Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প327 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছায়াচরাচর – ১৬

    ষোলো

    নিস্তব্ধ মধ্যরাত্রির বিজন প্রহর ভরিয়া উন্মুক্ত বাতায়নপার্শ্বে উৎপলদৃষ্টি বাঁশিতে এক সকরুণ রাগিনীর আলাপ করিতেছিল। সুরটি নূতন — ‘শিবরঞ্জনী’। সরযূবাই পিল্লাইয়ের হাত ধরিয়া এই রাগ দক্ষিণদেশ হইতে আর্যাবর্তে প্রবেশ করিয়াছে। সহজ, অনাড়ম্বর চলন, কিন্তু হৃদয়ের অন্তঃস্থলে গিয়া বিঁধে। অন্তরের সুগভীর বিরহবেদনা, ফেলিয়া আসা দিনগুলির প্রতি স্মৃতিকাতরতা বাঁশির সুরের সহিত মিশিয়া গবাক্ষপথ বাহিয়া রাত্রির আকাশ যেন ভরিয়া দিতেছিল। কত কথা মনে আসিতেছিল… হারানো সেই গ্রামদেশ… নবদ্বীপের গঙ্গাতীর… যাঁহার ভালোবাসায় উৎপলদৃষ্টি ঘর ছাড়িয়াছিল, তাঁহার দর্শন মিলিল না… চিরবিচ্ছেদের সেই বেদনা বাঁশির সুরে কাঁপিয়া কাঁপিয়া উঠিতেছিল। কাজলকালো অন্ধকারের গাত্রে সুর হাত বুলাইতেছিল। কক্ষের একপার্শ্বে ম্লান প্রদীপের ক্লান্ত শিখা সুরের আঘাতে বুঝি-বা কাঁপিয়া কাঁপিয়া উঠিতেছিল, প্রহরকাল হৃদয় মথিত করিয়া নিঃশব্দ অশ্রুপাতের বেদনার ভিতর নামিয়া অবশেষে সুর আসিয়া থামিয়া গেল।

    অবসিত মূর্ছনার আবেশের ভিতর প্রদীপের ম্লান আলোকে উৎপল দৃষ্টি বাঁশি কোলে আচ্ছন্ন দশায় আরও কিছুক্ষণ বসিয়া আছে, এমন সময়ে সহসা পশ্চাতে কার একটি সুগোপন দীর্ঘনিঃশ্বাস শুনিতে পাইল।

    উৎপলদৃষ্টি ঘাড় ফিরাইয়া চাহিয়া দেখিল, কক্ষে আর কেহ নাই। তাহা হইলে দীর্ঘশ্বাস ফেলিল কে? কেহ কি এ কক্ষে আসিয়াছিল? উৎপলদৃষ্টি শিহরিয়া উঠিল। শয্যা হইতে উঠিয়া দাঁড়াইয়া কক্ষের বাহিরে গেল। নির্জন অলিন্দ ধবল চন্দ্রালোকে ধপ্ করিতেছে। কেহ কোথাও নাই।

    মনের ভুলই হইবে। সুরের আবেশে কত কী যে মনে হয়! এই লইয়া সে আর ভাবিল না। প্রদীপ নিভাইয়া শুইয়া পড়িল। নিদ্রা আসিতে বিলম্ব হইল না।

    শেষরাত্রে উৎপলদৃষ্টি কী একটা স্বপ্ন দেখিতেছিল। মধুর স্বপন! কে যেন ফুলদল লইয়া তাহাদের গ্রামে সুদূর শৈশবের রঙ্কিনী দেবীর মন্দিরে পূজা দিতেছে। অগুরু চন্দনের ঘ্রাণে দেবীর কুঙ্কুমবিলেপিত আননের সুমধুর হাস্যে মন্দির ভরিয়া উঠিতেছে। তাহার পর সে-দৃশ্য যেন কোথায় হারাইয়া গেল, সকল অবয়ব মুছিয়া স্বপ্নলোক জুড়িয়া শুধু এক নিরবয়ব গন্ধমধুর অন্ধকার বিরাজ করিতেছে… সেই অন্ধকারের ভিতর কাহার যেন নূপুরের ঝুম্ ঝুম্ শব্দ হইতেছে, কে যেন নুপুর বাজাইয়া চলিয়া যাইতেছে… সেই নিক্কণধ্বনির ভিতর ঘুম ভাঙিল।

    ঘুম ভাঙিল, কিন্তু তখনও আলস্যভরে শয্যা হইতে উৎপলদৃষ্টি উঠে নাই। শয্যার সমীপে জলপাত্র ছিল, দুই হাতে ঘটিটি তুলিয়া ধরিয়া সে জলপান করিল। উপাধানের পার্শ্বে চিত্রিত বংশীটি পড়িয়া আছে, তাহা লইয়া একবার নাড়াচাড়া করিল, ভাবিতেছিল বাঁশিতে ফুঁ দিবে কি না, এমন সময়ে এক অদ্ভুত শব্দে সচকিত হইয়া উঠিল।

    ঝুম্-ঝুম্, ঝুম্-ঝুম্! নূপুরের শব্দ! উৎকর্ণ হইয়া শুনিবার প্রয়াস করিল। অলিন্দ বাহিয়া সোপানশ্রেণীর মধ্য দিয়া কে যেন নূপুর পরিয়া নামিতেছে। কখনও শব্দ কাছে আসিতেছে, কখনও দূরে সরিয়া যাইতেছে। এ যে সেই ক্ষণপূর্বে অনুভূত স্বপ্নের মতো হইল। স্বপ্ন নয়? বাস্তব? কে তাহার কক্ষের চারিপাশে নুপুর পরিয়া ঘুরে?

    শয্যা হইতে উঠিয়া সে কক্ষের বাহিরে আসিল। ভোরের কুসুম-মায়াবী অস্ফুট আলোকে কেবল শূন্য অলিন্দ ভরিয়া আছে। উৎপলদৃষ্টি নিতান্ত হতবাক হইয়া গেল।

    আর-একদিন। ভোর হইয়া আসিতেছিল। দ্বারের দিকে পিছন ফিরিয়া ও বাতায়নের দিকে মুখ ফিরাইয়া উৎপলদৃষ্টি বাঁশিতে ললিত রাগ বাজাইতেছিল। প্রভাতবেলায় কোমল সুর কৈশোরের প্রথম প্রণয়ের লাজনম্রতায় ফুটিয়া উঠিতেছিল। যেন উদ্যানে কত প্রভাতপ্রসূন ফুটিয়াছে, ভোরের আলো গায়ে মাখিয়া প্রিয় এখনই ঘরে ফিরিয়া আসিবে, কোকিলের কুহুতানে বসন্তবিতান ভরিয়া উঠিল, স্নিগ্ধ মলয়ানিল বীরুৎ- গুল্ম-বনস্পতির শিরোদেশে করস্পর্শ বুলাইয়া দিতেছে। ‘পিউ পিউ পাপিয়া রা বোলে’…তীব্র ও শুদ্ধ মধ্যম পরপর আসিতেছে, মধ্যম ও ধৈবতের সংযোগে মাধুর্য যেন ঝরিয়া ঝরিয়া পড়িতেছে। বাঁশি বাজাইতে বাজাইতে উৎপলদৃষ্টি নিমীলিত চক্ষুদুইটি একবার চকিতে মেলিয়া ধরিল। অমনি অবাক হইয়া দেখিল, ঘরের দেওয়ালে কাহার যেন ছায়া পড়িয়াছে! দ্রুত ফিরিবামাত্র দেখিল, কে যেন দ্বারের নিকট হইতে সরিয়া গেল। কে সে, বুঝা গেল না। বাঁশি ফেলিয়া ঘরের বাহিরে আসিল। অলিন্দপথ একইরকম জনহীন!

    কেহ চুরি করিয়া তাহার বাঁশি শুনিতেছে। কিন্তু ধরা দিতে চাহিতেছে না। উৎপলদৃষ্টির মনে হইল, কেন জানি না মনে হইল, যে আসিয়াছিল, সে নর নহে— নারী! সে এইখানেই কোথাও থাকে। সুরের পাগল! সুর শুনিলে অস্থির হইয়া উঠে। কিন্তু কে সে সুরমুগ্ধা হরিণী?

    বেলা হইলে সে মেহবুবকে জিজ্ঞাসা করিল, “মেহবুব! এই হাভেলিতে কি কোনো রমণী বাস করেন?”

    মেহবুব আকারে-ইঙ্গিতে যাহা বলিল, তাহার অর্থ হইল: “না না! হাভেলিতে নারী আসিবে কোথা হইতে? এখানে তুমি আমি, আমাদিগের মুর্শিদ আর কয়েকজন পুরুষ পরিচারক ভিন্ন কেহ বাস করে না।”

    উৎপলদৃষ্টি তবুও আবার বলিল, “ভালো করিয়া ভাবিয়া দেখ, মেহবুব! এমন কি কোনো যুবতী আছে, যে সুর শুনিতে বড়ো ভালোবাসে?”

    মেহবুব এইবার নিজের মস্তক ধরিয়া যাহা বলিল, তাহার নির্গলিতার্থ : “তোমার কি মাথা খারাপ হইয়াছে? একা একা থাকিতে থাকিতে মেয়েমানুষের খোয়াব দেখিতেছ? জেনানা-বাই হইয়াছে? সেরূপ কাশীতে বহু জন আছে, বলো তো লইয়া যাই!”

    মেহবুবের সহিত বাক্যালাপ বৃথা। সে তাহার সমস্যা বুঝিতেছে না। হাভেলিতে নিশ্চয়ই কেউ আছে। কোনো সংগীতমুগ্ধা যুবতী! ইহারা তাহার কথা তাহাকে বলিতেছে না। ইহা নিশ্চয়ই ইহাদের একটা গোপন ব্যাপার। যাহাই হউক, সেই নারী তাহার বাঁশির প্রতিটি সুর শুনে, সুর শুনিবার জন্য তাহার কক্ষের দ্বারপ্রান্তে আসিয়া দাঁড়ায়। তাহাকে অবশ্যই খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে। শ্রোতা না হইলে কি আর সুর তৃপ্তি পায়? এই হাভেলি সে তন্ন তন্ন করিয়া খুঁজিয়া দেখিবে। এখন হইতে সর্বদা সজাগ থাকিতে হইবে।

    খুঁজিয়া দেখিল। হাভেলির ঘরগুলি প্রায়শই অব্যবহৃত, কিংবা ব্যবহার হইলেও বহু পূর্বে হইত। এখন বেশিরভাগ ঘরেই তালা দেওয়া। কেহ থাকে না। কক্ষে কক্ষে খুঁজিল, সিঁড়ির নীচে খুঁজিল, হাভেলির আশপাশে সর্বত্র খুঁজিল, এমনকি হাভেলির ছাদেও গিয়া খুঁজিয়া দেখিল। কোনো রমণীর বসবাসের চিহ্নমাত্র নাই। কেবল শুষ্ক বালুচরের ভিতর এই বৃহৎ বিজন হাভেলি অতিকায় পৌরাণিক রাক্ষসীর ন্যায় হস্তপদ প্রসারিত করিয়া পড়িয়া আছে।

    তাহার পর দু-এক মাস সেইরূপ আর কিছু হইল না। উৎপলদৃষ্টি বাঁশি বাজায়, কিন্তু অপর কাহারও অস্তিত্ব আর অনুভব করে না। হয়তো মাথার খেয়াল ছিল— হয়তো মেহবুবের কথাই ঠিক—একা একা থাকিতে থাকিতে অন্তর নারীসান্নিধ্যের জন্য ব্যাকুল হইয়াছিল—এই সব সাতপাঁচ ভাবিয়া উৎপলদৃষ্টি এ বিষয়ে মনোযোগ প্রদান বন্ধ করিয়া দিল।

    শ্রাবণ আসিয়া পড়িল। আকাশে মেঘ ঘন হইয়া থাকে। দিনের বেলাতেও কক্ষ অন্ধকার হইয়া থাকে। গবাক্ষপথে শূন্যপানে তাকাইয়া উৎপলদৃষ্টি দেখে, আকাশ নীলমেঘভারে আকুল হইয়া আসিতেছে। তাহার নিম্নে হাভেলিসংলগ্ন উদ্যানের লতাগুল্মগুলি আশ্চর্য সবুজ হইয়া থাকে। দূর হইতে দেখা যায়, গঙ্গা জলভারে ফুলিয়া ফাঁপিয়া গর্ভিণী নারীর ন্যায় বিলম্বিত লয়ে বহিয়া যাইতেছে। কতগুলা জলচর পক্ষী নদীর উপর দিয়া উচ্চকিত স্বরে ডাকিতে ডাকিতে পরপারের দিকে যাইতেছে। কিছু পরেই গঙ্গার দিক হইতে লক্ষ অশ্বক্ষুরশব্দে হুমড়ি গুমড়ি বৃষ্টির ধারা আসিতেছে।

    এমনই একদিন বর্ষামুখর সন্ধ্যায় প্রদীপের আলোয় কোনোমতে দুইটা চালে ডালে সিদ্ধ করিয়া উৎপলদৃষ্টি কক্ষের একপার্শ্বে বসিয়া রাত্রির আহার সারিয়াছে। সমস্ত দিন বৃষ্টি ঝরিয়াছে। এখনও বর্ষণের ক্ষান্তি নাই। হাভেলির পশ্চাতে যে- বেণুবন আছে, সেখান হইতে ভেকের ঘর্ঘর উঠিয়া আসিতেছে। আজ বৈকালে সে এনায়েৎ খাঁর কক্ষে গিয়াছিল। কিন্তু তাঁহাকে তথায় পাইল না। শুনিল, তিনি সরযূবাইয়ের কোঠিতে গিয়াছেন। ফিরিতে রাত্রি হইবে।

    প্রদীপের আলো সামান্য স্তিমিত করিয়া উৎপলদৃষ্টি শয্যার উপর আসনপিঁড়ি হইয়া বসিল। দুই হস্তে বাঁশিটি সামান্য আনত করিয়া ধরিয়া ফুঁ দিল। গবাক্ষপথে বৃষ্টির ছাট আসিতেছে। সেদিকে তাহার হুঁশ রহিল না।

    রাত্রির বর্ণময় অন্ধকারে মল্লার রাগ বাজিয়া উঠিতেছে। সৃষ্টি-উন্মুখী অঙ্কুরগুলি মৃত্তিকার তলদেশ হইতে জাগিয়া উঠিতেছে। মেঘগর্জনের সহিত আচম্বিত বিদ্যুতের শিখা আকাশপটে নাচিয়া উঠিল। উৎপলদৃষ্টি তন্ময় হইয়া বাঁশির সুরের ভিতর ডুবিয়া গেল।

    এমন সময়ে কেমন জানি তাহার মনে হইল, কণ্ঠদেশে কী যেন উত্তপ্ত স্পর্শ লাগিতেছে! যেন অনেকক্ষণ ধরিয়া সেই উত্তাপ কণ্ঠ বেড়িয়া আছে, গাত্রে উত্তরীয় জড়াইয়া বসিয়াছিল বলিয়া সে খেয়াল করে নাই। সুর শরীর হইতে মনকে বাহির করিয়া লইয়াছিল বা! কিন্তু এ কথা খেয়াল করিবামাত্রই দেহে মন ফিরিল, মনে হইল সেই স্পর্শ বড়ো স্পষ্ট! চক্ষু দ্রুত উন্মীলিত করিয়া তাকাইয়া দেখিল, কাহার যেন দুটি পেলব বাহুলতা তাহার কণ্ঠ ঘিরিয়া পিছন হইতে তাহাকে মধুর আলিঙ্গনে জড়াইয়া রাখিয়াছে!

    পা হইতে মাথা পর্যন্ত বিদ্যুতের শিহরের ন্যায় দেহ শিহরিয়া উঠিল। ফিরিয়া তাকাইবা মাত্র, কে যেন এক ফুঁয়ে প্রদীপের শিখা নিভাইয়া দ্রুতপদে ঘর ছাড়িয়া পলাইয়া গেল। আর সেই নূপুরের ঝুম্ ঝুম্‌ শব্দ।

    সে আসিয়াছিল। আর কোনো ভুল নাই। তাহাকে পিছন হইতে গলা জড়াইয়া ধরিয়া তাহার সুর শুনিতেছিল! এইবার সে খুজিয়া লইবেই লইবে। আর তাহাকে ভুলানো যাইবে না।

    পরদিন প্রভাতবেলায় সে এনায়েৎ খাঁর কক্ষে উপস্থিত হইয়া আনুপূর্বিক সকলই নিবেদন করিল। শিবরঞ্জনী রাগের অন্তে সেই কাহার নিঃশ্বাস পতনের শব্দ, ভোরবেলার তন্দ্রাজড়িমার ভিতর নূপুরের নিক্কণ, ললিত রাগ বাজাইতে বাজাইতে দেওয়ালের উপর কাহার যেন ছায়া সরিয়া যাওয়া, তাহার পর কাল রজনীতে মল্লারের আলাপের ভিতর কাহার দুটি করপল্লবের আলিঙ্গন… সকলই বলিল। তাহার পর জিজ্ঞাসা করিল, “এই হাভেলিতে কে সে যুবতী এমন করিয়া আমার সুর শুনে?”

    এনায়েৎ খাঁ সব শুনিয়া অনেকক্ষণ স্থির হইয়া চিত্রার্পিতের ন্যায় বসিয়া রহিলেন। তাহার পর ধীরে ধীরে গম্ভীর স্বরে বলিলেন, “বেটা! তোমার ন্যায় ভাগ্যবান এ দুনিয়াতে আর কেহ নাই। আবার তোমার ন্যায় দুর্ভাগাও কেহ এ জগতে বড়ো একটা নাই!”

    উৎপলদৃষ্টি কহিল, “কী বলিতেছেন, কিছুই বুঝিতে পারিতেছি না!”

    এনায়েৎ বলিলেন, “বলিলে বিশ্বাস করিবে কি না, জানি না। এ হাভেলিতে কোনো নারী বসবাস করে না। নারী আসিবার কোনো সম্ভাবনাও নাই।”

    “তাহা হইলে আমি যে স্পষ্ট শুনিলাম, … তাহার পর দেখিলামও! ইহা তো আমার মনের ভুল হইতেই পারে না। কে সে?”

    এনায়েৎ স্বকর্ণমূল স্পর্শ করিয়া বলিলেন, “আমার মুর্শিদ সুলেইমান খাঁর নিকট একটি কথা শুনিয়াছিলাম। বড়ো গোপন কথা। আজ সময় হইয়াছে, তাই তোমাকে বলিতেছি। শিল্পী যখন সুরের ভিতর এত তন্ময় হইয়া যায়, তখন সুরসরস্বতী সেই নিমগ্ন সুরসাধক কলাবতের প্রেমে পড়িয়া যান। তাহাকে ছাড়িয়া থাকিতে পারেন না। শিল্পীর আকর্ষণে দেবী সুরলোক হইতে মর্তলোকে নামিয়া আসেন। অথচ, তাঁহার প্রেম এত সূক্ষ্ম, এমন মেধাবী যে, তিনি কলাবতকে ধরাও দেন না। সারে জিন্দেগি কলাবত তাঁহাকে খুঁজিয়া খুঁজিয়া সুরের পর সুর সৃষ্টি করিয়া মরে… তাই বলিতেছি, তোমার মতো ভাগ্যবান যেমন কেহ নাই, তোমার মতো দুর্ভাগাও দুনিয়ায় বিরল!”

    উৎপলদৃষ্টি হাহাকার করিয়া বলিয়া উঠিল, “আমি কি তাঁহাকে কখনও পাইব না?”

    “নাহ, কখনও না। ওই একটু ছায়া, ওই একটু নূপুরের আওয়াজ, ওই একটু দীর্ঘশ্বাস, ওই একটু স্নেহকরুণ স্পর্শ। আর কিছু না।”

    “আর কিছু না?”

    “আর কিছু না। ইহাই। ইহাই তোমাকে রাগ হইতে রাগান্তরে লইয়া যাইবে। তোমার বাঁশি ভরিয়া সুর আসিবে। অথচ হৃদয় বিরহের শূন্যতায় গুমরাইয়া মরিবে।”

    “আমি এখন তবে কী করিব?”

    “যাহা করিতেছ, করিয়া যাও। শুধু সর্বক্ষণ স্মরণে রাখিও, তোমার আশপাশেই তিনি আছেন। তোমার সুর শুনিতেছেন। ইহাতে বিরহবেদনা হয়তো সামান্য সহনীয় হইবে।”

    সেই দিন হইতে উৎপলদৃষ্টির জীবন অন্যরূপ হইয়া গেল। সে এখন বাজায়, তিনি শুনিবেন বলিয়াই। টের পায়, কে একজন দ্বারপ্রান্তে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে। খাইতে বসিলে মনে হয়, কে যেন খাওয়াইয়া দিতেছে। তৃষ্ণার্ত হইলে মনে হয়, কে যেন পান করাইতেছে। গঙ্গায় স্নান করিতে নামিলে মনে হয়, গঙ্গার ঢেউয়ের ভিতর কে যেন তাহার সর্বাঙ্গ জড়াইয়া ধরিয়াছে। প্রখর নিদাঘতাপে ঘর্মাক্ত হইলে মনে হয়, কে স্নেহভরে তাহার কপালের স্বেদবিন্দু বায়ু হইয়া মুছাইয়া দিতেছে। ঘুমাইলে মনে হয়, স্বপ্নের ভিতর কে যেন আলোর শতদল মেলিয়া ফুটিয়া আছে। জাগরতন্দ্রার সীমালগ্ন দেশে নির্জন মায়াকুটিরের দ্বারপ্রান্তে বসিয়া কে যেন অপরূপ চম্পকাঙ্গুলির মুদ্রায় বীণা বাজাইতেছে। মধ্যনিশীথের নৈঃশব্দ্য ভাঙিয়া কাহার দুটি ললিত চরণ বাজিয়া চলিতেছে, ঝুম্-ঝুম্, ঝুম্-ঝুম্!

    মন বলে, কখনও কি পাইব না? সুলেইমান খাঁ তো বলিয়াছিলেন, কাহাকেও তিনি ধরা দেন না। মন বুঝিলেও প্রাণ তো বুঝে না। প্রাণ খরতপ্ত আকাশের চাতকের ন্যায় অবুঝ স্বরে বলে, পাইব, পাইব! সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম হইবে কেন? আমাকে সে নিশ্চিত ধরা দিবে। মাঝে মাঝে মনে হয়, ঘাড় ফিরাইয়া দেখিলেই এখনই দেখা পাইল বলিয়া। কিন্তু দেখা সে পায় না। দিনের পর দিন চলিয়া যায়, শূন্য গগনতলে প্রেমার্ত প্রাণ অতৃপ্ত পিপাসায় তাপদগ্ধ বিহঙ্গমের ন্যায় ব্যাকুল আর্তনাদ করিয়া ফিরে!

    একদিন মধ্যাহ্নে এক নিদারুণ সংবাদ হাভেলিতে আসিল। সরযূবাই গঙ্গার ঘাটে স্নান করিতে গিয়া পড়িয়া গিয়াছেন। সঙ্গিনীগণ কোনোমতে ধরিয়া ধরিয়া তাঁহাকে কোঠিতে আনিয়াছে।

    তাকে ও মেহবুবকে সঙ্গে লইয়া এনায়েৎ খাঁ সত্বর সরযূবাইয়ের কোঠিতে উপস্থিত হইলেন। সরযূবাই তাঁহার ছোটো খাটটিতে শুইয়া আছেন। বৈদ্য আসিয়াছেন। পরীক্ষা করিয়া বলিলেন, কটিদেশে আঘাত লাগিয়া ভাঙিয়াছে। ঔষধ ও মালিশের ব্যবস্থা করিয়া গেলেন। এনায়েৎ খাঁ কিয়ৎকাল পরে উৎপলদৃষ্টি ও মেহবুবকে হাভেলিতে ফিরিতে বলিলেন। তিনি সরযূবাইয়ের শয্যাপার্শ্বে রহিয়া গেলেন।

    সন্ধ্যায় হাভেলিতে বসিয়া উৎপলদৃষ্টি খবর পাইল, জ্বর প্রবল হইয়াছে। সরযুবাইয়ের অবস্থা ভালো নয়। সে একাই কোঠিতে সরযূবাইকে দেখিতে চলিল।

    কোঠিতে উপস্থিত হইয়া সরযুবাইয়ের শয়নকক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়াইয়া প্রবেশ করিবে কি না ইতস্তত করিতেছে, এমন সময়ে কক্ষের ভিতর হইতে সে দুইজন নারীপুরুষের কথোপকথন শুনিতে পাইল।

    পুরুষকণ্ঠ বলিতেছে, “তুমি অস্থির হইও না, সরযূ। কল্য অবশ্যই সুস্থ হইয়া যাইবে।”

    নারী স্নানকণ্ঠে বলিতেছে, “কেন মিথ্যা আশ্বাস দিতেছ, এনায়েৎ? আমি শুনিয়াছি, কোমরে হাড় শতচূর্ণ হইয়া গিয়াছে। আর আমি ভালো হইব না। আর ভালো হইয়াই কী হইবে? আর তো নাচিতে পারিব না।”

    এনায়েৎ বলিলেন, “কিন্তু আমি যে বলিয়াছিলাম, বাঁশি যতদিন বাজিবে, ঘুঙুরে বোল যেন ততদিন উঠে।”

    সরযূ গাঢ় কণ্ঠে বলিলেন, “ঘুঙুর কি তার বাঁশুরীকে পাইয়াছে!”

    কক্ষের অভ্যন্তরে আর কোনো কথা নাই। যেন হাহাকারময় একটা বাতাস আসিয়া সব কথা ডুবাইয়া দিয়াছে।

    পরদিন এনায়েৎ খাঁ হাভেলিতে ফিরিয়া আসিলেন। সরযূবাইয়ের জ্বর ছাড়িয়া গিয়াছে। এবারের মতো বোধহয় সুস্থ হইয়া উঠিলেন।

    মধ্যাহ্ন চলিয়া গিয়া অপরাহ্ণ আসিতেছে। উৎপলদৃষ্টি নিজ কক্ষ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া সোপানমার্গে চবুতরায় নামিয়া আসিয়া পার্শ্ববর্তী অট্টালিকার দ্বিতলে এনায়েৎ খাঁর কক্ষে গেল। এনায়েৎ তাহাকে নূতন একটি সুর বাঁশিতে তুলিয়া দিবেন।

    প্রাক্সন্ধ্যায় খবর আসিল, সরযূবাই আর নাই। কিছুক্ষণ পূর্বে তিনি অন্তিম নিঃশ্বাস ফেলিয়াছেন।

    এনায়েৎ খাঁ বাঁশি বাজাইতেছিলেন। তাহারই মধ্যে খবর আসিল।

    বাঁশি থামিয়া গেল। আর কখনও বাজিল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Our Picks

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026

    আগস্ট আবছায়া – মাসরুর আরেফিন

    July 28, 2026

    খেলারাম খেলে যা – সৈয়দ শামসুল হক

    July 28, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }