Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প327 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছায়াচরাচর – ৩০

    তিরিশ

    বলভদ্র, ময়ূখ প্রভৃতি দুই-একজন শিষ্য ব্যতীত আর কেহ জানে না, কমলনয়ন কাশী ছাড়িয়া নবদ্বীপ যাইতেছে। বস্তুত, সে অন্য কাহাকেও একথা জানায় নাই। সঙ্গে কৃষ্ণকিশোর আছে, আর দুই-একটা বস্ত্র, কয়েকটা পুথি—আর কিছুই নাই।

    বহু বহু বৎসর পূর্বে প্রথম যৌবনে সে এই পথ দিয়াই বিদ্যার্জনের উদ্দেশে নিতান্ত সহায়সম্বলহীন দশায় কাশী আসিয়াছিল। আজ আবার এত বৎসর পর সেই পথ দিয়াই বাহ্যদৃষ্টিতে একই রকম নিঃসহায় অবস্থায় নবদ্বীপে ফিরিতেছে। মধ্যে যেন কিছুই হয় নাই। কমলনয়ন ভাবিতেছিল, সেই দিন আর এই এক দিন।

    পথিমধ্যে অতিথিশালায় বিশ্রামস্থল। দিনান্তে সেসব অতিথিশালায় তণ্ডুলাদি যাহা ভিক্ষা করিয়া পায়, তাহাই পাক করিয়া প্রথমে কৃষ্ণকিশোরের উদ্দেশে নিবেদন করে। অতঃপর কৃষ্ণকিশোরের প্রসাদ গ্রহণ করে। কৃষ্ণকিশোরের নিকটে বসিলে দুইজনে কত গল্প হয়, কত আলাপ, কত মান-অভিমানের কথা চলিতে থাকে। সমস্ত দিনের পরিশ্রম কৃষ্ণকিশোরের সঙ্গে কথা কহিয়া অপগত হইয়া যায়।

    নবদ্বীপে উপনীত হইতে চারিমাসকাল কাটিয়া গেল। চৈত্রমাসের এক মধ্যাহ্নবেলায় সে নবদ্বীপে আসিয়া পৌঁছাইল। খুঁজিয়া পাতিয়া এক অতিথিশালায় স্থান করিয়া লইল।

    স্নান, ভিক্ষাগ্রহণ, পাক, কৃষ্ণকিশোরকে নিবেদন, তদনন্তর কিশোরের প্রসাদগ্রহণ সমাধা হইতে হইতে মধ্যাহ্ন অপরাহ্ণাভিমুখে চলিল। অতঃপর অতিথিশালার শয্যায় শুইয়া আছে, এমন সময়ে মনে হইল, বেলা থাকিতে থাকিতেই একবার মথুরানাথ তর্কবাগীশের সহিত দেখা করিয়া আসিলে কেমন হয়। শুনিয়াছে, তিনি এখনও বাঁচিয়া আছেন। যেই ভাবা, সেই কাজ! দুয়ারে অর্গল দিয়া কমলনয়ন মথুরানাথ তর্কবাগীশের চতুষ্পাঠীর অভিমুখে যাত্রা করিল।

    সেই পথঘাট সব একই আছে, স্থানে স্থানে নূতন হর্ম্য নির্মিত হইয়াছে মাত্র। কমলনয়নের মনে এক বিচিত্র ভাবনা উদিত হইতেছিল। সে এখানে এতদিন ছিল না, কিন্তু তাহার চিরপরিচিত পথঘাট সব একইরকম পড়িয়াছিল। বাহিরের পৃথিবী কাহারও জন্য অপেক্ষা করে না, নিজের নিয়মেই চলিতে থাকে। সেই আম্রবৃক্ষগুলিতে মুকুল আসিয়া ফলোদ্‌গম হইয়াছে। সেই সব অর্জুন গাছ নবপত্রে ভরিয়া গিয়াছে। জারুল গাছে নীল নীল ফুল ফুটিয়াছে। মানুষের জীবনও যথানিয়মেই চলিয়াছে। সে-ই শুধু এখানে নাই। আর নাই বলিয়াই, এসকল পরিবর্তনের মূল্যও তাহার কাছে কিছু ছিল না। ‘আমি’র মূল্যেই জগতের মূল্য; ‘আমি’ নাই, তো জগত্ত একরকম ‘নাই’ হইয়া যায়।

    মথুরানাথের টোলে যখন আসিয়া পহুঁছিল, তখন সায়াহ্নের আধোতন্দ্রামায়া নামিয়া আসিতেছে। টোলটি নির্জন; বোধহয় মথুরানাথ বৃদ্ধ হওয়াতে এখন আর ছাত্র পড়ান না, শিষ্যসংখ্যা তাই অপ্রতুল। সম্মুখে সে মথুরানাথের কক্ষটি দেখিতে পাইল। নিকটে ছায়াঘন তিন্তিড়ীবৃক্ষের ডালে কুলায়প্রত্যাবৃত পাখিগুলি কিকিচ্ করিয়া ডাকিতেছে।

    দ্বার উন্মুক্ত ছিল। কমলনয়ন দ্বারপথে আসিয়া দাঁড়াইল। দেখিল, বাতায়নের নিকট অতি বৃদ্ধ মথুরানাথ বসিয়া আছেন। হস্তে কী একটি পুঁথির পৃষ্ঠা। সেই পৃষ্ঠাটি লইয়া চক্ষুর অতি নিকটে স্থাপন করিয়া সায়াহ্নের স্বপ্নালোকে পড়িবার চেষ্টা করিতেছেন। চক্ষের জ্যোতি ক্ষীণ হইয়াছে। শিরাবহুল হস্তটি থরথর করিয়া কাঁপিতেছে।

    কমলনয়নের পদশব্দে সচকিত হইয়া বৃদ্ধ চোখ তুলিয়া দ্বারের পানে চাহিলেন। দ্বারপথে সন্ন্যাসীর অপরূপ মূর্তি। অবাক হইয়া দেখিতেছেন। তাহার পর সহসা যেন চিনিতে পারিলেন। হাঁ, ঠিক চিনিয়াছেন! মথুরানাথের মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হইয়া উঠিল। হাসিতেছেন। বৃদ্ধের দত্তহীন মুখবিবর শিশুর ন্যায় উৎফুল্ল দেখাইল। কম্পিত কণ্ঠে বলিলেন, “কে ও? মধুসূদন না?”

    কমলনয়ন ভাবিতেছিল, এত বৃদ্ধ বয়সে এখনও ন্যায়শাস্ত্রে বৃদ্ধের কী নিষ্ঠা! চক্ষু স্বল্পজ্যোতি হইয়াছে, তথাপি পাঠ করিতেছেন। কিন্তু তর্কবহুল ন্যায়শাস্ত্র পড়িবার এই কি বয়স? এখন তো ধ্যানচিন্তন করিবার সময় হইয়াছে। এইসব কর্কশ তর্কবিচার, যাহাতে চিত্ত আকুল হইয়া উঠে, তাহা কি এই অন্তিম বয়সে চর্চা করিতে হয়? কমলনয়ন এই কথাই তৎক্ষণাৎ মুখে মুখে শ্লোক রচনা করিয়া বলিল :

    “তর্ককর্কশবিচারচাতুরী, আকুলীভবতি যত্র মানসম্
    কিং তুরীয়বয়সা বিভাব্যতে?”

    শ্লোকটি অসম্পূর্ণ ছিল। মথুরানাথ অবিলম্বে তাহার পাদপূরণ করিয়া বলিয়া উঠিলেন :

    “ধাতুরীপ্সিতম পাকরোতি কঃ?”—

    বিধাতার যাহা ইচ্ছা, তাহা খণ্ডাইবে কে? বিধাতার ইচ্ছায় আজ তুমি সর্বত্যাগী মোক্ষমার্গী সন্ন্যাসী, আর আমি সেই বিধাতার ইচ্ছাতেই এখনও তর্কবিচার লইয়াই পড়িয়া আছি। কে অন্যথা করিবে, বলো?

    তাহার পর মথুরানাথ বলিলেন, “আইস, ভিতরে আইস। তোমাকে কতদিন যে দেখি নাই!”

    কমলনয়ন কক্ষের অভ্যন্তরে বৃদ্ধের সমীপে গিয়া বসিল। বৃদ্ধ মথুরানাথ, জননী যেমন দীর্ঘকাল পর প্রবাসী পুত্রকে ফিরিয়া পাইয়া আনন্দিত হন, তেমনই সাহ্লাদে কমলনয়নকে দেখিতেছিলেন। কম্পিত হস্তে কমলনয়নের বক্ষ, স্কন্ধ, মুখে হাত বুলাইয়া বুলাইয়া বড়ো প্রীত হইতেছিলেন। বলিলেন, “কত বড়ো হইয়াছ! আমি সব শুনিয়াছি। তোমার পাণ্ডিত্যের খ্যাতি দেশময় পরিব্যাপ্ত হইয়াছে!”

    কমলনয়ন অপরাধীর ন্যায় নতমস্তকে বলিল, “কিন্তু আপনার আদেশ পালন করিতে পারি নাই। আপনি আমাকে বেদান্ত শিখিয়া ন্যায়ের যুক্তি দিয়া বেদান্তকে কাটিয়া ফেলিতে আদেশ দিয়াছিলেন, কিন্তু আমি– “

    “অদ্বৈত বেদান্ত পড়িতে পড়িতে নিজেই অদ্বৈতী হইয়া গিয়াছ! হাঃ হাঃ হাঃ! তাহাতে কী এমন হইয়াছে? পরিণত বুদ্ধিতে যাহা সত্য মনে হইয়াছে, তাহাই করিয়াছ। ইহাতে তোমার কোনো অপরাধ হয় নাই।”

    কমলনয়ন জিজ্ঞাসা করিল, “আপনার শরীর এখন কেমন আছে?”

    “বৃদ্ধ হইয়াছি। শরীর তো দুর্বল হইবেই। মধ্যে মধ্যে জ্বর আসে। ইহা লইয়া তুমি ভাবিও না।”

    “আপনার দেখাশোনা করে কে?”

    “আমার পুত্র কৃতবিদ্য হইয়াছে। সে বিবাহ করিয়াছে। টোলের কার্য অতঃপর নেই-হ দেখে। উহারাই আমার সাধ্যমতো সেবা করিতেছে,” এই পর্যন্ত বলিয়াই মথুরানাথ বলিলেন, “উহা বিচার্য নহে। দেহ দুর্বল হইবে, একদিন দেহপাতও হইয়া যাইবে, কিন্তু আমি জীবনের যথার্থ উপযোগ করিয়া লইয়াছি। তোমার ন্যায় শিষ্য পাইয়াছি, তোমরা দিকে দিকে পাণ্ডিত্যের জয়ধ্বজা উত্তোলন করিয়াছ। আর কী চিন্তা? তোমরাই আমার গৌরব, আমার জীবনের সারবত্তা।”

    কমলনয়ন লক্ষ করিল, বৃদ্ধ বড়োই নিঃসঙ্গ হইয়া গিয়াছেন। সেবাযত্নের হয়তো ত্রুটি হইতেছে না; কিন্তু তাঁহার সহিত কথা কহিবার একটি লোকও নাই। জীবন চলিয়া গিয়াছে, পড়িয়া আছে শুধু একাকী জরাগ্রস্ত বৃদ্ধের দুর্মর স্মৃতি।

    পুরানো দিনের অনেক কথা বহুক্ষণ ধরিয়া আলাপ করিয়া বৃদ্ধের আনন্দ বর্ধিত করিয়া কমলনয়ন রাত্রির প্রথম প্রহর গত হইলে অতিথিশালায় ফিরিয়া আসিল। ‘কী গো, এত রাত করিলে? আমাকে ছাড়িয়া এতক্ষণ থাকিতে হয়?”

    “আমার বৃদ্ধ আচার্যদেবের সহিত কথা কহিতে কহিতে অধিক রাত্রি হইয়া গেল। আর তোমাকে ছাড়িয়া থাকিব কী? তুমি তো সবখানেই।”

    “কী এত কথা হইতেছিল?”

    “পুরানো দিনের কথা সব।”

    “তাঁহাকে কেমন দেখিলে?”

    “বৃদ্ধ হইয়া পড়িয়াছেন। একাকী কথা কহিবার কেহ নাই!”

    “ইহা তো অনিবার্য! সকলকেই একদিন ইহার সম্মুখীন হইতে হইবে।”

    “ভাবিতেছিলাম, কঃ পন্থা? এ অবস্থায় কী সান্ত্বনা মিলিবে? এই একাকী জরাগ্রস্ত দশায়?”

    “কেন? আমি তো আছি! আমিই সকলের অন্তিম-বান্ধব!”

    “কিন্তু আমার বৃদ্ধ আচার্যদেব মথুরানাথ তো তোমাকে চিন্তা করেন না! কখনও করেন নাই। চিরকাল শুধু ন্যায়শাস্ত্রের পুথি লইয়াই কাল কাটিয়াছে।”

    “হইলই-বা! তিনি আমাকে না ভাবিলেও আমি তাঁহাকে ভাবি। তিনি তো আজীবন শাস্ত্রচর্চা করিয়াছেন।”

    “ভাবিতেছি, মৃত্যুর সময়ে কে থাকিবে?”

    “কেন? আমি তাঁহার শিয়রে থাকিব। তুমি আর কথা বাড়াইও না। আমার ক্ষুধা পাইয়াছে। খাইতে দাও।”

    “রোসো, ঠাকুর। রান্না করিয়া লই। এখনই হইয়া যাইবে। ততক্ষণ অপেক্ষা করো।”

    “আমি তোমার সহিত রান্না করিব।”

    “না, তাহাতে তোমার মুখ লাল হইয়া যাইবে। কাঠের উনান।”

    “না, আমি তোমার সহিত থাকিবই।”

    “তুমি বড়ো দুষ্ট হইয়াছ, কিশোর! একেবারে কথা শোনো না।”

    কমলনয়ন ভোগ রাঁধিতে বসিল। ভাত, মুগডালসিদ্ধ, কুষ্মাণ্ড-শাক-বার্তাকু দিয়া একটা ঘণ্ট। রাত্রি ঘন হইয়া আসিয়াছে। ঘরের ভিতর স্তিমিত শিখায় কুপী জ্বলিতেছে। অন্ধকারে ঝিঁঝি ডাকিতেছে। পাক করিতে করিতে কমলনয়ন অনেক কথা ভাবিতেছিল।

    “কমল, ও কমল, কী ভাবিতেছ?”

    “ভাবিতেছি সব ফেলিয়া আসা দিনের কথা। একদিন এমনই গ্রাম হইতে নবদ্বীপে আসিয়াছিলাম। তাঁহার সন্ধানে…”

    “এখন কি আর তাঁহার কথা মনে পড়ে?”

    “পড়ে না আবার? খুব পড়ে। কিন্তু তাঁহাকে তো পাইলাম না। রাধাভাবসুবলিততনু চৈতন্যচন্দ্র। তপ্তকাঞ্চনকায় প্রাণের গৌর…”

    “পাও নাই কি?”

    “কই পাইলাম আর?”

    “একবার আমার দিকে ভালো করিয়া তাকাইয়া দেখো তো… তাঁহাকে দেখিতে পাও কি না?”

    কমলনয়ন জলভরা দুই চোখ তুলিয়া কৃষ্ণকিশোরের দিকে তাকাইল। নিঠুর দরদী বাঁশিতে ফুঁ দিয়া জগৎকে তাঁহার দিকে আকর্ষণ করিতেছেন। নীলেন্দিবর সেই মেঘরূপের ভিতর যেন বিদ্যুতের কাঞ্চনপ্রভা ফুটিয়া উঠিতেছে। কমলনয়নের দুই গণ্ডদেশ বাহিয়া ধারাশ্রাবণ নামিতে লাগিল।

    পরদিন প্রভাতবেলায় গঙ্গাস্নান সারিয়া ঘাট দিয়া উঠিয়া আসিতে আসিতে মনে হইল, সে-লোক কি এখনও এখানে আছে? বিষ্ণু দামোদরের মন্দিরের পাশ দিয়া গলি। হাঁটিতে হাঁটিতে সেই গৃহটি দেখিতে পাইল। দ্বারে করাঘাত করিতেই হরিরাম বাহির হইয়া আসিল। কমলনয়ন দেখিল, হরিরামের কেশে পাক ধরিয়াছে। মুখশ্রীতে যৌবনের লাবণ্যমায়া আর নাই।

    প্রথমে হরিরাম চিনিতে পারে নাই। পরিচয় দিবার পর সে একটুখানি চুপ থাকিয়া পরমুহূর্তেই উল্লাসে ফাটিয়া পড়িল। “আরেঃ মধুসূদন! কত পরিণত হইয়া গিয়াছ। চিনিতেই পারি নাই। এখন কোথা হইতে আসা হইতেছে? কাশী হইতে? তোমার সব সংবাদই আমি পাইয়াছি। তুমি তো জব্বর পণ্ডিত হইয়াছ…” হরিরাম কলকল করিয়া কত কথাই বলিয়া চলিল।

    “আপনি কি সেই হইতেই এইখানে আছেন?”

    “কোথা-বা আর যাইব? আমাদিগের পাণ্ডিত্য তো তুমি জানো… হংসমধ্যে বকো যথা… হাঃ হাঃ হাঃ!”

    “আপনার টোল চলিতেছে?”

    “ওই দুই-একটি ছাত্র আছে। কাব্যশিক্ষা করিতে আসে। আরে, কাব্য কি কাহাকেও শেখানো যায়? কাব্যবোধ না থাকিলে সকলই বৃথা পণ্ডশ্রম! ওইসব কথা ছাড়ো। তুমি বলো, কেমন কী শিখিলে? অনেক শাস্ত্র শিখিয়াছ?”

    হরিরাম একইরকম আছে। সেই প্রভূত বিদ্যাবাসনা! কেবল বিদ্যার্জনের সুযোগ সে কখনও পাইল না।

    সহসা একটি নুতন পুথি বাহির করিয়া হরিরাম বলিল, “আরে দেখ, দেখ। এক নবীন কবির কাব্য। কাব্যের নাম — ছায়াচরাচর। সম্পূর্ণ নূতন ধরনের রচনা।”

    “কবির নাম কী?”

    “পুণ্ডরীক। চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজা কন্দর্পনারায়ণের সভায় নূতন নিযুক্ত হইয়াছেন। ইঁহার পিতাও ওই একই রাজার সভাকবি ছিলেন।”

    চন্দ্রদ্বীপ? কমলনয়নের হৃৎপিণ্ড যেন একবার টাল খাইয়া সোজা হইয়া দাঁড়াইল। সেই চন্দ্রদ্বীপ… যেখানে সে কৈশোরে কবি হইতে গিয়াছিল… কবি হইতে পারে নাই…

    কমলনয়ন প্রায় ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করিল, “পুণ্ডরীকের পিতার নাম কী?”

    হরিরাম বলিল, “পদ্মাক্ষ। তুমি তাঁহাকে চেনো নাকি?”

    কমলনয়ন কিছু বলিল না। তাহার অনেক কথা মনে পড়িতেছিল। এই গঙ্গার ঘাটেই এক সন্ধ্যাবেলায় আরতির পর পদ্মাক্ষের সহিত তাহার দেখা হইয়াছিল। কথা হইয়াছিল। একেবারে তাহারই ন্যায় দেখিতে। সেই পদ্মাক্ষ। তাহারই পুত্র পুণ্ডরীক!

    কাব্যটি হাতে লইয়া কমলনয়ন দেখিতেছিল। কথাকাব্য। কাহিনি চমৎকার! কে একজন কবি হইতে চাহিয়াছিল। হইতে পারিল না। ভক্ত হইতে চাহিল, তাহাও পারিল না। নৈয়ায়িক হইতে গেল, তাহাও হইল না… এ যে সব তাহার জীবনেরই ন্যায় অবিকল! কেমন করিয়া জানিল? কল্পনা করিয়াছে?

    ভাষাশৈলী ও কাব্যগুণও যথেষ্ট। পুথিটি নাড়িয়াচাড়িয়া দেখিয়া হরিরামকে ফিরাইয়া দিল। দুই-এক কথার পর হরিরামের নিকট বিদায় লইয়া চলিয়া আসিতেছে, হরিরাম জিজ্ঞাসা করিল, “আছ তো কয়েক দিন?”

    “হাঁ, কয়েক দিনই মাত্র। একবার দেশে যাইব, ভাবিতেছি।”

    ফিরিয়া আসিতেছে, সহসা পথিমধ্যে এক পণ্ডিতের সহিত দেখা হইল। ইনিই গদাধর। ন্যায়শাস্ত্রে ইনি সদ্যঃ উদীয়মান রবিসদৃশ। ইদানীং নবদ্বীপে ইনিই প্রবল পাণ্ডিত্য সহকারে ন্যায়শাস্ত্রের অধ্যাপনা করিতেছেন।

    বলিলেন, “আমি আপনার পরিচয় জ্ঞাত আছি। আপনি কোথায় উঠিয়াছেন?” কমলনয়ন বলিল, “অতিথিশালায়।”

    “অতিথিশালায়? কেন? আমার গৃহে দয়া করিয়া আতিথ্য গ্রহণ করুন।”

    তাঁহার অনুরোধে কমলনয়ন কৃষ্ণকিশোরকে লইয়া তাঁহার গৃহে আসিয়া উঠিল। এইবার কমলনয়নের উপস্থিতি-সংবাদ নবদ্বীপময় রাষ্ট্র হইয়া গেল। সকলেই কাশী হইতে আগত সন্ন্যাসী মধুসূদন সরস্বতীর দর্শনার্থে গদাধর পণ্ডিতের গৃহে যাতায়াত করিতে লাগিল। গদাধরের গৃহ উৎসবক্ষেত্রে পরিণত হইল।

    অবসরমতো গদাধরের সহিত কমলনয়নের শাস্ত্রবিচার চলিতে লাগিল। গদাধর একে নৈয়ায়িক, তাহে দ্বৈতবাদী। কমলনয়নের সর্বশাস্ত্রে পারঙ্গমতা, বিশেষত ন্যায়শাস্ত্রে তাহার অসামান্য অধিকার দেখিয়া মুগ্ধ হইলেন। কিন্তু যতই কমলনয়নের অদ্বৈতসিদ্ধান্তের পরিচয় পান, গদাধর ততই ব্যাকুলতা অনুভব করেন। অপরাপর প্রবীণ নৈয়ায়িকগণও প্রায়শই বিচারার্থ আসিতেছিলেন, কিন্তু সকলেই দুই-চারি কথার পরই কমলনয়নের নিকট মস্তক অবনত করিতে বাধ্য হইতেছিলেন। ইহাতে গদাধরের কাতরতা দিন দিন বর্ধিত হইতে লাগিল।

    একদিন মহামতি জগদীশ গদাধরের গৃহে আসিলেন। জগদীশ বৃদ্ধ হইয়াছেন। পঠদ্দশায় তাঁহার কমলনয়নের সঙ্গে আলাপ ছিল। উভয়ে উভয়কে অভিবাদন জানাইবার পর কথাপ্রসঙ্গে বিচার আরম্ভ হইল। দীর্ঘকাল বিতর্ক-বিচার চলিল। অন্তে জগদীশ কমলনয়নের নিকট পরাস্ত হইলেন। অবশেষে কমলনয়নকে গুরুবৎ সম্মান করিয়া জগদীশ গৃহে ফিরিলেন।

    জগদীশ পরাস্ত হইয়াছেন শুনিয়া সকলেই বুঝিল, এই সন্ন্যাসী অজেয়, অপ্রতিম। কেহ তাঁহাকে পরাস্ত করিতে পারিবে না। এদিকে আবার কমলনয়নের সদ্গুণরাশিতে সকলেই মুগ্ধ। এইসব দেখিয়া কে যেন এক অদ্ভুত শ্লোক রচনা করিয়া বসিল :

    “নবদ্বীপে সমায়াতে মধুসূদনবাক্‌পতৌ।
    অনীশো জগদীশোহভূৎ কাতরোহভুদ্ গদাধরঃ।।”

    নবদ্বীপে পণ্ডিত মধুসূদন উপস্থিত হইলে তাঁহার প্রতিভায় জগদীশ অনীশ ও গদাধর কাতর হইয়া পড়িলেন।

    .

    কিছুদিন পর কমলনয়ন কৃষ্ণকিশোরকে লইয়া উনসিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Our Picks

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }