দেখিতে কমলনয়ন জিজ্ঞাসা করিল, “আপনি কে, মহাশয়? আপনিই কি রাজীবলোচন?”

    আগন্তুক ব্যক্তিও নির্বাক হইয়া কমলনয়নকে দেখিতেছিল। পৃথিবীতে এও সম্ভব? দুইজন মানুষের ভিতর এতদূর সাদৃশ্য? সাদৃশ্য বলিলে ভুল হয়, একজন যেন অন্যজনের হুবহু অনুকৃতি! আগন্তুকের মনে হইল, সে নিজেই যেন অন্যপ্রকার বেশভূষা করিয়া নিজেরই সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে! বিস্ময়ের জড়তা ক্ষণপরে অপসারিত করিয়া আগন্তুক উত্তর দিল, “রাজীবলোচন? সে কে, তাহা তো জানি না। আমার নাম পদ্মাক্ষ।”

    কমলনয়নের শিরোদেশে অসহ্য যন্ত্রণা হইতেছিল। তাহার মাথার ভিতরে ‘কমলনয়ন’, ‘পদ্মাক্ষ’, ‘রাজীবলোচন’ ইত্যাকার নামগুলি যেন সব দলা পাকাইয়া প্রলয়কাণ্ড বাঁধাইতেছে।

    কমলনয়ন প্রশ্ন করিল, “মহাশয় কি এ স্থানে নূতন? পূর্বে তো দেখি নাই?”

    পদ্মাক্ষ উত্তর দিল, “সে অনেক কথা। সমুদ্রযাত্রা করিয়াছিলাম। ফিরিবার পথে সপ্তগ্রামের নিকট জলদস্যু আক্রমণ করিল। দস্যুদের হাত হইতে প্রাণরক্ষার নিমিত্ত অর্ণবপোতের পাটাতন হইতে সস্ত্রীক নদীস্রোতে ঝাঁপাইয়া পড়িয়াছিলাম। আমাদিগের জাহাজ হইতে পলায়নরত একটি ক্ষুদ্র ডিঙায় আশ্রয় পাইয়া এই নবদ্বীপে আসিয়া উঠিয়াছি। বর্তমানে অতিথিশালায় সস্ত্রীক বসবাস করিতেছি। সন্ধ্যাবেলায় কী করিব, অতিথিশালা বসিয়া বসিয়া ভাবিতেছিলাম। বিষ্ণু দামোদরের মন্দিরে আরতি দর্শন করিতে আসিলাম। সন্ধ্যা হইয়াছে, তাই পত্নীকে অতিথিশালায় রাখিয়া আসিয়াছি। আপনি কি এখানেই থাকেন?”

    কমলনয়ন বলিল, “হাঁ। আপাতত এখানেই থাকি। কয়েকদিনের মধ্যেই কাশীযাত্রা করিব। আমি বিদ্যার্থী। নাম আমার মধুসূদন। আপনি…?”

    “আমি চন্দ্রদ্বীপের সভাকবি। সম্প্রতি দেশভ্রমণে বাহির হইয়াছি।”

    চন্দ্রদ্বীপ! সেই চন্দ্রদ্বীপ? যেখানে কমলনয়ন রাজাকে কবিতা শুনাইতে গিয়াছিল? এ ব্যক্তি বলে কী? কমলনয়ন বিস্ময়ে কাঠ হইয়া গেল। তাহার বিহ্বল অবস্থা দেখিয়া পদ্মাক্ষ প্রশ্ন করিল, “মহাশয়ের কি চন্দ্রদ্বীপে কখনও যাওয়া হইয়াছে?”

    কমলনয়ন সামান্য ইতস্তত করিয়া কহিল, “হাঁ। কৈশোরকালে একবার চন্দ্রদ্বীপ গিয়াছিলাম।” তাহার পর হাসিয়া যোগ করিল, “রাজাকে কবিতা শুনাইতে….”

    পদ্মাক্ষ উত্তেজিত হইয়া কহিল, “কী আশ্চর্য! আমিও তো ওই বয়সেই চন্দ্রদ্বীপের রাজা কন্দর্পনারায়ণকে কবিতা শুনাইতে গিয়াছিলাম!”

    কমলনয়ন বলিল, “রাজা কবিতা শুনিয়াছিলেন?”

    “হাঁ, শুনিয়াছিলেন। আমার কবিতা শুনিয়া রাজা অত্যন্ত প্রীত হইয়া আমাকে সভাকবিপদে বরণ করিয়া লইয়াছিলেন। সেই হইতে চন্দ্রদ্বীপেরই একপ্রান্তে বসবাস করিতেছি।”

    কমলনয়ন ভাবিতে লাগিল। এই ব্যক্তি পদ্মাক্ষ তাহারই ন্যায় কৈশোরে চন্দ্রদ্বীপের রাজদরবারে কবিতা পাঠ করিতে গিয়াছিল? রাজা এ ব্যক্তির কাব্যপ্রতিভায় মুগ্ধ হইয়া তাহাকে সভাকবিপদে নিয়োগ করেন। তাহার যাহা হয় নাই, তাহার যাহা হইতে পারিত, এ ব্যক্তির তাহাই হইয়াছে। আশ্চর্য! নিজেকে কমলনয়নের বড়ো অসহায়, বড়ো ব্যর্থ মনে হইতে লাগিল। তাহার নিজ জীবনে কী আর হইল? কবি হইতে পারিল না। ভক্তও হইতে পারিল না। শুনিয়াছে রাজীবলোচন নামক আর- এক ব্যক্তি তাহারই ন্যায় উনসিয়া হইতে নবদ্বীপে আসিয়াছিল। সেই রাজীবলোচন নাকি শ্রীমন্মহাপ্রভুর চরণাশ্রয় লভিয়াছে। ইহাদেরই সব হয়, তাহার কিছুই হয় না। বিফল রিক্ত জীবনের নিয়তি লইয়াই সে বুঝি জন্মগ্রহণ করিয়াছে। অন্ধকারের ভিতর কমলনয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলিল।

    পদ্মাক্ষ কিন্তু কমলনয়নের মনের ভাব বুঝিতে পারিল না। জিজ্ঞাসা করিল, “মহাশয়ের আদি নিবাস কোথায়?”

    কমলনয়ন সংক্ষেপে বলিল, “বিক্রমণিপুর।”

    সৌভাগ্য যে, সে কেবল বিক্রমণিপুরের উল্লেখ করিয়াই ক্ষান্ত হইল। যদি কমলনয়ন বলিত, বিক্রমণিপুরের কোটালিয়ার অন্তঃপাতী উনসিয়া গ্রামের নিবাসী সে, তাহা হইলে কী যে বিষম কাণ্ড ঘটিত! পদ্মাক্ষ অবাক হইয়া ভাবিত, তাহা কী করিয়া হয়? সে নিজেও তো সেই একই গ্রামের অধিবাসী! তাহার মনে হইত, সে স্বপ্ন দেখিতেছে। তখন সে কী কাণ্ড করিয়া বসিত, কে বলিতে পারে?

    নৈঃশব্দ্য ভাঙিয়া কমলনয়ন প্রশ্ন করিল, “সম্প্রতি কী কাব্য রচনা করিতেছেন?”

    পদ্মাক্ষ একটু চিন্তা করিয়া কহিল, “একটি বালিকার কথা। বালিকাটি যখন সদ্যোকৈশোরে উপনীত হইয়াছিল, একদিন তাহাদের গ্রাম পাঠান সৈন্যের দ্বারা আক্রান্ত হয়। ভয়ার্ত বালিকা ইক্ষুবনে আত্মরক্ষা করিবার নিমিত্ত সমস্ত রাত্রি লুকাইয়া থাকে। পরদিন গ্রামে ফিরিয়া দেখে, পাঠান সৈন্য সব তছনছ করিয়া চলিয়া গিয়াছে। গ্রামের সকলেই পলাতক। অসহায় বালিকার রোদনধ্বনি শুনিয়া এক পথিক সেই গৃহে প্রবেশ করে। বালিকাটি এই পথিকের সঙ্গে অপর এক গ্রামে চলিয়া আসে। সেখানেই কালক্রমে তাহাদের বিবাহ হয়। তাহারা এক নদীতীরে এক জীর্ণ কুটিরে বসবাস করিতে আরম্ভ করে। এই বালিকাটিই আমার কাব্যের নায়িকা, তাহার স্বামী নায়ক। কাব্যের বিষয়বস্তু তাহাদের সুগভীর প্রণয়।”

    কমলনয়নের মনে হইল, কী এমন কাব্যের বিষয়! ইহা অপেক্ষা সে নিজে কত ভালো কাব্য রচনা করিতে পারিত। এই লোকটা ফাঁকি দিয়া তাহার স্থান দখল করিয়া সামান্য কাহিনি অবলম্বনে কাব্য ফাঁদিয়া বসিয়াছে। কমলনয়ন কিঞ্চিৎ গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন করিল, “কাব্যে ভগবদ্ভক্তির কথা কিছু আছে কি?”

    পদ্মাক্ষ নদীর স্রোতের দিকে তাকাইয়া কহিল, “তাহা নাই। কিন্তু মানুষের বেদনার কথা আছে।” কমলনয়ন বিজ্ঞের ন্যায় ঘাড় নাড়িয়া বলিল, “ভালো। তা এই কাব্যে ওই আকাশ, এই নদী, এই চরাচরব্যাপী অন্ধকারের কথা আছে?”

    পদ্মাক্ষ বলিল, “প্রচুর পরিমাণে আছে। কিন্তু ওইসব নিসর্গদৃশ্যের উপরে আমি মানুষের প্রেম, বিরহ, বেদনা, বিষাদকে স্থান দিয়াছি।”

    কমলনয়ন প্রশ্ন করিল, “এই জগৎকে কখনও জানিবার ইচ্ছা হয় না? ইচ্ছা হয় না তন্ন তন্ন করিয়া জগতের প্রতিটি বস্তুকে খণ্ডবিখণ্ডিত করিয়া তাহার অন্তর্নিহিত রহস্যকে খুঁজিবার? কেবল প্রণয়-বিষাদের ভিতরেই কি আর জীবনের সমগ্রতা?”

    পদ্মাক্ষ কোনো উত্তর দিল না, কেবল একটু হাসিল। তাহার পর বলিল, “ভাই! আপনি বিদ্যার্থী। আপনার এইরূপ ইচ্ছা হইতেই পারে। আমারও ওইরূপ ইচ্ছা যে মধ্যে মধ্যে হয় না, তাহা নহে। কিন্তু আমি অন্য পথ পাইয়াছি। যেদিন প্রথম হৈমবতীকে দেখিলাম…”

    “হৈমবতী কে?” কমলনয়ন প্রশ্ন করিল।

    “হৈম আমার স্ত্রী। আমার কাব্যে ওই যে-বালিকাটির কথা বলিতেছিলাম, হৈমই সেই বালিকা। আর আমিই সেই পথিক, যে হৈমর ক্রন্দনরোল শুনিয়া তাহাদের গৃহে প্রবেশ করিয়াছিলাম। তাহাকে প্রথম আমি পিছন হইতে দেখিয়াছিলাম, সে মাটির উপর বসিয়া হাঁটুর উপর মুখ রাখিয়া কাঁদিতেছিল। তখন প্রণয় নয়, কী বিপুল স্নেহের অনুভূতি হইয়াছিল যে! মনে হইয়াছিল, এই ক্রন্দনরতা বালিকার আমি ছাড়া এই ত্রিভুবনে কেহ কোথাও নাই। পৃথিবীর কোনো পিতা তাহার অসহায়া দুহিতাকে দেখিয়া যে-মমতা অনুভব করে, সেই আশ্চর্য মমতায় আমি উহাকে মাটি হইতে যেন বুকের মধ্যে তুলিয়া লইয়াছিলাম। তাহার পর সেই স্নেহের পথ ধরিয়া আমার হৃদয়ে প্রথম প্রণয় আসিল। ভাবিলাম, মানবের হৃদয়ে এত সুগভীর বেদনা, এত অতলান্ত স্নেহ, এমন দুকূলপ্লাবী করুণা, প্রেম ভরিয়া আছে, তাহাকে ফেলিয়া আমি কোন্ বিশ্বজগতের রহস্য উন্মোচন করিব?” এই বলিয়া পদ্মাক্ষ থামিল। আবেগের বশে সে অনেক কথা বলিয়া ফেলিয়াছে।

    কমলনয়ন তাহার কথা বুঝিবার চেষ্টা করিতেছিল। মনে হইল, পদ্মাক্ষ সত্যই বড়ো গম্ভীর কথা বলিয়াছে। এ জগতে এই ব্যাকুলতার তুলনা কোথায়? কিছুক্ষণ নিঃশব্দে বসিয়া থাকিয়া কমলনয়ন ধীরে ধীরে বলিল, “হাঁ, ঈশ্বরের প্রতিও এই ব্যাকুলতার পথেই প্রেম আসে। তবে সেক্ষেত্রে প্রথমে ‘আমি তোমার’, তাহার পর ‘তুমি আমার’ এবং পরিশেষে তুমিই আমি, আমিই তুমি’—এইপ্রকার ভাবের অনুক্রমে প্রেমের বিকাশ ঘটিয়া থাকে।”

    পদ্মাক্ষ বলিল, “আমি কি কোনোদিন সেই সমুচ্চ প্রেমের, ঈশ্বরভক্তির নাগাল পাইব?”

    কমলনয়ন শান্ত স্বরে বলিল, “নিশ্চয়ই পাইবেন। আপনার এমন হৃদয়বত্তা! আপনি পাইবেন না তো কে পাইবে? স্বচ্ছ কাচেই বিদ্যুৎ ঝলসিয়া উঠে। আমি নিশ্চিত, মানবের প্রতি আপনার এই প্রণয়ের পথ ধরিয়াই একদিন ঈশ্বর আপনাকে ধরা দিবেন।”

    পদ্মাক্ষ অন্য কথা পাড়িল, “কাশী যাইবেন কেন?”

    কমলনয়ন উত্তর দিল, “আরও পড়িতে। পড়িয়া পড়িয়া আমার আশ মিটিতেছে না। কাশীতে অদ্বৈত বেদান্ত শিক্ষা করিব।”

    পদ্মাক্ষ অবাক হইয়া বলিল, “সে কী! শুনিয়াছি, অদ্বৈতবাদীরা শুষ্ক জ্ঞানের কথা বলে। সেসব পড়িলে আপনার ভক্তি, প্রেমের হানি হইবে না তো?”

    কমলনয়ন সচকিত হইয়া একবার পদ্মাক্ষর দিকে তাকাইল। সত্যই, এই কথাই সে কয়দিন হইতে ভাবিতেছিল। যদি শুষ্ক জ্ঞানের পথে তাহার হৃদয় শুকাইয়া যায়! এ কেমন করিয়া তাহার মনোগত সংশয় ধরিয়া ফেলিয়াছে! পদ্মাক্ষকে তাহার বড়ো আপন মনে হইল। যেন কতকালের বন্ধু। পদ্মাক্ষর মন সপ্রেমে কমলনয়নকে আকর্ষণ করিতে লাগিল। ইহাকে কি সে তাহার অভিপ্রায় বলিবে? বলিলেই বা! ইহার প্রতি তাহার কেমন আস্থা হইতেছে।

    কমলনয়ন বলিল, “অদ্বৈতবাদ শিক্ষা করার পশ্চাতে আমার একটি অভিপ্রায় আছে। তাহা হইল, অদ্বৈতবাদীদের নিগ্রহস্থান কোথায় তাহা আবিষ্কার করা। একবার যদি উহাদের দুর্বলতা খুঁজিয়া পাই, যুক্তি সহায়ে ওই শুষ্ক জ্ঞানের পথ আমি চূর্ণবিচূর্ণ করিয়া দিব। উহারা ভগবদ্ভক্তিকে বড়ো তুচ্ছ করিয়াছে, তাহার প্রতিশোধ লইতে হইবে।”

    পদ্মাক্ষ উচ্চহাস্য সহকারে বলিল, “সাবধান! অদ্বৈতবাদের দুর্বলতা খুঁজিতে গিয়া আপনি নিজেই না অদ্বৈতবাদী হইয়া পড়েন। তখন হয়তো আপনার আজিকার কথা আমূল পরিবর্তিত হইয়া যাইবে। যে-উৎসাহ লইয়া আপনি আজ অদ্বৈতবাদের দুর্বলতা সন্ধান করিতে যাইতেছেন, ততোধিক উৎসাহে আপনি হয়তো সেদিন দ্বৈতবাদী ভক্তদিগের ত্রুটি অনুসন্ধান করিবেন। কে বলিতে পারে?”

    পদ্মাক্ষর দ্বারা বর্ণিত অবস্থার কথা কল্পনা করিয়া কমলনয়ন শিহরিয়া উঠিল। অসহায়ভাবে বলিল, “কিন্তু আমার হৃদয়? আমার হৃদয় তখন আমি কোথায় রাখিব?”

    পদ্মাক্ষ কহিল, “সেই কথাই তো বলিতেছি। দার্শনিকগণ নানা মত মতান্তর লইয়া তর্ক বিতর্ক করেন। কিন্তু সত্যলাভ কোনো মতবাদের প্রতিষ্ঠা বা খণ্ডনের উপর নির্ভর করে না। কিছু মনে করিবেন না। সত্য পুথির পাতায় নাই।”

    কমলনয়ন তীক্ষ্ণভাবে বলিল, “তবে কি নারীর প্রণয়ের মধ্যে আছে?”

    “না, মানিতেছি, তাহাতেও নাই। তবু নারীর প্রণয় একটা সজীব পদার্থ। নারীর হৃদয়, বস্তুত যে-কোনো মানুষের হৃদয়েই সত্যের ইঙ্গিত আছে। উহা পুথির পাতার ন্যায় নিষ্প্রাণ নহে। ভাবিয়া দেখুন, পুথির পাতায় কী আছে? রোমাঞ্চ আছে? ব্যাকুলতা আছে? কোনো সামান্যা নারীর হৃদয়কেও আবিষ্কার করিয়া অধিকার করা, কিংবা সেই হৃদয়ের নিকট আত্মসমর্পণ করিবার মধ্যে যে-আনন্দ আছে, আপনার পুথির পাতায় তাহা কোথায়? তখন তাহা তো আর সামান্য থাকে না, অসামান্য হইয়া উঠে। কবি যেমন বলিয়াছেন, “তিলে তিলে নূতন হোয়’! মানুষকে ভালোবাসিয়াই যদি এত সুখ থাকিতে পারে, তবে ঈশ্বরের ভালোবাসা উদিত হইলে কী অসামান্য আনন্দ ক্ষরিত হইবে, একবার ভাবিয়া দেখুন! সেই আনন্দকে পুথির পৃষ্ঠায় হারাইয়া ফেলিলে সমুদয় বিনষ্টি হইবে যে!”

    কমলনয়ন বালকের ন্যায় জেদ করিয়া বলিল, “তাহা হয়তো সত্য। কিন্তু কাশী আমাকে যাইতেই হইবে।”

    পদ্মাক্ষ, বালককে যেমন করিয়া জননী বুঝায়, তেমন করিয়াই বলিল, “বেশ তো, যান-না! এখন আপনার প্রাণ যাহা বলিতেছে, তাহাই অনুসরণ করুন। কিন্তু একদিন আসিবে, আমি জানি, নিশ্চিত আসিবে, যেদিন আপনি হৃদয়ের ভাষা না বুঝিয়া পারিবেন না। সেইদিন হয়তো আবার আমাদের দেখা হইবে!”

    কথা থামিয়া গেল। দুইজনে মৌন হইয়া বসিয়া আছে। সম্মুখে অন্ধকারের ভিতর কলস্বনা ভাগীরথী বহিয়া যাইতেছে। উপরে নিস্তব্ধ আকাশ তাহার তারাভরা রাত্রির মহিমা লইয়া চরাচরের উপর চিত্রার্পিত হইয়া আছে। কিছু পরে কমলনয়ন উঠিয়া দাঁড়াইয়া কহিল, “নাঃ, রাত্রি হইয়া গিয়াছে। বিদ্যাশ্রমে ফিরিয়া যাই।”

    পদ্মাক্ষ কহিল, “আমিও উঠিব। অতিথিশালায় হৈম একা আছে।”

    তাহারা দুইজন একত্রে হাঁটিয়া আসিয়া এক গলিপথের সম্মুখে পরস্পর পরস্পরকে বিদায় জানাইয়া দুই দিকে চলিল। বস্তু ও সম্ভাবনা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইয়া গেল। আবার কখনও মিলিবে কি?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Our Picks

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }